- ২৫। পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর অধিকার
- ২৬। পেটেন্টের তারিখ
- ২৭। পেটেন্ট ফরম, ব্যাপ্তি (Extent) ও কার্যকারিতা (Effect)
- ২৮। পেটেন্টের মেয়াদ, বাৎসরিক ফি ও পেটেন্ট পুনরুদ্ধার (Restoration)
- ২৯। বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে পেটেন্ট মঞ্জুর
- ৩০। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স এর অবৈধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পেটেন্ট হস্তান্তর
- ৩১। মালিকানা (Ownership) পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগ (Assignment), লাইসেন্স চুক্তি, ইত্যাদি
- ৩২। পেটেন্ট বাতিলকরণ (Cancellation)
পঞ্চম অধ্যায় : পেটেন্ট অধিকার, মালিকানা ও বাতিলকরণ ( পেটেন্ট আঃ’২৩ )
২৫। পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর অধিকার
এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন প্রদত্ত কোনো পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর নিম্নবর্ণিত অধিকার থাকিবে, যথা:-
(ক) যখন পেটেন্টের বিষয়বস্তু কোনো পণ্য হয়, তখন পেটেন্টের স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ব্যতীত তৃতীয় কোনো পক্ষকে উক্ত পণ্য উৎপাদন, ব্যবহার, বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাব, বিক্রয় বা এইরূপ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আমদানি প্রতিরোধ করিবার একচেটিয়া অধিকার;
(খ) যখন পেটেন্টের বিষয়বস্তু কোনো প্রক্রিয়া (Process) হয় তখন পেটেন্ট স্বত্বাধিকারীর অনুমতি ব্যতীত তৃতীয় পক্ষকে উক্ত প্রক্রিয়া প্রয়োগ এবং ব্যবহার, বিক্রয়ের জন্য প্রস্তাব, উক্ত উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা আমদানি প্রতিরোধ করিবার একচেটিয়া অধিকার।
২৬। পেটেন্টের তারিখ
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, প্রত্যেকটি পেটেন্টের তারিখ হইবে পেটেন্টের জন্য আবেদন দাখিলের তারিখ বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ।
(২) প্রত্যেকটি পেটেন্টের তারিখ রেজিস্টারে নথিভুক্ত করা হইবে।
২৭। পেটেন্ট ফরম, ব্যাপ্তি (Extent) ও কার্যকারিতা (Effect)
(১) প্রত্যেকটি পেটেন্ট নির্ধারিত ফরমে হইবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে কার্যকর হইবে।
(২) একটি উদ্ভাবনের জন্য কেবল একটি পেটেন্ট মঞ্জুর করা যাইবে।
২৮। পেটেন্টের মেয়াদ, বাৎসরিক ফি ও পেটেন্ট পুনরুদ্ধার (Restoration)
(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, যে কোনো পেটেন্ট, উহার মেয়াদ শেষ না হইলে বা কার্যকারিতা না হারাইলে, পেটেন্ট আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ হইতে ২০ (বিশ) বৎসর পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(২) পূর্ববর্তী বৎসরের বার্ষিক ফি পরিশোধ করিয়া পরবর্তী বৎসরের জন্য পেটেন্ট নবায়ন করা যাইবে।
(৩) বার্ষিক ফি প্রদানে বিলম্ব হইলে, নবায়নের সময় বৃদ্ধির জন্য আবেদন দাখিল ও বিলম্ব ফি পরিশোধ সাপেক্ষে, বার্ষিক ফি প্রদানের সময়সীমা অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস বর্ধিত করা যাইবে।
(৪) পেটেন্টে বা এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নবায়ন ফি প্রদানের মেয়াদ শেষ হইয়া যায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা এইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে উক্ত ফি প্রদান না করা হয়, তাহা হইলে পেটেন্টের কার্যকরতা বাতিল হইবে।
