04 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ শিল্প-নকশা আইন, ২০২৩
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ শিল্প-নকশা আইন, ২০২৩

চতুর্থ অধ্যায় : মালিকানা পরিবর্তন, লাইসেন্স, লঙ্ঘন ও প্রতিকার ( শিল্প-নকশা আঃ’২৩ )
১৯। মালিকানা পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগ

(১) শিল্প-নকশা নিবন্ধনের মালিকানা পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগের কোনো আবেদন নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফি প্রদান সাপেক্ষে, লিখিতভাবে মহাপরিচালকের নিকট দাখিল করিতে হইবে।

(২) উপধারা (১) এর অধীন আবেদন রেকর্ডভুক্ত হইবে এবং উক্ত আবেদনের কার্যক্রম গ্রহণ শেষে মহাপরিচালক কর্তৃক উহা আবেদনকারীকে অবহিত করা হইবে।

(৩) উপধারা (২) এর অধীন কোনো শিল্প-নকশা নিবন্ধন মালিকানা পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগের আবেদন রেকর্ডভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত উহা তৃতীয় পক্ষের কোনো অধিকার সৃষ্টি করিবে না।

(৪) এই ধারার অধীন শিল্প-নকশা নিবন্ধন মালিকানা পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াবলি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

২০। লাইসেন্স চুক্তি

(১) কোনো নিবন্ধিত শিল্প-নকশার স্বত্বাধিকারী এতদ্‌সংক্রান্ত কোনো চুক্তি দ্বারা কোনো তৃতীয় পক্ষকে উক্ত নিবন্ধিত শিল্প-নকশা ব্যবহারের লাইসেন্স প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন কোনো লাইসেন্স চুক্তি লিখিত এবং পক্ষগণ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সম্পাদিত হইতে হইবে।

(৩) উপধারা (২) এর অধীন সম্পাদিত লাইসেন্স চুক্তি নির্ধারিত পদ্ধতিতে রেকর্ডভুক্ত করিতে হইবে।

(৪) উপধারা (৩) এর অধীন কোনো লাইসেন্স চুক্তি রেকর্ডভুক্তির জন্য আবেদনকারীকে আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি দাখিল করিতে হইবে, যথা: —

(ক) পক্ষসমূহ এবং কোন কোন অধিকারের লাইসেন্স প্রদান করা হইতেছে তাহা প্রদর্শনকারী লাইসেন্স চুক্তিটির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত অনুলিপি; অথবা

(খ) নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী এবং লাইসেন্সি কর্তৃক স্বাক্ষরিত লাইসেন্স সম্পর্কিত একটি প্রত্যয়িত বিবরণী।

(৫) স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যেকোনো পক্ষ কোনো নিবন্ধিত শিল্প-নকশা সংক্রান্ত লাইসেন্স রেকর্ডভুক্ত করিবার জন্য মহাপরিচালককে অনুরোধ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ রেকর্ডভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো লাইসেন্স তৃতীয় পক্ষের কোনো অধিকার সৃষ্টি করিবে না।

(৬) যে লাইসেন্স রেকর্ডভুক্ত হইবে উহার প্রতিপাদ্য অধিকারের কোনো অংশীদার লাইসেন্স চুক্তির পক্ষ না হইলে, উক্ত লাইসেন্স রেকর্ডভুক্ত করা হইবে না, যদি না উক্ত অংশীদার স্বাক্ষরযুক্ত কোনো দলিলে উক্ত লাইসেন্সের বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেন এবং তাহা মহাপরিচালকের নিকট দাখিল করেন।

(৭) এই আইনের অধীন কোনো শিল্প-নকশার নিবন্ধন বাতিল করা হইলে, উক্ত শিল্প-নকশা ব্যবহারের লাইসেন্সও কার্যকর থাকিবে না এবং উক্ত লাইসেন্স চুক্তির অধীন কোনো অর্থ প্রদান করা হইলে পক্ষসমূহ উহা সম্পূর্ণ বা আংশিক উদ্ধার করিতে পারিবে, যদি না অর্থ প্রদানকারী ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে উক্ত লাইসেন্স ব্যবহার করিয়া লাভবান হইয়া থাকেন।

(৮) এই ধারার অধীন লাইসেন্স চুক্তির ধরন, পদ্ধতি, রেকর্ডভুক্তকরণ, বাতিল, লাইসেন্সির অধিকার এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

২১। শিল্প-নকশা লঙ্ঘন

যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নিবন্ধিত শিল্প-নকশার স্বত্বাধিকারী বা লাইসেন্সি না হওয়া সত্ত্বেও, স্বীয় ব্যবসায় নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে উক্ত শিল্প-নকশা ব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নিবন্ধিত শিল্প-নকশা লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যাহা—

(ক) নিবন্ধিত শিল্প-নকশার সহিত অভিন্ন এবং যে পণ্যে উহা ব্যবহার করা হয়, তাহা নিবন্ধিত শিল্প-নকশার সাদৃশ্যপূর্ণ;

(খ) নিবন্ধিত শিল্প-নকশার সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ এবং যে পণ্যে অথবা সেবায় উহার ব্যবহার করা হয় তাহা নিবন্ধিত শিল্প-নকশার অভিন্ন; অথবা

(গ) নিবন্ধিত শিল্প-নকশার সহিত অভিন্ন এবং যে পণ্যে উহার ব্যবহার করা হয়, তাহা নিবন্ধিত শিল্প-নকশার অভিন্ন, এবং যাহার ফলে জনগণ বিভ্রান্ত হইতে পারে এইরূপ আশঙ্কা থাকে অথবা নিবন্ধিত শিল্প-নকশার সহিত অনুরূপ শিল্প-নকশার সম্পর্ক রহিয়াছে মর্মে ভুল ধারণার সৃষ্টি করে।

