02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

আয়কর আইন, ২০২৩
Click here for Deep-Dive

এ্যাক্ট নং ১২ পার্ট ২৫
এ্যাক্ট সাল ২০২৩ অধ্যায়
এ্যাক্ট ডেট ২২ জুন, ২০২৩ ধারা ৩৪৫
সংশোধনী তফশিল
সর্বশেষ সংশোধনী ফর্ম

1[2[Income-tax Ordinance, 1984 রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়নকল্পে প্রণীত আইন 

যেহেতু সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪ নং আইন) দ্বারা ১৯৮২ সনের ২৪ মার্চ হইতে ১৯৮৬ সনের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সামরিক ফরমান দ্বারা জারীকৃত অধ্যাদেশসমূহের অনুমোদন ও সমর্থন সংক্রান্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ তফসিলের ১৯ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হওয়ায় এবং সিভিল আপিল নং ৪৮/২০১১ তে সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রায়ে সামরিক আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণাপূর্বক উহার বৈধতা প্রদানকারী সংবিধান (সপ্তম সংশোধন) আইন, ১৯৮৬ (১৯৮৬ সনের ১ নং আইন) বাতিল ঘোষিত হওয়ায় উক্ত অধ্যাদেশসমূহের কার্যকারিতা লোপ পায়; এবং

যেহেতু ২০১৩ সনের ৭ নং আইন দ্বারা উক্ত অধ্যাদেশসমূহের মধ্যে কতিপয় অধ্যাদেশ কার্যকর ও বলবৎ রাখা হয়; এবং

যেহেতু উক্ত অধ্যাদেশসমূহের আবশ্যকতা ও প্রাসঙ্গিকতা পর্যালোচনা করিয়া আবশ্যক বিবেচিত অধ্যাদেশসমূহ সকল অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মতামত গ্রহণ করিয়া প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনক্রমে বাংলা ভাষ্যে নূতন আইন প্রণয়ন করিবার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে; এবং

যেহেতু আয়কর, অগ্রিম আয়কর, উৎসে কর, ন্যূনতম কর, সারচার্জ ও অন্য কোনো প্রকারের কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা আবশ্যক; এবং

যেহেতু সরকারের উপরি-বর্ণিত সিদ্ধান্তের আলোকে, Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984) রহিতক্রমে যুগোপযোগী ও সময়োপযোগী করিয়া নূতন আইন প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

১৮। কর ধার্যকরণ

(১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের ভিত্তিতে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে।

(২) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন কোনো করবর্ষভিত্তিক নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে:

তবে আয়বর্ষ ব্যতীত অন্য কোনো মেয়াদে অর্জিত আয়ের উপর নির্ধারিত হারে আয়কর ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা যাইবে।

(৩) এই আইনের বিধানানুযায়ী নিম্নবর্ণিত করাদি ধার্য, আরোপ, পরিশোধ বা সংগ্রহ করা হইবে, যথা:-

(ক) উৎসে কর;

(খ) অগ্রিম আয়কর;

(গ) ন্যূনতম কর; এবং

(ঘ) অন্য কোনো কর।

(৪) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের অধীন নির্ধারিত হারে ও প্রকৃতিতে সারচার্জ অথবা অন্য কোনো চার্জ ধার্য, আরোপ বা সংগ্রহ করা হইবে।

(৫) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে অংশ ৭ এবং সপ্তম তফসিলে বর্ণিত হারে কর আরোপিত হইবে, যথা:-

(ক) মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়;

(খ) লভ্যাংশ হিসাবে পরিগণিত যেকোনো আয়; এবং

(গ) লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে এইরূপ প্রাপ্তি।

১৯। অতিরিক্ত কর আরোপ

১৯। এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক নহে এইরূপ 1[কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তিকে কোনো আয়বর্ষে তাহার ব্যবসায় নিয়োগ] প্রদান বা কর্মের সুযোগ প্রদান করিলে এইরূপ ব্যক্তি এই আইনের অধীন প্রদেয় করের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) বা ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা অধিক, অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধ করিবে।

২১। রিটার্নে অপ্রদর্শিত বিদেশস্থ সম্পত্তির উপর জরিমানা আরোপ

২২। সংরক্ষিত আয় (retained earnings), সঞ্চিতি (reserve), উদ্বৃত্ত (surplus), ইত্যাদির উপর কর আরোপ

এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক সংরক্ষিত আয়ে অথবা কোনো তহবিল, সঞ্চিতি বা উদ্বৃত্তে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কর পরবর্তী নীট আয় হইতে অর্থ স্থানান্তর করিয়া থাকে এবং উক্ত স্থানান্তরিত অর্থের পরিমাণ কর পরবর্তী নীট আয়ের ৭০% (সত্তর শতাংশ) অতিক্রম করে, তাহা হইলে সেই আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক যেই পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরিত হইয়াছে উহার উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।]

২৩। স্টক লভ্যাংশের উপর কর আরোপ

এই আইন বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো আয়বর্ষে কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন নিগমিত এবং বাংলাদেশ স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশ ঘোষিত বা বিতরণকৃত নগদ লভ্যাংশকে অতিক্রম করিলে অথবা নগদ লভ্যাংশ ব্যতীত কেবল স্টক লভ্যাংশের ঘোষণা বা বিতরণ করা হইলে, সেই আয়বর্ষে কোম্পানি কর্তৃক ঘোষিত বা বিতরণকৃত স্টক লভ্যাংশের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর প্রদেয় হইবে।

২৪। আয়ের স্বপ্রণোদিত প্রদর্শন

প্রথম তফসিলে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ এবং উক্ত তফসিলের সকল শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত আয় চলতি করবর্ষের আয়ের সহিত রিটার্নে প্রদর্শন করা যাইবে, যথা:-

(ক) কোনো ব্যক্তি যাহার পূর্ববর্তী এক বা একাধিক আয়বর্ষের কর নির্ধারণ করা হয় নাই এবং যিনি উক্ত এক বা একাধিক বৎসরের জন্য কোনো রিটার্ন দাখিল করেন নাই, উক্ত ব্যক্তির পূর্ববর্তী করবর্ষসমূহের খাতওয়ারি আয়; বা

(খ) কোনো ব্যক্তি যাহার পূর্ববর্তী এক বা একাধিক আয়বর্ষের কর নির্ধারণ করা হইয়াছে, তবে এইরূপ আয় নির্ধারণের সময় কোনো আয় বাদ পড়িয়াছে অথবা নির্ধারণকৃত আয়ের পরিমাণ প্রকৃত আয় অপেক্ষা কম প্রদর্শিত হইয়াছে, উক্ত ব্যক্তির উক্ত কম প্রদর্শিত আয়।]

২৫। কর পরিগণনার বিশেষ বিধান

যেইক্ষেত্রে 1[চতুর্থ, পঞ্চম এবং] অষ্টম তফসিলে কোনো ব্যক্তি শ্রেণির আয় পরিগণনার জন্য বা কোনো নির্দিষ্ট আয় পরিগণনার জন্য বিশেষ বিধান করা হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

২৬। মোট আয়ের আওতা

এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(ক) কোনো নিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত (derived) নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-

(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত (accrued) বা উদ্ভূত (arised), অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;

(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত;

(ই) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা

(ঈ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশের বাহিরে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য;

(খ) কোনো অনিবাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যেকোনো উৎস হইতে আহরিত নিম্নবর্ণিত আয়, যাহা-

(অ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে তাহার নিকট উপচিত বা উদ্ভূত, অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য; বা

(আ) উক্ত বৎসরে বাংলাদেশে উক্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য।

২৭। বাংলাদেশে উপচিত বা উদ্ভূত বলিয়া গণ্য আয়

নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ বাংলাদেশে উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-

(ক) পরিশোধের স্থান নির্বিশেষে চাকরি হইতে আয় খাতভুক্ত যেকোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশে অর্জিত হয়; বা

(আ) সেবা প্রদানের বিপরীতে যদি সরকার বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে পরিশোধ করা হয়;

(খ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, উপচিত বা উদ্ভূত কোনো আয়, যথা:-

(অ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো স্থায়ী স্থাপনা;

(আ) বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো স্পর্শাতীত (intangible) সম্পত্তি, বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো সম্পত্তি, অধিকার, অথবা আয়ের অন্য কোনো উৎস; বা

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর;

(ঈ) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ক্রেতার নিকট ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রয়; বা

(উ)বাংলাদেশে ব্যবহৃত কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি;

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,

(ক) বাংলাদেশে নিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার, তাহা যাহার নিকট থাকুক না কেন, বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) কোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে বিদ্যমান সম্পত্তি বলিয়া গণ্য হইবে, যদি-

(অ) স্পর্শাতীত সম্পত্তি বাংলাদেশে নিবন্ধিত হয়; বা

(আ) যেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তির মালিক বাংলাদেশে অনিবাসী, সেইক্ষেত্রে স্পর্শাতীত সম্পত্তিটি যদি উপরিবর্ণিত অনিবাসীর বাংলাদেশে অবস্থিত স্থায়ী এস্টাব্লিসমেন্টের সহিত সংশ্লিষ্ট হয়:

(গ) বাংলাদেশে অনিবাসী কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরিত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর যেখানেই সংঘটিত হউক না কেন, এবং উক্ত কোম্পানির বাংলাদেশে কোনো পরিসম্পদ থাকিলে উক্ত হস্তান্তরিত শেয়ারমূল্যের যতটুকু বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদের মূল্যের সহিত সম্পর্কিত ততটুকু পর্যন্ত অঙ্ক বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো পরিসম্পদ হস্তান্তর বলিয়া গণ্য হইবে;

(ঘ) বাংলাদেশি কোনো কোম্পানি কর্তৃক বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধিত কোনো লভ্যাংশ;

(ঙ) সুদ হিসাবে প্রদেয় কোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়;

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি ঋণ বা ধারকৃত অর্থ-

(১) বাংলাদেশের বাহির হইতে গৃহীত হয়; এবং

(২) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়;

(ই) বাংলাদেশে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে বা বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত বা ব্যবহৃত কোনো ঋণের বা ধারকৃত কোনো অর্থের বিপরীতে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;

(চ) কারিগরি সেবার জন্য ফি হিসাবে প্রাপ্ত কোনো আয়, যদি তাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদেয় হয়; বা

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত ফি-

(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়; অথবা

(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে গৃহীত সেবার বিপরীতে প্রদেয় হয়;

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের লক্ষ্যে গৃহীত সেবার ফি হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক প্রদেয় হয়;

ছ) রয়্যালটি আয়, যাহা-

(অ) বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;

(আ) নিবাসী কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে উহা প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্ত রয়্যালটি-

(১) বাংলাদেশের বাহিরে কোনো ব্যবসা পরিচালনার উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়; অথবা

(২) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে প্রদেয় হয়;

(ই) বাংলাদেশে অবস্থিত কোনো ব্যবসা পরিচালনা বা বাংলাদেশে অবস্থিত অন্য কোনো উৎস হইতে আয় অর্জনের জন্য ব্যবহৃত কোনো স্বত্ত্ব, সম্পত্তি বা তথ্য বা গৃহীত সেবার বিনিময় হিসাবে কোনো অনিবাসী কর্তৃক পরিশোধযোগ্য;

(জ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো ঝুঁকি হইতে রক্ষার বিপরীতে কোনো নিবাসী বা অনিবাসী দ্বারা উপচিত বা প্রদেয় বিমা বা পুনঃবিমার প্রিমিয়াম।

২৮। মোট আয়ের আওতায় একই আয় দুই বার অন্তর্ভুক্ত না হওয়া

যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে কোনো অর্থ কোনো ব্যক্তির বরাবর উপচিত বা উদ্ভূত হইয়া অথবা উপচিত বা উদ্ভূত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া সম্পূর্ণ বা আংশিক আয় হিসাবে মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ উক্ত ব্যক্তির বরাবর বাংলাদেশে অন্য কোনো আয়বর্ষে গৃহীত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইয়া মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

২৯। মোট আয় পরিগণনা

সকল খাতের আয় যোগ করিয়া মোট আয় পরিগণনা করিতে হইবে।

৩০। আয়ের খাতসমূহ

এই আইনে ভিন্নরূপ কোনো কিছু না থাকিলে, আয়কর আরোপ এবং মোট আয় পরিগণনার জন্য, যেকোনো আয় নিম্নবর্ণিত কোনো একটি খাতে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-

(ক) চাকরি হইতে আয়;

(খ) ভাড়া হইতে আয়;

(গ) কৃষি হইতে আয়;

(ঘ) ব্যবসা হইতে আয়;

(ঙ) মূলধনি আয়;

(চ) আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়;

(ছ) অন্যান্য উৎস হইতে আয়।

৩১। আয় একীভূতকরণ

(১) এই আইনে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) উক্ত ব্যক্তি কোনো ফার্মের অংশীদার বা কোনো ব্যক্তিসংঘের সদস্য হইলে, উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের আয়ে তাহার অংশ;

(খ) উক্ত ব্যক্তির 1[উক্ত ব্যক্তি কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি হইলে, উক্ত স্বাভাবিক ব্যক্তির] স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের আয়, যদি-

(অ) উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান তাহার উপর নির্ভরশীল হন;

(আ) এইরূপ আয়ের উপর উক্ত 2[স্বাভাবিক] ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত নিয়ন্ত্রণ থাকে; বা

(ই) তিনি এইরূপ একীভূতকরণে ইচ্ছুক হন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত স্বামী বা স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পৃথক কর নির্ধারণ করা হইলে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

3[***]

৩২। চাকরি হইতে আয়

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, চাকরি হইতে আয় অর্থে নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) চাকরি হইতে প্রাপ্ত বা প্রাপ্য যেকোনো প্রকার আর্থিক প্রাপ্তি, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা;

(খ) কর্মচারী শেয়ার স্কিম হইতে অর্জিত আয়;

(গ) কর অনারোপিত বকেয়া বেতন; বা

(ঘ) অতীত বা ভবিষ্যতের কোনো নিয়োগকর্তা হইতে প্রাপ্ত যেকোনো অঙ্ক বা সুবিধা।

(২) নিম্নবর্ণিত প্রাপ্তিসমূহ চাকরি হইতে আয় এর অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

1[(ক) শেয়ারহোল্ডার পরিচালক নহে এইরূপ অন্য কোনো কর্মচারীর হৃদযন্ত্র, বৃক্ক, চক্ষু, যকৃত ও মস্তিষ্ক সংক্রান্ত অপারেশন, কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং ক্যানসার সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ;]

(খ) সম্পূর্ণরূপে এবং কেবল চাকরির দায়িত্ব পরিপালনের জন্য প্রাপ্ত এবং ব্যয়িত যাতায়াত ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতা 2[;]

3[(গ) কোম্পানি কর্তৃক গোষ্ঠী বীমা বাবদ কোনো কর্মচারীর পক্ষে বীমা কোম্পানিকে পরিশোধিত প্রিমিয়াম।]

ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,

(ক) “বেতন” অর্থ কর্মচারী কর্তৃক চাকরি হইতে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকৃতির অঙ্ক এবং নিম্নবর্ণিত বিষয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(অ) যেকোনো বেতন, মজুরি বা পারিশ্রমিক;

(আ) যেকোনো ভাতা, ছুটি ভাতা, ছুটি নগদায়ন, বোনাস, ফি, কমিশন, ওভারটাইম;

(ই) অগ্রিম বেতন;

(ঈ) আনুতোষিক, অ্যানুইটি, পেনশন বা ইহাদের সম্পূরক;

(উ) পারকুইজিট‌;

(ঊ) বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি অথবা বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি;

(খ) “বেতন বা মজুরির পরিবর্তে প্রাপ্তি” অথবা “বেতন বা মজুরির অতিরিক্ত প্রাপ্তি” অর্থে অন্তর্ভুক্ত হইবে-

(অ) চাকরির অবসানের কারণে প্রাপ্ত যেকোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(আ) ভবিষ্য তহবিল বা অন্য কোনো তহবিলে কর্মচারীর অনুদানের অংশ ব্যতিরেকে অবশিষ্ট অংশ;

(ই) চাকরির চুক্তির শর্তাবলির পরিবর্তনের ফলে প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;

(ঈ) চাকরিতে যোগদানকালে বা চাকরির অন্য কোনো শর্তের অধীন প্রাপ্ত অঙ্ক বা সুবিধাদির ন্যায্য বাজার মূল্য;

(গ) “পারকুইজিট” অর্থ নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীকে প্রদত্ত ইনসেনটিভ বোনাসসহ যেকোনো প্রকারের পরিশোধ বা সুবিধা, তবে নিম্নবর্ণিত পরিশোধসমূহ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(অ) মূল বেতন, বকেয়া বেতন, অগ্রিম বেতন, উৎসব ভাতা, ছুটি নগদায়ন ও ওভারটাইম;

(আ) স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অনুমোদিত পেনশন তহবিল, অনুমোদিত আনুতোষিক তহবিল ও অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;

4[(ই) কোম্পানি কর্তৃক গোষ্ঠী বীমা বাবদ কোনো কর্মচারীর পক্ষে বীমা কোম্পানিকে পরিশোধিত প্রিমিয়াম;]

(ঘ) “মূল বেতন” অর্থ মাসিক বা অন্য প্রকারে প্রদেয় বেতন যাহার ভিত্তিতে অন্যান্য ভাতা এবং সুবিধা নির্ধারিত হয়, তবে নিম্নবর্ণিত ভাতা বা সুবিধাদি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:-

(অ) সকল প্রকার ভাতা, পারকুইজিট, অ্যানুইটি, বোনাস ও সুবিধা; এবং

(আ) নিয়োগকর্তা কর্তৃক কর্মচারীর বিভিন্ন তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা;

(ঙ) “নিয়োগকর্তা” অর্থ যিনি নিয়োগ দান করিয়া থাকেন এবং বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করিয়া থাকেন বা নিয়োগকর্তার পক্ষে উক্ত কাজ সম্পন্নকারী ব্যক্তিও নিয়োগকর্তা হিসাবে গণ্য হইবেন।

৩৪। কর্মচারী শেয়ার স্কিম হইতে অর্জিত আয় নির্ধারণ

(১) কর্মচারী শেয়ার স্কিম অর্থ কোনো চুক্তি বা ব্যবস্থাপনা যাহার অধীন একটি কোম্পানি-

(ক) তাহার কোনো কর্মচারী বা তাহার কোনো সহযোগী 1[কোম্পানির কর্মচারী বরাবর শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার] ইস্যু করিতে পারিবে; বা

2[(খ) একটি ট্রাস্টের ট্রাস্টি বরাবর শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার ইস্যু করিতে পারিবে এবং পরবর্তীতে ট্রাস্টি ট্রাস্টের দলিল মোতাবেক উক্ত শেয়ার বা শেয়ার অর্জনের অধিকার দফা (ক) এ উল্লিখিত কর্মচারী বরাবর ইস্যু করিতে পারিবে অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তরকরত উদ্ভূত লভ্যাংশ দফা (ক) এ উল্লিখিত কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টন করিতে পারিবে।]

(২) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার প্রাপ্ত হইলে, শেয়ার প্রাপ্তির বৎসরে ক-খ নিয়মে আয় চাকরি হইতে আয়ের সহিত যোগ হইবে, যেখানে-

ক = প্রাপ্তির তারিখে শেয়ারের ন্যায্য বাজার মূল্য,

খ = শেয়ার অর্জনের ব্যয়।

(৩) উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত শেয়ার অর্জনের ব্যয় বলিতে নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহের যোগফল বুঝাইবে, যথা:-

(ক) কর্মচারী শেয়ার অর্জনে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন;

(খ) কর্মচারী শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে যদি কোনো মূল্য পরিশোধ করিয়া থাকেন।

(৪) কর্মচারী শেয়ার স্কিমের অধীন শেয়ার অর্জনের প্রাপ্ত অধিকার বা সুযোগ কর্মচারী বিক্রয় বা হস্তান্তর করিলে চাকরি হইতে আয়ের সহিত ক-খ নিয়মে আয় যোগ হইবে, যেখানে-

ক = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য,

খ = শেয়ার অর্জনের অধিকার বা সুযোগ আদায়ে পরিশোধিত মূল্য।

৩৫। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—

(১) “গৃহসম্পত্তি” অর্থে যেকোনো গৃহসম্পত্তি, ভবন বা দালানসহ নিম্নবর্ণিত পরিসম্পদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা—

(ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

(খ) গৃহসম্পত্তি যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ভবন বা দালান ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:—

(অ) কোনো ভবন যাহা সম্পূর্ণরূপে গুদাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়, বা

(আ) কোনো কারখানা ভবন যাহা প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ভাড়া প্রদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ভাড়া প্রদান করা হয়;

(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান, তবে স্বীয় মালিকানাধীন হউক বা না হউক, কোনো তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, কোনো উন্নয়নমূলক ফাইন্যান্স কোম্পানি অথবা মুদারাবা বা লিজিং কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৩) “সম্পত্তি” অর্থ গৃহসম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায়।

৩৫। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—

(১) “গৃহসম্পত্তি” অর্থে যেকোনো গৃহসম্পত্তি, ভবন বা দালানসহ নিম্নবর্ণিত পরিসম্পদও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা—

(ক) আসবাবপত্র, ফিক্সার, ফিটিংস যাহা উক্ত গৃহের অবিচ্ছেদ্য অংশ; এবং

(খ) গৃহসম্পত্তি যে ভূমির উপর স্থাপিত উক্ত ভূমি:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ভবন বা দালান ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা:—

(অ) কোনো ভবন যাহা সম্পূর্ণরূপে গুদাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়, বা

(আ) কোনো কারখানা ভবন যাহা প্ল্যান্ট ও মেশিনারি ভাড়া প্রদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে ভাড়া প্রদান করা হয়;

(২) “ভাড়া প্রদান” অর্থ মালিকানা বা স্বত্ব ত্যাগ ব্যতিরেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদান, তবে স্বীয় মালিকানাধীন হউক বা না হউক, কোনো তফসিলি ব্যাংক, বিনিয়োগ ব্যাংক, কোনো উন্নয়নমূলক ফাইন্যান্স কোম্পানি অথবা মুদারাবা বা লিজিং কোম্পানি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে ভাড়া প্রদান অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(৩) “সম্পত্তি” অর্থ গৃহসম্পত্তি, জমি, আসবাবপত্র, ফিক্সার, কারখানা ভবন, ব্যবসার আঙ্গিনা, যন্ত্রপাতি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও মূলধনি প্রকৃতির অন্য কোনো ভৌত পরিসম্পদ, যাহা ভাড়া প্রদান করা যায়।

৩৬। ভাড়া হইতে আয়

(১) কোনো ব্যক্তির কোনো সম্পত্তির ভাড়া প্রদান হইতে অর্জিত মোট ভাড়ামূল্য হইতে এই অধ্যায়ে বর্ণিত সর্বমোট অনুমোদনযোগ্য খরচ বাদ দিলে যাহা অবশিষ্ট থাকিবে, উহা হইবে উক্ত সম্পত্তি হইতে উক্ত ব্যক্তির ভাড়া হইতে আয়।

(২) কোনো ব্যক্তির সম্পত্তির কোনো অংশ উক্ত ব্যক্তির স্বীয় ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইলে বা উহা হইতে প্রাপ্ত আয় উক্ত ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় খাতে পরিগণনাযোগ্য হইলে, উক্ত অংশের জন্য এই ধারা প্রযোজ্য হইবে না।

(৩) হোস্টেল, হোটেল, মোটেল বা রিসোর্টের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়ার প্রকৃতি, কারবার, বাণিজ্য বা ব্যবসা নির্বিশেষে যে ধরনেরই হউক না কেন, উক্ত সম্পত্তি হইতে অর্জিত আয় “ভাড়া হইতে আয়” খাতের অধীন পরিগণনা করিতে হইবে।

৩৭। মোট ভাড়ামূল্য পরিগণনা

(১) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-

ক= (খ+গ+ঘ)-ঙ, যেখানে-

ক= মোট ভাড়ামুল্য,

খ= গৃহসম্পত্তির বার্ষিক মূল্য,

গ= উক্ত আয়বর্ষে উক্ত গৃহসম্পত্তি ব্যবহার সূত্রে প্রাপ্ত সেলামী বা প্রিমিয়াম, ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত, অগ্রিম ব্যতীত অন্য যেকোনো অংক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যাহা খ এ উল্লিখিত অংকের অতিরিক্ত,

ঘ= গৃহসম্পত্তির ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত যেকোনো প্রকারের সার্ভিস চার্জ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ বা অন্য কোনো অর্থ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন,

ঙ= শূন্যতা ভাতা যাহা কেবল বিদ্যুৎ বিল উপস্থাপন সাপেক্ষে প্রমাণিত হইলে অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(২) গৃহসম্পত্ত

ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির মোট ভাড়ামূল্য নিম্নবর্ণিত সূত্রানুযায়ী পরিগণিত হইবে, যথা:-

ক= (খ+গ), যেখানে-

ক= মোট ভাড়ামূল্য,

খ= গৃহসম্পত্তি ব্যতীত অন্যান্য সম্পত্তির বার্ষিক মূল্য,

গ= অন্য কোনোভাবে উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার হইতে অর্জিত আয় এবং উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার সূত্রে প্রাপ্ত সেলামী বা প্রিমিয়াম, ফেরতযোগ্য নিরাপত্তা জামানত, অগ্রিম ব্যতীত অন্য যেকোনো অংক বা কোনো সুবিধার অর্থমূল্য, যাহা খ এ উল্লিখিত অংকের অতিরিক্ত।]

৩৯। বিশেষ ভাড়া হইতে আয় পরিগণনা

(১) ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (ঙ) অনুযায়ী কোনো সংবিধিবদ্ধ বিয়োজনের কোনো অংশ অব্যয়িত বলিয়া দাবি করিলে, উহা বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) অ্যাকাউন্টিং সমন্বয়ের ক্ষেত্রসমূহ ব্যতীত, ধারা ৩৮ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অননুমোদিত বিয়োজনসমূহ বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

2[(৩) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদানের বিপরীতে ব্যাংক ট্রান্সফার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম বাবদ গৃহীত অর্থের সর্বমোট পরিমাণ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে, উক্তরূপে গৃহীত অর্থ উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে,

(অ) যেইক্ষেত্রে সমন্বয়যোগ্য অগ্রিমের অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়, সেইক্ষেত্রে অগ্রিম গ্রহণের বৎসরের পরবর্তী পাঁচ বৎসর অথবা চুক্তির মেয়াদ, যাহা কম হইবে, উহার মধ্যে উক্ত অর্থ সমন্বয় করিতে হইবে;

(আ) গৃহীত সমন্বয়যোগ্য অগ্রিম বা তাহার কোনো অংশ উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রম হইবার পর অসমন্বয়কৃত থাকিলে, উক্ত অসমন্বয়কৃত অঙ্ক সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।]

3[(৪) কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক স্বীয় মালিকানাধীন কোনো গৃহসম্পত্তি বা অন্য কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদানের বিপরীতে গৃহীত অসমন্বয়যোগ্য অঙ্ক, উহা যেই নামেই অভিহিত হোক না কেন, উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, করদাতার ইচ্ছানুযায়ী উক্ত অর্থকে এমনভাবে বণ্টন করা যাইবে, যাতে কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উক্ত অর্থ প্রাপ্তির বৎসর এবং পরবর্তী চার বৎসরে সমান অংশে তাহা গণ্য করা যায়:

তবে আরও শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে করদাতা কর্তৃক উক্ত অর্থ বা তাহার কোনো অংশ পরবর্তী কোন আয়বর্ষে ফেরত প্রদানকৃত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ফেরত প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতার “ভাড়া হইতে আয়” পরিগণনার ক্ষেত্রে বিয়োজনযোগ্য হইবে।

(৫) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, গৃহসম্পত্তি ভিন্ন অন্য কোনো সম্পত্তির ভাড়া হইতে আয় এর ক্ষেত্রে ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিশেষ ভাড়া হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত আয়ের বিপরীতে কোনো প্রকারের বিয়োজন, ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা ও তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর নিয়মিত করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে।]

৪০। কৃষি হইতে আয়

(১) কোনো ব্যক্তির কৃষি সম্পর্কিত কার্যাবলি হইতে অর্জিত আয় কৃষি হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে।

(২) কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াকৃত চা এবং রাবার এর বিক্রয়লব্ধ অর্থের ৪০% (চল্লিশ শতাংশ) 1[ব্যবসা হইতে আয় খাতে প্রাপ্তি] এবং ৬০% (ষাট শতাংশ) 2[কৃষি হইতে আয় খাতে প্রাপ্তি] বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) কৃষি অর্থে যেকোনো প্রকার উদ্যান পালন, পশু-পাখি পালন, ভূমির প্রাকৃতিক ব্যবহার, হাস-মুরগি ও মাছের খামার, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর খামার, নার্সারি, ভূমিতে বা জলে যেকোনো প্রকারের চাষাবাদ, ডিম-দুধ উৎপাদন, কাঠ, তৃণ ও গুল্ম উৎপাদন, ফল, ফুল ও মধু উৎপাদন এবং বীজ উৎপাদন অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৪১। বিশেষ কৃষি আয়

(১) ধারা ৪০ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ কৃষি আয় গণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) কোনো পরিসম্পদ করদাতার ধারা ৪০ এর কৃষিকাজে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হইলে তাহা নিম্নবর্ণিতভাবে পরিগণিত হইবে, যথা:-

(৩) কোনো আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক তাহার কৃষিকাজে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ উক্ত পরিসম্পদের অবলোপিত মূল্যের অধিক হইলে উক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিতভাবে কৃষি হইতে আয় খাতে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

ক = পরিসম্পদে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ,

খ= পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং

গ= তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,

-কে বুঝাইবে।

(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ‘কৃষি হইতে আয়’ খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

1[(৬) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ কৃষি আয় হিসাবে গণ্য হইবে।]

৪২। কৃষি হইতে আয় খাতে আয় গণনার ক্ষেত্রে অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনসমূহ

(১) এই আইনের অধীন, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির কৃষি হইতে আয় খাতে করযোগ্য আয় গণনার ক্ষেত্রে, উক্ত বৎসরে করদাতা কর্তৃক, মূলধনি ব্যয় বা ব্যক্তিগত ব্যয় ব্যতীত, সর্ম্পূণরূপে এবং কেবল কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যয়িত অর্থ বিয়োজন হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ সাধারণ বিয়োজন হিসাবে গণ্য হইবে, যথা:-

(ক) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার উপর পরিশোধিত যেকোনো প্রকার কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা;

(খ) কৃষির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় এবং চাষাবাদ ব্যয়;

(গ) কৃষির উদ্দেশ্যে গৃহীত ঋণের পরিশোধযোগ্য সুদ বা মুনাফা;

(ঘ) কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং চাষাবাদের জন্য পালিত গবাদিপশুর লালন-পালন, তৎসংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াকরণ বা পরিবহণ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ঙ) ভূমির বা আঙ্গিনার ক্ষতিপূরণে অথবা ভূমি বা আঙ্গিনা হইতে উৎপাদিত ফসল বা পণ্যের ক্ষতিপূরণে অথবা গবাদিপশু পালনে নিরাপত্তার লক্ষ্যে পরিশোধযোগ্য বিমার প্রিমিয়াম;

(চ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা অন্য কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন হইতে কৃষিকে রক্ষার নিমিত্ত ব্যয়িত অর্থ;

(ছ) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা অনুযায়ী নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ-

(অ) করদাতা কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কৃষিতে ব্যবহৃত সম্পদের অবচয়;

(আ)সংশ্লিষ্ট কৃষিকাজে ব্যবহৃত স্পর্শাতীত সম্পদের অ্যামোর্টাইজেশন;

(জ) যেইক্ষেত্রে করদাতার কৃষিকাজে ব্যবহৃত পশুর মৃত্যু হইয়াছে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হইয়া গিয়াছে সেইক্ষেত্রে উক্ত পশুর প্রকৃত ক্রয়মূল্য এবং, ক্ষেত্রমত, সেই পশু বিক্রয় বা তাহার মাংস বিক্রয় হইতে প্রাপ্ত অর্থ, এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক;

(ঝ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কৃষি সম্পর্কিত কোনো ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়, যাহা মূলধনি প্রকৃতির নহে;

(ঞ) বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে এইরূপ কোনো স্কিমের সহিত সম্পর্কিত বিষয়ের উপর বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে নির্বাহকৃত কোনো ব্যয়;

(ট) কোনো কৃষি সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা খাতে নির্বাহকৃত ব্যয় বা এইরূপ কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনায় নির্বাহকৃত ব্যয় যাহার দ্বারা গবেষণাটি সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে করদাতার কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশে পরিচালিত হইয়াছে।

(২) এই ধারার অধীন কোনো ব্যয়ের যতটুকু অংশ কৃষি হইতে আয় এর সহিত সম্পর্কিত কেবল ততটুকু অংশই অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসাবে গণ্য হইবে।


৪৪। কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না

(১) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ সকল ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলির পরিপালন না হইলে এই অধ্যায়ের অধীন দাবিকৃত বিয়োজন অনুমোদিত হইবে না।

(২) ধারা ৫৫ এ বর্ণিত বিধানাবলি এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন বিধানাবলি এই অধ্যায়ের সহিত সম্পর্কিত।

৪৫। ব্যবসা হইতে আয়

করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ ব্যবসা হইতে আয় হিসাবে শ্রেণিবদ্ধ হইবে, যথা:-

(ক) আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত বা পরিচালিত বলিয়া গণ্য ব্যবসায়ের কোনো লাভ ও মুনাফা;

(খ) কোনো ব্যবসায় বা পেশাজীবী সংগঠন বা এইরূপ কোনো সংগঠন কর্তৃক উহার সদস্যদের নির্দিষ্ট সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত কোনো আয়;

(গ) কোনো ব্যক্তির অতীত, বর্তমান বা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বা সম্পর্কের কারণে উদ্ভূত কোনো সুবিধার ন্যায্য বাজার মূল্য, তাহা অর্থে রূপান্তরযোগ্য হউক বা না হউক;

(ঘ) কোনো ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, মুদারাবা ব্যবস্থাপনা কোম্পানিসহ, কর্তৃক উদ্ভূত কোনো ব্যবস্থাপনা ফি;

(ঙ) নিজের অথবা অন্যের মালিকানাধীন কোনো পরিসম্পদ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট লীজ প্রদানের বিপরীতে লীজদাতা ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রাপ্য কোনো অর্থ;

(চ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে মুদ্রা বিনিময় হইতে নগদায়িত লাভ (realized gain);

(ছ) বন্ধ হইয়া যাওয়া কোনো ব্যবসা হইতে আয়বর্ষে গৃহীত কোনো আয়।

৪৬। ব্যবসা হইতে আয়ের বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ

(১) ধারা ৪৫ এর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বিশেষ ক্ষেত্রে, ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) করদাতার যে ব্যবসায়ের জন্য আয় পরিগণিত হইতেছে সেই ব্যবসায়ে ব্যবহৃত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয়, তাহা হইলে উক্ত বিক্রয়লব্ধ আয়ের পরিমাণ হইবে নিম্নরূপ, যথা

(৩) করদাতার ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ পরিত্যক্ত, নিশ্চিহ্ন বা ধ্বংস হইবার কারণে কোনো বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ হিসাবে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে তাহার পরিমাণ যদি উক্ত সম্পদের অবলোপিত মূল্যের চাইতে অধিক হয় তাহা হইলে এই ক্ষেত্রে আয়ের অঙ্ক হইবে নিম্নরূপ, যথা

(৪) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণির কলাম (২) অনুসারে বিক্রয়লব্ধ অর্থ বা, ক্ষেত্রমত, পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এবং অবলোপিত মূল্যের পার্থক্য ঋণাত্মক হইলে ফলাফল ব্যবসা হইতে আয় খাতে ব্যয়িত বলিয়া গণ্য হইবে এবং উহা অনুমোদিত সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে।

(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর সারণীতে বর্ণিত-

ক = পরিসম্পদের বিপরীতে বিমা, স্যালভেজ বা ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ 2[বা বিক্রয়লব্ধ অর্থ],

খ = পরিসম্পদের অর্জন মূল্য, এবং

গ = তৃতীয় তফসিলের অধীন অবচয় অনুমোদনের পর পরিসম্পদের গণনাকৃত অবলোপিত মূল্য,

-কে বুঝাইবে।

(৬) যদি কোনো রপ্তানিকারক করদাতা সরকার কর্তৃক তাহার অনুকূলে বণ্টনকৃত রপ্তানি কোটার সম্পূর্ণ বা আংশিক কোনো আয়বর্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হস্তান্তর করিয়া থাকেন, তাহা হইলে এইরূপ হস্তান্তরিত কোটার আনুপাতিক রপ্তানি মূল্য উক্ত আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

3[***]

(৮) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় যদি করদাতার কোনো ট্রেডিং দায় হিসাবে নেওয়া হয় এবং–

(ক) পরবর্তী কোনো আয় উক্ত আয়বর্ষে করদাতা যদি ট্রেডিং দায় বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হয় তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে;

(খ) উক্ত ট্রেডিং দায় যেই আয়বর্ষে হিসাবে নেওয়া হইয়াছে তাহা শেষ হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে যদি ট্রেডিং দায় বা তাহার কোনো অংশ অপরিশোধিত থাকে তাহা হইলে উক্ত অপরিশোধিত ট্রেডিং দায় উক্ত ৩ (তিন) বৎসর সমাপ্তির পরবর্তী আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, আয় হিসাবে গণ্য হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্রেডিং দায় যদি পরবর্তী কোনো বৎসরে পরিশোধ করা হয় তাহা হইলে পরিশোধ সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সেই অঙ্ক করদাতার আয় পরিগণনায় বাদ যাইবে।

(৯) যদি কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন আয় পরিগণনায় লোকসান, কুঋণ বা কোনো খরচ বিয়োজিত হয় এবং পরবর্তী কোনো আয়বর্ষে করদাতা যদি সেই বিয়োজিত লোকসান, কুঋণ বা খরচ বাবদ কোনো সুবিধা প্রাপ্ত হন তাহা হইলে সেই সুবিধার অর্থমূল্য সুবিধা প্রাপ্তির আয়বর্ষে করদাতার ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

4[(১০) ধারা ১৮০ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে যে আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল হইয়াছে তাহার পরবর্তী ৫ (পাঁচ) আয়বর্ষের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রদর্শিত প্রারম্ভিক মূলধনের যেকোনো পরিমাণের ঘাটতি ব্যবসা সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে “ব্যবসা হইতে আয়” হিসাবে গণ্য হইবে।]

(১১) কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কুঋণ বা সন্দেহজনক ঋণ হিসাবে শ্রেণিবিন্যাসকৃত ঋণের উপর সুদ বা মুনাফা আয় যেই আয়বর্ষে লাভ ক্ষতির হিসাবে ক্রেডিট প্রদান করা হইবে, অথবা যেই আয়বর্ষে প্রকৃতভাবে গৃহীত হইবে, দুইয়ের মধ্যে যাহা আগে হয় সেই আয়বর্ষে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা হইতে আয় শ্রেণির আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হইবে।

(১২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) বিক্রয়ের পূর্বে পরিসম্পদটি যে ব্যবসায়ে ব্যবহৃত হইয়াছে, সেই ব্যবসা পরিসম্পদ বিক্রয়-সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিচালিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;

(খ) করদাতার ব্যবসায় ব্যবহৃত হইবার পর কোনো পরিসম্পদ বাংলাদেশের বাহিরে রপ্তানি বা স্থানান্তরিত হইলে, উক্ত রপ্তানির বা স্থানান্তরের তারিখই পরিসম্পদ বিক্রয়ের তারিখ বলিয়া গণ্য হইবে এবং সম্পদের 5[রপ্তানি মূল্যকে] উহা বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ বলিয়া বিবেচনা করা হইবে।

কতিপয় ব্যবসায়ের মুনাফা পরিগণনা

নিম্নবর্ণিত সারণির কলাম (২) এ উল্লিখিত ব্যবসায়ের মুনাফা সারণির কলাম (৩) এ বর্ণিত তফসিলের বিধান অনুসারে পরিগণনা করা হইবে, যথা:-

৪৮। ফটকা ব্যবসাকে পৃথকভাবে বিবেচনা

কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ফটকা কারবার পরিচালিত হইলে তাহা উক্ত ব্যক্তির অন্যান্য ব্যবসা হইতে পৃথক ও স্বতন্ত্র ব্যবসা হিসাবে বিবেচিত হইবে।

৪৯। ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য সাধারণ বিয়োজনসমূহ।-

এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে প্রত্যেক স্বতন্ত্র এবং ভিন্ন ব্যবসায়ের জন্য নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ সাধারণ বিয়োজনের অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) কাঁচামাল, মজুদ, ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ও ব্যবসায়ে ব্যবহারের নিমিত্ত পণ্য ক্রয় বাবদ ব্যয় এবং কোনো অবলোপিত মজুদ ব্যয়;

