17 Apr 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯
Click here for Deep-Dive

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯

পঞ্চম অধ্যায় : শপথ, সম্পত্তির ঘোষণা, অপসারণ, ইত্যাদি ( স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ )
২৭। শপথ বা ঘোষণা

(১) মেয়র বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রথম তফসিলে বর্ণিত ছকে সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা প্রদান করিবেন এবং শপথ বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর দান করিবেন।

(২) মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইবার 1[বিশ দিনের] মধ্যে সরকার বা তদ্‌কর্তৃক মনোনীত কর্তৃপক্ষ মেয়র ও সকল কাউন্সিলরকে শপথ গ্রহণ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা প্রদানের ব্যবস্থা করিবে।

২৮। সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা

(১) মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলরকে, শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা প্রদানের সময় ট্যাক্সপেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নম্বরসহ (টি.আই.এন), যদি থাকে, সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত তাহার এবং তাহার পরিবারের সদস্যদের দেশে ও বিদেশে অবস্থিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির সর্বশেষ বিবরণ, একটি হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করিতে হইবে।

(২) সংশ্লিষ্ট কর অফিসে দাখিলকৃত ও গৃহীত টি.আই.এন, যদি থাকে, সম্বলিত সম্পত্তির সর্বশেষ হিসাব দাখিল করিতে না পারিলে বা করা না হইলে মেয়র এবং প্রত্যেক কাউন্সিলর শপথ গ্রহণ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণার সময় তাহার এবং তাহার পরিবারের যে কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ হলফনামার মাধ্যমে দাখিল করিবেন।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে দাখিলকৃত হলফনামা এবং উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত লিখিত বিবরণ অসত্য প্রমাণিত হইলে, ক্ষেত্রবিশেষে, মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে, অসদাচরণের অভিযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

ব্যাখ্যাঃ - এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘‘পরিবারের সদস্য’’ বলিতে সংশ্লিষ্ট মেয়র বা পৌর কাউন্সিলরে স্ত্রী বা স্বামী এবং তাহার সহিত বসবাসকারী এবং তাহার উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, সৎপুত্র, সৎকন্যা, ভ্রাতা ও ভগ্নিকে বুঝাইবে।

২৯। একাধিক পদে প্রার্থিতায় বাধা

(১) কোন ব্যক্তি একই সাথে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

(২) যদি কোন ব্যক্তি একই সাথে কোন পৌরসভার একাধিক পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, তাহা হইলে তাহার সকল মনোনয়নপত্র বাতিল হইবে।

(৩) পৌরসভার মেয়াদকালে কোন কারণে মেয়র পদ শূন্য হইলে, কোন কাউন্সিলর মেয়রের পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে পারিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কাউন্সিলরকে স্বীয় পদ ত্যাগ করিয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিতে হইবে।

৩০। মেয়র ও কাউন্সিলরের পদত্যাগ

(১) কোন কাউন্সিলর পৌরসভার মেয়র বরাবর তাহার পদত্যাগ করিবার অভিপ্রায় লিখিতভাবে ব্যক্ত করিয়া পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং ঐরূপ পদত্যাগপত্র মেয়র কর্তৃক গৃহীত হওয়ার সাথে সাথে উক্ত কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) মেয়র সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট কর্মকর্তার নিকট তাহার পদত্যাগ করিবার অভিপ্রায় লিখিতভাবে ব্যক্ত করিয়া পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং উহার একটি অনুলিপি 1[পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা] বা ক্ষেত্রমত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে প্রেরণ করিবেন এবং উক্তরূপ পদত্যাগ নির্দিষ্ট কর্মকর্তা কর্তৃক প্রাপ্তির তারিখ হইতে কার্যকর হইবে

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন পদত্যাগের বিষয়টি 2[পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা] বা ক্ষেত্রমত, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনধিক তিন দিনের মধ্যে পরিষদ, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারকে অবহিত করিবেন।

