| এ্যাক্ট নং | পার্ট | ||
|---|---|---|---|
| এ্যাক্ট সাল | ২০০৬ | অধ্যায় | ২১ |
| এ্যাক্ট ডেট | ১১ অক্টোবর, ২০০৬ | ধারা | ৩৫৪ |
| সংশোধনী | ২২ জুলাই, ২০১৩ | তফশিল | ৫ |
| সর্বশেষ সংশোধনী | ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ | ফর্ম |
শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্যে ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে সকল আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে প্রণীত আইন।
যেহেতু শ্রমিক নিয়োগ, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্ক, সর্বনিম্ন মজুরীর হার নির্ধারণ, মজুরী পরিশোধ, কার্যকালে দুর্ঘটনাজনিত কারণে শ্রমিকের জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, শিল্প বিরোধ উত্থাপন ও নিষ্পত্তি, শ্রমিকের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, কল্যাণ ও চাকুরীর অবস্থা ও পরিবেশ এবং শিক্ষাধীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে সকল আইনের সংশোধন ও সংহতকরণকল্পে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইলঃ-
(১) এই আইনটিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ বলা যেতে পারে।
(২) এটি একবারে কার্যকর হবে৷
(৩) এই আইনের অন্যত্র উল্লেখিত হিসাবে সংরক্ষণ করুন, এটি সমগ্র বাংলাদেশে প্রসারিত।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠান বা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না, যথাঃ-
(ক) সরকার বা সরকারের অধীনস্থ কোন অফিস;
(খ) সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস;
(গ) সমরাস্ত্র কারখানা;
(ঘ) অসুস্থ, অক্ষম, বৃদ্ধ, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, এতিম, পরিত্যক্তা মহিলা বা শিশু অথবা বিধবাদের চিকিৎসা, যত্ন বা সেবার জন্য পরিচালিত কিন্তু মুনাফা বা লাভের লক্ষ্যে পরিচালিত নহে, এইরূপ কোন প্রতিষ্ঠান;
(ঙ) প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে ইহার প্রয়োজনে স্থাপিত এমন দোকানপাট বা স্টল যাহাতে শুধু খুচরা বেচাকেনা চলে;
(চ) প্রকাশ্য মেলায় বা বাজারে ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে স্থাপিত দোকানপাট বা স্টল;
(ছ) 1[মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত নহে এমন] শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা গবেষণা প্রতিষ্ঠান;
(জ) মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত নহে এমন ছাত্রাবাস বা মেস 2[,হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার];
(ঝ) দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে, সরকারের মালিকানাধীন এবং সরকার কর্তৃক সরাসরিভাবে পরিচালিত এমন কোন দোকান বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান যাহাতে শ্রমিকগণ সরকারী কর্মচারীগণের উপর প্রযোজ্য আচরণবিধি দ্বারা পরিচালিত হন;
(ঞ) এমন কোন শ্রমিক যাহার নিয়োগ এবং চাকুরির শর্তাবলী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬২, ৭৯, ১১৩ বা ১৩৩ এর অধীন প্রণীত আইন বা বিধি দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায় প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভূর্ক্ত হইবেন না, যথাঃ-
(১) রেল বিভাগ;
(২) ডাক, তার ও টেলিফোন বিভাগ;
(৩) সড়ক ও জনপথ বিভাগ;
(৪) গণপূর্ত বিভাগ;
(৫) গণস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ;
(৬) বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়।
(ট) দফা (খ), (গ), (ঘ), (ঙ), (চ), (ছ), ও (জ)- তে উল্লিখিত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক, তবে দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে নিযুক্ত, শিক্ষক ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক এই নিষেধের অন্তভুর্ক্ত হইবেন না;
(ঠ) দ্বাদশ, ত্রয়োদশ এবং চতুুর্দশ অধ্যায়ের প্রয়োগের ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোন ক্ষেত্রে, কোন নাবিক;
3[***]
(ঢ) এমন কোন কৃষি খামার যেখানে সাধারণতঃ 4[পাঁচ] জনের কম শ্রমিক কাজ করেন;
(ণ) গৃহ পরিচারক; এবং
(ত) এমন কোন প্রতিষ্ঠান যাহা উহার মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাহাতে মজুরীর বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না।
বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে-
(১) "অবসর" অর্থ এই আইনের ২৮ ধারা অনুযায়ী কোন শ্রমিকের নির্দিষ্ট বয়সে উপনীত হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে চাকুরীর অবসান। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর চাকুরী পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিতে শ্রমিকের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকেও অবসর বলিয়া গণ্য হইবে;
(১-ক) "আংশিক অক্ষমতা" অর্থ, যে ক্ষেত্রে অক্ষমতা অস্থায়ী প্রকৃতির, এমন অক্ষমতা যাহা যে দুর্ঘটনার কারণে তাহার অক্ষমতা সৃষ্টি হইয়াছে তাহা ঘটিবার সময় তিনি যে কাজে নিয়োজিত ছিলেন তৎসম্পর্কে তাহার উপার্জন ৰমতা কমাইয়া দেয় এবং যে ক্ষেত্রে অক্ষমতা স্থায়ী প্রকৃতির, এমন অক্ষমতা যাহা উক্ত সময়ে তিনি যে যে কাজ করিতে পারিতেন তাহার প্রত্যেকটি সম্পর্কে তাহার উপার্জন ক্ষমতা কমাইয়া দেয়ঃ-
তবে শর্ত থাকে যে, প্রথম তফসিলে উলিস্নখিত প্রত্যেক জখম স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা সৃৃষ্টি করে বলিয়া গণ্য হইবে;
(২) "উৎপাদন প্রক্রিয়া" অর্থ নিম্নোক্ত যে কোন প্রক্রিয়া, যথাঃ-
(ক) কোন বস্তু বা পদার্থের ব্যবহার, বিক্রয়, পরিবহন, বিতরণ, প্রদর্শন বা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে উহা প্রস্তুত, পরিবর্তন, মেরামত, অলংকরণ, রংকরণ, ধৌতকরণ, সম্পূর্ণ বা নিখুঁতকরণ, গাঁট বা মোড়কবন্দীকরণ অথবা অন্য কোনভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আরোপকরণ,
(খ) তৈল, গ্যাস, পানি, নর্দমার ময়লা অথবা অন্য কোন তরল আবর্জনা পাম্প করার প্রক্রিয়া,
(গ) শক্তি বা গ্যাস উৎপাদন, হ্রাস-বৃদ্ধিকরণ বা প্রেরণ প্রক্রিয়া,
(ঘ) জাহাজ বা নৌ-যান নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, মেরামত, সম্পূর্ণ বা নিখুঁতকরণ বা ভাঙ্গনের প্রক্রিয়া,
(ঙ) লেটারপ্রেস, লিথোগ্রাফি, ফটোগ্রেভোর, কম্পিউটার, ফটো কম্পোজ, অফসেট অথবা অনুরূপ কোন প্রক্রিয়া দ্বারা ছাপার কাজ অথবা বই-বাঁধাই এর প্রক্রিয়া যাহা ব্যবসা হিসাবে অথবা মুনাফার জন্য অথবা অন্য কোন ব্যবসার আনুষঙ্গিক বিষয় হিসাবে পরিচালিত হয়;
1[(২ক) ‘‘উৎসব ভাতা’’ অর্থ কোনো কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদেরকে তাহাদের স্ব স্ব ধর্মীয় উৎসবের প্রাক্কালে প্রদেয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত উৎসব ভাতা;]
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে "কর্মকর্তা" অর্থ উহার নির্বাহী কমিটির কোন সদস্য, কিন্তু কোন নিরীক্ষক বা আইন উপদেষ্টা ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেন না;
(৪) "কর্ম-ঘন্টা" অর্থ আহার এবং বিশ্রামের জন্য বিরতি ব্যতীত যে সময়ে কোন শ্রমিক কাজ করার জন্য মালিকের এখতিয়ারাধীন থাকেন;
(৫) "কর্মরত সাংবাদিক" অর্থ কোন ব্যক্তি যিনি একজন সার্বক্ষণিক সাংবাদিক এবং যিনি কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে বা তৎসংক্রান্ত কাজে উক্তরূপে নিয়োজিত আছেন, এবং কোন সম্পাদক, সম্পাদকীয় লেখক, সংবাদ সম্পাদক, উপ-সম্পাদক, ফিচার লেখক, রিপোর্টার, সংবাদদাতা, কপি টেস্টার, কাটুর্নিস্ট, সংবাদ চিত্র গ্রাহক, ক্যালিগ্রাফিষ্ট এবং প্রুফ রীডারও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;
(৬) "কর্মশালা" অর্থ কোন বাড়ীঘর বা আঙ্গিনা যেখানে কোন শিল্প প্রক্রিয়া চলে;
(৭) "কারখানা" অর্থ এমন কোন ঘর-বাড়ী বা আঙ্গিনা যেখানে বৎসরে কোন দিন সাধারণতঃ পাঁচ জন বা ততোধিক শ্রমিক কর্মরত থাকেন এবং উহার যে কোন অংশে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু থাকে, কিন্তু কোন খনি ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে না;
(৮) "কিশোর" অর্থ চৌদ্দ বৎসর বয়স পূর্ণ করিয়াছেন কিন্তু আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি;
2[(৮ক) ‘‘কৃষি শ্রমিক’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি দৈনিক, মাসিক অথবা বাৎসরিক চুক্তির ভিত্তিতে অথবা নির্দিষ্ট কোন কাজ সম্পাদনের চুক্তিতে মজুরীর বিনিময়ে কৃষি কাজে নিযুক্ত থাকেন;]
(৯) "খনি" অর্থ কোন খনন যেখানে খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য বা অনুসন্ধানের জন্য কার্য-পরিচালনা করা হয়, এবং খনিতে বা উহার সন্নিকটে, ভূ-গর্ভে বা ভূ-পৃষ্ঠে এতদ্সংক্রান্ত সকল কাজ, যন্ত্রপাতি, ট্রাম পথ এবং সাইডিংও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এমন কোন বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনার অংশ ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না যাহাতে কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু আছে, যদি না উক্তরূপ প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট খনিজ পদার্থের মন্ড বানাইবার জন্য বা উহা ড্রেসিং করিবার জন্য হয়;
3[(৯ক) ‘‘খোরাকী ভাতা’’ অর্থ মূল মজুরী, মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর অর্ধেক;]
4[(১০) ‘‘গ্রাচুইটি’’ অর্থ কোন শ্রমিকের প্রতি পূর্ণ বৎসর চাকুরী অথবা ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়ের চাকুরীর জন্য তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ন্যূনতম ৩০ দিনের মজুরী অথবা ১০ বৎসরের অধিককাল চাকুরীর ক্ষেত্রে তাহার সর্বশেষ প্রাপ্ত মজুরী হারে ৪৫ দিনের মজুরী যাহা উক্ত শ্রমিককে তাহার চাকুরীর অবসানে প্রদেয় 5[ ***]]
(১০-ক) "চা-বাগান" অর্থ চা উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত বা ব্যবহারের অভিপ্রেত কোন জমি, এবং চা কারাখানাও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১১) "ছাটাই" অর্থ অপ্রয়োজনীয়তার কারণে মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
(১২) "জনকল্যাণমূলক সার্ভিস" অর্থ-
(ক) জনসাধারণের জন্য বিদুৎ, গ্যাস, তৈল বা পানি উৎপন্ন, প্রস্তুত বা সরবরাহকরণ,
(খ) জনসাধারণের জন্য পয়ঃনিষ্কাশন বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা,
(গ) হাসপাতাল এবং এম্বুলেন্স সার্ভিস,
(ঘ) অগ্নি-নির্বাপন সার্ভিস,
(ঙ) ডাক, তার ও টেলিফোন সার্ভিস,
(চ) রেল, বিমান, সড়ক এবং নৌ-পরিবহন,
(ছ) বন্দর,
(জ) কোন প্রতিষ্ঠানের পাহারা-টহলদারী স্টাফ এবং নিরাপত্তা সার্ভিস,
(ঝ) অক্সিজেন এসিটাইলিন, এবং
(ঞ) ব্যাংকিং।
(১৩) "ট্রাইব্যুনাল" অর্থ এই আইনের অধীন স্থাপিত শ্রম আপীল ট্রাইবু্যনাল;
(১৪) "ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি" অর্থ কোন শেফ্ট, চাকা, ড্রাম, পুলি, পুলির সিসটেম, কুপলিংস, ক্লাচ, ড্রাইভিং বেল্ট অথবা অন্য কোন কলকব্জা বা কৌশল যাহা দ্বারা কোন প্রাইম মুভারের গতি কোন যন্ত্রপাতি বা প্লান্টে প্রেরণ বা গ্রহণ করানো হয়;
(১৫) "ট্রেড ইউনিয়ন" অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন গঠিত ও রেজিস্ট্রিকৃত শ্রমিকগণের বা মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন, এবং কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(১৬) "ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন" অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন;
(১৭) "ডিসচার্জ" অর্থ শারীরিক বা মানসিক অৰমতার কারণে অথবা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে মালিক কতর্ৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
(১৮) "ঢিমে তালের কাজ" অর্থ কোন একদল শ্রমিক কর্তৃক সংঘবদ্ধ, ইচ্ছাকৃত এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্বাভাবিক উৎপাদনের গতি শ্লথ করিয়া দেওয়া এবং যাহা কোন যান্ত্রিক ত্রুটি বা কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বিকল বা ভাঙ্গিয়া যাওয়া বা শক্তি সরবরাহের ক্রটি বা ব্যর্থতা বা স্বাভাবিক জিনিসপত্র এবং কলকব্জার খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহের ব্যর্থতার কারণে না ঘটে;
(১৯) "দিন" অর্থ ভোর ছয় ঘটিকা হইতে শুরু করিয়া কোন চব্বিশ ঘণ্টা সময়;
(২০) "দেওয়ানী কার্যবিধি" অর্থ দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৫নং আইন);
(২১) "দোকান" অর্থ কোন বাড়ী-ঘর বা আংগিনা যাহা সম্পূর্ণ বা অংশতঃ কোন মালামাল নগদে বা বাকিতে, খুচরা বা পাইকারীভাবে বিক্রির জন্য ব্যবহৃত হয়, অথবা যেখানে কোন গ্রাহককে কোন সেবা দেওয়া হয়, এবং উক্ত বাড়ী-ঘরের আঙ্গিনায় হউক বা অন্যত্র হউক, উক্ত ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে মূলতঃ ব্যবহৃত হয় এরূপ প্রত্যেক অফিস, ভান্ডার, কক্ষ, গুদাম ঘর বা কর্মস্থল, এবং সরকার কর্তৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে ঘোষিত অন্য কোন বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনাও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(২২) "ধর্মঘট" অর্থ কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত একদল শ্রমিক কর্তৃক একত্রে কর্ম বন্ধকরণ বা কাজ করিতে অস্বীকৃতি অথবা উহাতে নিয়োজিত কোন শ্রমিক সমষ্টি কর্তৃক ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ গ্রহণ করিতে বা কাজ চালাইয়া যাইতে অস্বীকৃতি;
(২৩) "নাবিক" অর্থ কোন সমুদ্রগামী জাহাজের নাবিক, কিন্তু জাহাজের মাস্টার ইহার অন্তর্ভুক্ত নহেন;
(২৪) কোন ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে, "নির্বাহী কমিটি" অর্থ এমন কোন একদল লোক, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, যাহার উপর ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উহার ব্যবস্থাপনার ভার ন্যসত্দ আছে;
(২৫) "নিষ্পত্তি" অর্থ কোন সালিসী কার্য ধারায় উপনীত নিষ্পত্তি এবং সালিসী কার্যধারা ছাড়াও মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে সম্পাদিত এমন কোন চুক্তিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে যাহা লিখিত হয় এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরযুক্ত হয় এবং যাহার কপি শ্রম পরিচালক এবং সালিসের নিকট প্রেরণ করা হয়;
(২৬) "নৌ-পরিবহন সার্ভিস" অর্থ নৌপথে নৌযানে ভাড়ায় বা অর্থের বিনিময়ে যাত্রী বা মালামাল পরিবহন সার্ভিস;
(২৭) "নৌযান" অর্থ কোন যন্ত্রচালিত নৌযান যাহা নৌ-পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয় বা ব্যবহারযোগ্য, এবং কোন টাগ বা ফ্লাট এবং বার্জও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(২৮) "প্রশাসনিক শ্রমিক" অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি সার্বৰণিক ভিত্তিতে, কর্মরত সাংবাদিক বা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক ব্যতীত, কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে বা তৎসংক্রান্ত কোন কাজে যে কোন পদে নিয়োজিত আছেন;
(২৯) "পালা" অর্থ যে ক্ষেত্রে একই প্রকারের কাজ দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই বা ততোধিক শ্রমিকদল দ্বারা সম্পাদিত হয় সে ক্ষেত্রে উক্তরূপ প্রত্যেক সময়;
(৩০) কোন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে, "পোষ্য" অর্থ নিম্নলিখিত যে কোন আত্মীয়, যথাঃ-
(ক) কোন বিধবা, নাবালক সনত্দান, অবিবাহিত কন্যা, অথবা বিধবা মাতা,
এবং
(খ) সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মৃত্যুর সময় তাহার আয়ের উপর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নির্ভরশীল হওয়ার ক্ষেত্রে, কোন স্ত্রীহারা স্বামী, বিধবা মাতা বা পিতা, কন্যা যদি অবিবাহিত, নাবালিকা বা বিধবা হয়, নাবালক ভ্রাতা, অবিবাহিত বা বিধবা ভগ্নি, বিধবা পুত্রবধু, মৃত পুত্রের নাবালক ছেলে, মৃত মেয়ের নাবালক সন্তান যদি তাহার পিতা জীবিত না থাকেন, অথবা, যদি মৃত শ্রমিকের মাতা বা পিতা জীবিত না থাকেন, তাহা হইলে তাহার দাদা ও দাদী, এবং বিবাহ বহির্ভূত ছেলে এবং বিবাহ বহির্ভূত কুমারী কন্যা;
(৩১) "প্রতিষ্ঠান" অর্থ কোন দোকান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান 6[ পরিবহন,], শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা বাড়ী-ঘর বা আঙ্গিনা যেখানে কোন শিল্প পরিচালনার জন্য শ্রমিক নিয়োগ করা হয়;
(৩২) "প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ" অর্থ একই অথবা বিভিন্ন মালিকের অধীন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান যেগুলিতে একই প্রকারের বা ধরনের শিল্প পরিচালিত হয়;
(৩৩) "প্রবিধান" অর্থ আইনের অধীন প্রণীত কোন প্রবিধান;
(৩৪) "প্রসূতি কল্যাণ" অর্থ চতুর্থ অধ্যায়ের অধীন কোন মহিলা শ্রমিককে তাহার প্রসূতি হওয়ার কারণে প্রদেয় মজুরীসহ ছুটি 7[ অন্যান্য সুবিধা];
(৩৫) "প্রাইমমুভার" অর্থ কোন ইঞ্জিন, মোটর বা অন্যকোন যন্ত্রপাতি যাহা শক্তি উৎপন্ন করে বা শক্তি যোগায়;
8[(৩৫ক) ‘প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত’ অর্থ এমন কোনো ব্যক্তি যাহার প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত অভিজ্ঞতার প্রত্যয়ন পত্র রহিয়াছে;]
(৩৬) "প্রাপ্ত বয়স্ক" অর্থ আঠার বৎসর বয়স পূর্ণ করিয়াছেন এমন কোন ব্যক্তি;
(৩৭) "ফৌজদারী কার্যবিধি" অর্থ ফৌজদারী কার্যবিধি, ১৮৯৮ (১৮৯৮ সনের ৫নং আইন);
(৩৮) "বন্ধ" অর্থ গ্রাহকের সেবা দেওয়ার জন্য বা কোন ব্যবসা পরিচালনা করিবার জন্য খোলা নাই;
(৩৯) "বরখাস্ত" অর্থ অসদাচরণের কারণে মালিক কর্তৃক কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান;
(৪০) "বাগান" অর্থ কোন এলাকা যেখানে রাবার, কফি, চা ইত্যাদি উৎপাদন এবং অথবা সংরক্ষণ করা হয় এবং, পরীক্ষা বা গবেষণা খামার ব্যতীত, 9[ পাঁচজন] বা ইহার অধিক শ্রমিক নিয়োগকারী প্রত্যেক কৃষি খামারও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(৪১) "বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান" অর্থ এমন কোন প্রতিষ্ঠান যাহাতে বিজ্ঞাপন, কমিশন বা ফরওয়ার্ডিং এর ব্যবসা পরিচালনা করা হয় বা যাহা একটি বাণিজ্যিক এজেন্সী, এবং নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(ক) কোন কারখানা বা শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের করণিক বিভাগ,
(খ) এমন কোন ব্যক্তির অফিস-প্রতিষ্ঠান যিনি কোন শিল্প বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক নিযুক্ত করেন,
(গ) কোন যৌথ কোম্পানীর কোন ইউনিট,
(ঘ) কোন বীমা কোম্পানী, ব্যাংকিং কোম্পানী বা ব্যাংক,
(ঙ) কোন দালালের অফিস,
(চ) কোন স্টক এঙ্চেঞ্জ,
(ছ) কোন ক্লাব, হোটেল, রেস্তোরা বা খাবারের ঘর,
(জ) কোন সিনেমা বা থিয়েটার,
(ঝ) সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন প্রতিষ্ঠান;
(৪২) "বিধি" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধি;
10[(৪২ক) ‘‘বিশেষজ্ঞ’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক কিংবা শ্রমিক নহেন, তবে সংশ্লিষ্ট সেক্টরের মালিক অথবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতা কিংবা যাহার শ্রম, শিল্প ও কর্মস্থলে নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা রহিয়াছে;]
(৪৩) "বে-আইনী ধর্মঘট" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের 11[ বিধান লংঘন করিয়া] ঘোষিত, শুরুকৃত বা জারীকৃত কোন ধর্মঘট;
(৪৪) "বে-আইনী লক-আউট" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের 12[ বিধান লংঘন করিয়া] ঘোষিত, শুরুকৃত বা জারীকৃত কোন লক-আউট;
(৪৫) "মজুরী" অর্থ টাকায় প্রকাশ করা হয় বা যায় এমন সকল পারিশ্রমিক যাহা চাকুরীর শর্তাবলী, প্রকাশ্য বা উহ্য যেভাবেই থাকুক না কেন পালন করা হইলে কোন শ্রমিককে তাহার চাকুরীর জন্য বা কাজ করার জন্য প্রদেয় হয়, এবং উক্তরূপ প্রকৃতির অন্য কোন অতিরিক্ত প্রদেয় পারিশ্রমিকও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, তবে নিম্নলিখিত অর্থ ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে না, যথাঃ-
(ক) বাসস্থান সংস্থান, আলো, পানি, চিকিৎসা সুবিধা বা অন্য কোন সুবিধা প্রদানের মূল্য অথবা সরকার কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে এইরূপ কোন সেবার মূল্য,
(খ) অবসর ভাতা তহবিল বা ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন চাঁদা,
(গ) কোন ভ্রমণ ভাতা অথবা কোন ভ্রমণ রেয়াতের মূল্য,
(ঘ) কাজের প্রকৃতির কারণে কোন বিশেষ খরচ বহন করিবার জন্য কোন শ্রমিককে প্রদত্ত অর্থ;
(৪৬) "মধ্যস্থতাকারী" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের অধীন নিযুক্ত কোন মধ্যস্থতাকারী;
13[(৪৭) ‘‘মহাপরিদর্শক’’, ‘‘অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক’’, ‘‘যুগ্ম মহাপরিদর্শক’’, ‘‘উপ-মহাপরিদর্শক’’, ‘‘সহকারী মহাপরিদর্শক’’ এবং ‘‘শ্রম পরিদর্শক’’ অর্থ বিংশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;]
14[(৪৮) ‘‘মহাপরিচালক’’, ‘‘অতিরিক্ত মহাপরিচালক’’, ‘‘পরিচালক’’, ‘‘উপ-পরিচালক’’, ‘‘সহকারী পরিচালক’’ এবং ‘‘শ্রম কর্মকর্তা’’ অর্থ বিংশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত পদে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;]
(৪৯) কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে, "মালিক" অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ করেন, এবং নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবেন, যথাঃ-
(ক) উক্ত ব্যক্তির কোন উত্তরাধিকারী, অভিভাবক, হস্তান্তরমূলে উত্তরাধিকারী বা আইনগত প্রতিনিধি,
(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা উহার ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি,
(গ) সরকার কর্তৃক বা সরকারের কর্তৃত্বাধীন পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, এতদ্উদ্দেশ্য নিয়োজিত কোন কর্তৃপক্ষ, অথবা এরূপ কোন কর্তৃপক্ষ না থাকিলে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের প্রধান,
(ঘ) কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বা উহার পক্ষে পরিচালিত কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, এতদ্উদ্দেশ্যে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা অথবা এরূপ কোন কর্মকর্তা না থাকিলে, উহার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা,
(ঙ) অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, উহার মালিক এবং উহার প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক, সচিব, প্রতিনিধি অথবা উহার কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কোন কর্মকর্তা বা ব্যক্তি,
(চ) মালিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির দখলে আছে এরূপ কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, উক্ত প্রতিষ্ঠান দখলকারী ব্যক্তি অথবা উহার নিয়ন্ত্রণকারী চূড়ান্ত ব্যক্তি অথবা ব্যবস্থাপক অথবা উক্ত কাজ-কর্মের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কোন উপযুক্ত কর্মকর্ত;
(৫০) "যন্ত্রপাতি" বলিতে প্রাইম মুভার, ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতি এবং এমন অন্য কোন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জাকেও বুঝাইবে যাহার দ্বারা শক্তির উৎপাদন, হ্রাস-বৃদ্ধি বা প্রেরণ করা হয় অথবা প্রয়োগ করা হয়;
(৫১) "যান বাহন" অর্থ যান্ত্রিক শক্তি চালিত যানবাহন যাহা স্থল, নৌ ও আকাশ পথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত হয় বা ব্যবহারের যোগ্য, এবং কোন ট্রলিযান ও আনুগমিক যানও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(৫২) "যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি" 15[ (CBA)] অর্থ কোন প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের এমন কোন ট্রেড ইউনিয়ন বা ট্র্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন যাহা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন উক্ত প্রতিষ্ঠানে বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে যৌথ দর কষাকষির ব্যাপারে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি;
(৫৩) "রিলে" অর্থ যে ক্ষেত্রে একই প্রকারের কাজ দিনের বিভিন্ন সময়ে দুই বা ততোধিক শ্রমিক দল দ্বারা সম্পাদিত হয় সে ক্ষেত্রে, উক্তরূপ প্রত্যেক দল;
(৫৪) "রেজিস্টার্ড চিকিৎসক" অর্থ চিকিৎসক হিসাবে মেডিক্যাল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ১৯৮০ (১৯৮০ সনের ১৬নং আইন) এর অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ব্যক্তি;
(৫৫) "রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়ন" অর্থ ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকৃত কোন ট্রেড ইউনিয়ন;
(৫৬) "রোয়েদাদ" অর্থ কোন মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কর্তৃক কোন শিল্প বিরোধ বা তৎসংক্রান্ত কোন বিষয়ের নিষ্পত্তি, এবং কোন অর্ন্তবর্তী রোয়েদাদও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে;
(৫৭) "লক-আউট" অর্থ কোন মালিক কর্তৃক কোন কর্মস্থান অথবা উহার কোন অংশ বন্ধ করিয়া দেওয়া অথবা উহাতে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কাজ স্থগিত রাখা অথবা কোন মালিক কর্তৃক চূড়ান্তভাবে বা শর্তসাপেক্ষে তাহার যে কোন সংখ্যক শ্রমিককে 16[ কাজ করিতে দিতে অস্বীকৃতি], যদি উক্তরূপ বন্ধকরণ, স্থগিতকরণ বা অস্বীকৃতি কোন শিল্প বিরোধ সম্পর্কে হয় বা ঘটে অথবা উহা শ্রমিকগণকে চাকুরীর কতিপয় শর্ত মানিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে করা হয়;
(৫৮) "লে-অফ" অর্থ কয়লা, শক্তি বা কাঁচা মালের স্বল্পতা, অথবা মাল জমিয়া থাকা অথবা যন্ত্রপাতি বা কল-কব্জা বিকল বা ভাঙ্গিয়া যাওয়ার কারণে কোন শ্রমিককে কাজ দিতে মালিকের ব্যর্থতা, অস্বীকৃতি বা অক্ষমতা;
(৫৯) "শক্তি" অর্থ বৈদু্যতিক শক্তি এবং এমন অন্য কোন শক্তি যাহা যান্ত্রিকভাবে প্রেরণ করা হয় এবং যাহা মানব বা জন্তুর মাধ্যমে উৎপন্ন হয় না;
(৬০) "শিল্প" অর্থ যে কোন ব্যবসা, বাণিজ্য, উৎপাদন, বৃত্তি, পেশা, চাকুরী বা নিয়োগ;
(৬১) "শিল্প প্রতিষ্ঠান" অর্থ কোন কর্মশালা, উৎপাদন প্রক্রিয়া অথবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যেখানে কোন বস্তু প্রস্তুত হয়, অভিযোজিত হয়, প্রক্রিয়াজাত করা হয় অথবা উৎপন্ন হয়, অথবা যেখানে ব্যবহার, পরিবহন, বিক্রয়, চালান অথবা হস্তান্তর করার লক্ষ্যে যে কোন বস্তু বা পদার্থের তৈরী, পরিবর্তন, মেরামত, অলংকরণ, সম্পূর্ণর্ বা নিখুঁতকরণ অথবা গাঁট বা মোড়কবন্দীকরণ অথবা অন্য কোনভাবে নির্মাণ প্রক্রিয়ায় আরোপ করার কোন কাজ পরিচালিত হয়, অথবা এমন অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যাহা সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের উদ্দেশ্যে, শিল্প প্রতিষ্ঠান বলিয়া ঘোষণা করে, এবং নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(ক) সড়ক পরিবহন, রেল পরিবহন সার্ভিস,
(খ) নৌ-পরিবহন সার্ভিস,
(গ) বিমান পরিবহন,
(ঘ) ডক, জাহাজ ঘাট বা জেটি,
(ঙ) খনি, পাথর খাদ, গ্যাস ক্ষেত্র বা তৈল ক্ষেত্র,
(চ) বাগান,
(ছ) কারখানা,
(জ) সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান,
(ঝ) কোন বাড়ী-ঘর, রাস্তা, সুড়ঙ্গ, নর্দমা, নালা বা সেতু, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙ্গা, পুনঃ নির্মাণ, মেরামত, পরিবর্তন বা ভাঙ্গিয়া ফেলার অথবা জাহাজে মাল উঠানো-নামানো বা লইয়া যাওয়া সংক্রানত্দ কাজ বা ব্যবস্থা করার জন্য স্থাপিত কোন ঠিকাদার বা উপ-ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান 17[ ,
(ঞ) জাহাজ নির্মাণ,
(ট) জাহাজ পুন: প্রক্রিয়াজাতকরণ(রিসাইক্লিং),
(ঠ) ওয়েল্ডিং,
(ড) নিরাপত্তা কর্মী সরবরাহ করিবার জন্য আউটসোর্সিং কোম্পানী অথবা কোন ঠিকাদার বা উপ-ঠিকাদারের প্রতিষ্ঠান,
(ঢ) বন্দর; বন্দর বলিতে সকল সমুদ্র বন্দর, নৌ বন্দর ও স্থল বন্দর বুঝাইবে,
(ণ) মোবাইল অপারেটর কোম্পানী, মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা প্রদানকারী কোম্পানী ও ল্যান্ড ফোন অপারেটর কোম্পানী,
(ত) বেসরকারি রেডিও, টিভি চ্যানেল ও কেবল অপারেটর,
(থ) রিয়েল এস্টেট কোম্পানী, কুরিয়ার সার্ভিস ও বীমা কোম্পানী,
(দ) সার ও সিমেন্ট প্রস্ত্ততকারী কোম্পানী,
(ধ) মুনাফা বা লাভের জন্য পরিচালিত ক্লিনিক বা হাসপাতাল;
(ন) ধানকল বা চাতাল;
(প) করাতকল;
(ফ) মাছ ধরা ট্রলার;
(ব) মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প;
(ভ) 18[ সমুদ্রগামী] জাহাজ।]
(৬২) "শিল্প বিরোধ" অর্থ কোন ব্যক্তির চাকুরীর নিয়োগ সংক্রান্ত বা চাকুরীর শর্তাবলী বা কাজের অবস্থা বা পরিবেশ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে মালিক এবং মালিক, মালিক এবং শ্রমিক বা শ্রমিক এবং শ্রমিকের মধ্যে কোন বিরোধ বা মত-পার্থক্য;
(৬৩) "শিশু" অর্থ চৌদ্দ বৎসর বয়স পূর্ণ করেন নাই এমন কোন ব্যক্তি;
(৬৪) "শ্রম আদালত" অর্থ এই আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত শ্রম আদালত;
(৬৫) "শ্রমিক" অর্থ শিক্ষাধীনসহ কোন ব্যক্তি, তাহার চাকুরীর শর্তাবলী প্রকাশ্য বা উহ্য যে ভাবেই থাকুক না কেন, যিনি কোন প্রতিষ্ঠানে বা শিল্পে সরাসরিভাবে বা কোন 19[ ঠিকাদার, যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, এর] মাধ্যমে মজুরী বা অর্থের বিনিময়ে কোন দক্ষ, অদক্ষ, কায়িক, কারিগরী, ব্যবসা উন্নয়নমূলক অথবা কেরানীগিরির কাজ করার জন্য নিযুক্ত হন, কিন্তু প্রধানতঃ প্রশাসনিক 20[ ,তদারকি কর্মকর্তা] বা ব্যবস্থাপনামূলক কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না;
(৬৬) "সপ্তাহ" অর্থ সাত দিনের মেয়াদ যাহা কোন শুক্রবার সকাল ছয় ঘটিকা হইতে অথবা কোন এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত অন্য কোন দিন হইতে শুরম্ন হয়;
(৬৭) "সম্পূর্ণ অক্ষমতা" অর্থ এমন অক্ষমতা, স্থায়ী প্রকৃতির হউক বা অস্থায়ী প্রকৃতির হউক, যাহা কোন শ্রমিককে, যে দুর্ঘটনার কারণে তাহার জখম হইয়াছে উহা ঘটিবার সময় তিনি যে যে কাজ করিতে সৰম ছিলেন উক্ত সকল কাজ হইতে তাহাকে অক্ষম করিয়া দেয় অথবা কর্মকালীন সময়ে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির প্রতিক্রিয়া অথবা কাজের সাথে সম্পৃক্ত কোন দূষণের ফলে স্বাস্থ্যহানির কারণে উক্ত শ্রমিক স্থায়ী বা অস্থায়ী প্রকৃতির কর্মক্ষমতা হারায়ঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উভয় চোখের স্থায়ী সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি লোপ পাইলে স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে অথবা প্রথম তফসিলে বর্ণিত কোন জখমসমূহের এইরূপ সংযোজন হইতেও স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যেখানে উক্ত তফসিলে নির্ধারিত উক্ত জখমসমূহের জন্য উপার্জন ক্ষমতা লোপের মোট গড় হার শতকারা একশত ভাগ হয়;
(৬৮) "সড়ক পরিবহন সার্ভিস" অর্থ সড়ক পথে ভাড়ায় বা অর্থের বিনিময়ে গাড়ীতে যাত্রী বা মালামাল পরিবহন সার্ভিস;
(৬৯) "সংবাদপত্র" অর্থ কোন মুদ্রিত পর্যায়ক্রমিক প্রকাশনা যাহাতে সাধারণ সংবাদ বা উক্ত সংবাদের উপর মনত্দব্য থাকে এবং সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংবাদপত্র বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন মুদ্রিত পর্যায়ক্রমিক প্রকাশনাও ইহার অনত্দভর্ুক্ত হইবে;
(৭০) "সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক" অর্থ কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে কোন ছাপার কাজ করার জন্য সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি;
(৭১) "সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান" অর্থ সংবাদপত্র ছাপাইবার, উৎপাদন করিবার বা প্রকাশ করিবার কোন প্রতিষ্ঠান অথবা কোন সংবাদ এজেন্সী বা ফিচার সিন্ডিকেট পরিচালনারত কোন প্রতিষ্ঠান;
(৭২) "সংবাদপত্র শ্রমিক" অর্থ কোন কর্মরত সাংবাদিক, প্রশাসনিক শ্রমিক অথবা সংবাদপত্র ছাপাখানা শ্রমিক;
(৭৩) "সালিস" অর্থ চতুর্দশ অধ্যায়ের অধীন নিযুক্ত কোন সালিস;
(৭৪) "সালিসী কার্যধারা" অর্থ কোন সালিসের সম্মুখে সালিস সংক্রান্ত কোন কার্যধারা;
(৭৫) "সাংঘাতিক শারীরিক জখম" অর্থ এমন কোন জখম যাহাতে কোন ব্যক্তির কোন অঙ্গের ব্যবহার স্থায়ীভাবে নষ্ট হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে অথবা কোন অঙ্গের স্থায়ী জখম হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে, অথবা দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট বা জখম হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে বা কোন অঙ্গ স্থায়ীভাবে ভাঙচুর হয় বা হওয়ার প্রকট সম্ভাবনা থাকে অথবা জখম প্রাপ্ত ব্যক্তিকে কাজ হইতে বিশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিত থাকিতে বাধ্য করে বা করার প্রকট সম্ভাবনা থাকে;
(৭৬) কোন শ্রম আদালত সম্পর্কে "সিদ্ধান্ত" অর্থ, রোয়েদাদ ব্যতীত, শ্রম আদালতের এমন কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ যাহাতে কোন মামলা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়;
(৭৭) "স্কীম" অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত কোন স্কীম।
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণের নিয়োগ ও তৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নিজস্ব চাকুরী বিধি থাকিতে পারিবে, কিন্তু এই প্রকার কোন বিধি কোন শ্রমিকের জন্য এই অধ্যায়ের কোন বিধান হইতে কম অনুকূল হইতে পারিবে নাঃ
[আরও শর্ত থাকে যে, এই আইন যে সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় সে সকল প্রতিষ্ঠান এই আইনে প্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধার চাইতে কম সুযোগ সুবিধা দিয়া কোননীতি, বিধি-বিধান, হাউজ পলিসি করিতে পারিবে না। ]1
(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশে উল্লিখিত চাকুরী বিধি অনুমোদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করিতে হইবে, এবং প্রধান পরিদর্শক উহা প্রাপ্তির ৯০ [নব্বই দিনের] মধ্যে তাহার বিবেচনায় যথাযথ আদেশ প্রদান করিবেন।
(৩) প্রধান পরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন চাকুরী বিধি কার্যকর করা যাইবে না।
(৪) প্রধান পরিদর্শকের আদেশে সংক্ষুদ্ধ কোন ব্যক্তি আদেশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল পেশ করিতে পারিবেন এবং 27[সরকার উক্ত আপীল প্রাপ্তির ৪৫ (পয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং] এই আপীলের উপর সরকারের আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এর কোন বিধান সরকারের মালিকানাধীন, ব্যবস্থাপনাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
2৩ক। ঠিকাদার সংস্থা রেজিস্ট্রেশন
(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, কোন ঠিকাদার সংস্থা, যে নামেই অভিহিত হইক না কেন, যাহা বিভিন্ন সংস্থায় চুক্তিতে বিভিন্ন পদে কর্মী সরবরাহ করিয়া থাকে সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত এইরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
(২) এই আইনের অধীন এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত হইবার ০৬(ছয়) মাসের মধ্যে দেশে বিদ্যমান সকল ঠিকাদার সংস্থা সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থা দ্বারা সরবরাহকৃত শ্রমিকগণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শ্রমিক হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তাহারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত থাকিবেন।
(৪) এই ধারার অধীন রেজিস্ট্রেশন প্রদানের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্মী বলিতে ‘‘শ্রমিক’’ সহ নিরাপত্তাকর্মী, গাড়ীচালক ইত্যাদিকে বুঝাইবে।
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণের নিয়োগ ও তৎসংক্রান্ত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত নিজস্ব চাকুরী বিধি থাকিতে পারিবে, কিন্তু এই প্রকার কোন বিধি কোন শ্রমিকের জন্য এই অধ্যায়ের কোন বিধান হইতে কম অনুকূল হইতে পারিবে নাঃ
[আরও শর্ত থাকে যে, এই আইন যে সকল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় সে সকল প্রতিষ্ঠান এই আইনে প্রদত্ত কোন সুযোগ সুবিধার চাইতে কম সুযোগ সুবিধা দিয়া কোননীতি, বিধি-বিধান, হাউজ পলিসি করিতে পারিবে না। ]1
(২) উপ-ধারা (১) এর শর্তাংশে উল্লিখিত চাকুরী বিধি অনুমোদনের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক প্রধান পরিদর্শকের নিকট পেশ করিতে হইবে, এবং প্রধান পরিদর্শক উহা প্রাপ্তির ৯০ [নব্বই দিনের] মধ্যে তাহার বিবেচনায় যথাযথ আদেশ প্রদান করিবেন।
(৩) প্রধান পরিদর্শকের অনুমোদন ব্যতীত উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত কোন চাকুরী বিধি কার্যকর করা যাইবে না।
(৪) প্রধান পরিদর্শকের আদেশে সংক্ষুদ্ধ কোন ব্যক্তি আদেশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট আপীল পেশ করিতে পারিবেন এবং 27[সরকার উক্ত আপীল প্রাপ্তির ৪৫ (পয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে এবং] এই আপীলের উপর সরকারের আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (২) এর কোন বিধান সরকারের মালিকানাধীন, ব্যবস্থাপনাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
2৩ক। ঠিকাদার সংস্থা রেজিস্ট্রেশন
(১) অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, কোন ঠিকাদার সংস্থা, যে নামেই অভিহিত হইক না কেন, যাহা বিভিন্ন সংস্থায় চুক্তিতে বিভিন্ন পদে কর্মী সরবরাহ করিয়া থাকে সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন ব্যতীত এইরূপ কার্যক্রম পরিচালনা করিতে পারিবে না।
(২) এই আইনের অধীন এতদুদ্দেশ্যে বিধি প্রণীত হইবার ০৬(ছয়) মাসের মধ্যে দেশে বিদ্যমান সকল ঠিকাদার সংস্থা সরকারের নিকট হইতে রেজিস্ট্রেশন গ্রহণ করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থা দ্বারা সরবরাহকৃত শ্রমিকগণ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের শ্রমিক হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তাহারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত থাকিবেন।
(৪) এই ধারার অধীন রেজিস্ট্রেশন প্রদানের পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কর্মী বলিতে ‘‘শ্রমিক’’ সহ নিরাপত্তাকর্মী, গাড়ীচালক ইত্যাদিকে বুঝাইবে।
কোন মালিক নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে নিয়োগ করিতে পারিবেন না, এবং নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক মালিক তাহার নিজস্ব খরচে তৎকর্তৃক নিযুক্ত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য একটি সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করিবেন।
(২) প্রত্যেক সার্ভিস বই মালিকের হেফাজতে থাকিবে।
(৩) কোন শ্রমিককে নিয়োগ করার পূর্বে মালিক তাহার নিকট হইতে পূর্বেকার সার্ভিস বই তলব করিবেন যদি উক্ত শ্রমিক দাবী করেন যে, তিনি ইতিপূর্বে অন্য কোন মালিকের অধীনে চাকুরী করিয়াছেন।
(৪) যদি উক্ত শ্রমিকের কোন সার্ভিস বই থাকে তাহা হইলে তিনি উহা নতুন মালিকের নিকট হস্তান্তর করিবেন এবং নতুন মালিক তাহাকে রশিদ প্রদান করিয়া সার্ভিস বইটি নিজ হেফাজতে রাখিবেন।
(৫) যদি উক্ত শ্রমিকের কোন সার্ভিস বই না থাকে তাহা হইলে উপ-ধারা (১) অনুযায়ী সার্ভিস বইয়ের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(৬) যদি কোন শ্রমিক সার্ভিস বইয়ের একটি কপি নিজে সংরক্ষণ করিতে চাহেন তাহা হইলে নিজ খরচে তিনি তাহা করিতে পারিবেন।
(৭) কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসানকালে মালিক তাহার সার্ভিস বই ফেরত দিবেন।
(৮) যদি ফেরতকৃত কোন সার্ভিস বই বা সার্ভিস বইয়ের কোন কপি শ্রমিক হারাইয়া ফেলেন তাহা হইলে মালিক, শ্রমিকের খরচে, তাহাকে সার্ভিস বইয়ের একটি কপি সরবরাহ করিবেন।
(৯) এই ধারার কোন কিছুই শিক্ষাধীন, বদলী বা সাময়িক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(১) সার্ভিস বই বিধি দ্বারা নির্ধারিত মাপে ও ফরমে রৰিত হইবে, এবং উহাতে শ্রমিকের একটি ফটো সংযোজিত থাকিবে।
(২) সার্ভিস বইয়ে নিম্নলিখিত বিবরণ থাকিবে, যথাঃ-
(ক) শ্রমিকের নাম, শ্রমিকের মাতা, পিতার নাম ও ঠিকানা;
(প্রযোজ্য ৰেত্রে স্বামী/স্ত্রীর নামও লিখিতে হইবে)
(খ) জন্ম তারিখ;
(গ) সনাক্ত করার প্রয়োজনে বিশেষ বিবরণ;
(গগ) পদবী;
(গগগ) বিভাগ বা শাখা;
(গগগগ) টিকিট বা কার্ড;]
(ঘ) যদি পূর্বে কোন মালিকের অধীনে চাকুরী করিয়া থাকেন তাহা হইলে তাহার নাম ও ঠিকানা;
(ঙ) চাকুরীর মেয়াদ;
(চ) পেশা বা পদবী;
(ছ) মজুরী ও ভাতা (যদি থাকে);
(জ) ভোগকৃত ছুটি; এবং
(ঝ) শ্রমিকের আচরণ।
মালিক কোন শ্রমিকের চাকুরীর শুরুতে এবং তাহার চাকুরী চলাকালে তৎসম্পর্কে সার্ভিস বইতে সময় সময় এই অধ্যায় এবং বিধির অধীন প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করিবেন, এবং মালিক ও শ্রমিক উভয়েই উহাতে দস্তখত করিবেন।
(১) মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকের জন্য একটি শ্রমিক রেজিস্টার রাখিবেন, এবং ইহা সকল কর্মসময়ে পরিদর্শক কর্তৃক পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত রাখিতে হইবে।
(২) শ্রমিক রেজিস্টারে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি লিপিবদ্ধ থাকিবে, যথাঃ-
(ক) প্রত্যেক শ্রমিকের নাম ও জন্ম তারিখ;
33[(কক)শ্রমিকের পিতা ও মাতার নাম;]
(খ) নিয়োগের তারিখ;
(গ) কাজের ধরন;
34[(গগ) পদবী;
(গগগ) বিভাগ বা শাখা;
(গগগগ) টিকিট বা কার্ড;]
(ঘ) তাহার জন্য নির্ধারিত কার্য সময়;
(ঙ) বিশ্রাম এবং আহারের জন্য তাহার প্রাপ্য বিরতিকাল;
(চ) তাহার প্রাপ্য বিশ্রামের দিন;
(ছ) কোন গ্রপের অন্তর্ভুক্ত হইলে উহার উল্লেখ;
(জ) তাহার গ্রুপ পালায় কাজ করিলে, যে রিলেতে তাহার কাজ বরাদ্দ-উহার উলেস্নখ; এবং
(ঝ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য বর্ণনা।
(৩) যদি পরিদর্শক এই মত পোষণ করেন যে, উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত বিবরণ কোন প্রতিষ্ঠানে রুটিন মাফিক রৰিত মাস্টার রোল বা রেজিস্টারেও লিপিবদ্ধ করা আছে তাহা হইলে তিনি, লিখিত আদেশ দ্বারা, এই মর্মে নির্দেশ দিতে পারিবেন যে, উক্ত মাস্টার রোল বা রেজিস্টার শ্রমিক রেজিস্টার হিসাবে গণ্য হইবে এবং তৎপরিবর্তে ইহা রক্ষিত হইবে।
(৪) সরকার বিধি দ্বারা শ্রমিক রেজিস্টারের ফরম, উহা রক্ষণের পন্থা এবং সংরক্ষণের মেয়াদ নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৫) মালিক প্রত্যেক শ্রমিককে নিম্নলিখিতভাবে টিকেট বা কার্ড সরবরাহ করিবেন, যথাঃ-
(ক) প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিককে তাহার নম্বর উল্লেখপূর্বক স্থায়ী বিভাগীয় টিকেট;
(খ) প্রত্যেক বদলী শ্রমিককে একটি বদলী কার্ড, যাহাতে তিনি যে সমস্ত দিন কাজ করিয়াছেন তাহার উল্লেখ থাকিবে এবং যাহা তাহার স্থায়ী চাকুরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফেরত দিতে হইবে;
(গ) প্রত্যেক অস্থায়ী শ্রমিককে একটি অস্থায়ী টিকেট, যাহা তাহার চাকুরী পরিত্যাগের ক্ষেত্রে বা স্থায়ী চাকুরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফেরত দিতে হইবে;
(ঘ) প্রত্যেক সাময়িক শ্রমিককে একটি সাময়িক কার্ড, যাহাতে তিনি যে সকল দিন কাজ করিয়াছেন তাহার উল্লেখ থাকিবে; এবং
(ঙ) প্রত্যেক শিক্ষাধীন শ্রমিককে একটি শিক্ষাধীন কার্ড, যাহা তাহার প্রশিক্ষণ ত্যাগের সময় বা স্থায়ী চাকুরী প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ফেরত দিতে হইবে।
(১) কোন শ্রমিক ছুটি নিতে ইচ্ছা করিলে তাহার মালিকের নিকট লিখিতভাবে দরখাস্ত করিতে হইবে এবং ইহাতে তাহার ছুটিতে অবস্থানকালীন ঠিকানা উল্লেখ থাকিবে।
(২) মালিক বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা অনুরূপ দরখাস্ত প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে অথবা ছুটি শুরুর হওয়ার দুই দিন পূর্বে, যাহা আগে সংঘটিত হয়, তাহার আদেশ প্রদান করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, জরুরী কারণবশতঃ যদি প্রার্থীত ছুটি দরখাস্তের তারিখে অথবা উহার তিন দিনের মধ্যে শুরু করিতে হয়, তাহা হইলে অনুরূপ আদেশ দরখাস্ত প্রাপ্তির দিনেই প্রদান করিতে হইবে।
(৩) যদি প্রার্থীত ছুটি মঞ্জুর করা হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে একটি ছুটির পাস দেওয়া হইবে।
(৪) যদি প্রার্থীত ছুটি নামঞ্জুর বা স্থগিত করা হয়, তাহা হইলে নামঞ্জুর বা স্থগিতাদেশের কারণসহ ইহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রার্থিত ছুটি আরম্ভ হওয়ার তারিখের পূর্বে অবহিত করিতে হইবে এবং এতদ্উদ্দেশ্যে রক্ষিত রেজিস্টারে ইহা লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(৫) যদি কোন শ্রমিক ছুটিতে যাওয়ার পর ছুটির মেয়াদ বর্ধিত করিতে চাহেন, তাহা হইলে তাহাকে, ছুটি পাওনা থাকিলে, ছুটি শেষ হওয়ার 35[যুক্তি সংগত সময় পূর্বে রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে লিখিতভাবে] মালিকের নিকট দরখাসত্দ করিতে হইবে এবং মালিককে ছুটি বর্ধিতকরণের আবেদন মঞ্জুর বা না মঞ্জুর করিয়া শ্রমিকের ছুটির ঠিকানায় লিখিতভাবে জানাইতে হইবে।
যদি কোন শ্রমিকের চাকুরী ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, বরখাস্ত, অবসর, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে অবসান হয় এবং যদি তাহার কোন বাৎসরিক ছুটি পাওনা থাকে, তাহা হইলে মালিক ঐ পাওনা ছুটির পরিবর্তে এই আইনের বিধান অনুযায়ী ছুটিকালীন সময়ে উক্ত শ্রমিকের যে মজুরী প্রাপ্য হইত তাহা প্রদান করিবেন।
(১) অগ্নিকান্ড, আকষ্মিক বিপত্তি, যন্ত্রপাতি বিকল, বিদু্যৎ সরবরাহ বন্ধ, মহামারী, ব্যাপক দাঙ্গা-হাঙ্গামা অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত অন্য কোন কারণে প্রয়োজন হইলে, কোন মালিক যে কোন সময় তাহার প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা শাখাসমূহ আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন এবং যে কারণে উক্তরূপ বন্ধের আদেশ দেওয়া হইবে তাহা বিদ্যমান থাকা পর্যনত্দ এই বন্ধের আদেশ বহাল রাখিতে পারিবেন। কাজ বন্ধ রাখা
(২) যদি উক্তরূপ বন্ধের আদেশ কর্মসময়ের পরে দেওয়া হয়, তাহা হইলে পরবর্তী কর্মসময় শুরু হওয়ার আগে মালিক প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট শাখার নোটিশ বোর্ডে বা কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নোটিশে বন্ধ পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার পূর্বে কোন সময় তাহাদের কর্মস্থলে অবস্থান করিতে হইবে কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৪) যদি উক্তরূপ বন্ধ কর্মসময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়, তাহা হইলে মালিক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত পন্থায় নোটিশ মারফত সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে যথাশীঘ্র সম্ভব তৎসম্পর্কে অবহিত করিবেন, এবং এই নোটিশে পরবর্তী কাজ কখন শুরু হইবে এবং শ্রমিকগণ কর্মস্থলে অবস্থান করিবেন কি না তৎসম্পর্কে নির্দেশ থাকিবে।
(৫) উক্তরূপ কাজ বন্ধের পর যে সমস্ত শ্রমিককে কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হইবে, তাহাদের এই অবস্থানের সময় এক ঘণ্টার কম হইলে তাহারা কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন, এবং এই অবস্থানের সময় ইহার অধিক হইলে তাহারা অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ সময়ের জন্য মজুরী পাইবেন।
(৬) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের চেয়ে বেশী না হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট কোন শ্রমিক, উপ-ধারা (৫) এর ৰেত্র ব্যতীত, কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
(৭) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ এক কর্ম দিবসের অধিক হয় তাহা হইলে, সাময়িক বা বদলী শ্রমিক ব্যতীত, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক শ্রমিককে এক দিনের অতিরিক্ত সকল বন্ধ কর্ম দিবসের জন্য মজুরী প্রদান করা হইবে।
(৮) যদি কাজ বন্ধের মেয়াদ তিন কর্ম দিবসের অধিক হয়, তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে ধারা ১৬ এর বিধান অনুযায়ী লে-অফ করা হইবে।
(৯) উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত লে-অফ কাজ বন্ধ হওয়ার প্রথম দিন হইতেই বলবৎ হইবে, এবং প্রথম তিন দিনের জন্য প্রদত্ত কোন মজুরী সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে প্রদেয় লে-অফকালীন ক্ষতিপূরণের সহিত সমন্বিত করা হইবে।
(১০) কাজ বন্ধের কারণে যদি কোন ঠিকা-হারের শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হন তাহা হইলে উপ-ধারা (৯) এর প্রয়োজনে তাহার পূর্ববর্তী এক মাসে গড় দৈনিক আয়কে দৈনিক মজুরী বলিয়া গণ্য করা হইবে।
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা বা বিভাগে বে-আইনী ধর্মঘটের কারণে মালিক উক্ত শাখা বা প্রতিষ্ঠান আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ করিয়া দিতে পারিবেন, এবং এরূপ বন্ধের ক্ষেত্রে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকগণ কোন মজুরী পাইবেন না।
(২) যদি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শাখা বা বিভাগ বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন শাখা বা বিভাগ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় যে উহা চালু রাখা সম্ভব নহে, তাহা হইলে উক্ত শাখা বা বিভাগও বন্ধ করিয়া দেওয়া যাইবে, কিন্তু সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণকে তিন দিন পর্যন্ত লে-অফ এর ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের সমপরিমাণ মজুরী প্রদান করিতে হইবে, তবে এই মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য তাহারা আর কোন মজুরী নাও পাইতে পারেন।
(৩) উক্তরূপ বন্ধের বিষয়টি মালিক যথাশীঘ্র সম্ভব সংশ্লিষ্ট শাখা বা বিভাগের নোটিশ বোর্ডে বা প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকাশ্যস্থানে নোটিশ সাঁটিয়া বা লটকাইয়া দিয়া সংশিস্নষ্ট সকলকে অবহিত করিবেন এবং কাজ পুনরায় শুরু হইবার বিষয়ও উক্তরূপে বিজ্ঞাপিত করিবেন।
(১) এই অধ্যায়ের প্রয়োজনে, কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে পূর্ববর্তী বার পঞ্জিকা মাসে বাস্তবে অন্ততঃ দুইশত চল্লিশ দিন বা একশত বিশ দিন কাজ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে তিনি যথাক্রমে "এক বৎসর" বা "ছয় মাস" প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন শ্রমিকের বাস্তবে কাজ করার দিন গণনার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দিনগুলিও গণনায় আনা হইবে, যথাঃ-
(ক)
তাহার লে-অফের দিনগুলি;
(খ) অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বা বিনা মজুরীতে ছুটির দিনগুলি;
(গ) বৈধ ধর্মঘট অথবা অবৈধ লক-আউটের কারণে কর্মহীন দিনগুলি;
(ঘ) মহিলা শ্রমিকগণের ক্ষেত্রে, অনধিক ষোল সপ্তাহ পর্যন্ত প্রসূতি ছুটি।
(৩) ধারা ১৯, ২০ অথবা ২৩ এর অধীন ক্ষতিপূরণ অথবা ধারা ২২, ২৩, ২৬ অথবা ২৭ এর অধীন মজুরী হিসাবের প্রয়োজনে "মজুরী" বলিতে কোন শ্রমিকের ছাটাই, বরখাস্ত, অপসারণ, ডিসচার্জ, অবসর গ্রহণ বা চাকুরীর অবসানের অব্যবহিত পূর্বের বার মাসে প্রদত্ত তাহার মূল মজুরী, এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এড-হক বা অর্ন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর গড় বুঝাইবে।
এই অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক
না কেন, অন্ততঃ পাঁচ
জন শ্রমিক নিযুক্ত নাই বা পূর্ববর্তী
বার মাসে নিযুক্ত ছিলেন
না- এইরূপ কোন প্রতিষ্ঠানে ধারা
১২, ১৬, ১৭ এবং
১৮ এর বিধানাবলী প্রযোজ্য
হইবে না৷
(১) যে ক্ষেত্রে বদলী বা সাময়িক শ্রমিক নহেন এরূপ কোন শ্রমিককে, যাহার নাম কোন প্রতিষ্ঠানের মাস্টার রোলে অন্তর্ভুক্ত আছে এবং যিনি মালিকের অধীন অন্ততঃ এক বত্সর চাকুরী সম্পূর্ণ করিয়াছেন, লে-অফ করা হয়, তাহা হইলে মালিক তাহাকে, সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত তাহার লে-অফের সকল দিনের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অর্ন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর অর্ধেক এবং তাহাকে লে-অফ করা না হইলে তিনি যে আবাসিক ভাতা পাইতেন, তাহার সম্পূর্ণের সমান৷
(৩) যে বদলী শ্রমিকের নাম কোন প্রতিষ্ঠানের মাস্টার-রোলের অন্তর্ভুক্ত আছে, তিনি এই ধারার প্রয়োজনে বদলী বলিয়া গণ্য হইবেন না যদি তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বছর চাকুরী সম্পূর্র্র্ণ করিয়া থাকেন৷
(৪) মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, কোন শ্রমিক এই ধারার অধীন কোন পঞ্জিকা বত্সরে পঁয়তাল্লিশ দিনের অধিক সময়ের জন্য ক্ষতিপূরণ পাইবেন না৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন পঞ্জিকা বত্সরে কোন শ্রমিককে অবিচ্ছিন্নভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে পঁয়তাল্লিশ দিনের অধিক সময়ের জন্য লে-অফ করা হয়, এবং উক্ত পঁয়তাল্লিশ দিনের পর লে-অফের সময় যদি আরোও পনের দিন বা তদূর্ধ্ব হয়, তাহা হইলে উক্ত শ্রমিককে, শ্রমিক এবং মালিকের মধ্যে ভিন্নরূপে কোন চুক্তি না থাকিলে, পরবর্তী প্রত্যেক পনের বা তদূর্ধ্ব দিনসমূহের লে-অফের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে হইবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মোট মূল মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর এক-চতুর্থাংশ এবং যদি আবাসিক ভাতা থাকে, তাহার সম্পূর্ণের সমান৷
(৭)
কোন ক্ষেত্রে যদি কোন শ্রমিককে
কোন পঞ্জিকা বত্সরে উপরে উল্লিখিত প্রথম
পঁয়তাল্লিশ দিন লে-অফের
পর কোন অবিচ্ছিন্ন পনের
দিন বা তদূর্ধ্ব সময়ের
জন্যে লে-অফ করিতে
হয়, তাহা হইলে মালিক
উক্ত শ্রমিককে লে-অফের পরিবর্তে
ধারা ২০ এর অধীন
ছাঁটাই করিতে পারিবেন৷
কোন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকগণকে লে-অফ করা সত্ত্বেও মালিককে তাহাদের জন্য মাস্টার-রোল সংরক্ষণ করিতে হইবে, এবং স্বাভাবিক কর্মসময়ে লে-অফকৃত শ্রমিকগণের মধ্যে যাহারা কাজের জন্য হাজিরা দিবেন, তাহাদের নাম উহাতে লিপিবদ্ধ করার ব্যবস্থা করিবেন
তবে শর্ত থাকে যে, অন্য কোনভাবে মাষ্টার রোল সংরক্ষণ বা মাষ্টার রোলে কোন শ্রমিক নিয়োগ করা যাইবে না।
(১) এই অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন লে-অফকৃত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইবে না, যদি-
(ক) তিনি একই প্রতিষ্ঠানে বা একই মালিকের অধীন একই শহরে বা গ্রামে অথবা আট কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে অবস্থিত ভিন্ন কোন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা বা পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নাই-এরূপ কোন বিকল্প পদে একই মজুরীতে কাজ গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন;
(খ) তিনি মালিকের নির্দেশ সত্ত্বেও অন্ততঃ দিনে একবার প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্ম সময়ের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট সময়ে কাজের জন্য হাজিরা না দেন।
(২) উপ-ধারা (১) (খ) এর উদ্দেশ্যে, যদি লে-অফকৃত কোন শ্রমিক কোন দিনে স্বাভাবিক কর্ম সময়ের মধ্যে নির্ধারিত কোন সময়ে কাজের জন্য হাজিরা দেন, এবং হাজিরার দুই ঘণ্টার মধ্যে যদি তাহাকে কোন কাজ দেওয়া না হয়, তাহা হইলে তিনি সেই দিনের জন্য এই ধারার অর্থ মোতাবেক লে-অফকৃত হইয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।
(৩)
উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিতরুপে
যদি কোন লে-অফকৃত
শ্রমিক কাজের জন্য হাজিরা দেন,
এবং তাহাকে কোন দিনের কোন
পালায় উহা শুরু হওয়ার
প্রাক্কালে কাজ দেওয়ার পরিবর্তে
তাহাকে একই দিনে পালার
দ্বিতীয়ার্ধে কাজে হাজির হওয়ার
জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তিনি
তদনুযায়ী কাজের জন্য হাজিরা দেন,
তাহা হইলে তিনি ঐ
দিনের অর্ধেক কর্ম সময়ের জন্য
লে-অফ হইয়াছেন বলিয়া
গণ্য হইবেন এবং অবশিষ্ট অর্ধেক
কর্মসময়ে, তাহাকে কোন কাজ দেওয়া
হউক বা না হউক,
তিনি চাকুরীতে ছিলেন বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
যদি কোন শ্রমিক কোন মালিকের অধীন অবিচ্ছিন্নভাবে অন্ততঃ ০২(দুই) বৎসরের অধিককাল চাকুরীরত থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহা হইলে মালিক মৃত শ্রমিকের কোন মনোনীত ব্যক্তি বা মনোনীত ব্যক্তির অবর্তমানে তাহার কোন পোষ্যকে তাহার প্রত্যেক পূর্ণ বৎসর বা উহার ০৬ (ছয়) মাসের অধিক সময় চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ৩০(ত্রিশ) দিনের এবং প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় অথবা কর্মকালীন দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তীতে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মজুরী অথবা গ্রাচুইটি, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং এই অর্থ মৃত শ্রমিক চাকুরী হইতে অবসর গ্রহণ করিলে যে অবসর জনিত সুবিধা প্রাপ্ত হইতেন, তাহার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে।
(১) কোন শ্রমিককে প্রয়োজন অতিরিক্ততার কারণে কোন প্রতিষ্ঠান হইতে ছাঁটাই করা যাইবে।
(২) কোন শ্রমিক যদি কোন মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে অনূ্যন এক বৎসর চাকুরীতে নিয়োজিত থাকেন, তাহা হইলে তাহার ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে মালিককে-
(ক) তাহার ছাঁটাইয়ের কারণ উল্লেখ করিয়া এক মাসের লিখিত নোটিশ দিতে হইবে, অথবা নোটিশ মেয়াদের জন্য নোটিশের পরিবর্তে মজুরী প্রদান করিতে হইবে;
(খ) নোটিশের একটি কপি প্রধান পরিদর্শক অথবা তৎকর্তৃক নির্ধারিত কোন কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিতে হইবে, এবং আরেকটি কপি প্রতিষ্ঠানের যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধিকে, যদি থাকে, দিতে হইবে; এবং
(গ) তাহাকে ক্ষতিপূরণ বাবদ তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য ত্রিশ দিনের মজুরী বা গ্রাচু্যইটি যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ১৬(৭) এর অধীন ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) (ক) এর উল্লিখিত কোন নোটিশের প্রয়োজন হইবে না, তবে ছাঁটাইকৃত শ্রমিককে উপ-ধারা (২) (গ) মোতাবেক প্রদেয় ক্ষতিপূরণ বা গ্রাচ্যুইটির অতিরিক্ত হিসাবে আরোও পনের দিনের মজুরী দিতে হইবে।
(৪)
যে ক্ষেত্রে কোন বিশেষ শ্রেণীর
শ্রমিককে ছাঁটাই করার প্রয়োজন হয়
সে ক্ষেত্রে, মালিক এবং শ্রমিকের মধ্যে
এতদসংক্রান্ত কোন চুক্তির অবর্তমানে,
মালিক উক্ত শ্রেণীর শ্রমিকগণের
মধ্যে সর্বশেষে নিযুক্ত শ্রমিককে ছাঁটাই করিবেন।
যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয় এবং ছাঁটাইয়ের এক বৎসরের মধ্যে মালিক পুনরায় কোন শ্রমিক নিয়োগ করিতে ইচ্ছুক হন সে ক্ষেত্রে মালিক ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের সর্বশেষ জানা ঠিকানায় নোটিশ প্রেরণ করিয়া তাহাকে চাকুরীর জন্য আবেদন করিতে আহ্বান জানাইবেন, এবং এই আহ্বানে সাড়া দিয়া কোন শ্রমিক পুনরায় চাকুরী পাইবার জন্য আবেদন করিলে তাহাকে নিয়োগের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে, এবং এ রকম একাধিক ছাঁটাইকৃত শ্রমিক প্রার্থী হইলে তাহাদের মধ্যে পূর্বের চাকুরীর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।
(১) কোন শ্রমিককে, কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়িত, শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতা বা অব্যাহত ভগ্ন স্বাস্থ্যের কারণে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ করা যাইবে।
(২)
ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিক অনূ্যন
এক বৎসর অবিচ্ছিন্ন চাকুরী
সম্পূর্ণ করিলে তাহাকে মালিক তাহার প্রত্যেক বৎসর চাকুরীর জন্য
ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি
প্রদেয় হয়, যাহা অধিক
হইবে, প্রদান করিবেন।
(১) এই আইনে লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ এবং চাকুরীর অবসান সম্পর্কে অন্যত্র যাহা কিছুই বলা হউক না কেন, কোন শ্রমিককে বিনা নোটিশে বা নোটিশের পরিবর্তে বিনা মজুরীতে চাকুরী হইতে বরখাস্ত করা যাইবে, যদি তিনি-
(ক) কোন ফৌজদারী অপরাধের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত হন; অথবা
(খ) ধারা ২৪ এর অধীন অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
(২) অসদাচরণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (১) এর অধীন চাকুরী হইতে বরখাস্তের পরিবর্তে, বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে, নিম্নলিখিত যে কোন শাস্তি প্রদান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) অপসারণ;
(খ) নীচের পদে, গ্রেডে বা বেতন স্কেলে অনধিক এক বৎসর পর্যন্ত আনয়ন;
(গ) অনধিক এক বৎসরের জন্য পদোন্নতি বন্ধ;
(ঘ) অনধিক এক বৎসরের জন্য মজুরী বৃদ্ধি বন্ধ;
(ঙ) জরিমানা;
(চ) অনধিক সাত দিন পর্যন্ত বিনা মজুরীতে বা বিনা খোরাকীতে সাময়িক বরখাস্ত;
(ছ) ভর্ৎসনা ও সতর্কীকরণ।
[(৩) উপ-ধারা (২) (ক) এর অধীন অপসারিত কোন শ্রমিককে, যদি তাহার অবিচ্ছিন্ন চাকুরীর মেয়াদ অন্যুন এক বৎসর হয়, মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রত্যেক সম্পুর্ণ চাকুরী বৎসরের জন্য ১৫ দিনের মজুরী প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শ্রমিককে উপ-ধারা (৪) (খ) ও (ছ) এর অধীন অসদাচরণের জন্য বরখাস্ত করা হইলে তিনি কোন ক্ষতিপূরণ পাইবেন না। তবে এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক তাহার অন্যান্য আইনানুগ পাওনাদি যথা নিয়মে পাইবেন।]
(৪) নিম্নলিখিত কাজ করা অসদাচরণ বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-
(ক) উপরস্থের কোন আইনসংগত বা যুক্তিসংগত আদেশ মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা;
(খ) মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি, [আত্মসাৎ,] প্রতারণা বা অসাধুতা;
(গ) মালিকের অধীন তাঁহার বা অন্য কোন শ্রমিকের চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান;
(ঘ) বিনা ছুটিতে অভ্যাসগত অনুপস্থিতি অথবা ছুটি না নিয়া এক সঙ্গে দশ দিনের অধিক সময় অনুপস্থিতি;
(ঙ) অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি;
(চ) প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন, বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ছ) প্রতিষ্ঠানে উচ্ছৃংখলতা, দাংগা-হাংগামা, অগ্নিসংযোগ বা ভাংচুর;
(জ) কাজে-কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি;
(ঝ) প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত চাকুরী সংক্রান্ত, শৃঙ্খলা বা আচরণসহ, যে কোন বিধির অভ্যাসগত লঙ্ঘন;
(ঞ) মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ, অন্যায় পরিবর্তন, উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারাইয়া ফেলা।
(৫)
উপ-ধারা (১) (ক) এর
অধীন বরখাস্তকৃত কোন শ্রমিক যদি
আপীলে খালাস পান, তাহা হইলে
তাহাকে তাহার পূর্বতন পদে বহাল করিতে
হইবে, অথবা নূতন কোন
উপযুক্ত পদে তাহাকে নিয়োগ
করিতে হইবে, এবং যদি ইহার
কোনটিই সম্ভব না হয়, তাহা
হইলে তাহাকে ডিসচার্জকৃত কোন শ্রমিককে প্রদেয়
ক্ষতিপূরণের সমান হারে ক্ষতিপূরণ
প্রদান করিতে হইবে, তবে বরখাস্ত হওয়ার
কারণে ইতিমধ্যে প্রাপ্ত ক্ষতিপূরণের টাকা ইহা হইতে
বাদ যাইবে।
(১) ধারা ২৩ এর অধীন কোন শ্রমিকের বিরুদ্ধে শাস্তির আদেশ প্রদান করা যাইবে না, যদি না-
(ক) তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ লিখিতভাবে করা হয়;
(খ) অভিযোগের একটি কপি তাহাকে দেওয়া হয় এবং ইহার জবাব দেওয়ার জন্য অন্ততঃ সাতদিন সময় দেওয়া হয়;
(গ) তাহাকে শুনানীর সুযোগ দেওয়া হয়;
41[(ঘ)
মালিক বা শ্রমিকের সম-সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির
তদন্তের পর তাহাকে দোষী
সাব্যস্ত করা হয়:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত তদন্ত ষাট দিনের মধ্যে শেষ করিতে হইবে;]
(ঙ) মালিক বা ব্যবস্থাপক বরখাস্তের আদেশ অনুমোদন করেন।
(২) অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত কোন শ্রমিককে তদন্ত সাপেক্ষে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা যাইবে, এবং যদি না বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকে, এই সাময়িক বরখাস্তের মোট মেয়াদ ষাট দিনের অধিক হইবে নাঃ
42[তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সাময়িক বরখাস্তকালে মালিক তাহাকে খোরাকী ভাতা প্রদান করিবেন এবং তিনি অন্যান্য ভাতা পূর্ণহারে প্রাপ্য হইবেন ।]
(৩) সাময়িক বরখাস্তের কোন আদেশ লিখিতভাবে হইবে এবং ইহা শ্রমিককে প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হইবে।
(৪) কোন তদন্তে অভিযুক্ত শ্রমিককে, তাহার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত এবং তৎকর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি 43[সহায়তা] করিতে পারিবেন।
(৫) যদি কোন তদন্তে কোন পক্ষ মৌখিক সাক্ষী প্রদান করেন, তাহা হইলে যাহার বিরুদ্ধে এই সাক্ষ্য প্রদান করা হইবে তিনি সাক্ষীকে জেরা করিতে পারিবেন।
(৬) যদি তদন্তে কোন শ্রমিককে দোষী পাওয়া যায় এবং তাহাকে ধারা ২৩(১) এর অধীন শাস্তি প্রদান করা হয়, তাহা হইলে তিনি তাহার সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ের জন্য কোন মজুরী পাইবেন না, তবে উক্ত সময়ের জন্য তাহার খোরাকী ভাতা প্রাপ্য থাকিবে।
(৭) যদি তদন্তে কোন শ্রমিকের অপরাধ প্রমাণিত না হয়, তাহা হইলে তিনি সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে কর্মরত ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং ঐ সময়ের জন্য তাহার, খোরাকী ভাতা সমন্বয়সহ, মজুরী প্রদেয় হইবে।
(৮) শাস্তি প্রদানের ক্ষেত্রে, শাস্তির আদেশের একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে দিতে হইবে।
(৯) যদি কোন শ্রমিক মালিক কর্তৃক প্রেরিত কোন নোটিশ, চিঠি, অভিযোগনামা, আদেশ বা অন্য কোন কাগজপত্র গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন, তাহা হইলে উহা তাহাকে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া বুঝিতে হইবে যদি উহার একটি কপি নোটিশ বোর্ডে প্রদর্শিত হয় এবং আরেকটি কপি মালিকের নথিপত্র হইতে প্রাপ্ত শ্রমিকের ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়।
(১০)
কোন শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের পূর্বতন নথিপত্র, অপরাধের 44[গুরুত্ব, চাকুরীকালীন কৃতিত্ব ও অবদান] এবং
বিদ্যমান অন্য কোন বিশেষ
অবস্থা বিবেচনায় আনিবেন।
(১) কোন মজুরী মেয়াদে প্রদেয় মজুরীর এক দশমাংশের অধিক পরিমাণ অর্থ কোন শ্রমিককে জরিমানা করা যাইবে না।
(২) পনের বৎসরের কম বয়স্ক কোন শ্রমিকের উপর জরিমানা আরোপ করা যাইবে না।
(৩) কোন শ্রমিকের উপর আরোপিত জরিমানা কিস্তি ভিত্তিতে বা উহা আরোপের তারিখ হইতে ষাট দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর আদায় করা যাইবে না।
(৪) কোন জরিমানা, যে অপরাধের জন্য আরোপিত হইয়াছে সে অপরাধ সংঘটনের তারিখেই উহা আরোপিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫)
সকল জরিমানা এবং উহার আদায়
বিধি দ্বারা নির্ধারিত একটি রেজিস্টারে মালিক
কর্তৃক লিপিবদ্ধ করা হইবে, এবং
আদায়কৃত জরিমানা কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা
যাইবে।
(১) এই অধ্যায়ের অন্যত্র বিধৃত কোন পন্থা ছাড়াও মালিক-
(ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকের তেগত্রে, একশত বিশ দিনের,
(খ) অন্য শ্রমিকের তেগত্রে, ষাট দিনের, লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া কোন স্থায়ী শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করিতে পারিবেন ৷
(২) এই অধ্যায়ের অন্যত্র বিধৃত কোন পন্থা ছাড়াও মালিক-
(ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের,
(খ) অন্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের, লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া কোন অস্থায়ী শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করিতে পারিবেন, যদি না এই অবসান যে অস্থায়ী কাজ সম্পাদনের জন্য শ্রমিককে নিযুক্ত করা হইয়াছে উহা সম্পূর্ণ হওয়া, বন্ধ হওয়া, বিলুপ্ত হওয়া বা পরিত্যক্ত হওয়ার কারণে হয় ৷
(৩) যে ক্ষেত্রে মালিক বিনা নোটিশে কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন, প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরী প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন ৷
(৪) যে ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী শ্রমিকের চাকুরীর অবসান করা হয় সেক্ষেত্রে, মালিক শ্রমিককে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বত্সরের চাকুরীর জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ত্রিশ দিনের মজুরী, অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন এবং এই ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে ৷
(১) কোন স্থায়ী শ্রমিক মালিককে ষাট দিনের লিখিত নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন ৷
(২) কোন অস্থায়ী শ্রমিক-
(ক) মাসিক মজুরীর ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিকের ক্ষেত্রে, ত্রিশ দিনের,
(খ) অন্য শ্রমিকের ক্ষেত্রে, চৌদ্দ দিনের, লিখিত নোটিশ মালিকের নিকট প্রদান করিয়া তাহার চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে পারিবেন ৷
(৩) যে ক্ষেত্রে শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকুরী হইতে ইস্তফা দিতে চাহেন সে ক্ষেত্রে, তিনি উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন প্রদেয় নোটিশের পরিবর্তে নোটিশ মেয়াদের জন্য মজুরীর সমপরিমাণ অর্থ মালিককে প্রদান করিয়া ইহা করিতে পারিবেন ৷
45[ (৩ক) উপ-ধারা (৩) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন শ্রমিক বিনা নোটিশে অথবা বিনা অনুমতিতে ১০ দিনের অধিক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিলে মালিক উক্ত শ্রমিককে ১০ দিনের সময় প্রদান করিয়া এই সম্পর্কে ব্যাখ্যা প্রদান করিতে এবং চাকুরীতে পুনরায় যোগদানের জন্য নোটিশ প্রদান করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান বা চাকুরীতে যোগদান না করিলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার আত্নপক্ষ সমর্থনের জন্য আরো ৭দিন সময় প্রদান করিবেন। তাহাতেও যদি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক চাকুরীতে যোগদান অথবা আত্নপক্ষ সমর্থন না করেন তবে, উক্ত শ্রমিক অনুপস্থিতির দিন হইতে 46[ চাকুরি হইতে ইস্তফা দিয়াছেন] বলিয়া গণ্য হইবেন।]
(৪) যে ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন কোন স্থায়ী শ্রমিক চাকুরী হইতে ইস্তফা দেন সে ক্ষেত্রে, মালিক উক্ত শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ হিসাবে তাহার প্রত্যেক সম্পূর্ণ বত্সরের চাকুরীর জন্য-
(ক) যদি তিনি পাঁচ বত্সর বা তদূর্ধ্ব, কিন্তু দশ বত্সরের কম মেয়াদে অবিচ্ছিন্নভাবে মালিকের অধীন চাকুরী করিয়া থাকেন তাহা হইলে, চৌদ্দ দিনের মজুরী;
(খ) যদি তিনি দশ বত্সর বা তদূর্ধ্ব সময় মালিকের অধীনে অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরী করিয়া থাকেন তাহা হইলে, ত্রিশ দিনের মজুরী; অথবা গ্রাচ্যুইটি, যদি প্রদেয় হয়, যাহা অধিক হইবে, প্রদান করিবেন, এবং ক্ষতিপূরণ এই আইনের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় অন্যান্য সুবিধার অতিরিক্ত হইবে ৷
(১) এ অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিকের বয়স 47[ ৬০ (ষাট) ] বত্সর পূর্ণ হইলে তিনি চাকুরী হইতে স্বাভাবিক অবসর গ্রহণ করিবেন৷
(২) এ ধারার উদ্দেশ্যে বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের সার্ভিস বইয়ে লিপিবদ্ধ জন্ম তারিখ উপযুক্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে৷
(৩) ধারা ২৬(৪) এর বিধান অনুসারে কিংবা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাকুরী বিধি অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের প্রাপ্য পাওনাদি পরিশোধ করিতে হইবে 48[ :
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারায় যাহা কিছু থাকুক না কেন, চা-শিল্প শ্রমিকদের ক্ষেত্রে তাহাদের জন্য বিদ্যমান অবসর সুবিধাসহ প্রচলিত অন্যান্য সুবিধাদি প্রযোজ্য হইবে।]
(৪)
অবসর গ্রহণকারী কোন শ্রমিককে কর্তৃপক্ষ
উপযুক্ত মনে করিলে পরবর্তীতে
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিতে পারিবেন ৷
এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আকষ্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরূরী প্রয়োজনে কোন শিল্প স্থানান্তর বা কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হইলে সেই ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্ক, সরকার, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নির্ধারণ করিতে পারিবে।
যদি কোন শ্রমিক কোন
ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হন এবং তহবিলের
বিধি অনুযায়ী তিনি মালিকের চাঁদাসহ
উক্ত তহবিল হইতে কোন সুবিধা
প্রাপ্য হন, তাহা হইলে
তাহার ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অবসর গ্রহণ, [ অপসারণ,
চাকুরির অবসান হওয়া বা মৃত্যুজনিত]
কারণে উক্ত সুবিধা হইতে
তাহাকে বঞ্চিত করা যাইবে না ৷
অবসর, ডিসচার্জ, ছাঁটাই, বরখাস্ত এবং চাকুরীর অবসান ইত্যাদি যে কোন কারণে শ্রমিকের চাকুরীর ছেদ ঘটার পরবর্তী সর্বোচ্চ ত্রিশ কর্ম দিবসের মধ্যে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত শ্রমিকের প্রাপ্য সকল পাওনা পরিশোধ করিতে হইবে ৷
সাময়িক ও বদলী শ্রমিক
ব্যতীত, অন্য কোন শ্রমিক
তাহার ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর গ্রহণ বা
চাকুরীর অবসানের সময় মালিকের নিকট
হইতে চাকুরী সংক্রান্ত একটি প্রত্যয়নপত্র পাইবার
অধিকারী হইবেন ৷
৩২৷ (১) কোন শ্রমিকের চাকুরীর অবসান হইলে, তাহা যে কোন প্রকারেই হউক না কেন, তিনি তাহার চাকুরীর অবসানের ষাট দিনের মধ্যে মালিক কর্তৃক তাহাকে বরাদ্দকৃত বাসস্থান ছাড়িয়া দিবেন৷
(২) উক্ত সময়ের মধ্যে বাসস্থান ছাড়িয়া না দিলে মালিক শ্রম আদালতে তাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের সকল পাওনা পরিশোধ না করিয়া কোন শ্রমিককে বাসস্থান হইতে উচ্ছেদ করা যাইবে না।
(৩) আদালত উভয় পক্ষকে শ্রবণ করিয়া মামলাটি সংতিগপ্তভাবে বিচার করিবে, এবং যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শ্রমিককে বাসস্থানটি ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৪) আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাসস্থান ছাড়িয়া না দিলে শ্রমিককে উহা হইতে বলপূর্বক উচ্ছেদ করিবার জন্য প্রয়োজনবোধে আদালত কোন পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(৫)
উপ-ধারা (৪) এর অধীন
আদালতের নির্দেশপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আদালতের আদেশের সারমর্ম এবং উহাতে তাহার
প্রবেশের ইচ্ছা বাসস্থানে বসবাসরত ব্যক্তিগণকে অবহিত করিবেন, এবং বাসস্থান ছাড়িয়া
দেওয়ার জন্য তাহাদিগকে অন্ততঃ
ছয় ঘন্টা সময় দিবেন, এবং
অতঃপর উহার দখল গ্রহণের
জন্য বল প্রয়োগের পূর্বে
উহাতে বসবাসকারী শিশুগণকে বাহির হইয়া আসার জন্য
সম্ভাব্য সকল সুযোগ দিবেন৷
৩৩৷ (১) লে-অফ, ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অপসারণ অথবা অন্য যে কোন কারণে চাকুরীর অবসান হইয়াছে এরূপ শ্রমিকসহ যে কোন শ্রমিকের, এই অধ্যায়ের অধীন কোন বিষয় সম্পর্কে যদি কোন অভিযোগ থাকে এবং যদি তিনি তত্সম্পর্কে এই ধারার অধীন প্রতিকার পাইতে ইচ্ছুক হন তাহা হইলে তিনি, অভিযোগের কারণ অবহিত হওয়ার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে অভিযোগটি লিখিত আকারে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে মালিকের নিকট [প্রেরণ] করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি সরাসরি গ্রহণ করিয়া লিখিতভাবে প্রাপ্তি স্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে উক্ত অভিযোগটি রেজিিস্ট্র ডাকযোগে না পাঠাইলেও চলিবে৷
(২) মালিক অভিযোগ প্রাপ্তির 53[ত্রিশ] দিনের মধ্যে অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে শুনানীর সুযোগ দিয়া তত্সম্পর্কে তাহার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে শ্রমিককে জানাইবেন৷
(৩) যদি মালিক উপ-ধারা (২) এর অধীন কোন সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হন, অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক যদি উক্তরূপ সিদ্ধান্তে অসন্তষ্ট হন, তাহা হইলে তিনি উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে অথবা, ক্ষেত্রমত, মালিকের সিদ্ধান্তের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে লিখিতভাবে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন৷
(৪) শ্রম আদালত অভিযোগ প্রাপ্তির পর উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করিয়া অভিযোগটি সম্পর্কে তাহাদের বক্তব্য শ্রবণ করিবে এবং উহার বিবেচনায় মামলার অবস্থাধীনে যেরূপ আদেশ দেওয়া ন্যায়সঙ্গত সেরূপ আদেশ প্রদান করিবে৷
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা আদালত, অন্যান্য প্রতিকারের মধ্যে, অভিযোগকারীকে, বকেয়া মজুরীসহ বা ছাড়া, তাহার চাকুরীতে পুনর্বহাল করার নির্দেশ দিতে পারিবে এবং কোন বরখাস্ত, অপসারণ বা ডিসচার্জের আদেশকে ধারা ২৩(২) এ উল্লিখিত কোন লঘুদণ্ডে পরিবর্তিত করিতে পারিবে৷
(৬) শ্রম আদালতের কোন আদেশ দ্বারা সংতগুব্ধ কোন ব্যক্তি আদেশের ত্রিশ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন, এবং এই আপীলের উপর উহার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
(৭) এই ধারার অধীন কোন অভিযোগ বা আপীল দায়েরের জন্য কোন কোর্ট-ফিস প্রদেয় হইবে না৷
(৮) এই ধারার অধীন কোন অভিযোগ এই আইনের অধীন কোন ফৌজদারী অভিযোগ বলিয়া গণ্য হইবে না৷
(৯)
এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক
না কেন, ধারা ২৬
এর অধীন প্রদত্ত চাকুরীর
অবসানের আদেশের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করা
যাইবে না, যদি না
অবসানের আদেশটি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে অথবা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে
প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া অভিযোগ করা হয়, অথবা
যদি না তিনি উক্ত
ধারার অধীন প্রাপ্য সুবিধা
হইতে বঞ্চিত হন৷
৩৪৷ (১) কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন শিশুকে নিয়োগ করা যাইবে না বা কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না৷
(২) কোন পেশায় বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরকে নিয়োগ করা যাইবে না বা কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না, যদি না-
(ক) বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক তাহাকে প্রদত্ত সক্ষমতা প্রত্যয়নপত্র মালিকের হেফাজতে থাকে, এবং
(খ) কাজে নিয়োজিত থাকাকালে তিনি উক্ত প্রত্যয়নপত্রের উল্লেখ সম্বলিত একটি টোকেন বহন করেন
(৩) কোন পেশা বা প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের শিক্ষাধীন হিসাবে অথবা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (২) এর কিছুই প্রযোজ্য হইবে না৷
(৪)
সরকার যদি মনে করে যে, কোন জরুরী অবস্থা বিরাজমান এবং জনস্বার্থে ইহা প্রয়োজন, তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত সময়ের জন্য উপ-ধারা (২)
এর প্রয়োগ স্থগিত ঘোষণা করিতে পারিবে৷
৩৫৷ এই অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে, কোন শিশুর মাতা-পিতা বা অভিভাবক শিশুকে কোন কাজে নিয়োগের অনুমতি প্রদান করিয়া কাহারও সহিত কোন চুক্তি করিতে পারিবেন না৷
ব্যাখ্যাঃ
এই ধারায় "অভিভাবক" বলিতে শিশুর আইনগত হেফাজতকারী বা শিশুর উপর
কর্তৃত্ব আছে এমন যে কোন ব্যক্তিকেও
বুঝাইবে৷
৩৬। যদি কোন ব্যক্তি শিশু নাকি কিশোর এ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন সনদ, স্কুল সার্টিফিকেট বা রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত উক্ত ব্যক্তির বয়স সংক্রান্ত প্রত্যয়ন পত্রের ভিত্তিতে উহা নিষ্পত্তি হইবে।
৩৭৷ (১) কোন কিশোর কোন পেশা বা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা ইহা পরীক্ষা করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কিশোর বা তাহার পিতা-মাতা বা অভিভাবক কর্তৃক অনুরূদ্ধ হইলে, অথবা কোন মালিক কর্তৃক অনুরূপ ভাবে অনুরূদ্ধ হইলে, কোন রেজিস্টার্ড চিকিত্সক কিশোরটিকে পরীক্ষা করিবেন এবং তাহার সক্ষমতা সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত দিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন কিশোর বা তাহার পিতা-মাতা বা অভিভাবক উক্তরূপ আবেদন পেশকালে আবেদনটির সঙ্গে যে প্রতিষ্ঠানে কিশোর চাকুরী প্রার্থী, সে প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক প্রদত্ত এই মর্মে পত্র সংযোজন করিতে হইবে যে, কিশোরটি সক্ষম বলিয়া প্রত্যয়িত হইলে তাহাকে চাকুরী প্রদান করা হইবে৷
(২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কোন সক্ষমতা প্রত্যয়নপত্র উহা প্রদানের তারিখ হইতে বারো মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে৷
(৩)
উক্তরূপ প্রত্যয়নপত্রের জন্য প্রদেয় ফিস
মালিক প্রদান করিবেন, এবং ইহা সংশ্লিষ্ট
কিশোর বা তাহার পিতা-মাতা বা অভিভাবকের
নিকট হইতে আদায় করা
যাইবে না৷
৩৮৷ যে ক্ষেত্রে কোন পরিদর্শক এরূপ মত পোষণ করেন যে-
(ক) কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন ব্যক্তি কিশোর, কিন্তু তাহার সক্ষমতা প্রত্যয়নপত্র নাই; অথবা
(খ) উক্তরূপ প্রত্যয়নপত্রসহ কর্মরত কোন কিশোর প্রত্যয়নপত্রে উল্লিখিত কাজের জন্য আর সক্ষম নহেন;
সে ক্ষেত্রে তিনি নোটিশ মারফত
মালিককে কোন রেজিস্টার্ড চিকিত্সক
কর্তৃক কিশোরটিকে পরীক্ষা করাইবার অনুরোধ করিতে পারিবেন, এবং কিশোরটি উক্তরূপ
পরীক্ষান্তে সক্ষম বলিয়া প্রত্যয়িত না হওয়া পর্যন্ত
অথবা কিশোরটি আর কিশোর নয়
এই মর্মে প্রত্যয়িত না হওয়া পর্যন্ত
তাহাকে কোন কাজ না
দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে
পারিবেন৷
৩৯। (১) সরকার সময় সময়ে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঝুকিপূর্ণ কাজের তালিকা ঘোষণা করিবে।
(২) সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে কোন কিশোরকে নিয়োগ করা যাইবে না।
(৩) কোন প্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি চালু অবস্থায় উহা পরিস্কারের জন্য, উহাতে তেল প্রদানের জন্য বা উহাকে সুবিন্যস্ত করার জন্য বা উক্ত চালু যন্ত্রপাতির ঘুর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে অথবা স্থির এবং ঘুর্ণায়মান অংশগুলির মাঝখানে কোন কিশোরকে কাজ করিতে অনুমতি দেওয়া যাইবে না।
৪০৷ (১) কোন কিশোর যন্ত্রপাতির কোন কাজ করিবেন না, যদি না-
(ক) তাহাকে উক্ত যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত বিপদ সম্পর্কে এবং এই ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে ওয়াকেবহাল করানো হয়; এবং
(খ) তিনি যন্ত্রপাতিতে কাজ করার জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়াছেন, অথবা তিনি যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত অভিজ্ঞ এবং পুরোপুরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে কাজ করেন৷
(২)
এই বিধান কেবলমাত্র ঐ সকল যন্ত্রপাতি
সম্পর্কে প্রযোজ্য হইবে যে সম্পর্ক
সরকার বিজ্ঞপ্তি মারফত ঘোষণা করে যে, এইগুলি
এমন বিপজ্জনক যে উহাতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত
শর্তাদি পূরণ না হওয়া
পর্যন্ত কোন কিশোরের পক্ষে
কাজ করা উচিত নহে৷
৪১৷ (১) কোন কিশোরকে কোন কারখানা বা খনিতে দৈনিক পাঁচ ঘন্টার অধিক এবং সপ্তাহে ত্রিশ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করিতে দেওয়া হইবে না৷
(২) কোন কিশোরকে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে দৈনিক সাত ঘন্টার অধিক এবং সপ্তাহে বিয়াল্লিশ ঘন্টার অধিক সময় কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না৷
(৩) কোন কিশোরকে কোন প্রতিষ্ঠানে সন্ধ্যা ৭-০০ ঘটিকা হইতে সকাল ৭-০০ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময়ে কোন কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না৷
(৪) যদি কোন কিশোর অধিকাল কাজ করেন, তাহা হইলে অধিকালসহ তাহার কাজের মোট সময়-
(ক) কারখানা বা খনির ত্মেগত্রে, সপ্তাহে ছত্রিশ ঘন্টা;
(খ) অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ত্মেগত্রে, সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘন্টা; এর অধিক হইবে না৷
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে কোন কিশোরের কাজের সময় দুইটি পালায় সীমাবদ্ধ রাখিতে হইবে, এবং উহার কোন পালার সময়সীমা সাড়ে সাত ঘন্টার বেশী হইবে না৷
(৬) কোন কিশোরকে কেবলমাত্র একটি রীলেতে নিয়োগ করা যাইবে এবং পরিদর্শকের নিকট হইতে লিখিত পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত ত্রিশ দিনের মধ্যে ইহা একবারের বেশী পরিবর্তন করা যাইবে না৷
(৭) এই আইনের অধীন সাপ্তাহিক ছুটি সংক্রান্ত্ম বিধান কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে এবং এই বিধানের প্রয়োগ কিশোর শ্রমিকের ক্ষেত্রে স্থগিত করা যাইবে না৷
(৮) একই দিনে কোন কিশোর একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিতে পারিবেন না৷
৪২৷ কোন কিশোরকে ভূগর্ভে বা পানির নীচে কোন কাজে নিয়োগ করা যাইবে না৷
৪৩৷ (১) কোন প্রতিষ্ঠানে কিশোর শ্রমিক নিযুক্ত থাকিলে উহাতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কিশোরের কর্মঘন্টা সম্পর্কে, তাহার কাজের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখসহ, একটি নোটিশ প্রদর্শন করিতে হইবে৷
(২)
উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত
নোটিশে প্রদর্শিত সময়ে কাজ আরম্ভ
হওয়ার পূর্বে, প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের ত্মেগত্রে যেভাবে স্থির করা হয় সেভাবে
স্থির করিতে হইবে, এবং ইহা এমন
হইবে যেন উক্ত সময়ে
কর্মরত কোন কিশোরকে এই
আইনের খেলাপ কোন কাজ করিতে
না হয়৷
(৩)
কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পূর্ণ বয়স্ক শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এতদসংক্রান্ত্ম বিধান উপ-ধারা (১)
এর অধীন নোটিশের ক্ষেত্রেও
প্রযোজ্য হইবে৷
(৪)
সরকার বিধি দ্বারা উক্ত
নোটিশের ফরম এবং উহা
রতগণাবেতগণের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে৷
৪৪। কোনো প্রতিবন্ধী শ্রমিককে বিপজ্জনক যন্ত্রপাতির কাজে অথবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করা যাইবে না।
৪৫৷ (১) কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে সজ্ঞানে কোন মহিলাকে তাহার সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে কোন কাজ করাতে পারিবেন না৷
(২)
কোন মহিলা কোন প্রতিষ্ঠানে তাহার
সন্ত্মান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে
কোন কাজ করিতে পারিবেন
না৷
(৩)
কোন মালিক কোন মহিলাকে এমন
কোন কাজ করার জন্য
নিয়োগ করিতে পারিবেন না যাহা দুষ্কর
বা শ্রম-সাধ্য অথবা
যাহার জন্য দীর্ঘতগণ দাঁড়াইয়া
থাকিতে হয় অথবা যাহা
তাহার জন্য হানিকর হওয়ার
সম্ভাবনা থাকে, যদি-
(ক)
তাহার এই বিশ্বাস করার
কারণ থাকে, অথবা যদি মহিলা
তাহাকে অবহিত করিয়া থাকেন যে, দশ সপ্তাহের
মধ্যে তাহার সন্তান প্রসব করার সম্ভাবনা আছে;
(খ) মালিকের জানামতে মহিলা পূর্ববর্তী দশ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করিয়াছেনঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, চা-বাগান শ্রমিকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চা-বাগানের চিকিৎসক কর্তৃক যতদিন পর্যন্ত সক্ষমতার সার্টিফিকেট পাওয়া যাইবে ততদিন পর্যন্ত উক্ত শ্রমিক হালকা
ধরণের কাজ করিতে পারিবেন
এবং অনুরূপ কাজ যতদিন তিনি
করিবেন ততদিন তিনি উক্ত কাজের
জন্য প্রচলিত আইন অনুসারে নির্ধারিত
হারে মজুরী পাইবেন, যাহা প্রসূতি কল্যাণ
ভাতার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে৷
৪৬৷ (১) প্রত্যেক মহিলা শ্রমিক তাহার মালিকের নিকট হইতে তাহার সন্ত্মান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী আট সপ্তাহ এবং সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পরবর্তী আট সপ্তাহের জন্য প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং তাহার মালিক তাহাকে এই সুবিধা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেনঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, কোন
মহিলা উক্তরূপ সুবিধা পাইবেন না যদি না
তিনি তাহার মালিকের অধীন তাহার সন্তান প্রসবের অব্যবহিত পূর্বে অন্যুন্ন ছয় মাস কাজ
করিয়া থাকেন৷
(২)
কোন মহিলাকে উক্তরূপ সুবিধা প্রদেয় হইবে না যদি
তাহার সন্তান প্রসবের সময় তাহার দুই
বা ততোধিক সন্তান জীবিত থাকে, তবে এক্ষেত্রে তিনি
কোন ছুটি পাইবার অধিকারী
হইলে তাহা পাইবেন৷
৪৭৷ (১) কোন অন্ত্মঃসত্ত্বা মহিলা এই আইনের অধীন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইলে তিনি যে কোন দিন মালিককে লিখিত বা মৌখিকভাবে এই মর্মে নোটিশ দিবেন যে, নোটিশের আট সপ্তাহের মধ্যে তাহার সন্ত্মান প্রসবের সম্ভাবনা আছে, এবং উক্ত নোটিশে তাহার মৃত্যুর তেগত্রে এই সুবিধা যিনি গ্রহণ করিবেন তাহার নামও উল্লেখ থাকিবে৷
(২)
কোন মহিলা উক্তরূপ কোন নোটিশ প্রদান
না করিয়া থাকিলে তাহার সন্ত্মান প্রসবের সাত দিনের মধ্যে
তিনি উক্তরূপ নোটিশ প্রদান করিয়া তাহার সন্ত্মান প্রসব সম্পর্কে মালিককে অবহিত করিবেন৷
(৩)
উপ-ধারা (১) অথবা (২)
এ উলিস্্নখিত নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক সংশিস্্নষ্ট
মহিলাকে-
(ক)
উপ-ধারা (১) এর অধীন
নোটিশের তেগত্রে, উহা প্রদানের তারিখের
পরের দিন হইতে;
(খ)
উপ-ধারা (২) এর অধীন
নোটিশের তেগত্রে, সন্ত্মান প্রসবের তারিখ হইতে, সন্ত্মান প্রসবের পরবর্তী আট সপ্তাহ পর্যন্ত্ম,
কাজে অনুপস্থিত থাকিবার জন্য অনুমতি দিবেন৷
(৪)
কোন মালিক সংশ্লিষ্ট মহিলার ইচ্ছানুযায়ী নিম্নলিখিত যে কোন পন্থায়
প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, যথাঃ-
(ক)
যে ক্ষেত্রে কোন রেজিস্টার্ড চিকিত্সকের
নিকট হইতে এই মর্মে
প্রাপ্ত প্রত্যয়নপত্র পেশ করা হয়
যে, মহিলা আট সপ্তাহের মধ্যে
সন্ত্মান প্রসবের সম্ভাবনা আছে, সে ক্ষেত্রে
প্রত্যয়ন পত্র পেশ করার
পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের
মধ্যে প্রসব পূর্ববর্তী আট সপ্তাহের জন্য
প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, এবং মহিলার সন্ত্মান
প্রসবের প্রমাণ পেশ করার তারিখ
হইতে পরবর্তী তিন কর্ম দিবসের
মধ্যে অবশিষ্ট সময়ের জন্য প্রদেয় উক্তরূপ
সুবিধা প্রদান করিবেন; অথবা
(খ)
মালিকের নিকট সন্ত্মান প্রসবের
প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী
তিন কর্ম দিবসের মধ্যে
সন্ত্মান প্রসবের তারিখসহ উহার পূর্ববর্তী আট
সপ্তাহের জন্য প্রদেয় প্রসূতি
কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন, এবং উক্ত প্রমাণ
পেশের পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে
অবশিষ্ট মেয়াদের সুবিধা প্রদান করিবেন;
(গ)
সন্তান প্রসবের প্রমাণ পেশ করার পরবর্তী
তিন কর্ম দিবসের মধ্যে
উক্ত সম্পূর্ণ সময়ের জন্য প্রদেয় প্রসূতি
কল্যাণ সুবিধা প্রদান করিবেন ; অথবা
(ঘ)
কোনো মহিলা শ্রমিক মালিককে নোটিশ দেওয়ার পূর্বেই যদি সন্তান প্রসব
করিয়া থাকেন তাহা হইলে সন্তান
প্রসবের প্রমাণ পেশ করিবার পরবর্তী
৩ (তিন) কর্ম দিবসের
মধ্যে উক্ত সম্পূর্ণ সময়ের
জন্য প্রদেয় প্রসূতি কল্যাণ সুবিধাসহ প্রসব পরবর্তী আট সপ্তাহ পর্যন্ত
অনুপস্থিত থাকিবার অনুমতি দিবেন:
তবে
শর্ত থাকে যে, এই
উপ-ধারার অধীন যে প্রসূতি
কল্যাণ বা উহার কোন
অংশ প্রদান সন্ত্মান প্রসবের প্রমাণ পেশের উপর নির্ভরশীল, সেরূপ
কোন প্রমাণ কোন মহিলা তাহার
সন্ত্মান প্রসবের তিন মাসের মধ্যে
পেশ না করিলে তিনি
এই সুবিধা পাইবার অধিকার হইবেন না
আরো
শর্ত থাকে যে, প্রসূতি
কল্যাণ ছুটিতে যাইবার নির্ধারিত তারিখের পূর্বে কোনো মহিলা শ্রমিকের
গর্ভপাত ঘটিলে তিনি কোনো প্রসূতি
কল্যাণ সুবিধা পাইবেন না, তবে স্বাস্থ্যগত
কারণে ছুটির প্রয়োজন হইলে তিনি তাহা
ভোগ করিতে পারিবেন।
(৫)
উপ-ধারা (৪) এর অধীন
যে প্রমাণ পেশ করিতে হইবে,
উক্ত প্রমাণ জন্ম ও মৃত্যু
নিবন্ধন আইন, ২০০৪ (২০০৪
সনের ২৯ নং আইন)
এর অধীন প্রদত্ত জন্ম
রেজিস্টারের সত্যায়িত উদ্ধৃতি, অথবা কোন রেজিস্টার্ড
চিকিত্সকের প্রত্যয়নপত্র, অথবা মালিকের নিকট
গ্রহণযোগ্য অন্য কোন প্রমাণ
হইতে পারিবে৷
৪৮৷ (১) এই অধ্যায়ের অধীন যে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদেয় হইবে উহা উপ-ধারা
(২) এ উল্লিখিত পন্থায় গণনা করিয়া দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক, যে তেগত্রে যাহা প্রযোজ্য, গড় মজুরী হারে সম্পূর্ণ নগদে প্রদান করিতে হইবে৷
(২)
উপ-ধারা
(১)
এর প্রয়োজনে দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক গড়
মজুরী গণনার জন্য সংশ্লিষ্ট মহিলা
কর্তৃক এই অধ্যায়ের অধীন
নোটিশ প্রদানের অব্যবহিত পূর্ববর্তী তিন মাসে তাহার
প্রাপ্ত মোট মজুরীকে উক্ত
সময়ে তাহার মোট প্রকৃত কাজের
দিনগুলি দ্বারা ভাগ করিতে হইবে৷
৪৯৷ (১) এই অধ্যায়ের অধীন প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী কোন মহিলা সন্ত্মান প্রসবকালে অথবা উহার পরবর্তী আট সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যুবরণ করিলে মালিক, শিশু সন্ত্মানটি যদি বাঁচিয়া থাকে, যে ব্যক্তি শিশুর তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাহাকে, এবং, যদি শিশু সন্ত্মান জীবিত না থাকে, তাহা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন মহিলার মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা কোন মনোনীত ব্যক্তি না থাকিলে মৃত মহিলার আইনগত প্রতিনিধকে উক্তরূপ সুবিধা প্রদান করিবেন৷
(২)
যদি উক্তরূপ কোন মহিলা প্রসূতি
কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হওয়ার সময় সীমার মধ্যে
কিন্তু সন্ত্মান প্রসবের পূর্বে মারা যান, তাহা
হইলে মালিক উক্ত মহিলার মৃত্যুর
তারিখসহ তত্পূর্ববর্তী সময়ের জন্য উক্তরূপ সুবিধা
প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবেন, তবে ইতিমধ্যে প্রদত্ত
উক্তরূপ সুবিধা যদি প্রদেয় সুবিধা
হইতে বেশী হয়, তাহা
হইলেও উহা আর ফেরত
লইতে পারিবেন না, এবং মহিলার
মৃত্যুর সময় পর্যন্ত্ম যদি
মালিকের নিকট এই বাবদ
কিছু পাওনা থাকে, তাহা হইলে তিনি
এই অধ্যায়ের অধীন মহিলার কোন
মনোনীত ব্যক্তিকে, অথবা কোন মনোনীত
ব্যক্তি না থাকিলে, তাহার
আইনগত প্রতিনিধকে উহা প্রদান করিবেন৷
৫০৷
যদি কোন মহিলার সন্ত্মান
প্রসবের পূর্ববতী ছয় মাস এবং
সন্ত্মান প্রসবের পরবর্তী আট সপ্তাহ মেয়াদের
মধ্যে তাহাকে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ, বরখাস্ত্ম
বা অপসারণ করার জন্য অথবা
তাহার চাকুরী অন্যভাবে অবসানের জন্য মালিক কোন
নোটিশ বা আদেশ প্রদান
করেন, এবং উক্তরূপ নোটিশ
বা আদেশের যদি যথেষ্ট কোন
কারণ না থাকে তাহা
হইলে, এই নোটিশ বা
আদেশ প্রদান না করা হইলে
এই অধ্যায়ের অধীন সংশিস্্নষ্ট মহিলা
যে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা পাইবার অধিকারী হইতেন, উহা হইতে তিনি
বঞ্চিত হইবেন না৷
৫১৷ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখিতে হইবে এবং কোন নর্দমা, পায়খানা বা অন্য কোন জঞ্জাল হইতে উত্থিত দূষিত বাষ্প হইতে মুক্ত রাখিতে হইবে, এবং বিশেষ করিয়া-
(ক)
প্রতিষ্ঠানের মেঝে, কর্মকতগ, সিড়ি, যাতায়াতের পথ হইতে প্রতিদিন
ঝাড়ু দিয়া ময়লা ও
আবর্জনা উপযুক্ত পন্থায় অপসারণ করিতে হইবে;
(খ)
প্রত্যেক কর্মকগর মেঝে সপ্তাহে অন্ত্মতঃ
একদিন ধৌত করিতে হইবে,
এবং প্রয়োজনে ধৌত কাজে জীবানুনাশক
ব্যবহার করিতে হইবে;
(গ)
যে ক্ষেত্রে কোন উত্পাদন প্রক্রিয়ার
কারণে কোন মেঝে এমনভাবে
ভিজিয়া যায় যে, ইহার
জন্য পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজন
হয়, সেক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত
ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(ঘ)
প্রতিষ্ঠানের সকল আভ্যন্ত্মরীণ দেওয়াল,
পার্টিশন, ছাদ, সিড়ি, যাতায়াতপথ-
১)
রং বা বার্নিশ করা
থাকিলে, প্রত্যেক তিন বত্সরে অন্ত্মতঃ
একবার পুনঃ রং বা
বার্নিশ করিতে হইবে,
(২)
রং অথবা বার্নিশ করা
এবং বহির্ভাগ মসৃণ হইলে, প্রতি
চৌদ্দ মাসে অন্ত্মতঃ একবার
উহা বিধিদ্বারা নির্ধারিত পন্থায় পরিস্কার করিতে হইবে,
(৩)
অন্যান্য ক্ষেত্রে, প্রতি চৌদ্দ মাসে অন্ত্মতঃ একবার
চুনকাম বা রং করিতে
হইবে, এবং
(ঙ)
দফা (ঘ) তে উল্লিখিত
কার্যাবলী সম্পন্ন করার তারিখ বিধি
দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতে হইবে৷
৫২৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্ম-কক্ষে নির্মল বায়ু প্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা রাখিতে হবে৷
(২)
উক্তরূপ প্রত্যেক কতেগ এমন তাপমাত্রা
বজায় রাখিবার উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখিতে হইবে যাহাতে সেখানে
কর্মরত শ্রমিকগণ মোটামুটি আরামে কাজ করিতে পারেন,
এবং যাহাতে শ্রমিকগণের স্বাস্থ্য হানি রোধ হয়৷
(৩)
উপ-ধারা (২) এর প্রয়োজনে
কতেগর দেওয়াল এবং ছাদ এমনভাবে
তৈরী করিতে হইবে যাহাতে উক্ত
তাপমাত্রা বৃদ্ধি না পায়, এবং
যতদূর সম্ভব কম থাকে৷
(৪)
যে ক্ষেত্রে, কোন প্রতিষ্ঠানের কাজের
প্রকৃতি এমন হয় যে,
ইহাতে অত্যধিক উচ্চ তাপ সৃষ্টি
হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে যে উত্স হইতে
উক্তরূপ উচ্চ তাপ সৃষ্টি
হইতেছে উহাকে বা উহার উত্তপ্ত
অংশকে তাপ অপরিবাহী বস্তু
দ্বারা মুড়িয়া বা অন্য কোন
পন্থায় শ্রমিকগণের কর্ম-কক্ষ হইতে
আলাদা করার জন্য যতদূর
সম্ভব উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
(৫)
যদি সরকারের নিকট ইহা প্রতীয়মান
হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের
অতি উচ্চ তাপমাত্রা উহার
পার্শ্ব দেওয়াল, ছাদ বা জানালা
চুনকাম করিয়া, স্প্রে করিয়া, অথবা তাপ অপরিবাহী
করিয়া, বা পর্দা দিয়া,
অথবা ছাদের উচ্চতা বৃদ্ধি করিয়া, অথবা অন্য কোন
বিশেষ পন্থায় হ্রাস করা সম্ভব হয়,
তাহা হইলে সরকার উক্ত
প্রতিষ্ঠানে উল্লিখিত যে কোন উপযুক্ত
ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে
পারিবে৷
৫৩৷ (১) কোন প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন প্রক্রিয়া চলার কারণে যদি কোন ধুলা-বালি বা ধোঁয়া বা অন্য কোন দূষিত বস্তু এমন প্রকৃতির বা এমন পরিমাণে নির্গত হয় যে, উহাতে সেখানে কর্মরত শ্রমিকগণের পক্ষে স্বাস্থ্যহানির বা অস্বস্তিকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহা হইলে কোন কর্ম-কক্ষে উহা যাহাতে জমিতে না পারে এবং শ্রমিকের প্রশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করিতে না পারে ইহার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে, এবং এই উদ্দেশ্যে যদি কোন নির্গমন যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়, তাহা হইলে উহা উক্ত ধূলা-বালি, ধোঁয়া বা অন্য দূষিত বস্তুর উত্সের যতদূর সম্ভব কাছাকাছি স্থানে স্থাপন করিতে হইবে, এবং ঐ স্থান যতদূর সম্ভব ঘিরিয়া রাখিতে হইবে৷
(২)
কোন প্রতিষ্ঠানে কোন অন্তর্দহ ইঞ্জিন
চালানো যাইবে না যদি না
উহার বাষ্পাদি নির্গমন পথ উন্মুক্ত বাতাসের
দিকে হয়, এবং কোন
অন্তর্দহ ইঞ্জিন কোন কর্ম-কক্ষে
চালানো যাইবে না যদি না
শ্রমিকগণের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হইতে পারে উহা
হইতে নির্গত এমন ধোঁয়া জমা
না হওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হয়৷
৫৪৷ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে উহার উত্পাদন প্রক্রিয়ার কারণে সৃষ্ট কোন বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
৫৫৷ (১) যদি কোন প্রতিষ্ঠানে বাতাসের আর্দ্রতা কৃত্রিম উপায়ে বৃদ্ধি করা হয়, তাহা হইলে সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত পানি সরকারী পানি সরবরাহ ব্যবস্থা হইতে অথবা অন্য কোন পানীয় জলের উত্স হইতে সংগ্রহ করিতে হইবে, অথবা উহা ব্যবহারের পূর্বে উপযুক্তভাবে শোধন করিতে হইবে৷
(২)
যদি কোন পরিদর্শকের নিকট
ইহা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত
উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন পানি উপ-ধারা (১) এর বিধান
অনুযায়ী কার্যকরভাবে শোধন করা হয়
নাই, তাহা হইলে তিনি
মালিককে লিখিত আদেশ দিয়া, আদেশে
উল্লিখিত সময়ের মধ্যে উহাতে উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে
পারিবেন৷
৫৬৷(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কর্ম-কক্ষে উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণের স্বাস্থ্য হানি হয় এই প্রকার অতিরিক্ত ভীড় করা যাইবে না৷
(২)
উপরিউক্ত বিধানের হানি না করিয়া,
প্রত্যেক কর্মকক্ষে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য অন্ততঃ ৯.৫ কিউবিক মিটার
পরিমাণ জায়গার ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
ব্যাখ্যাঃ
এই উপ-ধারার প্রয়োজনে,
কোন ঘরের উচ্চতা মেঝে
হইতে ৪.২৫ মিটারের
অধিক হইলে ইহা বিবেচনায়
আনা হইবে না৷
(৩)
যদি প্রধান পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন
মালিককে অনুরোধ করেন তাহা হইলে
কোন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কর্মকক্ষে এই ধারার বিধান
অনুযায়ী সর্বোচ্চ কতজন লোক কাজ
করিতে পারিবেন, তত্সম্পর্কে তাহাকে একটি নোটিশ লটকাইয়া
দিতে হইবে৷
(৪)
প্রধান পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন
প্রতিষ্ঠানের কর্মকক্ষকে এই ধারার বিধান
হইতে রেহাই দিতে পারিবেন, যদি
তিনি এ মর্মে সন্তুষ্ট
হন যে, উহাতে কর্মরত
শ্রমিকগণের স্বাস্থ্যের প্রয়োজনে এই বিধান মানার
প্রয়োজন নাই৷
৫৭৷ (১) কোন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক অংশে, যেখানে শ্রমিকগণ কাজ করেন বা যাতায়াত করেন, যথেষ্ট স্বাভাবিক বা কৃত্রিম বা উভয়বিধ আলোর ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(২)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকক্ষ আলোকিত করার জন্য ব্যবহৃত
সকল কাঁচের জানালা এবং ছাদে বসানো
জানালাসমূহের উভয় পার্শ্ব পরিষ্কার
রাখিতে হইবে, এবং যতদূর সম্ভব
প্রতিবন্ধকতা মুক্ত রাখিতে হইবে৷
(৩)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক)
কোন স্বচ্ছ পদার্থ বা বাতি হইতে
বিচ্ছুরিত বা প্রতিফলিত আলোকচ্ছটা,
অথবা
(খ)
কোন শ্রমিকের চোখের উপর চাপ পড়িতে
পারে বা তাহার দুর্ঘটনার
ঝুঁকি থাকিতে পারে, এরূপ কোন ছায়া
সৃষ্টি, প্রতিরোধ করিবার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা
থাকিতে হইবে৷
৫৮৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত সকল শ্রমিকের পান করার জন্য উহার কোন সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(২)
প্রত্যেক পানি সরবরাহের স্থানকে
বাংলায় æপান করার পানি”
কথাগুলি স্পষ্টভাবে লিখিয়া দিয়া চিহ্নিত করিতে
হইবে৷
(৩)
যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দুইশত পঞ্চাশ জন বা ততোধিক
শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন, সে সকল প্রতিষ্ঠানে
গ্রীষ্মকালে পান করার পানি
ঠান্ডা করিয়া সরবরাহ করার ব্যবস্থা করিতে
হইবে৷
(৪)
মাত্রাতিরিক্ত তাপ উদ্রেককারী যন্ত্রের
সন্নিকটে কাজ করার কারণে
শ্রমিকের শরীরে পানি শূন্যতার সৃষ্টি
হইলে, ঐ সকল শ্রমিকের
জন্য ওরাল রিহাইড্রেশন থেরাপির
ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
৫৯৷ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক) উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণ কাজের সময়ে যাহাতে সহজে ব্যবহার করিতে পারেন এরূপ সুবিধাজনক স্থানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রকারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক 64[স্বাস্থ্য সম্মত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের] ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(খ)