(খ) এই আইন ও দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন পরিশোধিত নহে, তবে ব্যবসার উদ্দেশ্যে পরিশোধিত এইরূপ শুল্ক-করাদি, পৌর কর, স্থানীয় কর, ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা ও সরকারি ফি;

(গ) ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত ভূমি বা আঙ্গিনার জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয়;

(ঘ) এই আইনের অধীন চাকরি হইতে আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়, কল্যাণ ব্যয় বা পারিশ্রমিক;

(ঙ) মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যয়;

(চ) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে 1[ও কর্মীদের জন্য] কৃত ও পরিশোধিত বিমা প্রিমিয়াম;

(ছ) বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ অন্যান্য পরিষেবা ব্যয়;

(জ) পণ্য পরিবহণ, ক্লিয়ারিং এবং ফরওয়ার্ডিং চার্জ;

(ঝ) বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কমিশন, দালালি, ডিসকাউন্ট বা ওয়ারেন্টি চার্জ প্রকৃতির ব্যয়;

(ঞ) বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা ব্যয়;

(ট) কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয়;

(ঠ) বিক্রয় প্রতিনিধিদের সম্মেলন, হোটেল ও আবাসন বাবদ ব্যয়;

(ড) যাতায়াত ও ভ্রমণ বাবদ ব্যয়;

(ঢ) ইন্টারনেট সেবা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ণ) আইনি সেবা, নিরীক্ষা সেবা ও অন্যান্য পেশাদারী সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত ব্যয়;

(ত) আপ্যায়ন ও অতিথিশালা সংক্রান্ত ব্যয়;

(থ) তৃতীয় তফসিল সাপেক্ষে, বৈদেশিক মুদ্রার নগদায়িত বিনিময় ক্ষতি;

(দ) কোনো ক্লাব বা বাণিজ্যিক সমিতিতে প্রবেশ ফি-সহ তাহাদের সুবিধাদির ব্যবহারের জন্য চাঁদা;

(ধ) সরকার কর্তৃক স্পন্সরকৃত কোনো ট্রেড ডেলিগেশনের সদস্য হিসাবে বিদেশে সফর সম্পর্কিত কোনো নির্বাহকৃত ব্যয়;

(ন)রয়্যালটি, কারিগরি ফি, হেড অফিস ব্যয়;

2[(প) শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৩৪ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) অনুযায়ী অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ২৫ নং আইন) এর ধারা ১৪ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদেয় অর্থ যাহা প্রদর্শিত নীট ব্যবসায়িক মুনাফার ৫% (পাঁচ শতাংশ) এর অধিক নহে;]

(ফ) সম্পূর্ণ ও একান্তভাবে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে নির্বাহকৃত অন্যান্য ব্যয়।

৫০। ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিশেষ বিয়োজনসমূহ

(১) নিম্নবর্ণিত ব্যয়সমূহ তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত অনুমোদিত সীমা ও শর্ত অনুযায়ী বিয়োজনযোগ্য হইবে, যথা:-

(ক) সাধারণ অবচয় ভাতা;

(খ) প্রারম্ভিক অবচয় ভাতা;

(গ) ত্বরান্বিত অবচয় ভাতা;

(ঘ) অ্যামোর্টাইজেশন ভাতা; এবং

(ঙ) গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয়।

(২) তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত কোনো পরিসম্পদ যদি কোনো আয়বর্ষে বিক্রয় করা হয় এবং সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ যদি অবলোপিত মূল্য অপেক্ষা কম হয়, তাহা হইলে করদাতা কর্তৃক বিয়োজন দাবি সাপেক্ষে, অবলোপিত মূল্য এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থের পার্থক্যের সমপরিমাণ অঙ্ক।

(৩) ধারা ৫১ অনুযায়ী অনুমোদিত কুঋণ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।

(৪) ধারা ৫২ ও ৫৩ অনুযায়ী অনুমোদিত সুদ ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় গণনার ক্ষেত্রে বিয়োজিত হইবে।

৫১। কুঋণ ব্যয় অনুমোদন

(১) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-

(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;

(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হইয়া থাকে;

(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।

(২) ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কুঋণ ব্যয় অনুমোদনযোগ্য হইবে, যদি-

1[(ক) কুঋণ বা কুঋণের অংশ International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) ও বাংলাদেশে প্রযোজ্য আইন, বিধি ও প্রবিধি অনুযায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অনাদায়ী হিসাবে চূড়ান্ত হয় এবং ব্যবসায়িক হিসাবের খাতায় অবলোপিত হিসাবে প্রদর্শিত হয়;]

(খ) কুঋণ হিসাবে অবলোপিত অর্থ অবলোপনের পূর্বে আদায়ের নিমিত্ত সকল প্রকার যৌক্তিক পদক্ষেপ গৃহীত হয়;

(গ) কুঋণ বা কুঋণের অংশ কোনো আয়বর্ষে আয় নির্ধারণে আয় হিসাবে পরিগণিত হইয়া থাকে।

৫২। সুদ বা মুনাফার বিশেষ বিয়োজন পরিগণনা

(১) ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে ধারকৃত কোনো মূলধনের উপর কোনো সুদ পরিশোধ বা, ক্ষেত্রমত, কোনো মুনাফা ভাগের অর্থ পরিশোধ করা হইলে তাহা ব্যবসায়িক ব্যয় হিসাবে অনুমোদিত হইবে।

(২) যদি দেখা যায় যে, ধারকৃত অর্থের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হইয়াছে বা ধারকৃত অর্থে অর্জিত সম্পদের কোনো অংশ ব্যবসায়ের বাহিরে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হইয়াছে যেখানে অর্থলগ্নী করা স্থানান্তরকারীর ব্যবসা নহে, তাহা হইলে উক্ত অর্থ বা সম্পদের যে অংশ ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহার করা হইয়াছে সেই অংশের আনুপাতিক হারে সুদ বা মুনাফা ব্যয় অনুমোদিত হইবে।

৫৪। বিয়োজন অনুমোদনের সাধারণ শর্তাবলি

(১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন এইরূপ কোনো ব্যয় যদি বিয়োজন হিসাবে অনুমোদিত হয় যাহা সর্ম্পূণ বা আংশিকভাবে কোনো পরিসম্পদের প্রতিনিধিত্ব করে তাহা হইলে উক্ত পরিসম্পদ বাবদ একই আয়বর্ষে আর কোনো বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য হইবে না।

(২) ধারা ৪৯ এর অধীন কোনো ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনা করা হইবে এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা বিবেচনার ক্ষেত্রে আমলে লওয়া হইবে, যথা:-

(ক) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় ব্যবসা হইতে আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়;

(খ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় রাজস্ব প্রকৃতির হয়; এবং

(গ) যদি নির্বাহকৃত ব্যয় সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তিসংগত হয়।

৫৫। কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য না হওয়া

এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত বিয়োজনসমূহ অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যথা:-

(ক) যেকোনো প্রকারের ব্যয় বা পরিশোধ যাহার ক্ষেত্রে অংশ ৭ এর বিধানাবলি যথাযথভাবে পরিপালন করা হয় নাই;

(খ) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ কর্তৃক ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যকে প্রদত্ত সুদ, বেতন, কমিশন বা পারিতোষিক;

(গ) কোনো কোম্পানি কর্তৃক 1[স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারকে] কোনো কমিশন বা ডিসকাউন্ট প্রদান;

(ঘ) ধারা ৩২ এর ব্যাখ্যাতে সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোনো কর্মচারীকে প্রদত্ত 2[২০ (বিশ)] লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোনো অঙ্ক:

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সরকারি সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে গঠিত মজুরি বোর্ডের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কর্মচারীদের অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না;

(ঙ) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি সেবা ফি, কারিগরি কৌশল বাবদ ফি, কারিগরি সহায়তা ফি বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ব্যবহার বাবদ নির্বাহকৃত সমপ্রকৃতির অন্য যেকোনো ফি বাবদ মোট ব্যয়সমষ্টির ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত 3[ব্যবসায়িক টার্নওভার এর ৬% (ছয় শতাংশ) অথবা নীট ব্যবসায় মুনাফার ১৫% (পনের শতাংশ), যেটি কম,] এর অতিরিক্ত ব্যয়;

(চ) বাংলাদেশে নিবন্ধিত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানি কর্তৃক নির্বাহকৃত হেড অফিস অথবা ইন্ট্রা-গ্রুপ ব্যয়, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত নীট ব্যবসায় মুনাফার ১০% (দশ শতাংশ) এর অতিরিক্ত ব্যয়;

(ছ) ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ সম্পর্কিত ব্যয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক বিবরণীতে প্রদর্শিত ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অতিরিক্ত অঙ্ক:

তবে শর্ত থাকে যে, করদাতা সরকারকে কোনো সেবা প্রদানের কাজে বিদেশ ভ্রমণ করিলে সেইক্ষেত্রে এই সীমা প্রযোজ্য হইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, এই দফায় অধীন পরিগণিত অতিরিক্ত অঙ্কের সমর্থনে প্রমাণাদি উপস্থাপন করিলে এবং উহার বাণিজ্যিক যৌক্তিকতা প্রমাণিত হইলে এই দফায় প্রদত্ত সীমা প্রযোজ্য হইবে না;

(জ) আপ্যায়ন ব্যয় হিসাবে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-

(অ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকার ৪% (চার শতাংশ); এবং

(আ) আপ্যায়ন ব্যয় বিয়োজন ব্যতীত নিরূপিত ব্যবসায় আয়ের প্রথম ১০ (দশ) লক্ষ টাকা বাদে পরবর্তী অঙ্কের ২% (দুই শতাংশ);

(ঝ) ফ্রি স্যাম্পল বিতরণে নিম্নবর্ণিত অঙ্কের অতিরিক্ত অঙ্ক-

(অ) ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ২% (দুই শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(আ) খাদ্য, প্রসাধনী ও সুগন্ধি শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ১% (এক শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক, তবে ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;

(ই) অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে-

(১) ব্যবসায়িক টার্নওভারের ৫ (পাঁচ) কোটি টাকা পর্যন্ত ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে;

(২) ব্যবসায়িক টার্নওভার ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার অধিক কিন্তু ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক নহে এইরূপ ক্ষেত্রে ০.২৫% (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ শতাংশ) হারে;

(৩) ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক এইরূপ ক্ষেত্রে ০.১% (শূন্য দশমিক এক শতাংশ) হারে;

(ঞ) বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) এর অধিক অঙ্ক;

(ট) কর্মচারীর চাকরি হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত এইরূপ কোনো অর্থ যদি ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়;

(ঠ) কোনো পরিশোধ যাহা ভাড়া হইতে আয় বলিয়া বিবেচিত তাহা ব্যাংকিং মাধ্যমে পরিশোধ না হইয়া অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধ হইয়া থাকিলে উক্ত পরিশোধিত অর্থ;

4[(ড) দফা (ট), (ঠ) এবং কাঁচামাল ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার ব্যয় বাবদ মোট পরিশোধের ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো মাধ্যমে পরিশোধিত হইয়া থাকিলে অন্য মাধ্যমে পরিশোধিত মোট অঙ্কের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ);]

5[***]

(ণ) ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৩) এর দফা 6[২৪, ২৬, ২৭, ৩৩, ৩৬ ও ৩৭] অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে বাধ্য এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত কোনো অঙ্ক, যদি অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলে ব্যর্থ হয় 7[:]

8[তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৪২ এর বিধানাবলি পরিপালন সাপেক্ষে এই দফার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]

(ত)মূলধনি প্রকৃতির কোনো ব্যয় কিংবা করদাতার ব্যক্তিগত কোনো ব্যয়;

(থ) 9[কোনো বিয়োজন বা কোনো দায়ের বিপরীতে সৃষ্ট কোনো বিয়োজন] যাহা সুস্পষ্টভাবে নিরূপিত নহে;

(দ) ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের সহিত সম্পর্কিত নহে এইরূপ সকল প্রকার ব্যয়;

(ধ) International Financial Reporting Standard মোতাবেক কোনো পরিসম্পদের Right of Use বাবদ দাবিকৃত কোনো অবচয় ভাতা ও সুদ বিয়োজন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে ব্যবসার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত 10[পরিসম্পদের] জন্য পরিশোধযোগ্য ভাড়া, উন্নয়ন ও সংরক্ষণ ব্যয় অনুমোদন করিতে হইবে;

(ন) ধারণাগত পরিসম্পদ অনিষ্টজনিত ক্ষতি (impairment loss);

11[(প) এই আইনে অনুমোদন গ্রহণের বিধান রহিয়াছে কিন্তু অনুমোদন গ্রহণ করা হয় নাই এইরূপ কোনো তহবিলে প্রদত্ত অর্থ;]

(ফ) নির্ধারিত পদ্ধতিতে হিসাবরক্ষণের বিধান পরিপালন না হইলে প্রমাণকহীন সকল খরচ।

ব্যাখ্যা।– এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(অ) “নীট ব্যবসায় মুনাফা” অর্থ কোনো সত্তা কর্তৃক সরাসরি পরিচালিত ব্যবসায়িক মুনাফা, তবে কোনো সাবসিডিয়ারি, অ্যাসোসিয়েট বা জয়েন্ট ভেঞ্চার হইতে অর্জিত মুনাফা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(আ)“প্রচারণামূলক ব্যয়” অর্থ ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে কোনো বস্তু, অর্থ বা অন্য কোনো প্রকারের সুবিধার প্রদানের বিপরীতে দাবিকৃত ব্যবসায়িক খরচ দাবি, তবে বিজ্ঞাপন ব্যয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৫৬। বিশেষ ব্যবসা আয় পরিগণনা

(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৫ এর দফা (ধ) ও (ন) এর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য দফার অধীন অননুমোদিত সকল ব্যয় বিশেষ ব্যবসা আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(২) এই অধ্যায়ের অধীন “বিশেষ ব্যবসা আয়” বা “ব্যবসা হইতে আয়” এর বিশেষ ক্ষেত্রসমূহ হিসাবে গণ্য কোনো আয়ের বিপরীতে কোনো প্রকারের ব্যয়, লোকসানের সমন্বয় বা জের টানা এবং তৃতীয় তফসিলের অধীন কোনো ভাতা অনুমোদিত হইবে না এবং এইরূপ আয়ের উপর নিয়মিত করহারে করদায় নির্ধারিত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, হ্রাসকৃত কর হার প্রযোজ্য হয় এইরূপ ব্যক্তির ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫ এর দফা (ক) এর ক্ষেত্র ব্যতীত উপ-ধারা (১) এর অধীন গণ্য বিশেষ ব্যবসা আয়ের উপর উক্তরূপ হ্রাসকৃত হারে করদায় নির্ধারিত হইবে।]

৫৭। মূলধনি আয়

মূলধনি পরিসম্পদের মালিকানা হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত মুনাফা ও লাভ মূলধনি আয় হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, International Accounting Standards (IAS) বা International Financial Reporting Standards (IFRS) অনুযায়ী ন্যায্য বাজার মূল্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া কোনো পরিসম্পদ যাহা প্রকৃত অর্থে হস্তান্তরিত হয় নাই, উহা হইতে উদ্ভূত কোনো ধারণাগত লাভ বা মুনাফা মূলধনি আয় হিসাবে পরিগণিত হইবে না।

৫৮। মূলধনি আয় পরিগণনা

(১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো ব্যক্তির মূলধনি আয় হইবে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য এবং উক্ত পরিসম্পদের অর্জন মূল্যের পার্থক্য।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য বলিতে কোনো পরিসম্পদের উন্মুক্ত বাজারে বিক্রয় বা হস্তান্তর মূল্য হইবে ‘ক’ এবং ‘খ’ এর মধ্যে যাহা অধিক, যেখানে-

ক = পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে প্রাপ্ত বা উপচিত অর্থ; এবং

খ = হস্তান্তরের তারিখে পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য;

(খ) “পরিসম্পদের অর্জন মূল্য” বলিতে-

(অ) কোনো পরিসম্পদের অর্জন মূল্য হইবে নিম্নবর্ণিত খরচসমূহের সমষ্টি-

(১) এইরূপ কোনো খরচ যাহা কেবল উক্ত পরিসম্পদের স্বত্ব হস্তান্তরের সহিত সম্পর্কিত;

(২) পরিসম্পদের ক্রয়মূল্য; এবং

(৩) ধারা ৩৮, ৪২, ৪৯, ৫০ বা ৬৪ অনুযায়ী অনুমোদিত খরচ ব্যতীত উক্ত পরিসম্পদ উন্নয়নের খরচ, যদি থাকে;

(আ) যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারি উক্ত পরিসম্পদ নিম্নবর্ণিতভাবে অর্জন করিয়াছেন-

(১) কোনো উপহার, দান বা উইলের অধীন;

(২) সাকসেশন, উত্তরাধিকার বা পরম্পরাক্রমে;

(৩) প্রত্যাহারযোগ্য বা অপ্রত্যাহারযোগ্য কোনো ট্রাস্টের হস্তান্তরের অধীন;

(৪) কোনো কোম্পানি অবসায়নের জন্য মূলধনি পরিসম্পদের কোনো বিতরণের মাধ্যমে; বা

(৫) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ বা হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের বিভাজনের ক্ষেত্রে মূলধনি পরিসম্পদের বিতরণের মাধ্যমে,

সেইক্ষেত্রে হস্তান্তরকারী কর্তৃক উক্ত পরিসম্পদের মালিকানা অর্জনের তারিখের ন্যায্য বাজার মূল্য উক্ত পরিসম্পদের অর্জনমূল্য হিসাবে বিবেচিত হইবে।

৫৯। পরিগণনার সময়

মূলধনি পরিসম্পদের হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত আয় উক্ত হস্তান্তর যেই আয়বর্ষে সংঘটিত হইয়াছে সেই আয়বর্ষের আয় হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৬০। বিয়োজন অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা

উৎসে কর কর্তন প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহা যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হইলে, উক্ত ব্যয়কে এই অধ্যায়ের অধীন অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন হিসাবে বিবেচনা করা যাইবে না।

৬১। মূলধনি আয় নির্ধারণে অন্যান্য বিষয়াবলি

(১) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত পণ্যের সম্পূর্ণ মূল্য অপেক্ষা ১৫% (পনেরো শতাংশ) এর অধিক হইলে পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার সেই পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য নির্ধারণ করিবেন।

(২) কোনো পরিসম্পদের ন্যায্য বাজার মূল্য করদাতা কর্তৃক ঘোষিত অর্জন মূল্য অপেক্ষা ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক হইলে উপকর কমিশনার, বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, উক্ত পরিসম্পদ ঘোষিত অর্জন মূল্যে ক্রয় করিবার জন্য প্রস্তাব দিতে পারিবেন।

(৩) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত নূতন কোনো কোম্পানির নিকট কোনো অংশীদারি ফার্মের সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের ফলে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে তাহা করমুক্ত থাকিবে যদি সকল পরিসম্পদ হস্তান্তরের বিনিময় মূল্য নূতন কোম্পানি ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করা হয়।

৬২। আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়

(১) কোনো ব্যক্তির নিম্নবর্ণিত আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) সরকারি বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;

(খ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা কোম্পানি কর্তৃক ইস্যুকৃত ডিবেঞ্চার বা অন্য কোনো প্রকারের সিকিউরিটিজের সুদ, মুনাফা বা বাট্টা;

(গ) নিম্নবর্ণিত উৎস হইতে প্রাপ্য সুদ বা মুনাফা, যথা: -

(অ) কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত আমানত, তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(আ) কোনো আর্থিক 1[পরিসম্পদ,] পণ্য বা স্কিম;

(ঘ) লভ্যাংশ।

(২) আর্থিক পরিসম্পদ হস্তান্তর হইতে অর্জিত মূলধনি আয় “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” শ্রেণিভুক্ত হইবে না।

৬৩। আয় পরিগণনার সময়

কোনো ব্যক্তি যেই আয়বর্ষে আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় প্রাপ্ত হইবেন বা যেই আয়বর্ষে তাহার হিসাবে উক্ত আয় জমা হইবে, এর মধ্যে যাহা পূর্বে ঘটে, সেই আয়বর্ষে তাহা অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৬৪। আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য খরচ

আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” খাতের আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে, যথা:-

(ক) ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক করদাতাকে সুদ বা মুনাফা প্রদানের বিপরীতে আয়কর ব্যতীত কর্তনকৃত অর্থ;

(খ) কেবল “আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়” অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণকৃত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ;

(গ) কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, দফা (ক) বা (খ)তে উল্লিখিত ব্যয় ব্যতীত, নির্বাহকৃত অন্য কোনো ব্যয়।

৬৫অ কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদনযোগ্য না হওয়া

এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত খরচসমূহ অনুমোদিত হইবে না, যথা:-

(ক) বাংলাদেশের বাহিরে পরিশোধযোগ্য কোনো সুদ যাহা হইতে এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন বা পরিশোধ করা হয় নাই;

(খ) কর অব্যাহতি প্রাপ্ত 1[***] এইরূপ আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়ের বিপরীতে পরিশোধিত সুদ বা কমিশন;

(গ) মূলধনি বা ব্যক্তিগত প্রকৃতির কোনো ব্যয় 2[;]

3[(ঘ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয়, এইরূপ কোনো ব্যয়ের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা না হইলে এবং এই আইনের বিধান অনুযায়ী উহা যথাযথভাবে পরিশোধ করা না হইলে উক্ত ব্যয়।]

৬৬। অন্যান্য উৎস হইতে আয়

কোনো করদাতার নিম্নবর্ণিত আয়সমূহ অন্যান্য উৎস হইতে আয় খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত ও পরিগণিত হইবে, যথা:-

(ক) রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, কারিগরি জ্ঞানের জন্য ফি এবং স্পর্শাতীত সম্পত্তির ব্যবহারের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে অর্জিত আয়;

(খ) সরকার প্রদত্ত নগদ ভর্তুকি;

1[(গ) খনিজ মজুদ ও হাইড্রোকার্বন (mineral deposits and hydrocarbons) এবং সুনাম (goodwill) ব্যতীত অন্য কোনো পরিসম্পদ, যাহা প্রাকৃতিক বা কোনো ব্যক্তির স্বীয় সৃষ্ট, হস্তান্তর হইতে অর্জিত আয়;]

2[(ঘ) যেকোনো দান, অনুদান বা উপহার, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

3[(ঙ) গোষ্ঠী বীমা পলিসি হইতে কর্মচারী কর্তৃক প্রাপ্ত অর্থ বা সুবিধা, উহা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন;]]

4[(চ) ধারা ৩০ এর দফা (ক) হইতে দফা (চ) এ বর্ণিত কোনো খাতের অধীন শ্রেণিভুক্ত হয় নাই এইরূপ কোনো উৎস হইতে আয়।]

৬৮। অন্যান্য উৎস হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অনুমোদনযোগ্য বিয়োজন

(১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়বর্ষে কোনো ব্যক্তির “অন্যান্য উৎস হইতে আয়” খাতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক কেবল সংশ্লিষ্ট আয় অর্জনের উদ্দেশ্যে, মূলধনি বা ব্যক্তিগত ব্যয় নহে এইরূপ ব্যয় খরচ হিসাবে অনুমোদনযোগ্য হইবে।

(২) ধারা ৬৭ এর উপ-ধারা (৫) ও (৬) ব্যতীত ধারা ৬৭ এর অন্যান্য উপ-ধারার অধীন আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে কোনপ্রকারের ব্যয় অনুমোদিত হইবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন খরচ অনুমোদনের ক্ষেত্রে, উক্ত খরচের যৌক্তিকতা বিবেচনা করিতে হইবে।

৬৯। কতিপয় ক্ষেত্রে বিয়োজন অনুমোদিত না হওয়া

(১) কোনো আয়বর্ষে এই অধ্যায়ের অধীন কোনো সম্পদের বিপরীতে খরচ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে অনুমোদিত হইলে তাহা একই সম্পদের বিপরীতে পুনরায় অনুমোদিত হইবে না।

(২) খরচ অনুমোদনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কিত ধারা ৫৫ এ উল্লিখিত বিধানাবলি এই অধ্যায়ের এইরূপ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।

৭০। ক্ষতির সমন্বয় এবং জের টানা

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি অন্য খাতের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে।

(২) নিম্নবর্ণিত সারণী উল্লিখিত কোনো ক্ষতি কেবল সেই খাত বা উৎসের আয় ব্যতীত অন্য কোনো খাত বা উৎসের আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে না, যথা:-

(৩) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা 1[ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী] ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাইবে না।

(৪) কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত ক্ষতি কেবল উক্ত ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের নিরূপিত আয়ের সহিত সমন্বয় করা যাইবে এবং উক্ত ফার্মের কোনো অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্যের আয়ের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।

(৫) কোনো করবর্ষে কোনো খাতের নিরূপিত ক্ষতি উক্ত বৎসরের অন্য কোনো খাতের বা উৎসের আয়ের সহিত সম্পূর্ণ সমন্বয় করা না গেলে অসমন্বিত ক্ষতির জের টানিয়া পরবর্তী ৬ (ছয়) করবর্ষে সমন্বয় করা যাইবে।

(৬) অষ্টম তফসিল সাপেক্ষে, ব্যবসা বা পেশায় উত্তরাধিকার ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কোনো ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হইলে, উত্তরসূরি নিজের কোনো আয়ের বিপরীতে পূর্বসূরির ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানিতে পারিবেন না।

৭১। অবচয় ভাতার জের টানা

(১) এই আইনানুযায়ী অনুমোদিত কোনো অবচয় কোনো করবর্ষের গ্রস আয়ের বিপরীতে ব্যয় হিসাবে সম্পূর্ণরূপে চার্জ করা না গেলে তাহা পরবর্তী করবর্ষের অবচয়ের সহিত যুক্ত হইবে।

(২) এই আইনের কোনো বিধান পরিপালনে ব্যত্যয়ের কারণে কোনো অবচয় ভাতা অননুমোদিত হইলে উহার জের টানা যাইবে না।

(৩) জের টানা অবচয়ের ভাতা চার্জ করিবার পূর্বে জের টানা ক্ষতির সমন্বয় করিতে হইবে।

(৪) অনুমোদিত অবচয় ভাতা সম্পূর্ণরূপে সমন্বয়কৃত হওয়া পর্যন্ত জের টানা যাইবে।

৭২। হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, একজন ব্যক্তির আয়কে নিয়মিতভাবে প্রয়োগকৃত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসারে পরিগণনা করিতে হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি মনে করেন যে, হিসাব পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি অভিষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির পর উপকর কমিশনার করদাতার আয় স্পষ্টভাবে প্রতিফলনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন অনুমোদন করিতে পারিবেন।

(৩) বোর্ড, বিধি দ্বারা, কোনো ব্যবসা, বা কোনো শ্রেণির ব্যবসা, বা অন্য কোনো উৎস, বা কোনো উৎসের আয়ের জন্য হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ও অন্যান্য যাচাই মানদণ্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৪) পূর্ববর্তী বিধানসমূহ ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোনো কোম্পানি International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS) 1[, IFRS for SMEs] ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব রক্ষণ এবং আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করিবে।

৭৩। কোম্পানি, ইত্যাদি কর্তৃক নিরীক্ষাকৃত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিল

(১) স্বাভাবিক ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও তহবিল ব্যতীত যেকোনো ব্যক্তি এবং দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি হইতে আয় প্রাপ্ত যেকোনো ব্যক্তি আয়বর্ষের রিটার্নের সহিত নিরীক্ষাকৃত আয় বিবরণী এবং নিরীক্ষাকৃত আর্থিক বিবরণীসমূহের একটি অনুলিপি এই মর্মে প্রদান করিবে যে-

(ক) উক্ত করবর্ষের জন্য International Accounting Standards (IAS), International Financial Reporting Standards (IFRS), IFRS for SMEs ও বাংলাদেশে বলবৎ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী হিসাব সংরক্ষণ করা হইয়াছে এবং নিরীক্ষাকৃত বিবরণীসমূহ প্রস্তুত ও দাখিল করা হইয়াছে;

(খ) বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হইয়াছে;

(গ) International Standards on Auditing (ISA) অনুসারে উহা নিরীক্ষা করা হইয়াছে:

তবে শর্ত থাকে যে, নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(অ) অনধিক ৫ (পাঁচ) কোটি টাকার গ্রস প্রাপ্তি রহিয়াছে এইরূপ কোনো ফার্ম, ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ, ফাউন্ডেশন, সমিতি এবং সমবায় সমিতি;

(আ) যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাহা কেবল প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষাদানে নিয়োজিত।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয় বিবরণী এবং আর্থিক বিবরণীসমূহ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট কর্তৃক নিরীক্ষিত ও প্রত্যয়িত হইতে হইবে।]

৭৪। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণিভুক্ত এবং গণনাকৃত আয়ের জন্য উপচিত হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করেন, সেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হইতে উদ্ভূত আয় সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি অনুসারে গণনা করিতে হইবে।

(২) কোনো করবর্ষে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সম্পাদনের শতাংশ, উক্ত করবর্ষ শেষ হইবার পূর্বে চুক্তিতে মোট বরাদ্দকৃত ব্যয় এবং সংঘটিত খরচের সহিত চুক্তির শুরুতে নির্ধারিত আনুমানিক মোট চুক্তিব্যয়ের মধ্যে তুলনার মাধ্যমে নির্ধারিত হইবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) "দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি" অর্থ উৎপাদন, স্থাপন, বা নির্মাণ সংক্রান্ত চুক্তি, বা এতৎসংক্রান্ত প্রতিটি চুক্তি সম্পর্কিত পরিষেবা সমূহের সম্পাদন, যাহা চুক্তির অধীন কাজ আরম্ভ হইবার 1[বৎসরের] মধ্যে সম্পন্ন হয় নাই, তবে চুক্তির অধীন কাজ শুরু হইবার দিন হইতে আনুমানিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে শেষ হইবে এইরূপ চুক্তি ব্যতীত অন্য সকল চুক্তি;

(খ) "সম্পাদনের শতাংশ পদ্ধতি" অর্থ সার্বজনীনভাবে গৃহীত হিসাবরক্ষণ নীতি যাহার অধীন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতাধীন রাজস্ব ও ব্যয় উপ-ধারা (২) এর অধীন সংশোধনকৃত চুক্তির সমাপ্তির পর্যায়ে স্বীকৃত হয়।

৭৫। অসম্পূর্ণ বা ভুল হিসাব, ইত্যাদি

(১) কোনো করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত রিটার্ন, বিবরণী বা জমাকৃত নথি, অডিট বা কর নির্ধারণ কার্যক্রম চলাকালে যাচাইযোগ্য না হইলে যেকোনো পর্যায়ে তাহা অগ্রাহ্য করিবার ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের কোনো কিছুই আয়কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাকে বারিত করিবে না।]

(২) যেইক্ষেত্রে হিসাবরক্ষণের কোনো প্রচলিত পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয় নাই, বা উপকর কমিশনার করদাতার হিসাবসমূহের সঠিকতা বা সম্পূর্ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন, বা করদাতার হিসাবসমূহ ধারা ৭৩ এর বিধান অনুসারে প্রস্তুত এবং সংরক্ষণ করা হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ পদ্ধতিতে করদাতার কর নিরূপণ করিবেন।

৭৬। কর অব্যাহতি

(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনো শ্রেণির ব্যক্তিকে বা কোনো শ্রেণির যেকোনো আয়কে কর অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে এই আইন ব্যতীত অন্য কোনো আইন বা আইন হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো আইনগত দলিলের বিধানানুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে, উক্তরূপ অন্য আইনে বা আইনগত দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উক্ত ব্যক্তিকে কর অব্যাহতি প্রদান করা না হইলে উক্তরূপ বিধান কার্যকর হইবে না।

(৩) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো কর অব্যাহতি বাতিল করিতে পারিবে।

(৪) এই আইনের অধীন কোনো কর অব্যাহতি ভূতাপেক্ষভাবে প্রদান করা যাইবে না।

(৫) ধারা ১৬৬ এবং ধারা ১৭১ এর বিধানাবলি পরিপালনপূর্বক রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতায় কোনো ব্যক্তির আয় কোনো করবর্ষে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(৬) কোনো ব্যক্তি কোনো একটি উৎসের আয়ের বিপরীতে আইন দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো মেয়াদে কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইলে উক্তরূপ উৎসের আয়ের বিপরীতে পুনরায়, অন্য কোনোভাবে বা অন্য কোনো মেয়াদে, কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না এবং উক্তরূপ কোনো ব্যক্তি কোনো প্রকারের একীভূতকরণ, ডিমার্জার ও অধিগ্রহণের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হইলেও উক্তরূপ কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে না:

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে এই আইনের মাধ্যমে কোনো কর অব্যাহতির বিদ্যমান মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, সেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।

(৭) কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো উৎসের আয় বা ব্যক্তির আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে, ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদিত কোনো ব্যয়ের উপর ধারা ৫৬ এর বিধান অনুযায়ী কর প্রদেয় হইবে।]

৭৭। মোট আয় হইতে বাদ

(১) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ১ এ উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অর্জিত আয় উক্ত আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির মোট আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা উক্ত আয়বর্ষের তহবিলের উৎস পরিগণনায় নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) রিটার্নের মোট আয় হইতে বাদ সংশ্লিষ্ট কলামে আয়ের হিসাব যথাযথভাবে দেখাইতে হইবে; এবং

(খ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করিতে হইবে।

(২) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত অনুদানের অর্থ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে উক্ত ব্যক্তির করদায় পরিগণনার সময় মোট আয় হইতে বাদ দেওয়া হইবে, যথা:-

(ক) উক্ত অনুদান রিটার্ন বা বিবরণ বা রিটার্নের সহিত সংযুক্ত দলিলাদিতে প্রতিফলিত হইয়াছে;

(খ) ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ২ এর অধীন প্রদত্ত অনুদানের মোট পরিমাণ উক্ত ব্যক্তির অনুদান পূর্ববর্তী প্রদর্শিত মোট আয়ের ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক নহে;

(গ) রিটার্নের সহিত আয়ের উৎস এবং পরিমাণ বিস্তারিতভাবে দাখিল করা হইয়াছে।

৭৮। কতিপয় বিনিয়োগ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সাধারণ কর রেয়াত

এই আইনের বিধান সাপেক্ষে এবং ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ এ নির্ধারিত সীমা, শর্তাবলি এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে কোনো বিনিয়োগ করা হইলে, কোনো করবর্ষে মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর হইতে নিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ও অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা নিম্নবর্ণিতভাবে কর রেয়াত প্রাপ্য হইবেন-

(ক) ০.০৩ × ‘ক’; বা

(খ) ০.১৫ × ‘খ’; বা

(গ) ১০ (দশ) লক্ষ টাকা,

এই তিনটির মধ্যে যাহা কম,

এইক্ষেত্রে-

‘ক’ = কর অব্যাহতি প্রাপ্ত আয়, হ্রাসকৃত করহার প্রযোজ্য এইরূপ আয় 1[, অংশীদারি ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয় এবং চূড়ান্ত করদায়] প্রযোজ্য এইরূপ আয় বাদ দিয়া পরিগণিত মোট আয়, এবং

‘খ’ = কোনো আয়বর্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৩ অনুসারে করদাতার মোট বিনিয়োগ ও ব্যয়ের পরিমাণ।

৭৯। সমবায় সমিতির কতিপয় আয়ের অব্যাহতি

কোনো সমবায় সমিতি কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম হইতে অর্জিত আয় প্রদেয় কর হইতে অব্যাহতি প্রাপ্ত হইবে, যথা:-

(ক) ফসল উৎপাদন;

(খ) কুটির শিল্প পরিচালনা;

(গ) ইহার সদস্যগণ কর্তৃক কৃষিজাত পণ্য বাজারজাতকরণ।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কুটির শিল্প" অর্থ একটি উদ্যোগ, যাহা জয়েন্ট স্টক কোম্পানির নিবন্ধনপ্রাপ্ত নহে, যেখানে-

(ক) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক একজন বিনিয়োগকারী, পূর্ণসময়কালীন কর্মী এবং প্রকৃত উদ্যোক্তা;

(খ) ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্লান্ট, যন্ত্রপাতি ও উপকরণে বিনিয়োগকৃত মূলধন আয়বর্ষের যেকোনো সময়ে ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করে না;

(গ) মালিক ও তাহার পরিবারের সদস্যসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ (পনেরো) জনের অধিক নহে।

৮০। গড়করণ

(১) ব্যক্তিসংঘের কোনো সদস্য বা ফার্মের কোনো অংশীদারের মোট আয়ে ব্যক্তিসংঘ বা, ক্ষেত্রমত, ফার্ম হইতে উদ্ভূত করারোপিত শেয়ার আয় অন্তর্ভুক্ত হইলে উক্ত শেয়ার আয়ের উপর গড় হারে হিসাবকৃত কর পরিশোধযোগ্য হইবে না।

(২) নিম্নবর্ণিত সূত্র অনুসারে গড় হারে কর হিসাব করিতে হইবে, যথা:-

ট= ক × (খ/গ), যেইক্ষেত্রে-

ট= গড় হারে কর,

ক= 1[ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের শেয়ার আয়সহ মোট আয়ের উপর কর রেয়াত পূর্ব হিসাবকৃত কর],

খ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়,

গ= ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘ হইতে প্রাপ্ত শেয়ার আয়সহ মোট আয়।

৮১। অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয়

(১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা কর্তৃক অর্জিত ‘ব্যবসা হইতে আয়’ খাতের অন্তর্ভুক্ত আয় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত সীমা, শর্ত এবং যোগ্যতা সাপেক্ষে ষষ্ঠ তফসিল এর অংশ ৪ এবং এই অধ্যায়ের অধীন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে করছাড় সুবিধাপ্রাপ্ত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আয়কর ছাড়ের সুবিধা প্রাপ্ত হইলে তাহা করদাতার মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইবে না, তবে তাহা রিটার্নের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রদর্শন করিতে হইবে।

(৩) কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে করছাড় সুবিধা প্রদান করা যাইবে, যথা:-

(ক) উক্ত সত্তা এইরূপ কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীনে এবং ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত, যিনি-

(অ) আইন দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা যাহার প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশে অবস্থিত;

(আ) কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ (১৯৯৪ সনের ১৮ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত এবং বাংলাদেশে নিবন্ধিত অফিস রহিয়াছে এইরূপ কোম্পানি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হইবার তারিখে ক্রয়কৃত বা পরিশোধিত মূলধন ২০ (বিশ) লক্ষ টাকার নিম্নে নহে;

(খ) উক্ত সত্তা ইতোমধ্যে অস্তিত্ব রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যবসা হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া বা পুনর্গঠন বা পুনঃসংযোজনের মাধ্যমে গঠিত হয় নাই;

(গ) কোনো কারখানা, যন্ত্রপাতি, উপকরণ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাবর সম্পত্তি যদি বাংলাদেশের অন্য কোনো সত্তা কর্তৃক ইতঃপূর্বে ব্যবহৃত না হইয়া থাকে;

(ঘ) উক্ত সত্তা-

(অ) টিআইএন গ্রহণ করিয়াছে;

(আ) এই আইনের বিধান অনুযায়ী হিসাবরক্ষণ করিয়াছে;

(ই) স্বতন্ত্রভাবে এবং পৃথকভাবে হিসাব রক্ষণ করিয়াছে।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা” অর্থ কোনো আয়বর্ষের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো সত্তা যাহার ব্যবসা হইতে আয় রহিয়াছে এবং যাহা-

(ক) এই অধ্যায়ের অধীন আংশিক বা সম্পূর্ণ করছাড়ের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত হইয়াছে;

(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত করছাড় বা করহ্রাসের জন্য অনুমোদিত হইয়াছে।

৮২। বোর্ড কর্তৃক কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা অনুমোদন

(১) কর অবকাশ সুবিধা প্রাপ্তির জন্য কোনো ব্যবসায়িক সত্তাকে ইহার বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হইবার 1[অনধিক ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে], বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে, আবেদন দাখিল করিতে হইবে।

(২) আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে, বোর্ড, লিখিত আদেশ দ্বারা, উপ-ধারা (১) এর অধীন দাখিলকৃত আবেদনের উপর সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।

(৩) বোর্ড উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রদান করিতে ব্যর্থ হইলে, কর অবকাশ প্রাপ্তির আবেদনটি অস্থায়ীভাবে মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং, উক্ত বিষয়ে বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান না করা পর্যন্ত উক্ত ব্যবসায়িক সত্তাকে কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা হিসাবে গণ্য করা হইবে।

(৪) আবেদনকারীকে যুক্তিসঙ্গতভাবে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া বোর্ড কোনো আবেদন বাতিল করিবে না।

(৫) উপ-ধারা (৩) এর অধীন বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে কোনো আবেদনকারী সংক্ষুব্ধ হইলে, সিদ্ধান্ত প্রাপ্তির ৪ (চার) মাসের মধ্যে উক্ত আবেদনকারী বোর্ডের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং বোর্ড পূর্ববর্তী আদেশ পুনর্বিবেচনা করিতে পারিবে এবং তৎবিবেচনায় উপযুক্ত আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(৬) উপ-ধারা (১) এর বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার কর পরিপালন নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে বোর্ড যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপে এই ধারার অধীন অনুমোদন মঞ্জুর ও পুনর্বিবেচনা বা যেকোনো বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

