- ১৩। পৌর এলাকাকে ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণ
- ১৪। ওয়ার্ড কমিটি
- ১৫। সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ
- ১৬। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ
- ১৭। ভোটার তালিকা
- ১৮। ভোটাধিকার
দ্বিতীয় অধ্যায় : ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা, ইত্যাদি ( স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ )
১৩। পৌর এলাকাকে ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণ
পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে সরকার, পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্ত করিবে।
১৪। ওয়ার্ড কমিটি
(১) পৌর এলাকার প্রত্যেক ওয়ার্ডে অনধিক দশ সদস্য লইয়া, পরিষদের অনুমোদনক্রমে, ওয়ার্ড কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ঐ ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হইবেন।
(২) মোট দশ সদস্যের মধ্যে ৪০% সদস্য মহিলা হইবেন, তবে এই ব্যবস্থা অধিকতর কার্যকর করিবার লক্ষ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের কার্য পর্যালোচনাপূর্বক পৌরসভা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে
(৩) ওয়ার্ড কমিটির কার্যপরিধি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে এবং, বিধি না হওয়া পর্যন্ত, পৌরসভা সাধারণ আদেশ দ্বারা উহা নির্ধারণ করিয়া দিবে।
(৪) অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে ওয়ার্ড কমিটির অন্যতম কাজ হইবে উন্মুক্ত সভার মাধ্যমে ওয়ার্ডের নাগরিকগণকে পৌরসভার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করা।
(৫) পৌরসভার মেয়াদকালীন সময়ের জন্য, পরবর্তী উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত, ওয়ার্ড কমিটি কার্যকর থাকিবে।
১৫। সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ
(১) ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের মধ্য হইতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা ও সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(২) সহকারী সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তার অধীনে কার্য সম্পাদন করিবেন৷
১৬। ওয়ার্ডের সীমানা নির্ধারণ
(১) পৌরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসকালে যতদূর সম্ভব ভৌগলিক সম্পৃক্ততা সংরক্ষণ করিতে হইবে 1[***] ৷
(২) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা সীমানা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যেরূপ প্রয়োজন মনে করিবেন সেইরূপ রেকর্ডপত্র পরীক্ষা, তদন্ত, এবং এই বিষয়ে উপস্থাপিত প্রস্তাবসমূহ বিবেচনা করিতে পারিবেন এবং তিনি প্রস্তাবিত কোন্ এলাকা কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া ওয়ার্ডসমূহের একটি প্রাথমিক তালিকা বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পনের দিনের মধ্যে আপত্তি অথবা পরামর্শের আহবান জানাইয়া বিজ্ঞপ্তিটি তাহার কার্যালয়ে ও পৌরসভার কার্যালয়ে এবং তাহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্য কোন স্থান অথবা স্থানসমূহে প্রকাশ করিবেন।
(৪) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রাপ্ত কোন আপত্তি বা পরামর্শ বিবেচনা করিবেন এবং প্রয়োজনবোধে ব্যক্তিগত শুনানি করিবেন এবং এই বিষয়ে তাহার সিদ্ধান্ত অনধিক পনের দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জনগণকে জানাইয়া তাহার কপি সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার এবং সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পনের দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার ডেপুটি কমিশনারের বরাবরে আপিল করা যাইবে এবং ডেপুটি কমিশনারকে পনের দিনের মধ্যে উক্ত আপিল নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর প্রেক্ষিতে সংশোধন, পরিবর্তন অথবা রূপান্তর, যদি থাকে, তাহা সম্পন্ন করিয়া সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা প্রত্যেক ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকাসমূহ উল্লেখ করিয়া স্বীয় দপ্তর, পৌরসভা কার্যালয় এবং স্বীয় বিবেচনায় আবশ্যিক ওয়ার্ডসমূহের চূড়ান্ত তালিকা অন্য যে কোন স্থানে প্রচার করিবেন এবং তালিকার সত্যায়িত অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং সরকার তাহা সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।
(৭) সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর নির্বাচনের উদ্দেশ্যে, সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা এই ধারার অধীন কোন পৌরসভাকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ওয়ার্ডে বিভক্তিকরণের সাথে সাথে, এই ধারার বিধানাবলী যথাসম্ভব অনুসরণ করিয়া, ঐ সকল ওয়ার্ডকে এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডরূপে চিহ্নিত করিবেন যেন এইরূপ সমন্বিত ওয়ার্ডের সংখ্যা সংরক্ষিত আসন সংখ্যার সমান হয়।
১৭। ভোটার তালিকা
(১) প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে।
(২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক না হন;
(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত না হন; এবং
(ঘ) সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলিয়া গণ্য হন।
১৮। ভোটাধিকার
কোন ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় আপাততঃ যে ওয়ার্ডে অন্তর্ভুক্ত হইবে, তিনি সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং মেয়র নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।