(৫) আপাতত বলবৎযোগ্য অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি নবায়ন ফি প্রদানের মেয়াদ শেষ হইয়া যাওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অথবা এইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে উক্ত ফি প্রদান না করিবার কারণে কোনো পেটেন্টের কার্যকরতা বাতিল হয়, তাহা হইলে উক্ত পেটেন্টির পেটেন্টের বিষয়বস্তুর সুরক্ষার কোনো অধিকার থাকিবে না।
(৬) যদি মহাপরিচালক এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, যুক্তিসঙ্গত কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবায়ন ফি পরিশোধ করা সম্ভব হয় নাই, তাহা হইলে নবায়ন ফি পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদোত্তীর্ণ এর ২ (দুই) বছরের মধ্যে যে কোনো সময় নির্ধারিত নবায়ন ফি ও পেটেন্ট পুনরুদ্ধার ফি পরিশোধ সাপেক্ষে পেটেন্ট পুনরুদ্ধারের আবেদন করিতে পারিবেন।
২৯। বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে পেটেন্ট মঞ্জুর
এই আইনের অধীন কোনো পেটেন্ট এই শর্তে মঞ্জুর করা হইবে যে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের পেটেন্টের ক্ষেত্রে, ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য সরকার কর্তৃক কেবল উহার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য বা সরকার কর্তৃক বা সরকারের পক্ষে পরিচালিত কোনো ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা অন্য কোনো ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে বিতরণের জন্য আমদানি করিতে পারিবে, যাহা সরকার এই মর্মে সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে যে, উক্ত ডিসপেনসারি, হাসপাতাল বা মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠান সরকারের পক্ষে জনসেবা প্রদান করে।
৩০। বায়োলজিক্যাল রিসোর্স এর অবৈধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পেটেন্ট হস্তান্তর
(১) দাখিলকৃত বা গৃহীত বায়োলজিক্যাল রিসোর্স সম্পর্কিত পেটেন্টের ক্ষেত্রে উক্ত পেটেন্টের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ পেটেন্টের মালিকানার অংশ দাবি করিতে পারিবেন।
(২) পেটেন্টের মালিকানার অংশ হস্তান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট এজেন্সি বা সত্তার নাম উল্লেখপূর্বক মহাপরিচালকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পেটেন্টের মালিকানার অংশ অন্যূন ২০ (বিশ) শতাংশ হইবে।
৩১। মালিকানা (Ownership) পরিবর্তন বা স্বত্বনিয়োগ (Assignment), লাইসেন্স চুক্তি, ইত্যাদি
(১) পেটেন্টের মালিকানা বা উহার আবেদনে উল্লিখিত যে কোনো পরিবর্তন লিখিত হইতে হইবে এবং পেটেন্টের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে মহাপরিচালকের কার্যালয়ে রেকর্ড করিতে হইবে, যদি না বিপরীত কোনো আবেদন করা হয় এবং মহাপরিচালক কর্তৃক উক্ত পরিবর্তন ওয়েবসাইটে বা প্রচলিত পদ্ধতিতে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশিত হইবে, তবে উক্তরূপ পরিবর্তন রেকর্ডভুক্তির পূর্বে তৃতীয় কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে কার্যকর হইবে না।
