- ২১। ফাইন্যান্স কোম্পানির অর্থায়ন ব্যবসা, ইত্যাদি
- ২২। কতিপয় কার্যক্রমে বাধা-নিষেধ
- ২৩। ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান
- ২৪। আমানত গ্রহণে বাধা-নিষেধ
- ২৫। ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
- ২৬। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
- ২৭। সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনে বাধা-নিষেধ
- ২৮। স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও ধারণে বাধা-নিষেধ
- ২৯। দেনাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক
- ৩০। খেলাপী ঋণগ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা সম্পর্কিত বিধান
- ৩১। সুদ বা মুনাফা মওকুফে বাধা-নিষেধ
- ৩২। মন্দ বা কু-ঋণ অবলোপন সম্পর্কিত বিধান
পঞ্চম অধ্যায় : ফাইন্যান্স কোম্পানির কার্যাবলি ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
২১। ফাইন্যান্স কোম্পানির অর্থায়ন ব্যবসা, ইত্যাদি
(১) অর্থায়ন ব্যবসা ছাড়াও ফাইন্যান্স কোম্পানি নিম্নরূপ ব্যবসা পরিচালনা করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) উন্নয়ন অর্থায়ন ব্যবসা (যাহা রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত, সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত);
(খ) কাঠামোগত অর্থায়ন (structured financing) এর উদ্দেশ্যে ইস্যুকৃত বা ইস্যুতব্য সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ;
(গ) ফাইন্যান্স কোম্পানির নিজস্ব পোর্টফোলিও বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার অধীন সরকার বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোনো ইস্যুয়ার কর্তৃক ইস্যুকৃত সিকিউরিটি বা পুঁজিবাজারে লেনদেনকৃত সিকিউরিটি এর দায় গ্রহণ, অধিগ্রহণ, বিনিয়োগ বা পুনঃবিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম;
(ঘ) সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনের মাধ্যমে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কার্যক্রম; এবং
(ঙ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য ব্যবসা।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২৭ এর বিধান সাপেক্ষে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার, মার্চেন্ট ব্যাংকার, পোর্টফোলিও ম্যানেজার হিসাবে বা এইরূপ কোনো কার্যক্রম বা ব্যবসা যাহার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন হইতে নিবন্ধন গ্রহণের প্রয়োজন হয় সেইরূপ কোনো ব্যবসা বা কার্যক্রমে সরাসরি লিপ্ত হইতে পারিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এর নিবন্ধন সাপেক্ষে ট্রাস্টি বা কাস্টডিয়ান হিসাবে পরিচালিত কার্যক্রমের জন্য এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
২২। কতিপয় কার্যক্রমে বাধা-নিষেধ
কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না, যথা:-
(ক) স্বর্ণ বা বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেন;
(খ) এই আইনে বর্ণিত ব্যবসা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসা:
তবে শর্ত থাকে যে, ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বীকৃত ইসলামী পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক বিনিয়োগের অর্থ ছাড়করণের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
২৩। ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান
(১) ইসলামী শরীয়া ভিত্তিতে ফাইন্যান্স কোম্পানি পরিচালনা করিতে হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে লাইসেন্স গ্রহণকালে বা পরবর্তীতে ইসলামী শরীয়া ভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনার অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে ফাইন্যান্স কোম্পানি সীমিত পরিসরে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কোম্পানি উহার নামের সহিত ইসলামিক বা অনুরূপ শব্দের ব্যবহার বা অভিব্যক্তির প্রকাশ করিতে পারিবে না।
(৩) ইসলামী শরীয়া মোতাবেক পরিচালিত ফাইন্যান্স কোম্পানির অনুমোদন, পরিচালনা নীতি ও কার্যপদ্ধতি, সময় সময়, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
২৪। আমানত গ্রহণে বাধা-নিষেধ
(১) ফাইন্যান্স কোম্পানি এইরূপ কোনো আমানত গ্রহণ করিবে না যাহা চাহিবামাত্র চেক, ড্রাফট, ডেবিট কার্ড অথবা আমানতকারীর আদেশের মাধ্যমে পরিশোধযোগ্য।
(২) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো প্রাকৃতিক ব্যক্তির নিকট হইতে একক নামে সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা বা যৌথ নামে সর্বোচ্চ ১ (এক) কোটি টাকা বা, সময় সময়, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সীমার অধিক আমানত গ্রহণ করিতে পারিবে না।
২৫। ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
(১) কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে প্রদত্ত বা প্রদেয় মোট ঋণ সুবিধার আসলের পরিমাণ উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত হারের অধিক হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত হারের সীমা কোনো অবস্থাতেই শতকরা ৩০ (ত্রিশ) ভাগের অধিক হইবে না।
(২) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ইহার কোম্পানির শেয়ার জামানত রাখিয়া কোনো ব্যক্তিকে ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করিবে না।
(৩) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বেনামি বা অস্তিত্বহীন বা নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করিবে না।
(৪) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো ব্যক্তিকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণের অধিক জামানতবিহীন ঋণ প্রদান করিবে না, তবে কৃষি এবং কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (সিএমএসএমই) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশনা অনুসরণ করিতে হইবে।
(৫) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বিনা জামানতে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি অথবা উক্ত সকল ব্যক্তি কর্তৃক দায় গ্রহণের ভিত্তিতে কোনো ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা মঞ্জুর করিবে না-
