- ৩৬। বিরোধের বিষয়বস্তুতে আইনের প্রয়োগ
- ৩৭। একাধিক সালিসকারীর সমন্বয়ে গঠিত সালিসী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি
- ৩৮।সালিসী রোয়েদাদের নমুনা ও বিষয়বস্তু
- ৩৯। রোয়েদাদ চূড়ান্ত ও বাধ্যকর
- ৪০। রোয়েদাদের সংশোধন, ব্যাখ্যা ইত্যাদি
- ৪১। কার্যধারার সমাপ্তি
পরিচ্ছেদ-৭ : রোয়েদাদ এবং কাযর্ধারা পরিসমাপ্তি ( ১৫ )
৩৬। বিরোধের বিষয়বস্তুতে আইনের প্রয়োগ
(১) কোন বিরোধের বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে কোন আইন প্রযোজ্য হইবে মর্মে পক্ষগণ কর্তৃক নির্ধারিত হইলে সালিসী ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুসারে উক্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পক্ষগণ যেই দেশের আইন বা আইনগত ব্যবস্থা নির্ধারণ করিবে, সেই দেশের প্রচলিত আইনের ভিন্নতার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র মৌলিক আইনকে বুঝাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দেশের আইন নির্ধারণ করা না হইলে সালিসী ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায়, ভিন্নতার ক্ষেত্রে, যে আইন উপযুক্ত বিবেচিত উক্ত আইন প্রয়োগ করিবে।
(৩) সালিসী ট্রাইব্যুনাল চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সাধারণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রথা, যদি থাকে, বিবেচনায় আনিয়া সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
৩৭। একাধিক সালিসকারীর সমন্বয়ে গঠিত সালিসী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি
(১) পক্ষগণ অন্যভাবে সম্মত না হইলে, একাধিক সালিসকারী সমন্বয়ে গঠিত সালিসী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত উহার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থনে গৃহীত হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পক্ষগণের দ্বারা অথবা সালিসী ট্রাইব্যুনালের সকল সদস্যের দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইলে, পদ্ধতি সম্পর্কিত সকল প্রশ্নের সালিসী ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
৩৮।সালিসী রোয়েদাদের নমুনা ও বিষয়বস্তু
(১) সালিসী ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ লিখিত এবং সালিসকারী বা সালিসকারীগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইতে হইবে।
(২) সালিসকারীর একাধিক সালিসকারীর সমন্বয়ে গঠিত সালিসী ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাক্ষর পর্যাপ্ত হইবে এবং কোন সালিসকারী স্বাক্ষর না করিলে উহার কারণ রোয়েদাদে উল্লেখ করিতে হইবে।
(৩) সালিসী রোয়েদাদের অনুকূলে যুক্তি প্রদর্শনের প্রয়োজন হইবে না মর্মে পক্ষগণ সম্মত হইলে অথবা রোয়েদাদটি ধারা ২২ এর অধীন সম্মত শর্ত অনুযায়ী প্রদত্ত হইয়া থাকিলে সালিসী রোয়েদাদের অনুকূলে যুক্তি প্রদর্শন করার প্রয়োজন হইবে না।