(২) পেটেন্ট সংক্রান্ত যে কোনো লাইসেন্সের চুক্তি বা তৎসম্পর্কিত আবেদন মহাপরিচালকের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(৩) মহাপরিচালক, উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রাপ্ত আবেদন রেকর্ডভুক্ত করিবেন, তবে উহার বিষয়বস্তু গোপন রাখিতে হইবে এবং তৎসম্পর্কিত মন্তব্য প্রকাশ করিবেন না এবং রেকর্ডভুক্ত হইবার পূর্বে তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের চুক্তি কার্যকর হইবে না।
(৪) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী কতিপয় শর্ত পরিহার করা যাইবে, যথা:-
(ক) কোনো পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য বা পেটেন্টকৃত প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত কোনো পণ্য বিক্রয় বা লিজ বা তৎসংক্রান্ত কোনো চুক্তি; অথবা
(খ) পেটেন্টপ্রাপ্ত কোনো পণ্য উৎপাদন বা ব্যবহারের লাইসেন্স; অথবা
(গ) পেটেন্ট দ্বারা সংরক্ষিত কোনো প্রক্রিয়া ব্যবহারের লাইসেন্সে এইরূপ বিষয় সংযুক্ত করা আইনসঙ্গত হইবে না, যাহা -
(অ) ক্রেতা, লিজগ্রহীতা বা লাইসেন্সিকে বিক্রেতা, লিজদাতা বা লাইসেন্সদাতা বা নমিনির নিকট হইতে পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য ব্যতীত বা পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্য ব্যতীত কোনো পণ্য গ্রহণ বা গ্রহণ না করিতে নির্দেশ প্রদান, অথবা কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো পদ্ধতিতে বা কোনো পরিমাণ গ্রহণ করিতে নির্দেশ প্রদান করে;
(আ) ক্রেতা, লিজগ্রহীতা বা লাইসেন্সিকে বিক্রেতা, লিজদাতা বা লাইসেন্সদাতা বা নমিনির নিকট হইতে পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য ব্যতীত বা পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্য ব্যতীত কোনো পণ্য গ্রহণ নিষেধ করা, অথবা কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো পদ্ধতিতে বা কোনো পরিমাণে গ্রহণ করিতে নিষেধ করা;
(ই) ক্রেতা, লিজগ্রহীতা বা লাইসেন্সিকে বিক্রেতা, লিজদাতা বা লাইসেন্সদাতা বা নমিনির নিকট হইতে পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য ব্যতীত বা পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত পণ্য ব্যতীত কোনো পণ্য ব্যবহার না করিতে নির্দেশ প্রদান, অথবা কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো পদ্ধতিতে বা কোনো পরিমাণে গ্রহণ করিতে নিষেধ করা;
(ঈ) ক্রেতা, লিজগ্রহীতা বা লাইসেন্সিকে পেটেন্টপ্রাপ্ত প্রক্রিয়া ব্যতীত অন্য কোনো প্রক্রিয়া ব্যবহার করিতে নিষেধ করা বা পেটেন্টপ্রাপ্ত পণ্য ব্যতীত অন্য কোনো পণ্য ব্যবহারের পদ্ধতি বা ব্যাপ্তি সীমিত করা।
(৫) পেটেন্ট অধিকার লঙ্ঘনের কোনো মোকদ্দমায় ইহা প্রমাণ করা আত্মপক্ষ সমর্থন করা হইবে যে, উহা লঙ্ঘনের সময় পেটেন্ট সংক্রান্ত এইরূপ কোনো চুক্তি কার্যকর ছিল যাহাতে উপ-ধারা (৪) এর অধীন অবৈধ ঘোষিত কোনো শর্ত ছিল:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি বাদী চুক্তির কোনো পক্ষ না হয় এবং আদালতের সন্তোষানুযায়ী প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, সীমাবদ্ধতা আরোপকারী শর্ত তাহার অজান্তে বা সম্মতি, প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্য যাহাই হউক না কেন, ব্যতীত সংযুক্ত করা হইয়াছিল, তাহা হইলে উপ-ধারা (৪) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) যদি মহাপরিচালক এই মর্মে নিশ্চিত হন যে, অধিকার সংক্রান্ত চুক্তিতে বা উহাতে উল্লিখিত কোনো আইনগত দলিলে উপ-ধারা (৪) এ বর্ণিত শর্তাবলি বিদ্যমান