02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮
Click here for Deep-Dive

সড়ক পরিবহণ আইন, ২০১৮

০৮. অষ্টম অধ্যায় : ট্রাফিক ও ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ দূষণ, ইত্যাদি ( )
৪১। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

সরকার বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা ট্রাফিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধানে মোটরযানের ব্যবহার, গতিসীমা, পার্কিং এলাকা, ট্রাফিক সাইন ও সংকেত ব্যবহার, চলাচল ইত্যাদি নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।

৪২। ট্রাফিক সাইন ও সংকেতের ব্যবহার

(১) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মোটরযানের গতিসীমা, ওজন, পার্কিং ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক নিরাপত্তা বিধানকল্পে সড়ক, মহাসড়ক বা পাবলিক প্লেসে ট্রাফিক সাইন স্থাপন, প্রতিস্থাপন বা অপসারণ করিতে পারিবে এবং কোনো সংকেত উত্তোলন বা প্রদর্শন করিতে পারিবে।

(২) প্রত্যেক মোটরযান চালক, পথচারী বা সড়ক ব্যবহারকারী ট্রাফিক সাইন, সংকেত, ইত্যাদি মানিয়া চলিবে।

(৩) প্রত্যেক সড়ক ব্যবহারকারীকে সড়ক বা মহাসড়ক পারাপারে নির্দিষ্ট জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস বা অনুরূপ সুবিধা, যদি থাকে, ব্যবহার করিতে হইবে।

(৪) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বা মোটরযান পরিদর্শক বা পোশাকধারী কোনো পুলিশ অফিসার প্রয়োজনে কোনো চালককে মোটরযান থামাইতে এবং যুক্তিসঙ্গত সময় পর্যন্ত মোটরযান স্থির রাখিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে

৪৩।এক্সেল ওজন, ওজনসীমা নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি

(১) কোনো মোটরযান চালক বা কোনো ব্যক্তি সড়ক বা মহাসড়কে অনুমোদিত লেডেন ওজন, ট্রেইন ওজন বা এক্সেল ওজন এর অতিরিক্ত ওজন বহন করিয়া কোনো মোটরযান চালাইতে পারিবেন না বা চালাইবার অনুমতি প্রদান বা বাধ্য করিতে পারিবেন না।

(২) কোনো মোটরযান মালিক, প্রতিষ্ঠান, চালক বা অন্য কোনো ব্যক্তি রেজিস্ট্রেশন সনদে উল্লিখিত আনলেডেন ওজন বৃদ্ধি করিতে পারিবেন না।

(৩) সরকার, বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলকারী মোটরযান বা ট্রেইলর এর লেডেন ওজন, ট্রেইন ওজন বা এক্সেল ওজন পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং অনুমোদিত ওজনের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করিতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে মোটরযান চালক অনুমোদিত ওজনের অতিরিক্ত ওজন হ্রাস করিতে বাধ্য থাকিবেন।

(৪) উপ-ধারা (৩) তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলকারী মোটরযানের ওজন পরীক্ষায় ওজনের অতিরিক্ত ওজনের জন্য ক্রমবর্ধমান হারে জরিমানা আরোপ করিতে পারিবে।

(৫) সরকার, গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপ-ধারা (৪) এ উল্লিখিত জরিমানার হার নির্ধারণ বা পুনঃনির্ধারণ করিবে।

(৬) সরকার, বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, মোটরযান বা ট্রেইলর এর সর্বোচ্চ লেডেন ওজন, ট্রেইন ওজন বা এক্সেল ওজন, গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারণ বা পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৭) অনুমোদিত লেডেন ওজন, ট্রেইন ওজন বা এক্সেল ওজন এর অতিরিক্ত ওজন বহন করিয়া কোনো মোটরযান সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, কালভার্ট, বেইলি ব্রিজ, সড়কের ডিভাইডার, সড়ক বা মহাসড়কের পার্শ্বস্থ অবকাঠামো ইত্যাদির ক্ষতিসাধন করিলে, সংশ্লিষ্ট মোটরযানের মালিক ও চালক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবে।