উক্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ
পুরুষ এবং মহিলা শ্রমিকগণের
জন্য স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থা করিতে হইবে;
(গ)
শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষগুলিতে
যথেষ্ট আলো, বাতাস এবং
সার্বক্ষণিক পানির ব্যবস্থা রাখিতে হইবে; এবং
(ঘ)
উক্ত শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ
মালিকের নিজ খরচে জীবানুনাশক
ও পরিষ্কারক ব্যবহারের মাধ্যমে সব সময় পরিষ্কার
ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখিতে হইবে৷
৬০৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের সুবিধাজনক স্থানে যথেষ্ট সংখ্যক আবর্জনা ফেলার বাক্স ও পিকদানীর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে, এবং এইগুলিকে পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় রাখিতে হইবে৷
(২)
কোন প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনার মধ্যে কোন ব্যক্তি অনুরূপ
বাক্স ও পিকদানী ব্যতীত
অন্য কোথাও ময়লা আবর্জনা কিংবা
থুথু ফেলিতে পারিবেন না৷
(৩)
এই বিধান এবং উহা লঙ্ঘন
শাস্তিযোগ্য অপরাধ-ইহা উল্লেখ করিয়া
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন উপযুক্ত স্থানে এরূপভাবে নোটিশ লটকাইয়া দিতে হইবে যাহাতে
ইহা সহজেই সকলের দৃষ্টিগোচর হয়৷
৬১৷ (১) যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা ইহার কোন অংশ অথবা ইহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি বা প্ল্যান্ট বা ভবনের অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা] এমন অবস্থায় আছে যে, ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি মালিকের নিকট লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহাতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, তাহার মতে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন-উহা গ্রহণ করিবার নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
(২)
যদি কোন পরিদর্শকের নিকট
ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন
প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা
উহার কোন অংশ বা
উহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি
বা প্ল্যান্ট বা ভবনের অভ্যন্তরীণ
বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এর ব্যবহার মানুষের
জীবন বা নিরাপত্তার জন্য
আশু বিপজ্জনক, তাহা হইলে তিনি
মালিকের উপর লিখিত আদেশ
জারী করিয়া, উহা যথাযথভাবে মেরামত
বা পরিবর্তন না করা পর্যন্ত
উহার ব্যবহার নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন৷
৬২৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে অগ্নিকান্ডের সময় প্রত্যেক তলার সাথে সংযোগ রক্ষাকারী অন্ততঃ একটি বিকল্প সিঁড়িসহ বহির্গমনের উপায় এবং প্রত্যেক তলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(২)
যদি কোন পরিদর্শকের নিকট
ইহা প্রতীয়মান হয় যে, উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত
বিধি অনুযায়ী বহির্গমনের ব্যবস্থা করা হয় নাই
অথবা অগ্নি নির্বাপন দপ্তরের লাইসেন্স মোতাবেক প্রয়োজনীয় সংখ্যক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখা হয় নাই,
তাহা হইলে তিনি মালিকের
উপর লিখিত আদেশ জারী করিয়া,
উহাতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, তাহার মতে কি কি
ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন- তাহা
তাহাকে অবহিত করিবেন৷
(৩)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কোন কক্ষ হইতে
বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা
আটকাইয়া রাখা যাইবে না,
যাহাতে কোন ব্যক্তি কক্ষের
ভিতরে কর্মরত থাকিলে উহা তত্ক্ষণাৎ ভিতর
হইতে সহজে খোলা যায়,
এবং এই প্রকার সকল
দরজা, যদি না এইগুলি
স্লাইডিং টাইপের হয়, এমনভাবে তৈরী
করিতে হইবে যেন উহা
বাহিরের দিকে খোলা যায়,
অথবা যদি কোন দরজা
দুইটি কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে
উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমন পথের কাছাকাছি দিকে
খোলা যায়, এবং এই
প্রকার কোন দরজা কক্ষে
কাজ চলাকালীন সময়ে তালাবদ্ধ বা
বাধাগ্রস্থ অবস্থায় রাখা যাইবে না৷
(৩ক)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কর্মকালীন অবস্থায় কোন কক্ষ হইতে
বহির্গমনের পথ তালাবদ্ধ বা
আটকাইয়া রাখা যাইবে না
এবং বহির্গমনের পথ বাধাগ্রস্থ কিংবা
পথে কোন প্রতিবন্ধকতাও তৈরী
করা যাইবে না।
(৩খ)
কোন কর্মকক্ষের ভিতর হইতে তাৎক্ষণিকভাবে
এবং উহা বাহিরের দিকে
খোলা যায় এমনভাবে সকল
দরজা তৈরী করিতে হইবে।
(৩গ)
যদি কোন দরজা দুইটি
কক্ষের মাঝখানে হয়, তাহা হইলে
উহা ভবনের নিকটতম বহির্গমনের পথের কাছাকাছি খোলা
যায় এইরূপভাবে তৈরী করিতে হইবে
এবং এইরূপ সকল দরজা কক্ষে
কাজ চলাকালীন তালাবদ্ধ বা বাধাগ্রস্থ অবস্থায়
রাখা যাইবে না।
(৪)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বহির্গমণের জন্য ব্যবহৃত পথ
ব্যতীত অগ্নিকান্ড কালে বহির্গমনের জন্য
ব্যবহার করা যাইবে- এরূপ
প্রত্যেক জানালা, দরজা বা অন্য
কোন বহির্গমন পথ স্পষ্টভাবে লাল
রং দ্বারা বাংলা অক্ষরে অথবা অন্য কোন
সহজবোধ্য প্রকারে চিহ্নিত করিতে হইবে৷
(৫)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে, উহাতে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিককে অগ্নিকান্ডের বা বিপদের সময়
তৎসম্পর্কে হুশিয়ার করার জন্য, স্পষ্টভাবে
শ্রবণযোগ্য হুশিয়ারী সংকেতের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে৷
(৬)
প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক কক্ষে কর্মরত শ্রমিকগণের অগ্নিকান্ডের সময় বিভিন্ন বহির্গমন
পথে পৌঁছার সহায়ক একটি অবাধ পথের
ব্যবস্থা রাখিতে হইবে৷
(৭)
যে প্রতিষ্ঠানে উহার নীচ তলার
উপরে কোন জায়গায় সাধারণভাবে
দশজন বা ততোধিক শ্রমিক
কর্মরত থাকেন, অথবা বিষ্ফোরক বা
অতিদাহ্য পদার্থ ব্যবহৃত হয়, অথবা গুদামজাত
করা হয়, সে প্রতিষ্ঠানে
অগ্নিকান্ডকালে বহির্গমনের উপায় সম্পর্কে সকল
শ্রমিকেরা যাহাতে সুপরিচিত থাকেন এবং উক্ত সময়ে
তাহাদের কি কি করণীয়
হইবে, তত্সম্পর্কে তাহারা যাহাতে পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ লাভ করিতে পারেন
সেই বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
(৮)
পঞ্চাশ বা ততধিক শ্রমিক/কর্মচারী সম্বলিত কারখানা ও প্রতিষ্ঠানে প্রতি [ছয় মাসে] অন্ততঃ একবার অগ্নিনির্বাপন মহড়ার আয়োজন করিতে হইবে, এবং এই বিষয়ে
মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় একটি রেকর্ড বুক
সংরক্ষণ করিতে হইবে৷
৬৩৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে উহার নিম্নলিখিত যন্ত্রপাতি, গতিসম্পন্ন বা ব্যবহারে থাকার সময়, পর্যাপ্ত নির্মাণ ব্যবস্থা দ্বারা মজবুতভাবে ঘিরিয়া রাখিতে হইবে, যথাঃ-
(ক)
কোন প্রাইম-মোভার যন্ত্রের প্রত্যক ঘূর্ণায়মান অংশ, এবং উহার
সহিত সংযুক্ত প্রত্যেক ফ্লাই হুইল;
(খ)
প্রতিটি ওয়াটার হুইল এবং ওয়াটার
টারবাইনের উভয় মুখ;
(গ)
লেদ মেশিনের মুখ অতিক্রমকারী প্রতিটি
স্টক বারের অংশ; এবং
(ঘ)
যদি না নিম্নলিখিত যন্ত্রপাতিগুলি
এমন অবস্থায় থাকে বা এমন
ভাবে নির্মিত হয় যে, এইগুলি
মজবুতভাবে ঘেরা থাকিলে প্রতিষ্ঠানে
কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য যেরূপ নিরাপদ
হইত সেরূপ নিরাপদ আছে-
(১)
বৈদ্যুতিক জেনারেটর, মোটর বা রোটারী
কনভার্টারের প্রত্যেকটি অংশ,
(২)
ট্রান্সমিশন যন্ত্রপাতির প্রত্যেকটি অংশ;
(৩)
যে কোন যন্ত্রপাতির প্রত্যেকটি
বিপজ্জনক অংশঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, উপরোক্ত
মতে কোন যন্ত্রপাতি নিরাপদ
কি না ইহা নির্ণয়ের
ব্যাপারে ধারা-৬৪ এর
বিধান অনুযায়ী পরিচালিত কোন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা
বা চালু করিয়া দেখার
ঘটনাটি ধর্তব্যে আনা হইবে না৷
(২) যন্ত্রপাতি ঘিরিয়া রাখা সম্পর্কে এই আইনের অন্য কোন বিধানের হানি না করিয়া, ঘূর্ণায়মান প্রত্যেক শেফট, স্পিনডল হুইল অথবা পিনিয়ন এর প্রত্যেক সেট-স্ক্রু, বোল্ট এবং চাবি এবং চালু সকল স্পার, ওয়ার্ম এবং অন্যান্য দাঁতওয়ালা বা ফ্রিকশন গিয়ারিং, যাহার সংস্পর্শে কোন শ্রমিক আসিতে বাধ্য, উক্তরূপ সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য উল্লিখিত কলকব্জা মজবুতভাবে ঘিরিয়া রাখিতে হইবে৷
৬৪৷ (১) যে ক্ষেত্রে, কোন প্রতিষ্ঠানে ধারা ৬৩ এর অধীন চলমান কোন যন্ত্রপাতির কোন অংশ পরীক্ষার প্রয়োজন হয়, অথবা উক্তরূপ পরীক্ষার ফলে চলমান যন্ত্রপাতির বেল্ট চড়ানো এবং নামানো, তৈলাক্তকরণ অথবা সুবিন্যস্তকরণের কোন কাজ করিতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্তরূপ পরীক্ষা বা চালনা এতদব্যাপারে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোন পুরুষ শ্রমিক দ্বারা পরিচালিত হইতে হইবে, এবং উক্ত শ্রমিককে ঐ সময়ে আটো-সাটো পোষাক পরিতে হইবে, এবং তাহার নাম এতদউদ্দেশ্যে নির্ধারিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ থাকিতে হইবে, এবং যখন উক্ত শ্রমিক এই প্রকার কাজে নিযুক্ত থাকিবেন, সে সময় তিনি কোন ঘূর্ণায়মান পুলিতে সংযুক্ত বেল্ট নাড়াচাড়া করিবেন না, যদি না বেল্টটি প্রস্থে ১৫ সেঃ মিঃ এর নীচে হয় এবং উহার জোড়া সমতল ও ফিতা দিয়ে আটকানো থাকে৷
(২)
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের
কোন যন্ত্রপাতির ঘূর্ণায়মান কোন নির্দিষ্ট অংশের
পরিষ্কারকরণ, তৈলাক্তকরণ, সুবিন্যস্তকরণ নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন৷
৬৫৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক)
উপযুক্ত স্ট্রাইকিং গিয়ার এবং অন্যান্য কার্যকর
যান্ত্রিক সরঞ্জাম সংরক্ষণ করা হইবে যাহা
ট্রান্সমিশন যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত দ্রুত এবং শ্লথ পুলিতে
বা পুলি হইতে ড্রাইভিং
বেল্টকে চালানোর জন্য ব্যবহৃত হইবে,
এবং উক্তরূপ গিয়ার বা কলকব্জা এমনভাবে
প্রস্তুত, স্থাপন ও সংরক্ষণ করিতে
হইবে যেন উক্ত বেল্টের
প্রথম পুলিতে ক্রুপিং বেক নিরোধ করা
যায়;
(খ)
যখন কোন ড্রাইভিং বেল্ট
ব্যবহারে থাকিবে না, তখন ইহা
কোন চলন্ত শেফ্টের উপর
রাখা যাইবে না৷
(২)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক কর্মকক্ষে চলমান যন্তপাতি হইতে জরুরী অবস্থায়
শক্তি বিচ্ছিন্ন করিবার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা
থাকিতে হইবে৷
৬৬৷ কোন প্রতিষ্ঠানের কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির কোন চলমান অংশ এবং উহাতে বাহিত কোন দ্রব্য যাহার উপর দিয়া চলাচল করে, উহা যদি এমন কোন স্থান হয় যাহার উপর দিয়া কোন ব্যক্তিকে কর্তব্য সম্পাদন বা অন্য কোন কারণে চলাচল করিতেই হয়, তাহা হইলে, উক্ত যন্ত্রপাতির অংশ নহে এমন কোন স্থির কাঠামো হইতে ৪৫ সেঃ মিঃ এর মধ্যে উহাকে বহির্মুখী অথবা অন্তর্মুখী চলাচল করিতে দেওয়া যাইবে নাঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, এই
আইন বলবৎ হইবার পূর্বে,
এই ধারার ব্যতিক্রমভাবে স্থাপিত কোন যন্ত্রপাতিকে প্রধান
পরিদর্শক, তৎকর্তৃক নির্ধারিত উহার নিরাপত্তা সম্বন্ধে
ব্যবস্থা গ্রহণের শর্তে, উহার ব্যবহার অব্যাহত
রাখিতে অনুমতি দিতে পারিবেন৷
৬৭৷ এই আইন বলবৎ হইবার পর কোন প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত শক্তি চালিত প্রত্যেকটি যন্ত্রপাতির-
(ক)
সেট-স্ক্রু, বেল্ট অথবা চাবি, অথবা
কোন ঘূর্ণায়মান শেফট্, স্পিন্ডল হুইল অথবা পিনিয়ন
এমনভাবে প্রোথিত, আবৃত অথবা অন্য
কোন কার্যকর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা করিতে হইবে যাহাতে বিপদ
নিরোধ করা যায়;
(খ)
সকল স্পার, ওয়ার্ম এবং অন্যান্য দাঁতবিশিষ্ট
গিয়ার ব্যবস্থা, যাহা চলন্ত অবস্থায়
ঘন ঘন বিন্যস্ত করার
প্রয়োজন হয় না, সম্পূর্ণভাবে
আবৃত করিয়া রাখিতে হইবে, যদি না উহা
এমনভাবে অবস্থিত হয় যে, উহা
আবৃত থাকিলে যেরূপ নিরাপদ হইত, সেরূপ নিরাপদ
থাকে৷
৬৮৷ কোন প্রতিষ্ঠানে, হয়েস্ট এবং লিফ্ট ব্যতীত, সকল ক্রেন এবং অন্যান্য উত্তোলন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিধানগুলি প্রযোজ্য হইবে, যথাঃ-
(ক)
স্থির অথবা চলমান ওয়ার্কিং
গিয়ার, রজ্জু, শিকল এবং নোঙ্গর
বা বন্ধন সম্পর্কিত যন্ত্রপাতিসহ উহার প্রত্যেক অংশ-
(১)
পর্যাপ্ত শক্তিশালী ও মজবুত পদার্থ
দিয়া উত্তমরূপে তৈরী হইতে হইবে,
(২)
যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে,
(৩)
প্রতি বারো মাসে অন্ততঃ
একবার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি
দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষিত হইতে হইবে, এবং
উক্তরূপ প্রত্যেক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত
বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করিবার জন্য একটি রেজিস্টার
থাকিতে হইবে৷
(খ)
উক্তরূপ যন্ত্রপাতি দ্বারা উহাতে লিখিত বহন ক্ষমতার অতিরিক্ত
কোন বোঝা বহন করা
যাইবে না;
(গ)
ক্রেন দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার আশংকা আছে, এরূপ কোন
স্থানে কোন চলমান ক্রেনের
হুইল ট্রেকে কোন ব্যক্তি কাজ
করাকালীন সময়ে যাহাতে ক্রেনটি
উক্ত স্থানের ছয় মিটারের মধ্যে
পৌঁছাইতে না পারে- তাহার
কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
৬৯৷ (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক হয়েস্ট এবং লিফ্ট-
(ক)
পর্যাপ্ত শক্তিশালী ও মজবুত পদার্থ
দিয়া উত্তমরূপে তৈরি হইতে হইবে;
(খ)
যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে;
(গ)
প্রতি ছয় মাসে অন্ততঃ
একবার একজন উপযুক্ত ব্যক্তি
দ্বারা সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষিত হইতে হইবে, এবং
উক্তরূপ প্রত্যেক পরীক্ষা সংক্রান্ত বিধি দ্বারা নির্ধারিত
বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করিবার জন্য একটি রেজিস্টার
থাকিতে হইবে৷
(২)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক হয়েস্ট ও লিফটের চলাচল
পথ দরজা সংযুক্ত ঘিরা
দ্বারা ভালভাবে সংরক্ষিত থাকিবে, হয়েস্ট অথবা লিফ্ট
এবং উক্তরূপ ঘিরা এমনভাবে তৈরী
করিতে হইবে যেন কোন
ব্যক্তি বা বস্তু উক্ত
হয়েস্ট অথবা লিফটের কোন
অংশে এবং কোন স্থির
কাঠামো বা চলমান অংশের
মাঝখানে আটকাইয়া না যায়৷
(৩)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক হয়েস্ট এবং লিফটের গায়ে
উহার নিরাপদ বহন ক্ষমতা পরিষ্কারভাবে
লিখিয়া রাখিতে হইবে এবং এই
ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কোন বোঝা বহন
করা যাইবে না৷
(৪)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে মানুষ বহনকারী প্রত্যেকটি হয়েস্ট ও লিফটের খাঁচার
উভয় পার্শ্বে উঠা-নামা করার
জন্য প্রবেশ পথ থাকিবে৷ প্রত্যেক
হয়েস্ট ও লিফটের সর্বোচ্চ
ধারণ ক্ষমতা বাংলায় স্পষ্ট অক্ষরে লিখিয়া রাখিতে হইবে৷
(৫)
উপ-ধারা (২) এবং (৪)
এ উল্লিখিত প্রত্যেক দরজায় এমনভাবে ইন্টারলক অথবা অন্য কোন
কার্যকর ব্যবস্থা থাকিবে যাহাতে ইহা নিশ্চিত করা
যায় যে, যখন ইহা
অবতরণ না করে তখন
যেন খোলা না যায়,
এবং দরজা বন্ধ না
করা পর্যন্ত খাঁচাটি যাহাতে চলমান না হয়৷
(৬)
এই আইন প্রবর্তনের পর
স্থাপিত অথবা পুনঃনির্মিত কোন
প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি হয়েস্ট অথবা লিফটের ক্ষেত্রে
নিম্নবর্ণিত অতিরিক্ত ব্যবস্থাবলী প্রযোজ্য হইবে, যথাঃ-
(ক)
যে ক্ষেত্রে খাঁচা রশি বা শিকলের
উপর নির্ভরশীল, সে ক্ষেত্রে কমপক্ষে
দুইটি রশি বা শিকল
পৃথকভাবে খাঁচার সঙ্গে সংযুক্ত থাকিবে এবং উহার ভারসাম্য
রক্ষা করিবে, এবং প্রত্যেক রশি
ও শিকল এমন হইতে
হইবে যেন ইহা সর্বোচ্চ
ভারসহ খাঁচাটি বহন করিতে পারে;
(খ)
রশি এবং শিকল ছিড়িয়া
যাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ভারসহ খাঁচাটি যেন ঝুলাইয়া রাখা
যায়, ইহার কার্যকরী ব্যবস্থা
গ্রহণ করিতে হইবে;
(গ)
খাঁচার অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ করার
জন্য যথাযথ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা থাকিতে হইবে৷
(৭)
এই আইন বলবত্ হইবার
পূর্বে উপ-ধারা (১),
(২), (৩), (৪) ও
(৫) এর ব্যতিক্রমভাবে কোন
প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত কোন হয়েস্ট বা
লিফট্-কে প্রধান পরিদর্শক,
তত্কর্তৃক নির্ধারিত উহার নিরাপত্তা সম্বন্ধে
ব্যবস্থা গ্রহণের শর্তে উহার ব্যবহার অব্যাহত
রাখিতে অনুমতি দিতে পারিবেন৷
৭০৷ (১) কোন প্রতিষ্ঠানে গ্রাইন্ডিং প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়- এ রকম প্রত্যেক কক্ষে ব্যবহৃত প্রত্যেক যন্ত্রের গায়ে অথবা উহার নিকটে স্থায়ীভাবে নিম্নলিখিত বিষয় বর্ণনা করিয়া একটি নোটিশ লটকাইয়া বা সাটিয়া দিতে হইবে যথাঃ-
(ক)
প্রত্যেক গ্রাইন্ড স্টোন অথবা এব্রোসিভ হুইলের
সর্বোচ্চ নিরাপদ গতিসীমা;
(খ)
যে শেফট্ অথবা স্পিন্ডল এর
উপর চাকাটি স্থাপিত উহার গতি;
(গ)
নিরাপদ গতি নিশ্চিত করার
জন্য প্রয়োজনীয় উক্তরূপ শেফট্ বা স্পিন্ডলের উপর
স্থাপিত পুলির পরিসীমা।
(২)
উক্ত নোটিশে উল্লিখিত গতি অতিক্রম করা
যাইবে না৷
(৩)
প্রত্যেক গতিশীল আধার, খাঁচা, ঝুড়ি, ফ্লাই-হুইল, পুলি ডিস্ক অথবা
শক্তি দ্বারা চালিত অনুরূপ যন্ত্রপাতি তাহাদের নির্ধারিত গতি যাহাতে অতিক্রম
না করিতে পারে ইহার জন্য
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
৭১৷ যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত কোন প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতির কোন অংশ স্বাভাবিক বায়ু চাপ অপেক্ষা অধিক চাপে পরিচালিত হয়, সে ক্ষেত্রে যেন উহা উহার নিরাপদ চাপ অতিক্রম না করে তজ্জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে৷
৭২৷ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক) সকল মেঝে, সিঁড়ি, চলাচল পথ মজবুতভাবে নির্মাণ করিতে এবং যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং প্রয়োজন হইলে উহাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মজবুত রেলিং এর ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং কর্মকালীন নিবিঘ্নে চলাচলের জন্য পথ ও সিঁড়ি উন্মুক্ত রাখিতে হইবে;
(খ)
যে স্থানে কোন সময়ে কোন
ব্যক্তিকে কাজ করিতে হয়,
সে স্থানে যাতায়াতের জন্য, যুক্তিসংগতভাবে যতদূর সম্ভব নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করিতে হইবে; এবং
(গ)
কর্মস্থলের চলাচলের পথ ও সিঁড়ি
পরিচ্ছন্ন, প্রশস্ত ও বাধা-বন্ধকহীন
হইতে হইবে
(ঘ)
মালিক কারখানা ও শ্রমিকদের সার্বিক
নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মস্থলের চলাচলের পথ, সিঁড়ি, গেইট,
গুদাম ও সাধারণ ব্যবহারি
স্থানসমূহ (Common
Utility Area) ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনিতে পারিবে।]
৭৩৷ যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন স্থির আধার, কূপ, গর্ত অথবা সুড়ঙ্গ পথ এমন হয় যে, উহার গভীরতা, অবস্থান, নির্মাণ, অথবা অভ্যন্তরস্থ বস্তুর কারণে ইহা বিপদের কারণ হইতে পারে, সে ক্ষেত্রে উহাকে মজবুতভাবে নিরাপদ ঘেরা অথবা ঢাকনা দিয়া রাখিতে হইবে৷
৭৪৷ কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিককে, তাহার ক্ষতি হইতে পারে এমন কোন ভারী জিনিস উত্তোলন, বহন অথবা নাড়াচাড়া করিতে দেওয়া যাইবে না৷
৭৫৷ উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় এরূপ কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকার বিধি দ্বারা এই নির্দেশ দিতে পারিবে যে, উক্তরূপ কোন প্রক্রিয়ায় যদি নিম্নবর্ণিত কোন আশংকা থাকে, তাহা হইলে উক্ত প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিকের চোখের নিরাপত্তা বিধানের জন্য উপযুক্ত চশমা বা চোখাবরণের ব্যবস্থা করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক)
প্রক্রিয়ার কারণে উৎক্ষিপ্ত বা বিচ্ছুরিত কণা
বা টুকরা হইতে চোখের বিপদের
আশংকা;
(খ) অতিমাত্রায় আলো বা উত্তাপের কারণে চোখের ক্ষতির আশংকা৷
৭৬৷ যদি কোন পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন ভবন বা উহার অংশ বিশেষ, অথবা উহার কোন পথ, যন্ত্রপাতি অথবা প্ল্যান্ট এমন অবস্থায় আছে যে, উহা মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ তাহা হইলে তিনি প্রতিষ্ঠানের মালিকের উপর লিখিত আদেশ জারী করিয়া, উহাতে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, নিম্নলিখিত কাজ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবেন, যথাঃ-
(ক)
উক্ত ভবন, রাস্তা, যন্ত্রপাতি
বা প্লান্ট নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যায় কি
না- উহা নির্ধারণের জন্য
প্রয়োজনীয় নকশা এবং অন্যান্য
তথ্য বা বিবরণ সরবরাহ
করা;
(খ)
কোন নির্দিষ্ট অংশের মান বা শক্তি
নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা
পরিচালনা করা এবং উহার
ফলাফল পরিদর্শককে অবহিত করা৷
৭৭৭৷ (১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কক্ষ, আধার, চৌবাচ্চা, গর্ত, পাইপ, ধূমপথ, অথবা অন্যান্য সীমাবদ্ধ স্থানে, যেখানে বিপজ্জনক ধোঁয়া এই পরিমাণে থাকার সম্ভাবনা আছে, যাহা দ্বারা কোন ব্যক্তির আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকিয়া যায়, কোন ব্যক্তি প্রবেশ করিতে পারিবেন না বা তাহাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হইবে না, যদি না সেখানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পরিমাপের কোন ম্যানহোল অথবা বাহির হইবার কার্যকর ব্যবস্থা থাকে৷
(২)
উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত
কোন সীমাবদ্ধ স্থানে ২৪ ভোল্টের অধিক
ভোল্টেজ যুক্ত কোন বহনযোগ্য বৈদ্যুতিক
বাতি উহার অভ্যন্তরে ব্যবহার
করার অনুমতি দেওয়া যাইবে না এবং যে
ক্ষেত্রে কোন ধোঁয়া দাহ্য
হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সে ক্ষেত্রে
দাহ্য নিরোধক বস্তু দ্বারা নির্মিত বাতি ছাড়া অন্য
কোন বাতি উক্ত স্থানে
ব্যবহার করার জন্য অনুমতি
দেওয়া যাইবে না৷
(৩)
কোন প্রতিষ্ঠানের উক্তরূপ কোন সীমাবদ্ধ স্থানে
কোন ব্যক্তি প্রবেশ করিবেন না বা প্রবেশ
করিবার অনুমতি দেওয়া যাইবে না, যদি না
উহা হইতে ধোঁয়া নিষ্কাশন
এবং প্রবেশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা করার জন্য সম্ভাব্য
সকল পন্থা গ্রহণ করা হয় এবং
যদি না নিম্নলিখিত যে
কোন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ
করা হয়-
(ক)
কোন উপযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরীক্ষান্তে এই মর্মে প্রত্যয়ন
পত্র প্রদান করা হয় যে,
স্থানটি বিপজ্জনক ধোঁয়া হইতে মুক্ত, এবং
উহা প্রবেশের জন্য উপযুক্ত; অথবা
(খ)
সংশ্লিষ্ট শ্রমিক একটি উপযুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র ব্যবহার করিতেছেন এবং তাহার কোমরবন্ধের
সঙ্গে এমন একটি রজ্জু
বাধা আছে যাহার খোলা
প্রান্ত উক্ত স্থানের বাহিরে
অবস্থানরত কোন ব্যক্তির হাতে
আছে৷
(৪)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্র, সজ্ঞান করার যন্ত্র, কোমরবন্ধ
এবং রজ্জু তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য উক্তরূপ স্থানের
নিকটেই মওজুদ রাখিতে হইবে, এবং উক্তরূপ সরঞ্জাম
কোন উপযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সময় সময় পরীক্ষিত
হইতে হইবে, এবং উহা ব্যবহারের
যোগ্য- এই মর্মে তৎকর্তৃক
প্রত্যয়িত হইতে হইবে, এবং
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তিকে উক্তরূপ সরঞ্জাম ব্যবহার এবং শ্বাস-প্রশ্বাস
প্রবাহ করার পন্থা সম্পর্কে
প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তিকে বয়লার, বয়লারের চুল্লি, ধূমপথ, আধার, চৌবাচ্চা, পাইপ অথবা কোন সীমাবদ্ধ স্থানে উহাতে কাজ করার জন্য অথবা উহাতে কোন পরীক্ষা পরিচালনার জন্য প্রবেশ করিবার অনুমতি প্রদান করা যাইবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না ইহা বায়ু প্রবাহের দ্বারা যথেষ্ট ঠাণ্ডা করা হইয়াছে অথবা অন্য কোনভাবে মানুষের প্রবেশের জন্য উপযুক্ত করা হইয়াছে৷
৭৮৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন উত্পাদন প্রক্রিয়ার কারণে উত্থিত গ্যাস, ধোঁয়া, বাষ্প বা ধুলা এমন প্রকৃতির বা এমন পরিমাণের হয় যে, উহা বিষ্ফোরিত বা প্রজ্জ্বলিত হইবার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে উক্তরূপ বিষ্ফোরণ বন্ধ করার জন্য নিম্নলিখিত পন্থায় সম্ভাব্য সর্বপ্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক)
প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতি ব্যবহারের
সময় উহা কার্যকরভাবে ঘিরিয়া
রাখিয়া;
(খ)
উক্তরূপ ধুলা, গ্যাস, ধোঁয়া বা বাষ্প নিষ্কাশন
বা উহার সঞ্চয় নিরোধ
করিয়া;
(গ)
দহনীয় হইবার সম্ভাব্য সকল উত্স কার্যকরভাবে
ঘিরিয়া রাখিয়া৷
(২)
যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন
প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত কোন প্ল্যান্ট বা
যন্ত্রপাতি এমনভাবে নির্মাণ করা হয় নাই
যাহাতে উহা উক্তরূপ বিষ্ফোরণের
ক্ষেত্রে উত্পন্ন সম্ভাব্য চাপ সহ্য করিতে
পারে সে ক্ষেত্রে উক্ত প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতিতে চোক,
বেফল্স, ভেন্টস বা
অন্য কোন কার্যকর যন্ত্রপাতি
ব্যবস্থা করিয়া উক্ত বিস্ফোরণের বিস্তার বা প্রভাব রোধ করার জন্য
সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ
করিতে হইবে৷
(৩)
যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের কোন প্ল্যান্ট বা যন্ত্রপাতির কোন
অংশ কোন বিস্ফোরক বা
দাহ্য গ্যাস বা বাষ্প স্বাভাবিক
বায়ু চাপ অপেক্ষা অধিক
চাপে থাকে, সেক্ষেত্রে উক্ত অংশ নিম্নলিখিত
পন্থা ব্যতীত খোলা যাইবে না,
যথাঃ-
(ক)
উক্ত কোন অংশের ঢাকনার
মুখের সঙ্গে সংযুক্ত কোন পাইপের সংযোগ
খুলিয়া দেওয়ার পূর্বে উক্ত অংশে কোন
গ্যাস বা বাষ্প প্রবেশ
অথবা উক্তরূপ পাইপ ষ্টপ-বালব্
দ্বারা বা অন্য কোন
পন্থায় বন্ধ করিতে হইবে;
(খ)
উক্তরূপ কোন বন্ধন অপসারণ
করিবার পূর্বে উক্ত অংশের অথবা
পাইপের গ্যাস বা বাষ্পের চাপ
স্বাভাবিক বায়ু চাপে কমাইয়া
আনার জন্য সম্ভাব্য সকল
ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে;
(গ)
যে ক্ষেত্রে উক্তরূপ কোন বন্ধন শ্লথ
বা অপসারণ করা হইয়াছে, সে
ক্ষেত্রে কোন বিষ্ফোরক বা
দাহ্য গ্যাস অথবা বাষ্প উক্ত
অংশে অথবা পাইপে, বন্ধন
শক্ত করিয়া বাধা না হওয়া
পর্যন্ত এবং নিরাপদভাবে প্রতিস্থাপিত
না হওয়া পর্যন্ত, প্রবেশ
নিরোধ করিবার জন্য সর্ব প্রকার
কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইেবঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, যে
ক্ষেত্রে কোন প্ল্যান্ট বা
যন্ত্রপাতি খোলা মাঠে স্থাপিত
হয়, সেক্ষেত্রে এই উপ-ধারার
বিধান প্রযোজ্য হইবে না৷
(৪)
যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন
প্ল্যান্ট, আধার বা চৌবাচ্চাতে
কোন বিস্ফোরক বা দাহ্য পদার্থ
থাকে বা কোন সময়
ছিল, সে ক্ষেত্রে উহাতে
তাপ ব্যবহার করিয়া কোনরূপ ঝালাই বা কাটার কাজ
করা যাইবে না, যদি না
উক্ত বস্তু বা ধোঁয়া অপসারণ
অথবা অদাহ্য বা অবিষ্ফোরক অবস্থায়
রূপান্তর করার জন্য প্রথমে
যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, এবং
উক্তরূপ কোন পদার্থ উক্ত
প্ল্যান্ট, আধার বা চৌবাচ্চায়
উক্তরূপ কোন কাজ করার
পর প্রবেশ করিতে দেওয়া যাইবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত
না সংশ্লিষ্ট ধাতু উক্ত বস্তুকে
দাহ্য করার বিপদ রোধ
করার মত যথেষ্ট ঠাণ্ডা
হয়৷
৭৮ক। (১) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকগণের ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও ব্যবহার নিশ্চিত করা ব্যতীত কাউকে কর্মে নিয়োগ করিতে পারিবে না এবং এই বিষয়ে মালিক কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় একটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২)
ব্যক্তিগত সুরক্ষা যন্ত্রপাতি সরবরাহের পর উহা ব্যবহার
করা না হইলে সংশ্লিষ্ট
শ্রমিকগণ দায়ী হইবেন।
(৩) কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সেইফটি নিশ্চিত করণের জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে কাজের ঝুকি সম্পর্কে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সচেতন করিতে হইবে।
৭৯৷ যে ক্ষেত্রে সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কর্ম পরিচালনায় ইহাতে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির সাংঘাতিক শারীরিক জখম, বিষাক্রান্ত বা ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সে ক্ষেত্রে সরকার বিধি দ্বারা উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে লিখিত বিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথাঃ-
(ক)
কোন কোন পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ উহা ঘোষণা;
(খ)
মহিলা, কিশোর এবং শিশুদের উক্ত
কাজে নিয়োগ নিষিদ্ধ করা;
(গ)
উক্ত কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক
ব্যক্তির নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং উক্ত
কাজের জন্য উপযুক্ত বলিয়া
প্রত্যয়িত হন নাই এই
রকম কোন ব্যক্তির ইহাতে
নিয়োগ নিষিদ্ধ করা;
(ঘ)
উক্ত কাজে নিযুক্ত ব্যক্তিগণের
বা উহার আশে পাশে
কর্মরত ব্যক্তিগণের সু-রক্ষার ব্যবস্থা
করা, এবং কর্ম পরিচালনার
ব্যাপারে বিশেষ কোন বস্তু বা
পন্থা ব্যবহার করা; এবং
(ঙ)
ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ সম্পর্কে নোটিশ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে
সতর্কতা অবলম্বন করার নোটিশ৷
৮০৷ (১) যদি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দুর্ঘটনা ঘটে, যাহাতে প্রাণহানি বা শারীরিক জখম হয়, অথবা যদি কোন প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ, প্রজ্জ্বলন, অগ্নিকাণ্ড, সবেগে পানি প্রবেশ বা ধুম্র উদ্গীরণ ঘটে, তাহা হইলে মালিক পরিদর্শককে পরবর্তী দুই কর্ম দিবসের মধ্যে তত্সম্পর্কে নোটিশ মারফত অবহিত করিবেন:
তবে
শর্ত থাকে যে, উল্লিখিত
ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সাথে সাথে সম্ভাব্য
ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা কিংবা পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে তাৎক্ষণিকভাবে
প্রয়োজনীয় কার্যক্রম আরম্ভের জন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ
বিষয়টি সরকার, ফায়ার সার্ভিস, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন
পরিদপ্তর, থানা, প্রয়োজনে নিকটবর্তী হাসপাতাল বা সরকারি-বেসরকারি
স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানকে ফোন,
মোবাইল ফোন, এসএমএস অথবা
ফ্যাক্সের মাধ্যমে অবহিত করিবে।
(২)
যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১)
এ উল্লিখিত কোন দুর্ঘটনায় শারীরিক
জখম হওয়ার কারণে উহা কোন আহত
শ্রমিককে আটচল্লিশ ঘন্টার অধিক সময় পর্যন্ত
কাজে অনুপস্থিত থাকিতে বাধ্য করে, সে ক্ষেত্রে
বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে ইহা লিপিবদ্ধ করিয়া
রাখিতে হইবে৷
(৩)
উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত
রেজিস্টারে লিখিত বিবরণের একটি কপি মালিক
প্রত্যেক বত্সর ৩০শে জুন এবং
৩১শে ডিসেম্বর এর পরবর্তী পনর
দিনের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
৮১৷ যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত প্রকৃতির কোন বিপজ্জনক ঘটনা ঘটে সে ক্ষেত্রে, উহাতে কোন শারীরিক জখম হউক বা না হউক, মালিক পরবর্তী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তত্সম্পর্কে নোটিশ মারফত পরিদর্শককে অবহিত করিবেন৷
৮২৷ (১) যে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত ব্যাধি দ্বারা কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিক আক্রান্ত হন, সে ক্ষেত্রে মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক অথবা তত্কর্তৃক নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে ও সময়ের মধ্যে, তত্সম্পর্কে পরিদর্শককে নোটিশ মারফত অবহিত করিবেন৷
(২)
যদি কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক
কোন প্রতিষ্ঠানের বর্তমান বা ভূতপূর্ব কোন
শ্রমিককে চিকিৎসাকালে দেখেন যে, তিনি দ্বিতীয়
তফসিলে উল্লিখিত কোন ব্যাধিতে ভুগিতেছেন
বা ভুগিতেছেন বলিয়া তাহার সন্দেহ হইতেছে, তাহা হইলে উক্ত
চিকিৎসক অবিলম্বে একটি লিখিত রিপোর্ট
মারফত প্রধান পরিদর্শককে নিম্নলিখিত বিষয় অবহিত করিবেন,
যথাঃ-
(ক)
রোগীর নাম এবং ডাক
যোগাযোগের ঠিকানা;
(খ)
রোগী যে রোগে ভুগিতেছেন
বা ভুগিতেছেন বলিয়া সন্দেহ হইতেছে, তাহার নাম;
(গ)
যে প্রতিষ্ঠানে রোগী বর্তমানে কাজ
করিতেছেন বা সর্বশেষ কাজ
করিয়াছেন, তাহার নাম ও ঠিকানা৷
(২ক)
প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট মালিক উক্তরূপ পেশাগত ব্যাধিতে আক্রান্ত, ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করিবেন।
(৩)
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দ্বিতীয় তফসিলে কোন নূতন রোগ
সংযোজন করিতে পারিবে অথবা উহা হইতে
কোন রোগ বাদ দিতে
পারিবে৷
৮৩৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা জনিত বিস্ফোরণ, প্রজ্জ্বলন, অগ্নিকাণ্ড বা সবেগে পানি প্রবেশ অথবা অন্য কোন দুর্ঘটনা ঘটে, অথবা যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত কোন ব্যাধির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় বা দিয়াছে বলিয়া সন্দেহ হয়, এবং সরকার যদি মনে করে যে, উক্তরূপ দুর্ঘটনা বা ব্যাধির উদ্ভবের কারণ ও তত্সম্পর্কিত পরিস্থিতি সম্বন্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, সে ক্ষেত্রে সরকার কোন যোগ্য ব্যক্তিকে উক্তরূপ তদন্ত করিবার জন্য নিযুক্ত করিতে পারিবে, এবং আইনের বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ জ্ঞানসম্পন্ন কোন ব্যক্তিকে তদন্তকালে এসেসর হিসাবে কাজ করার জন্য নিযুক্ত করিতে পারিবে৷
(২)
উক্ত তদন্তকারী ব্যক্তির, কোন সাক্ষীর উপস্থিতি,
দলিল বা অন্য কোন
বস্তু পেশ নিশ্চিত করার
প্রয়োজনে এতদসংক্রান্ত দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দেওয়ানী আদালতের
সকল ক্ষমতা থাকিবে, এবং কোন ব্যক্তিকে
তদন্তের উদ্দেশ্যে কোন সংবাদ দেওয়ার
জন্য তিনি নির্দেশ দিলে
সে ব্যক্তি দণ্ড বিধির ধারা
১৭৬ এর অর্থে উহা
করিতে আইনত বাধ্য বলিয়া
গণ্য হইবেন৷
(৩)
তদন্তের প্রয়োজনে উক্ত তদন্তকারী এই
আইনের অধীন কোন পরিদর্শকের
যে যে ক্ষমতা তাহার
প্রয়োগ করার প্রয়োজন বলিয়া
মনে করেন, তাহা তিনি প্রয়োগ
করিতে পারিবেন৷
(৪)
তদন্তকারী ব্যক্তি সরকারের নিকট তাহার রিপোর্ট
পেশ করিবেন এবং এই রিপোর্টে
দুর্ঘটনার কারণ এবং তত্সম্পর্কিত
পরিস্থিতি লিপিবদ্ধ করিবেন, এবং এতদবিষয়ে তাহার
এবং এসেসরের কোন মন্তব্য থাকিলে
তাহাও ব্যক্ত করিবেন৷
(৫) সরকার, তৎকর্তৃক নির্ধারিত সময় ও পন্থায়, উক্ত রিপোর্ট প্রকাশ করিবে৷
৮৪৷ (১) কোন পরিদর্শক, কোন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্ম সময়ে, মালিককে সংবাদ দিয়া প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত বা ব্যবহারের জন্য আনীত কোন বস্তুর নমুনা, অতঃপর বর্ণিত পন্থায়, সংগ্রহ করিতে পারিবেন, যদি তাহার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত বস্তু এই আইন বা কোন বিধির খেলাপ করিয়া ব্যবহার করা হইতেছে অথবা ইহার ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের শারীরিক ক্ষতি বা স্বাস্থ্য হানি ঘটাইতে পারে৷
(২)
যে ক্ষেত্রে কোন পরিদর্শক উক্তরূপ
নমুনা সংগ্রহ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি,
মালিক ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত না থাকিলে তাহার
উপস্থিতিতে, সংগৃহীত নমুনা তিন অংশে বিভক্ত
করিবেন, এবং উহার প্রত্যেক
অংশকে ভালভাবে সীল এবং যথাযথ
চিহ্নিত করিয়া দিবেন, এবং মালিককেও উহাতে
তাহার নিজস্ব সীল ও চিহ্ন
দিবার অনুমতি দিবেন৷
(৩)
পরিদর্শক অনুরোধ করিলে, মালিক সংগৃহীত নমুনা বিভক্তিকরণ এবং উহা সীল
ও চিহ্নিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের
ব্যবস্থা করিবেন৷
(৪)
পরিদর্শক উপরিউক্ত নমুনার এক অংশ সঙ্গে
সঙ্গে মালিককে প্রদান করিবেন, দ্বিতীয় অংশ বিশ্লেষণ করতঃ
ইহার উপর রিপোর্ট প্রদানের
জন্য সরকারী বিশ্লেষকের নিকট প্রেরণ করিবেন,
এবং তৃতীয় অংশ, নমুনা বস্তুটি
সম্পর্কে কোন ফৌজদারী মামলা
হইলে আদালতে পেশ করিবার জন্য,
নিজের কাছে রাখিয়া দিবেন৷
(৫) এই ধারার অধীন সরকারী বিশ্লেষক কর্তৃক প্রণীত কোন নমুনা বস্তুর উপর রিপোর্ট অনুরূপ বস্তু সম্বন্ধে দায়েরকৃত কোন মামলায় সাত্মগ্য হিসাবে ব্যবহার করা যাইবে৷
৮৫৷ (১) এই আইনে কোন বিষয় সম্বন্ধে সুস্পষ্ট বিধান নাই এরূপ কোন ক্ষেত্রে, যদি পরিদর্শকের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠান বা উহার অংশবিশেষ অথবা উহাতে বা উহার সহিত সংশ্লিষ্ট নষ্ট বা উহা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত কোন ব্যাপার বা রীতি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক, অথবা এমন ত্রুটিপূর্ণ যে উহা মানুষের শারীরিক ক্ষতি করিতে পারে, তাহা হইলে তিনি লিখিত নোটিশ দ্বারা তত্সম্পর্কে মালিককে অবহিত করিতে পারিবেন এবং নোটিশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে ও পদ্ধতিতে, যে যে কারণে উহা বিপজ্জনক বা ক্ষতিকারক বা ত্রুটিপূর্ণ তাহা দূরীভূত করার নির্দেশ দিতে পারিবেন৷
(২)
উপ-ধারা (১) এর বিধানের
হানি না করিয়া, পরিদর্শক
লিখিত আদেশ দ্বারা কোন
প্রতিষ্ঠানের মালিককে তাহার প্রতিষ্ঠানের বা উহার কোন
অংশের কোন স্তম্ভ উপড়াইয়া
ফেলা বা কমাইয়া ফেলা
নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন, যদি তাহার মতে
ইহা দ্বারা অন্য কোন স্তম্ভভ
ভাঙ্গিয়া পড়ার অথবা প্রতিষ্ঠানের
কোন অংশ অকালে ধ্বসিয়া
পড়ার সম্ভাবনা থাকে অথবা ইহা
প্রতিষ্ঠানের জন্য বিপজ্জনক হয়৷
(৩)
যদি পরিদর্শকের মতে কোন প্রতিষ্ঠানে
কর্মরত কোন ব্যক্তির জীবন
ও নিরাপত্তা আশু বিপদের সম্মুখীন
তাহা হইলে, তিনি সংশ্লিষ্ট মালিককে
প্রদত্ত লিখিত আদেশ দ্বারা তাহার
এই মতের কারণ বর্ণনা
করিয়া, বিপদ অপসারিত হইয়াছে
এই মর্মে তিনি সন্তুষ্ট না
হওয়া পর্যন্ত, উক্ত প্রতিষ্ঠানে বা
উহার কোন অংশে কোন
ব্যক্তির নিয়োগ নিষিদ্ধ করিতে পারিবেন, তবে কোন ব্যক্তি
উক্ত বিপদ অপসারণের কাজে
নিযুক্ত থাকিলে তত্সম্পর্কে এই আদেশ প্রযোজ্য
হইবে না৷
(৪)
উপ-ধারা (৩) এর অধীন
প্রদত্ত আদেশ দ্বারা সংক্ষুদ্ধ
কোন মালিক আদেশ প্রাপ্তির দশ
দিনের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে প্রধান
পরিদর্শকের নিকট আপীল করিতে
পারিবেন, এবং তিনি এই
আদেশ বহাল, সংশোধন বা বাতিল করিতে
পারিবেন৷
(৫)
উপ-ধারা (১) এবং (৩)
এর অধীন প্রদত্ত প্রত্যেক
আদেশ সম্পর্কে পরিদর্শক তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ
করিবেন, এবং সংশ্লিষ্ট মালিককে
এই রিপোর্ট প্রদান সম্পর্কে অবহিত করিবেন৷
(৬)
প্রধান পরিদর্শক উপ-ধারা (৪)
এর অধীন তৎকর্তৃক প্রদত্ত
বাতিলের আদেশ ব্যতীত অন্য
কোন আদেশ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে
সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ
করিবেন, এবং এই রিপোর্ট
প্রদান সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মালিককেও অবহিত করিবেন৷
(৭)
কোন মালিকের উপ-ধারা (১),
(৩) অথবা (৪) এর অধীন
প্রদত্ত কোন আদেশের বিরুদ্ধে
আপত্তি থাকিলে তিনি আদেশ প্রাপ্তির
বিশ দিনের মধ্যে উক্ত আপত্তি এবং
উহার কারণ লিপিবদ্ধ করতঃ
সরকারের নিকট লিখিতভাবে জানাইবেন
এবং সরকার উহা একটি কমিটির
নিকট সিদ্ধান্তের জন্য প্রেরণ করিবে৷
(৮)
উক্ত কমিটির সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত,
যে আদেশের বিরম্নদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করা হইয়াছে মালিককে
উহা মানিয়া চলিতে হইেবঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, মালিকের
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি উহার সিদ্ধান্ত না
দেওয়া পর্যন্ত উপ-ধারা (১)
এর অধীন প্রদত্ত আদেশ
সাময়িকভাবে স্থগিত রাখিতে পারিবে৷
৮৬৷ (১) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক দেখিতে পান যে, উহার কোন ভবন বা যন্ত্রপাতি, যাহা শ্রমিকেরা সাধারণতঃ ব্যবহার করেন এমন বিপজ্জনক অবস্থায় আছে যে, উহা যে কোন সময় কোন শ্রমিকের শারীরিক জখম প্রাপ্তির কারণ হইতে পারে, সে ক্ষেত্রে তিনি অবিলম্বে তৎসম্পর্কে লিখিতভাবে মালিককে অবহিত করিবেন৷
(২)
উক্তরূপ সংবাদ প্রাপ্তির পর মালিক যদি
তিন দিনের মধ্যে তৎসম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হন এবং উক্ত
ভবন বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার
করার কারণে কোন শ্রমিক যদি
জখম প্রাপ্ত হন তাহা হইলে
মালিক, অনুরূপ জখমপ্রাপ্ত শ্রমিককে, দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন উক্তরূপ জখমের
জন্য প্রদেয় ক্ষতিপূরণের দ্বিগুন হারে ক্ষতিপূরণ দিতে
বাধ্য থাকিবেন৷
৮৭৷ ধারা ৩৯, ৪০ এবং ৪২ এর বিধানগুলি কিশোর শ্রমিকগণের জন্য যেমন প্রযোজ্য মহিলা শ্রমিকগণের জন্যও তেমন প্রযোজ্য হইবে৷
৮৮৷ (ক) কোন প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকগণের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত বিধান বা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে;
(খ)
কোন ভবনের দৃঢ় অবস্থা সম্পর্কে
বিধি দ্বারা নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি কর্তৃক
বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র
প্রধান পরিদর্শকের নিকট না পৌঁছা
পর্যন্ত উক্ত ভবনে শক্তি
চালিত কোন উৎপাদন প্রক্রিয়া
চালানো নিষিদ্ধ করিতে পারিবে৷
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে সকল কর্ম সময়ে যাহাতে সহজে পাওয়া যায় এমনভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সমৃদ্ধ বাক্স অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত সরঞ্জাম সমৃদ্ধ আলমিরার ব্যবস্থা করিতে হইবে৷
(২)
উক্তরূপ বাক্স বা আলমিরার সংখ্যা,
প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ নিয়োজিত প্রত্যেক একশত পঞ্চাশ জন
শ্রমিকের জন্য একটির কম
হইবে না৷
(৩)
প্রত্যেক প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স অথবা আলমিরা এমন
একজন দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির জিম্মায় থাকিবে যিনি প্রাথমিক চিকিত্সায়
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং যাহাকে প্রতিষ্ঠানের
সকল কর্ম সময়ে পাওয়া
যাইবে৷
(৪)
প্রত্যেক কর্ম-কক্ষে উক্ত
ব্যক্তির নাম সম্বলিত একটি
নোটিশ টাংগাইয়া দেওয়া হইবে এবং উক্ত
ব্যক্তি তাহাকে সহজে সনাক্ত করা
যায় মত ব্যাজ পরিধান
করিবেন৷
(৫)
যে সকল প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ
তিনশ বা ততোধিক শ্রমিক
নিয়োজিত থাকেন সে সকল প্রতিষ্ঠানে
বিধি দ্বারা নির্ধারিত মাপের ও যন্ত্রপাতি সজ্জিত
অথবা অন্যান্য সুবিধা সম্বলিত ডিসপেনসারীসহ একটি রোগী কক্ষ
থাকিবে, এবং উক্ত কক্ষটি
বিধি দ্বারা নির্ধারিত চিকিৎসক ও নার্সিং স্টাফের
দায়িত্বে থাকিবে৷
(৬) যে সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহে পাঁচ হাজার বা ততোধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন সেই সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক বা মালিকগণ বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় একটি স্থায়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনার ব্যবস্থা করিবেন।
(৭) পেশাগত রোগে বা কর্মকালীন দুর্ঘটনায় আক্রান্ত শ্রমিক ও কর্মচারীকে মালিকের নিজ খরচে ও দায়িত্বে উক্ত রোগ, আঘাত বা অসুস্থতা উপযুক্ত বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করিতে হইবে।
(৮)
প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যেখানে ৫০০ জন বা
ততোধিক সংখ্যক শ্রমিক নিযুক্ত রহিয়াছেন সেই সব প্রতিষ্ঠানের
মালিক বিধি দ্বারা নির্ধারিত
পদ্ধতিতে কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিবেন।
পঁচিশ জনের অধিক শ্রমিক সম্বলিত প্রত্যেক কারখানা/প্রতিষ্ঠানে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক সেইফটি রেকর্ড বুক সংরক্ষণ ও সেইফটি তথ্য বোর্ড প্রদর্শন করিতে হইবে ৷
পঞ্চাশ বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক কারখানায় বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সেইফটি কমিটি গঠন এবং উহাকে কার্যকর করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে-
(ক)
উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ সংখ্যক
উপযুক্ত গোসলখানা ও ধৌতকরণের সুবিধা
এবং উহার রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা
থাকিতে হইবে;
(খ)
উক্তরূপ সুবিধাদি পুরুষ ও মহিলা শ্রমিকগণের
জন্য স্বতন্ত্রভাবে থাকিতে হইবে, এবং উহা যথাযথভাবে
পর্দাঘেরা থাকিবে;
(গ)
উক্তরূপ সুবিধাদি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখিতে হইবে এবং সহজে
গমনযোগ্য হইতে হইবে ৷
(২)
সরকার বিধি দ্বারা কোন
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উক্তরূপ সুবিধাদির মান নির্ধারণ করিতে
পারিবে ৷
(১) যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ একশত জনের অধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন সে প্রতিষ্ঠানে তাহাদের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ সংখ্যক ক্যান্টিন থাকিবে৷
(২)
সরকার বিধি দ্বারা-
(ক)
কোন ক্যান্টিনের নির্মাণ, স্থান সংস্থান, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জামের
মান নির্ধারণ করিবে;
(খ)
ক্যান্টিনের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা
কমিটি গঠন এবং উহার
ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক প্রতিনিধত্বের জন্য বিধান করিতে
পারিবে ৷
(৩)
ক্যান্টিনে কি ধরণের খাদ্য
সরবরাহ করা হইবে এবং
উহার মূল্য কত হইবে তাহা
উক্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্ধারণ করিবে ৷
(১) যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ একশত জনের অধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন সে প্রতিষ্ঠানে তাহাদের ব্যবহারের জন্য যথেষ্ঠ সংখ্যক ক্যান্টিন থাকিবে৷
(২)
সরকার বিধি দ্বারা-
(ক)
কোন ক্যান্টিনের নির্মাণ, স্থান সংস্থান, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জামের
মান নির্ধারণ করিবে;
(খ)
ক্যান্টিনের জন্য একটি ব্যবস্থাপনা
কমিটি গঠন এবং উহার
ব্যবস্থাপনায় শ্রমিক প্রতিনিধত্বের জন্য বিধান করিতে
পারিবে ৷
(৩)
ক্যান্টিনে কি ধরণের খাদ্য
সরবরাহ করা হইবে এবং
উহার মূল্য কত হইবে তাহা
উক্ত ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্ধারণ করিবে ৷
(১) সাধারণতঃ চল্লিশ বা ততোধিক মহিলা শ্রমিক নিয়োজিত আছেন এরূপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে তাহাদের ছয় বৎসরের কম বয়সী শিশু সন্তানগণের ব্যবহারের জন্য এক বা একাধিক উপযুক্ত কক্ষের ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে ৷
(২)
উক্তরূপ কোন কক্ষে যথেষ্ট
স্থান সংস্থান, আলো ও বায়ু
চলাচলের ব্যবস্থা থাকিবে, এবং উহা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে
হইবে, এবং কক্ষটি শিশুদের
পরিচর্যার জন্য অভিজ্ঞ বা
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলার তত্ত্বাবধানে থাকিবে ৷
(৩) উক্তরূপ কক্ষ শিশুদের মায়েদের জন্য সহজগম্য হইতে হইবে, এবং যুক্তিসংগতভাবে যতদূর সম্ভব উহা প্রতিষ্ঠানের এমন কোন অংশের সংলগ্ন বা নিকটে অবস্থিত হইবে না যেখান হইতে বিরক্তিকর ধোঁয়া, ধুলাবালি বা গন্ধ নির্গত হয়, অথবা যেখানে অতি মাত্রায় শব্দময় কাজ-কর্ম পরিচালিত হয় ৷
(৪)
উক্তরূপ কক্ষ মজবুতভাবে নির্মাণ
করিতে হইবে, এবং ইহার সকল
দেওয়ালে ও ছাদে উপযুক্ত
তাপ প্রতিরোধক বস্তু থাকিতে হইবে এবং ইহা
পানি-রোধক হইতে হইবে ৷
(৫)
উক্তরূপ কক্ষের উচ্চতা মেঝে হইতে ছাদের
সর্বনিম্ন অংশ পর্যন্ত ৩৬০
সেণ্টিমিটারের নীচে হইবে না,
এবং উহাতে অবস্থানরত প্রত্যেক শিশুর জন্য মেঝের পরিমাণ
হইবে কমপক্ষে ৬০০ বর্গ সেণ্টিমিটার ৷
(৬)
উক্তরূপ কোন কক্ষের প্রত্যেক
অংশের জন্য প্রচুর আলো-বাতাস ও মুক্ত বায়ু
সঞ্চালনের উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা
থাকিতে হইবে ৷
(৭)
উক্তরূপ কোন কক্ষ যথেষ্ট
আসবাবপত্র দ্বারা সজ্জিত থাকিবে এবং বিশেষ করিয়া
প্রত্যেক শিশুর জন্য বিছানাসহ একটি
খাট বা দোলনা থাকিবে,
এবং প্রত্যেক মা যখন শিশুকে
দুধ পান করাইবেন বা
পরিচর্যা করিবেন, তখন তাহার ব্যবহারের
জন্য অন্ততঃ একটি চেয়ার বা
এই প্রকারের কোন আসন থাকিতে
হইবে, এবং তুলনামূলকভাবে বয়স্ক
শিশুদের জন্য যথেষ্ট ও
উপযুক্ত খেলনার সরবরাহ থাকিতে হইবে ৷
(৮)
তুলনামূলকভাবে বয়স্ক শিশুদের জন্য একটি উপযুক্ত
ঘেরা দেওয়া ছায়াময় উন্মুক্ত খেলার মাঠ থাকিবেঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, প্রধান
পরিদর্শক লিখিত আদেশ দ্বারা কোন
প্রতিষ্ঠানকে এই উপ-ধারার
বিধান হইতে অব্যাহতি দিতে
পারিবেন যদি তিনি এই
মর্মে সন্তুষ্ট হন যে উক্তরূপ
খেলার মাঠ করার জন্য
প্রতিষ্ঠানের যথেষ্ট জায়গা নাই ৷
কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা থাকিলে, আবাসন বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শ্রমিকগণকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
সরকার চা বাগান সম্পর্কে-
(ক)
বিধি প্রণয়ন করিয়া উহার প্রত্যেক মালিককে
সেখানে নিযুক্ত শ্রমিকগণ এবং তাহাদের শিশু
সন্তানগণের জন্য বিধিতে উল্লিখিত
বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশ
দিতে পারিবে;
(খ)
যে তেগত্রে কোন চা-বাগানের
শ্রমিকগণের ছয় হইতে বারো
বছর বয়সী শিশু সন্তানগণের
সংখ্যা পঁচিশ এর উপরে হয়
সে তেগত্রে, বিধি প্রণয়ন করিয়া
উহার মালিককে, বিধিতে উল্লিখিত প্রকারে এবং মানের শিশুদের
শিতগার সুযোগ এর ব্যবস্থা করিবার
জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে;
(গ)
প্রতিটি চা বাগানে শ্রমিকদের
এবং তাহাদের সন্তানদের জন্য বিধি দ্বারা
নির্ধারিত পন্থায় উপযুক্ত চিকিত্সা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে ৷
প্রত্যেক চা বাগানের মালিক চা বাগানে বসবাসরত প্রত্যক শ্রমিক এবং তাহার পরিবারের জন্য গৃহায়নের সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন ৷
প্রত্যেক চা বাগানের মালিক চা বাগানে বসবাসরত প্রত্যক শ্রমিক এবং তাহার পরিবারের জন্য গৃহায়নের সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন ৷
চা বাগানের প্রত্যেক মালিক তাহার শ্রমিকগণের জন্য সহজগম্য স্থানে তাহাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস প্রাপ্তির সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন ৷
প্রত্যেক সংবাদপত্র শ্রমিক এবং তাহার উপর নির্ভরশীলগণ সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের খরচে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় ও পরিমাণে চিকিৎসা পরিচর্যা পাইবার অধিকারী হইবেন ৷
ব্যাখ্যাঃ
এই ধারার প্রয়োজনে নির্ভরশীল” বলিতে কোন সংবাদপত্র শ্রমিকের
স্বামী অথবা স্ত্রী, বিধবা
মা, আতুর পিতা-মাতা
এবং বৈধ পুত্র ও
কন্যাকে বুঝাইবে, যাহারা উক্ত শ্রমিকের সহিত
বসবাস করেন এবং তাহার
উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ৷
(১) যে সকল প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০০ জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন, সেইখানে মালিক প্রচলিত বীমা আইন অনুযায়ী গ্রুপ বীমা চালু করিবেন।
(২)
বীমা দাবীর টাকা এই আইনের
অধীন শ্রমিকের অন্যান্য প্রাপ্যের অতিরিক্ত হইবে;
তবে
শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের
মৃত্যুর ক্ষেত্রে বীমা দাবী আদায়
মালিকের দায়িত্ব হইবে এবং মালিক
উক্ত বীমা দাবী হইতে
আদায়কৃত অর্থ পোষ্যদের সরাসরি
প্রদানের ব্যবস্থা করিবেন:
আরও
শর্ত থাকে যে, অন্য
আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুন
না কেন, এই ধারা
অনুযায়ী কোন বীমা দাবী
উত্থাপিত হইলে উহা অনুর্ধ
একশত বিশ দিনের মধ্যে
বীমা কোম্পানী ও মালিক যৌথ
উদ্যোগে নিস্পত্তি করিবেন।
(৩)
উপ-ধারা (১) ও (২)
এ যাহা কিছুই থাকুক
না কেন, ধারা ২৩২
এর উপ-ধারা (৩)
এর অধীন শতভাগ রপ্তানিমুখী
শিল্প সেক্টর অথবা শতভাগ বৈদেশিক
মুদ্রা বিনিয়োগকারী শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প সেক্টরসহ অন্যান্য শিল্প সেক্টরে সরকার কর্তৃক কেন্দ্রীয় তহবিল স্থাপিত হইলে উক্ত শিল্প
সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য গ্রুপ বীমা
করিবার প্রয়োজন হইবে না এবং
এইরূপ ক্ষেত্রে শ্রমিকের গ্রুপ বীমার সমপরিমাণ অর্থ উক্ত তহবিল
হইতে প্রদান করা হইবে:
তবে
শর্ত থাকে যে, কেন্দ্রীয়
তহবিলের শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ
অর্থ গ্রুপ বীমার পরিবর্তে প্রদানের নিমিত্ত এবং অবশিষ্ট শতকরা
৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ অর্থ শ্রমিকের
কল্যাণে ব্যবহৃত হইবে।
১০০। কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ দৈনিক আট ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে নাঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, ধারা
১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে
কোন প্রতিষ্ঠানে উক্তরূপ কোন শ্রমিক দৈনিক
দশ ঘণ্টা পর্যন্ত ও কাজ করিতে
পারিবেন।
১০১। কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিক-
(ক)
দৈনিক ছয় ঘণ্টার অধিক
কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না
উক্ত দিনে তাহাকে বিশ্রাম
বা আহারের জন্য এক ঘণ্টা
বিরতি দেওয়া হয়;
(খ)
দৈনিক পাঁচ ঘণ্টার অধিক
কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না
উক্ত দিনে উক্ত উদ্দেশ্যে
তাহাকে আধা ঘণ্টা বিরতি
দেওয়া হয়, অথবা
(গ)
দৈনিক আট ঘন্টার অধিক
কাজ করিতে বাধ্য থাকিবেন না, যদি না
উক্ত দিনে উক্ত উদ্দেশ্যে
তাহাকে দফা (ক) এর
অধীন একটি বিরতি অথবা
দফা (খ) এর অধীন
দুইটি বিরতি দেওয়া হয়;
(ঘ)
এই আইনে যাহা কিছুই
থাকুক না কেন, নির্মাণ,
রি-রোলিং, ষ্টিল মিলস, জাহাজ ভাঙ্গা, ঝালাই (welding) সহ শারীরিক ঝুঁকিপূর্ণ
ও পরিশ্রমী কাজে নিয়োজিত বিভিন্ন
ধরণের কারখানায় বিধি দ্বারা নির্ধারিত
পদ্ধতিতে সরকার কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের সময়
নির্ধারণ করিবে।
১০২।(১) কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সাধারণতঃ সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময় কাজ করিবেন না বা তাহাকে দিয়ে কাজ করানো যাইবে না।
(২) ধারা ১০৮ এর বিধান সাপেক্ষে, কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টার অধিক সময়ও কাজ করতে পারিবেনঃ
তবে
শর্ত থাকে যে, কোন
সপ্তাহে উক্তরূপ কোন শ্রমিকের মোট
কর্ম-সময় ষাট ঘণ্টার
অধিক হইবে না, এবং
কোন বৎসরে উহা গড়ে প্রতি
সপ্তাহে ছাপ্পান্ন ঘণ্টার অধিক হইবে নাঃ
আরও
শর্ত থাকে যে, কোন
সড়ক পরিবহণ প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত কোন শ্রমিকের সর্বমোট
অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা বৎসরে একশত পঞ্চাশ ঘণ্টার
অধিক হইবে নাঃ
আরও
শর্ত থাকে যে, বিশেষ
বিশেষ শিল্পের ক্ষেত্রে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা আরোপিত
শর্তে, এ ধারার বিধান
শিথিল করিতে অথবা উহা হইতে
এককালীন সর্বোচ্চ ছয় মাস মেয়াদের
জন্য অব্যাহতি দিতে পারিবে যদি
সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট
হয় যে, জনস্বার্থে/অর্থনৈতিক
উন্নয়নের স্বার্থে উক্ত শিথিল/অব্যাহতি
প্রয়োজনীয়।
১০৩। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন শ্রমিক-
(ক)
প্রতি সপ্তাহে কারখানা ও শিল্পের ক্ষেত্রে
একদিন এবং দোকান ও
প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেড় দিন ছুটি
পাইবেন;
(খ)
সড়ক পরিবহণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি সপ্তাহে অবিচ্ছিন্ন চবি্বশ ঘণ্টার একদিন ছুটি পাইবেন;
(গ)
উপরোক্ত দফা (ক) ও
(খ) এর আওতায় কোন
ছুটির জন্য শ্রমিকের মজুরী
হইতে কোন কর্তন করা
যাইবে না।
১০৪। যে ৰেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানকে বা উহাতে কর্মরত শ্রমিকগণকে ধারা ১০৩ এর বিধান হইতে অব্যাহতি প্রদান করিয়া জারীকৃত কোন আদেশের ফলে অথবা এই আইনের অধীন প্রণীত কোন বিধির ফলে কোন শ্রমিক উক্ত ধারার অধীন তাহার প্রাপ্য কোন ছুটি হইতে বঞ্চিত হন সে ৰেত্রে, উক্ত শ্রমিককে অবস্থা অনুযায়ী যথাশীঘ্র সম্ভব উক্তরূপ ছুটির দিনের সম সংখ্যক ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে:
তবে
শর্ত থাকে যে, শ্রমিকগণ
ইচ্ছা প্রকাশ করিলে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি
বা অংশগ্রহণকারী কমিটির সহিত আলোচনা সাপেক্ষে
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাজ করিয়া
পরে উক্ত সাপ্তাহিক ছুটি
উৎসব-ছুটির সঙ্গে যোগ করিয়া ভোগ
করিতে পারিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে
সাপ্তাহিক ছুটির দিনের কাজের জন্য কোনো অধিকাল
ভাতা প্রদেয় হইবে না।
১০৫। কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের কাজের সময় এমনভাবে ব্যবস্থা করিতে হইবে যেন, ধারা ১০১ এর অধীন তাহার আহার ও বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ইহা দশ ঘণ্টার অধিক সমপ্রসাারিত না হয়, তবে সরকার কর্তৃক সাধারণভাবে অথবা কোনো সেক্টরভিত্তিক] অথবা কোন বিশেষ প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে প্রদত্ত অনুমতির ভিত্তিতে এবং তৎকর্তৃক আরোপিত শর্তে ইহার ব্যতিক্রম করা যাইবে।
১০৬। যেক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের কোন পালার কাজ মধ্য রাত্রির পরেও সমপ্রসারিত হয় সে ক্ষেত্রে-
(ক)
ধারা ১০৩ এর প্রয়োজনে
উক্ত শ্রমিকের জন্য একটি পূর্ণ
দিনের ছুটি বলিতে বুঝাইবে
তাহার পালা শেষ হওয়ার
সময় হইতে পরবর্তী অবিচ্ছিন্ন
চব্বিশ ঘণ্টা; এবং
(খ)
তাহার জন্য পরবর্তী দিন
বলিতে বুঝাইবে তাহার পালা শেষ করার
পর পরবর্তী অবিচ্ছিন্ন চবি্বশ ঘণ্টা, এবং মধ্য রাত্রির
পর তিনি যত ঘণ্টা
কাজ করিয়াছেন তাহা তাহার পূর্ববর্তী
দিনের কাজের সময়ের সহিত গণনা করা
হইবে।
১০৭। এই আইনের অধীন অনুমোদিত সময়ের অতিরিক্ত কোন সময় কোন শ্রমিক কোন যানবাহনে বা একাধিক যানবাহনে কাজ করিবেন না বা তাহাকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হইবে না।
১০৮। (১) যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিন বা সপ্তাহে এই আইনের অধীন নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত সময় কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি অধিকাল কাজের জন্য তাহার মূল মজুরী ও মহার্ঘভাতা এবং এডহক বা অন্তবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর সাধারণ হারের দ্বিগুণ হারে ভাতা পাইবেন।
(২)
ঠিকা-হার (পিস রেট)
ভিত্তিতে মজুরিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১)
এর বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(৩)
এই ধারার বিধান পালন নিশ্চিত করার
লক্ষে সরকার কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক
রক্ষণীয় রেজিস্টার বিধিদ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
১০৯। কোন মহিলা শ্রমিককে তাহার বিনা অনুমতিতে কোন প্রতিষ্ঠানে রাত দশ ঘটিকা হইতে ভোর ছয় ঘটিকা পর্যনত্দ সময়ের মধ্যে কোন কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।
১১০। প্রধান পরিদর্শকের বিনা অনুমতিতে এবং তৎকর্তৃক আরোপিত শর্ত ব্যতীত, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিতে দেওয়া হইবে না।
১১১। (১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে উহাতে কর্মরত প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকগণ কোন্ কোন্ সময় কাজ করিবেন ইহা পরিষ্কারভাবে লিখিয়া একটি নোটিশ ধারা ৩৩৭ এর বিধান অনুযায়ী প্রদর্শিত হইবে এবং প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধভাবে রক্ষিত হইবে।
(২)
উক্ত নোটিশে প্রদর্শিত সময় এই ধারার
বিধান অনুযায়ী পূর্বেই স্থির করিতে হইবে এবং উহা
এমন হইবে যেন উক্ত
সময়ে কর্মরত শ্রমিকগণকে ধারা ১০০, ১০১,
১০২, ১০৩ এবং ১০৫
এর বিধানের খেলাপ করিয়া কাজ না করানো
হয়।
(৩)
যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের সকল
প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে একই সময়সমূহে কাজ
করিতে হয় সেক্ষেত্রে মালিক
উক্ত সময়সমূহ সাধারণভাবে স্থির করিবেন।
(৪)
যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের সকল
প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিককে একই সময়সমূহে কাজ
করিতে হয় না সেক্ষেত্রে
মালিক উক্তরূপ শ্রমিকগণকে তাহাদের কাজের প্রকৃতি অনুসারে বিভিন্ন দলে ভাগ করিবেন,
এবং প্রত্যেক দলের শ্রমিক সংখ্যা
নির্ধারণ করিয়া দিবেন।
(৫)
যে দলকে কোন পালা
পদ্ধতিতে কাজ করিতে হয়
না, সে দলকে কোন্
সময় কাজ করিতে হইবে,
তাহা মালিক নির্দিষ্ট করিয়া দিবেন।
(৬)
যে ক্ষেত্রে কোন দলকে পালা
পদ্ধতিতে কাজ করিতে হয়,
এবং রিলেগুলি অনির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক পালা পরিবর্তনের অধীনে
নয়, সে ক্ষেত্রে উক্তরূপ
প্রত্যেক দলের রিলেকে কোন্
সময় কাজ করিতে হইবে
তাহা মালিক নির্দিষ্ট করিয়া দিবেন।
(৭)
যে ক্ষেত্রে কোন দলকে পালা
পদ্ধতিতে কাজ করিতে হয়,
এবং রিলেগুলি পূর্ব নির্দিষ্ট পর্যায়ক্রমিক পালা পরিবর্তনের অধীন,
সে ক্ষেত্রে মালিক পালার একটি স্কীম প্রণয়ন
করিবেন যেখানে কোন্ দলের রিলেকে
কোন্ দিনের কোন্ সময়ে কাজ
করিতে হইবে তাহা জানা
যাইবে।
(৮)
এই ধারার অধীন কাজের সময়
সম্পর্কিত কোন নোটিশের দুইটি
কপি কোন প্রতিষ্ঠানের কাজ
শুরম্ন হইবার পূর্বে অনুমোদনের জন্য পরিদর্শকের নিকট
প্রেরণ করিতে হইবে।
(৯)
উক্ত নোটিশের একটি কপি পরিদর্শক,
উহা প্রাপ্তির এক সপ্তাহের মধ্যে,
কোন সংশোধন প্রয়োজন হইলে উহা নির্দেশ
করিয়া মালিকের নিকট ফেরত পাঠাইবেন,
এবং মালিক উক্তরূপ সংশোধন, যদি থাকে, অবিলম্বে
কার্যকর করিবেন, এবং প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডে
উক্তরূপ অনুমোদন সংরৰণ করিবেন।
(১০)
কোন প্রতিষ্ঠানের কাজের পদ্ধতিতে কোন পরিবর্তনের প্রসত্দাবে
যদি নোটিশের পরিবর্তন প্রয়োজনীয় হইয়া পড়ে তাহা
হইলে প্রসত্দাবিত পরিবর্তনের পূর্বে উহার দুইটি কপি
পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিতে
হইবে এবং পরিদর্শকের পূর্ব
অনুমোদন ব্যতীত উক্তরূপ কোন পরিবর্তন কার্যকর
করা যাইবে না।
(১১)
কোন প্রতিষ্ঠানে কোন দিনের কাজের
নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা পরে
যদি কোন শ্রমিক কাজে
হাজির হন তাহা হইলে
মালিক উক্ত শ্রমিককে উক্ত
দিনের কাজে নিয়োগ করিতে
অস্বীকার করিতে পারিবেন।
১১২। (১) একুশ বৎসর বয়স পূর্ণ না হইলে কোন সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যক্তিকে গাড়ী চালক হিসাবে নিয়োগ করা যাইবে না।
(২)
আঠারো বৎসর বয়স পূর্ণ
না হইলে অন্য কোন
ব্যক্তিকে উক্তরূপ কোন প্রতিষ্ঠানে অন্য
কোন পদে নিয়োগ করা
যাইবে না।
১১৩। ধারা ১১১ (১) এর অধীন নোটিশ এবং ধারা ৯ এর অধীন রৰিত রেজিস্টারে কোন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের নামের বিপরীতে পূর্ব লিপিবদ্ধ বিবরণ অনুযায়ী ব্যতীত তিনি কোন কাজ করিতে পারিবেন না বা তাহাকে কোন কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না।
১১৪। (১) প্রত্যেক দোকান বা বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রতি সপ্তাহে অন্ততঃ দেড় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকিবে।
(২) কোন এলাকায় উক্তরূপ কোন প্রতিষ্ঠান কোন্ দেড় দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকিবে তাহা প্রধান পরিদর্শক স্থির করিয়া দিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, প্রধান পরিদর্শক সময় সময় জনস্বার্থে উক্তরূপ নির্ধারিত দিন কোন এলাকার জন্য পূণঃ নির্ধারিত করিতে পারিবেন।
(৩) কোন দোকান, কোন দিন রাত্রি আট ঘটিকার পর খোলা রাখা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন গ্রাহক যদি উক্ত সময়ে কেনা-কাটার জন্য দোকানে থাকেন তাহা হইলে উক্ত সময়ের অব্যবহতি আধাঘন্টা পর পর্যন্ত উক্ত গ্রাহককে কেনা কাটার সুযোগ দেওয়া যাইবে।
(৪) সরকার, বিশেষ অবস্থা বিবেচনায়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন মৌসুমে নোটিশে উলিস্নখিত শর্তে কোন এলাকার দোকানের বন্ধের সময় পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(৫) এই ধারার বিধানাবলী নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যথাঃ-
(ক) ডক, জেটি, স্টেশন অথবা বিমান বন্দর এবং পরিবহন সার্ভিস টার্মিনাল অফিস;
(খ) প্রধানতঃ তরি-তরকারী, মাংস, মাছ, দুগ্ধ জাতীয় সামগ্রী, রুটি, পেষ্ট্রি, মিষ্টি এবং ফুল বিক্রির দোকান;
(গ) প্রধানতঃ ঔষধ, অপারেশন সরঞ্জাম, ব্যান্ডেজ অথবা চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান;
(ঘ) দাফন ও অন্ত্যোষ্টিক্রিয়া সমপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রির দোকান;
(ঙ) প্রধানতঃ তামাক, সিগার, সিগারেট, পান-বিড়ি, বরফ, খবরের কাগজ, সাময়িকী বিক্রির দোকান, এবং দোকানে বসিয়া খাওয়ার জন্য হালকা নাশতা বিক্রির খুচরা দোকান;
(চ) খুচরা পেট্রোল বিক্রির জন্য পেট্রোল পামপ এবং মেরামত কারখানা নয় এমন মোটর গাড়ীর সার্ভিস ষ্টেশন;
(ছ) নাপিত এবং কেশ প্রসাধনীর দোকান;
(জ) যে কোন ময়লা নিস্কাশন অথবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা;
(ঝ) যে কোন শিল্প, ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান যাহা জনগণকে শক্তি, আলো-অথবা পানি সরবরাহ করে;
(ঞ) ক্লাব, হোটেল, রেসত্দোরা, খাবার দোকান, সিনেমা অথবা থিয়েটারঃ
তবে শর্ত থাকে যে, একই দোকানে অথবা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানে যদি একাধিক ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালিত হয় এবং উহাদের অধিকাংশ তাহাদের প্রকৃতির কারণে এই ধারার অধীন অব্যাহতি পাওয়ার যোগ্য তাহা হইলে সমগ্র দোকান বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে উক্তরূপ অব্যাহতি প্রযোজ্য হইবেঃ
আরোও শর্ত থাকে যে, প্রধান পরিদর্শক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, উপরোক্ত প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান শ্রেণীর জন্য উহার খোলা ও বন্ধের সময় স্থির করিয়া দিতে পারিবেন।
(৬) কোন মার্কেট বা বিপনী বিতান বা শপিংমলের মধ্যে উপধারা (৫) এ বর্ণিত কোন দোকান বা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান থাকিলে উপ-ধারা (১) এর বিধানাবলী উক্ত দোকান বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
১১৫। প্রত্যেক শ্রমিক প্রতি পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে দশ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন, এবং উক্তরূপ ছুটি কোন কারণে ভোগ না করিলেও উহা জমা থাকিবে না এবং কোন বৎসরের ছুটি পরবর্তী বৎসরে ভোগ করা যাইবে নাঃ
তবে
শর্ত থাকে যে এই
ধারার কোন কিছুই চা-বাগানের অধীনে নিযুক্ত কোন শ্রমিকের ক্ষেত্রে
প্রযোজ্য হইবে না।
১১৬। (১) সংবাদ পত্র শ্রমিক ব্যতীত, প্রত্যেক শ্রমিক প্রত্যেক পঞ্জিকা বৎসরে পূর্ণ মজুরীতে চৌদ্দ দিনের পীড়া ছুটি পাইবার অধিকারী হইবেন।
(২)
প্রত্যেক সংবাদ পত্র শ্রমিক তাহার
চাকুরীর মেয়াদের অনু্যন এক- অষ্টাদশ অংশ
সময় অর্ধ-মজুরীতে পীড়া-ছুটি পাইবার অধিকারী
হইবেন।
(৩)
উক্তরূপ কোন ছুটি মঞ্জুর
করা হইবে না যদি
না মালিক কতর্ৃক নিযুক্ত একজন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক
অথবা উক্তরূপ চিকিৎসকের অবর্তমানে অন্য কোন রেজিষ্টার্ড
চিকিৎসক পরীৰানত্দে এই মর্মে প্রত্যয়ন
করেন যে, সংশিস্নষ্ট শ্রমিক
পীড়িত এবং তাহার চিকিৎসা
বা আরোগ্যের জন্য প্রত্যয়নপত্রে উলিস্নখিত
সময় ছুটির প্রয়োজন।
(৪)
উক্তরূপ ছুটি জমা থাকিবেনা
এবং কোন বৎসর ভোগ
করা না হইলে পরবতর্ী
বৎসর উহা আর ভোগ
করা যাইবে না।
(১) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে
এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ
করিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রাপ্ত
বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে
তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের
জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে
ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক) কোন দোকান বা বাণিজ্য বা শিল্প প্রতিষ্ঠান অথবা কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
(খ) কোন চা বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি বাইশ দিন কাজের জন্য একদিন;
(গ) কোন সংবাদপত্র শ্রমিকের ক্ষেত্রে প্রতি এগার দিন কাজের জন্য একদিন।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে এক বৎসর চাকুরী পূর্ণ করিয়াছেন এমন প্রত্যেক অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে পরবর্তী বারো মাস সময়ে তাহার পূর্ববর্তী বারো মাসের কাজের জন্য মজুরীসহ নিম্নবর্ণিত হারে গণনার ভিত্তিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে হইবে; যথাঃ-
(ক) কোন কারখানার ক্ষেত্রে, প্রতি পনর দিন কাজের জন্য একদিন;
(খ) কোন চা-বাগানের ক্ষেত্রে, প্রতি আঠার দিন কাজের জন্য একদিন;
(গ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, প্রতি চৌদ্দ দিন কাজের জন্য একদিন।
(৩) এই ধারার অধীন মঞ্জুরকৃত কোন ছুটির সময়ের মধ্যে যদি অন্য কোন ছুটি পড়ে তাহা হইলে উক্ত ছুটি ও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে।
(৪) যদি কোন শ্রমিক কোন বারো মাস মেয়াদের মধ্যে উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন তাহার প্রাপ্য কোন ছুটি সম্পূর্ণ বা অংশত ভোগ না করেন তাহা হইলে উক্তরূপ প্রাপ্য ছুটি পরবর্তী বারো মাস মেয়াদে তাহার প্রাপ্য ছুটির সহিত যুক্ত হইবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিকের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি-
(ক) কোন কারখানা অথবা সড়ক পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, চলিস্নশ দিন হয়;
(খ) কোন চা-বাগান, দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়।
(৬) উপ-ধারা (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন 98[ কিশোর] শ্রমিকের এই ধারার অধীন ছুটি পাওনা বন্ধ হইয়া যাইবে যখন তাহার পাওনা অর্জিত ছুটি-
(ক) কোন কারখানা অথবা চা-বাগানের ক্ষেত্রে, ষাট দিন হয়;
(খ) কোন দোকান বা বাণিজ্য অথবা শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, আশি দিন হয়।
(৭) কোন শ্রমিক অর্জিত ছুটির জন্য দরখাসত্দ করিলে যদি মালিক কোন কারণে উহা না-মঞ্জুর করেন, তাহা হইলে উক্ত না-মঞ্জুরকৃত ছুটি সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের হিসাবে উপ-ধারা (৫) অথবা (৬) এ উলিস্নখিত সীমার অতিরিক্ত পাওনা হিসাবে যুক্ত হইবে।
(৮) এই ধারা প্রয়োজনে, কোন শ্রমিক কোন প্রতিষ্ঠানে অবিচ্ছিন্নভাবে কোন সময়ের জন্য কাজ সমপূর্ণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন যদিও বা উক্ত সময়ে নিম্নলিখিত কারণে তাহার কাজ ব্যাহত হইয়া থাকে, যথাঃ-
(ক) কোন বন্ধের দিন;
(খ) কোন মজুরীসহ ছুটি;
(গ) পীড়া বা দুর্ঘটনার কারণে মজুরীসহ বা মজুরী ছাড়া কোন ছুটি;
(ঘ) অনধিক ষোল সপ্তাহ পর্যনত্দ প্রসূতি ছুটি;
(ঙ) কোন লে-অফ;
(চ) আইন সম্মত কোন ধর্মঘট বা বে-আইনী কোন লক-আউট।
(১) এই আইনের অধীন কোন শ্রমিককে মঞ্জুরকৃত ছুটি বা বন্ধের জন্য যে হারে মজুরী প্রদেয় তাহা হইবে-তিনি তাহার ছুটির অব্যবহিত পূর্ববর্তী মাসে যে দিন গুলিতে কাজ করিয়াছন সেই দিনগুলির জন্য প্রদত্ত, অধিকাল ভাতা ও বোনাস ব্যতীত, তাহার পূর্ণ সময়ের মজুরী এবং মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তরবর্তী মজুরী, যদি থাকে, এর দৈনিক গড়ের সমানঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন প্রতিষ্ঠানের কোন শ্রমিক খাদ্য শষ্য সরবরাহের সুযোগের পরিবর্তে কোন নগদ অর্থ পাইতে অধিকারী হন তাহা হইলে ইহা তাহার মজুরীর সঙ্গে সংযুক্ত হইবে।
(২) যদি কোন প্রাপ্ত বয়সক শ্রমিককে একসঙ্গে অনু্যন চার দিনের এবং কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিককে একসঙ্গে অনূ্যন পাঁচ দিনের বাৎসরিক ছুটি মঞ্জুর করা হয় তাহা হইলে, যতদুর সম্ভব, তাহার ছুটি শুর হইবার পূর্বে তাহাকে ছুটির মজুরী প্রদান করিতে হইবে।
বিষয় অথবা প্রসঙ্গের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যায়ে "মজুরী" বলিতে ধারা ২(৪৫) এ মজুরী বলিতে যে অর্থ করা হইয়াছে তাহা, এবং নিম্নলিখিত পাওনাগুলিও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(ক) নিয়োগের শর্ত মোতাবেক প্রদেয় কোন বোনাস অথবা অন্য কোন অতিরিক্ত পারিশ্রমিক;
(খ) ছুটি, বন্ধ অথবা অধিকাল কর্মের জন্য প্রদেয় কোন পারিশ্রমিক;
(গ) কোন আদালতের আদেশ অথবা পক্ষদ্বয়ের মধ্যে কোন রোয়েদাদ বা নিষ্পত্তির অধীনে প্রদেয় কোন পারিশ্রমিক;
(ঘ) চাকুরীর অবসান, উহা ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, পদত্যাগ, অবসর, বরখাস্ত অথবা অন্য যে ভাবেই হউক না কেন, এর কারণে কোন চুক্তি বা এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন অর্থ; এবং
(ঙ) লে-অফ অথবা সাময়িক বরখাস্তের কারণে প্রদেয় কোন অর্থ।
প্রত্যেক মালিক তৎকর্তৃক নিযুক্ত প্রত্যেক শ্রমিককে, এই আইনের অধীন পরিশোধ করিতে হইবে এরূপ সকল মজুরী পরিশোধ করিবার জন্য দায়ী থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত কোন শ্রমিকের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য সকল শ্রমিকের ক্ষেত্রে, কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক অথবা উহার তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের জন্য মালিকের নিকট দায়ী অন্য কোন ব্যক্তিও উক্তরূপ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেনঃ
আরো শর্ত থাকে যে, ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত কোন শ্রমিকের মজুরী উক্ত ঠিকাদার কর্তৃক পরিশোধ না করা হইলে সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক উক্ত শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করা হইবে, যাহা ঠিকাদারের নিকট হইতে সমন্বয় করা হইবে।
(১) ধারা ১২১ এর অধীন মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্তরূপ মজুরী পরিশোধ সমপর্কে মজুরীকাল স্থির করিবেন।
(২) কোন মজুরীকাল এক মাসের উর্ধে হইবে না।
(১) কোন শ্রমিকের যে মজুরীকাল সমপর্কে তাহার মজুরী প্রদেয় হয় সেই কাল শেষ হওয়ার পরবর্তী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাহার মজুরী পরিশোধ করিতে হইবে।
(২) যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিকের চাকুরী তাহার অবসর গ্রহণের কারণে অবসান হয়, অথবা মালিক কর্তৃক তাহার ছাটাই, ডিসচার্জ, অপসারণ, 1[শ্রমিক কর্তৃক চাকুরীর অবসান অথবা] অন্য কোন কারণে উহার অবসান করা হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিককে প্রদেয় সকল মজুরী তাহার চাকুরী অবসানের তারিখ হইতে পরবর্তী 2[ত্রিশ] কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) সকল মজুরী কর্মদিবসে পরিশোধ করিতে হইবে।
1[(১)] সকল মজুরী প্রচলিত মুদ্রা, কারেন্সী নোট অথবা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিতে হইবে।
2[(২) উপ-ধারা-(১) এ প্রবর্তিত পদ্ধতি ছাড়াও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শ্রমিকের চাহিদা মোতাবেক শ্রমিকের ব্যবহৃত ব্যাংক একাউন্টে ইলেকট্রনিক ট্রান্সফারের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি পরিশোধ করা যাইবে।]
1[(১) কর্মরত থাকা বা অবসরে যাওয়া বা চাকুরীর অবসান বা বরখাস্তাধীন থাকা ইত্যাদিসহ চাকুরীর যে কোন পর্যায়ে কোন শ্রমিকের বা শ্রমিকদের মজুরীসহ আইনত প্রাপ্য পাওনাদি আপোষ মীমাংসার মাধ্যমে পাওয়ার জন্য প্রধান পরিদর্শক বা প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা যাইবে।
(২) এইরূপ আবেদন পাওয়ার পর প্রধান পরিদর্শক বা প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সর্বোচ্চ ২০ দিনের মধ্যে উত্থাপিত দাবী নিস্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মালিক বা কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনা কিংবা আপোষ মীমাংসা বৈঠকের মাধ্যমে নিস্পত্তি করিবার কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।
(৩) এই ধারার অধীনে উত্থাপিত দাবী নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শক বা প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উদ্যোগ গ্রহণ এবং আলাপ-আলোচনা কিংবা আপোষ মীমাংসার বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করিবেন।
(৪) এইরূপ আলাপ-আলোচনা অথবা আপোষ মীমাংসা বৈঠকের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত পক্ষদের জন্য প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক হইবে।
(৫) এই ধারার অধীনে অনুষ্ঠিত আলাপ-আলোচনা কিংবা আপোষ মীমাংসা বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীর সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে উভয় পক্ষকে প্রদান করিতে হইবে।
(৬) শ্রমিক ও মালিক যে কোন পক্ষ বা উভয় পক্ষ এই ধারার অধীনে আপোষ-মীমাংসা বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীর আপোষ মীমাংসা কার্যক্রম সমাপ্তির পর তাহার সিদ্ধান্ত প্রতিপালনে কোন পক্ষ বা উভয় পক্ষ সম্মত না হইলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ বা উভয় পক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে মামলা করিতে পারিবেন এবং শ্রম আদালত এইরূপ মামলার বিচারকালে মধ্যস্থতাকারীর সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নিবেন।]
(১) এই আইন দ্বারা অনুমোদিত কর্তনের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন ৰেত্রে কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কিছুই কর্তন করা যাইবে না।
(২) কেবলমাত্র এই আইনের বিধান অনুযায়ী কোন 1[শ্রমিকের মূল মজুরী] হইতে কর্তন করা যাইবে, এবং উক্তরূপ কর্তন কেবলমাত্র নিম্নলিখিত প্রকারের হইবে, যথাঃ-
(ক) ধারা ২৫ এর অধীন আরোপিত জরিমানা;
(খ) কর্তব্য কাজে অননুমোদিত অনুপস্থিতির জন্য কর্তন;
(গ) কোন শ্রমিকের হেফাজতে প্রদত্ত মালিকের কোন মালামালের ৰতি বা লোকসান, অথবা তিনি যে অর্থের জন্য হিসাব দিতে দায়ী সে অর্থ বিনষ্টির জন্য কর্তন, যদি উক্তরূপ ৰতি বা বিনষ্টির জন্য সরাসরি তাহার অবহেলা বা গাফিলতি দায়ী হয়;
(ঘ) মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত বাসস্থানের জন্য কর্তন;
(ঙ) চাকুরীর প্রয়োজনে ব্যবহৃত কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি ব্যতীত, সরকার কর্তৃক অনুমোদিত এবং মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত সুযোগ-সুবিধা ও সেবার জন্য কর্তন;
(চ) কোন অগ্রিম বা কর্জ আদায়ের জন্য কর্তন, অথবা কোন অতিরিক্ত মজুরী প্রদানের ক্ষেত্রে উহা সমন্বয়ের জন্য কর্তন;
(ছ) শ্রমিক কর্তৃক প্রদেয় আয়কর বাবদ কর্তন;
(জ) কোন আদালতের আদেশে কর্তন, অথবা উক্তরূপ কর্তনের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা সম্পন্ন কোন কর্তৃপক্ষের আদেশে কর্তন;
(ঝ) ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯ নং আইন) প্রযোজ্য হয় এই রকম কোন ভবিষ্য তহবিল অথবা আয়কর আইন, ১৯৮৪ (১৯৮৪ সনের ৩৬ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন স্বীকৃত ভবিষ্য তহবিল, অথবা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত অন্য কোন ভবিষ্য তহবিলে জন্য চাঁদা কর্তন অথবা উহা হইতে প্রদত্ত অগ্রিম আদায়ের জন্য কর্তন;
(ঞ) সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন সমবায় সমিতিকে প্রদানের জন্য অথবা বাংলাদেশ ডাকবিভাগ অথবা সরকারী কোন বীমা কোমপানী কর্তৃক সংরক্ষিত কোন বীমা স্কীমকে প্রদানের জন্য কর্তন;
(ট) শ্রমিকগণের অথবা তাহাদের পরিবারের সদস্যগণের কল্যাণের জন্য সরকারের অনুমোদনক্রমে মালিক কর্তৃক গঠিত কোন তহবিল অথবা তৎকর্তৃক প্রণীত কোন স্কীমের জন্য শ্রমিকগণের লিখিত সম্মতিতে, চাঁদা কর্তন; এবং
(ঠ) চেক-অফ পদ্ধতিতে সিবিএ ইউনিয়নের জন্য চাঁদা কর্তন।
(১) ধারা ১২৫ (২) (খ) এর অধীন কর্মস্থল হইতে অনুপস্থিতির কারণে কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কর্তন কেবল তখনই করা যাইবে যখন তাহার নিয়োগ এর শর্তানুযায়ী কাজ করার কথা তখন যদি তিনি সমসত্দ সময়ের জন্য অথবা উহার কোন অংশের জন্য অনুপস্থিত থাকেন।
(২) উক্তরূপ কর্তনের পরিমাণ কোন ৰেত্রেই অনুপস্থিতির সময়ের জন্য তাহাকে প্রদেয় মজুরীর পরিমাণ এর অধিক হইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার কতর্ৃক এতদউদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি সাপেৰে, যদি দশ বা ততোধিক শ্রমিক একযোগে বিনা নোটিশে এবং যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত কাজে অনুপস্থিত থাকেন, তাহা হইলে উক্ত প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট হইতে মজুরী কর্তনের সহিত অনধিক আট দিনের মজুরীও যুক্ত করা যাইবে যাহা তাহার নিয়োগের শর্তানুযায়ী নোটিশের পরিবর্তে মালিককে প্রদেয় হয়।
ব্যাখ্যাঃ এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন শ্রমিক কোন কর্মস্থল হইতে অনুপস্থিত বলিয়া গণ্য হইবেন যদি তিনি উক্তস্থানে উপস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কোন অবস্থান ধর্মঘটের কারণে অথবা অন্য কোন অযৌক্তিক কারণে তাহার কাজ করিতে অস্বীকার করেন। ইহা ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকর্তার ৰেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(১) ধারা ১২৫ (২) (গ) এর অধীন কোন কর্তন সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের অবহেলা বা গাফিলতির কারণে ঘটিত মালিকের ৰতি বা বিনষ্টির পরিমাণ অপেৰা বেশী হইবে না, এবং উক্তরূপ কোন কর্তন করা যাইবে না যতৰণ পর্যনত্দ না উক্ত কর্তনের বিরম্নদ্ধে ন্যায় বিচারের নীতি অনুসরণ করিয়া যথাযথ তদনত্দের মাধ্যমে উক্ত শ্রমিককে দোষী সাব্যসত্দ করা হয়।
(২) উক্তরূপ সকল কর্তন এবং উহার সকল আদায় বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিষ্টারে মজুরী পরিশোধের দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি কতর্ৃক লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
ধারা ১২৫ (২) (ঘ) এবং (ঙ) এর অধীন কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কোন কর্তন করা যাইবে না যদি না সরবরাহকৃত বাসস্থান, সুযোগ-সুবিধা বা সেবা নিয়োগের শর্ত অনুসারে অথবা অন্যভাবে সংশিস্নষ্ট শ্রমিক কতর্ৃক গৃহীত হয়, এবং উক্তরূপ কোন কর্তন কোন অবস্থায়ই সরবরাহকৃত বাসস্থান, সুযোগ সুবিধা বা সেবার মূল্যের অধিক হইবে না এবং দফা (ঙ) এর অধীন কর্তনের ৰেত্রে উহা সরকার কতর্ৃক আরোপিত শর্ত সাপেৰে হইবে।
ধারা ১২৫ (২) (চ) এর অধীন সকল কর্তন নিম্নলিখিত শর্তাধীনে হইবে, যথাঃ-
(ক) চাকুরী শুরম্ন হইবার পূর্বে প্রদত্ত ঋণ বা অগ্রিম আদায় বাবদ কর্তন একটি পূর্ণ মজুরীকালের জন্য পরিশোধকৃত প্রথম মজুরী হইতে করা হইবে, কিন্তু অনুরূপ কোন কর্তন ভ্রমণ খরচের জন্য প্রদত্ত ঋণ বা অগ্রিমের ক্ষেত্রে করা যাইবে না;
(খ) অর্জিত হয় নাই এমন কোন মজুরী বাবদ প্রদত্ত ঋণ বা অগ্রিম উহা কি পরিমাণে দেওয়া যাইবে এবং কত কিস্তিতে আদায় করা যাইবে তৎসম্বন্ধে সরকার কর্তৃক প্রণীত কোন কোন বিধি সাপেক্ষে নির্ধারিত হইবে।
ধারা-১২৫ (২) (ঞ), (ট) এবং (ঠ) এর অধীন মজুরী হইতে সকল কর্তন সরকার কর্তৃক আরোপিত শর্ত সাপেক্ষে হইবে।
1[(১) এই অধ্যায়ের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, কোনো শ্রমিককে মজুরি হিসাবে প্রদেয় সকল অর্থ তাহার মৃত্যুজনিত কারণে অথবা তাহার কোনো খোঁজ না পাওয়ার কারণে যদি পরিশোধ করা না যায়, তাহা হইলে—
(ক) বিধি অনুযায়ী এতদুদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তিকে অথবা মৃত শ্রমিকের আইনগত উত্তরাধিকারী বা উত্তরাধিকারীগণকে তাহা প্রদান করা হইবে; বা
(খ) উক্তরূপ কোনো মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারী না থাকিলে অথবা পরবর্তী ১২ (বারো) মাসের মধ্যে কোনো কারণে উক্তরূপ কোনো মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীকে উহা প্রদান করা সম্ভব না হইলে প্রদেয় অর্থ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল’ এ জমা প্রদান করিতে হইবে।
(২) ‘শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল’ এ অর্থ জমা প্রদানের তারিখ হইতে পরবর্তী ১০ (দশ) বৎসরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মনোনীত ব্যক্তি বা উত্তরাধিকারীর খোঁজ না পাওয়া গেলে জমাকৃত অর্থ বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থ বলিয়া বিবেচিত হইবে।]
* বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৫৮ নং আইন) এর ১৮ ধারাবলে ধারা ১৩১ প্রতিস্থাপিত।
(১) যে ক্ষেত্রে এই আইনের বিধানের খেলাপ 1[ করিয়া] কোন শ্রমিকের মজুরী হইতে কোন কর্তন করা হয় অথবা কোন শ্রমিকের মজুরী পরিশোধ করা না হয় অথবা তাহার মজুরী কিংবা কোন বিধির আওতায় প্রদেয় গ্রাচুইটি বা ভবিষ্য তহবিলের প্রাপ্য পরিশোধে বিলম্বে ঘটে সে ক্ষেত্রে তিনি, অথবা তাহার মৃতু্য হইলে তাহার কোন উত্তরাধিকারী অথবা কোন আইনসঙ্গত প্রতিনিধি কর্তৃক মজুরী ফেরত পাওয়ার জন্য অথবা বকেয়া বা বিলম্বিত মজুরী ও অন্যান্য পাওনা আদায়ের জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেন।
(২) উক্তরূপ দরখাস্ত, সংশিস্নষ্ট শ্রমিক যে স্থানে কাজ করিতেন অথবা যে স্থানে তাহাকে মজুরী পরিশোধ করা হইত সে স্থান যে শ্রম আদালতের এখতিয়ারাধীন, সে শ্রম আদালতে মজুরী কর্তনের তারিখ হইতে অথবা, ক্ষেত্রমত, মজুরী প্রদেয় হওয়ার তারিখ হইতে বারো মাসের মধ্যে পেশ করিতে হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন দরখাস্ত উক্ত সময়ের পরেও পেশ করা যাইবে যদি দরখাস্তকারী শ্রম আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারেন যে, উক্ত সময়ের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল না করার পিছনে তাহার যথেষ্ট কারণ ছিল।
(৩) শ্রম আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দরখাস্ত প্রাপ্তির পর উহার উপর দরখাস্তকারী এবং মালিক অথবা মজুরী পরিশোধের জন্য এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী দায়ী অন্য কোন ব্যক্তিকে শুনানীর জন্য যুক্তসংগত সুযোগ দান করিবে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণ করিবে, এবং যে মজুরী কর্তন করা হইয়াছে বা যে মজুরী পরিশোধ করা হয় নাই বা পরিশোধে বিলম্ব করা হইতেছে উহা দরখাস্তকারীকে পরিশোধ করিবার জন্য মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী উক্ত ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন আদেশ এই আইনের অধীন উক্ত মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে গ্রহণীয় কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হানি করিবে না।
(৫) শ্রম আদালত উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদত্ত নির্দেশের সময় মজুরীর শতকরা পঁচিশ ভাগ ক্ষতিপূরণ হিসাবে দরখাস্তকারীকে প্রদানের জন্যও মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৬) মজুরী পরিশোধে বিলম্বের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৫) এর অধীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন নির্দেশ দেওয়া যাইবে না, যদি শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত বিলম্বের কারণ ছিল-
(ক) শ্রমিককে প্রদেয় মজুরীর পরিমাণ সম্পর্কে প্রকৃত ভুল বা প্রকৃত বিরোধ;
(খ) কোন জরুরী অবস্থা অথবা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি কর্তৃক তাহার যুক্তিসংগত চেষ্টা সত্ত্বেও যথাসময়ে উহা প্রদান করিতে অক্ষমতা; অথবা
(গ) মজুরী গ্রহণে অথবা উহার জন্য দরখাস্ত করিতে শ্রমিকের ব্যর্থতা।
(৭) এই ধারার অধীন কোন দরখাস্ত শুনানীকালে যদি শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্ত দরখাস্ত বিদ্বেষ প্রসূত অথবা বিরক্তিকর তাহা হইলে আদালত দরখাস্তকারীকে অনধিক দুইশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা করিতে পারিবে এবং উহা মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে প্রদান করিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
(১) ধারা ১৩২ এর অধীন কোন দরখাস্তের জন্য দরখাস্তকারীকে সমন জারীর ফিস ব্যতীত আর কোন কোর্ট ফিস দিতে হইবে না।
(২) যে ক্ষেত্রে দরখাস্তকারী মামলায় সফল হন সে ক্ষেত্রে শ্রম আদালত, দরখাসত্দটি যদি অর্থ আদায়ের জন্য কোন দেওয়ানী আদালতে দাখিলকৃত আরজি হইত তাহা হইলে উহার জন্য যে কোর্ট ফিস প্রদেয় হইত উক্ত কোট ফিস এই মামলার জন্য প্রদেয় বলিয়া হিসাব করিবে এবং মালিক বা ধারা ১২১ এর অধীন মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তিকে উক্ত অর্থ প্রদানের জন্য নির্দেশ দিবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রদেয় অর্থ যদি শ্রম আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আদায় করা না হয় তাহা হইলে উহা সরকারী প্রাপ্য হিসাবে আদায়যোগ্য হইবে।
(১) মজুরী প্রাপ্ত হন নাই অথবা মজুরী কর্তিত হইয়াছে এইরূপ শ্রমিকদের পক্ষে অর্ন্তভুক্ত সকল অথবা একাধিক শ্রমিকের পক্ষে ধারা ১৩২ এর অধীন মাত্র একটি দরখাস্ত দাখিল করা যাইবে, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে ধারা ১৩২ (৫) অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইবে।
(২) শ্রম আদালত ধারা ১৩২ এর অধীন দাখিলকৃত মজুরী প্রাপ্ত হন নাই এরূপ শ্রমিক দলভুক্ত একাধিক শ্রমিক কর্তৃক দাখিলকৃত স্বতন্ত্র দরখাস্তসমূহকে একটি দরখাস্ত হিসাবে গণ্য করিতে পারিবে, এবং তদনুযায়ী ঐ গুলি একত্রে এক দরখাস্ত হিসাবে নিষ্পত্তি করিতে পারিবে এবং সেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে।
(৩) এই ধারার প্রয়োজনে "মজুরী প্রাপ্ত হন নাই এরূপ শ্রমিক দল" এর অর্ন্তভুক্ত বলিয়া ঐ সমস্ত শ্রমিককে বুঝাইবে যাহারা একই প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত আছেন, এবং যাহাদের অনাদায়ী মজুরী অথবা বিলম্বিত মজুরী একই মজুরীকালের জন্য হইয়া থাকে।
(১) ধারা ১৩২ এর অধীন প্রদত্ত শ্রম আদালতের কোন আদেশের বিরম্নদ্ধে উহা প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপীল করা যাইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহাই থাকুক না কেন, শ্রম আদালতের উক্ত আদেশে প্রদেয় মজুরী বা ক্ষতিপূরণের পরিমাণ যদি এক হাজার টাকার অধিক না হয় তাহা হইলে মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী কোন ব্যক্তি উক্ত আদেশের বিরম্নদ্ধে কোন আপীল করিতে পারিবেন না এবং যদি মোট দাবীকৃত মজুরী পাঁচশত টাকার ঊর্ধ্বে না হয় তাহা হইলে কোন শ্রমিক, বা তাহার মৃ্ত্যুর পর তাহার কোন উত্তরাধিকারী অথবা আইনসংগত প্রতিনিধি উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে কোন আপীল করিতে পারিবেন না।
(৩) মালিক বা মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী কোন ব্যক্তি কর্তৃক কোন আপীল করা যাইবে না, যদি না আপীলের স্মারকের সঙ্গে শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত এই মর্মে একটি প্রত্যয়ন পত্র সংযুক্ত থাকে যে, আপীলকারী যে অর্থ প্রদানের আদেশের বিরুদ্ধে আপীল করিতেছে সেই অর্থ শ্রম আদালতে জমা দিয়াছেন।
(৪) এই ধারার অধীন আপীলের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে ধারা ১৩২ এর অধীন শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত সকল আদেশ চূড়ান্ত হইবে।
(৫) তামাদী আইন, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ৫ এর বিধান এই ধারার অধীন আপীলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(১) যে ক্ষেত্রে যে কোন সময়-
(ক) ধারা ১৩২ এর অধীন কোন দরখাসত্দ পেশ করার পর, শ্রম আদালত; অথবা
(খ) ধারা ১৩৫ এর অধীন কোন শ্রমিক কর্তৃক আপীল পেশ করার পর, ট্রাইবু্যনাল;
এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মালিকের অথবা ধারা ১২১ এর অধীন মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোন ব্যক্তির ধারা ১৩২ বা ধারা ১৩৫ এর অধীন প্রদানের জন্য আদেশকৃত কোন অর্থ পরিশোধ এড়াইবার সম্ভাবনা আছে, তাহা হইলে উক্ত আদালত বা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইবু্যনাল উক্ত মালিক বা ব্যক্তিকে শুনানীর সুযোগদান করিয়া উক্ত আদেশকৃত অর্থ পরিশোধের জন্য তাহার সম্পত্তি ক্রোক করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, বিলম্বের কারণে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকিলে, উক্ত আদালত বা ট্রাইবু্যনাল শুনানীর সুযোগ দেওয়ার পূর্বেও উক্তরূপ ক্রোকের আদেশ দিতে পারিবেঃ
আরোও শর্ত থাকে যে, উক্ত আদালত বা ট্রাইবু্যনালের বিবেচনায় যে পরিমাণ সম্পত্তি ক্রোক আদেশকৃত অর্থ আদায়ের জন্য যথেষ্ট হইবে, সে পরিমাণ সম্পত্তিই ক্রোক করা হইবে।
(২) বিচারের পূর্বে সম্পত্তি ক্রোক সম্পর্কীয় দেওয়ানী কার্য বিধি এর সকল বিধান উপ-ধারা (১) এর অধীন ক্রোকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
যে ক্ষেত্রে ধারা ১২১ এর অধীন মজুরী পরিশোধের জন্য দায়ী অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে শ্রম আদলত তৎকর্তৃক বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আদেশকৃত কোন অর্থ আদায় করিতে অক্ষম হয় সে ক্ষেত্রে উক্ত আদালত উহা মালিকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে।
(১) সরকার নিম্নতম মজুরী বোর্ড নামে একটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা করিবে।
(২) নিম্নতম মজুরী বোর্ড, অতঃপর এই অধ্যায়ে মজুরী বোর্ড বলিয়া উলিস্নখিত, নিম্নরূপ সদস্য-সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) একজন নিরপেৰ সদস্য;
(গ) মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য; এবং
(ঘ) শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য।
(৩) ধারা ১৩৯ এ উলিস্নখিত দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে, মজুরী বোর্ডে নিম্নলিখিত সদস্যদ্বয়ও অনত্দর্ভুক্ত হইবেন, যথাঃ-
(ক) সংশিস্নষ্ট শিল্পের মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য;
(খ) সংশিস্নষ্ট শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য।
(৪) মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন।
(৫) মজুরী বোর্ডের চেয়ারম্যান ও নিরপেৰ সদস্য এমন ব্যক্তিগণের মধ্যে হইতে নিযুক্ত হইবেন যাহাদের শিল্প শ্রমিক ও দেশের আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে, এবং যাহারা কোন শিল্পের সহিত সংশিস্নষ্ট নহেন অথবা কোন শ্রমিক বা মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের সহিত সংযুক্ত নহেন।
(৬) সরকারের মতে, যে সকল প্রতিষ্ঠান মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী এবং যে সকল প্রতিষ্ঠান শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী সে সকল প্রতিষ্ঠানের কোন মনোনয়ন থাকিলে উহা বিবেচনা করিয়া উপ-ধারা (২) বা (৩) এর অধীন মালিক এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী সদস্যগণকে নিযুক্ত করা হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি একাধিক প্রচেষ্টায় মালিক কিংবা শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনয়ন না পাওয়া যায় তাহা হইলে সরকার, নিজ বিবেচনায়, যাহাকে উপযুক্ত মনে করিবে তাহাকেই মালিক কিংবা শ্রমিক প্রতিনিধিত্বকারী সদস্য হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারিবে।
(১) যে ক্ষেত্রে কোন শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকগণের বিরাজমান মজুরী হারের পরিপেক্ষিতে সরকার এই মর্মে অভিমত পোষণ করে যে, উক্ত শিল্পে নিযুক্ত সকল বা যে কোন শ্রেণীর শ্রমিকের নিম্নতম মজুরী হার স্থির করা প্রয়োজন এবং যুক্তিসংগত সে ক্ষেত্রে সরকার মজুরী বোর্ডকে প্রয়োজনীয় তদন্তান্তে উক্ত শ্রমিকগণ বা শ্রমিক শ্রেণীর জন্য নিম্নতম মজুরী হার সুপারিশ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।
ব্যাখ্যাঃ কোন শিল্পের মালিক কিংবা শ্রমিক পক্ষ অথবা উভয় পক্ষের দাখিলকৃত আবেদনক্রমে সরকার সেই শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকের ন্যুনতম মজুরীর হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করিতে পারিবে।
(২) মজুরী বোর্ড উক্তরূপ নির্দেশ প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে সরকারের নিকট উহার সুপারিশ পেশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, মজুরী বোর্ডের অনুরোধে সরকার উক্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর নির্দেশ মোতাবেক মজুরী বোর্ড কোন গ্রেডের সকল শ্রমিক শ্রেণীর জন্য নিম্নতম মজুরী হারের সুপারিশ করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপ সুপারিশে-
(ক) মেয়াদী কাজ এবং ঠিকা কাজের জন্য নিম্নতম মজুরীর হার; এবং
(খ) ঠিকা কাজে নিযুক্ত শ্রমিকগণের জন্য নিম্নতম মেয়াদী হার;
এরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করিতে পারিবে।
(৪) মজুরী বোর্ড কর্তৃক সুপারিশকৃত মেয়াদী হার ঘন্টা, দৈনিক, সাপ্তাহিক বা মাসিক ভিত্তিতে হইতে পারিবে।
(৫) মজুরী বোর্ড উহার সুপারিশে নিম্নতম মজুরীর হার সমগ্র দেশের জন্য একইভাবে গ্রহণ করা উচিত হইবে না কি উহাতে উল্লিখিত স্থানে উহাতে বর্ণিত স্থানীয় ব্যতিক্রম সহকারে গ্রহণ করা উচিত হইবে-ইহাও নির্দেশ করিবে।
(৬) কোন শিল্পে নিযুক্ত শ্রমিকের জন্য স্থিরকৃত ন্যূনতম মজুরীর হার সরকারের নির্দেশক্রমে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পুনঃনির্ধারণ করিবে।
(১) ধারা ১৩৯ এর অধীন মজুরী বোর্ডের সুপারিশ প্রাপ্ত হইবার পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারিবে যে, মজুরী বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন শ্রমিকের জন্য সুপারিশকৃত নিম্নতম মজুরীর হার, প্রজ্ঞাপনে উলিস্নখিত ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, উক্তরূপ শ্রমিকগণের জন্য নিম্নতম মজুরীর হার হইবে।
(২) যদি সরকার মনে করে যে, উক্তরূপ সুপারিশ কোন ব্যাপারে মালিকগণের বা শ্রমিকগণের জন্য ন্যায়সঙ্গত নহে, তাহা হইলে সরকার সুপারিশ প্রাপ্তির 1[পঁয়তাল্লিশ] দিনের মধ্যে, উহা পুনরায় বিবেচনা করিয়া দেখিবার জন্য মজুরী বোর্ডের নিকট ফেরৎ পাঠাইতে পারিবে, এবং উক্তরূপ ফেরত পাঠাইবার সময়, সরকার উচিত বিবেচনা করিলে, সুপারিশের উপর উহার কোন মন্তব্য এবং তৎসম্পর্কে কোন তথ্যও প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) যে ক্ষেত্রে কোন সুপারিশ উপ-ধারা (২) এর অধীন মজুরী বোর্ডের নিকট ফেরত পাঠানো হয় সে ক্ষেত্রে, মজুরী বোর্ড সরকারের মন্তব্য ও তৎকর্তৃক প্রেরিত তথ্য বিবেচনা করিয়া উহার সুপারিশ পুনরায় পর্যালোচনা করিয়া দেখিবে, এবং প্রয়োজন হইলে, আরও তদন্ত পরিচালনা করিবে, এবং তৎপর সরকারের নিকট একটি সংশোধিত সুপারিশ পেশ করিবে অথবা, যদি বোর্ডের বিবেচনায় সুপারিশের কোন সংশোধন বা পরিবর্তনের প্রয়োজন না থাকে, তাহা হইলে, কারণ বিবৃত করিয়া সেই মর্মে সরকারকে অবহিত করিবে।
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন সুপারিশপ্রাপ্ত হইবার পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ঘোষণা করিতে পারিবে যে, মজুরী বোর্ড কর্তৃক উক্ত উপ-ধারার অধীন 2[অথবা সরকার কর্তৃক সংশোধিত উক্ত সুপারিশকৃত] বিভিন্ন শ্রমিকগণের নিম্নতম মজুরীর হার, প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত সংশোধন ও ব্যতিক্রম সাপেক্ষে, উক্ত শ্রমিকগণের জন্য নিম্নতম মজুরীর হার হইবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রজ্ঞাপনে যদি এতদসম্পর্কে কোন তারিখ উল্লেখ না থাকে তাহা হইলে উহার অধীন ঘোষণাটি উহা প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
(৬) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) অথবা (৪) এর অধীন কোন প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হইবার পর অথবা উহার অধীন ঘোষিত কোন নিম্নতম মজুরীর হার কার্যকর হইবার পর ইহা সরকারের নজরে আসে যে, উক্তরূপ ঘোষিত নিম্নতম মজুরীর হারে কোন ত্রুটি আছে সে ক্ষেত্রে সরকার বিষয়টি মজুরী বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ প্রেরণ উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রেরণ বলিয়া গণ্য হইবে।
(৭) এই ধারার অধীন ঘোষিত নিম্নতম মজুরীর হার চূড়ান্ত হইবে এবং তৎসম্পর্কে কোনভাবে কোন আদালতে বা কোন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রশ্ন করা বা আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না।
এই আইনের ধারা ১৩৯, ১৪০ ও ১৪২ এ যে বিধানই থাকুক না কেন, বিশেষ পারিপার্শ্বিক অবস্থায় সরকার কোন শিল্প সেক্টরের জন্য ঘোষিত নিম্নতম মজুরী কাঠামো বাস্তবায়নের যে কোন পর্যায়ে নূতনভাবে নিম্নতম মজুরী কাঠামো ঘোষণার জন্য নিম্নতম মজুরী বোর্ড পুনঃগঠন এবং প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা প্রতিপালন সাপেক্ষে পুনরায় নিম্নতম মজুরী হার ঘোষণা করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নূতনভাবে নিম্নতম মজুরী হার ঘোষণা না করিয়া শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সহিত আলোচনাক্রমে চলমান মজুরী হারের কোন সংশোধন বা পরিবর্তন কার্যকর করিতে পারিবে।]
কোন সুপারিশ প্রণয়ন করা কালে মজুরী বোর্ড জীবন যাপন ব্যয়, জীবনযাপনের মান, উৎপাদন খরচ, উৎপাদনশীলতা, উৎপাদিত দ্রব্যের মূল্য, মুদ্রাস্ফীতি, কাজের ধরন, ঝুঁকি ও মান, ব্যবসায়িক সামর্থ, দেশের এবং সংশিস্নষ্ট এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করিয়া দেখিবে।
(১) ধারা ১৪১ এ উলিস্নখিত বিষয়াদি বা অন্য কোন প্রাসঙ্গিক বিষয়ের কোন পরিবর্তনের কারণে প্রয়োজন হইলে মজুরী বোর্ড উহার কোন সুপারিশ পুনরায় পর্যলোচনা করিয়া দেখিবে এবং সরকারের নিকট ধারা ১৪০ এর অধীন ঘোষিত নিম্নতম মজুরী হারের কোন সংশোধন বা পরিবর্তন সুপারিশ করিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ৰেত্রে কোন বিশেষ পারিপাশ্বর্িক অবস্থার কারণ ব্যতীত কোন সুপারিশ উহা পেশের এক বৎসরের মধ্যে অথবা তিন বৎসর পরে উক্তরূপ পর্যালোচনা করা যাইবে না।
(২) এই ধারার অধীন কোন পর্যালোচনা এবং সুপারিশ ধারা ১৩৯ এর অধীন তদনত্দ এবং সুপারিশ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং এই অধ্যায়ের বিধান, যতদূর সম্ভব এ ৰেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(১) সরকার প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সংবাদপত্র শ্রমিকগণের মজুরী নির্ধারণের জন্য সংবাদপত্র শ্রমিক মজুরী বোর্ড নামে একটি স্বতন্ত্র মজুরী বোর্ড গঠন করিতে পারিবে।
(২) উক্ত বোর্ড, অতঃপর এই অধ্যায়ে সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড বলিয়া উলিস্নখিত, সরকার কর্তৃক নিয়োজিত একজন চেয়ারম্যান এবং সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক ও সংবাদপত্র শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী সমসংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(১) সংবাদপত্র শ্রমিকগণের জন্য মজুরী নির্ধারণকালে সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড জীবন যাত্রার ব্যয়, সরকার, কর্পোরেশন এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সমতুল্য চাকুরীর মজুরীর বিরাজমান হার, দেশের বিভিন্ন এলাকার সংবাদপত্র শিল্পের অবস্থা এবং বোর্ডের বিবেচনায় প্রাসঙ্গিক অন্যান্য অবস্থা বিবেচনা করিয়া দেখিবে।
(২) সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড মেয়াদী কাজ ও ঠিকা কাজের জন্য মজুরীর হার নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) মজুরী নির্ধারণ করার পর সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড উহার সিদ্ধানত্দ, যতশীঘ্র সম্ভব, সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।