(৪) ধারা ২৬ অনুসারে নির্ধারিত মতে সালিসী রোয়েদাদে সালিসের তারিখ এবং স্থান উল্লেখ করিতে হইবে এবং রোয়েদাদটি উক্ত স্থানে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) রোয়েদাদ প্রদত্ত হওয়ার পর সালিসী ট্রাইব্যুনালের সালিসকারী বা সালিসকারীদের স্বাক্ষর সম্বলিত রোয়েদাদের একটি অনুলিপি প্রত্যেক পক্ষকে সরবরাহ করিতে হইবে।
(৬) পক্ষগণের দ্বারা অন্যভাবে সাব্যস্ত না হইলে-
(ক) সালিসী রোয়েদাদে অর্থ পরিশোধের বিষয় থাকিলে পরিশোধিতব্য অর্থের সহিত, বিরোধ উদ্ভব হইবার তারিখ হইতে রোয়েদাদ প্রদান করিবার তারিখ পর্যন্ত সময়সীমার সম্পূর্ণ বা অংশের জন্য সালিস চুক্তিতে নির্ধারিত হারে বা, অনুরূপ হার না থাকিলে, সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত হারে সুদ যুক্ত করা যাইবে; এবং
(খ) রোয়েদাদে অন্যভাবে আদেশ প্রদত্ত না হইলে, রোয়েদাদ প্রদত্ত হওয়ার তারিখ হইতে অর্থ পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত সময়কালের জন্য সালিসী রোয়েদাদ দ্বারা যে অর্থ পরিশোধের জন্য আদেশ প্রদান করা হইবে উক্ত অর্থের সহিত প্রচলিত ব্যাংক হার অপেক্ষা ২% অধিক বাৎসরিক হারে সুদ প্রদেয় হইবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার "ব্যাংক হার" অর্থে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত সুদের হারকে বুঝাইবে।
(৭) পক্ষগণ অন্যভাবে সম্মত না হইলে-
(ক) সালিসের খরচ সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্ধারিত হইবে; এবং
(খ) সালিসী ট্রাইব্যুনাল রোয়েদাদে-
(অ) খরচ পাইতে অধিকারী পক্ষের নাম;
(আ) খরচ প্রদানকারী পক্ষের নাম;
(ই) খরচের পরিমাণ অথবা উক্ত পরিমাণ নির্ধারণের পদ্ধতি; এবং
(ঈ) খরচ প্রদান করার পদ্ধতি উল্লেখ করিবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার "সালিসের খরচ" অর্থে সাক্ষীদের ফিসহ সালিসের খরচাদি, আইনগত ফি এবং খরচাদি, সালিস তদারককারী কোন প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ফি এবং সালিসী কার্যধারা ও সালিসী রোয়েদাদ বিষয়ে ব্যয়িত খরচাদি সম্পর্কিত যুক্তিসংগত খরচ অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৩৯। রোয়েদাদ চূড়ান্ত ও বাধ্যকর
(১) কোন সালিস চুক্তির ধারাবাহিকতায় সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ চূড়ান্ত হইবে এবং উহা পক্ষগণ এবং তাহাদের মাধ্যমে বা অধীনে দাবীদার যে কোন ব্যক্তির উপর বাধ্যকর হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধান অনুসারে সালিসী রোয়েদাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তির আপত্তি উত্থাপনের অধিকার ক্ষুণ্ন হইবে না।
৪০। রোয়েদাদের সংশোধন, ব্যাখ্যা ইত্যাদি
(১) পক্ষগণ নতুন কোন সময়সীমা সম্পর্কে সম্মত না হইলে রোয়েদাদ প্রাপ্ত হওয়ার চৌদ্দ দিনের মধ্যে-
(ক) কোন এক পক্ষ, অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া-
(অ) সালিসী রোয়েদাদে সংঘটিত হওয়া গণনাগত ভুল কোন করণিক অথবা মুদ্রাক্ষরজনিত ত্রুটি বা বিচ্যুতি অথবা অনুরূপ প্রকৃতির অন্য কোন ত্রুটি সংশোধন করিতে; অথবা
(আ) যেক্ষেত্রে রোয়েদাদের বিভাজনযোগ্য অংশবিশেষ এমন কোন বিষয় সম্পর্কিত যাহা সালিসে প্রেরিত হয় নাই এবং সালিসে প্রেরিত বিষয়ের উপর প্রদত্ত সিদ্ধান্তকে উহা প্রভাবিত করে না সেইক্ষেত্রে সালিসী রোয়েদাদ পরিমার্জন করিতে,
