- ১৮। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
- ১৯। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি
- ২০। মহাপরিচালক
- ২১। মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
- ২২। কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
- ২৩। মহাপরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তার তদন্তের ক্ষমতা
- ২৪। পরোয়ানা জারীর ক্ষমতা
- ২৫। প্রকাশ্য স্থান, ইত্যাদিতে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষমতা
- ২৬। তল্লাশী, ইত্যাদির পদ্ধতি
- ২৭। ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যের জন্য দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ
- ২৮। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ
- ২৯। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা-নিষেধ
- ৩০। প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা
- ৩১। নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা, ইত্যাদি
- ৩২। বাজেয়াপ্তযোগ্য পণ্য, ইত্যাদি
- ৩৩। বাজেয়াপ্তকরণ পদ্ধতি
- ৩৪। পঁচনশীল পণ্যের নিষ্পত্তি
- ৩৬। বাজেয়াপ্ত ও আটককৃত দ্রব্যাদির নিষ্পত্তি বা বিলি বন্দোবস্ত
- ৩৬। ভেজাল পণ্যের সরাসরি আটক ও নিষ্পত্তি
তৃতীয় অধ্যায় : অধিদপ্তর, মহাপরিচালক, ইত্যাদি ( ভোক্তা অধিকার, ২০০৯ )
১৮। অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ইত্যাদি
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে একটি অধিদপ্তর থাকিবে, যাহা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নামে অভিহিত হইবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করিবে।
(৩) অধিদপ্তর পরিষদের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সহায়তা প্রদান করিবে এবং পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবে।
১৯। অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়, ইত্যাদি
(১) অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত হইবে।
(২) সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, ঢাকার বাহিরে যে কোন জেলায় অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।
২০। মহাপরিচালক
(১) অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালক থাকিবেন।
(২) মহাপরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাহার চাকুরীর শর্তাদি সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে।
(৩) মহাপরিচালক অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হইবেন এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, পরিষদ কর্তৃক নির্দেশিত কার্যাবলী সম্পাদন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) মহাপরিচালক কর্তৃক কার্যাবলী সম্পাদনের সুবিধার্থে কোন ব্যক্তি মহাপরিচালক বরাবরে ফ্যাক্স, ই-মেইল বা অন্য কোন উপায়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে।
(৫) মহাপরিচালকের পদ শূন্য হইলে, বা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে মহাপরিচালক তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, শূন্য পদে নবনিযুক্ত মহাপরিচালক কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত বা মহাপরিচালক পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তি অস্থায়ীভাবে মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করিবেন।
২১। মহাপরিচালকের ক্ষমতা ও কার্যাবলী
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ভোক্তা সাধারণের অধিকার সংরক্ষণ, ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য প্রতিরোধ এবং ভোক্তা-অধিকার লঙ্ঘনজনিত অভিযোগ নিষ্পত্তি করিবার লক্ষ্যে সমীচীন ও প্রয়োজনীয় বলিয়া বিবেচিত সকল কার্যক্রম মহাপরিচালক গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মহাপরিচালক নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথাঃ-
(ক) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত সম্পর্কযুক্ত কোন প্রতিপক্ষ বা সংস্থার কার্যাবলীর সহিত সমন্বয় সাধন;
(খ) ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ন হইতে পারে এইরূপ সম্ভাব্য কার্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, উহাদের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও তৎসম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(গ) কোন পণ্য বা সেবার নির্ধারিত মান বিক্রেতা কর্তৃক সংরক্ষণ করা হইতেছে কিনা উহা তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঘ) কোন পণ্যের বিক্রয় বা সরবরাহের ক্ষেত্রে ওজন বা পরিমাপে কারচুপি করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঙ) কোন পণ্য বা ঔষধের নকল প্রস্তুত, উৎপাদন ও বাজারজাত করা হইতেছে কিনা এবং উহার দ্বারা ক্রেতা সাধারণ প্রতারণার শিকার হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(চ) কোন পণ্য বা ঔষধে ভেজাল মিশ্রণ করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ছ) কোন আইন বা বিধির অধীন নির্দেশিত মতে কোন পণ্য বা ঔষধের মোড়কে উক্ত পণ্য বা ঔষধ উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার তারিখ, সঠিক ব্যবহার- বিধি ও পরিমাণ মুদ্রণ করা হইয়াছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ;
