02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

দন্ডবিধি, ১৮৬০
Click here for Deep-Dive

এ্যাক্ট নং পার্ট
এ্যাক্ট সাল ১৮৬০ অধ্যায় ২৩
এ্যাক্ট ডেট ০৬ অক্টোবর, ১৮৬০ ধারা ৫১১
সংশোধনী তফশিল
সর্বশেষ সংশোধনী ফর্ম

১। বিধির শিরোনাম ও কার্যকারিতার সীমা

এই আইন ‘দণ্ডবিধি নামে অভিহিত হবে এবং ইহা বাংলাদেশের সর্বত্র কার্যকর হবে।

২। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সংঘটিত অপরাধসমূহের শাস্তি

বাংলাদেশের মধ্যে এই বিধির আওতায় প্রণীত বিধানের পরিপন্থি কোন কার্য করলে অথবা বিধানের নির্দেশ অনুযায়ী কোন কার্য না করলে প্রত্যেক ব্যক্তি এই বিধির আওতায় সাজার জন্য দায়ী হবেন এবং অপর কোনভাবে নয়

৩। বাংলাদেশের বাহিরে সংঘটিত কিন্তু আইনবলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিচারযোগ্য অপরাধ সমূহের শাস্তি

বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত কোন ব্যক্তির অপরাধের জন্য যে কোন বাংলাদেশী আইনবলে তার বিচার করা গেলে বাংলাদেশের বাইরে সে ব্যক্তির কাজের জন্য এই দণ্ডবিধির বিধানানুসারে তার বিচার করা হবে এবং কাজটি বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত হলে যেভাবে বিচার করা হত ঠিক সেভাবেই বিচার করা হবে।

৪। রাষ্ট্রের সীমানার বাহিরে সংঘটিত অপরাধ সমূহের ক্ষেত্রে প্রতিবিধির আওতা সম্প্রসারণ

নিম্নোক্ত ব্যক্তিগণ দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধের ক্ষেত্রেও এই বিধির বিধানগুলো প্রয়োগযোগ্য হবে;

 (১) বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত কোন জায়গায় বাংলাদেশের নাগরিক,                                          

 (২) বাতিল।    

 (৩) বাতিল।

 (৪) বাংলাদেশে রেজিষ্ট্রকৃত যে কোন জাহাজ বা বিমান পোতে আরোহী যে কোন ব্যক্তি উক্ত জাহাজ কিংবা বিমান পোতে যেখানেই থাকুক না কেন।

ব্যাখ্যা (Explanation)- এই ধারা মতে যে কার্য বাংলাদেশের মধ্যে সংঘটিত হলে এই বিধি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত তা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলে তার অপরাধ কথাটির আওতাভুক্ত হবে।

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) ক বাংলাদেশের একজন নাগরিক। সে জাপানে খুনের অপরাধ সংঘটন করে । বাংলাদেশের যে কোন স্থানে, যেখানে তার সন্ধান পাওয়া যাবে, খুনের দায়ে তাকে বিচার ও শাস্তি প্রদান করা যাবে।

(খ) খ একজন ইউরোপীয় বৃটিশ প্রজা। সে রংপুরে একটি খুনের অপরাধ সংঘটন করে। বাংলাদেশের যে কোন স্থানে, যেখানে তার সন্ধান পাওয়া যাবে, খুনের দায়ে তার বিচার ও শাস্তি প্রদান করা যাবে।

(গ) বাংলাদেশে সরকারের চাকুরীরত বিদেশী নাগরিক গ খুলনায় একটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে। বাংলাদেশের যে স্থানে তাকে পাওয়া যাবে, সে স্থানেই তাকে বিচার করে সাজা প্রদান করা যাবে।

(ঘ) খুলনায় বসবাসকারী ব্রিটিশ নাগরিক ঘ ঙ-কে চট্টগ্রামে একটি হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত করার জন্য প্ররোচিত করে। ঘ হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দানের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

৫।এই আইন কতিপয় আইনকে ক্ষুন্ন করিবে না

এই আইনের কোন কিছুই বা প্রজাতন্ত্রের আওতায় কর্যরত কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকদের বিদ্রোহের ও কর্মত্যাগের জন্য দণ্ডপ্রদান সংক্রান্ত কোন আইনের বিধান অথবা কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনের বিধানের কোন কিছুই বাতিল, পরিবর্তন, স্থগিত বা প্রভাবিত হবে না।

৬। বিধির সংজ্ঞাসমূহের অর্থ ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে হইবে

এই বিধির সর্বত্র সকল অপরাধের প্রতিটি সংজ্ঞা, প্রতিটি দণ্ডপ্রদান এবং অনুরূপ সংজ্ঞা বা দণ্ডবিধানের প্রত্যেকটি উদাহরণের অর্থ সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে বিধৃত ব্যতিক্রম সমূহ সাপেক্ষে করতে হবে, যদিও উক্ত ব্যতিক্রমসমূহ অনুরূপ সংজ্ঞা, দণ্ডপ্রদান বিষয়ক বা উদাহরণে পুনরুল্লেখ করা না হয়।

উদাহরণসমূহ

Illustrations –

(ক) এই আইনের যে সকল ধারায় অপরাধের সংজ্ঞা নির্দেশ করা হয়েছে, সে সকল ধারায় বলা হয় নাই যে, সাত বৎসরের কম বয়স্ক কোন শিশুর কর্তৃক উক্ত অপরাধগুলি অনুষ্ঠিত হতে পারে না, তথাপি সংজ্ঞাগুলির এই সাধারণ ব্যতিক্রম সাপেক্ষেই গ্রহণ করতে হবে যে, সাত বৎসরের কম বয়স্কা শিশুদের কোন কর্মই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

(খ) ক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বিনা পরোয়ানায় খ-কে গ্রেফতার করেন, যে খুন করেছে। এই ক্ষেত্রে ক অন্যায় আটক করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন না; কেননা তিনি খ কে গ্রেফতার করতে আইনতঃ বাধ্য ছিলেন। কাজেই বিষয়টি সাধারণ ব্যতিক্রমের অধীনে পড়ে যে, কোন ব্যক্তি আইনত যে কার্য করতে বাধ্য তিনি সে কার্য করলে তা অপরাধ হবে না।’

৭। একবার ব্যাখ্যাত অভিব্যক্তির তাৎপর্য

এই বিধির যে কোন অংশে কোন উক্তি যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিধির সকল অংশে সে উক্তিটি সে ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যবহার করা হয়েছে।

৮। লিঙ্গ

তিনি সর্বনাম এবং উহার সকল রূপ পুরুষ-নারী নির্বিশেষে যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়েছে।

৯। বচন

একই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যরূপ প্রতীয়মান না হলে এক বচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে বহুবচনের অর্থ আওতাভুক্ত থাকবে এবং বহুবচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে একবচন আওতাভুক্ত থাকবে।

১০। পুরুষ মহিলা

’নর’ বলতে যে কোন বয়সের পুরুষ মানুষ বুঝায় এবং ‘নারী’ বলতে যে কোন বয়সের স্ত্রীলোক বুঝায়।

১১। ব্যক্তি

ব্যক্তি বলতে সমিতিভুক্ত হোক বা না হোক যে কোন কোম্পানী বা সমিতি বা ব্যক্তি সংস্থা আওতাভুক্ত বুঝাবে।

১২। জনগণ

জনসাধারণ বলতে যে কোন অংশ বা শ্রেণী অথবা যে কোন সম্প্রদায় জনসাধারণ কথাটির অন্তর্ভুক্ত।

১৪। রাষ্ট্রের কর্মচারী

রাষ্ট্রের কর্মচারী অর্থ বাংলাদেশে নিযুক্ত বা কার্যরত অথবা বাংলাদেশে যাদেরকে সরকারী চাকুরীতে বহাল রাখা হয়েছে এমন সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বুঝাবে।

১৭। সরকার

সরকার বলতে বাংলাদেশ বা উহার কোন অংশে কার্যনিবাহী সরকার পরিচালনা করবার জন্য আইনবলে ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বুঝাইবে।

১৯। জজ

বিচারক অর্থ শুধু সরকারীভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী যা হোক, চুড়ান্ত রায়দান বা আপীল না করা না হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভুক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।

(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক। (গ) বাতিল ।

(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।

২০। বিচারালয়

বিচারালয়’বা আদালত বলতে শুধু বিচার কার্য করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারক বা বিচারক সংস্থাকে বুঝাবে, যেক্ষেত্রে এইরূপ বিচারক বা বিচারক সংস্থা বিচার কার্য করছেন।

“সরকারি কর্মচারী" অর্থ নিচে উল্লেখিত যে কোন শ্রেণীর ব্যক্তিকে বুঝাবে, যথা:

প্রথম (First):-

বাতিল।

দ্বিতীয় (Second):-

সরকারের আওতায় কার্যরত রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমান বাহিনীর প্রত্যেক কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তা;

তৃতীয় (Third):-

প্রত্যেক বিচারক বলতে সে ব্যক্তি, যিনি একাকী বা কোন ব্যক্তিসমষ্টির একজন সদস্যরূপে বিচারকাজ করার জন্য আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত, অন্তর্ভুক্ত হবে;

চতুর্থ (Fourth):-

কোন আদালতের কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন আইনগত বা ঘটনাগত বিষয় সম্পর্কে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা, অথবা কোন দলিল প্রণয়ন, প্রামাণ্য বলে স্বাক্ষরদান বা সংরক্ষণ করা, অথবা কোন সম্পত্তির দায়িত্ব গ্রহণ বা উহার বিলি ব্যবস্থা করা, অথবা কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম বলবৎ করা, অথবা কোন শপথ গ্রহণ করানো, অথবা আদালতের শৃঙ্খলা সংরক্ষণ করা এবং উক্ত কর্তব্যগুলির যে কোনটি সম্পাদন করার জন্য আদালত হতে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি;

পঞ্চম (Fifth):-

কোন আদালত বা সরকারী কর্মচারীকে সহায়তাকারী প্রত্যেক জুরী, এসেসর বা পঞ্চায়েত সদস্য;

ষষ্ঠ (Sixth):-

এইরূপ প্রত্যেক মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোন ব্যক্তি কোন বিচারালয় বা অন্য কোন যোগ্যতাসম্পন্ন সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যার নিকট কোন সমস্যা বা বিষয় সিদ্ধান্ত বা রিপোটের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে;

সপ্তম (Seventh):-

এমন কোন ব্যক্তি যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন, যে পদমর্যাদা বলে তিনি কোন ব্যক্তিকে আটক করতে বা আটক করে রাখতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত;

অষ্টম (Eighth):-

সরকারের এমন কোন কর্মচারী যার কর্তব্য হচ্ছে অনুরূপ কর্মচারী হিসেবে অপরাধ নিরোধ করা, অথবা অপরাধের তথ্য দান করা, অথবা অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করা, অথবা জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সংরক্ষণ করা;

নবম (Ninth):-

এমন কোন কর্মকর্তা যার অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্য হচ্ছে সরকারের পক্ষে কোন সম্পত্তি দখল করা, গ্রহণ করা, রাখা বা ব্যয় করা, অথবা সরকারের

পক্ষে কোন জরিপ এসেসমেন্ট বা চুক্তি সম্পাদন করা অথবা কোন কোন রাজস্ব বিষয়ক নির্দেশ বলবৎ করা, কিংবা সরকারের আর্থিক স্বার্থসংক্রান্ত কোন বিষয়ে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা অথবা সরকারের আর্থিক বিষয়ক কোন দলিল প্রণয়ন করা, সত্য ( বা প্রামাণ্য ) বলে স্বাক্ষর দান করা বা রাখা, অথবা সরকারের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কোন আইনের বিচ্যুতি রোধ করা।

দশম (Tenth):-

এমন প্রত্যেক কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন সম্পত্তি দখল, গ্রহণ, সংরক্ষণ বা ব্যয় করা, কোন গ্রাম, শহর বা জেলায় ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য কোন জরিপ করা বা এসেসমেন্ট করা বা কোন রেট বা ট্যাক্স ধার্য করা, অথবা কোন গ্রাম, শহর বা জেলার জনসাধারণের অধিকসমূহ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কোন দলিল প্রণয়ন করা, উহাকে প্রামাণ্য বলে স্বীকৃতিদান করা বা উহ্য সংরক্ষণ করা।

একাদশ (Eleventh):-

এমন কোন ব্যক্তি, যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত, যে পদমর্যাদা বলে তিনি নির্বাচক তালিকা প্রণয়ন, প্রকাশনা, সংরক্ষণ বা পরিশোধন করার অথবা কোন নির্বাচন কিংবা নির্বাচনের অংশবিশেষ পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।

উদাহরণ

Illustration

পৌর কমিশনার একজন সরকারী কর্মচারী।

দ্বাদশ (Twelfth):-

প্রত্যেক ব্যক্তি –

(ক) কোন সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের জন্য সরকারের চাকরিতে বা বেতনভোগী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বা ফি অথবা কমিশন আকারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন;

(খ) কোন আইনবলে বা আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন বা সংস্থায় চাকুরিতে বা এমন কোন অংশীদারী কারবার বা কোম্পানীর চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন যার আংশিক পুঁজি বা স্বত্ব সরকারের কর্তৃক বা সরকারে ন্যস্ত।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হোক বা না হোক উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহের যেকোনটির অন্তৰ্ভূক্ত ব্যক্তিগণ সরকারী কর্মচারীরূপে গণ্য হবেন।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে স্থলে “সরকারী কর্মচারী” কথাগুলি দৃষ্ট হবে, সে স্থলেই উহার কার্যত সরকারী কর্মচারীর স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকেই বুঝায় বলে মনে করতে হবে । উক্ত ব্যক্তির উক্ত সরকারী কর্মচারী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অধিকারের কোন আইনগত ক্রটি থাকলেও এই ব্যাখ্যার ব্যত্যয় হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- নির্বাচন অর্থ এমন কোন বিধান প্রণয়নকারী, পৌর বা অপর কোন সরকারী সংস্থার যে-কোন ধরনের সদস্যদের মনোনয়নের জন্য নির্বাচন বুঝাবে, যার সদস্য মনোনয়ন পদ্ধতি আইন কর্তৃক বা আইনের নির্দেশমতে নির্বাচন বলে বিধান করা হয়েছে।

২২। অস্থাবর সম্পত্তি

অস্থাবর সম্পত্তি’ বলতে জমি, এবং ভূমির সহিত সংযুক্ত বা ভূমির সহিত সংযুক্ত এইরূপ কোন কিছুর সহিত স্থায়ীভাবে আবদ্ধ বস্তু ব্যতিরেকে, প্রত্যেক বর্ণনার শরীরি সম্পত্তি বুঝাবে।

২৩। অবৈধ লাভ

অবৈধ লাভ হচ্ছে, বেআইনীভাবে এইরূপ সম্পত্তি লাভ করা, যে সম্পত্তি লাভকারী ব্যক্তির কোন আইনানুগ অধিকার নাই ।

অবৈধ ক্ষতি (Wrongful loss):-

কোন সম্পত্তিতে যে ব্যক্তির আইনগত অধিকার বা স্বত্ব রয়েছে, বেআইনীভাবে উক্ত ব্যক্তির সে সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা হৃত হলে “অবৈধ ক্ষতি’ বলে ।

অবৈধভাবে লাভ করা (Gaining wrongfully):-

কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে অধিকারে রাখলে এবং অবৈধভাবে অর্জন করলে ঐ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভ করে বলে আখ্যাত হবে ।

অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (losing wrongfully):-

কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কোন সম্পত্তি হতে বেদখল রাখা হলে এবং অবৈধভাবে সম্পত্তিচু্যত করা হলে ঐ ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে গণ্য হবে।

২৪। অসাধুভাবে

কোন ব্যক্তি কারো অবৈধভাবে লাভ ঘটাবার বা কারো অবৈধভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করলে উক্ত ব্যক্তি তা অসাধুভাবে করেছে বলে পরিগণিত হয় ।

২৫। প্রতারণামূলকভাবে

কোন ব্যক্তি প্রতারণার উদ্দেশ্যে কিছু করলেই উক্ত ব্যক্তি ‘প্রতারণামূলকভাবে’ তা করেছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায়, নয় ।

২৬। বিশ্বাস করিবার কারণ

কোন ব্যক্তিকে কোন বিষয় বিশ্বাস করার জন্য তার উক্ত বিষয়ে বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ থাকলেই তার উক্ত বিষয়ে “বিশ্বাসের (বা বিশ্বাস করার) কারণ” আছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায় নয়।

২৭। স্ত্রী, কেরাণী বা ভৃত্যের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি

কোন ব্যক্তির সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির দরুণ তার স্ত্রী, কেরানী বা চাকরের দখলাধীন থাকলে এই আইনের অর্থ মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তিরই দখলাধীন বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- সাময়িক বা অস্থায়ীভাবে অথবা কোন বিশেষ উপলক্ষে কেরানী বা চাকরের পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি এই ধারার অর্থ মোতাবেক অনুরূপ কেরানী বা চাকর বলে অভিহিত হবে।

২৮। নকলকরণ

কোন ব্যক্তি একটি বস্তুকে দেখতে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করে অনুরূপ আপাত সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিসন্ধি করলে, অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও উক্ত বস্তুকে অনুরূপভাবে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করালে উক্ত ব্যক্তি নকল করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- নকল করণের ব্যাপারে অনুকরণ অবিকল হওয়া অপরিহার্য নয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে লয় এবং আসল বস্তুর সাথে নকল (বা মেকি) জিনিসটির সাদৃশ্য এমন প্রকট হয় যে, তদ্বারা কোন ব্যক্তি প্রতারিত হতে পারে, তবে বিপরীত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এইরূপ ধরে নেয়া হবে যে-যে ব্যক্তি অনুরূপভাবে নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে নিয়েছে, সে ব্যক্তি অনুরূপ সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যেই তা করেছে অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য কর্তৃক প্রতারণা করা হতে পারে জেনেই তা করেছে।

২৯। দলিল

দলিল কথাটি এমন কোন বস্তুকে বুঝায়, যে বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন কর্তৃক অথবা অনুরূপ একাধিক উপায়ে প্রকাশিত বা বর্ণিত বিষয়টির সাক্ষ্য ৰা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি প্রস্তুত করা হয় অথবা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি ব্যবহৃত হতে পাৱে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কি উপায়ে বা কেমন বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নগুলি গঠন করা হয়েছে অথবা প্রমাণটি কোন আদালতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বা কোন আদালতে ব্যবহৃত হতে পারে কিনা তাতে কিছু যায় আসে না।

উদাহরণ

(Illustration)

কোন চুক্তির শর্তাবলি সম্বলিত লিখিত বস্তু-যা চুক্তিটির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে-এরুটি দলিল । কোন ব্যাংকারের চেক-একটি দলিল । কোন পাওয়ার-অব-এটর্নী-একটি দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য উদ্দিষ্ট বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য কোন মানচিত্র বা নকশা-একটি দলিল । নির্দেশাবলী বা উপদেশাবলি সম্বলিত কোন লিখিত কোন বস্তু-একটি দলিল ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক ব্যবসায়গত বা অপর কোন প্রচলনসিদ্ধ তাৎপর্য মোতাবেক যদ্রুপ ব্যক্ত করা হয়, এই ধারার অর্থানুযায়ী অনুরূপ অক্ষর সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক তদ্রুপই ব্যক্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও কার্যতঃ অঙ্কপ ব্যক্ত না-ও হয়ে থাকতে পারে।

উদাহরণ

Illustration

ক তার আদেশানুযায়ী প্রদেয় একটি বিল অব এক্সচেঞ্জের উল্টা দিকে তার নাম স্বাক্ষর করে। ব্যবসায়গত প্রচলনসিদ্ধ রীতি ও তাৎপর্য অনুযায়ী বরাত চিঠি এর উল্ট পিঠে এইরূপ স্বাক্ষর বলতে বুঝায়-বিলটি উহার ধারককে দিতে হবে । এইরূপ স্বাক্ষর একটি দলিল এবং স্বাক্ষরটির উপরে “ধারককে প্রদেয়” কথাগুলি বা তদনুরূপ কোন কথা লেখা থাকলে স্বাক্ষরটিকে যে অর্থে গ্রহণ করা হত, এই ক্ষেত্রেও স্বাক্ষরটিকে ঠিক সে অর্থেই গ্রহণ করতে হবে ।

৩০। মূল্যবান জামানত

মূল্যবান জামানত বলতে বুঝায়- যে দলিলে কোন আইনগত অধিকার অথবা স্বত্ব সৃষ্ট, বর্ধিত কিংবা সম্প্রসারিত, হস্তান্তরিত, নিয়ন্ত্রিত, বিলুপ্তি কিংবা মুক্ত করা হয় কিংবা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় অথবা যে দলিলে কোন ব্যক্তি কোন আইনগত দায়িত্ব স্বীকার করে, বা করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।

উদাহরণ

Illustration

ক বরাত চিঠির উল্টা পিঠে তার নাম স্বাক্ষর করে। যেহেতু এইরূপ স্বাক্ষর দ্বারা বিলটির অধিকার বা স্বত্ব উহার আইনসম্মত ধারকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেহেতু বিলের উল্টা পিঠে প্রদত্ত এই স্বাক্ষর একটি ‘মূল্যবান জামানত’।

৩১। উইল

একটি উইল’ শব্দটি বলতে যে কোন ইচ্ছাপত্রকে নির্দেশ করা বুঝায়।

৩২। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত

ক্ষেত্র বিশেষে প্রসঙ্গ হতে অন্যরূপ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, এই বিধির সর্বত্র কার্যগুলো সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলি বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য।

৩৩। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত

ক্ষেত্র বিশেষে প্রসঙ্গ হতে অন্যরূপ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, এই বিধির সর্বত্র কার্যগুলো সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলি বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য।

৩৪। কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী

যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকেই উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।

৩৫। যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কার্য কোন অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায় সহকারে সম্পাদিত হইবার দরুন অপরাধমূলক বলিয়া গণ্য হয়

কোন অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পাদন করলে যে কাজ অপরাধমূলক হয়, সে কাজ কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হলে অনুরূপ অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পাদিত কার্ষে অংশগ্রহণকারী উক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যেকে তাদের যে কোন একজন এক অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত কাজটি সম্পাদন করলে যেভাবে তজ্জন্য দায়ী হত ঠিক সেভাবেই দায়ী হবে।

৩৬। আংশিকভাবে কার্য এবং আংশিকভাবে বিচ্যুতির সাহায্যে সংঘটিত ফলাফল

যখন কোন কার্যসম্পাদন দ্বারা অথবা কোন কার্যসম্পাদন হতে বিচুতি দ্বারা কোন ফলাফলের উদ্ভব করা বা উক্ত ফলাফল উদ্ভবের চেষ্টা করা একটি অপরাধ, তখন কোন কার্য আংশিকভাবে সম্পাদন করে এবং কোন কার্য আংশিকভাবে সম্পাদন না করে সে ফলাফলের উদ্ভব বা সৃষ্টি করাও একটি অপরাধ বলে বিবেচনা করতে হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক অংশত অবৈধভাবে চ-কে খাদ্য দান না করে এবং অংশত চ-কে প্রহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর মৃত্যু ঘটায়। ক খুনের অপরাধে অপরাধী হবে।

৩৭। কোন অপরাধ অনুষ্ঠানকারী কতিপয় কার্যের একটি সম্পাদনের মাধ্যমে সহযোগিতা

(ক) ক ও খ পৃথকভাবে এবং বিভিন্ন স্থানে অল্প মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে চ কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্র মোতাবেক ক ও খ চ কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বিষ প্রয়োগ করে। এইভাবে কয়েকটি বিভিন্ন মাত্রায় প্রযুক্ত বিষক্রিয়ার ফলে চ নিহত হয়। এই দৃস্টাস্তে ক ও খ খুনের অপরাধ সংঘটনের জন্য উদ্দেশ্য মূলক ভাবে পরস্পরের সহযোগিতা করে এবং যেহেতু তাদের প্রত্যেকেই এমন একটি কার্য করে যার ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়। সেহেতু তাদের উভয়েই অপরাধটির জন্য অপরাধী যদিও তাদের কার্য আলাদাভাবে সংঘটিত।

(খ) ক ও খ দুইজন কারাগারিক। চ একজন কয়েদী । ক ও খ কারাগারিক হিসেবে চ-এর তত্ত্বাবধায়ক। চ পালাক্রমে ছয় ঘন্টা করে ক ও খ-এর অধীনে থাকে। ক ও খ প্রত্যেকে চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে জ্ঞাতসারে নিজ নিজ তত্ত্বাবধানকালে চ-এর জন্য প্রেরিত খাদ্য অবৈধভাবে চ-কে প্রদান না করে তার মৃত্যু ঘটাবার কার্যে পরস্পরের সহযোগিতা করে। ফলে অনাহারে চ-এর মৃত্যু ঘটে। ক ও খ উভয়েই চ-এর মৃত্যুর জন্য অপরাধী ।

(গ) ক একজন কারাগারিক। চ তার আওতায় একজন কয়েদী। চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে ক অবৈধভাবে চ-কে খাদ্য প্রদান হতে বিরত থাকে। ফলে মারাৱকভাবে চ-এর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে; কিন্তু অনশনের ফলে তার মৃত্যু ঘটে নাই। ক-কে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয় এবং খ তার স্থলে নিযুক্ত হয় খ ক-এর সাথে চক্রান্ত বা যোগসাজশ না করেই অবৈধভাবে চ কে খাদ্য সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখে যদিও ইহার ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটতে পারে বলে সে জানে। ফলে অনশনে চ-এর মৃত্যু ঘটে। খ খুনের অপরাধে অপরাধী হবে; কিন্তু যেহেতু ক খ-এর সাথে যোগসাজশ করে নাই সেহেতু সে (ক) কেবলমাত্র খুনের অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার জন্য অপরাধী হবে।

৩৮। অপরাধমূলক কার্যে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন

কোন অপরাধমূলক কাজ সংঘটনে কতিপয় ব্যক্তি ব্যাপৃত থাকলে অথবা উহা সংঘটনের সাথে তারা জড়িত থাকলে, উক্ত কাজের জন্য তারা বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে।

উদাহরণ

Illustration –

ক এমন উগ্র প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে চ-কে আক্রমণ করে যে, তার এই আক্রমণে চ নিহত হলে তা কেবল অপরাধমূলক প্রাণনাশ হবে, যা খুন বলে পরিগণিত হবে না। চ-এর প্রতি খ-এর বিদ্বেষ থাকায় এবং চ-কে হত্যা করার জন্য খ-এর অভিপ্রায় থাকায়, খ বিনা প্ররোচনায় চ-কে হত্যার কার্যে ক কে সহায়তা করে। এই দৃষ্টান্তে ক ও খ উভয়েই চ-কে হত্যার কার্যে ব্যাপৃত থাকলেও, খ খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং ক শুধু অপরাধমূলক প্রাণনাশের অপরাধে অপরাধী হবে।

৩৯। সেচ্ছাকৃত ভাবে

কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ সংঘটনের উদ্দেশ্যে উক্ত কাজ সংঘটনের উপায় অবলম্বন করে উহা সংঘটন করে, অথবা এমন উপায় অবলম্বন করে কাজটি সংঘটন করে যা অবলম্বনকালে সে জানত বা তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল যে, উক্ত উপায়টি অবলম্বনের ফলে উক্ত কাজের সংঘটন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে উক্ত কাজটি সংঘটন করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ

