- ৬। সন্ত্রাসী কার্য
- ৭। সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধ
- ৮। নিষিদ্ধ 1[সত্তার] সদস্যপদ
- ৯। নিষিদ্ধ 1[সত্তা] সমর্থন
- ১০। অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের (criminal conspiracy) শাস্তি
- ১১। অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টার (attempt) শাস্তি
- ১২। অপরাধ সংঘটনে সাহায্য ও সহায়তার (aid and abetment) শাস্তি
- ১৩। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত (instigation) করিবার শাস্তি
- ১৪। অপরাধীকে আশ্রয় প্রদানের শাস্তি]
দ্বিতীয় অধ্যায় : অপরাধ ও দণ্ড ( সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ )
৬। সন্ত্রাসী কার্য
(১) যদি কোন ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশী নাগরিক-
(ক) বাংলাদেশের অখণ্ডতা, সংহতি, জননিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করিবার জন্য জনসাধারণ বা জনসাধারণের কোন অংশের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার বা কোন সত্তা বা কোন ব্যক্তিকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিতে বাধ্য করিবার উদ্দেশ্যে-
(অ) অন্য কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর আঘাত, আটক বা অপহরণ করে বা করিবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে; অথবা
(আ) অন্য কোন ব্যক্তিকে হত্যা, গুরুতর জখম, আটক বা অপহরণ করার জন্য অপর কোন ব্যক্তিকে ষড়যন্ত্র বা সহায়তা বা প্ররোচিত করে; অথবা
(ই) অন্য কোন ব্যক্তি, সত্তা বা প্রজাতন্ত্রের কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে বা করিবার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে; অথবা
(ঈ) অন্য কোন ব্যক্তি, সত্তা বা প্রজাতন্ত্রের কোন সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করিবার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্র বা সহায়তা বা প্ররোচিত করে; অথবা
(উ) উপ-দফা (অ), (আ), (ই) বা (ঈ) এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোন বিস্ফোরক দ্রব্য, দাহ্য পদার্থ ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বা নিজ দখলে রাখে;
(খ) অন্য কোন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত বা উহার সম্পত্তি বিনষ্ট করিবার অভিপ্রায়ে দফা (ক) এর উপ-দফা (অ), (আ), (ই), (ঈ) বা (উ) এর অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের প্রচেষ্টা করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত, ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে;
(গ) কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কোন কার্য করিতে বা করা হইতে বিরত রাখিবার জন্য দফা (ক) এর উপ-দফা (অ), (আ), (ই), (ঈ) বা (উ) এর অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করে বা সংঘটনের উদ্যোগ গ্রহণ করে বা উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য প্ররোচিত, ষড়যন্ত্র বা সহায়তা করে;
(ঘ) জ্ঞাতসারে কোন সন্ত্রাসী সম্পত্তি ব্যবহার করে বা অধিকারে রাখে;
(ঙ) এই আইনের তফসিল-১ এ অন্তর্ভুক্ত জাতিসংঘ কনভেনশনে বর্ণিত কোন অপরাধ করিতে সহায়তা, প্ররোচিত বা ষড়যন্ত্র করে বা সংঘটন করে বা সংঘটন করিবার প্রচেষ্টা করে;
(চ) কোন সশস্ত্র সংঘাতময় দ্বন্দ্বের বৈরি পরিস্থিতিতে (hostilities in a situation of armed conflict) সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন নাই এইরূপ কোন বেসামরিক, কিংবা অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইবার বা মারাত্মক শারীরিক জখম ঘটাইবার অভিপ্রায়ে এইরূপ কোন কার্য করে, যাহার উদ্দেশ্য, উহার প্রকৃতিগত বা ব্যাপ্তির কারণে, কোন জনগোষ্ঠীকে ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোন সরকার বা রাষ্ট্র বা কোন আন্তর্জাতিক সংস্থাকে কোন কার্য করিতে বা কোন কার্য করা হইতে বিরত থাকিতে বাধ্য করে
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি, সত্তা বা বিদেশী নাগরিক ‘‘সন্ত্রাসী কার্য’’ সংঘটনের অপরাধ করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) যদি কোন ব্যক্তি বা বিদেশী নাগরিক উপ-ধারা (১) এর দফা (ক) এর-
(অ) উপ-দফা (অ) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে;
(আ) উপ-দফা (আ) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে উক্ত অপরাধের নির্ধারিত শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয় সেইক্ষেত্রে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
(ই) উপ-দফা (ই) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন;
(ঈ) উপ-দফা (ঈ) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন
(উ) উপ-দফা (উ) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৩) যদি কোন ব্যক্তি বা বিদেশী নাগরিক উপ-ধারা (১) এর দফা (খ), (গ), (ঘ), (ঙ) বা (চ) এর অধীন কোন অপরাধ সংঘটন করেন তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
(৪) যদি কোন সত্তা সন্ত্রাসী কার্য সংঘটন করে, তাহা হইলে-