(৮) মোটরযানের মালিক ও চালক উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ক্ষতিপূরণ পরিশোধে ব্যর্থ হইলে, Public Demand Recovery Act, 1913 অনুযায়ী উক্ত ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাইবে।

৪৪। মোটরযানের গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ

(১) কর্তৃপক্ষ, সড়ক বা মহাসড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সহিত পরামর্শক্রমে, বিভিন্ন শ্রেণির সড়কে মোটরযানের গতিসীমা নির্ধারণ বা পুনঃনির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) কোনো মোটরযানের চালক সড়ক বা মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমার অতিরিক্ত গতিতে বা বেপরোয়াভাবে মোটরযান চালাইতে পারিবেন না।

(৩) কোনো মোটরযান চালক সড়ক বা মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে বা অননুমোদিতভাবে ওভারটেকিং করিতে পারিবেন না বা মোটরযান চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।

৪৫। শব্দমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

(১) সরকার বা সরকার কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, মোটরযানের শব্দমাত্রার সীমা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) কোনো মোটরযান চালক উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনোরূপ শব্দ সৃষ্টি করিতে পারিবেন না।

(৩) সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা কর্তৃক, আদেশ দ্বারা, ঘোষিত নীরব এলাকা অতিক্রমকালে কোনো মোটরযান চালক কোনোরূপ হর্ন বাজাইতে পারিবেন না

(৪) কোনো মোটরযান চালক, মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত শব্দমাত্রা সৃষ্টিকারী কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ন মোটরযানে স্থাপন, পুনঃস্থাপন বা ব্যবহার করিতে পারিবে না বা করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে না।

(৫) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অ্যাম্বুলেন্স, অগ্নি-নির্বাপক যান, জরুরি উদ্ধার কাজে নিয়োজিত যান ও জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত মোটরযানে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত শব্দমাত্রার হর্ন সংযোজন করা যাইবে।

(৬) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।

৪৬। পরিবেশ দূষণকারী, ঝুঁকিপূর্ণ ইত্যাদি মোটরযান চালনার বিধি-নিষেধ

(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (১৯৯৫ সনের ১নং আইন) ও তদধীন প্রণীত বিধির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, পরিবেশ দূষণকারী ধোঁয়া নির্গমন বা অন্য কোনো প্রকার নিঃসরণ বা নির্গমনের মাত্রা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) কোনো মোটরযান সরকার নির্ধারিত মাত্রার অতিরিক্ত পরিবেশ দূষণকারী ধোঁয়া নির্গমন বা অন্য কোনো প্রকার নিঃসরণ বা নির্গমন করিলে, উক্ত মোটরযানের চালক বা মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান উহা চালনা করিতে পারিবে না।

(৩) পরিবেশ দূষণকারী কোনো যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ মোটরযানে স্থাপন, পুনঃস্থাপন বা ব্যবহার করা যাইবে না বা ব্যবহার করিবার অনুমতি প্রদান করা যাইবে না।

(৪) কোনো ব্যক্তি ত্রুটিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ বা নিষিদ্ধ ঘোষিত বা বিধি-নিষেধ আরোপকৃত বা সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী কোনো মোটরযান চালনা বা চালনার অনুমতি প্রদান করিবেন না।

ব্যাখ্যা। - এই উপ-ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ‘সড়ক বা মহাসড়কে চলাচলের অনুপযোগী’ অভিব্যক্তি অর্থে নসিমন, করিমন, ভড-ভডি, ইজি-বাইক, মোটরচালিত রিক্সা বা ভ্যান, বা অনুরূপ শ্রেণির থ্রি-হুইলার এবং সরকার বা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, নিষিদ্ধ বা বিধি-নিষেধ আরোপকৃত অনুরূপ যে কোনো যানবাহনকে বুঝাইবে।