৮৩। সহযোগী সত্তার সহিত লেনদেন

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা ইহার অন্য কোনো সহযোগী সত্তার সহিত লেনদেনে জড়িত থাকে এবং যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে,-

(ক) লেনদেন উন্মুক্ত বাজার মূল্যে হয় নাই; এবং

(খ) এই ধরনের লেনদেনের ফলে কোনো আয়বর্ষে কোনো সহযোগী সত্তার আয় প্রকৃত আয় আপেক্ষা কম হইয়াছে,

সেইক্ষেত্রে সহযোগী সত্তাটির জন্য যে পরিমাণে আয় কম পরিগণনা করা হইয়াছে তাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাটির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং তাহা উক্ত আয়বর্ষের জন্য "অন্যান্য উৎস হইতে আয়" খাতে শ্রেণিভুক্ত হইবে।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) কোনো সত্তা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার সহযোগী সত্তা হিসাবে বিবেচিত হইবে, যদি-

(অ) কোনো সত্তা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক কিংবা একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে, অন্য কোনো সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে; অথবা

(আ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি ও বংশধরসহ, উভয় সত্তার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে, সরাসরি বা পরোক্ষভাবে, বা এক বা একাধিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করে; অথবা

(ই) কোনো সত্তা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে, অন্য কোনো সত্তার ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা

(ঈ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ, দম্পতি বা বংশধরসহ, উভয় সত্তায় ভোটিং ক্ষমতার ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক বহনকারী শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে; অথবা

(উ) দুইটি সত্তা একই গ্রুপের সদস্য হয়।

(খ) "উন্মুক্ত বাজার মূল্য" অর্থ মুক্ত বাজারে সম্পর্কহীন (দুইটি পক্ষের মধ্যে সম্মত মূল্য;

(গ) "সত্তা" শব্দ অর্থে কোনো ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত হইবে।

৮৪। অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় পরিগণনা

(১) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় অন্য কোনো ব্যবসা হইতে পৃথকভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।

(২) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার আয় ‘ব্যবসা হইতে আয়’ শ্রেণির আয়ের ন্যায় একইভাবে পরিগণনা করিতে হইবে।

(৩) অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার ব্যবসা হইতে আয় পরিগণনার ক্ষেত্রে তৃতীয় তফসিলের অংশ ১ এ উল্লিখিত কেবল সাধারণ অবচয় ভাতা প্রযোজ্য হইবে।

(৪) কোনো আয়বর্ষের জন্য অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তার পরিগণিত ক্ষতি করদাতার অন্য কোনো সত্তা বা খাত, যাহা অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত নহে, উহার লাভের বিপরীতে সমন্বয় করা যাইবে না।

(৫) ধারা ৫৫ এর অধীন অননুমোদনের ফলে উক্ত সত্তার উদ্ভূত আয়ের জন্য কর অবকাশ সুবিধা প্রযোজ্য হইবে না এবং উক্তরূপ আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপ করা হইবে।

৮৫। কর ছাড় বাতিল বা অননুমোদন

(১) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন গৃহীত কোনো কার্যধারা হইতে দেখা যায় যে, কোনো অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তা এই অধ্যায়ে বর্ণিত কোনো শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার অনুমোদিত কর অবকাশপ্রাপ্ত সত্তাকে অবকাশ সুবিধা প্রদান করিতে পারিবেন না এবং উক্ত আয়বর্ষে উক্ত সত্তার জন্য নিয়মিত পদ্ধতিতে ও হারে প্রদেয় কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

(২) অনুমোদিত কর অবকাশ সুবিধাপ্রাপ্ত সত্তা উক্তরূপ সুবিধা বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে উক্ত আদেশ অনুমোদনের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসরের মধ্যে বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন দাখিল করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ আবেদন প্রাপ্ত হইলে বোর্ড তৎবিবেচনায় উপযুক্ত কোনো আদেশ জারি করিতে পারিবে।

(৩) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বোর্ড জনস্বার্থে, এই ধারার অধীন অনুমোদিত কোনো ছাড় সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সম্পূর্ণভাবে বাতিল বা স্থগিত করিতে পারিবে।

৮৬। চাকরির আয় হইতে উৎসে কর কর্তন

(১) কোনো প্রাপককে "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো চাকরির অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধের সময়, উক্ত খাতের অধীন প্রাপকের 1[প্রাক্কলিত] মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।

2[***]

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো সরকারি কর্মকর্তা আয়নকারী ও ব্যয়নকারী কর্মকর্তা (ডিডিও) হিসাবে কার্য সম্পাদন করিয়াছেন বা সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে "চাকরি হইতে আয়" উত্তোলন করিবার জন্য নিজের বা অন্য কোনো সরকারি অধীনস্তের জন্য বিল প্রস্তুত বা স্বাক্ষর করিয়াছেন, সেইক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিল তৈরি বা স্বাক্ষরের সময়, উক্ত আয়বর্ষের জন্য প্রদেয় বার্ষিক বেতন যদি করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে, তাহা হইলে উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট আয়ের জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর কর্তন করিবেন।

(৪) উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর অধীন কোনো কর্তনের সময়, 3[চলতি আয়বর্ষের] কোনো উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সহিত সমন্বয়ের জন্য উদ্বৃত্ত বা ঘাটতির সমপরিমাণ অর্থ বৃদ্ধি বা হ্রাস করা যাইবে।

(৫) যেইক্ষেত্রে এই আইনের অধীন প্রদেয় অগ্রিম করসহ, এই ধারার অধীন ইতোমধ্যে উৎসে কর প্রদান করা হইয়াছে এবং কোনো কর্মচারীর সম্ভাব্য মোট আয়ের উপর প্রযোজ্য কর উক্তরূপে প্রদেয় করের পরিমাণের কাছাকাছি বলিয়া বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত কর্মচারী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন এবং প্রদত্ত প্রমাণাদির ভিত্তিতে, অবশিষ্ট আয়বর্ষের জন্য এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র জারি করিতে পারিবেন যে, উক্ত কর্মচারীর নিকট হইতে কোনো কর কর্তন করা হইবে না বা কম হারে কর কর্তন করা হইবে।

৮৭। সংসদ সদস্যদের সম্মানী হইতে কর কর্তন

সংসদ সদস্যের সম্মানী হিসাবে কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, প্রদেয় সম্মানীর উপর, প্রযোজ্য পরিমাণে আয়কর প্রাপকের উক্ত আয়বর্ষের আনুমানিক মোট সম্মানীর জন্য প্রযোজ্য করের গড় হারে কর্তন করিবেন।

৮৮। অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউণ্ডেশন তহবিল কর্তৃক উৎসে কর কর্তন

বাংলাদেশে বিদ্যমান কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শ্রম আইন, ২০০৬ এর ধারা ২৩৪ অনুযায়ী অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং শ্রমিক কল্যাণ ফাউণ্ডেশন তহবিল হইতে ইহার কোনো সুবিধাভোগীকে অর্থ প্রদানকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ পরিশোধ বা ক্রেডিটকালে ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]

৮৯। ঠিকাদার, সরবরাহকারী ইত্যাদিকে প্রদত্ত অর্থ হইতে কর কর্তন

যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে নিম্নবর্ণিত কারণে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়-

(ক) অংশ ৭ এর অন্য কোনো ধারায় উল্লিখিত পরিষেবা প্রদান বা সরবরাহের জন্য চুক্তি ব্যতীত অন্য কোনো চুক্তি সম্পাদন;

(খ) পণ্য সরবরাহ;

(গ) উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ বা রূপান্তর;

(ঘ) মুদ্রণ, প্যাকেজিং বা বাঁধাই,

সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটকালে ভিত্তিমূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ১০% (দশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।

৯০। সেবার ক্ষেত্রে পরিশোধ হইতে কর্তন

কোনো সেবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক কোনো নিবাসীকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন করিবেন।

৯১। স্পর্শাতীত সম্পত্তির জন্য পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন

রয়্যালটি, ফ্র্যাঞ্চাইজ বা লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক, পেটেন্ট, কপিরাইট, শিল্প নকশা, উদ্ভিদের জাত, ভৌগলিক নির্দেশক পণ্য বা মেধাসত্ত্ব সংক্রান্ত অন্য কোনো সম্পত্তি অথবা অভৌত বা অমূর্ত বা নিরাকার বিষয়ের জন্য অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্ত অর্থ প্রদান বা ক্রেডিটের সময় 1[ভিত্তিমূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]

৯২। প্রচার মাধ্যমের বিজ্ঞাপন আয় হইতে কর কর্তন

নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক বিজ্ঞাপন, প্রচার বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খবরের কাগজ, ম্যাগাজিন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, বেসরকারি রেডিও স্টেশন বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে (মিডিয়া বায়িং এজেন্ট ব্যতীত) অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

৯৩। অভিনেতা, অভিনেত্রী, প্রযোজক, ইত্যাদি ব্যক্তিকে পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন

(১) কোনো চলচ্চিত্র, নাটক বা টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রাম ক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইহার আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধিত বা পরিশোধযোগ্য অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) কোনো ব্যক্তি চলচ্চিত্র, নাটক, বিজ্ঞাপন বা কোনো টেলিভিশন বা রেডিও প্রোগ্রামে অভিনয় করিবার জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিকে আংশিক বা পূর্ণ অর্থ পরিশোধকালে বা প্রাপকের হিসাবে জমা প্রদানকালে পরিশোধযোগ্য বা পরিশোধিত অর্থের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

৯৪। কমিশন, ডিসকাউন্ট, ফি, ইত্যাদি হইতে কর্তন বা উৎসে কর সংগ্রহ

(১) কোনো পরিবেশককে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে পণ্য বা সেবা সরবরাহ বা বিপণনের জন্য কমিশন, বাট্টা, ফি, ​​প্রণোদনা বা কর্মদক্ষতা ভাতা বা কর্মদক্ষতা সম্পর্কিত অন্য কোনো প্রণোদনা বা এইরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ বা একই প্রকৃতির সুবিধার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি বা ফার্ম অর্থ পরিশোধকালে বা অনুমোদিত কোনো অঙ্কের অর্থ প্রদানকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পরিশোধযোগ্য পরিমাণ বা প্রদেয় অনুমোদিত অঙ্কের অর্থ বা অনুমোদিত সুবিধার আর্থিক মূল্য, ক্ষেত্রমত, এর উপর শতকরা ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।

(২) কোনো কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের সহিত সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কোনো অর্থ পরিশোধকালে, অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, পণ্য বিপণন বা বাজারজাতকরণের জন্য প্রাপ্ত অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(৩) তেল বিপণন কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো কোম্পানি বা ফার্ম, যাহা –

(ক) কোনো পরিবেশক; বা

(খ) চুক্তির অধীন অন্য কোনো ব্যক্তি,

-এর নিকট উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম 1[বা অন্য কোনো ব্যক্তি] কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্য হইতে কম মূল্যে পণ্য বিক্রয় করে, উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে খ × গ এর সমপরিমাণ মূল্যের উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে, যেইক্ষেত্রে-

খ = পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট কোম্পানি বা ফার্মের বিক্রয় মূল্য;

গ = ৫% (পাঁচ শতাংশ):

তবে শর্ত থাকে যে, সিগারেট প্রস্তুতকারক কোম্পানি বা ফার্মের পণ্য বিক্রয়কালে উক্ত পরিবেশক বা উক্তরূপ অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে পরিবেশক বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট পণ্যের বিক্রয় মূল্য এবং উক্ত কোম্পানি বা ফার্ম কর্তৃক নির্ধারিত খুচরা মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবে।

৯৫। ট্রাভেল এজেন্টের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

(১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশন বা ছাড় বা অন্য কোনো সুবিধার মাধ্যমে, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, কোনো নিবাসীকে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, উক্ত অর্থ পরিশোধকালে যাত্রী টিকিট 1[বিক্রয়ের] মাধ্যমে রূপান্তরযোগ্য মোট অর্থের উপর ০.৩% (শূন্য দশমিক তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন বা অগ্রিম কর সংগ্রহ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত টিকেট বিক্রয়ের মাধ্যমে 2[প্রাপ্ত] ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধিত হইলে উক্তরূপ অর্থ পরিশোধকালে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ক/খ x গ এর সমপরিমাণ অর্থ কর্তন করিবেন, যেখানে-

"ক"= এই উপ-ধারাতে উল্লিখিত ইনসেন্টিভ বোনাস, পারফরমেন্স বোনাস বা অন্য কোনো সুবিধা,

"খ"= কমিশন বা ডিসকাউন্ট বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার পরিমাণ, এবং

"গ"= কমিশন বা ছাড় বা উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত অন্য কোনো সুবিধার উপর উৎস করের পরিমাণ।

(৩) টিকিট বা চার্জের মূল্য গণনাকালে কোনো প্রারম্ভিক ফি, ভ্রমণ কর, ফ্লাইট সুরক্ষা বিমা, নিরাপত্তা কর এবং বিমানবন্দর কর বাবদ পরিশোধিত অর্থ মূল্য বা চার্জ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৯৬। ঋণপত্রের কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর্তন

নিজ বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য পণ্য আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খোলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ঋণপত্রের কমিশন সংগ্রহকালে, কমিশন হিসাবে প্রাপ্ত অর্থ হইতে ৫% (পাঁচ শতাংশ) কর কর্তন করিবেন।

৯৭। [স্থানীয় ঋণপত্রের বিপরীতে পরিশোধিত অর্থ হইতে কর্তন]

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো স্থানীয় ঋণপত্র বা উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থা নহে এইরূপ অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির অধীন ব্যবসা বা প্রক্রিয়া বা রূপান্তরের পরে পুনঃবিক্রি করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ক বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি খ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট হইতে বাংলাদেশে কোনো পণ্য ক্রয়ের জন্য কোনো ঋণ সুবিধা প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি খ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ক কর্তৃক ক্রয়ের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কোনো পরিবেশককে এইরূপ কোনো অর্থায়ন ব্যবস্থার অধীন কোনো ঋণসুবিধা প্রদান করিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি, অতঃপর ব্যক্তি গ বলিয়া উল্লিখিত, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে তাহার কোনো পরিবেশক, অতঃপর ব্যক্তি ঘ বলিয়া উল্লিখিত, এর নিকট পণ্য বিক্রি বা ইনভয়েসের বিপরীতে কোনো অর্থ প্রাপ্ত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি গ-কে পরিশোধ বা ঋণ প্রদানের সময় ব্যক্তি ঘ এর অনুকূলে ইনভয়েসকৃত পণ্যের জন্য পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর 2[১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবে।

3[(৩) সকল প্রকার ফল এবং কম্পিউটার বা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ২% (দুই শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।]

4[(৪) তুলা এবং সুতা ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।]

5[(৫) ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, মাছ, মাংস, পিঁয়াজ, রসুন, মটর, ছোলা, মসুর, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ডাল, ভূট্টা, আটা, ময়দা, লবণ, ভোজ্যতেল, চিনি, বীজ, পাটকাঠি, সরিষা, তিল, কাচা চা-পাতা, গোলমরিচ, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা এবং পাট ক্রয়ের জন্য খোলা বা কৃত স্থানীয় ঋণপত্র খোলা বা অন্য কোনো অর্থায়ন চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি কর্তৃক পরিশোধিত বা ঋণকৃত পরিমাণের উপর ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ০.৫% (শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(৬) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে বোর্ড, সেইরূপ কোনো প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ, যাহা এই ধারার অধীন কর কর্তনযোগ্য, কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তন করিয়া পরিশোধ করা যাইবে।]

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ‘পরিবেশক’ বলিতে এইরূপ ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি অন্য কোনো ব্যক্তি কর্তৃক উৎপাদিত প্রক্রিয়াজাত পণ্য সর্বশেষ ক্রেতার নিকট প্রত্যক্ষভাবে বা অন্য কোনো মধ্য স্বত্বভোগীর মাধ্যমে সরবরাহের কার্যক্রম পরিপালন করেন।

৯৮। সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর 1[, টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি ইত্যাদি] কর্তৃক পরিশোধিত অর্থের উপর কর কর্তন

কোনো সেলুলার মোবাইল ফোন অপারেটর 2[, টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি ইত্যাদি] কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কোনো আয় বন্টন বা কোনো লাইসেন্স ফি বা অন্য কোনো ফি বা চার্জ, যে নামেই অভিহিত করা হউক না কেন, বাবদ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষকে জমা বা অর্থ পরিশোধকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত পরিমাণ অর্থের 3[২০% (বিশ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন।

১০০। বিমার কমিশনের অর্থ হইতে কর্তন

কমিশন বা অন্য কোনো উপায়ে সম্মানি বা পুরষ্কারের মাধ্যমে বিমা গ্রহণের জন্য আহ্বান বা বিমা সংগ্রহের ব্যবসাসহ বিমা পলিসির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, নবায়ন বা পুনরুজ্জীবনের সহিত সম্পর্কিত ব্যবসার জন্য কোনো অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত অঙ্ক গ্রহীতার হিসাবে জমা প্রদানকালে বা উক্ত অঙ্কের অর্থ নগদ বা চেক বা ড্রাফট বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে প্রদানকালে, যাহা আগে ঘটে, উক্ত অঙ্কের উপর পাঁচ শতাংশ (৫%) হারে কর কর্তন করিবেন।

১০১। সাধারণ বিমা কোম্পানি জরিপকারীদের ফি, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন

কোনো বিমাকারীর বিমা দাবি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কোনো জরিপ পরিচালনার জন্য কোনো নিবাসীকে পারিশ্রমিক বা ফি দ্বারা অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, অর্থ পরিশোধকালে, মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে আয়কর কর্তন করিবেন।

১০২। সঞ্চয়ী আমানত ও স্থায়ী আমানত, ইত্যাদি হইতে কর কর্তন

(১) এই আইন বা বাংলাদেশে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের কোনো আইনের অধীন কোনো প্রকার ব্যাংকিং, ইনস্যুরেন্স, লিজিং, ফাইন্যান্সিং, ডাক ও ব্যাংকিং, সমবায় বা মোবাইল ফাইন্যন্সিয়াল সার্ভিসেস কার্যক্রম পরিচালনাকারী কোনো ব্যক্তি, অথবা কোনো প্রকারের আমানত (deposit) এর বিপরীতে সুদ বা মুনাফা পরিশোধকারী কোনো ব্যক্তি, অন্য কোনো নিবাসী ব্যক্তিকে কোনো প্রকারের সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করিলে, সুদ বা মুনাফা পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি সুদ বা মুনাফা কোনো ব্যক্তির হিসাবে ক্রেডিটের সময় অথবা সুদ বা মুনাফা পরিশোধের সময়, যাহা পূর্বে ঘটে, নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে উৎসে কর কর্তন করিয়া সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিবেন, যথা:—

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে বোর্ড যাচাই সাপেক্ষে, ক্ষেত্রমত, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ যাহা হইতে এই ধারার অধীন কর কর্তন করিতে হইবে উহা কোনো কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তনযোগ্য।]

১০৪। নিবাসীর সুদ আয় হইতে কর কর্তন

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো ঋণ বা ঋণ গ্রহণের বিপরীতে সুদ বা মুনাফা পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত সুদ বা মুনাফা পরিশোধকালে উক্ত নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিশোধিত সুদ বা মুনাফার উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]

(২) বোর্ড করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই সাপেক্ষে, এই মর্মে লিখিত সার্টিফিকেট প্রদান করিতে পারিবে যে, এই 2[ধারার] অধীন করদাতার প্রাপ্য অর্থের উপর কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে।

১০৫। সঞ্চয় পত্রের মুনাফা হইতে কর কর্তন

(১) এই আইনের অন্য কোনো বিধান বা অন্য কোনো আইনে অনুমোদিত বার্ধক্য তহবিল বা পেনশন তহবিল বা গ্র্যাচ্যুইটি তহবিল বা স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল বা শ্রমিক স্বার্থ অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত সঞ্চয়পত্রের উপর প্রাপ্ত মুনাফা কর অব্যাহতির বিষয়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) কোনো আয়বর্ষে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে পুঞ্জিভূত বিনিয়োগ ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করিলে, উক্তরূপ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত মুনাফা হইতে এই ধারার অধীন কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।

(৩) বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারীর উন্নয়ন বন্ড, মার্কিন ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, মার্কিন ডলার বিনিয়োগ বন্ড, ইউরো প্রিমিয়াম বন্ড, ইউরো বিনিয়োগ বন্ড, পাউন্ড স্টার্লিং ইনভেস্টমেন্ট বন্ড বা পাউন্ড স্টার্লিং প্রিমিয়াম বন্ড হইতে উদ্ভূত সুদ বা লভ্যাংশ হইতে কোনো কর কর্তন করা যাইবে না।

১০৬। সিকিউরিটিজের সুদ হইতে উৎসে কর কর্তন

সরকারি সিকিউরিটিজ অথবা সরকার বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত সিকিউরিটিজ ইস্যুর দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি ডিসকাউন্ট, সুদ বা মুনাফা পরিশোধ বা ক্রেডিটকালে, যাহা আগে ঘটে, 1[নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে উৎসে কর কর্তন করিয়া সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিবেন, যথা:-

১০৭। বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড়ের উপর উৎসে কর কর্তন

বাংলাদেশ ব্যাংক বিলের প্রকৃত মূল্যের ছাড় বা কর্তনের জন্য কোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, উহার উপর প্রযোজ্য পরিমাণের সর্বোচ্চ হারে কর কর্তন করিবেন।

১০৮। আন্তর্জাতিক ফোন কলের জন্য প্রাপ্ত অর্থ হইতে কর কর্তন

(১) আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে সেবা প্রদানের জন্য আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা প্রদানকারীর হিসাবে কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে জমাকৃত মোট অর্থের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।

(২) আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) সেবা অপারেটর, যাহার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফোন কল সম্পর্কিত কোনো অর্থ প্রদান করা হয় অথবা ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স), অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিসেস (এএনএস), বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরী কমিশন (বিটিআরসি) এর সহিত চুক্তির অধীন কোনো হিসাবে অর্থ জমা প্রদান করা হয়, উক্ত চুক্তির আওতায় পরিশোধ বা জমাকৃত মোট অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে বহির্গামী আন্তর্জাতিক কলের ক্ষেত্রে ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) পরিষেবাদি বা অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক পরিষেবাদি (এএনএস) প্রদানের বিনিময়ে কোনো পরিমাণ অর্থ প্রদান বা জমা দেওয়া হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর ৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১), (২) বা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে বোর্ড কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে, লিখিতভাবে কোনো সনদ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি আয়কর হইতে মুক্ত হইবে বা এই ধারায় উল্লিখিত হারের নিম্ন হারে কর প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হইবে এবং এই ধরনের অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে অর্থ পরিশোধ করিবেন-

(ক) কর কর্তন ব্যতীত; অথবা

(খ) সনদে উল্লিখিত হারে কর কর্তন সাপেক্ষে।

১০৯। ভাড়া হইতে উৎসে কর কর্তন

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি-

(ক) কোনো গৃহ সম্পত্তি;

(খ) হোটেল বা গেস্ট হাউজ;

(গ) খালি স্থান বা প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি; বা

(ঘ) সরকারি জলাধার ব্যতীত অন্য কোনো জলাধার,

ভাড়া করেন সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির ভাড়া পরিশোধকালে প্রদেয় ভাড়ার উপর 1[১০% (দশ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বৎসরের কর নির্ধারণের পর দেখা যায় যে, 2[***] সম্পত্তির মালিক কর্তৃক কোনো কর প্রদেয় নাই বা প্রদত্ত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষা অধিক হয়, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত হারে কর্তিত অর্থ ফেরত প্রদান করা হইবে,-

(ক) কোনো কর প্রদেয় না হইলে, সম্পূর্ণ অংশ; বা

(খ) কর্তিত করের পরিমাণ প্রদেয় কর অপেক্ষে অধিক হইলে, যতটুকু অধিক সেইটুকু।

3[(৩) যেইক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার এতদুদ্দেশ্যে কৃত আবেদনের ভিত্তিতে, নির্ধারিত ফরমে সরল বিশ্বাসে এই মর্মে সনদ প্রদান করেন যে, উক্ত বৎসরে সম্পত্তির মালিকের কোনো করযোগ্য আয় নাই বা এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে উহা আয়কর মুক্ত, সেইক্ষেত্রে প্রদত্ত সনদ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত সম্পত্তির ভাড়া হইতে প্রাপ্ত আয়ের উপর কর কর্তনযোগ্য হইবে না।]

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "ভাড়া" অর্থ কোনো পরিশোধ, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহা কোনো লিজ, ভোগ স্বত্ত (tenancy) বা কোনো চুক্তি বা সমঝোতার মাধ্যমে কোনো আসবাবপত্র, জিনিসপত্র এবং ভূমিসহ কোনো ভবন ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়।

১১০। কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, ইত্যাদি হইতে সেবা প্রদানের জন্য কর কর্তন

যেইক্ষেত্রে কোনো কনভেনশন হল, কনফারেন্স সেন্টার, কক্ষ, বা ক্ষেত্রমত, হল, হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার বা কোনো রেস্টুরেন্ট ভাড়া বা স্থান ব্যবহারের জন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত সেবার জন্য পরিশোধিত সম্পূর্ণ পরিমাণের উপর 1[১০% (দশ শতাংশ)] হারে কর উক্ত পরিশোধের সময় কর্তন করিবেন।

১১১। সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হইতে উৎসে কর কর্তন

কোনো স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণের জন্য উহার মালিককে কোনো ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষতিপূরণ প্রদানের সময় নিম্নবর্ণিত হারে কর কর্তন করিবেন,-

(ক) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৬% (ছয় শতাংশ);

(খ) কোনো স্থাবর সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার বাহিরে অবস্থিত হইলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রাপ্ত মোট অর্থের ৩% (তিন শতাংশ)।

১১২। নগদ রপ্তানি ভর্তুকির উপর উৎসে কর কর্তন

রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য রপ্তানিকারককে নগদ রপ্তানি ভর্তুকির কারণে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, অর্থ প্রদান বা জমার সময়, প্রদেয় মোট অর্থের ১০% (দশ শতাংশ) হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।

১১৪। বিদ্যুৎ ক্রয়ের বিপরীতে কর কর্তন

(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা বিদ্যুৎ বিতরণে নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তি 1[অথবা ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হইতে বিদ্যুৎ ক্রয় করেন এইরূপ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি], বিদ্যুৎ ক্রয়ের অর্থ পরিশোধকালে প্রদেয় অর্থের 2[৪% (চার শতাংশ)] হারে কর সংগ্রহ, কর্তন বা পরিশোধ করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন হইতে কোনো আয়বর্ষের আয় এই আইনের কোনো বিধানের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, বোর্ড, উক্ত আয়বর্ষের আয় কোনোরূপ সংগ্রহ বা কর্তন ব্যতীত অথবা আনুপাতিকভাবে হ্রাসকৃত হারে সংগ্রহ বা কর্তন প্রযোজ্য হইবে মর্মে প্রত্যয়ন করিতে পারিবে।

১১৫। রিয়েল এস্টেট উন্নয়নকারীর (ডেভেলপার) নিকট হইতে ভূমির মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন

যেইক্ষেত্রে রিয়েল এস্টেট বা ভূমি উন্নয়ন (ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) ব্যবসার সহিত জড়িত কোনো ব্যক্তি সাইনিং মানি, পণমূল্য (subsistence money), বাড়ির ভাড়া বা অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন ভূমি উন্নয়নের উদ্দেশ্যে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি বা কোনো চুক্তি বা কোনো লিখিত চুক্তি দ্বারা প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, ভূমি মালিককে কোনো অর্থ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্তরূপে অর্থ প্রদানকালে মোট অর্থের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করা হইবে।

১১৬। বিদেশি ক্রেতার এজেন্টকে প্রদত্ত কমিশন বা পারিশ্রমিক হইতে কর কর্তন

যেইক্ষেত্রে, ঋণপত্রের শর্তাবলি বা কোনো নির্দেশের অধীন কোনো ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রপ্তানিকারক পণ্য রপ্তানির জন্য অর্থ প্রদান করে, কোনো এজেন্ট এর হিসাবে পণ্য রপ্তানি হইতে কোনো পরিমাণ অর্থ কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক হিসাবে প্রদান করে, বৈদেশিক ক্রেতা হিসাবে প্রতিনিধিত্বকারী বা উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কমিশন, চার্জ বা পারিশ্রমিক প্রদানের সময় ব্যাংক 1[৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে অগ্রিম কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবে।

১১৭। লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন

বাংলাদেশ নিবন্ধিত কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো কোম্পানির মুখ্য কর্মকর্তা (প্রধান নির্বাহী), কোনো শেয়ারহোল্ডারকে 1[বা ইউনিট হোল্ডারকে] কোনো লভ্যাংশ প্রদানকালে, কোনো নিবাসী বা অনিবাসী বাংলাদেশির ক্ষেত্রে, উক্ত লভ্যাংশ হইতে কর কর্তন করিবেন,-

(ক) শেয়ারহোল্ডার 2[বা ইউনিট হোল্ডার] যদি কোনো কোম্পানি হয়, তাহা হইলে কোম্পানির উপর প্রযোজ্য হারে;

(খ) শেয়ারহোল্ডার 3[বা ইউনিট হোল্ডার] যদি কোম্পানি ব্যতীত কোনো ব্যক্তি হয়, উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) হইলে ১০% (দশ শতাংশ) হারে বা উক্তরূপ লভ্যাংশ গ্রহণকারী ব্যক্তি করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) না হইলে ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান কোনো কোম্পানির কর লভ্যাংশ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবেনা, যদি উক্ত কর লভ্যাংশ ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা ৩২ এর অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

১১৮। লটারি, ইত্যাদি হইতে প্রাপ্ত আয় হইতে কর কর্তন

লটারি, শব্দজট, কার্ড গেইম, অনলাইন গেইম অথবা এইরূপ যেকোনো প্রকৃতির খেলায় জয় লাভ করিয়া কোনো অর্থ প্রাপ্ত হইলে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি, উক্তরূপ অর্থ প্রদানকালে, ২০% (বিশ শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।

ব্যাখ্যা।-এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “যেকোনো পরিমাণ" অভিব্যক্তিটির অর্থ কোনো পণ্য বা সম্পত্তির মূল্য যেখানে উক্ত বিজয়ীর হিসাবে নগদে অর্থ বা সম্পদ দ্বারা প্রদান করা হয়।

১১৯। অনিবাসীদের আয় হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ

(১) এই অধ্যায়ের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য যেকোনো ব্যক্তি কোনো অনিবাসীকে এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধ করেন যাহা এই আইনের অধীন উক্ত অনিবাসীর জন্য করযোগ্য, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ পরিশোধের সময় উক্ত অর্থ প্রদানকারী, যদি না তিনি নিজেই এজেন্ট হিসাবে কর পরিশোধের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন, প্রদেয় অর্থের উপর নির্ধারিত, অনধিক ৩০% (ত্রিশ শতাংশ), হারে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে বোর্ড, এতদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রাপ্ত আবেদনের ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হইয়া আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে সনদ প্রদান করে যে, কোনো অনিবাসীকে কর সংক্রান্ত চুক্তি বা অন্য কোনো কারণে বাংলাদেশে কোনো কর প্রদান করিতে হইবে না বা হ্রাসকৃত হারে কর প্রদান করিতে হইবে, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিশোধ কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর কর্তনপূর্বক করা যাইবে।

(৩) এই ধারার অধীন কর্তনকৃত কর, যে আয়ের উপর উক্ত কর কর্তন করা হইয়াছে, উক্ত আয়ের উপর প্রাপকের ন্যূনতম করদায় বলিয়া গণ্য হইবে এবং কোনো দাবির বিপরীতে উহা সমন্বয় করা যাইবে না।

(৪) কোনো কোম্পানি শেয়ার হস্তান্তর হইতে কোনো অনিবাসী করদাতার পক্ষে মূলধনি আয় উদ্ভূত হইলে, উক্ত শেয়ার হস্তান্তর কার্যকরের জন্য দায়ী ব্যক্তি বা, ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ, উক্ত মূলধনি আয়ের উপর প্রদেয় কর পরিশোধিত না হইলে, উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবেন না।

(৫) এই ধারার অধীন সংগৃহীত কোনো কর নিবাসী কোনো ব্যক্তির নামে জমা হইলে এই ধারার অধীন কর সংগৃহীত হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে।

১২০। আমদানিকারকদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

কমিশনার, কাস্টমস বা এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো কর্মকর্তা পণ্যের আমদানি মূল্যের উপর নির্ধারিত, অনধিক ২০% (বিশ শতাংশ) হারে, উৎসে কর সংগ্রহ করিবেন।

১২১। জনশক্তি রপ্তানি হইতে কর সংগ্রহ

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক-

(ক) জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সিসমূহকে জনশক্তি রপ্তানিতে ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না যদি না এজেন্সিসমূহ জনশক্তি রপ্তানি বাবদ গৃহীত সার্ভিস চার্জ বা ফি’র ১০% (দশ শতাংশ) কর জমার চালানের কপি আবেদনের সহিত জমা প্রদান করে;

(খ) বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৪৮ নং আইন) এর ধারা ৯ এর অধীন লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়ন করিবেন না যদি না জনশক্তি রপ্তানিকারী এজেন্সি এই মর্মে দাখিলকৃত আবেদনের সহিত ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকার করের চালান জমা প্রদান করে।

১২২। ক্লিয়ারিং ও ফরওয়ার্ডিং এজেন্টদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর অধীন অনুমোদিত কোনো ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট কর্তৃক কোনো পণ্য আমদানি বা রপ্তানিকালে ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট এর প্রাপ্য কমিশনের উপর, কমিশনার, কাস্টমস ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।

১২৩। রপ্তানি আয় হইতে কর সংগ্রহ

(১) কোনো ব্যাংক, যেকোনো পণ্য রপ্তানিকারক কর্তৃক রপ্তানির মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ রপ্তানিকারকের হিসাবে জমা প্রদানকালে মোট রপ্তানি আয়ের ১% (এক শতাংশ) হারে কর কর্তনপূর্বক তাহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।

(২) যেইক্ষেত্রে, বোর্ড, আবেদনের ভিত্তিতে এই মর্মে লিখিতভাবে সনদ প্রদান করিয়া থাকে যে, রপ্তানিকারকের আয় এই আইনের অধীন কর অব্যাহতি প্রাপ্ত বা হ্রাসকৃতহারে করযোগ্য, তাহা হইলে ব্যাংক সনদে উল্লিখিত সময়ের জন্য করদাতার হিসাবে কোনো কর্তন ব্যতিরেকে বা সনদে উল্লিখিত হ্রাসকৃতহারে কর কর্তনপূর্বক উহা সরকারি কোষাগারে জমা করিবে।

১২৪। কোনো সেবা, রেভিনিউ শেয়ারিং, ইত্যাদি বাবদ বিদেশ হইতে প্রেরিত আয় হইতে কর কর্তন

ফি, সেবা চার্জ বা পারিশ্রমিক 1[বা প্রাপ্তি], তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বা যেকোনো নামে বা প্রকৃতির রেভিনিউ শেয়ারিং এর মাধ্যমে নিম্নবর্ণিত কাজের বিনিময়ে বিদেশ হইতে প্রেরিত অর্থ কোনো ব্যক্তির হিসাবে পরিশোধ বা জমা প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রাপকের হিসাবে অর্থ পরিশোধ বা জমা প্রদানকালে উক্ত পরিশোধিত বা জমাকৃত অর্থের উপর 2[৭.৫% (সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ)] হারে কর কর্তন করিবেন, যথা:-

(ক) বাংলাদেশে প্রদত্ত কোনো সেবার জন্য;

(খ) কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো বিদেশি ব্যক্তিকে পরিষেবা প্রদান 3[, কোনো সম্পত্তি ভাড়া প্রদান] বা কোনো কাজের জন্য;

(গ) বিজ্ঞাপন বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কোনো অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহারের অনুমতি প্রদানের জন্য:

তবে শর্ত থাকে যে,-

4[(১) ফ্রেইট ফরওয়ার্ড এজেন্ট কর্তৃক গৃহীত গ্রস বিল বা কমিশনসহ গ্রস বিল বিলের উপর ১.৫% (এক দশমিক পাঁচ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিতে হইবে;]

5[(২) বিদেশ হইতে প্রেরিত নিম্নবর্ণিত অর্থের বিপরীতে কোনো কর্তন করা যাইবে না, যথা:-

(অ) ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর দফা (১২), (১৭), (২১) ও (৩৩) দ্বারা মোট আয় বহির্ভূত অর্থ;

(আ) কোনো শিক্ষা বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গৃহীত কোনো দান বা অনুদান হয়।]

১২৫। সম্পত্তি হস্তান্তর, ইত্যাদি হইতে কর সংগ্রহ

(১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর section 17 এর sub-section (1) এর clauses (b), (c) বা (e) এর অধীন দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা কোনো দলিল দস্তাবেজ নিবন্ধন করিবেন না, যদি না সম্পত্তি হস্তান্তরকারী নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করেন।]

(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করের হার-

(ক) জমির ক্ষেত্রে 2[শতাংশ প্রতি ১২ (বারো)] লক্ষ টাকা;

(খ) কোনো স্থাপনা, ভবন, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লোর স্পেস এর ক্ষেত্রে প্রতি বর্গমিটার ১ (এক) হাজার টাকা; অথবা

(গ) দলিলে উল্লিখিত মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ),

যাহা অধিক হয়, তাহা অতিক্রম করিবে না।

(৩) এই ধারার কোনো কিছুই নিম্নরূপ কোনো দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথা:-

(ক) বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিক্রয়;

(খ) ঋণের বিপরীতে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রদত্ত বন্ধকী সম্পদ;

(গ) সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত সুকুক ইস্যুর নিমিত্ত গঠিত কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল হইতে অথবা কোনো ট্রাস্ট বা স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল বরাবর কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর।

১২৬। ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

(১) Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর অধীন কোনো ভূমি, স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস হস্তান্তরের নিমিত্ত কোনো দলিল নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি উক্তরূপ কোনো দলিল নিবন্ধন করিবেন না, যদি না ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার কর্তৃক নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করা হয়।

(২) এই ধারার অধীন কর সংগ্রহের ক্ষেত্রে, করহার নিম্নবর্ণিত হারের অধিক হইবে না, যথা:—

ক) আবাসিক উদ্দেশ্যে নির্মিত বা ব্যবহৃত স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের ক্ষেত্রে বর্গমিটার প্রতি ১৬০০ (এক হাজার ছয়শত) টাকা;

খ) স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস আবাসিক উদ্দেশ্যে নির্মিত বা ব্যবহৃত না হইলে বর্গমিটার প্রতি ৬৫০০ (ছয় হাজার পাঁচশত) টাকা;

গ) স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের সহিত সংশ্লিষ্ট ভূমির ক্ষেত্রে দলিলমূল্যের ৫% (পাঁচ শতাংশ)।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার” বলিতে রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৪৮ নং আইন) এ বর্ণিত ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারকে বুঝাইবে এবং যদি কোনো ব্যক্তি ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারের অনুরূপ কার্যাবলি সম্পাদনপূর্বক তাহার নিজের বা অন্যের ভূমি উন্নয়ন করেন অথবা তাহার নিজের বা অন্যের ভূমিতে স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেস নির্মাণ করেন; অথবা ভূমির মালিক বা স্থাপনা, বাড়ি, ফ্ল্যাট, অ্যাপার্টমেন্ট অথবা ফ্লোর স্পেসের মালিক ডেভেলপার বা কো-ডেভেলপারের ন্যায় আচরণ করেন, তাহা হইলে তিনিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন।]

১২৭। সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বাবদ পরিশোধিত কমিশন হইতে কর সংগ্রহ

সরকারি স্ট্যাম্প, কোর্ট ফি, কার্টিজ পেপার বা অনুরূপ প্রকৃতির অন্য কোনো কিছু বিক্রয়ের বিপরীতে কোনো কমিশন, বাট্টা বা ফি, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, পরিশোধকালে পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ পরিশোধিত অর্থ হইতে ১০% (দশ শতাংশ) হারে উৎসে কর কর্তন করিবেন।

১২৮। সম্পত্তির ইজারা হইতে কর সংগ্রহ

Registration Act, 1908 (Act No. XVI of 1908) এর অধীন নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অন্যূন ১০ (দশ) বৎসরের মেয়াদের কোনো স্থাবর সম্পত্তির ইজারা সম্পর্কিত কোনো দলিল নিবন্ধন করিবেন না, যদি না উক্তরূপ সম্পত্তির ইজারা মূল্যের উপর ৪% (চার শতাংশ) হারে 1[2[ইজারাদাতা] কর্তৃক] কর পরিশোধ করা হয় 3[:]

