- ৭। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথ বা ঘোষণা
- ৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা
- ৯। মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
- ১০। একাধিক পদে প্রার্থিতায় বাধা
- ১১। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদত্যাগ
- ১২। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সাময়িক বরখাস্তকরণ৷
- ১৩। মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের অপসারণ
- ১৩ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা
- ১৪। অনাস্থা প্রস্তাব
- ১৫। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদ শূন্য হওয়া
- ১৬। আকস্মিক পদ শূন্যতা
- ১৭। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অনুপস্থিতির ছুটি
- ১৮। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা
- ১৯। মেয়র ও কাউন্সিলর কর্তৃক রেকর্ডপত্র দেখিবার অধিকার
- ২০। মেয়রের প্যানেল
- ২১। মেয়র প্যানেলের সদস্য কর্তৃক মেয়রের দায়িত্ব পালন
- ২২। সদস্যপদ পুনর্বহাল
- ২৩। দায়িত্ব হস্তান্তর
- ২৪। ব্যত্যয়ের দণ্ড
- ২৫। অবস্থা বিশেষে প্রশাসক নিয়োগ
- ২৫ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগ ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা
- ২৬। গেজেট নোটিফিকেশন
দ্বিতীয় অধ্যায় : মেয়র ও কাউন্সিলর সম্পর্কিত বিধান ( স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ )
৭। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথ বা ঘোষণা
(১) মেয়র বা কোন কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত ছকে সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদান করিবেন এবং শপথ বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন।
(২) মেয়র বা কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকার বা তদ্কর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষ মেয়র ও সকল কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন।
৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা
(১) মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলরকে, শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদানের সময় ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরসহ (যদি থাকে) সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত তাহার এবং তাহার পরিবারের সদস্যদের দেশে ও বিদেশে অবস্থিত স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তির সর্বশেষ বিবরণ, একটি হলফনামার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(২) সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর সম্বলিত সম্পদের সর্বশেষ হিসাব দাখিল করিতে না পারিলে বা করা না হইলে, মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলর শপথ গ্রহণের সময় তাহার এবং তাহার পরিবারের যে কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে সরকার কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত হলফনামা এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত লিখিত বিবরণ অসত্য প্রমাণিত হইলে, উহা অসদাচরণ গণ্য হইবে এবং উক্ত অসদাচরণের অভিযোগে ক্ষেত্রমত, মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা ।- এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘পরিবারের সদস্য’’ বলিতে সংশ্লিষ্ট মেয়র বা কাউন্সিলরের স্ত্রী বা স্বামী এবং তাহার সহিত বসবাসকারী এবং তাহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, সৎপুত্র, সৎকন্যা, ভ্রাতা ও ভগ্নিকে বুঝাইবে।
৯। মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা
(১) কোন ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন, যদি-
(ক) তিনি বাংদেশের নাগরিক হন;
(খ) তাহার বয়স পঁচিশ বৎসর পূর্ণ হয়;
(গ) মেয়রের ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের যে কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে
(ঘ) সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলরসহ অন্যান্য কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় তাহার নাম লিপিবদ্ধ থাকে।
(২) কোন ব্যক্তি মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হইবার জন্য এবং উক্তরূপ মেয়র বা কাউন্সিলর পদে থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান
(খ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত হন;
(গ) দেউলিয়া ঘোষিত হন এবং দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;
(ঘ) কোন ফৌজদারী বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(ঙ) প্রজাতন্ত্রের বা সিটি কর্পোরেশনের বা কোন সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক পদে সার্বক্ষণিক অধিষ্ঠিত থাকেন;
(চ) কোন বিদেশী রাষ্ট্র হইতে অনুদান বা তহবিল গ্রহণ করে এইরূপ একটি বেসরকারি সংস্থার প্রধান কার্যনির্বাহীর পদ হইতে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ বা পদচ্যুতির পর তিন বৎসর অতিবাহিত না করিয়া থাকেন;