৩১। মেয়র ও কাউন্সিলরের সাময়িক বরখাস্ত

(১) যেক্ষেত্রে কোন পৌরসভার মেয়র অথবা কোন কাউন্সিলর অপসারণের কার্যক্রম আরম্ভ করা হইয়াছে অথবা তাহার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলায় অভিযোগপত্র আদালত কর্তৃক গৃহীত হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় মেয়র অথবা কাউন্সিলর কর্তৃক ক্ষমতা প্রয়োগ পৌরসভার স্বার্থের পরিপন্থী অথবা প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন না হইলে, সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত মেয়র, তাহার অনুপস্থিতিতে মেয়রের দায়িত্ব পালনের জন্য জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে মেয়রের প্যানেলের সদস্যের নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করিবেন এবং উক্ত মেয়রের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা মেয়র অপসারিত হইলে তাহার স্থলে নূতন মেয়র নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র দায়িত্ব পালন করিয়া যাইবেন

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীনে পৌরসভার কোন কাউন্সিলরকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ প্রদান করা হইলে উক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আনীত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অথবা উক্ত কাউন্সিলর অপসারিত হইলে তাহার স্থলে নূতন কাউন্সিলর নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পৌর পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে একজন কাউন্সিলর সাময়িকভাবে উক্ত দায়িত্ব পালন করিবেন।

৩২। মেয়র ও কাউন্সিলর অপসারণ

(১) মেয়র অথবা কাউন্সিলর তাহার নিজ পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-

(ক) পৌরসভার নোটিশ প্রাপ্তি সত্ত্বেও যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন

(খ) পৌরসভা বা রাষ্ট্রের হানিকর কোন কার্যকলাপে জড়িত থাকেন অথবা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হন

(গ) দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন;

(ঘ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন;

(ঙ) নির্বাচনের পর ইহা প্রমাণিত হয় যে, তিনি ধারা ১৯ (২) অনুযায়ী নির্বাচনে অযোগ্য ছিলেন;

(চ) বার্ষিক ১২ টি মাসিক সভার স্থলে অন্যূন নয়টি সভা গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত অনুষ্ঠান করিতে বা উপস্থিত থাকিতে ব্যর্থ হন;

(ছ) তিনি নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করেন কিংবা দাখিলকৃত হিসাবে অসত্য তথ্য প্রদান করিয়াছেন বলিয়া উহা দাখিলের ছয় মাসের মধ্যে প্রমাণিত হয় 1

(জ) নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর হইতে পৌরসভার মেয়াদকালের মধ্যে যে কোন সময় যদি প্রমাণিত হয় যে, কোন নির্বাচিত প্রার্থী মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত সাতটি তথ্য সম্বলিত হলফনামায় কোন অসত্য তথ্য প্রদান করিয়াছেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোন তথ্য গোপন করিয়াছেন 2[;]

3[(ঝ) সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশ পালন করিতে ব্যর্থ হন।

ব্যাখ্যা৷- এই উপ-ধারায় বর্ণিত ‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, ধারা ২৮ অনুযায়ী সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা প্রদান না করা কিংবা অসত্য হলফনামা দাখিল করা, এবং বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, ইত্যাদি বুঝাইবে।

(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কারণে মেয়র বা কাউন্সিলরকে অপসারণ করিতে পারিবে।

(৩) অপসারণের সিদ্ধান্ত চড়ান্ত করিবার পূর্বে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, অভিযোগের তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট মেয়র বা কাউন্সিলরকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হইবে

(৪) একজন মেয়র বা কাউন্সিলর উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ কিংবা উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী অপসারণের প্রস্তাব নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন লাভের পর তাৎক্ষণিকভাবে অপসারিত হইবেন

(৫) পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরকে উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার পদ হইতে অপসারিত করা হইলে, তিনি সরকার কর্তৃক নিযুক্ত কোন কর্তৃপক্ষের নিকট এই আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে আপিল করিতে পারিবেন।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন আপিল করা হইলে আপিল কর্তৃপক্ষ উহা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (২) এ প্রদত্ত অপসারণ আদেশটি স্থগিত রাখিতে পারিবেন এবং আপিলকারীর বক্তব্য প্রদানের সুযোগ প্রদানের পর ঐ আদেশটি পরিবর্তন, বাতিল বা বহাল রাখিতে পারিবেন

(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আপিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত হইবে।

(৮) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট পৌরসভার কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

৩২ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র ও কাউন্সিলরগণের অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা

এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, সকল পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলরগণকে অপসারণ করিতে পারিবে।]

