(১) নিবন্ধক এবং বিধি সাপেক্ষে, একজন নিরীক্ষা কর্মকর্তা, সালিসকারী, অবসায়ক বা অষ্টম অধ্যায়ের অধীনে তদন্ত পরিচালনাকারী কোন ব্যক্তি এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-
(ক) সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে এবং তাহার বিবেচনামত সংশ্লিষ্ট অন্য কোন ব্যক্তিকে সমনজারী করিয়া হাজির হওয়ার নির্দেশ প্রদান করিতে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন;
(খ) উক্ত ব্যক্তি জিজ্ঞাসার জবাবে তাহার জানামতে সত্য তথ্য প্রদানে বাধ্য থাকিবেন;
(গ) সমিতির যে কোন হিসাব বহি, ক্যাশ ও অন্যান্য দলিল ও সম্পদ পরিদর্শন করিতে পারিবেন;
(ঘ) সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ সকল কর্মচারী প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বাধ্য থাকিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীনে প্রদত্ত কোন নির্দেশ বা জারীকৃত সমন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দায়িত্ব পালন না করিলে বা হাজির না হইলে বা উক্ত উপ-ধারা অনুসারে কোন ব্যক্তির অসহযোগিতার কারণে পরিদর্শন সম্ভব না হইলে নিবন্ধক দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারী বা ক্ষেত্রমত তল্লাশী পরোয়ানা ইস্যুর জন্য ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীনে প্রাপ্ত আবেদন বিবেচনান্তে ম্যাজিষ্ট্রেট গ্রেফতার বা তল্লাশি পরোয়ানা ইস্যু করিতে পারিবেন৷
(১) নিবন্ধকের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন ব্যক্তি বা সমবায় সমিতি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নবম, দশম, একাদশ বা দ্বাদশ অধ্যায়ের আওতায় জারীকৃত কোন নির্দেশ বাস্তবায়ন, নিস্ফল বা বিলম্ব করিবার অভিপ্রায়ে তাহার বা উহার যাবতীয় সম্পত্তি বা কোন অংশ হস্তান্তর করিতেছে, অথবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের স্থানীয় অধিক্ষেত্রের বাহিরে হস্তান্তর করিতেছে, তাহা হইলে নিবন্ধক উক্ত সম্পত্তি অথবা উহার সংশ্লিষ্ট অংশ ক্রোকের এবং তাহার বিবেচনামত পর্যাপ্ত জামানত প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবেন; এবং উক্ত জামানত দেওয়া হইলে ক্রোকের আদেশ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) অধীনে প্রদত্ত ক্রোকের আদেশ দেওয়ানী আদালতের ক্রোকের আদেশের মত একইরূপ আইনগত মর্যাদা ও ফলবিশিষ্ট হইবে৷
নবম অধ্যায়ে যাহা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন যে কোন সমবায় সমিতি বা অর্থ সরবরাহকারী সংস্থার নিকট হইতে গৃহীত ঋণ আদায়ের জন্য উক্ত সমিতি বা সংস্থার লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে নিবন্ধক বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট খেলাপী সমিতি বা উহার সদস্য বা জামিনদারকে উক্ত ঋণ পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
সমবায় সমিতি বা উহার ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য যদি ভুয়া জামানত বা বন্ড বা বিবৃতি দিয়া বা চুক্তি সম্পাদন করিয়া ঋণ গ্রহণ করেন, তাহা হইলে নিবন্ধক উক্ত ঋণের দ্বিগুণ পরিমাণ জরিমানা দায়ী ব্যক্তির উপর আরোপ করিতে পারিবেন; এইরূপ জরিমানা ফৌজদারী আদালত কর্তৃক আরোপিত অর্থ দণ্ডের ন্যায় একই পদ্ধতিতে আদায় করা যাইবে;
তবে এইরূপ জরিমানা আরোপের কারণে উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী ও দেওয়ানী প্রতিকার লাভের জন্যও ঋণদাতার অধিকার ক্ষুণ্ন হইবে না৷
(১) ধারা ৪৬ এর অধীন প্রাপ্ত নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা ধারা ৪৯ এর অধীন প্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা অবসায়কের কোন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিবন্ধক যদি সন্তুষ্ট হন যে, কোন সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য বা সমিতির কোন সদস্য বা কর্মচারী-
(ক) ইচ্ছাকৃতভাবে এই আইন বা বিধি বা উপ-আইনের বিধান ভঙ্গ করিয়া কোন অর্থ প্রদান করিয়াছেন বা প্রদানের ক্ষমতা অনুমোদন করিয়াছেন;
(খ) ইচ্ছাকৃতভাবে এমন আদেশ প্রদান করিয়াছেন যাহার ফলে সমিতির কোন ক্ষতি হইয়াছে;
(গ) ইচ্ছাকৃতভাবে সমিতির কোন অর্থ হিসাব বহিতে অন্তর্ভুক্ত করেন নাই; বা
(ঘ) সমিতির অর্থ আত্মসাত্ করিয়াছেন বা প্রতারণামূলকভাবে সমিতির কোন সম্পত্তি আটকাইয়া রাখিয়াছেন;