Illustration

ক দস্যুতা সংঘটনের সুবিধার জন্য রাত্রিবেলা একটি বড় শহরের একটি বসত বাড়িতে আগুন লাগায়। এইভাবে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষেত্রে ক-এর উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে এবং এমনকি অনুষ্ঠিত মৃত্যুর জন্য সে অনুতপ্ত বা দুঃখিতও হতে পারে, তথাপি তার কাজের ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সে জ্ঞাত থেকে থাকে, তবে সে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটিয়েছে ।

৪০। অপরাধ

এই ধারার ২ ও ৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচ্ছদগুলো ও ধারাগুলো ছাড়াই অপর সকল ক্ষেত্রে অপরাধ বলতে এই আইন বলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে।

৪র্থ অধ্যায়, ৫ক অধ্যায় এবং ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৭১, ১০৯, ১১০, ১১২, ১১৪, ১১৫, ১১৬, ১১৭, ১৮৭, ১৯৪, ১৯৫, ২০৩, ২১১, ২১৩, ২১৪, ২২১, ২২২, ২২৩, ২২৪, ২২৫, ৩২৭, ৩২৮, ৩২৯, ৩৩০,৩৩১, ৩৪৭, ৩৪৮, ৩৮৮, ৩৮৯, এবং ৪৪৫ ধারায় “অপরাধ” বলতে এই আইনবলে অথবা অতঃপর বর্ণিত কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনবলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে।

এবং ১৪১, ১৭৬, ১৭৭, ২০১, ২০২, ২১২, ২১৬ ও ৪৪১ ধারার ‘অপরাধ’ কথাটি বলতে, স্থানীয় বা বিশেষ আইনে দণ্ডনীয় কাজ বা বিষয়টি উক্ত আইনবলে অর্থদণ্ডসহ বা বিনা অর্থ দণ্ডে ছয় মাস বা তদূৰ্ব্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে একই অর্থ বুঝাবে।

৪১। বিশেষ আইন

কোন বিশেষ বিষয়ের প্রতি প্রয়োগযোগ্য আইনকে বিশেষ আইন বলে ।

৪২। স্থানীয় আইন

কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ এলাকা সমূহের কোন বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আইনকে স্থানীয় আইন বলে।

৪৩। অবৈধ, আইনত সম্পাদন করিতে বাধ্য

অবৈধ বলতে এমন প্রত্যেক বিষয়ের প্রতি প্রযোজ্য যা কিছু অপরাধজনক বা যা কিছু আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কিংবা যা কিছু দেওয়ানী কর্মপন্থা গ্রহণের যুক্তি বা আবশ্যকীয়তার উদ্ভব করে, তা সম্পর্কেই ‘বেআইনী’ কথাটি প্রয়োগযোগ্য; এবং যে ব্যক্তির পক্ষে কোন কিছু না করা বা কোন বিশেষ কার্যসম্পাদন হতে বিরত থাকা বেআইনী, সে ব্যক্তি উহা ‘করতে আইনত বাধ্য’ বলে পরিগণিত হয়।

৪৪। ক্ষতি

ধারা ৪৪। যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে ‘ক্ষতি’ বলে ।

৪৫। জীবন

ধারা ৪৫। প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে জীবন কথাটি কর্তৃক মানুষের জীবন বুঝাবে।

৪৬। মৃত্যু

প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে মৃত্যু কথাটি কর্তৃক মানুষের ‘মৃত্যু’ বুঝাবে।

৪৭। প্রাণী

প্রাণী’ বলতে মানুষ ছাড়া অপর যে কোন প্রাণী বা জীব বুঝাবে।

৪৮। জাহাজ

নৌযান’ বলতে জলপথে মানুষ বা সম্পত্তি পরিবহনের জন্য নির্মিত যে কোন যানবাহনকে বুঝায়।

৪৯। বৎসর-মাস

যেখানেই বৎসর কথাটি অথবা "মাস" কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেই বুঝতে হবে যে, উক্ত বৎসর বা মাস বৃটিশ ক্যালেন্ডার মোতাবেক গণনা করা হবে।

৫০। ধারা

ধারা’ শব্দে এই বিধির কোন অধ্যায়ের অংশসমূহের অন্যতম এমন কোন একটিকে বুঝাবে, যার পূর্বে সংখ্যাবাচক চিহ্ন আরোপ করে অন্যান্য অংশ হতে উহার পার্থক্য বা স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করা হয়েছে।

৫১। হলফ

আইনের বিধানমতে শপথের পরিবর্তে গ্রহণীয় দৃঢ়, প্রতিজ্ঞান্তিক অনুমোদন, এবং কোন আদালতেই হোক অথবা আদালতের বাইরে অন্যত্রই হোক, যে ঘোষণা কোন সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে অথবা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রদান করার জন্য আইনবলে নির্দেশ করা হয় বা ক্ষমতা দেওয়া হয়, তার ‘শপথ’ কথাটির অন্তর্ভুক্ত।

৫২। সদবিশ্বাস

যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ছাড়া কিছু করা হলে বা কোন কিছু বিশ্বাস করা হলে তা ‘সরল বিশ্বাসে’ করা হয়েছে বা তাতে ‘সরল বিশ্বাসে’ বিশ্বাস করা হয়েছে বলে পরিগণিত করা হয় না।

৫২ক । আশ্রয়

১৫৭ ধারা ছাড়া এবং ১৩০ ধারায় যেখানে আশ্রিত ব্যক্তিকে তার স্ত্রী বা স্বামী আশ্রয়দান বা রক্ষা করে তা ব্যতীত, (অন্য সকল ক্ষেত্রে) গ্রেফতার এড়াবার জন্য কোন ব্যক্তিকে আশ্রয়, খাদ্য, পানীয়, অর্থ, কাপড়চোপড়, অস্ত্র-শস্ত্র, গোলাবারুদ বা পরিবহনের উপায় উল্লিখিত বা অনুলিখিত প্রকরণের কোন উপায়ে কোন ব্যক্তিকে সহায়তা করে ‘আশ্রয়দান’ কথাটির অন্তর্ভুক্ত। 

৫৩। এই বিধির বিধানসমূহের বলে অপরাধীরা যে সকল দণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হবে, সে সকল সাজা হচ্ছে:

প্রথমত (First):- মৃত্যু দণ্ড ।

দ্বিতীয়ত (Secondly):- যাবজীবন কারাদণ্ড ।

তৃতীয়ত (Thirdly) :-  বাতিল।

চতুর্থত (Fourthly):- কারাদণ্ড, যা দুই প্রকারের হতে পারে, যথা:-

(১) সশ্রম, অর্থাৎ কঠোর শ্রমসহ এবং

(২) বিনাশ্রম,

পঞ্চমত (Fifthly):- সম্পত্তির বাজেয়াপ্তি;

ষষ্ঠত (Sixthly):- অর্থদণ্ড ।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলে, কারাদণ্ড অবশ্যই সশ্রম হবে।

৫৩ক । কারাবাস উল্লেখের ব্যাখ্যা

(১) (২) উপধারার শর্তাবলী সাপেক্ষে, সাময়িকভাবে প্রচলিত অপর যেকোন আইনে যেখানে যাবজীবন দ্বীপান্তর’-এর উল্লেখ রয়েছে, সেখানে উহা যাবজীবন ‘কারাবাস’ ধরতে হবে।

(২) বর্তমানে প্রচলিত যেকোন আইনে কোন মেয়াদের বা স্বল্প মেয়াদের জন্য যেকোনভাবে হোক না কেন, দ্বীপান্তরের উল্লেখ থাকলে উহা রদ বলে পরিগণিত হবে।

(৩) বর্তমানে প্রচলিত অপর যেকোন আইনে, যেখানে দ্বীপান্তর উলেখ রয়েছে:

(ক) সেখানে উহা যদি যাবজীবন দ্বীপান্তর বুঝায়, তবে উহাকে যাবজীবন কারাবাস ধরতে হবে;

(খ) সেখানে উহা যদি স্বল্পতর মেয়াদের দ্বীপান্তর বুঝায়, তবে উহা রদ হিসেবে গণ্য হবে।

৫৪। মৃত্যুদন্ড হ্রাসকরণ

মৃত্যুদন্ড দান করা যেতে পারে এইরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধকারীর সম্মতি ব্যতিরেকেই উক্ত দণ্ডকে এই বিধি ও আইন বলে ব্যবস্থিত অন্য যেকোন স্বল্প দণ্ডে রূপান্তরিত করতে পারবেন।

৫৫। যাবজ্জীবন কারাদন্ড হ্রাসকরণ

যে সকল মামলার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাজ্ঞা প্রদান করা হয়, তার প্রত্যেক ক্ষেত্রে সরকার অপরাধীর সম্মতি ব্যতীতই দণ্ডাজ্ঞহাস বর্ণ অনুর্ধ্ব ২০ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে পরিবর্তন করতে পারবেন। ।

৫৫ক। রাষ্ট্রপতির বিশেষাধিকার সংরক্ষণ।

৫৪ ধারা বা ৫৫ ধারার কোন বিধান দ্বারাই রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শন, মৃত্যুদণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করা বা দণ্ডাজ্ঞা হাসের অধিকার ক্ষুন্ন হবে না।

৫৭। দন্ড মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ

সাজার মেয়াদের ভগ্নাংশ হিসাবের ক্ষেত্রে, যাবজ্জীবন কারদন্ড ত্রিশ বৎসর মেয়াদের কারাদন্ডের সমান বলে গণনা করা হবে।

৬০। কারাবাসের কতিপয় ক্ষেত্রে দন্ড সম্পূর্ণরূপে বা অংশত সশ্রম বা বিনাশ্রম হইতে পারিবে

যে মামলায় অপরাধীকে সশ্রম বা বিনাশ্রম যে কোন প্রকারের (বা উভয় প্রকারেরই) কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যায়, সেরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে অনুরূপ দোষীকে দন্ডদানকারী আদালত দন্ডাদেশে অনুরূপ কারাদন্ড সমগ্রভাবে সশ্রম হবে, অথবা অনুরূপ কারাদণ্ড সমগ্রভাবে বিনাশ্রম হবে, অথবা অনুরূপ কারাদণ্ডে যে কোন অংশবিশেষ সশ্রম বা অবশিষ্টাংশ বিনাশ্রম হবে বলে নির্দেশ করতে পারবেন।

৬৩। অর্থদন্ডের পরিমাণ

যেক্ষেত্রে কোন অর্থ দণ্ডের পরিমাণ কি পর্যন্ত হতে পারে তা উল্লেখ করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে অপরাধীকে যে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে, সে অর্থদণ্ডের পরিমাণ অসীম হতে পারে কিন্তু তা অত্যাধিক হবে না।

৬৪। অর্থদন্ড অনাদায়ের দরুন কারাদন্ড দান

যেক্ষেত্রে অপরাধটি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডনীয়, সেরূপ প্রত্যেক ক্ষেত্রে অপরাধীকে কারাদণ্ডসহ বা কারাদণ্ড ছাড়া অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হলে, এবং যেখানে অপরাধটি কারাদণ্ডে কিংবা অর্থ দণ্ডে, অথবা শুধু অর্থ দণ্ডে দণ্ডনীয়, সেক্ষেত্রে অপরাধীকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হলে; অনুরূপ অপরাধীকে দণ্ডদানকারী আদালত দণ্ডাদেশে এইরূপ নির্দেশদান করতে পারবেন যে, অর্থদণ্ড অনাদায়ে অপরাধী কোন নির্দিষ্ট মেয়াদের কারাদণ্ড ভোগ করবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রদত্ত অনুরূপ কারাদণ্ড অপরাধীকে তৎপূর্বে কোন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়ে থাকলে সে পূর্ব প্রদত্ত কারাদণ্ডের অতিরিক্ত স্বরূপ হবে, অথবা কোন দণ্ডাদেশ হাস বা পরিবর্তন করা হলে অপরাধী যে কারাদণ্ডে দণ্ডযোগ্য হবে, অর্থ অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ড তার অতিরিক্ত স্বরূপ হবে।

৬৫। যেক্ষেত্রে কারাবাস ও অর্থদন্ড বিধেয় সেই ক্ষেত্রে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাবাসের সীমা

আদালত অপরাধীকে অর্থদন্ড অনাদায়ে যে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার আদেশ করবেন, উহার মেয়াদ অপরাধটির জন্য নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মেয়াদের এক-চতুর্থাংশের বেশি হবে না, যদি অপরাধটি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডনীয় হয়।

৬৬। অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদন্ডের বর্ণনা

অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রদত্ত কারাদণ্ডের ধরন, অপরাধটির জন্য অপরাধীকে যে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যেত সেরূপ হৰে।

৬৭। কেবল অর্থদন্ডে দন্ডার্হ অপরাধের ক্ষেত্রে অর্থদন্ড অনাদায়ে কারাদন্ড

অপরাধটি যদি শুধু অর্থদণ্ড কর্তৃক দণ্ডনীয় হয়, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত যে কারাদণ্ডের আদেশ দিবেন, তা বিনাশ্রম হবে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ের জন্য আদালত অপরাধীকে যে মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দিবেন, তা নিম্নে নির্দেশিত বিভিন্ন পরিমাণের অধিক হবে না, যথা: অর্থদণ্ডের পরিমাণ পঞ্চাশ টাকার বেশি না হলে, অনূর্ধ্ব দুই মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে; অর্থদণ্ডের পরিমাণ একশত টাকার অধিক না হলে, অনতিরিক্ত চার মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ; এবং এতদ্ব্যতীত অপর যে কোন ক্ষেত্রে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদ ।

৬৮। অর্থদন্ড আদায় করিলে কারাদন্ডের সমাপ্তি হইবে

যে অর্থদণ্ড অনাদায়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সে অর্থদণ্ড প্রদত্ত হলে অথবা আইনগত কার্যক্রমের মাধ্যমে আদায়ীকৃত হলে আসামীর কারামুক্তি হবে।

৬৯। অর্থদন্ডের আনুপাতির অংশ আদায় করা হইলে কারাদন্ডের সমাপ্তি হইবে

যদি অর্থদন্ড অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বে অর্থদণ্ডেও এমন একটি আনুপাতিক অংশ প্রদত্ত অথবা আদায়ীকৃত হয় যে, অর্থদণ্ডে ও অনাদায়ের জন্য প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের যে অংশ উত্তীর্ণ হয়েছে, তা অর্থদণ্ডে ও এখনও অপ্রদত্ত বা অনাদায়ীকৃত অংশের সাথে আনুপাতিক হার অপেক্ষা কম নয়, তবে আসামীর কারামুক্তি হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক একশত টাকা অর্থ দণ্ডে এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে চার মাসের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়। এইক্ষেত্রে, কারাদণ্ডের একমাস উত্তীর্ণ হওয়ার আগে যদি অর্থদণ্ডের পচাত্তর টাকা । প্রদত্ত বা আদায়ীকৃত হয়, তবে প্রথম মাসটি উত্তীর্ণ হওয়ার সাথেই সাথেই ক-কে মুক্তি দেওয়া হবে। যদি প্রথম মাসটি উত্তীর্ণ হওয়ার সময় অথবা উহার পরবর্তী এমন কোন সময়, যখন পর্যন্ত ক কারারুদ্ধই আছে, পচাত্তর টাকা প্রদত্ত বা আদায়ীকৃত হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গেই ক-কে মুক্তি দেওয়া হবে। যদি কারাদণ্ডের দুই মাস উত্তীর্ণ হওয়ার পূর্বে পঞ্চাশ টাকা প্রদত্ত বা আদায়ীকৃত হয়, তবে দুই মাস উত্তীর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক-কে মুক্তি দেওয়া হবে। যদি উক্ত দুই মাস উত্তীর্ণ হওয়ার সময় অথবা উহার পরবর্তী এমন কোন সময়, যে পর্যন্ত ক কারারুদ্ধ আছে, পঞ্চাশ টাকা প্রদত্ত বা আদায়ীকৃত হয়, তবে সঙ্গে সঙ্গেই ক-কে মুক্তি দেওয়া হবে।

৭০। ছয় বৎসরের মধ্যে বা কারাবাসকালে আদায়যোগ্য অর্থদন্ডে দন্ডিত ব্যক্তির মৃত্যুর ফলে সম্পত্তি দায়মুক্ত হইবে না

অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ দণ্ডাদেশ দানের পরবর্তী ছয় বৎসরের মধ্যে যে কোন সময়ে আদায় করা যাবে, এবং উক্ত দণ্ডাদেশবলে অপরাধী যদি ছয় বৎসর হতেও দীর্ঘতর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে অর্থদণ্ড বা উহার কোন অপরিশোধিত অংশ উক্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে যে কোন সময়ে আদায় করা হবে; অপরাধীর মৃত্যুর পর তার যে সম্পত্তি তার দায় পরিশোধ আইনতঃ দায়গ্ৰস্ত হতে পারে, অপরাধীর মৃত্যুর ফলে অনুরূপ সম্পত্তি দায়মুক্ত হবে না।

৭১। কতিপয় অপরাধের সমবায়ে গঠিত অপরাধের শাস্তির সীমা

যখন কোন অপরাধ এমন কয়েকটি আনুষঙ্গিক অংশের সমন্বয়ে উদ্ভূত, যে আনুষঙ্গিক অংশগুলির প্রতিটিই স্বত্ব একটি অপরাধ, তখন অপরাধীকে তৎকর্তৃক অনুষ্ঠিত এইরূপ অপরাধগুলির একটি বেশি অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের অধিক দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে না, যদি না স্পষ্টত: তদ্রুপ বিহিত হয়।

যখন কোন অপরাধ, অপরাধের সংজ্ঞা নির্দেশ বা দণ্ডদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সময়ে বলবৎ কোন আইনের দুই বা ততোধিক সংজ্ঞায় পড়ে, অথবা যখন কয়েকটি কাজের মধ্যে কোন একটি বা একাধিক কাজ স্বত্বঃ বা স্বতন্ত্রভাবে একটি অপরাধ হয়, কিন্তু সবগুলির সম্মিলনে একটি ভিন্ন অপরাধ হয়,

তখন অপরাধীর বিচারকারী আদালত অনুরূপ অপরাধগুলির যে কোন একটির জন্য যতটা কঠোর সাজা দিতে পারেন, অপরাধীকে তার চেয়ে কঠোরতর সাজায় সাজাপ্রাপ্ত করবেন না।

উদাহরণসমূহ – Illustrations :

(ক) ক চ-কে পঞ্চাশ ঘা বেত মারে। ক একইভাবে সম্পূর্ণ প্রহার দ্বারা ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে আহত করেছে, আবার আলাদাভাবে পঞ্চাশটি ঘায়ের প্রতিটি ঘা দ্বারাও ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে আহত করেছে। যদি প্রতিটি ঘায়ের জন্য আলাদা আলাদাভাবে বিচার করা হয় এবং প্রতিটি ঘায়ের জন্য এক বৎসর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তবে পঞ্চাশটি ঘায়ের জন্য ক-কে পঞ্চাশ বৎসর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে। কিন্তু তা না করে তাকে (ক-কে) সম্পূর্ণ প্রহারের জন্য একটিমাত্র দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

(খ) কিন্তু ক যখন চ-কে প্রহার করছে তখন যদি ছ এসে তাতে বাধা দেয় এবং ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে ছ-কেও প্রহার করে তবে চ-কেও ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার জন্য ক যে অপরাধ সংঘটন করে ছ-কে প্রহার করার কাজটি সে একই অপরাধের অঙ্গীভূত বা অংশবিশেষ হবে না। সুতরাং এই ক্ষেত্রে কচ-কে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার জন্য একটি দণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং ছ-কে প্রহার করার জন্য অপর আরেকটি দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৭২। কতিপয় অপরাধের একটির জন্য দোষী ব্যক্তির শাস্তি- ইহা কি সম্পর্কে, রায়ে তাহার সন্দেহ প্রকাশকরণ

যেক্ষেত্রে এই মর্মে রায় দেওয়া হয় যে, কোন ব্যক্তি রায়ে উল্লেখিত কয়েকটি অপরাধের মধ্যে কোন একটির জন্য অপরাধী, কিন্তু উল্লেখিত অপরাধগুলির মধ্যে ঠিক কোনটির জন্য উক্ত ব্যক্তি অপরাধ তৎসম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেক্ষেত্রে যদি সবকয়টি অপরাধের জন্য একইরূপ দণ্ডের বিধান না থাকে, তবে যে অপরাধটির জন্য বিহিত সাজা সবচাইতে কম অপরাধীকে সে অপরাধটির জন্যই দণ্ডিত করতে হবে।

৭৩। নির্জন কারাবাস

যদি কোন ব্যক্তিকে এমন কোন অপরাধের জন্য দণ্ডিত করা হয়, যে অপরাধের জন্য আদালত এই আইনবলে তাকে সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারেন তবে, আদালত তার দণ্ডাজ্ঞার মাধ্যমেই আদেশ করতে পারবেন যে অপরাধীকে তার বিরুদ্ধে প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদের কোন অংশবিশেষের বা কয়েকটি অংশের জন্য-যা সর্বসাকুল্যে তিন মাসের বেশি হতে পারবে না-নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কতসময়ের জন্য অপরাধীকে নির্জন কারাবাসে আবদ্ধ রাখা হবে তা নিম্নে নির্দেশ করা যাচ্ছে:

কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মসের অধিক না হলে অনধিক এক মাস পর্যন্ত;

কারাদণ্ডের মেয়াদ ছয় মাসের অধিক কিন্তু এক বৎসরের অনধিক হলে অনধিক দুই মাস পর্যন্ত;

কারাদণ্ডের মেয়াদ এক বৎসরের অধিক হলে অনধিক তিন মাস পর্যন্ত ।

৭৪। নির্জন কারাবাসের সীমা

নির্জন কারাবাস আদেশ কার্যকরীকরণে অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদ কোন ক্ষেত্রেই একাদিক্রমে ১৪ দিনের বেশি হবে না এবং কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদও কারাবাসের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না; প্রদত্ত কারাদণ্ডের মেয়াদ তিন মাসের বেশি হলে প্রদত্ত কারাদণ্ডের সমগ্র মেয়াদের মধ্যে কোন এক মাসে নির্জন কারাবাসের মেয়াদ সাত দিনের বেশি হবে না এবং অনুরূপ কারাবাসের মেয়াদসমূহের মধ্যবর্তী বিরতিকালের মেয়াদ অপেক্ষা কম হবে না।

৭৫। পূর্ববর্তী দন্ডের পরে ১২শ পরিচ্ছেদের বা ১৭শ পরিচ্ছেদের অধীনে কতিপয় অপরাধের জন্য বর্ধিত দন্ড

কোন ব্যক্তি যদি -(ক) বাংলাদেশের কোন আদালত দ্বারা এই বিধির দ্বাদশ অধ্যায়ের অথবা সপ্তদশ অধ্যায়ের বিধানমতে দণ্ডনীয় কোন অপরাধের জন্য তিন বৎসর বা তদূৰ্ব্ব মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার পর, কিংবা

(খ) বাতিল ।

উক্ত দুইটি অধ্যায়ের কোন একটির বিধানমতে অনুরূপ মেয়াদের অনুরূপ কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ প্রতিটি পরবর্তী অপরাধের জন্য যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

৭৬। আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলিয়া বিশ্বাসকারী ব্যক্তি বিশেষে কর্তৃক সম্পাদিত কার্য

যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশতঃ কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।

উদাহরণসমূহ – Illustrations 

(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।

(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা কি উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর ‘খ’-কে ’ম’ মনে করে "খ"-কে গ্রেফতার করেন। ’ক’ কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।

৭৭। বিচার-সম্পর্কিত কার্য পরিচালনাকালে বিচারকের কার্য

বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।

৭৮। আদালতের রায় বা আদেশের অনুস্বরণে সম্পাদিত কার্য

কোন আদালতের নির্দেশক্রমে অথবা কোন আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী উক্ত রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না যদি উক্ত কাজটি সম্পন্নকারী ব্যক্তি সরল মনে বিশ্বাস করে থাকে যে, আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার রয়েছে।

৭৯। আইন সমর্থিত বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইন সমর্থিত বলিয়া বিশ্বাসকারী ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত কার্য

আইনত ন্যায়সঙ্গতভাবে কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত কাজ অথবা আইনগত ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত আইনত ন্যায়সঙ্গত বলে সরল মনে বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত ণাণ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক গ-কে এমন একটি কার্য করতে দেখে যা তার কাছে খুন বলে মনে হয়। আইনে সকলকেই খুনীকে হত্যাকার্যেরত দেখলে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাই স্ক তার সুচিন্তিত বিচার মতে সরল বিশ্বাসে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে গ-কে আটক করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত করে। ক-এর এই কাজটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় যে, গ যা করতেছিল, তা আত্মরক্ষার জন্যই করতেছিল।

৮০। আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে দুর্ঘটনা

কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক একটি কুড়াল দিয়ে কার্য করছে। হঠাৎ কুড়ালটি বাটি হতে খুলে গিয়ে নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এই ক্ষেত্রে ক যদি কুড়ালটি নিয়ে কার্য করার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে তবে তার কাজটি ক্ষমার্হ্য হবে এবং উহা অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

৮১। সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূক অভিপ্রায় ব্যতিরেকে এবং অন্যবিধ ক্ষতি নিবারণকল্পে সম্পাদিত

কোন কাজ শুধু ক্ষতিসাধন করতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও উহা করার ফলেই অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে না যদি কাজটি ক্ষতিসাধন করার জন্য কোনরূপ অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত না হয়ে থাকে এবং উহা শরীরের বা সম্পত্তির অপর কোনরূপ ক্ষতি নিবারণ বা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত হয়ে থাকে। 

ব্যাখ্যা (Explanation):-

যে ক্ষতিটি নিবারণ বা প্রতিরোধ করতে হবে, উহা এতই আসন্ন বা প্রকট ছিল কিনা এবং উহা এমন প্রকৃতির ছিল কিনা যার ফলে, সম্পাদিত কাজটি ক্ষতি করতে পারে জানা সত্ত্বেও উহা করা বা করার মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ মার্জনীয় হবে, বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটির মীমাংসা করতে হবে।

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) ক একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন। সে তার কোন ক্রটি বা কর্তব্যে অবহেলা ব্যতীতই এমন অবস্থায় এসে পৌছায়, যেক্ষেত্রে সে জাহাজটি থামাবার আগেই উহার গতি পরিবর্তন না করলে ২০/৩০ জন আরোহী বিশিষ্ট নৌকা খ উহা ধাক্কা লেগে ডুবে যাবে, এবং গতি পরিবর্তন করলে মাত্র ২ জন আরোহী বিশিষ্ট নৌকা গ জাহাজের ধাক্কায় ডুবিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়, যদিও নৌকাটি গ নাও ডুবাতে পারে। এই ক্ষেত্রে যদি ক, ন নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়ার অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া এবং খ নৌকাটির আরোহীদের আসন্ন বিপদ এড়াবার আন্তরিক সদিচ্ছায় তার জাহাজের গতি পরিবর্তন করে, তবে উক্ত কাজটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যদিও তার এই কাজের ফলে গ নৌকাটি ডুবে (যা গ নৌকাটি ডুবে যেতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যেরই ফল)- যদি প্রকৃত পরিস্থিতি বা বাস্তব ঘটনা হতে এইরূপ সাব্যস্ত হয় যে, বিপদটি সে এড়াতে চেয়েছিল, তা এমনই প্রকৃতির এবং এতই অত্যাসন্ন ছিল যে, তার পক্ষে জাহাজের গতি পরিবর্তন করে গ নৌকাটি ডুবাবার ঝুঁকি নেওয়া সত্যই ক্ষমার যোগ্য ছিল।

