- ৫৫। জরিমানা
- ৫৬। জরিমানা অন্য কোনো দায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না
- ৫৭। জরিমানা আরোপ ও আদায় প্রক্রিয়া
- ৫৮। অপরাধ ও দণ্ড
- ৫৯। অপরাধের বিচার
- ৬০। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
- ৬১। আমানতকারীর প্রতিনিধি মনোনয়ন সংক্রান্ত বিধান
- ৬২। অদাবিকৃত অর্থ বা আমানত সংক্রান্ত বিধান
- ৬৩। ফাইন্যান্স কোম্পানির নাম পরিবর্তন
- ৬৪। ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তন
- ৬৫। কতিপয় ক্ষতিপূরণের দাবির ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
- ৬৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
- ৬৭। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
- ৬৮। কতিপয় ক্ষেত্রে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
- ৬৯। সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ
- ৭০। রহিতকরণ ও হেফাজত
দশম অধ্যায় : জরিমানা, অপরাধ ও দণ্ড ( ফাইন্যান্স কো. আ., ২০২৩ )
৫৫। জরিমানা
(১) কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করিতে ব্যর্থ হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যক্তিকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা এবং উল্লিখিত ব্যর্থতা অব্যাহত থাকিলে প্রথম দিনের পর হইতে প্রতিদিনের ব্যর্থতার জন্য ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(২) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্সের আবেদনে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করিয়া লাইসেন্স গ্রহণ করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত ব্যক্তিকে অন্যূন ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৩) ধারা ৪ এর উপ-ধারা (৬) এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া এইরূপ কোনো শব্দ ব্যবহার করে যাহাতে উহাকে ফাইন্যান্স কোম্পানি হিসাবে মনে করিবার কারণ থাকে, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এবং উহার ব্যবস্থাপনা বা পরিচালনার সহিত সংশ্লিষ্ট পরিচালকগণ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, উক্ত লঙ্ঘনের জন্য তাহাদের প্রত্যেককে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা, এবং যদি উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে প্রত্যেক দিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৪) ধারা ৬ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস স্থাপন বা বিদ্যমান ব্যবসা কেন্দ্র বা অফিসের স্থান পরিবর্তন করিলে উহার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রত্যেক পরিচালক বা কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক অন্যূন ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৫) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি এই আইনের ধারা ৯ মোতাবেক নগদ তহবিল ও তরল সম্পদ সংরক্ষণে ব্যর্থ হইলে উহাকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিদিনের ঘাটতির অনধিক ১ (এক) শতাংশ হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৬) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ২৪ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া আমানত গ্রহণ করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করিয়া অথবা উক্ত আমানতের দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা বেশি সেই পরিমাণ টাকা, দায়ী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যার আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৭) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানি বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া ঋণ বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা প্রদান করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত যুক্ত প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা করিয়া অথবা উক্ত ছাড়কৃত ঋণের বিদ্যমান স্থিতি, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা বেশি সেই পরিমাণ টাকা, দায়ী ব্যক্তিবর্গের সংখ্যার আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৮) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো পরিচালক, ব্যবস্থাপক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, নিরীক্ষক, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাববহি, হিসাব প্রতিবেদন, কোনো বিবরণী, ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজ বা অন্যান্য দলিল
