02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩
Click here for Deep-Dive

ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩

চতুর্থ অধ্যায় : ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
১৪। পরিচালক পর্ষদ

আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অথবা কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক বা সংঘবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অন্যূন ২ (দুই) জন স্বতন্ত্র পরিচালকসহ কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিতে সর্বোচ্চ ১৫ (পনেরো) জন পরিচালক থাকিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, স্বতন্ত্র পরিচালকের সর্বোচ্চ সংখ্যা, ফি এবং নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সময় সময়, নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।

ব্যাখ্যা।- এই ধারায় "স্বতন্ত্র পরিচালক" বলিতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে যিনি ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও শেয়ারধারক হইতে স্বাধীন এবং যিনি কেবল ফাইন্যান্স কোম্পানির স্বার্থে স্বীয় মতামত প্রদান করিবেন এবং ফাইন্যান্স কোম্পানির সহিত কিংবা ফাইন্যান্স কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির সহিত যাহার অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো প্রকৃত স্বার্থ কিংবা দৃশ্যমান স্বার্থের বিষয় জড়িত নাই।

১৫। পরিচালক নিয়োগ

(১) কোনো পরিবারের সদস্য সমষ্টিগতভাবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির-

(ক) শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগের অধিক শেয়ারের অধিকারী হইলে উক্ত পরিবারের সদস্যগণের মধ্য হইতে অনধিক ২ (দুই) জন পরিচালক থাকিতে পারিবেন; এবং

(খ) ন্যূনতম শতকরা ২ (দুই) ভাগ হইতে শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগ শেয়ারের অধিকারী হইলে উক্ত পরিবারের সদস্যগণের মধ্য হইতে ১ (এক) জন পরিচালক থাকিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, বিদেশি শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক শেয়ার ধারণের বিপরীতে পরিচালকের সংখ্যা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(২) কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক থাকা অবস্থায় তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষ হইতে মনোনীত অন্য কোনো ব্যক্তি উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদে প্রতিনিধি পরিচালক হিসাবে থাকিতে পারিবেন না।

(৩) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদে কোনো প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির পক্ষে উহার মনোনীত একের অধিক ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক থাকিতে পারিবেন না।

(৪) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদে কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তি শেয়ারধারকের পক্ষে কোনো ব্যক্তি প্রতিনিধি পরিচালক হিসাবে থাকিতে পারিবেন না।

(৫) কোম্পানি আইনের ধারা ১০১ এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালকের অন্যূন ৩ (তিন) মাস নিরবচ্ছিন্ন অবস্থান সংক্রান্ত অনুপস্থিতির কারণে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিতে কোনো বিকল্প পরিচালক নিয়োগের প্রয়োজন হইলে ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ উক্ত পরিচালকের বিপরীতে বৎসরে সর্বোচ্চ ১ (এক) বার একাদিক্রমে ৩ (তিন) মাসের জন্য ১ (এক) জন বিকল্প পরিচালক নিযুক্ত করিতে পারিবে।

(৬) উপ-ধারা (৫) মোতাবেক বিকল্প পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরিচালকের পরিচালক হিসাবে নিয়োগ সম্পর্কিত যোগ্যতা ও উপযুক্ততা সংক্রান্ত বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(৭) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা সংশ্লিষ্ট কোনো কোম্পানির সংঘ-স্মারক ও সংঘ বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক একই সময়ে অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির বা উক্তরূপ কোম্পানিসমূহের কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এইরূপ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যাহা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ, যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে এইরূপ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক থাকিতে পারিবেন না এবং তাহার পক্ষে অন্য কাউকে অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির পর্ষদে পরিচালক নিয়োগ করিতে পারিবেন না।

(৮) কোনো ব্যক্তি নিম্নরূপ এক বা একাধিক কারণে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিযুক্ত হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি:-

(ক) তাহার বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক বা পেশাগত অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকে;

(খ) তিনি ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডিত হন;

(গ) তিনি সরকারের কোনো সংস্থা বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্পাদিত তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জালিয়াতি, প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ বা অন্যবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সহিত জড়িত ছিলেন বা থাকেন;

(ঘ) তিনি আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধি, প্রবিধান বা নিয়ামাচার লঙ্ঘন করেন;