(খ) একটি প্রচণ্ড অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ক সন্নিহিত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলে। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার আন্তরিক সদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই সে এই ব্যবস্থা অবলম্বন করে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনান্তে যদি এইরূপ সাব্যস্ত বা প্রতিপন্ন হয় যে, সম্ভাব্য বা আসন্ন ক্ষতি নিবারণ করার উদ্দেশ্যে সে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সে সম্ভাব্য বিপদের দিক হতে তার গৃহীত ব্যবস্থা ক্ষমানীয়, তা হলে ক সংশ্লিষ্ট অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে না।

৮২। নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কর্য

নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

৮৩। নয় বৎসরের অধিক বয়স্ক ও বার বৎসরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ শক্তিসম্পন্ন শিশুর কার্য

নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।

৮৪। অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য

এমন কোন ব্যক্তির কোন কার্যই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় তার মনে অসুস্থতা (Unsoundness) বশতঃ কাজটি যে অন্যায় অথবা আইনবিরুদ্ধ, তা বুঝতে অসমর্থ ছিল।

৮৫। অনিচ্ছাকৃত প্রমত্ততার কারণে বিচারশক্তি রহিত ব্যক্তির কার্য

এমন কোন ব্যক্তির কোন কার্যই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় নেশার ফলে কার্যটির প্রকৃতি অনুধাবনে অক্ষম বা অপারগ ছিল অথবা কাজটি যে অন্যায় অযথা আইনবিরুদ্ধ তা বুঝতে অসমর্থ ছিল;

তবে শর্ত এই যে, যে বস্তুটি তাকে নেশাগ্রস্ত বা মত্ত করেছিল, সে বস্তুটি তার অগোচরে অথবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেওয়া হয়েছিল বা তার উপর প্রয়োগ করা হয়েছিল।

৮৬। যে অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য বা জ্ঞানের প্রয়োজন রহিয়াছে উন্মত্ত ব্যক্তি কর্তৃক সেই অপরাধ অনুষ্ঠান

যেসব ক্ষেত্রে কোন কাজ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে না করলে বা বিশেষ জ্ঞানসত্ত্বে না করলে উহা অপরাধ হয় না। সেসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উক্ত কাজটি করলে সে ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না থাকলে যেভাবে করত, ঠিক সেভাবেই উক্তরূপ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই বা বিশেষ জ্ঞানসত্ত্বেই উক্ত কাজটি করেছে বলে ধরে নিয়ে তার বিচার করতে হবে-তবে যে বস্তুটি তাকে নেশাগ্রস্ত করেছে, সে বস্তুটি তার অগোচরে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেওয়া হয়ে থাকলে বা তার উপর প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে ইহার অন্যথা হবে।

৮৭। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটাইবার জন্য অভিপ্রেত নহে, এবং অনুরূপ সম্ভাবনাপূর্ণ বলিয়া অজ্ঞাত কার্য সম্মতি সহকারে সম্পাদন করা

মৃত্যু ঘটাবার অথবা গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত নয়, অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে বা গুরুতর আঘাত করতে পারে এইরূপ না জেনে সম্পাদিত কোন কাজ করার পর উহাতে কোন ক্ষতি হওয়ার ফলে অপরাধ হবে না; অথবা ১৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরূপ কাজের ফল হতে উদ্ভূত ক্ষতি স্বীকার করার সম্মতিদানের পর, তার সম্মতি নিয়ে উক্তরূপ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না; অথবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে, সে ব্যক্তি কাজটি করার ফলে ক্ষতি অনুষ্ঠিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারে সম্মতিক্রমে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক ও চ আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে অসি চালনা বা তরবারি খেলা খেলতে সম্মত হয়। তাদের এইরূপ মনস্থ করার মধ্যেই তরবারি খেলার সময় অনুষ্ঠিত অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি স্বীকারের জন্য উভয়ের অপ্রকাশিত সম্মতি নিহিত আছে। কাজেই তরবারি খেলার সময় ক যদি খেলার নিয়মমত খেলে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে চ-কে আহত করে, তবে উহা অপরাধ হবে না।

৮৮। মৃত্যু ঘটাইবার জন্য অভিপ্রেত নহে এমন কার্য ব্যক্তি বিশেষের উপকারার্থ সদবিশ্বাসে সম্মতি সহকারে সম্পাদন

যে ব্যক্তির উপাকার হবে বলে আন্তরিক সদিচ্ছা বা সরল বিশ্বাস হতে কোন কাজ উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত কার্যভূত ক্ষতি স্বীকার বা ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারমূলক সম্মতিক্রমে মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য ছাড়া উক্ত ব্যক্তির উপকারার্থে সম্পন্ন হয়-কার্যটি সম্পাদনের পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি সাধিত হওয়ার ফলে অথবা যিনি কাজটি সম্পন্ন করলেন, তিনি উহাতে যে ক্ষতি করার ইচ্ছা করেছিলেন, যে ক্ষতি হওয়ার ফলে অথবা যিনি কাজটি সম্পন্ন করলেন, উহাতে সম্ভবত: সে ক্ষতি হতে পারে বলে জানতেন, তা হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন অস্ত্র চিকিৎসক। চ কঠিন রোগে আক্রান্ত রোগী। চ-এর রোগ নিরাময়ের জন্য একটি বিশেষ ধরনের অস্ত্রোপচার করা আবশ্যকীয় বলে ক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি জানেন যে, অস্ত্রোপচারটির ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটতে পারে। তিনি চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য না রেখে, বরং চ-এর উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা বা সরল বিশ্বাস হতে তার (চ-এর) সম্মতি নিয়ে তাকে অস্ত্রোপচার করেন। ক-এর কাজ অপরাধ হবে না।

৮৯। অভিভাবক কর্তৃক বা তাহার সম্মতিক্রমে শিশু বা অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কার্য

বার বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন ব্যক্তির অথবা অপ্রকৃতিস্থ কোন ব্যক্তির উপকার করার জন্য আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে উক্ত ব্যক্তির অভিভাবক দ্বারা সম্পাদিত কার্য কিংবা উক্ত ব্যক্তির অভিভাবকের বা আইনানুগভাবে উক্ত ব্যক্তি সম্পর্কে দায়িত্বসম্পন্ন অপর কারো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্মতিক্রমে কৃত কার্য করার ফলে কোন ক্ষতি হয়ে থাকলে সে ক্ষতির ফলে, কিংবা যিনি কার্যটি করেছিলেন তিনি কাজটির ফলে যে ক্ষতি হবে বলে ইচ্ছা করেছিলেন সে ক্ষতিটি হওয়ার ফলে অথবা যিনি কার্যটি করেছিলেন তিনি কার্যটি করার ফলে যে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানতেন, সে ক্ষতিটি হওয়ার ফলে-অপরাধ হবে না; এই শর্তে যে-

প্রথমত (First): এই ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটাবার অথবা মৃত্যু ঘটাবার চেষ্টার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না,

দ্বিতীয়ত (secondly): এই ব্যতিক্রম যে ব্যক্তি কার্যটি করলেন, সে ব্যক্তি যদি জানতেন যে, কার্যটি করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, তবে সম্ভাব্য মৃত্যুরোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বা সম্ভাব্য গুরুতর আঘাত এড়াবার উদ্দেশ্য ছাড়াই অথবা কোন মারাৱক রোগ নিরাময় বা অশক্তি নিবারণের উদ্দেশ্য ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে কার্যটি করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

তৃতীয়ত (Thirdly): এই ব্যতিক্রম মৃত্যু রোধ করার উদ্দেশ্য ছাড়াই বা গুরুতর আঘাত এড়াবার উদেশ্য ছাড়াই অথবা কোন মারাত্মক রোগ নিরাময় বা অশক্তি নিবারণের উদেশ্য ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করলে বা করার চেষ্টা করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

চতুৰ্থত (Fourthly): এই ব্যতিক্রম যে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না সে কাজ করতে সহায়তা করার বা যোগসাজশের ক্ষেত্রেও এই ব্যতিক্রমটি প্রয়োগযোগ্য হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক তার শিশুর সন্তানের উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে সন্তানটির সম্মতি ব্যতিরেকেই একজন অস্ত্রচিকিৎসককে দিয়ে পাথর বাহির করানোর উদ্দেশ্যে তার শিশুকে অস্ত্রোপচার করায়। ক-এর জানা ছিল যে উক্ত অন্ত্রোপচারের ফলে শিশুটির মৃত্যু ঘটতে পারে, কিন্তু শিশুকে মারার অভিপ্রায়ে কাজটি করা হয় নাই। যেহেতু শিশুটিকে নিরোগ করাই ছিল তার উদ্দেশ্য সেহেতু এক্ষেত্রে ক ব্যতিক্রমের আওতাধীন হবে।

৯০। ভীতি বা ভ্রান্ত ধারণার অধীনে প্রদত্ত বলিয়া বিদিত সম্মতি

যদি ক্ষতির ভয়ে বা তথ্যের ভ্রান্ত বর্ণনার কারণে কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্মতি প্রদত্ত হয় এবং যদি উক্ত কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তি জানে কিংবা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, তবে উক্ত সম্মতি অনুরূপ ভীতি কিংবা ভ্রান্ত ধারণার ফলে প্রদত্ত হয়েছিল তা হলে; অথবা

অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির সম্মতি (Consent of insane person):-

যদি সম্মতি এইরূপ কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রদত্ত হয়, যে ব্যক্তি অপ্রকৃতিস্থতা কিংবা প্ৰমত্ততার কারণে সে যাতে সম্মতি দান করে তার প্রকৃতি বা পরিণতি হৃদয়ঙ্গম করতে অক্ষম তা হলে; অথবা

শিশুর সম্মতি (Consent of child):-

প্রসঙ্গ অনুরূপ না বুঝালে যদি উক্ত সম্মতি বার বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রদত্ত হয়, তা হলে কোন সম্মতি এই বিধির যে কোন ধারায় অভিষ্ট কোন সম্মতি বলে পরিগণিত হবে না।

৯১। যেই সকল কার্য সাধিত ক্ষতি হইতে স্বতন্ত্রভাবে অপরাধ বলিয়া গণ্য সেই সকল কার্য বর্জন

যেসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য যে ব্যক্তি সম্মতি দেয় বা যার স্বপক্ষে দেওয়া হয় তার ক্ষতি করতে পারে অথবা তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত অথবা তার ক্ষতি হবে বলে জেনে সম্পাদিত কিন্তু উক্তরূপ সম্ভাব্য, উদ্দিষ্ট বা জ্ঞাত ক্ষতি না হলেও কার্যটি অপরাধমূলক বলে গণ্য হয়-সেই সব কাজের ক্ষেত্রে ৮৭, ৮৮ ও ৮৯ ধারাত্রয়ে উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলো প্রয়োগযোগ্য নয়।

উদাহরণ

Illustration

প্রসূতির জবন রক্ষার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে সংঘটন ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে গর্ভপাতের ফলে প্রসূতির যে ক্ষতি হতে পারিত বা প্রসূতির যে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গর্ভপাত করানো হয়েছে প্রসূতির সে ক্ষতিটি না হলেও একটি অপরাধ। সুতরাং এই কাজটি ‘অনুরূপ ক্ষতির অজুহাতে’ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, অর্থাৎ এই কার্যটির অপরাধজনকতা ‘অনুরূপ ক্ষতি সাধন সাপেক্ষ’ নয়। কাজেই, প্রসূতির বা তার অভিভাবকের সম্মতি অনুরূপ গর্ভপাত ঘটাবার যৌক্তিকতা প্রতিপাদন করবে না।

৯২। সম্মতি ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কার্য

যদি কোন ব্যক্তির উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে উক্ত ব্যক্তির বিনা সম্মতিতে সম্পাদিত কাজের ফলে তার কোনরূপ ক্ষতি হয়, তবে উক্ত ক্ষতি হয়েছে বলে কার্যটি অপরাধ হবে না-যদি কাজটি সম্পাদনকালে বাস্তব অবস্থাবলি এমন হয়ে থাকে যে, সে অবস্থায় উক্ত ব্যক্তির পক্ষে কাজটি করায় সম্মতি জ্ঞাপন করা অসম্ভব ছিল, অথবা সে ব্যক্তি সম্মতিদানে অপরাগ ছিল এবং তার এমন কোন অভিভাবক বা তার সম্পর্কে আইনসম্মত দায়িত্বসম্পন্ন অপর কোন ব্যক্তি ছিল না; যার নিকট থেকে উক্ত ব্যক্তির মঙ্গলার্থে যে কার্যটি করা হচ্ছে, সে কাজে যথাসময়ে সম্মতি নেয়া সম্ভব ছিল:

তবে শর্ত থাকে যে-

প্রথমত (First):-

এই ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটালে সে ক্ষেত্রে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটাবার চেষ্টা করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

দ্বিতীয়ত (Secondly):-

এই ব্যতিক্রম যে কাজটি সম্পাদনের ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে বলে কাজটি সম্পাদনকারী জানে, সে কাজটি যদি মৃত্যু নিরোধের বা গুরুতর আঘাত এড়াবার কিংবা কোন মারাত্মক রোগ নিরাময়ের বা অশক্তি বিদূরণের উদ্দেশ্য ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে সম্পাদন হয়, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

তৃতীয়ত (Thirdly):-

এই ব্যতিক্রম মৃত্যু নিরোধের বা আঘাত এড়াবার উদ্দেশ্য ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা অথবা আঘাত করার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

চতুর্থত (Fourthly):-

এই ব্যতিক্রম যে অপরাধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না, সে অপরাধ করতে সহায়তার বা যোগসাজশের ক্ষেত্রেও এই ব্যতিক্রম প্রয়োগযোগ্য হবে না।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ ঘোড়ার উপর থেকে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যায়। ক একজন অস্ত্রচিকিৎসক। তিনি চ-কে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তার মাথার খুলতে অন্ত্রোপচার করে চিকিৎসা করা আশু আবশ্যক। তদানুসারে ক চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার উপকার হবে এইরূপ আন্তরিক সদিচ্ছায় বা সরল বিশ্বাসে চ-এর স্বয়ং বিচার করার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আগেই তার মাথার খুলতে অস্ত্রোপচার করেন। কএর কাজটি অপরাধ বলে বিবেচনা হবে না।

(খ) গুলির ফলে চ নিহত হতে পারে জেনেও বাঘের কবলে পতিত চ-কে নিহত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাকে বাঘের কবল হতে উদ্ধার করার বা বাচাবার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে ক বাঘটির প্রতি গুলিবর্ষণ করে। গুলির ফলে চ গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হয়। ক-এর এইরূপ গুলিবর্ষণ অপরাধজনক হবে না।

(গ) ক একজন সার্জন। তিনি একটি শিশুকে দুর্ঘটনায় পতিত হতে দেখেন এবং শিশুটিকে পরীক্ষা করে দেখেন যে, দুর্ঘটনার ফলে শিশুটি এমন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে যে, অবিলম্বে শিশুটির উপর অস্ত্রোপচার না করলে তার মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতিটি এমন যে শিশুটির অভিভাবকের অনুমতি প্রার্থনার অবকাশ নাই বা শিশুটির উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে তিনি শিশুটির কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও তার উপর অস্ত্রোপচার করেন। ক-এর কাজটি অপরাধ নয়।

(ঘ) একটি বাড়িতে আগুন ধরেছে। বাড়ির মধ্যে রয়েছে ক ও একটি শিশু চ। নিচে কয়েকজন ব্যক্তি একটি কম্বল ধরে থাকে। ক কম্বলটি লক্ষ্য করে ছুড়ে ফেলার ফলে শিশুটির যে মৃত্যু ঘটতেও পারে, ক তা জানত। কিন্তু শিশুটিকে নিহত করার জন্য নয়, তাকে বাচাবার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকেই ক তাকে কম্বলের উপর ছুড়ে ফেলে। ক-এর কাজটি অপরাধ হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation)- ৮৮, ৮৯ ও ৯২ ধারা তিনটির অর্থ অনুসারে, কেবলমাত্র আর্থিক উপকার কোন উপকারই নয়।

৯৩। সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ

কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। কএর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

৯৪। যে কার্য করিবার জন্য ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন ব্যক্তিকে বাধ্য করা হয়

খুন এবং মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ ছাড়াই ভীতি প্রদর্শনের ফলে ভীত ও বাধ্য হয়ে কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত অন্য কোন কাজ অপরাধমূলক হবে না-যদি যে কার্যটি করতে উক্ত ব্যক্তিকে বাধ্য করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সে কার্যটি করার সময়, প্রদত্ত ভীতি প্রদর্শন এমন ধরনের ছিল যে, তার পরিণাম হবে উক্ত ব্যক্তির আসন্ন মৃত্যু।

তবে শর্ত থাকে যে, ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে যে ব্যক্তি উক্ত কার্যটি করেছিল সে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় অথবা আসন্ন মৃত্যু ছাড়া তার অপর কোন ক্ষতির ন্যায়সংগত আশঙ্কায় নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে নিপতিত করে নাই, যার ফলে সে উক্তরূপ হুমকির সম্মুখীন হয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায়, অথবা প্রহৃত হওয়ার ভীতির ফলে, একটি ডাকাতদলের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও উহার সাথে যোগদান করে, সে ব্যক্তি তার অপরাধের সহচরের তাড়নায়ই কোন আইন বিরুদ্ধ অপরাধ করতে বাধ্য হয়েছে-এই যুক্তিতে এই ব্যতিক্রমটির সুযোগ গ্রহণের অধিকারী হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- একটি ডাকাতদল দ্বারা ধৃত এবং আসন্ন মৃত্যুর ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে আইনানুসারে অপরাধমূলক কোন কাজ সম্পন্নকারী ব্যক্তি এই ব্যতিক্রমে বিহিত সুবিধা বা অব্যাহতি লাভের অধিকারী হবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ: একজন কর্মকার ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে তার যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি বাড়ির দরজা ভেঙ্গে দেয়, যাতে ভীতিপ্রদর্শনকারী ডাকাতদল বাড়িতে ঢুকে লুটতরাজ করতে পারে। কর্মকার এই ব্যতিক্রমের বিধান অনুযায়ী অব্যাহতি লাভ করবে।

৯৫। সামান্য ক্ষতিকারক কার্য

সামন্য ক্ষতিকারক যে কার্যে সাধারণ বোধ ও মেজাজ সম্পন্ন কোন ব্যক্তি ক্ষতির অভিযোগ করবে না, এমন কোন কাজ অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না-যদিও কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতিসাধিত হয় বা কাজটি অনুরূপ ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়, অথবা কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতি হতে পারে বলে উহার সম্পন্নকারীর জানা থাকে।

৯৬। ব্যাক্তিগত আত্নরক্ষার কৃত বিষয়সমূহ

আত্নরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগজনিত কোন কার্যই অপরাধ নয়।

৯৭। শরীর ও সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত অধিকার

৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিরই –

প্রথমত (Firstly):- মানবদেহ বিষয়ক কোন অপরাধের বিরুদ্ধে তার নিজের দেহ এবং অপর যে কোন ব্যক্তির দেহু রক্ষা করার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে

দ্বিতীয়ত (secondly):- এমন কোন অপরাধজনক কাজের বিরুদ্ধে তার নিজের বা অপর যে কোন ব্যক্তির স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে ত্বে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের সংজ্ঞানুসারে একটি অপরাধ, অথবা যে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের প্রয়াসস্বরূপ।

৯৮। অপ্রকৃতিস্থ ইত্যাদি ব্যক্তির কার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার

কোন ব্যক্তি অল্পবয়স্কতা, বুদ্ধির অপরিণতি, মনে অপ্রকৃতিস্থতা বা নেশার ঘোরে যে কার্যটি করছে বা তার কোনরূপ ভ্রান্ত ধারণার ফলে যে কার্যটি করছে সে কার্যটি যদি অন্যথায় অপরাধমূলক হয়, কিন্তু উক্ত অবস্থায় করছে বলে অথবা উক্তরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে করছে বলে কার্যটি সেরূপ অপরাধমূলক নয়-এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কার্যটি যথার্থই অপরাধমূলক হলে যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত প্রত্যেক ব্যক্তিরই সেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ তার মস্তিষ্ক বিকৃতির ফলে ক-কে হত্যা করার চেষ্টা করে। এইরূপ হত্যার চেষ্টার জন্যও অপরাধী হবে না। কিন্তু চ সুস্থ মস্তিষ্ক হলে তার বিরুদ্ধে ক-এর যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত, এইক্ষেত্রে ক-এর সেরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে।

(খ) ক রাত্রিবেলা একটি গৃহে প্রবেশ করে। গৃহটিতে প্রবেশে তার আইনসম্মত অধিকার আছে। চ সরল বিশ্বাসে ক-কে চোর ভেবে তাকে আক্রমণ করে। এই ক্ষেত্রে চ এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে ক-কে আক্রমণ করে কোন অপরাধ সম্পাদন করে নাই। কিন্তু চ এইরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী না হয়ে তাকে আক্রমণ করলে ক-এর যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত, এই ক্ষেত্রে তার ঠিক সেরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে ।

৯৯। যেসব কর্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার নাই

সুক্ষ্ণবিচারে আইনসঙ্গত না হলেও কোন সরকারী কর্মচারী তার সরকারী পদমর্যাদাবলে সদুদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে কোন কার্য করলে বা করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর উক্ত কাজে বা কার্যের প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা দেখা না দেয়।

সুক্ষ্মবিচারে আইনসঙ্গত না হলেও কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী পদমর্যাদা বলে ও আন্তরিক সদিচ্ছা প্রণোদিত ভাবে প্রদত্ত নির্দেশ অনুযায়ী সম্পাদিত কাজ বা কাজ করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পাদিত কার্যটিতে বা কাজটি করার প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা দেখা না দেয়।

যেসব ক্ষেত্রে সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নেয়ার সময় থাকে, সেসব ক্ষেত্রে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না।

অধিকার প্রয়োগের সীমা (Extend to which the right may be exercised): আত্মরক্ষার জন্য যতদূর পর্যন্ত ক্ষতিসাধন করা আবশ্যকীয়, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি তার চেয়ে অধিক ক্ষতিসাধনে প্রয়োগযোগ্য নয়।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন সরকারী কর্মচারী স্বীয় পদমর্যাদাবলে কোন কাজ নির্বাহকালে বা কার্যনির্বাহের চেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে সরকারী কর্মচারী বলে না জানে অথবা তিনি যে সরকারী কর্মচারী উক্ত ব্যক্তির এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ না থাকে তবে উক্ত ব্যক্তি আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার হতে বঞ্চিত হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমে কোন কাজ সম্পাদনকালে বা কাজটি সম্পাদনের চেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি না জানে যে, যে ব্যক্তি কাজটি করছে বা কাজটি করার চেষ্টা করছে সে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমেই কাজটি করছে কিংবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে সে ব্যক্তি যে কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমেই কাজটি করছে-এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ না থাকে কিংবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে সে ব্যক্তি যদি কোন ক্ষমতাবলে সে কাজটি করছে তা না জানায় অথবা লিখিতভাবে সে কোন ক্ষমতা লাভ করে থাকলে দেখতে চাওয়া সত্ত্বেও তা না দেখায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার হতে বঞ্চিত হবে না।

১০০। যেক্ষেত্রে দেহের ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়

উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারণাটিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে দেহ রক্ষার প্রয়োজনে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের মৃত্যু সংঘটন বা অপর যে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করা যেতে পারে যদি যে অপরাধটির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করার আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে সে অপরাধটি নিম্নোক্ত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়। যথা:-

প্রথমত (First):- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষামূলক অধিকারের অবাধ প্রয়োগ না করলে সে আঘাতে সে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

দ্বিতীয়ত (Secondly):- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, প্রতিরোধ না করলে সে আঘাতের বা আক্রমণের ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

তৃতীয়ত (Thirdly):- ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

চতুর্থত (Fourthly):- অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

পঞ্চমত (Fifthly):- শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাত;

ষষ্ঠত (sixthly):- কোন ব্যক্তিকে অন্যায় বা বেআইনীভাবে আটক করার উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতিতে তার উপর হামলা, যে পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবেই সে ব্যক্তির মনে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, সে মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নিতে সমর্থন হবে না।

১০১। যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য যেকোন ক্ষতির প্রতি প্রযোজ্য হয়

অপরাধটি যদি উপযুক্ত সর্বশেষ ধারাটিতে বর্ণিত কোন প্রকারের না হয়, আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে ৯১ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন ছাড়াই অপর যে কোন প্রকারের ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য।

১০২। দেহের ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকাল

দেহের প্রতি বিপদের চেষ্টার বা ভিতি প্রদর্শনের ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবে দেহের প্রতি বিপদের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়, যদিও অপরাধটি প্রকৃতই সম্পাদিত না হয়ে থাকে, এবং দেহের প্রতি বিপদের উক্তরূপ ন্যায়সঙ্গত সম্ভাবনা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অধিকারটি বলবৎ থাকে।

১০৩। যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়

সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-

প্রথমত (First): দস্যুতা;

দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:

তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;

চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।

১০৪। যে ক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোন ক্ষতি সাধনের প্রতি প্রযোজ্য হয়

যে অপরাধটি করার বিরুদ্ধে বা যে অপরাধটি করার চেষ্টার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে, সে অপরাধটি যদি উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত কোন প্রকারের চুরি, ক্ষতিকর কাজ বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ হয়, তবে অনুরূপ অপরাধের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি স্বেচ্ছাক্রমে মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে না, তবে ৯৯ ধারায় বর্ণিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাক্রমে অপরাধীকারর মৃত্যু সংঘটন ছাড়াই অপর যে কোন ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে।

১০৫। সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকাল

কোন সম্পত্তির প্রতি ন্যায়সঙ্গতভাবেই বিপদের আশঙ্কার সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়। চুরির ক্ষেত্রে অপরাধটি করার সূচনা হতে অপরাধকারীর অপহৃত সম্পত্তি নিয়ে উধাও না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা লাভ না করা পর্যন্ত, কিংবা সম্পত্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চুরির বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে। অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জখম বা অন্যায় আটক সংঘটন করতে থাকে বা সংঘটন করার চেষ্টা করতে থাকে অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত আসন্ন মৃত্যু বা আসন্ন জখম বা আসন্ন আটকের সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত দস্যুতার বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে । অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক প্রবেশ বা অনিষ্টকর কাজ সম্পাদন করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বা অনিষ্টকর কাজের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে। রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে প্রবেশের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত অনরূপ ঘর ভেঙ্গে যে গৃহে অনধিকার প্রবেশকাৰ্য আরম্ভ হল তা চলতে থাকে।

১০৬। নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিসাধিত ইবার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে মারাত্নক আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার

যদি এমন একটি আঘাতের বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, যে আঘাত বা আক্রমণটি প্রতিরোধ না করলে তার ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবাৰ্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় এবং যদি এই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অধিকারটি প্রয়োগ প্রত্যাশী ব্যক্তি এমন অবস্থার সম্মুখীন হয় যে, কোন নিরাপরাধ ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি না নিয়ে সে অধিকারটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না, তবে সে ব্যক্তির আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি অনুরূপ ঝুঁকি গ্রহণ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক কে একদল ব্যক্তি খুন করার জন্য তাড়া করে। ক তাদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে কার্যকরভাবে তার আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না; কিন্তু গুলিবর্ষণ করলে কয়েকটি নির্দোষ শিশুর ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া গত্যন্তর নাই কারণ, কয়েকটি নির্দোষ শিশুও হত্যাপ্রয়াসী ব্যক্তিগুলির দলের সাথে মিশে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তবুও ক এর অপরাধ হবে না। 

১২০খ। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের শাস্তি

(১) কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ড, যাবজীবন কারাদণ্ড অথবা দুই বৎসর বা তদূধর্ব মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের জন্য পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে শরীক হয় এবং যদি এই বিধিতে অনুরূপ ষড়যন্ত্রের সাজা দানের জন্য কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে-সেই ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করলে তাকে যেভাবে সাজা প্রদান করা হত এই ক্ষেত্রেও তাকে সেভাবে সাজাদান করা হবে।

(২) কোন ব্যক্তি যদি উপযুক্ত দণ্ডসমূহের দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের জন্য পরিকল্পিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ছাড়াই অপর কোনরূপ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে শরীক হয় তবে-সেই ব্যক্তিকে অনধিক ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

১০৭। কোন অপরাধে সহায়তা

কোন ব্যক্তি কোন ব্যাপারে সহায়তা দান করেছে বলে পরিগণিত হয়, যদি সে ব্যক্তি-

প্রথমত (Firstly):- কোন ব্যক্তিকে উক্ত ব্যাপারে প্ররোচনা দেয়;

দ্বিতীয়ত (Secondly):- উক্ত কাজটি করার জন্য কোন ব্যক্তির বা ব্যক্তিদের সাথে কোন চক্রান্তে লিপ্ত হয়, যার ফলে চক্রান্ত অনুযায়ী কোন কাজ করা হয় অথবা কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থাকা হয় এবং উক্ত কাজ করার জন্যই তা করা হয়;

তৃতীয়ত (Thirdly):- কোন কাজ করে অথবা বেআইনীভাবে কোন কাজ করা হতে বিরত থেকে উপযুক্ত কার্যে ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক কোন বাস্তব গুরুত্বসম্পন্ন ঘটনার, যা প্রকাশ করতে সে বাধ্য-ভ্রান্ত বিবরণ প্রকাশ করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক উহা গোপন করে কোন কাজ করে বা করায় অথবা কোন কাজ করার বা করানোর চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সংঘটনে প্ররোচনা দেয় বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন সরকারী কর্মকর্তা | চ-কে গ্রেফতার করার জন্য তাকে একটি পরোয়ানার মারফত আদালত হতে ক্ষমতা দেওয়া হয়। খ এই বিষয়টি অবগত হয়ে এবং গ যে চ নয় সে সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক ক-এর কাছে গ-কে চ বলে পরিচয় দেয় এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক ক-কে দিয়ে গ-কে গ্রেফতার করায়। এই ক্ষেত্রে খ প্ররোচনা সংঘটনে সহায়তা করেছে বলে পরিগণিত হয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদনের সময় বা তার পূর্বে উক্ত কাজ সম্পাদন সুগমকল্পে কোন কিছু করে, এবং তদ্বারা উহার সম্পাদন সুগম করে, সে ব্যক্তি উক্ত কাজ সম্পাদনের সহায়তা করে বলে অভিহিত হবে।

১০৮। দুষ্কর্মে সহায়তাকারী

কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ করতে সহায়তা করে, অথবা এমন একটি কার্যে সহায়তা করে যে কাজটি সহায়তাকারীর মতো একই উদ্দেশ্য নিয়ে বা একই জ্ঞানের ভিত্তিতে যে ব্যক্তি আইনানুসারে প্রাপ্ত ক্ষমতাবলে উহা করতে সক্ষম সে ব্যক্তি করলে অপরাধ হত-তাহা হলে প্রথমোক্ত ব্যক্তি অপরাধ করতে সহায়তা ও প্ররোচনা দান করেছে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে সহায়তা করা বা প্ররোচনা দান করাও একটি অপরাধ, যদিও প্ররোচনাদাতা স্বয়ং কাজটি করতে বাধ্য নয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- প্ররোচনা অপরাধ প্রতিপন্ন হওয়ার জন্য যে কার্যে প্ররোচনা দান করা হয়েছে যথার্থই সে কাজটি সম্পন্ন হওয়া অথবা কার্যটির ফলে যে পরিণামের উদ্ভব হলে উহা অপরাধতুল্য হয় সে পরিমাণ উদ্ভূত হওয়া অবশ্য আবশ্যক নয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) গ-কে হত্যা করার জন্য ক খ-কে প্ররোচিত করে। খ হত্যা করতে অস্বীকার করে ক ও খ-কে হত্যার প্ররোচনা দান করার অপরাধে অপরাধী হবে।

(খ) ঘ-কে হত্যা করার জন্য ক খ-কে প্ররোচনা দেয়। ক-এর এই প্ররোচনার ফলে খ প্ররোচিত হয়ে ঘ-কে ছুরিকাঘাত করে। ঘ এই আঘাতে আহত হওয়ার পর আরোগ্য লাভ করে। খ-কে হত্যাপরাধ করতে প্ররোচিত করার অপরাধে ক অপরাধী হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- যে ব্যক্তিকে অপরাধ করতে সহায়তা করা হয় সে ব্যক্তি আইনত অপরাধ করতে সক্ষম হওয়ার, অথবা সে ব্যক্তির সহায়তাকারীর মতো একইরূপ অপরাধজনক উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকার অথবা তার কোনরূপ অপরাধজনক উদ্দেশ্য বা জ্ঞান থাকার আবশ্যক নাই।

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) ক একটি অপরাধজনক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে একটি শিশুকে অথবা একটি পাগলকে এমন একটি কাজ করতে সহায়তা করে যা আইনমতে অপরাধ সংঘটনে সক্ষম কোন ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে অনুষ্ঠিত হলে একটি অপরাধ হত। এই ক্ষেত্রে কাজটি করা হোক আর নাই হোক, ক একটি অপরাধ করার প্ররোচনা দানের জন্য অপরাধী হবে।

(খ) চ-কে খুন করার উদ্দেশ্যে ক সাত বৎসরের নিম্নবয়স্ক শিশু খ-কে এমন একটি কাজ করতে প্ররোচনা দেয়, যার ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটবে। ক-এর এইরূপ প্ররোচনার ফলে খ তার অনুপস্থিতিতে উক্ত কাজটি করে এবং তার ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটে। যদিও খ আইনমতে কোন অপরাধ করতে সক্ষম নয়, তবুও খ যথার্থই আইনমতে কোন অপরাধ সংঘটনে সক্ষম হলেও হত্যাপরাধ করলে যেভাবে ক দণ্ডিত হত, এই ক্ষেত্রে অনুরূপভাবেই সে খুনের অপরাধে দণ্ডিত হবে।

(গ) ক একটি বাসগৃহে আগুন লাগানোর জন্য খ-কে প্ররোচিত করে। ক-এর এইরূপ প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে এবং মনের অসুস্থতাহেতু সে যে কার্যটি করতে যাচ্ছে, উহার প্রকৃতি অনুধাবনে অসমর্থ হয়ে কিংবা সে যে কার্যটি করতে যাচ্ছে, উহা যে অন্যায় বা আইন বিরুদ্ধ তা বুঝতে অপারগ হয়ে খ বাসগৃহটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়। খ-এর কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, কিন্তু ক একটি বাসগৃহে অগ্নিসংযোগের অপরাধ করার প্ররোচনা দানের জন্য অপরাধী হবে এবং অনুরূপ অপরাধটির জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ঘ) ক চুরি করার উদ্দেশ্যে খ-কে চ-এর অধিকার হতে তার সম্পত্তি অপহরণ করার জন্য প্ররোচনা দেয় । ক খ-কে এইরূপ বিশ্বাস করাতে সক্ষম হয় যে, সম্পত্তি বস্তুত কএরই চ-এর নয়। এটা সত্যই ক-এর সম্পত্তি বলে সরল মনে বিশ্বাস করে খ চ-এর অধিকার হতে তার সম্পত্তি অপহরণ করে নিয়ে আসে। এই ক্ষেত্রে যেহেতু খ অসাধুভাবে সম্পত্তিটি অপহরণ করে আনে নাই, বরং সম্পত্তিটি প্রকৃত প্রস্তাবে ক-এরই এইরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়েই এনেছে, সেহেতু সে চুরির অপরাধে দোষী হবে না; কিন্তু ক চুরির প্ররোচনা দানের জন্য অপরাধী হবে এবং খ চুরি করলে তার যেসাজা হত, এইক্ষেত্রেও তার একইরূপ সাজা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৪:- কোন একটি অপরাধের সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়া যেহেতু একটি অপরাধ, সেহেতু অনুরূপ সাহায্য বা প্ররোচনা দানে সাহায্য করা বা প্ররোচনা দেওয়াও অপরাধ । -

উদাহরণ

Illustration

চ-কে হত্যা করতে গ-কে প্ররোচিত করার জন্য ক খ-কে প্ররোচিত করে । খ-এর প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে খ গ-কে প্ররোচিত করে চ-কে হত্যা করতে । খ-এর প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে গ চ-কে হত্যা করে। খ তার অপরাধের জন্য খুনের দায়ে দণ্ডিত হবে; এবং ক যেহেতু খ-কে অপরাধটি করার জন্য প্ররোচিত করেছে সেহেতু ক-ও একই দণ্ডে দণ্ডিত হবে। -

ব্যাখ্যা (Explanation) ৫:- চক্রান্তের মাধ্যমে সাহায্যের অপরাধ সংঘটনের জন্য যে ব্যক্তি অপরাধটি করে তার কাজের সাথে সাহায্যকারীর কাজের সমন্বয় অপরিহার্য নয়। যে চক্রান্তের ফলে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় সে চক্রান্তের সাথে তার যোগদানই যথেষ্ট ।

উদাহর

Illustration

চ-কে বিষ প্রয়োগের জন্য ক খ-এর সাথে একটি চক্রান্ত করে। স্থির হয় যে, চ-কে ক-ই বিষ প্রয়োগ করবে। খ অতঃপর গ-এর কাছে বিষ প্রয়োগের চক্রান্তটি প্রকাশ করে এবং তাকে (গ-কে) জানায় যে, তৃতীয় ব্যক্তি বিষ প্রয়োগ করবে, কিন্তু সে তৃতীয় ব্যক্তিটিকে খ তা গ-এর কাছে অপ্রকাশিত রাখে। গ বিষ সংগ্রহ করে দিতে রাজী হয়, এবং বিষ সংগ্রহ করে আনিয়া উক্তরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তা খ-কে দেয়। ক বিষ প্রয়োগ করে; ফলে চ-এর মৃত্যু হয়। এক্ষেত্রে যদিও ক ও গ একসাথে চক্রান্ত করে নাই, তথাপি যে চক্রান্তের ফলে চ-এর মৃত্যু হল তাতে গ যোগ দিয়েছে। সুতরাং গ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংঘটন করেছে এবং সে খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১০৮ক।বাংলাদেশের বাইরে দুষ্কর্মে সহায়তাকারী।

বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলে যে কাজ অপরাধ বলে গণ্য হত দেশে বাইরে ও বহির্দেশে অনুরূপ কাজ সম্পাদনে বাংলাদেশের মধ্যে থেকে সহায়তা করলে এই বিধির অর্থ অনুযায়ী উহা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক বাংলাদেশের মধ্যে থেকে গোয়ার অধিবাসী জনৈক বিদেশী নাগরিক খ-কে গোয়ায় একটি খুনের অপরাধ সংঘটনে প্ররোচনা দেয়। ক খুনের অপরাধে সহায়তার জন্য অপরাধী হবে।

১০৯। দুষ্কর্মে সহায়তার ফলে সহায়তাকৃত কাজটি সম্পাদিত হইবার ক্ষেত্রে এবং উহার শাস্তি বিধানার্থে কোন স্পষ্ট বিধান না থাকিবার ক্ষেত্রে দুষ্কর্মে সহায়তার শাস্তি

যে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করা হয়েছে। সহায়তার দরুণ যদি সে অপরাধ অনুষ্ঠিত হয় এবং এই আইনে অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য যদি কোন স্পষ্ট বিধান না করা হয়ে থাকে, তবে অনুরূপ সহায়তাকারী যে অপরাধটি সংঘটনে সহায়তা করেছে সে অপরাধের জন্য যে দণ্ডের বিধান করা হচ্ছে, অপরাধটি সংঘটনে সহায়তার জন্য তাকেও সে দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- কোন কাজ বা অপরাধ সহায়তার ফলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তখনই বলা হয় যখন কাজটি বা অপরাধটি যে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্র বা সাহায্য কর্তৃক সহায়তা করা হয়েছে সে প্ররোচনার ফলে বা সে ষড়যন্ত্র অনুযায়ী বা সে সহায়তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) খ একজন সরকারী কর্মচারী। সরকারী কর্মচারী হিসেবে সরকারী দায়িত্ব সম্পাদনকালে ক-কে কিঞ্চিত অনুগ্রহ প্রদর্শনের পারিতোষিক স্বরূপ ক তাকে উৎকোচ দেওয়ার প্রস্তাব করে। খ উৎকোচ গ্রহণ করে । ক ১৬১ ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংঘটনে সাহায্য করেছে।

(খ) ক খ-কে মিথ্য সাক্ষাদানে প্ররোচিত করে। ক-এর এই প্ররোচনার ফলে খ মিথ্য সাক্ষাদান করে । ক মিথ্যা সাক্ষাদানের অপরাধ সংঘটনে সাহায্যের জন্য অপরাধী হবে এবং খ যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে কও সে দন্ডেই দণ্ডিত হবে।

(গ) ক ও খ চ-কে বিষ প্রয়োগের ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্র অনুযায়ী ক বিষ সংগ্রহ করে আনে এবং খ যাতে উহা চ-কে প্রয়োগ করতে পারে সে জন্য উহা খ-কে দেয়। খ ষডম্বর অনুযায়ী ক-এর অনুপস্থিতিতে চ-কে উক্ত বিষ প্রয়োগ করে এবং তদ্বারা চ-এর মৃত্যু ঘটায়। এই ক্ষেত্রে খ খুনের অপরাধে অপরাধী হবে। ষড়যন্ত্র অনুযায়ী এই অপরাধটি সংঘটনে সাহায্যের জন্য কও অপরাধী হবে এবং খুনের অপরাধ সংঘটনের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১১০। সহায়তাকৃত ব্যক্তি সহায়তাকারীর অভিপ্রায় হইতে কার্য করিবার ভিন্ন অভিপ্রায়ে কার্য করিবার ক্ষেত্রে সহায়তার শাস্তি

সহায়তাকৃত ব্যক্তি সহায়তাকারীর অভিপ্রায় হইতে কার্য করিবার ভিন্ন অভিপ্রায়ে কার্য করিবার ক্ষেত্রে সহায়তার শাস্তি

সম্পূর্ণ বর্ণনা: কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সহায়তা বা প্ররোচনা দান করার পর, সে ব্যক্তি যাকে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করেছে সে যদি তার (প্রথমোক্ত ব্যক্তির) উদ্দেশ্য বা জ্ঞান হতে ভিন্নতর উদ্দেশ্য বা জ্ঞানের ভিত্তিতে কাজটি বা অপরাধটি করে থাকে, তবে-সহায়তাকারীর যেরূপ উদ্দেশ্য ছিল সে উদ্দেশ্য অথবা তারই অবগতির ভিডিতে কাজটি সম্পাদিত হলে তাতে যে অপরাধ অনুষ্ঠিত হত সহায়তাকারীকে সে অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে, অপর কোন অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে নয়।

১১১। সহায়তাকৃত কার্য হইতে ভিন্ন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহায়তাকারীর দায়িত্ব

সহায়তাকৃত কার্য হইতে ভিন্ন কার্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে সহায়তাকারীর দায়িত্ব

সম্পূর্ণ বর্ণনা: যখন একটি কাজের জন্য সহায়তা করা হয়েছে কিন্তু সে কাজটি ভিন্ন অপর একটি কাজ সম্পাদিত হয়েছে, তখন যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে তার জন্য প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করা হলে যে অপরাধ হত সে অপরাধের জন্য যেভাবে এবং যতটুকু পর্যন্ত দণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সহায়তাকারী সেভাবে এবং ততটুকু পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে শর্ত থাকে যে, যে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে সে কাজটি সহায়তার একটি সম্ভাব্য পরিণতি হতে হবে, এবং যে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্র কর্তৃক সহায়তা করা হয়েছে কাজটি সে প্ররোচনা, সাহায্য বা ষড়যন্ত্রের প্রভাবেই সম্পাদিত হতে হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একটি শিশুকে চ-এর খাদ্যে বিষ মিশাতে প্ররোচিত করে এবং এতদুদ্দেশ্যে শিশুটির হাতে বিষ দেয়। এই প্ররোচনার ফলে শিশুটি ভুলক্রমে চ-এর খাদ্যের পাশে রাখা গ-এর খাদ্যে বিষ মিশায়। এখানে শিশুটি যদি ক-এর প্ররোচনার প্রভাবেই কাজটি করে থাকে এবং শিশুটি যে কাজটি করল তা যদি তৎকালীন অবস্থাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে । সহায়তার ফলেই করা হয়ে থাকে, তবে ক শিশুটিকে প্রত্যক্ষভাবে গ-এর খাদ্যে বিষ মিশাতে প্ররোচিত করলে তজ্জন্য এবং যতদূর পর্যন্ত বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হত, এইক্ষেত্রে ক ঠিক সেভাবে এবং ততদূর পর্যন্ত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(খ) চ-এর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য ক খ-কে প্ররোচিত করে। ক-এর প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে খ চ-এর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং সে সঙ্গে বাড়ি হতে সম্পত্তি চুরিও করে। ক বাড়িটি পুড়িয়ে দেওয়ার কার্যে সহায়তার জন্য অপরাধী হবে বটে কিন্তু চুরি করার সহায়তার জন্য অপরাধী হবে না; কেননা চুরি একটি সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র কাজ ছিল এবং উহা বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার কাজের একটি সম্ভাব্য পরিণতি ছিল না।

(গ) ক মাঝরাতে একটি ঘর ভেঙ্গে ডাকাতি করার জন্য খ ও গ-কে প্ররোচিত করে। এই প্ররোচনার ফলে খ ও গ-ডাকাতি করার জন্য মাঝরাতে ঘরের ভিতর প্রবেশ করলে ঘরের জনৈক বাসিন্দা চ তাদের বাধা দেয়। খ ও গ চ-কে খুন করে। এই ক্ষেত্রে খুনের অপরাধটি যদি ক-এর সহায়তার সম্ভাব্য ফলে হয়ে থাকে তবে ক খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১১২। যেক্ষেত্রে সহায়তাকারী সহায়তাকৃত কার্য ও সম্পাদিত কার্যের দরুন ক্রমপুঞ্জিত শাস্তির জন্য দায়ী হয়

যদি সহায়তাকৃত বা প্ররোচিত কাজটি ছাড়াও উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত যে কাজের জন্য সহায়তাকারী দায়ী হবে সে কার্যটিও সম্পাদিত হয় এবং তা একটি স্বতন্ত্র অপরাধরাপে পরিগণিত হয়, তবে সহায়তাকারী অপরাধগুলির প্রত্যেকটির জন্য দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক জোরপূর্বক একজন সরকারী কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে প্রতিরোধ করার জন্য খ-কে প্ররোচিত করে। প্ররোচনার ফলে খ সরকারী কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান করে। বাধাদান করতে গিয়ে খ ইচ্ছাপূর্বক সরকারী কর্মচারীকে গুরুতররূপে আঘাত করে। খ সরকারী কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান এবং তাকে ইচ্ছাপূর্বক গুরুতর আঘাত করা-উভয়বিধ- অপরাধই করেছে বলে উভয় অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে কিন্তু প্ররোচনা দানকালে ক-এর যদি এটা জানা থেকে থাকে যে, খ সরকারী কর্মচারীকে তার পরোয়ানা কার্যকরীকরণে বাধাদান করতে গিয়ে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করতে পারে তবে কও উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১১৩। সাহায্যকৃত কার্যের কারণে দুষ্কর্মে সহায়তাকারী কর্তৃক অভিপ্রেত পরিণতি হইতে ভিন্ন পরিণতির ক্ষেত্রে দুষ্কর্মে সহায়তাকারীর দায়িত্ব

একটি কাজের জন্য সহায়তা করার ফলে-এবং সে কাজটি যদি এমন হয় যে, তাতে সহায়তা করলে সহায়তাকারী সহায়তার জন্য দায়ী হবেসহায়তাকার কাজটি সম্পাদনে যে ফল সৃষ্ট হবে বলে প্রত্যাশা বা উদ্দেশ্য করেছিল সৃষ্ট ফল যদি তার সে উদ্দিষ্ট বিশেষ ফল হতে ভিন্ন হয়, তবে সৃষ্ট ফল প্রত্যাশা বা উদেম পর্যন্ত দণ্ডিত হত, এই ক্ষেত্রেও সে সেভাবে ততদূর পর্যন্তই দণ্ডিত হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যে কার্যটিতে সহায়তাকারী সহায়তা করেছে তার কর্তৃক যে ফল সৃষ্ট হয়েছে সহায়তাকৃত কাজটি সম্পাদনে সে ফল সৃষ্টি হতে পারে বলে সহায়তাকারীর জানা ছিল।

উদাহরণ

Illustration

চ-কে গুরুতররূপে আঘাত করার জন্য ক খ-কে প্ররোচনা দেয়। তার প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে খ চ-কে গুরুতর আঘাত করে এবং ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষেত্রে খকে প্ররোচনা দেওয়ার সময় ক-এর যদি জানা থেকে থাকে যে, গুরুতররূপে আঘাত করার জন্য প্ররোচিত কাজটি সম্পাদনের ফলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে, তবে ক খুনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১১৪। অপরাধ সংঘটনকালে সহায়তাকারীর উপস্থিতি

কোন কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় বা স্থলে অনুপস্থিতি সত্ত্বেও যে ব্যক্তি উক্ত কাজ বা অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা প্ররোচনাদানের জন্য সহায়তাকারী বা প্ররোচনা দানকারী হিসেবে দণ্ডিত হত, সে কাজ বা অপরাধ সংঘটনের সময় বা স্থলে যদি সে ব্যক্তি হাজির থাকে, তবে সে ব্যক্তি উক্ত কাজ বা অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

১১৫। মুত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরণ, অপরাধ অনুষ্ঠিত না হইলে

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার দণ্ডদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডে ও দণ্ডিত করা যাবে।

সহায়তার ফলে অপরাধ অনুষ্ঠিত হলে (If act causing harm be done in consequence):-

এবং যদি এমন কোন কাজ সম্পাদিত হয় যাতে সহায়তার জন্য সহায়তাকারী দায়ী হয় এবং যাতে কোন ব্যক্তি আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তবে যোগসাজশকারী সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে, এবং সহায়তাকারীকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

উদাহরণ

Illustration

চ-কে হত্যা করার জন্য ক খ-কে প্ররোচনা দেয়। কিন্তু অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় না। খ যদি চ-কে হত্যা করত, তবে খ মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হত। সুতরাং এইক্ষেত্রে ক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে ও এই কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং ক-এর সহায়তার ফলে যদি চ কোনরূপ আঘাতপ্রাপ্ত হয় তবে ক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে ও এই কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ বৎসর পর্যন্ত হতে পারবে; এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

১১৬। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরন, অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হইবার ক্ষেত্রে

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে, কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার সাজাদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত হতে পারবে, কিংবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে;

যদি দুষ্কর্মে সহায়তাকারী বা সহায়তাকৃত ব্যক্তি এমন একজন সরকারী কর্মচারী হন, যার কর্তব্য হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ করা (If abettor or person abetted be a public servant whose duty it is to prevent offences):-

এবং সহয়তাকারী অথবা সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এমন একজন সরকারী কর্মচারী হন, সরকারী কর্মচারী হিসেবে অনুরূপ অপরাধ দমন বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য, তবে সহায়তাকারীকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং এই কারাদণ্ড উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হতে পারবে, অথবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য যেরূপ অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে সেরূপ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে। -

উদাহরণসমূহ

Illustration

(ক) খ একজন সরকারী কর্মচারী। তার সরকারী দায়িত্ব সম্পাদনকালে ক-কে কিঞ্চিত অনুগ্রহ প্রদর্শন করার জন্য ক তাকে উৎকোচ প্রদানের প্রস্তাব করে। খ উৎকোচ গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ক এই ধারামতে দণ্ডিত হবে।

(খ) ক খ-কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানের জন্য প্ররোচনা দেয়। খ যদি এই প্ররোচনার ফলে মিথ্য সাক্ষাদান নাও করে, তবুও ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের জন্য অপরাধী হবে এবং তদানুসারে দন্ডিত হবে।

(গ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দস্যুতা নিবারণ বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য। কিন্তু তিনি একটি দস্যুতার অপরাধ সংঘটনের সাহায্য করেন। সাহায্যের ফলে যদি দস্যুতার অপরাধটি অনুষ্ঠিত নাও হয়, তবুও ক এই অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

(ঘ) খ জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা ক কর্তৃক একটি দস্যুতা অনুষ্ঠানে সহায়তা করে। উক্ত পুলিশ অফিসারের কর্তব্য হচ্ছে, ঐ অপরাধ নিবারণ করাই তার কর্তব্য। এক্ষেত্রে উক্ত দস্যুতা অনুষ্ঠিত না হলেও ক দস্যতার অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

১১৭। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধে সহায়তাকরন, অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হইবার ক্ষেত্রে

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করে, কিন্তু সহায়তা করার ফলে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় এবং অনুরূপ সহায়তার সাজাদানের জন্য এই বিধিতে কোন স্পষ্ট বিধান না থেকে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত হতে পারবে, কিংবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে;

যদি দুষ্কর্মে সহায়তাকারী বা সহায়তাকৃত ব্যক্তি এমন একজন সরকারী কর্মচারী হন, যার কর্তব্য হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ করা (If abettor or person abetted be a public servant whose duty it is to prevent offences):-

এবং সহয়তাকারী অথবা সহায়তাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি এমন একজন সরকারী কর্মচারী হন, সরকারী কর্মচারী হিসেবে অনুরূপ অপরাধ দমন বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য, তবে সহায়তাকারীকে উক্ত অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং এই কারাদণ্ড উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হতে পারবে, অথবা তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য যেরূপ অর্থদণ্ডের বিধান করা হয়েছে সেরূপ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে। -

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) খ একজন সরকারী কর্মচারী। তার সরকারী দায়িত্ব সম্পাদনকালে ক-কে কিঞ্চিত অনুগ্রহ প্রদর্শন করার জন্য ক তাকে উৎকোচ প্রদানের প্রস্তাব করে। খ উৎকোচ গ্রহণে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। ক এই ধারামতে দণ্ডিত হবে।

(খ) ক খ-কে মিথ্যা সাক্ষ্যদানের জন্য প্ররোচনা দেয়। খ যদি এই প্ররোচনার ফলে মিথ্য সাক্ষাদান নাও করে, তবুও ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ সংঘটনের জন্য অপরাধী হবে এবং তদানুসারে দন্ডিত হবে।