(ক) ইহার কোনো পরিচালক বা পরিচালকের পরিবারের কোনো সদস্য;
(খ) এইরূপ কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা প্রাইভেট কোম্পানি যাহাতে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার কোনো পরিচালক বা পরিচালকের পরিবারের সদস্য উল্লেখ্যযোগ্য শেয়ারধারক, পরিচালক, মালিক বা অংশীদার রহিয়াছেন বা যাহা উহার কোনো পরিচালক বা পরিচালকের পরিবারের সদস্য কর্তৃক কোনো ভাবে নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবিত হয়; এবং
(গ) এইরূপ কোনো পাবলিক কোম্পানি যাহা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার কোনো পরিচালক বা উহার কোনো পরিচালকের পরিবারের সদস্য কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় অথবা যাহাতে উহাদের এমন পরিমাণ শেয়ার থাকে যাহা দ্বারা তাহারা অন্যূন ২০ (বিশ) শতাংশ ভোটদান ক্ষমতার অধিকারী হন।
(৬) ফাইন্যান্স কোম্পানি সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি ও ফাইন্যান্স কোম্পানি সংশ্লিষ্ট নহে এইরূপ কোনো গ্রাহকের সহিত লেনদেনের শর্তাবলি একইরূপ হইবে।
ব্যাখ্যা।- এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, "ফাইন্যান্স কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি" বলিতে বুঝাইবে-
(ক) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক বা তাহাদের পরিবারের সদস্য বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির উপর নিয়ন্ত্রণ, যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা উল্লেখ্যযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে;
(খ) এইরূপ কোনো কোম্পানি যাহাতে দফা (ক) এ উল্লিখিত ফাইন্যান্স কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ, যৌথ নিয়ন্ত্রণ বা উল্লেখ্যযোগ্য প্রভাব রহিয়াছে;
(গ) কোনো কোম্পানিতে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার ধারণ করিলে উক্ত কোম্পানির কোনো উল্লেখ্যযোগ্য শেয়ারধারক; এবং
(ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি বা যাহারা দফা (ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত সম্পর্কের ন্যায় কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির সহিত সম্পর্কিত।
(৭) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে গৃহীত বা গৃহীতব্য জামানত বাংলাদেশ ব্যাংকের তালিকাভুক্ত মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান (valuation firm) কর্তৃক মূল্যায়িত হইতে হইবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ ব্যাংক, সময় সময়, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা।- এই ধারায় "জামানত”বলিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, জারীকৃত নির্দেশনায় নির্ধারিত যোগ্য জামানতকে (eligible collateral) বুঝাইবে।
২৬। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
(১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা সমষ্টিগতভাবে উহার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের মোট পরিমাণের ২৫ (পঁচিশ) শতাংশের অধিক হইবে না।
(২) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক বন্ড, ডিবেঞ্চার বা ইসলামি শরীয়া ভিত্তিক নির্দশনপত্রে বিনিয়োগের সীমা নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক, সময় সময়, নির্দেশনা জারি করিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি সাবসিডিয়ারি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানিতে উহার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগের অধিক শেয়ার অর্জন বা ধারণ করিতে পারিবে না।
(৪) এই আইন কার্যকর হইবার পূর্বে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি সাবসিডিয়ারি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানিতে উহার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগের অধিক শেয়ার অর্জন বা ধারণ করিলে এই আইন কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৫ (পাঁচ) বৎসরের মধ্যে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে আরও ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে উহা শতকরা ৫ (পাঁচ) ভাগ পর্যন্ত অবনমন করিবে।
২৭। সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠনে বাধা-নিষেধ
(১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন করিতে পারিবে না।
(২) কোনো সাবসিডিয়ারি কোম্পানিতে ঋণ বা বিনিয়োগ প্রদান, অবলোপন এবং উহার সুদ বা মুনাফা মওকুফের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) যে উদ্দেশ্যে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠিত হোক না কেন, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত হার বা পরিমাণের অধিক উহার সাবসিডিয়ারি কোম্পানিসমূহের মূলধন হিসাবে বিনিয়োগ করিতে পারিবে না।
২৮। স্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও ধারণে বাধা-নিষেধ
(১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি সমষ্টিগতভাবে উহার পরিশোধিত মূলধন ও রিজার্ভের ২৫ (পঁচিশ) শতাংশের অধিক মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করিতে বা অধিকারে রাখিতে পারিবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিজস্ব ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় নহে এইরূপ কোনো স্থাবর সম্পত্তি, উহা যেভাবেই অর্জিত হইয়া থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি, উহা অর্জনের তারিখ হইতে ৭(সাত) বৎসর বা এই আইন প্রবর্তনের তারিখ হইতে ৭ (সাত) বৎসর, যাহা পরে শেষ হয়, ইহার অধিক সময় অতিক্রান্ত হইবার পর স্বীয় অধিকারে রাখিবে না।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীগণের স্বার্থে উক্ত সম্পত্তি অধিকারে রাখিবার সময়সীমা বর্ধিত করা প্রয়োজন, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময় অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে।
২৯। দেনাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক
আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ঋণ প্রদানকারী ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানির পরিচালক পর্ষদের অনুমোদন ব্যতীত কোনো দেনাদার কোম্পানির কোনো পরিচালক বা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সদস্যের পদত্যাগ কার্যকর হইবে না এবং কোনো পরিচালক তাহার শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রয় করিতে পারিবেন না।
৩০। খেলাপী ঋণগ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা সম্পর্কিত বিধান
(১) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি, সময় সময়, ইহার খেলাপী ঋণগ্রহীতার তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রাপ্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্যাংক কোম্পানিতে প্রেরণ করিবে।
(৩) কোনো খেলাপী ঋণগ্রহীতার অনুকূলে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনোরূপ ঋণ সুবিধা প্রদান করিবে না।
(৪) প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতার তালিকা প্রস্তুত করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সময় সময়, উক্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রাপ্ত তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের সকল ফাইন্যান্স কোম্পানি ও ব্যাংক-কোম্পানিতে প্রেরণ করিবে।
(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা শনাক্তকরণ এবং চূড়ান্তকরণ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করিবে।
(৭) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতার নাম চূড়ান্তকরণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে তাহার বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ প্রদান করিতে হইবে, এবং অনুরূপ ঋণ গ্রহীতা নাম চূড়ান্তকরণের তারিখ হইতে প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি উহা ৭ (সাত) কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে সেই মর্মে অবহিত করিবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর বিধান অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত হইবার ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(৯) বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের তালিকা প্রেরণ করিতে পারিবে এবং তাহাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা, ট্রেড লাইসেন্স ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশিন, রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC) এর নিকট কোম্পানি নিবন্ধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করিলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(১০) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির পরিচালক ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত হইলে উপ-ধারা (৮) এর বিধান সাপেক্ষে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাহার পরিচালক পদ শূন্য ঘোষণা করিতে পারিবে।
(১১) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি উক্ত তালিকা হইতে অব্যাহতি প্রাপ্তির পর বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময়, যাহা ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক হইবে না, অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক কোম্পানির পরিচালক হইবার যোগ্য হইবেন না।
(১২) উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর অধীন কোনো ব্যক্তি, ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে তালিকাভুক্ত হইলে এবং উপ-ধারা (৮) এর অধীন উক্ত তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আপিল করা না হইলে অথবা আপিল নামঞ্জুর হইলে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি উক্ত ঋণগ্রহীতাকে ২(দুই) মাস সময় প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে প্রাপ্য সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত চাহিয়া নোটিশ প্রদান করিবে।
(১৩) এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১২) এর বিধান অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির পর ২ (দুই) মাসের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা তাহার নিকট প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি, ক্ষেত্রমত, উহার পরিচালক পর্ষদের অনুমোদনক্রমে তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করিবে এবং এইরূপ মামলা সংশ্লিষ্ট ঋণ বা অগ্রিম বা পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে অর্থ ঋণ আদালতের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করিবে না।
৩১। সুদ বা মুনাফা মওকুফে বাধা-নিষেধ
বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি কর্তৃক গৃহীত ঋণের উপর আরোপিত বা অনারোপিত সুদ বা মুনাফা মওকুফ করিবে না, যথা:-
(ক) ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো বর্তমান বা প্রাক্তন পরিচালক ও তাহার পরিবার বা অন্য কোনো ব্যাংক-কোম্পানি বা ফাইন্যান্স কোম্পানির বর্তমান বা প্রাক্তন পরিচালক ও তাহার পরিবার; বা
(খ) এইরূপ কোনো ব্যক্তি-
(অ) যাহাতে উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার কোনো পরিচালক বা পরিচালকের পরিবারের কোনো সদস্য উল্লেখযোগ্য শেয়ারধারক, পরিচালক, জামিনদার, ম্যানেজিং এজেন্ট, মালিক বা অংশীদার রহিয়াছেন; বা
(আ) যাহা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার কোনো পরিচালক বা উহার কোনো পরিচালকের পরিবারের সদস্য কর্তৃক কোনোভাবে নিয়ন্ত্রিত বা প্রভাবিত হয়; বা
(গ) এইরূপ কোনো ব্যক্তি যাহার সহিত উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক, অংশীদার বা জামিনদার হিসাবে স্বার্থসংশ্লিষ্ট রহিয়াছে;
(ঘ) ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা হিসাবে চিহ্নিত কোনো ব্যক্তি:
তবে শর্ত থাকে যে, ঋণের সুদ বা মুনাফা মওকুফের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঋণের তহবিল ব্যয় (Cost of Fund) আদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করিতে হইবে।
৩২। মন্দ বা কু-ঋণ অবলোপন সম্পর্কিত বিধান
এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার নিকট হইতে গৃহীত কোনো ঋণ বা অন্য কোনো পাওনা অবলোপন (write off) করিলেও উক্ত অবলোপন সংশ্লিষ্ট ঋণ বা পাওনা আদায়ের আইনগত প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করিবে না।