02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩
Click here for Deep-Dive

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩

প্রথম অধ্যায় : প্রারম্ভিক ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন

(১) এই আইন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে।

২। সংজ্ঞা

বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এই আইনে-

(১) "অর্থায়ন ব্যবসা" অর্থ চাহিবা মাত্র পরিশোধযোগ্য নহে এইরূপ মেয়াদি আমানত গ্রহণ, ঋণ প্রদান, বিনিয়োগ ও ইজারা অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনাসহ ধারা ২১ এ বর্ণিত কার্যাবলি;

(২) "আর্থিক বিবরণী” অর্থ ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৩) এ সংজ্ঞায়িত আর্থিক বিবরণী;

(৩) "আমানত" অর্থ সুদ বা মুনাফার ভিত্তিতে পরিশোধের সকল শর্ত সংবলিত রসিদের মাধ্যমে গৃহীত অর্থ তবে, নিম্নরূপ উৎস হইতে গৃহীত অর্থ আমানতের অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(ক) শেয়ার মূলধন হিসাবে গৃহীত অর্থ;

(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত অন্য যে কোনো প্রতিষ্ঠান হইতে কর্জ হিসাবে গৃহীত অর্থ;

(গ) ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অধীন নিম্নবর্ণিত গৃহীত অর্থ-

(অ) চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গৃহীত জামানত (যদি গৃহীত অর্থ সুদহীন হয়) অথবা সম্পত্তি হস্তান্তর বা নির্দিষ্ট অংশ মেরামতের পর হস্তান্তরিত সম্পদের বিপরীতে গৃহীত অর্থ;

(আ) ডিলারশিপ আমানত;

(ই) আর্নেস্ট মানি আমানত বা বায়নাপত্র জমা;

(ঈ) দ্রব্য বা সেবা সরবরাহ করিবার জন্য চুক্তির অধীন গৃহীত অগ্রিম বা আংশিক পরিশোধিত অর্থ;

(উ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ

তবে শর্ত থাকে যে, ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতের সংজ্ঞা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে;

(৪) "আমানতকারী” অর্থ এইরূপ কোনো ব্যক্তি যাহার নামে আমানত গ্রহণ ও ধারণ করা হয় এবং আমানতকৃত অর্থ ফেরত পাইবার অধিকারী কোনো ব্যক্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) "ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা” অর্থ এইরূপ খেলাপী ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি যিনি বা যাহা-

(ক) নিজের, তাহার পরিবারের সদস্যের, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির অনুকূলে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে গৃহীত ঋণ, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ বা উহার উপর আরোপিত সুদ বা মুনাফা তাহার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও পরিশোধ না করে; বা

(খ) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে জালিয়াতি বা প্রতারণা বা মিথ্যা তথ্য প্রদানের মাধ্যমে নিজের, তাহার পরিবারের সদস্যের, স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির নামে ঋণ, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করিয়া ফেরত না দেন; বা

(গ) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি হইতে যেই উদ্দেশ্যে ঋণ, বিনিয়োগ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করিয়াছেন সেই উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে উক্ত ঋণ, বিনিয়োগ বা আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ ব্যবহার করিয়াছে; বা

(ঘ) ঋণের বিপরীতে প্রদত্ত জামানত ঋণ প্রদানকারী কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে হস্তান্তর বা স্থানান্তর করিয়াছে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই সংজ্ঞার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক, সময় সময়, নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে;

(৬) "উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা কোনো পরিবারের সদস্য কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সহিত যৌথভাবে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগের অধিক শেয়ার ধারণ;

(৭) "ঋণ” অর্থ-

(ক) অগ্রিম, ধার, ঋণ, ইজারা, বাটাকৃত বা ক্রয়কৃত বিল, ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক বিনিয়োগকৃত অর্থ বা অন্য যে কোনো আর্থিক সুবিধা;

(খ) গ্যারান্টি, ইনডেমনিটি বা অন্য কোনো আর্থিক বন্দোবস্ত যাহা কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি-ঋণগ্রহীতার পক্ষে প্রদান বা জারি করে বা দায় হিসাবে গ্রহণ করে;

(গ) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক উহার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে প্রদত্ত কোনো ঋণ; এবং

(ঘ) উপ-দফা (ক), (খ) ও (গ) এ উল্লিখিত ঋণ বা, ক্ষেত্রমত, ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক বিনিয়োগকৃত অর্থ এর উপর বিধি-বিধান দ্বারা আরোপিত সুদ, দণ্ড-সুদ, মুনাফা বা ভাড়া;