4[তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে কোনো আয়বর্ষে এই ধারার অধীন উৎসে কর কর্তনযোগ্য প্রাপক বা প্রাপকের আয় করমুক্ত বা হ্রাসকৃত হারে করারোপযোগ্য, সেইক্ষেত্রে বোর্ড, সেইরূপ কোনো প্রাপকের আবেদনের ভিত্তিতে, এই মর্মে সনদ প্রদান করিবে যে উক্ত ব্যক্তিকে প্রদেয় কোনো অর্থ, যাহা এই ধারার অধীন কর কর্তনযোগ্য, কর কর্তন ব্যতিরেকে বা হ্রাসকৃত হারে কর্তন করিয়া পরিশোধ করা যাইবে।]

১২৯। সিগারেট 1[উৎপাদনকারী] হইতে কর সংগ্রহ

কোনো সিগারেট 2[উৎপাদনকারীর] কাছে ব্যান্ডরোল বিক্রির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি, ব্যান্ডরোল বিক্রয়কালে, উক্তরূপ 3[উৎপাদনকারীর] নিকট হইতে ব্যান্ডরোলের মোট মূল্যমানের ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিবেন।

ব্যাখ্যা।- এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "সিগারেটের উৎপাদন" অর্থ কোনোরূপ যান্ত্রিক সহায়তা ব্যতীত প্রচলিত বা ঘরোয়া পদ্ধতিতে সিগারেট উৎপাদন।

১৩০। ইট প্রস্তুতকারকের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

(১) ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন) এর অধীন ইট প্রস্তুত বা উৎপাদনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি এই ধরনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করিবেন না, যদি না এই ধরনের লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের আবেদনপত্রের সহিত-

(অ) ইটভাটার আয়তন ও প্রকৃতি বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, ইট উৎপাদনের পদ্ধতি ও প্রকৃতি উল্লেখপূর্বক একটি কর পরিশোধের সনদ সংযুক্ত থাকে; এবং

(আ) নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের এ-চালান সংযুক্ত থাকে:

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসরে একাধিক বৎসরের জন্য লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করা হইবে, সেইক্ষেত্রে লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়নের বৎসরের পরের বৎসর বা বৎসরসমূহের ৩০ জুন তারিখের মধ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত হারে অগ্রিম কর চালানের মাধ্যমে জমা করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসরে ইট প্রস্তুতকারী বা উৎপাদনকারী ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় অগ্রিম করের পরিমাণ ক + খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে—

ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং

খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী প্রদেয় অগ্রিম করের পরিমাণ।

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—

(ক) “আয়তন” অর্থ ইটভাটার দেয়ালের ভেতরের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার পরিমাপ;

(খ) “ইটভাটা” অর্থ এইরূপ কোনো স্থান বা অবকাঠামো যেখানে ইট প্রস্তুত করা হয়;

(গ) “মৌসুমী ইটভাটা” অর্থ এইরূপ কোনো ইটভাটা যেখানে শুষ্ক মৌসুমে হাতের সাহায্যে ইট প্রস্তুতকরণসহ ইট পোড়ানো হয়।]

১৩১। ট্রেড লাইসেন্স প্রদান বা নবায়নের সময় কর সংগ্রহ

[ট্রেড] লাইসেন্স নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি প্রতিটি 2[ট্রেড] লাইসেন্স নবায়নের জন্য নিম্নবর্ণিত হারে কর সংগ্রহ করিবে, যথা:-

(ক) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন বা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩ (তিন) হাজার টাকা;

(খ) অন্য কোনো সিটি কর্পোরেশনে ২ (দুই) হাজার টাকা;

(গ) কোনো জেলা সদর দফতরের পৌরসভায় ১ (এক) হাজার টাকা;

(ঘ) কোনো পৌরসভায় ৫০০ (পাঁচশত) টাকা।

১৩২। কোনো নিবাসীর জাহাজ ব্যবসা হইতে কর সংগ্রহ

যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কাস্টমস কমিশনার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, কোনো নিবাসী করদাতার মালিকানাধীন বা ভাড়াকৃত যাত্রী, গবাদি পশু, ডাক ​​বা পণ্য পরিবহনকারী কোনো জাহাজকে পোর্ট ক্লিয়ারেন্স প্রদান করিবেন না, যদি না উক্ত নিবাসী করদাতা সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সনদ গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশে প্রবেশ বা বিদেশে প্রেরিতব্য মোট মালামালের 1[ভাড়ামূল্যের] উপর ৫% (পাঁচ শতাংশ) হারে কর প্রদান করেন:

তবে শর্ত থাকে যে, দুই বা ততোধিক 2[দেশে] প্রদত্ত পরিষেবার বিনিময়ে গৃহীত বা গৃহীতব্য পরিবহণকৃত মালের 3[ভাড়ামূল্যের] উপর ৩% (তিন শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করা হইবে।

১৩৩। প্রকাশ্য নিলামের বিক্রি হইতে কর সংগ্র

(১) কোনো ব্যক্তি কোনো নির্দিষ্ট মালিকের কোনো পণ্য বা সম্পত্তি সীলমোহরযুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রয় করিলে উক্ত পণ্য বা সম্পত্তির স্বত্ব হস্তান্তর অথবা কোনো অধিকার চর্চার অনুমতি প্রদানের পূর্বে মোট বিক্রয় মূল্যের উপর ১০% (দশ শতাংশ) হারে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।

(২) প্রকাশ্য নিলামে চা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ১% (এক শতাংশ) হারে উৎসে কর সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে প্লট আকারে কোনো জমি বিক্রয় করা হইলে এই ধারার অধীন কর কর্তন প্রযোজ্য হইবে না।

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) “কোনো পণ্য বা সম্পত্তি বিক্রয়” অর্থে কোনো পণ্য বা সম্পত্তির ইজারা, জলমহাল, বালুমহাল, সায়রাত মহালের ইজারা, যেকোনো প্রকারের অধিকারের ইজারা, অক্ট্রয় ফি (octroi duties) বা অন্যান্য আরোপনীয় কর, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, সংগ্রহের অধিকারসহ কোনো ব্যক্তির নামে কোনো ইজারা প্রদানের অধিকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে কোনো জমির প্লট বিক্রয় ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(খ) “নির্দিষ্ট মালিক" অর্থ সরকার বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ, ইউনিটসহ কোনো কর্পোরেশন বা সংস্থা, যাহার কার্যক্রম বা প্রধান কার্যক্রম কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ বা আইনের মর্যাদাসম্পন্ন দলিল দ্বারা অনুমোদিত বা বাংলাদেশে বলবৎ কোনো আইনের অধীন অনুমোদিত বা প্রতিষ্ঠিত কোনো সত্তা বা কোনো কোম্পানি।

১৩৪। শেয়ার হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ

নিবাসী কোনো ব্যক্তি হইতে অপর কোনো ব্যক্তির নিকট তালিকাভুক্ত নহে এইরূপ কোনো কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তর নিবন্ধনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্তরূপ হস্তান্তর নিবন্ধন করিবেন না, যদি না হস্তান্তরকারী নিবাসী ব্যক্তি হস্তান্তরিত শেয়ারের অভিহিত মূল্য এবং ন্যায্য মূল্যের 1[পার্থক্যের] পার্থক্যের উপর ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর জমা প্রদানের চালান নিবন্ধনের আবেদনের সহিত সংযুক্ত করেন।

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্যেপূরণকল্পে,-

(ক) “অভিহিত মূল্য” অর্থ ইস্যুকারী কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য এবং অতিরিক্ত কোনো অর্থ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে যদি উহা-

(অ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়; এবং

(আ) করদাতার আয়কর রিটার্নে যথাযথভাবে প্রদর্শিত হয়;

(খ) “ন্যায্য মূল্য” অর্থ শেয়ার হস্তান্তরের পূর্বে কৃত মূল্যায়ন প্রতিবেদনে (valuation report) পেশাদার মূল্যায়নকারী (Professional valuer) দ্বারা নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য;

2[(গ) “পেশাদার মূল্যায়নকারী (professional valuer)” বলিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত কোনো পেশাদার মূল্যায়নকারীকে বুঝাইবে।]

১৩৫। সিকিউরিটিজ হস্তান্তর হইতে কর সংগ্রহ

(১) স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি বা তহবিলের সিকিউরিটিজ হস্তান্তরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি সিকিউরিটিজ হস্তান্তর করিবেন না, যদি না উক্ত হস্তান্তর কার্যকর করিবার পূর্বে হস্তান্তরকারী কর্তৃক নিম্নবর্ণিত নিয়মে কর পরিশোধ করা হইয়া থাকে, যথা:—

ক = (খ - গ) × 2[১৫% (পনের শতাংশ)], যেখানে,

ক = এই ধারার অধীন প্রদেয় করের পরিমাণ;

খ = সিকিউরিটিজের হস্তান্তর মূল্য;

গ = সিকিউরিটিজের অর্জন মূল্য।

(২) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,—

(ক) “সিকিউরিটিজ” অর্থ কোনো কোম্পানির বা তহবিলের স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার, ডিরেক্টর শেয়ারহোল্ডার বা প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডার কর্তৃক ধারণকৃত উক্ত কোম্পানি বা তহবিলের সিকিউরিটিজ;

(খ) “হস্তান্তর" অর্থ মাতা-পিতা ও সন্তান 3[, আপন ভাই অথবা আপন বোন] এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দান ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার হস্তান্তর;

(গ) “হস্তান্তর মূল্য” অর্থ—

(অ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক হস্তান্তরের সম্মতি বা অনুমোদন প্রদানের দিনে সিকিউরিটিজের সমাপনী মূল্য (closing price); বা

(আ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃক সম্মতি প্রদানের দিনে সিকিউরিটিজের কোনো লেনদেন না হইলে সর্বশেষ যে দিন লেনদেন হইয়াছিল উক্ত দিনে সিকিউরিটিজের সমাপনী মূল্য।

১৩৬। স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার স্থানান্তর হইতে কর সংগ্রহ

(১) স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫ নং আইন) এর অধীন প্রতিষ্ঠিত স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারের শেয়ার হস্তান্তর হইতে উদ্ভূত কোনো লাভ বা মুনাফার উপর উক্ত শেয়ার হস্তান্তরকালে বা হস্তান্তরের ঘোষণা প্রদানকালে বা উক্তরূপ হস্তান্তরের সম্মতি প্রদানকালে, যাহা আগে ঘটে, ১৫% (পনেরো শতাংশ) হারে কর কর্তন করিবেন।]

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন 2[লাভ বা মুনাফা] গণনার উদ্দেশ্যে এক্সচেঞ্জস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ (২০১৩ সনের ১৫নং আইন) কার্যকর হইবার পূর্বের শেয়ারের অর্জন মূল্যকে উক্ত শেয়ারের অর্জন মূল্য হিসাবে গ্রহণ করা হইবে।

১৩৭। স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যদের নিকট হইতে কর সংগ্রহ

স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেয়ার, ডিবেঞ্চার, মিউচুয়াল ফান্ড বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যের দ্বারা প্রদত্ত সিকিউরিটিজ লেনদেনের মূল্য পরিশোধকালে 1[০.০৩% (শূন্য দশমিক শূন্য তিন শতাংশ)] হারে কর সংগ্রহ করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার বিধান তালিকাভুক্ত কোনো সুকুক ও বন্ড হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।

১৩৮। বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত মোটরযান হইতে কর সংগ্রহ

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, মোটরযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না, যদি না নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের চালান মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা হয়, যথা:-

(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধিতব্য কর নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোর ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-

ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং

খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ।

2[(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন অগ্রিম কর সংগ্রহ করা যাইবে না, যদি মোটরযানটি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়, যথা:-

(ক) সরকার;

(খ) সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন কোনো প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;

(গ) কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও ইহার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ;

(ঘ) বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং ইহার সংযুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ;

(ঙ) ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে রিটার্ন দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাগণ; বা

(চ) অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে না মর্মে বোর্ড হইতে সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান।]

১৩৯। নৌযান পরিচালনা হইতে কর সংগ্রহ

১) Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এর অধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি উক্ত Ordinance এর section 9 এর অধীন কোনো নৌযানকে সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন না বা section 12 এর অধীন সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করিবেন না, যদি না সার্ভে সার্টিফিকেট প্রাপ্তি বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের আবেদনের সহিত নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম কর জমার চালান সংযুক্ত করা হয়, যথা:-

(২) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধতব্য কর সার্ভে সার্টিফিকেট প্রদান বা সার্ভে সার্টিফিকেট নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা কোনো বৎসরের ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো বৎসর কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) অনুযায়ী অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হন, সেইক্ষেত্রে পরবর্তী বৎসরে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ক+খ নিয়মে নির্ধারিত হইবে, যেখানে-

ক = পূর্ববর্তী বৎসর বা বৎসরগুলোতে অপরিশোধিত অগ্রিম করের পরিমাণ, এবং

খ = পরিশোধের বৎসরে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী পরিশোধিতব্য অগ্রিম করের পরিমাণ ।

(৪) এই ধারায় “নৌ-যান (Inland Ship)” এবং “অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ (Inland Water)” বলিতে Inland Shipping Ordinance, 1976 (Ordinance No. LXXII of 1976) এ সংজ্ঞায়িত যথাক্রমে “Inland Ship” এবং “Inland Water” কে বুঝাইবে।

১৪০। সংজ্ঞা

সংজ্ঞা।-এই অংশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,

(১) "অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি" বলিতে-

(অ) "চাকরি হইতে আয়" খাতের অধীন আয় হিসাবে পরিগণিত হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বয়ং নিয়োগকর্তা বা যেইক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান হয়, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ কর্তৃপক্ষ, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান এবং উহাদের প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(আ) "আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয়" খাতের অধীন কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, উক্ত আর্থিক পরিসম্পদ ইস্যুকারী কোনো সংস্থা, কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান অথবা উক্ত সংস্থা, কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্মকর্তা; এবং

(ই) এই আইনের অধীন করযোগ্য আয় হিসাবে পরিগণিত অন্য কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বা এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ প্রযোজ্য হয় এইরূপ কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে, স্বয়ং অর্থ প্রদানকারী অথবা অর্থ প্রদানকারী কোনো কোম্পানি বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হইলে, উহার প্রধান কর্মকর্তাও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(২) “চুক্তি” অর্থে উপ-চুক্তি, উপ-উপ-চুক্তি, অনুযাত (subsequent) চুক্তি, কোনো সমঝোতা (agreement) বা বন্দোবস্ত (arrangement) যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৩) “নির্দিষ্ট ব্যক্তি” অর্থ-

(ক) কোনো কোম্পানি, ফার্ম, ব্যক্তিসংঘ, ট্রাস্ট বা তহবিল;

(খ) পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ;

(গ) কোনো বিদেশি ঠিকাদার, বিদেশি এন্টারপ্রাইজ বা বাংলাদেশের বাহিরে প্রতিষ্ঠিত কোনো সংঘ বা সংস্থা;

(ঘ) কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার;

(ঙ) বার্ষিক এক কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট কোনো ই-কমার্স প্লাটফর্ম, যাহা অন্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি নহে, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;

(চ) বার্ষিক ১ (এক) কোটি টাকার অধিক টার্নওভার বিশিষ্ট হোটেল, 1[রিসোর্ট, মোটেল, রেস্টুরেন্ট, কনভেনশন সেন্টার,] কমিউনিটি সেন্টার, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি;

(ছ) কৃষক নহেন এইরূপ কোনো ব্যক্তি যিনি তামাক পাতা, সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও অন্যান্য তামাক জাতীয় পণ্য উৎপাদন এবং সরবরাহে জড়িত;

(৪) “পরিশোধ” বলিতে স্থানান্তর, ক্রেডিট, পরিশোধের সমন্বয় বা কোনো পরিশোধ করিবার আদেশ বা নির্দেশ অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৫) “ভিত্তিমূল্য” বলিতে নিম্নবর্ণিত ৩ (তিন) টি বিষয়ের মধ্যে যাহা অধিক তাহাকে বুঝাইবে-

(অ) চুক্তি মূল্য;

(আ) বিল বা ইনভয়েসের অঙ্ক; বা

(ই) পরিশোধ।

১৪১। কর ব্যতীত পরিশোধ এর ক্ষেত্রে গ্রস-আপ পূর্বক কর কর্তন বা সংগ্রহ

(১) যেইক্ষেত্রে অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি 1[বা নির্দিষ্ট ব্যক্তি] কর ব্যতীত কোনো পরিশোধ করেন, সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে পরিগণিত অঙ্কের উপর প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করিতে হইবে, যথা:-

গ = (১০০ × ক)/(১০০-খ), যেখানে-

গ = কর্তনের উদ্দেশ্যে পরিগণিত অঙ্ক,

ক = কর ব্যতীত পরিশোধ এর পরিমাণ,

খ = প্রযোজ্য করহার।

(২) যেইক্ষেত্রে, কর ব্যতীত পরিশোধের প্রাপক,-

(ক) রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপনে বাধ্য কিন্তু উহা উপস্থাপনে ব্যর্থ হইয়াছেন; বা

(খ) ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পরিশোধ গ্রহণে ব্যর্থ হইয়াছেন,

সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ‘খ’ এই অধ্যায়ের বিধানানুযায়ী নির্ধারিত হইবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “কর ব্যতীত পরিশোধ” অর্থ কোনো চুক্তি বা বন্দোবস্তের আওতায় উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ ব্যতিরেকে পরিশোধকারী কর্তৃক প্রাপকের বরাবর কোনো পরিশোধ।

১৪২। উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের সাধারণ বিধান

(১) ধারা ১১৯ এর ব্যতিক্রম সাপেক্ষে ও এই অধ্যায়ের অন্যান্য ধারায় ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই 1[অংশের অধীন] কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে 2[:]

3[তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয় এইরূপ ব্যক্তি বা ধারা ২৬৪ এর উপ-ধারা (৪) অনুযায়ী বোর্ড কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণক দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]

(২) ভিন্নরূপ কোনো বিধান না থাকিলে, এই অংশের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, যাহার নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইবে সেই ব্যক্তি চুক্তিমূল্য, বিল, ভাড়া, ফি, চার্জ, রেমুনারেশন, বেতনাদি বা অন্য কোনো অর্থ পরিশোধ তাহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, বাবদ কোনো অর্থ ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে গ্রহণ না করিলে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হার অপেক্ষা ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।

১৪৩। কর্তন, সংগ্রহ, ইত্যাদির ব্যর্থতার ফলাফল

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি এই অংশের বিধানাবলির অধীন-

(ক) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিতে ব্যর্থ হন; বা

(খ) অপেক্ষাকৃত কম হারে বা পরিমাণে কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন; বা

(গ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর তাহা সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে ব্যর্থ হন অথবা যেই পরিমাণ কর কর্তন বা সংগ্রহ করেন তাহার চাইতে কম পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করেন; বা

(ঘ) অন্য কোনো প্রকার পরিপালনে ব্যর্থ হন,

সেইক্ষেত্রে এইরূপ ব্যক্তি খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।

(২) উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি, এই আইনের অধীন অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন তাহা ক্ষুণ্ন না করিয়া নিম্নবর্ণিত অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন, যথা:-

(ক) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা হয় নাই;

(খ) যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন বা সংগ্রহ করা আবশ্যক এবং প্রকৃতভাবে যাহা কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে এই দুইয়ের পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থ; বা

(গ) কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবার পর যেই পরিমাণ অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয় নাই তাহার সমপরিমাণ অর্থ; এবং

(ঘ) অন্য কোনো বিধানাবলি পরিপালনের ব্যর্থতায় অনধিক ১০ (দশ) লক্ষ টাকা।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পরিমাণের অর্থ পরিশোধ ছাড়াও, উপ-ধারা (১) অনুযায়ী খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর দফা (ক), (খ) এবং (গ) এ উল্লিখিত পরিমাণের উপর নিম্নবর্ণিত সারণীতে প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ গণনার ভিত্তি অঙ্কের উপর প্রতিমাসে ২% (দুই শতাংশ) হারে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়ী হইবেন, যথা:-

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন অতিরিক্ত অর্থ পরিগণনার মেয়াদ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ হইতে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ মেয়াদ ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক হইবে না।

(৫) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থসহ উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

(৬) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ডে উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-

(ক) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ; অথবা

(খ) ছাড়পত্র, রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্স, পারমিট প্রদান, অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ,

এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।

(৭) যেইক্ষেত্রে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্তৃপক্ষ, প্রজেক্ট, প্রোগ্রাম, সংস্থা, ইউনিট বা সরকারের আর্থিক বা পরিচালনগত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো কর্মকাণ্ড ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত, সেইক্ষেত্রে-

(ক) ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজে, এবং

(খ) অর্থ পরিশোধের অনুমোদন বা অনুমতি দানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাভাবিক ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ-

এই ধারার অধীন কর, জরিমানা ও অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য যৌথভাবে ও পৃথকভাবে দায়ী হইবেন।

(৮) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর সংগ্রহযোগ্য বা কর্তনযোগ্য, তিনি ইতোমধ্যে উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত সকল প্রকারের অর্থ সম্পূর্ণভাবে পরিশোধ করিয়া থাকিলে, উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত অর্থ আদায়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হইবে না।

১৪৪। প্রকৃত কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধ ব্যতীত কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধের সার্টিফিকেট প্রদানের ফলাফল

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি প্রকৃত কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে পরিশোধ ব্যতীত, উৎসে কর কর্তন, সংগ্রহ বা পরিশোধের সার্টিফিকেট প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি, অন্য যে সকল পরিণতির জন্য দায়ী হইতে পারেন, উহা ক্ষুণ্ন না করিয়া, যেই পরিমাণ অর্থ কর্তন, সংগ্রহ বা সরকারের অনুকূলে জমা করা হয় নাই তাহা পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন।

(২) উপকর কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে দায়ী ব্যক্তিকে শুনানির যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান করিয়া তাহার নিকট হইতে উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধযোগ্য অর্থ আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন।

১৪৫। কর কর্তন, ইত্যাদির সার্টিফিকেট

(১) এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে যে ব্যক্তি কর কর্তন বা সংগ্রহ করিবেন তিনি, উক্তরূপ কর কর্তন বা সংগ্রহক্রমে যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, তাহাকে উক্তরূপ কর্তন বা সংগ্রহ সম্পর্কিত একটি সার্টিফিকেট প্রদান করিবেন, যেখানে উল্লেখ থাকিবে-

(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে তাহার নাম ও করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), যদি থাকে;

(খ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থের পরিমাণ;

(গ) যে ধারা বা ধারাসমূহের অধীন কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে;

(ঘ) কর বাবদ কর্তন বা সংগ্রহকৃত অর্থ সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান সংক্রান্ত বিবরণ; এবং

(ঙ) নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়।

(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি নির্ধারণ করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে, বা মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল মাধ্যমে, কর সংগ্রহ বা কর্তনের সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণ করিবার ক্ষেত্রসমূহ;

(খ) উক্ত ইলেক্ট্রনিক, মেশিন রিডেবল বা কম্পিউটার রিডেবল সার্টিফিকেট প্রদান বা প্রেরণের পদ্ধতি।

১৪৬। কর্তিত কর সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান

(১) এই অংশের বিধানাবলির অধীন কর্তন বা সংগ্রহকৃত সকল অর্থ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, অথবা বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসারে, কর্তন বা সংগ্রহকারী ব্যক্তি কর্তৃক সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করিতে হইবে।

(২) এই আইনের বিধানাবলি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কর হিসাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করিতে পারিবেন না, এবং এইরূপভাবে কোনো অর্থ ধার্য, স্থগিত (উইথহোল্ড), কর্তন বা সংগ্রহ করা হইলে তাহা এই ধারা অনুসারে জমা করিতে হইবে।

১৪৭। উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ নিশ্চিতকরণ ও যাচাইকরণ

(১) কর কমিশনার বা 1[মহাপরিচালক (পরিদর্শন) বা মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল)] কর্তৃক লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ যাচাইয়ের লক্ষ্যে বা এই অংশের বিধানাবলির প্রয়োগের উদ্দেশ্যে-

(ক) যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের-

(অ) প্রাঙ্গণ, স্থান, পণ্য, হিসাব বহি এবং যেকোনো প্রকারে বা পদ্ধতিতে রক্ষিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের রেকর্ডে পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন প্রবেশ করিতে পারিবে;

(আ) কম্পিউটারে রক্ষিত বা লভ্য (available) কোনো এনক্রিপ্টেড উপাত্তকে পাঠযোগ্য ও বোধগম্য বিন্যাসে (format) বা পাঠে (text) আনস্ক্র্যামবল বা রিট্রান্সফরম করিবার ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো তথ্য, কোড বা প্রযুক্তিতে প্রবেশ করিতে পারিবে;

(ই) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ডে বা সিস্টেমে সংরক্ষিত উপাত্ত, ইমেজ বা অন্য কোনো ইনপুট এক্সট্রাক্ট (extract) করিতে পারিবে;

(ঈ) পাসওয়ার্ড ব্রেক করিয়া সিস্টেমে প্রবেশ করিতে পারিবে;

(উ) কোনো তথ্য, হিসাবের বহি, দলিলাদি, ইমেজ বা ইনপুটের কপি বা বিশ্লেষণ করিতে পারিবে;

(ঊ) হিসাব বহি ও অন্যান্য দলিলাদিতে শনাক্ত চিহ্ন বা স্ট্যাম্প ছাপ দিতে পারিবে এবং উহাদের কপি বা এক্সট্রাক্ট লইতে পারিবে;

(ঋ) যেকোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম জব্দ করিতে এবং নিজেদের দখলে রাখিতে পারিবে;

(এ) কোনো ব্যক্তিকে কোনো কার্যকলাপ করা বা করা হইতে বিরত থাকিবার নির্দেশ দিতে পারিবে;

(খ) যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ বিশেষজ্ঞ, মূল্য নির্ধারক বা বাহিনী নিজেদের সহিত নিতে পারিবে।

(২) এই ধারার অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যক্তির প্রাঙ্গণে বা স্থানে প্রবেশ করিলে বা প্রবেশের অভিপ্রায় ব্যক্ত করিয়া যদি কোনো প্রকার বাধা, প্রতিবন্ধকতা বা অসহযোগিতার সম্মুখীন হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে অনধিক ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা জরিমানা আরোপ করিতে পারিবেন।

(৩) কোনো ব্যক্তি এই ধারার বা এই আইনের এই অংশের বিধানাবলি পরিপালনে ব্যর্থ হইলে, উপকর কমিশনার উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত ব্যাখ্যা লিপিবদ্ধপূর্বক, বা কোনোরূপ ব্যাখ্যার অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে কর নির্ধারণ সম্পন্ন করিয়া নিরূপিত কর ও আরোপিত জরিমানা আদায় করিবেন।

১৪৮। অন্যান্য পদ্ধতি ক্ষুণ্ন না করিয়া কর আরোপের ক্ষমতা

এই অংশের অধীন কর্তন বা সংগ্রহের মাধ্যমে কর আরোপের ক্ষমতা অন্যান্য পদ্ধতিতে কর আদায়ের ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া প্রযুক্ত হইবে।

১৪৯। উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি

যেইক্ষেত্রে এই অংশের অধীন কর হিসাবে কোনো অর্থ সংগ্রহ বা কর্তন করা হয় এবং সরকারের অনুকূলে জমা প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে-

(ক) যে ব্যক্তির নিকট হইতে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তি কর্তৃক তাহা পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে;

(খ) এইরূপ কর্তন বা সংগ্রহের ক্ষেত্রে, দফা (ক) এ উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারীর বিরুদ্ধে কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন না এবং আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইলে কর্তনকারী বা, ক্ষেত্রমত, সংগ্রহকারী দায়মুক্তি পাইবেন।

১৫০। উৎসে কর্তনকৃত বা সংগ্রহকৃত করের ক্রেডিট প্রদান

(১) এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ করিয়া তাহা সরকারের হিসাবে জমা প্রদান করা হইলে উক্ত কর যে ব্যক্তির আয় হইতে কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে সেই ব্যক্তির আয়ের উপর কর পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আয় কর পরিশোধ করা হইলে, যেই আয়বর্ষে কর কর্তন বা সংগ্রহ করা হইয়াছে, সেই আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির করদায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে উহার ক্রেডিট প্রদান করা হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক অপর ব্যক্তির পক্ষে উৎসে কর পরিশোধ করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত ক্রেডিট উক্ত অপর ব্যক্তির করদায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রদান করা হইবে।

১৫১। কোনো কর্তন না করিবার ক্ষেত্রে কর পরিশোধ

করদাতা কর্তৃক এই আইনের অধীন নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সরাসরি কর পরিশোধযোগ্য হইবে, যথা:-

(ক) এই অংশের বিধানাবলি সাপেক্ষে আবশ্যক কোনো কর কর্তন বা সংগ্রহ না করা হইলে;

(খ) নিয়মিত কর নির্ধারণের পর করদাতার পরিশোধযোগ্য কর অপেক্ষা কর্তন বা সংগ্রহকৃত করের পরিমাণ কম হইলে ঘাটতির সমপরিমাণ;

(গ) এই অংশের অধীন কোনো আয় বাবদ কর কর্তন বা সংগ্রহের বিধান করা না হইলে উক্ত আয়ের ক্ষেত্রে।

১৫২। সিগারেট প্রস্তুতকারকের নিকট হইতে অগ্রিম কর সংগ্রহ

(১) সিগারেট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে নিট বিক্রয়মূল্যের 1[৫% (পাঁচ শতাংশ)] হারে অগ্রিম কর পরিশোধ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধিত অগ্রিম কর ধারা ১৫৫ এর অধীন পরিশোধযোগ্য অগ্রিম করের ত্রৈমাসিক কিস্তির বিপরীতে সমন্বয়যোগ্য হইবে।

(৩) এই ধারায় “নিট বিক্রয়” বলিতে বুঝাইবে ক-খ, যেইক্ষেত্রে-

ক = মোট বিক্রয় (gross sale), এবং

খ = উক্ত মোট বিক্রয়ের উপর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক, যদি থাকে।

১৫৩। মোটরযান মালিকগণের নিকট হইতে অগ্রিম কর সংগ্রহ

(১) প্রত্যেক 2[***] মোটরযানের মালিকের উক্ত মোটরযান রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আয় রহিয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং তিনি নির্ধারিত হারে ও পদ্ধতিতে অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, মোটরযান নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করিবেন না, যদি না নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত হারে পরিশোধিত অগ্রিম করের চালান মোটরযানের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আবেদনের সহিত দাখিল করা হয়, যথা:-

[তবে শর্ত থাকে যে, কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি নিজ নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির সহিত যৌথভাবে একাধিক মোটরযানের মালিক হইলে, উক্ত ব্যক্তিকে একের অধিক প্রতিটি মোটরযানের জন্য ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হারে কর পরিশোধ করিতে হইবে।]

(৩) যেইক্ষেত্রে একাধিক বৎসরের জন্য নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়ন করা হয় সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধিতব্য কর নিবন্ধন প্রদান বা ফিটনেস নবায়নের বৎসরের পরবর্তী বৎসর বা কোনো বৎসরের ৩০ জুন তারিখ বা তৎপূর্বে সংগ্রহ করিতে হইবে।

4[***]

5[(৫) উপ-ধারা (২) এর অধীন অগ্রিম কর সংগ্রহ করা যাইবে না, যদি মোটরযানটি নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হয়, যথা:-

(ক) সরকার;

(খ) সরকার বা স্থানীয় সরকারের অধীন কোনো প্রকল্প, কর্মসূচি বা কার্যক্রম;

(গ) কোনো বৈদেশিক কূটনীতিক, বাংলাদেশে কোনো কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘ ও ইহার অঙ্গ সংগঠনের দপ্তরসমূহ;

(ঘ) বাংলাদেশের কোনো বিদেশি উন্নয়ন অংশীজন এবং ইহার সংযুক্ত দপ্তর বা দপ্তরসমূহ;

(ঙ) ধারা ১৬৬ এর উপ-ধারা (২) অনুসারে রিটার্ন দাখিল হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতাগণ;

(চ) গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা;

(ছ) অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে না মর্মে বোর্ড হইতে সার্টিফিকেট গ্রহণকারী কোনো প্রতিষ্ঠান।]

(৬) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (২) এর অধীন অগ্রিম কর পরিশোধ করেন, এবং উক্ত ব্যক্তির নিয়মিত উৎসের আয়ের উপর প্রযোজ্য করদায় উক্ত অগ্রিম কর অপেক্ষা কম হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির উক্ত আয়বর্ষে এইরূপ ধারণাগত আয় ছিল মর্মে গণ্য হইবে যাহার উপর গণনাকৃত করদায় উপ-ধারা (২) এর অধীন সংগৃহীত।

(৭) উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধকৃত অগ্রিম কর ফেরতযোগ্য হইবে না।

(৮) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) “মোটরযান” অর্থে জিপ ও মাইক্রোবাস অন্তর্ভুক্ত হইবে, তবে ধারা ১৩৮ এ উল্লিখিত কোনো মোটরযান ও মোটসাইকেল ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

(খ) “নিয়মিত উৎসের আয়” বলিতে ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত উৎসসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো উৎসের আয় বুঝাইবে।

১৫৪। অগ্রিম কর পরিশোধ

(১) এই অংশের বিধানাবলি সাপেক্ষে, উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তির সর্বশেষ নিরূপিত আয়বর্ষে তাহার মোট আয় ৬ (ছয়) লক্ষ টাকার অধিক হইলে উক্ত করদাতা কর্তৃক প্রতি চলমান অর্থবৎসরে আয়ের উপর অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এবং এইক্ষেত্রে তাহা “অগ্রিম কর” হিসাবে উল্লিখিত হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর কোনো কিছুই করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যদি-

(ক) করদাতা কেবল জমি চাষাবাদ হইতে অনধিক ৮ (আট) লক্ষ টাকা উপার্জন করেন;

(খ) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত মোট আয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত আয় অন্তর্ভুক্ত হইয়া থাকে, যথা:-

(অ) “মূলধনি আয়”; বা

(আ) “এককালীন আয়” প্রকৃতির কোনো আয় যাহা এই অংশের অধীন যে চলমান অর্থবর্ষে অগ্রিম কর পরিশোধ্য, উক্ত অর্থবর্ষে উপার্জনের প্রত্যাশা করা যায় না।

১৫৫। অগ্রিম করের পরিমাণ এবং তাহা পরিশোধের সময়

(১) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে এবং ধারা ১৫৪ এর বিধানাবলি ক্ষুণ্ন না করিয়া, কোনো চলমান অর্থ বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম অগ্রিম কর হইবে ক-খ এর সমপরিমাণ, যেইক্ষেত্রে-

ক = সর্বশেষ আয়বর্ষ নির্ধারিত করদাতার মোট আয়ের উপর পরিশোধযোগ্য কর যাহা উক্ত অর্থবর্ষে প্রযোজ্য হারে পরিগণনাকৃত;

খ = এই অংশের অধীন উৎসে কর্তনকৃত বা সংগ্রহকৃত কর বা অংশ ৭ এর অধীন পরিশোধকৃত অগ্রিম করের পরিমাণ।

(২) অগ্রিম কর হিসাবে পরিশোধযোগ্য ন্যূনতম কর নিম্নবর্ণিতভাবে ৪ (চার) টি সমান কিস্তিতে পরিশোধ্য হইবে, যথা:-

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত তারিখ যদি কোনো সরকারি ছুটির দিন হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কিস্তি তাহার পরবর্তী কর্মদিবসে পরিশোধ করিতে হইবে।

(৪) এই ক্ষেত্রে কোনো করদাতা যেকোনো কিস্তি বা উহার অংশবিশেষ পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে, এই আইনের অধীন করদাতার কোনো দায়কে ক্ষুণ্ন না করিয়া, তাহার পরবর্তী কিস্তির সহিত অপরিশোধিত কিস্তি বা উহার অংশবিশেষ যুক্ত হইয়া পরিশোধযোগ্য হইবে।

(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা প্রাক্কলন করেন যে, অগ্রিম করের কিস্তি উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন পরিগণনাকৃত কর অপেক্ষা কম হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে তিনি উপকর কমিশনার বরাবর একটি প্রাক্কলন দাখিল করিবেন এবং ইতঃপূর্বে পরিশোধকৃত কোনো কিস্তির সহিত প্রয়োজনীয় সমন্বয়পূর্বক প্রাক্কলন অনুসারে কিস্তি পরিশোধ করিবেন।

১৫৬। নূতন করদাতা কর্তৃক অগ্রিম কর পরিশোধ

এই আইনের অধীন ইতঃপূর্বে নিয়মিত কর নির্ধারণীর আওতাভুক্ত হন নাই এইরূপ কোনো ব্যক্তির মোট আয়, ধারা ১৫৪ এর উপ-ধারা (২) এর শর্তসাপেক্ষে, 1[চলমান] আয়বর্ষে তাহার মোট আয় ৬ (ছয়) লক্ষ টাকা অতিক্রম করিলে, তিনি প্রত্যেক অর্থবৎসরের জুন মাসের ১৫ (পনেরো) তম দিনের পূর্বে তাহার প্রাক্কলিত মোট আয় এবং ধারা 2[১৫৫] এর উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিগণনাকৃত তৎকর্তৃক পরিশোধযোগ্য অগ্রিম করের হিসাব উপকর কমিশনারের নিকট দাখিল করিবেন এবং ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত কিস্তির তারিখের মধ্যে তাহা পরিশোধ করিবেন, যেন তাহা ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (৫) অনুসারে সংশোধিত কিস্তির তারিখ অতিক্রম না করে।

১৫৭। অগ্রিম করের কিস্তি প্রদানে ব্যর্থতা

অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এইরূপ কোনো করদাতা যদি মূল পরিগণনা অনুসারে বা, ক্ষেত্রমত, প্রাক্কলিত হিসাব অনুসারে নির্ধারিত তারিখে উক্ত করের কোনো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে তিনি উক্ত কিস্তির ক্ষেত্রে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।

১৫৮। অগ্রিম করের ক্রেডিট প্রদান

জরিমানা বা সুদ ব্যতীত অগ্রিম কর হিসাবে কোনো করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত বা তাহার নিকট হইতে আদায়কৃত কোনো অঙ্ক, তাহা সেই সময়ের জন্য অর্জিত আয়ের উপর পরিশোধিত হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ পরিশোধিত কর, করদাতা কর্তৃক পরিশোধযোগ্য নির্ধারিত কর হইতে বাদ দেওয়া হইবে।

১৫৯। ব্যাখ্যা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “সর্বশেষ আয়বর্ষের কর নির্ধারিত” অর্থ-

ক) এইরূপ করদাতার ক্ষেত্রে, যাহার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হইয়াছে;

খ) এইরূপ করদাতার ক্ষেত্রে, যাহার পূর্বে কর নির্ধারণ করা হয় নাই।

১৬০। অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থতার জন্য সুদ আরোপ

অগ্রিম কর পরিশোধ করিতে হইবে এইরূপ কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি নিয়মিত কর নির্ধারণকালে পরিলক্ষিত হয় যে, এই অংশের বিধানাবলি অনুসারে অগ্রিম কর পরিশোধ করা হয় নাই, তাহা হইলে ধারা ১৫৭ এর অধীন খেলাপি করদাতার পরিণামের বিধানকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, উক্তরূপ কর নির্ধারণের ভিত্তিতে নিরূপিত করের সহিত ধারা ১৬২-তে নির্ধারিত হারে ও মেয়াদের জন্য উহার উপর সরল সুদ পরিগণনা করিতে হইবে।

১৬১। পরিশোধিত অতিরিক্ত অগ্রিম করের উপর সরকার কর্তৃক প্রদেয় সুদ

(১) কোনো ব্যক্তির কোনো অর্থবর্ষে অগ্রিম কর হিসাবে পরিশোধকৃত অর্থের সমষ্টি যদি নিয়মিত কর নির্ধারণীর মাধ্যমে নিরূপিত করের পরিমাণ অপেক্ষা অধিক হয়, উক্ত অতিরিক্ত পরিশোধকৃত করের উপর সরকার বার্ষিক ১০% (দশ শতাংশ) হারে সরল সুদ প্রদান করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অতিরিক্ত অগ্রিম কর পরিশোধের উপর সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রথম দিন হইতে উক্ত করবর্ষের নিয়মিত কর নির্ধারণের তারিখ পর্যন্ত, বা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের প্রথম দিন হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সময়ের জন্য সুদ পরিশোধ করিতে হইবে।

১৬২। অগ্রিম কর পরিশোধের ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকিলে উহার উপর করদাতা কর্তৃক সুদ প্রদেয়

