03 Jun 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩

তৃতীয় অধ্যায় : নির্বাহী কমিটি এবং উহার দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা ( বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ )
৯। নির্বাহী কমিটি

পরিষদের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উহার একটি নির্বাহী কমিটি থাকিবে এবং নির্বাহী কমিটি নিম্নবর্ণিত সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:

(ক) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, যিনি উহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(গ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(ঘ) পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(ঙ) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(চ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(ছ) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিমন্ত্রী (যদি থাকে);

(জ) পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য;

(ঝ) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ঞ) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ট) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ঠ) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ড) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ঢ) পরিবেশ  বন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ণ) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বা সচিব;

(ত) পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক;

(থ) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক;

(দ) স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী;

(ধ) জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী;

(ন) যৌথ নদী কমিশনের সদস্য;

(প) সরকার কর্তৃক মনোনীত ২ (দুই) জন পানি বিশেষজ্ঞ;

(ফ) সরকার কর্তৃক মনোনীত বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) ১ (এক) জন প্রতিনিধি; এবং

(ব) পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার মহাপরিচালক, যিনি উহার সদস্য-সচিবও হইবেন।

১১। নির্বাহী কমিটির সভা

(১) এই ধারার বিধানাবলি সাপেক্ষে, নির্বাহী কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) নির্বাহী কমিটির সকল সভা, সভাপতির সম্মতিক্রমে, উহার সদস্য-সচিব কর্তৃক আহূত হইবে এবং সভাপতি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত স্থান ও সময়ে উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

(৩) নির্বাহী কমিটির সভায় উহার সভাপতি সভাপতিত্ব করিবেন।

(৪) নির্বাহী কমিটির কোন সদস্যপদ শূন্য থাকিবার অথবা নির্বাহী কমিটি গঠনে কোন ত্রুটি থাকিবার কারণে নির্বাহী কমিটির কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।

১২। প্রতিপালন আদেশ (compliance order) ইস্যু করিবার ক্ষমতা

(১) যথাযথ অনুসন্ধান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি নির্বাহী কমিটির নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন ব্যক্তি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ ধারা ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৪ ও ২৬ এর কোন বিধান বা ছাড়পত্রের কোন শর্ত বা সুরক্ষা আদেশের কোন বিধি-নিষেধ বা শর্ত প্রতিপালন বা পরিপালন করিতেছে না বা লংঘন বা লংঘনের চেষ্টা করিতেছে তাহা হইলে আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা, উক্ত ব্যক্তি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে আদেশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই আইন বা সুরক্ষা আদেশের কোন বিধি-নিষেধ বা শর্ত বা ছাড়পত্রের শর্ত প্রতিপালন করিবার জন্য প্রতিপালন আদেশ ইস্যু করিতে পারিবে।

(২) নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রতিপালন আদেশ, ধারা ৪২ এর বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্ধারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারি করিবে।

(৩) প্রতিপালন আদেশের মর্মানুযায়ী যদি কোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (ব্যক্তি ব্যতীত) এই আইন বা সুরক্ষা আদেশের কোন বিধি-নিষেধ বা শর্ত বা ছাড়পত্রের শর্ত প্রতিপালন না করে, তাহা হইলে নির্বাহী কমিটি, উক্ত কর্তৃপক্ষকে ধারা ২৯ এর অধীন বিচার বিভাগীয় কার্যধারা গ্রহণ বা জরিমানা আরোপ না করিয়া উহার প্রধানকে উক্তরূপ বিধি-বিধান বা শর্ত প্রতিপালন না করিবার কারণ ব্যাখ্যা করিবার জন্য, এই আইনের অন্যান্য বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিটির সভায় তলব করিতে পারিবে এবং উক্ত কারণ সন্তোষজনক না হইলে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করিয়া তাহার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিষদের নিকট সুপারিশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) প্রতিপালন আদেশে অন্যান্য বিষয়ের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা:

(ক) বিধি-বিধান বা শর্ত লংঘনকারীর নাম ও ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ বিবরণ;

(খ) লংঘিত বিধি-বিধান বা শর্তাবলির বিবরণ;

(গ) প্রতিপালনের সময়সীমা; এবং

(ঘ) নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অন্য কোন প্রয়োজনীয় বিষয়।

(৫) প্রতিপালন আদেশে আরও উল্লেখ থাকিবে যে, উপযুক্ত কারণ ব্যতীত উক্ত আদেশ প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক এবং উহা প্রতিপালন না করা জরিমানাযোগ্য এবং দণ্ডনীয় একটি অপরাধ।

(৬) প্রতিপালন আদেশ ইস্যুর পূর্বে নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক উপস্থাপিত বক্তব্য বিবেচনা করিবে।