(গ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দস্যুতা নিবারণ বা নিরোধ করাই তার কর্তব্য। কিন্তু তিনি একটি দস্যুতার অপরাধ সংঘটনের সাহায্য করেন। সাহায্যের ফলে যদি দস্যুতার অপরাধটি অনুষ্ঠিত নাও হয়, তবুও ক এই অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে

(ঘ) খ জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা ক কর্তৃক একটি দস্যুতা অনুষ্ঠানে সহায়তা করে। উক্ত পুলিশ অফিসারের কর্তব্য হচ্ছে, ঐ অপরাধ নিবারণ করাই তার কর্তব্য। এক্ষেত্রে উক্ত দস্যুতা অনুষ্ঠিত না হলেও ক দস্যতার অপরাধের জন্য ব্যবস্থিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

১১৮। মৃত্যু বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্র গোপনকরন

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা তার কার্যের কর্তৃক অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটনের সুবিধা হবে জানা সত্ত্বেও,

যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয় (If offence be committed):-

কোন কাজ কর্তৃক অথবা কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে,

যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় (If offence be not committed):-

অপরাধটি যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে-তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অর্থদ৪ে৬ দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক খ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জেনে মজিস্ট্রেটকে এই মর্মে মিথ্যা সংবাদ দান করে যে, গ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উক্ত গ স্থান বিপরীত দিকে অবস্থিত এবং তদ্বারা অপরাধ অনুষ্ঠান সুগম করার মতলবে সে ম্যাজিস্ট্রেটকে বিপথে চালিত করে। ষড়যন্ত্রের অনুসরণে খ স্থানে ডাকাতি অনুষ্ঠিত হয়। ক এই ধারার বর্ণিত অপরাধের জন্য দণ্ডিত হবে।

১১৯। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক এমন অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র গোপনকরণ যাহা নিবারণ করা তাহার কর্তব্য

যদি এমন কোন ব্যক্তি, যিনি একজন সরকারী কর্মচারী, যে অপরাধ দমন করাই সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্য এমন একটি অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা তার কার্যের কর্তৃক অনুরূপ একটি অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিহিত হবে জানা সত্ত্বেও কোন কার্য কর্তৃক অথবা কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব গোপন করে অথবা অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে, ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে।

অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be committed):-

যদি অপরাধ অনুষ্ঠিত হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ড অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা সে ব্যক্তি অর্থয় দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দন্ডনীয় অপরাধ হয় (If offence be punishable with death, etc):-

অথবা অপরাধটি যদি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজীবন কারাদণ্ডে দন্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে;

অপরাধ অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be not committed):-

যদি অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ড অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দস্যতা সংঘটনের যত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জানতে পারেন উহার তথ্যদান করাই তার কর্তব্য। খ একটি দস্যুতা সংঘটনের মতলব করেছে বলে তিনি ক জানতে পান; এই ষড়যন্ত্র সম্পকে তথ্যদান করতে তিনি আইনতঃ বাধ্য। কিন্তু দস্যুতার অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে তিনি এই তথ্যদান করা হতে বিরত থাকেন। এখানে ক একটি কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে খ-এর ষড়যন্ত্রটি গোপন করেছেন। সেহেতু ক এই ধারার বিধানমতে দণ্ডিত হবেন।

১২০। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে অথবা তার কর্তৃক অনুরূপ অপরাধের সুবিধা হবে জানা –

অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে (If ofrence be committed):-

কোন কার্য কর্তৃক অথবা কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থেকে ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব গোপন করে, অথবা অনুরূপ ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এমন কোন বিবরণ দান করে যে, ষড়যন্ত্রটি সম্পর্কে মিথ্যা বলে সে জানে,

অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে (If offence be not committed):-

অপরাধটি যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে সে ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধের জন্য বিহিত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এই কারাদণ্ডের মেয়াদ অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত অথবা অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে, এক-অষ্টমাংশ পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের হবে, অথবা সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যেরূপ অর্থদণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সেরূপ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

১২১। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা বা যুদ্ধ ঘোষণার উদ্যোগ করা বা যুদ্ধ ঘোষণার সহায়তা করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে অথবা অনুরূপ যুদ্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করে অথবা অনুরূপ যুদ্ধে সহায়তা করে, তবে সে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটি অভু্যত্থানে যোগদান করে । ক এই ধারায় বর্ণিত দোষে দোষী হবে।

১২২। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবার উদ্দেশ্যে অস্ত্রশস্ত্র প্রভৃতি সংগ্রহ করণ

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার জন্য অথবা যুদ্ধারম্ভ করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত হওয়ার জন্য কোন ব্যক্তি যদি ব্যক্তিবল, অস্ত্রশস্ত্র অথবা গোলাবারুদ সংগ্রহ করে অথবা অপর কোনভাবে যুদ্ধারম্ভের প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

১২৩। যুদ্ধ সুগম করিবার অভিপ্রায়ে ষড়যন্ত্র গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ কর্তৃক কোন কাজ করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থাকার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধারম্ভের ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব গোপন করে এবং যুদ্ধারম্ভের সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যেই অথবা অনুরূপ গোপন করার ফলে যুদ্ধারম্ভের সুবিধা হবে জেনেই তা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

১২৩ক। রাষ্ট্র সৃষ্টি নিন্দাকরণ ও উহার সার্বভৌমত্বের বিলোপ সমর্থন করা।

(১) কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে বা বাইরে থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তার পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে অথবা বাংলাদেশের রাষ্ট্ৰীয় সীমার অভ্যন্তরীণ সকল এলাকার অথবা কোন এলাকা বিশেষের দিক হতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিপজ্জনক হতে পারে এমন পদ্ধতিতে কোন ব্যক্তিকে অথবা জনসাধারণের সমগ্র অংশ বা কোন অংশবিশেষকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অথবা তার কাজ কর্তৃক অনুরূপ কোন ব্যক্তি অথবা জনসাধারণের সমগ্র অংশ বা কোন অংশবিশেষ প্রভাবিত হবে জেনে, উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক কিংবা চিহ্ন বা দৃশ্য প্রতীক কর্তৃক ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ রাষ্ট্রসমূহের এলাকার সাথে একত্রীকরণের মাধ্যমে কিংবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমার অভ্যন্তরবর্তী সকল এলাকার বা কোন এলাকাবিশেষের দিক হতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব খর্ব করার বা কোন বিলোপের সমর্থন বা সে মর্মে প্রচারণা করে, তবে সে ব্যক্তিকে দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

(২) প্রাসঙ্গিক সময়ে বলবৎ অপর কোন আইনে যা কিছুই বিধান করা হয়ে থাকুক না কেন এই ধারামতে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে তার তদন্ত বা বিচারকালে যে আদালতে তাকে সোপর্দ করা হবে সে আদালত আইনসম্মত ভাবেই যে পর্যন্ত না বিষয়টি চূড়ান্তরূপে নিস্পত্তি হয় সে পর্যন্ত উক্ত ব্যক্তির গতিবিধি, অন্যান্য ব্যক্তির সাথে তার মেলামেশা বা সহচার্য বা যোগাযোগ এবং খবর সরবরাহ ও মতামত প্রচারণা বিষয়ক উক্ত ব্যক্তির কার্যকলাপ সম্পর্কে যে কোন আদেশ, যা আবশ্যকীয় বলে পরিগণিত হয়-প্রদান করতে পারবেন।

(৩) উপধারায় (২)-এ উল্লেখিত আদালতের সাথে সম্পর্কের দিক হতে যে আদালত একটি আপীল অথবা রিভিশনের আদালত সে আদালতও উক্ত উপধারা বলে কোন আদেশ প্রদান করতে পারেন।

১২৪। কোন আইনসংগত ক্ষমতা প্রয়োগে বাধ্য করা বা বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট, গভর্নর প্রভৃতিকে আক্রমনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গভর্নর প্রমুখ ব্যক্তিকে আইনানুগ ক্ষমতা সমূহের যে কোন একটি যে কোন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে অথবা প্রয়োগ করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত বা বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ রাষ্ট্রপতি বা সরকারকে আক্রমণ করে,

অথবা বেআইনীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, অথবা বেআইনীভাবে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন করে ভীতবিহ্বল করে,

অথবা ভীতবিহ্বল করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

১২৪ক। রাষ্ট্রদ্রোহ

কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কথা বা উক্তি দ্বারা, অথবা চিহ্নাদি দ্বারা, অথবা দৃশ্যমান প্রতীকের সহায়তায় অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশে আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা করার চেষ্টা করে অথবা বৈরিতা উদ্রেক করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন অথবা যে কোন কম মেয়াদের কারাদণ্ডে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে অথবা তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে যার সাথে অর্থদণ্ড যোগ করা যাবে, অথবা তাকে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- ‘বৈরিতা’ বলতে রাজানুগত্যহীনতা এবং সর্বপ্রকার শক্রতার ভাব বুঝায়।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করা বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই আইনসম্মত উপায়ে পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্দেশ্যে সরকারের গৃহীত ব্যবস্থাসমূহের প্রতি অসমর্থন প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- ঘৃণা, বিদ্বেষ বা বৈরিতা সৃষ্টি করার বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা ছাড়াই সরকারের কোন শাসন পরিচালন বিষয়ক বা অন্যরূপ কার্য সম্পর্কে অসমর্থনমূলক অভিমত বা মন্তব্য প্রকাশ এই ধারামতে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

১২৫। বাংলাদেশের মিত্র বা বাংলাদেশের সহিত শান্তিতে বসবাসকারী কোন এশীয় শক্তির সহিত যুদ্ধ করা বা যুদ্ধের প্ররোচনা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সাথে মৈত্রীবন্ধনে আবদ্ধ অথবা শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান কোন এশীয় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরম্ভ করে অথবা অনুরূপ যুদ্ধ আরম্ভ । করার চেষ্টা করে অথবা অনুরূপ যুদ্ধারম্ভের সহায়তা করে, তবে সে ব্যক্তিকে যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং এই দণ্ডের সাথে অর্থদণ্ডও যোগ করা যাবে, অথবা সে ব্যক্তিকে সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং এই দণ্ডের সাথে অর্থদণ্ডও যোগ করা যাবে, অথবা সে ব্যক্তিকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

১২৫। বাংলাদেশের সহিত মিত্রতায় বা শান্তিতে বসবাসকারী কোন দেশের এলাকায় লুটতরাজ করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সাথে মৈত্রবন্ধনে আবদ্ধ বা শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান কোন শক্তির রাষ্ট্রীয় এলাকার উপর হামলা বা লুটতরাজ সংঘটন করে অথবা হামলা বা লুটতরাজ সংঘটনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তিকে সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তৎসহ তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে ও অনুরূপ হামলা বা লুটতরাজে ব্যবহৃত বা ব্যবহার করার জন্য উদ্দিষ্ট যে কোন সম্পত্তি অথবা অনুরূপ হামলা বা লুটতরাজ হতে লদ্ধ যে কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

১২৭। ধারা ১২৫ ও ১২৬ এ উল্লিখিত যুদ্ধ বা লুটতরাজ দ্বারা সংগৃহীত সম্পত্তি গ্রহণ করা

১২৫ ও ১২৬ ধারা দুইটিতে উল্লেখিত অপরাধসমূহের যে কোনটি সংঘটনক্রমে লব্ধ সম্পত্তি বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন সম্পত্তি গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে ও অনুরূপ গৃহীত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে।

১২৮। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক সেচ্ছায় নিজের হেফাজত হইতে রাষ্ট্রীয় বন্দী বা যুদ্ধবন্দীকে পলায়ন করিতে দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি একজন সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও এবং রাজবন্দি বা যুদ্ধবন্দির হাজতের দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও যে স্থানে অনুরূপ বন্দি আটক আছে ইচ্ছাকৃতভাবে সে স্থান হতে তাকে পলায়ন করতে দেয়, তবে অনুরূপ ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

১২৯। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অবহেলাবশতঃ নিজের হেফাজত হইতে রাষ্ট্রীয় বন্দী বা যুদ্ধবন্দীকে পলায়ন করিতে দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি একজন সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও এবং রাজবন্দি বা যুদ্ধবন্দির হাজতের দায়িত্বসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও যে স্থানে অনুরূপ বন্দি আটক আছে, ইচ্ছাকৃতভাবে সে স্থান হতে তাকে পলায়ন করতে দেয় তবে অনুরূপ ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

১৩০। উক্তরূপে বন্দীর পলায়নে সহায়তা করা বা তাহাকে উদ্ধার করা বা আশ্রয় দেওয়া অথবা তাহার পুনঃ গ্রেফতারে বাধা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে কোন রাজবন্দিকে বা যুদ্ধবন্দিকে আইনসম্মত হাজত হতে পলায়ন করতে সহায়তা করে বা আনুকূল্য দান করে অথবা অনুরূপ কোন বন্দিকে উদ্ধার করে বা উদ্ধার করার চেষ্টা করে অথবা অনুরূপ যে বন্দি আইনসম্মত হাজত হতে পলায়ন করেছে তাকে আশ্রয়দান করে বা লুকিয়ে রাখে অথবা অনুরূপ বন্দিকে পুনরায় গ্রেফতার করার কাজে প্রতিরোধ সৃষ্টি করে বা প্রতিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

যদি কোন রাজবন্দি বা যুদ্ধবন্দিকে বাংলাদেশের মধ্যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শর্তাধীনে মুক্তি দেওয়া হয়, তবে উক্ত বন্দিকে যে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অবস্থানের শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বন্দি উহার বাইরে গেলে সে আইনসম্মত হাজত হতে পলায়ন করেছে বলে গণ্য হবে। 

১৩১। বিদ্রোহে উসকানি দেওয়া বা কোন অফিসার, সৈনিক, নাবিক, বা বৈমানিককে তাহার আনুগত্য বা কর্তব্যচ্যুত করার চেষ্টা করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নৌবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন অফিসারের সৈনিকের, নাবিকের বা বৈমানিকের বিদ্রোহ সংঘটনে সহায়তা করে, অথবা অনুরূপ কোন কর্মকর্তা সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে তার আনুগত্য কিংবা তার কর্তব্য হতে বিচ্যুত করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এই ধারায় উল্লেখিত ‘অফিসার সৈনিক নাবিক ও বৈমানিক বলতে সেনাবাহিনী আইন, ১৯১১ সালের সেনাবাহিনী আইন, নৌবাহিনী শৃঙ্খলা আইন কিংবা ১৯৩৪ সালের নৌবাহিনী আইন কর্তৃক সংশোধিত সে আইন, বিমানবাহিনী আইন কিংবা ১৯৩২ সালের বিমানবাহিনী আইন সাপেক্ষে যে কোন ব্যক্তিকে বুঝাবে।

১৩২। বিদ্রোহে উসকানি দেওয়া, যদি তাহার ফলে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের বিদ্রোহ অনুষ্ঠানে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে এবং এই সহায়তা বা প্ররোচনার কারণে যদি বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

১৩৩। কোন অফিসার, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক কর্তৃক তাহার ঊর্ধ্বতন অফিসারের উপর কর্তব্যরত থাকাকালে হামলায় উসকানি দেওয়া

যখন কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌ-বাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে তার উধ্বতন কোন কর্মকর্তা তার দায়িত্ব সম্পাদনকালে উধ্বতন কর্মকর্তা আক্রমণ করার কাজে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে। তখন উক্ত ব্যক্তিকে তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

১৩৪। অনুরূপ আক্রমণে সহায়তাকরণ, আক্রমণ সংঘটিত হইবার ক্ষেত্রে

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে তার দায়িত্ব সম্পাদনকালে উধ্বতন কর্মকর্তাকে আক্রমণ করার কাজে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে এবং এইরূপ সহায়তা বা প্ররোচনার কারণে আক্রমণ অনুষ্ঠিত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে এবং তাকে তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

১৩৫। সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের পলায়নে সহায়তাকরণ

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে বাহিনী হতে পলায়নে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে তবে উক্ত ব্যক্তিকে দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

১৩৬। পলাতককে আশ্রয়দান করা

এই ধারার ব্যতিক্রমে উল্লেখিত ব্যক্তি ছাড়াই যদি অন্য কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে উক্ত কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক তার বাহিনী হতে পলায়ন করেছে জানাসত্ত্বেও আশ্রয়দান করেন বা রক্ষা করেন, তবে উক্ত ব্যক্তিকে দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

ব্যতিক্রম (Exeption):-

স্ত্রী তার স্বামীকে আশ্রয়দান বা রক্ষা করলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য নয় ।

১৩৭। পোতাধ্যক্ষের অবহেলার দরুন বাণিজ্যপোতে গোপনকৃত পলাতক

কোন সওদাগরী জাহাজে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী হতে পলায়নকারী আত্মগোপন করলে সে জাহাজের অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনুরূপ আত্মগোপন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকলেও অনধিক পাঁচশত টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন-যদি অপরাধটি এমন অবস্থায় অনুষ্ঠিত হয় যে, অনুরূপ অধ্যক্ষ বা ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার কোন কর্তব্যে অবহেলা না হলে অথবা জাহাজে কোনরূপ শৃঙ্খলার অভাব না হলে অনুরূপ আত্মগোপন সম্পর্কে জানতে বা অবহিত হতে পারতেন 

১৩৮। সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক কর্তৃক অবাধ্যতা প্রদর্শনে সহায়তাকরণ

কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর অথবা বিমানবাহিনীর কোন কর্মকর্তা, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের অবাধ্যতামূলক কাজে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে এবং এইরূপ প্ররোচনার ফলে অনুরূপ অবাধ্যতামূলক কার্যটি অনুষ্ঠিত হয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৩৯। কতিপয় আইনের অধীন ব্যক্তিগণ

১৯৫২ সালের সেনাবাহিনী আইন, ১৯৬১ সালের নৌবাহিনী অধ্যাদেশ, ১৯৫৩ সালের বিমানবাহিনী আইনের আওতাধীন কোন ব্যক্তি এই পরিচ্ছেদে বর্ণিত কোন অপরাধের জন্য এই আইনের বিধানবলে দণ্ডিত হবেন না।

১৪০। সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক কর্তৃক ব্যবহৃত পোশাক পরিধান করা বা প্রতীক ধারণ করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীতে কার্যরত সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিক না হওয়া সত্ত্বেও যাতে সে অনুরূপ সৈনিক, নাবিক ও বৈমানিক বলে বিশ্বাস সৃষ্টি করা যায়, সে উদ্দেশ্যে অনুরূপ কোন সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিকের কোন পোশাক পরিধান করে অথবা অনুরূপ কোন পোশাক বা প্রতীকের সদৃশ কোন প্রতীক বহন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

১৪১। বেআইনী সমাবেশ

পাচ বা ততোধিক সমাবেশকে ‘বেআইনী সমাবেশ’ সেক্ষেত্রেই বলা হয়, যেক্ষেত্রে উক্ত সমাবেশের ব্যক্তিদের ব্যক্তির সাধারণ লক্ষ্য হয়-

প্রথম (First):- বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভাকে অথবা কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতা প্রয়োগের সময় অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ অথবা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি কর্তৃক ভীতি প্রদর্শন করা; কিংবা

দ্বিতীয় (Second):- কোন আইনের অথবা কোন আইনগত ব্যবস্থার কার্যকরীকরণে বাধা সৃষ্টি করা; কিংবা

তৃতীয় (Third):- কোন ব্যক্তির দুষ্কর্ম বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ অথবা অন্যবিধ অপরাধ অনুষ্ঠিত করা; কিংবা –

চতুর্থ (Fourth):- কোন ব্যক্তির প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন সম্পত্তির দখল গ্রহণ করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে পথের অধিকার ভোগ হতে বঞ্চিত করা অথবা জল ব্যবহারের অধিকার হতে বঞ্চিত করা অথবা তাকে তার দখলে অবস্থিত অপর কোন অশরীর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা অথবা কোন অধিকার বা কল্পিত অধিকার প্রতিষ্টা করা; কিংবা

পঞ্চম (Fifth):- অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগের হুমকি প্রদর্শন করে কোন ব্যক্তিকে সে আইনতঃ বাধ্য নয় এমন একটি কার্য সম্পাদনে বাধ্য করা অথবা যে কার্যটি করতে সে আইনত বাধ্য বা অধিকারী তা সম্পাদন হতে বিরত করা।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যে সমাবেশ, সমাবিষ্ট হওয়াকালে বেআইনী ছিল না তা পরে বেআইনী সমাবেশ হতে পারে।

১৪২। বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কি কি অবস্থায় কোন সমাবেশ বেআইনী সমাবেশে পরিণত হয়, তৎসম্পর্কে জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক সে সমাবেশে যোগদান করে বা সে সমাবেশে মিলিত থাকে, তবে সে ব্যক্তি একটি বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি বলে পরিগণিত হয়।

১৪৩। বেআইনী সমাবেশের সদস্য হওয়ার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

১৪৪। কোন মারাত্মক অস্ত্রসহ বেআইনি সমাবেশে যোগদান করা

কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দত্ত্বে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৪৫। কোন বেআইনী সমাবেশ ভঙ্গ করিবার নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে জানিয়াও উহাতে যোগদান করা বা উহাতে অবস্থান করা

কোন বেআইনী সমাবেশকে আইন-নির্দেশিত পদ্ধতিতে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে থাকলে তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

১৪৬। দাঙ্গা

কোন বেআইনী সমাবেশের সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে উক্ত বেআইনী সমাবেশ দ্বারা বা উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী কোন ব্যক্তি কর্তৃক বল বা উগ্রতা প্রয়োগ করা হলে, উক্ত বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

১৪৭। : দাঙ্গার শাস্তি

কোন ব্যক্তি দাঙ্গার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে, তাকে দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে।

১৪৮। মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হইয়া দাঙ্গা অনুষ্ঠানকরণ

মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটাতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন ব্যক্তি দাঙ্গ করার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৪৯। সাধারণ উদ্দেশ্যের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত অপরাধের জন্য বেআইনী সমাবেশের প্রত্যেক সদস্য দোষী

যদি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী ব্যক্তি দ্বারা উক্ত বেআইনী উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়, অথবা উক্ত সাধারণ উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত বেআইনী সমাবেশের ব্যক্তিগণ জানত তা অনুষ্ঠিত হয়, তবে উক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে উজ বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী প্রত্যেক ব্যক্তি উক্ত অপরাধে অপরাধী হবে।

১৫০। বেআইনী সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য লোক ভাড়া করা বা নিয়োগ করা

যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদানের জন্য ভাড়া করে বা নিরত করে বা নিযুক্ত করে বা উৎসাহিত করে বা অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ব্যাপারে সহায়তা করে, তবে সে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারীর মত দণ্ডিত হবে, এবং অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ফলে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারীর মত দণ্ডিত হবে, এবং অনুরূপ ভাড়া করার বা নিরত করার বা নিযুক্ত করার ফলে বেআইনী সমাবেশে যোগদানকারী উক্ত ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটন করলে তজ্জন্য সে নিজে বেআইনী সমাবেশে যোগদান করলে বা নিজে অপরাধটি করলে সেভাবে দণ্ডিত হত, সেভাবেই দণ্ডিত হবে।

১৫১। ছত্রভঙ্গ হওয়ার আদেশের জ্ঞাতসারে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশে যোগদান করা বা থাকিয়া যাওয়া

পাচ বা ততোধিক সংখ্যক ব্যক্তির যে সমাবেশ শান্তি ভঙ্গ করতে পারে বলে সম্ভাবনা থাকে, তাকে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ প্রদত্ত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি জ্ঞাতসারে উহাতে যোগদান করলে বা শরীক হয়ে থাকলে ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

যদি সমাবেশটি ১৪১ ধারার অর্থ অনুযায়ী একটি বেআইনী সমাবেশ হয়, তবে অপরাধী ১৪৫ ধারা মতে দণ্ডিত হবে।

১৫২। দাঙ্গা দমনকারী সরকারী কর্মচারীকে আক্রমন করা বা বাধা দেওয়া

কোন সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্য সম্পাদন উদ্দেশ্যে একটি অবৈধ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার অথবা দাঙ্গা দমন করার প্রচেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে আক্রমণ করে অথবা আক্রমণ করার হুমকি প্রদর্শন করে, অথবা বাধাদান করে বা বাধাদান করার চেষ্টা করে, অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর প্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে বা করার হুমকি প্রদর্শন করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসৱ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়ৰিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৫৩। দাঙ্গার কারণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে উসকানি দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি দুরভিসন্ধি মূলক ভাবে, বা বেপরোয়াভাবে কোন বেআইনী কার্য করে কাউকে উস্কানি দেয় এবং এইরূপ উস্কানি দিয়ে দাঙ্গার অপরাধ সংঘটনই কাজটির উদ্দেশ্য হয় অথবা এইরূপ প্ররোচনা দানের ফলে দাঙ্গার অপরাধ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে উক্ত ব্যক্তির জানা থাকে, তবে-অনুরূপ উস্কানির ফলে দাঙ্গার অপরাধটি অনুষ্ঠিত হলে, উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে এবং এইরূপ প্ররোচনাদানের ফলে দাঙ্গার অপরাধটি অনুষ্ঠিত না হলে, সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দন্তিত হবে।

১৫৩ক। বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শত্রুতা বর্ধন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন উচ্চারিত বা লিখিত কথা কর্তৃক অথবা চিহ্ন কর্তৃক অথবা দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক অথবা অপর কোনভাবে বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে শক্রতার মনোভাব বা বিদ্বেষ সৃষ্টি করে বা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

বাংলাদেশের জনসাধারণের বিভিন্ন শ্রেণীর মধ্যে বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাবপ্রসূত, বিষয়ারার বা যেসব বিষয় অনুরূপ বৈরিতা বা বিদ্বেষের মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে হয়, সেসব বিষয় দূরীকরণের সৎ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে এবং কোনরূপ দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া তৎসমূহের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তা এই ধারার অর্থ অনুযায়ী অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

১৫৩খ। রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহনের জন্য ছাত্রগণকে প্ররোচিত করা

কোন ব্যক্তি যদি উচ্চারিত বা লিখিত কোন কথা কর্তৃক কিংবা কোন দৃশ্যমান প্রতীক কর্তৃক বা অপর কোনভাবে কোন ছাত্রকে বা ছাত্র গোষ্ঠীকে কিংবা ছাত্রদের সাথে সম্পর্কযুক্ত বা ছাত্রদের ব্যাপারে আগ্ৰহাৰিত কোন প্রতিষ্ঠানকে কোনরূপ রাজনৈতিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে প্ররোচনা দান করলে, সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের কারাদণ্ডে, বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৫৪। জমির মালিক বা দখলদার কর্তৃক দাঙ্গা প্রভৃতির খবর না দেওয়া

কোন বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা সংঘটিত হলে যে ভূমি বা জমির উপর অনুরূপ বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গা অনুষ্টিত হয় উহার মালিক বা দখলকার এবং উহাতে কোন স্বত্বের অধিকারী বা দাবীদার যেকোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত অবস্থায় অনধিক এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে-যদি সে বা তার প্রতিনিধি বা তার ম্যানেজার অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হচ্ছে জানা সত্ত্বেও অথবা অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তার বা তাদের সাধ্যমত যথাশীঘ্ৰ নিকটতম থানার প্রধান অফিসারকে অবহিত না করে; এবং অপরাধটি অচিরেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে তার বা তাদের বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও উহা প্রতিরোধ করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে; এবং অপরাধটি অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় বেআইনী সমাবেশ বা বা দাঙ্গা ছত্রভঙ্গ করার বা দমন করার জন্য তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।