(১) সরকার, সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সিদ্ধানত্দ পরীৰা করিয়া দেখিবে এবং উহা প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় বিবেচিত এরূপ সংশোধনসহ উহা সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রকাশ করিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রকাশিত উক্তরূপ সংশোধনসহ সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সিদ্ধানত্দ উক্ত প্রজ্ঞাপনে উলিস্নখিত তারিখ হইতে অথবা উক্তরূপ কোন তারিখ না থাকিলে, উহা প্রকাশের তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
(১) সংবাদপত্র মজুরী বোর্ড কোন ৰেত্রে প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, অনত্দর্বতর্ী মজুরীর হার নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(২) উক্তরূপ কোন অনত্দর্বতর্ী মজুরীর হার সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের সকল মালিকের জন্য অবশ্য পালনীয় হইবে এবং প্রত্যেক সংবাদপত্র শ্রমিক অনূ্যন উক্তরূপ অনত্দর্বতর্ী হারে মজুরী পাইবার অধিকারী হইবেন।
(৩) উক্তরূপ কোন অনত্দর্বতর্ী মজুরীর হার ধারা ১৪৫ (২) এর অধীন সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের সিদ্ধানত্দ কার্যকর না হওয়া পর্যনত্দ বলবৎ থাকিবে।
যে ৰেত্রে ধারা ১৪৫ (২) এর অধীন প্রকাশিত সংশোধনসহ সংবাদপত্র মজুরী বোর্ডের কোন সিদ্ধানত্দের কারণে কোন সংবাদপত্র বা সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী বিন্যাস বা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে কোন বিরোধ দেখা দেয় সে ৰেত্রে উক্তরূপ সিদ্ধানত্দের দ্বারা সংৰুব্ধ কোন ব্যক্তি বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে দরখাসত্দ করিতে পারিবেন।
ধারা ১৪০ এর অধীন ঘোষিত অথবা ধারা ১৪৫ এর অধীন প্রকাশিত মজুরীর নিম্নতম হার সংশিস্নষ্ট সকল মালিকের উপর অবশ্য পালনীয় হইবে এবং প্রত্যেক শ্রমিক উক্তরূপ ঘোষিত বা প্রকাশিত মজুরীর অনূ্যন হারে মজুরী পাইতে অধিকারী হইবেন।
(১) কোন মালিক কোন শ্রমিককে এই অধ্যায়ের অধীন ঘোষিত বা প্রকাশিত নিম্নতম হারের কম হারে কোন মজুরী প্রদান করিতে পারিবেন না।
(২) উপ-ধারা (১) এর কোন কিছুই কোনভাবে কোন শ্রমিকের এই অধ্যায়ের অধীন ঘোষিত বা প্রকাশিত নিম্নতম হারের অধিক হারে মজুরী অথবা অন্য কোন সুযোগ-সুবিধা অব্যাহতভাবে পাইবার অধিকার ৰুণ্ন করিবে না, যদি কোন চুক্তি বা রোয়েদাদের অধীন বা অন্য কোন কারণে তিনি উক্তরূপ অধিক হারে মজুরী পাইবার অথবা কোন প্রথা অনুযায়ী উক্তরূপ সুযোগ-সুবিধা পাইবার অধিকারী হন।
(১) চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত দুর্ঘটনার ফলে যদি কোন শ্রমিক শরীরে জখমপ্রাপ্ত হন তাহা হইলে মালিক তাহাকে এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন।
(২) কোন মালিক উক্তরূপ ক্ষতিপূরণ প্রদানে বাধ্য থাকিবেন না, যদি-
(ক) জখমের ফলে তিন দিনের অধিক সময় কোন শ্রমিক সম্পূর্ণ বা আংশিক কর্মক্ষমতা না হারান;
(খ) জখমের ফলে মারা যান নাই এরূপ কোন শ্রমিকের দুর্ঘটনায় জখম প্রাপ্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ কারণ ছিল-
(১) দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকের মদ্যপান বা মাদক দ্রব্য সেবনের ফলে উহার প্রভাবাধীন থাকা;
(২) শ্রমিকগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত বিধি বা সুষ্পষ্ট আদেশ শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করা;
(৩) শ্রমিকগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যবস্থা করা হইয়াছে ইহা জানা সত্ত্বেও শ্রমিক কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আঘাত নিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা অন্য কোন কৌশল অপসারণ করা বা উপেক্ষা করা।
(৩) যদি-
(ক) তৃতীয় তফসিলের "ক" অংশে বর্ণিত কোন চাকুরীতে নিযুক্ত কোন শ্রমিক উহাতে উক্তরূপ চাকুরী সম্পর্কিত বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া উলিস্নখিত কোন ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, অথবা
(খ) কোন শ্রমিক অবিচ্ছিন্নভাবে কোন মালিকের অধীন অনূ্যন ছয় মাস তৃতীয় তফসিলের "খ" খন্ডে বর্ণিত কোন চাকুরীতে নিযুক্ত থাকাকালে উক্ত তফসিলে উক্তরূপ চাকুরী সম্পর্কে বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া উলিস্নখিত কোন ব্যাধিতে আক্রান্ত হন, তাহা হইলে উক্তরূপ ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়া এই ধারার অধীন কোন দুর্ঘটনার ফলে জখম বলিয়া গণ্য হইবে এবং, যদি না মালিক ইহার বিপরীত কিছু প্রমাণ করেন, দুর্ঘটনাটি চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত বলিয়া গণ্য হইবে।
ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারার প্রয়োজনে, কোন চাকুরীকাল অবিচ্ছিন্ন বলিয়া গণ্য হইবে যদি উহার সহিত অন্য কোন মালিকের অধীন একই প্রকার কোন চাকুরী যুক্ত না থাকে।
(৪) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, তৃতীয় তফসিলে উলিস্নখিত চাকুরীর সহিত অন্য কোন প্রকারের চাকুরীও যোগ করিতে পারিবে এবং এরূপ ক্ষেত্রে উক্ত চাকুরী সম্পর্কিত বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি কি হইবে তাহাও সুনির্দিষ্টভাবে উল্ল্যেখ করিবে, এবং তৎপর উপ-ধারা (৩) এর বিধান এরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন এই অধ্যায় দ্বারা উক্ত ব্যাধি উক্ত চাকুরী সম্পর্কে বিশেষ পেশাজনিত ব্যাধি বলিয়া ঘোষিত হইয়াছে।
(৫) উপ-ধারা (৩) এবং (৪) এর ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে, কোন ব্যাধি সম্পর্কে কোন শ্রমিককে কোন ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইবে না যদি না উক্ত ব্যাধি প্রত্যক্ষভাবে সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত কোন দুর্ঘটনায় জখমের কারণে হয়।
(৬) এখানে উলিস্নখিত কোন কিছুই কোন শ্রমিকের জখম সম্পর্কে কোন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া বুঝাইবে না যদি তিনি মালিকের অথবা অন্য কোন ব্যক্তির বিরম্নদ্ধে উক্ত জখমের ক্ষতিপূরণের জন্য দেওয়ানী আদালতে কোন মোকদ্দমা দায়ের করিয়া থাকেন।
(৭) কোন আদালতে উক্ত জখম সম্পর্কে শ্রমিক কর্তৃক কোন ক্ষতিপূরণ মামলা দায়ের করা যাইবে না, যদি-
(ক) তিনি শ্রম আদালতে উক্ত জখমের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবী করিয়া দরখাস্ত পেশ করিয়া থাকেন; অথবা
(খ) তাহার এবং তাহার মালিকের মধ্যে এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী উক্ত জখম সম্পর্কে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য কোন চুক্তি হইয়া থাকে।
(৮) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, "শ্রমিক" বলিতে মালিক কর্তৃক সরাসরি অথবা ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত এমন ব্যক্তিকে বুঝাইবে, যিনি-
(ক) রেলওয়ে আইন, ১৮৯০ (১৮৯০ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ৩ এর সংজ্ঞা অনুযায়ী একজন রেল কর্মচারী (যিনি রেলওয়ের কোন প্রশাসনিক, জেলা বা উপজেলা অফিসে কোন স্থায়ী পদে নিযুক্ত নহেন, এবং চতুর্থ তফসিলে উল্লিখিত কোন পদেও নিযুক্ত নহেন) অথবা
(খ) চতুর্থ তফসিলে উলিস্নখিত কোন পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি;
তাহার চাকুরীর চুক্তি লিখিত হউক বা অলিখিত হউক, স্পষ্ট হউক বা অস্পষ্ট হউক, এবং কোন জখম প্রাপ্ত শ্রমিকের উল্লেখের ক্ষেত্রে, তিনি মারা গেলে তাহার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিগণ অথবা তাহাদের যে কোন একজনও উহার অন্তর্ভুক্ত হবেন।
ব্যাখ্যাঃ এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে, কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অথবা সরকারের পক্ষে কোন বিভাগের কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা কর্তব্য সম্পাদনকে, যদি না কোন ভিন্ন উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়, উক্ত কর্তৃপক্ষ বা বিভাগ এর ব্যবসা বা বাণিজ্য বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) এই অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(ক) যে ক্ষেত্রে জখমের ফলে মৃত্যু হয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকটি পঞ্চম তফসিলের দ্বিতীয় কলামে যে অর্থ উল্লেখ করা হইয়াছে সে অর্থ 1[ :
তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষতিপুরণের পরিমাণ তার চাকুরির স্বাভাবিক ছাঁটাই, বরখাস্ত, অবসান, পদত্যাগজনিত ক্ষতিপূরণের অতিরিক্ত হইবে;]
2[ (খ) যে ক্ষেত্রে যখমের ফলে স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটে সেই ক্ষেত্রে পঞ্চম তফসিলের তৃতীয় কলামে যে অর্থ উল্লেখ করা হইয়াছে সেই অর্থ;]
(গ) যে ক্ষেত্রে জখমের ফলে স্থায়ী আংশিক অক্ষমতা ঘটে সে ক্ষেত্রে-
(১) জখমটি প্রথম তফসিলে বর্ণিত হইলে, স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ এর ঐ শতকরা হার, যাহা উহাতে উল্লিখিত উক্ত জখমের কারণে উপার্জন ক্ষমতা হানির শতকরা হারের সমান;
(২) জখমটি প্রথম তফসিলে বর্ণিত না হইলে, স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের ঐ শতকরা হার যাহা উক্ত জখমের কারণে স্থায়ীভাবে উপার্জন ক্ষমতা হানির অনুপাতের সমান; এবং
(ঘ) যে ক্ষেত্রে জখমের ফলে সম্পূর্ণ বা আংশিক অস্থায়ী অক্ষমতা ঘটে সে ক্ষেত্রে মাসিক ক্ষতিপূরণ যাহা অক্ষমতার তারিখ হইতে চার দিন অপেক্ষাকাল অতিবাহিত হইবার পর যে মাসে প্রদেয় হইবে উহার পরবর্তী মাসের প্রথম দিনে প্রদেয় হইবে এবং তৎপর অক্ষমতার সময়কালে অথবা পঞ্চম তফসিলের শেষ কলামে উল্লিখিত সময়ের জন্য, যাহা স্বল্প হইবে, মাসিক ভিত্তিতে প্রদেয় হইবে।
(২) যে ক্ষেত্রে একই দুর্ঘটনার কারণে একাধিক জখম হয় সে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) (গ) এর অধীন তৎসম্পর্কে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ একত্রিত করা হইবে, কিন্তু কোন ক্ষেত্রে ইহা এমন ভাবে করা হইবে না যাহাতে ইহা জখম- গুলি হইতে স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা ঘটিলে যে ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হইত উহা হইতে বেশী হয়।
(৩) কোন মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদেয় হওয়ার তারিখের পূর্বে যদি অক্ষমতার অবসান হয় তাহা হইলে উক্ত মাস সম্পর্কে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের অর্থ উক্ত মাসের অক্ষমতা থাকাকালীন সময়ের আনুপাতিকহারে প্রদেয় হইবে।
(১) এই অধ্যায়ের প্রয়োজনে, "মাসিক মজুরী" বলিতে এক মাসের কাজের জন্য প্রদেয় বলিয়া গণ্য মজুরীর পরিমাণ বুঝাইবে, উহা মাসিক ভিত্তিতে প্রদেয় হউক অথবা অন্য সময়ের ভিত্তিতে প্রদেয় হউক অথবা ঠিকা-হারে হউক। মজুরী হিসাবের পদ্ধতি
(২) উক্তরূপ মজুরী নিম্নরূপ ভাবে হিসাব করা হইবে, যথাঃ-
(ক) যে ৰেত্রে দুর্ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে ৰতিপূরণ প্রদানে বাধ্য কোন মালিকের অধীন সংশিস্নষ্ট শ্রমিকটি অবিচ্ছিন্নভাবে অনূ্যন বারো মাস কর্মরত ছিলেন সে ৰেত্রে, তাহার মাসিক মজুরী হইবে তাহার পূর্ববতর্ী বারো মাসে উক্ত মালিক কর্তৃক প্রদেয় মোট মজুরীর এক-দ্বাদশাংশ;
(খ) যে ৰেত্রে সংশিস্নষ্ট শ্রমিকটি উক্তরূপ মালিকের অধীন দুর্ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে অবিচ্ছিন্নভাবে এক মাসের কম সময় কর্মরত ছিলেন সে ৰেত্রে, তাহার মাসিক মজুরী হইবে দুর্ঘটনার অব্যবহিত পূর্ববতর্ী বারো মাস সময়ে একই মালিকের অধীন তাহার মত অনুরূপ কাজে নিয়োজিত অন্য কোন শ্রমিক, অথবা উক্তরূপ অন্য কোন শ্রমিক না থাকিলে, একই এলাকায় অনুরূপ কাজে নিয়োজিত অন্য কোন শ্রমিকের অর্জিত আয়ের মাসিক গড়ের সমান অর্থ;
(গ) অন্যান্য ৰেত্রে, মাসিক মজুরী হইবে-
ৰতিপূরণ প্রদানে বাধ্য মালিক হইতে দুর্ঘটনার অব্যবহিত পূর্বে অবিচ্ছিন্নভাবে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে সংশিস্নষ্ট শ্রমিক কর্তৃক অর্জিত মোট মজুরীকে ত্রিশ গুণ করিয়া উক্ত কর্মরত সময়ের মোট দিনগুলির দ্বারা উহাকে ভাগ করিলে যে ভাগফল পাওয়া যায় উহার সমপরিমাণ অর্থ।
ব্যাখ্যাঃ এই ধারার প্রয়োজনে কোন কর্মরত সময় অবিচ্ছিন্ন বলিয়া গণ্য হইবে যদি চৌদ্দ দিনের অধিক কাল কাজে অনুপস্থিতির কারণে ইহার ধারাবাহিকতা ভঙ্গ না হয়।
(১) এই অধ্যায়ের অধীন প্রদেয় কোন মাসিক ৰতিপূরণ, উহা পৰ- দ্বয়ের মধ্যে চুক্তির অধীন হউক অথবা শ্রম আদালতের আদেশের অধীন হউক, শ্রম আদালত কর্তৃক পূনর্বিবেচনা করা যাইবে, যদি-
(ক) শ্রমিকের অবস্থার পরিবর্তন হইয়াছে এই মর্মে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রসহ মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক দরখাসত্দ করা হয়, অথবা
(খ) উক্তরূপ প্রত্যয়নপত্র ছাড়াও, প্রতারণার মাধ্যমে অথবা অবৈধ প্রভাব অথবা অন্যান্য অসংগত উপায়ের মাধ্যমে ৰতিপূরণ নির্ধারণ করা হইয়াছে অথবা রেকর্ড হইতে সুস্পষ্ট দেখা যায়, যে উক্তরূপ নির্ধারণ ভুল-এই মর্মে মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক দরখাসত্দ করা হয়।
(২) এই অধ্যায়ের বিধান সাপেৰে, এই ধারার অধীন পুনর্বিবেচনার ভিত্তিতে কোন মাসিক ৰতিপূরণ চালু রাখা যাইবে, বৃদ্ধি করা যাইবে, কমানো যাইবে অথবা বন্ধ করা যাইবে অথবা যদি দেখা যায় যে, দুর্ঘটনার কারণে স্থায়ী অৰমতা ঘটিয়াছে তাহা হইলে প্রদেয় মাসিক ৰতিপূরণ শ্রমিকের প্রাপ্যতা অনুযায়ী থোক অর্থে রূপানত্দরিত করা যাইবে, তবে ইহা হইতে মাসিক ৰতিপূরণ বাবদ ইতিমধ্যে প্রাপ্ত অর্থ বাদ যাইবে।
(১) উভয় পৰের চুক্তির ভিত্তিতে মালিক থোক অর্থ প্রদান করিয়া শ্রমিককে প্রদেয় মাসিক ৰতিপূরণ পরিশোধ করিতে পারিবেন।
(২) যদি উক্তরূপ কোন চুক্তি না হয়, এবং অনূ্যন ছয় মাস কোন মাসিক ৰতিপূরণ প্রদান বলবৎ থাকে তাহা হইলে যে কোন পৰের দরখাসত্দের পরিপ্রেৰিতে শ্রম আদালত কর্তৃক নির্ধারিত থোক অর্থ প্রদান করিয়া মাসিক ৰতিপূরণ পরিশোধ করা যাইবে।
(১) জখমের ফলে মৃত কোন শ্রমিক সম্পর্কে প্রদেয় কোন ৰতিপূরণ এবং আইনগত অৰমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে ৰতিপূরণ বাবদ প্রদেয় থোক অর্থ শ্রম আদালতে জমা দেওয়া ব্যতীত ভিন্ন কোন পন্থায় পরিশোধ করা যাইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এ উলিস্নখিত কোন ৰতিপূরণ যদি মালিক সরাসরিভাবে পরিশোধ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে উহা ৰতিপূরণ পরিশোধ বলিয়া গণ্য হইবে না, যদি না সংশিস্নষ্ট শ্রমিক তাহার চাকুরীকালে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় জখমজনিত কারণে তাহার মৃতু্যর ৰেত্রে ৰতিপূরণ গ্রহণের জন্য তাহার কোন উত্তরাধিকারীকে মনোনীত করিয়া থাকেন, এবং সেই মনোনীত উত্তরাধিকারীকে ৰতিপূরণ প্রদত্ত হইয়া থাকে।
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহাই থাকুক না কেন, কোন মৃত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার কোন পোষ্যকে মালিক ক্ষতিপূরণ বাবদ অগ্রিম অর্থ প্রদান করিতে পারিবেন, এবং শ্রম আদালত উক্ত পোষ্যকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ হইতে উক্ত অগ্রিম কর্তন করিয়া উহা মালিককে ফেরত দিবে1[:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন মৃত শ্রমিকের ক্ষেত্রে মৃতের দাফন-কাফন বা চিকিৎসা, মৃত দেহ পরিবহণ ইত্যাদি বাবদ কোন অর্থ প্রদান করা হইলে মালিক কর্তৃক অগ্রিম প্রদানকৃত কোন অর্থ কিংবা শ্রম আদালতের মাধ্যমে পোষ্যকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ হইতে উক্ত অর্থ কর্তন করা যাইবে না।]
(৪) ৰতিপূরণ বাবদ প্রদেয় অন্য কোন অর্থ উহা পাওয়ার অধিকারী ব্যক্তির পৰে শ্রম আদালতে জমা করা যাইবে।
(৫) শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রশিদ উহাতে জমাকৃত ৰতিপূরণ সম্পর্কে যথেষ্ট দায়মুক্তি হইবে।
(৬) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন মৃত শ্রমিক সম্পর্কে ৰতিপূরণ বাবদ কোন অর্থ জমা হইলে শ্রম আদালত প্রয়োজনবোধে, তৎকর্তৃক বিবেচিত উপযুক্ত পন্থায়, নোটিশ প্রকাশ করিয়া অথবা প্রত্যেক পোষ্যের উপর উহা জারী করিয়া ৰতিপূরণ বন্টন নির্ধারণের জন্য তৎকর্তৃক নির্ধারিত তারিখে উহার সম্মুখে হাজির হওয়ার জন্য তাহাদিগকে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৭) যদি শ্রম আদালত তৎকর্তৃক প্রয়োজনীয় কোন তদনত্দ সমাপনানত্দে এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন পোষ্য বিদ্যমান নাই, তাহা হইলে আদালত, জমার তারিখ হইতে অনূ্যন দুই বৎসর পর উহার নিকট জমা অবন্টিত অর্থ শ্রমিকগণের কল্যাণের জন্য, সরকার কতর্ৃক সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নির্দিষ্ট অথবা স্থাপিত কোন তহবিলে হসত্দানত্দর করিবে।
(৮) মালিক দরখাসত্দ করিলে শ্রম আদালত তৎকর্তৃক বন্টনকৃত অর্থের একটি বিসত্দারিত বর্ণনা তাহাকে সরবরাহ করিবে।
(৯) কোন মৃত শ্রমিক সম্পর্কে জমাকৃত ৰতিপূরণ, উপ-ধারা (৩) এর অধীন কর্তন সাপেৰে, মৃত শ্রমিকের পোষ্যগণের মধ্যে অথবা তাহাদের কাহারও মধ্যে এমন অনুপাতে বন্টন করা হইবে, যাহা শ্রম আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করিবে, অথবা আদালত নিজ বিবেচনায় যে কোন একজন পোষ্যকে উহা বরাদ্দ করিতে পারিবে।
(১০) যে ৰেত্রে শ্রম আদালতে জমাকৃত কোন ৰতিপূরণ কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সে ৰেত্রে শ্রম আদালত, যে ব্যক্তিকে উহা প্রদেয় তিনি যদি কোন আইনগত অৰমতার অধীন না হন তাহা হইলে, তাহাকে প্রদান করিবে এবং অন্যান্য ৰেত্রে যিনি উহা পাওয়ার অধিকারী, তাহাকে প্রদান করিতে পারিবে।
(১১) যে ৰেত্রে আদালতে জমাকৃত কোন থোক অর্থ আইনগত অৰমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সে ৰেত্রে, উক্ত অর্থ উক্ত ব্যক্তির উপকারার্থে তাহার অৰমতাকালীন সময়ে শ্রম আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বিনিয়োগ বা ব্যবহার করা যাইবে।
(১২) যে ৰেত্রে আইনগত অৰমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে অর্ধ মাসিক ৰতিপূরণ প্রদেয় হয় সে ৰেত্রে, আদালত স্ব-ইচ্ছায় অথবা কোন দরখাসত্দের পরিপ্রেৰিতে উক্ত ৰতিপূরণ তাহার অৰমতাকালীন সময়ে সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের কোন পোষ্যকে, অথবা আদালতের বিবেচনায় উক্ত শ্রমিকের কল্যাণ ব্যবস্থা করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত বলিয়া বিবেচিত অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদান করার জন্য আদেশ দিতে পারিবে।
(১৩) যে ৰেত্রে কোন দরখাসত্দের পরিপ্রেৰিতে অথবা অন্যভাবে শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন মাতা বা পিতা কর্তৃক উহার সনত্দানের অবহেলার কারণে, অথবা কোন পোষ্যের পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে, অথবা অন্য কোন পর্যাপ্ত কারণে, ৰতিপূরণ হিসাবে পরিশোধিত কোন অর্থ বন্টন সম্পর্কে শ্রম আদালতের কোন আদেশ অথবা উক্তরূপ কোন পোষ্যকে প্রদেয় ৰতিপূরণের বিনিয়োগ বা ব্যবহার সম্পর্কিত উহার কোন আদেশ পরিবর্তন করা উচিত, তাহা হইলে আদালত উহার উক্ত আদেশ পরিবর্তন করার জন্য অবস্থার পরিপ্রেৰিতে যেরূপ নূতন আদেশ দেওয়া প্রয়োজন সেরূপ আদেশ দিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি উক্তরূপ কোন আদেশ কোন ব্যক্তির জন্য হানিকর হয়, তাহা হইলে তাহাকে উক্ত আদেশের বিরম্নদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়া, অথবা কোন ৰেত্রে যদি উক্ত আদেশের ফলে কোন পোষ্য কর্তৃক তাহাকে পরিশোধিত কোন ৰতিপূরণ ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন হয় তাহা হইলে উক্তরূপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
(১৪) যে ৰেত্রে শ্রম আদালত উপ-ধারা (১৩) এর অধীন কোন আদেশ এই কারণে পরিবর্তন করে যে, কোন ব্যক্তিকে পরিশোধিত ৰতিপূরণ তিনি প্রতারণা, মিথ্যা পরিচয়, অথবা অন্য কোন অসংগত উপায়ে হাছিল করিয়াছেন সে ৰেত্রে উক্ত পরিশোধিত ৰতিপূরণ তাহার নিকট হইতে ধারা ৩২৯ এর বিধান অনুযায়ী উসুল করা যাইবে।
এই অধ্যায়ে যে রকম বিধান আছে সে রকম ব্যতীত, এই অধ্যায়ের অধীন প্রদেয় কোন থোক অথবা মাসিক ৰতিপূরণ কোনভাবে হসত্দানত্দর, ক্রোক অথবা দায়বদ্ধ করা যাইবে না, অথবা কোন আইনের প্রয়োগ দ্বারা শ্রমিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হসত্দানত্দর করা যাইবে না; অথবা উহার সহিত অন্য কোন দাবী কাটা-কাটি করা যাইবে না।
(১) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে অর্থ গ্রহণ করিবার যথার্থ কর্তৃপক্ষ হইবেন।
(২) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নহেন এমন কোন শ্রম আদালত বা অন্য কোন সরকারি কর্মচারী কোন হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে অর্থ গ্রহণ করিলে তিনি উক্ত অর্থ ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্রাদি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন অথবা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী উহা বিলি-বন্টন করিবেন।
(১) কোন শ্রম আদালত ৰতিপূরণের কোন দাবী বিবেচনায় আনিবে না যদি না দুর্ঘটনা ঘটিবার পর যতশীঘ্র সম্ভব এতদ্নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতিতে তৎসম্পর্কে নোটিশ প্রদান করা হয় এবং যদি না দুর্ঘটনা ঘটিবার দুই বৎসরের মধ্যে অথবা মৃতু্যর ৰেত্রে উহার দুই বৎসরের মধ্যে দাবী উত্থাপন করা হয়।
(২) যে ৰেত্রে দুর্ঘটনাটি হইতেছে ধারা ১৫০ (৩) এর বিধান প্রযোজ্য হয় এমন কোন রোগের আক্রমণ সে ৰেত্রে দুর্ঘটনাটি উক্ত রোগ দ্বারা অৰমতার কারণে শ্রমিকের অবিচ্ছিন্ন অনুপস্থিতির প্রথম তারিখে ঘটিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) কোন নোটিশের কোন ত্রম্নটি বা অনিয়ম অথবা উহা প্রদান না করার কারণে কোন দাবী বিবেচনার অযোগ্য হইবে না-
(ক) যদি উত্থাপিত দাবী এমন কোন দুর্ঘটনার ফলে শ্রমিকের মৃতু্যজনিত কারণে হয় যে, দুর্ঘটনাটি-
(১) মালিকের বাড়ীঘর বা আংগিনায় ঘটে; বা
(২) এমন কোন জায়গায় ঘটে যেখানে শ্রমিক মালিক বা তৎকর্তৃক নিয়োজিত অন্য ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে কাজ করিতে ছিলেন; এবং শ্রমিকটি উক্ত বাড়ীঘর বা আংগিনায় বা স্থানে মারা যান অথবা উক্ত বাড়ীঘর বা আংগিনা বা স্থানের সনি্নহিত এলাকা ত্যাগের পূর্বে মারা যান; অথবা
(খ) যদি মালিক অথবা জখমপ্রাপ্ত শ্রমিকটি মালিকের যে ব্যবসা বা বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিলেন উহার ব্যবস্থাপনার জন্য মালিকের নিকট দায়ী কোন ব্যক্তি অন্য কোন সূত্র হইতে দুর্ঘটনাটি ঘটিবার সময়ে অথবা উহার কাছাকাছি সময়ে তৎসম্পর্কে অবহিত হইয়াছিলেন।
(৪) উপরোক্ত উপ-ধারা অনুযায়ী যথাসময়ে কোন নোটিশ প্রদান অথবা দাবী উত্থাপন না করা সত্ত্বেও শ্রম আদালত ৰতিপূরণের কোন দাবী বিবেচনায় আনিতে এবং তৎসম্পর্কে সিদ্ধানত্দ দিতে পারিবে যদি উহা এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, নোটিশ প্রদান না করার বা দাবী উত্থাপন না করার যথেষ্ট কারণ ছিল।
(৫) উক্তরূপ প্রত্যেক নোটিশে জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম এবং ঠিকানা দেওয়া হইবে এবং সহজ ভাষায় জখমের কারণ ও দুর্ঘটনার তারিখ বর্ণনা করা হইবে, এবং ইহা মালিকের উপর অথবা জখমপ্রাপ্ত শ্রমিকটি মালিকের যে ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়োজিত ছিলেন উহার ব্যবস্থাপনার জন্য মালিকের নিকট দায়ী কোন ব্যক্তির উপর জারী করা হইবে।
(৬) এই ধারার অধীন কোন নোটিশ, যাহার উপর উহা জারী করিতে হইবে তাহার বাসায় অথবা অফিসে অথবা ব্যবসার স্থানে হসত্দানত্দর করিয়া অথবা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া জারী করা হইবে অথবা যে ৰেত্রে কোন নোটিশ বই সংরৰিত হয় সেৰেত্রে উক্ত বইয়ে লিপিবদ্ধ করিয়া জারী করা যাইবে।
(১) যে ৰেত্রে কোন শ্রম আদালত কোন সূত্র হইতে এই খবর পায় যে, কোন শ্রমিক তাহার চাকুরী চলাকালে উহা হইতে উদ্ভূত কোন দুর্ঘটনার কারণে মারা গিয়াছেন, সে ৰেত্রে আদালত রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত নোটিশ দ্বারা সংশিস্নষ্ট শ্রমিকের মালিককে নোটিশ জারীর ত্রিশ দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে উহার নিকট একটি বিবৃতি পেশ করিবার জন্য নির্দেশ দিবে, যাহাতে শ্রমিকের মৃতু্যর কারণ ও তৎসম্পর্কিত পরিস্থিতি এবং মালিকের মতে উক্ত মৃতু্যর কারণে তিনি কোন ৰতিপূরণ জমা দিতে বাধ্য কি না তৎসম্পর্কে বর্ণনা থাকিবে।
(২) যদি মালিক এই মত পোষণ করেন যে, তিনি ৰতিপূরণ জমা দিতে বাধ্য তাহা হইলে নোটিশ জারীর ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি তাহা জমা দিবেন।
(৩) যদি মালিক এই মত পোষণ করেন যে, তিনি কোন ৰতিপূরণ প্রদানে বাধ্য নহেন তাহা হইলে তিনি তাহার বিবৃতিতে উহার কারণ উলেস্নখ করিবেন।
(৪) যে ৰেত্রে মালিক উক্তরূপভাবে তাহার দায়িত্ব অস্বীকার করেন সে ৰেত্রে, শ্রম আদালত, উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তদনত্দের পর, মৃত শ্রমিকের যে কোন পোষ্যকে জানাইতে পারিবে যে, তাহারা ৰতিপূরণ দাবী করিতে পারেন, এবং আদালত উহার বিবেচনায় প্রয়োজনীয় অন্য কোন তথ্যও তাহাদিগকে দিতে পারিবে।
যে ৰেত্রে আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের দ্বারা কোন মালিকের বাড়ীঘর বা আংগিনায় ঘটিত কোন দুর্ঘটনায় মৃতু্য সম্পর্কে কোন কর্তৃপৰকে নোটিশ দেওয়া প্রয়োজন সেৰেত্রে মালিক অথবা তাহার পৰে অন্য কেহ উক্তরূপ মৃতু্যর সাত দিনের মধ্যে মৃতু্যর কারণ ও পারিপাশ্বর্িক অবস্থা বর্ণনা করিয়া শ্রম আদালতে একটি রিপোর্ট প্রেরণ করিবেন।
(১) যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক কোন দুর্ঘটনার নোটিশ প্রদান করেন সে ক্ষেত্রে মালিক নোটিশ জারীর তিন দিনের মধ্যে 1[মালিকের নিজ খরচে] কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা শ্রমিককে পরীক্ষা করাইবেন এবং উক্ত শ্রমিক উক্তরূপ পরীক্ষার জন্য নিজেকে হাজির করিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের দুর্ঘটনা বা অসুস্থতা গুরম্নতর হইলে, শ্রমিক যেখানে অবস্থান করিতেছেন মালিক সেখানে তাহাকে পরীৰা করাইবার ব্যবস্থা করিবেন।
(২) এই অধ্যায়ের অধীন কোন শ্রমিক মাসিক ৰতিপূরণ পাইতে থাকিলে, যদি তিনি নির্দেশিত হন তাহা হইলে সময় সময় উক্তরূপ পরীৰার জন্য নিজেকে হাজির করিবেন।
(৩) যে ৰেত্রে বিনা খরচে কোন শ্রমিককে উক্তরূপ কোন পরীৰা না করা হয় সে ৰেত্রে তিনি নিজ উদ্যোগে কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা পরীৰিত হইতে পারিবেন এবং তৎসম্পর্কিত খরচ মালিক তাহাকে পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(৪) এই অধ্যায়ের অধীন প্রণীত বিধি মোতাবেক ব্যতীত অথবা বিধি দ্বারা নির্ধারিত দিন ব্যতীত উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন কোন চিকিৎসা পরীৰার জন্য কোন শ্রমিককে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাইবে না।
(৫) যদি কোন শ্রমিক উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন মালিক কর্তৃক নির্দেশিত অথবা শ্রম আদালত কর্তৃক কোন সময়ে নির্দেশিত হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসা পরীৰার জন্য তিনি কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের নিকট নিজেকে হাজির করিতে অস্বীকার করেন অথবা অন্য কোনভাবে উহাতে বাধা প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত অস্বীকৃতি বা বাধা দেওয়াকালে তাহার ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার সাময়িকভাব স্থগিত থাকিবে যদি না, অস্বীকৃতির ৰেত্রে, নিজেকে উক্তরূপ হাজির করার ব্যাপারে তিনি পর্যাপ্ত কারণ দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হইয়া থাকেন।
(৬) যদি কোন শ্রমিক উপ-ধারা (১) অথবা (২) এর অধীন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা পরীৰার জন্য তাহাকে হাজির হওয়ার কথা ঐ সময় অতিক্রানত্দ হইবার পূর্বেই স্ব-ইচ্ছায় উক্তরূপভাবে পরীৰিত না হইয়া তাহার কর্মস্থলের এলাকা ত্যাগ করিয়া চলিয়া যান তাহা হইলে তিনি ফিরিয়া না আসা পর্যনত্দ অথবা নিজেকে উক্তরূপ পরীৰার জন্য হাজির না করা পর্যনত্দ তাহার ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত থাকিবে।
(৭) উপ-ধারা (৫) ও (৬) এর অধীন ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার স্থগিত হইয়াছে এরূপ কোন শ্রমিক যদি উক্ত কোন উপ-ধারার অধীন নির্দেশিত কোন চিকিৎসা পরীৰার জন্য নিজেকে হাজির না করা কালে মারা যান তাহা হইলে শ্রম আদালত, উপযুক্ত মনে করিলে, মৃত শ্রমিকের পোষ্যগণকে ৰতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৮) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (৫) অথবা (৬) এর অধীন কোন ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার স্থগিত হয় সে ৰেত্রে স্থগিতকালের জন্য কোন ৰতিপূরণ প্রদেয় হইবে না এবং যদি ধারা ১৫১ (১)(খ) এ উলিস্নখিত অপেৰাকাল অবসান হইবার পূর্বে উক্ত স্থগিতকাল শুরম্ন হয় তাহা হইলে অপেৰাকাল স্থগিতকালের দ্বারা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইবে।
(৯) যে ৰেত্রে মালিক কর্তৃক কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা কোন জখমপ্রাপ্ত শ্রমিকের বিনা খরচে চিকিৎসা করাইবার প্রসত্দাব দেওয়া সত্ত্বেও উক্ত শ্রমিক তাহা গ্রহণ করিতে অস্বীকার করেন, অথবা উক্তরূপ প্রসত্দাব গ্রহণের পর ইচ্ছাকৃতভাবে উক্ত চিকিৎসকের নির্দেশ উপেৰা করেন, এবং যদি ইহা প্রমাণিত হয় যে, শ্রমিকটি উহার পর কোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা নিয়মিতভাবে চিকিৎসীত হন নাই অথবা চিকিৎসীত হওয়াকালে ইচ্ছাকৃতভাবে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুসরণ করিতে ব্যর্থ হইয়াছেন এবং উক্তরূপ অস্বীকৃতি, অবহেলা অথবা ব্যর্থতা অবস্থার পরিপ্রেৰিতে অযৌক্তিক ছিল এবং ইহার ফলে জখমের অবনতি ঘটে, সে ৰেত্রে জখমটি এবং উহা হইতে স্পষ্ট অৰমতা, শ্রমিকটি রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা নিয়মিতভাবে চিকিৎসীত হইয়া তাহার নির্দেশমত চলিলে যে প্রকৃতির হইত এবং যে সময় পর্যনত্দ থাকিত-উহা সে প্রকৃতির এবং সে সময় পর্যনত্দ চলিতেছে বলিয়া গণ্য হইবে, এবং কোন ৰতিপূরণ প্রদেয় হইলে উহা তদানুযায়ী প্রদত্ত হইবে।
(১০) যে ৰেত্রে কোন মালিক অথবা জখমপ্রাপ্ত শ্রমিক কোন রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত চিকিৎসা পরীৰার রিপোর্টে সন্তুষ্ট না হন, সে ৰেত্রে তিনি বিষয়টি পুনরায় পরীৰা করার জন্য মেডিকেল কলেজের অনূ্যন সহযোগী অধ্যাপকের মর্যাদাসম্পন্ন্ন কোন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন, এবং এই প্রকার পরীৰার জন্য যে খরচ হইবে উহা মালিক বা, ৰেত্রমত, শ্রমিক বহন করিবেন।
2[(১১) কোন প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ১০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকিলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের জন্য যৌথ বীমা কর্মসূচির অধীনে দুর্ঘটনা জনিত বীমা স্কীম চালু ও বাস্তবায়ন করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ দুর্ঘটনা বীমা স্কীম হইতে প্রাপ্ত সুবিধাদি বা অর্থ শ্রমিকের চিকিৎসা কাজে ব্যয় করিতে হইবে।]
(১) যে ক্ষেত্রে কোন মালিক তাহার ব্যবসা বা বাণিজ্য চলাকালে অথবা উহার প্রয়োজনে সাধারণতঃ তাহার ব্যবসা-বাণিজ্যের অংশ এরূপ কোন কাজ বা উহার অংশ বিশেষ সম্পাদন করার জন্য অন্য কোন ব্যক্তির, অতঃপর এই ধারায় "1[ঠিকাদার সংস্থা]" বলিয়া উল্লিখিত, সহিত চুক্তি করেন, সে ক্ষেত্রে উক্ত মালিক, কোন শ্রমিক সরাসরি তাহার দ্বারা নিযুক্ত হইলে তাহাকে যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করিতে বাধ্য থাকিতেন, উক্ত কার্য সম্পাদনের জন্য ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত শ্রমিককেও তিনি অনুরূপ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকিবেন, এবং যে ক্ষেত্রে মালিকের নিকট হইতে কোন ক্ষতিপূরণ দাবী করা হয় সে ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ণয়ের জন্য ঠিকাদারের নিকট হইতে প্রাপ্ত মজুরী আমলে আনা হইবে।
2[(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) প্রযোজ্য, সে ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল বা মূল মালিক সমস্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করিবেন।
(৩) যে ক্ষেত্রে প্রিন্সিপাল বা মূল মালিক মনে করেন যে সংশ্লিষ্ট কোন শ্রমিকের নিহত কিংবা আহত হওয়ার ঘটনাটি বিশেষভাবে এবং বাস্তবিক অর্থে ঠিকাদারের পক্ষ হইতে কোন আচরণবিধি লংঘনের ফলে সংঘটিত হইয়াছে, তবে তিনি, শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণের পূর্ণ অর্থ জমা দেওয়ার পর (যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক নিহত হয়), কিংবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ প্রদানের পর (যে ক্ষেত্রে কোন শ্রমিক আহত হয়), উক্ত অর্থের কত অংশ ঠিকাদার কর্তৃক প্রিন্সিপাল বা মূল মালিককে প্রদান করা উচিত, তাহা নির্ধারণের জন্য প্রধান পরিদর্শকের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং প্রধান পরিদর্শক আবেদন প্রাপ্তির পর ৪৫ দিনের মধ্যে বিধি মোতাবেক তা নিস্পত্তি করিবেন।]
(১) যে ৰেত্রে কোন মালিক এই অধ্যায়ের অধীন শ্রমিকগণের প্রতি কোন দায় সম্পর্কে কোন বীমাকারীর সহিত চুক্তিবদ্ধ হন, সে ৰেত্রে মালিক দেউলিয়া হইলে, অথবা পাওনাদারের সহিত কোন ব্যবস্থা সম্পর্কে স্কীম প্রণয়ন করিলে, অথবা মালিক যদি কোন কোম্পানী হয় এবং ইহা যদি গুটাইয়া ফেলা শুরম্ন করে, তাহা হইলে উক্ত দায় সম্পর্কে বীমাকারীর বিরম্নদ্ধে মালিকের অধিকার, অন্য কোন আইনে দেউলিয়াত্ব অথবা কোম্পানী গুটাইয়া ফেলা সম্পর্কে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শ্রমিকের নিকট হসত্দানত্দরিত ও ন্যসত্দ হইবে, এবং উক্তরূপ হসত্দানত্দরের পর বীমাকারীর এইরূপ অধিকার এবং প্রতিকারের উপায় থাকিবে এবং তিনি এমন দায়-দায়িত্বের অধীন থাকিবেন যেন তিনি মালিক, তবে শ্রমিকগণের প্রতি মালিকের যে দায় উহা হইতে শ্রমিকের প্রতি বীমাকারীর দায় অধিক হইবে না।
(২) যদি শ্রমিকের প্রতি বীমাকারীর দায় মালিকের দায় হইতে কম হয় তাহা হইলে দেউলিয়াত্ব অথবা অবসায়ন কার্যক্রমে শ্রমিক উহা প্রমাণ করিতে পারিবেন।
(৩) যে ৰেত্রে উপ-ধারা (১) এ উলিস্নখিত কোন ৰেত্রে বীমাকারীর সহিত মালিকের চুক্তি এই কারণে অবৈধ বা অবৈধ হইবার যোগ্য যে, মালিক প্রিমিয়াম আদায়ের বিষয় ব্যতীত অন্য কোন বিষয়ে চুক্তির কোন শর্ত পালন করেন নাই, সে ৰেত্রে উক্ত উপ-ধারার বিধান এরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন চুক্তিটি অবৈধ বা অবৈধযোগ্য ছিল না, এবং বীমাকারী দেউলিয়াত্ব বা অবসায়ন কার্যক্রমে শ্রমিককে প্রদত্ত অর্থ প্রমাণ করার অধিকারী হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার বিধানগুলি এরূপ কোন ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে না যেখানে শ্রমিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে এবং উহার ফলে কোন অৰমতা সম্পর্কে দেউলিয়াত্ব বা অবসায়ন কার্যক্রম শুরম্ন হওয়া সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত হওয়ার যতদূর সম্ভব পরে বীমাকারীকে নোটিশ দিতে ব্যর্থ হইয়াছেন।
(৪) দেউলিয়া (ঢাকা) আইন, ১৯০৯ (১৯০৯ সনের ৩নং আইন) এর ধারা ৪৯ অথবা দেউলিয়া আইন, ১৯২০ (১৯২০ সনের ৫নং আইন) এর ধারা ৬১, এবং কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এবং ধারা ২৩০ এর অধীন যে দেনা দেউলিয়ার সম্পত্তি বন্টনের ৰেত্রে অথবা গুটাইয়া ফেলা হইতেছে এরূপ কোন কোম্পানীর সম্পদ বন্টনের ৰেত্রে অন্য কোন দেনার উপরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদেয় হয়, এইরূপ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেনার সহিত এমন ৰতিপূরণও যোগ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যাহা পরিশোধের দায়িত্ব দেউলিয়া সাব্যসত্দ হওয়া সংক্রানত্দ আদেশের তারিখের পূর্বে অথবা, ৰেত্রমত, গুটাইয়া ফেলা কার্যক্রম আরম্ভ হওয়ার তারিখের পূর্বে উদ্ভূত হইয়াছে, এবং ঐ আইনগুলি তদানুযায়ী কার্যকর হইবে।
(৫) যে ৰেত্রে ৰতিপূরণটি হইতেছে একটি মাসিক অর্থ, সে ৰেত্রে এই ধারার প্রয়োজনে, তৎসম্পর্কে প্রদেয় অর্থ বলিতে ধারা ১৫৪ এর অধীন দরখাসত্দ করা হইলে যদি উক্ত মাসিক অর্থকে থোক অর্থে পরিশোধ করা সম্ভব হইত সে থোক অর্থ বলিয়া বিবেচিত হইবে, এবং এই থোক সম্পর্কে শ্রম আদালতের প্রত্যয়নপত্র এই বিষয়ে চূড়ানত্দ প্রমাণ হইবে।
(৬) উপ-ধারা (৩) এর অধীন যে অর্থ কোন বীমাকারী প্রমাণ করার অধিকারী সে অর্থের ৰেত্রে উপ-ধারা (৪) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে, কিন্তু অন্যথায় উক্ত বিধান ঐ ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে না যেখানে দেউলিয়া ব্যক্তিটি অথবা গুটাইয়া ফেলা হইতেছে এরূপ কোম্পানীটি উপ-ধারা (১) এ যেরূপ উলিস্নখিত আছে সেরূপ কোন চুক্তি কোন বীমাকারীর সহিত সম্পাদন করে।
(৭) কোন কোম্পানী পুনর্গঠিত হওয়ার জন্য অথবা অন্য কোন কোম্পানীর সহিত একত্রিত হওয়ার জন্য স্বেচ্ছায় গুটাইয়া ফেলার ৰেত্রে এই ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(১) এই অধ্যায়, এই ধারার বিধান সাপেৰে, কোন জাহাজের মাষ্টার অথবা নাবিকের ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোন দুর্ঘটনার নোটিশ ও ৰতিপূরণের দাবী, যে ৰেত্রে জখমপ্রাপ্ত ব্যক্তিটি জাহাজের মাষ্টার সে ৰেত্র ব্যতীত, জাহাজের মাষ্টারের উপর জারী করা হইবে যেন তিনিই মালিক, কিন্তু যে ৰেত্রে দুর্ঘটনা জাহাজেই ঘটে এবং অৰমতা জাহাজে শুরম্ন হয় সে ৰেত্রে কোন নাবিকের পৰে দুর্ঘটনার কোন নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন হইবে না।
(৩) কোন মাষ্টার অথবা নাবিকের মৃতু্যর ৰেত্রে ৰতিপূরণের দাবী দাবীকারী কর্তৃক মৃতু্যর খবর পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে, অথবা যে ৰেত্রে জাহাজটি উহার সকলকে নিয়া হারাইয়া গিয়াছে, অথবা হারাইয়া গিয়াছে বলিয়া গণ্য হয়, সে ৰেত্রে হারাইয়া যাওয়ার বা গিয়াছে বলিয়া গণ্য হওয়ার তারিখ হইতে আঠারো মাসের মধ্যে করিতে হইবে।
(৪) যে ৰেত্রে জখমপ্রাপ্ত মাষ্টার অথবা নাবিককে বিদেশে কোথাও ডিসচার্জ করা হয় অথবা ছাড়িয়া আসা হয়, সে ৰেত্রে সেই দেশের কোন বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা ঐ দেশে কোন কনসু্যলার কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত এবং তৎকর্তৃক সরকারের নিকট প্রেরিত কোন সাৰ্য কোন দাবী আদায় সংক্রানত্দ কার্যক্রমে সাৰ্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হইবে, যদি-
(ক) সাৰ্যটি উক্ত বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট অথবা কনসু্যলার কর্মকর্তার স্বাৰর দ্বারা প্রমাণিকৃত হয়;
(খ) বিবাদী অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বাৰীকে জেরা করিবার সুযোগ পান; এবং
(গ) সাৰ্যটি কোন ফৌজদারী কার্যক্রমে গৃহীত হইলে ইহা প্রমাণ করা হয় যে, সাৰ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে গৃহীত হইয়াছিল;
এবং কোন ৰেত্রে উক্তরূপ সাৰ্য দসত্দখত করিয়াছেন বলিয়া দৃষ্ট ব্যক্তির দসত্দখত বা পদমর্যাদা প্রমাণ করার প্রয়োজন হইবে না, এবং বিবাদী অথবা অভিযুক্ত ব্যক্তি সাৰীকে জেরা করিবার সুযোগ পাইয়াছিলেন এবং সাৰ্য, ফৌজদারী কার্যক্রমের ৰেত্রে, অভিযুক্ত ব্যক্তির উপস্থিতিতে গৃহীত হইয়াছিল এই মর্মে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত কোন প্রত্যয়নপত্র ভিন্নরূপ প্রমাণিত না হইলে, তিনি উক্তরূপ সুযোগ পাইয়াছিলেন এবং উহা উক্তরূপে গৃহীত হইয়াছিল ইহার পর্যাপ্ত প্রমাণ হইবে।
(৫) বাংলাদেশে প্রচলিত বাণিজ্যিক জাহাজ সম্পর্কিত কোন আইনের অধীন জাহাজের মালিক জখম প্রাপ্ত মাষ্টার এবং নাবিকের কোন সময়ের জন্য খোরপোষ বহন করিতে বাধ্য হইলে ঐ সময়ের জন্য ৰতিপূরণ বাবদ কোন মাসিক অর্থ প্রদেয় হইবে না।
(৬) অবসর ভাতা (নৌ, সেনা, বিমান বাহিনী এবং বাণিজ্য-নৌ) আইন, ১৯৩৯ এর অধীন প্রণীত যুদ্ধ অবসর ভাতা এবং আটক ভাতা (বাণিজ্য-নৌ, ইত্যাদি) স্কীম, ১৯৩৯ অথবা যুদ্ধ অবসর ভাতা এবং আটক ভাতা (ভারতীয় নাবিক, ইত্যাদি) স্কীম, ১৯৪১, অথবা সরকার কতর্ৃক প্রণীত যুদ্ধ অবসর ভাতা এবং আটক ভাতা (ভারতীয় নাবিক) স্কীম, ১৯৪২ এর অধীন কোন জখম সম্পর্কে গ্রেচুইটী, ভাতা, বা অবসর ভাতার ব্যবস্থা করা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন তৎসমপর্কে কোন ৰতিপূরণ প্রদেয় হইবে না।
(৭) এই অধ্যায়ের অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন নোটিশ প্রদান বা দাবী পেশ বা কার্যক্রম শুরম্ন করিতে ব্যর্থতা এই অধ্যায়ের অধীন কোন ব্যক্তিগত জখমের সম্পর্কে কোন কার্যক্রম চালু করার বিষয়ে বাধা হইবে না, যদি-
(ক) উপ-ধারা (৬) এ উলিস্নখিত কোন স্কীমের অধীন উক্ত জখম সম্পর্কে অর্থ প্রদানের জন্য দরখাসত্দ করা হইয়া থাকে; এবং
(খ) সরকার এই মর্মে প্রত্যয়ন করে যে, উক্ত দরখাসত্দ এই যুক্তিসংগত বিশ্বাসে করা হইয়াছিল যে, জখমটি এমন যে, উহা সম্পর্কে যে স্কীমের অধীনে দরখাসত্দ করা হইয়াছিল উক্ত স্কীমে উহার জন্য অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা আছে, এবং জখমটি উক্তরূপ কোন জখম নহে এই কারণে দরখাসত্দখানি না মঞ্জুর করা হইয়াছিল অথবা উক্ত দরখাসত্দের পরিপ্রেৰিতে প্রদত্ত অর্থ প্রদান বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছিল; এবং
(গ) এই অধ্যায়ের অধীন কার্যক্রম সরকারের উক্ত প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার এক মাসের মধ্যে শুরম্ন করা হইয়াছে।
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই মর্মে নির্দেশ দিতে পারিবে যে শ্রমিক নিয়োগকারী প্রত্যেক ব্যক্তি অথবা উক্তরূপ ব্যক্তিগণের কোন শ্রেণী, প্রজ্ঞাপনে উলিস্নখিত কতর্ৃপৰের নিকট, উহাতে উলিস্নখিত সময়ে ও ফরমে একটি শুদ্ধ বিবরণী প্রেরণ করিবেন যাহাতে পূর্ববতর্ী বৎসরে যে সমসত্দ জখমের জন্য মালিক কতর্ৃক ৰতিপূরণ প্রদান করা হইয়াছে উহার সংখ্যা, উক্তরূপ ৰতিপূরণের পরিমাণ এবং সরকার কতর্ৃক নির্দেশিত ৰতিপূরণ সম্বন্ধে অন্যান্য বিষয়ও উলেস্নখ থাকিবে।
এই আইন বলবৎ হওয়ার পূর্বে বা পরে সম্পাদিত কোন চুক্তি দ্বারা যদি কোন শ্রমিক তাহার চাকুরীকালে অথবা উহা হইতে উদ্ভূত কোন ব্যক্তিগত জখমের জন্য মালিকের নিকট হইতে কোন ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকার পরিত্যাগ করেন, তাহা হইলে উক্ত চুক্তি দ্বারা এই অধ্যায়ের অধীন কোন ব্যক্তির ৰতিপূরণ পরিশোধের দায় যতখানি অপসারিত অথবা হ্রাস করা হইবে ততখানি পর্যনত্দ বাতিল হইবে।
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন কার্যক্রমে কোন ব্যক্তির ৰতিপূরণ পরিশোধের দায় অথবা কোন জখম প্রাপ্ত শ্রমিক কি না, অথবা ৰতিপূরণের পরিমাণ ও মেয়াদ, অথবা কোন অৰমতার প্রকৃতি বা পরিমাণ সম্পর্কে যদি কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়, তাহা হইলে প্রশ্নটি, কোন চুক্তির অবর্তমানে, শ্রম আদালত নিষ্পত্তি করিবে।
(২) এই অধ্যায়ের অধীন যে প্রশ্ন নিষ্পত্তি করার এখতিয়ার শ্রম আদালতকে দেওয়া আছে, সে সম্পর্কে অথবা এই অধ্যায়ের অধীন কোন দায় বলবৎ করার ব্যাপারে কোন দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ার থাকিবে না।
যে ৰেত্রে এই অধ্যায়ের অধীন কোন বিষয় শ্রম আদালত কতর্ৃক বা শ্রম আদালত সমীপে সম্পাদন হওয়ার কথা সে ৰেত্রে উহা এই অধ্যায়ের এবং কোন বিধির বিধান সাপেৰে ঐ শ্রম আদালত কর্তৃক বা শ্রম আদালত সমীপে সম্পাদিত হইবে যাহার এলাকার মধ্যে যে দুর্ঘটনার ফলে জখম হইয়াছে উহা ঘটিয়াছেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যে ৰেত্রে শ্রমিকটি কোন জাহাজের মাষ্টার বা নাবিক, সে ৰেত্রে জাহাজের মালিক অথবা এজেন্ট যে এলাকায় বাস করেন বা ব্যবসা পরিচালনা করেন, সেই এলাকার উপর এখতিয়ার সম্পন্ন শ্রম আদালত কতর্ৃক বা শ্রম আদালত সমীপে উক্তরূপ বিষয়টি সম্পাদিত হইবে।
এই অধ্যায়ের অধীন 1[কোন ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক নিজে অথবা পোষ্য] কর্তৃক ক্ষতিপূরণের দরখাস্ত ব্যতীত, কোন বিষয় নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করা যাইবে না যদি না উভয়পক্ষ উক্ত কোন বিষয় সম্পর্কে উত্থিত কোন প্রশ্ন চুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হন।
(১) যে ৰেত্রে জখমের ফলে মৃত কোন শ্রমিক সম্পর্কে প্রদেয় ৰতিপূরণ বাবদ কোন অর্থ মালিক কতর্ৃক জমা দেওয়া হইয়াছে এবং শ্রম আদালতের মতে উক্ত অর্থ অপর্যাপ্ত, সে ৰেত্রে উক্ত আদালত উহার যুক্তি উলেস্নখপূর্বক লিখিত নোটিশ জারী করিয়া, উহাতে উলিস্নখিত সময়ের মধ্যে, আরোও অধিক অর্থ কেন জমা করা হইবে না তৎসম্পর্কে কারণ দর্শানোর জন্য মালিককে নির্দেশ দিতে পারিবে।
(২) যদি মালিক শ্রম আদালতের সনত্দোষমত কারণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত আদালত ৰতিপূরণ বাবদ মোট প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিয়া রোয়েদাদ দিতে পারিবে এবং মালিককে উক্ত পরিমাণের ঘাটতি অর্থ জমা দিবার নির্দেশ দিতে পারিবে।
(১) যে ৰেত্রে ৰতিপূরণ বাবদ প্রদেয় কোন থোক অর্থের পরিমাণ চুক্তি দ্বারা নির্ধারিত করা হয়, উহা মাসিক অর্থ পরিশোধ করিয়া হউক অথবা অন্য কোনভাবে হউক, অথবা যে ৰেত্রে উক্তরূপ নির্ধারিত ৰতিপূরণ আইনগত অৰমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় হয়, সে ৰেত্রে তৎসম্পর্কে একটি স্মারকলিপি মালিক কতর্ৃক শ্রম আদালতে প্রেরণ করিতে হইবে এবং উক্ত আদালত উহার যথার্থতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হওয়ার পর বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে-
(ক) উক্তরূপ কোন স্মারক উক্ত আদালত কতর্ৃক পৰগণকে তৎসম্পর্কে অবহিত করার সাত দিনের মধ্যে লিপিবদ্ধ করা যাইবে না;
(খ) উক্ত আদালত যে কোন সময়ে রেজিস্টার সংশোধন করিতে পারিবে;
(গ) যে ৰেত্রে উক্ত আদালতের নিকট ইহা প্রতীয়মান হয় যে, থোক অর্থ পরিশোধের জন্য কোন চুক্তি, উহা মাসিক অর্থ পরিশোধ করিয়া হউক অথবা অন্য কোন ভাবে হউক, অথবা আইনগত অৰমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় ৰতিপূরণের পরিমাণ সম্বন্ধে কোন চুক্তি, উক্ত অর্থ বা পরিমাণের অপর্যাপ্ততার কারণে অথবা প্রতারণা অথবা অবৈধ প্রভাব অথবা অন্য কোন অসংগত উপায় অবলম্বনের দ্বারা হাছিল করার কারণে উহা রেজিস্টারভুক্ত করা উচিত হইবে না; সে ৰেত্রে উক্ত আদালত, অবস্থার পরিপ্রেৰিতে চুক্তির অধীন প্রদত্ত অর্থ পরিশোধ সম্পর্কেসহ যথাযথ আদেশ দিতে পারিবে।
(২) অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উপ-ধারা (১) এর অধীন রেজিস্টারভুক্ত ৰতিপূরণ প্রদান সম্পর্কে কোন চুক্তি এই আইনের অধীন বলবৎযোগ্য হইবে।
যে ৰেত্রে ধারা ১৭০ এর অধীন রেজিস্ট্রিকরণ প্রয়োজন এরূপ কোন চুক্তির স্মারকলিপি উক্ত ধারার বিধান অনুযায়ী শ্রম আদালতে প্রেরণ করা না হয়, সে ৰেত্রে মালিক এই অধ্যায়ের অধীন তৎকতর্ৃক প্রদেয় ৰতিপূরণের সম্পূর্ণর্র্ অর্থ পরিশোধ করিতে বাধ্য থাকিবেন এবং উক্ত আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ না দিলে, তিনি ৰতিপূরণ বাবদ শ্রমিককে পরিশোধিত অর্থের, উহা চুক্তির অধীন হউক অথবা অন্যভাবে হউক, অর্ধেকের অধিক কর্তন করিতে অধিকারী হইবেন না।
(১) এই অধ্যায়ের অধীন প্রদত্ত শ্রম আদালতের নিম্নলিখিত আদেশের বিরম্নদ্ধে ট্রাইবু্যনালে আপীল করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) ৰতিপুরণ হিসাবে থোক অর্থ রোয়েদাদের আদেশ, উহা মাসিক অর্থ পরিশোধ করিয়া হউক অথবা অন্যভাবে হউক, অথবা থোক অর্থ প্রদানের দাবী সম্পূর্ণর্র্ বা আংশিক না মঞ্জুরের আদেশ;
(খ) অর্থ পরিশোধ করতঃ মাসিক ৰতিপূরণ প্রদানের দায় হইতে মুক্ত হওয়ার আবেদন প্রত্যাখানের আদেশ;
(গ) কোন মৃত শ্রমিকের পোষ্যগণের মধ্যে ৰতিপূরণের অর্থ বন্টনের ব্যবস্থাসম্বলিত আদেশ, অথবা উক্তরূপ পোষ্য বলিয়া দাবীদার কোন ব্যক্তির ৰতিপূরণ পাওয়ার দাবী না মঞ্জুরের আদেশ;
(ঘ) ধারা ১৬১ (২) এর অধীন ৰতিপূরণের কোন অর্থ দাবী মঞ্জুর বা না মঞ্জুরের আদেশ;
(ঙ) চুক্তির স্মারকলিপির রেজিস্ট্রিকরণ প্রত্যাখ্যান, অথবা উহার রেজিস্ট্রিকরণ অথবা উহার শর্তসাপেৰে রেজিস্ট্রিকরণের আদেশ; অথবা
(চ) ধারা ১৫৫ (৭) এর অধীন আদেশ।
(২) পৰগণ কতর্ৃক শ্রম আদালতের সিদ্ধানত্দ মানিয়া চলিতে সম্মত হওয়ার ৰেত্রে অথবা পৰগণের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি কার্যকর করার জন্য শ্রম আদালত কতর্ৃক প্রদত্ত কোন আদেশের বিরম্নদ্ধে আপীল চলিবে না।
(৩) মালিক কর্তৃক উপ-ধারা (১) (ক) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করা যাইবে না যদি না আপীলের স্মারকলিপির সহিত শ্রম আদালত কতর্ৃক প্রদত্ত এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র থাকে যে, আপীলকারী উক্ত আদালতে সংশিস্নষ্ট আদেশের অধীন প্রদেয় অর্থ জমা দিয়াছেন।
(৪) কোন আদেশের বিরম্নদ্ধে কোন আপীল চলিবে না যদি না আপীলে কোন উলেস্নখযোগ্য আইনগত প্রশ্ন জড়িত থাকে, এবং উপ-ধারা (১) (খ) এ উলিস্নখিত কোন আদেশ ব্যতীত অন্য কোন আদেশের বিরম্নদ্ধে কোন আপীল চলিবে না, যদি না আপীলে বিরোধীয় অর্থের পরিমাণ অনূ্যন এক হাজার টাকা হয়।
(৫) এই ধারার অধীন আপীলের জন্য তামাদির মেয়াদ হইবে ষাট দিন।
(৬) তামাদী আইন, ১৯০৮ (১৯০৮ সনের ৯নং আইন) এর ধারা ৫ এর বিধান এই ধারার অধীন আপীলের ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
যে ৰেত্রে কোন মালিক ধারা ১৭২ (১) (ক) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করেন, সে ৰেত্রে শ্রম আদালত, আপীলের সিদ্ধানত্দ সাপেৰে, উহার নিকট জমাকৃত কোন অর্থ পরিশোধ স্থগিত রাখিতে পারিবে, এবং ট্রাইবু্যনাল নির্দেশ দিলে উহা অবশ্যই স্থগিত রাখিবে।
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা-
(ক) এই অধ্যায়ের অধীন শ্রম আদালতে জমাকৃত কোন অর্থ, যাহা অন্য কোন দেশে বসবাস করিতেছেন অথবা করিতে যাইতেছেন এমন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় অথবা তাহার প্রাপ্য, উক্ত দেশে হসত্দানত্দরের জন্য; এবং
(খ) বাংলাদেশে বসবাস করিতেছেন অথবা করিতে যাইতেছেন এমন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় বা তাহার প্রাপ্য কোন অর্থ, যাহা অন্য কোন দেশে শ্রমিকগণের ৰতিপূরণ সম্পর্কিত কোন আইনের অধীন জমা করা হইয়াছে, বাংলাদেশে গ্রহণ, বন্টন এবং পরিচালনার জন্য;
বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন মারাত্মক দুর্ঘটনা সম্পর্কে এই অধ্যায়ের অধীন জমাকৃত কোন অর্থ সংশিস্নষ্ট মালিকের সম্মতি ব্যতিরেকে উক্তরূপে হসত্দানত্দর করা যাইবে না, যতৰণ পর্যনত্দ জমাগ্রহণকারী শ্রম আদালত ধারা ১৫৫(৪) এবং (৫) এর অধীন উক্ত অর্থের বন্টন এবং ভাগ নির্ণয় করিয়া আদেশ প্রদান না করে।
(২) যে ৰেত্রে এই ধারার অধীন প্রণীত বিধি মোতাবেক কোন শ্রম আদালতে জমাকৃত কোন অর্থ উক্তরূপে হসত্দানত্দর করা হয়, সে ৰেত্রে উক্ত অর্থ সম্পর্কে শ্রম আদালতে জমাকৃত কোন ৰতিপূরণ বিলি বন্টন সমপর্কে এই অধ্যায়ের অন্য কোন বিধান আর প্রযোজ্য হইবে না।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে এই অধ্যায়ে ‘শ্রমিক' অর্থ ধারা ২(৬৫) এ সংজ্ঞায়িত কোন শ্রমিক, এবং এই অধ্যারে অধীন শিল্প বিরোধ সম্পর্কে কোন কার্যধারার প্রয়োজনে, উক্ত বিরোধের সূত্রে অথবা বিরোধের ফলে লে-অফকৃত, ছাঁটাইকৃত, ডিসচার্জকৃত বা বরখাস্তকৃত অথবা অন্যভাবে চাকুরী হইতে অপসারিত কোন শ্রমিক অথবা যাহার লে-অফ, ছাটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত বা অপসারণ হইতে উক্ত বিরোধ উত্থিত হইয়াছে এরূপ কোন শ্রমিক ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন; কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানের পাহারা টহলদারী অথবা নিরাপত্তা স্টাফ, অগ্নি-নির্বাপক স্টাফের কোন সদস্য এবং গোপনীয় সহকারী ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন না।
এই অধ্যায়ের বিধান সাপেক্ষে-
(ক) মুখ্যতঃ শ্রমিক এবং মালিকের সম্পর্ক, অথবা শ্রমিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার থাকিবে;
(খ) মুখ্যতঃ মালিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক, অথবা মালিক এবং মালিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল মালিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের অধিকার থাকিবে;
(গ) শ্রমিকগণের এবং মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন গঠন করার এবং উহাতে যোগদান করার অধিকার থাকিবে, এবং উক্তরূপ কোন ইউনিয়ন বা ফেডারেশন এর শ্রমিক অথবা মালিকগণের সংগঠনের কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কনফেডারেশনের সহিত সম্বন্ধীকরণের অধিকার থাকিবে; এবং
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নসমূহের এবং মালিকদের সমিতিসমূহের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও বিধিমালা প্রণয়নের, সম্পূর্র্র্ণ স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতিনিধদের নির্বাচনের, সমিতির প্রশাসন ও কর্মতত্পরতা, সংগঠনের এবং কর্মসূচী প্রণয়নের অধিকার থাকিবে1[;
(ঙ) যে প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হইবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রম শক্তি বা সদস্যের শতকরা ২০ ভাগ মহিলা থাকিলে সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটিতে ন্যূনতম ১০% মহিলা সদস্য থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন দ্বারা যে ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন হইবে সেই ইউনিয়ন এই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।]
1[(১)] কোন ট্রেড ইউনিয়ন উহার সভাপতি এবং সম্পাদকের স্বাক্ষরে, এই অধ্যায়ের অধীন উহার রেজিস্ট্রিকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন এর নিকট দরখাস্ত করিতে পারিবে৷
2[(২) উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নস্ বলিতে শ্রম পরিচালক অথবা তাহার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধিকে বুঝাইবে।]
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত শ্রম পরিচালকের অথবা এতদসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট পেশ করিতে হইবে৷
(২) উক্ত দরখাস্তের সহিত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি সংযোজিত থাকিবে, যথাঃ-
(ক) নিম্নলিখিত তথ্য সরবরাহ করিয়া একটি বিবরণ, যথাঃ-
(১) ট্রেড ইউনিয়নের নাম এবং উহার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা,
(২) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের তারিখ,
1[ (৩) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের নাম, পিতা ও মাতার নাম, বয়স, ঠিকানা, পেশা এবং ইউনিয়নে তাহাদের পদ এবং অনানুষ্ঠানিক সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ছবিসহ প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র বা জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদ,]
(৪) সকল চাঁদা দানকারী সদস্যগণের বিবরণ,
(৫) যে প্রতিষ্ঠানের সহিত ট্রেড ইউনিয়নটি সংশ্লিষ্ট উহার নাম, এবং উহাতে নিযুক্ত বা কর্মরত শ্রমিকের মোট সংখ্যা,
(৬) কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে, উহার সদস্য ইউনিয়নের নাম, ঠিকানা ও রেজিস্ট্রি নম্বর৷
(খ) ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের তিনটি কপি, এবং তত্সহ যে সভায় উহা গ্রহণের জন্য প্রস্তাব গৃহীত হইয়াছে, উক্ত সভার সভাপতির দস্তখতসম্বলিত উক্ত প্রস্তাবের একটি কপি;
(গ) ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি এবং সম্পাদককে উহার রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত করিবার ক্ষমতা প্রদান করিয়া উহার সদস্যগণ কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবের একটি কপি; এবং
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে, উহার সদস্য হওয়ার জন্য সম্মতি প্রকাশ করিয়া প্রত্যেক সদস্য ইউনিয়ন কর্তৃক গৃহীত প্রস্তাবের একটি কপি;
2[ ***]
(১) এই অধ্যায়ের অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণের অধিকারী হইবে না, যদি না উহার গঠনতন্ত্রে নিম্নলিখিত বিষয়াদির বিধান থাকে, যথাঃ-
(ক) ট্রেড ইউনিয়নের নাম ও ঠিকানা;
(খ) ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্য;
1[ (গ) কোনো শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার পদ্ধতি এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে সদস্যপদ গ্রহণের ঘোষণা;]
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের উত্স এবং উক্ত তহবিল কি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইবে তাহার বর্ণনা 2[ :
তবে শর্ত থাকে যে, ইউনিয়নের চাঁদা ব্যতিরেকে দেশি বা বিদেশি অন্য কোনো উৎস হইতে অর্থ সংগ্রহ করিবার ক্ষেত্রে তাহা সরকারকে অবহিত করিতে হইবে;]
(ঙ) ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র কর্তৃক নিশ্চিত কোন সুবিধা কোন সদস্য কর্তৃক পাওয়ার অধিকারী হওয়ার জন্য শর্ত এবং কোন সদস্যের উপর জরিমানা অথবা বাজেয়াপ্তির আদেশ প্রদানের শর্ত;
(চ) ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যগণের তালিকা সংরক্ষণ এবং উহার কর্মকর্তা ও সদস্য কর্তৃক উহা পরিদর্শনের পর্যাপ্ত সুবিধা;
(ছ) গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন, সংশোধন ও বাতিলের পন্থা;
(জ) ট্রেড ইউনিয়ন তহবিলের নিরাপদ 3[ সংরক্ষণ], উহার বাত্সরিক নিরীক্ষা, নিরীক্ষার পন্থা, এবং ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা ও উহার সদস্য কর্তৃক উহার হিসাব বই পরিদর্শনের পর্যাপ্ত সুবিধা;
(ঝ) ট্রেড ইউনিয়ন অবলুপ্তির পন্থা;
(ঞ) ট্রেড ইউনিয়নের সাধারণ সদস্যগণ কর্তৃক উহার কর্মকর্তা নির্বাচনের পন্থা, এবং কর্মকর্তাগণের কার্যকালের মেয়াদ যাহা কোন ক্ষেত্রেই দুই বত্সরের বেশী হইবে না 4[ এবং প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাগণের কার্যকালের মেয়াদ তিন বৎসরের বেশী হইবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রীয় জরুরী অবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ (Force majure) বা অনুরূপ কোন কারণে ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে ২ বৎসর অথবা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের ক্ষেত্রে ৩ বৎসরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হইলেও উক্ত কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করা যাইবে না।]
(ট) কর্মকর্তাগণের সংখ্যা যাহা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পাঁচজনের কম এবং পঁয়ত্রিশ জনের বেশী হইবে না;
(ঠ) ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশের পদ্ধতি; এবং
(ড) ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটি এবং সাধারণ সদস্যগণের সভা আহ্বান, যাহা নির্বাহী কমিটির ক্ষেত্রে প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার এবং সাধারণ সদস্যগণের ক্ষেত্রে প্রতি বত্সরে অন্তত একবার হইতে হইবে৷
(২) শ্রমিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়ন এই অধ্যায়ের অধীন রেজিস্ট্রিকরণের অধিকারী হইবে না, যদি না য প্রতিষ্ঠানে উহা গঠিত হইয়াছে, সে প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকগণের মোট সংখ্যার অন্যুন শতকরা 5[ বিশভাগ] শ্রমিক উহার সদস্য হনঃ
6[ (২ক) শ্রম পরিচালক অথবা এতদ্সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি সরেজমিন পরিদর্শন করিয়া অথবা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ হইতে তালিকা সংগ্রহ করিয়া ধারা ১৭৮ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) এর উপ-দফা (৫) এবং এই ধারায় বর্ণিত বিষয়াদির সঠিকতা যাঁচাই করিবেন।]
তবে শর্ত থাকে যে, একই মালিকের অধীন একাধিক প্রতিষ্ঠান যদি একই শিল্প পরিচালনার উদ্দেশ্যে একে অপরের সহিত সংশ্লিষ্ট ও সম্পর্কযুক্ত হয়, তাহা হইলে উহারা যেখানেই স্থাপিত হউক না কেন এই উপ-ধারার উদ্দেশ্যে একটি প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৩) যে ক্ষেত্রে কোন দুই বা ততোধিক প্রতিষ্ঠান একই মালিকের অধীন কি না, অথবা একই শিল্প পরিচালনার উদ্দেশ্যে উহারা পরস্পর সংশ্লিষ্ট ও সম্পর্কযুক্ত কি না এইরূপ কোন সন্দেহ বা বিরোধ দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করা যাইবে৷
(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন শ্রম পরিচালক কর্তৃক প্রদত্ত কোন সিদ্ধান্তের দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি সিদ্ধান্তপ্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে উহার বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে আপীল করিতে পারিবেন, এবং এই বিষয়ে শ্রম আদালতের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে অথবা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে কোন সময়ে তিনটির অধিক 7[ রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা যাইবে না]৷
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি উহার কর্মকর্তা অথবা সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যসত্দ হইয়া থাকেন, অথবা ধারা ১৯৬(২)(ঘ) অথবা ধারা ২৯৮ এর অধীন কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যসত্দ হইয়া থাকেন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর দুই বৎসর কাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;
(খ) যে প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানে তিনি শ্রমিক হিসাবে নিয়োজিত বা কর্মরত না থাকেন1[:
তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্প সেক্টরের ক্ষেত্রে ইউনিয়নের সদস্যরা ইচ্ছা পোষণ করিলে ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির মোট কর্মকর্তার শতকরা দশ ভাগকে নির্বাচিত করিতে পারিবে, যাহারা উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নয়।]
(২) উপ-ধারা (১)(খ) এর কোন কিছুই কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
প্রত্যেক রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন, বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে নিম্নলিখিত রেজিস্টার বা বই সংরক্ষণ করিবে, যথাঃ-
(ক) সদস্য রেজিস্টার-যাহাতে প্রত্যেক সদস্য কর্তৃক পরিশোধিত চাঁদার বর্ণনা থাকিবে;
(খ) হিসাব বই- যাহাতে আয় এবং ব্যয় প্রদর্শিত হইবে; এবং
(গ) কার্য-বিবরণী বই- যাহাতে সকল প্রকার কার্য বিবরণী লিপিবদ্ধ থাকিবে ৷
(১) 1[ মহাপরিচালক], কোন ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক এই অধ্যায়ের সকল প্রয়োজনীয় বিষয়াদি পালিত হইয়াছে এই মর্মে সন্তুষ্ট হওয়ার পর, বিধি দ্বারা নির্ধারিত রেজিস্টারে উহাকে রেজিস্ট্রি করিবেন, এবং রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত প্রাপ্তির 2[ পঞ্চান্ন] দিনের মধ্যে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একটি রেজিস্ট্রিকরণ-প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন৷
(২) যদি 3[ মহাপরিচালক] উক্ত দরখাস্তে অত্যাবশ্যক কোন তথ্যের অসম্পূর্র্র্ণতা দেখিতে পান তাহা হইলে তিনি দরখাস্ত প্রাপ্তির 4[ বারো] দিনের মধ্যে উক্ত বিষয়ে তাহার আপত্তি ট্রেড ইউনিয়নকে লিখিতভাবে জানাইবেন, এবং ট্রেড ইউনিয়ন উহা প্রাপ্তির পনর দিনের মধ্যে ইহার জবাব দিবে 5[ , তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষের জবাব পাওয়া না গেলে আবেদনটি নথিজাতকরণের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা যাইবে] ৷
(৩) যখন শ্রম পরিচালক কর্তৃক উত্থাপিত আপত্তি সন্তোষজনকভাবে মিটানো হয়, তখন তিনি উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়নটিকে রেজিস্ট্রি করিবেন; এবং উহা যদি সন্তোষজনক ভাবে মিটানো না হয়, তাহা হইলে তিনি দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করিবেন৷
(৪) যে ক্ষেত্রে শ্রম পরিচালক কোন দরখাস্ত প্রত্যাখ্যান করেন অথবা আপত্তি মিটানোর পরেও উপ-ধারা (১) এর উল্লিখিত 6[ পঞ্চান্ন] দিন সময়সীমার মধ্যে দরখাস্ত নিষ্পত্তি না করেন, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন উক্তরূপ প্রত্যাখ্যানের তারিখ অথবা উল্লিখিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার তারিখ, যাহা আগে হইবে, উহা হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপীল করিতে পারিবে৷
(৫) শ্রম আদালত আপীলটি শুনানীর পর উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, উহার রায়ে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া শ্রম পরিচালককে ট্রেড ইউনিয়নটি রেজিস্ট্রি করিবার জন্য এবং উহার তারিখ হইতে সাত দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে অথবা আপীলটি খারিজ করিতে পারিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৫) অনুসারে শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ পক্ষ শ্রম আদালতের আদেশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে শ্রম আপীল আদালতে আপলি দায়ের করিতে পারিবেন৷
7[(৭) রেজিস্ট্রেশনের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের উদ্দেশ্যে কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ একটি প্রতিষ্ঠান বলিয়া বিবেচিত হইবে, এবং এই প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানে কোন স্বতন্ত্র ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাইবে না৷
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন “প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ” বলিতে কোন নির্ধারিত এলাকায় একই প্রকারের কোন নির্ধারিত শিল্পে নিয়োজিত এবং অনধিক বিশ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন- এইরূপ সকল প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন নির্ধারিত এলাকায় নিম্নবর্ণিত যে কোন শিল্প পরিচালনারত সকল প্রতিষ্ঠান, উহাদের প্রত্যেকটিতে নিযুক্ত শ্রমিকসংখ্যা যাহাই থাকুক না কেন, উক্ত এলাকার জন্য একটি প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ বলিয়া গণ্য হইবে, যথাঃ-
1[(ক) বাস,মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি ব্যক্তি মালিকানাধীন যান্ত্রিক সড়ক পরিবহন; (কক) রিক্সা, রিক্সাভ্যান, ঠেলাগাড়ী ইত্যাদি ব্যক্তি মালিকানাধীন অযান্ত্রিক সড়ক পরিবহন;]
(খ) ব্যক্তি মালিকানাধীন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন;
গ) অনূর্ধ ১০০ জন শ্রমিক নিয়োজিত দর্জি ও পোষাক প্রস্তুতকারী শিল্প;
(ঘ) চা শিল্প;
(ঙ) জুট বেলিং;
(চ) চামড়া শিল্প;
(ছ) বিড়ি;
(জ) হস্তচালিত তাঁত;
(ঝ) হোশিয়ারী;
(ঞ) ছাপাখানা;
(ট) অনধিক পঁচিশ অতিথি কক্ষবিশিষ্ট হোটেল অথবা মোটেল;
(ঠ) হোটেলের অংশ হিসাবে নহে-এমন রেস্তোরাঁ;
(ড) ক্ষুদ্র ধাতব শিল্প;
(ঢ) বই-বাঁধাই;
(ণ) সিনেমা এবং থিয়েটার2[;
(ত) জাহাজ নির্মাণ ;
(থ) জাহাজ পুন: প্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং)
(দ) নির্মাণ শ্রমিক ;
(ধ) চাতাল বা চাল কল শ্রমিক ;
(ন) কৃষি খামার:]
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার যদি জাতীয় স্বার্থে উচিত বলিয়া মনে করে, তাহা হইলে সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উপরোক্ত শিল্পের তালিকার সহিত অন্য কোন শিল্প যোগ করিতে পারিবে৷
(৪) উপ-ধারা (২) অথবা (৩) এ উল্লিখিত নির্ধারিত এলাকা বলিতে সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতদউদ্দেশ্যে কোন নির্ধারিত শিল্পের জন্য নির্ধারিত কোন এলাকা বুঝাইবে; এবং উক্তরূপ এলাকা জাতীয়, আঞ্চলিক অথবা স্থানীয় ভিত্তিতে নির্ধারিত হইতে পারিবে; এবং ভিন্ন ভিন্ন শিল্পের জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারণ করা যাইবে৷
(৫) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত নির্ধারিত শিল্প বলিতে সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এতদ্উদ্দেশ্যে নির্ধারিত কোন শিল্পকে বুঝাইবে৷
(৬) কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রি করা যাইবে যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিকের মোট সংখ্যার অন্যুন ত্রিশ শতাংশ উহার সদস্য হয়৷
(৭) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে এরূপ বিধান থাকে যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অন্তর্ভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত নহেন এরূপ কোন ব্যক্তি উহার কর্মকর্তা নির্বাচিত হইতে বা থাকিতে পারিবেন-তাহা হইলে উক্তরূপ কোন ব্যক্তি উহার কোন কর্মকর্তা নির্বাচিত হইতে বা থাকিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন অবস্থাতেই উক্তরূপ ব্যক্তির সংখ্যা উহার মোট কর্মকর্তার সংখ্যার এক-চতুর্থাংশের অধিক হইতে পারিবে না৷
(৮) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, কোন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই অধ্যায়ের অন্য সকল ধারা কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে ৷
[এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসামরিক বিমান পরিবহনের ক্ষেত্রে পাইলট, প্রকৌশলী ও কেবিন ক্রু পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ স্বীকৃত স্ব-স্ব আন্তর্জাতিকসংস্থার সহিত সম্বন্ধীকরণের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।]
(1)---- ----- -----
(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সমুদ্রগামী জাহাজে সাধারণতঃ কর্মরত থাকেন এরূপ বাংলাদেশী নাবিকগণ তাহাদের নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন৷
(২) কোন নাবিক উক্তরূপ কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইবেন না যদি না তাহার একটি অবিচ্ছিন্ন ডিসচার্জ প্রত্যয়নপত্র থাকে অথবা বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যবসায়ের কোন প্রতিষ্ঠানে নাবিক হিসাবে নিযুক্তির কোন নিয়োগ পত্র থাকে৷
(৩) এই অধ্যায়ের অধীন নাবিকগণের কেবলমাত্র একটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাইবে ৷
(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিযুক্ত কর্মচারীগণ তাহাদের নিজস্ব ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(২) চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে নিযুক্ত কর্মচারীগণ তাহাদের স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সাপেক্ষে, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ-অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগ পত্রসহ কাজে নিযুক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীগণ সমষ্টিগতভাবে স্ব-স্ব বন্দরে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৪) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকগণ স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষে সমষ্টিগতভাবে কেবল একটি করিয়া ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবেন।
(৫) কোন শ্রমিক বা কর্মচারী উপ-ধারা (৩) এর অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইতে পারিবেন না, যদি না-
(ক) তিনি বন্দর ব্যবহারকারী, বার্থ-অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ১(এক) বৎসর অধিককাল অবিরামভাবে নিযুক্ত থাকেন ; এবং
(খ) তাহার শ্রমিক বা কর্মচারী হিসাবে নিযুক্তির কোন নিয়োগ পত্র থাকে।
(৬) বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০০৯ কার্যকর হইবার ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে এই ধারার বিধান অনুযায়ী ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করিতে হইবে।
(৭) এই ধারার অধীন ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হইবার সংগে সংগে অথবা উপ-ধারা (৬) এ উল্লিখিত ৬ (ছয়) মাস মেয়াদ অতিক্রান্ত হইবার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকগণ, নিযুক্ত কর্মচারীগণ এবং বন্দর কার্যক্রমের সহিত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মালিক শ্রমিক ও কর্মচারীগণের জন্য গঠিত বিদ্যমান সকল ট্রেড ইউনিয়ন বিলুপ্ত হইবে।
(৮) এই আইনের অন্যান্য ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকার, জনস্বার্থে,-
(ক) এই ধারার অধীন গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম এই আইনের অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে, যে কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ; এবং
(খ) ধারা ১৯০ এর অধীন যে কোন ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা গ্রহণ, করিতে পারিবে।]
(১) কোন মালিক উহার প্রতিষ্ঠানে গঠিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রিকরণের দরখাসত্দ অনিষ্পন্ন্ন থাকাকালে শ্রম পরিচালকের পূর্ব অনুমতি ব্যতীরেকে উক্ত ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তার অসুবিধা হয়-এইরূপভাবে তাহার দরখাসত্দ পূর্ব চাকুরীর শর্তাবলীর কোন পরিবর্তন করিবেন না।
(২) ধারা ২৬ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন মালিক উক্তরূপ কোন দরখাসত্দ অনিষ্পন্ন থাকাকালে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য-এরূপ কোন শ্রমিকের চাকুরী উক্ত ধারার অধীন অবসান করিতে পারিবেন না।
কোন ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি 1[ও সাধারণ সম্পাদকসহ কোন কর্মকর্তাকে তাহাদের] সম্মতি ব্যতিরেকে এক জেলা হইতে অন্য জেলায় বদলী করা যাইবে না।
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রের প্রত্যেক সংশোধন, উহার কর্মকর্তার প্রত্যেক পরিবর্তন, এবং উহার নাম ও ঠিকানার পরিবর্তন উহাকে উক্তরূপ সংশোধন বা পরিবর্তনের পনর দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অথবা হাতে হাতে নোটিশ প্রদান করিয়া শ্রম পরিচালককে অবহিত করিতে হইবে, এবং শ্রম পরিচালক উক্তরূপ নোটিশ প্রাপ্তির পর সংগে সংগে উহার একটি কপি সংশিস্নষ্ট মালিককে, তাহার অবগতির জন্য প্রেরণ করিবেন।
1[ (২) মহাপরিচালক উক্তরূপ কোনো সংশোধন বা পরিবর্তন রেজিস্ট্রি করিতে অস্বীকার করিতে পারিবেন যদি উহা এই অধ্যায়ের কোনো বিধানের খেলাপ করিয়া করা হয়।]
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনকে উহার সহিত কোন নূতন সদস্য ইউনিয়নের সংযুক্তি অথবা উহা হইতে কোন সদস্য ইউনিয়নের বিযুক্তি সম্পর্কে, উহা সংগঠিত হওয়ার ষাট দিনের মধ্যে, রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রেরিত নোটিশ মারফত শ্রম পরিচালককে অবহিত করিতে হইবে।
(৪) যদি কোন ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তা পরিবর্তনের ব্যাপারে কোন বিরোধ থাকে, অথবা উপ-ধারা (২) এর অধীন শ্রম পরিচালকের প্রত্যাখ্যান আদেশ দ্বারা কোন ট্রেড ইউনিয়ন সংৰুদ্ধ হয়, তাহা হইলে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের যে কোন সদস্য বা কর্মকর্তা শ্রম আদালতে আপীল করিতে পারিবেন।
(৫) শ্রম আদালত উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন আপীল প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে উহার শুনানীর পর, উপযুক্ত বিবেচনা করিলে উহার রায়ে কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া সংশিস্নষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সংশোধন অথবা উহার কর্মকর্তার পরিবর্তন রেজিস্ট্রি করার জন্য শ্রম পরিচালককে নির্দেশ দিতে, অথবা শ্রম পরিচালকের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়নের নূতন নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারিবে।
শ্রম পরিচালক ধারা ১৮২ এর অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রি করার পর বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে একটি রেজিস্ট্রিকরণের প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন, এবং উক্ত প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন এই অধ্যায়ের অধীন যথাযথভাবে রেজিস্ট্রিকৃত হইয়াছে বলিয়া চূড়ান্ত প্রমাণ হইবে ৷
(১) এই ধারার অন্য বিধান সাপেক্ষে, শ্রম পরিচালক কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করিতে পারিবেন, যদি-
1[ (ক) রেজিস্ট্রি বাতিলের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দরখাস্ত করে;]
(খ) উহার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়;
(গ) উহা প্রতারণা অথবা কোন তথ্যের মিথ্যা বর্ণনার মাধ্যমে রেজিস্ট্রি হাসিল করিয়া থাকে
2[ ***]
(ঙ) উহা কোন অসত্ শ্রম আচরণ করিয়া থাকে;
(চ) উহার সদস্য সংখ্যা এই অধ্যায়ের অধীন প্রয়োজনীয় সংখ্যার নীচে নামিয়া যায়; অথবা
(ছ) উহা এই অধ্যায় বা কোন বিধির বিধান লঙ্ঘন করিয়া থাকে৷
(২) যে ক্ষেত্রে শ্রম পরিচালক তদন্তান্তে এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করা উচিত, সে ক্ষেত্রে তিনি উহার রেজিস্ট্রি বাতিল করার জন্য অনুমতি প্রার্থনা করিয়া শ্রম আদালতে দরখাস্ত পেশ করিবেন৷
(৩) শ্রম পরিচালক শ্রম আদালত হইতে অনুমতি প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করিয়া দিবেন৷
(৪) কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি উপ-ধারা (১) (ঙ) অনুযায়ী বাতিল করা যাইবে না যদি না উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক অভিযোগে বর্ণিত অসত্ শ্রম আচরণ সংঘঠিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে দরখাস্ত করা হয়৷
(১) ধারা ১৯০ এর অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করার অনুমতি প্রদান করিয়া অথবা অনুমতির প্রার্থনা না-মঞ্জুর করিয়া প্রদত্ত শ্রম আদালতের কোন আদেশ অথবা শ্রম পরিচালক কর্তৃক উক্ত ধারার অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রি বাতিল করিয়া প্রদত্ত কোন আদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন এবং এই বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপীল দায়ের করা হয়, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নকে, আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, উহার কাজ চালাইয়া যাওয়ার অনুমতি দিতে হইবে ৷
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকৃত না হইলে অথবা উহার রেজিস্ট্রি বাতিল করা হইলে, ধারা ১৯১(২) এর বিধান সাপেক্ষে, উহা ট্রেড ইউনিয়ন হিসাবে কাজ করিতে পারিবে না৷
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের জন্য, সদস্যভুক্তির চাঁদা ব্যতীত, অন্য কোন চাঁদা আদায় করিতে পারিবেন না ৷
একই সময়ে কোন মালিক অথবা কোন শ্রমিক একই প্রতিষ্ঠানের একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইতে বা থাকিতে পারিবেন না।
(১) প্রত্যেক রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন উহার রেজিস্ট্রিকৃত নামে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা এবং একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং ইহার চুক্তি করার, স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার এবং হসত্দানত্দর করার ৰমতা থাকিবে, এবং ইহার নামে ইহা মামলা করিতে পারিবে বা ইহার বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
(২) সমিতিসমূহ রেজিস্ট্রিকরণ আইন, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ২১ নং আইন), সমবায় সমিতি অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (১৯৮৫ সনের ১নং অধ্যাদেশ) এবং কোম্পানীসমূহ আইন, ১৯৯৪ কোন রেজিস্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়নের ৰেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, এবং উক্ত কোন আইনের অধীন কোন ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রিকরণ অবৈধ হইবে।
1[ (১)] কোন মালিক অথবা মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা তাহাদের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি-
(ক) কোন চাকুরী চুক্তিতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের কোন ট্রেড ইউনিয়নে যোগদান করা অথবা কোন ট্রেড ইউনিয়নে উহার সদস্য পদ চালু রাখার অধিকারের উপর বাধাসম্বলিত কোন শর্ত আরোপ করিবেন না;
(খ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা আছেন অথবা নহেন-এই অজুহাতে তাহার চাকুরীতে নিয়োজিত করিতে অথবা নিয়োজিত রাখিতে অস্বীকার করিবেন না;
(গ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা আছেন অথবা নহেন-এই অজুহাতে তাহার চাকুরীতে নিযুক্তি, পদোন্নতি, চাকুরীর শর্তাবলী অথবা কাজের শর্তাবলী সম্বন্ধে তাহার বিরুদ্ধে কোন বৈষম্য করিবেন না;
(ঘ) কোন শ্রমিক কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য অথবা কর্মকর্তা আছেন অথবা হইতে চাহেন, অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্তরূপ সদস্য বা কর্মকর্তা হওয়ার জন্য প্ররোচিত করেন, এই কারণে অথবা কোন ট্রেড ইউনিয়নের গঠন, কার্যকলাপ ও উহার প্রসারে অংশগ্রহণ করেন এই কারণে তাহাকে চাকুরী হইতে বরখান্ত, ডিসচার্জ অথবা অপসারণ করা যাইবে না বা উহা করার ভয় প্রদর্শন করা যাইবে না, অথবা তাহার চাকুরীর কোন প্রকার ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া যাইবে না;
(ঙ) কোন শ্রমিককে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন সুযোগ দিয়া বা সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করিয়া অথবা তাহার জন্য সুযোগ সংগ্রহ করিয়া অথবা সংগ্রহ করার প্রস্তাব দিয়া তাহাকে কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হইতে বিরত রাখার জন্য অথবা উক্ত পদ ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করিবেন না;
(চ) ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোন স্থানে আটক, শারীরিক আঘাত, পানি, শক্তি এবং টেলিফোন সুবিধা বিচ্ছিন্ন করিয়া অথবা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিয়া কোন যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্মকর্তাকে কোন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার অথবা নিষ্পত্তিনামায় দস্তখত করার জন্য বাধ্য করিবেন না বা বাধ্য করার চেষ্টা করিবেন না;
(ছ) ধারা ২০২ এর অধীন কোন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করিবেন না অথবা কোনভাবে ইহা প্রভাবিত করিবেন না;
(জ) ধারা ২১১ এর অধীন কোন ধর্মঘট চলাকালে অথবা অবৈধ নহে এরূপ কোন ধর্মঘট চলাকালে, কোন নূতন শ্রমিক নিয়োগ করিবেন না, তবে সালিস যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, কোন প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্র্র্ণ কর্ম বিরতির কারণে উহার যন্ত্রপাতি অথবা অন্য কোন স্থাপনার ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা আছে তাহা হইলে তিনি, প্রতিষ্ঠানের যে বিভাগে বা শাখায় অনুরূপ ক্ষতি হইবার সম্ভাবনা আছে সেখানে সীমিত সংখ্যক অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ করিতে অনুমতি দিতে পারিবেন;
(ঝ) অংশগ্রহণকারী কমিটির কোন সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ হইবেন না;
(ঞ) কোন শিল্প বিরোধ সম্পর্কে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক প্রদত্ত কোন পত্রের উত্তর দিতে ব্যর্থ হইবেন না;
(ট) ধারা ১৮৭ এর বিধান ভংগ করিয়া কোন ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষকে বদলী করিবেন না; অথবা
(ঠ) কোন বে-আইনী লক-আউট শুরু করিবেন না বা চালু রাখিবেন না অথবা উহাতে অংশ গ্রহণের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করিবেন না৷
2[ (২) অসৎ শ্রম আচরণ বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
(১) মালিকের বিনা অনুমতিতে কোন শ্রমিক তাহার কর্মসময়ে কোন ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকান্ডে নিয়োজিত থাকিবেন নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এর ট্রেড ইউনিয়নের কাজ কর্মে নিয়োজিত থাকার ব্যাপারে এই উপ-ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না, যদি উক্তরূপ কর্মকান্ড এই আইনের অধীন কোন কমিটি, আলাপ-আলোচনা, সালিস, মধ্যস্থতা অথবা অন্য কোন কর্মধারা সম্পর্কে হয় এবং মালিককে তত্সম্পর্ক যথাসময়ে অবহিত করা হয়৷
(২) কোন শ্রমিক বা শ্রমিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ইউনিয়নের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি-
(ক) কোন শ্রমিককে কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হওয়ার জন্য অথবা না হওয়ার জন্য অথবা উক্ত পদে বহাল থাকার জন্য অথবা উহা হইতে বিরত থাকার জন্য ভীতি প্রদর্শন করিবেন না;
(খ) কোন শ্রমিককে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন সুযোগ দিয়া বা সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করিয়া অথবা তাহার জন্য সুযোগ সংগ্রহ করিয়া অথবা সংগ্রহ করার প্রস্তাব দিয়া তাহাকে কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হইতে বিরত রাখার জন্য অথবা উক্ত পদ ছাড়িয়া দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করিবেন না;
(গ) ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোন স্থানে আটক, শারীরিক আঘাত, পানি, শক্তি বা টেলিফোন সুবিধা বিচ্ছিন্ন করিয়া অথবা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিয়া কোন শ্রমিককে কোন ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলে চাঁদা প্রদান করার জন্য বা না করার জন্য বাধ্য করিবেন না বা বাধ্য করার চেষ্টা করিবেন না;
(ঘ) ভীতি প্রদর্শন, বল প্রয়োগ, চাপ প্রয়োগ, হুমকি প্রদর্শন, কোন স্থানে আটক বা উহা হইতে উচ্ছেদ, বেদখল, হামলা, শারীরিক আঘাত, পানি, 1[ বিদ্যুৎ, গ্যাস] বা টেলিফোন সুবিধা বিচ্ছিন্ন করিয়া অথবা অন্য কোন পন্থা অবলম্বন করিয়া মালিককে কোন নিষ্পত্তি নামায় দস্তখত করিতে অথবা কোন দাবী গ্রহণ করিতে বা মানিয়া লইতে বাধ্য করিবেন না বা বাধ্য করার চেষ্টা করিবেন না;
(ঙ) কোন বেআইনী 2[ ধর্মঘটে অংশগ্রহণ]অথবা ঢিমে তালে কাজ শুরু করিবেন না বা চালু রাখিবেন না; অথবা উহাতে অংশ গ্রহণের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত করিবেন না; অথবা
(চ) কোন ট্রেড ইউনিয়নের কোন দাবী অথবা উহার কোন লক্ষ্য অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন ঘেরাও, পরিবহন অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি অথবা কোন সম্পত্তির ধ্বংস সাধন করিবেন না৷
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন উহার কর্মকর্তা বা উহার পক্ষে নিযুক্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে অবৈধ প্রভাব, ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা পরিচয় অথবা ঘুষ দ্বারা ধারা ২০২ এর অধীন অনুষ্ঠিত কোন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করিলে, ইহা উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের পক্ষে অসত্ শ্রম আচরণ হইবে৷
3[(৪) অসৎ শ্রম আচরণ বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
[(১) শ্রমিক কর্তৃক ট্রেড ইউনিয়ন প্রক্রিয়া চলাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশন দরখাস্ত অনিষ্পন্ন থাকাকালে অথবা রেজিস্ট্রেশনের পরে মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকুরির শর্তাবলি লঙ্ঘন এবং কর্মস্থলে প্রতিশোধমূলক (retaliation) কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করিলে ইহা উক্ত মালিকের পক্ষে এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন হইবে।
(২) এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশন বিষয়ক তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকার এই ধারার বিধানাবলির সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া মানসম্পন্ন পরিচালনা পদ্ধতি (Standard Operating Procedure) প্রণয়ন করিবে।]
কোন ট্রেড ইউনিয়ন ধারা ১৭৯ এ উল্লিখিত উহার গঠনতন্ত্রের কোন লক্ষ্য হাছিলের উদ্দেশ্যে সম্পাদিত উহার সদস্যগণের মধ্যে কোন চুক্তির জন্য উহার বা কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির কোন সদস্য বা কর্মকর্তা দণ্ডবিধি আইন, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৪৫ নং আইন) এর ধারা ১২০-খ (২) এর অধীন শাস্তিযোগ্য হইবেন না, যদি না চুক্তিটি কোন অপরাধ করিবার জন্য হয় অথবা অন্য কোনভাবে ইহা, এই অধ্যায়ের বিধান ব্যতীত, অন্য কোন আইন বা বিধান ভঙ্গ করে ৷
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন বা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অথবা উহার কোন কর্মকর্তা বা সদস্যের বিরুদ্ধে, ট্রেড ইউনিয়নটি জড়িত আছে-এরূপ কোন শিল্প বিরোধের পরিকল্পনা বা লক্ষ্য হাছিলের উদ্দেশ্যে গৃহীত কোন কাজ বা ব্যবস্থার জন্য কেবলমাত্র নিম্নলিখিত কোন কারণে কোন দেওয়ানী আদালতে কোন মোকদ্দমা অথবা অন্য আইনগত কার্যধারা চলিবে না, যথাঃ-
(ক) উক্তরূপ কাজ বা ব্যবস্থা কোন চাকুরী চুক্তি ভঙ্গ করিবার জন্য কোন ব্যক্তিকে উত্সাহিত করে;
(খ) উক্ত গৃহীত কর্ম বা ব্যবস্থা অন্য কোন ব্যক্তির ব্যবসা, বাণিজ্য বা চাকুরীতে হস্তক্ষেপ করে; অথবা
(গ) উক্তরূপ কোন কাজ বা ব্যবস্থা কোন ব্যক্তির পূঁজি বা শ্রম তাহার ইচ্ছানুযায়ী প্রয়োগ এর অধিকার খর্ব করে৷
(২) কোন ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধি কর্তৃক কোন শিল্প বিরোধের উদ্দেশ্য বা পরিকল্পনা হাছিলের লক্ষ্যে কোন দেওয়ানী ক্ষতিমূলক কাজের জন্য উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন কোন দেওয়ানী আদালতের কোন মামলায় বা অন্যান্য আইনগত কার্যধারায় দায়ী হইবে না, যদি ইহা প্রমাণ করা যায় যে, উক্ত প্রতিনিধি ট্রেড ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির অগোচরে অথবা উহার স্পষ্ট নির্দেশের বিপরীতে উক্তরূপ কাজ করিয়াছেন ৷
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুন না কেন, কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যগণের মধ্যে সম্পাদিত কোন চুক্তি কেবলমাত্র এই কারণে বাতিল বা বাতিলযোগ্য হইবে না যে, ইহার কোন লৰ্য কোন ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বাধাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কিছুই কোন দেওয়ানী আদালতকে এরূপ কোন আইনগত কার্যধারা গ্রহণের জন্য সমর্থ করিবে না যাহা কোন ট্রেড ইউনিয়নের কোন সদস্য তাহাদের কোন দ্রব্যসামগ্রী বিক্রি করিবেন কি করিবেন না, ব্যবসা চালাইবেন কি চালাইবেন না, অথবা কোন কাজ করিবেন কি করিবেন না, অথবা কোন চাকুরী করিবেন কি করিবেন না-এই সম্পর্কে সম্পাদিত কোন চুক্তি বাসত্দবায়নের জন্য অথবা উহা ভঙ্গের কারণে ৰতিপূরণের জন্য দায়ের করা হয়।
(১) একই ধরণের বা একই প্রকারের শিল্পে নিয়োজিত বা শিল্প পরিচালনারত প্রতিষ্ঠানগুলিতে গঠিত 1[পাঁচ বা ততোধিক ট্রেড ইউনিয়ন এবং একাধিক প্রশাসনিক বিভাগে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন]. যদি তাহাদের সাধারণ সভায় এরূপ প্রস্তাব গৃহীত হয়, ফেডারেশনের দলিল সম্পাদন করিয়া কোন ফেডারেশন গঠন করিতে এবং উহা রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দরখাস্ত করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়ন মালিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনে এবং মালিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনে যোগদান করিবে না৷
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ফেডারেশনের দলিলে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, ফেডারেশনভূক্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলি কর্তৃক অনুসরণীয় কার্যক্রম এবং ফেডারেশন ও ফেডারেশনভুক্ত ট্রেড ইউনিয়নগুলির অধিকার ও দায়িত্ব সম্বন্ধে বিধান থাকিবে৷
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের রেজিিষ্ট্রকরণের জন্য পেশকৃত দরখাস্তে ফেডারেশনভুক্ত সকল ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ দস্তখত করিবেন, এবং ইহার সহিত উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ফেডারেশনের দলিলের তিনটি কপি সংযুক্ত থাকিবে৷
(৪) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, এই অধ্যায়ের বিধানগুলি ট্রেড ইউনিয়নের ক্ষেত্রে যেরূপ প্রযোজ্য হয় কোন ফেডারেশনের ক্ষেত্রেও সেরূপ প্রযোজ্য হইবে৷
(৫) এই ধারার উপরোক্ত উপ-ধারাসমূহে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একাধিক শিল্পের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত অন্যুন বিশটি ট্রেড ইউনিয়ন 2[এবং একাধিক প্রশাসনিক বিভাগের ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন] সম্মিলিতভাবে অথবা সম্মিলিত হইয়া একটি জাতীয়ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন গঠন করিতে পারিবে৷
3[(৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধানবলে গঠিত সর্বনিম্ন দশটি জাতীয় ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সন্মিলিত হইয়া একটি জাতীয় ভিত্তিক কনফেডারেশন গঠন করিতে পারিবে।]
(১) কোন ইংরেজী পঞ্জিকা বৎসর শেষ হওয়ার পর পরবতর্ী বৎসর ৩০শে এপ্রিল এর মধ্যে উক্ত বৎসর সংক্রানত্দ কোন ট্রেড ইউনিয়নের আয় ও ব্যয়ের, এবং সম্পদ ও দায়ের হিসাবসম্বলিত একটি সাধারণ বিবরণী বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রস্তুত ও নিরীৰণ করাইয়া শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(২) উক্তরূপ সাধারণ বিবরণী যে বৎসরের জন্য প্রেরণ করা হইবে সেই বৎসরের ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের সকল পরিবর্তন প্রদর্শন করিয়া একটি বিবরণ এবং সর্বশেষ সংশোধনীসম্বলিত উহার গঠনতন্ত্রের একটি কপি উক্ত সাধারণ বিবরণীর সংগে শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) যদি কোন রেজিষ্ট্রিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন উপ-ধারা (১) এ উলিস্নখিত সময়সীমার মধ্যে উক্তরূপ সাধারণ বিবরণী প্রেরণে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে শ্রম পরিচালক একটি নোটিশ দ্বারা তৎসম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন, এবং উক্তরূপ নোটিশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে যদি ট্রেড ইউনিয়নটি উহার সাধারণ বিবরণী প্রেরণ করিতে পুনরায় ব্যর্থ হয় তাহা হইলে উহার রেজিষ্ট্রি বাতিলযোগ্য হইবে।
(৪) যদি কোন ট্রেড ইউনিয়ন কোন ফেডারেশনের সদস্য হয়, তাহা হইলে উক্ত সাধারণ বিবরণীতে উক্ত ফেডারেশনটির নাম লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(১) এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানে উহার কোন সদস্য ট্রেড ইউনিয়ন উহার নির্বাহী কমিটির সভায় গৃহীত কোন প্রস্তাব দ্বারা ফেডারেশনকে উক্ত প্রতিষ্ঠানে উহার পক্ষে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করিবার জন্য ক্ষমতা প্রদান করে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ কোন ক্ষমতা প্রদান অনুমোদনযোগ্য হইবে না, যদি না ফেডারেশনের এবং সদস্য ট্রেড ইউনিয়নের গঠনতন্ত্রে উক্তরূপ ক্ষমতা প্রদানের বিধান থাকে৷
(২) কোন ফেডারেশন কেবলমাত্র সেই প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করিবে, যে প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে উহার কোন সদস্য ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে আছে৷
(৩) এই ধারার কোন কিছুই ধারা ২০০ (৫) এর অধীনে গঠিত এবং রেজিস্ট্রিকৃত কোন জাতীয় ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না৷
(১) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অনুরোধ করিলে যে কোন মালিক তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণের, যাহারা ঐ সিবিএ ইউনিয়নের সদস্য, মজুরী হইতে সিবিএ ইউনিয়নের তহবিলে দেয় তাহাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা, ঐ সিবিএ ইউনিয়ন কর্তৃক পেশকৃত ডিমান্ড স্টেটমেন্ট এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শ্রমিকের অনুমোদন সাপেক্ষে, কাটিয়া আলাদা করিয়া রাখিবেন 1[ :
তবে শর্ত থাকে যে, সিবিএ বহির্ভূত ইউনিয়নের সদস্যরা রসিদের মাধ্যমে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবেন।]
(২) কোন মালিক উপ-ধারা (১) অনুসারে শ্রমিকগণের মজুরী হইতে টাকা কাটিয়া থাকিলে কর্তিত সম্পূর্র্র্ণ টাকা পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সিবিএ ইউনিয়নের হিসাবে জমা দিবেন৷
(৩) উপ-ধারা (১) মোতাবেক উহার সদস্যদের মজুরী হইতে টাকা কাটা হইতেছে কি না সংশ্লিষ্ট সিবিএ তাহা যাচাই করিতে চাহিলে মালিক উহার পূর্ণ সুযোগ প্রদান করিবেন ৷
(১) অংশগ্রহণকারী কমিটির কাজ হইবে প্রধানতঃ প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রমিক এবং মালিক সকলেরই অংগীভূত হওয়ার ভাব প্রোথিত ও প্রসার করা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রমিকগণের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা, এবং বিশেষ করিয়া-
(ক) শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস, সমঝোতা এবং সহযোগীতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো;
(খ) শ্রম আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা;
(গ) শৃঙ্খলাবোধে উত্সাহিত করা, নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কাজের অবস্থার উন্নতি বিধান ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা;
(ঘ) বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, শ্রমিক শিক্ষা এবং পরিবার কল্যাণ প্রশিক্ষণে উত্সাহিত করা;
(ঙ) শ্রমিক এবং তাহাদের পরিবারবর্গের প্রয়োজনীয় কল্যাণমূলক ব্যবস্থাসমূহের উন্নয়নের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা; এবং
(চ) উত্পাদন লক্ষ্য মাত্রা অর্জন, উত্পাদনশীলতা বৃদ্ধি, উত্পাদন খরচ হ্রাস এবং অপচয় রোধ করা এবং উত্পাদিত দ্রব্যের মান উন্নত করা৷
(২) কোন ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটি মূল অংশগ্রহণকারী কমিটির তত্ত্বাবধানে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কার্যাবলী, যতদূর সম্ভব, সম্পাদন করিবে৷
(১) ধারা ২০৬ এর অধীন কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা ও তত্সম্পর্কে আলোচনা ও মত বিনিময়ের জন্য অংশগ্রহণকারী কমিটি প্রতি দুই মাসে অন্ততঃ একবার সভায় মিলিত হইবে৷
(২) অংশগ্রহণকারী কমিটির প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী, সভা অনুষ্ঠানের সাত দিনের মধ্যে, শ্রম পরিচালক ও সালিসের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে ৷
(১) অংশগ্রহণকারী কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা, তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে, বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক ও ট্রেড ইউনিয়ন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(২) যদি কোন কারণে মালিক অথবা ট্রেড ইউনিয়ন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণকারী কমিটির সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করিতে কোন কারণে অসুবিধা বোধ করেন, তাহা হইলে তত্সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করিতে হইবে, এবং উহা যথাশীঘ্র সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করিতে হইবে ৷
কোন শিল্প বিরোধ বিদ্যমান আছে বলিয়া গণ্য হইবে না যদি না ইহা এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক কোন মালিক অথবা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক উত্থাপিত হয়৷
(১) যদি কোন সময়ে কোন মালিক বা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি দেখিতে পায় যে, মালিক এবং শ্রমিকগণের মধ্যে কোন বিরোধ উত্থিত হইবার সম্ভাবনা আছে, তাহা হইলে উক্ত মালিক অথবা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি তাহার বা উহার অভিমত ব্যক্ত করিয়া অন্য পক্ষকে লিখিতভাবে জানাইবেন৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন পত্র প্রাপ্তির পনের দিনের মধ্যে পত্র প্রাপক, অন্যপক্ষের সহিত আলোচনাক্রমে, পত্রে উত্থাপিত বিষয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার লক্ষ্যে যৌথ দরকষাকষি শুরু করিবার জন্য তাহার সহিত একটি সভার ব্যবস্থা করিবেন, এবং এইরূপ সভা এতদউদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত উভয় পক্ষের প্রতিনিধির মধ্যেও অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে৷
(৩) যদি পক্ষগণ উক্তরূপ আলোচনার পর আলোচিত বিষয়ের উপর কোন নিষ্পত্তিতে উপনীত হন, তাহা হইলে একটি নিষ্পত্তিনামা লিখিত হইবে এবং উহাতে পক্ষদ্বয় দস্তখত করিবেন, এবং উহার একটি কপি মালিক কর্তৃক সরকার, শ্রম পরিচালক এবং সালিসের নিকট প্রেরিত হইবে৷
(৪) যদি-
(ক) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত কোন পত্রের প্রাপক অন্য পক্ষের সহিত উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সভার ব্যবস্থা করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে উক্ত অন্য পক্ষ, অথবা
(খ) উভয় পক্ষের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুষ্ঠিত প্রথম সভার তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে অথবা উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতি অনুযায়ী বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোন নিষ্পত্তিতে উপনীত হওয়া না যায়, তাহা হইলে যে কোন পক্ষ, উপ-ধারা (২) অথবা, ক্ষেত্রমত, এই উপ-ধারার দফা (খ) এ উল্লিখিত সময়সীমা শেষ হইবার পর পনর দিনের মধ্যে তত্সম্পর্কে উপ-ধারা (৫) এ উল্লিখিত উপযুক্ত সালিসকে (Conciliator) অবহিত করিতে পারিবেন এবং বিরোধটি সালিসীর (Conciliation) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য তাহাকে লিখিতভাবে অনুরোধ করিতে পারিবেন৷
(৫) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপণ দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত কোন নির্দিষ্ট এলাকা অথবা কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সালিস (Conciliator) নিযুক্ত করিবে, এবং উপ-ধারা (৪) এর অধীন সালিসীর (Conciliation) জন্য কোন অনুরোধ এই উপ-ধারার অধীন সংশ্লিষ্ট এলাকা বা প্রতিষ্ঠান বা শিল্পের জন্য নিযুক্ত সালিস (Conciliator) গ্রহণ করিবেন৷
(৬) উক্তরূপ অনুরোধ প্রাপ্ত হইবার দশ দিনের মধ্যে সালিস (Conciliator) তাহার সালিসী কার্যক্রম (Conciliation) শুরু করিবেন, এবং বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উভয় পক্ষের সভা আহ্বান করিবেন৷
(৭) বিরোধের পক্ষগণ স্বয়ং অথবা তাহাদের মনোনীত এবং উভয় পক্ষের মধ্যে অবশ্য পালনীয় চুক্তি সম্পাদন করিতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে সালিস (Conciliator) এর নিকট তত্কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে ও সময়ে হাজির হইবেন৷
(৮) যদি সালিসীর (Conciliation) ফলে বিরোধ নিষ্পত্তি হয় তাহা হইলে, সালিস (Conciliator) তত্সম্পর্কে সরকারের নিকট একটি রিপোর্ট পেশ করিবেন, এবং ইহার সহিত উভয়পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত নিষ্পত্তিনামার একটি কপিও প্রেরিত হইবে৷
(৯) যদি সালিস (Conciliator) কর্তৃক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য অনুরোধ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে বিরোধটি নিষ্পত্তি না হয়, তাহা হইলে সালিসী কার্যক্রম (Conciliation) ব্যর্থ হইবে, অথবা উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতিক্রমে আরো অধিক সময় চালানো যাইবে৷
(১০) যদি সালিসী কার্যক্রম (Conciliation) ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে সালিস (Conciliator) উভয় পক্ষকে বিরোধটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে উহা কোন মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) এর নিকট প্রেরণ করিবার জন্য রাজী করাইতে চেষ্টা করিবেন৷
(১১) যদি পক্ষগণ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য কোন মধ্যস্থতাকারীর (Arbitrator) নিকট প্রেরণে রাজী না হন, তাহা হইলে সালিস (Conciliator), সালিসী কার্যক্রম (Conciliation) ব্যর্থ হওয়ার তিন দিনের মধ্যে, উহা ব্যর্থ হইয়াছে এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র পক্ষগণকে প্রদান করিবেন৷