(ক) এ মিথ্যা কোনো কিছু সংযোজন করেন বা করিতে সাহায্য করেন; বা
(খ) এর কোনো কিছু গোপন বা নষ্ট করেন; বা
(গ) যাহা তলবকৃত বা দাখিলকৃত উহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন বা কোনো কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করেন;
তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট প্রাকৃতিক ব্যক্তিকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৯) যদি কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩০ এ উল্লিখিত ইচ্ছাকৃত খেলাপী ঋণগ্রহীতা সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করে, অথবা যদি বাংলাদেশ ব্যাংক এইরূপ বিবেচনা করে যে, কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি জ্ঞাতসারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত বিধান লঙ্ঘন করিয়াছে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের জন্য উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির উপর ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা, এবং যদি উক্ত লঙ্ঘন অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের প্রথম দিনের পর প্রত্যেক দিনের জন্য অতিরিক্ত অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।
(১০) ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া সুদ বা মুনাফা মওকুফ করিলে উক্ত লঙ্ঘনের সহিত জড়িত প্রত্যেক পরিচালক ও কর্মকর্তাকে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্তরূপ মওকুফ সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা দায়ী ব্যক্তিবর্গের উপর আনুপাতিক হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(১১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৩৪ এর অধীন আর্থিক বিবরণী দাখিলে ব্যর্থ হইলে প্রতিদিন বিলম্বের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক উহাকে ১০ (দশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(১২) যদি কোনো ব্যক্তি ধারা ৩৬ এর অধীন কোনো বহি, হিসাব বা অন্য কোনো দলিল দাখিল করিতে অথবা কোনো বিবরণ বা তথ্য সরবরাহ করিতে, অথবা ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত বা পরীক্ষার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা কোনো প্রশ্নের জবাব প্রদানে অসম্মত হন, তাহা হইলে অন্যূন ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা এবং অনধিক ৩(তিন) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে, এবং যদি উক্ত অসম্মতি অব্যাহত থাকে, তাহা হইলে অনুরূপ প্রথম দিনের পর হইতে প্রতিদিনের জন্য অন্যূন ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা এবং অনধিক ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।
(১৩) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি ধারা ৪৮ এর উপ-ধারা (২) এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত প্রশাসনিক ব্যবস্থা অমান্য করিলে বাংলাদেশ ব্যাংক উহাকে অন্যূন ১০ (দশ) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(১৪) এই ধারার বিভিন্ন উপ-ধারায় নির্দিষ্টকৃত জরিমানা ব্যতীত যদি কোনো ব্যক্তি এই আইনের অন্য কোনো বিধান লঙ্ঘন করেন, বা তদধীন প্রদত্ত কোনো আদেশ বা নির্দেশ বা আরোপিত কোনো শর্ত বা কোনো প্রণীত কোনো বিধি বা প্রবিধান লঙ্ঘন করে, তাহা হইলে উক্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অন্যূন ৩ (তিন) লক্ষ টাকা এবং অনধিক ১৫ (পনেরো) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপিত হইবে।
৫৬। জরিমানা অন্য কোনো দায়কে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না
ধারা ৫৫ এর অধীন কোনো ব্যক্তির উপর আরোপিত কোনো জরিমানা এই আইন অথবা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে উক্ত ব্যক্তির উপর আরোপযোগ্য বা আরোপিত হইয়াছে এইরূপ কোনো দায়-কে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না।
৫৭। জরিমানা আরোপ ও আদায় প্রক্রিয়া
(১) বাংলাদেশ ব্যাংক স্বীয় বিবেচনায় যথাযথ সময়, যা অনধিক ৩০ দিন, প্রদানপূর্বক কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করিবে।
(২) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব প্রদান না করিলে বা প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারা ৫৫ এর আওতায় জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।