(৭) প্রতিপালন আদেশ জারির বিষয়টি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দ্ধারা বহুল প্রকাশ ও সাধারণ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করা যাইবে।

১৩। অপসারণ আদেশ (removal order) ইস্যু করিবার ক্ষমতা

(১) এই আইন বা সুরক্ষা আদেশের কোন বিধি-নিষেধ বা ছাড়পত্রের কোন শর্ত লংঘন করিয়া যদি কোন ব্যক্তি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ পানি সম্পদের উপর এমন কোন স্থাপনা নির্মাণ বা ভরাট কার্যক্রম গ্রহণ করেন যাহা জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি বা উহার গতিপথ পরিবর্তন করে, তাহা হইলে আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উক্ত জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকল্পে আদেশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উক্ত স্থাপনা অপসারণ বা ভরাট কার্যক্রমে ব্যবহৃত উপকরণ বা উপাদান অপসারণ করিবার জন্য উক্ত ব্যক্তি বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের উপর অপসারণ আদেশ ইস্যু করিতে পারিবে।

(২) নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অপসারণ আদেশ, ধারা ৪২ এর বিধান সাপেক্ষে, বিধি দ্ধারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে জারি করিবে।

(৩) অপসারণ আদেশ ইস্যুর পূর্বে নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৎকর্তৃক উপস্থাপিত বক্তব্য বিবেচনা করিবে।

(৪) অপসারণ আদেশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন উপযুক্ত কারণ ব্যতীত স্থাপনা অপসারণ বা ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করা না হইলে আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাহী কমিটি, জলস্রোতের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিতকল্পে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান করিয়া উক্তরূপ স্থাপনা বা ভরাট কার্যক্রমে ব্যবহৃত উপকরণ জলাধার হইতে অপসারণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ স্থাপনা অপসারণ বা ভরাট কার্যক্রমের প্রকৃত খরচ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে ধারা ৪৩ এর বিধান সাপেক্ষে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করিতে পারিবে।

(৫) অপসারণ আদেশে অন্যান্য বিষয়ের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা:-

(ক) স্থাপনা নির্মাণকারী বা ভরাট কার্যক্রম গ্রহণকারীর নাম ও ঠিকানাসহ পূর্ণাঙ্গ বিবরণ;

(খ) অবৈধ স্থাপনা বা ভরাট কার্যক্রমের বিবরণ;

(গ) অপসারণের সময়সীমা; এবং

(ঘ) নির্বাহী কমিটি কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অন্য কোন বিষয়।

(৬) স্থাপনা অপসারণ বা ভরাট কার্যক্রমে ব্যবহৃত উপকরণ বা উপাদান অপসারণের প্রকৃত খরচ অপসারণ কার্যক্রম গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বিবেচনা করিয়া নির্ধারণ করিতে হইবে।

(৭) অপসারণ আদেশ জারির বিষয়টি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমে গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা বহুল প্রকাশ ও সাধারণ্যে প্রচারের ব্যবস্থা করা যাইবে।

১৪। মহাপরিচালক কর্তৃক সাচিবিক সহায়তা প্রদান ও পরিদর্শকের ক্ষমতা অর্পণ

১) মহাপরিচালক নির্বাহী কমিটির কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে উহাকে সকল প্রকার প্রশাসনিক ও সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(২) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মহাপরিচালকের দায়িত্ব হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) পরিষদ ও নির্বাহী কমিটি কর্তৃক গৃহীত নীতি ও কর্মপন্থা বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ করা;

(খ) পরিষদ ও নির্বাহী কমিটির নির্দেশনার আলোকে উহার সভায় উপস্থাপনের নিমিত্ত সকল প্রকার প্রস্তাব প্রস্তুত করা;

(গ) যে কোন স্থান বা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করা;

(ঘ) এই আইন সম্পর্কিত বিষয়ে জনসচেতনতা সৃস্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা

(ঙ) পরিষদ ও নির্বাহী কমিটি কর্তৃক, সময় সময়, অর্পিত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা।

(৩) মহাপরিচালক, পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা বা অন্য কোন সংস্থার কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে তাহার উপর উপ-ধারা (২) এর দফা (গ) এ বর্ণিত দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিদর্শক নামে অভিহিত হইবেন

(৪) পরিদর্শক উপ-ধারা (৩) এর অধীন পরিদর্শনকালে পরিলক্ষিত যে কোন অনিয়ম বা ত্রুটি বা আদেশ লংঘন সম্পর্কে মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক নির্ধারিত কোন কর্মকর্তার নিকট প্রতিবেদন পেশ করিবেন।

img