03 Jun 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩

ষষ্ঠ অধ্যায় : অপরাধ, দণ্ড ও বিচার ( বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩ )
২৯। প্রতিপালন বা সুরক্ষা আদেশ লংঘন করিবার দণ্ড, অর্থদণ্ড ও জরিমানা

(১) যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইনের অধীন জারিকৃত কোন প্রতিপালন বা সুরক্ষা আদেশ লংঘন করেন বা অবজ্ঞা করেন, তাহা হইলে তিনি, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন প্রতিপালন বা সুরক্ষা আদেশ প্রথমবার লংঘন করেন বা অবজ্ঞা করেন, তাহা হইলে উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সীমা অনুযায়ী জরিমানা আরোপ করিয়া প্রথমবার অপরাধের দায় অবলোপন করিতে পারিবে এবং দ্বিতীয়বার বা তৎপরবর্তীতে উক্ত আদেশ ভংগ বা অবজ্ঞার ক্ষেত্রে উহা উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ হিসাবে গণ্য হইবে।

(৩) নির্বাহী কমিটি বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এর অধীন জরিমানা আরোপের পূর্বে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নোটিশের মাধ্যমে শুনানির যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিবেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারায়, "জরিমানা" অর্থে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত অর্থদণ্ড অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৩০। বাধা প্রদানের দন্ড

(১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে তাহার দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করেন অথবা উক্তরূপ কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিষ্ঠান, ভূমি বা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করিবার জন্য যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করেন বা অবহেলা করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ (দশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তার তলব অনুযায়ী তাহার সম্মুখে কোন রেজিস্টার, নথি বা দলিল-দস্তাবেজ উপস্থাপন করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করিলে বা ব্যর্থ হইলে অথবা উক্তরূপ দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তার সম্মুখে কোন ব্যক্তিকে হাজির হইতে বা তাহার জবানবন্দী গ্রহণ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করিলে বা বাধা প্রদানের চেষ্টা করিলে, তিনি অনধিক ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড অথবা অনধিক ২ (দুই) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারায়, “বাধা” অর্থে হুমকিও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৩১। মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ড

যদি কোন ব্যক্তি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বা জ্ঞাতসারে কোন মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৩ (তিন) হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।

৩২। অপরাধের বিচার, আমলযোগ্যতা, ইত্যাদি

(১) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে।

(২) এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য (bailable) ও অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) হইবে।

(৩) এই আইনের অধীন সংঘটিত কোন অপরাধের বিচার সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হইবে।

৩৩। ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ

এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, এই আইনে বর্ণিত যেকোন অপরাধের তদন্ত, বিচার, আপীল এবং আনুষঙ্গিক সকল বিষয়ে ফৌজদারি কার্যবিধি প্রযোজ্য হইবে।

৩৪। কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অপরাধ সংঘটন

কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে বা কোন বিধান লঙ্ঘিত হইলে উক্ত অপরাধ বা লঙ্ঘনের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে উক্ত কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, নির্বাহী, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ বা লংঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ বা লংঘন তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ বা লংঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়া অকৃতকার্য হইয়াছেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারায়-

(ক) "কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান" অর্থে নির্গমিত বা নিবন্ধিত হউক বা না হউক, যেকোন কোম্পানী, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা একাধিক ব্যক্তি সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন বা সংস্থা অন্তর্ভুক্ত হইবে; এব

(খ) "পরিচালক" অর্থে অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৩৫। অপরাধের সহায়তাকারী

যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা সহযোগিতা করেন বা প্ররোচিত বা প্রলুব্ধ করেন, তাহা হইলে তিনি অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একই অপরাধে অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধীর ন্যায় একইভাবে দায়ী হইবেন।

img