৩৩। মেয়র এবং কাউন্সিলরের পদ শূন্য হওয়া এবং পুনঃনির্বাচন।

(১) পৌরসভার মেয়র বা কাউন্সিলর পদ শূন্য হইবে, যদি তিনি-

(ক) ধারা ১৯ (২) এর অধীনে মেয়র অথবা কাউন্সিলর থাকিবার অযোগ্য হন; বা,

(খ) ধারা ২৭ এ নির্দেশিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ বা ধারা ২৮ এর অধীনে হলফনামা দাখিল করিতে ব্যর্থ হন; বা,

(গ) ধারা ৩০ অনুযায়ী পদত্যাগ করেন; বা,

(ঘ) ধারা ৩২ অনুযায়ী অপসারিত হন; বা,

(ঙ) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন; বা,

(চ) মৃত্যুবরণ করেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের পূর্বে কোন মেয়র বা কাউন্সিলরের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার নব্বই দিনের মধ্যে পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পৌরসভার কেবল অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন।

৩৪। মেয়রের দায়িত্ব ও দলিল দস্তাবেজ হস্তান্তর

নির্বাচনের পর নির্বাচিত মেয়র, অথবা প্যানেল মেয়র বা অন্য কোন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করিতে থাকিলে, পূর্ববর্তী মেয়র বা প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর তাঁহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা পৌরসভার সকল নগদ অর্থ, পরিসম্পদ, দলিল দস্তাবেজ, রেজিস্টার ও সীলমোহর যত শীঘ্র সম্ভব অথবা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর্মকর্তা কর্তৃক স্থিরীকৃত তারিখ, সময় ও স্থানে নূতন নির্বাচিত মেয়র বা ক্ষেত্রমত মনোনীত প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলরের নিকট পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা, ক্ষেত্রমত, 1[পৌর নির্বাহী কর্মকর্তার] উপস্থিতিতে বুঝাইয়া দিবেন।

৩৫। মেয়র ও কাউন্সিলরের সদস্যপদ পুনর্বহাল

পৌরসভার কোন নির্বাচিত মেয়র বা কাউন্সিলর এই আইনের বিধান অনুসারে অযোগ্য ঘোষিত হইয়া অথবা অপসারিত হইয়া সদস্যপদ হারাইবার পর আপিলে তাহার উক্তরূপ অপসারণ বাতিল হইলে, বা তাহার অযোগ্যতা অবলোপন হইলে, তিনি অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য স্ব-পদে বহাল হইবেন।

৩৬। ব্যত্যয়ের দণ্ড

যদি কোন মেয়র বা প্যানেল মেয়র বা মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কাউন্সিলর ধারা ৩৪ এর অধীন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ২০,০০০ (বিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।

৩৭। মেয়র ও কাউন্সিলরের অধিকার ও দায়বদ্ধতা

(১) পৌরসভার মেয়র ও প্রত্যেক কাউন্সিলর এই অাইন ও সংশ্লিষ্ট বিধানাবলী সাপেক্ষে পৌরসভার সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অধিকার থাকিবে।

(২) পরিষদের প্রত্যেক সদস্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পৌরসভার মেয়র অথবা সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির সভাপতির নিকট পরিষদের বা স্থায়ী কমিটির প্রশাসনিক এখতিয়ারভুক্ত বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন বা ব্যাখ্যা দাবি করিতে পারিবেন।

(৩) পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর পৌরসভা কর্তৃক অথবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়িত কোন কাজ বা প্রকল্পের ত্রুটি বিচ্যুতি সম্পর্কে পৌরসভার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করিতে পারিবে।

(৪) মেয়র এবং কাউন্সিলর এই আইনের বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে পৌরসভার কার্য পরিচালনা করিবেন এবং পরিষদের নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকিবেন।

৩৮। অনাস্থা প্রস্তাব

(১) এই আইনের কোন বিধান লঙ্গন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে বা শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে তাহার পদ হইতে অপসারণের লক্ষ্যে অনাস্থা প্রস্তাব আনয়ন করা যাইবে।

(২) যে কোন একজন কাউন্সিলর ব্যক্তিগতভাবে উপ-ধারা (১) এর অধীন অনাস্থা প্রস্তাব আনয়নের ক্ষেত্রে পৌরসভার মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ কাউন্সিলরের স্বাক্ষরিত নোটিশ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিতে হইবে।