১৫৫। যে ব্যক্তির উপকারার্থে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয় তাহার দায়িত্ব

যে ভূমি সম্পর্কে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়েছে, দাঙ্গাটি যদি ভূমির মালিক বা দখলদারের অথবা উক্ত স্বাৰ্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির অথবা যে বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে উহাতে কোন স্বাৰ্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে ব্যক্তি উহ্য হতে কোনভাবে উপকৃত হয়েছে তার স্বার্থে বা স্বপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, তবে অনুরূপ ব্যক্তি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে-যদি উক্ত ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি বা তার ম্যানেজার অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হতে পারে অথবা যে বেআইনী সমাবেশ দ্বারা অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হবে তা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তার বা তাদের বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অনুরূপ দাঙ্গা বা সমাবেশ নিরোধ করার এবং উহা দমন ও ছত্রভঙ্গ করার জন্য যথাক্রমে তার বা তাদের আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে।

১৫৬। যে ব্যক্তির লাভের জন্য দাঙ্গা হয় সেই মালিক বা দখলকারের প্রতিনিধি কর্তৃক উহা প্রতিরোধের সঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা

যে ভূমি সম্পর্কে দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়েছে, দাঙ্গাটি যদি সে ভূমির মালিক বা দখলকারের অথবা উক্ত ভূমিতে স্বাৰ্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়েছে উহাতে কোন স্বাৰ্থ বা স্বত্বের দাবিদার কোন ব্যক্তির স্বার্থে বা স্বপক্ষে অথবা যে ব্যক্তি উহা হতে কোনভাবে উপকৃত হয়েছে তার স্বার্থে বা স্বপক্ষে অনুষ্ঠিত হয়, তবে-অনুরূপ ব্যক্তির প্রতিনিধি বা ম্যানেজার অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে। যদি অনুরূপ প্রতিনিধি বা ম্যানেজার অনুরূপ দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হবে তা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে তার বিশ্বাস করার এবং উহা দমন ও ছত্রভঙ্গ করার জন্য যথাক্রমে তার আয়ত্তাধীন সকল আইনসম্মত উপায় অবলম্বন না করে। 

১৫৭। বেআইনী সমাবেশের জন্য ভাড়া করা লোকদের আশ্রয় দেয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন বেআইনী সমাবেশে যোগদান করার জন্য কোন ব্যক্তিকে ভাড়া করা হয়েছে বা নিযুক্ত করা হয়েছে অথবা অনুরূপ কোন ব্যক্তি অনুরূপ উদ্দেশ্যে ভাড়াটিয়া হতে বা নিযুক্ত হতে যাচ্ছে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ ব্যক্তিকে বা অনুরূপ ব্যক্তিদের তার দখলাধীন বা তত্ত্বাবধানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোন গৃহে বা বাড়িতে বা স্থানে আশ্রয়দান করে, গ্রহণ করে বা সমাবিষ্ট করে, তবে তাকে ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

১৫৮। বেআইনী সমাবেশ বা দাঙ্গায় অংশগ্রহণের জন্য ভাড়াটিয়া হইয়া যাওয়া

কোন ব্যক্তি যদি ১৪১ ধারায় বর্ণিত কার্যসমূহের যে কোন একটি সম্পাদিত করার বা সম্পাদিত করতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হয় বা ভাড়াটিয়া হয় অথবা নিযুক্ত জুড়ে । ভাড়াটিয়া হতে প্রস্তাব করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হবে।

অথবা অন্ত্রে সজ্জিত হয়ে যাওয়া (Or to go armed) এবং কোন ব্যক্তি যদি উপযুক্তভাবে নিযুক্ত হয়ে বা ভাড়াটিয়া হয়ে মারাত্মক অস্ত্রে অথবা যে বস্তু অপরাধের দ্বারা সজ্জিত হয়ে যায় বা সজ্জিত হয়ে কার্যে ব্যাপৃত হয় বা সজ্জিত হয়ে যেতে প্রস্তাব করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৫৯। মারামারি

যদি দুই বা ততোধিক ব্যক্তি কোন প্রকাশ্য স্থানে মারামরি করে শান্তিভঙ্গ করে, তবে তারা “মারামারি” করেছে বলে পরিগণিত হয়।

১৬০। মারামারির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি মারামারির অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

১৬১। সরকারী কর্মচারী হইয়া বা হওয়ার আশা করিয়া কোন সরকারী কার্যের জন্য ঘুষ লওয়া

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারী হবে বলে আশা করে কোন সরকারী কাজ করার অথবা করা হতে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারী দায়িত্ব সম্পাদনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্ৰহ প্রদর্শন করার জন্য বা করা হতে বিরত থাকার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভা দ্বারা অথবা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা কোন ব্যক্তির উপকার বা অপকার করার জন্য বা তা করার চেষ্টায় নিজের অথবা অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে আইনসম্মত পারিশ্রমিক ছাড়াই অপর যে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে বা লাভ বা গ্রহণ করতে সম্মত হয় বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- সরকারি কর্মচারী হবে বলে আশা করে কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হবে বলে আশা না করে কিন্তু প্রতারণার মাধ্যমে সরকারী কর্মচারী হবে এবং তখন কার্য করে দিবে এইরূপ ভ্রান্ত বিশ্বাস জন্মাইয়া কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি প্রতারণার অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে, কিন্তু এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে না।

‘পারিতোষিক’ (Gratificaion):- এই ধারায় ‘পারিতোষিক’ বলতে শুধু আর্থিক পারিতোষিক অথবা অর্থের হিসেবে নির্ণেয় পারিতোষিক বুঝায় না।

‘আইনসংগত পারিশ্রমিক’ (Legal remuneration):- এই ধারায় ‘আইনসংগত পারিশ্রমিক’ বলতে কোন সরকারী কর্মচারী আইনসংগতভাবে যে পারিশ্রমিক দাবি করতে পারেন, কেবল তা বুঝায় না, যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তিনি নিযুক্ত হয়েছেন সে কর্তৃপক্ষ তার যেসব পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে অনুমতি দিয়েছেন সেসব পারিশ্রমিকও বুঝায়।

‘করার উদ্দেশ্যে অথবা পুরস্কার হিসাবে’ (A motive or reward for doing):- ষে ব্যক্তি সে যা করতে ইচ্ছক নয় তা করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে যা করে নাই তা করার পুরস্কার হিসেবে পারিতোষিক গ্রহণ করে সে ব্যক্তিও এই কথাগুলির আওতায় আসবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একজন মুন্সেফ। চ জনৈক ব্যাংকার। ক একটি বিষয় চ-এর অনুকূলে নিস্পত্তি করে দেওয়ার পুরস্কারস্বরূপ চ-এর ব্যাংক তার (ক-এর) ভাইয়ের জন্য একটি চাকরি সংগ্রহ করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

(খ) ক একটি বিদেশী রাষ্ট্রের রাজধানীতে বাণিজ্যদৃত পদে নিযুক্ত থাকাকালে ঐ বিদেশী রাষ্ট্রের মন্ত্রীর নিকট থেকে এক লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। ক উক্ত টাকা নির্দিষ্ট কোন সরকারী কার্য করার বা করা হতে বিরত থাকার মতলবে বা পুরস্কারস্বরূপ, কিংবা বাংলাদেশ সরকারের সাথে জড়িত কোন ব্যাপারে উক্ত বিদেশী শক্তির নির্দিষ্ট কোন উপকার করার বা উপকারের চেষ্টা করার জন্য নিয়েছে তা প্রতীয়মান হয় না। কিন্তু একথা প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত দেশে তার সরকারী কর্তব্য পালন প্রসঙ্গে উক্ত দেশের সাধারণ আনুকূল্য প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে পুরস্কারস্বরূপ সে উক্ত টাকা নিয়েছে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(গ) ক জনৈক সরকারী কর্মচারী। তিনি চ-কে বিভ্রান্ত করে বিশ্বাস করান যে, সরকারের উপর তার (ক-এর) যে প্রভাব রয়েছে তার ফলেই চ একটি উপাধি লাভ করেছেন। এইভাবে ক-কে বিভ্রান্ত করে তার নিকট থেকে ক তার (চ-এর) কার্য করে দেওয়ার জন্য পুরস্কারস্বরূপ অর্থ গ্রহণ করেন । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবেন।

১৬২। দুর্নীতিমূলক বা বেআইনী উপায়ে সরকারী কর্মচারীকে প্রভাবিত করার জন্য ঘুষ লওয়া

কোন ব্যক্তি যদি অবৈধ উপায়ে কোন সরকারী কর্মচারীকে প্ররোচিত প্রভাবিত করে উক্ত সরকারী কর্মচারীকে দিয়ে কোন সরকারী কার্য করানোর বা করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারী দায়িত্ব সম্পাদনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্রহ প্রদর্শন করানোর জন্য বা করা হতে বিরত রাখার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার ংবা আইনসভা দ্বারা কিংবা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা কোন উপকার বা অপকার করার জন্য বা তা করানোর চেষ্টায় নিজের অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে, বা লাভ করে, বা গ্রহণ করতে সম্মত হয়, বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

১৬৩। সরকারী কর্মচারীর উপর ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের জন্য ঘুষ লওয়া

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারীর উপর তার ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ করে উক্ত সরকারী কর্মচারীকে দিয়ে কোন সরকারী কাজ করানোর বা করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে বা পুরস্কার হিসাবে, অথবা সরকারী দায়িত্ব পালনকালে কোন ব্যক্তিকে অনুগ্রহ প্রদর্শন বা নিগ্রহ প্রদর্শন করানোর বা করা হতে বিরত রাখার জন্য, অথবা বাংলাদেশের সরকার বা আইনসভা দ্বারা কিংবা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা কোন উপকার বা অপকার করানোর জন্য বা তা করানোর চেষ্টায় নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির জন্য কারো নিকট থেকে কোনরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করে, বা লাভ করে, বা গ্রহণ করতে সম্মত হয়, বা লাভ করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

কোন বিচারকের কাছে মামলার সওয়াল জবাব করার জন্য যে আইনজীবী পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন, সরকারের কাছে কোন স্মারকলিপি পেশকারীর কার্যাবলি ও দাবি-দাওয়া উত্থাপন করে স্মারকলিপি প্রণয়ন ও পরিশোধনের জন্য যে ব্যক্তি পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন; কোন দণ্ডিত অপরাধীর বেতনভুক্ত প্রতিনিধি যিনি অপরাধীকে শাস্তি প্রদান অনুচিত বা অন্যায় হয়েছে বলে প্রতীয়মান করে সরকারের কাছে লিপি বা উক্তি দাখিল করেন, ইহাদের ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না, কেননা ইহারা ব্যক্তিগত প্রভাব প্রয়োগ করেন না, বা করেন বলে দাবি করেন না।

১৬৪। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক ১৬২ বা ১৬৩ ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহে সহায়তা করিবার শাস্তি

যে সরকারী কর্মচারীকে জড়িত করে উপরে উল্লেখিত সর্বশেষ দুইটি ধারায় বর্ণিত অপরাধসমূহের কোনটি অনুষ্ঠিত হয়, সে সরকারী কর্মচারী যদি সে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করেন, তবে তিনি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন সরকারী কর্মচারী। খ তার স্ত্রী। স্বামীকে প্রভাবিত করে চাকরির সংস্থান করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে খ জনৈক ব্যক্তির নিকট থেকে একটি উপহার গ্রহণ করেন। ক তার স্ত্রীর কার্যে সহায়তা করেন। খ অনধিক এক বৎসর মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন । ক তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৬৫। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তাহার কার্যের সহিত জড়িত কোন ব্যক্তির নিকট হইতে বিনামূল্যে কোন মূল্যবান বস্তু গ্রহণ করা

যদি কোন সরকারী কর্মচারী বিনামূল্যে বা যে মূল্য অপর্যাপ্ত বলে তিনি অবগত এমন মূল্যে তার নিজের বা অপর কারে জন্য এমন কোন ব্যক্তির নিকট থেকে কোন মূল্যবান বস্তু গ্রহণ করেন বা আদায় করেন বা গ্রহণ করতে সম্মত হন বা যে ব্যক্তি তাঁর গৃহীত বা সম্পাদিত কার্যক্রমের সাথে অথবা তৎকর্তৃক অচিরে যে কার্যক্রম বিষয় গৃহীত বা সম্পাদিত হবে উহার সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়েছে বা হচ্ছে বা হতে পারে বলে তিনি অবগত, অথবা তার বা তিনি যে সরকারী কর্মচারীর অধঃস্তন বেসরকারি কর্মচারীর সরকারী কার্যাবলির সাথে জড়িত আছে বলে জানেন, অথবা অনুরূপভাবে জড়িত ব্যক্তির সাথে যে ব্যক্তি সম্পর্কযুক্ত বা স্থার্থসংশ্লিষ্ট বলে তিনি অবগত, তা হলে তিনি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক জনৈক কালেক্টর। তিনি চ-এর একটি বাড়ি ভাড়া করেন। ক-এর কোর্টে চএর একটি সেটেলমেন্টের মামলা চলছে। ক চ-এর বাড়ি ভাড়া করে চুক্তি করেন যে, তিনি বাড়ি ভাড়া বাবদ চ-কে মাসিক পঞ্চাশ টাকা দিবেন। কিন্তু বাড়িটি এমন উন্নতমানের যে সততার সাথে চুক্তি করলে ক-কে উহার ভাড়াস্বরূপ মাসিক দুইশত টাকা ভাড়া দিতে হত। ক পর্যাপ্ত মূল্য বা যথোপযুক্ত মূল্য না দিয়ে চ-এর নিকট থেকে একটি মূল্যবান বস্তু লাভ করেছেন।

(খ) ক জনৈক বিচারক। তার আদালতে চ-এর একটি মামলা চলছে। ক চ-এর গভর্নমেন্ট প্রমিসরি নোট অধিক মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। ক পর্যাপ্ত বা যথোপযুক্ত মূল্য না দিয়ে চ-এর নিকট থেকে মূল্যবান বস্তু লাভ করেছেন।

(গ) ক জনৈক ম্যাজিস্ট্রেট। মিথ্যা সাক্ষ্যদানের অভিযোগে চ-এর ভাইকে গ্রেফতার করে তার আদালতে উপস্থিত করা হয়। ক চ-এর কাছে কোন ব্যাংকের কয়েকটি শেয়ার অধিক মূল্যে বিক্রয় করেন। কিন্তু বাজারে উক্ত ব্যাংকের শেয়ার কম মূল্যে বিক্রয় হচ্ছে। , চ ক-কে অধিক মূল্যেই শেয়ারগুলির দাম চুকিয়ে দেয়। এইভাবে ক যে অর্থলাভ করলেন তা পর্যাপ্ত বা যথোপযুক্ত মূল্য ছাড়া প্রাপ্ত সম্পদ বলে পরিগণিত হবে।

১৬৫ক। ১৬১ ও ১৬৫ ধারার অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া

কোন ব্যক্তি ১৬১ ধারামতে অথবা ১৬৫ ধারামতে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করলে অপরাধ জন্য বিহিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে-সহায়তার ফলে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হোক বা না হোক তাতে কিছু যায় আসে না।

১৬৫খ। ১৬১ ও ১৬৫ ধারার অপরাধে প্ররোচনা দেওয়া

সম্পূর্ণ বর্ণনা: কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতপক্ষেই প্ররোচিত হয়ে, বাধ্য হয়ে, হুমকির ফলে বা ভীতি প্রদর্শনের ফলে ১৬৫ ধারায় উল্লেখিত কোন সরকারী কর্মচারীকে ১৬১ ধারায় উল্লেখিত উদ্দেশ্যগুলির অন্যতম উদ্দেশ্যে উক্ত ধারায় উল্লেখিত পারিতোষিক দেওয়ার প্রস্তাব করে বা দেয়, কিংবা বিনামূল্যে বা অপর্যাপ্ত মূল্যের বিনিময়ে কোন মূল্যবান বস্তু দেওয়ার প্রস্তাব করে বা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ১৬১ ধারা বা ১৬৫ ধারা অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের সহায়তার দায়ে অপরাধী বলে পরিগণিত হবে না।

১৬৬। কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক আইনের নির্দেশ লংঘন

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হয়ে জ্ঞাতসারে আইনে তাকে সরকারী কর্মচারী হিসেবে যেরূপ আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে সেরূপ কোন নির্দেশ অমান্য করেন, অথবা তার এইরূপ অমান্য করার দরুণ কোন ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও সেরূপ কোন নির্দেশ অমান্য করেন, তবে তিনি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

উদাহরণ

Illustration

কোন বিচারালয়ে চ-এর স্বপক্ষে একটি ডিক্রি দেওয়া হয়েছে। ডিক্রিটি কার্যকরীকরণের উদ্দেশ্যে জনৈক কর্মকর্তা ক-কে নির্দেশ দান করা হয়েছে সম্পত্তি ক্রোক করতে । ক জ্ঞাতসারে এবং চ-এর ক্ষতি হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও আইনের এই নির্দেশটি অমান্য করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

১৬৭। ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সরকারী কর্মচারী কর্তৃক ভূল দলিল প্রণয়ন

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হয়ে এবং অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন দলিল প্রণয়ন বা অনুবাদের ভারপ্রাপ্ত হয়ে অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে এমনভাবে দলিলটি প্রণয়ন বা অনুবাদ করেন যা ভুল বলে তিনি জানেন এইরূপ ভুল দলিল প্রণয়ন বা অনুবাদের ফলে অন্য কোন ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তা করেন, তবে তিনি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দন্ডেই দণ্ডিত হবেন।

১৬৮। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক বেআইনীভাবে ব্যবসা করা

যদি কোন কর্মচারী সরকারী কর্মচারী হিসেবে ব্যবসায়ে লিপ্ত না হতে আইনত বাধ্য থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ে লিপ্ত হন, তবে তিনি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দত্তে অথবা উভয়। দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন।

১৬৯। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক বেআইনীভাবে সম্পত্তি ক্রয় বা নিলাম ডাকা

যদি কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন বিশেষ সম্পত্তি ক্রয় বা ক্রমের জন্য দরকষাকষি না করতে আইনতঃ বাধ্য থাকা সত্ত্বেও নিজের নামে অথবা অন্য কারো নামে অথবা যুক্তভাবে অথবা অন্যান্যের সাথে অংশ নিয়ে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন বা ক্রয় করার জন্য দরকষাকষি করেন, তবে তিনি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবেন; এবং সম্পত্তিটি ক্রয় করা হয়ে থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।

১৭০। ভুয়া সরকারী কর্মচারী বলিয়া পরিচয় দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন পদে অধিষ্ঠিত নয় বলে জানা সত্ত্বেও সে পদে অধিষ্ঠিত রয়েছে বলে পরিচয় দেয় অথবা অন্য যে ব্যক্তি যে পদে অধিষ্ঠিত আছে নিজেকে সে পদে অধিষ্ঠিত সে ব্যক্তি বলে ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং এইরূপ মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে সে পদের অধিকার বলে কোন কাজ করে বা করতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম করাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৭১। অসৎ উদ্দেশ্যে সরকারী কর্মচারীর পোশাক পরিধান বা চিহ্ন বহন

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারীদের কোন বিশেষ শ্রেণীর আওতাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও উক্ত শ্রেণীর সরকারী কর্মচারীদের পরিধেয় বা ব্যবহার্য পোশাক বা প্রতীকের সদৃশ পোশাক বা প্রতীক পরিধান বা ব্যবহার করে এবং ইহার ফলে সে সরকারী কর্মচারীদের উক্ত শ্রেণীর আওতাভুক্ত বলে বিশ্বাস সৃষ্টি হবে এইরূপ উদ্দেশ্যে যদি তা করে, অথবা অনুরূপ বিশ্বাস সৃষ্টি হতে পারে বলে জেনেই তা করে, তবে সে ব্যক্তির তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

১৭১ক। প্রার্থী ও নির্বাচনাধিকার এর সংজ্ঞা

এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যসমূহের পরিপ্রেক্ষিতে –

(ক) নির্বাচন প্রার্থী বলতে কোন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত ব্যক্তিকে বুঝাবে এবং যে ব্যক্তি কোন নির্বাচনের জল্পনা-কল্পনা চলাকালে উহাতে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রতিভাত করেন সে ব্যক্তিকেও বুঝাবে। তবে সে ব্যক্তিকে পরে অনুরূপ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হতে হবে;

(খ) নির্বাচনী অধিকার’ বলতে কোন ব্যক্তির কোন নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাড়াবার অথবা না দাড়াবার অথবা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দিতা হতে নাম প্রত্যাহার করার অথবা ভোট দেওয়ার অথবা ভোটদান হতে বিরত থাকার অধিকার বুঝায়।

১৭১খ। ঘুষ

১) যদি কোন ব্যক্তি-

(i) কোন ব্যক্তিকে কোন পারিতোষিক দেয় এবং এই পারিতোষিক প্রদানের লক্ষ্য হয় সে ব্যক্তিকে অথবা, অন্য কোন ব্যক্তিকে নির্বাচনী অধিকার প্রয়োগে প্ররোচিত করা, অথবা অনুরূপ কোন অধিকার প্রয়োগের জন্য কোন ব্যক্তিকে পুরস্কৃত করা, অথবা

(ii) নিজের জন্য বা অপর কারো জন্য অনুরূপ কোন অধিকার পুরস্কারস্বরূপ অথবা অন্য কোন ব্যক্তিকে অনুরূপ কোন অধিকার প্রয়োগে প্ররোচিত করার বা প্ররোচিত করার চেষ্টার জন্য পুরস্কারস্বরূপ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ঘুষখোরীর অপরাধে অপরাধী হবেঃ

তবে জনসাধারণের স্বাৰ্থজড়িত কোন নীতি ঘোষণা অথবা জনসাধারণের স্বার্থ জড়িত কোন কর্মপন্থার প্রতিশ্রুতি দান এই ধারামতে অপরাধ বলে অভিহিত হবে না।

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন পারিতোষিক দানের প্রস্তাব করে বা দিতে সম্মত হয় অথবা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করে বা চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পারিতোষিক দান করে বলে অভিহিত হবে।

(৩) কোন ব্যক্তি যদি কোন পারিতোষিক প্রাপ্ত হয় বা গ্রহণ করতে সম্মত হয় বা প্রাপ্ত হতে চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি পারিতোষিক গ্রহণ করে বলে অভিহিত হবে এবং যদি কোন ব্যক্তি, যা সে করতে মনস্থ করে নাই তা করার উদ্দেশ্যস্বরূপ অথবা যা সে করে নাই তা করার পুরস্কারস্বরূপ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পুরস্কারস্বরূপ পারিতোষিক গ্রহণ করেছে বলে অভিহিত হবে।

১৭১গ। নির্বাচনসমূহে অন্যায় প্রভাব

(১) কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্বচনী অধিকারের অবাধ বা স্বাধীন প্রয়োগে ইচ্ছাপূর্বক হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করে, হবে সে ব্যক্তি নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের অপরাধে অপরাধী হবে।

(২) উপযুক্ত (১) উপধারার বিধানসমূহের ব্যাপকতা ক্ষুন্ন না করে, বলা যাচ্ছে বলা যাচ্ছে যে, যদি কোন ব্যক্তি-

(ক) কোন প্রার্থী কিংবা ভোটদাতাকে, অথবা কোন প্রার্থী বা ভোটদাতা যে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ বা সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সে ব্যক্তিকে কোন প্রকারের ক্ষতির হুমকি প্রদর্শন করে, আথবা

(খ) কোন প্রার্থীকে বা ভোট দাতাকে কিংবা কোন প্রার্থী বা ভোটার যে ব্যক্তির সাথে স্বাৰ্থ বা সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সে ব্যক্তিকে বিশ্বাস করায় বা বিশ্বাস করাতে চেষ্টা করে যে, তিনি বিধাতার রোষে পতিত হবেন বা আধ্যাত্মিক নিন্দাভাজন হবেন, তবে উক্ত ব্যক্তি (১) উপধারার অর্থ অনুযায়ী অনুরূপ প্রার্থী বা ভোট দাতার নির্বাচনী অধিকারের অবাধ বা স্বাধীন প্রয়োগে হস্তক্ষেপ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(৩) জনসাধারণের স্বাৰ্থজড়িত কোন নীতি ঘোষণা বা জনসাধারণের স্বার্থজড়িত কোন কর্মপন্থা প্রতিশ্রুতিদান অথবা কোন নির্বাচনী অধিকারে হস্তক্ষেপ করার উদ্দেশ্য ছাড়া কেবলমাত্র একটি আইনানুগ অধিকার প্রয়োগ এই ধারার অর্থ অনুযায়ী হস্তক্ষেপ বলে পরিগণিত হবে না।

১৭১ঙ। ঘুষের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ভুষখোরীর অপরাধ করে তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

তবে আপ্যায়ন দ্বারা ঘুষখোরীর অপরাধ করলে তজ্জন্য শুধু অর্থ দন্ডে দন্ডিত করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-আপ্যায়ন’ বলতে খাদ্য, পানীয়, প্রমোদ বা রসদ আকারে পরিতোষিক দ্বারা ঘুষখোর বুঝায়।

১৭১চ। নির্বাচনে অন্যায় প্রভাব বিস্তার ও মিথ্যা পরিচয় দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তার বা মিথ্যা পরিচয়দানের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৭১ছ। নির্বাচন সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতিদান

কোন ব্যক্তি যদি কোন নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কোন প্রার্থীর ব্যক্তিগত চরিত্র বা আচরণ সম্পর্কে সত্য ঘটনা বলে এমন কোন বিবৃতি দান বা বিবরণ প্রকাশ করে যা মিথ্যা এবং যা সে মিথ্যা বলে জানে বা বিশ্বাস করে কিংবা সত্য বলে বিশ্বাস করে না, তবে সে ব্যক্তি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১৭১জ। নির্বাচন সম্পর্কিত ব্যাপারে অবৈধ অর্থ প্রদান

কোন ব্যক্তি যদি লিখিতভাবে কোন প্রার্থীর সাধারণ বা বিশেষ অনুমোদন ছাড়া সে প্রার্থীর নির্বাচনে সাহায্য করার বা সে প্রার্থীর নির্বাচনে সাফল্য লাভের উদ্দেশ্যে কোন জনসভার বা বিজ্ঞাপনের বা সার্কুলারের বা প্রকাশনার জন্য বা অপর কোন খাতে অর্থ ব্যয় করে বা অর্থ ব্যয়ের অনুমতি দেয়, তবে সে ব্যক্তি পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

তবে, কোন ব্যক্তি যদি অনুমোদন ছাড়াই অনধিক দশ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার পর অনুরূপ ব্যয় করার তারিখ হতে পরবর্তী দশ দিনের মধ্যে প্রার্থীর লিখিত অনুমোদন লাভ করে, তবে সে ব্যক্তি প্রার্থীর অনুমোদন নিয়েই অনুরূপ ব্যয় করেছে বলে পরিগণিত করা হবে। 

১৭২। কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক দেওয়া সমন প্রভৃতি এড়ানোর জন্য পলায়ন