(৮) "কোম্পানি আইন" অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন);

(৯) "কোম্পানি” অর্থ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি;

(১০) "খেলাপী ঋণগ্রহীতা” অর্থ কোনো দেনাদার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি যাহার নিজের বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রদত্ত অগ্রিম, ঋণ, অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা উহার অংশ বা উহার উপর অর্জিত সুদ বা মুনাফা যাহা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হইবার পর ৬ (ছয়) মাস অতিবাহিত হইয়াছে;

(১১) “দেনাদার” অর্থ ঋণ গ্রহণ, লাভ-ক্ষতির ভাগাভাগি, খরিদ বা ইজারার ভিত্তিতে বা অন্য কোনোভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণকারী কোনো ব্যক্তি এবং জামিনদার;

(১২) "ধারা” অর্থ এই আইনের কোনো ধারা;

(১৩) "পরিচালক” অর্থ ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদে পরিচালক পদে বহাল যে কোনো ব্যক্তি এবং এইরূপ ব্যক্তিকেও বুঝাইবে যাহার নির্দেশ বা আদেশে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক কোনো দায়িত্ব পালন করেন এবং বিকল্প বা প্রতিনিধি পরিচালকও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(১৪) "পরিবার" বা "পরিবারের সদস্য” অর্থ কোনো ব্যক্তির স্ত্রী বা স্বামী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন এবং উক্ত ব্যক্তির উপর নির্ভরশীল কোনো ব্যক্তি;

(১৫) "পাওনাদার” অর্থ আমানত জমাদানকারী বা লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে অর্থ গচ্ছিত রাখিয়াছেন এইরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অথবা লাভ-ক্ষতির ভাগাভাগি, ভাড়ায় খরিদ বা ইজারার ভিত্তিতে বা অন্য কোনোভাবে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা বা সেবা প্রদানকারী বা অর্থলগ্নীকারী ব্যক্তি;

(১৬) "প্রবিধান" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো প্রবিধান;

(১৭) "ফাইন্যান্স কোম্পানি” অর্থ ধারা ৪ এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে লাইসেন্স প্রাপ্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি;

(১৮) "বৎসর" অর্থ ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সমাপ্ত ইংরেজি পঞ্জিকা বৎসর;

(১৯) "বাংলাদেশ ব্যাংক" অর্থ The Bangladesh Bank Order, 1972 (P.O. No.127 of 1972) এর অধীন স্থাপিত Bangladesh Bank;

(২০) "বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন” অর্থ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ১৫ নং আইন) এর ধারা ৩ এর অধীন গঠিত কমিশন;

(২১) "বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোনো বিধি;

(২২) "বীমা কোম্পানি” অর্থ বীমা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ১৩ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (২৫) এ সংজ্ঞায়িত বীমাকারী;

(২৩) "ব্যক্তি” অর্থ-

(ক) প্রাকৃতিক ব্যক্তি (Natural Person);

(খ) কোম্পানি;

(গ) প্রতিষ্ঠান;

(ঘ) অংশীদারি কারবার; এবং

(ঙ) সংঘ, সংস্থা ও সমিতি;

(২৪) “ব্যাংক-কোম্পানি” অর্থ ব্যাংক-কোম্পানী আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ১৪ নং আইন) এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যাংক-কোম্পানি;

(২৫) "সিকিউরিটি” অর্থ Securities and Exchange Ordinance, 1969 (Ordinance No. XVII of 1969) এ সংজ্ঞায়িত section 2 এর clause (1) সংজ্ঞায়িত securities;

(২৬) "স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ” অর্থ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান;

(২৭) "স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা তাহার পরিবারের সদস্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসাবে গণ্য হইবে যদি ব্যক্তি নিজে বা অন্যের সহিত যৌথভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে বা উক্ত কোম্পানি বা উহার হোল্ডিং। কোম্পানির পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকেন; এবং

(২৮) "স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান” অর্থ এইরূপ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা একই স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষের অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠান (যথা- হোল্ডিং কোম্পানি, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রতিষ্ঠান) বা উভয়ই তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চার বা উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক একক বা যৌথভাবে পরিচালিত বা নিয়ন্ত্রিত।

৩। আইনের প্রাধান্য

আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলি প্রাধান্য পাইবে।

img