(৩) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে এবং সময়মতো জরিমানা পরিশোধ না করিলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাব হইতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনা নোটিশে বিকলনের (debit) মাধ্যমে আদায় করিতে পারিবে।
(৪) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক আরোপিত জরিমানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হইলে বা বাংলাদেশ ব্যাংকের সহিত রক্ষিত ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাব বিকলনের মাধ্যমে আদায় সম্ভব না হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করিতে পারিবে এবং এইক্ষেত্রে এই আইনের ধারা ৫৯ এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।
৫৮। অপরাধ ও দণ্ড
(১) কোনো ব্যক্তি এই আইনের অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হইয়া বা প্রাপ্ত লাইসেন্স বাতিল হইবার পর বা মিথ্যা পরিচয় প্রদানপূর্বক অর্থায়ন ব্যবসা পরিচালনা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(২) এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তি লাইসেন্সে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান করিয়া লাইসেন্স গ্রহণ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(৩) ধারা ৪ উপ-ধারা (৬) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৭ (সাত) বৎসর কারাদন্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবে।
(৪) ধারা ২৫ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোনো পরিচালক বা কর্মকর্তা ঋণ সুবিধা প্রদান করিলে উহা অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫(পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ১ (এক) কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(৫) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩০ এ উল্লিখিত খেলাপী ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে ঋণ প্রদানকারী ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রচলিত আইন অনুসারে মামলা দায়ের করিবে।
(৬) ধারা ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া সুদ বা মুনাফা মওকুফ করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্তরূপ অপরাধের সহিত জড়িত ব্যক্তি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) বৎসর কারাদন্ডে বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে।
(৭) বাংলাদেশ ব্যাংক ধারা ৩৬ এর অধীন কোন পরিদর্শন বা পরীক্ষাকার্য সম্পন্ন করিবার পর উক্ত প্রতিবেদন বিবেচনান্তে যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, ফাইন্যান্স কোম্পানির বা উহার সকল ব্যবসা কেন্দ্র বা শাখা বা বুথ বা অফিস ও সাবসিডিয়ারির কার্যাবলি উহার আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থি পদ্ধতিতে পরিচালিত হইতেছে, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক, লিখিত আদেশ দ্বারা
(ক) উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক নূতন আমানত গ্রহণ নিষিদ্ধ করিতে পারিবে;
(খ) ধারা ৫১ এর উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানির অবসায়নের উদ্দেশ্যে আবেদন দাখিল করিতে পারিবে;
(গ) পাওনাদারের স্বার্থ রক্ষার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক যেইরূপ সঙ্গত বিবেচনা করে সেইরূপ আদেশ প্রদান বা কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে।
(৮) ধারা ৪২ এর অধীন লাইসেন্সবিহীন অর্থায়ন ব্যবসায় নিয়োজিত ব্যক্তি তদন্তকার্যে অসহযোগিতা করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(৯) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির হিসাববহি, হিসাব প্রতিবেদন, কোনো বিবরণী, ব্যবসা সংক্রান্ত কাগজ বা অন্যান্য দলিলে-
(ক) মিথ্যা কোনো কিছু সংযোজন করিলে বা করিতে সহায়তা করিলে বা উক্ত দলিলের কোনো অংশ/বিষয় গোপন বা নষ্ট করিলে বা এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, তলবকৃত বা দাখিলকৃত কোনো বিবরণ, প্রতিবেদন বা অন্যান্য দলিলে ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদান করিলে; অথবা
(খ) কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান না করিলে;