(ছ) কোন সমবায় সমিতি এবং সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি ব্যতীত, সরকারকে পণ্য সরবরাহ করিবার জন্য বা সরকার কর্তৃক গৃহীত কোন চুক্তির বাস্তবায়ন বা সেবা কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য, তিনি তাহার নিজ নামে বা তাহার ট্রাস্টি হিসাবে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের নামে বা তাহার সুবিধার্থে বা তাহার উপলক্ষ্যে বা কোন হিন্দু যৌথ পরিবারের সদস্য হিসাবে তাহার কোন অংশ বা স্বার্থ আছে এইরূপ চুক্তিতে আবদ্ধ হইয়া থাকেন;
ব্যাখ্যাঃ উপরি-উক্ত দফা (ছ) এর অধীন আরোপিত অযোগ্যতা কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না যে ক্ষেত্রে-
(১) চুক্তিটিতে অংশ বা স্বার্থ তাহার উপর উত্তরাধিকারসূত্রে বা উইলসূত্রে প্রাপক, নির্বাহক বা ব্যবস্থাপক হিসাবে হস্তান্তরিত হয়, যদি না উহা হস্তান্তরিত হইবার পর ছয় মাস অথবা কোন বিশেষ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বর্ধিত সময় অতিবাহিত হয়; অথবা
(২) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন পাবলিক কোম্পানীর দ্বারা বা পক্ষে চুক্তিটি সম্পাদিত হইয়াছে যাহার তিনি একজন শেয়ার হোল্ডার মাত্র, তবে উহার অধীন তিনি কোন লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত পরিচালকও নহেন বা ম্যানেজিং এজেন্টও নহেন; অথব
(৩) তিনি কোন যৌথ হিন্দু পরিবারের সদস্য এবং চুক্তিটি তাহার অংশ বা স্বার্থ নাই এইরূপ কোন স্বতন্ত্র ব্যবসা পরিচালনাকালে পরিবারের অন্য কোন সদস্য কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছে।
(জ) বা তাহার পরিবারের কোন সদস্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কার্য সম্পাদনের বা মালামাল সরবরাহের জন্য ঠিকাদার হন বা ইহার জন্য নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন বা সিটি কর্পোরেশনের কোন বিষয়ে তাহার কোন প্রকার আর্থিক স্বার্থ থাকে বা তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত অত্যাবশ্যক কোন দ্রব্যের ডিলার হন ;
(ঝ) বসবাসের নিমিত্ত গৃহ-নির্মাণের জন্য কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখে তদ্কর্তৃক কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণবা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপী হইয়া থাকেন;
(ঞ) এমন কোন কোম্পানীর পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন, যাহা কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা উহার কোন কিস্তি পরিশোধে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখে খেলাপী হইয়াছে
ব্যাখ্যাঃ উপরি-উক্ত দফা (ঝ) ও (ঞ) এর উদ্দেশ্য সাধনকল্পে “ঋণ খেলাপী ” অর্থে ঋণ গ্রহীতা ছাড়াও বন্ধকদাতা বা জামিনদার, যিনি বা যাহাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোম্পানী বা ফার্ম Banker's Book of Account এ ঋণ খেলাপী হিসাবে চিহ্নিত আছে তাহাদেরকেও বুঝাইব
(ট) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী রাখেন
(ঠ) কর্পোরেশনের নিকট হইতে গৃহীত কোন ঋণ তাহার নিকট অনাদায়ী রাখেন বা কর্পোরেশনের নিকট তাহার কোন আর্থিক দায়-দেনা থাকে
(ড) কর্পোরেশন কিংবা সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়যোগ্য অর্থ কর্পোরেশনকে পরিশোধ না করেন;
(ঢ) অন্য কোন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা জাতীয় সংসদের সদস্য হন;
(ণ) কোন সরকারি বা আধাসরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, সমবায় সমিতি, ইত্যাদি হইতে নৈতিক স্খলন, দুর্নীতি. অসদাচরণ ইত্যাদি অপরাধে চাকুরীচ্যুত হইয়া পাঁচ বৎসর অতিক্রান্ত না করেন
(ত) সিটি কর্পোরেশনের তহবিল তসরুফের কারণে দণ্ডপ্রাপ্ত হন;
(থ) বিগত পাঁচ বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে Penal Code, 1860 (Act No.XIV of 1860) এর section 189 ও 192 অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হইয়া সাজাপ্রাপ্ত হন
(দ) বিগত পাঁচ বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে Penal Code, 1860 (Act No.XIV of 1860) এর section 213, 332, 333 ও 353 অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হইয়া সাজাপ্রাপ্ত ও অপসারিত হন;
(ধ) কোন আদালত কর্তৃক ফেরারী আসামী হিসাবে ঘোষিত হন;
(ন) জাতীয় বা আর্ন্তজাতিক আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধী হিসাবে দোষী সাব্যস্ত হন৷
(৩) প্রত্যেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় এই মর্মে একটি হলফনামা দাখিল করিবেন যে, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তিনি মেয়র বা কাউন্সিলর নির্বাচনের অযোগ্য নহেন।
১০। একাধিক পদে প্রার্থিতায় বাধা
(১) কোন ব্যক্তি একই সাথে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
(২) যদি কোন ব্যক্তি একই সাথে কোন (১) কোন ব্যক্তি একই সাথে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হইতে পারিবেন না।
(২) যদি কোন ব্যক্তি একই সাথে কোন কর্পোরেশনের একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, তাহা হইলে তাহার সকল মনোনয়নপত্র বাতিল হইবে।
(৩) সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদকালে মেয়র পদ শূন্য হইলে, কোন কাউন্সিলর, স্বীয় পদ ত্যাগ করিয়া মেয়রের পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন।