কোন ব্যক্তি যদি তার উপর কোন সমন, নোটিশ বা আদেশ জারী করার ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তার উপর অনুরূপ কোন সমন, নোটিশ বা আদেশ জারী এড়াবার উদ্দেশ্যে পলাতক হয় বা আত্মগোপন করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সমশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; অথবা সমন বা নোটিশ বা আদেশ যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত উপস্থিত হওয়ার অথবা কোন আদালতে কোন দলিল পেশের নির্দেশমূলক হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৭৩। সমন বা নোটিস জারি করিতে বা লটকাইয়া দিতে বাধা দেওয়া বা লটকানোর পর উহা অপসারণ করা বা কোন হুলিয়া জারি করিতে বাধা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক তার বা অপর কোন ব্যক্তির উপর কোন সমন, নোটিশ বা আদেশ জারী করতে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক তার উপর বা অন্য কোন ব্যক্তির উপর অনুরূপ কোন সমন বা নোটিশ বা আদেশ জারি বন্ধ করে বা বাধার সৃষ্টি করে; অথবা ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ সমন, নোটিশ বা আদেশ কোন স্থানে আইনসম্মত ভাবে টানিয়ে বা লাগিয়ে দেওয়া বন্ধ করে বা বাধার সৃষ্টি করে, অথব ইচ্ছাপূর্বক যে স্থানে অনুরূপ সমন, নোটিশ বা আদেশ আইনসম্মতভাবে টানিয়ে বা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে সে স্থান হতে উহা অপসারিত করে। অথবা ইচ্ছাপূর্বক আইনসম্মতভাবে কোন ঘোষণা প্রচার বা প্রকাশ করার নির্দেশদানের আইনানুগ ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারীর অনুমতানুসারে অনুরূপ কোন ঘোষণার আইনসম্মত প্রচার বা প্রকাশ বন্ধ করে বা বাধার সৃষ্টি করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; 

১৭৪। কোন স্থানে ব্যক্তিগতভাবে বা প্রতিনিধি মারফত হাজির হওয়ার আইনসঙ্গত আদেশ অমান্য করা, বা বিনা অনুমতিতে সে স্থান ত্যাগ করা

কোন ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনতঃ কোন সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণা জারি করার ক্ষমতাসম্পন্ন অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর নিকট থেকে উদ্ভূত অনুরূপ সমন, বিজ্ঞপ্তি, আদেশ বা ঘোষণার আজ্ঞানুযায়ী স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত কোন নির্দিষ্ট স্থানে এবং সময়ে হাজির হওয়ার জন্য আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও –

ইচ্ছাকৃত সে স্থানে ও সময়ে উপস্থিত না হয় অথবা যে স্থানে সে উপস্থিত থাকতে বাধ্য সে স্থান হতে যখন তার প্রস্থান করা আইনসম্মত হত তার আগেই প্রস্থান করে,

তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি, মারফত কোন আদালতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশবাহী হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হতে ইস্যুকৃত একটি নির্দেশ মোতাবেক উক্ত আদালতে উপস্থিত হতে আইনতঃ বাধ্য। কিন্তু সে ইচ্ছাকৃত আদালতে গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(খ) ক-কে জনৈক জেলা জজ সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন দিয়েছেন। ক এ সমন মোতাবেক সাক্ষী হিসেবে উক্ত জেলা জজের সম্মুখে উপস্থিত হতে আইনত: বাধ্য। কিন্তু ক ইচ্ছাকৃত গরহাজির থাকে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে। 

১৭৫। কোন ব্যক্তি আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্বেও কোন সরকারী কর্মচারীর নিকট ইচ্ছাকৃতভাবে কোন দলিল পেশ না করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর নিকট, তিনি সরকারী কর্মচারী বলেই, কোন দলিল দাখিল করতে বা হস্তান্তর করতে আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত তা দাখিল বা হস্তান্তর না করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত অর্থ অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা দলিলটি যদি কোন বিচারালয়ে দাখিল বা সমৰ্পিত হওয়ার নির্দেশ হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থ অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক কোন জেলা আদালতে একটি দলিল দাখিল করতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক উহা দাখিল করে না। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

১৭৬। কোন ব্যক্তি আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারী কর্মচারীকে নোটিস বা খবর না দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকরী কর্মচারীর নিকট, তিনি সরকারী কর্মচারী বলেই কোন নোটিশ বা খবর দিতে আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, আইনের নির্দেশিত পদ্ধতিতে ও সময়ে অনুরূপ নোটিশ বা খবর না দেয়, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে বা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা আবশ্যকীয় নোটিশ বা তথ্যটি যদি কোন অপরাধের সংঘটন বিষয়ক হয় বা কোন অপরাধের সংঘটন নিরোধের জন্য আবশ্যকীয় হয় বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য আবশ্যকীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা সংশ্লিষ্ট নোটিশ বা খবরটি যদি ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬৫ ধারার (১) উপধারামতে প্রদত্ত কোন আদেশ অনুযায়ী আবশ্যকীয় হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

১৭৭। সরকারী কর্মচারীকে জ্ঞাতসারে মিথ্যা খবর দেওয়া

কোন তথ্য দিতে আইনত: বাধ্য হয়ে, সে বিষয়টির উপর সত্য বলে এমন কোন তথ্য পরিবেশন করে যা মিথ্যা বলে সে জানে বা যা মিথ্যা বলে বিশ্বাস করার তার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

অথবা উক্ত ব্যক্তি যে তথ্য দিতে আইনত: বাধ্য, তা যদি কোন অপরাধের সংঘটন বিষয়ক হয়, বা কোন অপরাধের সংঘটন নিরোধের জন্য আবশ্যকীয় হয়, বা কোন অপরাধীকে গ্রেফতার করার জন্য আবশ্যকীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ -

Illustrations

(ক) ক জনৈক জমিদার। সে জানে যে, তার জমিদারীর এলাকার মধ্যে একটি খুনের অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু সে জেলার ম্যাজিস্ট্রেটকে ইচ্ছাপূর্বক এইরূপ ভ্রান্ত খবর দেয় যে, সৰ্প দংশনের ফলে দুর্ঘটনা-ক্রমেই মৃত্যুটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

(খ) ক জনৈক গ্রাম্য চৌকিদার। সে জানে যে, বড় একদল অপরিচিত ব্যক্তি তার গ্রামের মধ্য দিয়ে পাশ্ববর্তী গ্রামের ধনী বাসিন্দা চ-এর বাড়িতে ডাকাতি করতে গিয়েছে। ক বৰ্তমানে কার্যকর কোন আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ও যথাসময়ে নিকটতম থানার কর্মকর্তাকে এই খবর দিতে বাধ্য, কিন্তু সে ইচ্ছাপূর্বক থানার কর্মকর্তাকে এই বলে ভুল খবর দেয় যে, একদল সন্দেহভাজন চরিত্রের ব্যক্তি তার গ্রামের মধ্য দিয়ে ভিন্ন দিকে এক দুরবর্তী স্থানে ডাকাতি করতে গিয়েছে। এই ক্ষেত্রে ক এই ধারার শেষাংশে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation): ১৭৬ ধারায় ও এই ধারায় অপরাধ’ কথাটি বলতে বাংলাদেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত হলে যে কাজ নিম্নোক্ত ধারাসমূহে যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, দেশের বাইরে যে কোন স্থানে অনুরূপ কোন কাজ অনুষ্ঠিত হলে তার বুঝাবে যথাঃ ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ ও ৪৬০ ধারা; এবং অপরাধী বলতে অনুরূপ যে কোন কার্যের জন্য অপরাধী বলে অভিযুক্ত যে কোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

১৭৮। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক প্রয়োজনীয় শপথ গ্রহণ করিতে অস্বীকার করা

কোন ব্যক্তি যদি আইনানুগভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক সত্য বলার শপথ বা অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দেশিত হওয়ার পর অনুরূপ আবদ্ধ হতে অস্বীকার করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ জরিমানা দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৭৯। আইনতঃ সত্য বলিতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করা

যদি কোন সরকারী কর্মচারীর কাছে কোন বিষয়ে সত্য বিবরণ দিতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সরকারী কর্মচারী তার সরকারী কর্মচারীর আইনানুগ ক্ষমতাবলে তার কাছে অনুরূপ বিষয় বিষয়ক কোন প্রশ্নের জবাব দাবী করার পর উহার জবাব দিতে অস্বীকার করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮০। আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারীর নিকট দেওয়া বিবৃতি স্বাক্ষর করিতে অস্বীকার করা

যদি কোন ব্যক্তি যদি তাকে তার প্রদত্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর দান করার নির্দেশ দেওয়ার আইনানুগ স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অনুরূপ বিবৃতিতে স্বাক্ষরদান করতে নির্দেশিত হওয়ার পর স্বাক্ষরদানে অস্বীকৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮১। সরকারী কর্মচারীর নিকট শপথপূর্বক জ্ঞাতসারে সত্য বলিয়া মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিষয়ে তার শপথ বা অঙ্গীকার গ্রহণের আইনানুগ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সরকারী কর্মচারীর বা অন্য কোন ব্যক্তির কাছে বিবৃতি দিতে আইনত: বাধ্য হয়েও শপথ বা অঙ্গীকার গ্ৰহণাত্তর উক্ত বিষয় সম্পর্কে উক্ত সরকারী কর্মচারী বা অনুরূপ ব্যক্তির কাছে এমন কোন বিবরণ বা বিবৃতি প্রদান করে, যা মিথ্যা এবং যা সত্য বলে সে বিশ্বাস করে না, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

১৮২। কোন ব্যক্তির ক্ষতি বা বিরক্তির নিমিত্ত কোন সরকারী কর্মচারীর আইনসঙ্গত ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য তাহাকে মিথ্যা খবর দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর কাছে এমন কোন খবর দেয়, যা মিথ্যা বলে সে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে সে বিশ্বাস করে, এবং অনুরূপ সরকারী কর্মচারীকে নিম্নরূপ কাজ করতে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যেই অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারী নিম্নরূপ কাজ করতে প্রবৃত্ত হতে পারে জেনেই তা করে

(ক) যে বিষয়ে খবর দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানা থাকলে উক্ত সরকারী কর্মচারীর যা করা অথবা না করা উচিত হত না তা করতে প্রবৃত্ত করা, কিংবা

(খ) কারো পক্ষে ক্ষতিকর বা বিরক্তিকরভাবে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর আইনসঙ্গত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে প্রবৃত্ত করা, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক জনৈক ম্যাজিস্ট্রেটকে জানায় যে, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেটের আওতায় পুলিশ কর্মকর্তা চ কৰ্তব্যে অবহেলার বা অসদাচরণের জন্য অপরাধী। ক জানে যে, এই তথ্যটি মিথ্যা এবং ক ইহার জানে যে, এই মিথ্যা খবর দেওয়ার ফলে সম্ভবতঃ উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট চ-কে বরখাস্ত করবেন। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(খ) ক জনৈক সরকারী কর্মচারীকে এই মর্মে মিথ্যা সংবাদ দেয় যে, চ কোন গোপন স্থানে বেআইনী লবণ লুকিয়েছে। ক জানে যে, সংবাদটি মিথ্যা এবং ক ইহার জানে যে, সরকারী কর্মচারীকে এই মিথ্যা সংবাদ দেওয়ার ফলে চ-এর গৃহাঙ্গনে তল্লাশি হবে এবং চ-এর বিরক্তি উৎপাদন করা হবে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(গ) ক জনৈক পুলিশের ব্যক্তিকে কোন বিশেষ গ্রামের পাশে সে প্রহৃত ও লুষ্ঠিত হয়েছে বলে মির্থ্যা সংবাদ দেয়। সে তার আক্রমণকারী হিসেবে কোন ব্যক্তির নামোলেখ করে না; কিন্তু সে জানে যে, তার এই মিথ্যা সংবাদ দেওয়ার ফলে পুলিশ তদন্ত করতে ও গ্রামে তল্লাশি চালাতে পারে এবং তাতে গ্রামবাসীদের সকলের বা কারো বিরক্তি উৎপাদন করা হবে । ক এই ধারামতে একটি অপরাধ করেছে।

১৮৩। সরকারী কর্মচারীর আইনসঙ্গত কর্তৃত্ববলে সম্পত্তি গ্রহণে বাধা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর আইনসম্মত ক্ষমতাবলে কোন সম্পত্তি দখলে বাধাদান করে এবং উক্ত সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী বলে সে জানে বা সেরূপ বিশ্বাস করার তার কোন কারণ থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদেণ্ড অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮৪। সরকারী কর্মচারীর কর্তৃত্ববলে বিক্রয়যোগ্য সম্পত্তি বিক্রয়ে বাধা দেওয়া

সরকারী কর্মচারী কর্তৃক সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনসম্মত ক্ষমতাবলে নিলামে বিক্রয়ের জন্য উপস্থাপিত সম্পত্তি বিক্রয়ে কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাপূর্বক বাধাদান করে, তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮৫।আইনতঃ অনুমোদিত নিলাম বিক্রয়ে আইনতঃ অপারগ ব্যক্তি কর্তৃক সম্পত্তির নিলাম ডাকা অথবা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন না করিবার উদ্দেশ্য লইয়া নিলাম ডাকা

কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক সরকারী কর্মচারী হিসেবে তাঁর আইনসম্মত ক্ষমতানুসারে কোন সম্পত্তির নিলাম বিক্রয়ে যদি এমন কোন ব্যক্তি তার নিজের বা অন্য কোন ব্যক্তির নামে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করে বা ক্রয় করার জন্য নিলাম ডাকে, সে জানে যে, সে ব্যক্তি উক্ত নিলামে সে সম্পত্তি ক্রয় করতে আইনের দিক হতে অপারগ, অথবা নিলাম ডাকার ফলে সে যে বাধ্যবাধকতায় আবদ্ধ হবে, তা পূরণ করবে না বলে মনস্থ করে নিলাম ডাকে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অথবা সমন, নোটিশ, আদেশ বা ঘোষণাটি যদি স্বয়ং বা প্রতিনিধি মারফত উপস্থিত হওয়ার কিংবা কোন আদালতে কোন দলিল পেশের নির্দেশমূলক হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮৬। সরকারী কর্মচারীকে তাহার সরকারী কার্য সম্পাদনে বাধা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীদের সরকারী কার্যাবলী সম্পাদনে ইচ্ছাপূর্বক বাধাদান করে, তবে সে ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮৭। আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারীকে সাহায্য না করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীকে তাঁর সরকারী কর্তব্য সম্পাদনে সহায়তা করতে বা সহায়তা সংগ্রহ করে দিতে আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ সহায়তা দিতে ইচ্ছাপূর্বক অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

এবং অনুরূপ সহায়তা যদি কোন আদালত হতে আইনসম্মতভাবে দেওয়া সমনাদি বলবৎ করার জন্য অথবা কোন অপরাধের সংঘটন নিবারণের জন্য, অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ দমনের জন্য অথবা কোন অপরাধে বা আইনসম্মত আটক হতে পলায়নের দায়ে অভিযুক্ত বা অপরাধী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার জন্য সহায়তা দাবি করতে আইনসম্মতভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী দাবি করে থাকেন, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৮৮। সরকারী কর্মচারী কর্তৃক আইনসঙ্গতভাবে জারিকৃত কোন আদেশ অমান্য করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন আদেশ জারী করতে বিধিসঙ্গতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন সরকারী কর্মচারী কর্তৃক জারীকৃত আদেশে তাকে কোন বিশেষ কাজ হতে বিরত থাকার অথবা তার দখলাধীন বা পরিচালনাধীন কোন সম্পত্তি সম্পর্কে কোন বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশদান করা হয়েছে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ নির্দেশ অমান্য করে, তবে, যদি অনুরূপ অবাধ্যতার ফলে আইনসম্মতভাবে নিযুক্ত কোন ব্যক্তির বিঘ্ন হয়, বিরক্তি উৎপাদিত হয় বা ক্ষতি সাধিত হয় অথবা, বিঘ্ন, বিরক্তি বা ক্ষতির অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় তবে সে ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। এবং যদি অনুরূপ অবাধ্যতার ফলে মানবদেহ, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ অনুষ্ঠিত হয় কিংবা অনুরূপ বিপদ অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয় অথবা কোন দাঙ্গা বা কলহ অনুষ্ঠিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধী কর্তৃক কোনরূপ ক্ষতিসাধনের ইচ্ছা পোষণ বা তার অবাধ্যতা কর্তৃক ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা সৃষ্টির অভিসন্ধি থাকা আবশ্যিক নয়। যে আদেশ অমান্য করে তৎসম্পর্কে তার অবহিতি এবং তার অবাধ্যতা থেকে ক্ষতিসাধন বা ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা সৃষ্টিই যথেষ্ট বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

কোন আদেশ জারী করতে আিইনসম্মতভাবে ক্ষমতাসম্পন্ন জনৈক সরকারী কর্মচারী অনরূপ আদেশ জারী করে নির্দেশ দেয় যে, একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা মিছিল কোন বিশেষ রাস্তা দিয়ে যাবে না। ক জ্ঞাতসারে এই আদেশ অমান্য করে এবং তদ্বারা দাঙ্গার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

১৮৯। সরকারী কর্মচারীকে ক্ষতিসাধনের হুমকি

কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট কোন কাজ করতে প্রবৃত্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন কাজ করা হতে বিরত হওয়ার বা করতে বিলম্ব করার জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, কোন ব্যক্তি যদি উক্ত সরকারী কর্মচারীকে অথবা অন্য যে কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত সরকারী কর্মচারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট, সে অন্য ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৯০। কোন ব্যক্তিকে ক্ষতি হইতে রক্ষা পাইবার উদ্দেশ্যে আইনসঙ্গত দরখাস্ত না করিতে বাধ্য করিবার জন্য হুমকি দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে ক্ষতির হুমকি হতে আশ্রয় লাভের ব্যবস্থা করতে বা করাইত আইনসম্মত ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারী কর্মচারীর কাছে আশ্রয়ের আবেদন করা হতে বিরত করার উদ্দেশ্যে তাকে অনুরূপ ক্ষতিসাধনের হুমকি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

১৯১। মিথ্যা সাক্ষ্যদান

কোন ব্যক্তি যদি কোন শপথক্রমে বা আইনে কোন প্রকাশ্য বিধান অনুযায়ী সত্য বলতে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, অথবা কোন বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রদান করতে আইনানুসারে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, এমন কোন উক্তি করে বা বিবৃতি দান করে যা মিথ্যা, এবং যা হয় সে মিথ্যা বলে জানে, না হয় সে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে অথবা যা সে সত্য বলে বিশ্বাস করে না, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:-  কোন উক্তি বা বিবৃতি মৌখিকভাবে অথবা অপর যেভাবেই করা হোক না কেন, এই ধারার অর্থানুসারে তা উক্তি বা বিবৃতি বলে বিবেচিত।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- সত্যতা নিরূপণকারী ব্যক্তির বিশ্বাস বিষয়ক মিথ্যা উক্তি এই ধারার অর্থে অন্তর্ভুক্ত। কোন ব্যক্তি যা বিশ্বাস করে না, তা সে বিশ্বাস করে বলে এবং যা সে জানে বলে উক্তি করলে সে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দানের জন্য অপরাধী হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ-এর বিরুদ্ধে খ-এর এক হাজার টাকার একটি ন্যায্য দাবি রয়েছে। খ-এর এই যথার্থ দাবির সমর্থনে ক এক মামলায় মিথ্যা শপথ গ্রহণ করে বলে যে, সে চ-কে খএর দাবির ন্যায্যতা স্বীকার করতে শুনিয়াছে । ক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করল ।

(খ) ক একটি শপথ অনুযায়ী সত্য বলতে আইনত: বাধ্য হয়ে কোন একটি স্বাক্ষর চ-এর হস্তলিপি সে বিশ্বাস করে বলে উক্ত করে, কিন্তু স্বাক্ষরটি চ-এর হস্তলিপি বলে সে প্রকৃত প্রস্তাবে বিশ্বাস করে না। এখানে ক এমন উক্তি করল যা সে মিথ্যা বলে জানে। কাজেই ক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করল।

(গ) ক, চ-এর হস্তলিপির সাধারণ প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত থেকে কোন একটি স্বাক্ষর চ-এর হস্তলিপি বলে উক্তি করে, ক সরল অন্তকরণেই বিশ্বাস করে যে, স্বাক্ষরটি চ-এরই হস্তলিপি। এখানে ক-এর উক্তিটি কেবল তার বিশ্বাস বিষয়ক এবং তার বিশ্বাস সম্পর্কে সত্য। কাজেই যদিও স্বাক্ষরটি বস্তুতঃ চ-এর হস্তাক্ষর না হয়, তথাপি ক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে নাই ।

(ঘ) ক একটি শপথ অনুযায়ী সত্য বলতে আইনত: বাধ্য হয়ে কোন একটি বিশেষ তারিখে একটি বিশেষ স্থানে চ ছিল বলে সে জানে বলে উক্তি করে, যদিও প্রকৃত প্রস্তাবে বিষয়টি সম্পর্কে সে কিছুই জানে না। চ উক্ত তারিখে উক্ত স্থানে থেকে থাকুক আর নাই থাকুক, ক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করল।

(ঙ) ক জনৈক দোভাষী বা অনুবাদক। সে একটি শপথমূলে সঠিকভাবে অনুবাদ করতে বা দোভাষীর কার্য করতে আইনত: বাধ্য। এমতাবস্থায় সে কোন উক্তি বা বিবৃতি কিংবা দলিলের তরজমা বা অনুবাদকে সঠিক বলে সনাক্ত করে। কিন্তু উক্ত তরজমা বা অনুবাদ সঠিক নয় এবং সে উহা সটিক বলে বিশ্বাস করে না। ক মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে ।

১৯২। মিথ্যা সাক্ষ্য উদ্ভাবন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন অবস্থার অস্তিত্ব সৃষ্টি বা উদ্ভাবন করে, অথবা কোন বইতে বা রেকর্ডে মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে অথবা মিথ্যা বিবরণ সাক্ষ্য হিসেবে কোন বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমে অথবা কোন সালিসের সম্মুখে উত্থাপন করার উদ্দেশ্যেই যদি তা করা হয়ে থাকে এবং অনুরূপ অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতি যদি এমন প্রকৃতির হয় যে, উক্ত কার্যক্রমে যিনি সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে তার মতামত গঠন করবেন, তিনি উক্ত অবস্থা বা মিথ্যা দলিল বা মিথ্যা বিবৃতিজনিত সাক্ষ্যে প্রভাবিত হয়ে অনুরূপ কার্যক্রমের সাথে গুরুত্বপূর্ণভাবে জড়িত কোন বিষয় সম্পর্কে ভুল ধারণা বা মত পোষণ করবেন, তবে সে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক চ-এর বাক্সে কয়েকটি মুক্তা রেখে দেয়। সে চ-এর বাক্সে মুক্তাগুলি এই উদ্দেশ্যেই রেখে দেয়, যেন মুক্তাগুলি সম্পর্কে তল্লাশি করতে গিয়ে সেগুলি চ-এর বাক্সেই পাওয়া যায় এবং ইহার ফলে উদ্ভুত অবস্থাটির পরিপ্রেক্ষিতে চ চুরির অপরাধে দণ্ডিত হয়। ক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে।

(খ) ক তার দোকানের খাতায় একটি মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে। কোন আদালতে সমর্থক সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্যই ক এইরূপ মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে । ক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে।

(গ) চ-কে একটি অপরাধজনক চক্রান্তে বা ষড়যন্ত্ৰে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে ক চএর হস্তলিপি অনুকরণ করে উক্ত চক্রান্তের কোন সাহায্যকারীকে সম্বোধন করে একটি চিঠি লেখে এবং যে স্থানে পুলিশ কর্মকর্তাদের তলাশী চালাবার আশঙ্কা রয়েছে, এমন কোন স্থানে উহা রেখে দেয়। ক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করেছে।

১৯৩। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যে কোন পর্যায়ে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষাদান ব্যবহার করার জন্য ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

এবং কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাপূর্বক মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে বা তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সামরিক আদালত (Court-martial) সংঘটিত বিচারও একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন আদালতের কোন কার্যক্রম শুরু হওয়ার পূর্বে আইনের নির্দেশানুগ প্রারম্ভিক তদন্ত ও বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

উদাহরণ

Illustration

চ-কে বিচারের জন্য সোপর্দ করা উচিত কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য জনৈক ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে সম্পাদিত একটি তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু এই তদন্তটি একটি বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন আদালত দ্বারা আইনানুসারে নির্দেশিত এবং কোন আদালতের ক্ষমতানুসারে পরিচালিত কোন তদন্ত বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমের একটি পর্যায় যদিও সে তদন্ত কোন আদালতে সংঘটিত নাও হতে পারে।

উদাহরণ

Illustration

জমির সীমানা অকুস্থলে নির্ণয়কল্পে কোন আদালত দ্বারা প্রেরিত কর্মচারীর বা অফিসারের সম্মুখে সম্পাদিত তদন্তে ক শপথ গ্রহণান্তর এমন একটি বিবৃতি দান করে, যা সে মিথ্যা বলে জানে। যেহেতু উক্ত তদন্তটি একটি বিচারবিভাগীয় কার্যক্রমেরই একটি পর্যায়, সেহেতু ক মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করেছে বলে অভিহিত হবে।

১৯৪। কোন লোককে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দন্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া বা সৃষ্টি করা

কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সনাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয় (If innocent person be thereby convicted and executed):-

যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষাদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।

১৯৫। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সাত বৎসর বা ততোধিক মেয়াদের কারাদন্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দন্ডিত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ দেওয়া বা সৃষ্টি করা

কোন ব্যক্তি যদি বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় নয়, কিন্তু যাবজীবন কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অন্য কোন ব্যক্তিকে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত অন্য কোন ব্যক্তি অনুরূপ অপরাধে দণ্ডিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করে, তবে সে ব্যক্তি পূর্বোলিখিত অপরাধে কোন ব্যক্তি অপরাধী সাব্যস্ত হলে তাকে যে দণ্ডে দণ্ডিত করা যেত, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

মিথ্যা সাক্ষ্য কর্তৃক চ-কে ডাকাতির দায়ে দণ্ডিত করার মানসে ক আদালডে মিথ্যা সাক্ষ্য দান করে। ডাকাতির সাজা হচ্ছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়া দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ড । সুতরাং ক যাবজীবন কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডসহ বা ছাড়া কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

১৯৬। বিচার বিষয়ক কার্যক্রমে মিথ্যা বা বানোয়াট বলিয়া জ্ঞাত বিষয় সাক্ষ্য হিসাবে ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সাক্ষ্য মিথ্যা বা বানোয়াট বলে জানা সত্ত্বেও দুনীতিমূলকভাবে উহাকে সত্য, বা খাটি সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করলে সে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সেভাবেই দণ্ডিত হবে।

১৯৭। মিথ্যা সার্টিফিকেট দান করা বা উহাতে স্বাক্ষর করা

কোন ব্যক্তি যদি আইনের নির্দেশানুসারে কোন সার্টিফিকেট ইস্যু করে কিংবা উহাতে স্বাক্ষর করে কিংবা যে বিষয়ে আইনানুসারে কোন সার্টিফিকেট সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়ে অনুরূপ সার্টিফিকেট দান বা স্বাক্ষর করে এবং সার্টিফিকেটটি কোন বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও বা অনুরূপভাবে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করা সত্ত্বেও অনুরূপভাবে উহা দান বা স্বাক্ষর করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান করলে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সে সেভাবে দণ্ডিত হবে।