(ঙ) তিনি এইরূপ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের সহিত যুক্ত থাকেন, যাহার নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল করা হইয়াছে;

(চ) তিনি বা তাহার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান খেলাপী ঋণগ্রহীতা হন;

(ছ) তিনি কোনো সময় উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন।

(৯) ফাইন্যান্স কোম্পানির এইরূপ কোনো পরিচালক থাকিবেন না, যিনি:-

(ক) উক্ত কোম্পানির নিরীক্ষক, আইন উপদেষ্টা, উপদেষ্টা, পরামর্শক, বেতনভুক্ত কর্মচারী বা অন্য কোনোভাবে লাভজনক পদের দায়িত্বে নিয়োজিত রহিয়াছেন;

(খ) অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির বা উক্তরূপ কোম্পানিসমূহের কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এইরূপ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যাহা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ, যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে এইরূপ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা, পরামর্শক বা অন্য কোনোভাবে লাভজনক পদের দায়িত্বে নিয়োজিত রহিয়াছেন;

(গ) এইরূপ কোনো কোম্পানির বা কতিপয় কোম্পানির পরিচালক যে কোম্পানি বা কোম্পানিসমূহ একত্রে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির মোট শেয়ারের বিপরীতে মোট ভোটের ১৫ (পনেরো) শতাংশের অধিক ভোট প্রদানের অধিকারী; এবং

(ঘ) অন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির বা উক্তরূপ কোম্পানিসমূহের কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পক্ষে পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হইয়াছেন বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এইরূপ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যাহা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি বা বীমা কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ, যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে এইরূপ কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিযুক্ত হইয়াছেন।

(১০) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালককে পদত্যাগ করিতে হইলে পরিচালকগণের মধ্য হইতে কোন্‌ পরিচালক উক্ত পদ ত্যাগ করিবেন তাহা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত হইবে, কোনো সমঝোতায় উপনীত হইতে ব্যর্থ হইলে পরিচালক পর্ষদের সভায় লটারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাহা নির্ধারিত হইবে।

(১১) এই আইন কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক নির্বাচন বা মনোনয়নের পর, ক্ষেত্রমত নিযুক্তি বা পদায়ন বা পুনঃনিযুক্তি বা পুনঃপদায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে এবং এইরূপ নিযুক্ত বা পুনঃনিযুক্ত বা পদায়নকৃত পরিচালককে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে তাহার পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান, বরখাস্ত করা বা অপসারণ করা যাইবে না।

(১২) পরিচালকের যোগ্যতা, পরিচালকের নির্বাচন বা মনোনয়ন ও নিযুক্তির পদ্ধতি, পর্ষদের গঠন, বিকল্প ও স্বতন্ত্র পরিচালকের নিযুক্তি, ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, সময় সময়, নির্দেশনা প্রদান করিবে।

১৬। পরিচালক পদের মেয়াদ

(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকর হইবার পর ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পদের মেয়াদ হইবে ৩ (তিন) বৎসর।

(২) কোনো পরিচালক একাদিক্রমে ৩ (তিন) মেয়াদ বা ৯ (নয়) বৎসরের অধিক উক্ত পদে বহাল থাকিতে পারিবেন না:

তবে শর্ত থাকে যে, একাদিক্রমে ৩ (তিন) মেয়াদে পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকিলে তৃতীয় মেয়াদ শেষ হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর তিনি উক্ত কোম্পানির পরিচালক পদে পুনঃনির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন কার্যকরের অব্যবহিত পূর্বে কোনো ব্যক্তি একাদিক্রমে ৩ (তিন) মেয়াদ বা ৯ (নয়) বৎসর পরিচালক পদে বহাল থাকিলে এই আইন কার্যকর হইবার পর পরিচালক পদে তাহার বিদ্যমান মেয়াদ সমাপ্ত হইবার, সঙ্গে সঙ্গে, পদটি শূন্য হইবে।

(৪) ঋণ প্রদানকারী ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সম্মতি ব্যতীত দেনাদার ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালকের পদত্যাগ কার্যকর হইবে না এবং উপ- ধারা (১), (২) ও (৩) মোতাবেক কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে পরিচালক হিসাবে বহাল না থাকিলেও উক্ত দেনা নিয়মিত না হওয়া পর্যন্ত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত থাকিবেন।

