- ২৮। অননুমোদিতভাবে ফরেনসিক ডিএনএ কার্যক্রম পরিচালনার দণ্ড
- ২৯। অননুমোদিতভাবে ডিএনএ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ বা ব্যবহার করিবার দণ্ড
- ৩০। ডিএনএ নমুনা ধ্বংস, পরিবর্তন, দূষিতকরণ, ইত্যাদি
- ৩১। জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেইজে অনধিকার প্রবেশের দণ্ড
- ৩২। কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
- ৩৩। ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
- ৩৪। অপরাধের বিচার
- ৩৫। অর্থদণ্ড সম্পর্কে বিশেষ বিধান
- ৩৬। ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২৮, ২৯ ও ৩১ এর অধীন অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
- ৩৭। ডিএনএ প্রোফাইলের সাক্ষ্যগত মূল্য
- ৩৮। সাক্ষী হিসাবে আদালতে উপস্থিতি হইতে অব্যাহতি
ষষ্ঠ অধ্যায় : অপরাধ ও দণ্ড ( ডিএনএ আইন, ২০১৪ )
২৮। অননুমোদিতভাবে ফরেনসিক ডিএনএ কার্যক্রম পরিচালনার দণ্ড
যদি কোন ব্যক্তি অননুমোদিতভাবে ফরেনসিক ডিএনএ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্ত কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৫ (পাঁচ) বৎসর কারাদণ্ড, তবে ৩ (তিন) বৎসরের নিম্নে নহে, বা অনধিক ৩ (তিন) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
২৯। অননুমোদিতভাবে ডিএনএ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ বা প্রকাশ বা ব্যবহার করিবার দণ্ড
এই আইন বা বিধির কোন বিধান লংঘন করিয়া যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে,-
(ক) অন্য কোন ব্যক্তির নিকট ডিএনএ সম্পর্কিত কোন তথ্য প্রকাশ করেন; বা
(খ) ডিএনএ সম্পর্কিত কোন তথ্য সংগ্রহ করেন; বা
(গ) ডিএনএ নমুনা বা ডিএনএ প্রোফাইল অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর বা প্রকাশ করেন,
তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ৩ (তিন) বৎসর কারাদণ্ড, তবে ২ (দুই) বৎসরের নিম্নে নহে, বা অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩০। ডিএনএ নমুনা ধ্বংস, পরিবর্তন, দূষিতকরণ, ইত্যাদি
যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে ডিএনএ নমুনা ধ্বংস, পরিবর্তন, দূষিত বা জাল করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ১০ (দশ) বৎসর কারাদণ্ড, তবে ৩ (তিন) বৎসরের নিম্নে নহে, বা অনধিক ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩১। জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেইজে অনধিকার প্রবেশের দণ্ড
যদি কোন ব্যক্তি অননুমোদিতভাবে জাতীয় ডিএনএ ডাটাবেইজে প্রবেশ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির উক্তরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ, এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসর কারাদণ্ড, তবে ১ (এক) বৎসরের নিম্নে নহে, বা অনধিক ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
৩২। কোম্পানী কর্তৃক অপরাধ সংঘটন
(১) কোন কোম্পানী কর্তৃক এই আইনের অধীন কোন অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, উক্ত অপরাধের সহিত প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে কোম্পানীর এইরূপ প্রত্যেক পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত অপরাধ রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোম্পানী আইনগত ব্যক্তিস্বত্বা বিশিষ্ট সংস্থা (Body Corporate) হইলে, উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা ছাড়াও উক্ত কোম্পানীকে আলাদাভাবে একই কার্যধারায় অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে ফৌজদারী মামলায় উহার উপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে কেবল অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে।
ব্যাখ্যা - এই ধারায়-
(ক) ‘‘কোম্পানী’’ অর্থে কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারী কারবার, সমিতি, সংঘ বা সংঘঠনও অন্তর্ভুক্ত;
(খ) বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ‘‘পরিচালক’’ অর্থে উহার কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্যও অন্তর্ভুক্ত।
৩৩। ফৌজদারী কার্যবিধির প্রয়োগ
এই আইনের অধীন কৃত কোন অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপীল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
৩৪। অপরাধের বিচার
ধারা ৩০ এ বর্ণিত অপরাধসমূহ দায়রা আদালত কর্তৃক এবং ধারা ২৮, ২৯ ও ৩১ এ বর্ণিত অপরাধসমূহ একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কর্তৃক বিচার্য হইবে।
৩৫। অর্থদণ্ড সম্পর্কে বিশেষ বিধান
ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২৮, ২৯ ও ৩১ এর অধীন অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
৩৬। ফৌজদারী কার্যবিধিতে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ২৮, ২৯ ও ৩১ এর অধীন অর্থদণ্ড আরোপের ক্ষেত্রে একজন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট উক্ত ধারাসমূহে উল্লিখিত অর্থদণ্ড আরোপের আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
এই আইন বা বিধির বিধান অনুযায়ী ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য কোন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি বা নির্ধারিত ব্যক্তির দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব না হইলে বা ডিএনএ নমুনা বিনষ্ট হইয়া গেলে তাহার উক্তরূপ কার্য অদক্ষতা বা, ক্ষেত্রমত,অসদাচরণ হিসাবে চিহ্নিতক্রমে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ তাহার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক বা যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
৩৭। ডিএনএ প্রোফাইলের সাক্ষ্যগত মূল্য
ডিএনএ প্রোফাইল সম্বলিত রিপোর্ট আদালতের কার্যধারায় গ্রহণযোগ্য বলিয়া বিবেচনা করা যাইবে।
৩৮। সাক্ষী হিসাবে আদালতে উপস্থিতি হইতে অব্যাহতি
কোন মামলার কার্যক্রমে এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত ডিএনএ প্রোফাইল সম্বলিত কোন রিপোর্টে বর্ণিত মতামত প্রদানকারী ডিএনএ ল্যাবরেটরীর কোন কর্মকর্তা বা কোন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসাবে আদালতে তলব না করিয়া ডিএনএ প্রোফাইল সম্বলিত রিপোর্টে বর্ণিত মতামত ঘটনার সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসাবে আদালতের কার্যধারায় গ্রহণযোগ্য বলিয়া বিবেচনা করা যাইবে।