(ক) উক্ত সত্তার বিরুদ্ধে ধারা ১৮ অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাইবে এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের তিনগুণ পরিমাণ অর্থ বা ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে; এবং
(খ) উক্ত সত্তার প্রধান, তিনি চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য যে কোন নামে অভিহিত হউক না কেন, অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সম্পত্তির মূল্যের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ বা ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সমর্থ হন যে, উক্তরূপ অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল বা উহার সংঘটন নিবৃত্ত করিবার জন্য তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করিয়াছিলেন।]
৭। সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধ
(১) যদি কোন ব্যক্তি বা সত্তা স্বেচ্ছায়, বৈধ বা অবৈধ উৎস হইতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যে কোনভাবে এই অভিপ্রায়ে অর্থ, সেবা বা অন্য যে কোন সম্পত্তি সরবরাহ, গ্রহণ, সংগ্রহ বা উহার এইরূপ ব্যবস্থা করে যে, উহার সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ-
(ক) সন্ত্রাসী কার্য পরিচালনায় ব্যবহৃত হইবে; বা
(খ) সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সন্ত্রাসী সত্তা কর্তৃক যে কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে, অথবা ব্যবহৃত হইতে পারে মর্মে জ্ঞাত থাকে;
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের অপরাধ সংঘটন করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়ন সংক্রান্ত অপরাধে দোষী সাব্যস্তকরণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অর্থ, সেবা বা অন্য যে কোন সম্পত্তি প্রকৃতই কোন সন্ত্রাসী কার্য সম্পাদনের বা পরিচালনার ক্ষেত্রে বা সন্ত্রাসী কার্য সম্পাদনের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হইয়াছে কিনা বা কোন সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাসী কার্যের সহিত সম্পর্কযুক্ত ছিল কিনা, উহার উপর নির্ভর করিবে না।
(৩) যদি কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ বা ১০ (দশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
(৪) যদি কোন সত্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়, তাহা হইলে-
(ক) উক্ত সত্তার বিরুদ্ধে ধারা ১৮ অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাইবে এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির মূল্যের তিনগুণ পরিমাণ অর্থ বা ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে; এব
(খ) উক্ত সত্তার প্রধান, তিনি চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য যে কোন নামে অভিহিত হউক না কেন, অনূর্ধ্ব ২০ (বিশ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত অপরাধের সহিত সম্পৃক্ত সম্পত্তির মূল্যের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ বা ২০ (বিশ) লক্ষ টাকা, যাহা অধিক, অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সমর্থ হন যে, উক্তরূপ অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল বা উহার সংঘটন নিবৃত্ত করিবার জন্য তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করিয়াছিলেন।]
৮। নিষিদ্ধ 1[সত্তার] সদস্যপদ
যদি কোন ব্যক্তি ধারা ১৮ এর অধীন কোন নিষিদ্ধ 2[সত্তার] সদস্য হন বা সদস্য বলিয়া দাবী করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন এবং উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৯। নিষিদ্ধ 1[সত্তা] সমর্থন
(১) যদি কোন ব্যক্তি ধারা ১৮ এর অধীন কোন নিষিদ্ধ 2[সত্তাকে] সমর্থন করিবার উদ্দেশ্যে কাহাকেও অনুরোধ বা আহ্বান করেন, অথবা নিষিদ্ধ 3[সত্তাকে] সমর্থন বা উহার কর্মকাণ্ডকে গতিশীল ও উৎসাহিত করিবার উদ্দেশ্যে কোন সভা আয়োজন, পরিচালনা বা পরিচালনায় সহায়তা করেন, অথবা বক্তৃতা প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন।
(২) যদি কোন ব্যক্তি কোন নিষিদ্ধ 4[সত্তার] জন্য সমর্থন চাহিয়া অথবা উহার কর্মকাণ্ডকে সক্রিয় করিবার উদ্দেশ্যে কোন সভায় বক্তৃতা করেন অথবা রেডিও, টেলিভিশন অথবা কোন মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচার করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটন করিবেন।
(৩) যদি কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন, তাহা হইলে তিনি অনধিক সাত বৎসর ও অন্যূন দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ড ও আরোপ করা যাইবে।
১০। অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রের (criminal conspiracy) শাস্তি
যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র করেন, তাহা হইলে 1[তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং] তিনি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের যে কোন কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হইবে, কিন্তু উহা 2[৪ (চার)] বৎসরের কম হইবে না।