(৫) সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিযুক্ত কোনো পরিচালকের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৪) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না এবং সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি ঋণ খেলাপি হইলে উহার পরিচালক হিসাবে বহাল থাকিবার কারণে তিনি ঋণ খেলাপি হইবেন না। I

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো একটি মেয়াদের অংশবিশেষ পূর্ণ মেয়াদ হিসাবে গণ্য হইবে।

১৭। পরিচালক পদে শূন্যতা

(১) নিম্নবর্ণিত যে কোনো কারণে ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি-

(ক) খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত হন বা জামিনদার হিসাবে তাহার নিকট পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হন; বা

(খ) তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পরিপালনে অবহেলার কারণে কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি বা কোনোরূপ স্বার্থহানি হয়

তবে শর্ত থাকে যে, দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত কোনো পরিচালককে বাংলাদেশ ব্যাংক নোটিশ দ্বারা পরিশোধযোগ্য পাওনা পরিশোধ বা সম্পাদনযোগ্য কর্তব্য সম্পাদন করিতে নির্দেশ প্রদান করিবে এবং এইরূপ নোটিশ প্রাপ্তির ২ (দুই) মাসের মধ্যে উক্ত পরিচালক উহা পরিপালনে ব্যর্থ হইলে অবিলম্বে উক্ত পরিচালকের পদ শূন্য হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশ প্রাপ্ত হইলে, তিনি নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাহার কোনো বক্তব্য থাকিলে এইরূপ বক্তব্য লিখিতভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি নোটিশ প্রদানকারী ফাইন্যান্স কোম্পানি বা, ক্ষেত্রমত, ব্যাংক-কোম্পানিতেও প্রেরণ করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রেরিত বক্তব্য প্রাপ্তির ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক উহার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

(৫) এই ধারার অধীন কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হইলে তাহার নিকট প্রাপ্য অর্থ সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানিতে তাহার শেয়ার সমন্বয়ের মাধ্যমে আদায় করা হইবে এবং এইরূপ সমন্বয়ের পর যাহা অবশিষ্ট থাকিবে তাহা সরকারি পাওনা হিসাবে গণ্য হইবে এবং Public Demands Recovery Act. 1913 (Act III of 1913) এর অধীন আদায়যোগ্য হইবে।

(৬) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো পরিচালকের পদ শূন্য হইলে তিনি সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রাপ্য সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করিবার তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক হইতে পারিবেন না তবে, এইরূপ খেলাপী ঋণগ্রহীতা ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত হইলে ধারা ৩০ এর উপ-ধারা (১১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(৭) উপ-ধারা (১) এর অধীন ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক নোটিশ প্রাপ্ত হইলে তাহার নিকট প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি যেই ফাইন্যান্স কোম্পানিতে পরিচালক নিয়োজিত রহিয়াছেন সেই কোম্পানিতে তাহার নামে ধারণকৃত শেয়ার হস্তান্তর করিতে পারিবেন না।

(৮) উপ-ধারা (১) এর অধীন নোটিশের কার্যক্রম চলমান থাকাকালীন সংশ্লিষ্ট পরিচালক স্বীয় পদ হইতে পদত্যাগ করিলে উক্ত পদত্যাগ কার্যকর হইবে না।

(৯) এই ধারার অধীন গৃহীত কোনো ব্যবস্থা, আদেশ বা সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কোম্পানি আইন এর ধারা ৩ এর অধীন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত ব্যতীত অন্য কোনো আদালতে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

১৮। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়োগে বাধা-নিষেধ

(১) প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ সাপেক্ষে ১ (এক) জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, নিয়োগ করিবে এবং তাহার উপর ফাইন্যান্স কোম্পানির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকিবে।

(২) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত অব্যাহতি প্রদান, বরখাস্ত বা অপসারণ করা যাইবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ একাদিক্রমে ৩ (তিন) মাসের অধিক শূন্য থাকিবে না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদ পূরণ না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করিবার জন্য প্রশাসক নিযুক্ত করিতে পারিবে এবং উক্ত কোম্পানি তাহার বেতন ও অন্যান্য সুবিধা বাবদ ব্যয়ভার বহন করিবে।