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো অর্থবর্ষে করদাতা স্বীয় প্রাক্কলনের ভিত্তিতে অগ্রিম কর পরিশোধ করেন এবং এই অংশের অধীন উৎসে কর কর্তন করা হয়, উক্ত কর্তনকৃত কর এবং উক্তরূপ অগ্রিম পরিশোধকৃত করের সমষ্টি যদি নিয়মিত কর নির্ধারণের মাধ্যমে নিরূপিত পরিশোধযোগ্য করের ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) 1[অপেক্ষা কম হয়, তবে সেইক্ষেত্রে, উক্তরূপ পরিশোধকৃত মোট কর এবং নিয়মিত কর] নির্ধারণীর মাধ্যমে উদ্ভূত করের ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) এর মধ্যে যে পার্থক্য হইবে তাহার উপর বার্ষিক ১০% (দশ শতাংশ) হারে সরল সুদ প্রদান করিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, 2[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট] তারিখে বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করা না হইলে, সুদের হার ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অধিক হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন অতিরিক্ত অগ্রিম কর পরিশোধের উপর সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণী বর্ষে জুলাই মাসের প্রথম দিন হইতে উক্ত বৎসর নিয়মিত কর নির্ধারণের তারিখ পর্যন্ত, বা ১ জুলাই হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সময়ের জন্য সুদ পরিশোধ করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যেইক্ষেত্রে-

(ক) ধারা ১৭৩ এর অধীন কর পরিশোধ করা হয়; বা

(খ) ধারা ১৮৫ এর অধীন সাময়িক কর নির্ধারণ করা হইয়াছে কিন্তু নিয়মিত কর নির্ধারণ করা হয় নাই,

সেইক্ষেত্রে নিম্নবর্ণিত বিধান অনুসারে সরল সুদ হিসাব করিতে হইবে, যথা:-

(অ) যেই তারিখে ধারা ১৭৩ এর অধীন বা সাময়িকভাবে নির্ধারিত কর পরিশোধ করা হইয়াছে, সেই তারিখ পর্যন্ত;

(আ) অতঃপর, নির্ধারণকৃত ৭৫% (পঁচাত্তর শতাংশ) কর অপেক্ষা উক্তরূপে পরিশোধকৃত কর যেই পরিমাণ ঘাটতি হইয়াছে, তাহার উপর সরল সুদ পরিগণনা করিতে হইবে।

(৪) যেইক্ষেত্রে আপিল, রিভিশন বা রেফারন্সের ফলশ্রুতিতে উপ-ধারা (১) এর অধীন যেই পরিমাণ অর্থের উপর সুদ প্রদেয় ছিল তাহা হ্রাস প্রাপ্ত হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে একইভাবে প্রদেয় সুদের পরিমাণ ও হ্রাস প্রাপ্ত হইবে এবং কোনো অতিরিক্ত সুদ পরিশোধিত হইয়া থাকিলে, তাহা ফেরতযোগ্য করের সহিত ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “নিয়মিত কর নির্ধারণ” অর্থে সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ বা ধারা 3[১৮২] এর অধীন অডিটের প্রেক্ষিতে প্রণীত কর নির্ধারণও অন্তর্ভুক্ত হইবে।

১৬৫। রিটার্ন

(১) বোর্ড, করদাতাদের জন্য শ্রেণিভিত্তিক এবং যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ রিটার্ন নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) স্বাভাবিক 1[ব্যক্তি] করদাতার রিটার্ন করদাতার সকল প্রকার আয়ের বিবরণী, বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী এবং, ক্ষেত্রমত, জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট সকল প্রকার ব্যয়ের বিবরণী সংবলিত হইবে।

১৬৬। রিটার্ন দাখিল

(১) প্রত্যেক ব্যক্তি উপকর কমিশনারের নিকট সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের জন্য রিটার্ন দাখিল করিবেন, যদি-

(ক) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে তাহার আয় এই আইনের অধীন করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করে;

(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৩ (তিন) বৎসরের মধ্যে কোনো বৎসর তাহার কর নির্ধারণ করা হয়;

(গ) উক্ত ব্যক্তি একটি কোম্পানি, কোনো শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী, কোনো ফার্ম, কোনো ফার্মের অংশীদার, কোনো ব্যক্তিসংঘ, কোনো ব্যবসায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপকের পদধারী কোনো কর্মচারী, কোনো গণকর্মচারী হন বা কোনো অনিবাসী হন যাহার বাংলাদেশে স্থায়ী স্থাপনা রহিয়াছে;

(ঘ) উক্ত ব্যক্তি 1[***] সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে এইরূপ কোনো আয় প্রাপ্ত হন, যাহা অংশ ৬ এর প্রথম অধ্যায়ের অধীন কর অব্যাহতি বা হ্রাসকৃত করহার সুবিধাপ্রাপ্ত;

(ঙ) ধারা ২৬১ অনুসারে করদাতা হিসাবে নিবন্ধনযোগ্য কোনো ব্যক্তি; বা

(চ) উক্ত ব্যক্তির ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে।

2[(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হইবে না, যথা:-

(ক) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-

(অ) যাহা বাংলা ভাষায় পাঠদানকারী প্রাথমিক বা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় বা সরকারি মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বা যাহা মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; এবং

(আ) যাহার ইংরেজি ভার্সন কারিকুলাম নাই;

(খ) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়;

(গ) বাংলাদেশ ব্যাংক;

(ঘ) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ;

(ঙ) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন;

(চ) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড;

(ছ) কোনো আইন বা সরকারি আদেশ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত যেকোনো সংস্থা, কর্তৃপক্ষ, কমিশন, ইনস্টিটিউট, বোর্ড, একাডেমি বা অনুরূপ সংস্থা, যাহারা কোনোরূপ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না এবং যাহাদের পরিচালন ব্যয় এর আংশিক বা সম্পূর্ণ নির্বাহের জন্য সরকার হইতে নিয়মিত তহবিল প্রাপ্ত হয়;

(জ) এতিমখানা, অনাথ আশ্রম এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত কোনো প্রতিষ্ঠান;

(ঝ) কোনো অনিবাসী স্বাভাবিক ব্যক্তি যাহার বাংলাদেশে কোনো নির্দিষ্ট ভিত্তি (fixed base) নাই;

(ঞ) তহবিল;

(ট) বোর্ড কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, রিটার্ন দাখিল করা হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ।]

১৬৭। পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল

(১) এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলি সাপেক্ষে, প্রত্যেক স্বাভাবিক 1[ব্যক্তি] করদাতা আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন, যদি উক্ত ব্যক্তি-

(ক) আয়বর্ষের শেষ তারিখে 2[৫০ (পঞ্চাশ)] লক্ষ টাকার অধিক মোট সম্পত্তির মালিক হন; বা

(খ) আয়বর্ষের যেকোনো সময় কোনো মোটরযানের মালিক হন; বা

(গ) সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে গৃহ সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করেন; বা

(ঘ) আয়বর্ষের কোনো সময়ে বিদেশে কোনো পরিসম্পদের মালিক হন; বা

(ঙ) কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হন:

তবে শর্ত থাকে যে, 3[***] সকল গণকর্মচারী আবশ্যিকভাবে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।

(২) প্রত্যেক নিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক 4[ব্যক্তি] করদাতা তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।

(৩) প্রত্যেক অনিবাসী বাংলাদেশি স্বাভাবিক 5[ব্যক্তি] করদাতা তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।

(৪) এইরূপ প্রত্যেক বিদেশি স্বাভাবিক 6[ব্যক্তি] করদাতা যিনি বাংলাদেশি নহেন তাহার রিটার্নে বাংলাদেশে অবস্থিত সকল প্রকার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিবেন।

(৫) কোনো স্বাভাবিক 7[ব্যক্তি] করদাতার জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী পূরণ বাধ্যতামূলক না হইলেও, তিনি স্বেচ্ছায় পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিতে পারিবেন।

(৬) কোনো স্বাভাবিক 8[ব্যক্তি] করদাতার পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী বা নাবালক সন্তানের পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণীও দাখিল করিতে হইবে যদি তাহাদের পৃথক টিআইএন না থাকে।

(৭) উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে যেকোনো আয়বর্ষের জন্য পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল করিতে বলিতে পারিবেন, যদি-

(ক) উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী দাখিল না করিয়া থাকেন; বা

(খ) উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের করদায় নির্ধারণের জন্য উক্ত পরিসম্পদ ও দায়ের বিবরণী আবশ্যক বলিয়া প্রতীয়মান হইয়া থাকে।

১৬৮। জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী দাখিল

(১) প্রত্যেক স্বাভাবিক 1[ব্যক্তি] করদাতাকে রিটার্নে আবশ্যিকভাবে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী দাখিল করিতে হইবে, যদি-

(ক) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যক্তির আয় ৫ (পাঁচ) লক্ষ টাকার অধিক হয়;

(খ) সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের কোনো সময় উক্ত ব্যক্তি মোটরযানের মালিকানা লাভ করেন;

(গ) উক্ত ব্যক্তি ব্যবসা হইতে কোনো আয় করেন;

(ঘ) উক্ত ব্যক্তি কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক হন; বা

(ঙ) উক্ত ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে সিটি কর্পোরেশন এলাকার মধ্যে গৃহ সম্পত্তি বা অ্যাপার্টমেন্টে বিনিয়োগ করেন।

(২) উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তিকে কোনো আয়বর্ষে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয় বিবরণী দাখিল করিতে বলিতে পারিবেন, যদি-

(ক) উক্ত 2[স্বাভাবিক] ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে উক্ত ব্যয় বিবরণী দাখিল না করিয়া থাকেন; বা

(খ) উক্ত করদাতার সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের করদায় নির্ধারণের জন্য উক্ত ব্যয় বিবরণী আবশ্যক বলিয়া প্রতীয়মান হইয়া থাকে।

১৬৯। রিটার্ন দাখিলের সাধারণ নিয়মাবলি

(১) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় বিবরণ ও তথ্যাদি প্রদান করিয়া নির্ধারিত তফসিলসমূহ, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট বা দলিলাদিসহ রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।

(২) 1[ধারা ৭৩ এর অধীন নিরীক্ষিত আয় বিবরণী এবং নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীসমূহ দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ করদাতার] রিটার্নের সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযুক্ত করিতে হইবে, যথা:-

(ক) নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী;

(খ) যাচাইয়ের নিমিত্ত বোর্ড কর্তৃক, সময় সময়, নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণের প্রমাণ; এবং

2[(গ) ধারা ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ অনুসারে ব্যবসা হতে বিয়োজনযোগ্য এবং ৫৫ ধারায় ব্যবসা হতে অননুমোদনযোগ্য বিয়োজনসমূহ সমন্বয় করিয়া একটি পৃথক করযোগ্য আয় পরিগণনা বিবরণী।]

(৩) কোনো আয়বর্ষে আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ কোনো সত্তার ক্ষেত্রে, ধারা ২৩৮ এর অধীন আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত একটি বিবরণী রিটার্নের সহিত দাখিল করিতে হইবে।

(৪) কোনো অনিবাসী বাংলাদেশি তাহার রিটার্নের ভিত্তিতে করদায়ের পরিশোধের প্রমাণাদিসহ রিটার্ন নিকটস্থ বাংলাদেশ মিশনে দাখিল করিতে পারিবেন এবং মিশন উহার দাপ্তরিক সিলসহ উক্ত রিটার্নের একটি প্রাপ্তি স্বীকার পত্র প্রদান করিবে এবং রিটার্নটি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) রিটার্ন নিম্নবর্ণিত ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও প্রতিপাদিত হইতে হইবে, যথা:-

(ক) কোনো স্বাভাবিক 3[ব্যক্তি] করদাতার ক্ষেত্রে, করদাতা স্বয়ং; তিনি বাংলাদেশে না থাকিলে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি কর্তৃক বা এতদুদ্দেশ্যে তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক, এবং তিনি মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে স্বাভাবিক কার্য করিতে অপারগ হইলে, তাহার অভিভাবক কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষর করিতে আইনগতভাবে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি;

(খ) কোনো হিন্দু অবিভক্ত পরিবারের ক্ষেত্রে, পরিবারের কর্তা কর্তৃক, এবং কর্তা বাংলাদেশে অবস্থান না করিলে বা মানসিক অক্ষমতার কারণে স্বাভাবিক কার্য করিতে অপারগ হইলে, উক্ত পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি;

গ) কোনো কোম্পানি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষেত্রে, প্রধান কর্মকর্তা;

(ঘ) কোনো ফার্মের ক্ষেত্রে, কোনো নাবালক অংশীদার ব্যতীত, উহার যেকোনো অংশীদার;

(ঙ) অন্য কোনো সংঘের ক্ষেত্রে, সংঘের কোনো সদস্য বা মুখ্য কর্মকর্তা; এবং

(চ) অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বা তাহার পক্ষে স্বাক্ষর করিতে আইনগতভাবে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তি।

১৭০। স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল

ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ সকল ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষের মধ্যে ধারা ১৮০ এর অধীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করিবেন।]

১৭১। রিটার্ন দাখিলের সময় ও আয়কর পরিশোধ

(১) প্রত্যেক করদাতাকে রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।

(২) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী আয়কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।

(৩) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পরে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৭৪ অনুযায়ী আয়কর পরিশোধপূর্বক রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]

১৭২। রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ

(১) উপকর কমিশনার ধারা ১৭১ এ উল্লিখিত মেয়াদ উত্তীর্ণের পর যেকোনো সময়, কোনো ব্যক্তিকে, লিখিত নোটিশ দ্বারা, তাহার আয়ের রিটার্ন দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যদি-

(ক) ধারা ১৬৬ এর অধীন উক্ত ব্যক্তির রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক হয়; বা

(খ) উক্ত ব্যক্তির মোট আয় সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষে কর আরোপযোগ্য হয়।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন, নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ২১ (একুশ) দিনের কম হইবে না, অথবা উপকর কমিশনার যেইরূপ অনুমোদন করিবে সেইরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।

১৭৩। রিটার্ন দাখিলের তারিখে বা ইহার পূর্বে 1[কর] ও সারচার্জ পরিশোধ সংক্রান্ত

(১) ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৭৫, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২ ইহার অধীন রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিলের তারিখে বা তৎপূর্বে পরিশোধযোগ্য কর 2[ও সারচার্জ] পরিশোধ করিতে হইবে।

(২) পরিশোধযোগ্য কর ক-খ নিয়মে পরিগণনা করিতে হইবে, যেখানে-

ক = রিটার্নের ভিত্তিতে বা ধারা ১৬৩ এর উপ-ধারা (৫) এর বিধানাবলি অনুসারে করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কর, যাহা অধিক হয়;

খ = অংশ ৭ এর বিধানাবলি অনুসারে উৎসে পরিশোধিত কর বা অগ্রিম কর।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পরিশোধকৃত অর্থ নিয়মিত কর নির্ধারণের পর করদাতা কর্তৃক প্রদেয় কর হিসাবে পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

(৪) কোনো ব্যক্তি, যুক্তিসঙ্গত কারণ ব্যতীত, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন।

১৭৪। রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখের পরে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে কর পরিগণনা

ধারা ১৬৬ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো করদাতা রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হইলে, এই আইনের অন্যান্য বিধানের অধীন উদ্ভূত দায় অক্ষুণ্ন রাখিয়া নিম্নবর্ণিত নিয়মে করদাতার কর নির্ধারিত ও প্রদেয় হইবে, যথা:-

ক = খ + (খ - গ) × ঘ × ০.০২, যেখানে,

ক = মোট প্রদেয় করের পরিমাণ;

খ= করদাতা রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে রিটার্ন দাখিল করিলে মোট যেই পরিমাণ কর পরিশোধ করিতেন সেই অংক, তবে এইক্ষেত্রে-

(অ) ষষ্ঠ তফসিল অংশ ১ এর দফা (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (১৭) ও (৩৫) এবং চাকরি হইতে আয় পরিগণনায় কর অব্যাহতি সংক্রান্ত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হইলে যেইরূপে কর পরিগণনা করা হইত সেইরূপে কর পরিগণনা করিতে হইবে; এবং

(আ) ন্যূনতম কর, সারচার্জ ও সরল সুদ ব্যতীত এই আইনের অধীন প্রযোজ্য বা ধার্যকৃত অন্য কোনো জরিমানা বা অংক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না;

গ= উক্ত আয়বর্ষে করদাতা কর্তৃক পরিশোধিত অগ্রিম কর ও উৎসে করের সমষ্টি;

ঘ= নিম্নবর্ণিতরূপে নির্ধারিত মাসের সংখ্যা, যথা:-

(অ) রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ অতিক্রান্ত হইবার পর মাসের সংখ্যা যাহা অনধিক ২৪ (চব্বিশ) হইবে;

(আ) কোনো মাসের ভগ্নাংশও পূর্ণ মাস হিসাবে গণ্য হইবে।]

১৭৫। সাধারণ রিটার্ন ও সংশোধিত রিটার্ন সংক্রান্ত বিশেষ বিধানাবলি

(১) ধারা ১৮২ ও ২১২ এর বিধানাবলি অক্ষুণ্ন রাখিয়া, নিম্নোক্ত রিটার্নসমূহ সাধারণ রিটার্ন বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-

(ক) ধারা ১৮২ এর উপ-ধারা 2[(৫)] অনুসারে দাখিলকৃত সংশোধিত রিটার্ন;

(খ) ধারা ২১২ এর উপ-ধারা 3[(১)] অনুসারে নোটিশ জারির প্রেক্ষিতে দাখিলকৃত রিটার্ন 4[:]

5[(গ) ধারা ১৬৬ এর অধীন রিটার্ন দাখিলের আইনানুগ বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ সংশ্লিষ্ট করবর্ষ অতিক্রান্ত হইবার পর দাখিলকৃত রিটার্ন।]

(২) 6[রিটার্ন দাখিলের নির্দিষ্ট তারিখ বা ইহার পূর্বে] এই আইনের কোনো বিধানের অধীন সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিলে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী কর পরিশোধ করিতে হইবে।

7[(৩) ধারা ১৭২ ও ধারা ২১২ এর অধীন নোটিশের প্রেক্ষিতে রিটার্ন দাখিল না করিলে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণের পর রিটার্ন দাখিল করা যাইবে না।

(৪) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর অধীন রিটার্ন দাখিলের পর রিটার্নে কোনো উপেক্ষিত বা অশুদ্ধ বিবৃতি পরিলক্ষিত হইলে, কোনো প্রকার করদায় হ্রাস না করিয়া, সংশ্লিষ্ট করবর্ষের কর নির্ধারণের পূর্বে সংশোধিত রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]]

১৭৬। অসম্পূর্ণ রিটার্ন দাখিলের ফলাফল

(১) কোনো রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৬৯ এর বিধান বা বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত কোনো নির্দেশনা অনুসরণ না করিলে উক্ত রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(২) রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্নটি অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচনা করা হইলে, উপকর কমিশনার, কারণ উল্লেখপূর্বক, করদাতার নিকট সংশ্লিষ্ট তথ্যাদি, যাচাইকরণ, বিবৃতি বা দলিলাদি নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিবার জন্য নোটিশ প্রেরণ করিবেন।

1[(৩) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশ সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করিতে ব্যর্থ হইলে, রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন, যাহা অসম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইয়াছিল তাহা-

(ক) ধারা ১৬৯ এর উপ-ধারা (২) এবং (৫) পরিপালনের ব্যর্থতায় এইরূপভাবে বাতিল বা অকার্যকর বলিয়া বিবেচনা করা হইবে যেন উহা দাখিল করা হয় নাই এবং এইরূপ বাতিল বা অকার্যকরের ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করিবেন, যথা:-

(অ) দাখিলকৃত রিটার্ন বাতিল বা অকার্যকরের নোটিশ করদাতার বরাবরে প্রেরণ;

(আ) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বাতিল বা অকার্যকর সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিতকরণ;

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে ধারা ১৮২ এর অডিটের জন্য নির্বাচন করা যাইবে।]

(৪) কোনো করদাতা উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত নোটিশের বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করিলে রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন তাহা দাখিলের তারিখে সম্পূর্ণ হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৫) কেবল প্রাপ্তি স্বীকারের কারণে রিটার্নটি সম্পূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে না।

১৭৭। উৎসে করের রিটার্ন

(১) নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণ বোর্ড কর্তৃক যেইরূপ উপযুক্ত সেইরূপ নির্ধারিত ফরমে অংশ ৭ এর বিধানাবলির অধীন কর্তনকৃত বা সংগ্রহকৃত করের রিটার্ন দাখিল করিবেন:

1[(ক) সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তর এবং মাসিক পেমেন্ট আদেশভুক্ত (এমপিও) কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যতীত যেকোনো কোম্পানি;]

(খ) ফার্ম;

(গ) ব্যক্তিসংঘ;

(ঘ) বেসরকারি হাসপাতাল;

(ঙ) ক্লিনিক;

(চ) ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন রিটার্ন-

(ক) করদাতা যে উপকর কমিশনারের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন তাহার নিকট দাখিল করিতে হইবে;

(খ) নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট বিবরণ ও তথ্যাদি এবং তফসিল, বিবৃতি, হিসাব, পরিশিষ্ট বা দলিলাদি সহযোগে দাখিল করিতে হইবে;

(গ) ধারা ১৬৯ এর উপ-ধারা (৫) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে স্বাক্ষরিত ও প্রতিপাদন করিতে হইবে;

2[(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন পূর্ববর্তী ০৩ (তিন) মাসের জন্য প্রযোজ্য রিটার্ন নিম্নবর্ণিত সময়ে দাখিল করিতে হইবে, যথা:-

তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে উপর্যুক্ত সারণীতে উল্লিখিত তারিখ সাপ্তাহিক বা সরকারি কোনো ছুটির দিন সেইক্ষেত্রে পরবর্তী কর্মদিবসে উক্ত রিটার্ন দাখিল করিতে হইবে।]

3[***]

(৫) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ইলেকট্রনিক, যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্র, ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

১৭৯। যৌথ এখতিয়ার

রিটার্ন বা সংশোধিত রিটার্ন গ্রহণ এবং উহার প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ ইস্যুকরণ সম্পর্কিত উপকর কমিশনারের ক্ষমতা ও কার্যাবলি যুগপৎভাবে যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রয়োগ বা সম্পাদনের নিমিত্ত বোর্ড সাধারণ বা বিশেষ আদেশ জারি করিতে পারিবে।

১৭৯। হিসাব, দলিলাদি ইত্যাদি উপস্থাপন

(১) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, ধারা ১৬৬, ১৭৫ 1[, ১৭৬ বা ২১২] এর অধীন যিনি রিটার্ন দাখিল করিয়াছেন বা যাহার নিকট রিটার্ন দাখিলের নোটিশ জারি করা হইয়াছে এই ধরনের কোনো করদাতার রিটার্ন অডিট কার্যক্রম বা কর নির্ধারণের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইতে পারে, সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অনধিক ৩ (তিন) বৎসর পূর্বের, এইরূপ রেকর্ড, বহি, হিসাব, বিবৃতি, নথি, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(২) উপকর কমিশনার যেকোনো রেকর্ড, বহি, হিসাব, বিবৃতি, দলিল, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড বা উহার কোনো অংশ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে উপস্থাপনের জন্য নোটিশ জারি করিতে পারিবেন।

(৩) কোনো হিসাব, বিবৃতি, দলিল, তথ্য বা ইলেকট্রনিক রেকর্ড নোটিশে উল্লিখিত তারিখে বা উহার পূর্বে দাখিল করিতে হইবে।

(৪) এই ধারার উদ্দেশ্যপুরণকল্পে,-

(ক) “রিটার্ন” অর্থে সংশোধিত রিটার্ন অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) “তথ্য” অর্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (১০) এ সংজ্ঞায়িত “উপাত্ত” অর্ন্তভুক্ত হইবে;

(গ) “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” এবং “ইলেক্ট্রনিক বিন্যাস” অর্থে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩২ নং আইন) এর ধারা ২ এর দফা (৫) এবং (৭) এ সংজ্ঞায়িত “ইলেকট্রনিক রেকর্ড” এবং “ইলেক্ট্রনিক বিন্যাস” অন্তর্ভুক্ত হইবে।

১৯৮। সংজ্ঞা

 এই অংশের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(১) “তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ” অর্থ-

(অ) মহাপরিচালক (পরিদর্শন);

(আ) মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল);

(ই) কর কমিশনার; এবং

1[(ঈ) পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার বা উপকর কমিশনার বা উপকর কমিশনারের অনুমতি সাপেক্ষে কর পরিদর্শক;]

(২) “আয় সম্পর্কিত রেকর্ড” অর্থ কোনো হিসাব বহি, দলিলাদি, ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড ও সিস্টেম।

১৯৯। তথ্য সংগ্রহে বিধানাবলির প্রয়োগ

এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলির প্রয়োগ ক্ষুণ্ন না করিয়া, আয়কর কর্তৃপক্ষ এই অধ্যায়ে বর্ণিত বিধানাবলি প্রয়োগ করিতে পারিবে।

২০০। তথ্য সংগ্রহ

উপকর কমিশনারের নিম্নে নহে এইরূপ কোনো তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন কোনো তদন্ত সম্পর্কিত বা চলমান কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক হইতে পারে এইরূপ তথ্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে লিখিত নোটিশ দ্বারা অথবা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে এবং নোটিশে বর্ণিত পদ্ধতি ও মাধ্যমে, এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, তলব করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কর কমিশনারের অনুমোদন ব্যতিরেকে কর কমিশনারের অধস্তন কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাংক বা ফাইন্যান্স কোম্পানির নিকট হইতে কোনো তথ্য তলব করিতে পারিবে না।]

২০১। স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য প্রদান

(১) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যেকোনো কর্তৃপক্ষ, ব্যক্তি বা সত্তাকে যেকোনো শ্রেণির ব্যক্তির সম্পদ, দায়, আয়, ব্যয় এবং লেনদেন সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ তাহার নিয়ন্ত্রণে রহিয়াছে এইরূপ যেকোনো প্রকার তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে বোর্ড বা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য প্রদান বলিতে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) বোর্ডের সিস্টেমে ডেটা আপলোডকরণ;

(খ) বোর্ডের ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক সিস্টেমে ডেটা শেয়ার;

(গ) অভিপ্রেত ডিজিটাল বা ইলেক্ট্রনিক তথ্য সিস্টেমে প্রবেশের কর্তৃত্ব প্রদান।

২০২। ব্যবসায়িক রেকর্ড 1[উপস্থাপন]

যেকোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন কোনো তদন্ত সম্পর্কিত বা চলমান কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রাসঙ্গিক হইতে পারে এইরূপ যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনে যেকোনো ব্যবসায়িক রেকর্ডের কপি সংগ্রহ বা কপি প্রদানে বাধ্য করিতে পারিবে।

২০৩। আয়ের উৎস অনুসন্ধান

যদি কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ এই আইনের অধীন অনিষ্পন্ন কার্যক্রম তদন্তের বা অনুসন্ধানের জন্য প্রয়োজনীয় বিবেচনা করে, তাহা হইলে উক্ত কার্যক্রমের সহিত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির আয়ের উৎস সম্পর্কিত কোনো তথ্যাদির অনুসন্ধান করিতে পারিবে এবং আয়ের উৎস সম্পর্কিত তথ্য ও রেকর্ডের কপি সংগ্রহ বা কপি প্রদানে বাধ্য করিতে পারিবে।

২০৪। অনুসন্ধান ও তদন্ত

(১) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ, এই আইনের আওতায় 1[তাহার অধিক্ষেত্রাধীন] কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিষয়ে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ অনুসন্ধান ও তদন্ত করিতে পারিবে অথবা উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা এইরূপ অনুসন্ধান ও তদন্তের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো তথ্য বা আয়ের সহিত সম্পর্কযুক্ত কোনো দলিলাদি সরবরাহ করা বা সরবরাহ করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশিত সময় ও স্থানে তাহার সম্মুখে উপস্থিত হইতে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

2[***]

২০৫। জরিপের ক্ষমতা

(১) এই আইনের অধীন কোনো ব্যক্তির কর সংক্রান্ত দায়বদ্ধতা জরিপের উদ্দেশ্যে বোর্ড বা কর কমিশনার কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে ব্যবসা পরিচালিত হয় বা ভাড়া প্রদানের মাধ্যমে আয় হয় এইরূপ যেকোনো স্থানে বা প্রাঙ্গণে গমনের ও জরিপের ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।

(২) আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নরূপ ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্থানে প্রবেশ করিবে, যথা:-

(ক) যদি উক্ত স্থানে ব্যবসাটি পরিচালিত হয়, তাহা হইলে কেবল যে সময়ে উক্ত স্থান ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত থাকে; এবং

(খ) অন্য কোনো ক্ষেত্রে, কেবল সূর্যোদয়ের পরে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে।

(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত স্থানে প্রবেশ করিয়া, আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন, যথা:-

(ক) আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত যে রেকর্ড তদ্‌কর্তৃক পরিদর্শন করা হইয়াছে সেই রেকর্ডে পরিদর্শনের চিহ্ন প্রদান করত তাহা হইতে সারাংশ বা কপি সংগ্রহ;

(খ) তদ্‌কর্তৃক পরিদর্শনকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড কারণ রেকর্ডপূর্বক জব্দকরণ ও হেফাজতে গ্রহণ;

(গ) নগদ, অর্থ জমা বা মূল্যবান সামগ্রীসমূহের তালিকা প্রস্তুতকরণ;

(ঘ) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের জন্য প্রাসঙ্গিক হইলে কোনো ব্যক্তিকে শপথপূর্বক তাহার বিবৃতি পরীক্ষা; এবং

(ঙ) অন্য কোনো প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান।

(৪) প্রত্যেক মালিক, বেতনভোগী কর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো ব্যবসা পরিচালনা করেন, বা কোনো ব্যক্তি যিনি উপ-ধারা (১) এর অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারে এইরূপ কোনো স্থান বা প্রাঙ্গণে বসবাস করেন, কর্তৃপক্ষকে নিম্নবর্ণিতভাবে উক্তরূপ কর্তৃত্ব বা ক্ষমতা প্রয়োগে সহায়তা করিবে, যথা:-

(ক) কর্তৃপক্ষকে নিম্নবর্ণিত কার্য সম্পাদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে-

(অ) আয়, পরিসম্পদ ও দায় সংক্রান্ত রেকর্ড পরিদর্শন ও প্রবেশ কর; অথবা

(আ) এইরূপ স্থান বা প্রাঙ্গণে প্রাপ্ত নগদ অর্থ, স্টক বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষণ; এবং

(খ) এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের জন্য উপযুক্ত বা প্রাসঙ্গিক কোনো বিষয় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ।

(৫) উপ-ধারা (৮) এর দফা (ঘ) এর অধীন কোনো ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি এই আইনের অধীন কোনো কার্যক্রমের প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে।

(৬) এই ধারার প্রয়োগের ক্ষেত্রে আয়কর কর্তৃপক্ষ, প্রবেশকৃত স্থান বা প্রাঙ্গণ হইতে কোনো নগদ অর্থ, স্টক বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু অপসারণ করিবে না।

(৭) আয়কর কর্তৃপক্ষ কর কমিশনারের অনুমোদন ব্যতিরেকে এই ধারার অধীন হেফাজতে জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড ১ (এক) মাসের অধিক সময়ের জন্য তাহার নিকট রাখিবে না।

(৮) কর পরিদর্শক ব্যতীত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষের ধারা ২২৩ এর উপ-ধারা (১) এর ক্ষমতা থাকিবে, যদি কোনো ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কার্যাদি সম্পাদনে অপারগ হইলে বা অমান্য করিলে, যথা:-

(ক) হিসাবপত্র বা অন্যান্য দলিলপত্র পরীক্ষার জন্য আয়কর কর্তৃপক্ষকে সহায়তা প্রদান;

(খ) কোনো নগদ অর্থ, স্টক বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু যাচাই-বাছাই বা পরীক্ষা করিবার অনুমতি প্রদান;

(গ) কোনো তথ্য প্রদান; বা

(ঘ) রেকর্ড বা বিবৃতি প্রদান।

২০৬। তল্লাশি ও জব্দ করিবার ক্ষমতা

(১) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ নিম্নবর্ণিতরূপে কোনো ব্যক্তির তথ্য তল্লাশি এবং জব্দকরণের ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন যদি বোর্ড বা তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট কোনো তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস করিবার কারণ থাকে যে-

(ক) কোনো ব্যক্তি, যাহার নিকট এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশের মাধ্যমে আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে বলা হইয়াছে, কিন্তু উক্ত ব্যক্তি তাহা সরবরাহ বা উপস্থাপন করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন;

(খ) দফা (ক)-তে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক আয়, পরিসম্পদ ও দায় সম্পর্কিত রেকর্ড সরবরাহ বা উপস্থাপনের সম্ভাবনা নাই; অথবা

(গ) এই আইনের অধীন কোনো সমন বা নোটিশ জারিকরণ বা উপস্থাপনের জন্য আয় সম্পর্কিত কোনো রেকর্ড প্রস্তুতের কারণে, উক্তরূপ আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ প্রস্তুত বা উপস্থাপনের ব্যর্থ হইয়াছে বা ব্যর্থ হইবার সম্ভাবনা রহিয়াছে।

(২) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ, সহকারী কর কমিশনার পদবির নিম্নে নহেন, এইরূপ কোনো কর্মকর্তাকে (অতঃপর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলিয়া উল্লিখিত), এই ধারার অধীন তল্লাশি ও জব্দ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে।

(৩) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) যেকোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমানে প্রবেশপূর্বক, যেইক্ষেত্রে সন্দেহ করিবার কারণ রহিয়াছে সেইক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত বা হেফাজতে রক্ষিত কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশি;

(খ) কোনো দরজা, বাক্স, লকার, সেফ, আলমারি বা অন্য কোনো আধার খোলার চাবি পাওয়া না গেলে প্রবেশ বা তল্লাশির উদ্দেশ্যে তাহা ভাঙ্গিয়া উন্মুক্তকরণ;

(গ) এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে তল্লাশি যিনি কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমান হইতে বাহির হইয়াছেন বা বাহির হইবার উপক্রম করিয়াছেন, বা ভিতরে রহিয়াছেন, যদি তাহার সম্পর্কে এইরূপ সন্দেহ করিবার কারণ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি তাহার হিসাব, নথি, ইলেকট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেম, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী গোপন করিয়াছেন;

(ঘ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বিষয়াদি তল্লাশির ফলে পাওয়া গেলে তাহা জব্দকরণ;

(ঙ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডে শনাক্তকরণ চিহ্ন স্থাপন বা ইলেকট্রনিক সংখ্যা প্রদান বা তাহার সারাংশ তৈরি বা তৈরির উদ্যোগ বা তাহার কপি প্রস্তুতকরণ;

(চ) অর্থ, মূল্যবান ধাতব পিণ্ড, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা জিনিসপত্রের নোট তৈরি বা তালিকা প্রস্তুতকরণ; এবং

(ছ) ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড এবং সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য, ছবি বা কোনো উপাত্ত উদ্ধারকরণ অথবা পাসওয়ার্ড নিরাপত্তা ভাঙ্গিয়া প্রবেশকরণ বা আয় সংক্রান্ত তথ্য কপি বা বিশ্লেষণকরণ।

(৪) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সকল বা কোনো একটি উদ্দেশ্যে তাহাকে সহায়তা করিবার জন্য কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কোনো পেশাদার বিশেষজ্ঞের সহায়তা চাহিতে পারিবেন; এবং সেবা চাহিতে পারিবেন, এবং এইরূপে সহায়তা চাওয়া হইলে উক্তরূপ কর্মকর্তা বা পেশাদার বিশেষজ্ঞের কর্তব্য হইবে চাহিত সহায়তা প্রদান করা।

(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু জব্দ করা সম্ভব নহে, সেইক্ষেত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাহার মালিক বা কোনো ব্যক্তি যিনি তাহার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকেন তাহাকে এইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন যে, তাহার পূর্ব অনুমতি ব্যতীত উহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করিবেন না; এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদেশ পরিপালনের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত মালিক বা কোনো ব্যক্তি যদি এই উপ-ধারার বিধানসমূহ পরিপালনে ব্যর্থ হন এবং যদি মূল্যবান ধাতু, গহনা, মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু স্থানান্তর করেন, বা তাহা অপসারণ, বিচ্যুতকরণ বা অন্য কোনোভাবে বন্দোবস্ত করা হয়, তাহা হইলে এইরূপ মালিক বা ব্যক্তিকে, উপকর কমিশনার মালিক হিসাবে চিহ্নিত করিতে পারিবেন এবং উক্ত ব্যক্তিকে এই আইনের অধীন করখেলাপি হিসাবে গণ্য করা হইবে।

(৬) ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তল্লাশি বা জব্দের সময়, কোনো ব্যক্তি যিনি কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু পরীক্ষার সময় এবং কোনো ব্যক্তির দখল বা নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থায় শপথ গ্রহণ করিয়াছেন এইরূপ ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি এই আইনের অধীন কোনো কার্যধারা প্রমাণে ব্যবহার করা যাইবে।

(৭) যেইক্ষেত্রে কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা বস্তু তল্লাশির সময় কোনো ব্যক্তির দখলে বা নিয়ন্ত্রণে পাওয়া যায়, সেইক্ষেত্রে এইরূপ বিবেচনা করা যাইবে যে

(ক) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড, অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা, বস্তু বা সামগ্রী উক্ত ব্যক্তির স্বত্বভুক্ত;

(খ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ডের বিষয়বস্তু সত্য; এবং

(গ) এইরূপ কোনো হিসাব বহি বা দলিলাদিতে প্রদত্ত স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর সেই ব্যক্তির স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হিসাবে পরিগণিত হইবে যাহার স্বাক্ষর বা হস্তাক্ষর হওয়া উচিত।

(৮) যেই ব্যক্তির হেফাজত হইতে উপ-ধারা (২) এর অধীন কোনো আয় সম্পর্কিত রেকর্ড জব্দ করা হয়, ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত স্থান ও সময়ে তাহার উপস্থিতিতে বা তদ্‌কর্তৃক নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তির উপস্থিতিতে উক্তরূপ কপি করিতে হইবে বা তাহার নিকট হইতে সারাংশ গ্রহণ করা যাইবে।

(৯) বোর্ড নিম্নবর্ণিত বিষয়ে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:-

ক) অনুমোদিত কর্মকর্তা কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি সংক্রান্ত-

(অ) প্রবেশাধিকার নাই এইরূপ কোনো ভবন, স্থান, জাহাজ, যানবাহন বা বিমানে অনুসন্ধানের জন্য মুক্ত প্রবেশাধিকার; এবং

(আ) জব্দকৃত মালামালের নিরাপত্তা হেফাজতের জন্য; এবং

(খ) এই ধারার অধীন তল্লাশি ও জব্দকরণ সম্পর্কিত অন্য কোনো বিষয়।

(১০) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা, তল্লাশি ও জব্দকরণ সংক্রান্ত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, যতদূর সম্ভব, এই উপ-ধারার অধীন Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(১১) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, "কার্যক্রম" শব্দটির অর্থ এই আইনের অধীন কোনো বৎসরের কোনো কার্যক্রম যাহা এই ধারার অধীন কোনো তল্লাশির জন্য অনুমোদিত তারিখে অনিষ্পন্ন বা উক্ত তারিখে বা ইহার পূর্বেই সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং এই আইনের অধীন সকল কার্যক্রম যাহা কোনো বৎসরে এইরূপ তারিখের পরে আরম্ভ হইয়াছে তাহা ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

২০৭। জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর

(১) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং উপকর কমিশনার পৃথক ব্যক্তি হন তাহা হইলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সংক্রান্ত রেকর্ড, তাহা যেই তারিখে রেকর্ড করা হয় উক্ত তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনারকে পৃথক ব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হইবে, যদি যে ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো হিসাব বহি বা দলিলাদি জব্দ করা হয় সেই ব্যক্তির উপর অনুমোদিত কর্মচারীর কোনো কর্তৃত্ব না থাকে।

(৩) যদি ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপকর কমিশনার একই ব্যক্তি হন, তবে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ যেই তারিখে জব্দ করা হয় উক্ত তারিখে তাহা উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

(৪) যখন কোনো ব্যক্তির আয় সম্পর্কিত রেকর্ড অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে জব্দ করা হয় সেইক্ষত্রে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্তরূপ জব্দকৃত বিষয়বস্তু উক্ত ব্যক্তির উপর কর্তৃত্বসম্পন্ন উপকর কমিশনারের নিকট তাহা জব্দ করিবার তারিখের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে হস্তান্তর করিবেন।

২০৮। জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড সংরক্ষণের সময়সীমা

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডসমূহ জব্দ হইবার তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) কার্যদিবসের অধিক সময়ের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংরক্ষণে রাখিবেন না।

(২) তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বর্ধিত সময়সীমা পর্যন্ত আয় সম্পর্কিত রেকর্ড সংরক্ষণে রাখিতে পারিবেন এবং তদন্তকারী আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো বৎসরে এই আইনের অধীন কার্যক্রম সমাপ্ত হইবার পর সংশ্লিষ্ট রেকর্ডসমূহ সংরক্ষণের মেয়াদ ৩০ (ত্রিশ) দিনের অধিক বর্ধিত করিবে না।