(১২) যদি পক্ষগণ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য কোন মধ্যস্থতাকারীর (Arbitrator) নিকট প্রেরণ করিতে রাজী হন, তাহা হইলে তাহাদের সকলের স্বীকৃত কোন মধ্যস্থতাকারীর (Arbitrator) নিকট বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য যৌথ অনুরোধপত্র প্রেরণ করিবেন৷
(১৩) উপ-ধারা (১২) তে উল্লিখিত মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) সরকার কর্তৃক এতদ্উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত মধ্যস্থতাকারীর তালিকা হইতে কোন ব্যক্তি হইতে পারিবেন, অথবা পক্ষগণ কর্তৃক স্বীকৃত অন্য যে কোন ব্যক্তি হইতে পারিবেন৷
(১৪) মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) মধ্যস্থতার অনুরোধ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে, অথবা পক্ষগণ কর্তৃক লিখিতভাবে স্বীকৃত কোন বর্ধিত সময়ের মধ্যে তাহার রোয়েদাদ প্রদান করিবেন৷
(১৫) মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) তাহার রোয়েদাদ প্রদানের পর উহার একটি কপি পক্ষগণকে এবং আরেকটি কপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(১৬) মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) কর্তৃক প্রদত্ত রোয়েদাদ চূড়ান্ত হইবে এবং ইহার বিরুদ্ধে কোন আপীল চলিবে না৷
(১৭) মধ্যস্থতাকারী (Arbitrator) কর্তৃক নির্ধারিত অনধিক দুই বত্সর পর্যন্ত কোন রোয়েদাদ বৈধ থাকিবে৷
(১৮) শ্রম পরিচালক, কোন বিরোধ নিষ্পত্তির স্বার্থে উপযুক্ত মনে করিলে যে কোন সময় কোন সালিস (Conciliator) এর নিকট হইতে কোন সালিসী কার্যক্রম (Conciliation) উঠাইয়া আনিয়া নিজেই উহা চালাইয়া যাইতে পারিবেন, অথবা অন্য কোন সালিস (Conciliator) এর নিকট উহা হস্তান্তর করিতে পারিবেন, এবং এক্ষেত্রে এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে৷
(১৯) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ সম্পর্কে কোন মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন রেজিস্ট্রি করা হইয়াছে, সে প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি শিল্প বিরোধ সম্পর্কে উক্ত মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ফেডারেশনের সহিত যোগাযোগ করিবে, এবং উক্তরূপ মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ফেডারেশনের সংগে সম্পাদিত শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত কোন চুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের সকল মালিক ও শ্রমিকগণের উপর অবশ্য পালনীয় হইবে ৷
(১) যে পক্ষ কোন শিল্প বিরোধ উত্থাপন করে সে পক্ষ ধারা ২১০ (১১) এর অধীন ব্যর্থতার প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তির তারিখ হইতে পনর দিনের মধ্যে অন্য পক্ষকে ধর্মঘট অথবা, ক্ষেত্রমত, লক আউটের নোটিশ প্রদান করিতে পারিবে, যাহাতে নোটিশ প্রদানের পর অন্যুন সাত দিন এবং অনধিক চৌদ্দ দিনের মধ্যে কোন তারিখ হইতে উহা শুরু হইবে উহার উল্লেখ থাকিবে, অথবা উক্ত বিরোধ উত্থাপনকারী পক্ষ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ধর্মঘটের কোন নোটিশ জারী করিতে পারিবে না, যদি না বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় সালিসের তত্ত্বাবধানে, এতদ্উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে অনুষ্ঠিত কোন গোপন ভোটের মাধ্যমে উহার মোট সদস্য সংখ্যার অন্যুন 1[ ৫১ শতাংশ] সদস্য ধর্মঘটের পক্ষে তাহাদের রায় প্রদান করেন৷
(২) যদি কোন ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইয়া যায়, তাহা হইলে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য বিরোধে জড়িত যে কোন পক্ষ শ্রম আদালতে দরখাস্ত পেশ করিতে পারিবে৷
(৩) যদি কোন ধর্মঘট বা লক-আউট ত্রিশ দিনের বেশী স্থায়ী হয়, তাহা হইলে সরকার, লিখিত আদেশ দ্বারা, উহা নিষিদ্ধ করিতে পারিবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার উক্ত ত্রিশ দিনের পূর্বে ও যে কোন সময়ে, লিখিত আদেশ দ্বারা কোন ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে, যদি সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, উক্তরূপ অব্যাহত ধর্মঘট বা লক-আউট জনজীবনে সাংঘাতিক কষ্টের কারণ হইয়াছে অথবা ইহা জাতীয় স্বার্থের হানিকর৷
(৪) কোন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকার, ইহাতে কোন ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু হইবার পূর্বে অথবা পরে যে কোন সময়, লিখিত আদেশ দ্বারা উহা নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে পারিবে৷
(৫) কোন ক্ষেত্রে সরকার উপ-ধারা (৩) অথবা (৪) এর অধীন কোন ধর্মঘট বা লক-আউট নিষিদ্ধ ঘোষণা করিলে সরকার তত্ক্ষণাত্ বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে প্রেরণ করিবে৷
(৬) শ্রম আদালত বিরোধের উভয় পক্ষকে শুনানীর সুযোগ দিয়া যথাশীঘ্র সম্ভব, বিরোধটি উহার নিকট প্রেরণের তারিখ হইতে অনধিক ষাট দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিয়া উহার রোয়েদাদ প্রদান করিেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রম আদালত প্রয়োজনবোধে বিরোধীয় কোন বিষয়ে অন্তর্বর্তী রোয়েদাদ প্রদান করিতে পারিবেঃ
আরোও শর্ত থাকে যে, রোয়েদাদ প্রদানে কোন বিলম্বের কারণে রোয়েদাদ অবৈধ হইবে না৷
(৭) শ্রম আদালতের কোন রোয়েদাদ তত্কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা, যাহা দুই বত্সরের অধিক হইবে না, পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে৷
(৮) যদি কোন প্রতিষ্ঠান নূতন স্থাপিত হয়, অথবা বিদেশী মালিকানাধীন হয়, অথবা বিদেশী সহযোগিতায় স্থাপিত হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে উত্পাদন শুরু হওয়ার পরবর্তী তিন বত্সর পর্যন্ত ধর্মঘট কিংবা লক-আউট নিষিদ্ধ থাকিবে৷ তবে, উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে উত্থিত কোন শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ে বর্ণিত অন্যান্য বিধান প্রযোজ্য হইবে ৷
(১) ধারা ২১০ এর অধীন কোন শিল্প বিরোধ উত্থাপনকারী পক্ষ যদি-
(ক) ধারা ২১০ (৪) এর অধীন উহাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধটি সালিসীর মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য কোন সালিসের নিকট অনুরোধ করিতে ব্যর্থ হয়, অথবা
(খ) ধারা ২১১ (১) এর অধীন জারীকৃত নোটিশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ে ধর্মঘট বা লক-আউট শুরু করিতে ব্যর্থ হয়, অথবা
(গ) ধারা ২১১ (১) এর অধীন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিরোধটি নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালতে প্রেরণ করিতে, অথবা ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ জারী করিতে ব্যর্থ হয়,
তাহা হইলে শিল্প বিরোধটি উক্তরূপ নির্ধারিত সময় বা তারিখের পর ক্ষান্ত হইয়া যাইবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন শিল্প বিরোধ ক্ষান্ত হইয়া যায়, সে ক্ষেত্রে উক্ত ক্ষান্তির তারিখ হইতে এক বত্সরের মধ্যে একই বিষয়ের উপর কোন নূতন বিরোধ উত্থাপন করা যাইবে না ৷
কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অথবা কোন মালিক অথবা কোন শ্রমিক এই আইন বা কোন রোয়েদাদ বা কোন নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধীন বা দ্বারা নিশ্চিত বা প্রদত্ত 1[বা কোন প্রচলিত প্রথা বা কোন বিজ্ঞপ্তি বা কোন আদেশ বা কোন নোটিফিকেশন বা অন্য কোন ভাবে স্বীকৃত] কোন অধিকার প্রয়োগের জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেন ৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রম আদালত স্থাপন করিতে পারিবে৷
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন একাধিক শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠিত হইলে, সরকার উক্ত প্রজ্ঞাপনে উহাদের প্রত্যেককে যে এলাকায় এই আইনের অধীন এখতিয়ার প্রয়োগ করিবে উহা নির্ধারণ করিয়া দিবে৷
(৩) শ্রম আদালতের একজন চেয়ারম্যান এবং তাহাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য, দুইজন সদস্যসমন্বয়ে গঠিত হইবে, তবে কোন অপরাধের বিচার অথবা দশম এবং দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন কোন বিষয় নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে উহা কেবল মাত্র চেয়ারম্যান সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷
1[(৩ক) শ্রম আদালতের সদস্যগণ তাহাদের মতামত লিখিতভাবে শ্রম আদালতের চেয়ারম্যানকে জানাইতে পারিবেন এবং সদস্যগণ কোন মতামত জানাইলে উহা মামলার রায়ে অবশ্যই উলেস্নখ করিতে হইবে।]
(৪) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক কর্মরত জেলাজজ অথবা অতিরিক্ত জেলা জজগণের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন৷
(৫) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণের নিযুক্তির শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৬) শ্রম আদালতের দুইজন সদস্যের মধ্যে একজন মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী এবং অপরজন শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী হইবেন, এবং তাহারা উপ-ধারা (৯) এ বর্ণিত পন্থায় নিযুক্ত হইবেন৷
(৭) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায়, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, দুইটি সদস্য তালিকা প্রস্তুত করিবে, যাহার একটিতে ছয়জন মালিক প্রতিনিধির নাম এবং অপরটিতে ছয়জন শ্রমিক প্রতিনিধির নাম থাকিবে৷
(৮) উপ-ধারা (৭) এর অধীন প্রস্তুতকৃত সদস্য তালিকা প্রতি দুই বত্সর অন্তর পুনর্গঠিত হইবে, তবে উক্ত দুই বত্সর শেষ হওয়া সত্ত্বেও পূর্ববর্তী তালিকার অন্তর্ভুক্ত সদস্যগণ নূতন তালিকা সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপিত না হওয়া পর্যন্ত তালিকাভুক্ত থাকিবেন৷
(৯) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান কোন নির্দিষ্ট শিল্প বিরোধের শুনানী বা নিষ্পত্তির জন্য উপ-ধারা (৭) এ উল্লিখিত উভয় তালিকা হইতে একজন করিয়া প্রতিনিধকে নির্বাচন করিবেন এবং উক্তরূপ নির্বাচিত প্রতিনিধিদ্বয় এবং চেয়ারম্যান সহকারে উক্ত শিল্প বিরোধ সম্পর্কে শ্রম আদালত গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানীর জন্য চেয়ারম্যান উক্ত যে কোন তালিকা হইতে যে কোন একজন প্রতিনিধকে আদালতের সদস্য হিসাবে নির্বাচিত করিতে পারিবেন৷
(১০) কোন শ্রম আদালত নিম্নলিখিত বিষয়ে অনন্য এখতিয়ারের অধিকারী হইবে, যথাঃ-
(ক) এই আইনের অধীন আনীত, পেশকৃত অথবা দায়েরকৃত কোন শিল্প বিরোধ অথবা অন্য কোন বিরোধ অথবা কোন প্রশ্নের বিচারও নিষ্পত্তি;
(খ) সরকার কর্তৃক পেশকৃত কোন নিষ্পত্তি ভংগ অথবা বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কোন বিষয়ের অনুসন্ধান, মিমাংসা ও নিষ্পত্তি;
(গ) এই আইনের অধীন অপরাধসমূহের বিচার; এবং
(ঘ) এই আইন অথবা অন্য কোন আইনের অধীন বা দ্বারা প্রদত্ত বা প্রদেয় অন্য কোন ক্ষমতা প্রয়োগ অথবা কার্য সম্পাদন৷
(১১) যদি শ্রম আদালতের কোন সদস্য আদালতের কোন শুনানীর তারিখে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা কোন কারণে হাজির হইতে অপারগ হন, উক্তরূপ অনুপস্থিতি বা অপারগতা কোন মামলার শুনানীর শুরুতেই হউক অথবা উহা চলাকালেই হউক, তাহা হইলে, আদালতের কার্যধারা তাহার অনুপস্থিতিতেই শুরু করা যাইবে অথবা, ক্ষেত্রমত, চালাইয়া যাওয়া যাইবে, এবং তাহার অনুপস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ প্রদান করা যাইবে; এবং শ্রম আদালতের কোন কাজ, কার্যধারা সিদ্ধান্ত অথবা রোয়েদাদ কেবলমাত্র উক্তরূপ অনুপস্থিতির কারণে অথবা শ্রম আদালতের কোন শূন্যতার কারণে অথবা শ্রম আদালত গঠনে কোন ত্রুটির কারণে অবৈধ হইবে না বা উহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি আদালতের কোন সদস্য কোন নির্দিষ্ট মামলায় অনুপস্থিতির কথা চেয়ারম্যানকে পূর্বেই অবহিত করেন সেই ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষের তালিকা হইতে অন্য একজন সদস্যকে মনোনীত করিবেনঃ
আরো শর্ত থাকে যে, কোন মামলার রায়ে উভয় পক্ষের সদস্যদের মতামত অবশ্যই উল্লেখ করিতে হইবে৷
(১২) ফৌজদারী কার্যবিধি এর পঁয়ত্রিশতম অধ্যায়ের বিধানাবলী শ্রম আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, এবং উক্ত অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে শ্রম আদালত একটি দেওয়ানী আদালত বলিয়া গণ্য হইবে৷
(১৩) সকল শ্রম আদালত ট্রাইব্যুনালের অধঃস্তন আদালত হইবে ৷
(১) এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, শ্রম আদালত অপরাধ বিচারকালে, যতদূর সম্ভব, ফৌজদারী কার্যবিধিতে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অনুসরণ করিবে৷
(২) এই আইনের অধীন অপরাধ বিচারের উদ্দেশ্যে ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন 1[প্রথম শ্রেণীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের] উপর ন্যস্ত সকল ক্ষমতা শ্রম আদালতেরও থাকিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শাস্তি প্রদানের উদ্দেশ্যে উক্ত কার্যবিধির অধীন সেশন আদালতের উপর ন্যস্ত সকল ক্ষমতা শ্রম আদালতেরও থাকিবে৷
(৪) শ্রম আদালত কোন অপরাধের বিচারকালে আদালতের সদস্যগণ ছাড়া বিচারকার্য পরিচালনা করিবে ৷
(১) অপরাধ ব্যতীত এই আইনের অধীন অন্য কোন বিষয়, প্রশ্ন বা বিরোধের বিচার ও নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে, শ্রম আদালত একটি দেওয়ানী আদালত বলিয়া গণ্য হইবে এবং দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন দেওয়ানী আদালতের উপর ন্যস্ত সকল ক্ষমতা নিম্নবর্ণিত ক্ষমতাসহ, শ্রম আদালতেরও থাকিবে, যথাঃ-
(ক) কোন ব্যক্তির উপস্থিতি এবং তাহাকে শপথাধীন জবানবন্দী এবং সাক্ষ্য প্রদানে বাধ্য করা;
(খ) কোন দলিল বা বস্তু হাজির করিতে বাধ্য করা;
(গ) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য অথবা দলিল পরীক্ষার জন্য কমিশন প্রেরণ করা;
(ঘ) কোন পক্ষের আদালতে অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে মামলায় একতরফা সিদ্ধান্ত প্রদান করা;
(ঙ) একতরফা সিদ্ধান্ত বাতিল করা;
(চ) কোন পক্ষের অনুপস্থিতির কারণে প্রদত্ত মামলা খারিজের আদেশ বাতিল করা; এবং
(ছ) মামলার উদ্দেশ্য ব্যাহত রোধ করার লক্ষ্যে শ্রম আদালত যে কোন পক্ষের উপর অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারী করিতে পারিবে৷
(২) এই আইন সাপেক্ষে, কোন শ্রম আদালতে কোন দরখাস্ত বা দলিল পেশ করা, প্রদর্শন করা অথবা লিপিবদ্ধ করার জন্য অথবা উহা হইতে কোন দলিল নেওয়ার জন্য কোন কোর্ট-ফিস প্রদান করিতে হইবে না৷
(৩) শ্রম আদালত জারীকারক অথবা বিশেষ বাহক মারফত অথবা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে অথবা উভয়বিধভাবে কোন মামলার প্রতিপক্ষকে মামলা দায়ের করার অনধিক দশ দিনের মধ্যে তাহার লিখিত জবাব বা আপত্তি পেশ করিবার জন্য নির্দেশ দিবে৷
(৪) শ্রম আদালত, যুক্তি লিপিবদ্ধ করিয়া, উক্ত সময় অনধিক সর্বমোট সাতদিন পর্যন্ত বৃদ্ধি করিতে পারিবে৷
(৫) যদি প্রতিপক্ষ নোটিশে উল্লিখিত অথবা বর্ধিত সময়ের মধ্যে কোন লিখিত জবাব বা আপত্তি পেশ করিতে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে মামলাটি একতরফা শুনানীক্রমে নিষ্পত্তি করা হইবে৷
(৬) কোন পক্ষের আবেদনক্রমে শ্রম আদালত সর্বমোট সাত দিনের অধিক সময় মামলার শুনানী স্থগিত রাখিতে পারিবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, যদি মামলার উভয় পক্ষ স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করে, তাহা হইলে সর্বমোট অনধিক দশ দিন পর্যন্ত মামলার শুনানী স্থগিত রাখা যাইবে৷
(৭) যদি মামলার দরখাস্তকারী মামলা শুনানীর তারিখে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে মামলা খারিজ হইয়া যাইেবঃ
তবে শর্ত থাকে যে, খারিজ আদেশ প্রদানের তিন মাসের মধ্যে মামলার দরখাস্তকারীর আবেদনক্রমে খারিজ আদেশ বাতিল করার এখতিয়ার আদালতের থাকিবে৷
(৮) যদি মামলার প্রতিপক্ষ শুনানীর তারিখে অনুপস্থিত থাকে, তাহা হইলে মামলাটি একতরফা শুনানীক্রমে নিষ্পত্তি করা হইবে৷
(৯) কোন মামলা খারিজ হওয়ার কারণে, যে কারণে মামলাটি দায়ের করা হইয়াছিল উক্ত একই কারণে, নূতন মামলা দায়ের করা বারিত হইবে না যদি না ইহা অন্য কোন কারণে বারিত হয়, এবং খারিজ হওয়ার তিন মাস পর দায়ের করা হয়৷
(১০) যদি কোন মামলার সকল পক্ষ মামলাটি প্রত্যাহার করিবার জন্য শ্রম আদালতে দরখাস্ত করে, তাহা হইলে আদালত উভয় পক্ষকে শুনানী প্রদান করিয়া, মামলার যে কোন পর্যায়ে উহা প্রত্যাহার করার অনুমতি দিতে পারিবে যদি, আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, সংশ্লিষ্ট বিরোধটি আপোষে নিষ্পত্তি হইয়াছে৷
(১১) শ্রম আদালতের কোন রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ, লিখিতভাবে প্রকাশ্য আদালতে প্রদান করিতে হইবে, এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে দেওয়া হইবে৷
1[ (১২) শ্রম আদালতের রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ, প্রত্যেক ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করিবার তারিখ হইতে ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(১৩) উপ-ধারা (১২) এর বিধান সত্ত্বেও, ৬০ (ষাট) দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ প্রদান করা সম্ভব না হইলে, উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আদালত উক্ত সময়সীমা আরো ৯০ (নব্বই) দিন বর্ধিত করিতে পারিবে।]
এই আইন সাপেক্ষে, শ্রম আদালত কর্তৃক প্রদত্ত কোন রায়, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ বা দণ্ডের বিরুদ্ধে কোন সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উহা প্রদানের ষাট দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করিতে পারিবে, এবং উক্তরূপ আপীলের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে ৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে, বাংলাদেশে একটি শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনাল থাকিবে, যাহা একজন চেয়ারম্যান সমন্বয়ে গঠিত হইবে, অথবা সরকার উপযুক্ত বিবেচনা করিলে একজন চেয়ারম্যান এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সংখ্যক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে৷
(২) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণ, যদি থাকেন, সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, নিযুক্ত হইবেন এবং তাহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে৷
(৩) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান সুপ্রিমকোর্টের কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অথবা অতিরিক্ত বিচারক হইবেন, এবং উহার কোন সদস্য সুপ্রিমকোর্টের কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক অথবা অতিরিক্ত বিচারক হইবেন; অথবা অন্যুন তিন বত্সর কর্মরত আছেন বা ছিলেন এমন কোন জেলা জজ হইবেন৷
(৪) যদি চেয়ারম্যান কোন কারণে অনুপস্থিত থাকেন বা তাহার কার্যসম্পাদনে অপারগ হন, তাহা হইলে সদস্যগণ যদি থাকেন, এর মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করিবেন৷
(৫) যে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের কোন সদস্য নিযুক্ত থাকেন সে ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, আদালতের কার্য সুচারুরূপে সম্পন্ন করিবার জন্য, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ গঠন করিতে পারিবেন,এবং উক্তরূপ বেঞ্চ এক বা একাধিক সদস্য সমন্বয়ে অথবা চেয়ারম্যান এবং এক বা একাধিক সদস্য সমন্বয়ে গঠন করা যাইবে৷
(৬) ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বা বিবেচ্য কোন আপীল বা বিষয়ের শুনানী এবং নিষ্পত্তি পূর্ণ আদালতে হইতে পারিবে অথবা উহার কোন বেঞ্চেও হইতে পারিবে৷
(৭) এই আইন সাপেক্ষে, মূল ডিক্রীর বিরুদ্ধে আপীল শুনানীর জন্য কোন আপীল আদালত দেওয়ানী কার্যবিধিতে বর্ণিত যে কার্যক্রম অনুসরণ করে, ট্রাইব্যুনাল, যতদূর সম্ভব, উক্ত কার্যক্রম অনুসরণ করিবে৷
(৮) যদি কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষেত্রে বেঞ্চের সদস্যগণের মধ্যে মত পার্থক্য দেখা যায়, তাহা হইলে
(ক) বিষয়টি সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের, যদি থাকে, অভিমত অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হইবে, এবং
(খ) যদি বেঞ্চের সদস্যগণ সমানভাবে বিভক্ত হন, তাহা হইলে তাহারা তাহাদের অভিমত ব্যক্ত করিয়া তর্কিত বিষয়ের উপরে শুনানীর জন্য বিষয়টি চেয়ারম্যানের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং চেয়ারম্যান, যদি তিনি উক্ত বেঞ্চের সদস্য না হন, তাহা হইলে স্বয়ং বিষয়টির উপর শুনানী গ্রহণ করিতে পারিবেন অথবা বিষয়টি শুনানীর জন্য এক বা একাধিক সদস্য সমন্বয়ে গঠিত অন্য কোন বেঞ্চের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন, এবং চেয়ারম্যান অথবা উক্তরূপ নতুন গঠিত বেঞ্চের সদস্য বা সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতানুযায়ী বিষয়টির নিষ্পত্তি হইবে৷
(৯) যে ক্ষেত্রে কোন বেঞ্চ চেয়ারম্যান এবং কোন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং উহার সদস্যগণের মধ্যে কোন বিষয়ে মত পার্থক্য দেখা দেয় এবং সদস্যগণ এই ব্যাপারে সমানভাবে বিভক্ত হন, সে ক্ষেত্রে উক্ত বিষয় সম্বন্ধে চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তই প্রাধান্য পাইবে এবং বেঞ্চের সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের অভিমত মোতাবেক প্রকাশ করা হইবে৷
(১০) ট্রাইব্যুনাল আপীলে শ্রম আদালতের কোন রায়, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ বা দণ্ডাদেশ বহাল রাখিতে, সংশোধন বা পরিবর্তন করিতে বা বাতিল করিতে পারিবে অথবা মামলাটি পুনরায় শুনানীর জন্য শ্রম আদালতে ফেরত পাঠাইতে পারিবে; এবং অন্যত্র ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, ট্রাইব্যুনাল এই আইনের অধীন প্রদত্ত শ্রম আদালতের সকল ক্ষমতাও প্রয়োগ করিবে৷
1[ (১১) ট্রাইব্যুনালের রায় আপিল দায়ের করিবার ৬০(ষাট) দিনের মধ্যে প্রদান করা হইবে।
(১১ক) উপ-ধারা (১১) এর বিধান সত্ত্বেও, ৬০ (ষাট) দিনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রায় প্রদান করা সম্ভব না হইলে, উপযুক্ত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী ৯০ (নববই) দিনের মধ্যে রায় প্রদান করিতে পারিবে।]
(১২) ট্রাইব্যুনাল উহার অথবা কোন শ্রম আদালতের অবমাননার জন্য শাস্তি দিতে পারিবে, যেন উহা সুপ্রীমকোর্টের একটি হাইকোর্ট বিভাগ৷
(১৩) ট্রাইব্যুনাল যদি উপ-ধারা (১২) এর অধীন কোন ব্যক্তিকে জেলের আদেশ দেয়া অথবা দুইশত টাকার অধিক জরিমানা করে, তাহা হইলে উক্ত শাস্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হাইকোর্ট বিভাগে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন৷
(১৪) ট্রাইব্যুনাল স্বইচ্ছায় অথবা কোন পক্ষের দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে কোন মামলা এক শ্রম আদালত হইতে অন্য শ্রম আদালতে হস্তান্তর করিতে পারিবে৷
(১৫) সকল শ্রম আদালতের উপর ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা থাকিবে ৷
কোন শ্রম আদালতে কোন দরখাস্ত অথবা ট্রাইব্যুনালে কোন আপীল বিধি দ্বারা নির্ধারিত ফরমে পেশ করিতে হইবে, এবং উহাতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত বিষয় ছাড়াও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ থাকিতে হইবে, যথাঃ-
(ক) পক্ষগণের নাম ও ঠিকানা;
(খ) দরখাস্ত বা আপীলের কারণের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং প্রার্থীত প্রতিকার;
(গ) যে আইনের বিধানের অধীন দরখাস্ত বা আপীল পেশ এবং প্রতিকার প্রার্থনা করা হইয়াছে উহার উল্লেখ;
(ঘ) দরখাস্ত বা আপীল বিলম্বে পেশের ক্ষেত্রে উক্ত বিলম্বের কারণ এবং যে আইনের ধারার অধীন বিলম্ব মওকুফ প্রার্থনা করা হইয়াছে উহার উল্লেখ;
(ঙ) দশম অধ্যায়ের অধীন কোন দরখাস্তের ক্ষেত্রে, দরখাস্তকারীকে প্রদেয় মাসিক মূল মজুরী, মহার্ঘভাতা, এডহক অথবা অন্তর্বর্তী মজুরী, যদি থাকে, এবং মজুরীর সংগে প্রদেয় অন্যান্য অর্থ পৃথকভাবে প্রদর্শন করিয়া একটি বিবরণ;
(চ) দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন কোন মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ উশুলের জন্য কোন দরখাস্তের ক্ষেত্রে, মালিকের উপর দুর্ঘটনার নোটিশ জারীর তারিখ; এবং উক্তরূপ নোটিশ যদি জারী না করা হয় অথবা সময়মত জারী করা না হয় তাহা হইলে উহার কারণ;
(ছ) দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন পোষ্যগণ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ উশুলের জন্য দরখাস্ত পেশের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যক্ষেত্রে যে সমস্ত বিষয়ে চুক্তিতে উপনীত হইয়াছেন এবং যে সমস্ত বিষয়ে চুক্তিতে উপনীত হওয়া সম্ভব হয় নাই তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ;
(জ) বিবাদের কারণ উদ্ভবের তারিখ; এবং
(ঝ) শ্রম আদালত কর্তৃক দরখাস্ত গ্রহণের এখতিয়ার সম্পর্কে একটি বিবৃতি ৷
সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিতির ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে, শ্রম আদালতে অথবা ট্রাইব্যুনালে কোন ব্যক্তির দরখাস্ত পেশ, হাজিরা প্রদান অথবা অন্য কোন কাজ তিনি স্বয়ং অথবা তাহার নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিনিধি বা আইনজীবীর মাধ্যমে করিতে পারিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত প্রতিনিধি বা আইনজীবী সংশ্লিষ্ট আদালতের কোন প্রতিনিধি হইতে পারিবেন না ৷
শ্রম আদালত অথবা ট্রাইব্যুনালে মোকদ্দমা বা আপীল সম্পর্কে আনুষঙ্গিক সকল খরচ, এই আইন বা কোন বিধি সাপেক্ষে, উক্ত আদালতের বিবেচনা মতে প্রদেয় হইবে৷
(১) কোন সালিসী কার্য ধারায় উপনীত কোন নিষ্পত্তি, অথবা কোন মধ্যস্থতাকারীর প্রদত্ত রোয়েদাদ অথবা শ্রম আদালতের কোন রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ অথবা ট্রাইব্যুনালের কোন রায়, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের উপর অবশ্য পালনীয় হইবে, যথাঃ-
(ক) বিরোধের সকল পক্ষগণ;
(খ) যদি না আদালত ভিন্নরূপ নির্দেশ দেয়, তাহা হইলে শ্রম আদালতের নির্দেশে বিরোধের পক্ষ হিসাবে মামলায় হাজিরকৃত অন্য কোন পক্ষ;
(গ) কোন বিরোধ যে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সে প্রতিষ্ঠানের মালিক কোন বিরোধের পক্ষ হইলে, তাহার উত্তরাধিকারী বা স্বত্ব প্রাপক কোন ব্যক্তি; এবং
(ঘ) যে ক্ষেত্রে বিরোধের এক পক্ষ যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি সে ক্ষেত্রে বিরোধটি যে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সে প্রতিষ্ঠানে বিরোধটি উত্থিত হইবার তারিখে নিয়োজিত ছিলেন অথবা পরে নিয়োজিত হইয়াছেন-এরূপ সকল শ্রমিক৷
(২) সালিসী কার্যধারা ব্যতীত অন্য কোনভাবে মালিক এবং তাহার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে উপনীত কোন নিষ্পত্তি চুক্তিভুক্ত সকল পক্ষের উপর অবশ্য পালনীয় হইবে ৷
১) কোন নিষ্পত্তি-
(ক) যদি কোন বিরোধের পক্ষগণের মধ্যে কোন সম্মত দিন থাকে, উক্ত দিন হইতে, এবং
(খ) যদি উক্তরূপ কোন সম্মত দিন না থাকে তাহা হইলে পক্ষগণ কর্তৃক নিষ্পত্তিনামা স্বাক্ষরের তারিখ হইতে বলবত্ হইবে৷
(২) কোন নিষ্পত্তি পক্ষগণ কর্তৃক সম্মত মেয়াদ পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে, এবং যদি এরূপ কোন সম্মত মেয়াদ না থাকে, তাহা হইলে উহা পক্ষগণ কর্তৃক নিষ্পত্তিনামা স্বাক্ষরের তারিখ হইতে এক বত্সর পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত মেয়াদ শেষ হইবার পরও উক্ত নিষ্পত্তি পক্ষগণের উপর অবশ্য পালনীয় থাকিবে, যতক্ষণ পর্যন্ত নিষ্পত্তির দ্বারা তিনি আর বাধ্য থাকিবেন না- এই মর্মে কোন পক্ষ অন্য কোন পক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত না করেন, এবং উক্তরূপ অবহিতকরণের পর দুই মাস অতিবাহিত না হয়৷
(৪) শ্রম আদালতের কোন রোয়েদাদ, ট্রাইব্যুনালে উহার বিরুদ্ধে কোন আপীল দায়ের করা না হইলে, উক্ত আদালত কর্তৃক নির্ধারিত তারিখ হইতে কার্যকর হইবে, এবং তত্কর্তৃক নির্ধারিত মেয়াদ, যাহা দুই বত্সরের অধিক হইবে না, পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে৷
(৫) মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত অথবা, ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল কোন রোয়েদাদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দাবী কোন কোন তারিখ হইতে বলবত্ হইবে এবং কোন কোন সময়সীমার মধ্যে উহার প্রত্যেকটি কার্যকর করিতে হইবে, তাহা নির্ধারণ করিয়া দিবে৷
(৬) যদি কোন সময় উপ-ধারা (৪) অথবা (৫) এ উল্লিখিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে রোয়েদাদ দ্বারা বাধ্য কোন পক্ষ রোয়েদাদ প্রদানকারী শ্রম আদালতের নিকট উহার মেয়াদ কমাইবার জন্য এই কারণে দরখাস্ত করেন যে, যে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে রোয়েদাদ প্রদান করা হইয়াছিল উহার বস্তুগত পরিবর্তন ঘটিয়াছে, তাহা হইলে শ্রম আদালত, প্রতিপক্ষকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করিয়া, সমীচীন মনে করিলে, আদেশ দ্বারা উক্ত মেয়াদ, আদেশে উল্লিখিত তারিখে অবসান করিতে পারিবে৷
(৭) কোন রোয়েদাদ সংক্রান্ত আপীলে প্রদত্ত ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত রোয়েদাদের তারিখ হইতে বলবত্ হইবে৷
(৮) উপ-ধারা (৪) অথবা (৫) এর অধীন কোন রোয়েদাদ বলবত্ থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও উহা পক্ষগণের উপর অবশ্য পালনীয় থাকিবে, যতক্ষণ পর্যন্ত রোয়েদাদ দ্বারা তিনি আর বাধ্য থাকিবেন না-এই মর্মে কোন পক্ষ অন্য পক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত না করেন, এবং উক্তরূপ অবহিতকরণের পর দুইমাস অতিবাহিত না হয়৷
(৯) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বিরোধে জড়িত পক্ষগণ কর্তৃক কোন নিষ্পত্তিনামা স্বাক্ষরের তারিখ হইতে এক বত্সর অতিবাহিত হইবার পূর্বে, অথবা নিষ্পত্তি বা রোয়েদাদ এর মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্বে, যাহা পরে হয়, কোন শিল্প বিরোধ অথবা তত্সংক্রান্ত কোন কার্যধারা পুনরায় উত্থাপন বা শুরু করা যাইবে না ৷
যে সময় শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে সালিসী কার্যক্রম চলিতে থাকে, অথবা তত্সংক্রান্ত কোন মামলা শ্রম আদালতে চলিতে থাকে, অথবা ট্রাইব্যুনালে কোন আপীল চলিতে থাকে, সে সময় বিরোধে জড়িত কোন পক্ষ অন্য পক্ষের উপরে ধর্মঘট বা লক-আউটের কোন নোটিশ জারী করিতে পারিবেন না ৷
(১) যে ক্ষেত্রে কোন শিল্প বিরোধ অনুসারে কোন ধর্মঘট অথবা লক-আউট ইতিমধ্যে শুরু হইয়াছে, এবং শ্রম আদালতে উক্ত শিল্প বিরোধ সম্পর্কে কোন দরখাস্ত পেশ করিবার সময় অথবা আদালত কর্তৃক উহা বিবেচনাকালে উক্ত ধর্মঘট বা লক-আউট অব্যাহত থাকে, সে ক্ষেত্রে শ্রম আদালত, লিখিত আদেশ দ্বারা, উক্ত ধর্মঘট বা লক-আউট চালাইয়া যাওয়া নিষিদ্ধ করিতে পারিবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে কোন আপীল দায়ের করা হয়, সে ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনাল, লিখিত আদেশ দ্বারা, আপীল দায়েরের তারিখে উক্ত শিল্প বিরোধ অনুসারে অব্যাহত আছে এরূপ কোন ধর্মঘট বা লক-আউট চালাইয়া যাওয়া নিষিদ্ধ করিতে পারিবে ৷
(১) কোন ধর্মঘট বা লক-আউট বেআইনী হইবে, যদি-
(ক) বিরোধে জড়িত অন্য পক্ষকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় ধর্মঘট বা লক-আউটের নোটিশ প্রদান না করিয়া, অথবা প্রদত্ত নোটিশে উল্লিখিত তারিখের পূর্বে বা পরে অথবা ধারা ২২৫ এর বিধান খেলাপ করিয়া ইহা ঘোষণা বা শুরু করা হয় অথবা অব্যাহত রাখা হয়;
(খ) ধারা ২০৯ এ উল্লিখিত বিধান মোতাবেক ব্যতীত অন্য কোন পন্থায় উত্থাপিত কোন শিল্প বিরোধ অনুসারে ইহা ঘোষণা বা শুরু করা হয় অথবা অব্যাহত রাখা হয়;
(গ) ধারা ২১১ অথবা ২২৬ এর অধীন প্রদত্ত কোন আদেশ লঙ্ঘন করিয়া ইহা অব্যাহত রাখা হয়; অথবা
(ঘ) কোন নিষ্পত্তি বা রোয়েদাদ বলবত্ থাকাকালে উহার অন্তর্ভুক্ত কোন বিষয়ে ইহা ঘোষণা বা শুরু করা হয়, অথবা অব্যাহত রাখা হয়৷
(২) কোন বে-আইনী ধর্মঘটের ফলে ঘোষিত কোন লক-আউট, এবং কোন বে-আইনী লক-আউটের ফলে ঘোষিত কোন ধর্মঘট বে-আইনী বলিয়া গণ্য হইবে না ৷
১) শিল্প বিরোধ সংক্রান্ত কোন বিষয়ে কোন সালিসী কার্যধারা চলাকালে, অথবা মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত অথবা ট্রাইব্যুনালের নিকট কোন কার্যধারা চলাকালে কোন মালিক বিরোধে জড়িত কোন শ্রমিকের, উক্ত কার্যধারা শুরু হইবার পূর্বে প্রযোজ্য চাকুরীর শর্তাবলী তাহার অসুবিধা হয় এমনভাবে পরিবর্তন করিতে পারিবেন না, অথবা সালিস, মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত অথবা ট্রাইব্যুনাল, যখন যেখানে বা যাহার নিকটে উক্তরূপ কার্যধারা চলিতে থাকে, এর বিনা অনুমতিতে, উক্ত বিরোধ সম্পর্কিত নহে এমন অসদাচরণের জন্য ব্যতীত, উক্তরূপে শ্রমিককে চাকুরী হইতে ডিসচার্জ, বরখাস্ত বা অন্যকোন ভাবে শাস্তি দিতে পারিবেন না অথবা তাহার চাকুরীর অবসান করিতে পারিবেন না৷
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শ্রম আদালতের পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কোন কার্যক্রম চলাকালে ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তাকে ডিসচার্জ, বরখাস্ত অথবা অন্য কোন ভাবে অসদাচরণের জন্য শাস্তি দেওয়া যাইবে না ৷
(১) কোন শিল্প বিরোধে জড়িত কোন শ্রমিক এই অধ্যায়ের অধীন কোন কার্য ধারায় তাহার প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির কোন কর্মকর্তার দ্বারা তাহার প্রতিনিধিত্ব করাইতে পারিবেন, এবং উপ-ধারা (২) এবং (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, শিল্প বিরোধে জড়িত কোন মালিক তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি দ্বারা উক্ত কার্যধারায় তাহার প্রতিনিধিত্ব করাইতে পারিবেন৷
(২) এই অধ্যায়ের অধীন কোন সালিসী কার্যধারায় শিল্প বিরোধে জড়িত কোন পক্ষ কোন আইনজীবীর দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করাইতে পারিবে না৷
(৩) শিল্প বিরোধে জড়িত কোন পক্ষ মধ্যস্থতাকারীর সম্মুখে কোন কার্যধারায়, তাহার অনুমতিক্রমে, কোন আইনজীবীর দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করাইতে পারিবে৷
(১) কোন নিষ্পত্তি বা রোয়েদাদের কোন ধারার ব্যাখ্যা প্রসংগে কোন অসুবিধা বা সন্দেহ দেখা দিলে ইহা ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হইবে৷
(২) ট্রাইব্যুনাল, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে শুনানীর সুযোগ দান করিয়া, বিষয়টির নিষ্পত্তি করিবে এবং এতদ্বিষয়ে উহার সিদ্ধান্তচূড়ান্ত হইবে এবং পক্ষগণের উপর অবশ্য পালনীয় হইবে ৷
1[(১) এই অধ্যায় নিম্নলিখিত যে কোন একটি শর্ত পূরণ করে এমন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে, যথা:-
(ক) কোন হিসাব বৎসরের শেষ দিনে উহার পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ অন্যূন এক কোটি টাকা ;
(খ) কোন হিসাব বৎসরের শেষ দিনে উহার স্থায়ী সম্পদের মূল্য অন্যূন দুই কোটি টাকা ;
(২) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত, অন্য কোন কোম্পানী ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এই অধ্যায় প্রয়োগ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) এ যাহা কিছুই বিধান থাকুক না কেন, শতভাগ রপ্তানীমুখী শিল্প সেক্টর অথবা বৈদেশিক মুদ্রা বিনোয়গকারী শিল্প সেক্টরের ক্ষেত্রে সরকার, বিধি দ্বারা, উক্ত সংশ্লিষ্ট সেক্টরে কর্মরত সুবিধাভোগীদের জন্য ক্রেতা ও মালিকের সমন্বয়ে সেক্টর ভিত্তিক কেন্দ্রীয়ভাবে একটি করিয়া তহবিল গঠন, তহবিল পরিচালনা বোর্ড গঠন, অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ ও আদায়ের পদ্ধতি এবং তহবিলের অথের্ ব্যবহারের বিধানসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়ন করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, উক্ত বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(১) বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই অধ্যায়ে-
(ক) “অংশগ্রহণ তহবিল” অর্থ এই অধ্যায়ের অধীন স্থাপিত শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল;
(খ) “কল্যাণ তহবিল” অর্থ এই অধ্যায়ের অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিল;
(গ) “কোম্পানী” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর অর্থে কোন কোম্পানী, এবং নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথাঃ-
(১) আপাততঃ বলবত্ কোন আইনের দ্বারা বা অধীন স্থাপিত কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা;
(২) সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে কোম্পানী বলিয়া ঘোষিত কোন প্রতিষ্ঠান, সংস্থা বা সমিতি, সংবিধিবদ্ধ হউক বা না হউক;
(ঘ) “তহবিল” অর্থ অংশগ্রহণ তহবিল এবং কল্যাণ তহবিল;
(ঙ) অংশগ্রহণ তহবিল এবং কল্যাণ তহবিল সম্পর্কে, “বোর্ড” অর্থ এই অধ্যায়ের অধীন গঠিত ট্রাষ্টি বোর্ড;
1[(ঙঙ) ‘‘মালিক’’ অর্থ কোন কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অথবা প্রধান নির্বাহী কিংবা তাহাদের স্থলাভিষিক্ত কোন ব্যক্তি;]
(চ) কোন কোম্পানী সম্পর্কে “মুনাফা” অর্থ কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা 2[১১৯] এ সংজ্ঞায়িত এমন নীট মুনাফা যাহা কোম্পানীর বাংলাদেশে পরিচালিত কোন ব্যবসা, বাণিজ্য, সংস্থা অথবা অন্য কোন কাজের উপর আরোপনীয়;
3[(ছ) মুনাফার উদ্দেশে পরিচালিত যে কোন প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্প, কারখানা, ব্যাংক, অর্থ লগ্নীকারী প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানীর কাজ-কর্ম ‘‘শিল্প সম্পর্কিত কাজ-কর্ম’’ বলিয়া বিবেচিত হইবে, যদি উহা নিম্নলিখিত এক বা একাধিক কাজ-কর্মের সহিত সংশ্লিষ্ট থাকে, যথা:-
(অ) কোন দ্রব্য, সামগ্রী বা বস্ত্তকে প্রস্তুত, সংযোজন, নিখুত অথবা অন্য কোন স্বাভাবিক অথবা কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় আনিয়া উহার আদি অবস্থার পরিবর্তন সাধন অথবা উহার মূল্য বৃদ্ধি করণ;
(আ) জাহাজ নির্মাণ ও পুন: প্রক্রিয়াজাতকরণ (রিসাইক্লিং);
(ই) পানি-শক্তিসহ বৈদ্যুতিক শক্তির পরিবর্তন, উৎপাদন, রূপান্তর, সঞ্চালন অথবা বিতরণ;
(ঈ) তেল এবং গ্যাসের মিশ্রণ, পরিশোধন বা শোধনসহ খনি, তেল কুপ অথবা খনিজ মওজুদের অন্যান্য উৎসে কাজ;
(উ) তেল অথবা গ্যাস বিতরণ ও বিপনণ;
(ঊ) আকাশ বা সমুদ্র পথে মানুষ অথবা মালামাল পরিবহন;
(ঋ) সেবা প্রতিষ্ঠান যথা মেবাইল অপারেটর কোম্পানী, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ;এবং
(এ) সরকার কর্তৃক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে শিল্প সম্পর্কিত কাজ-কর্ম বলিয়া ঘোষিত অন্য কোন কাজ কর্মও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(জ) ‘‘শিল্প প্রতিষ্ঠান’’ বলিতে ধারা ২ এর দফা (৬১) তে উল্লিখিত এইরূপ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহা মুনাফা লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়;
(ঝ) কোন কোম্পানীর ‘‘সুবিধাভোগী (beneficiary)’’ বলিতে শিক্ষানবিশসহ যে কোন ব্যক্তিকে বুঝাইবে যিনি মালিক কিংবা অংশীদার কিংবা পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ব্যতীত পদ-মর্যাদা নির্বিশেষে উক্ত কোম্পানীতে অন্যূন নয় মাস যাবত চাকুরীতে নিযুক্ত রহিয়াছেন।]
(২) এই অধ্যায়ে কোন কোম্পানীর “পরিশোধিত মূলধন” এবং “স্থায়ী সম্পদের মূল্য” বলিতে বিদেশে সংবিধিবদ্ধ কোন কোম্পানীর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অবস্থিত কোন শাখায় নিয়োজিত উহার মূলধন ও স্থায়ী সম্পদের মূল্যকে বুঝাইবে।
(১) এই অধ্যায় প্রযোজ্য হয় এরূপ প্রত্যেক কোম্পানী-
(ক) এই অধ্যায় প্রযোজ্য হইবার তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে এই অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক একটি শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিল ও একটি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল স্থাপন করিবে; এবং
1[(খ) এর মালিক প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার অন্যূন নয় মাসের মধ্যে, পূর্ববর্তী বৎসরের নীট মুনাফার পাঁচ শতাংশ (৫%) অর্থ ৮০ঃ ১০ঃ ১০ অনুপাতে যথাক্রমে অংশগ্রহণ তহবিল, কল্যাণ তহবিল এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ এর ধারা ১৪ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন মালিক, এই বিধান কার্যকর হইবার অব্যবহিত পূর্বে, কোম্পানীর নীট মুনাফার এক শতাংশ (১%) অর্থ কল্যাণ তহবিলে জমা প্রদান করিয়া থাকিলে, ট্রাষ্টি বোর্ড কল্যাণ তহবিলে জমাকৃত উক্ত অর্থের পঞ্চাশ শতাংশ (৫০%) অর্থ উপরোল্লিখিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা প্রদান করিতে বাধ্য থাকিবে।]
(২) উপ-ধারা (১) (খ) এর অধীন উক্ত 2[তহবিলসমূহে] প্রদত্ত অর্থ যে বত্সরের জন্য প্রদান করা হইবে সে বত্সর শেষ হইবার অব্যবহিত পরের বত্সরের পহেলা তারিখে উহা 3[তহবিলসমূহে] বরাদ্দ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) অংশগ্রহণ তহবিল ও কল্যাণ তহবিল স্থাপিত হইবার পর যথাশীঘ্র সম্ভব নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) কোম্পানীর যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য এবং এইরূপ কোন প্রতিনিধি না থাকিলে, কোম্পানীর শ্রমিকগণ কর্তৃক তাহাদের নিজেদের মধ্য হইতে নির্বাচিত দুইজন সদস্য; এবং
(খ) কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক মনোনীত দুইজন সদস্য, যাহাদের মধ্যে অন্ততঃ একজন হইবেন কোম্পানীর হিসাব শাখা হইতে মনোনীত ব্যক্তি৷
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ পালাক্রমে উপ-ধারা (১) (ক) ও (১) (খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে প্রত্যেক বত্সরের জন্য উহার একজন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করিবেন, তবে প্রথম চেয়ারম্যান উপ-ধারা (১)(খ) এর অধীন সদস্যগণের মধ্য হইতে হইবে।
(৩) এই অধ্যায় এবং এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধির বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলদ্বয়ের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করিবে।
(৪) ট্রাস্টি বোর্ড উহার ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে সরকার কর্তৃক সময় সময় প্রদত্ত নির্দেশের অধীন থাকিবে।
(৫) সরকার যদি এই মত পোষণ করে যে, ট্রাস্টি বোর্ড বা উহার কোন সদস্য দায়িত্ব পালনে পুনঃ পুনঃ ব্যর্থ হইতেছে অথবা সাধারণতঃ তহবিলদ্বয়ের লক্ষ্য ও স্বার্থের সহিত অসংগতিপূর্ণভাবে কাজ-কর্ম করিতেছে তাহা হইলে সরকার, বোর্ড বা সদস্যটিকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ দান করিয়া, আদেশ দ্বারা-
(ক) উহাতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য বোর্ড বাতিল করিতে পারিবে, অথবা সদস্যটিকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত না হওয়া পর্যন্ত বা উক্ত সদস্যের পদে নূতন সদস্য মনোনীত বা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত বোর্ডের বা উক্ত সদস্যের ক্ষমতা ও দায়িত্ব, আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রয়োগ ও পালনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল হইবার পর, উহার সদস্যগণ তাহাদের পদে আর বহাল থাকিবেন না এবং এই অধ্যায়ে বা কোন বিধিতে ট্রাস্টি বোর্ডের উল্লেখ থাকিলে উহা উক্ত উপ-ধারার অধীন প্রদত্ত আদেশে উল্লিখিত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
(৭) বাতিলের মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বেই এই অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠিত হইবে যাহাতে ইহা উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পর উহার কার্যভার গ্রহণ করিতে পারে।
1[(৮) উপ-ধারা ৫ এর দফা (ক) এ অধীন সরকার কর্তৃক কোন ট্রাস্টি বোর্ড বাতিল করা হইলে অথবা উহার চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণ করা হইলে উক্ত বোর্ডের সদস্যবৃন্দ অথবা উহার চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্য ট্রাস্টি বোর্ডে পূনঃনির্বাচিত বা মনোনীত হইতে পারিবেন না।]
1[(১) যে ক্ষেত্রে কোন কোম্পানী বা ট্রাস্টি বোর্ড ধারা ২৩৪ এর বিধানসমূহ প্রতিপালন করিতে ব্যর্থ হয়, সেইক্ষেত্রে সরকার, আদেশ দ্বারা উক্ত আদেশে উল্লিখিত সময়ের মধ্যে, সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী কার্য সম্পাদনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যদি কোন কোম্পানী বা ট্রাস্টি বোর্ড উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন কার্য সম্পাদনে ব্যর্থ হয় তাহা হইলে সরকার, আদেশ দ্বারা, উক্ত কোম্পানীর প্রত্যেক পরিচালক, ব্যবস্থাপক অথবা উহার ব্যবস্থাপনা কাজের সহিত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অথবা, ক্ষেত্রমত, সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, সদস্য বা উহার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে অনধিক ০১ (এক) লক্ষ টাকা এবং অব্যহত ব্যর্থতার ক্ষেত্রে, ব্যর্থতার প্রথম তারিখের পর হইতে প্রত্যেক দিনের জন্য আরও ০৫ (পাঁচ) হাজার টাকা করিয়া জরিমানা আরোপ করিয়া পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে জরিমানার মোট অর্থ পরিশোধের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি উল্লিখিত বিধান পুণরায় লংঘন করিলে বা প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে তাহার বিরুদ্ধে দ্বিগুণ জরিমানা আরোপিত হইবে।
(৩) ধারা ২৩৪ এর অধীন প্রদেয় কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকিলে এবং এই ধারার অধীন আরোপিত জরিমানা, সংশ্লিষ্ট আদেশে উলেস্নখিত তারিখের মধ্যে পরিশোধ করা না হইলে, উক্ত অপরিশেধিত অর্থ ও জরিমানা সরকারী দাবী হিসাবে গণ্য হইবে এবং উহা Public Demands Recovery Act, 1913 (Act No. IX of 1913) এর বিধান অনুযায়ী আদায়যোগ্য হইবে।
(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন কোন আদেশের দ্বারা সংক্ষুব্ধ কোন ব্যক্তি উহা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের নিকট, উক্ত আদেশের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, দরখাস্ত পেশ করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ দরখাস্ত প্রাপ্তির পর সরকার অনধিক ৪৫ (পঁয়তাল্লিশ) দিনের মধ্যে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতঃ যথাযথ আদেশ প্রদান করিবে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, কোম্পানী বা ট্রাস্টি বোর্ডকে অবহিত করিবে।
(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত বলিয়া গণ্য হইবে।]
এই অধ্যায় অথবা সংশ্লিষ্ট কোন বিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এবং ইহার প্রয়োজনে সরকার যে কোন সময়ে কোন কোম্পানী বা ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট হইতে তথ্য, দলিল-দস্তাবেজ অথবা কার্যধারার নথি-পত্র তলব করিতে পারিবে।
(১) তহবিলদ্বয়ের প্রশাসন সংক্রান্ত কোন বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ড এবং কোম্পানীর মধ্যে কোন মতবিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি সরকারের নিকট পেশ করিতে হইবে এবং ইহার উহার সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।
(২) তহবিলদ্বয় হইতে প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে ট্রাস্টি বোর্ড অথবা কোম্পানীর বিরুদ্ধে কোন শ্রমিকের কোন অভিযোগ থাকিলে উহা দশম অধ্যায়ে বর্ণিত মজুরী হইতে কর্তন সম্পর্কে বিরোধ নিষ্পত্তির পন্থা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
সরকার এই অধ্যায়ের অধীন ইহার সকল অথবা যে কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত শর্ত সাপেক্ষে, ইহার কোন কর্মকর্তা অথবা অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে অর্পণ করিতে পারিবে।
(১) অংশগ্রহণ তহবিলে বরাদ্দকৃত অথবা জমাকৃত সকল অর্থ কোম্পানীর ব্যবসা পরিচালনার কাজে লাগাইতে পারা যাইবে৷
(২) কোম্পানী ট্রাস্টি বোর্ডকে অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ উপ-ধারা (১১) এর অধীন বিনিয়োগের কাজে ব্যবহার করিবার জন্য অনুরোধ করিতে পারিবে, এবং বোর্ড উক্তরূপ বিনিয়োগ করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে৷
(৩) কোম্পানীর ব্যবসা পরিচালনার কাজে নিয়োজিত অংশগ্রহণ তহবিলের কোন অর্থের উপর, কোম্পানী ব্যাংক হারের আড়াই শতাংশ অধিক হারে অথবা উহার সাধারণ শেয়ারের জন্য ঘোষিত মুনাফার হারের পঁচাত্তর শতাংশ হারে, যাহা অধিক হইবে, সুদ প্রদান করিবে৷
(৪) যদি কোন কোম্পানীর একাধিক শ্রেণীর সাধারণ শেয়ার থাকে, এবং উহার জন্য বিভিন্ন হারে মুনাফা ঘোষিত হয় তাহা হইলে, উপ-ধারা (৩) এর অধীন প্রদেয় সুদের হার নির্ধারণের উদ্দেশ্যে উক্ত ঘোষিত বিভিন্ন মুনাফার হারের গুরুত্বানুযায়ী হিসাবকৃত গড়কে গ্রহণ করিতে হইবে৷
(৫) অংশগ্রহণ তহবিলে প্রদেয় উক্তরূপ সুদ, তহবিলের অর্থ কোম্পানী যে বত্সরে ব্যবহার করিয়াছে, সেই বত্সরের অব্যবহিত পরবর্তী বত্সরের প্রথম তারিখ হইতে তহবিলে জমা হইবে৷
(৬) যে ক্ষেত্রে কোন কোম্পানী উপ-ধারা (১) এর অধীন অংশগ্রহণ তহবিলের কোন অর্থ নিজের ব্যবসার কাজে লাগাইতে ইচ্ছুক না হয় সে ক্ষেত্রেও, উক্ত তহবিলে টাকা বরাদ্দ হওয়ার তারিখ হইতে উহা উপ-ধারা (১১) অনুযায়ী বিনিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সময়ের জন্য তহবিলের উক্ত টাকার উপর উল্লিখিত হারে কোম্পানী কর্তৃক সুদ প্রদেয় হইবে৷
(৭) যদি অংশগ্রহণ তহবিল স্থাপিত হওয়ার পর কোন সময় কোম্পানী, বোনাস অথবা বোনাস শেয়ারের মাধ্যম ব্যতীত, অন্য কোনভাবে অতিরিক্ত মূলধন সংগ্রহ করে, তাহা হইলে উপ-ধারা (১) এর অধীন কোম্পানীর ব্যবহার যোগ্য কোন অর্থ অথবা অংশগ্রহণ তহবিলের কোন সম্পদ সাধারণ সম-মূলধনে পরিবর্তন করার প্রথম পছন্দ উক্ত তহবিলের থাকিবে; তবে ইহা, উক্তরূপ পরিবর্তনের পূর্বে, কোম্পানীর পরিশোধিত মূলধনের পঁচিশ শতাংশ অথবা অতিরিক্ত মূলধনের পঞ্চাশ শতাংশ, যাহা কম হইবে, এর অধিক হইবে না৷
ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারায় “অতিরিক্ত মূলধন” বলিতে কোম্পানীর কোন বিদেশী অংশীদারকে দেওয়ার প্রস্তাবকৃত বা প্রদত্ত কোন মূলধনকে বুঝাইবে না৷
(৮) উপ-ধারা (৭) এর অধীন পরিবর্তনের অধিকার প্রয়োগের প্রয়োজনে, কোম্পানীর অতিরিক্ত মূলধনে অংশগ্রহণ করিবার জন্য অর্থ সংগ্রহের লক্ষ্যে অংশগ্রহণ তহবিলের সম্পদ বিক্রি করিবার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হইবে৷
(৯) উপ-ধারা (৭) এ বর্ণিত পন্থায় সংগৃহীত শেয়ার অন্যান্য শেয়ারের মত একই পন্থায় ভবিষ্যত বোনাস এবং অধিকার-ইস্যুতে অংশগ্রহণ করিবে৷
(১০) উপ-ধারা (৭) এ বর্ণিত পন্থায় সংগৃহীত শেয়ারের, অন্যান্য শেয়ারের মত একই পন্থায়, ভোটের অধিকার থাকিবে এবং উক্তরূপ ভোটের অধিকার অংশগ্রহণ তহবিলের পক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড প্রয়োগ করিবে৷
1[(১১) অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ সরকারী মালিকানাধীন বিনিয়োগযোগ্য কোন খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে।]
(১) সকল 1[সুবিধাভোগী] এই অধ্যায়ের অধীন সকল সুবিধা 2[সমান অনুপাতে] পাইবার এবং তহবিলদ্বয়ে অংশগ্রহণের যোগ্য হইবেন।
(২) কোন হিসাব বত্সরে কোন 3[সুবিধাভোগী] কোন কোম্পানীতে অন্যুন ছয় মাস চাকুরী পূর্ণ না করিলে তিনি উক্ত বত্সরের জন্য তহবিলদ্বয়ে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না।
(১) প্রত্যেক বত্সর অংশগ্রহণ তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের দুই-তৃতীয়াংশ সমান অনুপাতে সকল 1[সুবিধাভোগীগণের] মধ্যে নগদে বন্টন করা হইবে, এবং অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ ধারা ২৪০ (১১) এর বিধান মোতাবেক বিনিয়োগ করা হইবে, যাহার মুনাফাও সকল 2[সুবিধাভোগীগণের] মধ্যে সমান অনুপাতে বন্টন করা হইবে৷
(২) যদি কোন 3[সুবিধাভোগী] স্বেচ্ছায় কোম্পানীর চাকুরী ত্যাগ করিয়া চলিয়া যান, তাহা হইলে এই অধ্যায়ের অধীন তহবিলদ্বয় হইতে তাহাকে কোন সুবিধা প্রদেয় হইলে তাহা তিনি পাইবেন৷
(৩) কোন 4[সুবিধাভোগীর] চাকুরী, বরখাস্ত ব্যতীত, অন্য কোনভাবে অবসান করা হইলে, তিনি কোম্পানীর চাকুরী হইতে অবসরপ্রাপ্ত কোন 5[সুবিধাভোগীর] সমতুল্য হইবেন৷
(৪) কোন 6[সুবিধাভোগী] চাকুরী হইতে বরখাস্ত হইলে, তহবিলদ্বয়ে তাহার অংশ বাজেয়াপ্ত হইবে৷
(৫) যে ক্ষেত্রে কোন 7[সুবিধাভোগী] কোন কোম্পানীর কোন অফিস বা ইউনিট হইতে উহার অন্য কোন অফিস বা ইউনিটে বদলী হন, সে ক্ষেত্রে তাহার নামে জমাকৃত তহবিলদ্বয়ের সুবিধা উক্ত বদলীকৃত অফিসে বা ইউনিটের তহবিলদ্বয়ে স্থানান্তরিত হইবে, এবং তাহার পূর্বের অফিস বা ইউনিটের চাকুরী তাহার বদলীকৃত অফিস বা ইউনিটের তহবিল হইতে প্রদেয় সুযোগের ক্ষেত্রে গণনায় আনা হইবে৷
(৬) কোন 8[সুবিধাভোগীর] অবসর গ্রহণের পর তিনি, অথবা কোম্পানীতে চাকুরীরত থাকাকালে তাহার মৃত্যু ঘটিলে তাহার মনোনীত স্বত্ত্বভোগী, এই অধ্যায়ের অধীন পূর্ণ সুবিধা ভোগ করিবেন৷
1[কল্যাণ তহবিলে জমাকৃত অর্থ, এই অধ্যায়ের বিধানাবলী প্রতিপালন সাপেক্ষে, ট্রাস্টি বোর্ড যেভাবে স্থির করিবে সেইভাবে এবং সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাইবে, এবং বোর্ড তৎসম্পর্কে সরকারকে অবহিত করিবে।]
এই অধ্যায় প্রযোজ্য হয় এরূপ সকল কোম্পানীর ক্ষেত্রে তাহাদের কর প্রদানযোগ্য আয় হিসাবের বেলায় তত্কর্তৃক তহবিলদ্বয়ে বরাদ্দকৃত কোন অর্থ হিসাবে ধরা হইবে না।
তহবিলদ্বয়ের আয়, উহার মূলধনী মুনাফাসহ, আয়কর হইতে রেহাই পাইবে।
তহবিলদ্বয় হইতে যে অর্থ শ্রমিককে দেওয়া হয়, ইহার জন্য তাহাকে কোন আয়কর দিতে হইবে না।
(১) ট্রাস্টি বোর্ডের অফিস কোম্পানীর আংগিনায় স্থাপিত হইবে, এবং যে ক্ষেত্রে কোন কোম্পানীর একাধিক অফিস অথবা ইউনিট থাকে, সেক্ষেত্রে উহার রেজিস্ট্রিকৃত প্রধান কার্যালয়ে ইহা স্থাপিত হইবে।
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের হিসাব রক্ষণসহ সকল খরচ কোম্পানী বহন করিবে।
কোম্পানীর আয়-ব্যয়ের হিসাব যে ভাবে নিরীক্ষিত হয়, তহবিলদ্বয়ের প্রতি বত্সরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও অনুরূপভাবে কোম্পানীর খরচে নিরীক্ষিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নিজ খরচে তহবিলদ্বয়ের আয়-ব্যয়ের কোন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে।
এই অধ্যায়ের অধীন শ্রমিককে প্রদেয় কোন সুবিধা, কোন আইন, চুক্তি, চাকুরীর শর্তাবলী অথবা অন্যভাবে তাহাকে প্রদেয় অন্য কোন সুবিধার অতিরিক্ত হিসাবে প্রদেয় হইবে এবং ইহা উক্তরূপ সুবিধার পরিবর্তে বা উহার হানি করিয়া হইবে না।
এই অধ্যায়ে যাহা কিছু থাকুক না কেন যে সকল কোম্পানী সমস্ত বত্সরের পরিবর্তে উহার কোন অংশে উহাদের কাজ চালায় সে সকল কোম্পানীর মুনাফায় শ্রমিকগণের অংশগ্রহণের জন্য সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধান করিতে পারিবে।
এই অধ্যায়ে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, দেশের একাধিক স্থানে একাধিক শিল্পসম্পর্কিত কাজ-কর্মে নিয়োজিত কোন কোম্পানীর অনুরোধক্রমে সরকার উহার তহবিলদ্বয়কে উহার শিল্পসম্পর্কিত কাজ-কর্মে রত বিভিন্ন অফিস বা ইউনিটের মধ্যে বিভক্ত করিবার জন্য এবং উহার প্রত্যেক অফিস বা ইউনিটের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের জন্য অনুমতি দিতে পারিবে; এবং সে ক্ষেত্রে এই অধ্যায়ের বিধানাবলী এমন ভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন উহার উক্তরূপ প্রত্যেক অফিস বা ইউনিট একটি কোম্পানী।
ট্রাস্টি বোর্ড, সরকারের পূর্ব অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্পোরেশন অথবা সোনালী ব্যাংকে উহার অংশগ্রহণ তহবিলের ব্যবস্থাপনা অর্পণ করিবার জন্য উহার সহিত চুক্তি করিতে পারিবে; এবং এক্ষেত্রে চুক্তির শর্তানুযায়ী প্রদেয় কোন ফিস কোম্পানী কর্তৃক পরিশোধযোগ্য হইবে।
(১) ষোড়শ অধ্যায়ের বিলুপ্ত ধারা ২৫৪ এর অধীন চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে গঠিত ডক-শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড, অতঃপর উক্ত বোর্ডদ্বয় বলিয়া উল্লিখিত, বিলুপ্ত হইবে এবং উক্ত বোর্ডদ্বয়ের রেজিস্ট্রিকৃত ডক-শ্রমিকগণের রেজিস্ট্রেশন বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) উক্ত বোর্ডদ্বয়ের বিলুপ্তি সত্ত্বেও, -
(ক) উহাদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী, যথাক্রমে, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কতৃর্পক্ষে আত্নীকৃত হইবেন এবং তাহারা উহাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী হইবেন, এবং উক্ত আত্নীকরণের পূর্বে তাহারা যে শর্ত বিলুপ্ত উক্ত বোর্ডদ্বয়ের চাকুরীতে নিয়োজিত ছিলেন, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ বা ক্ষেত্রমত, মংলা বন্দর কতৃর্পক্ষ কর্তৃক পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত, সে একই শর্তে তাহারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকিবেন;
(খ) দফা (ক) এর অধীন উহাদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর আত্নীকরণের ক্ষেত্রে, Surplus Public Servants Absorption Ordinance, 1985 (Ord. No. XXIV of 1985) এর বিধান অনুসরণ করিতে হইবে;
(গ) উহাদের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুয়িটি, কল্যাণ তহবিল, লিকুইড ফান্ড দায়মুক্তভাবে, যথাক্রমে, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে হস্তান্তরিত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ উহাদের রক্ষণ ও পরিচালনা করিবে;
(ঘ) উহাদের সকল সম্পদ, অধিকার, ক্ষমতা ও সুবিধাদি এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত অর্থ, বিনিয়োগ, সকল হিসাবের বই, রেজিস্টার, নথি ও অন্যান্য দলিল-পত্র, যথাক্রমে, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কতৃর্পক্ষে হস্তান্তরিত ও ন্যস্ত হইবে এবং সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ উহাদের অধিকারী হইবে;
(ঙ) বিলুপ্তির অব্যবহিত পূর্বে উহাদের সকল ঋণ বা দায় ও দায়িত্ব এবং উহাদের দ্বারা বা উহাদের সহিত যে সকল চুক্তি সম্পাদিত হইয়াছে উহা, যথাক্রমে, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঋণ, দায় ও দায়িত্ব এবং উহাদের দ্বারা বা উহাদের সহিত সম্পাদিত চুক্তি বলিয়া গণ্য হইবে;
(চ) বিলুপ্তির অব্যবহিত পুর্বে উহাদের দ্বারা বা উহাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা বা আইনগত কার্যধারা, যথাক্রমে, চট্রগ্রাম বন্দর কতৃর্পক্ষ ও মংলা বন্দর কতৃর্পক্ষ কর্তৃক বা তাহাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা বা কার্যধারা বলিয়া গণ্য হইবে এবং তদনুযায়ী উহাদের শুনানী ও নিষ্পত্তি হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান প্রয়োগে অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে, সরকার, উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থ, আদেশ দ্বারা, উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদান করতঃ প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।]
(১) বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে৷
(২) উপরিউক্ত ভবিষ্য তহবিল ধারা ৩ এর অধীন কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় গঠিত হইবে৷
(৩) উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠনের উদ্দেশ্যে সরকার বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে, এবং যদি উক্তরূপ বিধি প্রণীত হয় তাহা হইলে যে প্রতিষ্ঠানে উহা প্রযোজ্য হইবে সে প্রতিষ্ঠান উহার বিধানাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে৷
(৪) উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হইবে৷
(৫) উক্তরূপ ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকগণের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে; এবং সরকার কর্তৃক মনোনীত কোন ব্যক্তি ইহার চেয়ারম্যান হইবেন৷
(৬) মালিকের প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইবেন এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধি যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক মনোনীত হইবেন 1[ :
তবে শর্ত থাকে যে, যে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি থাকিবে না সেই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবেন।]
(৭) যে ক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি 2[ বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সে ক্ষেত্রে শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মহাপরিচালকের] তত্ত্বাবধানে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের দ্বারা নির্বাচিত হইবেন৷
(৮) ট্রাস্টি বোর্ডের সকল সদস্য দুই বত্সরের মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন।
(৯) যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইয়াছে সে প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক স্থায়ী শ্রমিক উহাতে তাহার চাকুরী এক বত্সর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে উহার ভবিষ্য তহবিলে, ভিন্নরূপ কোন চুক্তি না থাকিলে, তাহার মাসিক মূল মজুরীর অন্যুন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ হারে চাঁদা প্রদান করিবেন; এবং মালিকও ইহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন৷
(১০) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠান উহার শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে যদি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্যুন তিন-চতুর্থাংশ শ্রমিক মালিকের নিকট লিখিত দরখাস্ত পেশ করিয়া উক্তরূপ ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবী করেন৷
(১১) যেক্ষেত্রে উপ-ধারা (১০) এর অধীন ভবিষ্য তহবিল গঠনের দাবী করা হয়, সে ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক দরখাস্ত প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে উহা গঠনের জন্য ধারা ৩ এর অধীন প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করিবেন এবং ভবিষ্য তহবিল উক্ত সময় অতিক্রান্ত হইবার পূর্বেই চালু করিবেন৷
(১২) উক্ত ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত মোট অর্থের অন্যুন অর্ধেক অর্থ নিম্নরূপ উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ করিতে হইবে, যথাঃ-
(ক) আই, সি, বি, মিউচ্যুয়াল ফান্ড সার্টিফিকেট;
(খ) আই, সি, বি, ইউনিট সার্টিফিকেট; এবং
(গ) প্রতিরক্ষা ও ডাক সঞ্চয় পত্রসহ অন্য কোন সরকারী ঋণপত্র।
(১৩) উক্ত ভবিষ্য তহবিলের পরিচালনা ব্যয় মালিক বহন করিবেন৷
(১৪) প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব যেভাবে নিরীক্ষিত হয়, ভবিষ্য তহবিলের প্রতি বত্সরের আয়-ব্যয়ের হিসাবও সেভাবে প্রতিষ্ঠানের খরচে নিরীক্ষিত হইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নিজ খরচে উক্ত তহবিলের আয়-ব্যয়ের কোন বিশেষ নিরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে৷
(১৫) ভবিষ্য তহবিলের আয়-ব্যয়ের হিসাব তত্সম্পর্কে নিরীক্ষা রিপোর্টসহ, নিরীক্ষা রিপোর্ট পেশ করার এক মাসের মধ্যে শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে৷
(১৬) যে ক্ষেত্রে সরকার এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, বেসরকারী খাতের কোন প্রতিষ্ঠানে গঠিত ভবিষ্য তহবিল সন্তোষজনকভাবে কাজ করিতেছে এবং ইহার বিরুদ্ধে শ্রমিকগণের কোন অভিযোগ নাই, সেক্ষেত্রে সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকের নিকট হইতে প্রাপ্ত দরখাস্তের ভিত্তিতে লিখিত আদেশ দ্বারা উক্ত প্রতিষ্ঠানকে এই ধারার প্রয়োগ হইতে রেহাই দিতে পারিবে৷
(১৭) এই ধারার বিধান অনুযায়ী ভবিষ্য তহবিল গঠনকারী কোন প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯নং আইন) এর উদ্দেশ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে৷
(১৮) এই ধারায় বেসরকারী খাতের প্রতিষ্ঠান বলিতে এমন কোন প্রতিষ্ঠানকে বুঝাইবে যাহা সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সরাসরি মালিকানায় বা ব্যবস্থাপনায় নাই অথবা যাহার ক্ষেত্রে সরকার বা কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রণীত কোন ভবিষ্য তহবিল বিধি প্রযোজ্য হয় না।
(১) চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নামে একটি ভবিষ্য তহবিল স্থাপিত হইবে।
(২) চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল, অতঃপর এই অধ্যায়ে ভবিষ্য তহবিল বলিয়া উল্লিখিত, ধারা ২৬৬ এর অধীন গঠিত একটি ট্রাস্টি বোর্ড এর উপর ন্যস্ত হইবে এবং উহার দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে।
(২) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা-
(ক) চেয়ারম্যান;
(খ) মালিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন সদস্য;
(গ) চা-শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী তিনজন সদস্য;
(ঘ) চা-শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্ট নহেন এরূপ দুইজন সদস্য।
(৩) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উপ-ধারা (২) (খ) ও (গ) এর অধীন সদস্যগণ সরকার কর্তৃক এতদউদ্দেশ্যে স্বীকৃত মালিকগণ ও ক্ষেত্রমত, শ্রমিকগণের সংগঠনের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেন।
(৪) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ তাহাদের নিযুক্তির তারিখ হইতে তিন বত্সর মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও, তাহাদের উত্তরাধিকারীগণ কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত তাহারা স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন৷
(৫) চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যগণ এই অধ্যায় অথবা বিধি দ্বারা অর্পিত দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৬) ট্রাস্টি বোর্ড একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে, এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতাও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে, এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে।
1[(৭) কোন ব্যক্তি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হইতে পারিবেন না, যদি তিনি -
(ক) নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন;
(খ) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর পাঁচ বৎসর অতিবাহিত না হয়;
(গ) উপযুক্ত আদালত কর্তৃক মানসিক ভারসাম্যহীন বা বুদ্ধিভ্রষ্ট বলিয়া ষোষিত হন।
(৮) ট্রাস্টি বোর্ড উহার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে, এতদুদ্দেশ্যে সরকারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, প্রবিধানমালা প্রণয়নপূর্বক প্রয়োজনীয় সংখ্যক জনবল নিয়োগ করিতে পারিবে।]
(১) ট্রাস্টি বোর্ড চাঁদার ভিত্তিতে একটি প্রশাসনিক খরচ আরোপ করিতে পারিবে।
(২) সরকার, বোর্ডের সহিত পরামর্শক্রমে, মালিক এবং শ্রমিকগণের মোট চাঁদার কত শতাংশ প্রশাসনিক খরচ হইবে ইহা নির্ধারণ করিবে।
(৩) প্রত্যেক মাস শেষ হইবার পনর দিনের মধ্যে মালিক স্বতন্ত্র ব্যাংক ড্রাফট বা চেকের মাধ্যমে ভবিষ্য তহবিলে প্রশাসনিক খরচ প্রদান করিবেন।
(৪) প্রশাসনিক খরচ চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হইলে উক্ত চেকের অর্থ সংগ্রহের জন্যও কোন খরচ প্রদেয় হইলে তাহা চেকের অর্থের সহিত অন্তর্ভুক্ত করিয়া দিতে হইবে।
(১) তিন বত্সরের অধিককাল যাবত্ চালু আছে এরূপ প্রত্যেক চা-বাগানের মালিক তাহার চা-বাগানের কোন শিক্ষাধীন শ্রমিক ব্যতীত, এক বত্সরের অধিককাল যাবত্ কর্মরত আছেন এরূপ প্রত্যেক শ্রমিক সম্পর্কে তাহার মূল মজুরীর সাড়ে সাত শতাংশ হারে ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত প্রত্যেক শ্রমিক তাহার সম্পর্কে মালিক কর্তৃক প্রদেয় চাঁদার হারে ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবেন।
(৩) কোন ক্ষেত্রে এই ধারার অধীন প্রদেয় কোন চাঁদায় টাকার ভগ্নাংশ জড়িত থাকিলে উক্ত ভগ্নাংশ নিকটস্থ পূর্ণ টাকায় লইয়া আসিতে হইবে।
(৪) যদি কোন ক্ষেত্রে এই আইন বলবত্ হইবার সময়ে কোন প্রচলিত ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত চাঁদার হার এই ধারায় নির্ধারিত চাঁদার হার হইতে উচ্চতর হয় তাহা হইলে উক্ত উচ্চতর হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিয়া যাইতে হইবে, যেন এই আইন বলবত্ হয় নাই।
(৫) বিধি দ্বারা নির্ধারিতভাবে ভবিষ্য তহবিলে মোট অর্থ জমা রাখিতে হইবে এবং বিনিয়োগ করিতে হইবে।
যে ক্ষেত্রে কোন মালিক ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদানে অথবা এই অধ্যায় বা কোন বিধির অধীন প্রদেয় কোন খরচ প্রদানে খেলাপ করেন সে ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড মালিকের নিকট হইতে উক্তরূপ বকেয়া অর্থের সহিত উহার অতিরিক্ত হিসাবে অনধিক পঁচিশ শতাংশ হারে ক্ষতিপূরণ আদায় করিতে পারিবে।
(১) কোন শ্রমিকের ভবিষ্য তহবিলের হিসাবে যে অর্থ জমা থাকে সে অর্থ কোন ভাবেই হস্তান্তরযোগ্য বা দায়বদ্ধ যোগ্য হইবে না এবং উক্ত শ্রমিকের কোন কর্জ বা দায় সম্পর্কে কোন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত ডিক্রী বা রায়ের অধীন উহা ক্রোকযোগ্য হইবে না অথবা দেউলিয়া আইন, ১৯২০ (১৯২০ সনের ৫ নং আইন) এর অধীন নিযুক্ত কোন রিসিভার উক্তরূপ কোন অর্থ দাবী করিতে অধিকারী হইবেন না।
(২) কোন শ্রমিকের মৃত্যুর সময় তাহার ভবিষ্য তহবিলের হিসাবে যে অর্থ জমা থাকে সে অর্থ, অন্য কোন আইনের অধীন অনুমোদিত কর্তন সাপেক্ষে, তাহার মনোনীত ব্যক্তির উপর ন্যস্ত হইবে, এবং তাহার মৃত্যুর পূর্বে তাহার বা তাহার মনোনীত ব্যক্তির কোন কর্জ বা দায় হইতে ইহা মুক্ত থাকিবে।
এই অধ্যায়ের অধীন কোন চাঁদা অনাদায়ী থাকিলে উহা যদি মালিকের দেউলিয়া সাব্যস্ত হইবার পূর্বে প্রদেয় হয় অথবা গুটাইয়া ফেলার আদেশাধীন কোন কোম্পানীর ক্ষেত্রে উহা যদি উক্ত আদেশের পূর্বে প্রদেয় হয় তাহা হইলে অনাদায়ী চাঁদাসংক্রান্ত দায় দেউলিয়া আইন, ১৯২০ (১৯২০ সনের ৫নং আইন) এর ধারা ৬১ অথবা কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ এর ধারা ২৩০ এর অধীন এরূপ কর্জের অন্তর্ভুক্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে যাহা উক্ত দেউলিয়া বা কোম্পানীর সম্পত্তি বন্টনের সময় অন্য সকল কর্জের উপর অগ্রাধিকার পাইবে।
এই আইন বা কোন বিধির অধীন কোন চাঁদা বা খরচ প্রদানে বাধ্য কেবলমাত্র এই কারণে মালিক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরী বা অন্য কোন সুযোগ-সুবিধা কমাইতে পারিবেন না।
(১) প্রত্যেক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান উহার সংবাদপত্র শ্রমিকগণের সুবিধার জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় একটি ভবিষ্য তহবিল গঠন করিবে।
(২) উক্ত ভবিষ্য তহবিল একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(৩) উক্ত ট্রাস্টি বোর্ড সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং উহাতে নিযুক্ত সংবাদপত্র শ্রমিকগণের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হইবে এবং তাহারা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় মনোনীত এবং নিযুক্ত হইবেন।
(৪) প্রত্যেক সংবাদপত্র শ্রমিক কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে তাহার চাকুরীর প্রথম দুই বত্সর পূর্ণ করিবার পর প্রত্যেক মাসে উহার ভবিষ্য তহবিলে তাহার মাসিক মজুরীর অন্যুন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ হারে চাঁদা প্রদান করিবেন, এবং মালিকও উহাতে উক্ত হারে চাঁদা প্রদান করিবেন।
(৫) কোন সংবাদপত্র শ্রমিক তাহার চাকুরীর প্রথম দুই বত্সরের মধ্যেও তাহার নিজ ইচ্ছায় উক্ত ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবেন, কিন্তু সে ক্ষেত্রে সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানের মালিক তাহার নিজ ইচ্ছায় উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে বা না করিতে পারিবেন।
(৬) ভবিষ্য তহবিল আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ১৯ নং আইন) এর উদ্দেশ্যে কোন সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠান একটি সরকারী প্রতিষ্ঠান বলিয়া গণ্য হইবে।
এই অধ্যায় এমন কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে যাহা দুই বত্সরের অধিককাল যাবত্ চালু আছে, যাহাতে সাধারণতঃ অন্যুন পঞ্চাশ জন শ্রমিক নিযুক্ত আছেন 1[***]।
বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কিছু না থাকিলে, এই অধ্যায়ে-
1[(ক) ‘‘যোগ্য কর্তৃপক্ষ’’ অর্থ প্রধান পরিদর্শক অথবা তদ্কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা;]
(খ) “শিক্ষাধীন” অর্থ শিক্ষাধীনতা পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী কোন ব্যক্তি;
(গ) “শিক্ষাধীনতা” অর্থ এমন কোন প্রশিক্ষণ পদ্ধতি যাহাতে কোন মালিক কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করিয়া তাহাকে কোন শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় বা বৃত্তিতে প্রণালীবদ্ধভাবে পূর্বনির্ধারিত কোন মেয়াদের জন্য প্রশিক্ষণ দিতে বা দেওয়ার ব্যবস্থা করিতে রাজি হন এবং উক্ত মেয়াদকালে উক্ত শিক্ষাধীন ব্যক্তি মালিকের অধীনে চাকুরী করিতে বাধ্য থাকেন; এবং
(ঘ) “শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা” অর্থ কোন প্রতিষ্ঠানের এমন কোন পেশা বা বৃত্তি যাহা যোগ্য কর্তৃপক্ষ, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা বলিয়া ঘোষণা করে৷
এই অধ্যায় এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে, কোন মালিক-
(ক) তাহার প্রতিষ্ঠানে এই অধ্যায় এবং বিধির বিধানগুলি যথাযথভাবে মানিয়া চলা নিশ্চিত করিবেন;
(খ) বিধি অনুযায়ী তাহার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী চালু করিবেন; এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা যোগ্য কর্তৃপক্ষের সহিত রেজিস্ট্রি করিবেন;
(গ) তাহার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা বা বৃত্তিতে নিযুক্ত ব্যক্তিগণের মধ্য হইতে গড়ে অন্যুন এক-চতুর্থাংশ ব্যক্তিকে, অথবা যোগ্য কর্তৃপক্ষ কর্তৃক লিখিতভাবে অন্য কোন অনুপাত নির্ধারণ করিলে সেই অনুপাতে, শিক্ষাধীন হিসাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করিবেন 1[এবং শিক্ষাধীন হিসাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার প্রদান করিবেন];
(ঘ) তাহার প্রতিষ্ঠানে যদি এই আইন বলবত্ হইবার পূর্ব হইতে শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী চালু হইয়া থাকে তাহা হইলে উহাকে এই অধ্যায় এবং বিধির বিধানের সহিত সুসামঞ্জস্য করিয়া সংশোধন করিবেন, এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উক্তরূপ সংশোধিত কর্মসূচী যোগ্য কর্তৃপক্ষের সহিত রেজিস্ট্রি করিবেন;
(ঙ) মোট স্বাভাবিক কর্ম সময়ের অন্তত বিশ শতাংশ সময় শিক্ষাধীন শ্রমিক যাহাতে প্রয়োজনীয় তাত্ত্বিক শিক্ষা পান ইহা নিশ্চিত করিবেন;
(চ) সম্পূর্র্র্ণ নিজ খরচে শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী প্রণয়ন ও চালু করিবেন; এবং
(ছ) যোগ্য কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ব্যতিরেকে এমন কোন ব্যক্তিকে শিক্ষাধীন হিসাবে নিযুক্ত করিবেন না যিনি অন্য কোন মালিকের অধীন শিক্ষাধীন ছিলেন এবং তিনি তাহা পরিত্যাগ করিয়া আসিয়াছেন অথবা শৃঙ্খলা ভংগের কারণে মালিক কর্তৃক কর্মচ্যুত হইয়াছেন৷
(১) আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪, (১৯৮৪ সনের ৩৬ নং অধ্যাদেশ) এ ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায় এবং বিধির বিধান মোতাবেক পরিচালিত কোন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচীর জন্য মালিক কর্তৃক ব্যয়িত কোন অর্থের জন্য তাহাকে আয়-কর প্রদান করিতে হইবে না৷
(২) আমদানী ও রপ্তানী (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ১৯৫০ (১৯৫০ সনের ৩৯ নং আইন) অথবা কোন বিধি বা আদেশে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী পরিচালনার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় কোন জিনিসপত্র আমদানীর জন্য সরকার আদেশ দ্বারা মালিককে লাইসেন্স প্রদানের বিধান করিতে পারিবে৷
যোগ্য কর্তৃপক্ষ, এই অধ্যায় এবং বিধির বিধান মোতাবেক কোন প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত কোন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচী সম্পর্কে, মালিককে সম্ভব সর্বপ্রকার কারিগরী উপদেশ ও নির্দেশনা দিবে৷
(১) এই অধ্যায় এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে কোন শিক্ষাধীন শ্রমিক-
(ক) তাহার পেশা বা বৃত্তি বিবেক-বুদ্ধিসহকারে ও অধ্যবসায়ের সহিত শিখিবেন এবং শিক্ষাধীনতার মেয়াদ শেষ হইবার পর নিজেকে একজন দক্ষ শ্রমিক হিসাবে যোগ্য করিবার চেষ্টা করিবেন;
(খ) মালিক কর্তৃক প্রণীত কর্মসূচী অনুযায়ী ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও তাত্ত্বিক শিক্ষা প্রদানকালে হাজির থাকিবেন;
(গ) শিক্ষাধীনতা সম্পর্কে মালিক অথবা তাহার প্রতিনিধি কর্তৃক প্রদত্ত সকল আইনানুগ আদেশ মানিয়া চলিবেন এবং শিক্ষাধীনতা চুক্তির অধীন তাহার সকল দায়-দায়িত্ব পালন করিবেন;
(ঘ) তাহার প্রশিক্ষণের উন্নতি যাচাই করিবার জন্য সময় সময় গৃহীত কোন পরীক্ষা দিতে তিনি বাধ্য থাকিবেন;
(ঙ) তাহার সমশ্রেণীর শ্রমিকগণের ট্রেড ইউনিয়ন ব্যতীত অন্য কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইবেন না;
(চ) তাহার শিক্ষাধীনতা সম্পর্কে মালিকের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকিলে এবং মালিকের নিকট হইতে ইহার কোন প্রতিকার না পাইলে, তিনি প্রতিকারের জন্য যোগ্য কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং এই সম্বন্ধে যোগ্য কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মানিয়া চলিবেন; এবং
(ছ) যোগ্য কর্তৃপক্ষের লিখিত পূর্ব অনুমোদন ব্যতিরেকে, তাহার শিক্ষাধীনতাকাল সমাপ্ত হওয়ার পর তিনি শিক্ষাধীনতা ছাড়িয়া যাইবেন না৷
(২) যদি কোন শিক্ষাধীন শ্রমিক তাহার শিক্ষাধীনতা চুক্তির শর্ত পালনে ব্যর্থ হন অথবা যদি শিক্ষাধীনতাকালের কোন সময়ে স্বেচ্ছায় শিক্ষাধীনতা ছাড়িয়া যান অথবা তাহার প্রশিক্ষণের উন্নতি সম্পর্কে অব্যাহত বিরূপ রিপোর্ট পাওয়া যায় অথবা অবাধ্যতা, বিধি লঙ্ঘন, কাজে অনুপস্থিতি, কর্তব্যে অবহেলা করেন, তাহা হইলে তিনি বা, ক্ষেত্রমত, তাহার পিতা বা অভিভাবক বা জামিনদার এককভাবে অথবা যৌথভাবে বিধি দ্বারা নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং শিক্ষাধীনতা কাজে তাহার জন্য ব্যয়িত অর্থ মালিককে ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন৷
যোগ্য কর্তৃপক্ষ-
(ক) প্রয়োজনীয় সহকারীসহ, কোন প্রতিষ্ঠানে বা উহার অংশ বিশেষে যে কোন যুক্তি সংগত সময়ে প্রবেশ করিতে, পরিদর্শন করিতে ও পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবে;
(খ) উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শিক্ষাধীন শ্রমিককে পরীক্ষা করিতে, অথবা এই অধ্যায় মোতাবেক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, নথি বা দলিল-দস্তাবেজ পেশ করার নির্দেশ দিতে, এবং এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিবেচিত হইলে, কোন ব্যক্তির নিকট হইতে বক্তব্য বা বিবৃতি গ্রহণ করিতে পারিবে;
(গ) উক্ত প্রতিষ্ঠানে এই অধ্যায় এবং বিধির বিধান যথাযথভাবে পালিত হইতেছে কি না-ইহা দেখিবার জন্য প্রয়োজনীয় তদন্ত বা পরীক্ষা পরিচালনা করিতে পারিবে; এব
(ঘ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষমতাও প্রয়োগ করিতে পারিবে৷
এতদ্উদ্দেশ্যে প্রণীত বিধি সাপেক্ষে, যোগ্য কর্তৃপক্ষ লিখিত আদেশ দ্বারা ইহার সকল অথবা যে কোন ক্ষমতা তাহার অধঃস্তন যে কোন ব্যক্তি বা কর্মকর্তাকে অর্পণ করিতে পারিবে৷
কোন ব্যক্তি ধারা ৩৩-এর অধীন প্রদত্ত শ্রম আদালতের কোন আদেশ পালন করিতে অস্বীকার করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন ব্যক্তি কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরীতে নিযুক্ত করিলে, অথবা এই আইনের কোন বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন শিশু বা কিশোরকে চাকুরী করিবার অনুমতি দিলে, তিনি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন শিশুর পিতা-মাতা বা অভিভাবক ধারা ৩৫-এর বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন শিশু সম্পর্কে চুক্তি সম্পাদন করিলে, তিনি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(১) কোন মালিক চতুর্থ অধ্যায়ের 1[ বিধান অনুযায়ী কোনো মহিলা শ্রমিককে প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা হইতে বঞ্চিত করিলে ], তিনি 2[ পঁচিশ হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) যে ক্ষেত্রে আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অর্থদণ্ড আরোপ করে সে ক্ষেত্রে, আদালত উহার রায় প্রদানকালে আদায়কৃত দণ্ডের অর্থ সম্পূর্র্র্ণ বা উহার কোন অংশ সংশ্লিষ্ট মহিলাকে, যে কারণে উক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা হইয়াছে সে কারণ হইতে উদ্ভুত ক্ষতির জন্য, ক্ষতিপূরণ হিসাবে প্রদানের আদেশ দিতে পারিবে৷
1[(৩) আদালত, উপ-ধারা (২) এর অতিরিক্ত হিসাবে, চতুর্থ অধ্যায়ের যে সুবিধা হইতে শ্রমিককে বঞ্চিত করা হইয়াছে, সেই সুবিধা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মালিককে আদেশ প্রদান করিবে।]
কোন মহিলা, চতুর্থ অধ্যায়ের বিধি মোতাবেক তাহার মালিক কর্তৃক অনুমোদিত অনুপস্থিতিকালে, নগদ অর্থ অথবা জিনিসের বিনিময়ে কোন কাজ করিলে, তিনি এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন ব্যক্তি ধারা ৬৭ এর বিধান মানা হয় নাই এরূপ শক্তি চালিত কোন যন্ত্রপাতি কোন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য বিক্রি করিলে অথবা ভাড়া দিলে, অথবা কোন বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার প্রতিনিধি হিসাবে উহা বিক্রি করিবার জন্য অথবা ভাড়া দেওয়ার জন্য সংগ্রহ করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(১) কোন মালিক একাদশ অধ্যায়ের অধীন ঘোষিত নিম্নতম মজুরী হারের কম হারে কোন শ্রমিককে মজুরী প্রদান করিলে, তিনি এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) যে ক্ষেত্রে আদালত উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন দণ্ড আরোপ করে, সেক্ষেত্রে, আদালত উহার রায় প্রদানকালে, উক্তরূপ কোন লঙ্ঘন না হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে যে মজুরী প্রদেয় হইত এবং উক্তরূপ লঙ্ঘন করিয়া মজুরী হিসাবে যে অর্থ প্রদান করা হইয়াছে উহার পার্থক্যের পরিমাণ অর্থ তাহাকে প্রদান করিবার আদেশ দিতে পারিবে।
কোন ব্যক্তি এই আইনের বিধান লঙ্ঘন করিয়া কোন দুর্ঘটনা সম্পর্কে নোটিশ দিতে ব্যর্থ হইলে তিনি, যদি দুর্ঘটনার কারণে সাংঘাতিক শারীরিক জখম হয়, তাহা হইলে এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন, অথবা যদি দুর্ঘটনার কারণে জীবন হানি ঘটে, তাহা হইলে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
1[ (১) কোনো ব্যক্তি ধারা ১৯৫ বা ১৯৬ক এর কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি এক বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।]
(২) কোন শ্রমিক ধারা ১৯৬ এর কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি 2[ ছয় মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন অথবা শ্রমিক ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তি, ধারা ১৯৬ এর কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি 3[ এক বৎসর] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয হইবেন।
কোন ব্যক্তি এই আইনের অধীন অবশ্য পালনীয় কোন নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ ভংগ করিলে, তিনি এক বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
এই আইনের অধীন কোন নিষ্পত্তি, সিদ্ধান্ত বা রোয়েদাদ বাস্তবায়নের জন্য দায়ী কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে উহা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হইলে, তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(১) কোন শ্রমিক কোন বেআইনী ধর্মঘট শুরু করিলে, অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোন কাজ করিলে, তিনি 1[ ছয় মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
(২) কোন মালিক কোন বেআইনী লক-আউট শুরু করিলে অথবা চালাইয়া গেলে, অথবা উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোন কাজ করিলে, তিনি 2[ ছয় মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন ব্যক্তি কোন বেআইনী ধর্মঘট বা লক-আউটে অংশ গ্রহণের জন্য অথবা উহার জন্য অর্থ খরচ বা সরবরাহের জন্য অথবা অন্য কোন ভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোন ব্যক্তিকে প্ররোচিত বা উত্সাহিত করিলে, তিনি 4[ ছয় মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।
কোন ব্যক্তি কোন ঢিমে তালের কাজে অংশগ্রহণ করলে অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে উহাতে অংশ গ্রহণে প্ররোচিত বা উত্সাহিত করিলে অথবা অন্য কোন ভাবে উহাকে আগাইয়া নেওয়ার জন্য কোন কাজ করিলে, তিনি 1[ ছয় মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন মালিক ধারা ২২৮ (২) এর বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি এক বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(১) কোন ব্যক্তি শ্রমিকগণের কোন ভবিষ্য তহবিলের অর্থ আত্মসাত্ করিলে, তছরূপ করিলে অথবা অসত্ উদ্দেশ্যে নিজের কাজে ব্যয় করিলে, তিনি তিন বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অধিকন্তু তিনি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
ব্যাখ্যাঃ কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকগণের কোন ভবিষ্য তহবিলের তাহার প্রদেয় চাঁদা অথবা তত্কর্তৃক শ্রমিকগণের মজুরী হইতে কর্তীত উক্ত তহবিলের চাঁদা তিন মাসের অধিক সময় পর্যন্ত, শ্রম পরিচালকের সন্তোষমত কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত, যথা সময়ে উক্ত তহবিলে জমা করিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি উক্ত তহবিলের টাকা আত্মসাত্ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন৷
(২) শ্রমিকগণের অথবা মালিকগণের কোন ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী উক্ত ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের অর্থ আত্মসাত্ করিলে, তছরূপ করিলে অথবা অসত্ উদ্দেশ্যে নিজের কাজে ব্যয় করিলে, তিনি এক বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অধিকন্তু তিনি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷
(৩) এই ধারার অধীন আরোপিত অর্থদণ্ড, যে পরিমাণ অর্থ অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মসাত্ বা তছরূপ বা নিজ কাজে ব্যয় করিয়াছেন বলিয়া আদালত প্রমাণ পাইবে, সে পরিমাণ হইতে পারিবে এবং অর্থ দণ্ডের টাকা আদায় হওয়ার পর আদালত উহা সংশ্লিষ্ট তহবিলে পূরণ করিয়া দিবে৷
কোন ব্যক্তি অ-রেজিস্ট্রিকৃত অথবা রেজিস্ট্রি বাতিল হইয়াছে এমন কোন ট্রেড ইউনিয়নের, রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তি সংক্রান্ত কোন কর্মকান্ড ব্যতীত, অন্য কোন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করিলে অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে উক্তরূপ কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণের জন্য উত্সাহিত বা প্ররোচিত করিলে অথবা উক্তরূপ কোন ট্রেড ইউনিয়নের তহবিলের জন্য সদস্য চাঁদা ব্যতীত অন্য কোন চাঁদা আদায় করিলে, তিনি 1[ তিন মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ৷
কোন ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইলে বা থাকিলে, তিনি 1[ এক মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ৷
কোন ব্যক্তি সালিসের সন্তোষমত ব্যতীত, অন্য কোন কারণে ধারা ২১০(৭) এর বিধান মানিতে ব্যর্থ হইলে, তিনি 1[ তিন মাস] পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধানের অধীন অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত কোন সক্ষমতা পত্র নিজের বরাবরে প্রদত্ত সক্ষমতাপত্র হিসাবে সজ্ঞানে ব্যবহার করিলে বা ব্যবহারের চেষ্টা করিলে, অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে সজ্ঞানে উহা ব্যবহার করিতে অথবা ব্যবহারের চেষ্টা করিতে অনুমতি দিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
কোন ব্যক্তি-
(ক) বস্তুগত ভুল বলিয়া জানেন বা জানার কারণ আছে এরূপ কোন বর্ণনা প্রতারণার উদ্দেশ্যে এই আইন বা কোন বিধি, বিধান বা প্রবিধান বা স্কীমের অধীন রক্ষণীয় কোন রেজিস্টার, নোটিশ, নথি অথবা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজে লিপিবদ্ধ করিলে;
(খ) উক্তরূপ কোন রেজিস্টার, নোটিশ, নথি বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজে লিপিবদ্ধ করার প্রয়োজন আছে-এরূপ কোন বিষয় উহাতে ইচ্ছাকৃতভাবে লিপিবদ্ধ করা হইতে বাদ রাখিলে অথবা বাদ রাখার অনুমতি দিলে;
(গ) উক্তরূপ কোন রেজিস্টার, নোটিশ, নথি বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজের অফিস কপি ব্যতীত একাধিক কপি রক্ষণ করিলে;
(ঘ) বস্তুগত ভুল বলিয়া জানেন বা জানার কারণ আছে এরূপ কোন দরখাস্ত, নক্শা, নথি, বিবরণ, তথ্য, রিপোর্ট, নোটিশ অথবা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ এই আইন অথবা কোন বিধি, বিধান, প্রবিধান বা কোন স্কীমের অধীন কোন কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষের নিকট ইচ্ছাকৃতভাবে পাঠাইলে বা পাঠাইবার অনুমতি দিলে; অথবা
(ঙ) এই আইন অথবা কোন বিধি, বিধান, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন রক্ষণীয় বা প্রেরিতব্য কোন নক্শা, তালিকা, নথি, রেজিস্টার, তথ্য, রিপোর্ট অথবা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ ইচ্ছাকৃতভাবে রক্ষণ করিতে অথবা প্রেরণ করিতে ব্যর্থ হইলে অথবা গাফিলতি করিলে; তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ৷
এই আইনের অন্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক তাহার উপর দায়িত্ব বা কর্তব্য আরোপকারী কোন আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম বা কোন বিধিসম্মত আদেশের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ৷
(১) কোন ব্যক্তি এই আইন বা বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তাকে উহার অধীন তাহার দায়িত্ব বা কর্তব্য পালনে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করিলে অথবা উক্তরূপ কোন ব্যক্তিকে কোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উহার অধীন প্রয়োজনীয় বা অনুমোদিত কোন প্রবেশ, তদন , পরীক্ষা বা পরিদর্শন করিবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করিলে বা অবহেলা করিলে, তিনি 1[2[ছয় মাস] পর্যন্ত] কারাদণ্ডে, অথবা 3[4[পঁচিশ হাজার] টাকা পর্যন্ত] অর্থদণ্ডে, অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ।
(২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তার তলব অনুযায়ী তাহার সম্মুখে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম মোতাবেক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, নথি বা দলিল-দস্তাবেজ হাজির করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করিলে বা ব্যর্থ হইলে অথবা উক্তরূপ দায়িত্ব পালনরত কোন কর্মকর্তার সম্মুখে কোন ব্যক্তিকে হাজির হইতে বা তাহার জবানবন্দী গ্রহণ করিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিলে বা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিলে, তিনি তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা 5[ দশ হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন ৷
কোন ব্যক্তি এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন বিধান লংঘন করিলে বা মানিতে ব্যর্থ হইলে, এবং ইহার জন্য উহাতে অন্য কোন দণ্ডের বিধান না থাকিলে, তিনি 1[2[পঁচিশ হাজার] টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন।
এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডাজ্ঞা প্রাপ্ত কোন ব্যক্তি পুনরায় উক্তরূপ কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হইলে, তিনি তাহার দ্বিতীয়বার অপরাধের ক্ষেত্রে উহার জন্য নির্ধারিত দণ্ডের দ্বিগুণ দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় বারের অপরাধ প্রথম দণ্ডাজ্ঞার দুই বত্সর পর সংঘটিত হইলে, প্রথম দণ্ডাজ্ঞার বিষয় বিবেচনায় আনা হইবে না ৷
(১) এই অধ্যায়ের অন্যত্র যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন বিধান লঙ্ঘন করিলে, তিনি-
(ক) যদি উক্ত লংঘনের কারণে প্রাণহানী হয় তাহা হইলে চার বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবে;
(খ) যদি উক্ত লংঘনের কারণে সাংঘাতিক শারীরিক জখম হয় তাহা হইলে, দুই বত্সর পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন; অথবা
(গ) যদি উক্ত লংঘনের কারণে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিক বা অন্য কোন ব্যক্তি অন্যভাবে জখমপ্রাপ্ত হন বা তাহার অন্য কোন বিপদ সৃষ্টি হয় তাহা হইলে, ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(২) কোন আদালত এই ধারার অধীন অর্থদণ্ডের আদেশ প্রদানকালে দণ্ডের আদায়কৃত অর্থের সম্পূর্র্র্ণ বা কোন অংশ ক্ষতিপূরণ হিসাবে জখম প্রাপ্ত ব্যক্তিকে অথবা, তাহার মৃত্যু হইলে, তাহার আইনগত প্রতিনিধকে প্রদানের জন্য আদেশ দিতে পারিবে৷
(৩) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের উক্তরূপ লংঘনের জন্য উচ্চতর কোন শাস্তির ব্যবস্থা থাকিলে ইহার ক্ষেত্রে এই ধারার কোন কিছুই প্রযোজ্য হইবে না ৷
(১) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন অপরাধের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের মালিকের দণ্ড হইলে, আদালত লিখিত আদেশ দ্বারা, দণ্ডের অতিরিক্ত হিসাবে, যে কারণে অপরাধ সংঘটিত হইয়াছে সে কারণ দূরীভূত করিবার জন্য, আদেশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে, যাহা কোন দরখাস্তের ভিত্তিতে বর্ধিত করা যাইবে, উহাতে উল্লিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবার জন্য তাহাকে নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর অধীনে কোন আদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানের মালিক আদেশের নির্দিষ্ট সময়ে বা বর্ধিত সময়ে উক্ত উপ-ধারায় উল্লিখিত কোন অপরাধ, যাহার জন্য তাহার দণ্ড হইয়াছে, অব্যাহতভাবে করিয়া যাইবার জন্য দণ্ডনীয় হইবেন না৷
(৩) যদি উক্ত সময়ের মধ্যে উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রদত্ত আদেশ পুরাপুরিভাবে পালন করা না হয় তাহা হইলে মালিক, উক্ত সময় শেষ হইবার পর, আরও অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং ইহার জন্য তিনি ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডে, অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন৷
(১) কোন ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট বয়সের কম বা বেশী বয়সী হওয়ার কারণে তাহার কোন কাজ যদি এই আইনের অধীনে দণ্ডযোগ্য অপরাধ হয় এবং যদি আদালতের মতে উক্ত ব্যক্তি দৃশ্যতঃ উক্তরূপ বয়সের উপরে বা নীচে হন তাহা হইলে তিনি উক্তরূপ বয়সের উপরে বা নীচের বয়সী নহেন ইহা প্রমাণের ভার অভিযুক্ত ব্যক্তির উপর বর্তাইবে৷
(২) কোন রেজিষ্টার্ড চিকিত্সক যদি এই মর্মে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন যে, তিনি কোন শ্রমিককে পরীক্ষা করিয়াছেন এবং তিনি বিশ্বাস করেন যে, ইহাতে উল্লিখিত বয়সই তাহার বয়স তাহা হইলে, এই আইনের উদ্দেশ্যে, উক্ত প্রত্যয়নপত্র উক্ত শ্রমিকের বয়স সম্পর্কে চূড়ান্ত প্রমাণ বলিয়া গণ্য হইবে৷
যে ক্ষেত্রে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন অপরাধী কোন কোম্পানী বা অন্য কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা কোন ফার্ম হয় সে ক্ষেত্রে, উহার কাজ কর্ম পরিচালনার ব্যাপারে সক্রিয়ভাবে জড়িত উহার প্রত্যেক পরিচালক, অংশীদার, ব্যবস্থাপক, সচিব বা অন্য কোন কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি উক্ত অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, অপরাধটি তাহার জ্ঞাতসারে বা সম্মতিক্রমে হয় নাই বা ইহা রোধের জন্য তিনি সাধ্যমত চেষ্টা করিয়াছিলেন ৷
(১) শ্রম আদালত ব্যতীত অন্য কোন আদালত এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিবে না৷
(২) নিম্নলিখিত ব্যক্তিগণের অভিযোগ ব্যতীত, কোন শ্রম আদালত এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না, যথাঃ-
(ক) সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা সংক্ষুব্ধ ট্রেড ইউনিয়ন;
(খ) ত্রয়োদশ অধ্যায় বা ধারা ২৯৮ 1[বা ৩০১] এর অধীন কোন অপরাধের ক্ষেত্রে, শ্রম পরিচালক;
(গ) সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীন কোন অপরাধের ক্ষেত্রে, ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অথবা ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক;
(ঘ) অষ্টাদশ অধ্যায়ের অধীন কোন অপরাধের ক্ষেত্রে, যোগ্য কর্তৃপক্ষ;
(ঙ) অন্য কোন অপরাধের ক্ষেত্রে, প্রধান পরিদর্শক, অথবা তাহাদের অধীন এতদ্উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা ৷
এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমে ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, ইহাদের অধীন কোন অপরাধ কোন শ্রম আদালত বিচারার্থ গ্রহণ করিবে না যদি না তত্সম্পর্কে অভিযোগ অপরাধ সংগঠিত হইবার ছয় মাসের মধ্যে পেশ করা হয় ৷
কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের লঙ্ঘন বা ইহা মানিয়া চলিতে অস্বীকৃতি সম্পর্কে শ্রম পরিচালক, প্রধান পরিদর্শক অথবা ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক, অথবা তাহাদের কোন অধস্তন কর্মকর্তার নিকট অবগতির জন্য বা যথাযথ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য রিপোর্ট করা যাইবে ৷
যে ব্যক্তির অভিযোগে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন মামলা শুরু হইয়াছে সে ব্যক্তির দরখাস্ত ব্যতীত উক্ত মামলা প্রত্যাহার করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রম পরিচালক বা প্রধান পরিদর্শক বা ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক এর অনুমতি ব্যতিরেকে তাহাদের অধস্তন কোন কর্মকর্তা কর্তৃক দায়েরকৃত কোন মামলা প্রত্যাহার করা যাইবে না ৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একজন শ্রম পরিচালক নিযুক্ত করিবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 1[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তা] নিযুক্ত করিতে পারিবে।
(২) যে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 2[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক বা শ্রম কর্মকর্তা] নিযুক্ত করা হয় সে ক্ষেত্রে সরকার উক্ত প্রজ্ঞাপনে এই আইনের অধীন তাহাদের প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্র বা এলাকা নির্ধারণ করিয়া দিবে।
(৩) সকল অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 3[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক এবং শ্রম কর্মকর্তার] উপর শ্রম পরিচালকের তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকিবে।
(৪) শ্রম পরিচালকের নিম্নরূপ ক্ষমতা ও দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
(ক) ত্রয়োদশ অধ্যায়ের অধীন ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণ এবং এতদ্উদ্দেশ্যে রেজিস্টার রক্ষণ;
(খ) কোন অপরাধের জন্য বা অসৎ শ্রম আচরণের জন্য 4[ বা এন্টি-ট্রেড ইউনিয়ন ডিসক্রিমিনেশনের জন্য] অথবা ত্রয়োদশ অধ্যায়ের কোন বিধান ভংগের জন্য শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশকরণ;
(গ) কোন প্রতিষ্ঠান/প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ সম্পর্কে কোন্ ট্রেড ইউনিয়ন যৌথ দর কষাকষি প্রতিনিধি হিসাবে প্রত্যায়িত হইবার অধিকারী তাহা নির্ধারণ;
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন এবং কোন গোপন নির্বাচন তত্ত্বাবধান;
(ঙ) কোন শিল্প বিরোধে সালিস হিসাবে কর্তব্য পালন;
(চ) অংশগ্রহণকারী কমিটির কাজ কর্ম তত্ত্বাবধান; এবং
(ছ) এই আইন বা বিধি দ্বারা অর্পিত অন্য কোন দায়িত্ব পালন৷
(৫) শ্রম পরিচালক লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, তাহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব কোন অতিরিক্ত শ্রম পরিচালক, যুগ্ম-শ্রম পরিচালক, 5[ উপ শ্রম পরিচালক, সহকারী শ্রম পরিচালক বা শ্রম কর্মকর্তার] উপর অর্পণ করিতে পারিবেন।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একজন প্রধান পরিদর্শক নিযুক্ত করিবে এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক উপ-প্রধান পরিদর্শক, 1[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক অথবা সহকারী পরিদর্শক] নিযুক্ত করিতে পারিবে৷
(২) যেক্ষেত্রে উপ-প্রধান পরিদর্শক, 2[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক অথবা সহকারী পরিদর্শক] নিযুক্ত করা হয় সেক্ষেত্রে, সরকার উক্ত প্রজ্ঞাপনে এই আইনের অধীন তাহাদের প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্র বা এলাকা বা এখতিয়ারাধীন প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করিয়া দিবে৷
(৩) প্রধান পরিদর্শকের এই আইনের অধীন তাহাকে প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়াও সমগ্র দেশে একজন পরিদর্শকের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৪) সকল উপ-প্রধান পরিদর্শক, 3[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক এবং সহকারী পরিদর্শকের] উপর প্রধান পরিদর্শকের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা থাকিবে৷
(৫) প্রধান পরিদর্শক, লিখিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, তাহার কোন ক্ষমতা বা দায়িত্ব কোন উপ-প্রধান পরিদর্শক, 4[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক বা সহকারী পরিদর্শকের] উপর অর্পণ করিতে পারিবেন৷
(৬) মার্কেন্টাইল মেরীন ডিপার্টমেন্টের সকল প্রিন্সিপাল অফিসার তাহাদের এখতিয়ারাধীন এলাকায় ষষ্ঠ অধ্যায়ের অধীন প্রণীত প্রবিধানের উদ্দেশ্যে পদাধিকারাধীন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শক হইবেন৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে, প্রধান পরিদর্শক বা কোন উপ-প্রধান পরিদর্শক, 1[সহকারী প্রধান পরিদর্শক, পরিদর্শক বা সহকারী পরিদর্শকের], তাহাদের এখতিয়ারাধীন এলাকায়, নিম্নরূপ ক্ষমতা বা দায়িত্ব থাকিবে, যথাঃ-
(ক) প্রয়োজনীয় সহকারী সহকারে, তাহার বিবেচনায় কোন প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য বা ব্যবহৃত কোন স্থান, আংগিনা, নৌযান বা যানবাহনে যে কোন যুক্তিসংগত সময়ে প্রবেশ, পরিদর্শন এবং পরীক্ষা কার্য পরিচালনা;
(খ) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম মোতাবেক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, নথিপত্র, নোটিশ, প্রত্যয়নপত্র বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ তলব করা, এবং ইহা আটক, পরিদর্শন বা পরীক্ষা করা বা ইহার নকল করা;
(গ) কোন প্রতিষ্ঠান বা উহাতে নিযুক্ত কোন শ্রমিক সম্পর্কে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন বিধান যথাযথভাবে মানা হইতেছে কিনা ইহা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান বা পরীক্ষণ;
(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গিয়াছে বা কোন প্রতিষ্ঠানে অব্যবহিত পূর্ববর্তী দুই মাসের মধ্যে চাকুরীতে নিযুক্ত ছিলেন বা আছেন বলিয়া বিশ্বাস এরূপ কোন লোকের এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম সম্পর্কিত কোন বিষয়ে জবানবন্দী গ্রহণ;