(৩) অনাস্থা প্রস্তাব প্রাপ্তির পর উক্ত কর্মকর্তা এক মাসের মধ্যে অভিযোগসমূহ তদন্ত করিবেন এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হইলে দশ কার্যদিবসের সময় দিয়ে তিনি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হইলে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা নোটিশ প্রাপ্তির অনধিক পনের কার্যদিবসের মধ্যে অনাস্থা প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য এতদুদ্দেশ্যে নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের সভা আহবান করিবেন অথবা মেয়রকে সভা আহবানের জন্য অনুরোধ করিবেন এবং সকল নির্বাচিত কাউন্সিলরগণের নিকট সভার নোটিশ প্রেরণ নিশ্চিত করিবেন।

(৫) মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে মেয়রের প্যানেল হইতে অগ্রাধিকারক্রমে একজন কাউন্সিলর এবং কোন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রে পৌরসভার মেয়র সভায় সভাপতিত্ব করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, মেয়র অনুপস্থিত থাকিলে বা অন্য কোন কারণে তাহাকে পাওয়া না গেলে উপস্থিত কাউন্সিলরগণের মধ্য হইতে একজন কাউন্সিলরকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সভাপতি নির্বাচিত করা যাইবে।

(৬) উপ-ধারা (২) এর অধীন নিয়োগকৃত কর্মকর্তা সভায় একজন পর্যবেক্ষক হিসাবে উপস্থিত থাকিবেন।

(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যে আহুত সভাটি নিয়ন্ত্রণ বর্হিভূত কোন কারণ ব্যতীত স্থগিত করা যাইবে না এবং মোট নির্বাচিত সদস্য সংখ্যার অর্ধেক সদস্য সমন্বয়ে সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৮) সভার শুরুতে সভাপতি অনাস্থা প্রস্তাবটি সভায় পাঠ করিয়া শুনাইবেন এবং উন্মুক্ত আলোচনা আহবান করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোন কারণ ছাড়া এই ধরনের উন্মুক্ত আলোচনা বা বিতর্ক স্থগিত করা যাইবে না।

(৯) সভা শুরু হইবার তিন ঘন্টার মধ্যে বিতর্ক বা উন্মুক্ত আলোচনা সমাপ্ত না হইলে, অনাস্থা প্রস্তাবটির উপর গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করিতে হইবে

(১০) সভার সভাপতি অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে কোন প্রকাশ্য মতামত প্রকাশ করিবেন না এবং তিনি ব্যালটের মাধ্যমে উপ-ধারা (৯) এর অধীন ভোট প্রদান করিতে পরিবেন, তবে সভাপতি দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট দিতে পারিবেন না।

(১১) নিয়োগকৃত কর্মকর্তা সভা শেষ হওয়ার পর পরই অনাস্থা প্রস্তাবের কপি এবং ভোটের ফলাফলসহ সভার কার্যবিবরণী সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন।

(১২) অনাস্থা প্রস্তাবটি পৌরসভার মোট সদস্য সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হইলে সংশ্লিষ্ট মেয়র বা কাউন্সিলরের আসনটি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা শূন্য বলিয়া ঘোষণা করিবে।

(১৩) অনাস্থা প্রস্তাবটি মোট সদস্য সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অথবা কোরামের অভাবে সভা অনুষ্ঠিত না হইলে উক্ত তারিখের পর ছয় মাস অতিক্রান্ত না হইলে অনুরূপ কোন অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ প্রদান করা যাইবে না

(১৪) পৌরসভার মেয়র বা কোন কাউন্সিলর দায়িত্বভার গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে তাহার বিরুদ্ধে অনাস্থা নোটিশ আনয়ন করা যাইবে না।

৩৯। মেয়র ও কাউন্সিলরের অনুপস্থিতির ছুটি

(১) মেয়র অথবা কাউন্সিলরকে পরিষদ যুক্তিসঙ্গত কারণে এক বৎসরে সর্বোচ্চ তিন মাস ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে।

