02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩
Click here for Deep-Dive

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩

তৃতীয় অধ্যায় : মূলধন, তরল সম্পদ সংরক্ষণ, শেয়ার ধারণ, ইত্যাদি ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
৮। মূলধন ও সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি সংরক্ষণ

লাইসেন্স প্রাপ্ত প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণে, হারে এবং পদ্ধতিতে মূলধন ও সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি সংরক্ষণ করিবে।

৯। নগদ তহবিল ও তরল সম্পদ সংরক্ষণ

(১) প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত পরিমাণে, হারে এবং পদ্ধতিতে আমানত ও দায় এর বিপরীতে নগদ তহবিল ও তরল সম্পদ সংরক্ষণ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-

(ক) "নগদ তহবিল" অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের সহিত চলতি হিসাবে রক্ষিত দায়মুক্ত নগদ অর্থকে বুঝাইবে;

(খ) "তরল সম্পদ" অর্থ-

(অ) বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত নগদ তহবিলের অতিরিক্ত স্থিতি;

(আ) ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডে দায়মুক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ; বা

(ই) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য সম্পদকেও বুঝাইবে।

১০। ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার ধারণ ও হস্তান্তর

(১) কোনো ব্যক্তি বা তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ বা একই পরিবারের সদস্যগণের মধ্যে ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার কেন্দ্রীভূত করা যাইবে না এবং কোনো ব্যক্তি বা তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ বা একই পরিবারের সদস্যগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা অন্যের সহিত যৌথভাবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির শতকরা ১৫ (পনেরো) ভাগের অধিক শেয়ার ক্রয় করিবে না ও বিদেশি ব্যক্তি কর্তৃক ফাইন্যান্স কোম্পানির শেয়ার ধারণের সর্বোচ্চ সীমা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারক হইতে পারিবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, কোনো ব্যক্তি বা তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা যৌথভাবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক হইলে অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক হইতে পারিবে না।

(২) কোনো ব্যক্তি বা তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, একক বা যৌথভাবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির উল্লেখযোগ্য শেয়ার ধারণ করিবার পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করিতে হইবে।

(৩) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক যাচিত হইলে শেয়ার ক্রয়ের সময় ক্রেতা এই মর্মে ঘোষণাপত্র দাখিল করিবেন যে, তিনি অন্যের মনোনীত ব্যক্তি হিসাবে বা বেনামিতে শেয়ার ক্রয় করিতেছেন না এবং ইতোপূর্বে বেনামিতে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো শেয়ার ক্রয় করেন নাই।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন দাখিলকৃত ঘোষণাপত্রের বিষয়বস্তু মিথ্যা প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে ঘোষণাকারীর সকল শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।

(৫) এই আইন কার্যকর হইবার ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর বিধান মোতাবেক শেয়ার ধারণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করিতে হইবে এবং উক্ত শেয়ার ধারণ ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শেয়ারধারক নির্ধারিত শেয়ারের অতিরিক্ত শেয়ার তাহার পরিবারের সদস্য নহেন এবং উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিতে সর্বোচ্চ সীমার শেয়ার ধারণ করেন না এইরূপ ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিবেন।

(৬) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৫) এর বিধান প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে উক্ত অতিরিক্ত শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে।

(৭) এই ধারার কোনো কিছুই সরকারি মালিকানাধীন ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

১১। অনাদায়ি মূলধন দায়যুক্তকরণে বাধা-নিষেধ

কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার কোনো অনাদায়ি মূলধনকে দায়যুক্ত করিবে না এবং এইরূপে দায়যুক্ত করা হইলে উহা অবৈধ হইবে

১২। সম্পদকে অনির্দিষ্ট দায়যুক্তকরণে বাধা-নিষেধ (Floating charge)

আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি হইবে না, এই মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার কোনো সম্পত্তিকে বা উহার কোনো অংশকে অনির্দিষ্ট দায়যুক্ত করিবে না এবং এইরূপ করিলে তাহা অবৈধ হইবে।

১৩। লভ্যাংশ (Dividend) প্রদানে বাধা-নিষেধ

কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার শেয়ারের উপর কোনো নগদ লভ্যাংশ প্রদান করিতে পারিবে না, যদি:-

(ক) উহার প্রাথমিক ব্যয়, সাংগঠনিক ব্যয়, শেয়ার বিক্রি ও এজেন্ট কমিশন, লোকসান এবং অন্যান্য ব্যয় যাহা মূলধনে পরিণত হইয়াছে, এইরূপ সকল ব্যয় সম্পূর্ণরূপে অবলোপন করা না হইয়া থাকে; বা

(খ) ধারা ৮ এর বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মূলধন ও সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়; বা

(গ) উহার স্থিতিপত্রে ক্রমপুঞ্জীভূত লোকসান বা ক্ষতি বিদ্যমান থাকে।

img