(৩) ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত আয় সম্পর্কিত রেকর্ডের আইনগত অধিকারী কোনো ব্যক্তি, সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি উক্তরূপ সংরক্ষণের মেয়াদ বর্ধিতকরণের বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন, এবং বোর্ড, আবেদনকারীকে যুক্তিসংগতভাবে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ জারি করিবে।

২০৯। জব্দকৃত সম্পদের ব্যবস্থা

(১) যেইক্ষেত্রে ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত কোনো অর্থ, মূল্যবান ধাতু, গহনা বা অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী বা জিনিস (অতঃপর সম্পদ বলিয়া উল্লিখিত), উপকর কমিশনারের নিকট হস্তান্তর করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এ বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।

(২) উপকর কমিশনার, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে যুক্তিসঙ্গত শুনানির সুযোগ প্রদান করিবেন এবং অতঃপর সম্পদ জব্দের ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নিম্নবর্ণিত প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন,-

(ক) অপ্রদর্শিত আয় সম্পর্কে আনুমানিক হিসাব করিয়া অপ্রদর্শিত সম্পত্তি হইতে আয়সহ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সংক্ষেপে তাহার বিবেচনায় সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ;

(খ) প্রদেয় অঙ্ক পরিগণনা, যাহা নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির সমষ্টি হইবে, যথা:-

(অ) দফা (ক) এর প্রাক্কলনের ভিত্তিতে প্রদেয় কর এবং অন্য কোনো অঙ্ক; এবং

(আ) এইরূপ ব্যক্তির, বিদ্যমান যে করদায়ের জন্য করখেলাপি অথবা করখেলাপি হিসাবে বিবেচিত সেই করদায় পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্ক।

(৩) উপ-ধারা (২) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, ৯০ (নব্বই) দিন সময় গণনাকালে, এই ধারার অধীন নির্ধারিত কোনো সময়সীমা, কোনো আদেশ বা নিষেধাজ্ঞার কারণে কোনো কার্যধারা বহিভূর্ত থাকিবে।

(৪) যেইক্ষেত্রে মোট আয় এবং করদায় পরিগণনার নিমিত্ত জব্দকৃত সম্পত্তি বা তাহার অংশ কোনো আয়বর্ষ বা বর্ষসমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট তাহা নিরূপণ করা সম্ভব হয় নাই সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত সম্পত্তি বা তাহার অংশবিশেষ, যাহা প্রযোজ্য, উক্ত ব্যক্তির যেই আয়বর্ষের সহিত সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দ করা হইয়াছে উক্ত বৎসরের হিসাবে বিবেচনা করিতে পারিবেন।

(৫) উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর অধীন কার্যক্রম সম্পন্ন করিবার পর, কমিশনারের অনুমোদনক্রমে, উপকর কমিশনার, উপ-ধারা (২) এর দফা (খ)-তে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৬) যেইক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনো অর্থ পরিশোধ করে বা সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার জব্দকৃত সম্পদ ছাড় বা তাহার নিকট উপযুক্ত মর্মে বিবেচিত এইরূপ উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন।

(৭) যেইক্ষেত্রে উপ ধারা (২) এর অধীন পরিশোধ, পরিশোধের জন্য কোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা, গ্রহণ করা হয় নাই সেইক্ষেত্রে –

(ক) উক্ত ব্যক্তি অপরিশোধিত পরিমাণ কর প্রদানের জন্য করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন; এবং

(খ) ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত পরিমাণ সম্পত্তি যাহা করের অনাদায়ী অংশের আদায়ের জন্য যথেষ্ট সেই পরিমাণ সম্পদ উপকর কমিশনার হেফাজতে রাখিতে পারিবেন।

(৮) যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, ধারা ২০৬ এর অধীন জব্দকৃত সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ কোনো ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তির দখলভুক্ত, তাহা হইলে তিনি এই ধারার অধীন উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন এবং এই ধারার সকল বিধান যথাযথভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।

(৯) যেকোনো ব্যক্তি যাহাকে উপ-ধারা (৪) এর অধীন নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে, তিনি যদি সংক্ষুব্ধ হন, তাহা হইলে কর কমিশনারের নিকট লিখিতভাবে আপত্তি উত্থাপন করিতে পারিবেন, এবং কমিশনার আবেদনকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করিবেন।

২১০। অধিকৃত সম্পত্তির ব্যবস্থা

(১) যেইক্ষেত্রে ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এর অধীন সংরক্ষণকৃত সম্পদ কেবল অর্থ হয়, বা আংশিক পরিমাণ অর্থ হয় এবং অন্যান্য অংশ হয় অন্যান্য সম্পদ, সেইক্ষেত্রে

(ক) উপকর কমিশনার প্রথমে এই উপ-ধারার অধীন দায়ী করদাতা হিসাবে বিবেচিত ব্যক্তির অনাদায়ী পরিমাণ অর্থ প্রদানের জন্য এই অর্থ ব্যবহার করিবেন; এবং এইরূপ ক্ষেত্রে যেই পরিমাণ অর্থ উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে পরিশোধ করা হইয়াছে সেই পরিমাণ অর্থ দায়মুক্ত হইবে; এবং

(খ) যেইক্ষেত্রে, দফা (ক) এর অধীন অর্থ ব্যবহারের পর, উল্লিখিত পরিমাণের যেই পরিমাণ অংশ অবশিষ্ট থাকে, উপকর কমিশনার ট্যাক্স রিকোভারি কর্মচারীর মাধ্যমে অর্থ নহে এইরূপ কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করিয়া অবশিষ্ট অনাদায়ী অর্থ পুনরুদ্ধার করিতে পারিবেন; এতদুদ্দেশ্যে তাহার এই আইনের অধীন কর পুনরুদ্ধারকারীর ন্যায় সকল ক্ষমতা থাকিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর কোনো বিধান এবং ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত কোনো কিছুই করদাতার নিকট হইতে এই আইনের অধীন যেকোনো উপায়ে পাওনা আদায়ের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করিবে না।

(৩) ধারা ২০৬ এর উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত দায় পরিশোধের পর কোনো সম্পদ বা প্রাপ্তি অবশিষ্ট থাকিলে অবিলম্বে যাহার নিকট হইতে সম্পদের হেফাজত লওয়া হইয়াছিল তাহার নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে।

২১১। শপথ, ইত্যাদি গ্রহণপূর্বক সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা

(১) কোনো মামলা বিচার করিবার জন্য Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর অধীন আদালতকে যে সকল ক্ষমতা প্রদান করা হইয়াছে, এই আইনের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উপকর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার,কর কমিশনার, মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল), কর কমিশনার (আপিল) এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল এর নিম্নবর্ণিত বিষয়ে সেই একই ক্ষমতা থাকিবে, যথা:-

(ক) উদঘাটন ও পরিদর্শন;

(খ) কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বাধ্যকরণ এবং শপথ গ্রহণ বা ঘোষণাপূর্বক তাহাকে পরীক্ষা করা;

গ) আয় সম্পর্কিত রেকর্ড (সংশ্লিষ্ট আয়বর্ষের অব্যবহিত পূর্বের বা পরের দলিলাদিসহ) উপস্থাপনে বাধ্য করা; এবং

(ঘ) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন গঠন করা।

(২) কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত উপকর কমিশনার কোনো তফসিলি ব্যাংকের কোনো কর্মচারীকে সাক্ষী হিসাবে হাজির করিবার বা উক্ত ব্যাংকের আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি উপস্থাপনে বাধ্য করিবার জন্য এই ধারার অধীন তাহার ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন না।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত যেকোনো কর্তৃপক্ষ, এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত কোনো আয় সংশ্লিষ্ট দলিলাদি জব্দ করিতে পারিবেন এবং যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ মেয়াদের জন্য আটক রাখিতে পারিবেন।

(৪) উপকর কমিশনার-

(ক) কারণ রেকর্ড না করিয়া আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র আটক করিবেন না; অথবা

(খ) মুখ্য কমিশনার বা কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, আয় সম্পর্কিত কোনো দলিলপত্র তাহার নিকট ১৫ (পনেরো) দিনের অধিক, ছুটির দিন ব্যতীত, আটক রাখিবেন না।

(৫) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোনো কর্তৃপক্ষের নিকট এই আইনের অধীন পরিচালিত কোনো কার্যক্রম, Penal Code, 1860 (Act No. XLV of 1860) এর section 196 এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, section 193 এবং 128 এর অধীন বিচারিক কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে।

(৬) এই আইনের অধীন গৃহীত বা পরিচালিত কোনো কার্যধারায় আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ দেওয়ানি আদালতের আদেশ বলিয়া গণ্য হইবে।

২১৪। দাবির নোটিশ

(১) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের ফলে কোনো পরিমাণ কর প্রদেয় হইলে উপকর কমিশনার, উক্ত করদাতার বরাবর (কর পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোনো ব্যক্তিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে) কর নির্ধারণী আদেশের একটি কপিসহ উক্ত প্রদেয় করের পরিমাণ, পরিশোধের সময়সীমা এবং পদ্ধতি উল্লেখপূর্বক নির্ধারিত ফরমে একটি দাবির নোটিশ জারি করিবেন।

(২) এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর ফেরতযোগ্য হইলে উপকর কমিশনার উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত নোটিশে করদাতার নিকট ফেরতযোগ্য অর্থের পরিমাণ এবং তাহাকে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদানের ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করিবেন, যদি না ধারা ২২৫ এর বিধান অনুসারে এইরূপ ফেরৎ বকেয়া করের বিপরীতে সমন্বয় হয়।

(৩) করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান না করিয়া উপকর কমিশনার কোনো প্রত্যর্পণ সমন্বয় করিবেন না।

(৪) যে করদাতার উপর উপ-ধারা (১) এর অধীন দাবির নোটিশ জারি করা হইয়াছে, তিনি নোটিশে বর্ণিত পরিশোধের সময় অতিবাহিত হইবার পূর্বে এবিষয়ে উপকর কমিশনারের নিকট আবেদন করিলে, উপকর কমিশনার মামলার পরিস্থিতি বিবেচনাপূর্বক যেইরূপ প্রয়োজন বিবেচনা করিবেন সেইরূপে পরিশোধের সময়সীমা বর্ধিত করিতে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, 1[***] শর্তসহ কিস্তিতে পরিশোধের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।

(৫) উপ-ধারা (১) এর অধীন জারীকৃত দাবির নোটিশে বর্ণিত সময়ের মধ্যে অথবা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (৪) এর অধীন বর্ধিত সময়ের মধ্যে পরিশোধযোগ্য অর্থ পরিশোধ করা না হইলে করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে।

(৬) করদাতা আরোপিত কর নির্ধারণী আদেশের বিরুদ্ধে অথবা উল্লিখিত করের পরিমাণের বিরুদ্ধে এই আইনের অধীন আপিল পেশ করিলে, আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।

(৭) করদাতাকে উপ-ধারা (৪) এর অধীন কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের অনুমতি প্রদান করা হইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করদাতা যদি কোনো একটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হন তবে তাহাকে উক্ত দিনে অনাদায়ী অর্থের জন্য এবং অন্যান্য কিস্তি বা কিস্তিসমূহের জন্য খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং যে কিস্তিটি পরিশোধে তিনি ব্যর্থ হইয়াছেন উক্ত কিস্তি পরিশোধের জন্য ধার্য দিনই অবশিষ্ট সকল কিস্তি পরিশোধ করিবার কথা ছিল মর্মে গণ্য করা হইবে।

(৮) বাংলাদেশের বাহির হইতে উপার্জিত আয়ের উপর যদি কোনো করদাতার কর নির্ধারণ করা হয় এবং উক্ত দেশ হইতে বাংলাদেশে অর্থ প্রেরণের বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপিত থাকে, তবে এইরূপ নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ আরোপের কারণে যেই পরিমাণ আয় বাংলাদেশে আনয়ন করা সম্ভব হয় নাই সেই পরিমাণ আয়ের উপর আরোপিত আয়করের জন্য, বর্ণিত নিষেধাজ্ঞা বা বিধি-নিষেধ দূরীভুত না হওয়া পর্যন্ত উপকর কমিশনার সংশ্লিষ্ট করদাতাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করিবেন না।

(৯) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, একজন করদাতার আয় তখনই বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে মর্মে বিবেচনা করা হইবে, যখন উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে করদাতার কোনো প্রকৃত ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত হইয়াছে বা হইতে পারিত অথবা তাহা পুঁজি আকারে বা অন্য কোনোভাবে বাংলাদেশে আনয়ন করা হইয়াছে।

২১৫। সরাসরি আদায় ও প্রত্যর্পণ

(১) করদাতার ব্যাংক হিসাব হইতে সরাসরি সরকারের ব্যাংক হিসাবে ট্রান্সফারের মাধ্যমেও করদাতার নিকট হইতে বকেয়া কর আদায় করা যাইবে।

(২) করদাতার পাওনা অর্থ করদাতার ব্যাংক হিসাবে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।

(৩) এই আইন বা অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, করদাতা স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করিলে, উপকর কমিশনার কর্তৃক রিটার্ন প্রসেস (process) সম্পন্ন হইবার ফলে প্রর্ত্যপণ সৃষ্টি হইলে উক্ত প্রর্ত্যপণ করদাতার রিটার্নে উল্লিখিত ব্যাংক হিসাবে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফার করিতে হইবে।

(৪) উপ-ধারা (১), (২) ও (৩)-এ বর্ণিত ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কর আদায় বা ফেরত প্রদানের পদ্ধতি, শর্ত, যোগ্যতা ও সীমা নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।

২১৬। কর আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট

(১) বকেয়া কর পরিশোধে কোনো করদাতা খেলাপি হইলে বা খেলাপি হিসাবে গণ্য হইলে উপকর কমিশনার করদাতার নিকট পাওনা বকেয়ার পরিমাণ উল্লেখপূর্বক তাহা আদায়ের উদ্দেশ্যে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট তাহার স্বাক্ষরে সার্টিফিকেট প্রেরণ করিতে পারিবেন; এবং বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য অন্য যেকোনো কার্যক্রম গৃহীত হওয়া সত্ত্বেও এতদ্‌প্রকার সার্টিফিকেট ইস্যু করা যাইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো সার্টিফিকেট নিম্নবর্ণিত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারগণের নিকট প্রেরণ করা যাইবে, যথা:-

(ক) যেই ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীনে করদাতা ব্যবসা পরিচালনা করেন অথবা যেখানে করদাতার ব্যবসার প্রধান স্থান অবস্থিত;

(খ) যেই ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীনে করদাতা বসবাস করেন অথবা করদাতার কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি অবস্থিত; বা

(গ) উপকর কমিশনার কর্তৃক কর নির্ধারণযোগ্য কোনো করদাতা, যাহার উপর সংশ্লিষ্ট যে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্র রহিয়াছে।

২১৭। ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার কর্তৃক আদায়ের পদ্ধতি

(১) আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার ধারা ২১৬ এর অধীন সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক করদাতার নিকট হইতে সার্টিফিকেটে বর্ণিত অর্থ নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক পদ্ধতিতে আদায় করিবেন, যথা:-

(ক) করদাতার যেকোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত, অবরুদ্ধ বা ক্রোকপূর্বক বিক্রয় অথবা বাজেয়াপ্ত, অবরুদ্ধ বা ক্রোক না করিয়া বিক্রয়ের মাধ্যমে;

(খ) করদাতাকে গ্রেপ্তার এবং তাহাকে কারাগারে আটক রাখিবার মাধ্যমে;

(গ) করদাতার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার জন্য রিসিভার নিয়োগের মাধ্যমে।

(২) ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার, তাহার নিকট উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত পরিমাণ অর্থ আদায়কালে খেলাপি করদাতার নিকট হইতে উক্ত অর্থ ছাড়াও একই পদ্ধতিতে বকেয়া কর আদায় কার্যক্রমের সহিত সংশ্লিষ্ট যেকোনো খরচ ও চার্জসহ কোনো নোটিশ বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির জন্য ব্যয়িত অর্থও আদায় করিতে পারিবেন।

(৩) ধারা ২১৬ এর অধীন সার্টিফিকেট অগ্রায়ন করা হইয়াছে এইরূপ কোনো ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যদি তাহার অধিক্ষেত্রাধীন কোনো করদাতার স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অর্থ আদায় করিতে সক্ষম না হন, কিন্তু তাহার নিকট এই মর্মে তথ্য থাকে যে, অন্য ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় উক্ত করদাতার সম্পত্তি রহিয়াছে, তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার যাহার অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় উক্ত করদাতার সম্পত্তি রহিয়াছে বা উক্ত করদাতা বসবাস করেন, তাহার নিকট সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট পাঠাইতে পারিবেন, অতঃপর উক্ত সার্টিফিকেট প্রাপ্ত কর্মকর্তা এই অধ্যায়ের অধীন অবশিষ্ট অনাদায়ী অঙ্ক আদায়ের জন্য এইরূপভাবে অগ্রসর হইবেন, যেন তিনি উক্ত সার্টিফিকেটটি উপকর কমিশনারের নিকট হইতে প্রাপ্ত হইয়াছেন।

২১৮। সার্টিফিকেট প্রত্যাহার এবং কার্যক্রম স্থগিতকরণের ক্ষমতা

(১) ধারা ২১৬ এর অধীন কর আদায়ের লক্ষ্যে সার্টিফিকেট ইস্যু করা সত্ত্বেও, উপকর কমিশনার ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারকে ইন্টিমেশন প্রদান করিয়া, তাহা প্রত্যাহার করিবার অথবা কোনো করণিক বা গাণিতিক ভুল সংশোধনের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন।

(২) যেই পরিমাণ করদাবি আদায়ের জন্য সার্টিফিকেট জারি করা হয়, আপিল বা এই আইনের আওতায় পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে যদি তাহা হ্রাস পায়, কিন্তু আদেশটি চূড়ান্ত মীমাংসার লক্ষ্যে এই আইনের আওতায় আরও কার্যক্রম গ্রহণের আবশ্যকতা থাকে তবে সেইক্ষেত্রে যতক্ষণ পর্যন্ত পরবর্তী আপিল বা মামলার অন্য কোনো কার্যক্রম অমীমাংসিত থাকিবে ততক্ষণ পর্যন্ত উপকর কমিশনার সার্টিফিকেট হইতে হ্রাসকৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ আদায় স্থগিত রাখিবেন।

(৩) বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে কোনো সার্টিফিকেট ইস্যু করিবার পর আপিল বা এই আইনের অধীন পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বকেয়া দাবির পরিমাণ হ্রাস পাইলে এবং আদেশটির বিষয়বস্তু আপিল বা এই আইনের অধীন পরিচালিত অন্য কোনো কার্যক্রম চূড়ান্ত এবং সমাপ্তিমূলক হইলে উপকর কমিশনার সার্টিফিকেটটির প্রয়োজনীয় সংশোধন বা, প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে, প্রত্যাহার করিবেন।

(৪) উপকর কমিশনার কর আদায় সংক্রান্ত সার্টিফিকেটটি বাতিলকরণ, ভুল সংশোধন, কার্যক্রম স্থগিতকরণ, প্রত্যাহার বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সংশোধন সংক্রান্ত আদেশ সম্পর্কে আদায়কারী কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন।

২১৯। আদায়ের সার্টিফিকেটের বৈধতা বিবাদযোগ্য নহে

উপকর কমিশনার ধারা ২১৬ এর অধীন কর আদায়ের নিমিত্তে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট সার্টিফিকেট প্রেরণ করিলে করদাতা কর নির্ধারণের সঠিকতার বিষয়ে ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের নিকট আপত্তি তুলিবেন না এবং ট্যাক্স রিকোভারি অফিসার সার্টিফিকেটের কোনো গ্রাউন্ডের বিষয়ে কোনোরূপ আপত্তি গ্রহণ করিবেন না।

২২০। জেলা কালেক্টরের মাধ্যমে কর আদায়

(১) উপকর কমিশনার, যেই জেলায় তাহার অফিস অবস্থিত সেই জেলার কালেক্টর বরাবর অথবা যে জেলায় করদাতা বসবাস করেন বা সম্পত্তির মালিক বা ব্যবসা পরিচালনা করেন সেই জেলার কালেক্টর বরাবর বকেয়া পাওনা অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করিয়া তাহার স্বাক্ষরযোগে সার্টিফিকেট প্রেরণ করিতে পারিবেন, এবং কালেক্টর এইরূপ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির পর করদাতার নিকট হইতে উক্ত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত বকেয়া অর্থ ভূমি রাজস্বের বকেয়ার ন্যায় বিবেচনা করত তাহা আদায়ের ব্যবস্থা করিবেন।

(২) জেলা কালেক্টরের অন্য কোনো ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, Code of Civil Procedure, 1908 (Act No. V of 1908) এর বিধান মোতাবেক ডিক্রির আওতায় অর্থ আদায়ের জন্য দেওয়ানি আদালতের যে ক্ষমতা রহিয়াছে, উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার নিকট প্রেরিত সার্টিফিকেটে উল্লিখিত বকেয়া আদায়ের জন্য জেলা কালেক্টরেরও সেই ক্ষমতা থাকিবে।

(৩) উপকর কমিশনার যেকোনো সময় উপ-ধারা (১) এর অধীন জেলা কালেক্টরের নিকট প্রেরিত সার্টিফিকেট প্রত্যাহার করিয়া আনিতে পারিবেন এবং এইরূপ প্রত্যাহার করিয়া আনিবার ফলে সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সমস্ত কার্যক্রম বাতিল হইবে।

(৪) সার্টিফিকেট প্রত্যাহার দ্বারা কালেক্টর কর্তৃক উক্ত প্রত্যাহারের পূর্ব আদায় ক্ষুণ্ন হইবে না, এইক্ষেত্রে আদায়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থের জন্য সার্টিফিকেট প্রত্যাহার করা হয় নাই মর্মে গণ্য হইবে; অথবা নূতন করিয়া সার্টিফিকেট ইস্যুর মাধ্যমে সার্টিফিকেট প্রত্যাহারের সময় আদায়যোগ্য অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হইবে না।

২২১। আদায়ের অন্যান্য পদ্ধতি

(১) বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে ধারা ২১৬ বা ধারা ২২০ এর অধীন সার্টিফিকেট ইস্যু করা সত্ত্বেও, উপকর কমিশনার উপ-ধারা (২) বা (৩) এ বর্ণিত পদ্ধতিতে উহা আদায় করিতে পারিবেন।

(২) কোনো আপিল ফোরামে বিচারাধীন নহে করদাতার নিকট এইরূপ করদাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে উপকর কমিশনার, করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, উল্লিখিত করদাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত উক্ত করদাতার ব্যবসার স্থান হইতে যেকোনো পণ্য এবং সেবার স্থানান্তর নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন এবং ব্যবসার স্থান বন্ধও করিতে পারিবেন অথবা এইরূপ কর আদায়ের জন্য যেকোনো সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(৩) করদাতার নিকট পাওনা করদাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে, উপকর কমিশনার, লিখিত নোটিশ দ্বারা, নিম্নবর্ণিত যেকোনো ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বর্ণিত সরকারি কোষাগারে অর্থ জমাদান বা কর্তনপূর্বক অর্থ জমাদান করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং, ক্ষেত্রমত, অর্থ বা পরিসম্পদ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) যাহার নিকট করদাতার কোনো অর্থ বা পণ্য পাওনা রহিয়াছে বা পাওনা হইতে পারে;

(খ) যিনি করদাতার মালিকানাধীন অর্থ বা পণ্য ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বা পরবর্তীকালে ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবেন;

(গ) করদাতার পক্ষে করদাতার কোনো পরিসম্পদ, তাহা যেই প্রকারের হউক না কেন, ধারণ করেন বা তত্ত্বাবধান বা পরিচালনা করেন;

(ঘ) যিনি কোনো অনিবাসী করদাতার এজেন্ট হিসাবে অনিবাসী পক্ষে কোনো পরিসম্পদ বা পণ্য ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বা পরবর্তীকালে ধারণ বা গ্রহণ বা নিষ্পত্তি নিয়ন্ত্রণ করিতে পারেন;

(ঙ) যিনি করদাতার চাকরি হইতে আয় খাতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত; বা

(চ) যিনি করদাতার “ভাড়া হইতে আয়” খাতে যেকোনো পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেন।

(৪) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে কোনো অর্থ পরিশোধ করিলে, এইরূপ পরিশোধ করদাতার নিয়ন্ত্রণাধীনে তাহার দ্বারা সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং উপকর কমিশনার, উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে যেই পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করিয়া রশিদ দিবেন করদাতার নিকট হইতে উক্ত ব্যক্তি সেই পরিমাণ দায় হইতে মুক্তি পাইবেন মর্মে গণ্য হইবে।

(৫) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৩) এর অধীন নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও নোটিশ অনুসারে অর্থ পরিশোধে বা কর্তনে ব্যর্থ হন, তবে নোটিশে বর্ণিত অর্থের জন্য তাহাকে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং অর্থ আদায়ের জন্য তাহার বিরুদ্ধে এইরূপ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে যাহাতে বকেয়া কর তাহার নিকট পাওনা এবং এইক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের বিধানাবলি সমভাবে প্রযোজ্য হইবে।

(৬) উপকর কমিশনার যেকোনো সময় উপ-ধারা (৩) এর অধীন ইস্যুকৃত নোটিশ সংশোধন বা প্রত্যাহার করিতে পারিবেন অথবা এইরূপ নোটিশ অনুসারে যেকোনো অর্থ পরিশোধের সময় বৃদ্ধি করিতে পারিবেন।

(৭) উপকর কমিশনার বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে করদাতার গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিবার জন্য সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নোটিশের মাধ্যমে নির্দেশ দিবেন এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবা সরবরাহের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি এই ধারার অধীন নোটিশ প্রাপ্তির ২১ (একুশ) দিনের মধ্যে উক্ত সেবাসমূহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিয়া দিবেন।

(৮) কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা 1[(৭)] এর অধীন প্রাপ্ত নোটিশ পরিপালনে ব্যর্থ হইলে উক্ত ব্যক্তি নিজে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য হইবেন এবং বকেয়া করদাবি পরিশোধের জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হইবেন।

(৯) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (৭) এর অধীন প্রাপ্ত নোটিশ পরিপালন করিয়া কোনো গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, বা অন্যান্য সেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা বন্ধ করিয়াছেন সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের নিকট হইতে অনুমতি প্রাপ্তির পর উক্তরূপ সেবার সংযোগ পুনর্বহাল করিবেন।

(১০) যেইক্ষেত্রে কমিশনার নির্দেশ প্রদান করেন যে, উক্ত এলাকায় বলবৎযোগ্য বকেয়া পৌর কর আদায় বা বাংলাদেশের যেকোনো অংশে প্রযোজ্য আইন অনুসারে ধার্যকৃত স্থানীয় কর অথবা বাংলাদেশে বলবৎ অন্যান্য আইনে কর আদায়ের জন্য যেই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়, সেই প্রক্রিয়ায় কর আদায় করিতে হইবে এবং সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য এইরূপ একই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হইবেন।

(১১) উপ-ধারা (১০) এর আওতায় পৌর কর, স্থানীয় কর বা অন্যান্য কর আদায় করিবার জন্য কোনো বিধিবদ্ধ আইনের আওতায় প্রয়োগযোগ্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে বা মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ (২০১২ সনের ৪৭ নং আইন), Customs Act, 1969 (Act No. IV of 1969) এর কর আদায় করিবার জন্য প্রয়োগযোগ্য কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কী ধরনের ক্ষমতা ও কর্তব্য কী পরিমাণে অনুশীলন করা হইবে, তাহা কমিশনার কর্তৃক নির্ধারণ করিয়া দেওয়া থাকিবে।

২২২। কর আদায়ে যুগপৎ ব্যবস্থা গ্রহণ

আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন বা এই আইনের কোনো ধারা বা বিধানানুসারে কর আদায় কার্যক্রম চলমান থাকিলে তাহা এই আইন বা অন্য কোনো আইনের অন্য কোনো ধারা বা বিধানানুসারে অন্য কোনো প্রকারে কর আদায় কার্যক্রম গ্রহণকে বারিত করিবে না।

২৩৩। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(১) “আর্মস লেংথ প্রাইস” অর্থ কোনো লেনদেনের মূল্য যাহার শর্তাদি (যেমন মূল্য, মার্জিন বা মুনাফার বিভাজন) তুলনীয় পরিস্থিতির অধীন স্বাধীন সত্ত্বাসমূহের মধ্যে পরিচালিত কোনো তুলনীয় অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্তাদি হইতে ভিন্ন হয় নাই;

(২) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অথবা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ দ্বারা সম্পর্কিত, এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত নিম্নবর্ণিত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, যথা:-

(ক) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরিগণসহ), প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা এক) বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে, উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে;

(খ) এক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন শেয়ার ধারণ করে;

(গ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ [তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন পূর্বসূরিগণসহ], প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে উভয় শেয়ার ধারণ করে;

(ঘ) এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(ঙ) একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাহী পরিচালক বা গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি হন;

(চ) উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(ছ) উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বা নির্বাহী সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(জ) একটি প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করিবার কার্যকর ক্ষমতা থাকে;

(ঝ) উভয় প্রতিষ্ঠান একই প্যারেন্ট কোম্পানি বা গ্রুপের সদস্য, সাবসিডিয়ারি বা কনসার্ন;

(ঞ) উভয় প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্বন্ধযুক্ত থাকে;

(ট) এক প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্রমযোজিত দায়ের পরিমাণ ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক হয়; বা

(ঠ) এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রদত্ত গ্যারান্টির ক্রমযোজিত পরিমাণ অন্য প্রতিষ্ঠানের মোট দেনার বুক ভ্যালুর ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক হয়;।

(৩) “প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা যেকোনো প্রকারের উদ্যোগ (উক্ত ব্যক্তি বা উদ্যোগের স্থায়ী স্থাপনাসহ);

(৪) “স্বাধীন প্রতিষ্ঠান” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে এইরূপ প্রতিষ্ঠান;

(৫) “আন্তর্জাতিক লেনদেন” অর্থ কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মধ্যে, যাহার কোনো একটি বা উভয়ই অনিবাসী, ট্যানজিবল বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা লিজ অথবা সেবা বিনিময়, বা অর্থ ধার দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো লেনদেন, অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মুনাফা, আয়, ক্ষতি, পরিসম্পদ, আর্থিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক মূল্যের সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো লেনদেনকে বুঝাইবে, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হইবে খ এর সহিত গ এর কোনো লেনদেন যদি উক্ত লেনদেনের উপর ক এর কর্তৃত্ব থাকে, যেইক্ষেত্রে-

(ক) খ ও ক সহযোগী প্রতিষ্ঠান; এবং

(খ) গ, খ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে;

(৬) “সম্পত্তি” অর্থ পণ্য, আর্টিকেল, সামগ্রী বা আইটেম, পেটেন্ট, ইনভেনশন, ফর্মুলা, প্রসেস, নকশা, প্যাটার্ন, বাস্তবজ্ঞান, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, ট্রেড নাম, ব্রান্ড নাম, সাহিত্য, সংগীত বা শৈল্পিক কম্পোজিশন, ফ্রানসাইজি, লাইসেন্স বা চুক্তি, পদ্ধতি, প্রোগ্রাম, সফটওয়ার, ডাটাবেজ, সিস্টেম, কার্যপ্রণালি, প্রচারাভিযান, জরিপ, সমীক্ষা, পূর্বাভাস, প্রাক্কলন, ক্রেতা তালিকা, কারিগরি উপাত্ত, যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি বা বিজ্ঞাপন বা বিপণন, কোনো আইটেম যাহার প্রকৃত মূল্য রহিয়াছে বা যেকোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭) “রেকর্ড” অর্থ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ধারণকৃত তথ্য, দলিল এবং রেকর্ড ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮) “ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা” অর্থ ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা হিসাবে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ;

(৯) ”লেনদেন” অর্থে দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যকার কোনো ব্যবস্থা, সমঝোতা বা কার্য অন্তর্ভুক্ত হইবে, তাহা আনুষ্ঠানিক বা লিখিত হউক বা না হউক বা যাহা কোনো আইনি কার্যধারার মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করিবার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক;

(১০) “অনিয়ন্ত্রিত লেনদেন” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘটিত কোনো লেনদেন।

২২৩। সম্পত্তির অন্তর্বর্তীকালীন অবরুদ্ধকরণ বা ক্রোক

(১) এই আইনের অধীন কার্যসম্পাদনকালে, যেইক্ষেত্রে মহাপরিচালক (কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল) বা কমিশনারের নিকট এই মর্মে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে যে, কোনো ব্যক্তি তাহার আয় বা বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্যাদি গোপন করিয়াছেন 1[বা এই আইনের ধারা ২১২ এ উল্লিখিত কোনো অঙ্কের পরিশোধ এড়াইয়া গিয়াছেন], সেইক্ষেত্রে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো ব্যক্তি, যাহার অধিকারে এই মুহূর্তে কোনো অর্থ, বুলিয়ান, অলংকার, আর্থিক দলিল, আর্থিক পরিসম্পদ, মূল্যবান দ্রব্য বা অন্য কোনো সম্পত্তি রহিয়াছে তাহাকে আদেশ প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তাহা অপসারণ, হস্তান্তর বা অন্য কোনোভাবে বিলিব্যবস্থা না করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন ।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে এক বৎসর উত্তীর্ণ হইবার পর এইরূপ আদেশের কোনো কার্যকারিতা থাকিবে না।

(৩) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত আয়কর কর্তৃপক্ষ বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে, উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, মেয়াদ বৃদ্ধির সময় কোনোক্রমেই সাকুল্যে ১ (এক) বৎসরের অধিক হইবে না।

(৪) উপ-ধারা (২) ও (৩) এ উল্লিখিত মেয়াদ হিসাব করিবার ক্ষেত্রে, উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ আদালত কোনো মেয়াদের জন্য স্থগিত করিলে উক্ত মেয়াদ, যদি থাকে, গণনা হইতে বাদ যাইবে।

২২৪। প্রত্যর্পণের অধিকার

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি উপকর কমিশনারকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করেন যে, কোনো বৎসরে তাহার দ্বারা বা তাহার পক্ষে পরিশোধিত করের পরিমাণ অথবা তাহার দ্বারা বা তাহার পক্ষে পরিশোধিত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত করের পরিমাণ উক্ত বৎসরে তাহার নিকট এই আইনের অধীন দাবিকৃত করদায় অপেক্ষা অধিক, সেইক্ষেত্রে পরিশোধিত তিনি অতিরিক্ত অর্থ প্রত্যর্পণ পাইবার অধিকারী হইবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আয় এই আইনের কোনো বিধানাবলে অন্য কোনো ব্যক্তির মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে এইরূপ অন্য কোনো ব্যক্তি এককভাবে এইরূপ আয়ের প্রেক্ষিতে এই আইনের অধীন প্রত্যর্পণ পাইবার অধিকারী হইবেন।

২২৫। দাবি সমন্বয় ও প্রত্যর্পণ

(১) এই আইনের বিধানাবলি, Income-tax Ordinance, 1984 (Ordinance No. XXXVI of 1984), Gift Tax Act, 1963 (Act No. XIV of 1963) অথবা দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) বা Wealth Tax Act, 1963 (Act No. XV of 1963) এর অধীন কোনো করদাতার নিকট কোনো মেয়াদে কোনো অর্থ বকেয়া থাকিলে, উক্ত করদাতাকে প্রত্যর্পণযোগ্য অর্থ পরিশোধের পূর্বে উক্ত বকেয়া সমন্বয় করা হইবে।

(২) কোনো মেয়াদের জন্য বকেয়া কোনো পাওনার বিপরীতে প্রত্যর্পণযোগ্য অর্থের সমন্বয় করা হইলে, সমন্বয়কৃত অর্থ করদাতাকে পরিশোধ করা হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে এবং উপকর কমিশনার এতদুদ্দেশ্যে করদাতার কর রেকর্ডে তাহা যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ করিবেন।

২২৬। প্রত্যর্পণ দাবি

এই আইনের অধীন কোনো আদেশ বা কার্যক্রমের ফলে কোনো অঙ্ক প্রত্যর্পণযোগ্য হইলে প্রত্যর্পণযোগ্য পরিমাণ করদাতার ব্যাংক হিসাবে ইলেক্ট্রেনিক ট্রান্সফার না করিলে করদাতা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত ফেরতের দাবি করিতে পারিবেন।

২২৭। মৃত বা অক্ষম ব্যক্তির পক্ষে প্রত্যর্পণ দাবি

মৃত্যু, অক্ষমতা, দেউলিয়াত্ব, অবসায়ন বা অন্য কোনো কারণে কোনো ব্যক্তি তাহার পাওনা অর্থ ফেরৎ পাইবার দাবি করিতে বা গ্রহণ করিতে অসমর্থ হইলে, তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি বা ট্রাস্টি, অভিভাবক বা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, রিসিভার উক্ত ব্যক্তি বা তাহার ভূ-সম্পত্তির সুবিধার নিমিত্তে বর্ণিত ফেরত দাবি বা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

২২৮। কর নির্ধারণের সঠিকতা, ইত্যাদি বিষয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না

এই অধ্যায়ের অধীন কোনো ফেরত প্রাপ্তির দাবির ক্ষেত্রে কোনো দাবিদার কোনো কর নির্ধারণী আদেশের সঠিকতা বা বৈধতার বিষয়ে অথবা অন্য কোনো বিষয় যাহা চূড়ান্ত ও সমাপ্ত হইয়াছে, তাহা সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন করিতে পারিবেন না বা উক্ত বিষয় পুনঃ বিবেচনার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন না এবং দাবিদার অতিরিক্ত কর পরিশোধের কারণে অর্থ ফেরত পাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো বিষয়ে কোনো প্রতিকার পাইবার অধিকারী হইবেন না।

২২৯। আপিল আদেশের ভিত্তিতে অর্থ ফেরত

কোনো আপিল আদেশ বা এই আইনের আওতায় গৃহীত অন্য কোনো কার্যক্রমের অধীন করদাতার নিকট কোনো অর্থ ফেরতযোগ্য হইলে, উক্ত পরিমাণ অর্থ যদি প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় করা না হয় বা ধারা ২২৫ এর বিধান মোতাবেক পরিশোধ বিবেচনা করা না হয়, তাহা হইলে এতদবিষয়ে করদাতা কোনো দাবি উপস্থাপন না করিলেও, যেই তারিখে করদাতার উক্ত কর ফেরতযোগ্য হইয়াছে সেই তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপকর কমিশনার করদাতাকে উক্ত অর্থ ফেরত প্রদান করিবেন।

২৩০। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(১) “কর সুবিধা” অর্থে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, আয়করদায় পরিহার বা হ্রাস করা;

(খ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো ব্যক্তিকে আয়কর পরিশোধের দায় হইতে, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় হইতে মুক্ত করা;

(গ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, কোনো করদায়, অথবা ভবিষ্যৎ আয়করের কোনো সম্ভাব্য বা ভবিষ্যাপেক্ষ দায় পরিহার, স্থগিত বা হ্রাসকরণ;

(ঘ) আয়কর পরিশোধে বিলম্বকরণ;

(ঙ) উৎসে কর কর্তন বা সংগ্রহ এবং সরকারি কোষাগারে উক্ত কর জমা প্রদানের বাধ্যবাধকতা পরিহার;

(২) “ব্যবস্থা” অর্থ বলবৎযোগ্য বা অবলবৎযোগ্য কোনো সম্মতি, চুক্তি, পরিকল্পনা বা সমঝোতা এবং উক্ত সকল পদক্ষেপ ও লেনদেন যাহার মাধ্যমে তাহা কার্যকর হয়;

(৩) “কর ব্যবস্থার অপব্যবহার” অর্থ কোনো ব্যবস্থা, যাহার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তি বা অন্য কোনো ব্যক্তি যাহার মাধ্যমে সম্পাদিত হউক না কেন –

(ক) যাহা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো সরল উদ্দেশ্যে (bonafide purpose) গৃহীত বা সৃজিত হয়; বা

(খ) যাহা, একাধিক ব্যবস্থার একটি অংশ এবং উক্ত একাধিক ব্যবস্থা, এই ধারার অনুপস্থিতিতে, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এক বা একাধিক কর সুবিধা সৃষ্টি করে যদি না উক্ত একাধিক ব্যবস্থা যুক্তিসঙ্গতভাবে কোনো কর সুবিধা অর্জনের উদ্দশ্যে ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে গৃহীত বা সৃজিত হয়।

২৩১। কর সুবিধা সমন্বয়

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো কার্যক্রম চলাকালে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোনো আয়বর্ষে কোনো করদাতা কর ব্যবস্থার (tax arrangement) অপব্যবহারের মাধ্যমে কর সুবিধা নিয়েছেন, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার এই ধারায় উল্লিখিত কার্য পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের দ্বারা উক্ত অপব্যবহারের মাধ্যমে গৃহীত কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সমন্বয়ের মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:-