উহা হইবে একটি অপরাধ এবং উক্ত অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
(১০) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনের ধারা ৫৭ এর উপ-ধারা (৪) মোতাবেক মামলা দায়ের হইলে, তজ্জন্য উক্ত ব্যক্তি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
৫৯। অপরাধের বিচার
(১) ধারা ৫৮ এর অধীন সংঘটিত অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।
(২) বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার লিখিত অভিযোগ ব্যতিরেকে এই আইনের অধীন কোনো অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করা যাইবে না।
৬০। অপরাধের আমলযোগ্যতা ও জামিনযোগ্যতা
এ আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধ আমলযোগ্য (Cognizable), আপোষযোগ্য (Compoundable) এবং জামিন অযোগ্য (Non-Bailable) হইবে।
৬১। আমানতকারীর প্রতিনিধি মনোনয়ন সংক্রান্ত বিধান
(১) ফাইন্যান্স কোম্পানির নিকট রক্ষিত কোনো আমানত একক ব্যক্তি বা যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তির নামে জমা থাকিলে উক্ত একক আমানতকারী বা যৌথ আমানতকারী সকলের মৃত্যুর পর তাহার বা তাহাদের মনোনীত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে আমানতের টাকা প্রদান করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আমানতকারীগণ যে কোনো সময় মনোনীত ব্যক্তির মনোনয়ন বাতিলপূর্বক অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মনোনীত করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত কোনো ব্যক্তি নাবালক থাকা অবস্থায় একক আমানতকারী বা যৌথ আমানতকারী তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে, আমানতের টাকা কে গ্রহণ করিবেন উহা নির্দিষ্ট করিয়া দিতে পারিবে।
(৩) আমানতের অর্থ পরিশোধে মনোনয়ন ও আমানতের দাবি সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
৬২। অদাবিকৃত অর্থ বা আমানত সংক্রান্ত বিধান
(১) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির কোনো কেন্দ্র বা শাখায় সরকার, নাবালক বা আদালতের অর্থ ব্যতীত অন্য কাহারো পরিশোধযোগ্য অর্থ বা আমানত নির্দিষ্ট মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার তারিখ হইতে ১০ (দশ) বৎসর পর্যন্ত যোগাযোগ করা না হইলে বা দাবি করা না হইলে, উক্ত অর্থ বা আমানত পাওনাদার বা আমানতকারী কর্তৃক প্রদত্ত সর্বশেষ ঠিকানায় এবং তাহার মনোনীত ব্যক্তির ঠিকানায় নোটিশের অনুলিপি ফাইন্যান্স কোম্পানি রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ৩ (তিন) মাস সময় প্রদান করিয়া নোটিশ প্রেরণ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত নোটিশ প্রেরণের ৩ (তিন) মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরে যদি দেখা যায় যে, উহার প্রাপ্তিস্বীকার পত্র বা কোনো উত্তর প্রেরিত হয় নাই ভাহা হইলে নিম্নরূপ বিধানাবলী অনুসৃত হইবে, যথা:-
(ক) ফাইন্যান্স কোম্পানি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অর্থ বা আমানত সুদ বা মুনাফাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করিবে;
(খ) বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা প্রদানের পর সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি তাহাদের ওয়েবসাইটে প্রেরিত অদাবিকৃত আমানতের তালিকা ১ (এক) বৎসর যাবত প্রদর্শন করিবে; এবং
(গ) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় নোটিশ,-
(অ) কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ক্ষেত্রে, উহার প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর, কোনো হিন্দু যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে, উহার কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের নিকট, এবং ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত অন্য কোনো সমিতির ক্ষেত্রে, উহার মুখ্য কর্মকর্তার নিকট, প্রেরণ করা যাইবে;
(আ) উহার প্রাপক কর্তৃক যথাযথভাবে ক্ষমতা প্রদত্ত প্রতিনিধিকে বা উক্ত প্রাপক মৃত হইলে, তাঁহার বৈধ প্রতিনিধিকে বা উক্ত প্রাপক দেউলিয়া ঘোষিত হইয়া থাকিলে, তাঁহার স্বত্ব নিয়োগীকে, প্রদান করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রাপক কর্তৃক প্রতিনিধি নিয়োগের বা প্রাপকের মৃত্যু বা তাঁহার দেউলিয়া ঘোষিত হইবার বিষয়টি ফাইন্যান্স কোম্পানির গোচরে থাকিতে হইবে;