(ঙ) জবানবন্দী বা পরীক্ষা গ্রহণ করা হইয়াছে এরূপ প্রত্যেক ব্যক্তির নিকট হইতে সত্যতা প্রতিপাদনের জন্য জবানবন্দী বা পরীক্ষা সংক্রান্ত রেকর্ড বা কাগজপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ;
(চ) প্রয়োজন হইলে কোন মালিক কর্তৃক রক্ষিত কোন রেজিস্টার, রেকর্ড, প্রত্যয়নপত্র, নোটিশ বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ সম্বন্ধে তাহার বা তত্কর্তৃক নিযুক্ত কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কৈফিয়ত্ বা ব্যাখ্যা তলব করা; এবং
(ছ) এই আইন বা কোন বিধি দ্বারা আরোপিত অন্য কোন ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব সম্পাদন৷
(২) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় কোন প্রবেশ, পরিদর্শন, পরীক্ষণ, অনুসন্ধান বা অন্য কোন কাজ করার জন্য সকল পন্থা বা ব্যবস্থা পরিদর্শকের তলব অনুযায়ী কোন প্রতিষ্ঠানের মালিককে করিতে হইবে৷
(৩) প্রত্যেক মালিককে এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের উদ্দেশ্যে, সকল রেকর্ড, রেজিস্টার, এবং অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ পরীক্ষার জন্য পরিদর্শকের নিকট তাহার তলব অনুযায়ী হাজির করিতে হইবে, এবং উক্ত পরিদর্শকের চাহিদা অনুযায়ী তত্সম্পর্কে অন্য কোন তথ্যও সরবরাহ করিতে হইবে৷
(৪) এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের প্রয়োগ সংক্রান্ত কোন ব্যাপারে ইহার অধীন দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কোন পরিদর্শক কোন মালিকের নিকট হইতে কোন রেকর্ড, রেজিস্টার, বা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ তলব করিতে এবং ইহা আটক করিতে পারিবেন৷
(৫) প্রধান পরিদর্শক, অথবা তাহার নিকট হইতে এতদ্উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাহার অধস্তন কোন কর্মকর্তা, এই আইন বা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন, তাহার এখতিয়ারাধীন কোন বিষয়ে, কোন অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে অভিযোগ পেশ করিতে পারিবেন৷
2[(৬) প্রধান পরিদর্শক বা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত তাহার অধীনস্থ কোন কর্মকর্তা, কারখানা কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠান এর নকশা অনুমোদন, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, শ্রেণী পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের অনুমতি প্রদান ইত্যাদী সকল ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন ।]
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিলের জন্য একজন ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক নিযুক্ত করিবে৷
(২) উক্ত নিয়ন্ত্রক উক্ত তহবিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হইবেন৷
(৩) ট্রাস্টি বোর্ডের সাধারণ তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে উক্ত নিয়ন্ত্রক তাহার দায়িত্ব পালন করিবেন এবং তিনি উক্ত বোর্ডের সচিবের দায়িত্বও পালন করিবেন৷
(৪) উক্ত নিয়ন্ত্রক ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় অংশ গ্রহণ করিতে পারিবেন, কিন্তু ভোট দিতে পারিবেন না৷
(৫) উক্ত নিয়ন্ত্রক ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সহিত পরামর্শক্রমে বোর্ডের সভা আহ্বান করিবেন এবং সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ ও রক্ষণ করিবেন৷
(৬) উক্ত নিয়ন্ত্রক ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
(৭) উক্ত নিয়ন্ত্রক, প্রয়োজন মনে করিলে, কোন চা-বাগান মালিকের নিকট হইতে উক্ত ভবিষ্য তহবিল সম্পর্কে হিসাব তলব করিতে পারিবেন৷
(৮) উক্ত নিয়ন্ত্রক অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, যে কোন যুক্তি সংগত সময়ে নোটিশ প্রদান করিয়া, কোন চা-বাগানে অথবা তত্সংক্রান্ত কোন বাড়ী-ঘরে প্রবেশ করিতে পারিবেন এবং উহার দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তির নিকট হইতে চা-বাগানের শ্রমিকগণের নিয়োগ বা মজুরী পরিশোধ সম্পর্কে কোন হিসাবপত্র, রেজিস্টার, অথবা অন্য কোন দলিল-দস্তাবেজ তাহার পরীক্ষার জন্য তলব করিতে পারিবেন৷
(৯) উক্ত নিয়ন্ত্রক, বা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি, কোন মালিক বা তাহার কোন কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধকে অথবা চা-বাগান বা তত্ম্পর্কিত কোন বাড়ী-ঘরের দায়িত্বে নিয়োজিত কোন ব্যক্তি অথবা উক্ত চা-বাগানে শ্রমিক বা শ্রমিক ছিল বলিয়া তাহার মনে হয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে উপ-ধারা (৮) এ উল্লিখিত কোন বিষয়ে পরীক্ষা করিতে পারিবেন৷
(১০) উক্ত নিয়ন্ত্রক বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন ক্ষমতাও প্রয়োগ করিতে পারিবেন ৷
(১) সরকার কর্তৃক নির্দেশিত পন্থায় ও ফরমে কোন বোর্ড উহার হিসাব রক্ষণ করিবে৷
(২) কোন বোর্ডের আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রত্যেক বত্সর মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা হিসাব নিরীক্ষক বলিয়া উল্লিখিত, কর্তৃক তাহার নির্ধারিত পন্থায় নিরীক্ষিত হইবে৷
(৩) নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে, মহা হিসাব নিরীক্ষক অথবা তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বোর্ডের সকল রেকর্ড, বই, হিসাবপত্র, ক্যাশ, ভান্ডার, দলিল-দস্তাবেজ অথবা অন্য কোন সম্পত্তি পরিদর্শন করিতে পারিবেন এবং বোর্ডের কোন সদস্য বা কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জবানবন্দী গ্রহণ করিতে পারিবেন৷
(৪) বোর্ড উক্তরূপ নিরীক্ষাকালে উহার সকল হিসাবের বই এবং সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজ মহা-হিসাব নিরীক্ষান্তে বা নিরীক্ষারত কর্মকর্তার নিকট হাজির করিবে এবং তাহার তলব অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ বা ব্যাখ্যা প্রদান করিবে৷
(৫) মহা-হিসাব নিরীক্ষক তাহার নিরীক্ষা রিপোর্ট বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন এবং ইহার একটি কপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবেন৷
(৬) নিরীক্ষা রিপোর্টে উল্লিখিত কোন ত্রুটি বা অনিয়ম অবিলম্বে সংশোধন করিবার জন্য বোর্ড ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে৷
(৭) সরকার যে কোন সময়ে বোর্ডের আর্থিক অবস্থা সম্বন্ধে ইহার নিকট রিপোর্ট প্রদানের জন্য মহা-হিসাব নিরীক্ষককে বলিতে পারিবে৷
(৮) এই ধারায়, বোর্ড বলিতে, “ডক শ্রমিক ব্যবস্থাপনা বোর্ড” বা “চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড” কে বুঝাইবে ৷
(১) ধারা ৩২১ এ উল্লিখিত কোন বোর্ড, উহার প্রত্যেক অর্থ বত্সর শেষ হইবার পর যতশীঘ্র সম্ভব, মহা-হিসাব নিরীক্ষক কর্তৃক নিরীক্ষিত উহার আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং তত্সহ উক্ত বত্সরে উহার কর্মকান্ডের একটি বার্ষিক বিবরণী এবং উহার পরবর্তী বত্সরের প্রস্তাবিত কর্মসূচী সরকারের নিকট সরবরাহ করিবে৷
(২) সরকার বোর্ডের নিকট হইতে নিম্নলিখিত তথ্য বা দলিল-দস্তাবেজ তলব করিতে পারিবে এবং বোর্ড ইহা সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবে, যথাঃ-
(ক) কোন রিপোর্ট, বিবরণী, আনুমানিক হিসাব, পরিসংখ্যান অথবা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন কোন বিষয়ে অন্য কোন তথ্য;
(খ) উক্তরূপ কোন বিষয়ে কোন রিপোর্ট;
(গ) বোর্ডের হেফাজতে আছে এরূপ কোন দলিল-দস্তাবেজের কপি৷
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, জাতীয় শিল্প স্বাস্থ্য ও 2[সেইফটি] কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল গঠন করিতে পারিবে৷
(২) নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে উক্ত কাউন্সিল গঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী, পদাধিকারবলে, যিনি উহার চেয়ারম্যান হইবেন;
(খ) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(গ) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
3[(গ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;]
(ঘ) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(ঙ) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(চ) নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
(ছ) যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পদাধিকারবলে;
4[(ছছ) শিল্পাঞ্চল পুলিশের মহা পরিচালক, পদাধিকারবলে;]
(জ) শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিত্বকারী সাতজন সদস্য, যাহারা সরকার কর্তৃক মালিকগণের ব্যাপক প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান-সমূহের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেন;
(ঝ) শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্বকারী সাতজন সদস্য, যাহারা সরকার কর্তৃক, শ্রমিকগণের ব্যাপক প্রতিনিধিত্বকারী ট্রেড ইউনিয়ন-সমূহের সহিত আলোচনাক্রমে নিযুক্ত হইবেনঃ
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধদের মধ্যে অন্তত একজন করে মহিলা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত থাকিবেন৷
5[(ঝঝ) শিল্প, স্বাস্থ্য ও সেইফটি বিষয়ে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পাঁচজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি;]
(ঞ) প্রধান পরিদর্শক, পদাধিকারবলে, যিনি উহার সচিবও হইবেন৷
(৩) মনোনীত সদস্যগণ তিন বত্সর মেয়াদে তাহাদের পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেন৷
(৪) কাউন্সিল উহার নিজস্ব কার্যবিধি অনুসরণ করিবে৷
(৫) কাউন্সিল-
(ক) শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহে 6[সেইফটি] নিশ্চিত করার জন্য এবং উহাতে স্বাস্থ্য সম্মত বা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও অবস্থা বজায় রাখার জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করিবে;
(খ) উহার নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য দিক নির্দেশনা প্রস্তুত করিবে৷
(৬) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিক নির্দেশনা অনুসরণে তত্কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে ৷
(১) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, উহাতে উল্লিখিত শর্ত বা বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে, কোন মালিক বা মালিক শ্রেণীকে অথবা কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান শ্রেণীকে বা ইহার কোন অংশ বিশেষকে অথবা কোন শ্রমিক বা শ্রমিক শ্রেণীকে এই আইনের দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম অথবা অষ্টাদশ অধ্যায় অথবা উহার কোন ধারা অথবা একবিংশ অধ্যায়ের ধারা ৩২৫, ৩২৬, ৩৩৭ বা ৩৩৮ এর সকল বা যে কোন বিধানের প্রয়োগ বা মানিয়া চলা হইতে অব্যাহতি দিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন অব্যাহতি আদেশ জন বা জাতীয় স্বার্থে করা হইবে এবং উক্ত আদেশ এক সংগে ছয় মাসের অধিক মেয়াদের জন্য বলবত্ থাকিবে না।
(৩) প্রধান পরিদর্শক, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠান শ্রেণী সম্পর্কে এই আইনের ধারা ১০০, ১০১, ১০২, ১০৩, ১০৫ বা ১১৪ এর সকল বা যে কোন বিধানের প্রয়োগ কোন উত্সব, মেলা বা প্রদর্শনী উপলক্ষে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখিতে পারিবেন, এবং ইহা প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত মেয়াদের জন্য এবং শর্ত সাপেক্ষে বলবত্ থাকিবে।
(১) কোন মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে কাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করিবার অন্যুন পনর দিন পূর্বে প্রধান পরিদর্শকের নিকট তত্সম্পর্কে একটি নোটিশ প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত নোটিশে নিম্নলিখিত তথ্য বা বিষয় সন্নিবেশিত থাকিবে, যথাঃ-
(ক) প্রতিষ্ঠানের নাম ও অবস্থান;
(খ) মালিকের নাম ও ঠিকানা;
(গ) প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে চিঠিপত্র প্রেরণের ঠিকানা;
(ঘ) প্রতিষ্ঠানে পরিচালিতব্য কাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রকৃতি;
(ঙ) ব্যবহৃত শক্তির প্রকৃতি ও পরিমাণ;
(চ) প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপকের নাম;
(ছ) প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য শ্রমিকের সংখ্যা;
(জ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোন তথ্য।
(২) যে প্রতিষ্ঠান সাধারণতঃ বত্সরে একশত আশি কর্মদিবসের কম মেয়াদে উহার উত্পাদন প্রক্রিয়া চালু রাখে সে প্রতিষ্ঠানে পুনরায় উত্পাদন প্রক্রিয়া শুরু করিবার অন্যুন ত্রিশ দিন পূর্বে তত্সম্পর্কে উহার মালিক উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত তথ্য বা বিষয় সন্নিবেশ করিয়া একটি লিখিত নোটিশ প্রধান পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) কোন ক্ষেত্রে নূতন ব্যবস্থাপক নিযুক্ত হইলে, তাহার কাজে যোগদানের তারিখ হইতে সাত দিনের মধ্যে মালিক উক্ত পরিবর্তন সম্বন্ধে প্রধান পরিদর্শকের নিকট একটি লিখিত নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
(৪) কোন সময় কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ব্যবস্থাপক নিযুক্ত না থাকিলে বা নিযুক্ত ব্যবস্থাপক কোন কাজ না করিলে ব্যবস্থাপক হিসাবে কর্মরত যে কোন ব্যক্তি অথবা এরূপ কোন ব্যক্তি পাওয়া না গেলে মালিক, এই আইনের উদ্দেশ্যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বলিয়া গণ্য হইবেন।
(১) সরকার-
(ক) কোন কারখানা বা কোন শ্রেণীর কারখানা নির্মাণ, প্রতিষ্ঠা বা সম্প্রসারণের জন্য বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রধান পরিদর্শকের নিকট হইতে লিখিত পূর্ব অনুমতি গ্রহণের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে1[:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত কারখানা ভবনের নক্সার (Structural Design) সহিত কারখানার মেশিন স্থাপনের নক্সার (Factory Layout Plan) কাঠামোগত কোন ব্যত্যয় বা পরিবর্তন ঘটানো যাইবে না;]
(খ) কোন কারখানা বা কোন শ্রেণীর কারখানাকে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে এবং ফিস প্রদানে উহা রেজিস্ট্রিকরণ বা উহার জন্য লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়নের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
(২) যদি উপ-ধারা (১) মোতাকে অনুমতির জন্য নক্শাসহ কোন দরখাস্ত প্রধান পরিদর্শরে নিকট প্রেরণ করার পর তত্কর্তৃক উহা প্রাপ্তির 2[তিন মাসের মধ্যে প্রধান পরিদর্শকের কোন আদেশ অথবা নির্দেশনা দরখাস্তকারীকে প্রদান না করিলে সংক্ষুব্ধ প্রতিষ্ঠান মালিক পরবর্তী ত্রিশ দিনের মধ্যে প্রতিকার চাহিয়া সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে]৷
(৩) যে ক্ষেত্রে প্রধান পরিদর্শক কোন কারখানা নির্মাণ বা সম্প্রসাররে জন্য অথবা উহা রেজিস্ট্রিকরণ বা উহার জন্য লাইসেন্স প্রদারে অনুমতি প্রদান করিতে অস্বীকার কনে সে ক্ষেত্রে দরখাস্তকারী, উক্ত অস্বীকৃতির ষাট দিনের মধ্যে ইহার বিরুদ্ধে সরকারের নিকট আপীল করিতে পারিবেন৷
ব্যাখ্যাঃ কোন কারখানায় কেবল মাত্র কোন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জা পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন অথবা, বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে, কোন নূতন যন্ত্রপাতি বা কলকব্জা সংযোজন এই ধারার অধীন কারখানা সম্প্রসারণ বলিয়া গণ্য হইবে না ৷
(১) যে ক্ষেত্রে এই আইনের অধীন কোন পরিদর্শরে কোন লিখিত আদেশ কোন মালিকের উপর জারী করা হয় সে ক্ষেত্রে, উক্ত মালিক আশে প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের ম্যে ইহার বিরুদ্ধে আপীল কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করিতে পারিবেন, এবং উক্ত আপীল কর্তৃপক্ষ, এতদউশ্যে প্রণীত বিধি সাপেক্ষে, উক্ত আদেশ বহাল রাখিতে, অথবা পরিবর্তন বা বাতিল করিতে পারিবে৷
(২) এতদ্উশ্যে প্রণীত বিধি এবং আপীল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আরোপিত শর্ত বা নির্দেশিত কর্মসম্পাদন সাক্ষে, উক্ত আপীল কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত বিবেচনা করিলে, আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, যে আদেশের বিরুদ্ধে আপীলকরা হইয়াছে উহা স্থগিত রাখিতে পারিবে৷
(৩) সরকার এই ধারার উদ্দেশ্যে বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(৪) এই ধারায়, আপীল কর্তৃপক্ষ বলিতে সরকারকে বা তত্কর্তৃক এতদ্উশ্যে নিযুক্ত অন্য কোন কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে ৷
সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোন বত্সরে সাধারণতঃ একশত আশি কর্মদিবরে অধিক কোন উত্পাদন প্রক্রিয়া চালু থা েনা এবং কেবল মাত্র কোন বিশেষ মৌসুম ছাড়া অন্য কোন সময় অথবা প্রাকৃতিক শক্তির অনিয়মিত ক্রিয়ার উপর নির্ভর করা ছাড়া চালু রাখা যায় না এরূপ কোন কারখানাকে, এই আইনের উদ্দেশ্যে, মৌসুমী কারখানা বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবে ৷
(১) এই আইন সাক্ষে, শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক এই আইরে কোন ধারার অধীন প্রদারে জন্য নির্দেশিত কোন অর্থ অথবা এই আইরে কোন বিধানের অধীন কোন ব্যক্তি কর্তৃক প্রদেয় কোন অর্থ অথবা কোন নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধীন বা কোন মধ্যস্থতাকারী বা শ্রম আদালরে বা ট্রাইব্যুনালের রোয়েদাদ বা সিদ্ধাতের অধীন কোন ব্যক্তি বা মালিক কর্তৃক প্রদেয় কোন অর্থ উহা পাওয়ার অধিকারী কোন ব্যক্তির দরখাতের ভিত্তিতে এবং তাহার ইচ্ছানুযায়ী শ্রম আদালত কর্তৃক বা উহার নির্দেশে নিম্নরূপ যে কোন ভাবে আদায় করা যাইবে যথাঃ-
(ক) সরকারী দাবী হিসাবে;
(খ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায়, যে ব্যক্তি উক্ত অর্থ পরিশোধ করিতে বাধ্য তাহার অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং বিক্রয় করিয়া;
(গ) উক্ত প্রকারে সম্পূর্র্র্ণ অর্থ আদায় করা না গেলে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায়, উক্ত ব্যক্তির স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করিয়া এবং বিক্রয় করিয়া; অথবা
(ঘ) কোন দেওয়ানী আদালরে অর্থ সংক্রান্ত ডিক্রী হিসাবে৷
(২) যে ক্ষেত্রে কোন নিষ্পত্তি বা চুক্তির অধীন অথবা কোন মধ্যস্থতাকারী বা শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনারে কোন সিদ্ধান্তবা রোয়েদারে অধীন কোন শ্রমিক কোন মালিকের নিকট হইতে এমন কোন সুবিধা পাইতে অধিকারী যাহা টাকায় হিসাব করা যায় সে ক্ষেত্রে, বিধি সাপেক্ষে, উক্ত সুবিধা টাকায় হিসাব করিয়া উপ-ধারা (১) এর বিধান অনুযায়ী আদায় করা যাইবে।
(৩) এই ধারার অধীন অর্থ আদারে জন্য কোন দরখাস্ত গ্রহণ করা হইবে না যদি না উহা অর্থ প্রয়ে হইবার তারিখ হইতে এক বত্সরের মধ্যে পেশ করা হয়ঃ তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সময়ের পরেও কোন দরখাস্ত গ্রহণ করা যাইবে যদি শ্রম আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, দরখাস্তকারীর উক্ত সময়ের মধ্যে দরখাস্ত পেশ করিতে না পারার পর্যাপ্ত কারণ ছিলঃ আরোও শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের পাওনা উসুলের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাইবে ৷
এই আইনের অধীন মালিক কর্তৃক সরবরাহ বা ব্যবস্থা করিতে হইবে এরূপ কোন সুযোগ-সুবিধা বা সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি সরবরাহের জন্য বা ব্যবস্থা করার জন্য তিনি কোন শ্রমিকের নিকট হইতে, কেন্টিনে সরবরাহকৃত খাদ্যের মূল্য ব্যতীত, কোন ফিস বা অর্থ আদায় করিতে পারিবেন না ৷
কোন প্রতিষ্ঠানে কোন শ্রমিক-
(ক) উহাতে শ্রমিকগণের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত কোন ব্যবস্থার বা স্থাপিত কোন যন্ত্রপাতির ইচ্ছাকৃতভাবে অপব্যবহার বা উহার ব্যবহারে হস্তক্ষেপ করিবেন না;
(খ) ইচ্ছাকৃতভাবে বা যুক্তি সংগত কারণ ব্যতিরেকে এমন কোন কিছু করিবেন না যাহাতে তাহার বা অন্য কোন ব্যক্তির বিপদ হইতে পারে;
(গ) উহাতে শ্রমিকগণের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থাপিত কোন যন্ত্রপাতি বা ব্যবস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহারে গাফিলতি করিবেন না ৷
কোন প্রতিষ্ঠানের কোন কাজে কোন মহিলা নিযুক্ত থাকিলে, তিনি যে পদমর্যাদারই হোন না কেন, তার প্রতি উক্ত প্রতিষ্ঠানের অন্য কেহ এমন কোন আচরণ করিতে পারিবেন না যাহা অশ্লীল কিংবা অভদ্রজনোচিত বলিয়া গণ্য হইতে পারে, কিংবা যাহা উক্ত মহিলার শালীনতা ও সম্ভ্রমের পরিপন্থী ৷
সরকার বিধি প্রণয়ন করিয়া-
(ক) এই আইনের অধীন কোন আদেশ জারীর পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে; এবং
(খ) কোন মালিককে, এই আইনের উদ্দেশ্যে নিয়মিত বা সময়ে সময়ে, উহাতে উল্লিখিত বিবরণী দাখিলের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷
এই আইনের অধীন কোন বোর্ডের, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য বা কর্মকর্তা, শ্রম পরিচালক, প্রধান পরিদর্শক, ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক, শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য এবং বিংশ অধ্যায়ের অধীন নিযুক্ত কোন ব্যক্তি ফৌজদারী দণ্ডবিধির ধারা ২১ এর অর্থে জনসেবক বলিয়া গণ্য হইবেন ৷
এই আইন, বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত বা সম্পাদনের জন্য অভিষ্ট কোন কাজের জন্য কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা রুজু বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না ৷
এই আইন অথবা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের কোন কিছুই এই আইন প্রবর্তন হওয়ার সময় উহার দ্বারা রহিত কোন আইনের অধীন, অথবা কোন রোয়েদাদ, চুক্তি, নিষ্পত্তি বা প্রচলিত প্রথার অধীন কোন শ্রমিকের ভোগকৃত অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা, তিনি যতদিন, উক্ত প্রবর্তনের তারিখে যে মালিকের অধীন কর্মরত ছিলেন, সে মালিকের অধীন চাকুরীরত থাকিবেন ততদিন পর্যন্ত ব্যাহত বা ক্ষতিগ্রস্ত করিবে না, যদি তাহার উক্ত অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা এই আইন, বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন প্রদত্ত অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা হইতে অধিকতর অনুকূল হয় ৷
(১) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার বিভিন্ন বাড়ী বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে, আঙ্গিনার মালিক রাস্তা, নর্দমা, পানি সরবরাহ, আলো ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মত সাধারণ সেবা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা বা রক্ষণের জন্য দায়ী থাকিবেন৷
(২) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার স্বতন্ত্র এবং স্বয়ংসম্পূর্র্র্ণ ফ্ল্যাট বা বাড়ী বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে, আঙ্গিনার মালিক নিম্নলিখিত বিষয়ে এই আইন বা বিধির বিধান ভঙ্গ বা লঙ্ঘনের জন্য এমনভাবে দায়ী হইবেন যেন তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের মালিক, যথাঃ-
(ক) 1[শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ] এবং ধৌতকরণ সুবিধাসমূহে পানির অভিন্ন সরবরাহের ব্যবস্থা করা;
(খ) আঙ্গিনার মালিকের এমন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতি বেড়া দেওয়া যাহা কোন ভাড়াটের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে তাহার নিকট হস্তান্তর করা হয় নাই;
(গ) উপরের তলা এবং ফ্লাটগুলির জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা, এবং সিঁড়ি ও অভিন্ন পথের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা;
(ঘ) অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে সাবধানতামূলক ব্যবস্থা;
(ঙ) হয়েষ্ট এবং উত্তোলন যন্ত্রের ব্যবস্থা ও রক্ষণ; এবং
(চ) আঙ্গিনার অন্য কোন অভিন্ন সুবিধা রক্ষণ৷
(৩) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার অভিন্ন 2[শৌচাগার, প্রক্ষালনকক্ষ] ও ধৌতকরণ সুবিধাযুক্ত স্বতন্ত্র কক্ষ বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়, সে ক্ষেত্রেও উপ- ধারা (২) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে৷
(৪) যে ক্ষেত্রে কোন আঙ্গিনার কোন কক্ষ বা শেডের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন মালিকের স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে ব্যবহারের জন্য ভাড়া দেওয়া হয় সে ক্ষেত্রে, আঙ্গিনার মালিক পঞ্চম অধ্যায়ের, ধারা ৫৩ এবং ৫৫ ব্যতীত এবং ষষ্ঠ অধ্যায়ের, ধারা ৪০, ৬৪, ৭৪, ৭৫ এবং ৭৭ ব্যতীত এবং ধারা ৯১ এর কোন বিধান ভঙ্গ বা লংঘনের জন্য দায়ী থাকিবেনঃ তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ৬৩, ৬৫ এবং ৭২ এর বিধান সম্পর্কে কেবলমাত্র তাহার নিয়ন্ত্রণাধীন কোন বিষয়ের সহিত সংশ্লিষ্ট বিধানের ক্ষেত্রে তাহার দায়িত্ব থাকিবেঃ আরও শর্ত থাকে যে, আঙ্গিনার মালিক কর্তৃক সরবরাহকৃত অথবা তাহার মালিকানাধীন কোন যন্ত্রপাতি ও কল-কব্জা সম্পর্কে ষষ্ঠ অধ্যায়ের বিধানগুলি মানিয়া চলার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন৷
(৫) প্রধান পরিদর্শকের, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে, এই ধারার বিধান পালন সম্পর্কে আঙ্গিনার মালিককে প্রয়োজনীয় কোন আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা থাকিবে৷
(৬) উপ-ধারা (৩) এবং (৪) সম্পর্কে, এই আইনের উদ্দেশ্যে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা গণনার ক্ষেত্রে সমস্ত আঙ্গিনাকে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান হিসাবে গণ্য করা হইবে ৷
এই আইন অথবা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন দায়িত্ব পালনরত কোন বোর্ড, অথবা কোন কর্মকর্তা বা কর্তৃপক্ষ উহার দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজন হইলে কোন মালিককে তত্কর্তৃক নির্ধারিত কোন রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ বা তথ্য সরবরাহের জন্য অথবা অন্য কোন কাজ সম্পাদনের জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে এবং উক্ত মালিককে উক্তরূপ নির্দেশ পালন করিতে হইবে ৷
কোন ব্যক্তিকে কোন কারখানায় উহার কাজ চলাকালে, আহার বা বিশ্রামের জন্য বিরতির সময় ব্যতীত অন্য কোন সময়ে অথবা উহার কোন যন্ত্রপাতি চালু থাকা কালে পাওয়া যায় তাহা হইলে, ভিন্নরূপ প্রমাণীত না হওয়া পর্যন্ত, তিনি উক্ত সময়ে কারখানায় নিযুক্ত ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন ৷
(১) এই আইন অথবা কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমের অধীন কোন দায়িত্ব পালনকালে কোন উত্পাদন বা ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কিত গোপনীয় তথ্য সম্পর্কে কোন ব্যক্তির লব্ধ জ্ঞান বা প্রাপ্ত তথ্য, এই আইন প্রয়োগ সম্পর্কে ব্যতীত অন্য কোন ক্ষেত্রে, তাহার চাকুরীকালীন সময়ে অথবা চাকুরী ত্যাগের পরও প্রকাশ করিতে পারিবেন না৷
(২) উক্ত গোপনীয় তথ্যের মালিকের লিখিত পূর্ব অনুমতিক্রমে, অথবা এই আইনের অধীন মধ্যস্থতাসহ অন্য কোন আইনগত কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে অথবা তত্সংক্রান্ত কোন ফৌজদারী কার্যক্রমের প্রয়োজনে অথবা উক্তরূপ কার্যক্রম সম্পর্কে কোন রিপোর্ট প্রদানের জন্য উক্তরূপ গোপনীয় তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে উপ-ধারা (১) এর কিছুই প্রযোজ্য হইবে না ৷
এই আইনের অধীন কোন রিপোর্ট, সিদ্ধান্ত, রোয়েদাদ অথবা রায়ে কোন কর্মকর্তা, কর্তৃপক্ষ, সালিস, মধ্যস্থতাকারী, শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোন ট্রেড ইউনিয়ন সম্পর্কে অথবা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে তদন্ত বা অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত এমন কোন তথ্য লিপিবদ্ধ করা যাইবে না যাহা তাহাদের সম্মুখে পেশকৃত সাক্ষ্য ব্যতীত পাওয়া যায় না, যদি সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন বা প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে উক্ত তথ্য গোপনীয় বলিয়া বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করে অথবা উক্তরূপ কোন কার্যধারায় উক্তরূপ কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের অথবা প্রতিষ্ঠানের লিখিত সম্মতি ব্যতিরেকে প্রকাশ করা যাইবে নাঃ
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোন কিছুই ফৌজদারী দণ্ডবিধির ধারা ১৯৩ এর অধীন কোন ফৌজদারী কার্যধারার উদ্দেশ্যে উক্তরূপ তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না ৷
এই আইনের অধীন গঠিত কোন বোর্ডের, ইহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, কোন পদ শূন্য রহিয়াছে অথবা উহার গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে অথবা উহার কোন সদস্যের নিযুক্তি বা যোগ্যতা সম্পর্কে কোন ত্রুটি রহিয়াছে-কেবল মাত্র এই কারণে উহার কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না, বা তত্সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করা যাইবে না ৷
(১) এই আইনের ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, এই আইনের অধীন স্থাপিত বা গঠিত কোন বোর্ডের, উহা যে নামেই অভিহিত হউক না কেন, চেয়ারম্যান অথবা অন্যান্য সদস্যগণের কার্যকাল, তাহাদের শূন্যপদ পূরণ, উহার এবং উহার কমিটিসমূহের কার্যধারা ও কাজ-কর্ম পরিচালনা এবং সভায় উপস্থিতির জন্য তাহাদিগকে প্রদেয় ভাতা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷
(২) এই আইনের ভিন্নরূপ কিছু না থাকিলে, উক্তরূপ কোন বোর্ড উহার কার্যসম্পাদনের উদ্দেশ্যে-
(ক) কোন মালিককে, তত্কর্তৃক উল্লিখিত কোন রেকর্ড, দলিল-দস্তাবেজ বা তথ্য সরবরাহ অথবা অন্য কোন কাজ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে;
(খ) যে কোন যুক্তিসংগত সময়ে কোন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করিতে পারিবে;
(গ) উক্ত প্রতিষ্ঠান সম্বন্ধে কোন বই, রেজিস্টার এবং অন্যান্য দলিল-দস্তাবেজ পরিদর্শন করিতে পারিবে;
(ঘ) উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত কোন ব্যক্তির বক্তব্য লিপিবদ্ধ করিতে পারিবে;
(ঙ) কোন দেওয়ানী আদালতের মত-
(১) কোন ব্যক্তিকে হাজির হইতে এবং শপথাধীন জবানবন্দী দিতে বাধ্য করিতে পারিবে;
(২) কোন দলিল-দস্তাবেজ এবং কোন বস্তু পেশ করিতে বাধ্য করিতে পারিবে; এবং
(৩) সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য কমিশন প্রেরণ করিতে পারিবে৷
(৩) বোর্ডের উক্তরূপ ক্ষমতা উহার চেয়ারম্যান অথবা এতদ্উদ্দেশ্যে ক্ষমতা প্রাপ্ত উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা ও প্রয়োগ করিতে পারিবেন ৷
কোন শ্রমিকের জন্য কোন মজুরী নির্ধারণ বা নিম্নতম মজুরীর হার স্থিরীকরণের ক্ষেত্রে, একই প্রকৃতির বা একই মান বা মূল্যের কাজের জন্য 1[মহিলা, পুরুষ এবং প্রতিবন্ধী] শ্রমিকগণের জন্য সমান মজুরীর নীতি অনুসরণ করিতে হইবে; এবং এতদসংক্রান্ত কোন বিষয়ে 2[নারী-পুরুষ-প্রতিবন্ধী] ভেদের কারণে কোন বৈষম্য করা যাইবে না ৷
এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, সরকার বিধি দ্বারা, এই আইনের অধীন কোন দরখাস্ত, কার্যধারা বা আপীলের জন্য কোন কোর্ট ফিস অথবা অন্য কোন ফিস নির্ধারণ করিতে পারিবে ৷
এই আইনের অধীন কোন ব্যক্তিকে এমন কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে অথবা বক্তব্য প্রদান করিতে বাধ্য করা যাইবে না যাহা তাহাকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন অপরাধের সহিত জড়িত করিতে পারে৷
(১) সরকার, শ্রমিকগণের ও মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণকে এই আইনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে৷
(২) উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহুত হইলে, শ্রমিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের কোন কর্মকর্তা উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করিবেন৷
(৩) সাধারণতঃ অন্যুন পঞ্চাশ জন শ্রমিক নিয়োগকারী কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা তত্কর্তৃক নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আহুত হইলে উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণ করিবেন৷
(৪) উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যয় সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অনুপাতে সরকার এবং মালিক বহন করিবেন৷
(৫) উক্তরূপ প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ গ্রহণের জন্য ব্যয়িত সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনে ব্যয়িত সময় বলিয়া গণ্য হইবে৷
(৬) এই ধারায় “উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ” বলিতে সরকার, অথবা এই ধারার অধীন প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য সরকার কর্তৃক স্থাপিত বা সরকারের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে৷
(৭) এই ধারায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, শ্রম পরিচালকের অনুমোদনক্রমে, অনধিক সাত দিনের মেয়াদে ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকর্তাগণের জন্য এই আইনের উপর প্রশিক্ষণ কোর্সের ব্যবস্থা করিতে পারিবে, এবং মালিকের অনুমতিক্রমে উক্তরূপ কোর্সে অংশগ্রহণকারী কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে উপ-ধারা (৫) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে ৷
1[(১) আইন, নীতি বা শ্রম সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ প্রদানের জন্য সরকার ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ’ নামে একটি পরিষদ গঠন করিতে পারিবে।
(২) পরিষদের গঠন এবং উহার কার্যপরিধি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।]
কোন ট্রেড ইউনিয়ন উহার গঠনতন্ত্রে লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হিসাবে বর্ণিত হয় নাই এরূপ কোন কর্মকান্ডে জড়িত থাকিতে পারিবে না ৷
এই আইনের অধীন শ্রম আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গ্রহণযোগ্য বা বিচারযোগ্য কোন মোকদ্দমা, অভিযোগ অথবা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা অন্য কোন আদালত গ্রহণ করিতে বা বিচার করিতে পারিবে না ৷
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অথবা এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে বা করা যাইবে- এরূপ প্রত্যেক বা যে কোন বিষয় সম্পর্কে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, 1[সমন্বিতভাবে একক অথবা পৃথক পৃথক] বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷
(২) বিশেষ করিয়া, এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নলিখিত অধ্যায়সমূহের অধীন নিম্নবর্ণিত সকল বা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) পঞ্চম অধ্যায়ের অধীন-
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য পর্যাপ্ত আলো-বাতাস সঞ্চালন, যুক্তিসংগত তাপমাত্রার মান নির্ধারণ, এবং উহাতে তাপমাপক যন্ত্র রক্ষণ;
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে উহার বর্জ্য পদার্থ এবং জঞ্জাল অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ এবং নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উহার অনুমোদন;
(৩) কৃত্রিমভাবে আর্দ্রতা বৃদ্ধি করিতে হয়-এ রকম কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে-
(ক) আর্দ্রতার মান নির্ধারণ,
(খ) কৃত্রিমভাবে বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধির পন্থা নিয়ন্ত্রণ,
(গ) বাতাসের আর্দ্রতা নির্ধারণ ও লিপিবদ্ধকরণের জন্য পরীক্ষা, এবং
(ঘ) পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং বাতাসকে ঠান্ডা রাখা নিশ্চিত করার জন্য পন্থা নির্ধারণ;
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত এবং পর্যাপ্ত আলোর মান নির্ধারণ;
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে পান করার পানি সম্পর্কে বিধান মানিয়া চলা নিশ্চিতকরণ;
2[(৬) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য শৌচাগার ও প্রক্ষালনকক্ষের সংখ্যা নির্ধারণ;]
(৭) কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য পিকদানীর ধরন ও সংখ্যা নির্ধারণ এবং উহার স্থাপন এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থাকরণ; এবং
(৮) কোন প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য রক্ষা সম্বন্ধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নির্ধারণ৷
(খ) ষষ্ঠ অধ্যায়ের অধীন-
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন বিশেষ যন্ত্রপাতি বা উহার অংশ সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থার বিধান,
(২) কোন যন্ত্রপাতির বিপজ্জনক অংশের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ;
(৩) কোন উত্তোলক যন্ত্র সম্পর্কে অনুসরণীয় অতিরিক্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি নির্ধারণ;
(৪) কোন কলকব্জা বা যন্ত্রপাতির পরীক্ষা এবং তত্সম্পর্কে অতিরিক্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নির্ধারণ; এবং
(৫) কোন প্রতিষ্ঠানে মহিলা, পুরুষ এবং কিশোর কর্তৃক সর্বোচ্চ ভারবহণ, উত্তোলন বা স্থানান্তরের ক্ষমতা নির্ধারণ3[:
(৬) কোন প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাবক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সর্ম্পকে অতিরিক্ত সর্তকতামূলক ব্যবস্থাদি নির্ধারণ।]
(গ) দশম অধ্যায়ের অধীন-
(১) উক্ত অধ্যায়ের বাস্তবায়নের প্রয়োজনে রক্ষীতব্য রেকর্ড, রেজিস্টার, বিবরণী ও নোটিশ রক্ষণ এবং এগুলির ফরম নির্ধারণ;
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকগণকে প্রদেয় মজুরীর হার বর্ণনা করিয়া উহার কোন প্রকাশ্য স্থানে নোটিশ লটকানো; এবং
(৩) শ্রমিকগণকে মজুরী প্রদানের প্রয়োজনে মালিক কর্তৃক রক্ষিত বাটখারা ও ওজন মাপার যন্ত্রপাতি এবং ওজন মাপার ব্যবস্থাদি নিয়মিত পরিদর্শনের বিধান৷
(ঘ) একাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) মজুরীর হার নির্ধারণের জন্য বোর্ড কর্তৃক অনুসরণীয় পদ্ধতি;
(২) নিম্নতম মজুরী হারের দ্বারা প্রভাবিত হইতে পারেন এরূপ সকল ব্যক্তিকে তত্সম্পর্কে মন্তব্য এবং প্রস্তাব পেশ করার সুযোগ দান; এবং
(৩) প্রয়োজনীয় সকল বই, মজুরী স্লপি, রেজিস্টার এবং অন্যান্য রেকর্ডপত্র রক্ষণ এবং উহার ফরম ও লিখিতব্য বিষয়াদি নির্ধারণ এবং উহা প্রমাণীকরণ পদ্ধতি৷
(ঙ) দ্বাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) শ্রম আদালতের হাতে রক্ষিত অর্থ মৃত শ্রমিকের পোষ্যগণের সুবিধার জন্য বিনিয়োগের পন্থা এবং উক্তরূপ বিনিয়োগকৃত অর্থ এক শ্রম আদালত হইতে অন্য শ্রম আদালতে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নির্ধারণ;
(২) অব্যয়িত অর্থ ধারা ১৫৫ (৫) এর অধীন শ্রমিকগণের উপকারের জন্য গঠিত তহবিলে হস্তান্তরের পন্থা এবং এই তহবিলের গঠন ও প্রশাসনের ব্যবস্থা;
(৩) চুক্তিনামা পেশ করার এবং উহা রেজিস্ট্রিকরণের জন্য ফরম ও পন্থা নির্ধারণ;
(৪) পুনর্বিবেচনা সাপেক্ষে শ্রম আদালত কর্তৃক মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, সম্পূর্র্র্ণ বা আংশিক স্থগিতকরণ; এবং
(৫) শ্রম আদালত কর্তৃক রেজিস্টার এবং কার্যধারা রক্ষণ৷
(চ) সপ্তদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) ভবিষ্য তহবিলে মালিক কর্তৃক তাহার এবং শ্রমিকের চাঁদা প্রদানের সময় ও পদ্ধতি এবং উক্ত চাঁদা আদায়ের পন্থা নির্ধারণ;
(২) ভবিষ্য তহবিল পরিচালনার জন্য ট্রাস্টি বোর্ডের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(৩) ভবিষ্য তহবিল হইতে অর্থ উঠাইবার শর্তাদি এবং তত্সম্পর্কে অনুমোদনীয় কর্তন ও বাজেয়াপ্তী এবং ইহার সর্বোচ্চ পরিমাণ;
(৪) তলব করা হইলে কোন শ্রমিকের তাহার নিজের ও পরিবার সম্পর্কে তথ্য সরবরাহের ফরম;
(৫) কোন শ্রমিকের মৃত্যু হইলে তাহার নামে জমা অর্থ প্রদানের জন্য কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন এবং উক্তরূপ মনোনয়ন বাতিল বা সংশোধন;
(৬) ভবিষ্য তহবিলের সদস্যগণ সম্পর্কে রেকর্ড ও রেজিস্টার রক্ষণ এবং সদস্যগণ কর্তৃক সরবরাহ করিতে হইবে এরূপ বিবরণী;
(৭) কোন চাঁদা কার্ড, নিদর্শন বা চাকতির ফরম বা নমুনা এবং উহার বিতরণ, হেফাজত ও প্রতিস্থাপন; এবং
(৮) ভবিষ্য তহবিল হইতে কোন সদস্য কর্তৃক জীবন বীমার জন্য প্রিমিয়াম প্রদানের অনুমতির শর্তাদি৷
(ছ) অষ্টাদশ অধ্যায়ের অধীন-
(১) শিক্ষাধীন ব্যক্তির নির্বাচন এবং শিক্ষাধীনতা চুক্তির শর্তাদি;
(২) শিক্ষাধীনগণের শৃঙ্খলা, কল্যাণ, তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত পদ্ধতি;
(৩) শিক্ষাধীনগণের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে মালিক কর্তৃক রক্ষণীয় রেকর্ডের ফরম;
(৪) পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা এবং সাফল্যজনকভাবে প্রশিক্ষণ সমাপনের পর প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র; এবং
(৫) ব্যবহারিক এবং তাত্ত্বিক পরীক্ষার মান নির্ধারণ৷
কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীমে উহার কোন বিধান ভংগ বা লংঘনের জন্য অনধিক তিনমাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা অনধিক এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা যাইবে ৷
(১) নিম্নলিখিত আইনসমূহ এতদ্বারা রহিত করা হইল, যথা-
(ক) The Workmen's Compensation Act, 1923 (Act No. VIII of 1923);
(খ) The Children (Pledging of Labour)Act, 1933 (Act No. II of 1933);
(গ) The Workmen's Protection Act, 1934 (Act No. IV of 1935);
(ঘ) The Dock Labourers Act, 1934 (Act No. XIX of 1934);
(ঙ) The Payment of Wages Act, 1936 (Act No. IV of 1936);
(চ) The Employer's Liability Act, 1938 (Act No. XXIV of 1938);
(ছ) The Employment of Children Act, 1938 (Act No. XXVI of 1938);
(জ) The Maternity Benefit Act, 1939 (Act No. IV of 1939);
(ঝ) The Mines Maternity Benefit Act, 1941 (Act No. XIX of 1941);
(ঞ) The Motor Vehicles (Drivers) Ordinance, 1942 (Ordinance No. V of 1942);
(ট) The Maternity Benefit (Tea Estate) Act, 1950 (Act No. XX of 1950);
(ঠ) The Employment (Records of Service) Act, 1951 (Act No. XIX of 1952);
(ড) The Bangladesh Plantation Employees Provident Fund Ordinance, 1959 (Ordinance No. XXXI of 1959);
(ঢ) The Coal Mines (Fixation of Rates of Wages) Ordinance, 1960 (Ordinance No. XXXIX of 1960);
(ণ) The Road Transport Workers Ordinance, 1961 (Ordinance No. XXVII of 1961);
(ত) The Minimum Wages Ordinance, 1961 (Act No. XXXIV of 1961);
(থ) The Plantation Labour Ordinance, 1962 (Ordinance No. XXIX of 1962);
(দ) The Apprenticeship Ordinance, 1962 (Ordinance No. LVI of 1962);
(ধ) The Factories Act, 1965 (Act No. IV of 1965);
(ন) The Shops and Establishment Act, 1965 (Act No. VII of 1965);
(প) The Employment of Labour (Standing Orders) Act, 1965 (Act No. VIII of 1965);
(ফ) The Companies Profits (Worker's Participation) Act, 1968 (Act No. XII of 1968);
(ব) The Industrial Relations Ordinance, 1969 (Ordinance No. XXIII of 1969);
(ভ) The Newspaper Employees (Conditions of Service) Act, 1974 (Act No. XXX of 1974); এবং
(ম) The Dock Workers (Regulation of Employment) Act, 1980 (Act No. XVII of 1980)৷
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্ত্বেও উক্ত কোন রহিত আইনের অধীন-
(ক) কৃত কোন কাজ-কর্ম অথবা প্রণীত কোন বিধি, প্রবিধান বা স্কীম, অথবা জারীকৃত কোন আদেশ, বিজ্ঞপ্তি বা প্রজ্ঞাপন অথবা নিয়োগকৃত কোন চেয়ারম্যান, সদস্য বা কর্মকর্তা অথবা গঠিত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, বোর্ড, কমিটি বা তহবিল, অথবা প্রদত্ত কোন নোটিশ, অথবা রেজিস্ট্রিকৃত কোন ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন, অথবা নির্বাচিত কোন যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, অথবা দায়েরকৃত কোন অভিযোগ, অথবা পেশকৃত কোন দরখাস্ত, অথবা মঞ্জুরীকৃত কোন অনুমতি, লাইসেন্স, গঠনতন্ত্র, চাকুরী বিধি বা অব্যাহতি, অথবা গৃহীত বা শুরুকৃত অন্য কোন ব্যবস্থা বা কার্যধারা, এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামজ্ঞস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত বলবত্ থাকিবে, এবং এই আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনকৃত, প্রণীত, জারীকৃত, নিয়োগকৃত, গঠিত, প্রদত্ত, রেজিস্ট্রিকৃত, নির্বাচিত, দায়েরকৃত, পেশকৃত, মঞ্জুরীকৃত, গৃহীত অথবা শুরুকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) এই আইন প্রবর্তনের তারিখে কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন কোন মামলা বা কার্য ধারা উক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চালু থাকিলে এবং তত্কর্তৃক শুনানী ও নিষ্পত্তি করা হইবে, যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই ৷
এই আইনের মূল পাঠ বাংলাতে হইবে এবং ইংরেজীতে উহার একটি অনূদিত নির্ভরযোগ্য পাঠ থাকিতে পারিবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে ৷
| বিধি নং | SRO No. 291-Act/2015 | পার্ট | |
|---|---|---|---|
| বিধি সন | ২০১৫ | অধ্যায় | ১৯ |
| বিধি তারিখ | ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ | বিধি | ৩৬৭ |
| সংশোধনী | ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ | তফশিল | ৭ |
| সর্বশেষ সংশোধনী | ফর্ম | ৮১ |
Notification
Date: 31st Bhadra, 1422 BS corresponding to 15th September 2015
SRO No. 291-Act/2015. The government formulates the following rules by dint of powers given in the section 351 of the Bangladesh Labor Act, 2006 (Act No. 42 of 2006) such as:
1| (1) GB wewagvjv evsjv‡`k kªg wewagvjv, 2015 bv‡g AwfwnZ nB‡e|
(2) Bnv Awej‡¤¦ Kvh©Ki nB‡e|
(১) বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোন কিছূ না থাকিলে, এই বিধিমালায় -
(ক) “আইন” অর্থ বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৪২ নং আইন)
(খ) “উপযুক্ত ব্যক্তি” অর্থ এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার বা মহাপরিদর্শক বা শ্রম পরিচালক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মনোনীত কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান;
(গ) “উত্তোলক যন্ত্র (--------)" অর্থ ক্রেন (---),
welq ev cÖm‡½i cwicwš’ †Kvb wKQy bv _vwK‡j, GB wewagvjvq-
(K) ÒAvBbÓ A_© evsjv‡`k kªg AvBb, 2006 (2006 m‡bi 42bs
AvBb);
(L) ÒDchy³ e¨w³Ó A_© GB wewagvjvi D‡Ïk¨ c~iYK‡í miKvi ev
gnvcwi`k©K ev kÖg cwiPvjK KZ…©K mswkøó wel‡q AwfÁZvm¤úbœ g‡bvbxZ ‡Kvb e¨vw³ ev
cÖwZôvb;
(M) ÒD‡ËvjK hš¿Ó (Lifting machinery)Ó A_© ‡µb (Crane), DB (Winche), n‡q÷ (Hoists), †WwiK eyg (Derrick Boom), †WwiK I gv÷ e¨vÛ (Derrick and Mast Band) ¸R †bK (Goose Neck), AvB‡evë (Eyebolt), †¯cÖWvi (Spreader) Ges †Kvb cOwμqvi mwnZ m¤úwK©Z DVvBevi-bvgvBevi Kv‡R e¨eüZ fviD‡ËvjK (Derrick), gv¯‘j (Mast) Ges cvUvZb (Deck) Gi mwnZ ¯’vqxfv‡e ms¯’vwcZ hš¿;
(N) ÒRvnvR (Ship)Ó A_© m¤ú~Y©fv‡e `voUvbv bq A_P
†bŠ-cwien‡bi Kv‡R e¨eüZ †h ‡Kvb †bŠ-hvb, Z‡e †Kvb †`wk †bŠKv ev eRiv Bnvi
AšÍfy©³ nB‡e bv;
(O) Ò‡Uwj‡dvb mvwf©mÓ A_© ‡gvevBj Acv‡iUi cÖwZôvb I
j¨vÛ ‡dvb Acv‡iUi cÖwZôvbmn ‡Uwj‡hvMv‡hvM m¤úwK©Z †mev cÖ`vbKvix ‡Kvb mvwf©m;
(P) ÒwVKv`vi ms¯’vÓ A_©
aviv 3K Gi Aaxb wbewÜZ cÖwZôvb hvnv ‡Kvb Pzw³i Aaxb ‡Kvb KvR m¤úv`bK‡í kÖwgK
mieivn K‡i;
(Q) ÒZ`viwK Kg©KZ©vÓ A_© gvwjK ev e¨e¯’vcbv KZ©„c¶ KZ©„K wjwLZfv‡e
ÿgZvcÖvß Ggb †Kvb e¨w³ whwb D³ ÿgZve‡j KviLvbv ev cÖwZôv‡bi ‡Kvb kvLvi ‡Kvb
Kv‡Ri ev †mevi j¶¨gvÎv wba©viY, Kv‡Ri cwiwa wbqš¿Y, ev¯Íevqb Kvh©µg wbqš¿Y,
Kv‡Ri g~j¨vqb ev ch©v‡jvPbv, kÖwgK‡`i w`K wb‡`©kbv cÖ`vb ev Z`viwK K‡ib;
(R) ÒZdwmjÓ A_© GB wewagvjvi ‡Kvb Zdwmj;
(S) ÒavivÓ A_©
AvB‡bi †Kvb aviv;
(T) ÒcÖkvmwbK ev e¨e¯’vcbvg~jK Kv‡R `vwqZ¡cÖvß †Kvb e¨w³Ó A_©
gvwjK ev e¨e¯’vcbv KZ©„cÿ KZ©„K wjwLZfv‡e ÿgZvcÖvß †Kvb e¨w³ whwb D³ ¶gZve‡j
KviLvbv ev cÖwZôv‡b kÖwgK ev Kg©Pvix‡`i wb‡qvM, ‡eZb I fvZvw` wba©viY,
PvKwii Aemvb ev PvKwi nB‡Z AcmviY, P~ovšÍ cvIbvw`
cwi‡kva Ges cÖwZôv‡bi e¨q Aby‡gv`b ev wbqš¿Y Kv‡R wb‡qvwRZ;
(U) cÖwµqv (Process)Ó A_©
Rvnv‡R A_ev Rvnv‡Ri cv‡k Ae¯’vbK…Z Ab¨ Rvnv‡R gvjvgvj ev R¡vjvbx †evSvB Kiv ev
RvnvR nB‡Z gvjvgvj ev R¡vjvwb ev †Zj RvZxq c`v_© Lvjvm Kwievi Rb¨ cÖ‡qvRbxq KvR
Ges Bnvi mwnZ
Avbylw½K Ab¨vb¨ KvRI Bnvi AšÍfy©³ nB‡e;
(V) ÒcÖv½Y (Premises)Ó
A_© WK (Dock), NvU (Wharf), †RwU (Quay)
A_ev Rvnv‡R gvj ev R¡vjvwb ev †Zj RvZxq c`v_© DVvBevi-bvgvBevi Kv‡R e¨eüZ ‡Kvb
¯’vb;
(W) Òc~jx eøK (Pulley
block)Ó A_© ‡µ‡bi
mwnZ e¨env‡ii Rb¨ ¯’vqxfv‡e hy³ Ges GB D‡Ï‡k¨ we‡klfv‡e wbwg©Z †μb ev eøK bq Ggb c~jx (Pulley), eøK
(Block), wRb (Gin) ev GKB ai‡bi wMqvi;
(X) ÒdigÓ A_©
GB wewagvjvi †Kvb dig;
(Y) Ò‡evW©Ó A_© GB wewagvjvq DwjøwLZ †ÿÎgZ,
RvgvbZ Znwej cwiPvjbv †evW©, wbb¥Zg gRywi †evW©, ‡K›`ªxq Znwej cwiPvjbv †evW©,
kÖwgK AskMÖnY I kªwgK Kj¨vY Znwej cwiPvjbv †evW©, fwel¨ Znwej Uªvw÷ †evW©,
Pv-evMvb kÖwgK fwel¨ Znwej Uªvw÷ †evW© ev wkÿaxbZv Kvh©µg cwiPvjbv †evW©;
(Z) Òmsev`cÎ kªwgKÓ A_© wcÖ›U I B‡j±ªwbK wgwWqvq
Kg©iZ †Kvb mvsevw`K, cÖkvmwbK kªwgK A_ev msev`cÎ QvcvLvbv kªwgK;
(_) Òn¨vPÓ A_© cÖwµqv Pvjv‡bvi Rb¨ ev
cwicvwUKiY ev evqy PjvP‡ji Rb¨ ‡Kvb †W‡Ki gyL;
(`) Òn¨vPI‡qÓ A_© W‡Ki Dci nB‡Z wfZi ch©šÍ
n¨v‡Pi meUzKz RvqMv;
(a) Ò‡nv‡Uj I ‡i÷z‡i›U
cwiPvjbvKvixÓ A_©
†Kvb e¨w³ whwb Pzw³, jxR ev Ab¨ †Kvbfv‡e AwaKvicÖvß nBqv †Kvb †nv‡Uj I †i÷z‡i›U
cwiPvjbv K‡ib|
(2) GB wewagvjvq
e¨eüZ nBqv‡Q wKš‘ msÁvwqZ nq bvB GBiƒc †h †Kvb Awfe¨w³ AvB‡b †h A‡_© msÁvwqZ
nBqv‡Q †mB A‡_© e¨eüZ nB‡e|
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক শ্রমিকদের বা বিশেষ শ্রেণির শ্রমিকদের চাকরি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য নিজস্ব চাকরি বিধি প্রবর্তন করিতে চাহিলে তিনি মহাপরিদর্শকের নিকট উক্ত চাকরি বিধির খসড়ার অন্তত পাঁচ কপি করিয়া জমা প্রদান করিবেন।
(২) মালিক কর্তৃক ধারা ৩ এর উপ-ধারা (২) মোতাবেক মহাপরিদর্শকের নিকট দাখিলকৃত খসড়া চাকরি বিধিমালায় তাহার প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকদের চাকরির শর্তাবলির বিবরণ থাকিতে হইবে এবং মহাপরিদর্শকের নিকট বিধিমালার খসড়া জমা প্রদান করিবার সময় উহার সহিত এতদ্সংক্রান্ত তথ্য ফরম-১ অনুযায়ী সংযোজন করিতে হইবে।
(৩) খসড়া চাকরি বিধিতে আইন ও এই বিধিমালায় বর্ণিত সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহের প্রতিফলন থাকিতে হইবে এবং এই সকল বিধান কোন শ্রমিকের জন্য আইনে বর্ণিত অনুরূপ বিধান অপেক্ষা কম সুবিধাজনক হইবে না।
(৪) মহাপরিদর্শকের নিকট পেশকৃত খসড়া চাকরি বিধির সহিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে নিযুক্ত শ্রমিকদের সংখ্যা ও ট্রেড ইউনিয়নের (যদি থাকে) প্রয়োজনীয় তথ্যাবলি যথাক্রমে ফরম-২ ও ২(ক) অনুযায়ী সংযোজন করিতে হইবে।
(৫) একই মালিকের একই ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠান অথবা একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন মালিকগণের কোন গ্রুপ একটি চাকরি বিধি প্রণয়ন করিতে চাহিলে উক্ত মালিক বা মালিকগণ বা গ্রুপের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলিসহ অনুরূপ খসড়া চাকরি বিধি পেশ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) উক্ত গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত মালিকদের তালিকা এবং তাহাদের প্রতিষ্ঠানসমূহের নাম ও পূর্ণ ঠিকানা;
(খ) এই মর্মে একটি ঘোষণা যে, গ্রুপের পক্ষে পেশকৃত চাকরি বিধির শর্তাবলি তাহারা মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবেন;
(গ) এই মর্মে একটি ঘোষণা যে, কোন প্রতিষ্ঠান অনুরূপ গ্রুপে যোগদান করিলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তী সাতদিনের মধ্যে উহা পরিদর্শককে অবহিত করিবেন।
(৬) কোন প্রতিষ্ঠান গ্রুপ ত্যাগ করিলে যতক্ষণ পর্যন্ত না উহার নিজস্ব চাকরি বিধির অনুমোদন সম্পন্ন হয় ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রুপের চাকরি বিধি উক্ত প্রতিষ্ঠানের উপর প্রযোজ্য থাকিবে।
(৭) অনুমোদিত চাকরি বিধির অন্যূন একটি কপি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক অনুমোদনের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত উক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) খসড়া চাকরি বিধি প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক উহার কপি প্রাপ্তি স্বীকারপত্রসহ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং ট্রেড ইউনিয়ন (যদি থাকে) এর নিকট প্রেরণ করিবেন এবং এতদ্সঙ্গে ফরম-৩ অনুযায়ী একটি নোটিসও প্রেরণ করিবেন।
(২) সংশ্লিষ্ট মালিক উক্ত নোটিস পাইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে খসড়া চাকরি বিধিসহ নোটিসটি তাহার প্রতিষ্ঠানের নোটিস বোর্ডে টাঙ্গাইয়া দিবেন এবং উহা প্রকাশের তারিখ উল্লেখসহ নোটিসটি প্রকাশ করা হইয়াছে মর্মে মহাপরিদর্শক বরাবরে প্রত্যয়ন করিবেন।
(৩) নোটিশে সংযুক্ত চাকরি বিধির খসড়ার উপর শ্রমিকগণ বা ট্রেড ইউনিয়ন ১০ (দশ) দিনের মধ্যে তাহাদের প্রস্তাব বা আপত্তি (যদি থাকে) ফরম-৩(ক) অনুযায়ী মহাপরিদর্শকের নিকট যুক্তিসহ পেশ করিবেন।
(৪) শ্রমিকগণের বা ট্রেড ইউনিয়নের নিকট হইতে আপত্তি বা প্রস্তাব পাইবার ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক নির্ধারিত তারিখে ও স্থানে আপত্তি বা প্রস্তাবগুলি শ্রবণ করিবেন এবং তাহার নিকট কোন আপত্তি বা প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত মনে হইলে তিনি উক্তরূপ শুনানি অনুষ্ঠানের পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) মালিক উপ-বিধি (৪) এর অধীন প্রাপ্ত আপত্তি বা প্রস্তাবনার উপর পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে তাহার প্রতিষ্ঠানের মতামত মহাপরিদর্শককে অবহিত করিবেন।
(৬) মহাপরিদর্শক উপ-বিধি (৫) এর অধীন প্রাপ্ত মতামত বিবেচনার পর খসড়া চাকরি বিধি প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ বা ব্যতীত গৃহীত হইবে কিনা সে সম্পর্কে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীসহ চাকরি বিধির খসড়া চূড়ান্তকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হইলে সেই ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক গৃহীত সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করিয়া চাকরি বিধির সংশোধিত খসড়ার ৫ (পাঁচ) কপি পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে জমা প্রদান করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৭) উপ-বিধি (৬) এর অধীন সংশোধিত খসড়া প্রাপ্তির পর মহাপরির্দশক উহা অনুমোদন করিবেন এবং অনুমোদনের বিষয়টি মালিককে অবহিত করিবেন।
(৮) সংশোধনীসহ বা ব্যতীত, যাহাই হউক না কেন, মহাপরিদর্শক যদি মনে করেন যে, খসড়া চাকরি বিধিটি আইনের বিধানের পরিপন্থি বা সাংঘর্ষিক হইয়াছে বা আইনের উদ্দেশ্য পূরণে অপর্যাপ্ত হইয়াছে, তাহা হইলে তিনি প্রয়োজনীয় সংশোধনীসহ একটি নূতন খসড়া চাকরি বিধি পেশ করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) যে সকল প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব চাকরি বিধি প্রচলিত রহিয়াছে সে সকল প্রতিষ্ঠানের মালিক এই বিধিমালা জারি হইবার তিন মাসের মধ্যে উহা আইন এবং এই বিধিমালার সহিত সামঞ্জস্য সাধন করিয়া প্রস্তুতকৃত খসড়া অনুমোদনের জন্য মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন চাকরি বিধি দাখিলের ক্ষেত্রে বিধি ৩ এর বিধান এবং উহা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিধি ৪ এর বিধান, যতদূর সম্ভব, অনুসরণ করিতে হইবে।
চাকরি বিধির সংশোধনের ক্ষেত্রে বিধি ৩ ও ৪ এ উল্লিখিত পদ্ধতি অনুসরণ করিতে হইবে।
(১) কোন ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক কোন সংস্থায় কর্মী সরবরাহ করিবার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশ্যে রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স গ্রহণের জন্য মহাপরিদর্শকের নিকট ফরম-৭৭ অনুযায়ী আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত আবেদন পত্রের সহিত নি¤ড়ববর্ণিত কাগজপত্র ও তথ্যাদি দাখিল করিতে হইবে, যথা:
(ক) আবেদনকারীর ৫ (পাঁচ) কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল পরিচালক ও অংশীদারদের ছবি);
(খ) আবেদনকারীর নাগরিকত্ব সনদপত্র (আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে সকল পরিচালক ও অংশীদারদের);
(গ) আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি (আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সকল পরিচালক ও অংশীদারদের) তবে আবেদনকারী বিদেশি নাগরিক হইলে বৈধ পাসপোর্ট ও বসবাসের বৈধ কাগজের কপি;
(ঘ) ট্রেড লাইসেন্সের সত্যায়িত কপি;
(ঙ) টি, আই, এন, সনদপত্র (ঞধী ওফবহঃরভরপধঃরড়হ ঘঁসনবৎ - ঈবৎঃরভরপধঃব) এর সত্যায়িত কপি;
(চ) মূল্য সংযোজন কর রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি;
(ছ) আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ স্বরূপ ব্যাংকের সনদপত্র;
(জ) আবেদনকারী কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি-সংঘ, অংশীদারি কারবার, সংঘ ও সমিতি হইলে ক্ষেত্রমত উহার অংশীদারি দলিল বা মেমোরেন্ডাম অব এসোসিয়েশন ও আর্টিকেলস অব এসোসিয়েশনের সত্যায়িত কপি এবং রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের সত্যায়িত কপি;
(ঝ) মহাপরিদর্শকের অনুকূলে জামানত হিসাবে তফসিল-৭ এ নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যংক হিসাবে জমা রাখিতে হইবে;
(ঞ) বিধি ১০ অনুসারে প্রদত্ত লাইসেন্স ফি-এর ব্যাংক-ড্রাফট, পে-অর্ডার বা ট্রেজারি চালানপত্র;
(ট) বেসরকারি সেবা প্রদানকারী বা কর্মী সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ অবস্থান ও অফিস ব্যবস্থাপনার বিবরণ;
(ঠ) যোগাযোগের আধুনিক যন্ত্রপাতি, যেমন- ফ্যাক্স, ফোন, ইন্টারনেট সংযোগ, ইত্যাদিও তালিকাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সনদপত্র; এবং
(ড) যে ধরনের পদে লোক সরবরাহ করিতে ইচ্ছুক, উক্ত পদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতামূলক নিজস্ব প্রশিক্ষণ সুবিধার ব্যবস্থা অথবা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ প্রদানে সক্ষম এমন অন্য কোন অনুমোদিত প্রশিক্ষণ প্রদানকারী সংস্থার সহিত চুক্তি (যদি থাকে)।
(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদনপ্রাপ্ত হইলে মহাপরিদর্শক প্রাপ্ত আবেদনে উল্লিখিত তথ্যাবলির সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য তাহার অধস্তন কোন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব অর্পণ করিয়া লিখিত প্রতিবেদন দাখিল করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনকারীর প্রাক-পরিচিতি পুলিশের জেলা বিশেষ শাখা বা নগর বিশেষ শাখা বা সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোন উপযুক্ত সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করিতে পারিবে।
(৪) উপ-বিধি (৩) এর অধীন নির্দেশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লিখিত স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করিবেন এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলি পরীক্ষা ও যাবতীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করিবার পর তদ্বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন মহাপরিদর্শকের নিকট দাখিল করিবেন।
(৫) উপ-বিধি (৪) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর মহাপরিদর্শক সন্তুষ্ট হইলে লাইসেন্স প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করিবেন অথবা ক্ষেত্রমত নামঞ্জুর করিয়া আবেদনকারীকে অবহিত করিবেন।
(৬) এই বিধিমালার অধীন লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন গ্রহণ, লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন বা নামঞ্জুর করিবার ক্ষমতা মহাপরিদর্শক তাহার অধস্তন কোন কর্মকর্তার নিকট অর্পণ করিতে পারিবে না।
(৭) উপ-বিধি (৫) এর অধীন কোন আবেদন মঞ্জুর করা হইলে ফরম-৭৮ অনুযায়ী লাইসেন্স ইস্যু করিতে হইবে এবং এতদ্সম্পর্কিত তথ্যাদি ফরম-৭৯ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৮) ঠিকাদার সংস্থার লাইসেন্স প্রাপ্তির আবেদন এবং লাইসেন্স প্রদানের যাবতীয় কার্যক্রম ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন লাইনে সম্পাদন করা যাইবে, তবে এতদ্সংক্রান্ত মুদ্রিত নথি সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) লাইসেন্স গ্রহীতা, মহাপরিদর্শকের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে, কোন কর্মীর নিকট হইতে সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করিতে পারিবে না।
(২) ঠিকাদার সংস্থা ও সেবা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কোন শর্ত ভঙ্গের বিষয়ে পক্ষদ্বয় লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ বরাবর নিষ্পত্তির জন্য আবেদন করিতে পারিবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থা ও কর্মীর মধ্যে সম্পাদিত চাকরির নিয়োগপত্রে আইনে বর্ণিত শর্তাদি অপেক্ষা কম অনুকূল শর্তাদি সনিড়ববেশ করা যাইবে না।
(১) এই বিধিমালার অধীন কোন ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক সেবা প্রদান করিবার ক্ষেত্রে কোনরূপ প্রতারণামূলক কার্যμম অথবা দাখিলকৃত তথ্যাদি ভুল প্রমাণিত হইলে বা নিরাপত্তা জামানত ব্যতিরেকে অন্য কোনভাবে অর্থের বিনিময়ে কর্মী নিয়োগ করা হইলে উক্ত অভিযোগ প্রমাণ হওয়া সাপেক্ষে, তৎকর্তৃক প্রদত্ত জামানত সরকার বরাবরে বাজেয়াপ্ত হইবে এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।
(২) কোন লাইসেন্স গ্রহীতা তাহার কার্যμম বন্ধ ঘোষণা করিলে তৎকর্তৃক প্রদত্ত জামানতের টাকা, উক্ত কার্যμম বন্ধ করিবার ৩ মাস সময়ের মধ্যে তৎবরাবরে বা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রতিনিধিকে ফেরত প্রদান করা যাইবে।
(১) মহাপরিদর্শক লাইসেন্স প্রদানের আবেদন মঞ্জুর করিলে উক্ত মঞ্জুরের তারিখ হইতে ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত পরিমাণ লাইসেন্স ফি জমা প্রদান করিতে হইবে।
(২) লাইসেন্স নবায়নের জন্য বিধি ৩৫৫(৩) এর বিধান অনুযায়ী মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করিতে হইবে।
(৩) জামানত, লাইসেন্স ফি ও লাইসেন্স নবায়নের ফি তফসিল-৭(৬) অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে এবং ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে।
(৪) ঠিকাদার সংস্থা একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং ধারা ৩১৯ এ মহাপরিদর্শক ও অন্যান্য পরিদর্শকদের পরিদর্শন সংμাšও এখতিয়ার ঠিকাদার সংস্থার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।
(১) লাইসেন্স প্রাপ্তির জন্য প্রত্যেক ঠিকাদার সংস্থাকে জামানত হিসাবে নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ “ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল” বরাবরে জমা প্রদান করিতে হইবে।
(২) জামানতের অর্থ তফসিল-৭ এর দফা-৬ অনুযায়ী নির্ধারিত হইবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনার জন্য নিম্নবর্ণিত সদস্যের সমন্বয়ে “ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ড” নামে একটি বোর্ড গঠিত হইবে, যথা:
(ক) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী; যিনি ইহার চেয়ারম্যানও হইবেন;
(১) ঠিকাদার সংস্থা জামানত তহবিল পরিচালনা বোর্ডের সদস্যগণের মেয়াদ হইবে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর।
(২) যে কোন সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে উক্ত পদটি শূন্য বলিয়া গণ্য হইবে।
কোন ব্যক্তি বিধি ১১ এর অধীন বোর্ডের সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-
(ক) উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বা দেউলিয়া বলিয়া ঘোষণা করে;
(খ) তিনি ইতিপূর্বে পরপর দুইবার বোর্ডের সদস্য হিসাবে মনোনীত হইয়া থাকেন;
(গ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক অন্যূন ১(এক) বৎসরের কারাদ-ে দ-িত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বৎসর অতিবাহিত না হইয়া থাকে; এবং
(ঘ) তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতীত বোর্ডের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।
বোর্ড, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, বোর্ডের যে কোন সদস্যকে লিখিত আদেশ দ্বারা অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি-
(ক) তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;
(খ) সরকারের বিবেচনায় উক্ত দায়িত্ব সম্পাদনে অক্ষম বিবেচিত হন; এবং
(গ) সরকারের বিবেচনায় সদস্য হিসাবে তাহার পদের অপব্যবহার করিয়া থাকেন।
(১) লাইসেন্সের আবেদনের শর্ত হিসাবে প্রদত্ত কর্মী নিয়োগ বিধিমালার তিন কপি আবেদনপত্রের সহিত সংযুক্ত করিয়া মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং মহাপরিদর্শক উহা অনুমোদনের পর এক কপি করিয়া সীলমোহরসহ আবেদনকারী এবং শ্রম পরিচালক বরাবর প্রেরণ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বিধি ৪ এ বিধৃত চাকরি বিধিমালা অনুমোদনের বিধানাবলি অনুসরণ করিবে।
(১) ঠিকাদার সংস্থা যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা কর্মী বা সেবা সরবরাহ করিবে উক্ত প্রতিষ্ঠান যে শিল্পের অন্তর্ভুক্ত, উক্ত শিল্পের সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সরকার ঘোষিত নিমড়বতম মজুরির (যদি থাকে) অপেক্ষা কম মজুরি ও ভাতাদি প্রদান করিতে পারিবে না ।
(২) কোন ঠিকাদার সংস্থা যদি কোন প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোন কাজ সম্পাদনের জন্য চুক্তি করে সেই ক্ষেত্রে উক্ত কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদার সংস্থা কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মীদের ক্ষেত্রে মজুরি, কর্মঘন্টা, বিশ্রাম, অধিকাল ভাতা, ছুটি, বিষয়ে আইনের বিধানাবলি অনুসরণ করিতে হইবে।
(৩) ঠিকাদার সংস্থাকে এই মর্মে নিশ্চিত হইতে হইবে যে, যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক বা কর্মী সরবরাহ করা হইতেছে, উহা কর্মক্ষেত্রে আইনের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংμান্ত সকল বিধি-বিধান অনুসরণ করিয়া পরিচালিত হয়।
(৪) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত নিশ্চয়তা লাভে ব্যর্থতার ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে আইনের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংμান্ত কোন ব্যত্যয় ঘটিলে আইনের বিধান সমভাবে মালিক ও ঠিকাদার সংস্থা উভয়ের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হইবে।
(৫) ঠিকাদার সংস্থা ও শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিতে প্রত্যেক শ্রমিক বা কর্মীর জন্য যে মজুরি ও ভাতাদি ধার্য করা হইবে উহার চাইতে কম মজুরি ও ভাতাদি প্রদান করা যাইবে না এবং শ্রমিক নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান উহার স্থায়ী জনবল কাঠামোর কোন পদে ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে কোন শ্রমিক বা কর্মী নিয়োগ করিতে পারিবে না।
(১) প্রত্যেক ঠিকাদার সংস্থাকে লাইসেন্স প্রাপ্তির ছয় মাসের মধ্যে উক্ত সংস্থার নামসম্বলিত ‘কর্মী সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল’ নামে যে কোন তফসিলি ব্যাংকে একটি ব্যাংক হিসাব শুরু করিতে হইবে।
(২) ব্যাংক হিসাবে ঠিকাদার সংস্থায় নিয়োগকৃত ও বিভিনড়ব প্রতিষ্ঠানে সরবরাহকৃত প্রত্যেক কর্মীর বিপরীতে কর্মীর প্রতি সস্পূর্ণ বৎসরের চাকরির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্য এক মাসের মূল মজুরির সমপরিমাণ অর্থ অথবা ধারা ২(১০) অনুসারে গ্রাচুইটি (যদি প্রযোজ্য হয়) হিসাবে জমা রাখিতে হইবে; যাহা শুধুমাত্র কর্মীর চাকরি যে কোন ধরনের অবসানে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বা গ্রাচুইটির অর্থ পরিশোধের অংশ হিসাবে কর্মীকে সরাসরি চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খোলা ও পরিচালনার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করিবে।
প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য চাকরি বিধিমালার সহিত সাংগঠনিক কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) প্রণয়ন করিবে এবং উহা মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে এবং উক্ত সাংগঠনিক কাঠামোতে শ্রমিকের শ্রেণি, সংখ্যা ও প্রকৃতি উল্লেখ করিতে হইবে।
(১) কোন মালিক নিয়োগপত্র প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে নিয়োগ করিতে পারিবেন না।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরিকালীন কোন ব্যক্তিকে কেবল একবার নিয়োগপত্র প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কোন শ্রমিকের নিয়োগপত্র হারাইয়া গেলে বা নষ্ট হইলে শ্রমিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাহার ব্যক্তিগত ফাইলে রক্ষিত নিয়োগপত্রের ফটোকপি বা হুবহু নকল সরবরাহ করা যাইবে।
(৪) ধারা ৫ মোতাবেক শ্রমিককে প্রদত্ত নিয়োগপত্রে নি¤ড়ববর্ণিত তথ্যের উল্লেখ থাকিবে, যথা :জ্জ
(ক) শ্রমিকের নাম;
(খ) পিতার নাম;
(গ) মাতার নাম;
(ঘ) স্বামী বা স্ত্রীর নাম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
(ঙ) ঠিকানা : বর্তমান:
স্থায়ী:-
(চ) পদবি, কাজের ধরন, যোগদানের তারিখ;
(ছ) শ্রমিকের শ্রেণি;
(জ) মজুরি বা বেতন স্কেল (মজুরি বা বেতন এবং বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধির হার যদি থাকে);
(ঝ) অন্যান্য প্রদেয় আর্থিক সুবিধা (বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা, খাদ্য, যাতায়াত, উৎসব ও হাজিরা ভাতা এবং গ্রাচুইটি (যদি থাকে); এবং
(ঞ) নিয়োগের যাবতীয় শর্ত প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান চাকরি বিধি (যদি থাকে) ও বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হইবে মর্মে উল্লেখ।
(৫) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত প্রত্যেক শ্রমিককে ফরম-৬ অনুযায়ী মালিকের খরচে ছবিসহ পরিচয়পত্র প্রদান করিবেন।
(৬) শ্রমিক পরিচয়পত্র হারাইয়া ফেলিলে ৫০ টাকা ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নূতন পরিচয়পত্র প্রদান করা যাইবে।
(৭) নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বহি প্রদান সম্পর্কিত তথ্য রেজিস্টারে ফরম-৬(ক) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে ।
(৮) এই বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত কোন শ্রমিক বা প্রশাসনিক বা ব্যবস্থাপনার দায়িতে¦ নিয়োজিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে বা চাকরি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশলের গোপনীয়তা সংরক্ষণ করিবেন।
(১) সার্ভিস বহি ফরম-৭ অনুযায়ী হইবে এবং উহাতে শক্ত মলাটসহ টেকসই কাগজের ১৬ টি মুদ্রিত পৃষ্ঠা থাকিতে হইবে।
(২) ফরম-৭ অনুযায়ী সার্ভিস বহিতে তথ্যসমূহ অন্তর্ভুক্তিকরণের উদ্দেশ্যে উহার মলাট ব্যতীত পৃষ্ঠাসমূহ নিম্নবর্ণিত অংশে বিভক্ত থাকিবে, যথা:-
(ক) প্রম ভাগঃ শ্রমিককে সনাক্ত করিবার মত তথ্যসমূহ (পৃষ্ঠা- ১);
(খ) দ্বিতীয় ভাগঃ মালিকের ও চাকরির তথ্যসমূহ (পৃষ্ঠা, ২-৫);
(গ) তৃতীয় ভাগঃ সার্ভিস রেকর্ড, মজুরি ও ভাতা সংμান্ত তথ্যসমূহ (পৃষ্ঠা ৬-৯);
(ঘ) চর্তু ভাগঃ ভোগকৃত ছুটির বিবরণ (পৃষ্ঠা ১০-১৩);
(ঙ) পঞ্চম ভাগঃ শ্রমিকের আচরণের রেকর্ড (পৃষ্ঠা ১৪-১৬)।
(১) স্থায়ীকরণের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ তাহার সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করিবেন।
(২) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনা সংঘটনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে শ্রমিকের পরবর্তী বা নূতন তথ্য সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে, যথা:-
(ক) বেতনের স্কেল বা মজুরির হার পরিবর্তন;
(খ) একই প্রতিষ্ঠানের অন্য শাখায় বা ভিন্ন চাকরিতে অথবা একই মালিকের ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বদলি;
(গ) শ্রমিক কর্তৃক কোন প্রশিক্ষণ গ্রহণ বা কোন বিশেষ দক্ষতা অর্জন;
(ঘ) বার্ষিক ছুটি ভোগ করা বা নগদায়ন;
(ঙ) চাকরি হইতে ছাঁটাই, ডিসচার্জ, বরখাস্ত, অবসান, পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণ;
(চ) কোন জরিমানা বা দন্ড আরোপ এবং পুরস্কার প্রদান বা প্রশংসা জ্ঞাপন:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনীত কোন অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উহা সার্ভিস বহিতে লিপিবদ্ধ করা যাইবে না।
(১) কোন শ্রমিক নিয়োগ বা শিক্ষানবিশকাল সমাপ্ত হইবার ১৫ দিনের মধ্যে মালিক প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য আলাদা আলাদা সার্ভিস বহি খুলিবার ব্যবস্থা করিবেন ও উহাতে সংযোজনের জন্য শ্রমিকের ছবি উঠাইবার ব্যয় মালিক বহন করিবেন।
(২) শ্রমিক চাকরিতে যোগদানকালে তাহার পূর্বের চাকরির সার্ভিস বহি, যদি থাকে, মালিকের নিকট জমা প্রদান করিবেন এবং মালিক তাহাকে ফরম-৭(ক) অনুযায়ী একটি রসিদ প্রদান করিবেন।
(৩) কোন শ্রমিক নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের নিকট সার্ভিস বহির মূল্য বাবদ ২০/- (বিশ) টাকা নগদে জমা প্রদান করিয়া অবিকল নকল সার্ভিস বহি নিজের হেফাজতে সংরক্ষণ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত সার্ভিস বহিতে ‘অবিকল নকল’ কথাটি লেখা থাকিবে।
(৫) কোন শ্রমিক কর্তৃক উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত টাকা জমা প্রদান করিবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবিকল নকল সার্ভিস বহি প্রদান করিবেন।
(৬) শ্রমিকের নিকট সংরক্ষিত সার্ভিস বহি হারাইয়া গেলে বা নষ্ট হইয়া গেলে তৎক্ষণাৎ উহা লিখিতভাবে মালিককে অবহিত করিতে হইবে, এবং সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিক নগদে ৩০/- (ত্রিশ) টাকা কর্তৃপক্ষের নিকট জমা প্রদান করিয়া পুনরায় অবিকল নকল একটি সার্ভিস বহি সংগ্রহ করিতে পারিবে।
(৭) কোন শ্রমিকের চাকরি অবসানের দুই কর্মদিবসের মধ্যে মালিক সার্ভিস বহি ফেরত প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, চূড়ান্ত পাওনা পরিশোধের সময় শ্রমিককে উক্ত সার্ভিস বহি সঙ্গে আনিয়া উহাতে উক্ত পাওনা পরিশোধের তথ্য লিপিবদ্ধ করাইয়া লইতে হইবে।
(৮) শ্রমিককে সার্ভিস বহি প্রদানকালে কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করিলে উহার একটি ডুপ্লিকেট কপি তাহার ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করিতে পারিবেন।
(৯) সার্ভিস বহি ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাইবে এবং সেই ক্ষেত্রে শ্রমিককে কপি সরবরাহ করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রেণির শ্রমিকের জন্য একটি শ্রমিক রেজিস্টার ফরম-৮ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং উহা শ্রমিকের শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী বিন্যস্ত থাকিবে।
(২) রেজিস্টারে সকল বিবরণ বাংলায় অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে এবং খ্রিস্টিয় বর্ষপঞ্জি অনুসারে তারিখ লিখিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠান ইচ্ছা করিলে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজিতেও রেজিস্টার সংরক্ষণ করিতে পারিবে।
(৩) যদি কোন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে শ্রমিক রেজিস্টার সংরক্ষণ করে তাহা হইলে উহার মুদ্রিত কপি শ্রমিক রেজিস্টার বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) ধারা ১০ মোতাবেক ছুটির রেজিস্টার ফরম-৯ অনুযায়ী রক্ষিত হইবে এবং উহাতে ধারা ১১৫, ১১৬ ও ১১৭-তে বর্ণিত ছুটির হিসাব লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(২) কোন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্ধারিত ফরমে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ করিলে উহা ছুটির রেজিস্টার বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছুটির রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হইলে ইহার মুদ্রিত কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের ব্যক্তিগত নথিতে সনিড়ববেশিত করিতে হইবে।
(১) ধারা ১২ এর উপ-ধারা (৮) অনুযায়ী কোন শ্রমিককে লে-অফ করা হইলে অথবা ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হইলে সংশ্লিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ ও কর্মহীন শ্রমিকের সংখ্যা উল্লেখসহ উক্তরূপ লে-অফ বা বন্ধের নোটিস ও ফরম-১০ অনুযায়ী একটি বিবরণী অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(২) লে-অফকৃত প্রতিষ্ঠান বা কারখানার লে-অফ বা বন্ধ ৪৫ দিনের অধিক হইলে ধারা ২০ মোতাবেক সকল পাওনা পরিশোধপূর্বক শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠান বা কারখানা ধারা ১৩ এর অধীন বন্ধ হইলে কোন শ্রমিক ধারা ২০ (২)(ক) অনুয়ায়ী নোটিস বা নোটিশের পরিবর্তে মজুরি পাইবে না।
(৩) লে-অফকৃত বা সাময়িকভাবে বন্ধকৃত কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠান শ্রমিকের আইনানুগ যাবতীয় পাওনা রিশোধ না করিয়া অন্য কোন মালিকের নিকট বা সংস্থার নিকট লীজ প্রদান বা ভাড়ার চুক্তি করিয়া উৎপাদন বা সেবা প্রদান প্রμিয়ার সহিত যুক্ত করিতে পারিবেন না।
ধারা ১৭ মোতাবেক লে-অফকৃত শ্রমিকদের তালিকা ফরম-১০(ক) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
ধারা ২০ এর উপ-ধারা (২) এর দফা (ক) মোতাবেক শ্রমিককে প্রদত্ত ছাঁটাইয়ের নোটিশে নি¤ড়ববর্ণিত তথ্যসমূহের উল্লেখ থাকিতে হইবে, যথা:জ্জ
(ক) প্রতিষ্ঠানের নাম;
(খ) শ্রমিকের নাম, পদবি ও কার্ড নম্বর;
(গ) ছাঁটাইয়ের কারণ;
(ঘ) ছাঁটাই কার্যকর হইবার তারিখ;
(ঙ) মোট চাকরিকাল;
(চ) শ্রমিকের প্রাপ্যতা:
(অ) নোটিস পে (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
(আ) গ্র্যাচুইটি বা ক্ষতিপূরণ;
(ই) অভোগকৃত বার্ষিক ছুটির মজুরি;
(ঈ) বকেয়া মজুরি, অন্যান্য ভাতা ও অধিকাল ভাতা (যদি পাওনা থাকে); এবং
(ছ) পাওনা পরিশোধের তারিখ।
(১) ধারা ২২ এ বর্ণিত রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক শ্রমিকের অক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-১১ অনুযায়ী হইতে হইবে এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট শ্রমিককেও সরবরাহ করিতে হইবে।
(২) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রদান করা প্রত্যয়নে শ্রমিক অথবা মালিক সন্তুষ্ট না হইলে তিনি উহা প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা করিবার জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজের অন্যূন সহকারী অধ্যাপকের পদমর্যাদাসম্পনড়ব কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট পেশ করিতে পারিবেন এবং উক্ত পুনঃপরীক্ষার খরচ আবেদনকারীকে বহন করিতে হইবে।
(১) কোন শ্রমিকের কোন আচরণ বা কাজ অসদাচরণ কিনা উহা যাচাই করিবার উদ্দ্যেশ্যে মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা যদি ধারা ২৪ এর উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) অনুসারে কোন প্রকার কৈফিয়ত তলব করেন এবং তদ্প্রেক্ষিতে শ্রমিক কর্তৃক প্রদত্ত জবাব-
(ক) সন্তোষজনক হইলে অভিযোগ নিষ্পত্তি হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে এবং এই বিষয়টি শ্রমিকের পরবর্তী চাকরির ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রভাব ফেলিবে না ;
(খ) সন্তোষজনক না হইলে মালিক শাস্তি প্রμিয়া অনুসরণের জন্য ব্যবস্থাপক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তাকে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত কার্যμম সম্পনড়ব করিয়া তাহার নিকট ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করিতে নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(২) অনধিক ৬ জন সদস্য সমন্বয়ে উক্ত তদন্ত কমিটি গঠিত হইবে।
(৩) তদন্ত কমিটি উপ-কমিটি গঠন করিতে পারিবে।
(৪) উপ-কমিটির রিপোর্ট চূড়ান্তকরণের জন্য তদন্ত কমিটির নিকট পেশ করিবে।
(৫) তদন্ত কমিটি উহার তদন্ত প্রতিবেদন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তের জন্য কর্তৃপক্ষের বরাবরে প্রেরণ করিবে।
(৬) তদন্ত কমিটিতে মালিক পক্ষের প্রতিনিধি মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠান হইতে মনোনীত হইবেন।
(৭) তদন্ত কমিটিতে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি, অভিযুক্ত শ্রমিকের লিখিত প্রস্তাবμমে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নি¤ড়বপদের কাউকে প্রতিনিধি মনোনয়ন করা যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (খ) ও (ছ) এর অধীন কোন শ্রমিক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনীত হইলে অভিযুক্ত শ্রমিক বা কর্মচারী ইচ্ছা করিলে তাহার প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়ন (যদি থাকে) এর কোন সদস্য অথবা ট্রেড ইউনিয়ন না থাকিলে অংশগ্রহণকারী কমিটির কোন শ্রমিক প্রতিনিধিকে তাহার প্রতিনিধি হিসাবে মনোনয়ন করিতে পারিবে।
(৮) শ্রমিকের আইনানুগ পাওনা আদায়ের জন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন অথবা দৈনন্দিন কাজের ব্যঘাত না ঘটাইয়া এবং সম্পদ হানি না করিয়া কোন নিয়মতান্ত্রিক কার্যμম পরিচালনাকে ধারা ২৩ এর উপ-ধারা (৪) এর দফা (ছ) এ উল্লিখিত উচ্ছৃঙ্খলতা বুঝাইবে না।
ধারা ২৫ এর বিধান মোতাবেক জরিমানা ফরম-১২ অনুযায়ী একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং ব্যয়িত অর্থের ভাউচার বা রসিদ রেজিস্টারের সহিত সংযুক্ত করিয়া রাখিতে হইবে।
ধারা ৩১ মোতাবেক চাকরি অবসান বা সমাপ্তির ক্ষেত্রে শ্রমিকের আবেদনের ১৫(পনের) দিনের মধ্যে তাহাকে ফরম-১৩ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে।
ধারা ২৮ক অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিক সম্পর্ক হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা:-
(ক) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যμম স্থায়ীভাবে বন্ধ হইবার ক্ষেত্রে:
(অ) আকষ্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি প্রয়োজনে মালিক কর্তৃক মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে (৩) তিন কর্মদিবসের মধ্যে নির্ধারিত ফরম-১০ অনুযায়ী যাবতীয় তথ্যাদি অবহিত করিতে হইবে;
(আ) মালিক শ্রমিকদেরকে ছাঁটাই করিবেন এবং আইনানুগ পাওনাদি পরিশোধ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যμম পুনরায় চালু হইবার সম্ভবনা থাকিলে মালিক কারখানা বা প্রতিষ্ঠান লে-অফ ঘোষণা করিতে পারিবেন ;
(ই) কারখানা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হইবার সময় পর্যন্ত শ্রমিক পূর্ণ মজুরিতে কর্মরত ছিলেন বলিয়া গণ্য হইবেন;
(ঈ) শ্রমিককে মালিক তাহার অধীন একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানে সমপদে কাজে নিয়োজিত করিতে চাহিলে দফা (খ)-তে বর্ণিত বিধান প্রযোজ্য হইবে;
(উ) স্থায়ীভাবে বন্ধ না করিয়া মালিক ইচ্ছা করিলে ধারা ১২ মোতাবেক কাজ বন্ধ রাখিতে পারিবেন এবং সেই ক্ষেত্রে শ্রমিক ধারা ১৬ মোতাবেক লে-অফ বেনিফিট প্রাপ্য হইবেন;
(ঊ) পাওনা পরিশোধের ব্যাপারে কোন আপত্তি বা বিরোধ দেখা দিলে সেই ক্ষেত্রে মালিক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়নের (যদি থাকে) সহিত আলোচনাμমে বা সাধারণ শ্রমিকদের (ট্রেড ইউনিয়ন না থাকিলে) সহিত আলোচনাμমে অথবা ধারা ১২৪ক অনুসারে মালিক শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করিবেন;
(ঋ) আকষ্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয় বা জরুরি প্রয়োজনের যথার্থতা নিয়ে কোন প্রশড়ব বা অভিযোগ উত্থাপিত হইলে এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
ব্যাখ্যা।জ্জএই দফায় অভিযোগ উত্থাপন বলিতে সংশ্লিষ্ট মহাপরিদর্শক বা সরকারের নিকট লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়ে দরখাস্ত করাকে বুঝাইবে।
(খ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের স্থানান্তরের ক্ষেত্রে:
(অ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সীমানা হইতেজ্জ
ধারা ৩৩(৩) মোতাবেক চাকরি সংক্রান্ত কোন অভিযোগ শ্রম আদালতে ফরম-১৪ অনুযায়ী পেশ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রম আদালত যৌক্তিক বিবেচনা করিলে ফরম-১৪ অনুসরণ ব্যতীত লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তির শিশু বা কিশোর হিসাবে বয়স প্রমাণের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বা স্কুল সার্টিফিকেট না থাকে এবং সক্ষমতা প্রত্যয়নের দরকার হয়, তাহা হইলে যেকোন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ফরম-১৫ অনুযায়ী বয়স ও সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন এবং উক্তরুপ পরীক্ষার বর্ণনা চিকিৎসক ও মালিককে ফরম-১৫(ক) অনুযায়ী আলাদাভাবে রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) বয়স ও সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র প্রস্তুত করিবার সময় প্রয়োজনীয় বিবরণাদি প্রত্যয়নপত্রে এবং উহার মুড়িতে পূরণ করিতে হইবে এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর ছাপ প্রত্যয়নপত্রের উভয় অংশে গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) উল্লিখিত প্রত্যয়নপত্রের তথ্য অনুযায়ী যদি তিনি শ্রমিক হিসাবে নিয়োজিত হন, তাহা হইলে উক্ত প্রত্যয়নপত্রের কপি শ্রমিকের ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করিবেন।
(১) কিশোরের কাজের সময়ের নোটিস ফরম-১৬ অনুযায়ী পরিদর্শকের নিকট হইতে অনুমোদিত হইতে হইবে।
(২) উল্লিখিত নোটিসটি পরিদর্শকের অনুমোদনের পর অনুমোদিত কপি শ্রমিকদের জ্ঞাতার্থে সহজ দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(৩) অনুমোদিত নোটিস সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং পরিদর্শকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠানে প্রস্তুত রাখিতে হইবে।
ধারা ৩৯(১) ও ৪০ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে এবং ধারা ৩৯(৩) ও ৪০ এ বর্ণিত বিপদজনক কাজে কিশোরদের নিয়োগ করা যাইবে না এবং বিধি ৬৮-তে উল্লিখিত বিপজ্জনক চালনাসমূহেও কোন কিশোরকে নিয়োজিত করা যাইবে না।
একজন গর্ভবতী মহিলা শ্রমিকের প্রতি মালিক ও অন্যান্য শ্রমিকের দায়িত্ব হইবে নিম্নরুপ, যথা:-
(ক) এমন কোন আচরণ বা মন্তব্য না করা যাহাতে যাহাতে তিনি শারীরিক বা মানসিকভাবে হেয় প্রতিপনড়ব হন বা অপমানিতবোধ করেন ;
খ) সরকার কর্তৃক ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অথবা তাহার স্বাস্থ্যের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ হয় এমন কোন কাজে নিয়োজিত না করা ;
(গ) ঝুঁকিবিহীন কাজে স্থানান্তর বা পদায়ন করা ;
(ঘ) কর্মকালীন লিফ্ট ব্যবহারে অগ্রাধিকার প্রদান করা ;
(ঙ) সন্তান প্রসব উত্তর কালে তাহার শিশুর দুগ্ধপানের সুযোগ ও পরিবেশ নিশ্চিত করা।
ধারা ৪৬(২) এর ক্ষেত্রে “কোন ছুটি পাইবার অধিকারী” বলিতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কর্তৃক অর্জিত বার্ষিক ছুটি এবং পীড়া ছুটিকে বুঝাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পীড়া ছুটি সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সন্তান-সম্ভাবার প্রত্যয়নই ডাক্তারী প্রত্যয়নপত্র হিসাবে গণ্য হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, উপরিউল্লিখিত ছুটি সমন্বয়ের পর যদি আরও ছুটির প্রয়োজন হয় সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে বিনা মজুরিতে ছুটি মঞ্জুর করিতে পারিবেন।
(১) ধারা ৪৭(১) মোতাবেক প্রয়োজনীয় নোটিস সন্তান প্রসবের পূর্বে ফরম-১৮ অনুযায়ী এবং ধারা ৪৭(২) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নোটিস সন্তান প্রসবের পরে ফরম-১৮(ক) মোতাবেক প্রদান করিতে হইবে।
(২) ধারা ৪৭(৪) মোতাবেক প্রসব পরবর্তী প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে কোন প্রসূতি স্ব-শরীরে উপস্থিত হইয়া উহা গ্রহণে অপারগ হইলে তাহার নিকট হইতে লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তিকে উহা প্রদান করিতে হইবে।
(৩) শ্রমিক কর্তৃক মৌখিক নোটিস প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের উক্তরূপ ছুটি মঞ্জুরকারী কর্মকর্তা কর্তৃক বিষয়টি উপরি-উক্ত ফরমে লিপিবদ্ধ করিয়া উহাতে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের স্বাক্ষর বা টিপসহি গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণকারী শ্রমিকগণের তথ্য ফরম-১৯ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৫) ধারা ৪৫(৩) এর শর্তাংশ অনুযায়ী সন্তান-সম্ভবা শ্রমিক কর্তৃক প্রদত্ত সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-১৭ অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(৬) প্রসূতি কল্যাণ সুবিধা গ্রহণকারী শ্রমিকগণের তথ্য সম্বলিত মাসিক রিটার্ন পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে এবং বার্ষিক রিটার্ন পরবর্তী বৎসরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাখিল করিতে হইবে।
(১) ধারা ৫১(ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ময়লা ও আবর্জনা অপসারণের উপযুক্ত পন্থা হিসাবে ঢাকনা দেওয়া বাক্সে উহা অপসারণ করিতে হইবে, যাহাতে উক্ত আবর্জনা হইতে দর্গন্ধ বা জীবাণু বিস্তার করিতে না পারে।
(২০) ধাতব পদার্ধ, উৎকট গন্ধময় আবর্জনা, রাসায়নিক আবর্জনা ও মেডিকেল আবর্জনা ভিনড়ব ভিনড়ব বাক্সে প্রতিদিন নিয়মিত অপসারণ করিতে হইবে।
ধারা ৫১(খ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রত্যেক কর্ম কক্ষ নি¤ড়বরূপভাবে ধৌত করিতে হইবে, যথা:
(ক) অবস্থা ভেদে এবং কাজের প্রকৃতি ভেদে উহা পানি দ্বারা ধৌত অথবা রাসায়নিক পদার্থ, তরল বা সলুশোন দ্বারা জীবাণুনাশ করা;
(খ) অবস্থা ভেদে ভিজা কাপড় দ্বারা মুছিয়া নেওয়া;
(গ) প্রয়োজনবোধে জীবানুনাশক ব্যবহার করা।
ধারা ৫১(গ) অনুযায়ী উৎপাদন প্রμিয়ার কারণে মেঝে বা কর্মকক্ষ ভিজিয়া যাইবার সম্ভাবনা থাকিলেজ্জ
(ক) উক্ত মেঝে অবশ্যই অভেদ্য পদার্থ (ওসঢ়বৎারড়ঁং সধঃবৎরধষ) দ্বারা নির্মিত হইতে হইবে;
(খ) উক্ত মেঝের নির্মাণ কৌশল ঢালু বিশিষ্ট এবং উপযুক্ত নিষ্কাশন নালার মাধ্যমে কারখানার মূল নর্দমা ব্যবস্থার সহিত সংযুক্ত থাকিতে হইবে, যাহাতে নিষ্কাশিত পানি অথবা কোন তরল পদার্থ মেঝেতে জমিয়া থাকিতে না পারে।
ধারা ৫১(ঘ) অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সকল অভ্যন্তরীণ দেওয়াল, পার্টিশন, ছাদ, সিড়ি ও যাতায়াত পথ রং বা বার্ণিশ করা থাকিলে এবং বহির্ভাগ মসৃণ হইলে প্রতি চৌদ্দ মাসে অন্তত একবার উহা পানি, ব্রাশ ও ডিটারজেন্ট দ্বারা ঘষিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে।
ধারা ৫১(ঘ)-তে উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পনড়ব করিবার তারিখ ধারা ৫১(ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ফরম-২০ অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ৫২(২) অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকক্ষে তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখিতে হইবে এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকক্ষে নির্মল বায়ু প্রবাহের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিপরীতমুখী জানালার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব নয় সেইখানে এক্সজস্ট ফ্যান (ঊীযধঁংঃ ঋধহ) স্থাপন করা যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, কর্মক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (ড্রাই ও ওয়েট) ব্যবস্থা থাকিলে বায়ু চলাচলের উপরি-উক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন হইবে না।
(২) ধারা ৫২(২) অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকক্ষে অন্তত একটি তাপ পরিমাপক যন্ত্র (থার্মোমিটার) সচল অবস্থায় রাখিতে হইবে এবং উহা যথাযথ মানসম্পনড়ব হইতে হইবে এবং কর্মকক্ষের দেয়ালের দৃশ্যমান স্থানে উহা স্থাপন করিতে হইবে।
(১) ধারা ৫৩(১) বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বা কর্মকক্ষে উৎক্ষিপ্ত ধূলা-বালি ও ধোঁয়ার কার্যকর নির্গমনের লক্ষ্যে ‘ডাস্ট সাকার’ সহ উপযুক্ত নির্গমন যন্ত্র স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে যেন কোনμমেই ধূলা-বালি বা ধোঁয়া কর্মকক্ষে বিস্তার করিতে না পারে।
(২) উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে ধূলা-বালি ও ধোঁয়াময় স্থানে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করিতে হইবে।
(৩) মহাপরিদর্শক কর্মকক্ষে ধূলা-বালি ও ধোঁয়া উৎক্ষেপনের সর্বোচ্চ মান নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(১) ধারা ৫৪ অনুযায়ী সকল বর্জ্য ও তরল অপসারণের ব্যবস্থা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংμান্ত দেশের প্রচলিত আইনানুগ বিধি-বিধান ও নির্দেশনা অনুযায়ী হইতে হইবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পরিদর্শকের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিদর্শক প্রয়োজন মনে করিলে শ্রমিকের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করিয়া বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) তরল বর্জ্য ও পানি বহনকারী সকল নর্দমা অভেদ্য মাল-মশলা দ্বারা মজবুত ও টেকসইভাবে উপযুক্ত ঢাকনাযুক্ত অবস্থায় নির্মাণ করিতে হইবে যাহাতে নিয়মিত পানি প্রবাহ থাকিবে এবং উক্ত বর্জ্য দূষণমুক্ত করিয়া অপসারণ করিতে হইবে।
(৪) উপরি-উক্ত উভয় বিষয়ে সন্তুষ্ট হইয়া পরিদর্শক উক্ত কারখানার বর্জ্য অপসারণে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অনুমোদন প্রদান করিবেন।
ধারা ৫২ ও ৫৫ অনুযায়ী তফসিল-১ এ বর্ণিত উপায়ে সূতা ও বয়ন কারখানায় বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম আর্দ্রকরণ রেকর্ড ফরম-২১ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ৫৭ অনুযায়ী যেখানে শ্রমিকগণ কাজ করিয়া থাকেন বা তাহাদিগকে নিয়োগ করা হয় সেই কর্মকক্ষের বা স্থানের আলোক ব্যবস্থা মেঝে হইতে ১.০ মিটার উচ্চতায় কমপক্ষে ৩৫০ লাক্স (খীঁ) হইতে হইবে।
(২) যদি মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধানের প্রয়োজন নাই সেই ক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিধান হইতে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন অথবা কর্মস্থলের উৎপাদন প্রμিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোক ব্যবস্থার মান নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(১) ধারা ৫৮ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সকল শ্রমিকের সহজগম্য এবং সুবিধাজনক স্থানে পান করিবার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে এবং উহা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) পান করিবার পানি সংরক্ষণের স্থানটি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ধৌতাগার, প্রক্ষালন কক্ষ অথবা শৌচাগার হইতে অন্যূন ৬ মিটার দূরত্বে স্থাপন করিতে হইবে।
(৩) উপ-বিধি (১) মোতাবেক সরবরাহকৃত পানিজ্জ
(ক) জীবাণুমুক্ত উপযুক্ত পাত্রে রাখিতে হইবে;
(খ) প্রতিদিন কমপক্ষে একবার বদলাইতে হইবে;
(গ) সকল প্রকার সংμমণ হইতে মুক্ত রাখিবার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে আধুনিক পানি পরিশোধন প্রμিয়ায় পরিশোধিত পানি পাত্রসহ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হইলে প্রতিদিন বদলানোর প্রয়োজন হইবে না।
(৪) যে স্থানে শ্রমিকদের পান করিবার পানি সরবরাহ করা হয় সেই স্থানে আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব এবং নালা সংযুক্ত অবস্থায় রাখিতে হইবে।
(৫) সরবরাহকৃত ভূগর্ভস্থ পানি বা অন্য কোনভাবে সরবরাহকৃত পানি বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উহা আর্সেনিক, জীবানুমুক্ত ও খাবার উপযুক্ত কি না উহা অন্তত: বৎসরে একবার বা পরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত হইলে সরকারের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারের অন্যকোন প্রতিষ্ঠান বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে মালিককে লিখিত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৬) যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন উহার প্রতিটিতে প্রতি বৎসর ১ এপ্রিল হইতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রমিকদের ক্যান্টিন, খাবার ঘর এবং বিশ্রাম ঘরে পান করিবার জন্য যে পানি সরবরাহ করা হয় উহা পানি ঠা-াকরণ যন্ত্র (ডধঃবৎঈড়ড়ষবৎ) অথবা অন্য কোন কার্যকর পন্থায় ঠা-া করিয়া সরবরাহ করিতে হইবে।
(৭) প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কোন যন্ত্রের কারণে যদি এমন তাপ সৃষ্টি হয় যাহা সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত তাপ উদ্রেক করে তাহা হইলে উক্ত যন্ত্রের সনিড়বকটে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ধারা ৫৮(৪) অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন অথবা গুড় বা চিনির শরবত সরবরাহ করিতে হইবে এবং এই গুড় বা চিনি মিশ্রিত শরবতের পরিমাণ প্রতি শ্রমিকের জন্য দৈনিক ন্যূনতম দুই লিটার হইতে হইবে।
ধারা ৫৯ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের সংখ্যা, উহার অবস্থান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতা তফসিল-২ অনুযায়ী হইতে হইবে।
(১) ধারা ৬০ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে-
(ক) প্রতি ১০০ জন শ্রমিকের জন্য অন্তত একটি করিয়া পৃক আবর্জনা ও পিকদানি বাক্স রাখিতে হইবে;
(খ) পিকদানি বালু ভর্তি থাকিতে হইবে এবং উহার উপরে ব্লিচিং পাউডার থাকিতে হইবে;
(গ) পিকদানিগুলি প্রতি ৭ দিন অন্তর একবার খালি করিয়া পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করিতে হইবে এবং দৈনিক অন্তত একবার উপরের এক স্তর বালি অপসারণ করিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে;
(ঘ) আবর্জনা বাক্স প্লাস্টিকের তৈরি ও ঢাকনাসহ থাকিতে হইবে এবং উহাতে প্রতিদিন জমাকৃত আবর্জনা অপসারণ করিতে হইবে ও উভয় ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করিতে হইবে;
(ঙ) উক্ত পিকদানি ও আবর্জনা বাক্স কর্মকক্ষের দরজার সনিড়বকটে স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে যাহাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় ও ময়লা আবর্জনা চোখে না পড়ে।
(২) কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে পিকদানি ও আবর্জনা বাক্স ব্যতীত অন্য কোথাও থু থু বা আবর্জনা ফেলিবে না এবং এই বিধান সম্পর্কে নোটিস কারখানার ভিতরে উপযুক্ত স্থানে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে টাঙ্গাইয়া রাখিতে হইবে।
(১) ধারা ৬১(১) বাস্তবায়নের জন্য সময় পরিদর্শক ভবন, পথ, যন্ত্রপাতি বা প্লান্টসহ উক্ত ধারায় উল্লিখিত বিষয়গুলি ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানের কোন দেওয়াল, চিমনি, সেতু, সুড়ঙ্গ, রাস্তা, গ্যালারী, সিঁড়ি, র্যাম্প, মেঝে, প্লাটফরম, মাচা, রেলপথ বা বৈদ্যুতিক বা যান্ত্রিক পদ্ধতির যানবাহন চালানোর রাস্তা বা অন্য কোন কাঠামো, উহা স্থায়ী বা অস্থায়ী যে রকমই হউক না কেন, বিবেচনায় আনিবেন যেন ইহা মানুষের জীবন বা নিরাপত্তার জন্য বিপদজনক না হয় :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরুপ ক্ষেত্রে এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত বা নির্মিত বা চালুকৃত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোন স্বীকৃত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম কর্তৃক ভবনের স্থায়িত্ব এবং ওজন বহন ক্ষমতা (ষড়ধফ পধঢ়ধপরঃু) এবং যন্ত্রপাতি ও অন্য যে কোন কাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রচলিত অন্যান্য আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি অনুসরণ করা হইয়াছে কিনা, উহার সনদ পরিদর্শকের নিকট দাখিল এবং প্রদর্শন করিবার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং যাচাই করিতে পারিবেন।
(২) এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পর কোন কারখানা ভবন নির্মাণ বা কোন ভবনে কারখানা স্থাপন করিতে হইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বা প্রয়োজ্য ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক জারিকৃত সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী নির্মিত হইয়াছে মর্মে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে সনদ গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) ধারা ৬১ (২) অনুযায়ী পরিদর্শক কর্তৃক প্রদান করা নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাহার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হইলে উহা চলমান অপরাধ অর্থাৎ প্রতিদিন কৃত অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) প্রতিষ্ঠানের ভবনের প্রতিটি কক্ষ যেখানে ২০ জনের অধিক সংখ্যক ব্যক্তি কাজ করেন সেই ক্ষেত্রে অন্যূন দুইটি করিয়া বর্হি:গমন পথ থাকিতে হইবে এবং এইগুলো এমনভাবে অবস্থিত থাকিবে যাহাতে প্রত্যেক ব্যক্তি তাহার কাজের স্থান হইতে বর্হি:গমন পথ পর্যন্ত বাঁধাহীনভাবে এবং স্বচ্ছন্দে পৌঁছাইতে পারে।
(২) উক্তরূপ বর্হিগমন পথ কোন শ্রমিকের কাজের স্থান হইতে পঞ্চাশ মিটারের অধিক দূরত্বে হইবে না এবং উহা প্রস্থে ১.১৫ মিটার এবং উচ্চতায় ২.০০ মিটারের কম হইতে পারিবে না।
(৩) যেক্ষেত্রে কোন প্রতিষ্ঠানের ভবনে বা ভবনের কোন অংশে নিচতলার উপরে কোন সময় ২০ বা ততোধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন অথবা যেখানে দাহ্য পদার্থ বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় বা জমা রাখা হয় অথবা প্রতিষ্ঠানের ভবন বা উহার অংশ ভূ-সমতলের নিচে অবস্থিত, সেই ক্ষেত্রে জরুরি মূহুর্তে বাহির হইবার উপায়ের মধ্যে ভবনের ভিতরে বা বাহিরে স্থায়ীভাবে নির্মিত কমপক্ষে দুইটি মজবুত এবং পৃক সিঁড়ির ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকিবে এবং এইগুলি অগিড়ব প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ এবং সরাসরি ও বাঁধাহীন যাতায়াতের ব্যবস্থা সম্বলিত হইতে হইবে।
(৪) আগুন লাগিলে বাহির হইয়া যাইবার জন্য ব্যবহৃতব্য প্রত্যেকটি সিঁড়ি মজবুত হ্যান্ড রেইলযুক্ত থাকিবে এবং উক্ত সিঁড়ি উহার রেইল তাপ অপরিবাহী ও অগিড়ব প্রতিরোধক পদার্থ দ্বারা নির্মাণ করিতে হইবে এবং সিঁড়িটি অমসৃণ হইতে হইবে।
(৫) উক্তরূপ সিঁড়ি এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পরে নির্মিত হইলে উহার উভয় পার্শ্বে হ্যান্ড রেইল যুক্ত থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা বলবৎ হইবার পূর্বে নির্মিত সিঁড়িসমূহ যদি উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত না হইয়া থাকে তাহা হইলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে উহা উভয় পার্শ্বে রেইল যুক্ত করিতে হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, যদি উক্ত সিঁড়ি রেলিং স্থাপনের জন্য প্রশস্ততা ১.১৫ মিটারের কম হইলে এই শর্ত প্রযোজ্য হইবে না।