কর্পোরেশনের একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, তাহা হইলে তাহার সকল মনোনয়নপত্র বাতিল হইবে।
(৩) সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদকালে মেয়র পদ শূন্য হইলে, কোন কাউন্সিলর, স্বীয় পদ ত্যাগ করিয়া মেয়রের পদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেন।
১১। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদত্যাগ
(১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে মেয়র স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(২) কোন কাউন্সিলর মেয়রের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।
(৩) সরকার, বা ক্ষেত্রমত, মেয়র কর্তৃক সংশ্লিষ্ট পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে।
১২। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সাময়িক বরখাস্তকরণ৷
(১) যেক্ষেত্রে কোন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র অথবা কাউন্সিলরের অপসারণের জন্য ধারা ১৩ এর অধীন কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে সরকার, লিখিত আদেশের মাধ্যমে, ক্ষেত্রমত, মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সিটি কর্পোরেশনের কোন মেয়রকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র, ক্রমানুসারে মেয়র প্যানেলের জ্যেষ্ঠ সদস্যের নিকট স্বীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করিবেন এবং উক্ত মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত মেয়র অপসারিত হইলে, তাহার পরিবর্তে নূতন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কর্পোরেশনের কোন কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত আদেশপ্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর, মেয়র কর্তৃক মনোনীত পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলরের নিকট স্বীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করিবেন এবং উক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত কাউন্সিলর অপসারিত হইলে, তাহার পরিবর্তে নূতন কাউন্সিলর নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত কাউন্সিলরের দায়িত্ব পালন করিবেন।
১৩। মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের অপসারণ
(১) মেয়র অথবা কাউন্সিলর তাহার স্বীয় পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-
(ক) যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতিরেকে সিটি কর্পোরেশনের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন; অথবা
(খ) নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন;
(গ) দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন;
(ঘ)অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন
(ঙ) ধারা ৯ (৩) অনুযায়ী নির্বাচনের অযোগ্য ছিলেন মর্মে নির্বাচন অনুষ্ঠানের তিন মাসের মধ্যে প্রমাণিত হয়;
(চ) বার্ষিক ১২টি মাসিক সভার পরিবর্তে ন্যুনতম ৯টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত অনুষ্ঠান করিতে, বা ক্ষেত্রমত, উক্ত সভাসমূহে উপস্থিত থাকিতে ব্যর্থ হন।
ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারায় বর্ণিত ‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, এই আইন অনুযায়ী বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য প্রদান করাকে বুঝাইবে।
(২) বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সরকারি গেজেটে আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে অপসারণ করিতে পারিবে।
(৩) অপসারণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করিবার পূর্বে বিধি মোতাবেক তদন্ত ও অভিযুক্তকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হইবে।
(৪) সিটি কর্পোরেশনের কোন মেয়র বা কাউন্সিলরকে উপ-ধারা (২) অনুযায়ী তাহার পদ হইতে অপসারণ করা হইলে, ঐ আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি রাষ্ট্রপতির নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উক্ত আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অপসারণ আদেশটি স্থগিত থাকিবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদানের পর রাষ্ট্রপতি উক্ত অপসারণ আদেশটি পরিবর্তন, বাতিল বা বহাল রাখিতে পারিবেন।
(৫) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপসারিত কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।
১৩ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা
এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরগণকে অপসারণ করিতে পারিবে।]
১৪। অনাস্থা প্রস্তাব
(১) এই আইনের কোন বিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে কর্পোরেশনের মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে।