৪৭। মোটরযান পার্কিং ও থামাইবার স্থান

 (১) সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা কোনো প্রতিষ্ঠান বা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্ব স্ব অধিক্ষেত্রের মধ্যে, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত বাংলাদেশ পুলিশের পরামর্শ গ্রহণ করিয়া, সময় সময়, মোটরযান পার্কিং এলাকা, থামাইবার স্থান এবং যাত্রী ও পণ্য উঠা-নামার স্থান ও সময় নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত এলাকা ব্যতীত মোটরযান পার্কিং করা যাইবে না এবং যাত্রী বা পণ্য উঠা-নামার নির্ধারিত স্থান ও সময় ব্যতীত মোটরযান থামানো যাইবে না।

(৩) কোনো যাত্রী বা সড়ক ব্যবহারকারী মোটরযান চালক বা শ্রমিককে উপ-ধারা (১) এর অধীন নির্ধারিত পার্কিং এলাকা ব্যতীত অন্য কোনো এলাকায় মোটরযান পার্কিং করিতে এবং যাত্রী ও পণ্য উঠা-নামার নির্ধারিত স্থান ও সময় ব্যতীত মোটরযান থামাইতে অনুরোধ বা বাধ্য করিতে পারিবেন না।

(৪) পার্কিং সুবিধা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবহণ কমিটির অনুমোদনক্রমে, মোটরযানের পার্কিং ফি আদায় করিতে পারিবে।

৪৮। মহাসড়কের ব্যবহার

(১) জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক সাধারণত দ্রুতগতির মোটরযান চলাচলে ব্যবহৃত হইবে, এবং উক্ত ক্ষেত্রে জেলা মহাসড়ক হইতে আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং আঞ্চলিক মহাসড়ক হইতে জাতীয় মহাসড়কে দ্রুতগতির মোটরযান প্রবেশকালে যথাক্রমে আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে চলাচলরত মোটরযান অগ্রাধিকার পাইবে।

(২) এক মহাসড়ক হইতে অন্য মহাসড়কে মোটরযান প্রবেশের ক্ষেত্রে যে মহাসড়কে মোটরযানের সংখ্যাধিক্য রহিয়াছে সেই মহাসড়কে চলাচলরত মোটরযান অগ্রাধিকার পাইবে।

৪৯। মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলি

(১) মোটরযান চলাচলে নিম্নবর্ণিত নির্দেশাবলি মানিয়া চলিতে হইবে, যথা:-

প্রথম অংশ

(ক) মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়া কোনো চালক মোটরযান চালাইতে পারিবেন না;

(খ) মদ্যপান বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়া কোনো কন্ডাক্টর বা মোটরযান শ্র্রমিক মোটরযানে অবস্থান করিতে পারিবেন না;

(গ) মোটরযান চালক কোনো অবস্থাতে কন্ডাক্টর বা মোটরযান শ্রমিককে মোটরযান চালনার দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন না;

(ঘ) সড়ক বা মহাসড়কে নির্ধারিত অভিমূখ ব্যতীত বিপরীত দিক হইতে মোটরযান চালানো যাইবে না;

(ঙ) সড়ক বা মহাসড়কে নির্ধারিত স্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে বা উল্টো পার্শ্বে বা ভুল দিকে (wrong side) মোটরযান থামাইয়া যানজট বা অন্য কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাইবে না

(চ) চালক ব্যতীত মোটরসাইকেলে একজনের অধিক সহযাত্রী বহন করা যাইবে না এবং চালক ও সহযাত্রী উভয়কে যথাযথভাবে হেলমেট ব্যবহার করিতে হইবে;

(ছ) চলন্ত অবস্থায় চালক, কন্ডাক্টর বা অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো যাত্রীকে মোটরযানে উঠাইতে বা নামাইতে পারিবেন না;

(জ) প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য গণপরিবহনে অনুকূল সুযোগ-সুবিধা রাখিতে হইবে;

(ঝ) মোটরযানের বডির সামনে, পিছনে, উভয়পার্শ্বে, বডির বাহিরে বা ছাদে কোনো প্রকার যাত্রী বা পণ্য বা মালামাল বহন করা যাইবে না;

(ঞ) সরকার বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কোনো মোটরযানে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা প্রচার করা যাইবে না;