(৬) কোন সিঁড়ি সমতল হইতে ৪৫ক্ক কোণের অধিক কৌণিক দূরত্বে নির্মাণ করা যাইবে না।
(৭) ছয় তলা পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট ভবনের কোন সিঁড়ি ১.১৫ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং ষষ্ঠ তলার অধিক উচ্চতাসম্পনড়ব ভবনের সিঁড়ি ২.০০ মিটারের কম প্রশস্ত হইবে না এবং বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থাবিহীন বিল্ডিং এবং স্প্রিঙ্কলার ব্যবস্থা সম্বলিত বিল্ডিং এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা জারির পূর্বে নির্মিত সকল বহুতল বিশিষ্ট কারখানা ভবনের ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিকের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদানের লক্ষ্যে সিঁড়ির প্রশস্ততা কোনμমেই ১.১৫ মিটারের কম হইবে না :
আরও শর্ত থাকে যে, পুরাতন অবকাঠামোজনিত কারণে যেখানে সিঁড়ির প্রশস্ততা বাড়ানোর সুযোগ নেই সেই ক্ষেত্রে সিড়ির প্রশস্ততা ০.৮২ মিটারের কম হইবে না।
(৮) দুইটি বহির্গমন পথ বা সিঁড়ি ৫০ মিটারের অধিক দূরত্বে এবং পরস্পরের সনিড়বকটে হইবে না এবং কমপক্ষে অর্ধেক সংখ্যক সিঁড়ির শেষ প্রান্ত ভবনের বহির্মুখী হইতে হইবে।
(৯) সিঁড়িতে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ও আলোর ব্যবস্থা থাকিতে হইবে যেন সিড়িঁটি ধোঁয়াচ্ছনড়ব বা অন্ধকারাচ্ছনড়ব না হইতে পারে এবং চিলেকোঠায় অবস্থিত দরজা কাজ চলাকালীন বন্ধ বা তালাবদ্ধ রাখা যাইবে না।
(১০) প্রতিটি ফ্লোরের ন্যূনতম একটি গ্রীলবিহীন জানালা থাকিবে যা কব্জাসংযুক্ত হইতে হইবে এবং যাহাতে জরুরি প্রয়োজনে খুলিয়া লেডার বা দড়ির মই এর সাহায্যে নীচে নামিয়া আসা যায় এবং নীচ তলায় শক্ত দড়ির জাল সংরক্ষণ করিতে হইবে যাহাতে অগিড়ব দুর্ঘটনার সময় জরুরি প্রয়োজনে দড়ি বহিয়া উক্ত জালে অবতরণ করা যায়।
(১১) ধারা ৬২ অনুযায়ী পরিদর্শক কর্তৃক প্রদত্ত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তাহার কর্তৃক নির্দেশিত নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে কোন মালিক বা কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হইলে উহা চলমান অপরাধ অর্থাৎ প্রতিদিন কৃত অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তলায় প্রতি ১০০০ বর্গমিটার মেঝে এলাকার জন্য ২০০ লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পনড়ব পানি ভর্তি একটি ড্রাম এবং ১০ লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পনড়ব চারটি করিয়া ধাতব পদার্থ দ্বারা নির্মিত লাল রংয়ের খালি বালতি ঝুলন্ত অবস্থায় সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে, এবং প্রতিটি বালতিজ্জ
(ক) বাংলাদেশ ষ্ট্যান্ডার্ড স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী যথাযথ মানসম্পনড়ব হইতে হইবে;
(খ) পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত অবস্থানে রাখিতে হইবে এবং আগুন নিভানো ব্যতীত অন্য কোন কাজে ব্যবহৃত হইবে না এবং অগিড়ব নির্বাপনের জন্য ব্যবহার্য লেখা সম্বলিত হইতে হইবে;
(গ) কেবলমাত্র দাহ্য তরল বা অন্য পদার্থ হইতে যেখানে আগুন লাগিবার ঝুঁকি বর্তমান এবং যেখানে পানি ব্যবহারযোগ্য নয় সেই ক্ষেত্র ব্যতীত, সব সময় বালি ভর্তি রাখিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানটি যদি ফায়ার হাইড্রেন অথবা স্পির্ঙ্কলার দ্বারা সুরক্ষিত থাকে তবে উপরি-উক্ত বিধানাবলি প্রযোজ্য হইবে না;
(ঘ) প্রত্যেক ভবনে প্রতি ৮৫০ বর্গমিটার স্থানের জন্য প্রতি তলায় ফায়ার সার্ভিস বিভাগের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী একটি হোজরিল পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত
স্থানে স্থাপন করিতে হইবে, উহাতে অবারিত পানির সংযোগ থাকিবে এবং প্রতি বৎসর ন্যূনতম একবার পরীক্ষার ব্যবস্থা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, অগিড়ব নির্বাপনের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হইয়া উহা লিখিতভাবে রেকর্ডপূর্বক মহাপরিদর্শক কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের
বিধান প্রতিপালন শিথিল করিতে পারিবেন।
(২) ৯০ বর্গমিটার অধিক আয়তনের মেঝে বিশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এবং যেখানে দাহ্য তরল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং দাহ্য ধাতু ব্যতীত অন্য দাহ্য বস্তু হইতে আগুন লাগিতে পারে সেখানে উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত নির্ধারিত বালতির অতিরিক্ত প্রতি ৯০ বর্গমিটার স্থানের জন্য একটি ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার অগিড়বনির্বাপক বা অনুরূপ ধরনের বহনযোগ্য অগিড়ব নির্বাপক যন্ত্র রাখিতে হইবে।
(৩) যে সব প্রতিষ্ঠানে দাহ্য তরল হইতে বা গ্লোজ বা পেইন্ট হইতে আগুন লাগিতে পারে, সেখানে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত মাত্রায় অগিড়বনির্বাপণ যন্ত্র রাখিতে হইবে এবং সেইগুলি ফোম টাইপ, ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (এ বি সি টাইপ), কার্বন-ডাই-অক্সাইড, অগিড়বনির্বাপক বা অনুরূপ ধরনের হইতে হইবে।
(৪) যেসব প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাদি হইতে আগুন লাগিবার সম্ভাবনা থাকে সেইখানে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত মাত্রায় অগিড়বনির্বাপক যন্ত্র রাখিতে হইবে এবং উহা কার্বন-ডাই-অক্সাইড, ড্রাই ক্যামিকেল পাউডার নির্মিত বা অনুরূপ পদার্থ স¤¦লিত হইতে হইবে।
(৫) যে সব প্রতিষ্ঠানে ম্যাগনেশিয়াম, এ্যালুমিনিয়াম বা জিংক-এর গুঁড়া বা চাঁচ অথবা অন্য দাহ্য ধাতু হইতে আগুন লাগিবার সম্ভাবনা থাকে সেইখানে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বা ফোম টাইপের অগিড়বনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করা যাইবে না এবং সেইখানে আগুন নিভানোর জন্য
ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার (‘ডি’ টাইপ), পর্যাপ্ত পরিষ্কার মিহি শুকনা বালি, পাথরের গুঁড়া এবং অন্য অদাহ্য পদার্থ মজুদ রাখিতে হইবে।
(৬) প্রত্যেক বহনযোগ্য অগিড়বনির্বাপক যন্ত্র পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত স্থানে স্থাপন করিয়া রাখিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মহাপরিদর্শক যেক্ষেত্রে এইরূপ অভিমত প্রদান করেন যে, প্রতিষ্ঠানের ভবন বা কক্ষে অগিড়বনির্বাপণী কর্তৃপক্ষ (ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর) দ্বারা অনুমোদিত এবং স্বীকৃত পন্থায় পর্যাপ্ত স্বয়ংμিয় অগিড়বনির্বাপক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হইয়াছে এবং সেইখানে এই
উপ-বিধির শর্ত শিথিল করা যাইতে পারে, সেই ক্ষেত্রে তিনি উক্ত ভবন বা কক্ষের ব্যাপারে যে পরিমাণে উক্ত শর্ত শিথিল করা হইয়াছে উহা লিখিতভাবে উল্লেখপূর্বক এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে পারিবেন।
(৭) উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত প্রতিটি অগিড়বনির্বাপক যন্ত্রজ্জ
(ক) এমন সুদৃশ্য স্থানে স্থাপন করিতে হইবে যেন সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে;
(খ) তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারের জন্য সকল অংশ হইতে প্রবেশযোগ্য স্থানে স্থাপন করিতে হইবে;
(গ) যতদূর সম্ভব প্রত্যেক ফ্লোরের বর্হিগমন হইবার পথ (ঊীরঃ) অথবা সিঁড়ির ভূসংযোগস্থল (ঝঃধরৎ খধহফরহম) এর নিকটবর্তী স্থানে স্থাপন করিতে হইবে,তবে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন কোন অবস্থাতেই জরুরি নির্গমন বাঁধাগ্রস্থ না হয়;
(ঘ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দেওয়াল (ংঁঢ়ঢ়ড়ৎঃরহম ধিষষ) অথবা কাঠের, ধাতব ও প্লাস্টিকের তৈরি কেবিনেটে এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে যেন অগিড়বনির্বাপক
যন্ত্রের তলদেশ ভূসমতল (মৎড়ঁহফ ষবাধষ) হইতে ১০০০ মিলিমিটার উপরে হয়;
(ঙ) প্রত্যেক ফ্লোরের একই স্থানে স্থাপন করিতে হইবে;
(চ) ভবনের অগিড়ব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা যেমন-রানড়বাঘর, জনবহুল এলাকা (পৎড়ফিবফধৎবধ), গুদাম, বৈদ্যুতিক বিভাজন পয়েন্ট, দাহ্যবস্তু সম্বলিত এলাকা, ইত্যাদি
স্থানে স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা বহনযোগ্য (ঢ়ড়ৎঃধনষব) অগিড়বনির্বাপক যন্ত্র হইতে হইবে;
(৮) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের ভবনের প্রত্যেক ফ্লোরে সহজে দৃশ্যমান এক বা একাধিক স্থানে বহির্গমন পথের নকশা (ঊাধপঁধঃরড়হ চষধহ) প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(৯) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেক টাইপের অগিড়বনির্বাপক যন্ত্রের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ স্পেয়ার চার্জ মজুত রাখিতে হইবে এবং প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায় এমন অবস্থায় সর্বাধিক স্পেয়ার চার্জ সর্বদা মজুত এবং প্রস্তুত রাখিতে হইবে।
(১০) যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শ্রমিককে, অন্তত প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক বিভাগে নিযুক্ত শ্রমিকদের কমপক্ষে ১৮% শ্রমিককে অগিড়বনির্বাপণ জরুরি উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং বহনযোগ্য অগিড়বনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করিতে হইবে এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শ্রমিকদের মধ্য হইতে অগিড়বনির্বাপক দল, উদ্ধারকারী দল ও প্রাথমিক চিকিৎসা দল (প্রতি দলে ৬% সদস্য) গঠন করিয়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে হইবে এবং ফরম-২২ অনুযায়ী এতদসম্পকির্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১১) অগিড়বনির্বাপণ, উদ্ধারকারী ও প্রাথমিক চিকিৎসা দলকে কাজ চলাকালীন অবশ্যই নির্ধারিত পোশাক পরিধান করিতে হইবে এবং উক্ত পোশাক হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা:জ্জ
(ক) অগিড়বনির্বাপণ দল - হলুদ রং এর এপ্রোণ পিছনে লাল রং এ ‘আগুন’ (ঋরৎব) লিখা থাকিবে;
(খ) উদ্ধারকারী দল - হলুদ রং এর এপ্রোণ পিছনে লাল রং এ ‘উদ্ধার’ (জবংপঁব) লিখা থাকিবে ;
(গ) প্রাথমিক চিকিৎসা দল - সাদা রং এর এপ্রোণ পিছনে লাল রং এ ‘প্রাথমিক চিকিৎসা’ (ঋরৎংঃ অরফ) লিখা থাকিবে।
(১২) কমপক্ষে ৫০০ জন শ্রমিক কর্মরত এইরূপ সকল প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় একজন ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাখিতে হইবে যাহার দায়িত্ব হইবে সব অগিড়বনির্বাপক সরঞ্জামাদির যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রস্তুত রাখা এবং উপ-বিধি ১০ এ উল্লিখিত তিনটি দলকে প্রতি ছয় মাস অন্তর পুনঃপ্রশিক্ষণ প্রদান করা।
(১৩) প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান বা কারখানায় আগুন লাগিলে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে এবং অগিড়বনির্বাপক বিধিমালার যথাযথ কার্যকরীকরণের জন্য একটি বিস্তারিত ‘অগিড়বনির্বাপণী পরিকল্পনা’ প্রস্তুত করিবেন।
(১৪) ধারা ৬২(৮) অনুসারে প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার অগিড়বনির্বাপণ ও দুর্ঘটনার সময় জরুরি নির্গমনের মহড়ার আয়োজন করিতে হইবে এবং ফরম-২২(ক) অনুযায়ী রেকর্ডবুক সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং মহড়া আয়োজনের কমপক্ষে ১৫ দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক এবং নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনকে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে।
(১৫) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে অগিড়ব নির্বাপণের প্রয়োজনে অন্তত ৫০০০ লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পনড়ব একটি জলাধারের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে এবং উহা সব সময় পানি দ্বারা পূর্ণ থাকিতে হইবে এবং হোজরিলের সহিত সংযুক্ত রাখিতে হইবে এবং উক্ত জলাধার ভবনের কাঠামোর উপর কোন প্রকার চাপ বা ঝুঁকি সৃষ্টি করিতে পারিবে না:
তবে শর্ত থাকে যে, একই ভবনে একাধিক প্রতিষ্ঠান থাকিলে প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ এবং ভবন মালিক সম্মিলিতভাবে উপরি-উক্ত পদ্ধতিতে জলাধার স্থাপন করিতে পারিবেন।
(১৬) একই এলাকায় পাশাপাশি ভবনে অবস্থিত কয়েকটি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ কর্তৃক যৌথভাবে একটি সুবিধাজনক স্থানে অগিড়ব নির্বাপণের লক্ষ্যে ইচ্ছা করিলে যৌথভাবে প্রত্যেক কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত পাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত করিয়া যান্ত্রিক গভীর নলকূপ (উববঢ়ঃঁনববিষষ) বা বৈদ্যুতিক পাম্পযুক্ত জলাধারের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এই ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক উপ-বিধি (১৫) প্রতিপালন হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(১৭) উপ-বিধি (১৫) এবং (১৬) তে উল্লিখিত গভীর নলকূপ বা জলাধার ব্যবস্থার পরিকল্পনা ও নক্সা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমোদনμমে স্থাপন করিতে হইবে।
(১৮) এই বিধিতে বর্ণিত বিষয়াদি প্রতিপালন করিবার ক্ষেত্রে অগিড়ব প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী আরো কোন কিছু প্রতিপালন করা প্রতিভাত হইলে উহা সম্পাদন করিতে হইবে।
যন্ত্রপাতি ঘিরিয়া রাখিবার ব্যাপারে ধারা ৬৩(১) এর কোন বিধান লংঘন না করিয়া, অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিদর্শক লিখিত নির্দেশ প্রদান করিলে অনুরূপ নির্দেশ উল্লিখিত যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(১) ধারা ৬৪(১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যন্ত্রপাতি চালনা, পরীক্ষা বা মেরামতের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের তালিকা ফরম-২৩ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) চালু যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চালনা করা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকিলে এবং অনুরূপ চালু যন্ত্রপাতির কাজ সংশ্লিষ্ট বিপদ-আপদ সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান না থাকিলে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা যাইবে না।
(৩) ধারা ৬৪(১) এর বিধান মোতাবেক উক্তরূপ কাজ করাইবার জন্য নির্দিষ্ট শ্রমিককে ঝুঁকি ভাতা প্রদান করিতে হইবে ও মালিক তাহাকে প্রয়োজনীয় আঁটসাট পোশাক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা উপকরণ সরবরাহ করিবেন।
(৪) উপ-বিধি (৩) এ উল্লিখিত পোশাক হিসাবে কমপক্ষে একজোড়া মোটা সুতি কাপড়ের আঁটসাট প্যান্ট এবং আঁটসাট হাতাকাটা জামা থাকিবে এবং নূতন পোশাক সরবরাহ করা হইলে পুরানো পোশাক বা শ্রমিকের চাকরি অবসান করা হইলে উক্ত সরবরাহকৃত পোশাক মালিককে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন এবং সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি যথাযথ আকৃতির এবং পর্যাপ্ত শক্তিসম্পনড়ব হইতে হইবে এবং এমনভাবে নির্মিত, সংরক্ষিত ও কার্যকর হইতে হইবে যাহাতে উহা কোন ব্যক্তির দৈহিক ঝুঁকির কারণ না হয়।
(২) কারখানা বা প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যাইবার পূর্বে বা ব্যবসা বা সেবা চালু করিবার পূর্বে অবশ্যই বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং এর উপযুক্ততা সনদ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যেখানে কোন প্রকার বিদ্যুৎ সরবরাহ রহিয়াছে এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হয় সেইখানে এমন স্বয়ংμিয় কারিগরি কৌশল স্থাপন করিতে হইবে, যাহার ফলে কোন প্রকার বৈদ্যুতিক বা অগিড়বকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটিলে যে কোন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্বয়ংμিয়ভাবে অচল হইয়া যাইবে।
(৪) উক্তরূপ কারিগরি কৌশল স্থাপনের ব্যাপারে পরিদর্শক নিশ্চিত হইলে তিনি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে গৃহীত রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনার সময় উক্ত কারিগরি কৌশলটি বিবেচনায় গ্রহণ করিবেন।
(৫) প্রতিটি বহনযোগ্য হাত-বাতি অবশ্যই অপরিবাহী পদার্থ দ্বারা বেষ্টিত হাতল সংযুক্ত হইতে হইবে এবং উহার বাল্বটি অবশ্যই ল্যাম্পধারকের ধাতব অংশ হইতে বযুক্তভাবে ভিতরে খাঁচার মধ্যে রাখিতে হইবে।
(৬) বাস্তবসম্মত বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি নমনীয়ভাবে এবং সরবরাহ লাইনের মধ্যবর্তী সংযোগ যথাযথভাবে ডিজাইন করিয়া থ্রিপিন প্লাগ ও সুইচ সমেত সকেট সংযুক্ত রাখিতে হইবে, যাহাতে ভুল অন্তঃপ্রবেশ সম্ভব না হয়।
(৭) সকল বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও সুইচ বোর্ডসমূহ বিদ্যুত অপরিবাহী পদার্থ দ্বারা ’কনসিল ওয়ারিং’ এর মাধ্যমে সম্পনড়ব করিতে হইবে।
(৮) নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করিতে প্রতি ১২ (বারো) মাসে অন্তত একবার অথবা সার্টিফিকেটে প্রদত্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে একজন উপযুক্ত লাইসে›সপ্রাপ্ত ওয়্যারিং পরিদর্শক বা প্রতিষ্ঠান দ্বারা কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাংগ আর্থিং (বধৎঃযরহম) ও ওয়্যারিং (রিৎরহম) পরীক্ষা করাইয়া ফলাফলসহ প্রত্যয়নপত্র সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৯) বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং ও উহা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান হইতে সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদান করা যাইবে না।
(১০) ব্যবহার্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ধরন, পরিকল্পনা এবং কারখানার যে কোন অংশে যেখানে দহনযোগ্য বা বিস্ফোরক মিশ্রণ ব্যবহৃত হয় বা জমা রাখা হয় সেই অংশের বৈদ্যুতিক তারের লাইন লাগানোর ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।
প্রতিষ্ঠানের কোন স্থানে যন্ত্রপাতি স্থাপনের ক্ষেত্রে দেওয়াল হইতে যন্ত্রের দূরত্ব কমপক্ষে ১ মিটার হইতে হইবে এবং স্থাপিত যন্ত্র বা যন্ত্রসারির পাশে কমপক্ষে ১ মিটার প্রশস্ত চলাচলের রাস্তা থাকিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বর্তমানে চলমান প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থান সংকুলানের ব্যবস্থা না থাকিলে দেওয়াল হইতে যন্ত্রপাতির দূরত্ব এবং চলাচলের রাস্তা ন্যূনতম ০.৭৫ মিটার রাখা যাইবে।
(ক) কোন প্রতিষ্ঠানে কেবলমাত্র সূক্ষ¥ সুতার দড়ি বা সুতার দড়ির বন্ধনী ব্যতীত অন্য কোন উত্তোলক যন্ত্রপাতি এবং কোন শিকল, দড়ি বা ভারোত্তোলনের দড়ি দ্বারা কপিকল ফরম-৩০ অনুযা(১) ধারা ৬৮ ও ৬৯ অনুসরণের ক্ষেত্রে নি¤ড়ববর্ণিত ব্যবস্থাদি গ্রহণ করিতে হইবে, যথা:
য়ী ঘোষিত যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করাইয়া বা সবগুলো যন্ত্রাংশ সম্পূর্ণভাবে পরখ না করাইয়া প্রমবারের মত ব্যবহারে লাগানো যাইবে না এবং অনুরূপ পরীক্ষাকারী ব্যক্তির নিরাপদ বহন ক্ষমতা বা চলন ক্ষমতা উল্লেখপূর্বক অনুরূপ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফলসহ একটি প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করিতে হইবে এবং উহা পরিদর্শনের জন্য সংরক্ষিত রাখিতে হইবে;
(খ) সকল জিব μেন এমনভাবে নির্মিত হইবে যেন সঞ্চালক অংশে উঠানামা করাইয়া নিরাপদ বহন ক্ষমতার তারতম্য করানো যায়, জিবের নোয়াবার বা বোঝার ব্যাসার্ধের সহিত যথাযথ বহন ক্ষমতা নির্দেশ করিবার জন্য স্বয়ংμিয় ইন্ডিকেটর জিবটির সহিত যুক্ত থাকিতে হইবে;
(গ) ব্যবহার করা হইতেছে এমন সকল ধরনের এবং সকল আকৃতির শিকল, দড়ি বা ভারোত্তোলক দড়ি কপিকলের নিরাপদ ভারবহন কর্মক্ষমতা প্রদর্শন করে একটি ছকের যৌগিক ঝোলানো শিকলির বিভিনড়ব পাত্রের বিভিনড়ব কোণ হইতে ভারোত্তোলন ক্ষমতার ছক গুদাম ঘরে বা শিকল, দড়ি বা কপিকল ব্যবহার করা যাইবে না এবং কোন ভারোত্তোলক দড়ি কপিকলের গায়ে ইহার নিরাপদ ভারবহন ক্ষমতা বা যৌগিক ঝুলানো শিকলিতে প্রতিটি পায়ের বিভিনড়ব কোন হইতে ভারোত্তোলন ক্ষমতা পরিষ্কারভাবে ইহার গায়ে লিখিত থাকিলে এই উপ-বিধির বিধান সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না;
(ঘ) ধারা ৬৮(ক)(৩) ও ৬৯(১)(গ) এর ক্ষেত্রে প্রত্যেক পরীক্ষার প্রতিবেদনে নি¤ড়ববর্ণিত বিবরণসমূহ ফরম-২৪ অনুযায়ী রক্ষিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতে হইবে এবং উহা পরিদর্শনের জন্য সংরক্ষিত থাকিতে হইবে, যথা :জ্জ
(অ) প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা;
(আ) মালিকের নাম;
(ই) উত্তোলক যন্ত্র, শিকল, দড়ি বা ভারোত্তোলক শিকল ও কপিকলে সনাক্তকরণযোগ্য নম্বর, চিহ্ন ও বিবরণ;
(ঈ) প্রতিষ্ঠানে প্রম কোন তারিখে উত্তোলক যন্ত্র, শিকল, দড়ি বা উত্তোলক কপিকল ব্যবহার শুরু হইয়াছে;
(উ) দফা (ক) মোতাবেক পরীক্ষা ও যাচাইপূর্বক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্রের নম্বর ও তারিখ এবং যে ব্যক্তি উক্ত প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিয়াছেন তাহার নাম ও ঠিকানা;
(ঊ) মেয়াদ সংμান্ত সামগ্রী পরীক্ষার তারিখ এবং কাহার দ্বারা উক্ত পরীক্ষা সম্পাদিত হইয়াছে;
(ঋ) যে তারিখে উক্ত হয়েস্ট বা লিফটের বিভিনড়ব যন্ত্রপাতি, শিকল, দড়ি বা অন্যান্য অংশ পাইন বা উত্তাপের সাহায্যে সারাই করা হইয়াছে এবং উক্ত কাজ যিনি করিয়াছেন তাহার নাম ও ঠিকানা;
(এ) পরীক্ষার সময় নিরাপদ ভার বহনের প্রতিকূল কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে উহার বিবরণ অথবা অনুরূপ ত্রুটি সরানোর জন্য পাইন দেওয়া বা অন্য কোন ব্যবস্থা গৃহীত হইয়া থাকিলে তাহার বিবরণ;
(ঙ) ঝুলাইয়া রাখিবার দড়ি ব্যতীত অন্য সব শিকল এবং উত্তোলক দড়ি বা কপিকল, মহাপরিদর্শক কর্তৃক অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হইলে, নির্ধারিত সময়ান্তে ফরম-৩০ অনুযায়ী ঘোষিত যোগ্য ব্যক্তির তত্ত্বাবধানে নি¤ড়ববর্ণিতভাবে পাইন প্রদান করিতে হইবে, যথা:
(অ) গলিত ধাতু বা গলিত ধাতুমল দ্বারা প্রস্তুতকৃত বা আধা ইঞ্চি বা ইহার চেয়ে ছোট বার দ্বারা প্রস্তুতকৃত হইলে সকল চেইন, ঝুলানো শিকল, রিং, হুক, কুলুপ এবং আংটা প্রতি ৬ (ছয়) মাসে অন্তত একবার; এবং
(আ) সাধারণ ব্যবহার্য অন্য সব শিকল, রিং, হুক, কুলুপ এবং আংটা প্রতি ১২ (বার) মাসে অন্তত একবার:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রায়শই ব্যবহৃত হয় না এমন শিকল এবং উত্তোলক দড়ি, কপিকল, কেবলমাত্র যখন প্রয়োজন হইবে তখন মহাপরিদর্শকের অনুমোদন সাপেক্ষে পাইন দিতে হইবে এবং অনুরূপ পাইন দেওয়া হইলে উহা দফা (ঘ) তে বর্ণিত রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিতে হইবে;
(চ) নি¤ড়ববর্ণিত শ্রেণির শিকল এবং উত্তোলক দড়ি বা কপিকলের ক্ষেত্রে দফা (ঙ) এর কোন কিছু প্রযোজ্য হইবে না, যথা:
(অ) নমনীয় ঢালাই লোহার তৈরি শিকল ;
(আ) প্লেট সংযোগ শিকল ;
(ই) ইস্পাত বা অলৌহ জাতীয় ধাতুর তৈরি শিকল, রিং, হুক, আংটা ও কুলুপ ;
(ঈ) দাঁতওয়ালা চাকা বা প্রোথিত চাকার উপর কার্যরত সংযুক্ত শিকল ;
(উ) সংযুক্ত শিকল, কপিকল ব্যবস্থা বা ওজন বহনের যন্ত্রের সহিত স্থায়ীভাবে যুক্ত হুক এবং আংটা বা কুলুপ;
(ঊ) সুতার মত অংশবিশিষ্ট ¯ঙঊু সম্বলিত হুক এবং কুলুপ বা বল-বিয়ারিং বা অন্য শক্ত বাক্স ;
(ঋ) ধাতু খাদ মিশানো কঠিন টিনের ঢাকনাযুক্ত তারের দড়ির সহিত সংযুক্ত সকেট বেড়ি ;
(এ) বোরদো (ইড়ৎফবধীঁ) সংযোগ:
তবে শর্ত থাকে যে, যেসব শিকল বা উত্তোলক দড়ি বা কপিকলে পাইন দেওয়ার পরিবর্তে “নরমালাইজিং” নামক তাপ প্রয়োগ প্রμিয়া চালানো হইয়াছে সেইসব শিকল বা উত্তোলক দড়ি বা কপিকল প্রতি ১২ (বার) মাসে কমপক্ষে একবার উপযুক্ত ব্যক্তি দ্বারা পূর্ণাঙ্গভাবে পরীক্ষা করাইতে হইবে;
(ছ) ঝুলাইয়া রাখিবার কাজে ব্যবহৃত আঁশের দড়ি বা আঁশের দড়ি ব্যতীত সব উত্তোলক যন্ত্রপাতি, শিকল, দড়ি বা কপিকল, ইত্যাদি কোন কিছু ঝালাই বা অন্য প্রμিয়ায় দৈর্ঘ্যে বাড়ানো বা পরিবর্তন করা হইলে বা মেরামত করা হইলে সেইগুলি পুনরায় ব্যবহার করিবার পূর্বে, যোগ্য ব্যক্তি দ্বারা পর্যাপ্তভাবে পুনঃপরীক্ষা করিতে হইবে এবং অনুরূপ পরীক্ষা বা যাচাই-এর জন্য প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে;
(জ) যে সব রেলের উপর দিয়া সচল μেন চালানো হইয়া থাকে এবং যে সব লাইনের উপর দিয়া পরিবাহকের গাড়ি চলাচল করে সেইসব রানওয়ে যথাযথ আকৃতির এবং পর্যাপ্ত শক্তিধর হইতে হইবে এবং সেইগুলির চলাচল তল সমতল হইতে হইবে এবং অনুরূপ প্রতিটি রেল বা লাইন যথাযথভাবে স্থাপিত ও পর্যাপ্ত ভারবহন ক্ষমতাসম্পনড়ব হইতে হইবে এবং উহা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে;
(ঝ) ম্যাগনেটিক μেন চালানের ক্ষেত্রে প্রধান বিদ্যুৎ প্রবাহে বিঘড়ব ঘটিলে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিনড়ব রাখিবার জন্য ব্যাটারি বা জেনারেটরের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে;
(ঞ) ১৮ বৎসরের নি¤ড়ববয়স্ক কোন ব্যক্তিকে, পর্যাপ্ত শক্তি বা অন্য যে কোনভাবে চালিত বা চালককে সংকেত দেওয়ার জন্য চালিত হউক না কেন, নিয়োগ করা যাইবে না;
(ট) চলাচলকারী μেনের উপরের অংশ নিরাপদ সিঁড়ি সজ্জিত হইতে হইবে অথবা μেনের ক্যাব পর্যন্ত এবং ক্যাব হইতে ব্রীজ পর্যন্ত যাতায়াতের জন্য মই সংযুক্ত থাকিতে হইবে;
(ঠ) চলমান μেনের উপরের অংশের ব্রীজে চলাচলের পথ বা প্লাটফর্ম শেষ মাথায় চাকা বদলানো বা মেরামতের জন্য নিরাপদ অবলম্বন যুক্ত না হইলে উভয় প্রান্তের শেষ মাথায় এতদুদ্দেশ্যে নিরাপদ প্লাটফর্ম প্রস্তুত করিতে হইবে;
(ড) লিফ্টের ক্ষমতার অতিরিক্ত ভার হইলে উহার চলাচল স্বয়ংμিয়ভাবে বন্ধ হইবার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে এবং এই বিধির ক্ষেত্রে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ বলিতে কোন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিকাল বিভাগের ওয়ার্কশপ তত্ত্বাবধায়ক ব্যক্তিকে বুঝাইবে এবং সরকার ফরম-৩০ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উপযুক্ত বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবে।
(২) যে কোন কারখানার কোন বিশেষ চলমান μেনের উপরাংশের ব্যাপারে মহাপরিদর্শক তাহার লিখিত শর্ত সাপেক্ষে এই বিধির যে কোন বিধান প্রয়োগ হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
ধারা ৭০(৩) অনুসারে ঘূর্ণায়মান যন্ত্রপাতির অতিরিক্ত গতিনিয়ন্ত্রণের জন্য স্বয়ংμিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিনড়ব হইবার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
(১) ওয়ার্কিং সিলিন্ডার বা প্রধান চালিকা যন্ত্র ব্যতীত প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত প্রত্যেক প্ল্যান্ট বা মেশিনারী বায়ুমন্ডলের স্বাভাবিক চাপ অপেক্ষা অধিকতর চাপে চালিত হইলেজ্জ
(ক) উপযুক্ত শক্তিসম্পনড়ব কার্যকর পদার্থ দ্বারা ত্রুটিহীন ও উত্তমরূপে নির্মিত হইতে হইবে ;
(খ) নিরাপদ অবস্থায় যথোপযুক্তভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে ;
(গ) নি¤ড়ববর্ণিত সরঞ্জামাদি দ্বারা সজ্জিত বা নির্মিত (ঋরঃঃবফ) হইতে হইবে, যথা:-
(অ) সর্বোচ্চ চাপ সহনীয় ক্ষমতা (ডড়ৎশরহম চৎবংংবৎ) অতিμান্ত না হয় তাহার নিশ্চয়তা বিধায়ক একটি নিরাপত্তা বাল্ব বা অনুরূপ কার্যকর কৌশল ;
(আ) সহজে দৃষ্টিগ্রাহ্য যথোপযুক্ত প্রেসার গেজ বা মিটার;
(ই) যথোপযুক্ত স্টপ বাল্ব; এবং
(ঈ) পুঞ্জীভূত তরল পদার্থ নিঃসরণের জন্য নিমড়বভাগে যথোপযুক্ত ড্রেন কক বা বাল্ব সংযোজন :
তবে শর্ত থাকে যে, সেইফটি বাল্ব, প্রেসার গেজ ও ষ্টপ বাল্ব যদি ভ্যাসেলের নিকটবর্তী পাইপ লাইনের উপরে থাকে তাহা হইলে উহা এই দফা মোতাবেক হইতে হইবে এবং কোন প্ল্যান্টে এক বা একাধিক ভ্যাসেল একই প্রেসার লোডে চলিলে এক সেট মাউন্টিং সংযোজন করিতে হইবে, তবে উহা পরস্পর হইতে বিচ্ছিনড়ব করা যাইবে না ;
(ঘ) যোগ্য ব্যক্তির দ্বারা উহা নি¤ড়ববর্ণিতভাবে পরীক্ষা করাইতে হইবে, যথা:-
(অ) ভ্যাসেলের সাধারণ অবস্থা ও ইহার ফিটিং-এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করিবার জন্য ছয়মাস অন্তর একবার বহির্বিভাগ;
(আ) অভ্যন্তর ভাগে প্রতি বার মাসে একবার ভ্যাসেলের ভিতর ও বাইরের দেয়াল, সিমস ও টাইম ভ্যাসেলের যন্ত্রাংশের কার্যকারিতা এবং সেরোসনের ত্রুটি:
তবে শর্ত থাকে যে, ভ্যাসেলের নির্মাণগত কারণে ভিতরে পরীক্ষা করা সম্ভব না হইলে প্রতি দুই বৎসর অন্তর হাইড্রোলিক পরীক্ষা করিতে হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, এই সময়সীমা চার বৎসর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যাইতে পারে;
(ই) প্রত্যেক চার বৎসরের মধ্যে অন্যূন একবার হাইড্রোলিক পরীক্ষা:
তবে শর্ত থাকে যে, তামা বা অন্য কোন অলৌহ ধাতু দ্বারা তৈরি সাইজিং সিলিন্ডারের মত পাতলা দেওয়ালের প্রেসার ভেসেলের ক্ষেত্রে উপ-দফা (আ) তে বর্ণিত বিধান পালন সাপেক্ষে হাইড্রোলিক পরীক্ষা করিতে হইবে।
(২) তামা বা অন্য কোন অলৌহ ধাতু দ্বারা তৈরি সাইজিং সিলিন্ডারের মত পাতলা দেওয়ালের প্রেসার ভেসেলের ক্ষেত্রে নিরাপদ কাজের প্রেসার পাঁচ বৎসর মূল ওয়ার্কিং প্রেসার হইতে প্রতি বৎসর শতকরা পাঁচভাগ হারে হ্রাস করিতে হইবে এবং কোন অবস্থাতেই ২০ বৎসরের অধিক অনুরূপ সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাইবে না।
(৩) নির্মাণের তারিখ, দেয়ালের ঘনত্ব এবং নিরাপদ ওয়ার্কিং প্রেসার সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া না গেলে কারখানা ব্যবস্থাপকের নিকট হইতে প্রাপ্ত অন্য যে কোন তথ্য গ্রহণ করিয়া মহাপরিদর্শকের সহিত আলোচনাμমে কোন যোগ্য ব্যক্তি সিলিন্ডার কত দিনের উহা নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
(৪) মেরামত করা হইয়াছে এবং নিরাপত্তা বিঘিড়বত হইতে পারে এমন প্রত্যেক নূতন ও পুরাতন পাতলা দেয়াল বিশিষ্ট সিলিন্ডার ব্যবহারের পূর্বে পরীক্ষা করিতে হইবে।
(5)--------- ------------ -------- -------
(১) কোন প্রতিষ্ঠানের কোন পুরুষ বা মহিলাকে নি¤ড়ববর্ণিত ওজনের অতিরিক্ত ওজনবিশিষ্ট কোন দ্রব্য, যন্ত্রপাতি, হাতিয়ার বা সরঞ্জাম কাহারো সাহায্য ব্যতীত হাতে বা মাথায় করিয়া উত্তোলন, বহন বা অপসারণের উদ্দেশ্যে নিয়োগ করা যাইবে না, যথা:
(ক) প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ........ ৫০ কিলোগ্রাম; এবং
(খ) প্রাপ্তবয়স্কা মহিলা ..............৩০ কিলোগ্রাম।
(২) পরিবহণের জন্য ব্যবহৃত রাস্তা অবশ্যই এমনভাবে বাঁধামুক্ত হইতে হইবে যাহাতে শ্রমিকের হোঁচট খাইবার সম্ভবনা না থাকে এবং কোন মতেই উহা পিচ্ছিল হইতে পারিবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে ওজন বহন করিয়া উপরে উঠাইতে হয় সেই ক্ষেত্রে উপরি উক্ত পরিমাণ কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ অনুযায়ী পরিদর্শকের নির্দেশ মোতাবেক কম করিতে হইবে যাহা প্রাপ্তবয়স‹ পুরুষের ক্ষেত্রে ৪০ কিলোগ্রাম এবং প্রাপ্তবয়স্কা মহিলাদের ক্ষেত্রে ২৫ কিলোগ্রামের অধিক হইবে না।
(৩) কোন মালিকের বা প্রতিষ্ঠানের কাজে, কিশোর বা কিশোরী ও অন্তসত্ত্বা অবস্থায় কোন মহিলাকে কোন দ্রব্য, সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি হাতে বা মাথায় করিয়া বহন, উত্তোলন বা
অপসারণের জন্য নিয়োজিত করা যাইবে না।
(৪) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত ৫০ কিলোগ্রাম ওজন বহনের ক্ষেত্রে একজন পুরুষ শ্রমিক যে মজুরি পাইবেন ৩০ কিলোগ্রাম ওজন বহনের ক্ষেত্রে একজন মহিলা শ্রমিকও একই হারে মজুরি পাইবেন, তিনি যেভাবেই নিয়োজিত হউন না কেন।
(১) নি¤ড়ববর্ণিত প্রμিয়ার মাধ্যমে কাজ সম্পাদন হয় এইরূপ প্রত্যেক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য যথোপযুক্ত সেইফটি চশমা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হ্যান্ড শিল্ড
এবং উহার আশেপাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকরভাবে কালো কাপড়ের বা বোর্ডের পর্দার ব্যবস্থা করিতে হইবে, যথা:
(ক) যান্ত্রিক শক্তিতে চালিত ঘূর্ণায়মান চাকা বা চাকতিতে শুকনো চূর্ণকরণ কাজে ধাতু বা ধাতব পদার্থ হাতের সাহায্যে প্রয়োগ এবং শুকনো অবস্থায় ঢালাই লোহা বা অলৌহজাত ধাতু বা অনুরূপ ধাতব বা লৌহজাত পদার্থ পাক দেওয়ার (বহিঃ বা অন্তঃ) কাজ:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে যথাযথ নিপুণতার জন্য পর্দা বা চশমা বিশেষ অসুবিধাজনক সেই ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে চশমার পরিবর্তে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে;
(খ) বৈদ্যুতিক ওয়েল্ডিং, আর্ক ওয়েল্ডিং এবং অক্সিএসিটিলিন বা এই ধরনের প্রμিয়া দ্বারা ধাতু ঝালাই, কাটার প্রμিয়া বা রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার; এবং
(গ) ঠা-া রিভিট বা বল্টু কাটা বা বিন্যস্ত করা, হস্তচালিত যন্ত্রপাতি বা অন্য বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি দ্বারা পাথর, কংμিট খ- বা অনুরূপ বস্তু ফালি করা, পাত করা, ছাঁটা এবং ভাঙ্গা বা মসৃণ করিবার কাজ।
(২) উক্তরূপ কাজ ব্যতীত যে সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রμিয়ার কারণে চোখে আঘাত লাগিবার বা ক্ষতি হইবার সম্ভাবনা থাকে সেইসকল উৎপাদন প্রμিয়ায় অবশ্যই কার্যকর মেশিন গার্ড বা চোখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এইরূপ চশমা ব্যবহার করিতে হইবে।
(১) নি¤ড়ববর্ণিত প্রμিয়ার মাধ্যমে কাজ সম্পাদন হয় এইরূপ প্রত্যেক কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য যথোপযুক্ত সেইফটি চশমা প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে হ্যান্ড শিল্ড
এবং উহার আশেপাশে নিযুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তার জন্য কার্যকরভাবে কালো কাপড়ের বা বোর্ডের পর্দার ব্যবস্থা করিতে হইবে, যথা:
(ক) যান্ত্রিক শক্তিতে চালিত ঘূর্ণায়মান চাকা বা চাকতিতে শুকনো চূর্ণকরণ কাজে ধাতু বা ধাতব পদার্থ হাতের সাহায্যে প্রয়োগ এবং শুকনো অবস্থায় ঢালাই লোহা বা অলৌহজাত ধাতু বা অনুরূপ ধাতব বা লৌহজাত পদার্থ পাক দেওয়ার (বহিঃ বা অন্তঃ) কাজ:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে যথাযথ নিপুণতার জন্য পর্দা বা চশমা বিশেষ অসুবিধাজনক সেই ক্ষেত্রে বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাপেক্ষে চশমার পরিবর্তে অন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে;
(খ) বৈদ্যুতিক ওয়েল্ডিং, আর্ক ওয়েল্ডিং এবং অক্সিএসিটিলিন বা এই ধরনের প্রμিয়া দ্বারা ধাতু ঝালাই, কাটার প্রμিয়া বা রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার; এবং
(গ) ঠা-া রিভিট বা বল্টু কাটা বা বিন্যস্ত করা, হস্তচালিত যন্ত্রপাতি বা অন্য বহনযোগ্য যন্ত্রপাতি দ্বারা পাথর, কংμিট খ- বা অনুরূপ বস্তু ফালি করা, পাত করা, ছাঁটা এবং ভাঙ্গা বা মসৃণ করিবার কাজ।
(২) উক্তরূপ কাজ ব্যতীত যে সকল ক্ষেত্রে উৎপাদন প্রμিয়ার কারণে চোখে আঘাত লাগিবার বা ক্ষতি হইবার সম্ভাবনা থাকে সেইসকল উৎপাদন প্রμিয়ায় অবশ্যই কার্যকর মেশিন গার্ড বা চোখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এইরূপ চশমা ব্যবহার করিতে হইবে।
(১) কোন ব্যক্তি প্রবেশ করিতে পারেন এবং সেই স্থান হইতে এমন বিপজ্জনক ধোঁয়া উদগত হইতে পারে যাহা কোন ব্যক্তির পক্ষে ঝুঁকির কারণ হয় এমন প্রত্যেক আধার, কূপ, গর্ত, সূড়ঙ্গ পথ বা অন্য আবদ্ধ স্থান, আয়তাকার এবং ডিম্বাকৃতি বা গোলাকার ম্যানহোল সজ্জিত রাখিতে হইবে এবং উহাজ্জ
(ক) আয়তাকার বা ডিম্বাকৃতি হইলে দৈর্ঘ্যে ৪০.৬৫ সেন্টি মিটার এবং প্রস্থে ৩০.৫০ সেন্টি মিটারের কম হইবে না ;
(খ) গোলাকার হইলে উহার ব্যাস ৪০.৬৫ সেন্টি মিটারের কম হইবে না;
(গ) অক্সিজেনের মাত্রা ১৯ শতাংশের কম বাতাস বিশিষ্ট হইবে না;
(ঘ) পানি আবদ্ধ অবস্থায় থাকা বা পানি প্রবেশের ঝুঁকিমুক্ত হইবে;
(ঙ) সহজে উঠা নামার জন্য প্রবেশমুখ হইতে তলা পর্যন্ত স্থায়ী গাথুনির মইয়ের ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হইতে হইবে।
(২) ধারা ৭৭ এ উল্লখিতি ‘উপযুক্ত ব্যক্ত’ি বলতিে বস্ফিোরক অধদিপ্তররে এতদবষিয়ে দায়ত্বিপ্রাপ্ত ব্যক্তকিে বুঝাইবে এবং সরকার র্কতৃক ফরম-৩০ অনুযায়ী ঘোষতি কোন ব্যক্তি বা প্রতষ্ঠিানও ইহার অর্ন্তভুক্ত হইবে।
প্রতষ্ঠিানরে যে কোন স্থানে বপিজ্জনক হইতে পারে বা পরর্দিশক যে স্থানে নর্দিশে প্রদান করনে সইেরূপ স্থানে ধুমপান নষিদ্ধি করয়িা এবং উন্মুক্ত আলোর (যমেন- মোমবাত,ি কুপ,ি দশেলাই, গ্যাস লাইটার, ইত্যাদ)ি ব্যবহার নষিদ্ধি করয়িা এবং আগুন লাগবিার ক্ষত্রেে প্রয়োজনীয় গৃহীতব্য সাবধানতা সর্ম্পকে সহজ বাংলা ভাষায় লখিতি নোটসি প্রতষ্ঠিানরে দৃষ্টগ্রিাহ্য স্থানে প্রর্দশন করতিে হইব।
(১) যে সকল উৎপাদন প্রμয়িায় নয়িোজতি শ্রমকিরে দহৈকি ক্ষতি অথবা জখমরে আশংকা রহয়িাছে এইরূপ স্থানে বা কাজে আইন, এই বধিমিালা বা সরকাররে সংশ্লষ্টি বভিাগরে নর্দিশেমত র্পযাপ্ত নরিাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নশ্চিতি করতিে হইব।
(২) উপ-বধিি (১) এ উল্লখিতি নরিাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নশ্চিতি করবিার পাশাপাশি শ্রমকিরে ব্যক্তগিত নরিাপত্তা নশ্চিতি করবিার লক্ষ্যে যথাযথ নরিাপত্তা উপকরণ যমেন-সইেফটি স্যুজ, হলেমটে, গগলস, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ইয়ার মাফ ও ইয়ার প্লাগ, কোমর বন্দ, এপ্রোন,প্রভৃতসিহ সংশ্লষ্টি কাজরে জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় নরিাপত্তা উপকরণ সরবরাহ ও উক্ত সামগ্রী ব্যবহাররে প্রশক্ষিণরে ব্যবস্থা এবং ব্যবহার নশ্চিতি করতিে হইব।ে
(৩) উপ-বধিি (১) ও (২) এ উল্লখিতি নরিাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশক্ষিণ নশ্চিতি না করয়িা কোন শ্রমকিকে উক্ত কাজে নয়িোজতি করা যাইবে না এবং ব্যক্তগিত নরিাপত্তা উপকরণ সরবরাহরে তথ্য ফরম-২৩ অনুযায়ী সংরক্ষণ করতিে হইব।
সপ্তম অধ্যায় স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্য বধিি ও নরিাপত্তা সর্ম্পকে বশিষে বধিান
(১) ধারা ৭৯ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত কাজসমূহ বিপজ্জনক কাজ বলিয়া বিবেচিত হইবে, যথা:-
(ক) বাতান্বতি পানি (অবৎধঃবফ ডধঃবৎ) তরৈি এবং ইহার আনুষঙ্গকি প্রμয়িা;
(খ) তড়ৎি বশ্লিষেণ পদ্ধততিে প্রলপে দওেয়া বা μোমকি এসডি বা অন্য μোময়িাম যৌগ দ্বারা তড়ৎি বশ্লিষেণ প্রμয়িার ধাতব পর্দাথ জারণ;
(গ) বদ্যৈুতকি এক্যুমুলটের তরৈি বা মরোমত;
(ঘ) কাঁচ ও কাঁচরে দ্রব্যাদি তরৈ;ি
(ঙ) ধাতু শান দেওয়া বা চকচকে করা;
(চ) সীসা, সীসার শংকর বা সীসার কতিপয় যৌগ তৈরি, মেরামত বা এইসব লইয়া কাজ করা;
(ছ) বিপজ্জনক পেট্রোলিয়াম হইতে গ্যাস উৎপাদন;
(জ) সংকুচিত বায়ু বা বাষ্প দ্বারা চালিত বালি জেট ধাতব গোলা বা কাঁকর বা এবরো-থেবরো কোন জিনিস দ্বারা কোন বস্তু পরিষ্কার করা বা মসৃণ করিবার কাজ;
(ঝ) কাঁচা চামড়ার লাইমিং ও ট্যানিং এবং ইহার আনুষঙ্গিক প্রμিয়া;
(ঞ) যন্ত্রের সাহায্যে পাট, শন বা অন্য তন্তু নরম করিবার কাজ;
(ট) ৫০ কেজির অতিরিক্ত ওজনসম্পনড়ব পণ্যের কোন গাঁট গুদামে উঠানো, সাজানো ও গুদামজাতকরণ এবং জাহাজ বা অন্য কোন পরিবহণে বোঝাই করিবার
কাজ;
(ঠ) সেল্যুলোজ দ্রবণ প্রস্তুত, ব্যবহার বা জমা করিবার কাজ ;
(ড) μোমিক এসিড তৈরি অথবা সোডিয়াম বাইμোমেট, পটাশিয়াম বাইμোমেট বা এমোনিয়াম বাইμোমেট প্রস্তুত বা পুনরুদ্ধারের কাজ ;
(ঢ) ছাপাখানা বা টাইপ ফাউন্ড্রী যেখানে কোন সীসার প্রμিয়া চালানো হয় ;
(ণ) সংকুচিত হাইড্রোজেন বা সংকুচিত অক্সিজেন প্রস্তুতের কাজ ;
(ত) সিরামিক দ্রব্যাদি তৈরি বা মৃৎ পাত্রাদি তৈরির কাজ;
(থ) রাসায়নিক আঁঠালো ক্ষার প্রμিয়ার রেয়ন তৈরির কাজ ;
(দ) প্লাস্টিক ও পলিথিন দ্রব্যাদির প্রক্্িরয়াকরণ;
(ধ) বিষাক্ত গ্যাস জমা হয় বা সৃষ্টি হইবার অশংকা থাকে এমন কাজ, বিশেষ করিয়া পরিত্যক্ত বা বদ্ধ কুয়া, সেপটিক ট্যাংক, স্যুয়ারেজ লাইন এবং পুরাতন জাহাজ ভাঙ্গিবার কাজ;
(ন) রাসায়নিক সার বা কেমিকেল তৈরির কাজ;
(প) যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর বা ইট ভাঙ্গা বা μাশ করিবার কাজ;
(ফ) ভূমি সমতল হইতে অন্যূন ৩ মিটার উচ্চতার এবং ২ মিটার গভীরের কোন কাজ;
(ব) বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং বা বৈদ্যুতিক পরিবাহী লাইনে কাজ;
(ভ) ইটের চুল্লিতে কাজ;
(ম) খনির অভ্যন্তরীণ কাজ;
(য) ধাতব পদার্থকে উচ্চ তাপে গলানো ও রূপান্তর এবং কাটা ও জোড়া লাগাইবার কাজ;
(র) ৮০ ডেসিবেলের উর্ধ্বে শব্দ উৎপনড়ব হয় এমন উৎপাদন প্রμিয়া;
(ল) পাওয়ার প্রেস (হাইড্রোলিক প্রেস ব্যতীত) ও মেটাল ট্রেডে ব্যবহৃত পাথর চূর্ণ করিবার কাজ;
(শ) যান্ত্রিক কাটার যন্ত্র (এঁরষষড়ঃরহম সধপযরহব);
(ষ) যান্ত্রিক চμাকার করাত (ঈরৎপঁষধৎ ঝধংি);
(স) ধাতুপটে ছাপাইবার কাজ (চষধঃব ঢ়ৎরহঃরহম সধপযরহব); এবং
(হ) গভীর সমুদ্রে মাছ ধরিবার কাজ (উববঢ় ঝবধ ঋরংযরহম)।
(২) মহাপরিদর্শক প্রয়োজনে উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত কাজ ব্যতীত অন্যান্য উৎপাদন প্রμিয়া বা উক্ত প্রμিয়ার আনুষঙ্গিক প্রμিয়াকে বিপজ্জনক কাজ হিসাবে ঘোষণা করিতে পারিবেন।
(৩) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত তালিকা ও উপ-বিধি (২) এর অধীন মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক, সময়ে সময়ে, ঘোষিত বিপজ্জনক কাজের সকল ক্ষেত্রে শিশু ও কিশোর শ্রমিকদের নিয়োগ নিষিদ্ধ থাকিবে এবং উক্ত প্রμিয়াসমূহের মধ্যে যে কাজ মহিলা বা সন্তান-সম্ভবা মহিলাদের জন্য নিষিদ্ধ উহা মহাপরিদর্শক, সময়ে সময়ে, নোটিস দ্বারা ঘোষণা করিতে পারিবেন ।
(৪) প্রতিষ্ঠানের মালিক উপ-বিধি (১) ও (২)-তে বর্ণিত কাজে নিয়োজিত প্রত্যেক ব্যক্তির নিয়োগের সময় মালিকের খরচে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়া উক্ত কাজের জন্য তাহার সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র ফরম-২৬ অনুযায়ী গ্রহণ করিবেন।
(৫) মালিক উপ-বিধি (৪) এ উল্লিখিত সকল শ্রমিককে বৎসরে অন্তত একবার রেজিস্টার্ড চিকিৎসক কর্তৃক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়া উক্ত কাজের জন্য তাহার সক্ষমতার প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করিবেন।
(৬) উপ-বিধি (৪) ও (৫) এর অধীন কৃত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বর্ণনা ফরম-২৬(ক) অনুযায়ী রেজিস্টারে চিকিৎসক ও মালিককে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৭) পরীক্ষান্তে কোন শ্রমিককে আইনের দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন পেশা বিষয়ক ও বিষμিয়াজনিত ব্যাধিতে আμান্ত পাওয়া গেলে প্রত্যয়নকারী চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক অথবা তৎকতৃক নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে উহা ফরম-২৯ এ নোটিস মারফত পরিদর্শককে অবহিত করিবেন এবং পরিদর্শক উক্ত শ্রমিককে দ্রুত জেলা সিভিল সার্জনের নিকট পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করিবেন।
(৮) সিভিল সার্জন উক্ত শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়া একটি প্রতিবেদন মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট দাখিল করিবেন, যাহা পরিদর্শক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্তরূপ পরীক্ষার সকল ব্যয় মালিক বহন করিবেন।
(৯) ধারা ৭৯ (ঘ) মোতাবেক যে সকল কাজের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হইবে উহার তালিকা প্রদর্শনসহ সরবরাহকৃত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের তথ্য ফরম-২৩ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১০) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতির কারণ হইতে পারে এমন রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যথাযথ সর্তকতা সম্পর্কিত লিখিত নোটিস এম এস ডিএস (গধঃবৎরধষ ঝধভবঃু উধঃধ ঝযববঃ) সহজে সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে প্রদর্শন করিবেন।
(১১) উপরি-উক্ত বিপজ্জনক কাজসমূহের জন্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের পরামর্শμমে শ্রমিকদের পুষ্টিকর টিফিনের বা নাস্তার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
১) কোন প্রতিষ্ঠানে যদি কোন ব্যক্তি দুর্ঘটনায় পতিত হয় যাহার ফলে তাহার মৃত্যু ঘটে অথবা অনুরূপ কোন দুর্ঘটনার কারণে পরবর্তী ২০ দিনের মধ্যে প্রতিষ্ঠানে তাহার কাজে যোগদানের কোন যুক্তিসংগত সম্ভাবনা না থাকে, তবে অনুরূপ দুর্ঘটনাকে ক্ষেত্রানুসারে মারাত্মক (ঋধঃধষ) বা গুরুতর (ঝবৎরড়ঁং) বলিয়া অভিহিত করা হইবে এবং উক্ত ঘটনা সংঘটিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে টেলিফোন, ফ্যাক্স, ই-মেইল অথবা বিশেষ বার্তাবাহক দ্বারা নি¤ড়ববর্ণিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নোটিস প্রদান করিতে হইবে, যথা:
(ক) মহাপরিদর্শক;
(খ) সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ;
(গ) সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ;
(ঘ) নিকটবর্তী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন;
(ঙ) নিকটবর্তী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র; এবং
(চ) মৃত্যু ও মারাত্মক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে, প্রতিষ্ঠানটি যে থানা এলাকায় অবস্থিত সে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা শিল্প পুলিশ।
(২) টেলিফোন, ফ্যাক্স বা ই-মেইলে প্রেরিত নোটিস ফরম-২৭ অনুযায়ী লিখিত আকারে দুই দিনের মধ্যে সমর্থন করিতে হইবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে, বিশেষ বার্তাবাহক দ্বারা প্রেরিত নোটিস ফরম-২৭ অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(৩) দুর্ঘটনা ঘটিবার তারিখ হইতে দুই মাসের মধ্যে বা শ্রমিক কাজে যোগদানের পর
প্রতিষ্ঠানের মালিক বা তাহার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফরম-২৭(ক) অনুযায়ী উক্ত দুর্ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা বর্ণনা করিয়া একটি চূড়ান্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলার উপ-মহাপরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
প্রতিষ্ঠানে কোন দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া আহত শ্রমিক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কাজে যোগদান করিতে সক্ষম না হইলে এবং দুর্ঘটনার কারণে অনধিক ২০ দিন পর্যন্ত কাজে অনুপস্থিত থাকিলে উক্তরূপ দুর্ঘটনাকে সামান্য (গরহড়ৎ) দুর্ঘটনা হিসাবে আখ্যায়িত করিয়া প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ফরম-২৭ অনুযায়ী দুর্ঘটনা ঘটিবার অনধিক ৭ দিনের মধ্যে বিধি ৬৯ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (ক), (খ) ও (গ)-তে উল্লিখিত কর্তৃপক্ষের নিকট সংবাদ প্রেরণ করিতে হইবে।
কোন প্রতিষ্ঠানে বিস্ফোরণ, অগিড়বকা-, গৃহ ধ্বস অথবা মেশিনে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটিলে এবং ইহাতে কেহ ব্যক্তিগতভাবে আহত হউক বা না হউক,প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ অনুরূপ দুর্ঘটনার সংবাদ তিন কর্মদিবসের মধ্যে ফরম-২৭(খ) অনুযায়ী বিধি ৬৯ এর উপ-বিধি (১) এর দফা (ক), (খ) ও (গ)-তে উল্লিখিত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।
(১) দুর্ঘটনার ফলে অঙ্গহানি বা প্রাণহানি ঘটিলে দুর্ঘটনা ঘটিবার স্থানটি দুর্ঘটনার পর যেভাবে ছিল সংবাদ প্রেরণের পর পরিদর্শক স্থানটি পরিদর্শন না করা পর্যন্ত অথবা ঘটনা সংঘটিত হইবার পরবর্তী অন্তত তিন দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) পরিদর্শক উক্ত দুর্ঘটনার তদন্তের তথ্য সংগ্রহ করিবেন এবং করণীয় সম্পর্কে মালিককে অবহিত করিবেন।
(৩) উপ-বিধি (১) ও (২)-তে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উদ্ধার কার্যμম পরিচালনার স্বার্থে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে এই বিধানের ব্যত্যয় ঘটানো যাইবে।
(১)প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাহার প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত প্রতিটি দুর্ঘটনা ও বিপজ্জনক ঘটনার রেকর্ড ফরম-২৮ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিবেন এবং মালিক কর্তৃক কি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে তাহাও রেজিস্টারে সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য ৬ (ছয়) মাস শেষ হইবার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিদর্শকের নিকট ষাণ¥াসিক দুর্ঘটনার তথ্য প্রতিবেদন আকারে দাখিল করিতে হইবে।
(১) ধারা ৮২ অনুসারে কোন মালিকের নিকট যদি এইরূপ প্রতীয়মান হয় অথবা তিনি জ্ঞাত হইতে পারেন যে, প্রতিষ্ঠানের কোন শ্রমিক আইনের দ্বিতীয় তফসিলে বর্ণিত কোন ব্যাধিতে আμান্ত, তাহা হইলে প্রতিষ্ঠানের মালিক অথবা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক অথবা তৎকতৃর্ক নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে উহা ফরম-২৯ অনুযায়ী নোটিস মারফত পরিদর্শককে অবহিত করিবেন। (১)প্রত্যেক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাহার প্রতিষ্ঠানে সংঘটিত প্রতিটি দুর্ঘটনা ও বিপজ্জনক ঘটনার রেকর্ড ফরম-২৮ অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিবেন এবং মালিক কর্তৃক কি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইয়াছে তাহাও রেজিস্টারে সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন রেজিস্টারে সংরক্ষিত তথ্য ৬ (ছয়) মাস শেষ হইবার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে পরিদর্শকের নিকট ষাণ¥াসিক দুর্ঘটনার তথ্য প্রতিবেদন আকারে দাখিল করিতে হইবে।
(৩) সিভিল সার্জন উক্ত শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়া একটি প্রতিবেদন মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট প্রদান করিবেন, যাহা পরিদর্শক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৪) এই বিধির অধীন পরীক্ষার সকল ব্যয় মালিক বহন করিবেন।
প্রাঙ্গণ বা যানবাহন, জাহাজ, নদী ও সমুদ্র বন্দরের মালামাল উঠাইবার-নামাইবার কাজ, ভবন, সেতু এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ ও ভাঙ্গিবার ক্ষেত্রে শ্রমিকের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সংμান্ত বিষয়ে তফসিল-৩ এ বর্ণিত বিধান অনুসরণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ৮৯(১) এর বিধান অনুসারে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি বিভাগ, শাখা ও তলায় কমপক্ষে একটি করিয়া প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারি থাকিতে হইবে এবং উহা সুস্পষ্টভাবে রেড ক্রিসেন্ট বা ক্রস চিহ্নযুক্ত হইতে হইবে এবং ব্যক্তির সংখ্যার ভিত্তিতে উহাতে উপ-বিধি (২), (৩) বা (৪) এ বর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে।
(২) যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহৃত হয় এমন প্রতিষ্ঠান, বিভাগ, শাখা ও তলায় নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা যদি ১০ এর অধিক না হয় অথবা যেসব প্রতিষ্ঠানে কোন যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহার করা হয় না সেখানে যদি নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ৫০ এর অধিক না হয় তবে সেইসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে নি¤ড়ববর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:
(ক) ৬টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(খ) ৩টি (প্রতিটি ০.৫ আউন্স) প্যাকেট জীবানুমুক্ত তুলা;
(গ) ৩টি মাঝারি আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(ঘ) ৩টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(ঙ) পুড়ে যাইবার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ৩টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(চ) হিবিসল বা হেক্সাসল ভর্তি ১টি (১ আউন্স) বোতল;
(ছ) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি ১টি (১ আউন্স) বোতল;
(জ) এক জোড়া কাঁচি;
(ঝ) প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র ১ কপি;
(ঞ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড জাতীয় বড়ি, পোড়ায় ব্যবহারের মলম, চোখের মলম এবং শল্য চিকিৎসার উপযুক্ত এন্টিসেপটিক দ্রবণ; এবং
(ট) ৩টি খাবার স্যালাইন প্যাকেট।
(৩) যেসব প্রতিষ্ঠানে বিভাগ, শাখা ও তলায় যান্ত্রিক শক্তি ব্যবহৃত হয় এবং নিযুক্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১০ (দশ) এর অধিক কিন্তু ৫০ (পঞ্চাশ) অতিμম করে না সেখানে প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে নি¤ড়ববর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:
(ক) ১২টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ ;
(খ) ৬টি মাঝারি আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;
(গ) ৬টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(ঘ) পুড়ে যাইবার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ৬টি বড় আকৃতির জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(ঙ) ৬টি (০.৫ আউন্স) জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;
(চ) হিবিসল বা হেক্সাসল ভর্তি ১টি (২ আউন্স) বোতল;
(ছ) ১টি (২ আউন্স) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি বোতল;
(জ) টুরনিকেট (রক্তপাত বন্ধ করিবার উপকরণ) ;
(ঝ) ১ রোল আঁঠালো প্লাস্টার ;
(ঞ) ১ জোড়া কাঁচি;
(ট) প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র ১ কপি;
(ঠ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড বড়ি, পোড়ায় ব্যবহারের মলম, চোখের মলম এবং শল্য চিকিৎসার উপযুক্ত জীবাণুনাশক দ্রবণ; এবং
(ড) ৬টি খাবার স্যালাইন প্যাকেট।
(৪) ৫০ (পঞ্চাশ) জন বা ইহার চাইতে অধিক লোক নিয়োগ করা হয় এমন প্রতিষ্ঠানের বিভাগ, শাখা ও তলায় প্রতিটি প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স বা আলমারিতে মহাপরিদর্শক কর্তৃক ভিনড়বরূপ নির্দেশ না হওয়া পর্যন্ত নি¤ড়ববর্ণিত সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:
(ক) ১২টি (০.৫ আউন্স) জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;
(খ) ১২টি মাঝারি আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট ;
(গ) ১২টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত তুলার প্যাকেট;
(ঘ) ২৪টি ছোট জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ ;
(ঙ) পোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ১২টি বড় আকারের জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ;
(চ) ১২টি (৪" চওড়া) রোলার ব্যান্ডেজ;
(ছ) ১২টি (২" চওড়া) রোলার ব্যান্ডেজ;
(জ) ৬টি ত্রিকোণাকৃতি ব্যান্ডেজ;
(ঝ) টুরনিকেট (রক্তপাত বন্ধ করিবার উপকরণ);
(ঞ) শতকরা ২ ভাগ আয়োডিনের এলকোহলিক দ্রবণ ভর্তি ১টি বোতল (৪আউন্স);
(ট) এক জোড়া কাঁচি;
(ঠ) ১টি (৪ আউন্স) রেকটিফাইড স্পিরিট ভর্তি বোতল;
(ড) ২ প্যাকেট সেইফটি পিন;
(ঢ) হাড়ভাঙ্গার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য ১২ টি বাঁশের/কাঠের চটি;
(ণ) বেদনানাশক ও এন্টাসিড বড়ি, পোড়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার্য মলম এবং শল্য চিকিৎসার জীবাণুনাশক দ্রব্য;
(ত) খাবার স্যালাইন প্যাকেট ১২টি; এবং
(থ) ১টি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রচারপত্র।
(৫) এই বিধিতে উল্লিখিত বাক্স ও আলমারি, যন্ত্রপাতি এবং উপকরণসমূহ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রতি ৩ (তিন) মাসে অন্তত একবার পরীক্ষা করিতে হইবে এবং কোন সামগ্রীর মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের অন্তত এক মাস পূর্বে উহা পরিবর্তন করিতে হইবে।
(৬) যে প্রতিষ্ঠানে যথাযথ সাজ-সরঞ্জামসহ চিকিৎসা কক্ষ রহিয়াছে অথবা যেখানে অনুরূপ সবকিছু অন্তত একটি বাক্সে সংরক্ষণ করা হয় সেইখানে প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্সে শুধুমাত্র উপবিধি (২)-তে উল্লিখিত সরঞ্জাম থাকিলে চলিবে
তবে শর্ত থাকে যে, পরিদর্শক, সময়ে সময়ে, উক্ত বাক্স বা আলমারিতে অন্য কোন সরঞ্জাম যোগ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিলে উহা সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) প্রতিটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে ডিসপেনসারিসহ চিকিৎসা কক্ষ কমপক্ষে একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকিবে এবং তাহাকে সহায়তা করিবার জন্য অন্যূন একজন প্রশিক্ষিত কম্পাউন্ডার বা মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট, নার্স এবং অধস্তন কর্মচারী থাকিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা তিন হাজারের অধিক হইলে অন্যূন দুইজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক ও তাহাদেরকে সহায়তা করিবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিক্যাল এসিস্ট্যান্ট এবং নার্স রাখিতে হইবে।
(২) চিকিৎসা কক্ষ যতখানি সম্ভব প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য অংশ হইতে আলাদা থাকিবে এবং প্রতিষ্ঠানের যে সকল অংশে সহনীয় মাত্রার অধিক শব্দপূর্ণ প্রμিয়া চলে সেইসব অংশের নিকটবর্তী স্থানে অবস্থিত হইবে না।
(৩) যে ভবন বা ভবনের কোন অংশ রোগী কক্ষ হিসাবে ব্যবহৃত হইবে তাহার নকশা ও জায়গার নকশা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(৪) চিকিৎসা কক্ষের মেঝে মসৃণ, অভেদ্য ও মজবুত হইবে এবং দেয়ালসমূহ ১.৫০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত অভেদ্য হইবে এবং কক্ষটি পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল সম্পনড়ব এবং স্বাভাবিক ও কৃত্রিম উভয়ভাবে আলোকিত থাকিতে হইবে।
(৫) চিকিৎসা কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা ও রোগীর আরামের জন্য ব্যবহৃত হইবে এবং উহাতে কমপক্ষে নি¤ড়ববর্ণিত আসবাব ও সরঞ্জামাদি থাকিবে, যথা:
(ক) গরম পানি ও ঠান্ডা পানির একটি প্রলেপযুক্ত পাত্র ;
(খ) মসৃণ উপরিতল বিশিষ্ট ১.৮৫ দ্ধ ১.১০ মিটার মাপের একটি টেবিল ;
(গ) যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণের ব্যবস্থা ;
(ঘ) শোয়ার জন্য দুইটি আসন ও ২ টি স্ট্রেচার ও ১ টি হুইল চেয়ার ;
(ঙ) দু’টি বালতি বা আঁটসাঁট ঢাকনাযুক্ত পাত্র ;
(চ) পানি গরম করিবার জন্য একটি কেটলি ও স্পিরিট স্টোভ বা অন্য কোন উপযুক্ত ব্যবস্থা ;
(ছ) ১২টি (৯১.৪৪ সে.মি.দ্ধ১০.১৬ সে.মি.দ্ধ০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;
(জ) ১২টি (৩৫.৫৬ দ্ধ ৭.৬২ সে.মি. দ্ধ ০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;
(ঝ) ৬টি (২৫.৪০ দ্ধ ৫.০৮ দ্ধ ০.৬৩ সে.মি.) কাঠের সাধারণ চটি ;
(ঞ) ৬টি পশমী কম্বল ;
(ট) একজোড়া আর্টারি ফরসেপ;
(ঠ) দু’টি মাঝারি আকারের স্পঞ্জ;
(ড) ৬টি হাত তোয়ালে;
(ঢ) চারটি ট্রে;
(ণ) চারটি কার্বলিক সাবান;
(ত) ২টি কাচের পাত্র;
(থ) ২টি ডাক্তারী থার্মোমিটার এবং কয়েকটি হাইপোডারমিক সিরিঞ্জ ;
(দ) দাগকাটা মাপন গ্যাস এবং চা চামচ ;
(ধ) চোখ ধোয়ার সরঞ্জাম;
(ন) এক বোতল (১ লিটার) ১ ঃ ২০ কার্বলিক লোশন;
(প) ৩টি চেয়ার;
(ফ) একটি পর্দা;
(ব) একটি বৈদ্যুতিক হ্যান্ড টর্চ ;
(ভ) ৭৬(১) নং বিধি মোতাবেক নির্ধারিত মানের একটি প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স বা আলমারি ;
(ম) ধনুষ্টংকার প্রতিরোধক সিরামের পর্যাপ্ত সরবরাহ; এবং
(য) টুরনিকেট (রক্ত বন্ধ করিবার উপকরণ)।
(৬) হাসপাতাল হইতে কোন যানবাহন পাইবার ব্যবস্থা না করা থাকিলে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিককে গুরুতর দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবহণের জন্য উপযুক্ত ও সার্বক্ষণিক কার্যক্ষম অবস্থায় যানবাহনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(৭) চিকিৎসা কক্ষে সেবাদানকৃত সকল দুর্ঘটনা এবং অসুস্থতার চিকিৎসার রেকর্ড রাখিতে হইবে এবং প্রয়োজনে পরিদর্শক সমীপে উহা উপস্থাপন করিতে হইবে।
(৮) পরিদর্শক কর্তৃক, সময়ে সময়ে, জারিকৃত নির্দেশিত মাত্রায় ওষুধপত্র ডিসপেনসারীতে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ৮৯(৬) এর বিধান মোতাবেক একই মালিকের অধীন যে সকল প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানসমূহ একই ভবনে বা একই স্থানে অবস্থিত সেইখানে পাঁচ হাজার বা ততোধিক শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত থাকিলে
(ক) প্রতিষ্ঠানের মালিক একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিবেন এবং অনুরূপ প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শ্রমিকদের কাজ চলাকালীন চিকিৎসা করিবার জন্য নি¤ড়ববর্ণিত মেডিক্যাল স্টাফ থাকিতে হইবে, যথা:-
(অ) ৫,০০০ হইতে ৭,৫০০ শ্রমিকের জন্য ন্যূনতম দুইজন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক ;
(আ) ৭,৫০১ বা তদূর্ধ্বের জন্য ন্যূনতম তিন জন রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসক; এবং
(ই) প্রতি চিকিৎসকের জন্য ন্যূনতম একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স এবং ন্যূনতম একজন যোগ্যতাসম্পনড়ব ড্রেসার :
তবে শর্ত থাকে যে, একাধিক চিকিৎসক নিয়োগের বিধান থাকিলে অন্ততপক্ষে একজন মহিলা চিকিৎসক নিয়োগের চেষ্টা করিতে হইবে;
(খ) বিধি ৭৭ মোতাবেক পৃক চিকিৎসা কক্ষের প্রয়োজন হইবে না, তবে প্রত্যেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কমপক্ষে ৬টি শয্যা রাখিতে হইবে;
(গ) পাঁচ হাজারের উর্ধ্বে প্রতি হাজার শ্রমিকের জন্য ১ টি হারে শয্যা সংখ্যা বাড়াইতে হইবে এবং প্রতিটি শয্যার জন্য মেঝের আয়তন কমপক্ষে ৩.৭২ বর্গমিটার জায়গা বরাদ্দ করিতে হইবে; তবে জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে মালিক,মহাপরিদর্শককে অবগত করিয়া মেঝের আয়তন শিথিল করিতে পারিবেন ;
(ঘ) প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নি¤ড়ববর্ণিত ব্যবস্থা থাকিতে হইবে, যথা:জ্জ
(অ) পুরুষ ও মহিলাদের পৃক শয্যা;
(আ) পৃক শৌচাগার ও প্রক্ষালণ কক্ষসহ সংμামক ব্যাধির জন্য একটি শয্যাসহ পৃক কক্ষ;
(ই) বহির্বিভাগের রোগীদের জন্য ঘেরাও করা বসার জায়গাসহ পৃ ক বিভাগ;
(ঈ) রোগীদের গোপনে পরীক্ষার জন্য পৃক কক্ষ;
(উ) ছোটখাটো অস্ত্রোপচার ও ড্রেসিং কক্ষ;
(ঊ) ডিসপেনসারীর ঔষধ রাখিবার স্টোর;
(ঋ) চিকিৎসাধীন শয্যাশায়ী শ্রমিককে বিনামূল্যে ঔষধ ও খাবার সরবরাহ করা;
(এ) পরিবার কল্যাণ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সংμান্ত তথ্য, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা;
(ঐ) প্রসূতি মহিলা শ্রমিকদের প্রসব পূর্ব এবং প্রসব পরবর্তী সেবা ও পরামর্শ প্রদানের ব্যবস্থা; এবং
(ও) রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্লিনিক্যাল এক্স-রে, ফিজিক্যাল থেরাপি, ইত্যাদি, প্রয়োজন হইলে, মালিকের খরচে যথাসময়ে উহা ব্যবস্থা করা :
তবে শর্ত থাকে যে, মালিক যদি মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমতিμমে অনুমোদিত অন্য কোন নিকটবর্তী হাসপাতালে শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করিতে পারেন, তাহা হইলে উক্ত স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরী, এক্স-রে ও ফিজিক্যাল থেরাপী বিভাগ না থাকিলেও চলিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিবার উপযোগী স্থান সংকুলান না হইলে মালিক মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের অনুমতিμমে এবং অনুমোদিত অন্য কোন নিকটবর্তী হাসপাতালের সহিত লিখিত কোন চুক্তি মারফত শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।
(২) স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নি¤ড়ববর্ণিত সুবিধা থাকিতে হইবে, যথা:
(ক) প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসা সুবিধা;
(খ) স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাহিরে চুক্তিবদ্ধ হাসপাতালে বা প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসা করিতে হইলে মালিক কর্তৃক কর্মক্ষেত্র হইতে বিনা খরচে শ্রমিকের যাতায়াতের ব্যবস্থা।
(৩) একই ভবনে বা পাশাপাশি ভবনে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ যৌথভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবেন এবং এইরূপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র
(ক) যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত পরিকল্পনা ও নকশা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা করিতে হইবে ;
(খ) উপ-বিধি (১) ও (২) অনুযায়ী চিকিৎসা সুবিধাদি সম্পনড়ব হইতে হইবে ।
(৪) কোন মালিক এইরূপ যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে তাহাদের প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের জন্য চিকিৎসা সেবা প্রদানের ইচ্ছা পোষণ করিলে তিনি তাহার প্রতিষ্ঠানের নিকটবর্তী যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকদের সিদ্ধান্তμমে উহা করিতে পারিবেন এবং উহা মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং সেই ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক এইরূপ যৌথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মালিকগণকে উপ-বিধি (১) হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) সরকারের জনস্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের সহিত আলোচনাμমে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক যাহা নির্ধারণ করিবেন অনুরূপ সাজ-সরঞ্জাম, ইন্জেকশন, ঔষধ ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা প্রতি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে থাকিতে হইবে।
(৬) প্রত্যেক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বশীল মেডিকেল অফিসার উহাতে চিকিৎসাধীন বা চিকিৎসাপ্রাপ্ত প্রত্যেক রোগীর জন্য মেডিক্যাল রেকর্ড সংরক্ষণ করিবেন।
(৭) স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা সংμান্ত বার্ষিক রিটার্ন ফরম-৮১(ঝ) অনুযায়ী এবং বিধি ৩৬২(২)(খ) এর বিধান অনুযায়ী প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ৮৯ (৮) এর বিধান মোতাবেক কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উহাতে নিযুক্ত শ্রমিকের সংখ্যা ৫০০ জন বা ততোধিক থাকিলে এবং চা-বাগান বা অন্যান্য বাগানের ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা ৫০০ জন বা ইহার অধিক হইলে একজন যোগ্যতাসম্পনড়ব কল্যাণ কর্মকর্তা থাকিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিকের সংখ্যা যদি দুই হাজারের অধিক হয় তাহা হইলে, প্রতি দুই হাজার এবং অতিরিক্ত ভগড়বাংশের জন্য একজন করিয়া অতিরিক্ত কল্যাণ কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে হইবে।
(২) কল্যাণ কর্মকর্তাদের কর্তব্য হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা :
(ক) শ্রমিকদের বিভিনড়ব কমিটি ও যৌথ উৎপাদন কমিটি, সমবায় সমিতি ও ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠনকে উৎসাহিত করা এবং তাহাদের কাজকর্ম তদারক করা;
(খ) বিভিনড়ব সুযোগ সুবিধা যথাজ্জক্যান্টিন, বিশ্রামাগার, শিশুকেন্দ্র, পর্যাপ্ত শৌচাগারের ব্যবস্থা, পানীয়-জল, ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য রাখা;
(গ) সবেতন ছুটি মঞ্জুরের ব্যাপারে শ্রমিককে সহযোগিতা করা এবং যে কোন ছুটি ও অন্যান্য নিয়ম কানুনের ব্যাপারে শ্রমিকগণকে অবহিত করা;
(ঘ) গৃহ সংস্থান, খাদ্য, সমবায় সমিতিতে ন্যায্য মূল্যের যে কোন প্রতিষ্ঠানে সামাজিক ও বিনোদনমূলক সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগ, ইত্যাদি শ্রম কল্যাণমূলক বিষয়ের উপর লক্ষ্য রাখা;
(ঙ) শ্রমিকদের কাজের ও জীবনযাত্রার মান উনড়বয়ন ও তাহাদের কল্যাণের বিষয়ে সচেষ্ট থাকা ও সুপারিশ করা;
(চ) নবাগত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দান, শ্রমিকদের শিক্ষার মান উনড়বয়ন ও কারিগরি ইনস্টিটিউটে তাহাদের প্রশিক্ষণে যোগদানের উৎসাহ ও মনোনয়ন প্রদানে কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ প্রদান;
(ছ) প্রতিষ্ঠানে আইনের বিধানাবলি বাস্তবায়নে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকগণকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান;
(জ) শ্রমিকদের অধিকতর চিকিৎসা সুবিধার জন্য কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল অফিসারের সহিত যোগাযোগ রক্ষা;
(ঝ) শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক উনড়বয়নের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা;
(ঞ) মজুরি ও চাকরির শর্তের বিষয়গুলি সম্পর্কে মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের প্রতিনিধির সহিত আলোচনা;
(ট) মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিলে সে বিষয়ে আপোসমীমাংসার জন্য দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করা ;
(ঠ) শ্রমিকদের বক্তব্য অনুধাবন করা এবং পারস্পরিক মতপার্থক্য দূর করিবার জন্য মালিক ও শ্রমিকদেরকে সহায়তা করা;
(ড) শ্রমিকদের একক বা সমষ্টিগত কোন অনুযোগ থাকিলে, সেইগুলি ত্বরিৎ নিষ্পত্তির জন্য কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করা; এবং
(ঢ) কারখানা বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকদের মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রক্ষার জন্য সংযোগ স্থাপন ও আলোচনা অনুষ্ঠান।
(৩) কল্যাণ কর্মকর্তার যোগ্যতা হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা:-
(ক) কমপক্ষে ¯ড়বাতক ডিগ্রিধারী এবং শ্রম ও শিল্প সম্পর্কিত বিষয়ে অভিজ্ঞ ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত; এবং
(খ) শ্রম আইন, শিল্প সম্পর্ক, অনুযোগ-অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দক্ষতাসম্পনড়ব।
(৪) কল্যাণ কর্মকর্তা নিযুক্ত হইবার অথবা তাহার চাকরি অবসান ঘটাইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে কারখানার বা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা মালিককে উহা মহাপরিদর্শক বা
তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে লিখিতভাবে অবহিত করিতে হইবে এবং শূন্য পদটি যথাশীঘ্র সম্ভব পূরণ করিতে হইবে।
(৫) কর্তৃপক্ষ কল্যাণ কর্মকর্তাকে উপ-বিধি (২) এ বর্ণিত দায়িত্বাবলি সম্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করিবে।
(১) ধারা ৯০ মোতাবেক প্রত্যেক কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত সেইফটি রেকর্ড বুকে নি¤ড়ববর্ণিত তথ্যসমূহ লিপিবদ্ধ থাকিতে হইবে এবং উহা পরিদর্শকের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করিতে হইবে, যথা:-
(ক) বিপদ বা ঝুঁকির কারণ হইতে পারে প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ও ব্যবহৃত এমন যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক দ্রব্যাদির তালিকা;
(খ) ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদির বিষয়ে গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, শ্রমিকের স্বাস্থ্যে ইহার সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা;
(গ) কোন শ্রমিককে কি ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ বা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করিতে হয় তাহার বিবরণ;
(ঘ) যন্ত্রপাতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা;
(ঙ) অগিড়বনির্বাপণ মহড়ার তারিখ ও অংশগ্রহণকৃত শ্রমিকের সংখ্যা;
(চ) অগিড়বনির্বাপণ উপকরণসমূহের পুনঃভর্তিকরণের তারিখ;
(ছ) বৈদ্যুতিক ওয়ারিং ও যন্ত্রপাতির পরীক্ষা সংμান্ত তথ্য;
(জ) সেইফটি কমিটির সদস্যদের তালিকা ও এতদ্সংμান্ত প্রশিক্ষণের তারিখ ও প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর সংখ্যা; এবং
(ঝ) সেইফটি সংμান্ত মালিক কর্তৃক গৃহীত অন্যান্য তথ্য।
(২) সেইফটি বুকে লিপিবিদ্ধ প্রধান প্রধান তথ্যসমূহ সকলের দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে উক্ত উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকৃত ও টাঙ্গানো একটি সেইফটি তথ্য বোর্ডে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(১) ধারা ৯০ক অনুযায়ী ৫০ (পঞ্চাশ) বা তদূর্ধ্ব সংখ্যক শ্রমিক নিয়োজিত রহিয়াছেন বা বৎসরের কোন এক সময় নিয়োজিত থাকেন এমন প্রত্যেক কারখানার বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানের মালিকগণ সেইফটি কমিটি গঠন করিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, বিদ্যমান কারখানাসমূহের ক্ষেত্রে এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে এবং এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পরে স্থাপিত কারখানাসমূহের ক্ষেত্রে উৎপাদন চালু হইবার ৯ (নয়) মাসের মধ্যে সেইফটি কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং ধারা ১৮৩ অনুযায়ী ঘোষিত প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের মালিকগণও এলাকাভিত্তিক অথবা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের আওতা এক উপজেলার অধিক হইলে উপজেলাভিত্তিক সেইফটি কমিটি গঠন করিবেন।
(২) সেইফটি কমিটিতে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ (ছয়) এর কম এবং ১২ (বার) এর অধিক হইবে না এবং উহাতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের সমসংখ্যক প্রতিনিধি থাকিবে।
(৩) কমিটিতে একজন সভাপতি, একজন সহ-সভাপতি, একজন সদস্য-সচিব ও সদস্যগণ থাকিবেন।
(৪) প্রম সভায় সদস্যগণ সর্বসম্মত সিদ্ধান্তμমে একজন সদস্য-সচিব নির্বাচন করিবেন।
(৫) কমিটি উহার সদস্যগণের মধ্য হইতে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা সংμান্ত বিশেষ কোন ক্ষেত্রের এবং বিভিনড়ব শাখা বা বিভাগের দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(৬) কমিটি উহার সভাপতি ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিগণকে কারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনয়ন প্রদান করিবেন এবং সহ-সভাপতি ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিগণ যৌথ দরকষাকষি (সিবিএ) অথবা অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধিগণ কর্তৃক কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে মনোনীত হইবেন।
(৭) শ্রমিকের সংখ্যা অনুযায়ী সেইফটি কমিটির সদস্য সংখ্যার আনুপাতিক হার হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা:
(ক) ৫০ (পঞ্চাশ) হইতে ৫০০ (পাঁচশত) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) জন;
(খ) ৫০১ (পাঁচশত এক) হইতে ১০০০ (এক হাজার) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ৮ (আট) জন;
(গ) ১০০১ (এক হাজার এক) হইতে ৩০০০ (তিন হাজার) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ১০ (দশ) জন;
(ঘ) ৩০০১ (তিন হাজার এক) হইতে তদুর্ধ্ব শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠানে সেইফটি কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা হইবে সর্বোচ্চ ১২ (বার) জন।
(৮) কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের বিভিনড়ব শাখা, বিভাগ, ফ্লোর, গোডাউন এবং ইউনিটে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।
(৯) কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি না থাকিলে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিগণ উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের বিভিনড়ব শাখা, বিভাগ, ফ্লোর, গোডাউন এবং ইউনিটে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্য হইতে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।
(১০) সেইফটি কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে অনিবার্য কোন কারণে বা উপরি-উক্ত উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের উদ্যোগ গ্রহণ না করিলে এইরূপ বিষয় অবগত হইলে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্মরত শ্রমিকগণের মধ্য হইতে নির্বাচনের মাধ্যমে সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচিত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি অথবা অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইবার পর ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা উপ-বিধি (৮) ও (৯) অনুযায়ী সেইফটি কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।
(১১) শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক তাহার প্রতিনিধিদের মনোনয়ন প্রদান করিবেন এবং এইরূপ মনোনয়ন প্রদানের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সভাপতি সেইফটি কমিটির সহ-সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের সহিত আলোচনাμমে সেইফটি কমিটির প্রম সভা আহবান করিবেন।
(১২) সেইফটি কমিটির প্রম সভা অনুষ্ঠানের ১০ (দশ) দিনের মধ্যে সভাপতি সেইফটি কমিটি গঠনের বিষয়টি লিখিতভাবে মহাপরিদর্শককে অবহিত করিবেন।
(১৩) কোন প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মহিলা শ্রমিক থাকিলে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নে কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মহিলা প্রতিনিধি মনোনীত করিতে হইবে।
(১৪) যদি কোন কারণে সেইফটি কমিটি কারখানা নিরাপত্তা সংμান্ত কোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করে তবে কমিটি উক্তরূপ মতামত গ্রহণ করিতে পারিবে।
(১) কমিটি গঠনের পরবর্তীতে কোন সদস্যের পদত্যাগ, চাকরি হইতে অবসর, চাকরি ত্যাগ, মৃত্যু বা অন্য কোন যৌক্তিক কারণে সদস্য পদ শূন্য ঘোষিত হইলে সেইফটি কমিটির কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনμমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করা যাইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিক প্রতিনিধি শ্রমিকগণের মধ্য হইতে এবং মালিক প্রতিনিধি মালিক দ্বারা মনোনীত প্রতিনিধি হইবেন।
(২) সেইফটি কমিটির কোন সদস্য পদে কোনরূপ পরিবর্তন ঘটিলে পরিবর্তন হইবার ১৫(পনের) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।
সেইফটি কমিটির মেয়াদ হইবে সেইফটি কমিটির প্রম সভার তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর।
৫০ (পঞ্চাশ) জনের কম শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কারখানা বা শিল্প-প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে এই বিধি অনুসরণ
করিতে পারিবে।
(১) ধারা ৯১ অনুযায়ী শ্রমিকদের ব্যবহারের জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত ও যথোপযুক্ত গোসলখানা ও ধৌতকরণ সুবিধার ব্যবস্থা থাকিবে এবং উহা যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে।
অন্যান্য উপযুক্ত ব্যবস্থাদি ধৌতকরণ সুবিধার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকিবে এবং এই সব সুবিধা সহজলভ্য, পরিচ্ছনড়ব এবং সুবিন্যস্তভাবে রাখিতে হইবে।
(৩) ধারা ৯১(১)(ক) অনুযায়ী গোসলখানা বলিতে নি¤ড়বরূপ ব্যবস্থাদি বুঝাইবে, যথা:-
(ক) যে কর্মপ্রμিয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিকের সম্পূর্ণ শরীর ধৌতকরণের প্রয়োজন রহিয়াছে এবং না করিলে নিজের স্বাস্থ্যহানি এবং অন্যদের স্বাস্থ্য
ক্ষতিগ্রস্থ হইবার আশংকা রহিয়াছে-সেই ধরনের কর্মক্ষেত্রে মহিলা ও পুরুষদের জন্য পৃকভাবে প্রম ২৫ (পঁচিশ) জনের জন্য কমপক্ষে ২টি গোসল খানা থাকিবে ও পরবর্তী প্রতি ৫০ (পঞ্চাশ) জনের জন্য ১টি করিয়া গোসলখানা থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যে সকল শিল্প-প্রতিষ্ঠানে পূর্বের বিধান অনুযায়ী ধৌতকরণ সুবিধা বিদ্য(২) পর্যাপ্ত পরিমাণ সাবান, জীবাণুনাশক, প্রযোজ্যক্ষেত্রে নখের ব্রাশ বা নখ পরিষ্কার করিবার মান রহিয়াছে উহা বলবৎ থাকিবে;
(খ) পূর্বোক্ত বিধানের সাধারণত্ব ক্ষুণড়ব না করিয়া গোসলখানা সুবিধার অন্তর্ভুক্ত থাকিবেজ্জ
(অ) অন্যূন ০.৬০ মিটার পর পর ট্যাপ বা জেট যুক্ত একটি ট্রাফ ;
(আ) ট্যাপযুক্ত ওয়াশ বেসিন ;
(ই) খাড়া নলের উপর ট্যাপ ;
(ঈ) ট্যাপ নিয়ন্ত্রিত ঝরণা ; এবং
(উ) ঝরণাকৃতি গোলাকার ট্রাফ :
তবে শর্ত থাকে যে, পরিদর্শক শ্রমিকদের প্রয়োজন এবং অভ্যাসের প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া কি অনুপাতে উপরি-উক্ত সুবিধাদি স্থাপন করা হইবে উহা নির্দিষ্ট করিয়া দিতে পারিবেন।
(৪) প্রত্যেকটি ট্রাফ বেসিনের উপরিভাগ অভেদ্য এবং মসৃণ হইতে হইবে এবং উহাতে ময়লা পানি বাহির হইবার পাইপ ও ফ্লাস সংযুক্ত থাকিবে।
(৫) প্রত্যেক ট্রাফ, ট্যাপ, ওয়াশ-বেসিন, খাড়া নল এবং ঝরণা সম্বলিত স্থানের মেঝে বা চারিপাশ এমনভাবে স্থাপন বা সঞ্চিত থাকিবে যেন মসৃণ অভেদ্য উপরিভাগ বিশিষ্ট হয় এবং পর্যাপ্তভাবে পানি নিষ্কাশিত হয়।
(৬) যেসব শ্রমিককে কাজের দরুন ক্ষতিকর বা বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসিতে হয়, উহাদের ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রতি ১৫ (পনের) জন শ্রমিকের জন্য একটি করিয়া ট্যাপ স্থাপন করিতে হইবে।
(৭) মহিলা শ্রমিক নিযুক্ত থাকিলে তাহাদের জন্য পৃক গোসলখানার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে এবং ধৌতকরণ সুবিধা এমনভাবে ঘেরাও বা পর্দা দ্বারা আবদ্ধ রাখিতে হইবে যাহাতে পুরুষ শ্রমিকরা যেখানে কাজ করিয়া থাকেন বা যেখান হইতে যাতায়াত করিয়া থাকেন সেইখান হইতে উহার ভেতরে কিছু দেখা না যায়।
(৮) মহিলাদের ধৌতকরণ সুবিধার প্রবেশ পথে অধিকাংশ শ্রমিকের বোধগম্য ভাষায় ‘কেবলমাত্র মহিলাদের জন্য’ স্পষ্ট নোটিস থাকিতে হইবে এবং উহা ছবি দ্বারাও নির্দেশ করিতে হইবে।
(১) যেসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ১০০ (একশত) জনের অধিক শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন উহার মালিক কর্তৃক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট শ্রমিকের অন্তত শতকরা ১০ (দশ) জনের স্থান সংকুলান সুবিধা স¤¦লিত ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ ক্যান্টিন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট শ্রমিকের শতকরা ৩০ (ত্রিশ) জনের খাবার গ্রহণের স্থান সুবিধা সম্বলিত হইলে ধারা ৯৩ মোতাবেক পৃকভাবে খাবার কক্ষের প্রয়োজন হইবে না।
(২) প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন হিসাবে নির্মিতব্য বা ক্যান্টিন হিসাবে রূপান্তরিতব্য ভবনের নকশা ও অবস্থান মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(৩) শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষ হইতে কমপক্ষে ৬ (ছয়) মিটার এবং বয়লার হাউস,কয়লার গাদা, ছাই এর গাদা বা ধূলা, ধোঁয়া বা ক্ষতিকর ধোঁয়ার কোন উৎস হইতে ১৫ (পনের)মিটার দূরত্বের মধ্যে কোন ক্যান্টিন ভবন স্থাপন করা যাইবে না।
(৪) প্রত্যেক ক্যান্টিনের জন্য নির্মিত ভবনে কমপক্ষে ডাইনিং হল, রানড়বা ঘর, গুদাম ঘর, ভাঁড়ার ঘর এবং শ্রমিকদের জন্য বাসন-কোসন ধোয়ার পৃক ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(৫) ভবনের প্রত্যেক কক্ষের উচ্চতা মেঝে হইতে কোন জায়গায় ছাদের নি¤ড়বতম অংশের ৩ (তিন) মিটারের কম হইতে পারিবে না এবং মেঝে ও ভেতরের দেয়ালে ১.২০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত মসৃণ ও অভেদ্য হিসাবে তৈরি করিতে হইবে।
(৬) ক্যান্টিন ভবনের দরজা-জানালা মশা মাছি নিরোধক জালিযুক্ত হইতে হইবে এবং উহাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(৭) ক্যান্টিন কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ক্যান্টিনের নির্ধারিত সুবিধাসমূহ চালু রাখিতে হইবে।
(১) ক্যান্টিন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উহাতে পর্যাপ্ত সংখ্যক বাসন-কোসন, চামচ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকিতে হইবে।
(২) ক্যান্টিনে পরিবেশনকারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ পোশাক প্রদান করিতে হইবে এবং উহা পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করিতে হইবে।
(৩) আসবাবপত্র, বাসন-কোসন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৪) ক্যান্টিনে সকল খাদ্যদ্রব্য এমনভাবে সংরক্ষণ ও পরিবেশন করিতে হইবে যাহাতে কোন প্রকার মশা মাছি এবং ধূলা-বালির সংস্পর্শে না আসে অথবা কোন ভাবে দূষিত হইতে না পারে।
(৫) ক্যান্টিনে সার্ভিস কাউন্টারের ব্যবস্থা করা হইলে, উহার উপরিভাগ মসৃণ এবং অভেদ্য পদার্থ দ্বারা তৈরি হইতে হইবে।
(৬) ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত গরম পানির সরবরাহসহ বাসন-কোসন ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ধৌত করিবার জন্য উপযুক্ত সুবিধার ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(১) ক্যান্টিনে সরবরাহকৃত খাদ্য, পানীয় এবং অন্যান্য জিনিস মুনাফাবিহীন ভিত্তিতে বিμি করিতে হইবে এবং উহার মান ও মূল্য ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কমিটি কর্তৃক নির্ধারিত ও অনুমোদিত হারে হইতে হইবে।
(২) ক্যান্টিনে পুষ্টিসম্মত খাবার সরবরাহ করিতে হইবে এবং ক্যান্টিন কমিটি খাবারের তালিকা নির্ধারণের ক্ষেত্রে উহার মান ও পুষ্টির বিষয় অগ্রাধিকার প্রদান করিবে।
(৩) সরবরাহকৃত খাদ্যদ্রব্য, পানীয় এবং অন্যান্য জিনিসের মূল্য-তালিকা প্রকাশ্যে ক্যান্টিনে টানাইয়া রাখিতে হইবে।
(১) প্রতিষ্ঠানের মালিক কর্তৃক মনোনীত এবং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণ কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিকদের মতামতের ভিত্তিতে মনোনীত সমসংখ্যক ব্যক্তির সমন্বয়ে ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠিত হইবে।
(২) কমিটিতে শ্রমিক সদস্য ২ (দুই) জনের কম বা ৫ (পাঁচ) জনের অধিক হইতে পারিবে না।
(৩) প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি থাকিলে তাহারা শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষির অবর্তমানে প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনসমূহ সমসংখ্যক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত করিবে এবং ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের অবর্তমানে অংশগ্রহণ কমিটি শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।
(৪) প্রতিষ্ঠানের মালিক বা মালিকের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কল্যাণ কর্মকর্তা ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যাদি তত্ত্বাবধান করিবেন।
মালিক বা তাহার প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নি¤ড়ববর্ণিত বিষয়ে ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা কমিটির পরামর্শ গ্রহণ করিবেন, যথা:-
(ক) ক্যান্টিনে যেসব খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হইবে উহার মান ও পরিমাণ ;
(খ) খাদ্য তালিকা ও খাদ্যের মূল্য নির্ধারণ ;
(গ) ক্যান্টিনে খাইবার সময় ; এবং
(ঘ) ক্যান্টিনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়।
আশ্রয় বা বিশ্রাম কক্ষ এবং খাবার কক্ষের নকশা, মান ও আকার মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(১) শিশু কক্ষ বা স্বতন্ত্র শিশু ভবনের জন্য নির্মিতব্য বা অভিযোজিতব্য ভবনের নকশা, মান এবং অবস্থান মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(২) দুগ্ধদানকারী মায়েরা যাহাতে নিরাপদে ও শালীনতা বজায় রাখিয়া শিশুদের দুগ্ধ পান করাইতে পারেন এমন স্বতন্ত্র একটি কক্ষ অথবা পর্দাঘেরা একটি স্থান থাকিতে হইবে।
(৩) শিশু কক্ষের মেঝে এবং মেঝে হইতে ১.২২ মিটার পর্যন্ত অভ্যন্তরের দেওয়াল এমনভাবে নির্মাণ করিতে হইবে যেন উহা মসৃণ এবং অভেদ্য উপরিতল বিশিষ্ট হয়।
(৪) শিশু কক্ষে থাকা প্রতিটি শিশুর জন্য প্রতিদিন ০.২৫ লিটার দুধ এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করিতে হইবে।
(৫) শিশু কক্ষের কর্মচারীদের শিশু কক্ষে কর্তব্যরত থাকাকালীন ব্যবহারের জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব পোশাক সরবরাহ করিতে হইবে।
(৬) শিশু কক্ষে কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(১) শিশু কক্ষে অথবা উহার সংলগড়ব স্থানে শিশুদের ধোয়ামোছা এবং পোশাক পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত ধৌতকরণ কক্ষের ব্যবস্থা করিতে হইবে।
(২) ধৌতকরণ কক্ষ নি¤ড়ববর্ণিত মানসম্পনড়ব হইবে, যথা:
(ক) মেঝে এবং ১ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ দেয়াল এমনভাবে নির্মাণ করিতে হইবে যেন উহা মসৃণ এবং অভেদ্য উপরিতল বিশিষ্ট হয়;
(খ) কক্ষটি পর্যাপ্ত আলোকিত এবং বায়ু চলাচল ব্যবস্থা সম্পনড়ব হইবে এবং মেঝের সহিত কার্যকর নর্দমার ব্যবস্থা থাকিবে এবং এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব এবং পরিপাটি রাখিতে হইবে;
(গ) একই সময়ে ব্যবহারোপযোগী প্রতি ৫ (পাঁচ) জন শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পানি সরবরাহসহ বেসিন বা অনুরূপ পাত্র রাখিতে হইবে এবং বাস্তবসম্মত হইলে ট্যাপের মাধ্যমে প্রতি শিশুর জন্য মাথাপিছু দৈনিক অন্যূন ৫ (পাঁচ) লিটার পানি সরবরাহ করিতে হইবে; এবং
(ঘ) প্রতিটি শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পরিচ্ছনড়ব কাপড়-চোপড়, সাবান এবং তোয়ালে রাখিতে হইবে।
চা-বাগানে তফসিল-৫ অনুযায়ী বিনোদন,শিক্ষা, চিকিৎসা, গৃহায়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ বিভিনড়ব সুযোগ ও সুবিধাদি নিশ্চিত করিতে হইবে।
(১) ধারা ৯৮ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারী এবং তাহাদের উপর নির্ভরশীলগণের জন্য প্রতিষ্ঠানের খরচে ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সংবাদপত্র শ্রমিক-কর্মচারী চিকিৎসার ক্ষেত্রে ২ (দুই) লক্ষ টাকা এবং তাহাদের উপর নির্ভরশীলগণের চিকিৎসার সীমা ১(এক) লক্ষ টাকার অধিক হইবে না।
(২) সংবাদপত্রসহ ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিক-কর্মচারীকে রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা বৎসরে অন্তত একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন।
(৩) যেক্ষেত্রে সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার মালিক কর্তৃক প্রদত্ত চিকিৎসা সুবিধা পর্যাপ্ত না থাকে সেই ক্ষেত্রে, শ্রমিক-কর্মচারী তাহার মালিকের নিকট হইতে পূর্বানুমতি গ্রহণ করিয়া দেশের অভ্যন্তরে উপযুক্ত কোন হাসপাতাল হইতে মালিকের খরচে চিকিৎসা গ্রহণ করিতে পারিবেন।
(৪) কোন সংবাদপত্র ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শ্রমিক-কর্মচারী পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া জখম বা আহত হইলে বা পেশাগত রোগে আμান্ত হইলে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত মালিক তাহার সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচ বহন করিবেন।
(১) ধারা ৯৯ প্রযোজ্য হয় এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য গ্রুপ বীমা চালু করিবেন।
(২) গ্রুপ বীমা শ্রমিকের মৃত্যু এবং স্থায়ী অক্ষমতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৩) উক্ত বীমা ব্যবস্থা চালু করিবার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠিত বীমা কোম্পানির সহিত মালিক চুক্তি করিতে পারিবেন।
(৪) বীমার বাৎসরিক প্রিমিয়াম মালিক পরিশোধ করিবেন এবং এইজন্য শ্রমিকের মজুরি হইতে কোন কর্তন করা যাইবে না।
(৫) চাকরিরত অবস্থায় যে কোন কারণেই শ্রমিকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে শ্রমিকের মনোনীত ব্যক্তিকে বা আইনগত উত্তরাধিকারীকে উক্ত বীমার অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে।
(৬) বীমার বাৎসরিক প্রিমিয়াম ও বীমার অর্থ আয়কর মুক্ত হইবে।
(৭) বীমা হইতে প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা আইন ও এই বিধিমালার অন্যত্র প্রদত্ত আর্থিক প্রাপ্যতার বিকল্প হইবে না।
(১) অন্যত্র ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা হইবে আহার এবং বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ৮ (আট) ঘন্টা :
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে শ্রমিককে দিনে ১০ (দশ) ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করানো যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিকের সম্মতি থাকিতে হইবে এবং অধিকাল কাজ আরম্ভ হইবার কমপক্ষে দুই ঘন্টা পূর্বে তাহাকে অবহিত করিতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মঘন্টা এব অতিরিক্ত কাজ ও অধিকাল ভাতার বিষয়ে যদি কোন শ্রমিকের জন্য সুবিধাজনক কোন চুক্তি বা নিস্পত্তি বা প্রথা বিদ্যমান ধাকে উহা অব্যাহত থাকিবে।
(২) নির্মাণ, রি-রোলিং, ষ্টিল মিল্স, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এবং বিধি ৬৮-তে উল্লিখিত বিপজ্জনক কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদেরকে প্রতি দুই ঘন্টা পর পর আধাঘন্টার বিশ্রাম বিরতি প্রদান না করিয়া কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না বা তাহার দ্বারা কাজ করানো যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, মালিক ধারা ১০১ (ঘ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্তরূপ কোন বিশ্রাম বিরতির জন্য তাহার মজুরি হইতে কোন কর্তন করিতে পারিবে না।
(৩) মালিক কর্তৃক উপ-বিধি (২)-তে উল্লিখিত শিল্প ও কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক ওভারটাইমসহ ১০ (দশ) ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করানো যাইবে না।
ধারা ১০৩ ও ১১৪ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটির দিন উহার সাপ্তাহিক বন্ধ বলিয়া গণ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মহাপরিদর্শক জনস্বার্থে এলাকাভিত্তিক কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নির্ধারণ করিয়া গেজেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করিতে পারিবেন এবং এই বিধিতে উল্লিখিত বন্ধ, মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাহাতে মজুরির বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না সেই ধরনের কারখানা বা প্রতিষ্ঠানেও কার্যকর হইবে।
(১) ধারা ১০৩ মোতাবেক কোন শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান সম্ভব না হইলে উক্ত শ্রমিককে তাহার উক্তরূপ ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(২) সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে একাধারে ১০(দশ) দিনের অধিক কাজ করানো যাইবে না।
(৩) ধারা ১০৪ এর বিধান অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের প্রাপ্য কোন ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) শ্রমিকের ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি অনুমোদনের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক উক্তরূপ ছুটির একটি বিজ্ঞপ্তি ধারা ১০৪ মোতাবেক নোটিস বোর্ডে লটকাইয়া রাখিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে কোন পরিবর্তন আনয়নের প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট ছুটির তারিখের অন্তত ৩ (তিন) দিন পূর্বে উহা করিতে হইবে।
(৫) পাওনা ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি ভোগ করিবার সুযোগ প্রদানের পূর্বে শ্রমিকের চাকরি কোনভাবে অবসান করা হইলে সেই ক্ষেত্রে শ্রমিককে অন্যান্য পাওনা পরিশোধের সময় তাহার অভোগকৃত ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলির জন্য পূর্ণ মজুরি প্রদান করিতে হইবে।
(৬) প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরম-৩৩ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণমূলক ছুটির একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন যাহা সর্বশেষ তথ্য লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং পরিদর্শক চাহিবামাত্র উক্ত রেজিস্টার তাহার নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।
(১) মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ভিনড়বরূপ কোন চুক্তির অবর্তমানে ধারা ১০৮ মোতাবেক শ্রমিকের অধিকাল কর্মের জন্য প্রদেয় ঘন্টাভিত্তিক মজুরির সাধারণ হার নি¤ড়ববর্ণিতভাবে হিসাব করিতে হইবে, যথা :-
(ক) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার দৈনিক মজুরির ১/৮ অংশ ;
(খ) সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার সাপ্তাহিক মজুরির ১/৪৮ অংশ ; এবং
(গ) মাসিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার মাসিক মজুরির ১/২০৮ অংশ। টীকা ।- ৫২ স্ট১২ ী ৪৮ ঘন্টা = ২০৮ ঘন্টায় একটি মাস হইবে। ঘন্টাপ্রতি অধিকাল ভাতার হার = মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) ী ২ ী ওভারটাইম ঘন্টা / ২০৮ ঘন্টা।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক দ্বারা অধিকাল কাজ করানো হইলে উক্ত অতিরিক্ত কাজের সময় উল্লেখ করিয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক বা তৎকর্তৃক প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি শ্রমিককে প্রদত্ত কার্ড বা সিøপে স্বাক্ষর করিয়া কাজ শেষে শ্রমিককে প্রদান করিবেন।
(৩) কোন প্রতিষ্ঠানে মাসিক বা সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক অথবা ঠিকা কাজে বা চুক্তিভিত্তিক বা পিস-রেট হিসাবে নিযুক্ত কোন শ্রমিকের জন্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা যাইবে না যাহাতে ধারা ১০০ এর লংঘন হয়।
(৪) অধিকাল কাজ করাইবার হিসাব ফরম-৩৪ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) কোন মহিলা শ্রমিক দ্বারা রাত ১০ (দশ) ঘটিকা হইতে ভোর ৬ (ছয়) ঘটিকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কাজ করাইতে হইলে ফরম-৩৫ অনুযায়ী উক্ত শ্রমিকের লিখিত সম্মতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত সম্মতি সংশ্লিষ্ট মহিলা শ্রমিক কর্তৃক লিখিত আবেদনের মাধ্যমে প্রত্যাহার না করা হইলে ১২ (বার) মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে।
(৩) মহিলা শ্রমিককে সম্মতি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ফরম-৩৫ (ক) অনুযায়ী আবেদন করিতে হইবে।
(৪) মহিলা শ্রমিক কর্তৃক নৈশ পালায় কাজ করাইবার সম্মতির তথ্য ফরম-৩৬ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
ধারা ১১০ এর বিধান মোতাবেক কোন শ্রমিককে একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিবার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক নি¤ড়ববর্ণিত শর্ত অনুসরণ করিবেন, যথা :
(ক) প্রতিষ্ঠানসমূহ একই মালিকানাধীন হইতে হইবে;
(খ) কোন শ্রমিক দ্বারা আইনের নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানো যাইবে না;
(গ) এক প্রতিষ্ঠান হইতে অপর প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময়কে কাজের সময়ের অন্তর্গত বলিয়া গণ্য করিতে হইবে; এবং
(ঘ) অতিরিক্ত সময়ের কাজের জন্য আইন অনুযায়ী অধিকাল ভাতা প্রদান করিতে হইবে এবং অবস্থা অনুযায়ী মালিক শ্রমিকের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা বা প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় বহন করিবেন।
ধারা ১১৫ ও ১১৬ মোতাবেক নৈমিত্তিক ও পীড়া ছুটি গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইচ্ছা পোষণ করিলে উক্ত ছুটির পূর্বে বা পরে সাপ্তাহিক বা উৎসব ছুটি সংযোগ করিতে পারিবেন যাহা নৈমিত্তিক ছুটি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, নৈমিত্তিক ছুটি অথবা পীড়া ছুটির মধ্যে কোন সাপ্তাহিক বা উৎসব ছুটি পড়িলে উক্ত ছুটি মূল ছুটির অন্তর্ভুক্ত হইবে।
আরও শর্ত থাকে যে, বৎসরের কোন অংশে কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে শ্রমিক উক্ত ছুটি হারাহারিভাবে ভোগ করিতে পারিবেন।
(১) ধারা ১১৭ অনুযায়ী বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি গণনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ১২ (বার) মাসে শ্রমিকের কাজে উপস্থিতির দিনগুলিকে গণ্য করিতে হইবে।
(২) কোন শ্রমিক চাহিলে তাহার অব্যয়িত অর্জিত ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ গ্রহণ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেকের অধিক নগদায়ন করা যাইবে না এবং এইরূপ নগদায়ন বৎসরে মাত্র একবার করা যাইবে।
(৩) কোন শ্রমিক তাহার মজুরিসহ ছুটি পাওনা থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার ছুটি বাবদ মজুরি তাহার মনোনীত বা আইনগত উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করিতে হইবে।
(১) মালিক বা ব্যবস্থাপক ফরম-৯ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে ছুটির একটি বহি সরবরাহ করিবেন।
(২) ছুটির বহিটি শ্রমিকের সম্পত্তি এবং কারখানার ব্যবস্থাপক বা তাহার প্রতিনিধি কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় সময়ে ইহাতে সংশ্লিষ্ট বিষয় পূরণের কারণ ব্যতীত শ্রমিকের নিকট হইতে গ্রহণ করিতে বা তলব করিতে পারিবেন না বা একাদিμমে ৭ (সাত) দিনের অধিক রাখিতে পারিবে না।
(৩) ছুটির বহিতে সকল অন্তর্ভুক্তি কালি দ্বারা সুস্পষ্টভাবে লিখিতে হইবে এবং হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করিয়া রাখিতে হইবে।
(৪) কোন শ্রমিক ছুটির বহি হারাইয়া ফেলিলে ব্যবস্থাপক ১০ (দশ) টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে তাহাকে আরও এক কপি বহি সরবরাহ করিবেন এবং তাহার রেকর্ড হইতে উহাতে তথ্য অন্তর্ভুক্ত বা লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(৫) যদি কোন প্রতিষ্ঠান কম্পিউটারের মাধ্যমে ছুটির রেকর্ড সংরক্ষণ করে, তবে উহার ছাপানো কপি ছুটির বহি হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) অবস্থানুসারে যতটুকু সম্ভব, একই পরিবারভুক্ত শ্রমিক যেমন স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততিকে ধারা ১১৫ মোতাবেক ছুটি একই দিনে মঞ্জুর করিতে হইবে।
(২) কারখানার ব্যবস্থাপকের অনুমোদন সাপেক্ষে একজন শ্রমিক তাহার ছুটি অন্য শ্রমিকের সহিত বদল করিতে পারিবেন।
(৩) ধারা ১১৫, ১১৬ ও ১১৮ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বৎসর বলিতে ইংরেজি পঞ্জিকা বৎসর বুঝাইবে।
(১) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির (যদি থাকে) সহিত আলোচনাμমে প্রতি বৎসর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বৎসরের উৎসব ছুটি নির্ধারণ করিবেন, যাহা ১১ (এগার) দিনের কম হইবে না।
(২) মালিক উক্ত ছুটির তালিকা প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকের জ্ঞাতার্থে নোটিস বোর্ডে লটকাইয়া রাখিবেন এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি না থাকিলে মালিক বিষয়টি অংশগ্রহণকারী কমিটিতে আলোচনাμমে উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উৎসব ছুটি নির্ধারণ করিবেন।
(৪) কোন প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে মালিক যতদূর সম্ভব শ্রমিকদের সহিত আলোচনাμমে উক্ত ছুটি নির্ধারণ করিবেন।
(১) প্রতিটি কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের শ্রমিক রেজিস্টারের μমানুসারে মজুরিকাল অনুযায়ী মজুরি পরিশোধের একটি রেকর্ড ফরম-৩৮ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং মজুরি পরিশোধের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি তাহার সুবিধা অনুযায়ী উহা কম্পিউটারে সংরক্ষণ করিতে পারিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মজুরি পরিশোধকালে মুদ্রিত কপিতে রেভিনিউ স্ট্যাম্প ব্যবহার করিয়া শ্রমিকের স্বাক্ষর গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) যদি কোন শ্রমিক তাহার মজুরি তাহার ব্যাংক হিসাবে গ্রহণ করিতে চাহেন তবে মালিক উহা ব্যাংক চেক অথবা সরাসরি ব্যাংক হস্তান্তর (ইধহশ ঞৎধহংভবৎ) এর মাধ্যমে পরিশোধ করিতে পারিবেন এবং মজুরি স্লিপ প্রদান করিবেন এবং এইক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ মহিলা শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করিবে।
(৩) প্রতি মজুরি মেয়াদে প্রত্যেক শ্রমিককে মজুরি পরিশোধের পূর্বে মালিক ফরম-৩৮ অনুযায়ী একটি মজুরি সিøপ প্রদান করিবেন যাহাতে শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি, অধিকাল ভাতা, কর্তন (যদি থাকে) ও পরিশোধযোগ্য মোট মজুরি উল্লেখ থাকিবে।
(৪) প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে যে কোন ধরনের শ্রমিককে কাজে নিয়োজিত করিবার পূর্বেই তাহার মজুরি ঘোষণা করিতে হইবে।
