| এ্যাক্ট নং | ১১ | পার্ট | |
|---|---|---|---|
| এ্যাক্ট সাল | ২০০৬ | অধ্যায় | |
| এ্যাক্ট ডেট | ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ | ধারা | ১৯ |
| সংশোধনী | তফশিল | ||
| সর্বশেষ সংশোধনী | ফর্ম |
(১) এই আইন বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা আইন, ২০০৬ নামে অভিহিত হইবে৷
(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হইবে৷
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে এই আইনে-
(ক) “নির্ধারিত” অর্থ বিধি দ্বারা নির্ধারিত;
(খ) “নিরাপত্তা প্রহরী” অর্থ কোন ব্যক্তির জীবন ও সম্পত্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি চুরি, ডাকাতি বা অন্য কোন অপরাধ প্রতিরোধে কিংবা উক্ত সম্পত্তি অন্যের অবৈধ বা বেআইনী গ্রাস হইতে হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণার্থে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি;
(গ) “নিরাপত্তা সেবা” অর্থ কোন ব্যক্তি বা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থের বিনিময়ে প্রদেয় বা প্রদত্ত নিরাপত্তামূলক সেবা
(ঘ) “বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান” অর্থ এই আইনের ধারা ৫ এর অধীন লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা কেন্দ্র, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন;
(ঙ) “ব্যক্তি” অর্থ কোম্পানী, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারী কারবার, সংঘ ও সমিতি অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(চ) “লাইসেন্স” অর্থ এই আইনের ধারা ৫ এর অধীন প্রদত্ত লাইসেন্স;
(ছ) “লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ” অর্থ ধারা ৬ এ বর্ণিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ; এবং
(জ) “লাইসেন্সগ্রহীতা” অর্থ এই আইনের অধীন নিরাপত্তা সেবা প্রদানের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান৷
আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে এই বিষয়ে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷
কোন ব্যক্তি এই আইনের ধারা ৫ এর অধীন লাইসেন্স গ্রহণ করিয়া বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবেন৷
(১) বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করিতে ইচ্ছুক কোন ব্যক্তি লাইসেন্সের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে আবেদন করিতে পারিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রাপ্ত আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলীর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অধঃস্তন কোন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণ করিয়া উহার নিকট লিখিত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন নির্দেশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করিবেন এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলী পরীক্ষা ও যাবতীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার পর তদ্বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করিবেন৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রাপ্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ-
(ক) যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করিয়াছেন তাহা হইলে লাইসেন্সিং কর্র্তৃপক্ষ আবেদনকারীর নিকট হইতে ধারা ১৬ এর অধীন নির্ধারিত জামানত, লাইসেন্স ফিস ইত্যাদি আদায় করিয়া ত্রিশ দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে লাইসেন্স প্রদান করিবে; অথব
(খ) যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করিবার জন্য আবেদনকারীকে সুযোগ প্রদান করা সমীচীন, তাহা হইলে উক্ত শর্তাবলী পূরণের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে অনধিক পনের দিন সময় প্রদান করিবে; এবং
(অ) উক্ত সময়ের মধ্যে উল্লিখিত সকল শর্তাবলী প্রতিপালন করিতে আবেদনকারী সক্ষম হইয়াছে মর্মে সন্তুষ্ট হইবার পর পরবর্তী পনের দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর করিয়া আবেদনকারীকে লাইসেন্স প্রদান করিবে; বা
(আ) উক্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করিতে আবেদনকারী ব্যর্থ হইলে আবেদন নামঞ্জুর করিয়া আবেদনকারীকে অবহিত করিবে; অথবা
(গ) যদি এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, আবেদনকারী নির্ধারিত শর্তাবলীর মধ্যে অধিকাংশ শর্ত পূরণ করিতে সক্ষম হয় নাই এবং আবেদনকারীকে দফা (খ)- েত উল্লিখিত সুযোগ প্রদান করা হইলে উক্ত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করিতে সক্ষম হইবার সম্ভাবনা নাই, তাহা হইলে আবেদনকারীর আবেদন সরাসরি নামঞ্জুর করিয়া পনের দিনের মধ্যে আবেদনকারীকে অবহিত করিবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কোন আবেদন নামঞ্জুর করিলে, আবেদনকারী উক্ত নামঞ্জুর আদেশপ্রাপ্তির তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবে এবং আপীলে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