২২। প্রশাসনিক ক্ষতিপুরণ আরোপ, ইত্যাদি

(১) কোনো ব্যক্তি শিল্প-নকশা লঙ্ঘন করিলে, স্বত্বাধিকারী উক্তরূপ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষতিপূরণের জন্য মহাপরিচালকের নিকট নির্ধারিত ফরম, পদ্ধতি ও ফি প্রদান করিয়া আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপধারা (১) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর মহাপরিচালক আবেদনটি যাচাই-বাছাই করিয়া যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, শিল্প-নকশা লঙ্ঘন হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, লঙ্ঘিত শিল্প-নকশা ও ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ক্ষতিপূরণের আদেশ এবং যথাযথ মনে করিলে, লঙ্ঘনের সংশ্লিষ্ট পণ্য বা পণ্য প্রস্তুতের উপাদান, সামগ্রী ইত্যাদি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তেরও আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) উপধারা (২) এর অধীন কোনো ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণের আদেশ প্রদান করা হইলে, তিনি উক্তরূপ আদেশ প্রদানের ১০ (দশ) কার্যদিবসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করিবেন এবং উক্তরূপ ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে প্রদান করিতে হইবে।

২৩। শিল্প-নকশা লঙ্ঘনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের

(১) ধারা ২২ এর উপধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যদি ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা না হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট স্বত্বাধিকারী শিল্প-নকশা লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে অধিক্ষেত্রসম্পন্ন আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) আদালত শিল্প-নকশা লঙ্ঘনের মামলায় নিম্নবর্ণিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা :-

(ক) নিষেধাজ্ঞা জারি;

(খ) ক্ষতিপূরণ প্রদান; বা

(গ) অন্য কোনো প্রতিকার মঞ্জুর।

২৪। অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি

(১) শিল্প-নকশার স্বত্বাধিকারী মামলা দায়ের করিলে আদালত, শিল্প-নকশা লঙ্ঘন প্রতিরোধ করিবার লক্ষ্যে, দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করিয়া অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(২) আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্দেশ্যে স্বত্বাধিকারীকে নিম্নরূপ তথ্যাদি সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) আবেদনকারী তর্কিত শিল্প-নকশার স্বত্বাধিকারী এবং তাহার উক্ত শিল্প-নকশা সম্পর্কিত অধিকার লঙ্ঘিত হইতেছে অথবা উক্তরূপ লঙ্ঘন অত্যাসন্ন, এই মর্মে উপযুক্ত সনদ ও সাক্ষ্য প্রমাণ;

(খ) বিবাদীর স্বার্থ সুরক্ষা ও সুযোগের অপব্যবহার রোধের লক্ষ্যে আদালতের চাহিদা অনুযায়ী জামানত অথবা তৎসমতুল্য মুচলেকা; এবং

(গ) সংশ্লিষ্ট মালামাল শনাক্তকরণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য।

২৫। ক্ষতিপুরণ

(১) যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ পালনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আদালত ক্ষতিপূরণ ধার্য বা তদ্‌বিবেচনায় উপযুক্ত কোনো আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) যদি কোনো ব্যক্তি জ্ঞাতসারে বা জ্ঞাত থাকিবার যৌক্তিক কারণ থাকা সত্ত্বেও এই আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো শিল্প-নকশা লঙ্ঘন করেন, তাহা হইলে আদালত উক্ত লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যূন ১ (এক) লক্ষ টাকা অথবা উক্তরূপ লঙ্ঘনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করিয়া অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) আদালত উপধারা (২) এর অধীন কোনো লঙ্ঘনকারীকে স্বত্বাধিকারীর অনুকূলে মামলার আনুষঙ্গিক ব্যয়বাবদ খরচ প্রদানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) এই আইনের অধীন কোনো লঙ্ঘনের সহিত সংশ্লিষ্ট কার্যের জন্য আদালত ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং লঙ্ঘনের সময় নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে গণনা করা হইবে, যথা:-

(ক) নিবন্ধনের আবেদন মহাপরিচালক বরাবর দাখিল করিবার তারিখ; বা

(খ) আবেদনকারী কর্তৃক অভিযুক্ত লঙ্ঘনকারী বরাবর আবেদনের বিষয়বস্তু সংক্রান্ত নোটিশ জারির তারিখ।

(৫) বিরোধীয় শিল্প-নকশা অধিকার মঞ্জুর হইবার পরেই কেবল উপ-ধারা (৪) এর অধীন আদালতে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশের জন্য আবেদন করা যাইবে।

২৬। অন্যান্য প্রতিকার

আদালত, পুনঃপুনঃ শিল্প-নকশা লঙ্ঘন প্রতিরোধ করিবার নিমিত্ত, লঙ্ঘনের ব্যাপকতা ও স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ বিবেচনাপূর্বক, কোনোরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদান না করিয়া, যে সকল পণ্যে শিল্প-নকশা ব্যবহার করা হইয়াছে সেই সকল পণ্য জব্দ করিবার অথবা বিনষ্ট করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবে অথবা যে সকল কাঁচামাল অথবা উপকরণ ব্যবহার করিয়া নকল শিল্প-নকশা সংবলিত পণ্য ও উপকরণাদি প্রস্তুত করা হইয়াছে, সেই সকল নকল শিল্প-নকশা সংবলিত পণ্য ও উপকরণাদি অন্য কোনোভাবে নিষ্পত্তির আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

২৭। আপিল

এই আইনের অধীন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।

২৮। দেওয়ানি কার্যবিধির প্রয়োগ

এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন মামলা দায়ের এবং আইনগত কার্যধারা ও কার্যপদ্ধতির ক্ষেত্রে দেওয়ানি কার্যবিধির বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

img