17 Apr 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯
Click here for Deep-Dive

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯

চতুর্থ অধ্যায় : নির্বাচন, নির্বাচনী বিরোধ, ইত্যাদি ( স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ )
২০। নির্বাচনের সময়, ইত্যাদি

(১) পৌরসভার প্রত্যেক ওয়ার্ড হইতে একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবে।

(২) নিম্নবর্ণিত সময়ে পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে 

(ক) পৌরসভা প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, এই আইন বলবৎ হইবার পরবর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে;

(খ) পৌরসভার মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে;

(গ) পৌরসভা বাতিলের ক্ষেত্রে, বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে।

২১। নির্বাচন পরিচালনা

(১) নিবার্চন কমিশন কতৃর্ক প্রণীত বিধি অনুসারে নিবার্চন কমিশন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর নিবার্চনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদনা করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিবার্চন কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করিতে পারিবে, যথাঃ

(ক) নিবার্চন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;

(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে হলফনামা দাখিল, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়নপত্র বাছাই;

1[***

(গ) প্রার্থী কতৃর্ক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;

(ঘ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ

(ঙ) প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগ;

(চ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নিবার্চন পদ্ধতি;

(ছ) ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান এবং নিবার্চন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়

(জ) ভোট প্রদান পদ্ধতি;

(ঝ) ভোট বাছাই ও গণনা, ফলাফল ঘোষণা এবং সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি;

(ঞ) ব্যালট পেপার এবং নিবার্চন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলি বন্টন;

(ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;

(ঠ) প্রার্থীদের নিবার্চন ব্যয় এবং এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়;

(ড) ভোট গ্রহণের দিন নিবার্চন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা

(ঢ) নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কাযর্কলাপ ও অন্যান্য নিবার্চনী অপরাধ ও উহার দণ্ড; এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আচরণ বিধি ভঙ্গের দণ্ড।

(ণ) নিবার্চনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি;

(ত) অপরাধ বিচারার্থে আমলে গ্রহণ, নিবার্চন কমিশনের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কতিপয় ব্যক্তির ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ, কতিপয় মামলার মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়াদি;

(থ) গাড়ি হুকুম দখলের ক্ষমতা, নিবার্চন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলী, কতিপয় ক্ষেত্রে নিবার্চন কমিশনের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখিরার ক্ষমতা এবং নিবার্চন পযবের্ক্ষক নিয়োগে নিবার্চন কমিশনের ক্ষমতা; এবং

(দ) নিবার্চন সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।

(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এর ক্ষেত্রে বিধিতে কারাদণ্ড, অর্থ দণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড বা, ক্ষেত্রমত, প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত বিধান করা যাইবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নিবার্চনী অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ অন্যূন ছয় মাস এবং অনধিক সাত বৎসর এবং আচরণ বিধির কোন বিধান লংঘনের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ অনধিক ছয় মাস বা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থ দণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডের বিধান করা যাইবে।

২২। নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ

মেয়র এবং কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচন কমিশন, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে৷

২৩। নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিল

(১) এই আইনের অধীন অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচন বা গৃহীত নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ব্যতীত কোন আদালত বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষের নিকট আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।

(২) কোন নির্বাচনের প্রার্থী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি উক্ত নির্বাচন বা নির্বাচনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করিতে পারিবেন না।

(৩) এই আইনের ধারা ২৪ এর অধীনে গঠিত নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের বরাবরে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্বাচনী অভিযোগপত্র পেশ করিতে হইবে।

(৪) কোন আদালত-

(ক) পৌরসভার কোন মেয়র বা কাউন্সিলরের নিবার্চন মূলতবী রাখিতে;

(খ) এই আইনের অধীন নিবার্চিত কোন পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরকে তাহার দায়িত্ব গ্রহণে বিরত রাখিতে;

(গ) এই আইনের অধীন নিবার্চিত কোন পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরকে তাহার কাযার্লয়ে প্রবেশ করা হইতে বিরত রাখিতে-

নিষেধাজ্ঞা জারি করিতে পারিবে না।

২৪। নির্বাচন ট্রাইব্যুনাল ও নির্বাচন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন

(১) এই আইনের অধীন নিবার্চন সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য নিবার্চন কমিশন একজন উপযুক্ত পদমযার্দার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিবার্চন ট্রাইব্যুনাল এবং একজন উপযুক্ত পদমযার্দার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিবার্চন আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করিবে।

(২) পৌরসভা নিবার্চনের ফলাফল গেজেটে প্রকাশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবার্চন বা নিবার্চনী কার্যক্রম বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন ও প্রতিকার প্রার্থনা করিয়া নিবার্চন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাইবে এবং উক্তরূপে কোন মামলা দায়ের করা হইলে নিবার্চন ট্রাইব্যুনাল মামলা দায়ের হইবার তারিখ হইতে একশত আশি দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে।

(৩) নিবার্চন ট্রাইব্যুনালের রায়ে কোন ব্যক্তি সংক্ষুদ্ধ হইলে উক্ত ব্যক্তি রায় ঘোষণার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবার্চন আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপে কোন আপিল দায়ের করা হইলে নিবার্চন আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল দায়ের হইবার তারিখ হইতে একশত বিশ দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে।

(৪) নিবার্চন আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

২৫। নির্বাচনী দরখাস্ত, আপিল নিষ্পত্তি

নির্বাচনী দরখাস্ত ও আপিল দায়েরের পদ্ধতি, ট্রাইব্যুনাল ও আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্বাচন বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতি, এখতিয়ার, ক্ষমতা, প্রতিকার এবং আনুষঙ্গিক সকল বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

২৬। নির্বাচনী দরখাস্ত স্থানান্তর

নির্বাচন কমিশন নিজ উদ্যোগে অথবা এতদুদ্দেশ্যে কোন এক পক্ষের দরখাস্তের প্রেক্ষিতে মামলার যে কোন পর্যায় কোন নির্বাচনী দরখাস্ত বা আপিল এক ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য ট্রাইব্যুনালে অথবা ক্ষেত্রমত, এক আপিল ট্রাইব্যুনাল হইতে অন্য আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করিতে পারিবে; এবং স্থানান্তরিত দরখাস্ত বা আপিল যে পর্যায়ে স্থানান্তর করা হইয়াছে সেই পর্যায় হইতে উহার বিচার কার্য চলিতে থাকিবেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচনী দরখাস্ত বা আপিল যে ট্রাইব্যুনাল বা আপিল ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হইয়াছে সেই ট্রাইব্যুনাল উপযুক্ত মনে করিলে ইতিপূর্বে পরীক্ষিত কোন সাক্ষীকে পুনরায় তলব বা পরীক্ষা করিতে পারিবে।

img