তাহা হইলে নিবন্ধক বিষয়গুলি সুনির্দিষ্টভাবে তদন্ত করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সদস্য বা কর্মচারীকে তাহার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে শুনানীর সুযোগ দিবেন এবং পরিস্থিতি অনুসারে যথাযথ মনে করিলে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত ত্রুটি সংশোধন বা আত্মসাত্কৃত অর্থ বা সম্পদ সমিতিকে ফেরত বা উক্ত সদস্যের আদেশ বা কর্মকাণ্ডের ফলে উদ্ভুত ক্ষতিজনিত ক্ষতিপূরণ 1[১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে] প্রদানের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সদস্য বা কর্মচারী বাধ্য থাকিবেন, এবং উহা পালনে ব্যর্থতা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক 2[৭ (সাত) বৎসর] কারাদণ্ড বা আত্মসাত্কৃত অর্থের বা, ক্ষেত্রমত, ক্ষতিসাধিত সম্পদের মূল্যের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ দণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(১) এই আইনের অন্যান্য ধারায় ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন, বিধিমালা বা উপ-আইনের অধীনে কোন সমবায় সমিতি কর্তৃক কোন বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে-
(ক) এই আইন, বিধি বা উপ-আইনে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে; বা
(খ) অনুরূপ কোন সময়ের উল্লেখ না থাকিলে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রকৃতি ও পরিধি বিবেচনাক্রমে নিবন্ধক কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে,
উক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানীর একটি সুযোগদান করতঃ নিবন্ধক প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন; এইরূপ নির্দেশ পালনে উক্ত কমিটি, বা ক্ষেত্রমত সদস্য বা ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশ লংঘনের জন্য জরিমানাসহ নিবন্ধক প্রতিদিনের জন্য অনধিক ৫০০/- (পাঁচশত) টাকা সমিতির তহবিলে জমাদানের জন্য লংঘনকারীকে নির্দেশ দিতে পারেন; উক্ত জরিমানা দেওয়া না হইলে উহা Public Demand Recovery Act, 1913 (Ben. Act III of 1913) এর অধীন public demand হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে৷
(১) সমিতির সংগঠন অথবা ব্যবস্থাপনা কমিটির গঠন কিংবা কার্যক্রম পরিচালনায় কিংবা কোন কর্মকর্তা বা অবসায়কের নিয়োগে অথবা নির্বাচনে অযোগ্যতার কারণে পরবর্তীতে উদ্ভুত ত্রুটির জন্য কোন সমবায় সমিতি অথবা ব্যবস্থাপনা কমিটি বা কোন কর্মকর্তা বা অবসায়ক কর্তৃক সরল বিশ্বাসেকৃত কার্যাবলী অবৈধ বলিয়া বিবেচনা করা যাইবে না৷
(২) এই আইনের অধীনে নিয়োগকৃত কোন ব্যক্তির দ্বারা সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত কোন কাজ শুধুমাত্র এই অজুহাতে অবৈধ হইবে না যে, পরবর্তীতে তাহার নিয়োগ বাতিল করা হইয়াছে বা এই আইনের অধীনে জারীকৃত আদেশের ফলে অকার্যকর হইয়াছে৷
(৩) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন সমিতি পরিচালনার কোন কাজ সরল বিশ্বাসে সম্পাদন করা হইয়াছে কি-না, নিবন্ধক তাহা সিদ্ধান্ত দিতে পারেন৷
(১) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধ অ-আমলযোগ্য (Non-Cognizable) অপরাধ হইবে৷
(২) নিবন্ধক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তির লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোন আদালত এই আইনের অধীন কোন অপরাধ বিচারের জন্য গ্রহণ করিবে না৷
(১) সমবায় সমিতির কোন রেজিষ্টার বা বইয়ে অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়, সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম চলাকালে লিপিবব্ধ হইলে এবং বিষয়টি নির্ধারিত নিয়মে সত্যায়িত করা হইলে, কোন মামলা বা আইনগত কার্যক্রমে উক্ত বিষয়ের প্রাথমিক প্রমাণ হিসাবে সত্যায়িত অনুলিপি গৃহীত হইবে৷
(২) কোন সমবায় সমিতির অবসায়ন সম্পন্ন হইয়া থাকিলে উক্ত সমিতির রেকর্ডপত্র অধিদপ্তরের যে কর্মকর্তার নিকট গচ্ছিত থাকে তিনি উক্ত সমিতির প্রাক্তন ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য বা কোন প্রাক্তন কর্মচারী বা প্রাক্তন অবসায়ক কোন মামলার পক্ষ বা আসামী না হইলে তাহাকে উক্ত মামলায় উক্ত সমিতির কোন বিষয়ে কোন নথিপত্র উপস্থাপনের জন্য বা কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা যাইবে না, তবে এতদ্বিষয়ে আদালতের সুনির্দিষ্ট আদেশ থাকিলে তাহাকে তলব করা যাইবে৷