02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯
Click here for Deep-Dive

সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯

পঞ্চম অধ্যায় : অপরাধের তদন্ত ( সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ )
২১। পুলিশ কর্তৃক সাক্ষীকে পরীক্ষা সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

(১) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন মামলার তদন্তকালে ঘটনা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত এইরূপ কোন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করিবার প্রয়োজন মনে করেন এবং, যদি উক্ত ব্যক্তি ঘটনার বিবরণ লিখিতভাবে প্রদান করিতে যথেষ্ট সক্ষম মর্মে পুলিশ কর্মকর্তার জানা থাকে বা বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে, তাহা হইলে উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা, উক্ত ব্যক্তির সম্মতিতে, ঘটনার বিবরণ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে লিখিতভাবে গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) উক্ত ব্যক্তি তাহার বক্তব্য বা ঘটনার বিবরণ স্বহস্তে কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষর করিবেন।

[(৩) কোন সন্ত্রাসী ব্যক্তি বা সত্তা কর্তৃক ব্যবহৃত ফেসবুক, স্কাইপি, টুইটার বা যে কোন ইন্টারনেট এর মাধ্যমে আলাপ আলোচনা ও কথাবার্তা অথবা তাহাদের অপরাধ সংশ্লিষ্ট স্থির বা ভিডিও চিত্র পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক কোন মামলার তদন্তের স্বার্থে যদি আদালতে উপস্থাপন করা হয়, তাহা হইলে, সাক্ষ্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পুলিশ বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক উপস্থাপিত উক্ত তথ্যাদি আদালতে সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে ।]

২২। ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সাক্ষীর বিবৃতি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

যে কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট,1[জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট], অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট যদি অবগত থাকেন বা তাহার বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, মামলার ঘটনা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত কোন ব্যক্তি তাহার বিবৃতি লিখিতভাবে প্রদান করিতে যথেষ্ট সমর্থ, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে তাহার বিবৃতি কলম দ্বারা স্বহস্তে লিখিতভাবে প্রদান করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

২৩। অভিযুক্ত ব্যক্তির স্বীকারোক্তি রেকর্ড সম্পর্কিত বিশেষ বিধান

যে কোন মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা এতদুদ্দেশ্যে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক কোন বক্তব্য রেকর্ডকালে, যদি উক্ত ব্যক্তি ঘটনা সম্পর্কে লিখিতভাবে বিবৃতি প্রদান করিতে সক্ষম ও আগ্রহী হন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তিকে তাহার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য স্বহস্তে লিপিবদ্ধ করিবার অনুমতি প্রদান করিবেন।

২৩ক। তদন্তকালীন সন্ত্রাসী সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের বিশেষ বিধান

(১) যদি এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে তদন্তকারী কোন কর্মকর্তার নিকট বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, তদন্তাধীন সম্পত্তি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত সম্পদ (procceeds of terrorism), তাহা হইলে তিনি উক্ত সম্পত্তি যে জেলায় অবস্থিত উক্ত জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট উক্ত সম্পত্তি জব্দ করিবার পূর্বানুমতির জন্য লিখিত আবেদন করিবেন এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন যাচাই করিবার পর সন্তুষ্ট হইলে, অনুরূপ সম্পত্তি জব্দ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন এবং যেক্ষেত্রে অনুরূপ সম্পত্তি জব্দ করা বাস্তবসম্মত নহে, সেইক্ষেত্রে ক্রোক আদেশের (order of attachment) মাধ্যমে নির্দেশ প্রদান করিবেন যে, অনুরূপ আদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ব্যতীত, অনুরূপ সম্পত্তি হস্তান্তর বা অন্য কোন ব্যবস্থা করা যাইবে না।

(২) যদি বৈধ উৎস হইতে অর্জিত সম্পত্তির সহিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত সম্পত্তির মিশ্রণ (mingle) ঘটে, তাহা হইলে উক্ত মিশ্রিত (mingled) সম্পত্তিতে স্থিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হইতে উদ্ভূত সম্পত্তি, অথবা যেক্ষেত্রে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হইতে উদ্ভূত সম্পত্তির মূল্য নিরূপণ করা না যায়, সেইক্ষেত্রে মিশ্রিত সম্পত্তির সম্পূর্ণ মূল্য এই ধারায় বর্ণিত বিধান অনুসারে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক জব্দ বা ক্রোকযোগ্য হইবে।

