- ৩৩। আর্থিক বিবরণী ও প্রতিবেদন
- ৩৪। নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল ও প্রদর্শন
- ৩৫। প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন ও প্রকাশ
- ৩৬। পরিদর্শন
- ৩৭। নিরীক্ষা।
- ৩৮। বিবরণী, তথ্য সরবরাহ, ইত্যাদি
- ৩৯। বাংলাদেশ ব্যাংককে মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে অবহিতকরণ
- ৪০। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য প্রকাশের ক্ষমতা
- ৪১। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা, নির্দেশ বা বাধা-নিষেধ আরোপের ক্ষমতা
ষষ্ঠ অধ্যায় : ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাব বিবরণী প্রস্তুত, নিরীক্ষা, পরিদর্শন, তথ্য প্রকাশ, ইত্যাদি ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
৩৩। আর্থিক বিবরণী ও প্রতিবেদন
(১) বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত প্রত্যেক ফাইন্যান্স কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোনো বৎসর সমাপ্ত হইবার পর উক্ত বৎসরে উক্ত কোম্পানি কর্তৃক কৃত অর্থায়ন ব্যবসা সম্পর্কে একটি স্থিতিপত্র ও লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং আর্থিক বিবরণী বৎসরের শেষ কার্যদিবসে যেইরূপ হয় সেইরূপভাবে প্রস্তুত করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রস্তুতকৃত আর্থিক বিবরণী ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ৪০ এর বিধান অনুসরণে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে যোগ্য তালিকাভুক্ত নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষা করাইতে হইবে।
(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ রেজিষ্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানীর নিকট কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিকে [যাহা ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ২ এর উপ-ধারা (৮) এ সংজ্ঞায়িত জনস্বার্থ সংস্থা হিসাবে বিবেচিত] আর্থিক বিবরণী বা অনুরূপ বিবরণী বা প্রতিবেদন উপস্থাপনের ক্ষেত্রে ফাইনান্সিয়াল রিপোটিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ৩৫ এর বিধান অনুযায়ী নিরীক্ষকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় দলিলসহ উপস্থাপন করিতে হইবে।
(৪) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক বিবরণী উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যূন ৩ (তিন) জন পরিচালক কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে।
৩৪। নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল ও প্রদর্শন
ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩৩ অনুযায়ী আর্থিক বিবরণীসহ নিরীক্ষা প্রতিবেদন বৎসর শেষ হইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দাখিল করিবে এবং ফার্টুন্যান্স কোম্পানির নিজস্ব ওয়েবসাইটে উহা অবিলম্বে প্রদর্শন করিবে এবং অন্যূন ৫ (পাঁচ) বৎসর ব্যাপী প্রদর্শন অব্যাহত রাখিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন দাখিলের উক্ত সময়সীমা অনধিক ৩ (তিন) মাস পর্যন্ত বর্ধিত করিতে পারিবে।
৩৫। প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন ও প্রকাশ
ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩৩ এর অধীন প্রস্তুতকৃত উহার সর্বশেষ নিরীক্ষিত স্থিতিপত্র, লাভ-লোকসান হিসাব, ইক্যুইটি পরিবর্তনের বিবরণী ও নগদ প্রবাহ বিবরণীর অনুলিপি ও পরিচালকগণের নাম উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র, শাখা বা অফিসের প্রকাশ্য স্থানে বৎসর ব্যাপী প্রদর্শন করিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিলের ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে উক্ত বিবরণীসমূহ বহুল প্রচলিত ন্যূনতম ২ (দুই) টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করিবে।
৩৬। পরিদর্শন
(১) কোম্পানি আইনে ভিন্নরূপ কোনো বিধান থাকা সত্ত্বেও, বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সময় উহার এক বা একাধিক কর্মকর্তার দ্বারা বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির রেজিস্টার, হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিল (লিখিত বা ইলেক্ট্রনিক) পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং ঋণগ্রহীতার অঙ্গন বা যেই স্থানে ঋণের অর্থ ব্যবহৃত হইয়াছে সেই স্থানও পরিদর্শন করিতে পারিবে এবং এইরূপ পরিদর্শন সমাপ্তির পর বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি বা এর অংশ বিশেষ উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিকে সরবরাহ করিবে।
(২) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, এবং উপ-ধারা (১) এর বিধান ক্ষুন্ন না করিয়া, বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো সময় উহার এক বা একাধিক কর্মকর্তার দ্বারা বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির রেজিস্টার, হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিল (লিখিত বা ইলেক্ট্রনিক) পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করাইতে পারিবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক আবশ্যক বিবেচনা করিলে উক্ত পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি বা ইহার অংশ বিশেষ উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানিকে সরবরাহ করিতে পারিবে।