রহিয়াছে, তাহা হইলে তিনি পেটেন্টের মালিকানা পরিবর্তন বা লাইসেন্সের চুক্তি রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন, তবে কোনো পক্ষ বা উভয় পক্ষ শুনানি গ্রহণের অনুরোধ করিলে তিনি চুক্তির সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের শুনানি গ্রহণ করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে চুক্তির পক্ষগণ কর্তৃক চুক্তি সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্যপ্রমাণ দাখিল সাপেক্ষে, মহাপরিচালক এইরূপ বিষয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিষ্পত্তি করিবেন।
(৭) কোনো পক্ষ বা উভয় পক্ষ, মহাপরিচালক কর্তৃক চুক্তি রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিবার সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ২ (দুই) মাসের মধ্যে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করিতে পারিবে।
(৮) স্বত্বগ্রহীতা বা লাইসেন্সগ্রহীতার উপর আরোপিত যে কোনো সীমাবদ্ধতা, যাহা লাইসেন্সকৃত অধিকারের নিবন্ধন দ্বারা উদ্ভূত নহে বা অধিকারের রক্ষাকবচের জন্য প্রয়োজনীয় নহে, তাহা অপব্যবহারমূলক বা অসম প্রতিযোগিতামূলক প্রভাবসম্পন্ন বা অসম প্রতিযোগিতামূলক বলিয়া গণ্য হইবে।
(৯) ভিন্নরূপ বিধান করা না হইলে, প্রয়োগের পরিস্থিতি, কারণ বা যৌক্তিকতা যাচাই বাছাইয়ের প্রয়োজন না থাকিলে নিম্নবর্ণিত শর্তাবলি বা দফার প্রয়োগ আইন বহির্ভূত মর্মে গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) লাইসেন্স গ্রহীতা কর্তৃক লাইসেন্সকৃত উদ্ভাবনের যে কোনো উন্নয়ন বা রূপান্তরিত ব্যবহারের জন্য লাইসেন্সি কর্তৃক লাইসেন্সদাতাকে ক্ষমতার্পণ, যদি না উক্ত ক্ষমতার্পণ লাইসেন্সের চুক্তির অধীন একই শর্তে হইয়া থাকে;
(খ) লাইসেন্সদাতার অন্যান্য বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (Intellectual Asset) অর্থাৎ, পেটেন্ট, ডিজাইন, ট্রেডমার্কস প্রভৃতি বা ব্যবসার গোপনীয়তার দ্বারা অর্জিত হয়, উহার অতিরিক্ত পারিতোষিক বা উহা অর্জনের জন্য লাইসেন্সগ্রহীতা বা স্বত্বনিয়োগীর বাধ্যবাধকতা আরোপ;
(গ) লাইসেন্সকৃত অধিকার বা হস্তান্তরিত অধিকারের বৈধতার আপত্তি উত্থাপনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সগ্রহীতা বা স্বত্বগ্রহীতার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি;
(ঘ) লাইসেন্সকৃত বা হস্তান্তরিত উদ্ভাবন সংরক্ষণের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর ব্যবহার বা পেটেন্ট দ্বারা অর্জিত হয় নাই এইরূপ বিষয়বস্তুর ব্যবহারের পারিতোষিকের ক্ষেত্রে লাইসেন্সগ্রহীতার বাধ্যবাধকতা আরোপ;
(ঙ) লাইসেন্সগ্রহীতা বা স্বত্বনিয়োগী কর্তৃক লাইসেন্সদাতা বা স্বত্বনিয়োগকর্তা, বা লাইসেন্সদাতা বা স্বত্বনিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো ব্যক্তি হইতে উপাদান, কাঁচামাল বা অন্য যে কোনো দ্রব্য বা সেবা যাহা উদ্ভাবনটি ব্যবহার করিবার জন্য প্রয়োজন এবং যাহা লাইসেন্সকৃত উদ্ভাবনের দাবি দ্বারা সমর্থিত নহে, তাহা অর্জন করিবার বাধ্যবাধকতা আরোপ;
(চ) মেধাসম্পদের অধিকারের আওতাভুক্ত হউক বা না হউক অন্য যে কোনো প্রযুক্তির উন্নয়ন বা ব্যবহার সীমিতকারী অথবা বারণ সংক্রান্ত যে কোনো শর্ত আরোপ।
(১০) এই ধারার অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, স্বত্বনিয়োগ এবং লাইসেন্স প্রদানের চুক্তিতে নিম্নবর্ণিত বিধান সন্নিবেশ করা যাইবে, যথা:-