(৫) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা, দুর্নীতি, জালিয়াতি, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে ঢাকরি হইতে বরখাস্ত হইলে তিনি পরবর্তীতে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির চাকরিতে নিয়োগের যোগ্য হইবেন না।

১৯। চেয়ারম্যান, পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অপসারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা

(১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার আমানতকারীর স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে নিম্নবর্ণিত কারণে, চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অপসারণ করা প্রয়োজন, যথা:-

(ক) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ফ) এ সংজ্ঞায়িত মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ; বা

(খ) সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১৬) এ সংজ্ঞায়িত সন্দেহজনক লেনদেন এবং ধারা ৭ এ উল্লিখিত সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধ রোধ; বা

(গ) ফাইন্যান্স কোম্পানির যথাযথ পরিচালনা নিশ্চিতকরণ; বা

(ঘ) বেনামি ঋণ মঞ্জুরকরণ বা কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণার সহিত সংশ্লিষ্ট; বা

(ঙ) যে কোনো ধরনের ক্ষতিকর কার্যক্রম রোধ; বা

(চ) জনস্বার্থ;

তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত নোটিশ প্রদানপূর্বক প্রয়োজনীয় শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া পৃথক বা যুগ্মভাবে তাহার বা তাহাদের পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।

(২) বেনামি বা অস্তিত্ববিহীন বা নামসর্বস্ব বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নিয়োজিত নহে বা গৃহীত ঋণ বা ঋণের অংশ উদ্দেশ্য বহির্ভূতভাবে ব্যবহার বা স্থানান্তর (siphon off) করিয়াছে এইরূপ কোম্পানির নামে শেয়ার ধারণ করিয়া কোনো ব্যক্তি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পদে বহাল হইলে বা উহার উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক হইলে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত কোনো ব্যক্তি পরিচালক হিসাবে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদে বহাল থাকিলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাহাকে পরিচালকের পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন আদেশ প্রদানের পূর্বে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের সময় প্রদানপূর্বক নোটিশ প্রদান করিতে হইবে তবে, আমানতকারীর স্বার্থহানি হইবার আশঙ্কা থাকিলে নোটিশে উল্লিখিত সময়ে বা আত্মপক্ষ সমর্থনের জবাব বিবেচনাধীন থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক লিখিতভাবে নিম্নরূপ নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারির তারিখ হইতে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন না এবং উক্ত কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না; এবং

(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক যোগ্য কোনো ব্যক্তিকে উক্ত কোম্পানির চেয়ারম্যান বা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে সাময়িকভাবে নিযুক্ত করিতে পারিবে তবে, উক্ত নিযুক্তির মেয়াদ ১ (এক) বৎসরের অধিক হইবে না।

(৪) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন অপসারণের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্যদের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

(৫) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন অপসারিত হইলে তিনি অপসারিত হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত হইতে পারিবেন না।

(৬) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে অথবা কোনো চুক্তিতে বা কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক বা সংঘবিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ- ধারা (১) ও (২) এর অধীন অপসারিত চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উক্তরূপ অপসারণের কারণে কোনো ক্ষতিপূরণ দাবি করিতে পারিবেন না।

(৭) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন অপসারিত চেয়ারম্যান, পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ক্ষতিকর কার্যকলাপের কারণে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক ক্ষতি হইলে, তাহার নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য অর্থ আদায়ের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে এবং এইরূপ গৃহীত ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিতভাবে অবহিত করিবে।

২০। পরিচালক পর্ষদ বাতিল

(১) বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদ বাতিল করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যদি:-

(ক) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের কার্যাবলি উক্ত কোম্পানি বা উহার আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি বা ক্ষতিকর হয়; বা

(খ) ধারা ১৯ এর উপ-ধারা (১) ও (২) এ উল্লিখিত যে কোনো কারণে সংশ্লিষ্ট পর্যদ বাতিল করিবার প্রয়োজন হয়।

(২) নূতন পরিচালক পর্ষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নিযুক্ত ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিগণ উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করিবে এবং উক্ত কোম্পানি এতদসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহ করিবে।

(৩) ধারা ১৯ এর উপ-ধারা (৩) এর বিধান, উহাতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ (mutatis mutandis) এই ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

(৪) পরিচালক পর্ষদ বাতিল আদেশের ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের নিকট আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার আবেদন করিতে পারিবেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।

img