(ক) আয় বৃদ্ধিকরণ;

(খ) করদায় সংশোধন;

(গ) কর প্রত্যর্পণের সমন্বয়;

(ঘ) ভাতাদি, রেয়াত ইত্যাদির সংশোধন;

(ঙ) অন্য কোনো আদেশ যাহা কর সুবিধা প্রত্যাহার করে।

(৩) এই ধারার অধীন যেকোনো সমন্বয় এই আইনের অধীন সকল উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কার্যকর থাকিবে।

২৩২। সমন্বয়ের পদ্ধতি

(১) কর সুবিধার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্ত, উপকর কমিশনার নিম্নবর্ণিত বিষয় উল্লেখপূর্বক করদাতার প্রতি নোটিশ জারি করিবেন, যথা:-

(ক) করদাতা কর ব্যবস্থার 1[অপব্যবহারের] মাধ্যমে কর সুবিধা গ্রহণ করিয়াছেন মর্মে উপকর কমিশনারের বিশ্বাস করিবার কারণ;

(খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সমন্বয়ের উদ্দেশ্য উল্লেখসহ যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক তাহার বিবরণ;

(গ) করদাতাকে নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপকর কমিশনারের নিকট হাজির হইবার;

(ঘ) কর সুবিধা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় বিবরণী, দলিলাদি ও তথ্যাদি উপস্থাপনের।

(২) কর সুবিধা সমন্বয়ের করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে এবং করদাতার উপর উক্ত শুনানির জারীকৃত নোটিশ অবহিতকরণের তারিখ হইতে শুনানির দিন পর্যন্ত অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় প্রদান করিতে হইবে।

(৩) উপকর কমিশনার রেকর্ড, করদাতা কর্তৃক দাখিলকৃত ও শুনানিকালে উপস্থাপিত দলিলাদির ভিত্তিতে তাহার নিকট উপস্থাপিত সকল তথ্যাদি বিবেচনাপূর্বক কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে সমন্বয়ের আদেশ প্রদান করিবেন এবং আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা করদাতাকে অবহিত করিবেন।

২৩৩। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(১) “আর্মস লেংথ প্রাইস” অর্থ কোনো লেনদেনের মূল্য যাহার শর্তাদি (যেমন মূল্য, মার্জিন বা মুনাফার বিভাজন) তুলনীয় পরিস্থিতির অধীন স্বাধীন সত্ত্বাসমূহের মধ্যে পরিচালিত কোনো তুলনীয় অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান শর্তাদি হইতে ভিন্ন হয় নাই;

(২) “সহযোগী প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো প্রতিষ্ঠান যাহা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অথবা এক বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ দ্বারা সম্পর্কিত, এবং অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সহিত নিম্নবর্ণিত সম্পর্কে আবদ্ধ থাকে, যথা:-

(ক) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ (তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা পূর্বসূরিগণসহ), প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বা এক) বা একাধিক মধ্যবর্তী সত্ত্বার মাধ্যমে, উভয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণ বা মূলধনে অংশগ্রহণ করে;

(খ) এক প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন শেয়ার ধারণ করে;

(গ) একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ [তাহার স্ত্রী/স্বামী, উত্তরসূরি বা প্রতিষ্ঠানের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) এর অধিক ভোটের ক্ষমতাসম্পন্ন পূর্বসূরিগণসহ], প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে উভয় শেয়ার ধারণ করে;

(ঘ) এক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(ঙ) একটি প্রতিষ্ঠানের কোনো নির্বাহী পরিচালক বা গভর্নিং বোর্ডের নির্বাহী সদস্য অন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বা উভয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি হন;

(চ) উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বোর্ডের মোট সদস্যের অর্ধেকের অধিক সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(ছ) উভয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক বা নির্বাহী সদস্য একই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন;

(জ) একটি প্রতিষ্ঠানের অন্য প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তকে নিয়ন্ত্রণ করিবার কার্যকর ক্ষমতা থাকে;

(ঝ) উভয় প্রতিষ্ঠান একই প্যারেন্ট কোম্পানি বা গ্রুপের সদস্য, সাবসিডিয়ারি বা কনসার্ন;

(ঞ) উভয় প্রতিষ্ঠান বিধি দ্বারা নির্ধারিত পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে সম্বন্ধযুক্ত থাকে;

(ট) এক প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে অন্য প্রতিষ্ঠানের ক্রমযোজিত দায়ের পরিমাণ ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মোট সম্পদের বুক ভ্যালুর ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) এর অধিক হয়; বা

(ঠ) এক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রদত্ত গ্যারান্টির ক্রমযোজিত পরিমাণ অন্য প্রতিষ্ঠানের মোট দেনার বুক ভ্যালুর ১০% (দশ শতাংশ) এর অধিক হয়;।

(৩) “প্রতিষ্ঠান” অর্থ কোনো ব্যক্তি বা যেকোনো প্রকারের উদ্যোগ (উক্ত ব্যক্তি বা উদ্যোগের স্থায়ী স্থাপনাসহ);

(৪) “স্বাধীন প্রতিষ্ঠান” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে এইরূপ প্রতিষ্ঠান;


(৫) “আন্তর্জাতিক লেনদেন” অর্থ কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মধ্যে, যাহার কোনো একটি বা উভয়ই অনিবাসী, ট্যানজিবল বা স্পর্শাতীত সম্পত্তি ক্রয়, বিক্রয় বা লিজ অথবা সেবা বিনিময়, বা অর্থ ধার দেওয়া বা নেওয়ার মাধ্যমে সৃষ্ট কোনো লেনদেন, অথবা উক্ত প্রতিষ্ঠানদ্বয়ের মুনাফা, আয়, ক্ষতি, পরিসম্পদ, আর্থিক অবস্থান বা অর্থনৈতিক মূল্যের সহিত সম্পর্কিত অন্য কোনো লেনদেনকে বুঝাইবে, এবং এর অন্তর্ভুক্ত হইবে খ এর সহিত গ এর কোনো লেনদেন যদি উক্ত লেনদেনের উপর ক এর কর্তৃত্ব থাকে, যেইক্ষেত্রে-

(ক) খ ও ক সহযোগী প্রতিষ্ঠান; এবং

(খ) গ, খ এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান নহে;

(৬) “সম্পত্তি” অর্থ পণ্য, আর্টিকেল, সামগ্রী বা আইটেম, পেটেন্ট, ইনভেনশন, ফর্মুলা, প্রসেস, নকশা, প্যাটার্ন, বাস্তবজ্ঞান, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক, ট্রেড নাম, ব্রান্ড নাম, সাহিত্য, সংগীত বা শৈল্পিক কম্পোজিশন, ফ্রানসাইজি, লাইসেন্স বা চুক্তি, পদ্ধতি, প্রোগ্রাম, সফটওয়ার, ডাটাবেজ, সিস্টেম, কার্যপ্রণালি, প্রচারাভিযান, জরিপ, সমীক্ষা, পূর্বাভাস, প্রাক্কলন, ক্রেতা তালিকা, কারিগরি উপাত্ত, যেকোনো দৃষ্টিভঙ্গি বা বিজ্ঞাপন বা বিপণন, কোনো আইটেম যাহার প্রকৃত মূল্য রহিয়াছে বা যেকোনো স্পর্শাতীত সম্পত্তিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৭) “রেকর্ড” অর্থ ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে ধারণকৃত তথ্য, দলিল এবং রেকর্ড ও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(৮) “ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা” অর্থ ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা হিসাবে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ;

(৯) ”লেনদেন” অর্থে দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যকার কোনো ব্যবস্থা, সমঝোতা বা কার্য অন্তর্ভুক্ত হইবে, তাহা আনুষ্ঠানিক বা লিখিত হউক বা না হউক বা যাহা কোনো আইনি কার্যধারার মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করিবার ইচ্ছা থাকুক বা না থাকুক;

(১০) “অনিয়ন্ত্রিত লেনদেন” অর্থ সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যতীত অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘটিত কোনো লেনদেন।

২৩৪। আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনাপূর্বক আন্তর্জাতিক লেনদেন হইতে আয় নির্ধারণ

 অংশ ১৫ এর তৃতীয় অধ্যায় এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আন্তর্জাতিক লেনদেন হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা ব্যয়ের পরিমাণ আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনাপূর্বক নির্ধারণ করিতে হইবে।

২৩৫। আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা

(১) লেনদেনের প্রকৃতি, নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রাপ্যতা, সম্পাদিত কার্যাদি, নিযুক্ত সম্পদ, গৃহীত ঝুঁকি কিংবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য ফ্যক্টরের ভিত্তিতে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতি সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি (method) অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে হইবে, যথা:-

(ক) কমপারেবল আনকন্ট্রোলড প্রাইস মেথড (comparable uncontrolled price method);

(খ) রিসেল প্রাইস মেথড (resale price method);

(গ) কস্ট প্লাস মেথড (cost plus method);

(ঘ) প্রফিট স্প্লিট মেথড (profit split method);

(ঙ) ট্রানজেকশনাল নেট মার্জিন মেথড (transactional net margin method);

(চ) অন্য যেকোনো পদ্ধতি, যেইক্ষেত্রে প্রমাণ দেওয়া যায় যে,-

(অ) আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবার জন্য দফা (ক) হইতে (ঙ) এ উল্লিখিত কোনো পদ্ধতি যুক্তিসঙ্গতভাবে প্রয়োগ করা সম্ভবপর নহে; এবং

(আ) উক্ত পদ্ধতি আর্মস লেংথ প্রাইসের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল প্রদান করে।

(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর দফা (ঘ) বা (চ) এ উল্লিখিত পদ্ধতি ব্যতীত অন্য কোনো একটি পদ্ধতিকে সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত পদ্ধতি হিসাবে প্রয়োগ করা হয় এবং আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ৬ (ছয়) বা তাহার অধিক এন্ট্রি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ডাটাসেটের ৩০ (ত্রিশ) হইতে ৭০ (সত্তর) পার্সেন্টাইল মধ্যে অবস্থিত ডাটা লইয়া একটি আর্মস লেংথ রেঞ্জ গঠন করিতে হইবে এবং নিম্নবর্ণিত শর্তানুসারে আমর্স লেংথ প্রাইস নির্ধারিত হইবে, যথা:-

(ক) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরি-বর্ণিত রেঞ্জের মধ্যে থাকে তবে উক্ত মূল্যই আর্মস লেংথ প্রাইস হিসাবে বিবেচিত হইবে;

(খ) যে মূল্যে প্রকৃত আন্তর্জাতিক লেনদেন সংঘটিত হইয়াছে তাহা যদি উপরোল্লিখিত রেঞ্জের মধ্যে না থাকে তবে ডাটাসেটের মধ্যমাকে আর্মস লেংথ প্রাইস ধরিতে হইবে;

(গ) যদি আর্মস লেংথ প্রাইসের ডাটাসেটে ছয়ের কম সংখ্যক এন্ট্রি থাকে, তবে ডাটাসেটের অন্তর্ভুক্ত সকল ভ্যালুর গাণিতিক গড়ই হইবে আমর্স লেংথ প্রাইস।

(৩) আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের জন্য উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত মেথড বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রযোজ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীন কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইসের ফলস্বরূপ প্রাপ্ত মোট আয় উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেন প্রকৃতপক্ষে যে মূল্যে সম্পন্ন হইয়াছিল সেই মূল্যই ধার্য বা পরিশোধিত বিবেচিত হইলে যে মোট আয় পাওয়া যেতো তাহা অপেক্ষা কম হইবে না।

(৪) যেইক্ষেত্রে অংশ ১০ এর অধীন কোনো কর নির্ধারণকালে উপকর কমিশনার এইরূপ অভিমত পোষণ করেন যে,-

(ক) করদাতা কর্তৃক আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য ধার্যকৃত বা পরিশোধিত মূল্য উপ-ধারা (১) ও (৩) অনুসারে নির্ধারণ করা হয় নাই;

(খ) করদাতা ধারা ২৩৭ অনুসারে তথ্য, দলিলাদি বা রেকর্ড রাখিতে ব্যর্থ হইয়াছে; বা

(গ) করদাতা কর্তৃক যে তথ্য বা উপাত্তের ভিত্তিতে আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইয়াছে তাহা নির্ভরযোগ্য বা শুদ্ধ নহে,

সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার তাহার নিকট প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে উপ-ধারা (১) ও (৩) এর বিধানাবলি অনুসারে উক্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের ক্ষেত্রে, উপকর কমিশনার তাহার নিকটে প্রাপ্য তথ্য বা দলিলাদি বা প্রমাণাদির ভিত্তিতে কেন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হইবে না তৎমর্মে নোটিশ প্রদানপূর্বক নোটিশে উল্লিখিত তারিখ ও সময়ের মধ্যে করদাতাকে কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিবেন।

(৬) যেইক্ষেত্রে এই উপ-ধারা (৪) ও ধারা ২৩৬ এর উপ-ধারা (৪) এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করা হয়, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্তরূপে নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস বিবেচনা করিয়া লিখিত আদেশ দ্বারা করদাতার মোট আয় পরিগণনা শুরু করিবেন।

২৩৬। ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মচারীর নিকট প্রেরণ

(১) ধারা ২৩৫ এই যাহা কিছুই থাকুক না কেন,-

(ক) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে উপকর কমিশনার ধারা ২৩৫ এর অধীন আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের বিষয়টি ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মচারীর কাছে প্রেরণ করিতে পারিবেন;

(খ) বোর্ডের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কোনো আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণের কার্যক্রম শুরু করিতে পারিবেন।

(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রেফারেন্স অথবা কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হইবে, সেইক্ষেত্রে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা করদাতাকে বিচারাধীন আন্তর্জাতিক লেনদেনের আর্মস লেংথ প্রাইস পরিগণনা করিবার জন্য করদাতা যেসকল প্রমাণাদির উপর নির্ভর করিয়াছিল তাহা নোটিশে উল্লিখিত তারিখে উপস্থাপনের বা উপস্থাপন করানোর জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন।

(৩) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিকট উপস্থাপিত প্রমাণ বা তিনি কোনো বিশেষ পয়েন্টে করদাতার নিকট বা অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে কোনো প্রমাণ অধিযাচন করিলে তৎসহ তাহার নিকট প্রাপ্ত বা উপস্থিত প্রমাণ বিবেচনা করিয়া এবং তাহার সংগৃহীত সংশ্লিষ্ট সকল কাগজপত্র বিবেচনাক্রমে লিখিত আদেশ দ্বারা ধারা ২৩৫ অনুসারে আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আর্মস লেংথ প্রাইস নির্ধারণ করিবেন এবং উপকর কমিশনারের নিকট তাহার একটি অনুলিপি প্রেরণ করিবেন।

(৪) উপকর কমিশনার উপ-ধারা (৩) এর অধীন আদেশের কপি প্রাপ্তির পর ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস অনুসারে করদাতার মোট আয় পরিগণনার কার্যক্রম শুরু করিবেন এবং এইরূপ আয় পরিগণনাকালে যদি কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তির আয় পরিগণনা করিতে হয় তবে ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা কর্তৃক নির্ধারিত আর্মস লেংথ প্রাইস এর ভিত্তিতে যে সমন্বয় পাওয়া যাইবে তাহা উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং উক্ত আয়ের উপর নিয়মিত হারে কর আরোপিত হইবে।

(৫) ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার নিজস্ব উদঘাটন অথবা করদাতা বা অন্য কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তাহার নজরে আনিবার প্রেক্ষিতে পরিদৃষ্ট হন যে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন তৎকর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশে এইরূপ ভুল রহিয়াছে যাহা রেকর্ডদৃষ্টে প্রতীয়মান, তাহা হইলে তিনি উক্ত ভুল সংশোধন করিতে পারিবেন এবং সেই অনুসারে এইক্ষেত্রে ধারা ৩৩০ এর বিধানাবলি, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোনো সংশোধন করা হইলে, ট্রান্সফার প্রাইসিং কর্মকর্তা তাহার আদেশের একটি অনুলিপি উপকর কমিশনারের নিকট প্রেরণ করিবেন যিনি পরবর্তীতে উক্ত আদেশ অনুসারে কর নির্ধারণী আদেশ সংশোধন করিবার ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

২৩৭। তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ

(১) আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলিকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, বোর্ড তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিবার মেয়াদ বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৩) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড সরবরাহের নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

২৩৮। আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত বিবরণী দাখিল

আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ প্রত্যেক ব্যক্তি রিটার্নের সহিত বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে একটি আন্তর্জাতিক লেনদেন সম্পর্কিত বিবরণী দাখিল করিবেন।

২৩৯। অ্যাকাউন্টেন্ট হইতে প্রাপ্ত প্রতিবেদন দাখিল

উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ কোনো ব্যক্তিকে অথবা কোনো আয়বর্ষের হিসাব বহিতে সংরক্ষিত রেকর্ড অনুসারে ৩ (তিন) কোটি টাকার অধিক লেনদেন রহিয়াছে এইরূপ ব্যক্তিকে নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ধারা ২৩৭ এর অধীন দাখিলকৃত সকল তথ্য, দলিলাদি ও রেকর্ড বা তাহার অংশবিশেষ সম্পর্কিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট বা কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর একটি প্রতিবেদন সরবরাহ করিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

২৪০। অনিবাসীর সহিত লেনদেনের মাধ্যমে কর পরিহার

যেইক্ষেত্রে একজন নিবাসী ও একজন অনিবাসীর মধ্যে কোনো ব্যবসা পরিচালিত হয় এবং উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ট সম্পর্কের ফলে ব্যবসায়ের কার্যক্রম এইরূপভাবে বিন্যস্ত করা হইয়াছে যে, উভয়ের মধ্যে সম্পাদিত ব্যবসায়িক লেনদেনের ফলস্বরূপ নিবাসী ব্যক্তির কোনো মুনাফা অর্জিত হয় নাই, অথবা হইলেও তাহা উক্ত ব্যবসার ঈপ্সিত স্বাভাবিক মুনাফা অপেক্ষা কম, সেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনার উক্ত ব্যবসা হইতে নিবাসী ব্যক্তির উদ্ভূত হইতে পারে এইরূপ যুক্তিসঙ্গত আয়ের পরিমাণ নির্ধারণ করিবেন এবং উক্তরূপ নির্ধারিত আয় নিবাসীর মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত করিবেন।

২৪১। সম্পদ হস্তান্তরের মাধ্যমে কর পরিহার

(১) একক বা সহযোগী কর্মকান্ডের সহিত সম্মিলিতভাবে, যেভাবে হউক না কেন, কোনো সম্পদ হস্তান্তরের কারণে বা ফলস্বরূপ কোনো আয় কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় হলে উক্ত আয় এইরূপ কোনো ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে যিনি-

(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মাধ্যমে এইরূপ কোনো অধিকার অর্জন করেন যাহার কারণে বা ফলশ্রুতিতে তিনি উক্ত অনিবাসীকে প্রদেয় আয় তাৎক্ষণিকভাবে বা পরবর্তীকালে ভোগ করিবার ক্ষমতা রাখেন;

(খ) এইরূপ লেনদেন বা সহযোগী কর্মকান্ডের সুবাদে যেকোনো সময় কোনো অর্থ যাহা ঋণ বা ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে পরিশোধিত বা প্রদেয় অথবা অন্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেন বা গ্রহণ করিবার অধিকার প্রাপ্ত হন, তবে আয় হিসাবে বা পূর্ণ আর্থিক মূল্য হিসাবে পরিশোধিত বা প্রদেয় কোনো অর্থ নহে।

(২) যে আয় একজন অনিবাসীকে প্রদেয় হয় এবং উপ-ধারা (১) এর অধীন উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য করা হয় সেই আয় এই আইনের সকল উদ্দেশ্যে আয় হিসাবে বিবেচিত হইবে, বর্ণিত আয় এই ধারার বিধান ব্যতীত অন্যভাবে করযোগ্য হউক বা না হউক ।

(৩) এই ধারার বিধানাবলি প্রয়োগ করা যাইবে না, যদি উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে-

(ক) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের মধ্যে করদায় পরিহারের এক বা একাধিক উদ্দেশ্য নিহিত ছিল না; বা

(খ) এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী সকল কর্মকান্ডে প্রকৃত ব্যবসায়িক লেনদেন নিহিত ছিল এবং করদায় পরিহারের পরিকল্পনা নিহিত ছিল না।

(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন আয় হিসাবে গণ্য হইয়া করারোপিত হইয়াছে এমন কোনো আয় পুনর্বার কোনো ব্যক্তির আয়ের অংশ হিসাবে গণ্য করিয়া করারোপ করা যাইবে না।

(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ব্যক্তির কোনো অনিবাসীকে প্রদেয় আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে, যদি-

(ক) যেকোনো সময় যেকোনো রূপে উক্ত ব্যক্তির সুবিধা নিশ্চিত করিবার জন্য এইরূপ আয় প্রকৃতপক্ষে পরিগণনা করা হইয়াছে;

(খ) এইরূপ আয়ের প্রাপ্তি বা আয় উদ্ভূত হইবার ফলশ্রুতিতে উক্ত ব্যক্তির দখলাধীন বা সুবিধাধীন কোনো সম্পদের মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে;

(গ) উক্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিতভাবে প্রদত্ত বা প্রদত্ত হইতে পারে এইরূপ সুবিধা যেকোনো সময় প্রাপ্ত হন বা প্রাপ্তির অধিকারী হন-

(অ) এইরূপ আয় হইতে; বা

(আ) এইরূপ অর্থ হইতে, যাহা উক্তরূপ আয় এবং উক্তরূপ আয়ের প্রতিরূপকারী সম্পদের উপর সহযোগী কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে বা অনুক্রমিক ফলশ্রুতিতে উপলব্ধ হয় বা উপলব্ধ হইতে পারে;

(ঘ) এইরূপ ব্যক্তি নিযুক্তি, রদকরণ বা অন্য কোনোভাবে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্মতিতে বা সম্মতি ব্যতিরেকে এইরূপ আয়ের সুবিধা ভোগের ক্ষমতা সংরক্ষণ করেন; বা

(ঙ) এইরূপ ব্যক্তি যেকোনো পদ্ধতিতেই উক্তরূপ আয়ের ব্যবহার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করিতে সক্ষম হন।

(৬) কোনো ব্যক্তির আয় ভোগের ক্ষমতা রহিয়াছে কিনা তাহা নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যেকোনো হস্তান্তর এবং সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফল ও প্রভাব বিবেচনা করিতে হইবে এবং এইরূপ হস্তান্তর বা সহযোগী কর্মকান্ডের ফলাফলস্বরূপ যেকোনো সময় এইরূপ ব্যক্তির নিকট উদ্ভূত যেকোনো প্রকৃতির বা ধরনের সুবিধা, যাহা উক্ত ব্যক্তির উপর বর্তায় তাহা বিবেচনা করিতে হইবে।

(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) “পরিসম্পদ” বলিতে যেকোনো ধরনের সম্পত্তি বা অধিকারও অন্তর্ভুক্ত হইবে এবং যেইক্ষেত্রে হস্তান্তরিত সম্পদ কোনো অধিকার সেইক্ষেত্রে ‘হস্তান্তর’ বলিতে উক্তরূপ অধিকার সৃষ্টিও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(খ) কোনো হস্তান্তরের ক্ষেত্রে “সহযোগী কর্মকাণ্ড” বলিতে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কিত কোনো কর্মকান্ডকে বুঝাইবে, যথা:-

(অ) হস্তান্তরিত কোনো সম্পদ;

(আ) উক্তরূপ সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো আয়; বা

(ই) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত পুঞ্জিভূত আয়;

যেকোনো ধরনের পরিশোধ অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(ঘ) “হস্তান্তরিত সম্পদের প্রতিরূপকারী কোনো সম্পদ, বা উক্ত সম্পদ হইতে উদ্ভূত কোনো পুঞ্জিভূত” বলিতে উক্ত সম্পদ বা আয় বা পুঞ্জিভূত আয়ের হস্তান্তর যে কোম্পানির নিকট বা যে ব্যক্তির নিকট হইয়াছে সেই কোম্পানির শেয়ার বা দায়-দায়িত্বের উল্লেখ অথবা সেই ব্যক্তির দায়-দায়িত্বের উল্লেখও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং

(ঙ) বাংলাদেশের বাহিরে নিগমিত কোনো সংস্থা অনিবাসী হিসাবে গণ্য হইবে।

২৪২। সিকিউরিটিজ লেনদেনের মাধ্যমে কর পরিহার

(১) যেইক্ষেত্রে কোনো সিকিউরিটিজের মালিক তাহার সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করিবার পর পুনরায় তাহা ক্রয় বা অর্জন করেন, অথবা একই ধরনের সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন, এবং উক্তরূপ লেনদেনের ফলশ্রুতিতে মালিক কর্তৃক মূল সিকিউরিটিজের বিক্রয় বা হস্তান্তরের প্রেক্ষিতে প্রদেয় কোনো সুদ মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত না হয়, সেইক্ষেত্রে পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদ এই আইনের সকল উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অন্য কোনো ব্যক্তির আয় না হইয়া তাহা উক্ত মালিকের আয় হিসাবে গণ্য হইবে, পূর্বে উল্লিখিত প্রদেয় সুদের উপর এই উপ-ধারার বিধান ব্যতীত অন্য কোনোভাবে কর আরোপ হউক বা না হউক।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির আয়বর্ষের কোনো সময়ের জন্য কোনো সিকিউরিটিজে লাভভোগী হইবার স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা থাকে এবং উক্ত বৎসরের মধ্যে এইরূপ সিকিউরিটিজ বা তাহা হইতে উদ্ভূত আয়ের লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক আয় গৃহীত হয় নাই অথবা আয় হিসাবে যেই পরিমাণ অর্থ তিনি গ্রহণ করেন, তাহা যদি উক্ত সিকিউরিটিজ হইতে উল্লিখিত সময়ের আনুপাতিক হারে দিনের পর দিন যে পরিমাণে পুঞ্জিভূত ও অংশানুপাতে জমাকৃত হইতে পারিত তাহা অপেক্ষা কম হয়, তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত সময়ে এইরূপ সিকিউরিটিজ হইতে উদ্ভূত সমুদয় আয় উক্ত ব্যক্তির আয় হিসাবে গণ্য হইবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ সিকিউরিটিজ লেনদেন সংক্রান্ত ব্যবসায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট হইতে সিকিউরিটিজ ক্রয় বা অর্জন করেন এবং উক্ত সিকিউরিটিজ উক্ত অপর ব্যক্তির নিকট পুনরায় বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন অথবা তাহার নিকট একই ধরনের সিকিউরিটিজ বিক্রয় বা হস্তান্তর করেন এবং উক্ত লেনদেনের ফলশ্রুতিতে তৎকর্তৃক ক্রয়কৃত বা অর্জিত সিকিউরিটিজের জন্য প্রদেয় সুদ তিনি প্রাপ্য হওয়া সত্ত্বেও উক্ত আয় উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলির কারণে তাহার আয় হিসাবে গণ্য হয় নাই, সেইক্ষেত্রে উক্ত লেনদেন সম্পর্কে এই আইনের যেকোনো উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কোনো ধরনের আয় গণনাকল্পে উক্তরূপ ব্যবসা হইতে উদ্ভূত কোনো আয় বা লোকসান বিবেচিত হইবে না।

(৪) উপকর কমিশনার লিখিত নোটিশের মাধ্যমে, উক্ত নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, যাহা ২৮ (আঠাশ) দিনের কম নহে, কোনো ব্যক্তিকে তাহার মালিকানাধীন সকল সিকিউরিটিজের বিবরণ বা নোটিশে বর্ণিত সময়ে যে সকল সিকিউরিটিজে এইরূপ ব্যক্তির সুবধিাভোগী হিসাবে স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা ছিল, সেইরূপ সিকিউরিটিজের বর্ণনা দাখিলের জন্য এবং এই ধারার অন্যান্য উদ্দেশ্যে ও সিকিউরিটিজ বাবদ প্রাপ্ত সুদের কর সংক্রান্ত হিসাব চূড়ান্ত করিবার লক্ষ্যে উপকর কমিশনার যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করেন সেইরূপ অন্যান্য তথ্যাদি সরবরাহ করিবার নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৫) এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-

(ক) “সুদ” বলিতে লভ্যাংশও অন্তর্ভুক্ত হইবে; এবং

(খ) সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজের মোট নামমাত্র মূল্য অথবা তাহা ধারণ করিবার ফরম বা হস্তান্তরের পদ্ধতিতে যে পার্থক্যই থাকুক না কেন, এইরূপ সিকিউরিটিজ বলিতে সকল সিকিউরিটিজকে বুঝানো হইবে, যাহা তাহার মালিককে একই ব্যক্তির সুদ ও মুনাফার ক্ষেত্রে একই প্রকার অধিকার প্রদান করিয়া এবং উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একইরূপ সুযোগ প্রদান করে।

২৪৩। বাংলাদেশ ত্যাগকারী ব্যক্তির কর পরিশোধের সার্টিফিকেটের আবশ্যকতা

(১) বোর্ড কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত ব্যতিক্রম ব্যতীত, যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল নন অথবা যে ব্যক্তি বাংলাদেশে ডমিসাইল কিন্তু বাংলাদেশ ত্যাগের সময় আয়কর কর্তৃপক্ষের অভিমত এইরূপ যে তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিবেন না, সেইক্ষেত্রে বোর্ড কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপকর কমিশনারের নিকট হইতে এই মর্মে নিম্নবর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি বাংলাদেশ ত্যাগ করিতে পারিবেন না, যথা:-

(ক) কর পরিশোধের সার্টিফিকেট, বা

(খ) তিনি বাংলাদেশে ফিরিয়া আসিতে ইচ্ছুক থাকিলে, একটি অব্যাহতি সার্টিফিকেট, যাহা কেবল তখনই ইস্যু করা যাইবে যখন উপকর কমিশনার এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এইরূপ ইচ্ছা আছে; এবং এইরূপ অব্যাহতি সার্টিফিকেট একবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে বা সার্টিফিকেটে বর্ণিত সময়সীমার মধ্যে একাধিকবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে, প্রদান করা যাইতে পারে।

(২) কোনো বিমান বা জাহাজের মালিক অথবা চার্টারার উপ-ধারা (১) এর অধীন বর্ণিত কোনো ব্যক্তিকে যদি উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত সার্টিফিকেট ছাড়া সেইরূপ বিমান বা জাহাজ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের যেকোনো স্থান হইতে বাংলাদেশের বাহিরে যেকোনো স্থানে ভ্রমণের অনুমতি দেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত মালিক বা চার্টারারকে-

(ক) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত ব্যক্তির নিকট পাওনা কর বা তাহার নিকট পাওনা হইবে এবং তাহার দ্বারা প্রদেয় হইবে এইরূপ কর পরিশোধ করিতে হইবে এবং সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা পরিশোধ করিতে হইবে; এবং

(খ) সেইরূপ কর এবং জরিমানা আদায়ের উদ্দেশ্যে খেলাপি করদাতা হিসাবে গণ্য করা হইবে এবং এইক্ষেত্রে এই আইনের সকল বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(৩) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে,-

(ক) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “অব্যাহতি সার্টিফিকেট” বলিতে সার্টিফিকেটে উল্লিখিত এক বা একাধিকবার ভ্রমণের জন্য উক্ত ব্যক্তিকে কর পরিশোধ সার্টিফিকেট হইতে অব্যাহতি প্রদান করিবার উদ্দেশ্যে প্রদানকৃত সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে;

(খ) “মালিক” অথবা “চার্টারার” বলিতে কোনো জাহাজ বা বিমানের মালিক অথবা চার্টারার কর্তৃক উক্ত জাহাজ বা বিমানে ভ্রমণের অধিকার ইস্যু করিবার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি, এজেন্ট অথবা কর্মচারীও অন্তর্ভুক্ত হইবে;

(গ) কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে “কর পরিশোধ সার্টিফিকেট” বলিতে এই আইন অথবা দানকর আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৪৪ নং আইন) এর অধীন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো দায় নাই অথবা উক্ত ব্যক্তির সকল প্রকার কর পরিশোধের অথবা তাহার দ্বারা প্রদেয় বা প্রদেয় হইতে পারে এইরূপ যেকোনো প্রকার কর পরিশোধের উদ্দেশ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা গৃহীত হইয়াছে মর্মে প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেটকে বুঝাইবে।

২৪৪। কর চুক্তি

(১) সরকার অন্য যেকোনো দেশের সরকারের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদিতে চুক্তি সম্পাদন করিতে পারিবে, যথা:-

(ক) নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কর লাঘব সংক্রান্ত:

(অ) এইরূপ আয় যাহার উপর এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর পরিশোধ করা হইয়াছে; অথবা

(আ) পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক, ব্যবসা ও বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন আরোপযোগ্য কোনো কর;

(খ) বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ও বাহিরের উৎস হইতে আয় নির্ধারণ;

(গ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন দ্বৈত কর পরিহার ও রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ;

(ঘ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর ফাঁকি অথবা পরিহার রোধে তথ্য বিনিময় অথবা উক্তরূপ ফাঁকি সম্পর্কিত মামলা তদন্ত;

(ঙ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের অধীন কর উদ্ধার; এবং

(চ) এই আইন এবং অপর দেশে বলবৎ এইরূপ আইনের যেকোনো উদ্দেশ্য পূরণকল্পে।

(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কর চু্ক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধানাবলি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রণীত চুক্তিতে এই আইন অথবা এই চুক্তি প্রণয়নের পূর্বের যেকোনো সময়ের কর লাঘব সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং যেসব আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বৈত করের আওতাভুক্ত নহে, তদ্রূপ আয় বিষয়ক বিধানাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারিবে।

(৪) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কোনো দেশের আইনের অধীন প্রদেয় কর বাবদ বাংলাদেশে প্রদেয় করের বিপরীতে সমন্বয় মঞ্জুর করিবার কোনো বিধান অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেইক্ষেত্রে এই অংশের দ্বিতীয় অধ্যায়ে উল্লিখিত বৈদেশিক কর সমন্বয় সম্পর্কিত বিধানাবলি কার্যকর হইবে।

1[(৫) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি প্রাধান্য পাইবে।]

২৪৫। সংজ্ঞা

(১) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে,-

(ক) “বাংলাদেশ কর” অর্থ এই আইনের বিধান অনুসারে আরোপিত আয়কর;

(খ) “বৈদেশিক কর” অর্থ, ধারা ২৪৪ এর বিধান অনুসারে, বিদেশি রাষ্ট্রের সহিত কার্যকর চুক্তির ক্ষেত্রে, উক্ত দেশের আইন অনুসারে আরোপযোগ্য কর যাহা চুক্তির অধীন সমন্বয়ে গ্রহণযোগ্য;

(গ) “বৈদেশিক আয়কর” অর্থ আয়করের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ যেকোনো বৈদেশিক আয়কর।

(২) যেইক্ষেত্রে ধারা ২৪৪ এর অধীন কার্যকর চুক্তি অনুসারে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের আইনের অধীন আরোপযোগ্য কোনো কর আয়কর হিসাবে বিবেচনার করা হয়, সেইক্ষেত্রে সেই কর ক্ষেত্রমতে বিদেশি কর বা বৈদেশিক আয়কর ব্যতীত, বিদেশি কর হিসাবে বিবেচিত হইবে।

(৩) এই অধ্যায়ের কোনো চুক্তির অধীন অনুমোদিত রেয়াতের ক্ষেত্রে বিদেশি কর বা বৈদেশিক আয়কর সম্পর্কিত যেকোনো বরাত, যে দেশের সহিত উক্ত চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছে, সেই দেশের আইনের অধীন সরকার কর্তৃক আরোপিত করের বরাত হিসাবে বিবেচিত হইবে।

২৪৬। বাংলাদেশের বাহিরে অর্জিত আয়ের জন্য অব্যাহতি

যদি কোনো ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশে বসবাস করেন তাহার যেকোনো বৎসরের আয়ের ক্ষেত্রে সন্তোষজনকভাবে উপকর কমিশনারের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত বৎসরের মধ্যে তাহার উক্ত আয় বাংলাদেশের বাহিরে উদ্ভূত বা অর্জিত হইয়াছে সেই আয়ের জন্য তিনি কর্তন বা অন্য কোনোভাবে এইরূপ দেশে কর প্রদান করিয়াছেন যাহার সহিত অব্যাহতি বা দ্বৈত কর পরিহারের জন্য পারস্পরিক চুক্তি নাই, সেইক্ষেত্রে এইলক্ষ্যে উপকর কমিশনার বিদ্যমান বিধানাবলির নিরিখে বাংলাদেশে প্রচলিত করের গড় হার বা উক্ত দেশে প্রচলিত করের গড় হার, এই দুইয়ের মধ্যে যাহা কম, সেই হিসাবে এইরূপ দ্বৈত কর আরোপিত আয়ের উপর কর নিরূপণ করিবেন এবং তাহা বাংলাদেশে পরিশোধ যোগ্য কর হইতে বাদ দিবেন।

ব্যাখ্যা।– “করের গড় হার” বলিতে মোট আয়ের উপর নিরূপিত করকে এইরূপ আয় দিয়া ভাগ করিয়া প্রাপ্ত হারকে বুঝাইবে।

২৪৭। বৈদেশিক কর ক্রেডিট

(১) এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, যেইক্ষেত্রে ধারা ২৪৪ এর অধীন সম্পাদিত চুক্তির আওতায়, যেকোনো আয়ের উপর আরোপিত বাংলাদেশে করের বিপরীতে সমন্বয় সুবিধা অনুমোদিত হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত চুক্তির বিধানাবলি সাপেক্ষে, আরোপযোগ্য কর এইরূপ সমন্বয় সুবিধার সমপরিমাণ অর্থ দ্বারা হ্রাস পাইবে।

(২) কোনো আয়করবর্ষে যে করদাতার আয়ের উপর কর আরোপযোগ্য হইয়াছে তিনি, যে সময়ের ভিত্তিতে উক্তরূপ আয় নিরূপিত হইয়াছে সেই সময়ে নিবাসী না থাকেন, তাহা হইলে উক্ত আয়করের বিপরীতে উপ-ধারা (১) এর অধীন সমন্বয় অনুমোদনযোগ্য হইবে না।

(৩) যেকোনো আয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে করের বিপরীতে বৈদেশিক কর পরিশোধের সূত্রে অনুমোদনযোগ্য সমন্বয়ের পরিমাণ দ্বৈত করযোগ্য আয়ের উপর বর্ণিত করের গড় হারে নিরূপিত অর্থের পরিমাণকে অতিক্রান্ত করিবে না।

২৪৮। বৈদেশিক কর সমন্বয় অনুমোদনের উপর আয় গণনার কার্যকারিতা

(১) যেইক্ষেত্রে আয়ের মধ্যে লভ্যাংশ অন্তর্ভুক্ত হয়, এবং চুক্তির অধীন উক্ত ডিভিডেন্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ করের বিপরীতে কোনো রেয়াত অনুমোদিত হইবে কিনা বা প্রদেয় রেয়াতের পরিমাণ কত হইবে, তাহা নিরূপণের লক্ষ্যে কোনো বৈদেশিক কর (সরাসরি দাবিযোগ্য বা লভ্যাংশের সূত্রে কর্তনযোগ্য হউক বা না হউক) বিবেচনা করা আবশ্যক, সেইক্ষেত্রে রেয়াতের পরিমাণ নিরূপণের উদ্দেশ্যে বিবেচিত লভ্যাংশের সহিত সম্পর্কিত বৈদেশিক করের সমপরিমাণ অংশ দ্বারা সংশ্লিষ্ট আয় বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন, কোনো আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইয়াছে মর্মে বিবেচিত হয়, সেইক্ষেত্রে বৈদেশিক কর, সরাসরি বা বিয়োজনের মাধ্যমে, আরোপযোগ্য না হইলে, উহা লভ্যাংশ প্রদানকারী সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রদত্ত লভ্যাংশের উপর পরিশোধকৃত বৈদেশিক কর; অথবা উক্ত লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা না হইলে, লভ্যাংশ প্রদেয় হইবার পূর্বে উক্ত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা কর্তৃক সমাপ্তকৃত সর্বশেষ হিসাব প্রস্তুতকালীন সময়ে প্রদত্ত লভ্যাংশ বিবেচনায় আনিতে হইবে।

