ষষ্ঠ অধ্যায় : শ্রম কল্যাণ উইং এবং অভিবাসন বিষয়ক চুক্তি ( বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ )
২৩। শ্রম কল্যাণ উইং
বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও অভিবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দ্যেশে কোন দেশে শ্রম কল্যাণ উইং প্রতিষ্ঠা করিবার প্রয়োজন রহিয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইলে, সরকার সেই দেশে বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাসে শ্রম কল্যাণ উইং প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে এবং উহা এই আইন ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করিবে।
২৪। শ্রম কল্যাণ উইং এর দায়িত্ব
(১) শ্রম কল্যাণ উইং এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মরত বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের কর্মস্থল পরিদর্শন করিবেন এবং, প্রয়োজনে, নিয়োগকর্তার সহিত সাক্ষাৎ করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়মিত পরিদর্শনপূর্বক প্রতি বৎসরের ডিসেম্বর মাসে সংশ্লিষ্ট দেশে কর্মরত বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীদের অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ সরকারের নিকট একটি বার্ষিক প্রতিবেদন প্রেরণ করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রস্ত্ততকৃত প্রতিবেদনে নিম্নবর্ণিত তথ্যের উল্লেখ থাকিবে, যথা:—
(ক) অভিবাসী কর্মীদের তালিকা এবং কোন্ কর্মে নিয়োজিত রহিয়াছেন, কর্ম পরিবেশ, সুবিধা ও সমস্যাবলী
(খ) অভিবাসী কর্মীদের বিরুদ্ধে আনীত মামলার তালিকা ও বিবরণ, যদি থাকে, এবং আটককৃত বা কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কর্মী সম্পর্কে তথ্য;
(গ) যে সকল অভিবাসী কর্মীর মৃত্যু হইয়াছে তাহাদের নামের তালিকা, মৃত্যুর কারণ ও দাফন সংক্রান্ত তথ্য, এবং নিয়োগকর্তার নিকট হইতে ক্ষতিপূরণ পাইয়াছে কি না বা পাইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে কিনা;
(ঘ) বাংলাদেশ মিশন বা দূতাবাস কর্তৃক প্রদত্ত সেবা, পরামর্শ, আইনী সহায়তা বা তাহাদের সমস্যার সমাধান করিবার লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপ;
(ঙ) সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশী কর্মীর প্রয়োজনীয়তার একটি সমীক্ষাগত ধারণা এবং উক্ত দেশের বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীর অধিকার বিষয়ক বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ব্যবস্থা;
(চ) পাসপোর্ট, ভিসা, কনস্যুলার সেবা সংক্রান্ত সুবিধাদি; এবং
(ছ) সরকার কর্তৃক সময় সময় নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।
২৫। অভিবাসন বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি
(১) সরকার বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশী নাগরিকের অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি, শ্রম অভিবাসন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অভিবাসী কর্মীর প্রত্যাবাসন বা দেশের অভ্যন্তরে পুনর্বাসন এবং অভিবাসী কর্মীসহ যে কোন অভিবাসী এবং তাহাদের পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের সহিত সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি স্বাক্ষর করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি, অন্যান্য নীতিসহ, নিম্নবর্ণিত নীতির ভিত্তিতে গৃহীত হইবে, যথা:—
(ক) দেশের অভ্যন্তরে বা বিদেশে সকল অভিবাসী কর্মীর অধিকার, নিরাপত্তা ও মানব মর্যাদা রক্ষা
(খ) সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীর শ্রম অধিকার ও অন্যান্য মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিতকরণ; এবং
(গ) সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশী অভিবাসী কর্মীর তথ্যের অধিকার এবং অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রতিকার পাইবার অধিকার নিশ্চিতকরণ।