(জ) মেয়াদ উত্তীর্ণ কোন পণ্য বা ঔষধ বিক্রয় করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ
(ঝ) মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কোন খাদ্য-পণ্য প্রস্তুত, উৎপাদন বা বিক্রয় করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঞ) মানুষের জীবন বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় এমন কোন প্রক্রিয়ায় কোন পণ্য উৎপাদন বা প্রক্রিয়াকরণ করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ট) বৈধ লাইসেন্স ব্যতিরেকে অবৈধভাবে কোথাও কোন ঔষধ প্রস্তুত বা উৎপাদন করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ঠ) কোন পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য অসত্য বিজ্ঞাপন দ্বারা ভোক্তা সাধারণকে প্রতারিত করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ;
(ড) সাধারণ যাত্রী পরিবহনকারী কোন যানবাহন যথা- মিনিবাস, বাস, লঞ্চ, স্টিমার ও ট্রেন অবৈধভাবে অদক্ষ ও অননুমোদিত চালক দ্বারা চালনা করিয়া যাত্রীদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং
(ঢ) কোন আইন বা বিধির অধীন আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করিয়া সেবা গ্রহীতাদের জীবন বা নিরাপত্তা বিপন্ন করা হইতেছে কিনা উহার তদারকি করিয়া প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ৷
(৩) মহাপরিচালক প্রতি বৎসর ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পূর্ববর্তী ৩১ ডিসেম্বরে সমাপ্ত ১ (এক) বৎসরের স্বীয় কার্যাবলী এবং জেলার কার্যাবলী, যদি থাকে, সম্পর্কে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবেন এবং উহা পরিষদের নিকট অনুমোদনের জন্য পেশ করিবেন৷
২২। কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ
অধিদপ্তরের কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
২৩। মহাপরিচালক বা অন্য কোন কর্মকর্তার তদন্তের ক্ষমতা
(১) এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের বিষয়ে মহাপরিচালকের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে।
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, মহাপরিচালকের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাকে এই আইনের অধীন অপরাধ তদন্তের জন্য থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুরূপ ক্ষমতা প্রদান করিতে পারিবে।
২৪। পরোয়ানা জারীর ক্ষমতা
(১) মহাপরিচালক অথবা সরকারের নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তার যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে,-
(ক) কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোন অপরাধ করিয়াছেন; বা
(খ) এই আইনের অধীন অপরাধ সংক্রান্ত কোন বস্তু বা উহা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কোন দলিল, কাগজপত্র বা কোন প্রকার জিনিসপত্র কোন স্থানে বা কোন ব্যক্তির নিকট রক্ষিত আছে
তাহা হইলে, অনুরূপ বিশ্বাসের কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, তিনি উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করিবার জন্য বা অপরাধ সংশ্লিষ্ট উক্ত বস্তু, দলিল, কাগজপত্র বা জিনিসপত্র যে স্থানে রক্ষিত আছে সে স্থান তল্লাশীর জন্য পরোয়ানা জারী করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত কোন পরোয়ানা কার্যকর করিবার জন্য যাহার নিকট প্রেরণ করা হইবে, উহা কার্যকর করিবার বিষয়ে তাহার ধারা ২৩ এ উল্লিখিত কর্মকর্তার সকল ক্ষমতা থাকিবে৷
২৫। প্রকাশ্য স্থান, ইত্যাদিতে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষমতা
এই আইনের অধীন গৃহীত কোন অনুসন্ধান বা তদন্ত কার্যক্রমে কোন কর্মকর্তার যদি এইরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে, কোন প্রকাশ্য স্থানে বা কোন চলমান যানবাহনে এই অাইনের পরিপন্থী কোন পণ্য রহিয়াছে, তাহা হইলে তাহার অনুরূপ বিশ্বাস করিবার কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া তিনি উক্ত পণ্য তল্লাশী করিয়া আটক করিতে পারিবেন এবং উক্ত পণ্যের সহিত সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করিতে পারিবেন৷
২৬। তল্লাশী, ইত্যাদির পদ্ধতি
এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন জারীকৃত সকল তদন্ত, পরোয়ানা, তল্লাশী, গ্রেফতার ও আটকের বিষয়ে ফৌজদারী কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
২৭। ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যের জন্য দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ
(১) কোন দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্টরী, কারখানা বা গুদামে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কোন পণ্য বিক্রয় বা উৎপাদিত হইতেছে কিংবা গুদামজাত করিয়া রাখা হইয়াছে এইরূপ প্রতীয়মান হইলে, মহাপরিচালক বা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উক্ত দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্টরী, কারখানা বা গুদাম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ পালন করিতে ব্যর্থ হইলে অধিদপ্তরের পক্ষ হইতে উক্ত দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্টরী, কারখানা বা গুদাম তালাবদ্ধ করিয়া তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসাবে সাময়িকভাবে বন্ধ করা যাইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন ব্যবস্থা গৃহীত হইবার পর অধিদপ্তর নিয়মিত শুনানী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত করিয়া ভোক্তা-অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় গ্রহণ করিয়া এবং প্রকৃতই এই আইনের কোন বিধানের লঙ্ঘনের ফলে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য হইয়াছে কিনা উহা সঠিকভাবে নিরূপণ করিয়া প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) সেবা প্রদানকারী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অাইনের অধীন কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কোন কার্য করিয়া থাকিলে মহাপরিচালক বা অধিদপ্তরের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ পালন করিতে ব্যর্থ হইলে অধিদপ্তরের পক্ষ হইতে সেবা সম্পর্কিত উক্ত ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করা যাইবে।
(৬) উপ-ধারা (৪) ও (৫) এর অধীন কোন সেবামূলক ব্যবসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হইলে অধিদপ্তর নিয়মিত শুনানী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তদন্ত করিয়া ভোক্তা-অধিকারের বিষয়টি বিবেচনায় গ্রহণ করিয়া এবং প্রকৃতই এই আইনের কোন বিধানের লঙ্ঘনের ফলে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্য হইয়াছে কিনা উহা সঠিকভাবে নিরূপণ করিয়া প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
২৮। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সহায়তা গ্রহণ
এই আইনের অধীন কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করিবার জন্য মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ অনুরোধ করা হইলে উক্ত সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ উক্তরূপ সহায়তা প্রদান করিবে।
২৯। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা-নিষেধ
কোন পণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকর বলিয়া প্রমাণিত হইলে, মহাপরিচালকের পরামর্শক্রমে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শর্তাধীন ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারী করিতে পারিবে।
৩০। প্রবেশ, ইত্যাদির ক্ষমতা
(১) এই ধারার বিধানাবলী সাপেক্ষে, মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে সাধারণ বা বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত, কোন ব্যক্তি সকল যুক্তিসংগত সময়ে, তাহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সহায়তা সহকারে যে কোন ভবনে বা স্থানে নিম্নবর্ণিত উদ্দেশ্যে প্রবেশ করিবার অধিকারী হইবেন, যথাঃ-
(ক) এই আইন বা বিধির অধীন তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করা;
(খ) এই আইন বা বিধি বা তদধীন প্রদত্ত নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক উক্ত ভবনে বা স্থানে কোন কার্য পরিদর্শন করা;
(গ) কোন পণ্য বা সেবা সম্পর্কিত রেকর্ড, রেজিস্টার, দলিল অথবা তৎসংশ্লিষ্ট অন্য কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরীক্ষা এবং যাচাই করা;
(ঘ) এই আইন বা বিধি বা তদধীন প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশ ভঙ্গ করিয়া কোন ভবনে বা স্থানে কোন অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে বলিয়া উক্ত ব্যক্তির যুক্তিসংগতভাবে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকিলে, উক্ত ভবনে বা স্থানে তল্লাশী পরিচালনা করা
(ঙ) এই আইন বা বিধির অধীন দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার হইতে পারে এইরূপ কোন পণ্য, উপাদান, রেকর্ড, রেজিস্টার, দলিল ইত্যাদি আটক করা।
(২) কোন পণ্য বা সেবা বিক্রয় বা উৎপাদনের সহিত সংশ্লিষ্ট যে কোন ব্যক্তি এই ধারার অধীন দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সকল প্রকার সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন।
৩১। নমুনা সংগ্রহের ক্ষমতা, ইত্যাদি
(১) মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে যে কোন দোকান, গুদাম, কারখানা, প্রাঙ্গন বা স্থান হইতে যে কোন পণ্য বা পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (৩) বা, ক্ষেত্রমত, উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, এই ধারার অধীন গৃহীত নমুনা সম্পর্কে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত নমুনা বা গবেষণাগারের রিপোর্ট বা উভয়ই সংশ্লিষ্ট কার্যধারায় সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণীয় হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (৪) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, উপ-ধারা (১) এর অধীন নমুনা সংগ্রহকারী কর্মকর্তা-