(ট) কোনো মহাসড়ক, সড়ক, ফুটপাত, ওভারপাস বা আন্ডারপাসে মোটরযান মেরামতের নামে যন্ত্রাংশ বা মালামাল রাখিয়া বা দোকান বসাইয়া বা অন্য কোনোভাবে দ্রব্যাদি রাখিয়া যানবাহন বা পথচারী চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাইবে না;

(ঠ) সড়কের সংলগ্ন ফুটপাতের উপর দিয়া কোনো প্রকার মোটরযান চলাচল করিতে পারিবে না;

(ড) কোনো ব্যক্তি কোনো মোটরযানের মালিক বা কোনো আইনানুগ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত সংশ্লিষ্ট মোটরযান চালাইয়া বাহিরে লইয়া যাইতে পারিবেন না; এবং

(ঢ) আইনানুগ কর্তৃপক্ষ বা যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত কোনো ব্যক্তি দাঁড়াইয়া থাকা কোনো মোটরযানে প্রবেশ বা আরোহন করিবে না।

দ্বিতীয় অংশ

(ক) মোটরযান চালক মোটরযান চালনারত অবস্থায় মোবাইল ফোন বা অনুরূপ সরঞ্জাম ব্যবহার করিতে পারিবেন না;

(খ) মোটরযান চালক সিটবেল্ট বাঁধা ব্যতীত মোটরযান চালাইতে পারিবেন না;

(গ) কোনো যাত্রী চলন্ত মোটরযানে চালকের মনোসংযোগের ব্যাঘাত ঘটে বা মোটরযান চালাইতে অসুবিধা হয় এইরূপ কোনো আচরণ বা কর্মকাণ্ড করিতে পারিবেন না;

(ঘ) মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং বয়োজ্যেষ্ঠ যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত আসনে অন্য কোনো যাত্রী বসিবেন না;

(ঙ) যাত্রীগণের সিটবেল্ট বাঁধা সংক্রান্ত নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করিতে হইবে;

(চ) দূরপাল্লার মোটরযানে নির্ধারিত সংখ্যক যাত্রী বা আরোহীর অতিরিক্ত কোনো যাত্রী বা আরোহী বহন করা যাইবে না;

(ছ) কোনো চালক, কন্ডাক্টর বা মোটরযান পরিচালনা সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি পরিবহণযানে যাত্রী সাধারণের সহিত কোনো প্রকার দুর্ব্যবহার বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বা হয়রানি করিতে পারিবেন না; এবং

(জ) রাত্রি বেলায় বিপরীত দিক হইতে আগত মোটরযান চালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এইরূপ হাইবিম ব্যবহার করিয়া মোটরযান চালানো যাইবে না।

(২) সরকার, বা সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, কর্তৃপক্ষ, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সময় সময়, মোটরযান চলাচলের সাধারণ নির্দেশাবলি সংশোধন করিতে পারিবে।

৫০। কতিপয় ক্ষেত্রে দায়ী কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ

(১) এই আইন বা অন্য কোনো আইনের অধীন কোনো সরকারি কর্মচারী তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব বা সেবাপ্রদানে অবহেলা বা ত্রুটিপূর্ণভাবে পালন করিবার কারণে কোনো দুর্ঘটনা সংঘটিত হইলে, উক্ত সরকারি কর্মচারীকে দায়ী করিয়া প্রচলিত আইনে তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

(২) কোনো সড়কের ডিজাইন বা নির্মাণজনিত ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত ত্রুটির কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনার দায়-দায়িত্ব, ক্ষেত্রমত, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান বা তদারককারী সংস্থা বা ব্যক্তির উপর একক বা যৌথভাবে বর্তাইবে এবং উহার জন্য দায়ী করিয়া প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।

৫১। দাহ্য পদার্থ, ইত্যাদি পরিবহনে সতর্কতা

বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ সম্পর্কিত বিদ্যমান আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী অনুমোদিত প্যাকিং ও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন ব্যতীত এবং এতদ্‌সংশ্লিষ্ট বিশেষ ধরনের মোটরযানে ও নির্ধারিত সময় ব্যতীত, কোনো বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ মোটরযানে পরিবহণ করা যাইবে না।

img