(৩) ধারা ২৭ এর অধীন গঠিত সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক উপ- ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত অংশের একটি অনুলিপি পরিদর্শনকৃত প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাকে সরবরাহ করিবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনকার্য বা উপ-ধারা (২) এর অধীন পরীক্ষাকার্য পরিচালনাকারী কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাহিদা মোতাবেক ও তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির রেজিস্টার, হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিল (লিখিত বা ইলেক্ট্রনিক) দাখিল করা এবং তৎসম্পর্কে কোনো বিবৃতি বা তথ্য প্রদান করা উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা নিরীক্ষকের দায়িত্ব হইবে।
(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিদর্শনকার্য বা উপ-ধারা (২) এর অধীন পরীক্ষাকার্য পরিচালনাকারী ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির যে কোন পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা নিরীক্ষককে শপথ পাঠ করাইয়া উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিসের বিষয়াবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন।
(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি এবং উহার সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে নোটিশ প্রদানের পর, তৎকর্তৃক প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন বা উহার অংশ বিশেষ প্রকাশ করিতে পারিবে।
(৭) আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, জনস্বার্থে বা ফাইন্যান্স খাতের স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক প্রদত্ত ঋণ বা বিনিয়োগের অর্থের সদ্ব্যবহার যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগ গ্রহীতার ব্যবসাক্ষেত্র সরেজমিন পরিদর্শন করিতে পারিবে।
৩৭। নিরীক্ষা।
(১) ফাইনান্সিয়াল রিপোটিং আইন, ২০১৫ (২০১৫ সনের ১৬ নং আইন), Bangladesh Chartered Accountants Order, 1973 (P.O No. 2 of 1973) বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন অনুসারে কোম্পানির নিরীক্ষক হওয়ার যোগ্য যে কোনো ব্যক্তি ফাইন্যান্স কোম্পানির আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষার জন্য যোগ্য বলিয়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত এবং তালিকাভুক্ত হইলে, ধারা ৩৩ এর অধীন প্রস্তুতকৃত স্থিতিপত্র অনুসারে ফাইন্যান্স কোম্পানির লাভ-ক্ষতির হিসাব ও আর্থিক বিবরণী নিরীক্ষা করিতে পারিবে।
(২) ফাইন্যান্স কোম্পানি বাৎসরিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নিরীক্ষক নিয়োগ করিবে এবং উক্ত নিরীক্ষক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত নির্দেশনা ও কার্যপরিধি অনুযায়ী নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পাদন করিবে।
(৩) ফাইন্যান্স কোম্পানি উপ-ধারা (২) এর অধীন নিরীক্ষক নিয়োগে অসমর্থ হইলে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিবেচনায় যদি উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত নিরীক্ষকের সহিত অপর একজন নিরীক্ষকের কাজ করার প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য নিরীক্ষক নিযুক্ত করিতে পারিবে এবং প্রদেয় নিরীক্ষা ফি নির্ধারণ করিয়া দিবে।
(৪) যদি কোনো নিরীক্ষক নিম্নবর্ণিত বিষয়ে সন্তুষ্ট হন, তাহা হইলে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত বিষয় সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে লিখিতভাবে অবহিত করিবেন, যথা:-
(ক) এই আইনের বিধানসমূহ লঙ্ঘিত হইয়াছে বা পালন করা হয় নাই অথবা প্রতারণা বা অসততার দরুন কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে;
(খ) লোকসানের দরুণ ফাইন্যান্স কোম্পানির মূলধন ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের নিম্নে নামিয়া গিয়াছে;
(গ) পাওনাদারগণের পাওনা প্রদানের নিশ্চয়তা বিঘ্নিত হওয়াসহ অন্য কোনো গুরুতর অনিয়ম ঘটিয়াছে; অথবা
(ঘ) পাওনাদারগণের পাওনা পরিশোধের জন্য সম্পদ যথেষ্ট কিনা উক্ত বিষয়ে সন্দেহ রহিয়াছে।
(৫) উপ-ধারা (২) ও (৩) এর অধীন নিযুক্ত নিরীক্ষক ব্যতিরেকে জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যপরিধি নির্দিষ্ট করিয়া সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির নিজস্ব ব্যয়ে নিরীক্ষক, যাহা বিশেষ নিরীক্ষক বলিয়া বিবেচিত হইবে, নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৬) বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির নিরীক্ষা কার্যে নিয়োজিত কোনো নিরীক্ষক তাহার দায়িত্ব পালনে অবহেলা করিয়াছে বা উহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষককে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি নিরীক্ষার জন্য কেন অযোগ্য ঘোষণা করা হইবে না তদূমর্মে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিতে পারিবে।
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন প্রদত্ত নিরীক্ষকের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হইলে বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ে উহা ব্যাখ্যা প্রদান না করিলে, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষককে অনধিক ২ (দুই) বৎসরের জন্য কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা ব্যাংক-কোম্পানি নিরীক্ষার জন্য অযোগ্য ঘোষণা করিতে পারিবে।
(৮) উপ-ধারা (৭) এর অধীন কোনো ঘোষণার ফলে সংক্ষুদ্ধ নিরীক্ষক উক্ত ঘোষণার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের নিকট আপিল করিতে পারিবে এবং এতদবিষয়ে উক্ত পর্ষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
৩৮। বিবরণী, তথ্য সরবরাহ, ইত্যাদি