(ক) পরিধি, ভৌগোলিক এলাকা এবং পেটেন্ট ব্যবহারের মেয়াদ;
(খ) পণ্য এবং সেবার মানের পর্যাপ্ততা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলি;
(গ) পেটেন্টেকৃত বিষয়বস্তুর মালিকানা বা সুনামের প্রতি হানিকর সকল কার্য হইতে বিরত থাকিবার ক্ষেত্রে লাইসেন্সগ্রহীতার বাধ্যবাধকতা।
(১১) যেক্ষেত্রে কোনো পেটেন্টে স্বত্বনিয়োগ বা কোনো লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত চুক্তির বিষয়বস্তু চুক্তি কার্যকর হইবার পর বাতিল হয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তিটি তাৎক্ষণিকভাবে সমাপ্ত হইবে এবং পক্ষগণ উক্ত চুক্তির অধীন যে পরিমাণ অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা পরস্পরকে প্রদান করিয়াছে উক্ত অর্থ বা সুযোগ-সুবিধার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন, যদি না উক্ত অর্থ বা সুযোগ-সুবিধা যে পক্ষের অনুকূলে প্রদত্ত হইয়াছিল, উক্ত পক্ষ চুক্তির কারণে সরল বিশ্বাসে উহার দ্বারা লাভবান হইয়া থাকেন এবং চুক্তি বাতিলের কারণে উক্ত সুযোগ-সুবিধা বাতিল হইয়া না থাকে।
(১২) উপ-ধারা (৯) এর বিধানাবলি, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনসহ, লাইসেন্স প্রদান এবং অনিষ্পন্ন পেটেন্ট আবেদন হস্তান্তরের চুক্তির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
৩২। পেটেন্ট বাতিলকরণ (Cancellation)
(১) স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কোনো পেটেন্ট বাতিল করিবার উদ্দেশ্য আদালতে আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) যদি পেটেন্ট বাতিলের জন্য আবেদনকারী ব্যক্তি প্রমাণ করিতে সক্ষম হন যে, ধারা ৮ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) অধীন কোনো প্রয়োজনীয় শর্তাবলি পূরণ করা হয় নাই বা পেটেন্টের স্বত্বাধিকারী উহার উদ্ভাবক বা উহার স্বত্বের উত্তরাধিকারী না হন, তাহা হইলে উপযুক্ত আদালত উক্ত পেটেন্ট বাতিল করিতে পারিবে।
(৩) যেক্ষেত্রে উদ্ভাবনের অংশবিশেষ বাতিলের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, কেবল সেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দাবি বা দাবিসমূহ বাতিল হইবে।
(৪) বাতিল ঘোষিত যে কোনো পেটেন্ট বা কোনো দাবি বা দাবির অংশবিশেষ, পেটেন্ট মঞ্জুরের তারিখ হইতে বাতিল হইবে এবং উহা কখনও মঞ্জুর করা হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।
(৫) পেটেন্ট অধিকার সংক্রান্ত বিরোধের ক্ষেত্রে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেটেন্ট বাতিল করিবার পরিবর্তে পেটেন্টের স্বত্বাধিকার তাহাকে হস্তান্তর করিবার জন্য উপযুক্ত আদালতের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(৬) আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মহাপরিচালককে অবহিত করা হইবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত অবহিত হইবার পর তিনি উহা রেকর্ড করিবেন ও বিধি মোতাবেক উহার স্মারক প্রকাশ করিবেন।
(৭) মহাপরিচালকের নিকট পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান মোতাবেক পেটেন্ট বাতিল করা যাইবে।
(৮) মহাপরিচালকের নিকট পেটেন্ট স্বত্বাধিকারী কর্তৃক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পেটেন্ট সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধি-বিধান মোতাবেক পেটেন্ট এর স্বত্বত্যাগ ও পেটেন্ট প্রত্যাহার করা যাইবে।