(ই) উহার খাম বা আবরণীটিতে যথাযথভাবে প্রাপকের ঠিকানা লিখিত, ডাক টিকেট লাগানো এবং উহা ডাক বাক্সে ফেলা হইয়া থাকিলে, উক্ত নোটিশ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পৌঁছানো সত্ত্বেও অথবা উহার প্রাপকের মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্যহীনতা, বা দেউলিয়া হওয়া সত্ত্বেও, যদি ফাইন্যান্স কোম্পানি উক্ত বিষয়ে নোটিশ প্রদানের পূর্বে অবহিত না হইয়া থাকে, অথবা নোটিশ সংবলিত উক্ত খামটি বা আবরণীটি ডাক বিভাগ কর্তৃক "প্রাপককে পাওয়া গেল না” এই মর্মে বা অনুরূপ অন্য কোনো মর্মে কোনো বিবৃতি লিপিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত খাম বা আবরণী যে তারিখে ডাক বাক্সে ফেলা হইয়াছিল সেই তারিখের পর হইতে ১৫ (পনেরো) দিন পরে, উক্ত নোটিশ যথাযথভাবে জারি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(ঘ) কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংককে দফা (ক) এর অধীন অর্থ বা আমানত প্রেরণের, সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট ঋণের শর্তাবলিতে বা কোনো দলিলে বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্নরূপ কোনো বিধান থাকা সত্ত্বেও, উক্ত অর্থের উপর কোনো সুদ বা মুনাফা বা লাভ-ক্ষতি গণনা করা হইবে না;
(ঙ) Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের কোনো কিছুই বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি দফা (ক) এর অধীন কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির দায় ক্ষুণ্ণ করিবে না:
(চ) উপ-ধারা (১) অনুসারে, গণনা করিয়া ১০ (দশ) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর, যে সব দাবিহীন অর্থ বা আমানত অপরিশোধিত বা, ক্ষেত্রমত, অফেরত অবস্থায় কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানির নিকট থাকে, উক্ত ফাইন্যান্স কোম্পানি, প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে, সেই সকল অর্থ বা সামগ্রীর একটি বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট দাখিল করিবে;
(ছ) দফা (ক) এর অধীন যে সকল অর্থ বা আমানত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত হইবে, উহাদের একটি তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক এর ওয়েবসাইটে প্রদর্শন করিবে;
(জ) যেই ফাইন্যান্স কোম্পানি দফা (ক) এর অধীন কোনো অর্থ বা আমানত বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট জমা রাখিবে সেই ফাইন্যান্স কোম্পানি, অনুরূপভাবে জমা রাখিবার পর হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উক্ত অর্থ বা আমানতের উপর পূর্বস্বত্ব বা পাল্টাদাবি বা উহাকে পৃথক করিয়া রাখার দাবি করিতে পারে;
(ঝ) দফা (ক) এর অধীন জমাকৃত অর্থ বা আমানতের অধিকারী বলিয়া কোনো ব্যক্তি দাবি করিলে তিনি তাহার দাবি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট উপস্থাপন করিতে পারিবেন;
(ঞ) দফা (জ) ও (ঝ) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, উপস্থাপিত দাবির উপর বাংলাদেশ ব্যাংক তৎকর্তৃক সমীচীন বলিয়া বিবেচিত আদেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উত্থাপিত দাবির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো অর্থ বা আমানত প্রদান করিলে উহার গ্রহীতার প্রাপ্তি রসিদ ঐ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব মোচন করিবে;
(ট) বাংলাদেশ ব্যাংকে দফা (ক) এর অধীন প্রদত্ত অর্থ বা আমানত সংম্পর্কে অনুরূপ প্রদান বা হস্তান্তরের পর হইতে দুই বৎসরের মধ্যে যদি কোনো বিরোধ কোনো আদালতে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকে এবং উক্ত বিরোধ সম্পর্কে আদালত হইতে বা অন্য কোনো সূত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত হয়, তাহা হইলে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত অর্থ বা আমানত নিজের তত্ত্বাবধানে রাখিবে এবং আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক উহার বিলি বন্দোবস্ত করিবে;
(ঠ) দফা (জ) এবং (ঞ) এর বিধান সাপেক্ষে, দফা (ক) এর অধীন অর্থ বা আমানত বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পর হইতে ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে উক্ত অর্থ বা আমানত সম্পর্কে যদি কোনো দাবি উত্থাপতি না হয় বা কোনো তরফ হইতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করা না হয়, তাহা হইলে উক্ত ২ (দুই) বৎসর অতিবাহিত হইবার পর হইতে উক্ত অর্থ বা আমানতের উপর কাহারো কোনো দাবি থাকিবে না এবং উহা সরকারের সম্পত্তি হইবে এবং সরকারের উপর উহা ন্যস্ত হইবে;