(৬) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করিয়া থাকিলে তিনি এই আইন কার্যকর হইবার ত্রিশ দিনের মধ্যে উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন
(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন আবেদনপ্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উপ-ধারা (২), (৩) এবং (৪) এর দফা (ক) ও (খ)-তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷
(৮) এই আইন কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে বিদ্যমান কোন বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার লাইসেন্সের জন্য উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করা না হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ উক্ত বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিবে৷
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংশ্লিষ্ট জেলার ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে পুলিশ কমিশনার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ হইবেন৷
(১) কোন ব্যক্তি তাহার লাইসেন্সের অধীন প্রদেয় নিরাপত্তা সেবা প্রদানের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে এজেন্ট হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবেন না৷
(২) লাইসেন্সগ্রহীতার স্বত্তাধিকার বা সাংগঠনিক কাঠামো লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কোনরূপ পরিবর্তন করা যাইবে না৷
(৩) প্রত্যেক লাইসেন্সগ্রহীতাকে তাহার প্রধান কার্যালয় এবং প্রতিটি শাখা কার্যালয়ের সর্বাপেক্ষা দৃশ্যমান একটি স্থানে লাইসেন্সের একটি ফটোকপি লটকাইয়া রাখিতে হইবে৷
(৪) লাইসেন্সগ্রহীতা যে সংশ্লিষ্ট জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে লাইসেন্স গ্রহণ করিয়াছেন, সেই এলাকার বাহিরে অন্য কোন জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় নিরাপত্তা সেবা প্রদান করিতে আগ্রহী হইলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক সত্যায়িত লাইসেন্সের অনুলিপিসহ অভিপ্রেত এলাকার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষকে উক্তরূপ আগ্রহ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত না করিয়া কোন নিরাপত্তা সেবা প্রদান করা যাইবে না
(৫) লাইসেন্সগ্রহীতা কর্তৃক উক্তরূপ অবহিতকরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলার বা ক্ষেত্রমত মেট্রোপলিটন এলাকার লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিবেন এবং লিখিতভাবে লাইসেন্সগ্রহীতাকে লিপিবদ্ধকরণের বিষয়টি জানাইয়া দিবেন৷
(৬) এই আইন ও তদ্ধীন প্রণীত বিধির আওতায় প্রযোজ্য শর্তাবলী ছাড়াও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যে শর্ত উপযুক্ত বিবেচনা করিবে তাহা লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত করিতে পারিবে এবং উক্ত শর্তাবলী অবশ্যই পালনীয় হইবে৷
(১) কোন ব্যক্তি কোন বেসরকারী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে নিয়োগলাভের যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি আঠার বত্সরের কম বয়স্ক হন;
(খ) তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ না হন;
(গ) তিনি বাংলাদেশের নাগরিক না হন;
(ঘ) তিনি কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হইয়া থাকিলে তাহার মুক্তি লাভের পর অন্যুন পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে; এবং
(ঙ) তিনি অসদাচরণ বা দুর্নীতির দায়ে কোন সরকারী বা সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চাকুরী হইতে বরখাস্ত হন৷
(২) কোন বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী নিয়োগের পূর্বে, লাইসেন্স-গ্রহীতাকে নিরাপত্তা প্রহরী পদে নিয়োগলাভের আবেদনকারীর পরিচয় ও পূর্ব-কার্যকলাপ বাংলাদেশ পুলিশ বা অন্য কোন সরকারী সংস্থা এবং সেই সংগে ক্ষেত্রমতে ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভা, বা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কমিশনারের মাধ্যমে প্রতিপাদনপূর্বক নিশ্চিত হইতে হইবে৷
(৩) লাইসেন্সগ্রহীতাকে তত্কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রত্যেক নিরাপত্তা প্রহরীকে যথাযথ ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করিতে হইবে এবং উক্তরূপ প্রশিক্ষণ প্রদান না করিয়া কোন নিরাপত্তা প্রহরীকে নিরাপত্তা সেবা প্রদান কার্যে নিয়োগ করা যাইবে না
(৪) লাইসেন্সগ্রহীতাকে তত্কর্তৃক নিয়োগকৃত সকল নিরাপত্তা প্রহরীসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম, ঠিকানা, ছবি ও পূর্ণাঙ্গ জীবন-বৃত্তান্তসম্বলিত একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং উহার একটি কপি স্থানীয় থানায় সরবরাহ করিতে হইবে এবং উক্ত রেজিস্টারে কোন রদ-বদল করা হইলে তাহা সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করিতে হইবে৷
