- ৫৪। এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিবার দণ্ড
- ৫৫। বাজেয়াপ্তকরণ
- ৫৬। অপরাধ পুনঃসংঘটনের দণ্ড
- ৫৭। কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
- ৫৮। তদন্ত ও তদন্তকারী কর্মকর্তা
- ৫৯। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
- ৬০। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
- ৬১। অপরাধের তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি
- ৬২। ঔষধ আদালত
- ৬৩। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
- ৬৪। আপিল
একাদশ অধ্যায় : অপরাধ, দণ্ড, তদন্ত এবং বিচার ( ২৯ )
৫৪। এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিবার দণ্ড
কোনো ব্যক্তি তফসিল এর কলাম (২) এ উল্লিখিত ধারা অনুসারে কলাম (৩) এ বর্ণিত কোনো কার্য সংঘটন করিলে উক্ত কার্য এই আইনের অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য তিনি কলাম (৪) এ উল্লিখিত যে কোনো বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৫৫। বাজেয়াপ্তকরণ
কোনো ব্যক্তি এই আইন বা বিধির কোনো বিধান লঙ্ঘনের কারণে উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হইলে, যে ঔষধ বা কসমেটিকস্ এর ক্ষেত্রে এই আইন বা বিধি লঙ্ঘন করা হইয়াছে সেই ঔষধ বা কসমেটিকস্ কারাখানা, ভান্ডার, মেশিনারিজ, মালামাল, সরঞ্জাম বা উক্ত ঔষধ বা কসমেটিকস্ অথবা উক্ত ঔষধ বা কসমেটিকস্ তৈরির উপাদান ও উপকরণ সংশ্লিষ্ট দ্রব্যাদি আদালত কর্তৃক বাজেয়াপ্ত করা যাইবে।
৫৬। অপরাধ পুনঃসংঘটনের দণ্ড
এই আইনে উল্লিখিত কোনো অপরাধের জন্য দণ্ডিত ব্যক্তি যদি পুনরায় একই অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনে সর্বোচ্চ যে দণ্ড রহিয়াছে তিনি উহার দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৫৭। কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
(১) কোনো কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানির এইরূপ মালিক, পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, সচিব, অংশীদার বা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে এবং উহা রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ কোনো কোম্পানি কর্তৃক সংঘটিত হইবার ক্ষেত্রে যদি এইরূপ প্রমাণিত হয় যে উক্ত অপরাধটি উক্ত কোম্পানির কোনো মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব, অংশীদার কিংবা অন্য কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সম্মতি বা যোগসাজশ সহকারে অথবা তাহাদের অবহেলার কারণে সংঘটিত হইয়াছে, তাহা হইলে উক্ত মালিক, পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব, অংশীদার কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী দায়ী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তদানুসার তিনি সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান অনুসারে দণ্ডিত হইবেন।
৫৮। তদন্ত ও তদন্তকারী কর্মকর্তা
(১) ধারা ৬১ এর সামগ্রীকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মচারী বা স্থানীয় অধিক্ষেত্রে নিয়োজিত পরিদর্শক, নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময় সীমার মধ্যে, তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসাবে তফসিলের কলাম (৩) এ উল্লিখিত যে কোনো অভিযোগের তদন্ত করিতে পারিবেন।
(২) এই আইনের অধীন কোনো অভিযোগের তদন্তকার্য পরিচালনাকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুযায়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ন্যায় ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(৩) উপধারা (১) এর অধীন তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা, প্রয়োজনে, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ অন্য যে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের নিকট সহায়তা যাচনা করিতে পারিবেন এবং এইরূপ সহায়তা যাচনা করা হইলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ যাচিত সহায়তা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।
৫৯। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তপশিল এর কলাম (১) এ উল্লিখিত-
(ক) ক্রমিক নং ২, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪, ১৬, ১৮, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ এবং ৩৩ এর বিপরীতে কলাম (২) এ উল্লিখিত ধারা অনুসারে কলাম (৩) এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ অআমলযোগ্য ও জামিনযোগ্য হইবে; এবং
(খ) ক্রমিক নং ১, ৪, ৫, ১১, ১৩, ১৫, ১৭, ১৯ এবং ২৩ এর বিপরীতে কলাম (২) এ উল্লিখিত ধারা অনুসারে কলাম (৩) এ উল্লিখিত অপরাধসমূহ আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হইবে।
৬০। অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ
ফৌজদারি কার্যবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মহাপরিচালক বা এতদুদ্দেশ্যে তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত প্রতিবেদন ব্যতীত ধারা ৬১ এর উপধারা (২) এ উল্লিখিত কোনো আদালত এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় কোনো অপরাধ বিচারার্থে গ্রহণ করিবে না।
৬১। অপরাধের তদন্ত, বিচার, ইত্যাদি
(১) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার বা আটকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।
(২) ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, তপশিল এর কলাম (১) এ উল্লিখিত-
(ক) ক্রমিক নং ১, ৪, ৫, ১১, ১৩, ১৫, ১৭, ১৯ এবং ২৩ এর বিপরীতে কলাম (২) এ উল্লিখিত ধারা অনুসারে কলাম (৩) এ বর্ণিত অপরাধ ঔষধ আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে; এবং
(খ) ক্রমিক নং ২, ৩, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৪, ১৬, ১৮, ২০, ২১, ২২, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২ এবং ৩৩ এর বিপরীতে কলাম (২) এ উল্লিখিত ধারা অনুসারে কলাম (৩) এ বর্ণিত অপরাধ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা, ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।
৬২। ঔষধ আদালত
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ধারা ৬১ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক)-তে উল্লিখিত অপরাধসমূহ বিচারের জন্য প্রত্যেক জেলা সদরে ঔষধ আদালত নামে একটি করিয়া আদালত থাকিবে।
(২) উপধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন সরকার, প্রয়োজনে, কোনো জেলায় একাধিক ঔষধ আদালত গঠন ও স্থানীয় অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) একজন বিচারক সমন্বয়ে ঔষধ আদালত গঠিত হইবে এবং সরকার, সুপ্রীম কোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে, জেলা ও দায়রা জজগণের মধ্য হইতে উক্ত আদালতের বিচারক নিযুক্ত করিবে।
(৪) উপধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, প্রয়োজনবোধে, কোনো জেলা ও দায়রা জজকে তাহার দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসাবে ঔষধ আদালতের বিচারক নিযুক্ত করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায় “জেলা ও দায়রা জজ” অর্থে “অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ” অন্তর্ভুক্ত হইবে।
৬৩। মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর প্রয়োগ
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৫৯ নং আইন) এর তফসিলভুক্ত হওয়ার সাপেক্ষ, মোবাইল কোর্ট দণ্ড আরোপ করিতে পারিবে।
৬৪। আপিল
(১) ঔষধ আদালত কিংবা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা, ক্ষেত্রমত, চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ড দ্বারা সংক্ষুব্দ ব্যক্তি উক্ত আদেশ, রায় বা আরোপিত দণ্ডের বিরুদ্ধে, সংশ্লিষ্ট আদেশ, রায় বা দণ্ড প্রদানের অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, ফৌজদারি কার্যবিধিতে নির্ধারিত আদালতে আপিল করিতে পারিবেন।
(২) মোবাইল কোর্ট কর্তৃক আরোপিত দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ধারা ১৩ অনুসরণ করিতে হইবে।