১১। অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টার (attempt) শাস্তি
যদি কোন ব্যক্তি বা সত্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের প্রচেষ্টা করে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা সত্তা অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা উক্ত সত্তার প্রধান, তিনি চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য যে কোন নামে অভিহিত হউক না কেন, উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই-তৃতীয়াংশ মেয়াদের যে কোন কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের শাস্তি হইবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড, এবং উহার অতিরিক্ত সংশ্লিষ্ট সত্তার বিরুদ্ধে ধারা ১৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।]
১২। অপরাধ সংঘটনে সাহায্য ও সহায়তার (aid and abetment) শাস্তি
যদি কোন ব্যক্তি বা সত্তা এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনে-
(ক) সাহায্য বা সহায়তা করে; বা
(খ) সহায়তাকারী হিসাবে (as an accomplice) অংশগ্রহণ করে; বা
(গ) অন্যদেরকে সংগঠিত বা পরিচালনা করে; বা
(ঘ) অবদান রাখে;
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি বা সত্তা অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি বা উক্ত সত্তার প্রধান, তিনি চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য যে কোন নামে অভিহিত হউক না কেন, উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই-তৃতীয়াংশ মেয়াদের যে কোন কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে উক্ত অপরাধের শাস্তি হইবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব ১৪ (চৌদ্দ) বৎসর ও অন্যূন ৪ (চার) বৎসরের সশ্রম কারাদণ্ড, এবং উহার অতিরিক্ত সংশ্লিষ্ট সত্তার বিরুদ্ধে ধারা ১৮ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।]
১৩। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত (instigation) করিবার শাস্তি
যদি কোন ব্যক্তি তাহার 1[***] কর্মকাণ্ড অথবা অংশ গ্রহণের মাধ্যমে কোন দলিল প্রস্তুত বা বিতরণ করেন, অথবা কোন মুদ্রণ বা ইলেকট্রনিক 2[বা অন্য যে কোন] মাধ্যমে কোন তথ্য সম্প্রচার করিয়া, অথবা কোন সরঞ্জাম, সহায়তা বা প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা 3[সত্তাকে] এইরূপ অবগত থাকিয়া সহায়তা প্রদান করেন যে, উক্ত দলিল, সরঞ্জাম, সহায়তা বা প্রযুক্তি বা প্রশিক্ষণ এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের কাজে ব্যবহৃত হইবে বা উক্ত ব্যক্তি বা 4[সত্তা] উহাদের অনুরূপ অপরাধ সংগঠনের প্রচেষ্টায় ব্যবহার করিবে, তাহা হইলে তিনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্ররোচিত করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন; এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তির দুই তৃতীয়াংশ মেয়াদের কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে তাহাকে দণ্ডিত করা যাইবে; এবং যদি উক্ত অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হয়, তাহা হইলে অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অনূর্ধ্ব চৌদ্দ বৎসরের কারাদণ্ড হইবে, কিন্তু উহা 5[৪ (চার)] বৎসরের কম হইবে না।
১৪। অপরাধীকে আশ্রয় প্রদানের শাস্তি]
(১) যদি কোন ব্যক্তি, অন্য কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন জানিয়াও বা উক্ত ব্যক্তি অপরাধী ইহা বিশ্বাস করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা সত্ত্বেও, শাস্তি হইতে রক্ষা করিবার অভিপ্রায়ে উক্ত ব্যক্তিকে আশ্রয়দান করেন বা লুকাইয়া রাখেন তাহা হইলে তিনি-
(ক) উক্ত অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হইলে, অনধিক পাঁচ বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে; অথবা
(খ) উক্ত অপরাধের শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ড হইলে, অনধিক তিন বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন, এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডও আরোপ করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আশ্রয়দান বা লুকাইয়া রাখিবার অপরাধ স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পিতা বা মাতা কর্তৃক হইলে, এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
2[(৩) যেক্ষেত্রে কোন সত্তা কর্তৃক আশ্রয় প্রদানের অপরাধ সংঘটিত হয়, সেইক্ষেত্রে উহার প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনকারী চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান নির্বাহী বা অন্য কোন নামের পদধারীর প্রতি উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে সমর্থ হন যে, উক্তরূপ অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছিল বা উহার সংঘটন নিবৃত্ত করিবার জন্য তিনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করিয়াছিলেন।]