সালিসী ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করিতে পারিবে;
(খ) পক্ষগণের মধ্যে মতৈক্য সাপেক্ষে, কোন এক পক্ষ অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া যে কোন সালিসী রোয়েদাদের অংশবিশেষের অথবা কোন সুস্পষ্ট বিষয়ের উপর ব্যাখ্যা প্রদান করিতে সালিসী ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করিতে পারিবে।
(২) সালিসী ট্রাইব্যুনাল, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত কোন অনুরোধ যথার্থ মনে করিলে অনুরোধ প্রাপ্তির চৌদ্দ দিনের মধ্যে, বা সালিসী ট্রাইব্যুনালের অনুরোধে পক্ষগণ দীর্ঘতর সময়সীমার ব্যাপারে সম্মত হইলে, উক্ত দীর্ঘতর সময়ের মধ্যে অনুরূপ সংশোধন বা পরিমার্জন করিবে বা, ক্ষেত্রমত, ব্যাখ্যা প্রদান করিবে।
(৩) সালিসী রোয়েদাদ প্রদত্ত হওয়ার চৌদ্দ দিনের মধ্যে সালিসী ট্রাইব্যুনাল উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) তে উল্লিখিত যে কোন গণনাগত, করণিক বা মুদ্রাক্ষরজনিত ত্রুটি-বিচ্যুতি বা অনুরূপ অন্য কোন ত্রুটি সংশোধন করিতে পারিবে।
(৪) এই ধারার অধীন কোন সংশোধন, পরিমার্জন বা ক্ষেত্রমত, ব্যাখ্যা সালিসী রোয়েদাদের অংশ হইবে।
(৫) পক্ষগণ ভিন্নভাবে সম্মত না হইলে, কোন পক্ষ, অপর পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া, সালিসী কার্যধারায় উপস্থাপিত হইয়াছে অথচ রোয়েদাদে অন্তর্ভুক্ত হয় নাই এমন কোন দাবী সম্পর্কে অতিরিক্ত সালিসী রোয়েদাদ প্রদান করিতে, সালিসী রোয়েদাদ প্রাপ্তির চৌদ্দ দিনের মধ্যে সালিসী ট্রাইব্যুনালকে অনুরোধ করিতে পারিবে।
(৬) সালিসী ট্রাইব্যুনাল, উপ-ধারা (৫) এর অধীন প্রাপ্ত অনুরোধ যথার্থ মনে করিলে, অনুরোধ প্রাপ্তির ষাট দিনের মধ্যে অতিরিক্ত রোয়েদাদ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) এই ধারার অধীনে কোন সালিসী রোয়েদাদ অথবা অতিরিক্ত সালিসী রোয়েদাদ এর সংশোধন, পরিমার্জন বা ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ধারা ৩৮ এবং ৩৯ এর বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে।
৪১। কার্যধারার সমাপ্তি
(১) চূড়ান্ত সালিসী রোয়েদাদ অথবা উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রদত্ত আদেশের মাধ্যমে সালিসী কার্যধারার সমাপ্তি ঘটিবে।
(২) সালিসী ট্রাইব্যুনাল সালিসী কার্যক্রমের সমাপ্তির আদেশ প্রদান করিবে, যদি-
(ক) দাবীদার তাহার দাবী প্রত্যাহার করে এবং যদি না, উক্তরূপে সমাপ্তির বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আপত্তি উত্থাপন করে এবং বিরোধের বিষয় চূড়ান্ত নিষ্পত্তিতে প্রতিপক্ষের বৈধ স্বার্থ আছে মর্মে সালিসী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক স্বীকৃত হয়;
(খ) পক্ষগণ কার্যধারা সমাপ্তিতে সম্মত হয়; বা
(গ) কোন কারণে কার্যক্রমের অবিরাম অনুবৃত্তি অপ্রয়োজনীয় অথবা অসম্ভব হইয়া পড়ে।
(৩) ধারা ৪০ এর বিধান সাপেক্ষে সালিসী ট্রাইব্যুনালের কর্তৃত্ব সালিসী কার্যধারার সমাপ্তির সাথে সাথে সমাপ্ত হইবে।