নিরাপত্তা প্রহরীর চাকুরীর অন্যান্য শর্তাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(১) প্রত্যেক লাইসেন্সগ্রহীতাকে-
(ক) তত্কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রত্যেক নিরাপত্তা প্রহরী যাহাতে কর্তব্যরত অবস্থায় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত পোষাক পরিধান করেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করিতে হইবে; এবং
(খ) তত্কর্তৃক নিয়োগকৃত প্রত্যেক নিরাপত্তা প্রহরীকে একটি ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত নিরাপত্তা প্রহরী কর্তব্যরত থাকাকালে যাহাতে উক্ত পরিচয়পত্র সহজে দৃশ্যমান পোষাকের একটি নির্ধারিত স্থানে ঝুলাইয়া রাখেন সেই বিষয়টি নিশ্চিত করিতে হইবে৷
(২) লাইসেন্সগ্রহীতা তত্কর্তৃক নিয়োগকৃত নিরাপত্তা প্রহরীকে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহ, বাংলাদেশ রাইফেলস্, বাংলাদেশ পুলিশ (র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নসহ) কোষ্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি এবং সরকারের অন্যান্য সংস্থার জন্য নির্ধারিত পোষাক (ইউনিফর্ম) ও র্যাংক-ব্যাজ সরবরাহ করিতে পারিবেন না এবং উক্ত নিরাপত্তা প্রহরী যাহাতে এইরূপ পোষাক বা তত্সদৃশ পোষাক ব্যবহার না করেন তাহা লাইসেন্সগ্রহীতাকে নিশ্চিত করিতে হইবে
(৩) কোন নিরাপত্তা প্রহরী লাইসেন্সগ্রহীতার অধীন চাকুরীতে বহাল না থাকিলে বা নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে কর্তব্যরত না থাকিলে বা কোন কারণে তাহার চাকুরীর অবসান হইলে উক্ত পোষাক ও পরিচয়পত্র তিনি ব্যবহার করিতে পারিবেন না এবং তাহার চাকুরীর অবসানের সাথে সাথে উক্ত পোষাক ও পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সগ্রহীতার নিকট ফেরত প্রদান করিতে তিনি বাধ্য থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন নিরাপত্তা প্রহরী লাইসেন্সগ্রহীতার অধীন চাকুরীতে বহাল থাকাকালে মৃত্যুবরণ করিলে, চাকুরী পরিত্যাগ করিলে কিংবা কোন কারণে তাহার চাকুরীর অবসান হইলে লাইসেন্সগ্রহীতাকে উক্ত নিরাপত্তা প্রহরীর পরিচয়পত্র ও পোষাক যথাশীঘ্র সম্ভব ফেরত গ্রহণ করিতে হইবে৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ব্যক্তি বা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানকে কোন আগ্নেয়াস্ত্র, অস্ত্র বা উহাতে ব্যবহার্য গুলি-গোলা ও বারুদের জন্য লাইসেন্স প্রদান করা যাইবে না৷
(২) কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নগদ অর্থ পরিবহন অথবা এ সকল প্রতিষ্ঠানের স্থির দায়িত্ব (Static Duty) এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চাহিদার ভিত্তিতে মহাপরিচালক, আনসার ও ভিডিপি বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা এই আইনের অধীন প্রণীতব্য বিধি অনুযায়ী সশস্ত্র আনসার নিয়োগ করিতে পারিবেন৷
কোন ব্যক্তি বা বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রাহকদিগকে লিখিত চুক্তির ভিত্তিতে নিরাপত্তা সেবা প্রদান করিতে হইবে এবং নিরাপত্তা সেবা গ্রাহকদের নাম, ঠিকানা ও প্রাসঙ্গিক মৌলিক তথ্যাদিসহ চুক্তিপত্রের রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে হইবে৷
সংশ্লিষ্ট এলাকার লাইসেন্সিং কর্র্তৃপক্ষ বা তত্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা বা পরিদর্শক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন পুলিশ কর্মকর্তা যে কোন যুক্তিসঙ্গত সময়ে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সগ্রহীতাকে অবহিত করিয়া তাহার কার্যালয়ে বা শাখা কার্যালয়ে রক্ষিত রেজিস্টার ও যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং তত্সম্পর্কে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করিতে পারিবেন৷
(১) বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জন্য প্রদত্ত লাইসেন্সের মেয়াদ হইবে লাইসেন্স ইস্যুর তারিখ হইতে দুই বছর এবং উহা প্রতি দুই বছর পর নবায়নযোগ্য হইবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হইবার ত্রিশ দিন পূর্বে লাইসেন্স নবায়নের নির্ধারিত ফিসসহ নবায়নের জন্য লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের নিকট নির্ধারিত ফরমে আবেদন করিতে হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন আবেদন প্রাপ্তির পর লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য নির্ধারিত শর্তাবলী আবেদনকারী যথাযথভাবে প্রতিপালন করিয়াছে এবং পূর্ববর্তী আর্থিক বত্সরের বার্ষিক প্রতিবেদন, অডিট প্রতিবেদন এবং হালনাগাদ ভ্যাট ও আয়কর সনদ ইত্যাদি দাখিল করিয়াছে তাহা হইলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ আবেদন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে লাইসেন্সটি নবায়ন করিবে এবং লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, আবেদনকারী
