(১) ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের আমানতকারীর আমানত হেফাজত ও নিরাপদ করিবার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ আমানতকারী নিরাপত্তা তহবিল নামে একটি তহবিল গঠন ও সংরক্ষণ করিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন গঠিত তহবিল নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ও পরিচালিত হইবে৷
কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে উহার গঠনতন্ত্রের কোন পরিবর্তন, সংশোধন, পরিবর্ধন বা উহা বাতিল করিতে পারিবে না৷
(১) কর্তৃপক্ষ সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও উহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকা সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করিবে
(২) প্রতি অর্থ বত্সর সমাপ্তির পরবর্তী ২ (দুই) মাসের মধ্যে কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের নিকট সরবরাহ করিবে৷
(৩) এই আইনের অধীন সনদপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সনদ স্থগিত বা বাতিল হওয়া সম্পর্কিত তথ্যাদি কর্তৃপক্ষ জাতীয় বা, প্রয়োজনে, স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করিবে৷
(১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত উহার হিসাব সংরক্ষণ করিবে৷
(২) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান প্রতি অর্থ বত্সর শেষ হইবার পূর্বে পরবর্তী বত্সরের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার বার্ষিক হিসাব বিবরণী বা বাজেট প্রণয়ন করিবে এবং উহার বার্ষিক লাভ-লোকসান হিসাব ও ব্যালেন্স শীট প্রস্তুত করিবে এবং উহাদের একটি কপি কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবে৷
(৩) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার হিসাব রক্ষণ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশাবলী অনুসরণ করিবে৷
1[(৪) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং আইন, ২০১৫ এর ধারা ২(৮) এ সংজ্ঞায়িত ‘‘জনস্বার্থ সংস্থা’’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হইবে উক্ত আইনের ধারা ৪০ এর বিধান অনুযায়ী প্রণীত ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ডস এবং অডিটিং স্ট্যান্ডার্ডস অনুসরণে প্রস্ত্ততকৃত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় দলিলাদি কর্তৃপক্ষের নিকট উপস্থাপন করা।
(৫) উক্ত কর্তৃপক্ষ কোন বার্ষিক প্রতিবেদন গ্রহণ করিবেন না, যদি না উহা কোন তালিকাভুক্ত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনসহ উপস্থাপিত হয়।]
সনদপ্রাপ্ত প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার অর্থায়নকারী সংস্থার স্বার্থ সংরক্ষণার্থ-
(ক) অর্থায়নকারী সংস্থা হইতে গৃহীত ঋণ বা অনুদান অঙ্গীকারাবদ্ধ খাত ও উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোন খাত বা উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিবে না;
(খ) অর্থায়নকারী সংস্থার চাহিদা মোতাবেক
(অ) তত্কর্তৃক নির্ধারিত ছক ও সময়ে উহার নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে;
(আ) প্রদত্ত ঋণ বা অনুদান সংশ্লিষ্ট যে কোন কার্যক্রম, এলাকা পরিদর্শন এবং রেকর্ড বা দলিলপত্র পরীক্ষা করার বিষয়ে সহযোগিতা করিবে৷
(১) প্রতিটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কাজ হইবে এই আইনের অধীন প্রদত্ত সনদের শর্তের অধীন ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা ও তত্সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আনুষঙ্গিক সহায়তা প্রদান করা৷
(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরি-উক্ত বিধানের সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
(ক) দরিদ্র জনসাধারণকে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী করিবার জন্য ঋণ সহায়তা প্রদান করা;
(খ) দরিদ্র জনসাধারণকে বিভিন্ন প্রকার অর্থনৈতিক কাজ-কর্ম পরিচালনার জন্য পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা
(গ) ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সদস্যগণের নিকট হইতে আমানত গ্রহণ করা;
(ঘ) ঋণ প্রদান সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাংকে হিসাব খোলা;
(ঙ) তহবিল গঠনের জন্য ব্যাংক বা অন্য কোন উত্স হইতে ঋণ বা অনুদান গ্রহণ করা;
(চ) উদ্বৃত্ত তহবিল, যদি থাকে, কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করা;
(ছ) প্রদত্ত ঋণ সেবার জন্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত হারে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করা;
(জ) ঋণগ্রহীতা ও তাহাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিভন্ন প্রকার বীমা সার্ভিস এবং অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমুখী ঋণ সহায়তা প্রদান করা৷
(৩) কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান এই ধারার বিধান ও উহার উদ্দেশ্যের পরিপন্থী কোন কার্যক্রম গ্রহণ, লেন-দেন, শিল্প বা ব্যবসা-বাণিজ্য করিতে বা অন্য কোন প্রকার সেবা প্রদান করিতে পারিবে না৷
কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া বলিয়া ঘোষিত হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেউলিয়া বিষয়ক আইন, ১৯৯৭ (১৯৯৭ সালের ১০নং আইন) এর বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃপক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে, যদি
(ক) উক্ত প্রতিষ্ঠানের সনদ বাতিল করা হয়;
(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠান উহার দায় পরিশোধ করিতে অক্ষম হয়;
(গ) উক্ত প্রতিষ্ঠান এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিবার অপরাধে দন্ডপ্রাপ্ত হয়৷
(১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন, তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিযুক্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৩) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বেতনভোগী কর্মকর্তা বা কর্মচারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাধারণ পরিষদ বা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হইতে পারিবেন না৷
(১) দেউলিয়া ঘোষিত হইয়াছেন বা কোন সময় দেউলিয়া ছিলেন বা নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধ বা দুর্নীতি বা তহবিল তসরুপের কারণে তিনি কোন ফৌজদারী আদালত কর্তৃক দন্ডিত হইয়ছেন অথবা কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্তরূপ কোন কারণে তাহাকে দায়িত্ব হইতে অপসারণ করা হইয়াছে এমন কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য, বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বা প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নির্বাচিত বা নিযুক্ত হইতে বা থাকিতে পারিবেন না৷
(২) এই আইনের অধীন বন্ধ ঘোষিত বা অবসায়িত কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উহার ব্যবস্থাপনার সহিত সরাসরিভাবে জড়িত অন্য কোন ব্যক্তি, কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে, অন্য কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা উহার ব্যবস্থাপনার সহিত সরাসরিভাবে জড়িত হইবার মত কোন পদে নিযুক্ত হইতে পারিবেন না
(৩) কোন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানে বেতনভোগী কর্মকর্তা থাকিতে পারিবেন না৷
(১) কর্তৃপক্ষের যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্য বা উহার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও আমানতকারীর জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ রোধকল্পে বা উহার যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করিবার লক্ষ্যে বা জনস্বার্থে অপসারণ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে কর্তৃপক্ষের যে কোন সময়, কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া, আদেশ দ্বারা উক্ত চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রদানের পূর্বে যাহার বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ প্রদান করা হইবে তাহাকে কারণ দর্শাইবার যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করিতে হইবে৷
(১) প্রত্যেক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের একটি সংরক্ষিত তহবিল থাকিবে এবং উক্ত তহবিল নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হইবে৷
(২) কর্তৃপক্ষের লিখিত পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সংরক্ষিত তহবিল হইতে কোন অর্থ ব্যয় করা যাইবে না৷
(১) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতিরেকে কোন লভ্যাংশ প্রদান করিতে পারিবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কর মওকুফ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অন্য কোন আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কোন লভ্যাংশ বিতরণ করিতে পারিবে না৷
(১) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান উহার কোন সদস্য ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন আমানত গ্রহণ করিতে পারিবে না৷
(২) উক্তরূপ কোন সদস্যের নিকট হইতে আমানত গ্রহণ করিলে উক্ত সদস্যকে তাত্ক্ষণিকভাবে আমানত গ্রহণের প্রমাণস্বরূপ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত পাশ বহিতে, যদি থাকে, যথাযথ এন্ট্রি প্রদানসহ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান করিবে৷
(৩) কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত খাত ব্যতীত অন্য কোন খাতে আমানত ব্যবহার বা বিনিয়োগ করিতে পারিবে না৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন খাতে আমানত বিনিয়োগ করার কোন অনুমোদন প্রদান করা যাইবে না৷
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান হইতে সেবা গ্রহণের জন্য উহার বরাবরে তাহার কোন সম্পত্তির চার্জ সৃষ্টি করা হয়, সেক্ষেত্রে উক্তরূপ চার্জ রেজিিস্ট্র করিবার তারিখ হইতে তত্কর্তৃক অন্য কোন ব্যক্তির বরাবরে একই সম্পত্তির উপর সৃষ্ট অন্য সকল চার্জের উপর উক্ত প্রতিষ্ঠানের বরাবরে সৃষ্ট চার্জ অগ্রাধিকার পাইবে৷
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিভিন্নমুখী দারিদ্র বিমোচন তত্পরতা ও তত্সমর্থনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক হইলে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে এই আইনের অধীন সনদ গ্রহণ করিতে হইবে৷