(৫) প্রতিটি কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিকদের মধ্যে যাহারা নিরবিচ্ছিনড়বভাবে ১ (এক) বৎসর চাকরি পূর্ণ করিয়াছেন তাহাদেরকে বৎসরে দুইটি উৎসব ভাতা প্রদান করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিটি উৎসব ভাতা মাসিক মূল মজুরির অধিক হইবে না, উহা মজুরির অতিরিক্ত হিসাবে বিবেচিত হইবে।
(৬) ঠিকাহার বা ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হিসাব হইবে নি¤ড়বরূপ, যথা:-
(ক) কারখানার ফ্লোর ইন-চার্জের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিকট হইতে প্রাথমিক ধারণা নিয়া উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বা মালিক ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি নির্ধারণ করিবেন;
(খ) ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি প্রদানকালে প্রত্যেক শ্রমিককে পে-স্লিপ প্রদান করিতে হইবে এবং পে-স্লিপে মজুরির খাতওয়ারী বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ থাকিবে;
(গ) কোন প্রকৃতি (ঝঃুষব) এর ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির হার সম্পর্কে কোন পর্যায় হইতে কোন আপত্তি উত্থাপিত হইলে উহা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকিবে;
(ঘ) আংশিক কাজের ক্ষেত্রে শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য নির্ধারিত গ্রেডে ন্যূনতম মজুরিতে ঘাটতি থাকিলে উহা মালিক পূরণ করিয়া প্রদান করিবেন;
(ঙ) কাজের স্বল্পতার কারণে কোন মাসে কোন শ্রমিক মাসের সকল কর্মদিবসে উপস্থিত থাকিবার পরও নির্ধারিত গ্রেডের প্রাপ্য ন্যূনতম মজুরি অপেক্ষা কম মজুরি পাইলে কারখানা কর্তৃপক্ষকে উহা পূরণ করিতে হইবে;
(চ) গ্রেডে প্রাপ্য মজুরি বা ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরির মধ্যে যাহা অধিক হইবে শ্রমিকদেরকে সেই মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(ছ) কারখানায় যদি কাজ না থাকে তাহা হইলে শ্রমিকদের নির্ধারিত গ্রেডের প্রাপ্য মূল মজুরি প্রদান করিতে হইবে;
(জ) ফুরণ ভিত্তিক (পিস রেট) মজুরি বিষয়ক উপরি-উক্ত বিধানসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হইতেছে কিনা উহা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর নজরদারী করিবে।
(১) শ্রমিকের মজুরি মাসিক বা সাপ্তাহিক বা দৈনিক বা চুক্তিভিত্তিক বা পিসরেট অনুযায়ী যেভাবেই নির্ধারণ করা হউক না কেন উহা শ্রমিককে পূর্বেই নোটিস আকারে অবহিত করিতে হইবে এবং কখন উহা কি উপায়ে পরিশোধ করা হইবে তাহাও নোটিশে উল্লেখ থাকিতে হইবে।
(২) শ্রমিকের মজুরি কোন্ কোন্ তারিখে পরিশোধ করা হইবে উহা নির্দিষ্ট করিয়া মালিক বা পে-মাস্টার প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে বা উহার নিকটবর্তী প্রকাশ্য স্থানে অন্যূন ১০ (দশ) দিন পূর্বে বাংলায় সহজবোধ্য ভাষায় লিখিত নোটিস দ্বারা বিজ্ঞাপিত করিবেন।
(৩) কোন বিশেষ কারণে বিজ্ঞাপিত তারিখ পরিবর্তনের প্রয়োজন হইলে সঙ্গে সঙ্গে উহার কারণ ও পরিবর্তিত তারিখ উল্লেখ করিয়া পুন:বিজ্ঞপ্তি জারি করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, এই পরিবর্তন পূর্বের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৩ (তিন) দিন পূর্বে হইতে হইবে এবং আইন নির্ধারিত মেয়াদ অতিμম করিতে পারিবে না।
(৪) অবসর গ্রহণের কারণে অথবা মালিক কর্তৃক তাহার ছাঁটাই, ডিস্চার্জ, অপসারণ, বরখাস্ত অথবা শ্রমিক কর্তৃক অব্যাহতি গ্রহণের কারণে অথবা অন্য কোন কারণে যদি কোন শ্রমিকের চাকরির ছেদ ঘটে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিকের শুধুমাত্র প্রাপ্য বকেয়া মজুরি তাহার চাকরির ছেদ ঘটিবার তারিখ হইতে পরবর্তী ৭ (সাত) কর্মদিবসের মধ্যে এবং ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য পাওনা চাকরির ছেদ ঘটিবার তারিখ হইতে পরবর্তী অনধিক ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ করিতে হইবে।
(১) কোন শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরি ও অন্যান্য পাওনাদি বে-আইনীভাবে কর্তন বা অনুরূপ কারণে উত্থিত দাবি শ্রমিক নিজে অথবা তাহার দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত হইয়া তাহার পক্ষে প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মালিককে অবহিত করিতে পারিবেন।
(২) মালিক দাবি প্রাপ্তির পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(৩) উপ-বিধি (২) অনুযায়ী মালিক ব্যর্থ হইলে দাবি পেশকারী পক্ষ বিষয়টির নিষ্পত্তিকল্পে ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট
লিখিত আবেদন করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-বিধি (৩) এর অধীন আবেদন পাইবার পর মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক সর্বোচ্চ ২০ (বিশ) দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি করিবার লক্ষ্যে কার্যকর
পদক্ষেপ গ্রহণ করিবেন এবং বর্ণিত উদ্যোগ গ্রহণ করিবার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে আবেদনের বিষয়টি নিষ্পত্তি করিয়া লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৫) ধারা ১২৪(ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসাবে গণ্য হইবেন এবং তিনি উত্থাপিত বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তিকল্পে সংশ্লিষ্ট পক্ষদের শুনানি গ্রহণ ও কাগজপত্রাদি (যদি থাকে) পর্যালোচনান্তে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন।
(৬) সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত প্রতিপালন সংশ্লিষ্ট পক্ষদের উপর বাধ্যতামূলক হইবে এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ব্যতীত আপোষ মীমাংসাকারী বা মধ্যস্থতাকারী কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ পক্ষ ইচ্ছা করিলে প্রতিকার চাহিয়া সিদ্ধান্ত প্রদানের তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে শ্রম আদালতে আবেদন করিতে পারিবে।
(৭) ধারা ১৬১ (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ঠিকাদারের পক্ষ হইতে কোন আচরণবিধির লংঘনের কারণে ঠিকাদার কর্তৃক প্রদেয় ক্ষতিপূরণের অংশ নির্ধারণের লক্ষ্যে মালিক মোট ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের রসিদসহ উহা জমা প্রদানের তারিখ হইতে ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট আবেদন করিবেন।
(৮) মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক মালিক এবং ঠিকাদারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবেন।
(৯) ধারা ১২৪(ক) ও ১৬১(৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মহাপরিদর্শক তাহার উপর অর্পিত ক্ষমতা লিখিতভাবে অফিস আদেশ দ্বারা এলাকা ভিত্তিক অন্য কোন পরিদর্শক বা পরিদর্শকগণকে প্রদান করিতে পারিবেন।
(১০) মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক ধারা ১২৪ (ক) অনুযায়ী নোটিস প্রদান করিলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক হইবে।
(১) কোন শ্রমিকের চাকরি তাহার মজুরির মেয়াদ পূর্ণ হইবার পূর্বে অবসান হইলে অথবা কোন শ্রমিক মাস শুরু হইবার পরে কাজে যোগদান করিলে উভয় ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ মাসের জন্য শ্রমিকের মজুরি হিসাবের ক্ষেত্রে তাহার সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটিসহ কর্মকালীন দিনগুলিকে গণনা করিতে হইবে।
(২) বাড়ী ভাড়া ভাতা, যাতায়াত ভাতা এবং চিকিৎসা ভাতাসহ মাসের মোট মজুরিকে উক্ত মাসের মোট দিনগুলি দ্বারা ভাগ করিয়া উক্ত মেয়াদের দিনগুলিকে গুণ করিয়া মজুরি হিসাব করিতে হইবে।
(১) ধারা ১২৬ (২) অনুযায়ী কর্তব্যে অনুপস্থিতির জন্য মজুরি কর্তনের ক্ষেত্রে মজুরি বলিতে শ্রমিকের মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) কে বুঝাইবে এবং শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) কে ৩০ (ত্রিশ) দ্বারা ভাগ করিয়া দৈনিক মজুরির পরিমাণ
নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অবহিত করিতে হইবে।
(২) আইন এবং প্রতিষ্ঠানের বিধিমালায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত কোন অনুপস্থিতিতে মজুরি কর্তন করা যাইবে না।
(১) ধারা ১২৬ (২) অনুযায়ী কর্তব্যে অনুপস্থিতির জন্য মজুরি কর্তনের ক্ষেত্রে মজুরি বলিতে শ্রমিকের মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) কে বুঝাইবে এবং শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) কে ৩০ (ত্রিশ) দ্বারা ভাগ করিয়া দৈনিক মজুরির পরিমাণ
নির্ধারণ করিতে হইবে এবং উহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অবহিত করিতে হইবে।
(২) আইন এবং প্রতিষ্ঠানের বিধিমালায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত কোন অনুপস্থিতিতে মজুরি কর্তন করা যাইবে না।
(১) ধারা ১২৭ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সকল কর্তন ও উহা আদায়ের রেকর্ড ফরম- ৩৯ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) মজুরি কর্তনের বার্ষিক বিবরণী নির্ধারিত ফরমে পঞ্জিকা বর্ষ শেষ হইবার পরবর্তী ১৫ (পনের) ফেব্রুয়ারির মধ্যে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শকের নিকট দাখিল করিতে হইবে।
(১) ইতিমধ্যে অর্জিত হয় নাই এমন পরিমাণ মজুরি অগ্রিম প্রদানের ক্ষেত্রে চাকুরিতে নিযুক্ত ব্যক্তির পরবর্তী দুইটি মাসে যে পরিমাণ মজুরি অর্জন করিবার সম্ভাবনা রহিয়াছে উহা অপেক্ষা অধিক অগ্রিম প্রদান করা যাইবে না।
(২) প্রদত্ত অগ্রিম অনধিক ১২ (বার) মাসের মধ্যে কিস্তিতে আদায় করা যাইবে এবং কোন কিস্তির পরিমাণ মজুরির এক-তৃতীয়াংশের অধিক হইতে পারিবে না।
(৩) সমস্ত অগ্রিমের পরিমাণ এবং উহার উসুল ফরম-৪০ অনুযায়ী নির্ধারিত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক শ্রমিককে কাজে যোগদানের সময় তাহার অবর্তমানে তাহার অপরিশোধিত মজুরি ও অন্যান্য পাওনা গ্রহণের জন্য ফরম-৪১ অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে।
(২) উক্ত মনোনয়ন ফরমে শ্রমিকের নিজের ছবি এবং মনোনীত ব্যক্তির ছবি সংযুক্ত করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, শ্রমিক ইচ্ছা করিলে সময় সময় উক্ত মনোনয়ন একই প্রμিয়ায় পরিবর্তন করিতে পারিবে।
(১) যদি মৃত শ্রমিকের কোন নমিনী না থাকে অথবা কোন উত্তরাধিকারী না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে মালিক কর্তৃক ফরম-৪২ অনুযায়ী শ্রম আদালতে অর্থ প্রদান করিতে হইবে।
(২) আদালত উহার নিকট জমাকৃত অর্থের একটি প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ ফরম-৪৩ অনুযায়ী প্রদান করিবে।
ধারা ১৩২ মোতাবেক কোন চাকরিরত বা চাকরিচ্যুত শ্রমিক নিজে অথবা শ্রমিকের মৃত্যু হইলে তাহার কোন উত্তরাধিকারী অথবা কোন আইনসংগত প্রতিনিধি অথবা মৃত শ্রমিকের উত্তরাধিকারীগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাহাদের পক্ষে শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফরম-৪৪, ৪৪(ক) বা ৪৪(খ) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শ্রম আদালতে দরখাস্ত পেশ করিতে হইবে।
(১) সরকার ধারা ১৩৮(৬) বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে উক্ত ধারার উপ-ধারা (২) মোতাবেক মজুরি বোর্ডে মালিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও শ্রমিকগণের প্রতিনিধি মনোনয়নের লক্ষ্যে মালিক ও শ্রমিকগণের ফেডারেশনসমূহে সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের নিকট হইতে এবং উপ-ধারা (৩) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিল্পের সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী মালিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের অথবা ফেডারেশনের অবর্তমানে সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের নিকট মনোনয়ন যাচনা করিবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন মনোনয়ন যাচনা করিবার ক্ষেত্রে শ্রম পরিচালকের রেকর্ড অনুযায়ী ফেডারেশনের সদস্যপদ বিবেচনায় লইতে হইবে।
(৩) উভয় ক্ষেত্রেই শ্রম পরিচালকের মাধ্যমে মনোনয়ন যাচনা করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন শিল্পের প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে যদি উক্ত শিল্পে কোন রেজিস্টার্ড ইউনিয়ন না থাকে, সেইক্ষেত্রে শ্রম পরিচালক জাতীয় ফেডারেশনসমূহের মধ্য হইতে উক্ত শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এইরকম সংগঠনের নিকট প্রতিনিধির মনোনয়ন যাচনা করিবেন এবং এইরকম সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে সরকার নিজ বিবেচনায় শ্রমিক ও মালিক পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করিতে পারে এমন ব্যক্তিদেরকে উক্ত শিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি হিসাবে মনোনীত করিবে।
(৪) যদি কোন কারণে সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রদান না করে তাহা হইলে সরকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনসমূহের নিকট মনোনয়ন যাচনা করিতে পারিবে।
(১) বোর্ডের সচিব চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাμমে প্রত্যেক সদস্যকে লিখিতভাবে নোটিস প্রদান করিয়া বোর্ডের সভা আহবান করিবেন এবং সভার স্থান ও সময় চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(২) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহার সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রত্যেক সভায় সভাপতিত্ব করিবেন, তবে তিনি অনুপস্থিত থাকিলে একজন নিরপেক্ষ সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৪) ধারা ১৩৯ মোতাবেক, বোর্ডের নিকট প্রেরিত বিষয়ের প্রম সভায়, বোর্ডের চেয়ারম্যান, নিরপেক্ষ সদস্য, মালিকদের একজন প্রতিনিধি এবং শ্রমিকদের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত হইলে সভার কোরাম হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, পরবর্তী সভাসমূহে অনুরূপ কোন সদস্য অনুপস্থিত থাকিলেও বোর্ডের কার্যμমের অগ্রগতি ব্যাহত হইবে না এবং কোন সদস্যের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও বোর্ডের কার্যμম বাতিল হইবে না।
(৫) ধারা ১৩৯ অনুযায়ী বোর্ডের নিকট প্রেরিত কোন বিষয় প্রেরণের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে বোর্ড নিষ্পত্তি করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ডের কোন সুপারিশ কেবলমাত্র বিলম্বে প্রদানের কারণে বাতিল হইবে না।
(১) আইন ও এই বিধিমালায় ভিনড়বতর কোন বিধান না থাকিলে বোর্ডের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তাহাদের নিযুক্তি সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ ভিনড়বতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পরেও স্থলাভিষিক্তদের নিয়োগ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সদস্যগণ তাহাদের পদে বহাল থাকিবেন।
(৩) যে কোন সদস্য তাহার কার্যকাল শেষ হইবার পর পুনর্নিয়োগের যোগ্য হইবেন।
(৪) যে কোন সদস্য সরকারকে লিখিতভাবে নোটিস প্রদান করিয়া সদস্য পদ হইতে পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার যে তারিখে তাহার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করিবেন সে তারিখ হইতে পদটি শূন্য হইবে।
(৫) চেয়ারম্যানের নিকট হইতে ছুটি গ্রহণ না করিয়া কোন সদস্য (চেয়ারম্যান ব্যতীত) পরপর তিনটি অনুপস্থিত থাকিলে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তাহার আসন শূন্য ঘোষণা করিতে পারিবে।
(৬) অসদাচরণ বা অন্য কোন কারণে বোর্ডের কোন সদস্যের উক্ত পদে বহাল থাকা জনস্বার্থের পরিপন্থী বলিয়া বিবেচিত হইলে সরকার তাহাকে বোর্ডের সদস্যপদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবে।
(৭) বোর্ডের যে কোন শূন্য পদ সরকার, বোর্ডের প্রতিনিধিত্বমূলক স্বার্থ ক্ষুণড়ব না হয়, এমনভাবে পূরণ করিবে।
(৮) সাময়িক শূন্য পদ পূরণের জন্যে কোন সদস্য নিয়োগ করা হইলে তিনি শুধু তাহার পূর্বসূরীর কার্যকালের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।
(১) চেয়ারম্যান ব্যতীত যদি বোর্ডের কোন সদস্য বাংলাদেশ ত্যাগ করিয়া থাকেন তবে তিনি তাহার দেশত্যাগের এবং প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ চেয়ারম্যানকে অবহিত করিবেন।
(২) কোন সদস্য যদি ৬ (ছয়) মাসের অধিক সময় বাংলাদেশের বাইরে অবস্থান করিতে চাহেন তবে চেয়ারম্যান সরকারকে প্রয়োজনবোধে উক্ত মেয়াদের জন্যে একজন সাময়িক বিকল্প সদস্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে বিষয়টি অবগত করিবেন।
(৩) যেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান দীর্ঘ ছুটিতে যান বা প্রেষণে বাংলাদেশের বাহিরে প্রেরিত হন সেই ক্ষেত্রে তাহার অনুপস্থিতিকালের জন্য সরকার অন্য কোন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবে অথবা নিরপেক্ষ সদস্যকে সাময়িকভাবে চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
চেয়ারম্যান ব্যতীত বোর্ডের সদস্যগণ সভায় উপস্থিতির জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে ভাতা পাইবেন।
সরকার বোর্ডের একজন সচিব ও প্রয়োজনমত অন্যান্য কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, বোর্ডের সচিব হিসাবে সহকারী শ্রম পরিচালক বা সহকারী মহাপরিদর্শকের নি¤েড়বর পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা যাইবে না।
(১) সচিব বোর্ডের সকল সভায় অংশগ্রহণ করিবেন এবং নি¤ড়ববর্ণিত কাজে চেয়ারম্যানকে সহযোগিতা করিবেন, যথা:
(ক) সভা আহবান;
(খ) সভার কার্যবিবরণীর রেকর্ড সংরক্ষণ;
(গ) সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যμম গ্রহণ; এবং
(ঘ) চেয়ারম্যান কর্তৃক নির্দেশিত আইনানুগ নির্দেশ প্রতিপালন।
(২) সচিব সভার আলোচনায় অংশগ্রহণ ও ভোট প্রদান করিতে পারিবেন না তবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বা চেয়ারম্যানের নির্দেশ মতে বোর্ডের সভায় সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রাদি ও তথ্যাদি উপস্থাপন করিতে পারিবেন।
(১) বোর্ড নিমড়বতম মজুরির হারের সুপারিশ সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকাশ করিবে যেন সংশ্লিষ্ট যে কোন পক্ষ উক্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে তাহাদের আপত্তি বা সুপারিশ উপাত্তসহ লিখিতভাবে অবহিত করিবার সুযোগ পান।
(২) উপ-বিধি (১) মোতাবেক প্রদত্ত আপত্তি বা সুপারিশ বিবেচনার পর বোর্ড মূল প্রস্তাবের সংশোধন করিতে অথবা মূল প্রস্তাব ঠিক রাখিতে পারিবে এবং সেই অনুযায়ী সরকারের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে।
(৩) মালিক বা শ্রমিক পক্ষের অনুরোধে বোর্ডের যে কোন সভায় উপস্থিত হইয়া আলোচনায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে চেয়ারম্যান যে কোন বিশেষজ্ঞ বা উপদেষ্টাকে অথবা প্রয়োজনবোধে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কোন কর্মকর্তাকে আমন্ত্রণ করিতে পারিবেন।
(৪) উপ-বিধি (৩) এর অধীন আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ, উপদেষ্টা বা কর্মকর্তা সভার আলোচ্য বিষয়ে তাহার মতামত প্রদান করিতে পারিবেন কিন্তু তাহার কোন ভোটাধিকার থাকিবে না।
(৫) চেয়ারম্যান ও নিরপেক্ষ সদস্য ব্যতীত বোর্ডের সদস্য ও উপদেষ্টাদের ব্যয় সংশ্লিষ্ট পক্ষ বহন করিবেন।
(১) যে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করিয়া বোর্ডের নিকট সুপারিশ দাখিলের জন্য বোর্ড বিভিনড়ব কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং যে কোন এলাকার বা যে কোন শ্রেণির
শিল্পের শ্রমিকদের নিমড়বতম মজুরির হার নির্ধারণে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানপূর্বক সুপারিশ পেশ করিয়া বোর্ডকে সহায়তা করিবার জন্যে অনুরূপ যে কোন কমিটিকে বোর্ড নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) উক্তরূপ কমিটিতে মালিকের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য, শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী একজন সদস্য এবং একজন নিরপেক্ষ সদস্য (যিনি চেয়ারম্যানও হইবেন) থাকিতে হইবে।
(৩) তদন্ত করিবার উদ্দেশ্যে তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান বোর্ডের চেয়ারম্যানের অনুরূপ ক্ষমতা ভোগ করিবেন।
(৪) কমিটির চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের বা কোন কমিটির কোন উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞের বিধি ১৩২ মোতাবেক প্রদত্ত বোর্ডের চেয়ারম্যান বা বোর্ডের যে কোন সদস্য, উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞের সমান ক্ষমতা থাকিবে।
(৫) কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পারিশ্রমিক সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
আইন মোতাবেক কোন তদন্তের ক্ষেত্রে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ এবং সাক্ষীদের হাজির হইতে বাধ্য করাসহ দলিলপত্র উপস্থাপনে বাধ্য করিবার জন্য ১৯০৮সনের দেওয়ানী কার্যবিধি (১৯০৮ সনের ৫নং আইন)-তে বর্ণিত ক্ষমতা চেয়ারম্যানের থাকিবে।
আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে চেয়ারম্যান বা বোর্ডের যে কোন সদস্য অথবা চেয়ারম্যান কর্তৃক যথাযথভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত যে কোন উপদেষ্টা বা বিশেষজ্ঞ বা বোর্ডের অধীন কর্মরত যে কোন কর্মকর্তা
(ক) যে কোন যুক্তিসঙ্গত সময়ে কোন কারখানায় বা শিল্পে ব্যবহৃত যে কোন স্থানে বা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিতে পারিবেন;
(খ) যে কোন রেজিস্টার বা অন্যান্য দলিলপত্র তলব করিতে এবং সরেজমিনে যে কোন লোকের সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন; এবং
(গ) প্রশড়বমালা বিলি করিয়া বা অন্যভাবে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবেন।
(১) কোন মালিক বা ঠিকাদার বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কোন শ্রমিক বা কর্মচারীকে আইনের অধীন ঘোষিত নিমড়বতম মজুরি হারের চেয়ে কম মজুরি প্রদান করিতে পারিবেন না।
(২) যদি কোন মালিক বা ঠিকাদার বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘোষিত নিমড়বতম মজুরি অপেক্ষা শ্রমিক বা কর্মচারীকে কম প্রদান করেন তাহা হইলে বকেয়া মজুরির ৫০% হারে অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ হিসাবে শ্রমিক বা কর্মচারী দাবি করিতে পারিবেন।
(৩) সরকার নিমড়বতম মজুরির হার সংশ্লিষ্ট মালিক ও শ্রমিকদের অবহিত করিবার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৪) সরকার কর্তৃক ঘোষিত মজুরির নিমড়বতম হার বাংলা ভাষায় নোটিস আকারে মালিক কারখানায় বা কারখানার অন্য কোন উপযুক্ত স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করিবেন।
(৫) উপ-বিধি (৪) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নি¤ড়বতম মজুরির হার প্রয়োজনে ইংরেজি ভাষাতেও নোটিস আকারে প্রদর্শন করা যাইবে।
(৬) নি¤ড়বতম মজুরি প্রযোজ্য হয় এমন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বা বাইরের কাজে মালিক বা ঠিকাদার কর্তৃক নিযুক্ত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে যে কারখানায় বা প্রতিষ্ঠানে বা স্থানে কাজ প্রদান করা হয়,সেখানে সংশ্লিষ্ট শিল্পে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মজুরির হার ও গেজেট প্রকাশের তারিখ উল্লেখপূর্বক নোটিস প্রদান করিতে হইবে।
ধারা ১৫৩ মোতাবেক প্রদেয় মাসিক ক্ষতিপূরণ পর্যালোচনার আবেদন নি¤ড়ববর্ণিত ক্ষেত্রে ডাক্তারী প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত শ্রম আদালতে পেশ করা যাইবে, যথা:জ্জ
(ক) মালিক কর্তৃক শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অধিকার নির্ধারিত হইয়াছে এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাইয়াছে;
(খ) শ্রমিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অধিকার নির্ধারণ করা হইয়াছে এবং শ্রমিকের মজুরি কমিয়া গিয়াছে;
(গ) শ্রমিকের অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও মালিক কর্তৃক শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু করিবার পর ক্ষতিপূরণ প্রদান বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে;
(ঘ) বর্তমানে বলবৎ ক্ষতিপূরণের হার প্রতারণামূলকভাবে বা অন্যায় প্রভাব দ্বারা বা অন্য কোন অনুচিত পন্থায় মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক নির্ধারণ করা হইয়াছে;
(ঙ) মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রেকর্ড হইতে আপাতত: দৃষ্টিতে কোন ভুল দৃষ্টিগোচর হয়।
(১) যদি মালিক কর্তৃক পরিশোধ্য ক্ষতিপূরণ হ্রাস করা বা বন্ধ করিবার আবেদন পরীক্ষা করিয়া শ্রম আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, মালিকের অনুরূপ ক্ষতিপূরণ হ্রাস বা বন্ধ করিবার আবেদন করিবার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে তবে উক্ত আবেদন সম্পর্কে তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান সাপেক্ষে যে কোন সময় অনুরূপ মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পূর্ণ বা আংশিক স্থগিত রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।
(২) যে ক্ষেত্রে ধারা ১৫৪ মোতাবেক শ্রম আদালতে আবেদন করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে শ্রম আদালত দৈহিক অক্ষমতার সম্ভাব্য মেয়াদ হিসাব করিয়া ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ নির্ধারণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত হিসাব হইতে এক টাকার ভগড়বাংশ ধর্তব্যের বাইরে বিবেচিত হইবে।
(৩) উপ-বিধি (২) প্রযোজ্য হইলে শ্রম আদালত যদি দৈহিক অক্ষমতা নির্ধারণে অপারগ হয় তবে বিভিনড়ব সময় অনধিক দুই মাসের জন্য দরখাস্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ মুলতবী রাখিতে পারিবে।
ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (২) মোতাবেক শ্রমিককে তাহার দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য চাকরিতে যোগদানকালীন ফরম-৪১ অনুযায়ী উত্তরাধিকারী মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে।
(১) জখমের কারণে মৃত্যুর ফলে ধারা ১৫৫ (১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা প্রদানের ক্ষেত্রে মালিক শ্রম আদালতের নিকট ফরম-৪৫ অনুযায়ী একটি বিবরণী দাখিল করিবে এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের ক্ষেত্রে ফরম-৪৬ অনুযায়ী বিবরণী দাখিল করিতে হইবে এবং উভয় ক্ষেত্রে আদালত জমা প্রদানকারীকে ফরম-৪৭ অনুযায়ী প্রাপ্তি রসিদ প্রদান করিবে।
(খ) যে কোন রেজিস্টার বা অন্যান্য দলিলপত্র তলব করিতে এবং সরেজমিনে যে কোন লোকের সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন; এবং
(গ) প্রশড়বমালা বিলি করিয়া বা অন্যভাবে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবেন।
(২) মারাতড়বক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের সময় যদি মালিক উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত বিবরণীতে উল্লেখ করিয়া থাকেন যে, বন্টন কার্যμমে তিনি পক্ষভুক্ত হইতে ইচ্ছুক তাহা হইলে শ্রম আদালত, ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণের পূর্বে মালিককে, তিনি যাহাকে উক্ত অর্থ মঞ্জুর করিতে চাহেন উক্ত ব্যক্তি যে মৃত শ্রমিকের পোষ্য বা তাহার কোন পোষ্য নাই, উহা প্রমাণ করিবার জন্য সুযোগ প্রদান করিবে।
শ্রম আদালত উহার নোটিস বোর্ডে ধারা ১৫৫(১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত জমার একটি তালিকা প্রদর্শন করিবে যাহাতে জমাকারীদের নাম ও ঠিকানা এবং যাহাদের মৃত্যু বা আহত হইবার দরুণ উক্ত টাকা জমা দেওয়া হইয়াছে, তাহাদের নাম ও ঠিকানা থাকিবে।
(১) যে ক্ষেত্রে কোন মালিক দুর্ঘটনায় জখমপ্রাপ্ত কোন শ্রমিককে বা মৃত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অর্থ আইন অনুযায়ী পোষ্যদের প্রদান করেন নাই অথবা আদালতে জমা প্রদান করেন নাই সেই ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ জমা প্রদানের জন্য আদেশ জারির প্রার্থনা জানাইয়া শ্রমিক নিজে অথবা মৃত শ্রমিকের যে কোন পোষ্য অথবা তাহার আইনগত প্রতিনিধি শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ দরখাস্ত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফরম-৪৮, ৪৮(ক) বা ৪৮(খ) অনুযায়ী করিতে হইবে।
(২) শ্রম আদালত অনুরূপ দরখাস্ত প্রাপ্তির পরজ্জ
(ক) মালিককে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া তদন্ত সমাপ্ত করিবার পর উহা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ক্ষতিপূরণের অর্থ আইন অনুযায়ী প্রদান করা বা আদালতে জমা দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেওয়ার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিবে;
(খ) মালিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা হইবার পর, যে কোন সময় উহা তৎকর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় মৃত শ্রমিকের যে সকল পোষ্য বা নির্ভরশীল আবেদন করেন নাই
তাহাদের নিকট নোটিস পৌঁছাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোষ্যগণ কোন তারিখে আদালত সমীপে উপস্থিত হইবে উহা উল্লেখ
থাকিতে হইবে;
(গ) দরখাস্তের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ শ্রম আদালতে নির্দেশিত তারিখে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইবার কারণে মৃত ব্যক্তির কোন নির্ভরশীল ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ বাবদ জমাকৃত টাকার
অংশ পাইবার অধিকার হইতে যাহাতে বঞ্চিত না হন উহা নিশ্চিত করিবে।
(৩) কোন মালিক ধারা ১৫৫(৪) এর বিধান মোতাবেক ক্ষতিপূরণ জমা প্রদান করিবার সময় উহার সহিত একটি বিবরণী দাখিল করিবেন এবং তাহাকে ফরম-৪৭ অনুযায়ী শ্রম আদালত এতদসংশ্লিষ্ট একটি রসিদ প্রদান করিবে।
(১) ধারা ১৫৫(৭) মোতাবেক দুই বৎসরের মধ্যে কোন পোষ্য পাওয়া না গেলে শ্রম আদালতে জমাকৃত অবন্টিত অর্থ উক্ত আদালত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ দ্বারা গঠিত ‘‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’’এ হস্তান্তর করিবে।
(২) যে ক্ষেত্রে আদালতে জমাকৃত অর্থ আইনগত অক্ষমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সেই ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের নিকট জমাকৃত অর্থ উক্ত ব্যক্তির কল্যাণার্থে আদালত উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে হস্তান্তর করিতে পারিবে।
(৩) অক্ষমতার অধীন ব্যক্তি অক্ষমতামুক্ত হইলে উক্ত অর্থ ফেরত পাইবেন।
(৪) তহবিল হইতে উক্ত অর্থ সরকার অনুমোদিত লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করিলে মুনাফাসহ সমুদয় অর্থ আবেদন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে ফেরত পাইবেন।
(৫) আইনগত অক্ষমতার (উত্তরাধিকারী) অধীন ব্যক্তি যখন আইনগতভাবে অক্ষমতামুক্ত হইবেন তখন তাহাকে তাহার অংশের অর্থ মুনাফাসহ প্রদান করিতে হইবে।
(৬) শ্রম আদালত উপ-বিধি (১) অথবা (২) অনুযায়ী গৃহীত কার্যμমের রেকর্ড বিধি ১৬২ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিবে।
ধারা ১৫৮(১) মোতাবেক শ্রম আদালতে মারাত্মক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত কোন বিবৃতি ও ধারা ১৫৯ অনুযায়ী মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন রিপোর্ট ফরম-৪৯ অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(১) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের চিকিৎসা মালিকের তত্ত্বাবধানে করিতে হইবে এবং মালিক উহার ব্যয় বহন করিবেন।
(২) যে শ্রমিক ক্ষতিপূরণ হিসাবে মাসিক ভাতা পাইতেছেন তাহাকে দুর্ঘটনার পরের মাসে দুইবার এবং পরবর্তী মাসগুলিতে একবারের অধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাহার আবাসস্থলের বাহিরে যাইতে বাধ্য করা যাইবে না।
(১) ধারা ১৬০ (১০) মোতাবেক শ্রমিকের জখমের স্পষ্টতা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে কোন বিরোধ দেখা দিলে সেই ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত চিকিৎসকের ফি মালিক বা, ক্ষেত্রমত, শ্রমিক কর্তৃক বহন করিতে হইবে।
যে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অধিকার ধারা ১৬০ এর উপ-ধারা (৫) বা (৬) মোতাবেক সাময়িকভাবে স্থগিত হইয়াছে তিনি যদি সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিবার জন্য আবেদন করিয়া থাকেন তবে মালিক আবেদন প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে উক্ত শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন ।
(১) কোন মহিলা চিকিৎসক তাৎক্ষণিক অবস্থায় পাওয়া না গেলে সেই ক্ষেত্রে কোন মহিলা শ্রমিকের উপস্থিতিতে পুরুষ চিকিৎসক কর্তৃক কোন মহিলা শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাইবে।
(২) যদি কোন মহিলা চিকিৎসক সনিড়বকটে না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে কোন মহিলা শ্রমিক যদি মহিলা চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিবার জন্য ফি জমা প্রদান করেন তবে কোন পুরুষ চিকিৎসক দ্বারা তাহার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদেশ দেওয়া যাইবে না।
এই বিধিমালায় ভিনড়বতর কোন বিধান না থাকিলে, ক্ষতিপূরণ মামলা নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালত ধারা ২১৬ এবং তফসিল-৬ অনুযায়ী উহার কার্যμম পরিচালনা করিবে।
ধারা ১৭০ এর উপ-ধারা (১) মোতাবেক শ্রম আদালতের নিকট প্রেরিত চুক্তির স্মারক, শ্রম আদালত অন্যভাবে নির্দেশ না দিলে, দুই কপি প্রস্তুত করিতে হইবে এবং উহা যতদূর সম্ভব ফরম-৫০, ৫০ (ক) বা ৫০(খ) অনুযায়ী হইতে হইবে।
(১) চুক্তির স্বারক পাইবার পর শ্রম আদালত, যদি স্মারকটি রেকর্ড করা যুক্তিযুক্ত মনে করে, সেই ক্ষেত্রে স্মারকটি রেকর্ড করিবার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করিয়া ফরম-৫১ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনের অন্তত সাত দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের উপর এই মর্মে লিখিত নোটিস জারি করিবে যে, কোন আপত্তি না পাওয়া গেলে স্মারকটি নির্ধারিত তারিখে রেকর্ডভুক্ত করা হইবে।
(২) অনুরূপ নির্ধারিত তারিখে শ্রম আদালতে কোন পক্ষ হাজির হইলে এবং শুনানি চাইলে, তাহাকে শুনানির পর, আদালত যদি স¥ারকটি রেকর্ড করা উচিত বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকে তাহা হইলে উহা রেকর্ড করিবে।
(৩) নোটিশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট তারিখে শ্রম আদালত যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, স্মারকটি রেকর্ড করা সঙ্গত হইবে না, তাহা হইলে উপস্থিত পক্ষসমূহকে সিদ্ধান্ত ও ইহার কারণ
অবহিত করিবে, এবং স্মারকটি রেকর্ড করিতে ইচ্ছুক কোন পক্ষ উপস্থিত না থাকিলে, উক্ত পক্ষকেও ফরম-৫১(ক) অনুযায়ী উহা অবহিত করিবে।
(৪) কোন চুক্তির স্মারকপত্র পাইবার পর শ্রম আদালত যদি মনে করে যে, উহা রেকর্ড না করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে তাহা হইলে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বক্তব্য শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে এবং পক্ষসমূহকে নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৭ দিন পূর্বে ফরম-৫১(খ) বা ৫১( গ) অনুযায়ী নোটিস প্রদান করিবে।
(৫) উপ-বিধি (৪) মোতাবেক নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত পক্ষসমূহ যদি স্মারকপত্র রেকর্ড করিবার অনুকূলে যথেষ্ট যুক্তি প্রদর্শন করিতে সমর্থ হয় তাহা হইলে শ্রম আদালত সকল পক্ষকে অবহিত করিয়া স¥ারকপত্রটি রেকর্ড করিবে।
(৬) শ্রম আদালত যদি নির্ধারিত তারিখে স্মারকপত্র প্রত্যাখ্যান করে, সেই ক্ষেত্রে যেইপক্ষ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী নোটিস পায় নাই, তাহাকে পুনরায় ফরম-৫১(ক) অনুযায়ী অবহিত করিবে।
(১) কোন মোকদ্দমায় শ্রম আদালত যদি চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিতে অস্বীকার করে তবে উহাকে উক্ত অস্বীকৃতির কারণসমূহ সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(২) শ্রম আদালত কোন চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিলে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান না করিলে আদালত চুক্তিতে উল্লিখিত অর্থের অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদানের কোন আদেশ প্রদান করিবে না।
(৩) এককালীন অর্থ প্রদান করিয়া মাসিক পাওনা পরিশোধের চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত চুক্তিতে নির্দিষ্ট এককালীন দেয় অর্থ পর্যাপ্ত না হইবার দরুণ চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিবে না, তবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের অক্ষমতা কতদিন স্থায়ী হইতে পারে তাহার আনুমানিক হিসাব লিপিবদ্ধ করিবে।
চুক্তির স্মারক রেকর্ড করিবার সময় শ্রম আদালত উহা ফরম-৫২ অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিবে এবং নিজের স্বাক্ষরযুক্ত স্বীকৃতিপত্র নি¤ড়ববর্ণিতভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে উহার কপি প্রদান করিবে এবং একটি কপি নিজের নিকট সংরক্ষণ করিবে:
“-----------সনের -------------মাসের....... তারিখে...........নং μমিকের অন্তর্ভুক্ত এই চুক্তির স্মারকটি অদ্য ................ তারিখে রেকর্ড করা হইল
এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তৃপক্ষ অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ প্রেরণ করিলে প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ অথবা মানি অর্ডারের মাধ্যমে করিতে হইবে।
বিদেশে বসবাসরত অথবা বসবাস করিতে আগ্রহী কোন ব্যক্তির কল্যাণে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কোন এককালীন অর্থের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ শ্রম আদালতে জমা করা হইলে শ্রম আদালত উক্ত অর্থ প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সেই দেশে প্রেরণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
বিধি ১৫১ ও ১৫২ মোতাবেক শ্রম আদালত কোন অর্থ প্রেরণের আদেশ প্রদান করিলে আদালত নিজ দায়িত্বে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রদত্ত আদেশ এবং যাহাদের নিকট টাকা প্রদান করিতে হইবে তাহাদের প্রত্যেকের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করিবে এবং স্মারকপত্র সত্যায়িত করিবে।
শ্রম আদালত নিজে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ না হইলে বিধি ১৫৫-তে চুক্তির উল্লিখিত স্মারকপত্রের দুইকপি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং প্রেরিতব্য অর্থ তাহার নিকট হন্তান্তর করিতে পারিবে অথবা নিজের নিকট রাখিয়া তাহার নির্দেশ মোতাবেক হন্তান্তর করিতে পারিবে এবং শ্রম আদালত নিজে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হইলে
বিধি ১৫৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যদি সন্তুষ্ট হন যে, স্মারকপত্র সম্পাদিত হইয়াছে তবে তিনি এই উদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট উক্ত স্মারকপত্র ও অর্থ তাহার বিবেচনায় নিরাপদ পদ্ধতিতে প্রেরণ করিবেন অথবা অনুরূপ কোন কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হইবে উহাকে নি¤ড়ববর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাইবেন, যথা:-
(ক) স্মারকপত্রে নির্দেশিত ব্যবস্থা অনুযায়ী অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা ; এবং
(খ) স্মারকপত্রে নির্দেশিত গৃহীত কার্য ব্যবস্থার একটি রিপোর্ট এবং যে কোন কারণে কোন অর্থ প্রদান করা সম্ভব না হইলে উহা ফেরত প্রদান।
(১) যে শ্রম আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে ঘটনার উৎপত্তি হইয়াছে, উহা যদি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ না হয়, তবে যে শ্রম আদালতের নিকট হইতে বিধি ১৪৯ মোতাবেক অনুরোধ প্রাপ্ত, তাহার নিকট অনুরূপ রিপোর্টের একটি কপি প্রেরণ করিবে।
(২) বিধি ১৫৫ অনুযায়ী ফেরত আসা কোন অর্থ এই বিধিমালার বিধান অনুযায়ী বিলিব› টন করিতে হইবে।
প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ তদ্কর্তৃক গৃহীত যে কোন অর্থ বা ইহার অংশবিশেষ শ্রম আদালতের বিবেচনা অনুযায়ী বিলি-বন্টনের জন্য উহার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন।
হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে গৃহীত অর্থ আইন এবং এই বিধিমালার বিধান অনুযায়ী যতদূর সম্ভব বিলি-বন্টন করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, হন্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষ যদি উক্ত অর্থ বিলির ব্যাপারে কোন নির্দেশ প্রদান করিয়া থাকে সেই ক্ষেত্রে উহা প্রতিপালন করিতে হইবে।
(১) হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত অর্থ কিভাবে বিলি করা হইয়াছে উহা সম্পর্কে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন প্রদান করিবে।
(২) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নয় এমন কোন শ্রম আদালত কোন অর্থের কোন অংশ বিলি করিয়া থাকিলে উহা কিভাবে বিলি করা হইয়াছে উহার একটি রিপোর্ট (দুইকপি) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং ধারা ১৬৭ মোতাবেক অন্য কোন শ্রম আদালতের নিকট হইতে উক্ত অর্থ তিনি গ্রহণ করিয়া থাকিলে উক্ত শ্রম আদালতের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রেরণ করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা।-এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-
(ক) ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ’ বলিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ এবং বিলি-বন্টনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন কর্তৃপক্ষ বা কোন শ্রম আদালতকে বুঝাইবে;
(খ) ‘হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষ’ বলিতে বাংলাদেশ বা অন্য দেশের কোন কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে যাহা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ সংμান্ত আইন মোতাবেক প্রদানযোগ্য এককালীন অর্থ বাংলাদেশে বাস করেন বা করিবেন এমন কোন লোকের কল্যাণে দেশে বা দেশের কোন অংশে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।
(১) শ্রম আদালত, তদন্তের পর, যদি এইমর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মৃত শ্রমিকের কোন পোষ্য নাই, সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা হইবার দুই বৎসর পর প্রাপ্ত অর্থ প্রাপ্তিস্বীকার সাপেক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে স্থানান্তর করিবে।
(২) তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং শ্রম আদালতের স্বাক্ষর ও সীলমোহরে উক্ত হিসাব পরিচালিত হইবে।
(১) তহবিলের হিসাব শ্রম আদালত কর্তৃক ফরম-৫৩ অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হইবে এবং উহা নিরীক্ষা সাপেক্ষ হইবে।
(২) প্রতি বৎসর সরকারের নিকট দাখিলযোগ্য এবং শ্রম আদালত কর্তৃক এই অধ্যায় মোতাবেক গৃহীত কার্যμম সম্পর্কে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের মধ্যে তহবিলের কার্যμম এবং হিসাব সম্পর্কে তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।
এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তৃপক্ষ অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ প্রেরণ করিলে প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষ উহার খরচ বহন করিবে।
১) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান ফরম- ৫৪ অনুযায়ী মামলার একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন।
(২) চেয়ারম্যান কোন আবেদনপত্র পাইবার পর উহা উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করিবেন।
(৩) মামলার সমাপ্তিতে এতদুদ্দেশে নির্ধারিত রেজিস্টারে চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট কলামের অন্তর্ভুক্তিসমূহ প্রত্যায়িত করিয়া নিজের স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।
(১) বিধি ১৬৪-তে বর্ণিত রেজিস্টার বাংলায় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং ২০ (বিশ) বৎসর পর্যন্ত উহা সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) গড় হাজিরার কারণে খারিজকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদানের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৩) স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একতরফা নিষ্পত্তিকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ১(এক) বৎসর অথবা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ১(এক) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৪) প্রতিদ্বন্দি¡তার মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র বাতিল করা হইলে বা কোন ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রয়োজনীয়তা না থাকিলে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), এক বৎসর এবং দাবি আংশিক বা সামগ্রিকভাবে মুলতবী রাখা হইলে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ১(এক) বৎসর অথবা দায় পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত, যাহা পরে হয়, সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দায়েরকৃত মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ, ১ (এক) বৎসর অথবা দায় পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন সংরক্ষিত চুক্তির রেজিস্টারে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত অথবা দায় পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।
ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য হইবার আবেদন।(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনে বা ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশনে বা কনফেডারেশনে যোগদান করিতে ইচ্ছুক শ্রমিক বা কর্মচারী বা মালিক বা ইউনিয়ন বা ফেডারেশনকে ফরম-৫৫(ক), ফরম-৫৫(খ) বা, ক্ষেত্রমত, ফরম-৫৫(গ) অনুযায়ী সদস্যপদের জন্য আবেদন করিতে হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি বা সংগঠন অন্য কোন ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডাশেনের সদস্যপদ গ্রহণ করিতে ইচ্ছুক হইলে তিনি পূর্বের ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন হইতে লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র দাখিল ব্যতিরেকে অন্য কোন ইউনিয়নে সদস্য হইতে পারিবেন না।
(৩) উপ-বিধি (১) অনুযায়ী কোন শ্রমিকের দাখিলকৃত আবেদন গৃহীত হইলে তাহাকে ইউনিয়নের বা ফেডারেশনের বা কনফেডারেশনের সদস্য ন¤¦র উল্লেখসহ ফরম-৫৫(ঘ), ফরম- ৫৫(ঙ) বা, ক্ষেত্রমত, ফরম-৫৫(চ) অনুযায়ী একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে।
(৪) অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন কৃষি ফার্মের ক্ষেত্রে প্রত্যেকটি উপজেলা বা, ক্ষেত্রমত, জেলা প্রতিষ্ঠানপুঞ্জ বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং অন্যূন ৪০০ (চারশত) জন কৃষি ফার্ম শ্রমিক একত্রিত হইয়া এই বিধি অনুযায়ী ইউনিয়ন গঠন করিতে পারিবে।
(১) ধারা ১৭৯(১)(গ) মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশন এবং কনফেডারেশনের রেজিস্ট্রিকরণের জন্য ফরম-৫৬ (ক), ফরম-৫৬ (খ) বা, ক্ষেত্রমত, ফরম-৫৬ (গ) অনুযায়ী আবেদন করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদনের সহিত সদস্যদের প্রত্যয়নপত্র সংযুক্ত করিতে হইবে।
(৩) প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্তির পর আবেদনকারী নিজ খরচে ফরম-৫৬(ঘ) অনুযায়ী গণবিজ্ঞপ্তি প্রচার করিবে।
(৪) শ্রম পরিচালক ধারা ১৭৬ এর দফা (ঙ) এবং ধারা ১৭৯ এর উপ-ধারা (২ক) এ বর্ণিত পরিদর্শনপূর্বক ফরম-৫৬(ঙ) অনুযায়ী তথ্য সংগ্রহ করিবেন।
(৫) ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন কর্মকর্তাদের বিবরণ ফরম-৫৬(চ), ৫৬(ছ) বা ক্ষেত্রমত, ৫৬(জ) অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(৬) ট্রেড ইউনিয়ন বা ফেডারেশন বা কনফেডারেশন সদস্যদের বিবরণ ফরম-৫৭(ক), ৫৭(খ) বা ক্ষেত্রমত, ৫৭(গ) অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।
(৭) রেজিস্ট্রেশনের আবেদন হইতে রেজিস্ট্রেশন প্রদান পর্যন্ত এতদ্সংশ্লিষ্ট সকল কার্যμম কম্পিউটারযোগে ইণ্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অন-লাইনে করা যাইবে, তবে এই ক্ষেত্রে সকল কার্যμমের একটি মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ১৭৯ (১) (ট) মোতাবেক কোন ট্রেড ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা উহার সাধারণ সদস্যদের সংখ্যানুপাতে নি¤ড়ববর্ণিত হারে নির্ধারিত হইবে, যথা:-
(২) যে প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হইবে, উক্ত প্রতিষ্ঠানে মোট শ্রম শক্তি বা সদস্যের ২০% বা তদুর্ধ্ব মহিলা নিয়োজিত থাকিলে সেইখানে ইউনিয়নের নির্বাহী কমিটিতে কমপক্ষে ১০% মহিলা সদস্য থাকিতে হইবে।
(৩) প্রতিষ্ঠানপুঞ্জে গঠিত ট্রেড ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও উপ-বিধি (১) ও (২) এর বিধান প্রযোজ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, যতদূর সম্ভব প্রতিষ্ঠানপুঞ্জের অধীন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মধ্য হইতে অন্তত একজন করিয়া শ্রমিককে নির্বাহী কমিটিতে সদস্যভুক্ত করিতে হইবে।
(৪) কোন শ্রমিক কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হইবার যোগ্য হইবেন না, যদি তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শ্রমিক হিসাবে কর্মরত না থাকেন:
তবে শর্ত থাকে যে, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্প সেক্টরের ক্ষেত্রে ধারা ১৮০ এর শর্তাংশ অনুসরণে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করা যাইবে।
(১) ধারা ১৮১ এর দফা (ক) মোতাবেক প্রত্যেক ট্রেড ইউনিয়নকে উহার সদস্যদের চাঁদার বিবরণ ফরম-৫৮(ক) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(২) ধারা ১৮১ এর দফা (ক) মোতাবেক প্রত্যেক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব ফরম-৫৮(খ) অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৩) ধারা ১৮১ এর দফা (ক) মোতাবেক প্রত্যেক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনকে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব ফরম-৫৮(গ) অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৪) ধারা ১৮১ এর দফা (খ) মোতাবেক প্রত্যেক নিবন্ধিত ট্রেড ইউনিয়ন বা ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশন বা কনফেডারেশনকে আয়-ব্যয় সংμান্ত হিসাব বহি ফরম-৫৮(ঘ) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং এই হিসাব বহি বাঁধাই আকারে এবং প্রতি পৃষ্ঠা μমিক নম্বরযুক্ত অথবা ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(৫) এই বিধির অধীন কোন চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে সদস্যকে চাঁদা আদায়কারী ও দাতার স্বাক্ষরযুক্ত রসিদ প্রদান করিতে হইবে।
ধারা ১৮২ মোতাবেক শ্রম পরিচালক বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ট্রেড ইউনিয়নসমূহের খতিয়ান ফরম-৫৯(ক) অনুযায়ী, ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশনের খতিয়ান ফরম-৫৯(খ)অনুযায়ী এবং কনফেডারেশনের খতিয়ান ফরম-৫৯(গ) অনুযায়ী সংরক্ষণ করিবেন।
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন, উহার ফেডারেশন এবং কনফেডারেশনের নিবন্ধনের জন্য দরখাস্ত প্রাপ্তির পর শ্রম পরিচালক অথবা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, উক্ত ইউনিয়ন, ফেডারেশন এবং কনফেডারেশনকে আইনের বিধানমতে নিবন্ধিকরণ করা যাইবে, তাহা হইলে তিনি দরখাস্তকারীকে নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্র পাইবার জন্য নির্ধারিত ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের জন্য লিখিত নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(২) ধারা ১৮৯ মোতাবেক ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন অথবা কনফেডারেশনের নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্র ফরম-৬০ অনুযায়ী প্রদান করিতে হই
(১) ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের নিবন্ধন ফি নি¤ড়বরূপ হইবে যাহা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিত হইবে, যথা:-
| ক্রমিক নং | ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠনের ধরন | নিবন্ধন ফি |
| ১ | ট্রেড ইউনিয়ন | ৫০০/- |
| ২ | শিল্প ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন | ১,০০০/- |
| ৩ | জাতীয় ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন | ৩,০০০/- |
| ৪ | জাতীয় ভিত্তিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন | ৫,০০০/- |
(২) নিবন্ধিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন অথবা কনফেডারেশনের গঠনতন্ত্রের অথবা যে কোন দলিলের বা তথ্যাদির সত্যায়িত প্রতিলিপি তাহার কোন সদস্য অথবা মালিকের কোন প্রতিনিধিকে শ্রম পরিচালক সরবরাহ করিতে পারিবে।
(৩) উপ-বিধি (২) এ উল্লিখিত প্রতিলিপি প্রাপ্তির জন্য উহার প্রথম ২০০ শব্দ বা উহার কমের জন্য ১২০/- (একশত বিশ) টাকা এবং অবশিষ্ট শব্দের জন্য আরো ৬০/- (ষাট) টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে।
(৪) ধারা ১৮২ মোতাবেক নিবন্ধিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন অথবা কনফেডারেশন ৩০০/- (তিনশত) টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিয়া শ্রম পরিচালকের নিকট হইতে উহার নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্রের দ্বিতীয় প্রতিলিপি সংগ্রহ করিতে পারিবে।
(১) কোন ট্রেড ইউনিয়ন উহার নাম পরিবর্তন অথবা উহার কার্যালয়ের ঠিকানা পরিবর্তন করিলে, পরিবর্তনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শ্রম পরিচালকের নিকট উহা রেকর্ডভুক্ত করিবার জন্য আবেদন করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত পরিবর্তন গৃহীত হইবার পর শ্রম পরিচালক বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চাহিত মতে বিধি ১৭২ মোতাবেক নূতনভাবে প্রত্যয়নপ্রত্র প্রদান করিবেন।
(৩) ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশন অথবা কনফেডারেশনের গঠনতন্ত্রে নাম অথবা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা নিবন্ধন ফি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করিতে হইবে।
ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন অথবা কনফেডারেশনের বার্ষিক হিসাব Bangladesh Chatered Accountants Order, 1973 (p.o No. 2 of 1973) অনুযায়ী স্বীকৃত চার্টার্ড এ্যাকাউন্ট্যান্ট দ্বারা নিরীক্ষা করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা বৎসরের কোন সময় ৫০০ অতিক্রম না করিলে উক্ত ইউনিয়নের সদস্য বা অন্য কোনভাবে সম্পৃক্ত নয় অথচ নিরীক্ষা কাজে পূর্ব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এমন এক বা একাধিক ব্যক্তি দ্বারা নিরীক্ষা করানো যাইবে এবং তিনি বা তাহারা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদের দ্বারা উক্ত কাজের জন্য মনোনীত হইবেন।
(১) ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশন এবং কনফেডারেশন কর্তৃক ধারা ২০১ (১) অনুযায়ী প্রতি পঞ্জিকা বৎসরের জন্য বার্ষিক রিটার্ন পরবর্তী বৎসরের ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে বা উহার পূর্বে শ্রম পরিচালকের নিকট যথাক্রমে ফরম-৬১ (ক) ও ৬১ (ঘ), ৬১ (খ) ও ৬১ (ঘ) এবং ৬১ (গ) ও ৬১ (ঘ) অনুযায়ী দাখিল করিতে হইবে এবং শ্রম পরিচালক বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাপ্ত বার্ষিক রিটার্ন নথিভুক্ত করিয়া সিদ্ধান্ত অবহিত করিবেন।
(২) ট্রেড ইউনিয়ন পর পর দুই বার রিটার্ন দাখিল না করিলে এবং ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশন বা কনফেডারেশন পর পর তিন বার রিটার্ন দাখিল না করিলে শ্রম পরিচালক বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৩০ দিনের সময় প্রদান করিয়া রিটার্ন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ প্রতিপালনে ব্যর্থ হইলে শ্রম পরিচালক বা প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ট্রেড ইউনিয়ন বা ট্রেড ইউনিয়নসমূহের ফেডারেশন বা কনফেডারেশনের নিবন্ধন বাতিলের অনুমতি চাহিয়া শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিবেন।
(৩) রেজিস্ট্রেশন আবেদন ও বার্ষিক রিটার্ন দাখিল সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম কম্পিউটারযোগে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে অন-লাইনে করা যাইবে, তবে এই ক্ষেত্রে সকল কার্যক্রমের একটি প্রিন্ট কপি সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) ধারা ২০২ এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) এর মেয়াদ শেষ হইবার অনধিক ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে ইউনিয়নসমূহ নিজেদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মনোনয়নপূর্বক যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) নির্বাচনের কার্যক্রম গ্রহণ করিবে।
(২) ইউনিয়নসমূহ উপ-বিধি (১) এর অধীন কার্যক্রম গ্রহণ করিতে ব্যর্থ হইলে শ্রম পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা স্ব-প্রণোদিত হইয়া অথবা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইয়া সিবিএ নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।
(৩) ধারা ২০২ (৮) অধীন শ্রমিকগণের তালিকা সম্পর্কে কোন আপত্তি তালিকা প্রকাশের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে পেশ করিতে হইবে।
(১) প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়নসমূহের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং শ্রম পরিচালক কর্তৃক বরাদ্দকৃত স্ব স্ব প্রতীক ছাপানো একটি ব্যালট থাকিবে।
(২) একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়ন একই প্রতীক চাহিলে শ্রম পরিচালক বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রদান করিবেন এবং তাহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) ধারা ২০২ (১২) অনুযায়ী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রত্যেক শ্রমিককে ভোট প্রদানকালে মালিক কর্তৃক ইস্যুকৃত ছবিসহ পরিচয়পত্র অবশ্যই প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট প্রদান করিতে হইবে, যাহা ভোট গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট মালিকের প্রতিনিধির নিকট প্রদান করিবেন এবং উক্ত প্রতিনিধি উহা সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে ফেরত প্রদান করিবেন।
(২) ধারা ২০২ (১৩) অনুযায়ী প্রত্যেক মালিক শ্রম পরিচালক কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইলে, নির্বাচন পরিচালনার জন্য অর্থ সংস্থানসহ প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করিবেন, তবে নির্বাচন বিষয়ে শ্রম পরিচালক ও মালিক কোনরূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করিতে পারিবেন না।
(৩) যদি প্রিজাইডিং অফিসার ভোটারের পরিচয়পত্র সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন তবে তিনি তাহাকে গোপন ব্যালটে ভোট প্রদানের অনুমতি প্রদানে অস্বীকার করিতে পারিবেন এবং এই ব্যাপারে তাহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান কার্যক্রম চলাকালে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকিবার জন্য প্রত্যেক প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রেড ইউনিয়ন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে প্রত্যেক পোলিং বুথে অনধিক এক ব্যক্তিকে প্রতিনিধি হিসাবে মনোনীত করিতে পারিবে।
(১) ধারা ২০২ (১৫) (ঘ) অনুযায়ী ভোট গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল প্রিজাইডিং অফিসার নিজে স্বাক্ষর করিবেন এবং উহাতে উপস্থিত প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর গ্রহণ নিশ্চিত করিবেন।
(২) প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরকৃত ফলাফল পত্রের একটি করিয়া কপি নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্ধতাকারী ইউনিয়নের উপস্থিত প্রতিনিধি এবং মালিকের স্থানীয় প্রতিনিধিকে প্রদান করিবেন।
(৩) প্রিজাইডিং অফিসারের নিকট হইতে ফলাফল পাইবার পর যে ট্রেড ইউনিয়ন সর্বাধিক সংখ্যক ভোট প্রাপ্ত হইবে উহাকে শ্রম পরিচালক ধারা ২০২ (১৫)(ঙ) অনুযায়ী ফরম-৬২ এর মাধ্যমে যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি ঘোষণা করিবেন।
(১) মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এবং শ্রমিকদের বাইরে যাতায়াতের সুবিধা হয় এমন স্থানে আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ অবকাঠামো অনুযায়ী যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) এর জন্য একটি অফিস কক্ষ বরাদ্দ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত অফিস কক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চেয়ার, টেবিল, আলমিরা, বিদ্যুৎ সংযোগ, বৈদ্যুতিক সিলিং ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থা এবং নোটিস বোর্ড, ইত্যাদি মালিক কর্তৃক সরবরাহ করিতে হইবে।
(৩) সিবিএ অফিস স্থাপন বা বরাদ্দ বা আসন সংখ্যা বা আসবাবপত্র সংক্রান্ত কোন বিষয়ে বিরোধ উত্থাপিত হইলে শ্রম পরিচালক উভয় পক্ষের সহিত আলোচনাক্রমে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।
(১) অন্যূন পঞ্চাশ জন স্থায়ী শ্রমিক কর্মরত রহিয়াছেন এমন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিক উক্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সেখানে একটি অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবেন।
(২) অংশগ্রহণকারী কমিটিতে উভয়পক্ষে মোট সদস্য সংখ্যা ৬ জনের কম এবং ৩০ জনের অধিক হইবে না।
(৩) অংশগ্রহণকারী কমিটির সদস্য সংখ্যা কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যানুপাতে নি¤œবর্ণিত ছকে উল্লিখিত হারে নির্ধারিত হইবে, যথা:-
---------- --------- ------- -----
(১) ধারা ২০৫ (৫) মোতাবেক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান রেজিস্টার্ড ট্রেড ইউনিয়নসমূহ অংশগ্রহণকারী কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি প্রেরণের জন্য মালিকের নিকট প্রতিনিধিদের নাম ও বিবরণ তাহার নিকট হইতে অনুরোধ প্রাপ্ত হইবার ১০ (দশ) দিনের মধ্যে ফরম ৬৩ অনুযায়ী পেশ করিবে।
(২) ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি কর্তৃক শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের সময় যাহাতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণি, শাখা, অথবা বিভাগসমূহ হইতে প্রতিনিধি মনোনীত হয় উহা নিশ্চিত করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, প্রতিষ্ঠানের কোন শ্রেণি, শাখা বা বিভাগে মহিলা শ্রমিক থাকিলে সেইখানে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে মহিলা শ্রমিকদের মনোনয়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(১) প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সাধারণত প্রধান নির্বাহী অথবা বিভাগীয় অথবা শাখা প্রধানগণ বা কল্যাণ কর্মকর্তা মালিকের প্রতিনিধি হইবেন এবং যেখানে এইরূপ বিভাগ অথবা শাখা নাই, সেইখানে বিভাগ অথবা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা কল্যাণ কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মালিকের প্রতিনিধি হইবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত প্রতিক্ষেত্রে উক্ত প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইতে হইবেন।
(১) যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি ও ট্রেড ইউনিয়নের নিকট হইতে মনোনয়ন পাইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক বিজ্ঞপ্তি মারফত অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবেন এবং সেই বিজ্ঞপ্তি নোটিস বোর্ডে প্রদর্শন করিতে হইবে এবং যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধিসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন এবং শ্রম পরিচালককে উহার কপি প্রেরণ করিতে হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, অংশগ্রহণকারী কমিটিতে যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক মনোনীত কোন প্রতিনিধির অবসরজনিত কারণে বা চাকরিচ্যূতি বা স্বেচ্ছায় চাকরি ত্যাগ করা, ইত্যাদি কারণে চাকরির অবসান ঘটিলে অথবা শারীরিক বা মানসিক কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হইলে অথবা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দন্ডিত হইলে অথবা পদত্যাগ করিলে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে উক্ত প্রতিনিধির পদ শূন্য হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন শূন্য পদে যৌথ দর-কষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন নূতন মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবে এবং উক্ত মনোনয়ন পাইবার ৭ (সাত) দিনের মধ্যে মালিক নূতন প্রতিনিধি সমন্বয়ে অংশগ্রহণকারী কমিটি পুনর্গঠন করিবেন।
(১) যে প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন বা যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি (সিবিএ) নাই সেই ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ শ্রম পরিচালককে অবহিত করিয়া গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সহায়তা করিবে।
(২) শ্রম পরিচালক অনুরুদ্ধ হইলে উক্তরূপ নির্বাচন কার্যক্রম তদারকি করিতে পারিবেন এবং উক্তরূপ নির্বাচন কার্যক্রম পরিচালনায় কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রত্যক্ষ বা
পরোক্ষভাবে কোন প্রভাব বিস্তার করিতে পারিবেন না।
(৩) নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধির তালিকা নির্বাচনের ১০ (দশ) দিনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি শ্রম পরিচালককে লিখিতভাবে প্রেরণ করিবে।
(১) মালিক নির্বাচনের অন্যূন ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য মালিক ও শ্রমিকের সমন্বয়ে ৩ (তিন) হইতে ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করিবেন এবং উহার অনুলিপি শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে মালিক ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধির অনুপাতিক হার হইবে ২ ঃ ৩।
(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন গঠিত কমিটি বিজ্ঞপ্তি মারফত প্রচার করিয়া নির্বাচনের একটি তফসিল ঘোষণা করিবে, যেখানে ভোটার তালিকা প্রণয়ন, মনোনয়নপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, প্রত্যাহার, চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দসহ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকিবে :
তবে শর্ত থাকে যে, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অনধিক ৭ দিনের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দানের সুযোগ প্রদান এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত হইবার পরবর্তী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করিতে হইবে।
(১) যে কোন প্রাপ্ত বয়স্ক শ্রমিক, প্রতিষ্ঠানে যাহার চাকরি ছয় মাসের কম নহে তিনি অংশগ্রহণকারী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য অনুষ্ঠিতব্য গোপন ব্যালটে প্রার্থী হইতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানের বয়স এক বৎসরের কম হইলে নির্বাচনে প্রার্থীর চাকরির মেয়াদ প্রযোজ্য হইবে না।
(২) মালিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শ্রেণি, শাখা, অথবা বিভাগসমূহ হইতে কতজন প্রতিনিধি নির্বাচিত হইবে উহা নির্ধারণ করিবেন।
(৩) কোন প্রতিষ্ঠানে ৫০ জন মহিলা শ্রমিক বা মোট শ্রমিকের ১০% মহিলা শ্রমিক থাকিলে মহিলা শ্রমিকদের মধ্য হইতে আনুপাতিক হারে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে।
(১) সাময়িক, বদলি, শিক্ষাধীন, মৌসুমি শ্রমিক ও ঠিকাদার কর্তৃক নিয়োজিত শ্রমিক ব্যতীত অন্য সকল শ্রমিক যাহারা প্রতিষ্ঠানে অন্যূন ৩ (তিন) মাস চাকরি করিয়াছেন, তাহারা প্রত্যেকেই অংশগ্রহণকারী কমিটিতে শ্রমিকদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) ভোটার তালিকার প্রতিলিপি যুগপৎ নোটিস বোর্ড এবং প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য স্থানসমূহে প্রদর্শিত হইতে হইবে এবং ভোটার তালিকার একটি প্রতিলিপি শ্রম পরিচালক বা রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন্স এর নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) যে কোন ভোটার অংশগ্রহণকারী কমিটিতে প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে একজন ভোটারের নাম প্রস্তাব অথবা সমর্থন করিতে পারিবেন।
(২) ধারা ২০৫ (৬) মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি কর্তৃক সরবরাহকৃত মনোনয়নপত্র ফরম-৬৪ অনুযায়ী হইবে এবং উহা প্রস্তাবক ও সমর্থক এবং প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত
হইতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক মনোনয়নপত্র মনোনয়ন দাখিলের নির্ধারিত দিবসে অথবা উহার পূর্বে প্রার্থী অথবা তাহার প্রস্তাবক অথবা তাহার সমর্থক কর্তৃক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নিকট দাখিল করিতে হইবে এবং কমিটি লিখিত স্বীকারপত্রের মাধ্যমে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করিবে।
(১) মনোনয়নপত্র নিরীক্ষাকালীন প্রার্থীগণ নিজে বা তাহার প্রস্তাবককারী বা সমর্থনকারী অথবা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যে কোন ব্যক্তি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।
(২) নির্বাচন কমিটি উপ-বিধি (১) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় উপস্থিত সকল ব্যক্তির সম্মুখে মনোনয়নপত্রসমূহ পরীক্ষা করিবে এবং যে কোন মনোনয়নপত্র সম্পর্কে কোন ব্যক্তি কোন আপত্তি উত্থাপন করিলে উহার নিষ্পত্তি করিবে।
(৩) নির্বাচন কমিটি যে কোন মনোনয়নপত্র বাতিল করিতে পারিবে যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,-
(ক) প্রার্থী আইন বা এই বিধিমালা অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রতিনিধি হইবার অযোগ্য; অথবা
(খ) মনোনয়নপত্র জমাদানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধির কোন নিয়ম মান্য করা হয় নাই।
(১) যে সকল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলিয়া গৃহীত হইবে তাহদের সংখ্যা যদি নির্বাচিতব্য প্রতিনিধির সমান হয় সেই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটি বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সকল প্রার্থীকে নির্বাচিত ঘোষণা করিবে।
(২) যদি কোন শ্রেণি, শাখা, অথবা বিভাগে নির্ধারিত আসনের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যা অধিক হয় তাহা হইলে নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত তারিখে গোপন ব্যালটে ভোট অনুষ্ঠিত হইবে।
(৩) প্রত্যেক ব্যালটে প্রার্থীর নাম ও নামের বিপরীতে বরাদ্দকৃত প্রতীক উল্লিখিত থাকিবে।
(৪) ভোট গ্রহণের সময়ে প্রার্র্থী অথবা তাহার প্রস্তাবকারী অথবা সমর্থনকারী অথবা প্রার্থী কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থাকিতে পারিবেন।
(৫) ভোট গণনা শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি প্রার্থীদের বা তাহাদের প্রতিনিধির সম্মুখে ভোট গণনা করিয়া ফলাফল ঘোষণা করিবেন এবং উপস্থিত প্রার্থীর বা তাহার প্রতিনিধির স্বাক্ষরসহ মালিকের নিকট প্রকাশ করিবেন।
(১) প্রতিষ্ঠানের মালিক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি অংশগ্রহণকারী কমিটির চেয়ারম্যান হইবেন এবং তিনি অংশগ্রহণকারী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(২) শ্রমিকদের প্রতিনিধিগণ তাহাদের মধ্য হইতে সহ-সভাপতি নির্বাচন করিবেন এবং তিনি সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৩) পার্সোনেল অফিসার অথবা কল্যাণ কর্মকর্তা বা উক্তরূপ দায়িত্বপালনকারী কোন কর্মকর্তা কমিটিতে মালিক পক্ষের অন্যতম প্রতিনিধি হইবেন এবং সদস্য-সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন এবং তিনি কমিটির সভার বিবরণী লিপিবদ্ধ করিবার জন্য এবং সভা আহবান করিবার জন্য দায়ী থাকিবেন।
(১) সাত দিনের সময় প্রদান করিয়া অংশগ্রহণকারী কমিটির সভার নোটিস জারি করিতে হইবে, তবে জরুরি সভা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার নোটিস প্রদান করা যাইবে।
(২) অংশগ্রহণকারী কমিটির সকল প্রতিবেদন ও সভার কার্যবিবরণীর কপি সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, কমিটিতে প্রতিনিধি রহিয়াছে এমন প্রত্যেক ইউনিয়ন এবং শ্রম পরিচালকের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকিলে সভায় কোরাম হইবে।
অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকিলে সভায় কোরাম হইবে।
(১) কমিটি গঠনের তারিখ হইতে অংশগ্রহণকারী কমিটির কার্যকালের মেয়াদ হইবে ২(দুই) বৎসর।
(২) কমিটির মেয়াদ শেষ হইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে পরবর্তী কমিটি গঠন করিতে হইবে এবং নূতন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটি দায়িত্ব পালন করিতে পারিবে।
(৩ ) কোন সাময়িক শূন্যপদ পূরণের উদ্দেশ্যে কোন সদস্য মনোনীত হইলে কমিটির মেয়াদের অবশিষ্ট সময় পর্যন্ত তিনি সদস্য থাকিবেন।
(১) কোন সদস্য কমিটির চেয়ারম্যানের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকিলে কমিটিতে তাহার সদস্যপদ বাতিল হইয়া যাইবে।
(২) কোন শ্রমিক প্রতিনিধি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত না থাকিলে, অথবা তিনি চাকরিতে ইস্তফা প্রদান করিলে অথবা কমিটিতে সদস্যপদ হারাইলে অংশগ্রহণ কমিটি সেই শূন্য পদটি সংশ্লিষ্ট শ্রেণি, শাখা অথবা বিভাগ হইতে পূরণ করিবে।
(৩) কোন ট্রেড ইউনিয়ন হইতে কাহারো সদস্যপদ পদত্যাগ বা বহিষ্কার বা অন্য কোন কারণে শূন্য হইলে অংশগ্রহণকারী কমিটিতে তাহার পদ শূন্য হইবে এবং উক্ত ক্ষেত্রে উক্ত ট্রেড ইউনিয়ন পুনরায় প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে।
অংশগ্রহণ কমিটির সভা অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মালিক প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করিবেন।
(১) কোন প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইলে উক্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কোন শাখা, বিভাগ বা অঞ্চলে যেখানে অন্যূন পঞ্চাশ জন শ্রমিক নিযুক্ত রহিয়াছেন সেইখানে পৃথক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন করিবার জন্য মালিকের নিকট সুপারিশ করিতে পারিবে।
(২) উক্তরূপ সুপারিশ পাইবার পর মালিক সুপারিশ অনুযায়ী উক্ত শাখা, বিভাগ বা অঞ্চলের জন্য পৃথক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠনের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করিবেন।
(৩) প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য বিধান ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠন ও উহার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(৪) ট্রেড ইউনিয়ন কর্তৃক প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে উক্ত শাখা, বিভাগ বা অঞ্চলে অবস্থিত সদস্যদের মধ্য হইতে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে।
(৫) যে শাখা বা বিভাগের জন্য ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটি গঠিত হইবে সেই শাখা বা বিভাগে নিযুক্ত রহিয়াছেন এইরূপ শ্রমিকগণই কেবল উক্ত কমিটির সদস্য হইতে পারিবেন।
(৬) ইউনিট অংশগ্রহণকারী কমিটির সকল প্রতিবেদন ও সভার কার্যবিবরণীর কপি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারী কমিটির নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) অংশগ্রহণকারী কমিটির প্রতিটি সভার সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত পাইবার পর মালিক বা কর্তৃপক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়ন ও কার্যকর করিবার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করিবেন এবং মালিক বা কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহণকারী কমিটির পরবর্তী সভায় পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি অবহিত করিবেন।
(২) শ্রম পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অংশগ্রহণকারী কমিটির সুপারিশ বা সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য কারখানা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যথারীতি বাস্তবায়িত হইতেছে কি না উহা পর্যবেক্ষণ, মনিটর ও ফলো-আপ করিবেন এবং প্রয়োজনে আইনানুযায়ী ও প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অংশগ্রহণকারী কমিটির সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ সম্পর্কে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ রিবেন।
কোন ট্রেড ইউনিয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন বা কনফেডারেশন, যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি, অংশগ্রহণকারী কমিটি বা উহার কোন সদস্য নি¤œবর্ণিত কর্মকান্ড পরিহার করিবে, যথা :-
(১) প্রতিষ্ঠানের কোন প্রশাসনিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করা;
(২) প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, কর্মচারী অথবা শ্রমিকের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে হস্তক্ষেপ করা;
(৩) কর্র্তৃপক্ষের নিকট হইতে কোন যানবাহন, আসবাবপত্র অথবা আর্থিক কোন সুবিধা গ্রহণ;
(৪) প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও স্বাভাবিক কর্মকান্ডে হস্তক্ষেপ করা; এবং
(৫) বিধি ২০৪ অনুসরণ না করিয়া কোন ধর্মঘট আহবান করা।
(১) ধারা ২১৪ (৭) অনুযায়ী শ্রম আদালতের সদস্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে সরকার মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষের জাতীয় পর্যায়ের স্ব স্ব সংগঠন হইতে শ্রম আইনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উপযুক্ত মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য আহবান করিবে।
(২) মালিক এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য প্রতি আদালতে দুইটি পৃথক প্যানেল গঠন করিতে হইবে এবং প্রতি প্যানেলে সদস্য সংখ্যা ছয়জন হইবে।
(৩) প্রত্যেক সংগঠন, যাহাদের উপ-বিধি (১) অনুযায়ী অনুরোধ করা হইয়াছে, অনুরোধ প্রাপ্তির পনের দিনের মধ্যে প্যানেলের অন্তভুর্ক্তি এবং শ্রম আদালতের সদস্য নিযুক্তির জন্য প্রতিনিধির ছবিসহ নাম ও জীবন বৃত্তান্ত প্রেরণ করিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে উপ-বিধি (১) অনুযায়ী মনোনয়ন যাচনা করা হইয়াছে, কিন্তু উপ-বিধি (২) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা পাওয়া যায় নাই, সেই ক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনায় মালিক অথবা শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ করিতে সংক্ষম এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে প্যানেলে মনোনীত করিবার এখতিয়ার সরকারের থাকিবে।
ধারা ২১০(৩) এবং ২১০ (৮) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিষ্পত্তিনামা ফরম-৬৫ অনুযায়ী স্বাক্ষরিত হইবে।
(১) ধারা ২১১(১) অনুযায়ী ব্যর্থতার প্রত্যয়নপত্র প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ধর্মঘটের নোটিস প্রদানের উদ্দেশ্যে গোপন ভোট অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করিবার জন্য সালিসকারক বরাবরে লিখিত অনুরোধ করিবে।
(২) সালিসকারক উক্ত অনুরোধ প্রাপ্তির পরবর্তী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে উক্ত প্রতিষ্ঠানে সিবিএ ইউনিয়নের চাঁদা প্রদানকারী সদস্যগণকে ভোটার হিসাবে গণ্য করিয়া গোপন ভোটের ব্যবস্থা করিবেন এবং সালিসকারকের পরামর্শ অনুযায়ী সিবিএ ইউনিয়ন গোপন ভোট অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাদি গ্রহণ করিবে।
(৩) গোপন ভোটে ব্যবহৃত প্রতিটি ব্যালট পেপারে অথবা ঊষবপঃৎড়হরপ ঠড়ঃরহম গধপযরহব এ ধর্মঘটের পক্ষে “হ্যাঁ” অথবা কোন প্রতীক এবং ধর্মঘটের বিপক্ষে “না” অথবা কোন প্রতীক চিহ্নিত দুইটি ঘর থাকিবে।
(৪) ভোটে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্য তাহার ইচ্ছা অনুযায়ী উল্লিখিত দুইটি ঘরের মধ্য হইতে যে কোন একটি ঘরে “টিক” চিহ্ন বা টিপ বা পুশের মাধ্যমে ভোট প্রদান করিবেন।
(৫) গোপন ভোট অনুষ্ঠানের পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে সালিসকারক উহার ফলাফল লিখিত আকারে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধিকে প্রদান করিবেন এবং উহার কপি মালিক ও শ্রম পরিচালককে প্রদান করিবেন।
(১) ধারা ৩৩(৩) মোতাবেক কোন অভিযোগ ফরম-১৪ অনুযায়ী দায়ের করিতে হইবে।
(২) ফরম-৪৪, ৪৪(ক) বা, ক্ষেত্রমত, ৪৪(খ) অনুযায়ী ধারা ১৩২(২) মোতাবেক অভিযোগ দায়ের করিতে হইবে।
(৩) ফরম-৪৮, ৪৮(ক) বা ক্ষেত্রমত, ৪৮(খ) অনুযায়ী ধারা ১৬৬ মোতাবেক অভিযোগ দায়ের করিতে হইবে।
(৪) ফরম-৬৬ অনুযায়ী ধারা ২১৯ মোতাবেক আপিল দায়ের করিতে হইবে।
(৫) অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা শ্রম পরিচালক বা ভবিষ্য তহবিলের নিয়ন্ত্রক বা পরিচালনা বোর্ড বা আইনে প্রদত্ত কোন কর্তৃপক্ষ বা তাহার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা সাদা কাগজে আবেদন করিবে।
(১) ধারা ২১৪ (৭) অনুযায়ী শ্রম আদালতের সদস্য নিয়োগের উদ্দেশ্যে সরকার মালিক এবং শ্রমিক উভয় পক্ষের জাতীয় পর্যায়ের স্ব স্ব সংগঠন হইতে শ্রম আইনে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উপযুক্ত মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়নের জন্য আহবান করিবে।
(২) মালিক এবং শ্রমিকগণের প্রতিনিধিত্ব করিবার জন্য প্রতি আদালতে দুইটি পৃথক প্যানেল গঠন করিতে হইবে এবং প্রতি প্যানেলে সদস্য সংখ্যা ছয়জন হইবে।
(৩) প্রত্যেক সংগঠন, যাহাদের উপ-বিধি (১) অনুযায়ী অনুরোধ করা হইয়াছে, অনুরোধ প্রাপ্তির পনের দিনের মধ্যে প্যানেলের অন্তভুর্ক্তি এবং শ্রম আদালতের সদস্য নিযুক্তির জন্য প্রতিনিধির ছবিসহ নাম ও জীবন বৃত্তান্ত প্রেরণ করিবে।
(৪) যেক্ষেত্রে উপ-বিধি (১) অনুযায়ী মনোনয়ন যাচনা করা হইয়াছে, কিন্তু উপ-বিধি (২) অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উহা পাওয়া যায় নাই, সেই ক্ষেত্রে সরকারের বিবেচনায় মালিক অথবা শ্রমিক স্বার্থ সংরক্ষণ করিতে সংক্ষম এইরূপ যে কোন ব্যক্তিকে প্যানেলে মনোনীত করিবার এখতিয়ার সরকারের থাকিবে।
(১) শ্রম আদালতের কোন সদস্য চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত পত্র দ্বারা সদস্যপদ হইতে ইস্তফা প্রদান করিতে পারিবেন।
(২) ইস্তফাপত্র প্রাপ্ত হইলে চেয়ারম্যান উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে এবং সরকার যে তারিখে উহা গ্রহণ করিবে সেই তারিখ হইতে উক্ত ইস্তফা কার্যকর হইবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, শ্রম আদালতের কোন সদস্যকে অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি
(ক) সরকারের মতে প্রতিনিধিত্বের চরিত্র হারাইয়া থাকেন;
(খ) আইনের অধীন শাস্তিযোগ্য কোন অপরাধ বা নৈতিক অপরাধে দন্ডিত হইয়া থাকেন;
(গ) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান কর্তৃক অনুরুদ্ধ হইবার পর কোন মোকদ্দমায় লিখিত মতামত প্রদানে ব্যর্থ হন;
(ঘ) দেউলিয়া সাব্যস্ত হইয়া থাকেন; অথবা
(ঙ) যে শ্রম আদালতের সদস্য সেই শ্রম আদালতের পর পর তিনটি অধিবেশনে চেয়ারম্যানকে অবহিত না করিয়া অনুপস্থিত থাকেন।
(১)গঠিত হইয়াছিল সেই প্রক্রিয়ায়, সরকার সদস্যের শূন্য পদ শূন্য হইবার ১ (এক) মাসের মধ্যে পূরণ করিবে।
(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন প্যানেলে অর্ন্তভুক্ত কোন সদস্য, প্যানেলের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সদস্য থাকি(১) মৃত্যু অথবা ইস্তফা অথবা অপসারণজনিত শূন্যতার ক্ষেত্রে, যে প্রক্রিয়ায় মূল প্যানেল তে পারিবেন।
শ্রম আদালতের কোন সদস্য চেয়ারম্যানকে অবহিত করিয়া আদালতের কার্যধারায় একাধিকক্রমে ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকিতে পারিবেন।
শ্রম আদালতের কোন সদস্য আদালতের কার্যধারায় অংশগ্রহণের জন্য সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে দৈনিক ভাতা প্রাপ্য হইবেন।
(১) এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সরকার, ধারা ২৩২ এর উপ-ধারা (৩) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সেক্টরভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে শতভাগ রপ্তানীমুখী শিল্প সেক্টরের জন্য একটি কেন্দ্রীয় তহবিল নামে পৃক তহবিল গঠন করিবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত তহবিলের ব্যবস্থাপনার জন্য সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা সংশ্লিষ্ট রপ্তানীমুখী শিল্প সেক্টরের মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে তহবিলটি পরিচালনার জন্য পরিচালনা বোর্ড গঠন করিবে।
(৩) বিধি ২১২ হইতে বিধি ২২৬ এর বিধান শত ভাগ রপ্তানীমুখী শিল্প সেক্টরের জন্য প্রযোজ্য হইবে।
----------- -------- ----- --- ---
---------- ------- -----
-------- ---------- -------
---------- --------- -------------
----------- -------- ----
------ ----- -----
------ ------ ------
------ ---- ------- - - - ---
------ ----- ------ - - - -
------ ---- --- ---
----- ----- ---
------ ----- ----
----- ------ -----
-------- ---- ----
------- ----- ----- ---
-------- ------ ----- --
------ ------ ------
----- ------ ----- ----
----- ----- ----- ---
----- ---- ----- ---
------ ----- ---- ---
------- ----- -----
----- ---- --
------ ------ ------ ------
(১) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন ও পরিচালনা আইনের সপ্তদশ অধ্যায়, এই বিধিমালা ও প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুমোদিত চাকরি বিধি দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(২) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ভবিষ্য তহবিল গঠন ও পরিচালনার উদ্দেশ্যে নিজস্ব বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিজস্ব বিধির কোন বিধান আইনের সপ্তদশ অধ্যায় ও এই বিধিমালার বিধানের পরিপন্থি হইতে পারিবে না।
(৩) কোন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্য তহবিল গঠন করা হইলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিধিমালার অবর্তমানে উহা এই বিধিমালা দ্বারা পরিচালিত হইবে।
(৪) ভবিষ্য তহবিল গঠনের সংগে সংগে ধারা ২৬৪ এর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক এতদুদ্দেশ্যে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করিবেন।
(৫) ধারা ২৬৪ (১০) মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের অন্যূন তিন-চর্তুাংশ শ্রমিক মালিকের নিকট লিখিত দরখাস্ত পেশ করিলে প্রতিষ্ঠানের মালিক এতদুদ্দেশ্যে ভবিষ্য তহবিল পরিচালনা করিবার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করিতে বাধ্য থাকিবে।
(৬) এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, শ্রমিক বলিতে মালিক বা অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ব্যতীত পদমর্যদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকলকে বুঝাইবে।
(১) কোন প্রতিষ্ঠানে আইন ও এই বিধিমালার অধীন গঠিত ভবিষ্য তহবিলে উক্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মালিক বা অংশীদার বা পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ব্যতীত পদমর্যাদা নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যাহাদের চাকরিকাল ন্যূনতম এক বৎসর পূর্ণ হইয়াছে এমন প্রত্যেকেই সদস্য হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, বেআইনী লক-আউট, আইনসম্মত ধর্মঘট, লে-অফের দিনসমূহ এবং সাপ্তাহিক ছুটি, পীড়া ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি, অনধিক ষোল সপ্তাহের প্রসূতি কালীন ছুটি এবং অনুমোদিত অন্য যে কোন ছুটি বা অবকাশের দরুন শ্রমিকের অনুপস্থিতি প্রতিষ্ঠানে তাহার চাকরির ধারাবাহিকতাকে ক্ষুণœ করিবে না।
(২) তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতা অর্জনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী ও তাহার মনোনীত উত্তরাধিকারীর নাম ও অন্যান্য তথ্যাবলি প্রত্যয়নসহ ফরম ৬৭ অনুযায়ী ট্রাস্টি বোর্ডের নিকট দাখিল করিবেন।
(৩) যদি যোগদানের সময় মনোনয়ন দেওয়া না হইয়া থাকে, সদস্য হইবার ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিক-কর্মচারী ও তাহার মনোনীত ব্যক্তির এক কপি করিয়া পাসপোর্ট সাইজের ছবিসহ মনোনয়ন দাখিল করিতে শ্রমিককে মালিক নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ১০(দশ) দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারী নির্ধারিত ফরমে তাহার তথ্যাবলি মালিকের নিকট দাখিল করিবেন, যাহা মালিক প্রাপ্ত হইবার ৫(পাঁচ) কর্মদিবসের মধ্যে প্রত্যয়নসহ ট্রাষ্টি বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৪) কোন শ্রমিকের ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হইবার বা সদস্যপদ অব্যাহত থাকিবার ব্যাপারে অথবা সদস্য হইবার তারিখ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সেই সম্পর্কে ট্রাষ্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত প্রদান করিবে।
(৫) বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উহা অবহিত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংক্ষুদ্ধ শ্রমিক কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আপিল দায়ের করিতে পারিবেন।
(৬) উক্তরূপ আপিল দায়ের হইলে যাহার নিকট উহা দায়ের করা হইয়াছে তিনি উভয় পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া আপিল দায়েরের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবেন।
মালিকের নিকট হইতে তথ্য পাইবার পর ট্রাস্টি বোর্ড, যথা শীঘ্র সম্ভব, সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত উপায়ে ফরম-৬৮ অনুযায়ী একটি হিসাব নম্বর মঞ্জুর এবং উহা মালিক ও মালিকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অবহিত করিবে।
(১) প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্য তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড অনধিক ৭ (সাত) সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে।
(২) মালিককের প্রতিনিধি মালিক কর্তৃক মনোনীত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ মনোনয়নের ক্ষেত্রে হিসাব বিভাগের কর্মকর্তাকে অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(৩) শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি হিসাবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনয়ন প্রদান করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি নাই, সেখানে বিদ্যমান ট্রেড ইউনিয়নসমূহ শ্রমিক প্রতিনিধির মনোনয়ন প্রদান করিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, যেখানে কোন ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন নাই সেই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী কমিটির শ্রমিক প্রতিনিধিগণের দ্বারা শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনীত হইবেন:
আরও শর্ত থাকে যে, যেখানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন বা অংশগ্রহণকারী কমিটি নাই, সেই ক্ষেত্রে কল্যাণ কর্মকর্তার তত্বাবধানে উক্ত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মধ্য হইতে শ্রমিক প্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে হইবে।
(৪) প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং শ্রমিকদের সমান সংখ্যক প্রতিনিধি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হইবেন।
(৫) সদস্যগণ নিজেদের মধ্য হইতে ১ (এক) বৎসরের জন্য পর্যায়ক্রমে একজনকে ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত করিবেন।
(১) সকল সদস্যের মেয়াদ হইবে তাহার মনোনয়নের তারিখ হইতে পরবর্তী ২ (দুই) বৎসর।
(২) যে কোন সদস্য চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন এবং চেয়ারম্যান কর্তৃক উহা গৃহীত হইবার তারিখ হইতে উক্ত পদটি শূন্য বলিয়া গণ্য হইবে।
কোন ব্যক্তি বিধি ২৪০ এর অধীন সদস্য হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি
(ক) উপযুক্ত আদালত তাহাকে অপ্রকৃতিস্থ বা দেউলিয়া বলিয়া ঘোষণা করে;
(খ) তিনি ইতিপূর্বে পরপর দুইবার বোর্ডের সদস্য হিসাবে মনোনীত হইয়া থাকেন;
(গ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া আদালত কর্তৃক অন্যূন ১ (এক) বৎসরের কারাদন্ডে দন্ডিত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ
বৎসর অতিবাহিত না হইয়া থাকে; এবং
(ঘ) তিনি চেয়ারম্যানের অনুমতি ব্যতীত বোর্ডের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন।
বোর্ড সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে বিধি ২৪০ এ উল্লিখিত যে কোন মনোনীত সদস্যকে লিখিত আদেশ দ্বারা অপসারণ করিতে পারিবে, যদি তিনি
(ক) আইন ও এই বিধিমালার অধীন তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন, বা সরকারের বিবেচনায় উক্ত দায়িত্ব সম্পাদনে অক্ষম
বিবেচিত হন;
(খ) সরকারের বিবেচনায় সদস্য হিসাবে তাহার পদের অপব্যবহার করিয়া থাকেন; এবং
(গ) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভবিষ্য তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে লাভজনক কিছু অর্জন করিয়া থাকেন বা অধিকারে রাখেন।
ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ, চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্যান্য সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে বোর্ডের সচিব হিসাবে মনোনীত করিবেন।
(১) প্রতি চার মাসে অন্তত একবার ট্রাস্টি বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হইবে এবং চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে বোর্ড সচিব প্রতিটি সভার তারিখ, স্থান ও সময় নির্ধারণ করিবেন এবং উক্ত তারিখের অন্তত সাত দিন পূর্বে প্রত্যেক ট্রাস্টির ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বা ট্রাস্টিগণের নিকট গ্রহণযোগ্য অন্য কোন উপায়ে সভার নোটিস প্রেরণ করিতে হইবে, তবে জরুরি সভার ক্ষেত্রে উক্তরূপ নোটিস সভা অনুষ্ঠানের তিন দিন পূর্বে প্রেরণ করা যাইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ভবিষ্য তহবিলের সদস্যদের অন্যূন অর্ধেক সংখ্যক সদস্যের নিকট হইতে লিখিতভাবে অনুরুদ্ধ হইলে সচিব, চেয়ারম্যানের সহিত পরামর্শক্রমে, অনুরোধ প্রাপ্তির ১০ (দশ) দিনের মধ্যে বোর্ডের সভা আহবান করিবেন।
(৩) চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রতিটি সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং কোন সভায় চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকিলে ভাইস চেয়ারম্যান সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তিনি উক্ত সভার সিদ্ধান্তসহ কার্যবিবরণী স্বাক্ষর করিবেন।
(১) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় কোরাম পূর্ণ হইবার জন্য মালিকপক্ষের ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী অন্তত একজন করিয়া ট্রাস্টিসহ অর্ধেকের অধিক ট্রাস্টির উপস্থিতি থাকিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন সভায় এক ঘন্টার মধ্যে কোরাম গঠিত না হইলে, সভাটি মুলতবি হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হইতে হইবে এবং যদি উক্ত মুলতবি সভায় পুনরায় কোরাম গঠিত না হয়, তাহা হইলে তৃতীয়বারের সভায় যে কোন সংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিই কোরাম হিসাবে গণ্য হইবে।
প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্য তহবিল সংক্রান্ত সকল বিষয় বোর্ডের সভায় উত্থাপিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং কোন বিষয়ে সমসংখ্যক ভোট প্রদত্ত হইলে চেয়ারম্যান নির্ণায়ক বা কাষ্টিং ভোট প্রদান করিবেন।
উপস্থিত ট্রাস্টিদের নাম উল্লেখসহ প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী সভা অনুষ্ঠানের পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রত্যেক ট্রাস্টিকে ও সরকারকে প্রদান করিতে হইবে, যাহা বোর্ডের পরবর্তী সভায় দৃঢ়ীকরণ করিতে হইবে।
তহবিলের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বোর্ড প্রয়োজনে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।
(১) শ্রমিকের মজুরি যেভাবেই প্রদান করা হউক না কেন, মাসিক মূল মজুরির অন্যূন সাত শতাংশ এবং অনধিক আট শতাংশ ভিত্তিতে হিসাব করিয়া পরিশোধযোগ্য চাঁদার হার নির্ধারণ করিতে হইবে।
(২) মালিক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মজুরি পরিশোধকালে ভবিষ্য তহবিলের নির্ধারিত চাঁদার টাকা কর্তন করিয়া নিজের অংশের সমপরিমাণ অর্থসহ উক্ত মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে ভবিষ্য তহবিলের হিসাবে জমা প্রদান করিতে হইবে এবং পে অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের ব্যাংক মাশুল মালিক বহন করিবেন।
(৩) প্রতি মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে মালিক একটি মাসিক প্রতিবেদন বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত প্রতিবেদনে প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট হইতে কর্তনকৃত অর্থের পরিমাণ ও উক্ত শ্রমিকের খাতে মালিকের প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ থাকিতে হইবে এবং কোন কারণে তহবিলে শ্রমিকের দেয় চাঁদা আদায় না হইয়া থাকিলে পরবর্তী মাসের মজুরি হইতে উহা কর্তন করা যাইবে।
(৪) বোর্ডের সচিব উপ-বিধি (২) মোতাবেক তহবিলের অর্থ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে উহার প্রাপ্তি স্বীকার করিবেন।
ভবিষ্য তহবিলের সদস্য এমন শ্রমিকের মধ্যে যাহাদের পূর্ববর্তী মাসে চাকরির অবসান হইয়াছে তাহাদের একটি তালিকা মালিক প্রত্যেক মাস শেষ হইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে বোর্ডের নিকট রিটার্ন আকারে প্রেরণ করিবেন।
(১) তহবিলে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ সচিব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তফসিলি ব্যাংকে ‘ভবিষ্য তহবিল হিসাব’ নামের একটি ব্যাংক হিসাব খুলিয়া উহাতে জমা করিবেন।
(২) ব্যাংক হিসাব ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সমন্বয়ে যৌথভাবে পরিচালিত হইবে এবং টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বোর্ডের
চেয়ারম্যান এবং বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অন্য একজন সদস্যের যৌথ স্বাক্ষর থাকিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে মালিক ও শ্রমিকের চাঁদাসহ জমাকৃত অর্থ ও অর্জিত মুনাফা বা আয় বা লাভ পৃথক পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) প্রত্যেক মালিক ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত তাহার নিজের অংশ এবং শ্রমিকদের চাঁদার হিসাব বোর্ড কর্তৃক সময় সময় নির্দেশিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবেন।
(২) প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার পর যত শীঘ্ সম্ভব, বোর্ড প্রত্যেক সদস্যকে তহবিলে বৎসরের শুরুতে প্রারম্ভিক স্থিতি, বৎসরে প্রদত্ত চাঁদার পরিমাণ, বৎসরের শেষে জমাকৃত মুনাফা, গৃহীত অগ্রিম ও পরিশোধিত কিস্তি এবং বৎসরের শেষ স্থিতির পরিমাণ প্রদর্শন করিয়া একটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত বিবরণী সরবরাহ করিবে।
(৩) সদস্যগণ উক্ত বার্ষিক হিসাব সম্পর্কে নিজেরা নিশ্চিত হইবে এবং কোন ত্রুটি থাকিলে বিবরণী পাইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে উহা সংশোধনের জন্য বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং বোর্ড প্রয়োজনীয় যাচাই করিয়া ত্রুটি থাকিলে উহা সংশোধনপূর্বক পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পুনরায় একটি বিবরণী সদস্যকে প্রদান করিবে।
(১) বোর্ড, প্রতি বৎসর ৩০শে মার্চের মধ্যে পূর্ববর্তী বৎসরের তহবিলের হিসাব বিবরণী মালিকের নিকট ফরম-৮১(ট) অনুযায়ী দাখিল করিবে।
(২) বোর্ড হইতে হিসাব বিবরণী প্রাপ্তির পর মালিককে উহার একটি কপি কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে প্রেরণ করিতে হইবে।
(৩) বোর্ড তহবিলের মালিকানাধীন সম্পদের বাৎসরিক একটি শ্রেণি বিভক্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ফরম-৬৯ অনুযায়ী এবং একটি ব্যালান্স শীট প্রস্তুত করিবে এবং উহার কপি মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের নিকট পেশ করিতে বার্ষিক রিপোর্টের সহিত সংযুক্ত করিবে।
ভবিষ্য তহবিলের একটি রাজস্ব হিসাব খুলিতে হইবে যাহাতে সকল মুনাফা ও অন্যান্য বিনিয়োগ, উপার্জিত মুনাফা এবং তহবিল বরাবর বাজেয়াপ্ত যে কোন অর্থ পৃথকভাবে জমা হইবে এবং একইভাবে তহবিল হইতে সিকিউরিটি বিক্রি বাবদ, সিকিউরিটি মূল্য হ্রাস বাবদ কম হওয়া, সিকিউরিটির কর ও মঞ্জুরি বাবদ অর্থ খরচ খাতে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(২) ব্যাংক হিসাব ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান, মালিক পক্ষের প্রতিনিধি ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি সমন্বয়ে যৌথভাবে পরিচালিত হইবে এবং টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বোর্ডের
চেয়ারম্যান এবং বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত অন্য একজন সদস্যের যৌথ স্বাক্ষর থাকিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে মালিক ও শ্রমিকের চাঁদাসহ জমাকৃত অর্থ ও অর্জিত মুনাফা বা আয় বা লাভ পৃথক পৃথকভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
(১) তহবিলের অফিসে প্রত্যেক সদস্যের নামে লেজারে একটি একাউন্ট খুলিতে হইবে, যাহাতে প্রদত্ত চাঁদা, শ্রমিকের অনুকূলে প্রদত্ত মালিকের অংশ, মুনাফা ও বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত লভ্যাংশের আনুপাতিক অংশ জমা হইবে।
(২) প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের সচিব প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে প্রদর্শিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করিবেন এবং কোনরূপ ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হইলে উহা সংশোধন করিয়া তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত খাতওয়ারী একটি হিসাব বিবরণী প্রত্যেক শ্রমিককে সরবরাহ করিবেন।
তহবিলের অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে ধারা ২৬৪(১২) এ উল্লিখিত খাতসমূহে এবং বাংলাদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ে বিনিয়োগ করা যাইবে।
তহবিলের কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, ইত্যাদিসহ তহবিলের যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয়, অডিট একাউন্ট ও আইনগত ব্যয়, ষ্টেশনারী ব্যয়, ফরম, আসবাবপত্র, ভাড়া, কর ও অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত ব্যয় মালিক নির্বাহ করিবেন।
পরিচালনা হিসাব” সহ তহবিলের হিসাব বোর্ড কর্তৃক নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত পন্থায় মালিক বা সচিব সংরক্ষণ করিবেন।
তহবিলের বাৎসরিক হিসাব ১৯৯৪ সনের কোম্পানি আইনের বিধান মোতাবেক স্বীকৃত অডিট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা করাইতে হইবে।
(১) ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত লভ্যাংশ বা মুনাফা বৎসরের শেষে প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে আনুপাতিক হারে জমা করিতে হইবে।
(২) সদস্যদের হিসাবে জমাকৃত মুনাফা ভবিষ্য তহবিলের খরচ হিসাবে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক সদস্যের জমা খাতে প্রথম দিন হইতে আরম্ভ করিয়া শেষ দিন পর্যন্ত মুনাফা জমা করিতে হইবে।