উল্লেখিত শর্তাবলী প্রতিপালন করে নাই তবে লাইসেন্স নবায়নের আবেদনটি নামঞ্জুর করিবে৷
(৪)উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী লাইসেন্স নবায়নের আবেদন লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের আদেশ না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্সটি বহাল আছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদানুসারে লাইসেন্সগ্রহীতা নিরাপত্তা সেবা প্রদান করিতে পারিবে৷
(৫) কোন লাইসেন্সগ্রহীতা এ আইন বা তদধীন প্রণীত কোন বিধি বা লাইসেন্সের কোন শর্ত ভঙ্গ করিলে লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সগ্রহীতাকে যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান করিয়া প্রদত্ত লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) অনুযায়ী কোন লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হইলে স্থগিত বা বাতিল আদেশের তারিখ হইতে পনের দিনের মধ্যে লাইসেন্সগ্রহীতা সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবে এবং সরকার উক্ত আপীল দায়েরের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে আপীলটি নিষ্পত্তি করিবে এবং এই ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
এই আইনের অধীন প্রদেয় বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার জামানত, লাইসেন্স ফিস্ এবং নবায়ন ফিস্ বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জামানত, লাইসেন্স ফিস্ ও নবায়ন ফিেস্র হার নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
(১) এই আইনের অধীন লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতীত কোন ব্যক্তি বেসরকারী নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করিতে পারিবেন না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে দন্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক তিন বত্সর কারাদন্ড অথবা অন্যুন পাঁচ লক্ষ টাকা ও অনধিক দশ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন৷
(৩) কোন ব্যক্তি ধারা ৭, ধারা ৮ এবং ধারা ৯ এর উপ-ধারা (২), (৩) ও (৪) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে দন্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদন্ড অথবা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থ দন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন৷
(৪) কোন ব্যক্তি ধারা ১১ এর বিধান লঙ্ঘন করিলে দন্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক ছয় মাস কারাদন্ড অথবা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন৷
(৫) ধারা ১৫ এর উপ-ধারা (৫) এর অধীন কোন লাইসেন্সগ্রহীতার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করা হইলে সরকার কর্তৃক উক্ত স্থগিত বা বাতিল আদেশ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত লাইসেন্সগ্রহীতা নিরাপত্তা সেবা প্রদান করিতে পারিবেন না
(৬) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (৫) এর বিধান, লঙ্ঘন করিলে দন্ডনীয় অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং তিনি উক্ত অপরাধের জন্য অনধিক তিন বত্সর কারাদণ্ড অথবা অন্যুন পাঁচ লক্ষ টাকা ও অনধিক দশ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড, অথবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবেন৷
(১) এই আইনের অধীন কোন বিধান লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি যদি কোম্পানী হয়, তাহা হইলে উক্ত কোম্পানীর মালিক, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা প্রতিনিধি বিধানটি লঙ্ঘন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত লঙ্ঘন তাহার অজ্ঞাতসারে হইয়াছে অথবা উক্ত লঙ্ঘন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন৷
ব্যাখ্যাঃ এই ধারায়-
(ক) “কোম্পানী” বলিতে কোন কোম্পানী, অংশীদারী কারবার, সমিতি বা ব্যক্তি সংঘও অন্তর্ভুক্ত;
(খ) “পরিচালক” বলিতে কোন অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ড, যে নামেই অভিহিত হউক, এর সদস্যকেও বুঝাইবে; এবং
(গ) “মালিক” বলিতে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত নয় এমন শেয়ারহোল্ডারগণ অন্তর্ভুক্ত হইবে না৷
(২) Code of Criminal Procedure, 1898 (Act No. V of 1898) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোম্পানী কর্তৃক এই আইন বা বিধিতে বর্ণিত কোন অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে, কোম্পানীর নিবন্ধিত কার্যালয় বা প্রধান কার্যালয় বা এইরূপ কার্যালয় না থাকিলে যে স্থান হইতে সাধারণতঃ উহার কর্মকান্ড পরিচালিত হয় বা যে স্থানে অপরাধটি সংঘটিত হয় বা যে স্থানে কোম্পানীর সংশ্লিষ্ট অপরাধীকে পাওয়া যায় সেই স্থানের উপর এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতই হইবে যথাযথ এখতিয়ার সম্পন্ন আদালত৷
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