(১) বাংলাদেশ ব্যাংক যে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিকে যে কোনো তথ্য ও বিবরণী সরবরাহ করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং অনুরূপ নির্দেশিত তথ্য ও বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে সরবরাহ করিতে হইবে।
(২) জনস্বার্থ ও আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখিবার লক্ষ্যে ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক বা গ্রাহক বা অন্য কোনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের তথ্য বা প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্য প্রয়োজন হইলে, উক্ত তথ্য প্রদান করিবার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে সরকার বা অন্য কোনো নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা উক্ত সংস্থার অধীন অন্য কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের নিকট অনুরোধ করা হইলে তাহারা যাচিত তথ্য বা তথ্যাদি প্রদান করিবে।
৩৯। বাংলাদেশ ব্যাংককে মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেন সম্পর্কে অবহিতকরণ
কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি বা উহার কোনো কর্মকর্তা যদি এই মর্মে অবহিত হন বা তৎকর্তৃক সন্দেহ করিবার কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে-
(ক) মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৫ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (ফ) এ সংজ্ঞায়িত মানিলন্ডারিং এর সহিত জড়িত; বা
(খ) সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ১৬ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১৬) এ সংজ্ঞায়িত সন্দেহজনক লেনদেন এবং ধারা ৭ এ উল্লিখিত সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধ এর সহিত জড়িত;
তাহা হইলে উক্ত কোম্পানি বা কর্মকর্তা অবিলম্বে সেই ব্যক্তি ও লেনদেন সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করিবে।
৪০। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য প্রকাশের ক্ষমতা
বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে ধারা ৩০ এর অধীন প্রাপ্ত খেলাপী ঋণগ্রহীতা ও ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতার তালিকা এবং এই আইনের অধীন সংগৃহীত ৩০ (ত্রিশ) দিনের অধিক সময়ের অনাদায়ি ঋণ বা ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য একীভূত বা স্বতন্ত্র বা অন্য কোনোভাবে প্রকাশ করিতে পারিবে।
৪১। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা, নির্দেশ বা বাধা-নিষেধ আরোপের ক্ষমতা
(১) জনস্বার্থ বা আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষা বা ফাইন্যান্স কোম্পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নিম্নরূপ নির্দেশনা বা নির্দেশ প্রদান অথবা বাধা-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) সকল ফাইন্যান্স কোম্পানি বা কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির ফাইন্যান্স কোম্পানির বা কোনো নির্দিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য ঋণ শ্রেণিকরণ ও সঞ্চিতি সংরক্ষণ, ঋণের সুদ বা মুনাফা মওকুফ, পুনঃতফসিলিকরণ কিংবা পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে যাহা সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করিবে;
(খ) ধারা ৩৬ অনুযায়ী কোনো পরিদর্শন চলাকালীন বা উহা সমাপ্ত হইবার পর বা কোনো বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায়, লিখিত আদেশ দ্বারা এবং উহাতে উল্লিখিত শর্তাধীনে কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির বিষয়াবলি বা উহা হইতে উদ্ভূত কোনো বিষয় বিবেচনার জন্য উহার পরিচালকগণকে সভা আহ্বান করিতে বা অনুরূপ কোনো বিষয় সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহিত আলোচনা করিতে ফাইন্যান্স কোম্পানিকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে;
(গ) সকল বা নির্দিষ্ট কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিকে কোনো নির্দিষ্ট বা নির্দিষ্ট শ্রেণির লেনদেনে চুক্তিবদ্ধ হইবার ক্ষেত্রে সতর্ক বা বাধা-নিষেধ আরোপ করিতে পারিবে;
(ঘ) সকল বা নির্দিষ্ট কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানিকে উহার অর্থায়ন ব্যবসা সংক্রান্ত যে কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিবার বা না করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) বাংলাদেশ ব্যাংক সকল অথবা নির্দিষ্ট কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য নিম্নরূপ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) ফাইন্যান্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট নীতির উৎকর্ষ সাধনের জন্য;
(খ) ফাইন্যান্স কোম্পানির নিজের বা উহার আমানতকারীর স্বার্থের পরিপন্থি কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্য;
(গ) ফাইন্যান্স কোম্পানির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের জন্য;
(ঘ) জনস্বার্থে বা মুদ্রানীতির উৎকর্ষ সাধন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের জন্য।
(৩) বাংলাদেশ ব্যাংক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশনা, নির্দেশ বা বাধা-নিষেধ পরিবর্তন বা পরিমার্জন বা পরিবর্ধন বা বাতিল বা সংশোধন করিতে পারিবে।
(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রতি আর্থিক বৎসরের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রাকৃতিক ব্যক্তি (Natural Person) এর আমানত ও ঋণের উপর সুদ বা মুনাফা বা ভাড়ার সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে বৎসরের যে কোনো সময় উহা সমন্বয় করিবে এবং ওয়েবসাইটে প্রকাশসহ সর্বসাধারণের অবগতির জন্য প্রচার ও প্রকাশ করিবে।