(৪) পরিশোধের দাবির উপর বা আংশিক মেয়াদের উপর মুনাফা পূর্ববর্তী বৎসরের মুনাফা হারে প্রদান করা হইবে এবং আংশিক মেয়াদের মাসসমূহের জন্য মাসিক হারে জমা হইবে।
(১) প্রত্যেক সদস্য তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ গ্রহণের অধিকার প্রদান করিয়া ফরম-৪১ অনুযায়ী তাহার নমিনীর ছবিসহ মনোনয়ন প্রদান করিবেন।
(২) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রদানের সময় সদস্যের পরিবার থাকে, সেই ক্ষেত্রে পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে অন্যথায় উহা গৃহীত হইবে না।
(৩) সদস্য ইচ্ছা করিলে তাহার মনোনয়নপত্রে তাহার নামে জমা অর্থ তাহার মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাহার ইচ্ছানুযায়ী আনুপাতিক হারে ভাগ করিয়া প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) মনোনীত কোন ব্যক্তি যদি সদস্যের পূর্বেই মারা যান, সেই ক্ষেত্রে উক্ত সদস্য নূতন মনোনয়ন প্রদান করিবেন।
(৫) সদস্য কর্তৃক প্রদত্ত মনোনয়ন সদস্যের নিকট হইতে প্রাপ্ত লিখিত নোটিশের ভিত্তিতে যে কোন সময় পরিবর্তন করা যাইবে।
(৬) কোন মনোনয়ন এবং উহার কোন পরিবর্তন বোর্ড যে তারিখে প্রাপ্ত হইবে সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে।
(১) কোন সদস্যের চাকরি কোন প্রতিষ্ঠানে দুই বৎসর úূর্ণ করিবার পর সমাপ্তি ঘটিলে তিনি তহবিলে তাহার নামে জমা সমুদয় অর্থ মালিকের অংশসহ প্রাপ্ত হইবেন।
(২) কোন সদস্য তহবিলের তাহার সদস্যপদ বহাল না রাখিতে চাহিলে তিনি বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন করিয়া সদস্যপদ প্রত্যাহার করিতে পারিবেন এবং এইরূপ সদস্যপদ প্রত্যাহার সদস্যের চাকরি প্রতিষ্ঠানে দুই বৎসর úূর্ণ করিবার পর ঘটিলে তিনি তহবিলে তাহার নামে জমা সমুদয় অর্থ উক্ত মালিকের অংশসহ প্রাপ্ত হইবেন।
(৩) কোন সদস্যের চাকরির মেয়াদ দুই বৎসরের কম হইলে অথবা তহবিলের সদস্য হিসাবে এক বৎসরের কম হইলে তিনি তহবিলে জমাকৃত অর্থ হইতে তাহার প্রদত্ত চাঁদার অংশই কেবল প্রাপ্ত হইবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সদস্যের চাকরির মেয়াদ যাহাই হউক না কেন মৃত্যুজনিত কারণে বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হইয়া যাইবার কারণে তহবিলের সদস্য ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত উভয় অংশ প্রাপ্য হইবেন।
তহবিলের অর্থ প্রদেয় হইবার পূর্বেই, অথবা প্রদেয় হইবার পর কিন্তু প্রদানের পূর্বেই কোন সদস্যের মৃত্যু হইলে
(ক) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন বৈধ থাকে সেই ক্ষেত্রে সদস্যের নামে জমা অর্থ অথবা উহার কোন অংশ উক্ত মনোনয়ন মোতাবেক মনোনীত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে প্রদেয় হইবে; অথবা
(খ) যদি মনোনয়ন বিদ্যমান না থাকে অথবা যদি মনোনয়নটি তহবিলে জমার কোন অংশের উপর প্রযোজ্য না হইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ জমা বা যে অংশের উপর মনোনয়ন প্রযোজ্য নহে সেই অংশ, মৃত ব্যক্তির পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রদেয় হইবে।
(১) যে ক্ষেত্রে কোন সদস্যের নামে জমা অর্থ অথবা এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ প্রদেয় হয়, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড উক্ত সদস্যের হিসাবটি বন্ধ করিবে এবং যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হয় তাহাকে প্রদানের জন্য প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ নির্দিষ্ট করিয়া একটি লিখিত নোটিস প্রদান করিবে।
(২) প্রদেয় অর্থের কোন অংশের ব্যাপারে যদি বিরোধ বা সন্দেহের সৃষ্টি হয়, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড যে অংশের ব্যাপারে কোন বিরোধ বা সন্দেহ নাই সেই অংশ অবিলম্বে প্রদান করিবে এবং বিরোধীয় বিষয়টি যত শীঘ্র সম্ভব নিষ্পত্তি করিবে।
(৩) এই বিধিমালা মোতাবেক অর্থ প্রদেয় হইতেছে এমন ব্যক্তি যদি নাবালক বা উন্মাদ হইয়া থাকেন সেই ক্ষেত্রে এঁধৎফরধহং ধহফ ডধৎফং অপঃ, ১৮৯০ (অপঃ ঘড়. ঠওওও ড়ভ ১৮৯০) অনুযায়ী নাবালক ব্যক্তির পক্ষে নিযুক্ত কোন অভিভাবক অথবা খঁহধপু অপঃ, ১৯১২ (অপঃ ঘড়. ওঠ ড়ভ ১৯১২) অনুযায়ী উন্মাদ ব্যক্তির পক্ষে নিযুক্ত কোন ব্যবস্থাপককে উক্ত অর্থ প্রদান করিতে হইবে এবং যে ক্ষেত্রে অনুরূপ অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয় নাই সেই ক্ষেত্রে নাবালক বা উন্মাদের পক্ষে আইনানুসারে প্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে উক্ত অর্থ প্রদান করিতে হইবে।
(৪) এই বিধি মোতাবেক অর্থ প্রাপ্তিতে আগ্রহী ব্যক্তিকে বোর্ডের নিকট লিখিত আবেদন করিতে হইবে এবং যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হইবে তাহার ইচ্ছানুযায়ী মানি অর্ডারযোগে বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরিত ক্রশ চেকের মাধ্যমে অথবা প্রাপ্তি স্বীকারপূর্বক হাতে হাতে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ প্রদান করা যাইবে।
(১) তহবিলের অফিসে প্রত্যেক সদস্যের নামে লেজারে একটি একাউন্ট খুলিতে হইবে, যাহাতে প্রদত্ত চাঁদা, শ্রমিকের অনুকূলে প্রদত্ত মালিকের অংশ, মুনাফা ও বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত লভ্যাংশের আনুপাতিক অংশ জমা হইবে।
(২) প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার তিন মাসের মধ্যে বোর্ডের সচিব প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে প্রদর্শিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করিবেন এবং কোনরূপ ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হইলে উহা সংশোধন করিয়া তৎকর্তৃক স্বাক্ষরিত খাতওয়ারী একটি হিসাব বিবরণী প্রত্যেক শ্রমিককে সরবরাহ করিবেন।
(১) কোন সদস্য তাহার হিসাব জমায় স্থিতি অর্থ হইতে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনক্রমে নিম্নবর্ণিত শর্তে অগ্রিম গ্রহণ করিতে পারিবেন, যথা:
ক) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের চিকিৎসা সম্পর্কিত ব্যয় নির্বাহের জন্য;
খ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের বিবাহ, মৃতের শেষকৃত্য অথবা অন্য কোন অত্যাবশ্যকীয় ব্যয় নির্বাহের জন্য;
গ) বাসগৃহ নির্মাণ বা মেরামত অথবা বাসগৃহ বা ফ্ল্যাট ক্রয় অথবা বাসগৃহ নির্মাণের নিমিত্ত জমি ক্রয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য;
ঘ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার স্ত্রীর জীবন বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধ করিবার জন্য;
ঙ) কোন চাঁদাদাতা বা তাহার পরিবারের কোন সদস্যের সমুদ্র বা বিমানে ভ্রমণের ব্যয় নির্বাহের জন্য; এবং
চ) কোন চাঁদাদাতা সদস্যের সন্তান-সন্ততির লেখাপড়ার ব্যয় নির্বাহের জন্য।
(২) কান অগ্রিম কোন ক্ষেত্রে সদস্যের হিসাবে রক্ষিত আয়কর মুক্ত চাঁদা ও মুনাফার মোট স্থিতির ৮০% (শতকরা আশি ভাগ) এর অধিক হইবে না, এবং প্রথম গৃহীত অগ্রিম সম্পূর্ণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী কোন অগ্রিম মঞ্জুর করা যাইবে না।
(৩) অগ্রিম হিসাবে গৃহীত অর্থ অনধিক মাসিক সমান ৬০ ষাট কিস্তিতে পরিশোধ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন কিস্তি অগ্রিম গ্রহণকারী শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরির এক তৃতীয়াংশের অধিক হইবে না।
(৪) অগ্রিম হিসাবে গৃহীত অর্থ সমানভাগে ভাগ করিয়া যত কিস্তিতে মূল অগ্রিম পরিশোধ হইবে, অগ্রিমের সুদ হিসাবে উহার চাইতে একটি অতিরিক্ত কিস্তি পরিশোধ করিতে হইবে।
(৫) এই তহবিলের জমাকৃত অর্থ সদস্যদের অর্থ হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং তহবিল হইতে মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য বা অন্য কোন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কোন প্রকার অগ্রিম বা ঋণ গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
সকল আদেশ এবং দলিলাদি বোর্ডের নামে প্রদত্ত এবং সম্পাদিত হইবে এবং বোর্ড কর্তৃক প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা দ্বারা উক্ত বিষয়াদি প্রত্যায়িত হইতে হইবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তি-
(ক) এই বিধিমালা মোতাবেক প্রদেয় কোন চাঁদা পর্যাপ্ত কারণ ব্যতীত পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন;
(খ) সদস্যের মজুরি বা অন্য পারিশ্রমিক হইতে মালিকের অংশ কর্তন করিয়া থাকেন বা কর্তন করিবার চেষ্টা করেন;
(গ) বিধিমালা মোতাবেক দাখিল করা আবশ্যক বা দাখিল করিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে এমন রিটার্ণ, বিবরণী বা অন্য কোন দলিল দাখিল করিতে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;
(ঘ) মিথ্যা রিটার্ণ, বর্ণনা বা দলিল দাখিল করিয়া থাকেন বা মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেন;
(ঙ) এই বিধিমালার অন্য কোন আবশ্যকতা পালন না করিবার বা ভঙ্গ করিবার দায়ে দোষী হন; অথবা
(চ) মালিক কর্তৃক প্রভাব খাটিয়ে বা চাতুরীর মাধ্যমে অগ্রিম বা ঋণ গ্রহণ করেন;
তাহা হইলে তিনি ধারা ২৯৮ অনুযায়ী দন্ডপ্রাপ্ত হইবেন।
(২) ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলের অর্থ ব্যাংক সুদের হারের চাইতে কম হারে ঋণ প্রদান করিলে বা মালিককে ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিলে বা নিজের লাভে প্রয়োগ করিলে মালিক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য দন্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৫নং আইন) এর ৪০৯ ধারা মোতাবেক দন্ডনীয় হইবেন।
এই অধ্যায়ের-
(ক) বিধি ২৩৭ হইতে ২৬৮ এর বিধানাবলি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে;
(খ) বিধি ২৭০ হইতে ৩০২ এর বিধানাবলি চা-বাগানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে; এবং
(গ) বিধি ৩০৩ হইতে ৩২৭ এর বিধানাবলি সংবাদপত্র শ্রমিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
চা-বাগান শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল ট্রাস্টি বোর্ড আইনের বিধান মোতাবেক গঠিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) ধারা ২৬৮(১) এর বিধান অনুসরণ করিয়া শিক্ষাধীন শ্রমিক ব্যতীত চা-বাগানের চাকরিতে এক বৎসর পূর্ণ করিয়াছে এমন প্রত্যেক শ্রমিককে ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হইতে হইবে এবং সদস্য হইবার সময় সদস্যের ছবি ও নমিনীর ছবি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে দাখিল করিতে হইবে।
(২) কোন শ্রমিকের ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হইবার বা সদস্যপদ অব্যাহত রাখিবার বিষয়ে অথবা সদস্য হইবার যোগ্যতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সেই ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে।
(৩) তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতা অর্জনের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে তাহার মনোনীত ব্যক্তির নামসহ যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ প্রাপ্তির পরবর্তী ৫ (পাঁচ) কর্ম দিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক নির্ধারিত ফরমে তাহার তথ্যাবলি মালিকের নিকট দাখিল করিবেন, যাহা মালিক প্রাপ্ত হইবার ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে সুপারিশসহ নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে অনুরূপ শ্রমিক ইতিমধ্যেই তহবিলের সদস্য রহিয়াছে, সেই ক্ষেত্রে মালিক, উক্ত ব্যক্তির নিযুক্তির সাত দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রককে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পূর্বতন মালিকের নাম, হিসাব নম্বর এবং অন্যান্য বিবরণ অবহিত করিবেন এবং নিয়ন্ত্রকের নিকট হইতে উহার প্রাপ্তির প্রমাণ সংগ্রহ করিবেন।
(৪) প্রত্যেক মালিক এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৩০(ত্রিশ) দিনের মধ্যে তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক শ্রমিক সম্পর্কে ফরম-৬৭ অনুযায়ী একটি রিটার্ণ নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
মালিকের নিকট হইতে তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতাসম্পন্ন শ্রমিকের তথ্য পাইবার পর নিয়ন্ত্রক, যথা শীঘ্র সম্ভব সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় ফরম-৬৮ অনুযায়ী একটি হিসাব নম্বর মঞ্জুর এবং উহা মালিককে ও মালিকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে অবহিত করিবেন।
(১) সাধারণত ট্রাস্টি বোর্ডের সভা প্রতি ২ (দুই) মাসে অন্তত একবার অনুষ্ঠিত হইবে।
(২) চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে নিয়ন্ত্রক ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিটি সভার তারিখ, স্থান ও সময় নির্ধারণ করিবেন এবং উক্ত তারিখের অন্তত ১৪ (চৌদ্দ) দিন পূর্বে ‘আলোচ্য সূচি’সহ সভার নোটিস প্রত্যেক ট্রাস্টির ঠিকানায় রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বা নির্ভরযোগ্য সম্ভাব্য অন্য কোন মাধ্যমে প্রেরণ করিবেন, তবে জরুরি সভার ক্ষেত্রে ৭ (সাত) দিনের নোটিশে সভা আহবান করা যাইবে।
(৩) উপ-বিধি (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ট্রাস্টি বোর্ডের অন্যূন ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের নিকট হইতে লিখিতভাবে রিকুইজিশন নোটিস প্রাপ্ত হইলে নিয়ন্ত্রক, চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে, উক্ত নোটিস প্রাপ্তির ১৪ (চৌদ্দ) দিনের মধ্যে বোর্ডের সভা আহবান করিবেন।
(৪) চেয়ারম্যান বোর্ডের প্রতিটি সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং কোন সভায় চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকিলে উপস্থিত ট্রাস্টিগণ তাহাদের মধ্য হইতে মালিক বা নিরপেক্ষ একজন সদস্যকে সভায় সভাপতিত্ব করিবার জন্য নির্বাচিত করিবেন এবং উক্তরূপে নির্বাচিত ট্রাস্টি সভায় চেয়ারম্যানের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।
(৫) তহবিল সম্পর্কিত সকল বিষয় বোর্ডের সভায় উত্থাপিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ট্রাস্টিগণ সমানভাবে দ্বিধাবিভক্ত হইয়া পড়িলে চেয়ারম্যানের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যাইবে।
(৬) কোন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হইলে সেই ক্ষেত্রে হাত তুলিয়া ভোট দেওয়া যাইবে এবং উপস্থিত ট্রাস্টিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ গোপন ব্যালটে ভোট গ্রহণের দাবি করিলে চেয়ারম্যান গোপন ব্যালটের ব্যবস্থা করিতে পারিবেন।
(১) ট্রাস্টি বোর্ডের সভায় কোরাম পূর্ণ হইবার জন্য মালিক, শ্রমিক এবং নিরপেক্ষ সদস্যদের মধ্য হইতে অন্তত একজন করিয়া ট্রাস্টিসহ অন্যূন তিনজন ট্রাস্টি উপস্থিত থাকিতে হইবে ।
(২) উপ—বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিদের দ্বারা এক ঘন্টার মধ্যে কোরাম গঠিত না হইলে, সভাটি মুলতবি হইয়া যাইবে এবং মুলতবি সভা পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হইবে এবং যদি উক্ত মুলতবি সভায় পুনরায় কোরাম গঠিত না হয়, তাহা হইলে তৃতীয়বারের সভায় যে কোন সংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিই কোরাম হিসাবে গণ্য হইবে।
উপস্থিত ট্রাস্টিদের নাম উল্লেখসহ প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী সভা অনুষ্ঠানের পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রত্যেক ট্রাস্টিকে প্রেরণ করিতে হইবে, যাহা পরবর্তী বোর্ড সভায় দৃঢ়ীকরণ করিতে হইবে এবং কার্যবিবরণী অনুমোদিত হইবার পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) সরকারি কাজে ভ্রমণের জন্য প্রযোজ্য প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মচারীর সুযোগ—সুবিধা সংক্রান্ত বিধান বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ প্রত্যেক ট্রাস্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে।
(২) কোন ট্রাস্টি তাহার মালিকের নিকট হইতে কোনরূপ ভ্রমণ ও অন্যান্য ভাতা প্রাপ্ত হইলে তিনি একই ভ্রমণের জন্য বোর্ডের নিকট হইতে কোন ভাতা দাবি করিতে পারিবেন না।
(৩) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হারে মাসিক সম্মানী ভাতা প্রাপ্ত হইবেন এবং সদস্যগণ প্রতি সভায় উপস্থিতির জন্য বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত দৈনিক ভাতা প্রাপ্ত হইবেন।
(১) নিয়ন্ত্রক, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে, ট্রাস্টি বোর্ড কতৃর্ক বিভিন্ন সময়ে নিধার্রিত বেতন—ভাতা প্রাপ্ত হইবেন।
(২) নিয়ন্ত্রক তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বোর্ডের পূর্বানুমতি গ্রহণ না করিয়া কোন আকস্মিক ব্যয়, সরবরাহ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয়ের জন্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ সাপেক্ষে ব্যয় মঞ্জুর করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ ব্যয় মঞ্জুরের বিষয়ে বোর্ডের পরবতীর্ সভায় অনুমোদন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) তহবিলের প্রশাসন দক্ষতার সহিত পরিচালনার জন্য বোর্ড পদ সৃষ্টি করাসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং কর্মচারী নিয়োগ করিবার পদ্ধতি, কর্মচারীদের চাকরির শতার্দি এবং বেতন, ভাতা, ইত্যাদি সরকারের অনুমোদনক্রমে বোর্ড কতৃর্ক প্রণীত প্রবিধান দ্বারা নিধার্রিত হইবে।
(৪) নিয়ন্ত্রকের অনুপস্থিতিতে সহকারী নিয়ন্ত্রক প্রশাসনিক দায়িত্বসহ অন্যান্য দায়িত পালন করিবেন।
(১) দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক বা মাসিক যেভাবেই মজুরি প্রদান করা হউক না কেন, সম্পূর্ণ মাসে শ্রমিককে দেয় মূল মজুরির ভিত্তিতে হিসাব করিয়া আইনের অধীন ভবিষ্য তহবিলে পরিশোধযোগ্য চাঁদার হার নিধার্রণ করিতে হইবে।
(২) মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মজুরি পরিশোধকালে তহবিলের চাঁদা বাবদ অর্থ কর্তন করিয়া উহা নিজের অংশসহ প্রত্যেক মাস শেষ হইবার পরবতীর্ ১৫(পনের) দিনের মধ্যে তহবিলে জমা প্রদানের উদ্দেশ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা চেকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক বরাবরে প্রেরণ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, মফস্বলের কোন ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে টাকা জমা প্রদান করা হইলে সেই ক্ষেত্রে চেক সংগ্রহের মাশুল বাবদ অর্থ যোগ করিয়া চেক প্রদান করিতে হইবে।
(৩) কোন কারণে বা ভুলবশত কোন মাসে শ্রমিকের দেয় চাঁদা কর্তন না হইয়া থাকিলে পরবতীর্ মাসের মজুরি হইতে উহা কর্তন করা যাইবে এবং অনুরূপভাবে কোন মাসে নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত কর্তন করা হইলে উহাও পরবতীর্ মাসের চাঁদা কর্তনের সময় সমন্বয় করা যাইবে।
(৪) কোন বাগানে মৌসুম বহিভূর্ত সময়ে কোন শ্রমিককে প্রদত্ত রিটেইনার ভাতা এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মজুরি হিসাবে গণ্য হইবে।
(৫) নিয়ন্ত্রক উপ—বিধি (২) মোতাবেক অর্থ প্রাপ্তির দশ দিনের মধ্যে উহার প্রাপ্তি স্বীকার করিবেন।
(৬) মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে মালিক একটি সামগ্রিক মাসিক প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত সামগ্রিক প্রতিবেদনে শ্রমিকের মাসিক মূল মজুরি উল্লেখসহ প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট হইতে কর্তনকৃত চাঁদা ও উক্ত শ্রমিকের খাতে মালিকের প্রদত্ত অংশ এবং প্রশাসনিক ব্যয় হিসাবে মালিকের প্রদত্ত অর্থের পরিমাণ প্রদর্শন করিতে হইবে।
(৭) ভবিষ্য তহবিলে দেয় চাঁদা বাবদ কোন শ্রমিকের মজুরি হইতে কর্তনকৃত অর্থ নিয়ন্ত্রক প্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত উহা মালিকের হেফাজতে রহিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
মালিক ভবিষ্য তহবিলে তাহার নিজের দেয় চাঁদার অংশ সদস্যদের মজুরি হইতে কর্তন করিতে বা অন্য কোনভাবে আদায় করিতে পারিবেন না।
ভবিষ্য তহবিলের সদস্য এমন শ্রমিকের মধ্যে যাহাদের পূর্ববর্তী মাসে চাকরির অবসান হইয়াছে তাহাদের একটি তালিকা মালিক প্রত্যেক মাস শেষ হইবার পনের দিনের মধ্যে বোর্ডের নিকট রিটার্ণ আকারে প্রেরণ করিবেন।
প্রত্যেক মালিক ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত তাহার নিজের অংশ এবং শ্রমিকদের চাঁদার হিসাব বোর্ড কতৃর্ক সময়ে সময়ে নির্দেশিত পদ্ধতি মোতাবেক সংরক্ষণ করিবেন।
(১) নিয়ন্ত্রক তহবিলে মালিকের ও শ্রমিকদের চাঁদা হিসাবে প্রাপ্ত মোট টাকা বোর্ড কতৃর্ক নিধার্রিত তফসিলি ব্যাংকে “ভবিষ্য তহবিল হিসাব” নামে ব্যাংক একাউন্ট খুলিয়া উহাতে জমা রাখিবেন এবং মালিকের ও শ্রমিকদের চাঁদাসহ মুনাফার হিসাব রেজিস্টারে পৃথকভাবে প্রদর্শিত হইবে।
(২) একটি রাজস্ব হিসাব খুলিতে হইবে যাহাতে সকল মুনাফা ও বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত অন্যান্য মুনাফা এবং তহবিল বরাবর বাজেয়াপ্ত যে কোন অর্থ পৃথকভাবে জমা হইবে এবং একইভাবে তহবিল হইতে সিকিউরিটি, মূল্য হ্রাস বাবদ কম হওয়া, সিকিউরিটির কর ও মঞ্জুরি বাবদ অর্থ ব্যয় খাতে প্রদর্শিত হইবে।
(৩) পরিচালনা হিসাব নামে একটি পৃথক হিসাব থাকিবে যাহাতে তহবিলের সকল প্রশাসনিক ব্যয়ের হিসাব প্রদর্শিত হইবে।
(১) নিয়ন্ত্রকের অফিসে প্রত্যেক চা—বাগান ভিত্তিক রক্ষিত পৃথক পৃথক রেজিস্টারে প্রত্যেক সদস্যের নামে একটি একাউন্ট খুলিতে হইবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:
(ক) তাহার প্রদত্ত চাঁদা;
(খ) সদস্যের অনুকূলে প্রদত্ত মালিকের অংশ; এবং
(গ) বিধি মোতাবেক মুনাফা।
(২) শ্রমিকের চাঁদা এবং মালিকের অংশের সহিত পৃথক পৃথকভাবে মুনাফা জমা করিতে হইবে এবং প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার পূর্বে নিয়ন্ত্রক সদস্যের হিসাবে প্রদর্শিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করিবেন এবং কোনরূপ ভ্রান্তি দৃষ্টিগোচর হইলে উহা সংশোধন করিবেন।
(১) তহবিলের সকল অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং উহার অনূূ্যন ৫০% নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক খাতে বিনিয়োগ করা যাইবে, যথা:
(ক) সরকার কতৃর্ক শর্তহীনভাবে নিশ্চয়তা প্রদত্ত মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বন্ড সমূহে ;
(খ) সরকার কতৃর্ক শর্তহীনভাবে নিশ্চয়তা প্রদত্ত তফসিলি ব্যাংকের মেয়াদী আমানতে;
(গ) অন্যান্য কোম্পানির ষ্টক বা ডিবেঞ্চারে যাহার মুনাফার নিশ্চয়তা সরকার প্রদান করিয়াছে;
(ঘ) বাংলাদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সম্পত্তি ইজারাকৃত হইবে না এবং সম্পত্তির মোট মূল্য এক—তৃতীয়াংশের অধিক বা সম্পত্তিটি দালান হইয়া থাকিলে বন্ধকী অর্থের অর্ধেকের অধিক হইবে না।
(২) কোন বিনিয়োগে কোনরূপ অর্থ ব্যয় হইলে বা লোকসান হইয়া থাকিলে উহা রাজস্ব একাউন্টে চার্জ হইবে।
(৩) নিয়ন্ত্রক তহবিলের সম্পদের একটি শ্রেণি বিভক্ত সংক্ষিপ্ত বিবরণ ফরম—৬৯ অনুযায়ী এবং একটি ব্যালান্স শীট (প্রতি বৎসর ৩০শে জুন পর্যন্ত) প্রস্তুত করিবেন এবং উহার কপি সরকারের নিকট পেশ করিবার লক্ষে বার্ষিক রিপোর্টের সহিত সংযুক্ত করিবেন।
(১) বোর্ডের ট্রাস্টিদের ফি ও ভাতা, তহবিলের কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, ইত্যাদিসহ তহবিলের যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয়, অডিট একাউণ্ট ও আইনগত ব্যয়, ষ্টেশনারী ব্যয়, ফরম, আসবাবপত্র, যানবাহন, ভাড়া, কর ও অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত ব্যয় বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তহবিলের পরিচালন হিসাব হইতে নিবার্হ করিতে হইবে।
(২) “পরিচালন হিসাব” সহ তহবিলের একাউন্টসমূহ বোর্ড কতৃর্ক নির্দিষ্ট ও নিধার্রিত পন্থায় নিয়ন্ত্রক সংরক্ষণ করিবেন।
(১) তহবিলের বাৎসরিক হিসাব ১৯৯৪ সনের কোম্পানি আইনের বিধান মোতাবেক বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে নিযুক্ত স্বীকৃত চাটার্ড একাউন্টেট ফার্ম কর্তৃক নিরীক্ষা করিতে হইবে।
(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন নিযুক্ত নিরীক্ষক তহবিলের হিসাব নিরীক্ষান্তে যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরাঙ্কিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তিন কপি বোর্ডের নিকট প্রদান করিবেন এবং সরকারের নিকটও উহার একটি কপি প্রেরণ করিবেন।
(১) নিয়ন্ত্রক প্রতি বৎসর জুন মাসের প্রথম পক্ষকালের মধ্যে পরবর্তী বৎসরের জন্য একটি বাজেট প্রস্তুত করিয়া উহা বোর্ডের নিকট পেশ করিবেন যাহাতে সম্ভাব্য চাঁদার পরিমাণ, প্রশাসনিক ব্যয়ের লেভী এবং পরবতীর্ বৎসরের প্রস্তাবিত ব্যয় পৃথক পৃথকভাবে প্রদর্শিত হইবে।
(২) বাজেট প্রণয়নের সময়, তহবিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনার খরচ যাহাতে ব্যবস্থাপনার খরচ বাবদ আদায়কৃত অর্থের মধ্যে হইতে নির্বাহ করা যায় সেই ব্যাপারে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করিতে হইবে এবং বোর্ড যদি কোন ক্ষেত্রে কোন খরচ অপরিহার্য বলিয়া মনে করে তাহা হইলে অনুরূপ খরচের জন্য সরকারের পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন হইবে।
(১) বৎসরের শেষে রাজস্ব হিসাবের জমা হইতে অর্জিত মুনাফা প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে আনুপাতিক হারে জমা করিতে হইবে।
(২) সদস্যদের হিসাবে জমা মোট মুনাফা রাজস্ব খাতে ব্যয় হিসাবে প্রদর্শিত হইবে।
(৩) প্রত্যেক সদস্যের জমাখাতে প্রথম দিন হইতে শুরু করিয়া শেষ দিন পর্যন্ত মুনাফা জমা করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সদস্যদের নামে জমা অর্থ যখন প্রদেয় হয়, তখন চলতি মেয়াদের প্রথম দিন হইতে উক্ত অর্থ যে দিন প্রদানের জন্য গ্রহণ করিতে বলা হইবে সেদিনের পূর্ববতীর্ মাস পর্যন্ত অথবা ফেরত প্রদেয় অর্থ পরিশোধযোগ্য হইবার মাসের পরবতীর্ ছয় মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত, যাহা পূর্বে হয় সেই পর্যন্ত মুনাফা জমা হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, পরিশোধের দাবির উপর বা আংশিক মেয়াদের উপর মুনাফা পূর্ববতীর্ বৎসরের মুনাফার হারে প্রদান করা হইবে এবং আংশিক মেয়াদের মাসসমূহের জন্য মাসিক হারে জমা হইবে।
(৪) বোর্ড যদি প্রয়োজন মনে করে তাহা হইলে, সদস্য কতৃর্ক জীবন বীমা পলিসিতে প্রদানের জন্য উত্তোলিত অর্থের উপর যেমন সমীচীন মনে করে সেই হারে, অনুরূপ পলিসি প্রিমিয়ামের খরচ মিটানোর জন্য চার্জ ধার্য করিতে পারিবে এবং অনুরূপ ধার্যকৃত চার্জ, বোর্ড কতৃর্ক নিধার্রিত পন্থায় আদায়ের পর, তহবিলের রাজস্ব খাতে জমা হইবে।
(১) প্রত্যেক সদস্য তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ গ্রহণের অধিকার প্রদান করিয়া ফরম—৪১ অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, সদস্য নাবালক হইলে, সাবালকত্ব প্রাপ্তির পূর্বে তিনি কোন মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন না ।
আরও শর্ত থাকে যে, সাবালক হইবার পূর্বেই অনুরূপ নাবালক সদস্যের মৃত্যু হইলে, তহবিলে তাহার নামে জমা সমুদয় অর্থ, আইন মোতাবেক তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রদেয় হইবে।
(২) সদস্য ইচ্ছা করিলে তাহার মনোনয়নপত্রে তাহার নামে জমা অর্থ তাহার মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাহার ইচ্ছানুযায়ী হারাহারি অংশে ভাগ করিয়া প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রদানের সময় সদস্যের পরিবার থাকে, সেই ক্ষেত্রে পরিবারভুক্ত এক বা একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে এবং অন্যভাবে মনোনয়ন দেওয়া হইলে সেই ক্ষেত্রে অনুরূপ মনোনয়ন বাতিল হইবে।
ব্যাখ্যা।— এই বিধিতে ‘‘পরিবারভুক্ত সদস্য’’ বলিতে পুরুষ সদস্যের ক্ষেত্রে স্ত্রী, বিবাহিত এবং অবিবাহিত সন্তান—সন্ততি, দত্তক পুত্র—কন্যা, সদস্যের উপর নির্ভরশীল পিতা—মাতা এবং সদস্যের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী ও সন্তানগণ এবং মহিলা সদস্যের ক্ষেত্রে স্বামী, বিবাহিত এবং অবিবাহিত সন্তান—সন্ততি, দত্তক পুত্র—কন্যা, স্বামীর অথবা সদস্যের উপর নির্ভরশীল পিতা—মাতা এবং সদস্যের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রী ও ন্তানগণকে বুঝাইবে।
(৪) মনোনীত কোন ব্যক্তি যদি সদস্যের পূর্বেই মারা যান, সেই ক্ষেত্রে উক্ত সদস্য পুনরায় মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন ।
(৫) এই বিধিমালা মোতাবেক প্রদত্ত মনোনয়ন সদস্য কতৃর্ক যে কোন সময় পরিবর্ত করা যাইবে।
(৬) কোন মনোনয়ন এবং উহার কোন পরিবর্তন নিয়ন্ত্রক যে তারিখে উহা প্রাপ্ত হইবেন সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে ।
(১) কোন সদস্যের নামে তহবিলে বিগত বৎসরের হিসাবে তাহার চাঁদা এবং উহার মুনাফাসহ যে পরিমাণ অর্থ জমা হইয়াছে জীবন বীমা পলিসিতে অর্থ প্রদানের জন্য, অনধিক সেই পরিমাণ অর্থ বার মাসে অনধিক একবার উত্তোলন করা যাইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নিয়ন্ত্রকের নিকট তৎকতৃর্ক নিধার্রিত ফরমে প্রস্তাবিত জীবন বীমা পলিসির বিস্তারিত বিবরণ দাখিল না করা পর্যন্ত এবং নিয়ন্ত্রক কতৃর্ক উহা যথোপযুক্ত হিসাবে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোন অর্থ উঠাইবার অনুমতি প্রদান করা যাইবে না এবং প্রিমিয়াম বা চাঁদা বাবদ প্রকৃতপক্ষে প্রদেয় অর্থের অপেক্ষা অধিক অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া যাইবে না:
আরও শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ অর্থ উত্তোলনের জন্য অনুমতি দেওয়া হইলে, নিয়ন্ত্রক সরাসরি বীমা কেম্পানীকে সেই অর্থ প্রদান করিবেন এবং অনুরূপ পরিশোধের রসিদ গ্রহণ করিবেন।
(২) নূতন পলিসির ক্ষেত্রে প্রথম প্রিমিয়াম পাইবার পর বীমা কোম্পানি বোর্ডের অনুকূলে স্বত্ব নিয়োগের টোকসহ বীমা পলিসিটি জমা করিবে এবং নিয়ন্ত্রক উক্ত স্বত্ব নিয়োগের টোক এবং উহার উপর সদস্যের স্বাক্ষর গ্রহণ করিয়া পলিসিটি নিরাপদ হেফাজতে সংরক্ষণ করিবেন।
(৩) তহবিল হইতে পলিসি বাবদ প্রথম টাকা উঠাইবার তিন মাসের মধ্যে উক্ত পলিসি, উত্তোলিত অর্থের জামানত স্বরূপ, বোর্ডের নামে স্বত্ব নিয়োগ করিতে হইবে এবং উহা নিয়ন্ত্রকের নিকট হস্তান্তর করিতে হইবে।
(৪) পুরাতন পলিসি বাবদ টাকা উত্তোলনের অনুমতি প্রদানের পূর্বে নিয়ন্ত্রককে, বীমা কোম্পানির নিকট বিষয়টি প্রেরণ করিয়া উক্ত পলিসির ব্যাপারে পূর্বে কোন স্বত্ব নিয়োগ করা হইয়াছে কিনা বা পলিসিটি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত কিনা এই সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইতে হইবে।
(৫) নিয়ন্ত্রকের পূর্ব অনুমোদন ব্যতীত পলিসির কোন শর্ত পরিবর্তন বা কোন নূতন পলিসি দ্বারা উহার প্রতিস্থাপন করা যাইবে না এবং পলিসির শর্ত পরিবর্তন বা নূতন পলিসির বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ন্ত্রকের নিকট তৎকতৃর্ক নিধার্রিত উপায়ে দাখিল করিতে হইবে।
(৬) যেক্ষেত্রে পলিসির স্বত্ব নিয়োগ এবং উহা অর্পণ না করা হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত পলিসি বাবদ টাকা উত্তোলন করিয়া থাকিলে, সদস্যকে সঙ্গে সঙ্গে শতকরা পাঁচ ভাগ হারে উক্ত টাকার উপর চার্জসহ সেই টাকা জমা করিতে হইবে, অন্যথায় নিয়ন্ত্রক সদস্যের মজুরি হইতে উক্ত অর্থ তৎকর্তৃক নিধার্রিত কিস্তি অনুযায়ী কর্তন করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৭) এই বিধি মোতাবেক গ্রহণীয় পলিসি সদস্যের নিজের জীবনের উপর কার্যকর হইবে এবং সদস্য কতৃর্ক বোর্ডের নিকট আইনানুগ স্বত্ব নিয়োগ করা যাইবে।
(১) পলিসি স্বক্রিয় থাকা অবস্থায় পলিসির শর্ত মোতাবেক সদস্য কর্তৃক বোনাসের অর্থ উত্তোলন ঐচ্ছিক হইয়া থাকিলে, সদস্য উক্ত বোনাসের অর্থ উত্তোলন করিতে পারিবেন এবং পলিসির শর্ত মোতাবেক বোনাসের অর্থ উত্তোলনে সদস্যকে বাধা প্রদান করা যাইবে না।
(২) বোনাসের অর্থ উত্তোলনের স্বার্থে সদস্যকে উহা তহবিলে জমা প্রদান করিতে হইবে ও উক্ত উত্তোলিত অর্থের বিপরীতে সমন্বয় করিতে হইবে, অথবা সদস্য যদি উহা জমা করিতে ব্যর্থ হন, সেই ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক, তৎকতৃর্ক নিধার্রিত কিস্তিতে সদস্যের মজুরি হইতে উহা কর্তন করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন।
(৩) বোর্ডের নিকট স্বত্ব নিয়োজিত কোন পলিসি যদি পরিপক্ক হয় বা সদস্যের চাকরি ত্যাগের পূর্বে যদি অন্যভাবে অর্থ প্রাপ্য হয়, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড উক্ত চুক্তিকৃত অর্থ প্রাপ্য বোনাসসহ আদায় করিবে এবং সদস্যের নামে তহবিলে জমা খাতে উক্ত অর্থ জমা করিবে।
(১) যেইক্ষেত্রে কোন সদস্য
(ক) বয়স অথবা চাকরির দৈর্ঘ্যের কারণে অবসর গ্রহণ করেন;
(খ) সম্পূর্ণর্ স্থায়ী দৈহিক অক্ষমতা বা মানসিক অসামর্থতার কারণে অবসর গ্রহণ করেন;
(গ) বোর্ড কর্তৃক অথবা বোর্ডের প্রাধিকারপ্রাপ্ত হইয়া নিয়ন্ত্রক কতৃর্ক তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ উত্তোলনের অনুমতি প্রাপ্ত হন;
(ঘ) বোর্ড কতৃর্ক অথবা বোর্ডের প্রাধিকারপ্রাপ্ত হইয়া নিয়ন্ত্রক কতৃর্ক তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ উত্তোলন এবং পুনরায় জমা করিয়া থাকেন, সেই ক্ষেত্রে বোর্ড পলিসিটি সদস্যের নামে পুনঃস্বত্ব নিয়োগের বিষয়ে লিখিত ও স্বাক্ষরিত নোটিসসহ সদস্যের নিকট হস্তাস্তর করিবে।
(২) চাকরি ত্যাগের পূর্বেই যদি কোন সদস্য মৃত্যুবরণ করেন তাহা হইলে বোর্ড সেই ক্ষেত্রে উক্ত সদস্যের মনোনীত ব্যক্তিকে (যদি থাকে) অথবা আইনত উহা পাইতে পারেন এমন ব্যক্তিকে পলিসিটি পুনঃস্বত্ব নিয়োগ করিবে এবং পলিসিটি বীমা কোম্পানিকে পলিসির ব্যাপারে পুনঃস্বত্ব নিয়োগের লিখিত স্বাক্ষরিত নোটিসসহ উক্ত মনোনীত বা অনুরূপ ব্যক্তির নিকট হস্তাস্তর করিবে।
(১) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে একজন সদস্য তহবিলে তাহার নামে জমা সমুদয় অর্থ উত্তোলন করিতে পারিবেন, যথা:
(ক) বাগানের চাকরি হইতে আইন মোতাবেক স্বাভাবিকভাবে অবসর গ্রহণ করিলে;
(খ) যোগ্য চিকিৎসক কতৃর্ক যথাযথ প্রত্যয়ন সাপেক্ষে সম্পূর্ণ দৈহিক অক্ষমতা বা মানসিক অসামর্থতার কারণে কাজ করিতে অক্ষমতার দরুণ অবসর গ্রহণ করিলে:
তবে শর্ত থাকে যে, যে কোন অবসরগ্রহণকারী সদস্য অবসর গ্রহণের তিন মাস পর তাহার জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করিতে পারিবেন।
(২) অবসর গ্রহণ ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে, কোন সদস্য তাহার আবেদনের তারিখে আইন প্রযোজ্য এমন অন্য কোন বাগানে অনধিক তিন মাস লাগাতার চাকরিবিহীন থাকিলে, বোর্ড কতৃর্ক প্রাধিকারপ্রাপ্ত হইয়া থাকিলে নিয়ন্ত্রক উক্ত সদস্যের নামে তহবিলে জমা অর্থ উত্তোলনের অনুমতি প্রদান করিতে পারিবে।
(৩) কোন সদস্যের স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের ক্ষেত্রে:
(ক) তহবিলে তাহার সদস্য পদের মেয়াদ তিন বৎসরের কম হইলে মুনাফাসহ মালিকের অংশের শতকরা ৫০ভাগ তহবিলে বাজেয়াপ্ত হইবে;
(খ) তহবিলে তাহার সদস্য পদ তিন বৎসরের অধিক কিন্তু পাঁচ বৎসরের কম হইলে মালিকের অংশের শতকরা ২৫ ভাগ বাজেয়াপ্ত হইবে;
(গ) পাঁচ বৎসরের অধিক কিন্তু দশ বৎসরের কম হইলে মালিকের অংশ ১৫% বাজেয়াপ্ত হইবে।
(৪) উপ—বিধি (৩) মোতাবেক কোন সদস্য টাকা উত্তোলন করিবার পর তিনি পুনরায় বাগানের কাজে চাকরি গ্রহণ করিলে তাহাকে নূতন সদস্য হিসাবে তহবিলে যোগদান করিতে হইবে।
(৫) তহবিলে বাজেয়াপ্তকৃত কোন অর্থ মালিককে ফেরত প্রদান করা হইবে না, উহা তহবিলের রাজস্ব খাতে জমা হইবে।
(৬) ভবিষ্য তহবিল কার্যালয় হইতে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পরিশোধিত অর্থ বাগান কতৃর্পক্ষ ক্রসড চেকের মাধ্যমে প্রাপককে প্রদান করিবে এবং পরবর্তী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে প্রাপকের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করিবে।
যদি কোন সদস্য এক বাগান হইতে চাকরি ত্যাগ করিয়া বা অন্য কোনভাবে চাকরির অবসানের পরে অন্য কোন বাগানে কাজে যোগদান করিয়া থাকেন এবং তিনি তহবিলে তাহার জমাকৃত অর্থ উত্তোলন না করিয়া থাকেন তাহা হইলে তাহার আবেদনের প্রেক্ষিতে নিয়ন্ত্রক তাহার সদস্যপদ অব্যাহত রাখিতে পারিবেন এবং উক্ত শ্রমিক ধারা ২৬৮(১) মোতাবেক যে তারিখ হইতে নূতন বাগানের শ্রমিক হিসাবে তহবিলের সদস্যপদ লাভের অধিকারী হইবেন সেই তারিখ হইতে উক্ত শ্রমিকের হিসাব নূতন বাগানের রেজিস্ট্রারে স্থানান্তর করিবেন এবং এইরূপ ক্ষেত্রে শ্রমিকের পূর্বের জমার উপরে সুদ জমা অব্যাহত থাকিবে।
তহবিলের অর্থ প্রদেয় হইবার পূর্বেই অথবা প্রদেয় হইবার পর কিন্তু প্রদানের পূর্বেই কোন সদস্যের মৃত্যু হইলে—
(ক) সদস্যের নামে জমা অর্থ মনোনয়ন মোতাবেক মনোনীত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে প্রদেয় হইবে; অথবা
(খ) যদি মনোনয়ন বিদ্যমান না থাকে বা যদি মনোনয়নটি তহবিলে জমার কোন অংশের উপর প্রযোজ্য না হইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে তহবিলে জমা সমুদয় অর্থ মৃত ব্যক্তির পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রদেয় হইবে।
টারমিনেশন, ডিসচার্জ, ছাঁটাই বা বরখাস্ত হইলেও তহবিলে কোন শ্রমিকের নামে জমাকৃত অর্থ হইতে তাহাকে বঞ্চিত করা যাইবে না।
(১) কোন সদস্যের হিসাব বন্ধ করিবার ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের কোন অংশের বিষয়ে বিরোধ বা সন্দেহের সৃষ্টি হইলে, যে অংশের ব্যাপারে কোন বিরোধ বা সন্দেহ নাই সেই অংশ নিয়ন্ত্রক ৩ (তিন) মাসের মধ্যে প্রদান করিবেন এবং অবশিষ্ট অংশ ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে সমন্বয়পূর্বক প্রদান করিবেন।
(২) এই বিধিমালা মোতাবেক অর্থ প্রদেয় হইতেছে এমন ব্যক্তি যদি নাবালক বা উন্মাদ হইয়া থাকেন এবং তাহার সম্পত্তির জন্য এঁধৎফরধহং ধহফ ডধৎফং অপঃ, ১৮৯০ (অপঃ ঘড়. ঠওওও ড়ভ ১৮৯০) মোতাবেক অভিভাবক নিযুক্ত করা হইয়া থাকে অথবা খঁহধপু অপঃ, ১৯১২ (অপঃ ঘড়. ওঠ ড়ভ ১৯১২) মোতাবেক ব্যবস্থাপক নিযুক্ত হইয়া থাকে, সেই ক্ষেত্রে অর্থ উক্ত অভিভাবক বা ব্যবস্থাপককে প্রদান করিতে হইবে।
(৩) যেক্ষেত্রে অনুরূপ অভিভাবক বা ব্যবস্থাপক নিয়োগ করা হয় নাই সেই ক্ষেত্রে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকার অধিক না হইলে নিয়ন্ত্রক, ৩০,০০০ (ত্রিশ হাজার) টাকার অধিক যে কোন পরিমাণ অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে চেয়ারম্যান যাহাকে উক্ত নাবালক বা উন্মাদ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি হিসাবে উপযুক্ত মনে করিবেন তাহাকে প্রদান করিবেন।
(৪) এই বিধি মোতাবেক অর্থ পাইতে আগ্রহী ব্যক্তিকে বাগান ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রকের নিকট নির্ধারিত ফরমে লিখিত নোটিস প্রেরণ করিতে হইবে।
(৫) যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হইবে তাহার ইচ্ছানুযায়ী নিয়ন্ত্রক উক্ত অর্থের ব্যাংক ড্রাফট বা পে—অর্ডার সংশ্লিষ্ট বাগান ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে প্রদান করিবেন।
(১) প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রক প্রত্যেক সদস্যকে তাহার সর্বশেষ নিয়োগকর্তার মাধ্যমে, তহবিলে বৎসরের শুরুতে প্রারম্ভিক স্থিতি, বৎসরে প্রদত্ত চাঁদার পরিমাণ, বৎসরের শেষে জমাকৃত মুনাফা এবং বৎসরের শেষ স্থিতির পরিমাণ উল্লেখ করিয়া একটি লিখিত ও স্বাক্ষরিত বিবরণী সরবরাহ করিবেন।
(২) সদস্যগণ উক্ত বার্ষিক হিসাব সম্পর্কে নিজেরা নিশ্চিত হইবেন এবং কোন ত্রুটি থাকিলে বিবরণ পাইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে উহা সংশোধনের জন্য নিয়ন্ত্রকের নিকট ফেরত পাঠাইবেন।
(৩) নিয়ন্ত্রক বিবরণীটি প্রয়োজনীয় যাচাই করিয়া ত্রুটি থাকিলে উহা সংশোধনপূর্বক পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে পুনরায় একটি বিবরণী সদস্যকে প্রদান করিবেন।
(১) বোর্ড, প্রতি বৎসর ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পূর্ববতীর্ বৎসরে তহবিলের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সরকারের নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবে।
(২) যে সকল বাগানের শ্রমিকগণ তহবিলের সদস্য হইয়াছেন, উক্ত বাগানের মালিককে বিনামূল্যে উক্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি প্রেরণ করিতে হইবে।
সমস্ত আদেশ এবং দলিলাদি বোর্ডের নামে প্রদত্ত এবং সম্পাদিত হইবে এবং নিয়ন্ত্রক বা বোর্ড কতৃর্ক প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কতৃর্ক উহা প্রত্যায়িত হইতে হইবে।
আইন এবং এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বা তহবিলে সদস্য পদের পরিসমাপ্তিতে জমাকৃত অর্থ সদস্যদের পরিশোধ করাসহ তহবিলের পরিচালনার বিষয়ে কোন সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে সরকার সময়ে সময়ে বোর্ডকে নির্দেশনা প্রদান করিবে।
(১) প্রত্যেক সংবাদপত্র প্রতিষ্ঠানে ধারা ২৭৩ মোতাবেক বাধ্যতামূলকভাবে ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে হইবে এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অনুমোদিত চাকরি বিধিমালার অবর্তমানে বিধি ৩০৩ হইতে ৩২৫ দ্বারা উহা পরিচালিত হইবে।
(২) ভবিষ্য তহবিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তি
(ক) সদস্য হইবার যোগ্য শ্রমিকের সদস্যভূক্তির মনোনয়ন নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে প্রেরণ না করেন;
(খ) সদস্যের মজুরি বা অন্য পারিশ্রমিক হইতে মালিকের অংশ কর্তন করিয়া থাকেন বা কর্তন করিবার চেষ্টা করেন;
(গ) এই বিধিমালা মোতাবেক দাখিল করা আবশ্যক বা দাখিল করিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে এমন রিটার্ন, বিবরণী বা অন্য কোন দলিল দাখিল করিতে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;
(ঘ) মিথ্যা রিটার্ন, বর্ণনা বা দলিল দাখিল করিয়া থাকেন বা মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেন;
(ঙ) বোর্ড বা সরকারের কোন কর্মকতার্কে তাহার দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান করেন বা অনুরূপ কোন কর্মকতার্ কতৃর্ক পরিদর্শনের জন্য কোন রেকর্ড হাজির করিতে ব্যর্থ হন;
(চ) এই বিধিমালার অন্য কোন আবশ্যিকতা পালন না করিবার বা ভঙ্গ করিবার দরুন দোষী সাব্যস্ত হন;
তাহা হইলে তিনি ধারা ২৯৮ অনুযায়ী দন্ড প্রাপ্ত হইবেন।
(২) ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলের অর্থ ব্যাংক সুদের হারের চাইতে কম হারে ঋণ প্রদান করিলে বা মালিককে ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিলে বা নিজের লাভে প্রয়োগ করিলে মালিক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য দন্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৫নং আইন) এর ধারা ৪০৯ মোতাবেক দন্ডনীয় হইবেন।
(১) প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ২ (দুই) বৎসর মেয়াদ পূর্ণ হইয়াছে এমন সকল শ্রমিক ও কর্মচারীকে ভবিষ্য তহবিলে সদস্য হইতে হইবে।
(২) কোন শ্রমিক ভবিষ্য তহবিলের সদস্য হইবার বা সদস্যপদ অব্যাহত রাখিবার ব্যাপারে অথবা সদস্য হইবার তারিখ সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপিত হইলে সেই সম্পর্কে বোর্ড সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, উপ—বিধি (১) এ উল্লিখিত ২ (দুই) বৎসর সময়ের মধ্যে
(ক) বেআইনী লক—আউট, আইনসম্মত ধর্মঘট, লে—অফের দিনসমূহ;
(খ) সাপ্তাহিক ছুটি, পীড়া ছুটি, নৈমিত্তিক ছুটি বা অনুমোদিত যে কোন ছুটি বা অবকাশের দরুণ চাকরিতে ছেদ; অথবা
(গ) মহিলা শ্রমিক বা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অনধিক ১৬ (ষোল) সপ্তাহের মাতৃত্ব ছুটি, ইত্যাদি সময়ে উক্ত শ্রমিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) তহবিলের সদস্য হইবার অধিকারী অথবা সদস্য হওয়া প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট শ্রমিককে মনোনীত ব্যক্তির নামসহ যাবতীয় তথ্য সরবরাহের জন্য মালিক নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমিকগণ উক্ত নির্দেশ মোতাবেক তথ্য সরবরাহ করিবেন।
(৪) মালিক উপ—বিধি (৩) এর অধীন প্রাপ্ত তথ্যসমূহ বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৫) প্রত্যেক মালিক এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক শ্রমিক সম্পর্কে ফরম—৬৭ অনুযায়ী একটি রিটার্ন নিয়ন্ত্রকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
ট্রাস্টি বোর্ড প্রত্যেক সদস্যকে উহা কতৃর্ক নিধার্রিত পদ্ধতিতে ফরম—৬৮ অনুযায়ী একটি হিসাব নম্বর মঞ্জুর করিবে এবং সদস্যকে উক্ত হিসাব নম্বর অবহিত করিবে।
ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যগণ চেয়ারম্যান ব্যতীত অন্যান্য ট্রাস্টিদের মধ্য হইতে একজনকে সদস্য—সচিব হিসাবে নিযুক্ত করিবেন।
(১) চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে সচিব ট্রাস্টি বোর্ডের প্রতিটি সভার তারিখ, স্থান ও সময় নিধার্রণ করিবেন এবং উক্ত তারিখের অন্তত ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রত্যেক ট্রাস্টির ঠিকানায় উক্ত সভার নোটিস ‘আলোচ্য সূচিসহ’ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে বা ট্রাস্টিগণের নিকট গ্রহণযোগ্য অন্য পন্থায় প্রেরণ করিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, জরুরি সভার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ট্রাস্টিকে ৩ (তিন) দিন পূর্বে নোটিস প্রদান করা যাইবে।
(২) চেয়ারম্যান বোর্ডের সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।
(৩) কোন সভায় চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকিলে উপস্থিত ট্রাস্টিগণ তাহাদের মধ্য হইতে একজনকে সভায় সভাপতিত্ব করিবার জন্য মনোনীত করিবেন এবং তিনি সভায় চেয়ারম্যানের সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করিবেন।
(৪) মালিক পক্ষের একজন প্রতিনিধিত্বকারী ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধিত্বকারী একজন ট্রাস্টিসহ অনধিক ৩ (তিন) জন ট্রাস্টি উপস্থিত না হইলে বোর্ডের সভার কোরাম হইবে না।
(৫) কোন সভায় নির্ধারিত সময়ের ১ (এক) ঘন্টার মধ্যে কোরাম গঠিত না হইলে, সভা মুলতবি হইয়া যাইবে এবং পরবর্তী ১০ (দশ) দিনের মধ্যে মুলতবি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।
(৬) যদি মুলতবি সভায় পুনরায় কোরাম গঠিত না হয়, সেই ক্ষেত্রে তৃতীয়বারের মত একইভাবে সভাটি মুলতবি হইবে এবং উক্ত পরবতীর্ মুলতবি সভায় যে কোন সংখ্যক ট্রাস্টির উপস্থিতিই কোরাম হিসাবে গণ্য হইবে।
(৭) ভবিষ্য তহবিল সংক্রান্ত সকল বিষয় বোর্ডে উত্থাপিত হইবে এবং সভায় উপস্থিত ট্রাস্টিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সকল বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে।
(৮) কোন বিষয়ে উভয় পক্ষের সমসংখ্যক ভোট প্রদত্ত হইলে চেয়ারম্যান নিণার্য়ক বা কাষ্টিং ভোট প্রদান করিবেন।
(৯) কোন বিষয়ে হাত তুলিয়া ভোট প্রদান করা যাইবে, তবে উপস্থিত ট্রাস্টিদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ব্যালটে ভোট গ্রহণের দাবি জানাইলে ভোট গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত হইবে।
অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে উপস্থিত ট্রাস্টিদের নাম উল্লেখসহ প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণী পরবতীর্ সভার অন্তত ৭ (সাত) দিন পূর্বে প্রত্যেক ট্রাস্টি ও সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে এবং কার্যবিবরণী পরবতীর্ সভায় দৃঢ়ীকরণ করিতে হইবে।
(১) মূল মজুরির ৮% ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা হিসাবে কর্তন করিতে হইবে।
(২) মালিক সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের পূর্বে ভবিষ্য তহবিলের চাঁদার টাকা কর্তন করিয়া সমপরিমাণ নিজের চাঁদাসহ প্রত্যেক মাস শেষ হইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা চেকের মাধ্যমে তহবিলে জমা প্রদান করিবেন।
(৩) মাস শেষ হইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে মালিক একটি সামগ্রিক মাসিক প্রতিবেদন বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং উক্ত সামগ্রিক প্রতিবেদনে প্রত্যেক শ্রমিকের নিকট হইতে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ ও উক্ত শ্রমিকের খাতে মালিকের প্রদত্ত চাঁদার পরিমাণ উল্লেখ করিতে হইবে।
(১) সচিব মালিকের নিকট হইতে প্রাপ্ত ব্যাংক ড্রাফট বা চেক বোর্ড কতৃর্ক নিধার্রিত তফসিলি ব্যাংকে জমা করিবেন।
(২) ট্রাস্টি বোর্ডের ৩ (তিন) জন সদস্যের যৌথ স্বাক্ষরে হিসাব পরিচালিত হইবে।
(৩) উপ—বিধি (২) এ উল্লিখিত সদস্যগণের মধ্যে কমপক্ষে একজন শ্রমিক পক্ষের সদস্য থাকিবে।
প্রত্যেক মাস শেষ হইবার ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে প্রত্যেক মালিক বোর্ডের নিকট একটি রিটার্ন প্রেরণ করিবেন যাহাতে−
(ক) পূর্ববতীর্ মাসে যে সকল শ্রমিক তহবিলের সদস্য হইবার যোগ্যতা অর্জন করিয়াছে তাহাদের পূর্ণ বিবরণ সম্বলিত একটি তালিকা থাকিবে; এবং
(খ) কোন সদস্য পূর্ববতীর্ মাসে মালিকের চাকরি ত্যাগ করিয়া থাকিলে, বোর্ড কতৃর্ক নিধার্রিত ফরমে তাহার বা তাহাদের নামের পৃথক তালিকা থাকিবে।
প্রত্যেক মালিক ভবিষ্য তহবিলে প্রদত্ত তাহার নিজের চাঁদা এবং শ্রমিকদের চাঁদার হিসাব বোর্ড কতৃর্ক সময়ে সময়ে নির্দেশিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবেন।
তহবিলে মালিকের ও শ্রমিকদের চাঁদা হিসাবে প্রাপ্ত মোট টাকা “ভবিষ্য তহবিল হিসাব” নামে ব্যাংক হিসাব খুলিয়া উক্ত হিসাবে জমা রাখিতে হইবে এবং মালিকের ও শ্রমিকদের চাঁদাসহ মুনাফার হিসাব যথোপযুক্ত রেজিস্টারে পৃথক পৃথকভাবে দেখাইতে হইবে।
১) বোর্ড, প্রতি বৎসর ৩০শে মার্চের মধ্যে পূর্ববতীর্ বৎসরের তহবিলের হিসাব বিবরণী মালিকের নিকট ফরম—৮১(্ট) অনুযায়ী প্রতিবেদন আকারে দাখিল করিবে।
(২) বোর্ড কতৃর্ক হিসাব বিবরণীর প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর মালিক উহার একটি কপি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরে প্রেরণ করিবেন।
একটি রাজস্ব হিসাব খুলিতে হইবে যাহাতে সকল মুনাফা ও সিকিউরিটি বিক্রয় বাবদ উপার্জিত অন্যান্য মুনাফা এবং তহবিল বরাবর বাজেয়াপ্ত যে কোন অর্থ পৃথকভাবে জমা হইবে এবং একইভাবে সিকিউরিটি বিক্রি বাবদ, সিকিউরিটি মূল্য হ্রাস বা সিকিউরিটির কমিশন ও মঞ্জুরি বাবদ অর্থ পৃথকভাবে ব্যয় খাতে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(১) তহবিলের অফিসে প্রত্যেক সদস্যের নামে লেজারে একটি একাউন্ট খুলিতে হইবে, যাহাতে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:
(ক) তাহার প্রদত্ত চাঁদা;
(খ) সদস্যের অনুকূলে প্রদত্ত মালিকের চাঁদা; এবং
(গ) বিনিয়োগ হইতে প্রাপ্ত লভ্যাংশ বা মুনাফা।
(২) প্রত্যেক আর্থিক বৎসর শেষ হইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সচিব সদস্যের হিসাবে প্রদর্শিত বিষয়গুলি পরীক্ষা করিবেন এবং কোনরূপ ত্রুটি পরিলক্ষিত হইলে উহা সংশোধন করিবেন।
(৩) প্রত্যেক শ্রমিককে ট্রাস্টি বোর্ডের সচিব কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরাঙ্কিত ও খাতওয়ারী জমার একটি হিসাব বিবরণী সরবরাহ করিতে হইবে।
(১) তহবিলের সকল অর্থ বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে নিম্নবর্ণিত সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করা যাইবে, যথা:
(ক) সরকারের প্রমিসরী নোট, ডিবেঞ্চার অথবা সরকারের অন্য কোন সিকিউরিটি:
তবে শর্ত থাকে যে, উপরি—উক্ত প্রমিসরী নোট, ডিবেঞ্চার বা সিকিউরিটির মূল্য এবং সরকার কতৃর্ক শর্তহীনভাবে প্রদত্ত নিশ্চয়তা বা প্রদত্ত মুনাফা এই অনুচ্ছেদ মোতাবেক সরকারের সিকিউরিটি হিসাবে গণ্য হইবে;
(খ) বন্ড, ডিবেঞ্চার ও সরকার কতৃর্ক চার্জকৃত এ্যাকুইটি:
তবে শর্ত থাকে যে, সিংকিং ফান্ড প্রতিষ্ঠা ব্যতীত অনুরূপ এ্যাকুইটিতে কোন অর্থ জমা করা যাইবে না;
(গ) অন্যান্য কোম্পানির স্টক বা ডিবেঞ্চার যাহার মুনাফার নিশ্চয়তা সরকার প্রদান করেছে;
(ঘ) বাংলাদেশে অবস্থিত স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়:
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত সম্পত্তি ইজারাকৃত হইলে উহা ক্রয় করা যাইবে না।
(২) কোন বিনিয়োগে কোনরূপ অর্থ ব্যয় হইলে বা লোকসান হইয়া থাকিলে উহা রাজস্ব হিসাবে চার্জ হইবে।
(৩) ফরম—৬৯ অনুযায়ী সচিব ফান্ডের সম্পদের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং একটি ব্যালান্স শীট (প্রতি বৎসর ৩০শে জুন পর্যন্ত) প্রস্তুত করিবেন এবং উহার কপি বার্ষিক রিপোর্টের সহিত সংযুক্ত করিয়া সরকারের নিকট পেশ করিবেন।
তহবিলের কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা, যাবতীয় প্রশাসনিক ব্যয়, অডিট একাউন্ট ও আইনগত ব্যয়, ষ্টেশনারী ব্যয়, ফরম প্রস্তুত, আসবাবপত্র ক্রয়, ভাড়া, রেট, কর ও অন্যান্য যুক্তিসঙ্গত ব্যয়, বোর্ডের অনুমোদনক্রমে তহবিলের পরিচালন হিসাব হইতে নির্বাহ হইবে।
(১) তহবিলের হিসাবপত্র ১৯৯৪ সনের কোম্পানি আইনের বিধান মোতাবেক নিরীক্ষা করিতে হইবে।
(২) এই বিধিমালা মোতাবেক নিযুক্ত হিসাব নিরীক্ষকগণ যথাযথভাবে স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরাঙ্কিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ৩ (তিন) কপি বোর্ডে জমা প্রদান করিবেন।
(১) ভবিষ্য তহবিলে জমাকৃত অর্থ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত লভ্যাংশ বা মুনাফা বৎসরের শেষে প্রত্যেক সদস্যের হিসাবে আনুপাতিক হারে জমা করিতে হইবে।
(২) সদস্যদের হিসাবে জমাকৃত মুনাফা ভবিষ্য তহবিলের খরচ হিসাবে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক সদস্যের জমা খাতে প্রথম দিন হইতে আরম্ভ করিয়া শেষ দিন পর্যন্ত মুনাফা জমা করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, সদস্যদের নামে জমাকৃত অর্থ যখন প্রদেয় হয়, তখন চলতি মেয়াদের প্রথম দিন হইতে উক্ত অর্থ যেদিন প্রদানের জন্য গ্রহণ করিতে বলা হইবে সেই দিনের পূর্ববতীর্ মাস পর্যন্ত অথবা ফেরত প্রদেয় অর্থ পরিশোধযোগ্য হইবার মাসের পরবতীর্ ৬ (ছয়) মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি পূর্বে হয়, সুদ জমা হইবে:
আরও শর্ত থাকে যে, পরিশোধের দাবির উপর বা আংশিক মেয়াদের উপর মুনাফা পূর্ববতীর্ বৎসরের মুনাফার হারে প্রদান করা হইবে এবং আংশিক মেয়াদের মাসসমূহের জন্য মাসিক হারে জমা হইবে।
(১) প্রত্যেক সদস্য তাহার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তহবিলে তাহার নামে জমা অর্থ গ্রহণের অধিকার প্রদান করিয়া ফরম—৪১ অনুযায়ী মনোনয়ন প্রদান করিবেন।
(২) সদস্য ইচ্ছা করিলে তাহার মনোনয়নপত্রে তাহার নামে জমা অর্থ মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে তাহার ইচ্ছানুযায়ী হারাহারি অংশে ভাগ করিয়া প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রদানের সময় সদস্যের পরিবার থাকে, সেই ক্ষেত্রে পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যকে মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে এবং উপরি—উক্তভাবে ব্যতীত অন্যভাবে মনোনয়ন প্রদান করা হইলে সেই ক্ষেত্রে অনুরূপ মনোনয়ন বাতিল হইবে।
(৪) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন প্রদানের সময় সদস্যের কোন পরিবার না থাকে, সেই ক্ষেত্রে তিনি যে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে মনোনীত করিতে পারিবেন, তবে উক্ত সদস্যের পরিবার হইবার সঙ্গে সঙ্গে উক্ত মনোনয়ন বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং সদস্য তাহার পরিবারভুক্ত এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নূতন করিয়া মনোনয়ন প্রদান করিবেন।
(৫) মনোনীত কোন ব্যক্তি যদি সদস্যের পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন তবে উক্ত মনোনীত ব্যক্তির স্বার্থ পুনরায় সদস্যের উপর ন্যস্ত হইবে এবং সদস্য ইচ্ছা করিলে উক্ত স্বার্থের ব্যাপারে নূতন করিয়া মনোনয়ন প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) এই বিধির অধীন প্রদত্ত মনোনয়ন কোন সদস্য যে কোন সময় লিখিত নোটিস প্রদান করিয়া পরিবর্তন করিতে পারিবেন।
(৭) কোন মনোনয়ন বা উহার কোন পরিবর্তন সচিব যে তারিখে পাইবেন সেই তারিখ হইতে কার্যকর হইবে ।
তহবিলের অর্থ প্রদেয় হইবার পূর্বে অথবা প্রদেয় হইলে উহা প্রদানের পূর্বেই কোন সদস্য মৃত্যুবরণ করিলে —
(ক) যে ক্ষেত্রে মনোনয়ন থাকে সেই ক্ষেত্রে তাহার নামে জমা অর্থ অথবা ইহার কোন অংশ উক্ত মনোনয়ন মোতাবেক মনোনীত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে প্রদেয় হইবে; অথবা
(খ) যদি মনোনয়ন বিদ্যমান না থাকে বা যদি মনোনয়নটি তহবিলে জমার কোন অংশের উপর প্রযোজ্য না হইয়া থাকে, তবে সম্পূর্ণ জমা বা যে অংশের উপর মনোনয়ন প্রযোজ্য নয় সেই অংশ, মৃত সদস্যের পারিবারিক আইন অনুযায়ী তাহার পরিবারের সদস্যদেরকে প্রদেয় হইবে।
(১) যে ক্ষেত্রে কোন সদস্যের নামে জমাকৃত অর্থ অথবা এই বিধিমালা মোতাবেক কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ প্রদেয় হয়, সেই ক্ষেত্রে সচিব সদস্যের হিসাবটি বন্ধ করিয়া দিবেন এবং যে ব্যক্তিকে অর্থ প্রদেয় হয় তাহার নিকট অর্থের পরিমাণ উল্লেখপূর্বক একটি লিখিত নোটিস প্রেরণ করিবেন।
(২) প্রদেয় অর্থের কোন অংশ সম্পর্কে যদি বিরোধ বা সন্দেহের সৃষ্টি হয়, সেই ক্ষেত্রে যে অংশের ব্যাপারে কোন বিরোধ বা সন্দেহ নাই সেই অংশ অবিলম্বে প্রদান করিবে এবং অবশিষ্ট অংশ যত শীঘ্র সম্ভব সমন্বয় করিতে হইবে।
(৩) বোর্ড তহবিলের জমা অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিধি ২৬৩ অনুসরণ করিবে।
(১) প্রত্যেক বৎসর শেষ হইবার পর যত শীঘ্র সম্ভব, সচিব প্রত্যেক সদস্যকে তহবিলে বৎসরের শুরুতে প্রারম্ভিক স্থিতি, বৎসরে প্রদত্ত চাঁদার পরিমাণ, বৎসরের শেষে জমাকৃত মুনাফা, বৎসরে খরচের পরিমাণ এবং বৎসরের শেষ স্থিতির পরিমাণ উল্লেখপূর্বক একটি বিবরণী সরবরাহ করিবেন।
(২) সদস্য উক্ত বার্ষিক হিসাব সম্পর্কে নিজেরা নিশ্চিত হইবেন এবং কোন ত্রুটি থাকিলে বিবরণ পাইবার ৩ (তিন) মাসের মধ্যে সচিবের গোচরীভূত করিবেন।
সমস্ত আদেশ এবং দলিলাদি বোর্ডের নামে প্রদত্ত ও সম্পাদিত হইবে এবং বোর্ড কতৃর্ক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকতার্ কতৃর্ক উহা স্বাক্ষরিত হইবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তি
(ক) এ অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক প্রদেয় কোন চাঁদা পযার্প্ত কারণ ব্যতীত পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন;
(খ) সদস্যের মজুরি বা অন্য পারিশ্রমিক হইতে মালিকের অংশ কর্তন করিয়া থাকেন বা কর্তন করিবার চেষ্টা করেন;
(গ) বিধি মোতাবেক দাখিল করা আবশ্যক বা দাখিল করিতে নির্দেশ প্রদান করা হইয়াছে এমন রিটার্ন, বিবরণী বা অন্য কোন দলিল দাখিল করিতে ব্যর্থ হন বা অস্বীকার করেন;
(ঘ) মিথ্যা রিটার্ন, বর্ণনা বা দলিল দাখিল করিয়া থাকেন বা মিথ্যা বিবৃতি প্রদান করেন; অথবা
(ঙ) এ অধ্যায়ের বিধান মোতাবেক অন্য কোন আবশ্যিকতা পালন না করিবার বা ভঙ্গ করিবার দরুণ দোষী সাব্যস্ত হন; তাহা হইলে তিনি ধারা ২৯৮ অনুযায়ী দন্ড প্রাপ্ত হইবেন।
(২) ট্রাস্টি বোর্ড তহবিলের অর্থ ব্যাংক সুদের হারের চাইতে কম হারে ঋণ প্রদান করিলে বা মালিককে ব্যবসায়ের কাজে ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করিলে বা নিজের লাভে প্রয়োগ করিলে মালিক এবং ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য দন্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সনের ৫নং আইন) এর ধারা ৪০৯ মোতাবেক দন্ডনীয় হইবেন।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ধারা ৩১৮ মোতাবেক এই অধ্যায়ের জন্য যোগ্য কর্তৃপক্ষ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।
(১) ধারা ২৭৬ মোতাবেক একজন চেয়ারম্যান, একজন সদস্য সচিব এবং সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের প্রত্যেকের পক্ষ হইতে প্রতিনিধিত্বশীল ৪ (চার) জন সদস্যের সমন্বয়ে শিক্ষাধীনতা সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হইবে।
(২) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে উক্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, কমিটির সদস্য—সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৪) উক্ত কমিটিতে সরকার পক্ষের সদস্য হিসাবে শ্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্প বিভাগ হইতে একজন করিয়া প্রতিনিধি সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন।
(৫) মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বা সংগঠনসমূহের সহিত আলোচনাক্রমে কমিটিতে মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন ।
(১) কমিটির সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ হইবে সরকারি গেজেটে তাহাদের নিয়োগ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর।
(২) উক্ত ২ (দুই) বৎসর শেষ হইবার পরেও সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একজন সদস্য তাহার দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন।
(৩) কোন সদস্যের মেয়াদ শেষ হইবার কারণে সদস্যপদের পরিসমাপ্তি ঘটিলে এবং অন্য কোন কারণে অযোগ্য না হইলে তিনি পুনরায় নিয়োগের যোগ্য হইবেন।
(৪) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে কাহারো সদস্যপদ শূন্য হইলে প্রতিনিধিত্বের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করিয়া সরকার উক্ত শূন্যপদ পূরণ করিতে পারিবে।
(৫) একজন সদস্য সরকারের নিকট লিখিত নোটিস প্রেরণ করিয়া পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কতৃর্ক উক্ত পদত্যাগপত্র গৃহীত হইলে তাহার পদ শূন্য হইবে ।
(৬) অসদাচরণ বা অন্য কোন কারণে একজন সদস্যকে কমিটিতে রাখা জনস্বার্থের অনুকূলে নহে বলিয়া বিবেচিত হইলে সরকার তাহাকে অপসারণ করিতে পারিবে।
(৭) সাময়িক শূন্যপদ পূরণের জন্য কোন ব্যক্তিকে সদস্যপদে নিয়োগ করা হইলে তিনি শুধু কমিটির অবশিষ্ট মেয়াদকালের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিতে পারিবেন।
(১) প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর বৎসরে অন্তত ২টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে চেয়ারম্যান যতবার প্রয়োজন মনে করিবেন ততবার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে।
(২) সদস্য—সচিব চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে প্রত্যেক সদস্যের নিকট লিখিত নোটিস প্রদান করিয়া কমিটির সভা আহবান করিবেন।
(৩) সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন, তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সরকারি সদস্য সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।
(৪) চেয়ারম্যানসহ মোট ৭ (সাত) জন সদস্য উপস্থিত থাকিলে সভায় কোরাম হইবে এবং চেয়ারম্যান ব্যতীত অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের কমপক্ষে একজন করিয়া প্রতিনিধি উপস্থিত থাকিতে হইবে।
(৫) সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং পক্ষে ও বিপক্ষে সমসংখ্যক ভোট প্রদান করা হইলে চেয়ারম্যান একটি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:
(ক) আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় কার্যকর করিবার বিষয়ে উপযুক্ত কতৃর্পক্ষকে নির্দেশনা প্রদান;
(খ) প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং সাধারণভাবে বা বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষাধীন ব্যক্তির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে যোগ্য কতৃর্পক্ষকে সুপারিশ করা;
(গ) ভর্তির সময় শিক্ষাধীন ব্যক্তির সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা, পাঠ্যবিষয়, পাঠ্যক্রমের মেয়াদ, পরীক্ষা, শ্রেণিবিন্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে শিক্ষাধীনতার মান সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ প্রদান।
(২) কমিটি প্রয়োজন মনে করিলে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কমিটিকে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক সাব—কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং কমিটি বা সাব—কমিটিতে দায়িত্ব পালন করিবার জন্য কারিগরি বিশেষজ্ঞ মনোনীত করিতে পারিবে।
(১) যে সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম থাকিবে সেইসব প্রতিষ্ঠানের মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেন।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক এইরূপ নীতিমালা প্রণয়ন করিলে উহা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।
(৩) উক্ত নীতিমালা আইন ও এই বিধিমালার অপেক্ষা কম অনুকূল হইতে পারিবে না।
(১) প্রত্যেক মালিক, যাহার উপর আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় প্রযোজ্য, কোন বিশেষ পেশাকে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা হিসাবে ঘোষণা করিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট তাহার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশাসমূহের একটি তালিকা, অনুরূপ পেশায় বিভিন্ন শ্রেণিতে নিয়োজিত ব্যক্তির সংখ্যা এবং ধারা ২৭৭ মোতাবেক তৎকতৃর্ক নিয়োজিত শিক্ষাধীন ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখ রিয়া একটি তালিকা দাখিল করিবেন।
(২) শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় পরবতীর্তে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হইলে অনুরূপ নিয়োগের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।
(৩) প্রত্যেক মালিক বিধি মোতাবেক সরকারের নির্দেশপত্র অনুযায়ী তাহার প্রতিষ্ঠানে একটি শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম অনুমোদনের জন্য এবং যেখানে ইতিমধ্যেই অনুরূপ শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম চলমান রহিয়াছে, নির্দেশপত্র মোতাবেক সেইটি পুনরীক্ষণ করিবেন এবং উপরি—উক্ত নির্দেশপত্র কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ১ (এক) মাস সময়ের মধ্যে যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য দাখিল করিবেন।
(১) যোগ্য কতৃর্পক্ষ, কমিটির পরামর্শ ও নির্দেশনার আলোকে, বিভিন্ন সময়ে নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে নির্দেশ জারি করিতে পারিবে, যথা:
(ক) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার জন্য ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় বিষয়বস্তু এবং পাঠ্যসূচি;
(খ) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার শিক্ষাধীনতার মেয়াদ এবং উহা আরম্ভের সময়;
(গ) প্রশিক্ষণের পরবতীর্ উচ্চতর শ্রেণি বা ধাপে উত্তীর্ণ অথবা শিক্ষাধীনতার অসন্তোষজনক অগ্রগতির জন্য একই পদে রাখিবার পদ্ধতি ও শর্তাদি নির্ধারণ;
(ঘ) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন;
(ঙ) শিক্ষাধীন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত প্রশিক্ষকদের নূূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা;
(চ) প্রশিক্ষণের মান যাচাই ও পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রত্যয়নপত্র প্রদান;
(ছ) প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখিবার শর্ত;
(জ) প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর চাকরিতে নিয়োগের শর্তাদি; এবং
(ঝ) শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় অন্য কোন বিষয়।
(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন নির্দেশ জারির সময় সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্প বা ব্যবসায়ে নিয়োজিত উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট হইতে সুপারিশ আহবান করিতে পারিবে।
(১) কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থী বাছাইকল্পে মালিক নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন, যথা:
(ক) বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার এবং নিকটতম চাকরির সন্ধান কেন্দ্রে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রদান;
(খ) যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ; এবং
(গ) লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ।
(২) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলা ও প্রতিবন্ধিদের অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে।
(৩) শিক্ষাধীন হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য বয়স সর্বনিম্ন ১৭ (সতের) বৎসর ও অনধিক ৩০ (ত্রিশ) বৎসর হইতে হইবে, তবে পূর্বে চাকরি করিয়াছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যোগ্য কতৃর্পক্ষ ইচ্ছানুসারে উক্ত বয়সসীমা শিথিল করিতে পারিবে।
(৪) তালিকাভুক্তির সময় শিক্ষাধীন ব্যক্তির শারীরিক উপযুক্ততা প্রমাণের জন্য মালিক নিজ খরচে ফরম—১৫ অনুযায়ী রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসক কতৃর্ক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন এবং ফরম ১৫(ক) অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের তথ্য সংরক্ষণ করিবেন।
(৫) শিক্ষাধীন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ উপযুক্ত কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে এবং তিনি ইচ্ছা করিলে সাক্ষাৎকারে এবং চূড়ান্ত নির্বাচনে উপস্থিত থাকিবার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।
(৬) ধারা ৫ অনুযায়ী চুক্তিপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান না করিয়া শিক্ষাধীন হিসাবে ভতি করা যাইবে না।
(১) শিক্ষাধীনতা পেশায় ভর্তির প্রারম্ভে মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তি ফরম—৭০ অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করিবেন।
(২) উপ—বিধি (১) এ উল্লিখিত চুক্তি শিক্ষাধীনতা চুক্তি নামে অভিহিত হইবে এবং উভয় পক্ষই চুক্তির শর্তাবলি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।
(৩) শিক্ষাধীন ব্যক্তির বয়স ১৮ (আঠার) বৎসরের কম হইলে তাহার মাতা বা পিতা বা আইনগত অভিভাবকও উহাতে স্বাক্ষর করিবেন।
(৪) চুক্তিপত্র ৩ (তিন) কপি হইবে, মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তি এক কপি করিয়া তাহাদের নিকট রাখিবে এবং অন্য একটি কপি রেকর্ডভুক্ত করিবার জন্য যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।
(১) শিক্ষাধীনতা চুক্তিতে শিক্ষাধীনতার মেয়াদ উল্লেখ থাকিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা মোতাবেক ঘোষিত সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন পেশার শিক্ষাধীনতার মেয়াদ ভিন্ন ধরনের হইতে পারিবে।
(২) কোন শিক্ষাধীন ব্যক্তি ভর্তির পূর্বে কোন সরকারি বা স্বীকৃত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কিছুকালের জন্য পদ্ধতিগত বৃত্তিমূলক বা কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়া থাকিলে তাহার ক্ষেত্রে শিক্ষাধীনতার সময়সীমা আংশিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, তবে কোন ক্ষেত্রেই উক্ত অব্যাহতি মোট সময়সীমার অর্ধেকের অধিক হইবে না।
(৩) শিক্ষাধীনতাকালে প্রথম ৩ (তিন) মাসের মধ্যে যোগ্যতম মনে না হইলে মালিক ইচ্ছা করিলে ১ (এক) সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া এবং শিক্ষাধীন ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে মালিককে এক সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া (যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করণসহ) শিক্ষাধীনতার সমাপ্তি ঘটাইতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে নির্ধারিত মেয়াদের পূর্বে শিক্ষাধীনতার সমাপ্তি ঘটিলে মালিক তাহাকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন।
(১) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করিবেন, উক্ত বোর্ডে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষ ব্যক্তি অন্তভুর্ক্ত থাকিতে হইবে এবং উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে।
(২) বোর্ড বিভিন্ন পেশা বিষয়ক শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য সাময়িক, বার্ষিক এবং চূড়ান্ত মুল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করিবে।
(৩) পরীক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে বোর্ড সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কার্যক্রম অনুসরণ করিবে।
(৪) পরীক্ষার ফলাফল ফরম—৭১ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং যে সকল শিক্ষাধীন ব্যক্তি চূড়ান্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হইবে তাহাদিগকে ফরম—৭২ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে।
(৫) প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং সেইসব পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীদের নম্বর প্রদানের জন্য বোর্ড দায়ী থাকিবে।
(৬) শিক্ষাধীনতার চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে এবং কতৃর্পক্ষ প্রয়োজন মনে করিলে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ঘোষণা ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানের কাজে অংশগ্রহণের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে।
(১) শিক্ষাধীনতার সময়কালে মালিক নিম্নবর্ণিতভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক শিক্ষাধীনতা ভাতা প্রদান করিবেন, যথা:
(ক) শিক্ষাধীনতার প্রথম বৎসর: সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ;
(খ) শিক্ষাধীনতার দ্বিতীয় বৎসর: সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৬০ (ষাট) ভাগ; এবং
(গ) শিক্ষাধীনতার তৃতীয় বৎসর: সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৭৫ (পঁচাত্তর) ভাগ।
(২) শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের সময়সীমা ৩ (তিন) বৎসরের অধিক হইলে তৃতীয় বৎসরের পর শিক্ষাধীনতার ভাতার হার সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির সমান হইবে।
(৩) একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে ফূরনভিত্তিক কাজের হিসাবে ভাতা প্রদান করা যাইবে না।
(৪) এই বিধির অন্যান্য উপ—বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একজন মালিক যে কোন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে তাহার প্রশিক্ষণের কোন উত্তম অগ্রগতির জন্য স্বেচ্ছায় তাহাকে উচ্চতর হারে ভাতার বা অন্যান্য উৎসাহপ্রদ পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) প্রশিক্ষণের পরবতীর্ উচ্চতর শ্রেণি বা ধাপে উন্নীত না হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে শ্রেণি বা ধাপে রহিয়াছেন সেই শ্রেণি বা ধাপের জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা প্রাপ্য হইবেন।
(৬) শিক্ষাধীনতা কাল সমাপ্তির পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ইচ্ছা করিলে সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে দক্ষ শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবেন।
(১) শিক্ষাধীন ব্যক্তির কাজের ঘন্টা, ছুটি (বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি ব্যতীত) ও বন্ধ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিযুক্ত অন্যান্য শ্রমিকের অনুরূপ হইবে এবং আইন ও এই বিধিমালা মোতাবেক উহা নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) কোন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচিতে শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত সময় কাজের ব্যবস্থা থাকিবে না।
প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, কারখানার পোশাক, যন্ত্রপাতি, বই—পুস্তক, ড্রইং সরঞ্জাম, কাঁচামাল প্রভৃতি বিনামূল্যে সরবরাহ করিতে হইবে এবং এইসব দ্রব্যাদি মালিকের সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(১) মালিক শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের যথাযথ এবং কার্যকর তদারকি, নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করিবেন এবং উক্ত উদ্দেশ্যে শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের সংখ্যার উপর নির্ভর করিয়া সার্বক্ষণিক বা খন্ডকালীন ভিত্তিতে এক বা একাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করিবেন।
(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন নিয়োগকৃত ব্যক্তিগণের উপর সুচারুভাবে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে এবং অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ মালিকের নিকট সরাসরি দায়ী থাকিবেন।
(৩) ৫০ (পঞ্চাশ) বা ততোধিক শিক্ষাধীন ব্যক্তি রহিয়াছেন এমন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মচারীসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণ বিভাগ থাকিবে।
(৪) ২০ (বিশ) জন বা উহার কম শিক্ষাধীন ব্যক্তি নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষক, যিনি শপ ফোরম্যান বা সুপারভাইজার হইবেন এবং উহার সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে তাহার স্বাভাবিক দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে।
(১) যোগ্য কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক জারিকৃত নির্দেশনা মোতাবেক কোন মালিক এককভাবে অথবা ২ (দুই) বা ততোধিক মালিক যৌথভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের জন্য তাত্ত্বিক শিক্ষার ব্যবস্থা করিবেন।
(২) কোন শিক্ষার্থী যে সময়ে তাত্ত্বিক শিক্ষায় যোগদান করিবেন উক্ত সময়ে তাহার বৃত্তি হইতে কোন কর্তন করা যাইবে না।
(৩) যে ক্ষেত্রে বিভিন্ন মালিক যৌথভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন, সেই ক্ষেত্রে তাহারা তাহাদের নির্ধারিত এবং যোগ্য কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক অনুমোদিত পরিকল্পনা মোতাবেক আনুপাতিক হারে ব্যয় বহন করিবেন।
(১) একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণের সুবিধার জন্য এক মালিকের প্রতিষ্ঠান হইতে অন্য মালিকের শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় বদলি করা যাইবে।
(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন বদলির ক্ষেত্রে গ্রহণকারী মালিকের এবং শিক্ষাধীন ব্যক্তির সম্মতি থাকিতে হইবে।
কোন শিক্ষাধীনতার প্রশিক্ষণ যোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বেই শেষ করা যাইবে, যদি কোন যুক্তিসংগত কারণে শিক্ষাধীনতা সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও চুক্তির শতার্দি মানিয়া চলিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ অপরাগ হন।
ক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের স্বার্থে কার্যক্রম পরিবর্তন প্রয়োজন হইলে কেবল যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিয়াশি একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তির মূল কার্যক্রম পরিবর্তন করা যাইবে।
(১) প্রত্যেক মালিক প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তি সম্পর্কে ফরম—৭৩ অনুযায়ী একটি শিক্ষাধীনতা রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন এবং শিক্ষাধীনতা বৎসর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উহার দুইটি কপি যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(২) যোগ্য কতৃর্পক্ষ প্রত্যয়নপূর্বক উক্ত ফরমের একটি কপি মালিকের নিকট ফেরত প্রদান করিবে এবং অন্যকপি রেকর্ড হিসাবে তাহার কার্যালয়ে সংরক্ষণ করিবে।
(৩) শিক্ষাধীনতার কোন বিষয়ে পরিবর্তন হইলে উহা মালিক যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবিলম্বে তাহার অফিসে রক্ষিত এতদসংক্রান্ত রেকর্ড সংশোধনের জন্য অবহিত করিবেন।
(৪) প্রত্যেক মালিক প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য ফরম—৭৪ অনুযায়ী একটি করিয়া পারদর্শিতার প্রতিবেদন সংরক্ষণ করিবেন এবং যোগ্য কতৃর্পক্ষ বা তাহার দ্বারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিদর্শনের জন্য উহা সংরক্ষণ করিবেন।
প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তির মধ্যে কোন সময় কোন বিরোধ উত্থাপিত হইলে উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট পেশ করিতে হইবে এবং সেই বিষয়ে যোগ্য কতৃর্পক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।
(১) ধারা ৩১৭ এর অধীন শ্রম পরিচালক অথবা তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা আইন বা এই বিধিমালায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতা পালনের অতিরিক্ত এই বিধিমালার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নি¤ড়ববর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) কোন ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ফেডারেশনের অফিস অথবা নিবন্ধিকৃত ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের অফিস বলিয়া বিশ্বাস করিবার কারণ রহিয়াছে এমন ঘর-বাড়িতে প্রবেশ করা এবং অফিস অথবা ঘর-বাড়ি এবং কোন খাতা অথবা দলিল দস্তাবেজ, রেকর্ডপত্র পরিদর্শন করা এবং আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনে যে কোন স্পষ্টীকরণ দাবি করা এবং যে কোন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা;
(খ) যে কোন ট্রেড ইউনিয়নের অথবা ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশনের বা কনফেডারেশনের যে কোন নথি, রেকর্ডপত্র, খাতা-পত্র, দলিল দস্তাবেজ যথারীতি রসিদ প্রদান করিয়া অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের জন্য নিজ হেফাজতে সংরক্ষণ করা;
(গ) কোন ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের বা কনফেডারেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাগণ সঙ্গত কারণ ব্যতীত সংশ্লিষ্ট ট্রেড ইউনিয়ন অথবা ফেডারেশনের বা কনফেডারেশনের অফিসের নথিপত্র, কাগজপত্র, দলিলপত্র, হিসাব বহি এবং তহবিলাদি, ইত্যাদি নবাগত নির্বাহী পরিষদের নিকট হস্তান্তর করিতে ব্যর্থ হইলে অথবা হস্তান্তরে অস্বীকার করিলে নবনির্বাচিত নির্বাহী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অথবা সভাপতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদায়ী নির্বাহী পরিষদের হিসাব বহি, কাগজপত্র, দলিলাদি এবং তহবিল নবাগতদের নিকট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান :
তবে শর্ত থাকে যে, কোন ব্যক্তি উক্ত নির্দেশের কারণে সংক্ষুব্ধ হইলে নির্দেশ প্রদানের ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে শ্রম আদালতে আপিল করিতে পারিবে;
(ঘ) আইনের ত্রয়োদশ অধ্যায় প্রয়োগের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ক্ষমতা প্রয়োগ বা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনে কোন শিল্প-প্রতিষ্ঠান, স্থান, ভবন বা আঙ্গিনায় প্রবেশ, পরিদর্শন, অনুসন্ধান বা সংশ্লিষ্ট কাজ করিবার জন্য সকল পন্থা বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা;
(ঙ) আইনের ত্রয়োদশ অধ্যায়ের প্রয়োগের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে শ্রমিক সংগঠন ও মালিক সংগঠনের প্রাসঙ্গিক কোন রেকর্ড, রেজিস্টার বা অন্য কোন দলিল দস্তাবেজ পরীক্ষার জন্য তলব করা এবং তৎসম্পর্কে অন্য কোন অতিরিক্ত তথ্য প্রয়োজন হইলে শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নিকট হইতে উহাও যাচনা করা;
(চ) আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, শ্রমিক অধিকার সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলাদি বা কনভেনশন বা ঘোষণা, শ্রমখাত, শ্রমিক সংখ্যা, ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিকরণ, ইউনিয়নের সদস্য সংখ্যা, বিরোধ-দাবিনামা নিষ্পত্তিকরণ, মামলা দায়ের ও ট্রেড ইউনিয়ন সংμান্ত দলিলাদি বা তথ্যাদির বিবরণ প্রস্তুতকরণ এবং যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে প্রচার, প্রকাশ ও সরবরাহ করা;
(ছ) আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, শ্রমিক অধিকার সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলাদি বা কনভেনশন বা ঘোষণা, শ্রমখাত, শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন, ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কোর্স ও কর্মশালার আয়োজন করা;
(জ) শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সংμান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিনড়ব দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
(২) শ্রম পরিচালক ও তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন কর্মকর্তা আইন বা এই বিধিমালায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশলের গোপনীয়তা সংরক্ষণ করিবেন।
(১) ধারা ৩১৯ এর অধীন মহাপরিদর্শক অথবা তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্য কোন পরিদর্শক আইন বা এই বিধিমালায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ক্ষমতা পালনের অতিরিক্ত নি¤ড়ববর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) আইন ও এই বিধিমালা দ্বারা নিশ্চিত করা কোন অধিকার লংঘনের ব্যাপারে কোন পক্ষ হইতে অভিযোগ প্রাপ্ত হইলে উহা প্রাপ্তির ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে অনুসন্ধান ও তদন্ত করা এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করা এবং উক্ত পক্ষ নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হইলে শ্রম আদালতে ফরম-১৪ অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা;
(খ) আইনের অধীন নির্ধারিত নি¤ড়বতম মজুরি হার যে মালিক বা শ্রমিকের প্রতি প্রযোজ্য তিনি যেখানে ব্যবসা করিয়া থাকে এমন কোন প্রাঙ্গণে প্রবেশ করিতে এবং পরীক্ষার জন্যে কোন রেজিস্টার, মজুরি রেজিস্টার, শ্রমিকদেরকে প্রদত্ত মজুরির রেকর্ড ও অন্যান্য রেকর্ড বা দলিল যাহা মজুরি প্রদান বা হিসাবের সহিত সংশ্লিষ্ট উহা তলব করা এবং ঘটনাস্থলে বা অন্যত্র কোন ব্যক্তির সাক্ষ্যগ্রহণ এবং আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করা;
(গ) শ্রমিকের যে কোন প্রকার পাওনা এবং মজুরি আদায়ের জন্য ক্ষেত্রমত ফরম-৪৪(খ) ও ৪৮(খ) অনুযায়ী শ্রম অদালতে অভিযোগ দায়ের বা প্রতিবেদন পেশ করা;
(ঘ) আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, শ্রমিক অধিকার সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলাদি বা কনভেনশন বা ঘোষণা, শ্রমখাত, শ্রমিক, পরিদর্শন, শিল্প-প্রতিষ্ঠান রেজিষ্ট্রিকরণ ও শ্রমিক সংখ্যা, অসন্তোষ নিষ্পত্তিকরণ, মামলা দায়ের, শিল্পপ্রতিষ্ঠান হইতে প্রাপ্ত বার্ষিক রিটার্ন, ইত্যাদি সংμান্ত দলিলাদি বা তথ্যাদির বিবরণ প্রস্তুতকরণ এবং যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনসাপেক্ষে প্রচার-প্রকাশ ও সরবরাহ করা;
(ঙ) আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, শ্রমিক অধিকার সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দলিলাদি বা কনভেনশন বা ঘোষণা, শ্রমখাত, শ্রমিক অধিকার, ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ কোর্স ও কর্মশালার আয়োজন করা;
(চ) শ্রমিক ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার সংμান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিনড়ব দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
(২) পরিদর্শক আইন বা এই বিধিমালায় উল্লিখিত নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনকালে কোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কৌশলের গোপনীয়তা রক্ষা করিবেন।
(৩) পরিদর্শক পরিদর্শনকালে কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মহিলা ও প্রতিবন্ধি শ্রমিকের সুযোগ সুবিধাসহ সার্বিক কর্মপরিবেশ বিষয়ে অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করিবেন।
(১) কোন মালিককে তাহার প্রতিষ্ঠানে কাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করিবার ক্ষেত্রে ধারা ৩২৫ এর অধীন ফরম-৭৫ অনুযায়ী নোটিশের দুই কপি মহাপরিদর্শক অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করিতে হইবে।
(২) মহাপরিদর্শক অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শক যাচাইপূর্বক স্বাক্ষর করিয়া উহার এক কপি মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) কোন সময়ে উক্ত পেশকৃত তথ্যের পরিবর্তন হইলে উহা একই প্রμিয়ায় তৎক্ষণাৎ মহাপরিদর্শক বা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।
(৪) মহাপরিদর্শক অথবা উপ-মহাপরিদর্শক প্রয়োজন মনে করিলে উক্ত ফরমে উল্লিখিত তথ্যসমূহ ব্যতীত অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক বা দখলদারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) এই বিধির বিধান মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যেখানে মজুরির বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না সেই ধরনের কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে ।
(১) কোন মালিককে তাহার প্রতিষ্ঠানে কাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করিবার ক্ষেত্রে ধারা ৩২৫ এর অধীন ফরম-৭৫ অনুযায়ী নোটিশের দুই কপি মহাপরিদর্শক অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শকের নিকট পেশ করিতে হইবে।
(২) মহাপরিদর্শক অথবা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শক যাচাইপূর্বক স্বাক্ষর করিয়া উহার এক কপি মালিকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) কোন সময়ে উক্ত পেশকৃত তথ্যের পরিবর্তন হইলে উহা একই প্রμিয়ায় তৎক্ষণাৎ মহাপরিদর্শক বা সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শককে অবহিত করিতে হইবে।
(৪) মহাপরিদর্শক অথবা উপ-মহাপরিদর্শক প্রয়োজন মনে করিলে উক্ত ফরমে উল্লিখিত তথ্যসমূহ ব্যতীত অতিরিক্ত তথ্য প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক বা দখলদারকে নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৫) এই বিধির বিধান মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যেখানে মজুরির বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না সেই ধরনের কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে ।
প্রত্যেক মালিক বা দখলদারকে কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থা রেজিস্ট্রেশন এবং লাইসেন্স মঞ্জুরির জন্য নি¤ড়ববর্ণিত সময়সূচি নুসরণ করিয়া মহাপরিদর্শকের নিকট ফরম-৭৭ অনুযায়ী (দুই প্রস্থ) দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, যথা:-
(ক) বিদ্যমান অথবা উৎপাদন প্রμিয়ারত যে সকল কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থার উপর আইন প্রযোজ্য সেই সকল কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থার ক্ষেত্রে এই বিধিমালা কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে; এবং
(খ) এই বিধিমালা কার্যকর হইবার পরে প্রতিষ্ঠিত অথবা উৎপাদন চলমান এমন কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থার ক্ষেত্রে কাজ শুরু করিবার কমপক্ষে ৩০ (ত্রিশ) দিন পূর্বে।
(১) মহাপরিদর্শক, তফসিল-৭ এ বর্ণিত নির্দিষ্ট হারে ফি প্রাপ্তি সাপেক্ষে ফরম-৭৮ অনুযায়ী লাইসেন্স মঞ্জুর করিবেন এবং তিনি ফরম-৭৯ অনুযায়ী রেজিস্টারে উল্লিখিত লাইসেন্স মঞ্জুির এবং নবায়ন ও সংশোধন সংμান্ত তথ্যাদি সংরক্ষণ করিবেন।
(২) প্রতিটি লাইসেন্সের মেয়াদ যে অর্থবৎসরে মঞ্জুর করা হইবে সেই অর্থবৎসরের ৩০শে জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকিবে।
(৩) লাইসেন্স নবায়নের জন্য নির্ধারিত নবায়ন ফি প্রদানপূর্বক মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে ফরম-৭৭ অনুযায়ী মহাপরিদর্শকের নিকট আবেদন করিতে হইবে ।
(৪) মেয়াদোত্তীর্ণ হইবার পরবর্তী এক বৎসরের মধ্যে বিধি অনুযায়ী বিল¤¦ ফি প্রদান করিয়া নবায়ন করা না হইলে লাইসে›স স্বয়ংμিয়ভাবে বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে এবং কর্তৃপক্ষ সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করিবার জন্য অভিযোগ ও মামলা দায়ের করিতে পারিবে।
(৫) লাইসেন্স অথবা উহার কপি কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থার কোন প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(৬) উপ-বিধি (৩) মোতাবেক লাইসেন্স নবায়নের ফি জমা করিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করা না হইলে, পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে উহা পরিশোধ করিয়া আবেদন করা হইলে লাইসেন্স নবায়নের জন্য ধার্য ফি’র শতকরা পঁচিশ টাকা (২৫%) হারে অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করিতে হইবে।
(৭) তিন মাস অতিμান্ত হইলে নবায়ন ফি’র সহিত উক্ত অর্থ শতকরা পঞ্চাশ টাকা (৫০%) হারে অতিরিক্ত পরিশোধ করিতে হইবে ।
(৮) ছয় মাসের মধ্যে আবেদন করা না হইলে নবায়ন ফি’র সমপরিমাণ অতিরিক্ত ফি পরিশোধ করিতে হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নবায়ন ফি’র অংশবিশেষ পরিশোধ করা হইয়া থাকিলে কেবল অনাদায়ী অংশের উপর অতিরিক্ত ফি প্রদেয় হইবে।
(১) মহাপরিদর্শক আবেদন প্রাপ্ত হইলে প্রদত্ত লাইসেন্স সংশোধন করিতে পারিবেন।
(২) কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান, দোকান ও ঠিকাদার সংস্থায় শ্রমিক সংখ্যা হ্রাস বা বৃদ্ধি পাইবার ফলে শ্রেণি পরিবর্তন বা নাম পরিবর্তন বা ঠিকানা পরিবর্তন বা মালিকানা পরিবর্তনের ফলে কোন লাইসেন্স সংশোধনের প্রয়োজন হইলে তাহাকে সংশোধনের প্রকৃতি বর্ণনা করিয়া মহাপরিদর্শকের নিকট মূল লাইসেন্স জমা দানসহ ফরম-৭৭ অনুযায়ী অবেদনপত্র দাখিল করিতে হইবে।
(৩) লাইসেন্স সংশোধনীর জন্য দোকান ব্যতীত সকল ক্ষেত্রে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা এবং দোকানের ক্ষেত্রে ২০০/- (দুইশত) টাকা ফি প্রদান করিতে হইবে এবং উহার অতিরিক্ত উক্ত কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের লাইসে›েসর শ্রেণি বৃদ্ধির জন্য শ্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী তফসিল-৭ এ বর্ণিত ফিও (প্রম লাইসেন্স নেওয়ার সময় প্রদত্ত ফি বাদে) পরিশোধ করিতে হইবে।
(৪) মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বের মালিকের অধীন কর্মরত শ্রমিকদের পাওনা ও সুবিধাদি পরিশোধের তথ্যাবলি আবেদনের সহিত যুক্ত করিতে হইবে।
(১) এই বিধিমালা মোতাবেক প্রদত্ত লাইসেন্স যদি হারাইয়া যায় অথবা দুর্ঘটনাবশত নষ্ট হয় তাহা হইলে মহাপরিদর্শকের নিকট ফরম-৭৭ অনুযায়ী আবেদনপত্র দাখিল করিতে হইবে।
(২) আবেদনের জন্য দোকান ব্যতীত সকল ক্ষেত্রে ১,০০০ (এক হাজার) টাকা এবং দোকানের ক্ষেত্রে ৫০০ (পাঁচশত) টাকা ফি প্রদান সাপেক্ষে উহার একটি প্রতিলিপি প্রদান করা হইবে।
(৩) উপ-বিধি (১) এর অধীন আবেদন করিবার ক্ষেত্রে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদান অথবা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করিতে হইবে এবং উহার সত্যায়িত কপি দরখাস্তের সহিত সংযুক্ত করিতে হইবে।
(১) এই বিধিমালা মোতাবেক কোন মালিক তাহার কোন প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ করিলে বা ব্যবসা পরিচালনায় অপারগ হইলে বন্ধ হইবার কারণ সম্বলিত আবেদনপত্রের সহিত লাইসে›েসর মূল কপি পরিদর্শকের নিকট জমা করিতে হইবে এবং পরিদর্শক আবেদন যাচাইপূর্বক লাইসেন্স বাতিল করিতে পারিবে।
(২) পরিদর্শকের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে, কোন প্রতিষ্ঠান বা উহার অংশবিশেষ বা উহাতে বা উহার সহিত সংশ্লিষ্ট বা উহা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত বিষয় বা রীতি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক অথবা এমন ত্রুটিপূর্ণ যে উহা মানুষের শারীরিক ক্ষতি করিতে পারে, তাহা হইলে পরিদর্শক কর্মস্থল নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করিয়া উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) বাতিল বা স্থগিতকৃত লাইসেন্স পুনর্বহাল করিতে চাহিলে যে আর্থিক বৎসরে বাতিল বা স্থগিত করা হইয়াছিল সেই বৎসর হইতে প্রতি আর্থিক বৎসরের জন্য দ্বিগুন হারে নবায়ন ফি প্রদান করিতে হইবে।
মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক কারখানা বা শিল্প প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ইত্যাদির নকশা অনুমোদন, লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, শ্রেণি পরিবর্তন ও সম্প্রসারণের অনুমতি প্রদান, ইত্যাদি কার্যμমের সকল ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করিয়া অনলাইনে উহা সম্পনড়ব করিতে পারিবেন, তবে সকল পক্ষকে কাগজ ও প্রমাণাদি সংরক্ষণ করিতে হইবে।
এই বিধিমালা মোতাবেক সকল দরখাস্তের সহিত ‘‘১-৩১৪৩-০০০০-১৮৫৪” খাতে জমা দেওয়া ফি সংμান্ত ট্রেজারি চালানের মূল কপি সংযুক্ত থাকিতে হইবে।
(১) ধারা ৩২৭ মোতাবেক সকল আপিল-
(ক) স¥ারকলিপি আকারে দাখিল করিতে হইবে;
(খ) যে আদেশের বিরুদ্ধে উহা করা হইতেছে উহার স্মারকে বর্ণনা করিতে হইবে;
(গ) উহাতে প্রয়োজনীয় কোর্ট ফি সংযোজন করিতে হইবে; এবং
(ঘ) যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইতেছে তাহার একটি নকল স¥ারকলিপির সহিত থাকিতে হইবে।
(২) আপিল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া আপিল আবেদন প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে।
(৩) আপিল কর্তৃপক্ষ আপিল শুনানির জন্য তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করিয়া আপিলকারী এবং মহাপরিদর্শককে অথবা ক্ষেত্রবিশেষে, পরিদর্শককে নোটিস প্রেরণ করিতে পারিবে।
(৪) আপিলকারী যদি তাহার আরজিতে অ্যাসেসর নিয়োগের অনুরোধ করিয়া থাকেন তাহা হইলে তিনি যে রেজিস্টার্ড সমিতির সদস্য উহার নামও আপিলে উল্লেখ করিবেন।
(৫) আপিলকারী কর্তৃক এসেসর নিয়োগের অনুরোধ থাকিলে অথবা আপিল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করিলে উপ-বিধি (১) এর অধীন পেশকৃত আপিল আবেদন দুইজন এসেসরের সহায়তায় শুনানি করিবে এবং উক্ত এসেসরদ্বয়ের একজনকে আপিল কর্তৃপক্ষ নিয়োগ করিবে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের নির্ধারিত কোন প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থার নিকট অন্য একজন এসেসর নিয়োগের জন্য অনুরোধ করিবে এবং উক্ত প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন এসেসর নিয়োগ না করিলে বা তাহাদের নিয়োজিত ও মনোনীত এসেসর আপিলের শুনানির জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইলে এবং উক্ত ব্যর্থতা কোন যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত হইয়াছে বলিয়া মনে করিলে আপিল কর্তৃপক্ষ এসেসরের সাহায্য ব্যতীত আপিলের শুনানি চলমান রাখিতে পারিবে।
(৬) আপিলকারী কর্তৃক এসেসর নিয়োগের অনুরোধ না থাকিলে আপিল কর্তৃপক্ষ কোন এসেসর ব্যতীত আপিল কার্যμম নিষ্পত্তি করিতে পারিবে।
(৭) আপিলকারী উপ-বিধি (৫) মোতাবেক অ্যাসেসরদের সহায়তায় মামলা শুনানির জন্য অনুরোধ করিয়া থাকিলে স¥ারকলিপি পাইবার পর আপিল কর্তৃপক্ষ অ্যাসেসরদের খরচ জমা প্রদানের জন্য আপিলকারীকে নির্দেশ প্রদান করিবে।
(৮) আপিলকারী যদি তাহার আপিলে উল্লেখ না করেন, তিনি কোন সমিতির সদস্য তাহা হইলে আপিল কর্তৃপক্ষ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী উপযুক্ত সমিতিকে অ্যাসেসর নিয়োগ করিবার আহবান করিতে পারিবে।
(৯) উপ-বিধি (৫) মোতাবেক নিযুক্ত অ্যাসেসর আপিল শুনানির জন্য প্রতিদিন আপিল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফি এবং ভ্রমণ ভাতা প্রাপ্য হইবেন।
(১০) অ্যাসেসরদের ফি ও ভ্রমণ ভাতা সরকার পরিশোধ করিবে, কিন্তু যেখানে আপিলকারীর অনুরোধμমে অ্যাসেসর নিযুক্ত হইয়াছে সেই ক্ষেত্রে আপিলকারী কর্তৃক উপ-বিধি (৭) মোতাবেক জমাকৃত টাকায় অ্যাসেসরকে ভ্রমণ ভাতা প্রদান করিতে হইবে এবং তারপর কোন টাকা উদ্বৃত্ত থাকিলে উহা আপিলকারীকে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(১) ধারা ৩৩৩(ক) মোতাবেক প্রত্যেক আদেশ নি¤ড়ববর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করিতে হইবে, যথা:-
(ক) হাতে হাতে বা ডাকযোগে লিখিত নোটিস প্রদানের মাধ্যমে;
(খ) সাধারণ সার্কুলার প্রণয়নের মাধ্যমে;
(গ) গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
(২) ধারা ৩৩৩(খ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের মালিক বা ব্যবস্থাপক মহাপরিদর্শকের নিকট নিম্মোক্ত তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে দুই প্রস্থ করিয়া বিবরণী দাখিল করিবেন, যথা:-
(ক) ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফরম-৮০ অনুযায়ী অর্ধবার্ষিক বিবরণী;
(খ) ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফরম-৮১ অনুযায়ী বার্ষিক বিবরণী।
আইন এবং এই বিধিমালার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রদত্ত সকল নোটিস, আদেশ, রসিদ, সার্টিফিকেট, দলিলপত্র ও রেজিস্টার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরবর্তী তিন বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে, এবং পরিদর্শক চাহিবামাত্র উহা ত্াহার নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।
ধারা ৩৩৭ মোতাবেক আইন, বিধি এবং প্রবিধানের জরুরি বা গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহের সারসংক্ষেপ বাংলায় এবং শ্রমিকগণের নিকট সহজবোধ্য ভাষায় লিখিয়া শ্রমিকদের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করিতে হইবে এবং উহার সহিত মহাপরিদর্শক ও সংশ্লিষ্ট উপ-মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ের ঠিকানা, ই-মেইল নম্বর, অন-লাইন ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের ঠিকানাসহ নাম ফলক ও নিয়োজিত বা তালিকাভুক্ত রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ঠিকানা ও টেলিফোন নম্বর প্রকাশ্য স্থানে নোটিস আকারে প্রদর্শন করিতে হইবে।
(১) ধারা ৩৪৬ মোতাবেক কোন প্রকার দরখাস্ত, কার্যধারা বা আপিলের জন্য কোন কোর্ট ফি বা অন্য কোন ফি প্রদান করিতে হইবে না, তবে সাক্ষীকে সমন জারির ক্ষেত্রে প্রত্যেক সাক্ষীর জন্য দশ টাকা হারে ফি প্রদেয় হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত দরখাস্তকারীর দারিদ্রতার কথা বিবেচনা করিয়া উক্ত ফি হ্রাস করিতে বা সম্পূর্ণ মওকুফ করিতে পারিবে :
আরও শর্ত থাকে যে, সরকারের প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা কর্তৃক দায়েরকৃত দরখাস্তের ক্ষেত্রে উক্তরূপ ফি প্রদেয় হইবে না।
(২) আদালতের রায় বা উহার নিকট দাখিলকৃত যেকোন দলিলের অনুলিপি সংগ্রহের জন্য আদালত ফি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং উক্ত ফি প্রদান সাপেক্ষে যে কোন ব্যক্তি উক্ত অনুলিপি সংগ্রহ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, আদালত দরখাস্তকারীর দারিদ্রতার কথা বিবেচনা করিয়া বিনামূল্যে অনুলিপি সরবরাহের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।
কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন শ্রমিক বা কোন মালিক কর্তৃক অসৎ শ্রম আচরণ সংঘটনের বিষয়ে উহা সংঘটিত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রতিকার চেয়ে শ্রম পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিতে হইবে এবং এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) কর্মদিবসের মধ্যে শ্রম পরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উহা নিষ্পত্তি করিবেন।
(১) এই বিধিমালা কার্যকর হইবার সঙ্গে সঙ্গে নি¤ড়ববর্ণিত বিধিমালা বা বিধি-বিধান রহিত হইবে, যথা:-
(ক) ধারা ৩৫৩ -তে উল্লিখিত রহিত আইনসমূহের অধীন প্রণীত বিধি, প্রবিধান বা স্কীম; এবং
(খ) বাংলাদেশ শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণ বিধিমালা, ২০০৮।
(২) উক্তরূপ রহিতকরণ সত্বেও রহিত বিধি, প্রবিধি বা স্কীমের অধীন-
(ক) কৃত কোন কাজ কর্ম বা জারিকৃত কোন আদেশ, বিজ্ঞপ্তি বা প্রজ্ঞাপন অথবা প্রদত্ত কোন নোটিস, দায়েরকৃত কোন অভিযোগ বা পেশকৃত কোন দরখাস্ত বা গৃহীত কোন কার্যধারা এই বিধিমালার সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, বলবৎ থাকিবে;
(খ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনালে কোন মামলা বা কার্যধারা চলমান থাকিলে উহা এমনভাবে চলমান থাকিবে বা নিষ্পত্তি করিতে হইবে যেন এই বিধিমালা প্রণীত হয় নাই।