(২) নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের নিকট মেয়র বা ক্ষেত্রমত, কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নের ক্ষেত্রে, কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের মোট সংখ্যার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করিয়া একটি প্রস্তাবের নোটিশ, একজন কাউন্সিলরকে ব্যক্তিগতভাবে দাখিল করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ অনাস্থা প্রস্তাব প্রাপ্তির পর এক মাসের মধ্যে অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে তদন্ত করিবেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট মেয়র বা ক্ষেত্রমত, কাউন্সিলরকে, দশ কার্য দিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য, নোটিশ প্রদান করিবেন।
(৪) কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হইলে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত জবাব প্রাপ্তির অনধিক পনের কার্যদিবসের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের একটি সভা আহবান করিয়া সকল নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নিকট সভার নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সভায়, মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে, জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের উপস্থিত একজন কাউন্সিলর এবং কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে, কর্পোরেশনের মেয়র সভাপতিত্ব করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, মেয়র বা প্যানেল মেয়র অনুপস্থিত থাকিলে বা অন্য কোন কারণে তাহাকে পাওয়া না গেলে, উপস্থিত কাউন্সিলরগণের মধ্যে একজন কাউন্সিলর ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৬) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ উক্ত সভায় একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকিবেন।
(৭) উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত সভা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণ ছাড়া স্থগিত করা যাইবে না এবং মোট নির্বাচিত সদস্য সংখ্যার অর্ধেক সদস্য সমন্বয়ে সভার কোরাম গঠিত হইবে।
(৮) সভার শুরুতে সভাপতি অনাস্থা প্রস্তাবটি সভায় পাঠ করিয়া শুনাইবেন এবং উন্মুক্ত আলোচনা আহবান করিবেন।
(৯) সভা শুরু হইবার তিন ঘণ্টার মধ্যে বিতর্ক বা উন্মুক্ত আলোচনা শেষ না হইলে, গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাবটির উপর ভোট গ্রহণ করিতে হইবে।
(১০) সভার ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভাপতি একটি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(১১) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ সভা শেষ হইবার পর পরই অনাস্থা প্রস্তাবের অনুলিপি এবং ভোটের ফলাফলসহ সভার কার্যবিবরণী সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(১২) অনাস্থা প্রস্তাবটি মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হইলে, সংশ্লিষ্ট মেয়র বা ক্ষেত্রমত, কাউন্সিলরের আসনটি সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শূন্য বলিয়া ঘোষণা করিবে।
(১৩) অনাস্থা প্রস্তাবটি মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অথবা কোরামের অভাবে সভা অনুষ্ঠিত না হইলে, সভা অনুষ্ঠানের তারিখের পর ছয় মাস অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ পুনরায় প্রদান করা যাইবে না
(১৪) দায়িত্বভারগ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা ক্ষেত্রমত, কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে না।
১৫। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের পদ শূন্য হওয়া
মেয়র ও কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি-
(ক) ধারা ৯(২) এর অধীনে মেয়র বা কাউন্সিলর হইবার অযোগ্য হইয়া পড়েন; বা
(খ) ধারা ৭ এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা প্রদান করিতে বা ধারা ৭ এর অধীন হলফনামা দাখিল করিতে ব্যর্থ হন; বা
(গ) ধারা ১১ এর অধীন পদত্যাগ করেন; বা
(ঘ) ধারা ১৩ এর অধীন তাহার পদ হইতে অপসারিত হন; বা
(ঙ) মৃত্যুবরণ করেন।
১৬। আকস্মিক পদ শূন্যতা
সিটি কর্পোরেশনে মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইলে পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে ইহা পূরণ করিতে হইবে এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি সিটি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।
১৭। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অনুপস্থিতির ছুটি
১) সরকার কোন মেয়রকে এবং মেয়র কোন কাউন্সিলরকে এক বৎসরে সর্বোচ্চ তিন মাস ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবেন।
(২) কোন কাউন্সিলর ছুটিতে থাকিলে বা অন্য কোন কারণে অনুপস্থিত থাকিলে উক্ত ছুটি বা অনুপস্থিতকালীন সময়ের জন্য মেয়র পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলরকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) মেয়র বা কাউন্সিলরের উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ছুটির অতিরিক্ত ছুটির প্রয়োজন হইলে সরকার এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
১৮। মেয়র ও কাউন্সিলরগণের সম্মানী ও অন্যান্য সুবিধা
মেয়র ও কাউন্সিলরগণ সরকারের অনুমোদনক্রমে কর্পোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত হারে সিটি কর্পোরেশনের তহবিল হইতে মাসিক সম্মানীভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হইবে।