(৩) তদন্তকারী কর্মকর্তা অনুরূপ সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোকের ৪৮ (আটচল্লিশ) ঘন্টার মধ্যে সরকারকে যথাযথভাবে অবহিত করিবেন এবং সরকার অনুরূপ জব্দ বা ক্রোক আদেশ জারির ৬০ (ষাট) কর্ম দিবসের মধ্যে উক্ত জব্দ বা ক্রোক আদেশ অনুমোদন করিবেন অথবা বাতিল করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, যাহার সম্পত্তি জব্দ বা ক্রোক হইয়াছে তাহাকে বক্তব্য উপস্থাপনের যথাযথ সুযোগ প্রদান করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন ক্রোক বা জব্দের মেয়াদকাল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করিবার পূর্ব পর্যন্ত বহাল থাকিবে।]

২৪। তদন্তের সময়সীমা

(১) কোন পুলিশ কর্মকর্তা এই আইনের অধীন কোন মামলার তদন্ত কার্যবিধির ধারা ১৫৪ এর অধীন তথ্য প্রাপ্তি অথবা লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে 1[ষাট দিনের] মধ্যে সম্পন্ন করিবেন।

(২) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে, মামলার ডায়রীতে লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া অনধিক 2[ত্রিশ দিন] সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৩) যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে উক্ত তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টের অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের লিখিত অনুমোদনক্রমে, অতিরিক্ত অনধিক ত্রিশ দিন সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন3[ঃ

তবে শর্ত থাকে যে, মামলার তদন্তের প্রয়োজনে বাংলাদেশের বাহিরে অন্য কোন দেশ হইতে সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করিবার প্রয়োজন হইলে উপ-ধারা (১) হইতে (৩) এ বর্ণিত তদন্তের সময়সীমা প্রযোজ্য হইবে না।]

(৪) যদি উক্ত পুলিশ কর্মকর্তা উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করিতে না পারেন, তাহা হইলে তিনি অবিলম্বে কারণ উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারিনটেনডেন্টকে অথবা, ক্ষেত্রমত, মেট্রোপলিটন এলাকায় সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পুলিশ কমিশনারকে কারণ উল্লেখপূর্বক ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং উল্লিখিত কারণ সন্তোষজনক না হইলে 4[তদন্তকারী কর্মকর্তা তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে অভিযুক্ত হইবেন]।

২৫। কতিপয় মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে সময়সীমা বৃদ্ধি

(১) 1[ধারা ২৪] এর উপ-ধারা (৩) এ নির্ধারিত অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে এজাহার (FIR) এ উল্লিখিত অপরাধীর পরিচয় অনুদঘাটিত থাকায় এবং উক্ত অপরাধীকে সনাক্তকরণের অসমর্থতার কারণে কোন পুলিশ কর্মকর্তা তদন্তকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হইলে, 2[ধারা ২৪] এ উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়সীমার পরবর্তীতে যে কোন সময় কোন পুলিশ রিপোর্ট অথবা নূতনভাবে পুলিশ রিপোর্ট অথবা অতিরিক্ত পুলিশ রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে উহা বাধা বলিয়া গণ্য হইবে না।

(২) যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা অপরাধ সংশ্লিষ্ট সাক্ষ্য বা কোন রিপোর্ট সরবরাহ করিবার জন্য 3[ধারা ২৪] এর উপ-ধারা (৩) এর অধীন অতিরিক্ত বর্ধিত সময় সীমার মধ্যে মেডিকেল, ফরেনসিক, আঙ্গুলের ছাপ, রাসায়নিক বা অন্য কোন বিশেষজ্ঞ সাক্ষীর, যাহার উপর তাহার নিয়ন্ত্রণ নাই এবং যাহা ব্যতীত মামলা সম্পর্কে কোন কার্যকর রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হয় না, অসমর্থতার কারণে তদন্তকার্য সম্পন্ন করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত উল্লিখিত অতিরিক্ত বর্ধিত সময়সীমার পরবর্তী যে কোন সময় পুলিশ রিপোর্ট পেশ করিতে উহা বাধা বলিয়া গণ্য হইবে না।

২৬। পুনঃসমর্পণ (Remand)

(১) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তের জন্য আটক রাখা হয়, সেইক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের হেফাজতে পুনঃসমর্পণের জন্য উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন বিবেচনাক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে পুলিশের হেফাজতে পুনঃসমর্পণ করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ পুনঃসমর্পণের মেয়াদ একাধিক্রমে বা সর্বমোট দশ দিনের অধিক হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট ইহা সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করিতে সমর্থ হন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অধিকতর মেয়াদের জন্য পুনঃসমর্পণ করা হইলে অতিরিক্ত সাক্ষ্য পাওয়া যাইতে পারে, তাহা হইলে ম্যাজিস্ট্রেট অনধিক পাঁচ দিন পর্যন্ত পুনঃসমর্পণের মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

img