ব্যাখ্যা।-এই উপ-ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, “পরিশোধিত” অর্থ প্রদত্ত, জমাকৃত বা বণ্টনকৃত অথবা প্রদত্ত, জমাকৃত বা বণ্টনকৃত হইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৩) এই ধারা এবং ধারা ৫৫ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আয়ের সূত্রে বৈদেশিক করের অংশবিশেষ বাংলাদেশ করের বিপরীতে রেয়াত অনুমোদিত না হইলে, উক্ত আয়ের পরিমাণ উক্ত বৈদেশিক করের অংশের সমপরিমাণ দ্বারা হ্রাস পাইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৪) যেইক্ষেত্রে বাংলাদেশ হইতে গৃহীত অর্থের ভিত্তিতে কোনো আয়কর পরিশোধযোগ্য হয়, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থের পরিমাণ আয়করের বিপরীতে রেয়াত হিসাবে অনুমোদিত সুবিধার সমহারে বৃদ্ধি পাইয়াছে বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(৫) ধারা ২৪৭ এর উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত হার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তির মোট আয় গণনাকালে এই ধারার উপ-ধারা (১) এবং (৩) এর বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে না, এবং এই ধারার উপ-ধারা (৪) অনুসারে ‘আয়করের বিপরীতে অনুমোদিত রেয়াত সুবিধা’ ‘আয়ের সূত্রে প্রদত্ত বৈদেশিক কর’ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হইবে।

২৪৯। বৈদেশিক করের ক্রেডিট দাবির সীমাবদ্ধতা

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, কোনো আয়ের সূত্রে প্রদত্ত বৈদেশিক করের জন্য ক্রেডিট হিসাবে অনুমোদন প্রাপ্তির দাবি, যে করবর্ষে উক্তরূপ আয় বাংলাদেশে আরোপ করা হইয়াছিল বা আরোপযোগ্য হইত সেই বৎসরের পরবর্তী ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে যে কার্যালয়ে উক্ত পরিশোধকারীর আয়কর আরোপ করা হইয়াছে সেই কার্যালয়ের উপকর কমিশনারের নিকট উত্থাপন করিতে হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে বাংলাদেশে পরিশোধযোগ্য কোনো করের সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে বা অন্য কোনো রাষ্ট্রের আইন দ্বারা পরিশোধযোগ্য কোনো করের সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে চুক্তির অধীন প্রদত্ত সুবিধা অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত হিসাবে গণ্য হয়, সেইক্ষেত্রে সমন্বয়ের ফলশ্রুতিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর রিফান্ডের দাবি বা নূতন করিয়া কর নির্ধারণ করিবার উদ্দেশ্যে এই আইনে বর্ণিত সময়সীমা প্রযোজ্য হইবে না, যদি এইরূপ সকল কর নির্ধারণী, সমন্বয় ও তাহা হইতে উদ্ভূত অন্যান্য নিরূপণ বাংলাদেশে বা অন্যত্র সম্পন্ন হইবার পরবর্তী ২ (দুই) বৎসরের মধ্যে কর নির্ধারণী বা রিফান্ডের দাবি পূরণ না করা হয়।

২৫০। আপিল

উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশে কোনো পরিশোধকারী কর্তৃক দাবিকৃত বৈদেশিক কর রেয়াত, পূর্ণ বা আংশিক, অননুমোদন করা হইলে, উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত আদেশ পরিশোধকারীর নিকট পৌঁছাইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে পরিশোধকারী আপিল যুগ্ম কমিশনার এর নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং একইভাবে অংশ ২০ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের বিধানাবলি, প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ প্রযোজ্য হইবে।

২৫১। দ্বৈত কর চুক্তি রহিয়াছে এইরূপ ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের বিধানাবলি

(১) যেইক্ষেত্রে সরকারের সহিত সম্পাদিত কোনো চুক্তি ধারা ২৪৪ এর বিধানাবলি অনুসারে এইরূপে কার্যকর থাকে যে, উক্তরূপ চুক্তিবদ্ধ কোনো দেশে নিবাসী কোনো ব্যক্তির পক্ষে অর্জিত কোনো বিশেষ শ্রেণির আয় বাংলাদেশে কর অব্যাহতি পাইবে এবং এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে উক্ত আয় হইতে কর কতর্নযোগ্য হইবে, সেইক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি এইরূপ যেকোনো শ্রেণিভুক্ত আয় (এই অনুচ্ছেদে বাংলাদেশি পরিশোধকারী হিসাবে উল্লিখিত) বর্ণিত দেশের আয় ভোগের অধিকারী ব্যক্তিকে (এই অনুচ্ছেদে অনিবাসী হিসাবে উল্লিখিত) প্রদান করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি বোর্ড দ্বারা বা বোর্ডের অধীন নির্দেশিত নোটিশের অধীন অনিবাসীকে এইরূপ যেকোনো আয় কর কর্তন ব্যতিরেকে পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং এইরূপ নোটিশ যেই তারিখে জারি করা হইয়াছিল, তাহা সেই তারিখে বাংলাদেশি পরিশোধকারী, উক্ত নোটিশে উল্লিখিত অনিবাসী ব্যক্তির নিকট নোটিশে বর্ণিত উৎস হইতে এই ধারার বিধানাবলির অধীন কোনো প্রকার কর্তন ব্যতিরেকে যেকোনো পরিমাণ আয়, বা এইরূপ কোনো বৎসরের সম্ভাব্য আয়, যাহার উপর চুক্তি বলবৎ রহিয়াছে, পরিশোধ করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদত্ত যেকোনো নোটিশ অকার্যকর মর্মে গণ্য হইবে যদি কোনো ক্ষেত্রে, এইরূপ বর্ণনা থাকুক বা নাই থাকুক, বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশ দ্বারা বা তাহার অধীন জারীকৃত বাতিল নোটিশ দ্বারা তাহা অকার্যকর হয়; এবং যদি বাংলাদেশি পরিশোধকারী জানামতে এইরূপ কোনো ঘটনা সংঘটিত হয় বা তাহাকে বাতিল নোটিশ প্রদান করা হয়, তাহা হইলে এইরূপ কোনো ঘটনা বাংলাদেশি পরিশোধকারীর গোচরীভূত হইবার পর বা, ক্ষেত্রমতে, বাংলাদেশি পরিশোধকারী নোটিশ প্রাপ্তির পর বাংলাদেশি পরিশোধকারী কর্তৃক উক্ত অনিবাসীকে কোনো অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানাবলি অনুসারে কর কর্তন করিতে হইবে।

২৮৫। কমিশনারের রিভিশনের ক্ষমতা

(১) কমিশনার করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, এই আইনের অধীন তাহার অধীক্ষেত্রাধীন অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোনো কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে প্রদত্ত আদেশের রেকর্ডপত্র তলব করিতে পারিবেন এবং যেইরূপ প্রয়োজনীয় বিবেচনা করিবেন সেইরূপ অনুসন্ধান করিয়া বা করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের পর এই আইনের বিধানাবলি সাপেক্ষে, তৎসম্পর্কে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ আদেশ জারি করিতে পারিবেন, তবে করদাতার স্বার্থের হানিকর কোনো আদেশ জারি করা যাইবে না।

(২) এই আইনের অধীন কমিশনারের অধীক্ষেত্রাধীন অধস্তন কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ রিভিশনের আবেদন এইরূপ আদেশ করদাতার অবহিত হইবার ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে অথবা উক্ত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আবেদন দাখিল করিতে না পারিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ ছিল মর্মে সন্তুষ্ট হইয়া কমিশনার কর্তৃক কোনো সময় বর্ধিত করা হইলে উক্তরূপ বর্ধিত সময়ের মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।

(৩) কমিশনার উপ-ধারা (১) এর অধীন তাহার ক্ষমতা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে প্রয়োগ করিবেন না, যথা:-

(ক) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর নিকট বা আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করা হয় এবং যদি এইরূপ আপিলের সময় উত্তীর্ণ না হয় অথবা করদাতা তাহার আপিল করিবার অধিকার পরিত্যাগ না করেন; এবং

(খ) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) বা আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিলের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমান।

1[(৪) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আবেদন বিবেচিত হইবে না, যদি না—

(ক) আবেদনের সহিত ২০০ (দুইশত) টাকা ফি প্রদান করা হয়; এবং

(খ) স্বীকৃত করদায় পরিশোধ করা হয়।]

(৫) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, কমিশনার কর্তৃক অসম্মতি জ্ঞাপনসূচক কোনো আদেশ করদাতার স্বার্থের হানিকর হিসাবে জারি করা হইবে না।

(৬) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রিভিশনের আবেদন করা হইলে যদি কমিশনার উক্ত আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে এতদ্বিষয়ে কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হন, তবে উক্ত রিভিশন অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

(৭) এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) সেই কর কমিশনারের অধস্তন কর্তৃপক্ষ হিসাবে গণ্য হইবেন যাহার অধস্তন উপকর কমিশনার দ্বারা পুনর্বিবেচনাধীন আপিলের বিষয়বস্তু আদেশ প্রদত্ত হইয়াছে।

২৮৬। আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল

(১) কোনো করদাতা আয়কর কর্তৃপক্ষের আদেশে সংক্ষুব্ধ হইলে সংশ্লিষ্ট আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট নিম্নবর্ণিত বিষয়ে আপিল করিতে পারিবেন, যথা:-

(ক) আয় নির্ধারণ;

(খ) পরিশোধ্য করদায় নিরূপণ;

(গ) ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা;

(ঘ) দণ্ড বা সুদ আরোপ;

(ঙ) চার্জ এবং সারচার্জ বা অন্য কোনো অর্থ হিসাব;

(চ) প্রত্যর্পণের পরিমাণ নিরূপণ;

(ছ) করের ক্রেডিট; এবং

(জ) কোনো প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত।

(২) উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কেবল কমিশনার (আপিল) বরাবর আপিল করা যাইবে, যথা:-

(ক) কোম্পানি কর্তৃক আপিল;

(খ) ধারা ২১৩ এর অধীন প্রদত্ত কোনো আদেশের বিরুদ্ধে আপিল; এবং

(গ) আন্তর্জাতিক লেনদেন সংশ্লিষ্ট সমন্বয় বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল।

(৩) বোর্ড-

(ক) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের উপর কোনো আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব অর্পণ করিতে পারিবে; এবং

(খ) এক আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে অন্য আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব হস্তান্তর করিতে পারিবে।

(৪) করারোপিত শেয়ার আয় হিসাবে পরিগণিত কোনো আয়ের ক্ষেত্রে আপিল করা যাইবে না।

(৫) নিম্নবর্ণিত সারণীতে উল্লিখিত ক্ষেত্রে, কর নিরূপণ আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাইবে না, যথা:-

২৮৭। আপিল দায়েরের ফরম, পদ্ধতি এবং সময়সীমা

(১) উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ধারা ২৮৬ এর অধীন প্রত্যেক আপিল নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে করিতে হইবে।

(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-

ক) ইলেক্ট্রনিক্যালি বা অন্য কোনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং

(খ) উক্ত আপিল দায়েরের ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(৩) আপিলকারীকে আপিল দায়েরের তারিখে বা উহার পূর্বে ২০০ (দুইশত) টাকা ফি পরিশোধ করিতে হইবে।

(৪) আপিলকারীকে উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে হইবে, যদি-

(ক) কর নির্ধারণ বা দণ্ড সংক্রান্ত হইলে, উক্তরূপ কর নির্ধারণ বা, ক্ষেত্রমত, দণ্ড সংশ্লিষ্ট করদাবি নোটিশ জারির তারিখ হইতে; এবং

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হয়, তাহা জারির তারিখ হইতে।

(৫) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (৪) এ বর্ণিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরও আপিল গ্রহণ করিতে পারিবেন, যদি উহার নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিলকারীর আপিল দায়েরকরণে ব্যর্থ হইবার পর্যাপ্ত কারণ বিদ্যমান ছিল।

২৮৮। আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি

(১) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানির জন্য তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করিবেন, এবং তৎসম্পর্কিত একটি নোটিশ আপিলকারী ও সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে প্রদান করিবেন।

(২) আপিলকারী এবং উপকর কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করিবেন।

(৩) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন বিবেচনা করিলে, সময় সময়, আপিল শুনানি মুলতবি রাখিতে পারিবেন।

(৪) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ শুনানিকালে বা তৎপূর্বে আবেদনে উপস্থাপিত কারণ ছাড়াও আপিলের অন্যান্য কারণ অন্তর্ভুক্ত করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে, যদি কর্তৃপক্ষ এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আপিল আবেদন ফরমে ইচ্ছাকৃতভাবে এইরূপ কারণসমূহ বাদ দেওয়া হয় নাই এবং উক্তরূপ বাদ পড়া অযৌক্তিক ছিল না।

(৫) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল নিস্পত্তির পূর্বে যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে সেইরূপ তদন্ত সম্পাদন করিতে পারিবে অথবা প্রয়োজন বিবেচনা করিলে আপিলের কারণ সম্পর্কিত তথ্যাদি তলব করিতে পারিবে অথবা উপকর কমিশনার কর্তৃক বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর তদন্ত সম্পাদনের ব্যবস্থা করিতে পারিবে।

(৬) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানি চলাকালে এইরূপ কোনো দলিলাদি বা সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ করিতে পারিবেন না, যাহা উপকর কমিশনারের নিকট সময়মত উপস্থাপন করা হয় নাই, যদি না তাহার নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয় যে, এইরূপ দলিলাদি বা সাক্ষ্য প্রমাণ যুক্তিসঙ্গত কারণে উপকর কমিশনারের নিকট উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না।

২৮৯। আপিলের সিদ্ধান্ত

(১) কোনো আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ –

(ক) কর নির্ধারণী আদেশের ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণ চূড়ান্তকরণ, হ্রাস, বর্ধিত, নাকচ বা রদ করিতে পারিবে;

(খ) জরিমানা আরোপের আদেশ সংক্রান্ত মামলায়, এইরূপ আদেশ চূড়ান্তকরণ, নাকচ বা বাতিল অথবা ভিন্ন পন্থায় জরিমানা বৃদ্ধি বা হ্রাস করিতে পারিবে; এবং

(গ) অন্য যেকোনো মামলায়, কর্তৃপক্ষ যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) ধারা ৩৩৫ এর বিধানাবলি অনুসারে করদাতার উপর নোটিশ জারি করা হয় নাই মর্মে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা কমিশনার (আপিল) এর নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান না হইলে, কোনো কর নির্ধারণী বা জরিমানা আরোপের আদেশ নাকচ করা যাইবে না।

(৩) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো কর নির্ধারণীতে করের পরিমাণ বা আরোপিত জরিমানার অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি অথবা কর প্রত্যার্পনের ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি বা হ্রাস করিতে পারিবেন না, যদি না আপিলকারীকে এইরূপ বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণ দর্শানোর যুক্তিসংগত সুযোগ প্রদান না করা হয়।

(৪) আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত আপিলের রায় লিখিতভাবে প্রদান করিতে হইবে এবং নিষ্পত্তির বিষয়বস্তু, তৎসম্পর্কিত সিদ্ধান্ত ও সিদ্ধান্তের সমর্থনে যথাযথ কারণসমূহের উল্লেখ করিতে হইবে।

(৫) যেইক্ষেত্রে কোনো আপিল মামলার ফলে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশে কোনো পরিবর্তন আনীত হয়, সেইক্ষেত্রে আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের সদস্যদের আয়কর নির্ধারণীতে সেই অনুযায়ী সংশোধনী আনয়নের জন্য উপকর কমিশনারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) কোনো আপিল মামলা নিষ্পত্তির পর আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ তৎকর্তৃক জারীকৃত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশ জারির বিষয়টি আপিলকারী, উপকর কমিশনার এবং কমিশনারকে অবহিত করিবে।

(৭) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো আপিল যেই তারিখে আপিল দায়ের করা হইয়াছিল, সেই তারিখের সংশ্লিষ্ট মাস সমাপ্তির পরবর্তী ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) দিনের মধ্যে যদি আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ সেটির উপর কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আপিলটি অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য হইবে।

২৯০। ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল

ধারা ২১৭ এর অধীন ট্যাক্স রিকোভারি অফিসারের জারীকৃত আদেশে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি আদেশটি জারির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে এই মর্মে কর কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন, এবং এইরূপ আপিলের ক্ষেত্রে, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

২৯১। আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল

(১) যদি কোনো করদাতা ধারা ২৭২ অথবা ২৮৯ এর অধীন, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক জারীকৃত আদেশে সংক্ষুদ্ধ হন, তাহা হইলে তিনি আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করিতে পারিবেন।

(২) করদাতা, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) এর আদেশের ভিত্তিতে ধার্যকৃত কর, এবং 1[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার যে পার্থক্য হইবে, তাহার ১০% (দশ শতাংশ), কর পরিশোধ না করিয়া থাকিলে, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো আপিল দায়ের করিতে পারিবেন না।

(৩) আপিলকারীর আবেদনের প্রেক্ষিতে কর কমিশনার, আবেদনে উল্লিখিত কারণ তাহার নিকট সন্তোষজনক প্রতীয়মান হইলে, উপ-ধারা (২) এর অধীন পরিশোধের বাধ্যবাধকতা শিথিল করিতে পারিবেন এবং আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তিনি যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবেন।

(৪) উপকর কমিশনার কর কমিশনারের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক ধারা ২৮৯ এর অধীন অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।

(৫) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা হইবে সেই আদেশ সম্পর্কে করদাতা অথবা, ক্ষেত্রমত, কমিশনারকে অবহিত করিবার পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রত্যেক আপিল দাখিল করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করিতে ব্যর্থ হইলেও, যদি আপিল ট্রাইব্যুনাল এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ব্যর্থতার জন্য পর্যাপ্ত কারণ বিদ্যমান ছিল, তাহা হইলে উক্ত মেয়াদপূর্তির পরও উক্ত আপিল গৃহীত হইবে।

(৬) নির্ধারিত ফরমে এবং পদ্ধতিতে প্রতিপাদনপূর্বক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল দায়ের করিতে হইবে এবং উপ-ধারা (২) এর ক্ষেত্র ব্যতীত, অন্যান্য ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপিল আবেদনের সহিত ১ (এক) হাজার টাকা ফি প্রদান করিতে হইবে।

(৭) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা,-

(ক) ইলেক্ট্রনিক্যালি বা অন্য কোনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য বা কম্পিউটারে পাঠযোগ্য মাধ্যমে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং

(খ) উক্ত আপিল দায়ের করিবার ফরম ও পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

২৯২। আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আপিল নিষ্পত্তি

(১) আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল মামলার উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদানের পর আপিলটির ক্ষেত্রে যেইরূপ যথাযথ বিবেচনা করিবে সেইরূপ আদেশ প্রদান করিবে।

(২) কোনো আপিল নিষ্পত্তির প্রাক্কালে আপিল ট্রাইব্যুনাল আপিল সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য তলব করিতে পারিবে অথবা উপকর কমিশনার কর্তৃক এতদ্বিষয়ে অধিকতর তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে আপিল মামলার কারণে কোনো ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশে কোনো পরিবর্তন আনীত হয়, অথবা ফার্ম বা ব্যক্তিসংঘের কর নির্ধারণী আদেশ নূতনভাবে করিতে হয়, সেইক্ষেত্রে আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আনীত উক্ত পরিবর্তন মোতাবেক উপকর কমিশনারকে উক্ত ফার্মের অংশীদার বা ব্যক্তিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর নির্ধারণী সংশোধনের নির্দেশ প্রদান করিবে।

(৪) কোনো আপিল মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আপিল ট্রাইব্যুনাল তৎকর্তৃক জারীকৃত আদেশ প্রদানের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উক্ত আদেশটি আপিলকারীকে এবং কমিশনারকে অবহিত করিবেন।

(৫) এই অধ্যায়ে বর্ণিত 1[অন্যান্য বিধান ক্ষুণ্ণ না করিয়া] আপিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোনো আপিলের বিষয়ে প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।

(৬) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো করদাতা কর্তৃক আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল আবেদন দাখিল করা হইলে, যে মাসে উহা দাখিল করা হইয়াছে, তৎপরবর্তী ১৮০ (একশত আশি) দিন অতিবাহিত হইবার পূর্বে আপিল ট্রাইব্যুনাল উক্ত আপিলের উপর কোনো আদেশ প্রদানে ব্যর্থ হইলে, আপিলটি অনুমোদিত হইয়াছে মর্মে গণ্য করা হইবে এবং যেইক্ষেত্রে ২ (দুই) সদস্য বিশিষ্ট আপিল ট্রাইব্যুনাল মামলা শুনানি করেন এবং সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দ্বিমত পোষণের কারণে একজন অতিরিক্ত সদস্য নিয়োগ করা হইলে, উক্ত মেয়াদ হইবে যেই মাসে আপিল দাখিল করা হইয়াছে, তৎপরবর্তী ২৪০ (দুইশত চল্লিশ) দিন।

২৯৩। হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স

(১) ধারা ২৯২ এর অধীন করদাতা অথবা কমিশনার কর্তৃক আপিল ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রাপ্ত হইবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কমিশনার বা করদাতা এইরূপ আদেশ হইতে উদ্ভূত কোনো আইনি প্রশ্নে বিষয়টি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে চাহিলে এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত ফরমে হাইকোর্ট বিভাগ বরাবর আবেদন করিতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কর আপিল ট্রাইব্যুনালের কোনো আদেশের বিরুদ্ধে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো রেফারেন্স মামলা দায়ের করা যাইবে না, যদি না করদাতা নিম্নবর্ণিত হারে ফি এবং কর পরিশোধ করেন, যথা:-

(ক) করদাতার ক্ষেত্রে আবেদনের সহিত ২ (দুই) হাজার টাকা ফি সংযুক্ত করা না হয়; এবং

(খ) যেইক্ষেত্রে করদাবি ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম না করে, সেইক্ষেত্রে যদি আপিল ট্রাইব্যুনলের আদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত কর এবং 1[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থের ১৫% (পনেরো শতাংশ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধ না করা হয়;

(গ) যেইক্ষেত্রে করদাবি ১০ (দশ) লক্ষ টাকা অতিক্রম করে, সেইক্ষেত্রে যদি আপিল ট্রাইব্যুনলের আদেশের ভিত্তিতে নির্ধারিত কর এবং 2[স্বীকৃত করদায়ের] মধ্যকার পার্থক্যের সমপরিমাণ অর্থের ২৫% (পঁচিশ শতাংশ) করদাতা কর্তৃক পরিশোধ না করা হয়।

(২) বোর্ড, করদাতার আবেদনের প্রেক্ষিতে, উপ-ধারা (১) এর অধীন ফি ব্যতীত এইরূপ পরিশোধের পরিমাণ হ্রাস বা মওকুফ করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন ৩ (তিন) প্রস্থে করিতে হইবে এবং এর সহিত নিম্নবর্ণিত দলিলাদি সংযোজন করিতে হইবে, যথা:-

(ক) আপিল ট্রাইব্যুনালের যে আদেশে আইনগত প্রশ্নের উদ্ভব হইয়াছে, সেই আদেশের সত্যায়িত ৩ (তিন) টি অনুলিপি;

(খ) উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার অথবা আপিল অতিরিক্ত বা যুগ্ম কমিশনার অথবা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল), এর যে আদেশ আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিলের বিষয়বস্তু ছিল উহার সত্যায়িত ৩ (তিন) টি অনুলিপি, এবং

(গ) আবেদনপত্রের বিষয়বস্তু অনুসারে উদ্ভূত আইনগত প্রশ্ন সম্পর্কিত অন্য যেকোনো দলিলের ৩ (তিন) টি সত্যায়িত অনুলিপি, যাহা দফা (ক) বা (খ)-তে উল্লিখিত আদেশের সহিত সংশ্লিষ্ট মামলার কার্যক্রমে, উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার অথবা কমিশনার (আপিল) অথবা ক্ষেত্রমত, আপিল ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হইয়াছিল।

(৪) যেইক্ষেত্রে করদাতা বাদী, সেইক্ষেত্রে কমিশনার বিবাদী এবং যেইক্ষেত্রে কমিশনার বাদী সেইক্ষেত্রে করদাতা বিবাদী হিসাবে গণ্য হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, করদাতার মৃত্যু ঘটিলে বা অন্য কেহ তাহার স্থলাভিষিক্ত হইলে বা করদাতা একটি অবসায়িত কোম্পানি হইলে আবেদন বাতিলযোগ্য হইবে না, এবং করদাতা বাদী হইলে করদাতার নির্বাহক, প্রশাসক বা উত্তরাধিকারী বা অন্য আইনানুগ প্রতিনিধি কর্তৃক, অথবা করদাতা বিবাদী হইলে, পক্ষে বা বিপক্ষে, কিংবা ক্ষেত্রমত, অবসায়ক বা প্রাপকের দ্বারা আবেদনটি সক্রিয় থাকিবে।

(৫) আবেদনটির শুনানির তারিখ ধার্য সংক্রান্ত নোটিশ প্রাপ্তির পর বিবাদী কর্তৃক শুনানির অন্যূন ৭ (সাত) দিন পূর্বে উক্ত আবেদন সংক্রান্ত একটি লিখিত জবাব দাখিল করিতে হইবে; এবং আপিল ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট আদেশের সূত্রে বাদী কর্তৃক আইনগত প্রশ্ন সত্যিই উত্থাপিত হইয়াছিল কিনা তাহা স্পষ্টরূপে উক্ত জবাবে বর্ণনা স্বীকার বা অস্বীকার করিতে হইবে।

(৬) বাদী কর্তৃক উত্থাপিত প্রশ্নটি বিবাদীর মতানুসারে ত্রুটিপূর্ণ মর্মে গণ্য হইলে, যে প্রেক্ষাপটে তাহা ত্রুটিপূর্ণ হইতে পারে, তাহা উপর্যুক্ত জবাবে বর্ণনা করিতে হইবে এবং সংশ্লিষ্ট আদেশে কোনো আইনগত প্রশ্ন নিহিত থাকিলে প্রশ্নটি প্রকৃত অর্থে কী হইতে পারে তাহা সেই জবাবে উল্লেখ করিতে হইবে; এবং জবাবটি ৩ (তিন) প্রস্থে দাখিল করিতে হইবে এবং আবেদনপত্রের সহিত উত্থাপিত প্রশ্নটির সহিত সম্পৃক্ত যাবতীয় দলিলপত্র সংযুক্ত করিতে হইবে যাহা উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) অথবা (খ)-তে বর্ণিত কোনো আদেশের সহিত সম্পৃক্ত কার্যক্রমের প্রয়োজনে উপকর কমিশনার, পরিদর্শী অতিরিক্ত কর কমিশনার, অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল), কমিশনার (আপিল) অথবা, ক্ষেত্রমত, আপিল ট্রাইব্যুনালের বরাবর সরবরাহ করা হইয়াছিল।

(৭) উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদনের ক্ষেত্রে Limitation Act, 1908 (Act No. IX of 1908) এর section 5 প্রযোজ্য হইবে।

২৯৫। আপিল বিভাগে আপিল

(১) ধারা ২৯৪ এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত কোনো রায়ের ক্ষেত্রে, হাইকোর্ট বিভাগ যদি উক্ত রায় আপিল বিভাগে আপিলযোগ্য মর্মে প্রত্যয়ন করে, তাহা হইলে সেইক্ষেত্রে আপিল করা যাইবে।

(২) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক Code of Civil Procedure 1908 (Act No. V of 1908) এর বিধানাবলি ডিক্রির ক্ষেত্রে যেইভাবে প্রয়োগ করা হয়, আপিল বিভাগে এই ধারার অধীন বর্ণিত আপিলের ক্ষেত্রে উক্ত বিধানাবলি যতদূর সম্ভব, সেইভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোনো কিছুই ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (২) বা (৪) এর বিধানাবলিকে প্রভাবিত করিয়াছে মর্মে ব্যক্ত হইবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, আপিল বিভাগের আদেশ হিসাবে যে ব্যয়াদি অনুমোদিত হয়, তদসংক্রান্ত আদেশ বাস্তবায়নের নিমিত্ত আনীত দায়েরকৃত পিটিশন হাইকোর্ট বিভাগ উহার অধস্তন যেকোনো আদালতে সরবরাহ করিতে পারিবে।

(৩) যেইক্ষেত্রে এই ধারার অধীন হাইকোর্ট বিভাগের প্রদত্ত রায় পরিবর্তিত হয়, সেইক্ষেত্রে ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (২) ও (৪) এ বর্ণিত হাইকোর্ট বিভাগের রায় কার্যকর করিবার যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে আপিল বিভাগের আদেশের কার্যকারিতা প্রদান করিতে হইবে।

(৪) ব্যয় এবং কর পরিশোধ সংক্রান্ত ধারা ২৯৪ এর উপ-ধারা (৩) ও (৪) এর বিধানাবলি হাইকোর্ট বিভাগে রেফারেন্স মামলায় ধারা ২৯৪ এর অধীন যেভাবে প্রয়োগ হয়, আপিল বিভাগে আপিলের ক্ষেত্রেও উক্ত বিধানসমূহ সমভাবে প্রয়োগযোগ্য হইবে।

২৯৬। সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে,-

(১) “অনুমোদিত প্রতিনিধি” অর্থ ধারা ৩২৭ এর উপ-ধারা (২)-এ উল্লিখিত 1[অনুমোদিত] প্রতিনিধি;

(২) “বেঞ্চ” অর্থ কর আপিল ট্রাইবুনালের বেঞ্চ;

(৩) “কমিশনারের প্রতিনিধি” অর্থ এই অধ্যায়ের অধীন বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করিবার লক্ষ্যে ধারা ৪ এর অধীন আয়কর কর্তৃপক্ষসমূহের মধ্য হইতে কর কমিশনার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা;

(৪) “আদালত” অর্থ সুপ্রীম কোর্ট;

(৫) “বিরোধ” অর্থ নিম্নবর্ণিত বিষয়ে কোনো করদাতার কোনো অভিযোগ-

(ক) রিটার্নে করদাতা কর্তৃক ঘোষিত আয়কর নিরূপণের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বৎসরের আয় হইতে অধিক হইলে; অথবা

(খ) অংশ ২০ এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের অধীন আপিল কর্তৃপক্ষের আদেশের ফলে আয়কর নিরূপণের পরিমাণ রিটার্নে করদাতা কর্তৃক ঘোষিত আয়কর নিরূপণের পরিমাণ হইতে অধিক হইলে।

২৯৭। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি

কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে নিষ্পন্নাধীন কর নিরূপণ সংক্রান্ত বিরোধ এই অধ্যায়ে এবং এই অধ্যায়ের অধীন প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত পদ্ধতিতে, এবং বোর্ড কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্ধারিত যোগ্যতা, শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে।

২৯৮। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রয়োগ

(১) উপ-ধারা (৪) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন করদাতা আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা সুপ্রীম কোর্টের যেকোনো বিভাগে নিষ্পন্নাধীন বিরোধ, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করিতে পারিবেন।

(২) সুপ্রীম কোর্টের যেকোনো বিভাগে কোনো বিরোধ নিষ্পন্নাধীন থাকিলে, করদাতাকে উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন দাখিলের পূর্বে আদালতের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কোনো বিরোধ লইয়া রিট করা হইলে উক্ত বিরোধ বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে না।

(৩) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন-

(ক) নির্ধারিত ফরমে, সময়ে এবং ফি প্রদানপূর্বক প্রত্যয়ন করিয়া দাখিল করিতে হইবে;

(খ) সংশ্লিষ্ট আপিল আয়কর কর্তৃপক্ষ বা কর আপিল ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, সুপ্রীম কোর্টের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করিতে হইবে।

(৪) করদাতা আবেদনপত্রের সহিত সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র, দলিলাদি এবং আইনগত ভিত্তি ও প্রকৃত ঘটনা সম্বলিত বিবৃতি দাখিল করিবেন।

(৫) কোনো করদাতা কোনো আয়বর্ষের রিটার্ন দাখিল করিয়া থাকিলে, তিনি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন দাখিলের যোগ্য হইবেন না যদি না উক্ত আয়বর্ষে 1[স্বীকৃত করদায়] পরিশোধ না করিয়া থাকেন।

২৯৯। কমিশনারের প্রতিনিধি

(১) সংশ্লিষ্ট কর কমিশনার, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে আবেদনকারী করদাতার সহিত মধ্যস্থতা করিবার জন্য, উপকর কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষকে, অতঃপর আয়কর প্রতিনিধি বলিয়া উল্লিখিত, মনোনীত করিতে পারিবেন।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন মনোনীত আয়কর প্রতিনিধি বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির সকল মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করিবেন এবং মতৈক্যে উপনীত হইলে উক্ত মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সমঝোতাপত্রে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।

৩০০। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় সহায়তাকারী

(১) বোর্ড কর্তৃক নিযুক্ত একজন সহায়তাকারীর মধ্যস্থতায় করদাতা এবং কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পরিচালিত হইবে।

(২) সহায়তাকারী নির্ধারিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন ও নির্ধারিত ফি গ্রহণ করিবেন।

৩০১। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য করদাতার অধিকার ও কর্তব্যসমূহ

(১) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করদাতার স্বয়ং বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে কমিশনারের প্রতিনিধির সহিত মধ্যস্থতায় অংশগ্রহণ করিবার অধিকার থাকিবে।

(২) বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যস্থতায় করদাতার সহিত সংশ্লিষ্ট বিতর্কিত বিষয়ে আইনগত ও তথ্যগত কাগজপত্র ও দলিল সহযোগে যুক্তি তর্ক উপস্থাপনে সীমাবদ্ধ থাকিবে।

(৩) যদি কোনো সমঝোতায় উপনীত হওয়া যায়, তাহা হইলে করদাতাকে, উক্ত সমঝোতার ভিত্তিতে কোনো করদায় আরোপিত হইলে, সম্মত সময়সীমার মধ্যে উহা পরিশোধ করিতে হইবে।

৩০৩। আপিল ট্রাইব্যুনাল বা হাইকোর্ট বিভাগে নিষ্পন্নাধীন আপিল বা রেফারেন্স সম্পর্কিত কার্যক্রম সাময়িক স্থগিতকরণ

যেইক্ষেত্রে কোনো করদাতা কোনো আয়বর্ষে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করেন এবং উক্ত আয়বর্ষের জন্য উপকর কমিশনার আপিল ট্রাইব্যুনালে কোনো আপিল দায়ের করেন বা কর কমিশনার হাইকোর্ট বিভাগে কোনো রেফারেন্স প্রেরণ করেন, এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল বা, ক্ষেত্রমত, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত প্রদান না করা হয়, সেইক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত আপিল বা রেফারেন্স সম্পর্কিত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত থাকিবে।

৩০৪। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত

(১) যেইক্ষেত্রে উভয় পক্ষ এই আইনের আওতাধীন বিরোধ সংক্রান্ত কোনো ঘটনা বা আইনিভাবে বিরোধপূর্ণ বিষয়ে উক্তকমত্য পোষণ করেন, সেইক্ষেত্রে মতৈক্যের ভিত্তিতে বিরোধপূর্ণ বিষয়টি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে।

(২) যেইক্ষেত্রে করদাতা এবং কর কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির আংশিক বা সম্পূর্ণ মতৈক্য হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, মতৈক্যের বিস্তারিত তথ্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে লিপিবব্ধ করিবেন।

(৩) উক্ত মতৈক্যের রেকর্ডে যেকোনো প্রদেয় বা প্রত্যার্পনযোগ্য কর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত বিষয়াদিসহ মতৈক্যের শর্তাবলির বর্ণনা থাকিবে, এবং মতৈক্যের ভিত্তিতে ন্যায্য পাওনা পরিশোধের পদ্ধতি এবং সহায়তাকারী যেইরূপ উপযুক্ত বিবেচনা করিবেন সেইরূপ অন্যান্য বিষয়েরও উল্লেখ থাকিবে।

(৪) যদি পরবর্তীতে উদঘাটিত হয় যে, প্রতারণা ও অসত্য তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে মতৈক্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হইয়াছে, তাহা হইলে তাহা বাতিল হইবে।

(৫) করদাতা, কমিশনারের প্রতিনিধি এবং সহায়তাকারী মতৈক্যে স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।

(৬) যেইক্ষেত্রে আবেদনকারী করদাতা এবং সংশ্লিষ্ট কমিশনারের প্রতিনিধির মধ্যে যেকোনো পক্ষের অসহযোগিতার কারণে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে কোনো মতৈক্যে পৌঁছানো সম্ভবপর না হয়, বা বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে মতভেদ সৃষ্টি হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করিয়া, মতভেদ হইবার ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে আবেদনকারী, বোর্ড, সংশ্লিষ্ট আদালত, ট্রাইব্যুনাল, আপিল কর্তৃপক্ষ এবং, ক্ষেত্রমত, আয়কর কর্তৃপক্ষকে উক্ত অসফল বিরোধ নিষ্পত্তি সম্পর্কে অবহিত করিবেন।

(৭) যেইক্ষেত্রে পাওনা আদায় ও প্রত্যার্পনের পন্থা ও সময় নির্ধারণ করিয়া মতৈক্য হয় এবং তাহা যথাযথভাবে লিপিবব্ধ ও স্বাক্ষরিত হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী, এই আইনের বিধানাবলি পরিপালন করিয়া, মতৈক্য অনুসারে, উহা করদাতা এবং সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারকে অবহিত করিবেন।

(৮) যদি সহায়তাকারী, যে মাসে আবেদন করা হইয়াছিল সেই মাস সমাপ্ত হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে, মতৈক্যে উপনীত হইতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে কোনো মতৈক্য হয় নাই বলিয়া গণ্য হইবে।

(৯) যেইক্ষেত্রে সফল মতৈক্য হয়, সেইক্ষেত্রে সহায়তাকারী মতৈক্যের অনুলিপি উপ-ধারা (৬)-এ উল্লিখিত সকল পক্ষের নিকট, যেই তারিখে সহায়তাকারী এবং পক্ষগণ মতৈক্যে স্বাক্ষর করিয়াছেন সেই তারিখ হইতে ১৫ (পনেরো) দিনের মধ্যে, প্রেরণ করিবেন।

৩০৫। মতৈক্যের ফলাফল

(১) এই আইনের অন্য কোনো বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৩০৪ এর উপ-ধারা (৯) এর অধীন সম্পাদিত সমঝোতা উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক হইবে এবং উহার বিরুদ্ধে করদাতা বা কোনো আয়কর কর্তৃপক্ষ কোনো কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে আপত্তি উত্থাপন করিতে পারিবে না।

(২) ধারা ৩০৪ এর অধীন নিষ্পন্নকৃত মতৈক্যের ক্ষেত্রে উহাতে উল্লিখিত বিষয় চূড়ান্ত হইবে এবং মতৈক্য বহির্ভূত কোনো বিষয়ে, এই আইনের অধীন যেকোনো কার্যধারায় পুনঃউন্মোচন করা যাইবে।

৩০৬। মতৈক্য না হইবার ক্ষেত্রে আপিলের সীমাবদ্ধতা

(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে সকল বিরোধের ক্ষেত্রে আংশিক বা সম্পূর্ণ মতৈক্য হয় নাই, সেই সকল ক্ষেত্রে করদাতা-

(ক) যেইক্ষেত্রে উপকর কমিশনারের আদেশ হইতে বিরোধ উদ্ভূত হয়, সেইক্ষেত্রে 1[***] অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল) এর নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন;

(খ) যেইক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর কমিশনার (আপিল) বা, ক্ষেত্রমত, কর কমিশনার (আপিল) এর আদেশ হইতে বিরোধ উদ্ভূত হয়, সেইক্ষেত্রে কর আপিল ট্রাইব্যুনালের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন;

(গ) যেইক্ষেত্রে আবেদনকারী করদাতা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আপিল কর্তৃপক্ষ বা আদালত হইতে আপিল আবেদনের অনুমতি পান উক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।

(২) আপিল দাখিলের তামাদি মেয়াদ গণনার ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আবেদনকারী কর্তৃক আবেদন দাখিলের তারিখ হইতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত বা আদেশ পাইবার জন্য ব্যয়িত সময় অন্তর্ভুক্ত হইবে না।

৩০৭। মতৈক্যের পর সত্যতার প্রতিপাদন

(১) বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন নিষ্পত্তির অগ্রগতি তদারক করিতে এবং প্রয়োজনীয় সমর্থন এবং সমন্বয় সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা প্রদান করিতে পারিবে।

(২) মতৈক্য বা মতানৈক্য সম্পর্কিত সকল প্রতিকপি বিষয়াদির অনুলিপি সহায়তাকারী কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কমিশনার এবং বোর্ডের নিকট যাচাই এবং আইনগত বা ঘটনাগত সঠিকতা নিরূপণের জন্য প্রেরণ করিতে হইবে।

(৩) মতৈক্য বা মতানৈক্যের বিষয়াদির অনুলিপি প্রতিলিপি প্রাপ্তির পর, যদি বোর্ডের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, দায়েরকৃত মতৈক্য প্রতারণা, ভুল উপস্থাপনা বা প্রকৃত তথ্য গোপনের মাধ্যমে রাজস্বের ক্ষতি করিবে, তাহা হইলে উক্ত মতৈক্য বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ট্রাইব্যুনাল বা আদালতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ করা হইবে।

৩০৮। দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলায় বাধা

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়ায় জড়িত কোনো ব্যক্তি কর্তৃক সরল বিশ্বাসে গৃহীত ব্যবস্থা বা মতৈক্যের বিরুদ্ধে কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা করা যাইবে না।

Deep-Dive
img