(ড) দফা (ক) এর অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত কোনো অর্থ বা আমানতের বিষয়ে দফা (ঞ) মোতাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে এবং উক্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে দফা (ঢ) তে বিধৃত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো আদালত বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের সম্মুখে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা চলিবে না;
(ঢ) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক দফা (ঞ) এর অধীন প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ কোনো ব্যক্তি উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কর্তৃক নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা, যিনি সিদ্ধান্ত প্রদানকারী কর্মকর্তা অপেক্ষা উচ্চতর পদমর্যাদা সম্পন্ন হইবেন, এর নিকট অপিল দায়ের করিতে পারিবেন;
(ণ) দফা (জ) ও (ঝ) এর অধীন উত্থাপিত কোনো দাবি বা দফা (ঢ) এর অধীন দায়েরকৃত কোনো অপিল মীমাংসা বা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে এবং কোনো মামলার বিচারের ক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহে বাংলাদেশ ব্যাংক সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে যেই সকল ক্ষমতা Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর অধীন কোনো দেওয়ানী আদালতের রহিয়াছে, যথা:-
(ক) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শপথের মাধ্যমে তাহার সাক্ষ্য গ্রহণ;
(খ) প্রামাণিক দলিল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপনে বাধ্যকরণ; এবং
(গ) সাক্ষীর জবানবন্দী গ্রহণের জন্য কমিশন নিয়োগ:
(ত) এই ধারার অধীন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষ্পত্তিযোগ্য কোনো কার্যধারা Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 228 এর বিধান মোতাবেক Judicial proceeding হিসাবে গণ্য হইবে এবং এই ধারার অধীন উক্ত কোনো কার্যধারার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক Code of Criminal Procedure. 1898 (Act No. V of 1898) এর section 480 এর বিধান মোতাবেক একটি Civil Court হিসাবে গণ্য হইবে; এবং
(থ) এই ধারার অধীন কোনো কার্যধারায় কোনো দলিল দাখিল, প্রদর্শন বা লিপিবদ্ধ করিবার জন্য বা বাংলাদেশ ব্যাংক হইতে কোনো দলিল গ্রহণের জন্য কোনো কোর্ট ফি প্রদান করিতে হইবে না।
৬৩। ফাইন্যান্স কোম্পানির নাম পরিবর্তন
বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার নাম পরিবর্তন করিতে পারিবে না।
৬৪। ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক ও সংঘবিধি পরিবর্তন
বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার সংঘ-স্মারক বা সংঘবিধি পরিবর্তন করিতে পারিবে না এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনে ফাইন্যান্স কোম্পানির সংঘ-স্মারক বা সংঘবিধি পরিবর্তন করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
৬৫। কতিপয় ক্ষতিপূরণের দাবির ক্ষেত্রে বাধা-নিষেধ
কোনো ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক এই আইনের বিধানাবলি পরিপালনের কারণে কোনো ব্যক্তির কোনো চুক্তি বা অন্য কোনোভাবে উদ্ভূত অধিকার ক্ষুণ্ণ হইলে তজ্জন্য তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করিতে পারিবেন না।
৬৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(২) সরকার সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি আহ্বান করিয়া সরকারি গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা বিধি প্রাক-প্রকাশ করিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাক-প্রকাশিত বিষয়ের উপর কোনো ব্যক্তির কোনো মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি থাকিলে উহা লিখিতভাবে গেজেটে প্রাক-প্রকাশের অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৪) সরকার উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত মতামত, পরামর্শ বা আপত্তি বিবেচনা করিয়া উহার বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
৬৭। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বাংলাদেশ ব্যাংক নিম্নরূপ বিষয়ে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) ফাইন্যান্স কোম্পানির লাইসেন্স প্রদান ও শাখা স্থাপন; বা
(খ) মূলধন সংরক্ষণ; বা