(২) কোন কাউন্সিলর ছুটিতে থাকিলে বা অন্য কোন কারণে অনুপস্থিত থাকিলে উক্ত অনুপস্থিতকালীন সময়ের জন্য পৌরসভার মেয়র পার্শ্ববর্তী যে কোন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) কোন মেয়র অথবা কাউন্সিলরের উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ছুটির অতিরিক্ত সময়ের জন্য ছুটির প্রয়োজন হইলে সরকার উক্ত অতিরিক্ত সময়ের ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবে।

৪০। মেয়রের প্যানেল

(১) পৌরসভা গঠিত হইবার পর অনুষ্ঠিত প্রথম সভার এক মাসের মধ্যে কাউন্সিলরগণ অগ্রাধিকারক্রমে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মেয়রের প্যানেল তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে নির্বাচন করিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচিত তিন জনের মেয়রের প্যানেলের মধ্যে একজন সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর হইতে হইবে।

২) অনুপস্থিতি, অসস্থতা বা অন্য যে কোন কারণে মেয়র দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত মেয়রের প্যানেল হইতে অগ্রাধিকারক্রমে একজন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৩) পদত্যাগ, অপসারণ, মৃত্যু অথবা অন্য যে কোন কারণে মেয়রের পদ শূন্য হইলে নূতন মেয়রের কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত মেয়রের প্যানেল হইতে অগ্রাধিকারক্রমে একজন কাউন্সিলর মেয়রের দায়িত্ব পালন করিবেন।

(৪) এই আইনের বিধান অনুযায়ী মেয়রের প্যানেলভুক্ত কোন সদস্য অযোগ্য হইলে অথবা ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব পালনে অসম্মতি জ্ঞাপন করিলে অসম্মতি জ্ঞাপনের তারিখ হইতে অনধিক এক মাসের মধ্যে পরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে তাহার স্থলাভিষিক্ত হইবার জন্য কোন কাউন্সিলরকে মেয়রের প্যানেলভুক্ত করিতে হইবে।

(৫) উপ-ধারা (১) ও (৪) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে মেয়রের প্যানেল নির্বাচন করা না হইলে সরকার প্রয়োজন অনুসারে মেয়রের প্যানেল তৈরি করিতে পারিবে।

৪১। পদত্যাগ, অপসারণ, ইত্যাদি গেজেটে প্রকাশ

পৌরসভার নির্বাচন, মেয়র এবং কাউন্সিলর এর পদত্যাগ ও অপসারণ অথবা শূন্যপদ সম্পর্কে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করিতে হইবে।

৪২ক। বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগ ও কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের ক্ষমতা

(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে কিংবা আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বিশেষ পরিস্থিতিতে, অত্যাবশ্যক বিবেচনা করিলে বা জনস্বার্থে, যে কোন পৌরসভায় উহার কার্যাবলী সম্পাদনের উদ্দেশ্যে, একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত উপযুক্ত কর্মকর্তাকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটিকে প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী নিযুক্ত প্রশাসক এবং উপ-ধারা (২) অনুযায়ী নিযুক্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে, মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবেন।]

৪২। অবস্থা বিশেষে প্রশাসক নিয়োগ

(১) এই আইনের অধীন নূতন কোন পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করা হইলে অথবা কোনো পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হইলে, নির্বাচনের মাধ্যমে নূতন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত, উহার কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সরকারি কর্মকর্তা অথবা সরকার উপযুক্ত মনে করেন এমন কোন ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) সরকার, প্রয়োজনবোধে, প্রশাসকের কর্ম সম্পাদনে সহায়তা প্রদানের জন্য যথাযথ বলিয়া বিবেচিত হয় এমন সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে

(৩) প্রশাসক এবং কমিটির সদস্যবৃন্দ, যদি থাকে, যথাক্রমে মেয়র ও কাউন্সিলরের ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে

(৪) এই আইনে যাহা কিছু থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত পৌর প্রশাসক কোনক্রমেই একের অধিক বার বা ১৮০ (একশত আশি) দিনের অধিক সময়কাল দায়িত্বে থাকিতে পারিবেন না।

৪৩। কতিপয় ব্যক্তি কাউন্সিলর বিবেচিত হইবেন

এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন পল্লী এলাকাকে শহর এলাকা ঘোষণার পর পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হইলে সেই এলাকা হইতে ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান বা সদস্য পৌরসভার কাউন্সিলর হিসাবে বিবেচিত হইবেন৷

img