১৯। মেয়র ও কাউন্সিলর কর্তৃক রেকর্ডপত্র দেখিবার অধিকার
১) প্রত্যেক কাউন্সিলর নির্ধারিত পদ্ধতিতে কর্পোরেশনের মেয়র অথবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির সভাপতির নিকট কর্পোরেশন বা স্থায়ী কমিটির প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন বা ব্যাখ্যা দাবী করিতে পারিবেন
(২) কর্পোরেশনের মেয়র বরাবরে নোটিশ প্রদান করিয়া কর্পোরেশনের যে কোন কাউন্সিলর অফিস চলাকালীন সময়ে গোপনীয় নথিপত্র ব্যতীত অন্যান্য রেকর্ড ও নথিপত্র দেখিতে পারিবেন।
(৩) কর্পোরেশনের মেয়র ও প্রত্যেক কাউন্সিলর কর্পোরেশন কর্তৃক অন্য কোন কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাস্তবায়িত কোন কাজ বা প্রকল্পের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে কর্পোরেশনের মনোযোগ আকর্ষণ করিতে পারিবেন।
২০। মেয়রের প্যানেল
(১) সিটি কর্পোরেশন গঠিত হইবার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভার এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলরগণ অগ্রাধিকারক্রমে তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি মেয়রের প্যানেল নির্বাচন করিবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচিত তিনজনের মেয়র প্যানেলের মধ্যে একজন অবশ্যই সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হইতে হইবে।
(২) উপ-দফা (১) অনুযায়ী মেয়রের প্যানেল নির্বাচিত না হইলে সরকার, মেয়রের প্যানেল মনোনীত করিবেন।
২১। মেয়র প্যানেলের সদস্য কর্তৃক মেয়রের দায়িত্ব পালন
(১) অনুপস্থিতি কিংবা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত এই আইনের ধারা ২০ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের কোন সদস্য মেয়রের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(২) পদত্যাগ, অপসারণ অথবা মৃত্যুজনিত কারণে মেয়রের পদ শূন্য হইলে শূন্য পদে নব নির্বাচিত মেয়র কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের কোন সদস্য মেয়রের সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
২২। সদস্যপদ পুনর্বহাল
মেয়র বা কাউন্সিলর এই আইনের বিধানমতে অযোগ্য ঘোষিত হইয়া অথবা অপসারিত হইয়া সদস্যপদ হারাইবার পর আপিল, বা উপযুক্ত আদালতের আদেশে তাহার উক্তরূপ অযোগ্যতার ঘোষণা বাতিল বা অপসারণ আদেশ রদ হইলে, তিনি কর্পোরেশনের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্বপদে বহাল হইবেন।
২৩। দায়িত্ব হস্তান্তর
নির্বাচনের পর নির্বাচিত মেয়র, প্যানেল মেয়র বা অন্য কোন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করিতে থাকিলে, পূর্ববর্তী মেয়র, প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর, তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা কর্পোরেশনের সকল নগদ অর্থ, পরিসম্পদ, দলিল দস্তাবেজ, রেজিস্টার ও সীলমোহর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্মকর্তা কর্তৃক স্থিরীকৃত তারিখ, সময় ও স্থানে নূতন নির্বাচিত মেয়র, বা ক্ষেত্রমত, মনোনীত প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরের নিকট কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বুঝাইয়া দিবেন।
২৪। ব্যত্যয়ের দণ্ড
যদি কোন মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কাউন্সিলর ধারা ২৩ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
২৫। অবস্থা বিশেষে প্রশাসক নিয়োগ
(১) এই আইনের অধীন কোন নূতন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হইলে অথবা কোন সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত করা হইলে অথবা কোন সিটি কর্পোরেশন মেয়াদোত্তীর্ণ হইলে, সরকার, সিটি কর্পোরেশন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।]
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে
2[(৪) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত প্রশাসক কোন ক্রমেই একের অধিকবার ব
(ক) নূতন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ১৮০ (একশত আশি) দিনের অধিককাল;
(খ) সিটি কর্পোরেশন বিভক্তের ফলে সৃষ্ট নূতন সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে 3[১৮০ (একশত আশি) দিনের] অধিককাল;
(গ) কোন সিটি কর্পোরশনের মেয়াদোত্তীর্ণের ক্ষেত্রে 4[১৮০ (একশত আশি) দিনের] অধিককাল-
দায়িত্বে থাকিতে পারিবেন না।]
২৫ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগ ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা
(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে, অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, যে কোন সিটি কর্পোরেশনে উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নিযুক্ত প্রশাসক এবং উপ-ধারা (২) অনুযায়ী নিযুক্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে, মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।]
২৬। গেজেট নোটিফিকেশন
মেয়র বা কোন কাউন্সিলরের পদত্যাগ, অপসারণ বা অন্য কোন কারণে পদ শূন্য হইলে সরকার, উহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।