(গ) বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি; বা
(ঘ) তহবিল সংরক্ষণ; বা
(ঙ) ফাইন্যান্স কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন।
৬৮। কতিপয় ক্ষেত্রে অব্যাহতি প্রদানের ক্ষমতা
বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের সহিত পরামর্শক্রমে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবে যে, এই আইনের সকল বা বিশেষ বিধান, কোনো নির্দিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি বা সকল ফাইন্যান্স কোম্পানির ক্ষেত্রে, তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে, সাধারণভাবে বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত কোনো মেয়াদকালে প্রযোজ্য হইবে না।
৬৯। সরল বিশ্বাসে কৃত কার্য রক্ষণ
এই আইনের অধীন সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত কার্য বা কার্য সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার আশঙ্কা থাকিলে তজ্জন্য সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগকৃত উহার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে বা ধারা ২০ উপ-ধারা (২) এর অধীন নিযুক্ত কোনো প্রকৃতিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা দায়ের বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাইবে না।
৭০। রহিতকরণ ও হেফাজত
(১) আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এতদ্দ্বারা রহিত করা হইল।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-
(ক) কৃত কোনো কার্য, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা এই আইনের অধীন কৃত, গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
(খ) প্রণীত কোনো প্রবিধান, জারীকৃত কোনো প্রজ্ঞাপন, প্রদত্ত কোনো আদেশ, নির্দেশ, অনুমোদন, সুপারিশ, প্রণীত সকল স্কিম বা পরিকল্পনা বা কার্যক্রম এবং অনুমোদিত সকল হিসাব বিবরণী ও বার্ষিক প্রতিবেদন উক্তরূপ রহিতকরণের অব্যবহিত পূর্বে বলবৎ থাকিলে, এই আইনের কোনো বিধানের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ না হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অনুরূপ বিধানের অধীন প্রণীত, জারীকৃত, প্রদত্ত এবং অনুমোদিত বলিয়া গণ্য হইবে এবং মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বা এই আইনের অধীন রহিত বা সংশোষিত না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, উক্ত আইনের অধীন-
(ক) লাইসেন্স প্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা উহার সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা, আমানতকারী বা ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে বা তৎকর্তৃক দায়েরকৃত কোনো মামলা, গৃহীত কোনো ব্যবস্থা বা সূচিত কোনো কার্যধারা অনিষ্পন্ন বা চলমান থাকিলে এমনভাবে নিষ্পন্ন করিতে হইবে যেন উহা এই আইনের অধীন দায়েরকৃত বা গৃহীত বা সূচিত হইয়াছে।
(খ) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা উহার সংশ্লিষ্ট পরিচালক, কর্মকর্তা, আমানতকারী বা ঋণগ্রহীতা বা পাওনাদারের পক্ষে, উহার দ্বারা বা উহার সহিত সম্পাদিত কোনো চুক্তি, দলিল বা ইনস্ট্রুমেন্ট এইরূপে বহাল থাকিবে যেন উহা এই আইনের অধীন সম্পাদিত হইয়াছে;
(গ) সকল প্রকার ঋণ, দায় ও আইনগত বাধ্যবাধকতা এই আইনের বিধান অনুযায়ী সেই একই শর্তে কর্তৃপক্ষের ঋণ, দায় ও আইনগত বাধ্যবাধকতা হিসাবে গণ্য হইবে;
(ঘ) সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও সুবিধা, ফি, স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি, তহবিল, নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা ও সিকিউরিটিসহ সকল হিসাব এবং এতদসংশ্লিষ্ট সকল হিসাব বহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র এবং অন্যান্য সকল দলিলসহ এই আইন প্রবর্তনের, সঙ্গে সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানির নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স কোম্পানি উহার অধিকারী হইবে।
(৪) আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বা চাকরির শর্তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যে শর্তাধীনে চাকরিতে বা চুক্তিতে বা অন্য যে কোনোভাবে নিয়োজিত রহিয়াছিলেন, তাহারা এই আইনের বিধান অনুযায়ী পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত এবং, সেই একই শর্তে চাকরিতে বা চুক্তিতে বা অন্যভাবে নিয়োজিত এবং, ক্ষেত্রমত, বহাল থাকিবেন।