(ক) উক্ত স্থানের দখলদার বা এজেন্টকে, অনুরূপ নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে তাহার অভিপ্রায় সম্পর্কে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নোটিশ প্রদান করিবেন;
(খ) উক্ত দখলদার বা এজেন্ট এর উপস্থিতিতে নমুনা সংগ্রহ করিবেন;
(গ) উক্ত নমুনা একটিপাত্রে রাখিয়া ইহাতে নিজের ও উক্ত দখলদার বা এজেন্ট এর স্বাক্ষর দ্বারা চিহ্নিত করিয়া সীলমোহর প্রদান করিবেন;
(ঘ) সংগৃহীত নমুনার একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করিয়া উহাতে নিজে স্বাক্ষর করিবেন এবং দখলদার বা এজেন্টের স্বাক্ষর গ্রহণ করিবেন;
(ঙ) মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত গবেষণাগারে উক্ত পাত্র অবিলম্বে প্রেরণ করিবেন৷
(৪) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং সংগ্রহকারী কর্মকর্তা উপ-ধারা (৩) এর (ক) দফার অধীন নোটিশ প্রদান করেন, সেক্ষেত্রে যদি দখলদার বা এজেন্ট নমুনা সংগ্রহের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকেন, বা উপস্থিত থাকিয়াও নমুনা ও রিপোর্টে স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করেন, তাহা হইলে সংগ্রহকারী কর্মকর্তা দুই জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজেই তাহার স্বাক্ষর প্রদান করিয়া উহা নিশ্চিত ও সীলমোহরকৃত করিবেন এবং দখলদার বা এজেন্টের অনুপস্থিতি বা, ক্ষেত্রমত, স্বাক্ষরদানে অস্বীকৃতির কথা উল্লেখ করিয়া মহাপরিচালক কর্তৃক নির্ধারিত গবেষণাগারে বিশ্লেষণের জন্য অবিলম্বে প্রেরণ করিবেন৷
৩২। বাজেয়াপ্তযোগ্য পণ্য, ইত্যাদি
এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, যে পণ্য, উপাদান, সাজ-সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, উপকরণ, আধার, পাত্র, মোড়ক সহযোগে উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সেইগুলি বাজেয়াপ্তযোগ্য হইবে৷
৩৩। বাজেয়াপ্তকরণ পদ্ধতি
(১) এই আইনের অধীন পরিচালিত বিভাগীয় তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে, কোন পণ্য ধারা ৩২ এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য, তাহা হইলে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হউক বা না হউক, তদন্তকারী কর্মকর্তা পণ্যটি বাজেয়াপ্ত করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন৷
(২) যদি কোন ক্ষেত্রে ধারা ৩২ এর অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন বস্তু আটক করা হয়, কিন্তু উহার সহিত সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাওয়া না যায়, তাহা হইলে মহাপরিচালক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, যিনি বস্তু আটককারী কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হইবেন, লিখিত আদেশ দ্বারা উহা বাজেয়াপ্ত করিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্তরূপ বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ প্রদানের পূর্বে বাজেয়াপ্তকরণের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপনের সুযোগ প্রদানের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ জারী করিতে হইবে এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা নোটিশ জারীর তারিখ হইতে অন্যূন ১৫ (পনের) দিন হইবে, আপত্তি উত্থাপনকারীকে শুনানীর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে৷
(৪) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি আদেশ প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে-
(ক) মহাপরিচালকের অধঃস্তন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালকের নিকট; এবং
(খ) মহাপরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত আপীল কর্তৃপক্ষের রায় চূড়ান্ত হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না৷
৩৪। পঁচনশীল পণ্যের নিষ্পত্তি
এই আইনের অধীন আটককৃত কোন পণ্য, যথা- মাছ, শাক-সবজি, ইত্যাদি পণ্য দ্রুত পঁচনশীল হইয়া থাকিলে উহা সংরক্ষণ না করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার ব্যবহার, হ্স্তান্তর, ধ্বংস বা অন্য কোন প্রকারে বিলি বন্দোবস্ত করা যাইবে৷
৩৬। বাজেয়াপ্ত ও আটককৃত দ্রব্যাদির নিষ্পত্তি বা বিলি বন্দোবস্ত
এই আইনের অধীন বাজেয়াপ্তযোগ্য কোন দ্রব্যের বাজেয়াপ্তকরণের আদেশ প্রদানের সংগে সংগে দ্রব্যটি মহাপরিচালকের নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে এবং মহাপরিচালক উহা, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, ব্যবহার, হস্তান্তর বা ধ্বংস করিবার বা অন্য কোন প্রকারে উহার বিলি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করিবেন।
৩৬। ভেজাল পণ্যের সরাসরি আটক ও নিষ্পত্তি
এই আইনের অধীন গৃহীত কোন অনুসন্ধান, তদন্ত বা বিচার কার্যক্রমে যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন পণ্য দৃশ্যতঃ ভেজাল এবং মানুষের খাদ্য হিসাবে ভক্ষণের অযোগ্য বা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এবং অনুরূপ অভিযোগ প্রতিপক্ষ কর্তৃক স্বীকৃত হয় বা অস্বীকার না করা হয়, তাহা হইলে উক্ত পণ্য সরাসরি আটক করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে ব্যবহার, হস্তান্তর, ধ্বংস বা অন্য কোন প্রকারে বিলি বন্দোবস্ত করা যাইবে।