১৯৮। মিথ্যা বলিয়া জ্ঞাত কোন সার্টিফিকেট সত্য বলিয়া ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সার্টিফিকেট বাস্তব গুরুত্বপূর্ণ কোন দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও দূর্নীতিমূলকভাবে উহাকে সত্য বা খাঁটি সার্টিফিকেট হিসেবে ব্যবহার করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্যদান করলে যেভাবে দণ্ডিত হত, এক্ষেত্রেও সে সেভাবে দণ্ডিত হবে।

১৯৯। আইনতঃ সাক্ষ্য প্রমানে গ্রহণযোগ্য কোন ঘোষনায় মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া

যদি কোন ব্যক্তি তৎকৃত বা তৎসমর্থিত এমন কোন ঘোষণায় মিথ্যা বিবৃতি দান করে যে ঘোষণাটি কোন ঘটনার বা বিষয়ের সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে কোন আদালত বা সরকারী কর্মচারী বা অন্য কোন ব্যক্তি আইনত: বাধ্য বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং যদি উক্ত ব্যক্তি বিবৃতি হয় মিথ্যা বলে জানে, না হয় মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে, নতুবা সত্য বলে বিশ্বাস করে না এবং যদি সে বিবৃতি যে বিষয়ের জন্য ঘোষণাটি জারীকৃত বা ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয় সম্পর্কে বাস্তব গুরুত্ব সম্পন্ন হয়, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্য দান করলে তার যেরূপ সাজা হত, এই ক্ষেত্রেও তার তদ্রুপ সাজা হবে।

২০০। মিথ্যা বলিয়া জানা সত্ত্বেও উক্তরূপে কোন ঘোষনা সত্য বলিয়া ব্যবহার করা

অনুরূপ কোন দলিল কোন বাস্তব গুরুত্বসম্পন্ন দিক হতে মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি দুনীতিমূলকভাবে উহাকে সত্য বা খাটি ঘোষণা হিসেবে ব্যবহার করে বা ব্যবহার করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি স্বয়ং মিথ্যা সাক্ষ্য দান করলে তজ্জন্য যেভাবে সাজাপ্রাপ্ত হত, এইক্ষেত্রেও সে সেভাবেই সাজাপ্রাপ্ত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

যদি কোন ঘোষণা কেবলমাত্র কোন আনুষ্ঠানিক ক্রটির দিক হতে গ্রহণের অযোগ্য হয়, তবে সে ঘোষণাও ১৯৯ ও ২০০ ধারা দুইটির অর্থ মোতাবেক একটি ঘোষণা বলে কর্তব্য।

২০১। অপরাধকারীকে গোপন করিবার জন্য অপরাধের সাক্ষ্য অদৃশ্য করিয়া দেওয়া বা মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধীকে আইনের সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে, কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও অথবা অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, সে অপরাধটি সংঘটনের কোন সাক্ষ্য বা প্রমাণ বিলুপ্ত করে বা করায়, অথবা সে উদ্দেশ্য নিয়ে সে অপরাধটি সম্পর্কে কোন খবর দেয়, যা সে মিথ্যা বলে জানে অথবা যা মিথ্যা বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তখন-

যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):-

যদি, যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সে জানে বা যে অপরাধটি অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যদি যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় হয় (if punishable with imrisonment for life):-

এবং যদি অপরাধটি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with less thatn ten year’s imprisonment):-

এবং যদি অপরাধটি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের (সশ্রম অথবা বিনাশ্ৰম) কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অপরাধটির জন্য দীর্ঘতম যে মেয়াদের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, তার কারাদণ্ডের মেয়াদ উহার এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন দৈর্ঘ্যের হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

খ চ-কে খুন করেছে জানা সত্ত্বেও ক, খ-কে সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে খ-কে চএর মৃতদেহটি লুকিয়ে ফেলিতে সহায়তা করে। ক সাত বৎসর সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

২০২। আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও কোন অপরাধ সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে খবর না দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কিংবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও এবং সে অপরাধটি সংঘটনের খবর দিতে সে আইনত: বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও, ইচ্ছাপূর্বক সে অপরাধটি সংঘটনের খবর দিতে অন্যথা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২০৩। সংঘটিত অপরাধ সম্পর্কে মিথ্যা খবর দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও কিংবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও সে অনুষ্ঠিত অপরাধ সম্পর্কে এমন কোন সংবাদ দেয় যা সে মিথ্যা বলে জানে কিংবা যা সে মিথ্যা বলে বিশ্বাস করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

২০১ ও ২০২ ধারায় এবং এই ধারায় ‘অপরাধ’ কথাটি বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারার যেকোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বিদেশের যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে।

২০৪। প্রমাণ হিসাবে পেশ করিতে না দেওয়ার জন্য কোন দলিল গোপন বা বিনষ্ট করা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন দলিল গোপন করে বা লুকিয়ে ফেলে কিংবা ধ্বংস করে বা বিনষ্ট করে, যা সে কোন আদালতে কিংবা কোন সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনসম্মতভাবে সংঘটিত কোন কার্যক্রমের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে আইনানুসারে বাধ্য হতে পারে, অথবা অনুরূপ দলিল যাতে সাক্ষ্য-প্রমাণ হিসেবে উপরোলিখিতরূপে কোন আদালতে বা সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে উপস্থাপিত বা ব্যবহৃত হতে না পারে তদুদ্দেশ্যে উহার সমগ্র অংশ বা অংশবিশেষ অস্পষ্ট করে (বা মুছিয়া) ফেলে কিংবা পাঠের অযোগ্য করে দেয়, কিংবা অনুরূপ উদ্দেশ্যে দলিলটি উপস্থাপন করার জন্য আইনানুসারে সমন বা নির্দেশদানের পর, যাতে উহা উপস্থাপিত বা ব্যবহৃত হতে না পারে, তদুদ্দেশ্যে উক্তরূপ কাজ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২০৫। কোন কার্য বা দেওয়ানী মোকদ্দমা বা ফৌজদারী মামলার উদ্দেশ্যে বা জামিনদার হওয়ার উদ্দেশ্যে ভূয়া পরিচয় দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির নামে নিজের পরিচয় দেয় এবং এইরূপ মিথ্যা পরিচয় দিয়ে কোন মামলা-মোকদ্দমায় বা ফৌজদারী কার্যক্রমে কোনরূপ স্বীকৃতি বা বিবৃতিদান করে, কিংবা বিচার প্রার্থনা বা স্বীকারোক্তি করে কিংবা কোন সমনাদি জারি করায় বা জামানত হয় বা অপর কোনরূপ কাজ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২০৬। বাজেয়াফতকরণ বা জরিমানা বা ডিক্রীর অর্থ আদায় করিবার জন্য আটক নিবারণের উদ্দেশ্যে প্রবঞ্চনা-মূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন আদালত কর্তৃক বা অন্যকোন উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যে সাজা প্রদত্ত হয়েছে কিংবা হতে পারে বলে সম্ভাবনা করা যাচ্ছে বলে সে জানে, তদনুসারে কোন সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বত্ব যাতে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি হিসেবে কিংবা অর্থ আদায় বাবদ আটক হতে না পারে, তজ্জন্য প্রতারণামূলকভাবে উক্ত সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বত্ব অপসারিত, লুক্কায়িত, হস্তান্তর বা অর্পিত করে, অথবা কোন আদালত কর্তৃক কোন দেওয়ানী মোকদ্দমায় যে ডিক্রি বা আদেশ প্রদত্ত হয়েছে কিংবা প্রদত্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে সে জানে, উক্ত সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বত্ব যাতে গৃহীত হতে না পারে তজ্জন্য সে অনুরূপে প্রতারণামূলকভাবে উক্ত সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বত্ব অপসারণ, গোপন, হস্তান্তর বা অৰ্পণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

বাজেয়াফতকরণ বা জরিমানা বা ডিক্রির অর্থ আদায় বাবদ সম্পত্তি লওয়া নিবারণের জন্য বিনা অধিকারে কোন সম্পত্তি দাবি করা বা সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে প্রবঞ্চনা করা কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচারালয় বা অন্য কোন যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঘোষিত হয়েছে বা ঘোষিত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে সে জানে, এমন কোন দণ্ডাজ্ঞাধীনে কোন সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থ কোন বাজেয়াপ্তরূপে বা অর্থদণ্ড পরিশোধরূপে বা কোন দেওয়ানী মামলায় কোন বিচারালয় দ্বারা প্রদান করা হয়েছে বা প্রদান করার আশঙ্কা আছে বলে সে জানে, এইরূপ কোন ডিক্রি বা আদেশ কার্যকরী করার ব্যাপারে বাধাদান করার উদ্দেশ্যে এইরূপ কোন সম্পত্তি বা উহাতে কোন স্বার্থ প্রতারণামূলক ভাবে গ্রহণ করে, হস্ত গত করে বা দাবী করে কিংবা কোন সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থের অধিকার সম্পর্কে কোন প্রকার প্রতারণা করে, উক্ত সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থে তার কোন অধিকার নাই বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২০৭। বাজেয়াফতকরণ বা জরিমানা বা ডিক্রির অর্থ আদায় বাবদ সম্পত্তি লওয়া নিবারণের জন্য বিনা অধিকারে কোন সম্পত্তি দাবি করা বা সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কে প্রবঞ্চনা করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিচারালয় বা অন্য কোন যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঘোষিত হয়েছে বা ঘোষিত হওয়ার আশঙ্কা আছে বলে সে জানে, এমন কোন দণ্ডাজ্ঞাধীনে কোন সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থ কোন বাজেয়াপ্তরূপে বা অর্থদণ্ড পরিশোধরূপে বা কোন দেওয়ানী মামলায় কোন বিচারালয় দ্বারা প্রদান করা হয়েছে বা প্রদান করার আশঙ্কা আছে বলে সে জানে, এইরূপ কোন ডিক্রি বা আদেশ কার্যকরী করার ব্যাপারে বাধাদান করার উদ্দেশ্যে এইরূপ কোন সম্পত্তি বা উহাতে কোন স্বার্থ প্রতারণামূলক ভাবে গ্রহণ করে, হস্ত গত করে বা দাবী করে কিংবা কোন সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থের অধিকার সম্পর্কে কোন প্রকার প্রতারণা করে, উক্ত সম্পত্তি বা উহাতে নিহিত কোন স্বার্থে তার কোন অধিকার নাই বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২০৮। যে অর্থ পাওনা নয় তাহার জন্য প্রবঞ্চনামূলকভাবে ডিক্রী পাস হইতে দেওয়া বা অর্থ পরিশোধের পর ডিক্রী জারি হইতে দেওয়া

যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির মোকদ্দমায় যে অর্থ প্রাপ্য নয়, সে অর্থের জন্য, কিংবা অনুরূপ ব্যক্তির যে অর্থ প্রাপ্ত তদপেক্ষা বৃহত্তর পরিমাণের জন্য কিংবা যে সম্পত্তিতে বা যে সম্পত্তিতে নিহিত কোন স্বত্ব বা স্বার্থে অনুরূপ ব্যক্তির অধিকার বা স্বত্ব নাই, সে সম্পত্তির বা উহাতে নিহিত স্বত্ব বা স্বার্থের জন্য প্রতারণামূলকভাবে নিজের বিরুদ্ধে ডিক্রি বা আদেশ করায় অথবা কোন ডিক্রি বা আদেশ মূলে অর্থ পরিশোধ হওয়ার পর নিজের বিরুদ্ধে উহা জারি করায়, অথবা যে বিষয়টি সম্পর্কে ডিক্রি বা আদেশ মূলে অর্থ পরিশোধ হয়েছে, সে বিষয়েই উহা নিজের বিরুদ্ধে জারি করায়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক চ-এর বিরুদ্ধে একটি মোকদ্দমা দায়ের করে। ক চ-এর বিরুদ্ধে একটি ডিক্রি পেতে পারে বলে চ জেনে খ-এর মোকদ্দমায় নিজের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অঙ্কের জন্য একটি ডিক্রি করায়, যাতে খ নিজের স্বার্থে অথবা চ-এর উপকারার্থে ক-এর ডিক্রিক্রমে চ-এর সম্পত্তি বিক্রয় হলে বিক্রয় মূল্যের অংশগ্রহণ করতে পারে। চ এই ধারামতে একটি অপরাধ করেছে।

২০৯। আদালতে মিথ্যা দাবি উত্থাপন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন দাবি মিথ্যা বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে কিংবা কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে কোন আদালতে অনুরূপ দাবি উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

২১০। যে অর্থ পাওনা নয় তাহার জন্য প্রবঞ্চনামূলকভাবে ডিক্রী পাস করিয়া লওয়া, অর্থ পরিশোধের পর ডিক্রী জারি করা

কোন বক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার যে অর্থ প্রাপ্য নয়, সে অর্থের জন্য, কিংবা তার যে অর্থ প্রাপ্য, তদাপেক্ষা বৃহত্তর অঙ্কের জন্য, কিংবা যে সম্পত্তিতে বা যে সম্পত্তিতে নিহিত কোন স্বত্ত্বে তার কোন অধিকার নাই, সে সম্পত্তিতে বা উহাতে নিহিত কোন স্বত্বের জন্য প্রতারণামূলকভাবে ডিক্রি বা আদেশ লাভ করে, কিংবা কোন অর্ডার বা ডিক্রির টাকা পরিশোধ হওয়ার পর অন্য কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণামূলকভাবে উহা জারি করায়, অথবা সে বিষয়টি সম্পর্কে ডিক্রি বা আদেশমূলে টাকা পরিশোধ হয়েছে, যে বিষয়েই উহা প্রতারণামূলকভাবে জারি করায়, অথবা প্রতারণামূলকভাবে অনুরূপ কোন কাজ অনুষ্ঠিত হতে দেয় বা তার নামে উহা অনুষ্ঠিত হওয়ার অনুমতি প্রদান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২১১। ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অপরাধের মিথ্যা অভিযোগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

২১২। অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় হইলে

কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-

দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if a capital offence):-

যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় (if punishable with imprisonment for life or with imprisonment):-

যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সে অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

অত্র ধারার অপরাধ বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-

দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

উদাহরণ

Illustration

খ ডাকাতি করেছে জেনে ক জ্ঞাতসারে ক-কে লুকিয়ে রাখে। আইনের সাজা হতে খকে বাচাবার মানসেই ক এই কাজ করে। এক্ষেত্রে, যেহেতু খ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় সেহেতু ক অনধিক তিন বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

২১৩। অপরাধীকে শাস্তি হইতে বাঁচাইবার জন্য উপহার প্রভৃতি গ্রহণ করা, অপরটি মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় হইলে

কোন ব্যক্তি যদি কোন অপরাধ গোপন করার বিনিময়ে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে কোন অপরাধহেতু প্রাপ্য আইনের সাজা হতে বাঁচাবার বিনিময়ে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আইনের দণ্ডে দণ্ডিত করার জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ হতে বিরত থাকার বিনিময়ে নিজের জন্য বা অপর কারো জন্য কোন পারিতোষিক কিংবা নিজের জন্য বা অপর কারো জন্য কোন সম্পত্তিতে স্বত্বের পুনঃপ্রতিষ্ঠা গ্রহণ করে বা লাভ করার চেষ্টা করে, কিংবা গ্রহণ করতে স্বীকৃত হয়।

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে (if a capital offence):-

সে ব্যক্তি যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যাবজ্জীবন কারাবাস বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-

এবং যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং এতদ্ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে, এবং যদি অপরাধটি যে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয়, সে কারাদণ্ডের মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত না হয়, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য যে ধরনের কারাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে, সে ধরনের কারাদণ্ডে অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের জন্য দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২১৪। অপরাধীকে শাস্তি হইতে বাঁচাইবার জন্য উপহার দেওয়ার বা সম্পত্তি ফিরাইয়া দেওয়ার প্রসত্মাব করা অপরাধটি মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় হইলে

ন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তি দ্বারা কোন অপরাধ গোপন করার কিংবা কাউকে কোন অপরাধহেতু প্রাপ্য আইনের শাস্তি হতে বাচাবার কিংবা কাউকে আইনের দণ্ডে দণ্ডিত করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হতে বিরত রাখার পুরস্কার স্বরূপ উক্ত অন্য ব্যক্তিকে কোন পারিতোষিক প্রদান করে বা করায় বা প্রদান করার প্রস্তাব করে কিংবা প্রদান করতে বা করাতে স্বীকৃতি হয় অথবা উক্ত অন্য ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি প্রত্যাৰ্পণ করতে বা করাতে প্রস্তাব করে বা স্বীকৃত হয় তখন-

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে (if a capital offence):-

যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

যাবজ্জীবন কারাবাস বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-

যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়। তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে; এবং যদি অপরাধটি যে কারাদণ্ডে দণ্ডনীয়, তার মেয়াদ দশ পর্যন্ত না হয়, তবে সে ব্যক্তির অপরাধটির জন্য যে ধরনের কারাদণ্ডের বিধান করা ধরনের কারাদণ্ডে অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ ন মেয়াদের জন্য দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ গুই দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-

যেসব ক্ষেত্রে অপরাধটির অভিযোগ আইনানুগভাবে প্রত্যাহার করা যায়, সে সব ক্ষেত্রে ২১৩ ও ২১৪ ধারা দুইটির বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না। 

২১৫। অপরাধীকে গ্রেফতার না করিয়া তাহার দ্বারা কৃত অপরাধ মারফত কাহাকেও বঞ্চিত করিয়া গৃহীত অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধারে সাহায্য করার জন্য উপহার গ্রহণ করা

কোন ব্যক্তি এই বিধি বলে দণ্ডনীয় কোন অপরাধহেতু যে সম্পত্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে তাকে সে সম্পত্তি উদ্ধারে সহায়তার ভান করে বা সহায়তা করার জন্য যদি কেউ কোন পারিতোষিক গ্রহণ করে কিংবা গ্রহণ করতে স্বীকৃত বা সম্মত হয়, তবে সে যদি না অপরাধীকে গ্রেফতার ও অপরাধের জন্য দণ্ডিত করানোর জন্য তার সাধ্যায়ত্ত সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২১৬। হাজত হইতে পলাতক বা গ্রেফতারের আদেশপ্রাপ্ত অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া, অপরাধটি মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় হইলে

কোন ব্যক্তি একটি অপরাধে দণ্ডিত বা অভিযুক্ত হয়ে উক্ত অপরাধের জন্য আইনানুসারে আটক হওয়ার পর হাজত হতে পলায়নান্তে অথবা কোন সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে যার আইনসম্মত ক্ষমতাগুলো প্রয়োগ করে কোন ব্যক্তিকে একটি অপরাধের জন্য গ্রেফতার করার আদেশ দান করার পর, যদি কেউ অনুরূপ পলায়ন বা গ্রেফতারের আদেশ সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও যাতে সে ব্যক্তি গ্রেফতার না হতে পারে, তদুদ্দেশ্যে আশ্রয়দান করে বা লুকিয়ে রাখে, তবে সে নিম্নোক্তভাবে দণ্ডিত হবে। যথা:

মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধের ক্ষেত্রে (if a capital offence):-

যদি যে অপরাধটির জন্য উক্ত ব্যক্তি আটক ছিল বা উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার আদেশ করা হয়েছিল, সে অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ হয়, তবে উপযুক্তরূপে আশ্রয়দানকারী ব্যক্তি সাত । বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

যাবজ্জীবন কারাবাস বা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে (if punishable with imprisonment for life, or with imprisonment):-

যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কিংবা দশ বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে তাকে অর্থসহ বা অর্থ ব্যতীত তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে;

এবং যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, কিন্তু উহার মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত না হয়, তবে তাকে উক্ত অপরাধটির জন্য যে ধরনের রাদণ্ডের বিধান করা হয়েছে সে ধরনের কারাদণ্ডে উক্ত অপরাধটির জন্য বিহিত দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের জন্য দণ্ডিত করা হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা হবে।

অত্র ধারায় “অপরাধ” কথাটি বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে বা যা সংঘটন না করলে একটি অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় হত, বাংলাদেশের বাইরে সে জন্য কোন ব্যক্তি অপরাধী বলে অভিযুক্ত হলে তাকেও বুঝাবে, এবং বাংলাদেশের বাইরে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে বা যা সংঘটন না করলে অপরাধ বিনিময় (Extradition) বা ১৮৮১ সালের পলাতক অপরাধী আইন (fugitive offenders Act 1881) এর কোন আইন বলে বা অপর কোনভাবে কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মধ্যে গ্রেফতার বা আটক হত, তাকেও বুঝাবে, এবং অনুরূপ প্রত্যেক কাজের সম্পাদন করা বা না করা এই বিধির উদ্দেশ্যের দিক হতে যেন অপরাধী বা অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের মধ্যে সেহেতু অপরাধী বা অভিযুক্ত হয়েছে, এইভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-

যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে হবে, সে ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী আশ্রয় দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে সে ক্ষেত্রে এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।

২১৭। কোন ব্যক্তিকে শাস্তি হইতে বা কোন সম্পত্তি বাজেয়াফত হওয়া হইতে রক্ষার জন্য সরকারী কর্মচারী কর্তৃক আইনের নির্দেশ লংঘন

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হওয়ায় তার আচরণ সম্পর্কে যেরূপ আইনের নির্দেশ রয়েছে, তা জ্ঞাতসারে অমান্য করে এবং অমান্য করার উদ্দেশ্য হয় কোন ব্যক্তিকে সাজা হতে রক্ষা করা বা সে সাজা হতে যাতে রক্ষা পেতে পারে, জ্ঞাতসারে এইরূপ কাজ করা বা সে যে দণ্ডে দণ্ডনীয় তা অপেক্ষা লঘুদণ্ডে তাকে দণ্ডিত করা, অথবা কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হতে কিংবা আইনানুসারে কোন দায় হতে রক্ষা করা বা উহা যাতে রক্ষা পেতে পারে জ্ঞাতসারে এইরূপ কাজ করা, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২১৮। কোন ব্যক্তিকে শাস্তি হইতে বা কোন সম্পত্তি বাজেয়াফত হওয়া হইতে রক্ষার জন্য সরকারী কর্মচারী কর্তৃক ভূল দলিল বা লিপি প্রণয়ন

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও এবং অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন নথি বা অন্যরূপ লিপি প্রণয়নের দায়িত্বসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও উক্ত নথি বা লিপি এমনভাবে প্রণয়ন করে, যা ভুল বলে সে জানে, এবং তার এইভাবে নথি বা লিপি প্রণয়নের উদ্দেশ্য যদি হয়- জনসাধারণের বা যেকোন ব্যক্তির লোকসান লোকসান বা ক্ষতিসাধন করা, কিংবা যাতে জনসাধারণের বা যেকোন ব্যক্তির লোকসান বা ক্ষতি সাধিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও তদনুরূপ বা কাজের সংঘটন করা, অথবা কোন ব্যক্তিকে আইনের সাজা হতে রক্ষা করা বা কোন ব্যক্তি আইনের সাজা হতে যাতে রক্ষা পেতে পারে বলে সে জানে, তদনুরূপ কাজের সংঘটন করা, অথবা কোন সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়া হতে বা আইনানুসারে কোন দায় হতে রক্ষা করা কিংবা যাতে সম্পত্তিটি বাজেয়াপ্ত হওয়ার হাত হতে বা আইনানুসারে কোন দায় হতে রক্ষা পেতে পারে বলে সে জানে তদানুসারে কাজের সংঘটন করা, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২১৯। বিচার বিষয়ক কার্যক্রম আইন বিরোধী বলিয়া জানা সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারী কর্তৃক দুর্নীতিমূলক উপায়ে আদেশ, রির্পোট, রায় বা সিদ্ধান্ত প্রণয়ন বা ঘোষণা করা

কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী হিসেবে কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে কোন রিপোর্টক, আদেশ, রায় বা দুর্নীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে প্রণয়ন করে বা ঘোষণা করে, যা আইন বিরুদ্ধ বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২২০। আইনের বিপরীত কার্যক্রম করিতেছেন বলিয়া জানা সত্ত্বেও কর্তৃত্বসম্পন্ন ব্যক্তি কর্তৃক কাহাকেও বিচারের জন্য সোপর্দ করা বা আটক রাখা

কোন ব্যক্তি যদি যে পদমর্যাদা বরে কোন ব্যক্তিকে বিচারে প্রেরণ করার বা আটকে সোপর্দ করার আইনানুগ ক্ষমতা লাভ করে, সে পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত ক্ষমতা লাভ করে, সে পদমর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়ে, সে ক্ষমতা প্রয়োগপূর্বক দুনীতিমূলকভাবে বা দুরভিসন্ধিমূলকভাবে কাউকে বিচারে বা আটকে সোপর্দ করে বা আটক করে রাখে, এবং এইরূপ কাজ দ্বারা সে আইনে বিরুদ্ধে কার্য করছে বলে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দত্ত্বে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২২১। আইনতঃ গ্রেফতার করিতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধীকে গ্রেফতার না করা, অপরাধটি মৃত্যুদন্ডে দণ্ডনীয় হইলে

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী বিধায় অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন অপরাধে অভিযুক্ত কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে বা আটক করে রাখতে আইনত বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক সে ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করে, অথবা ইচ্ছাপূর্বক সে ব্যক্তিকে পলায়ন করতে দেয়, অথবা ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে আটক হতে পলায়ন করতে বা পলায়নের চেষ্টা করতে সহায়তা করে, তবে সে সরকারী কর্মচারী নিম্নরূপে দণ্ডিত হবে। যথা:

যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে অভিযুক্ত বা গ্রেফতারযোগ্য হয়, তবে সরকারী কর্মচারী অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়াই সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; অথবা

যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত বা গ্রেফতারষোগ্য হয়, তবে উক্ত সরকারী কর্মচারী অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়াই তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা

যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি যদি দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত বা গ্রেফতারযোগ্য হয়, তবে উক্ত সরকারী কর্মচারী অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়াই দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২২২। আইনতঃ বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও সরকারী কর্মচারী কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভবে কোন আদালত কর্তৃক দন্ডিত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা, উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হইলে

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হিসেবে কোন আদালত কর্তৃক কোন অপরাধের জন্য প্রদত্ত দণ্ডাজ্ঞা অনুযায়ী কোন ব্যক্তিকে অথাব আইনানুসারে আটকে সোপর্দ কোন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে বা আটক করে রাখতে আইনানুসারে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে গ্রেফতার না করে, অথবা ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে অনুরূপ আটক হতে পলায়ন করতে দেয়, অথবা ইচ্ছাপূর্বক অনুরূপ ব্যক্তিকে পলায়ন করতে বা পলায়ন করার চেষ্টা করতে সহায়তা করে, তবে অনুরূপ সরকারী কর্মচারী নিম্নরূপে দণ্ডিত হবে। যথা:

যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়, তবে উক্ত সরকারী কর্মচারী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়াই চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে,

যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি কোন আদালতের দণ্ডাজ্ঞাবলে যাবজীবন কারাদণ্ড বা দশ বৎসর বা তদূৰ্ব্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে কোনরূপ সরকারী কর্মচারী অর্থদণ্ডসহ বা অর্থদণ্ড ছাড়াই সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে,

অথবা যে ব্যক্তি আটক ছিল বা গ্রেফতার হওয়া উচিত ছিল, সে ব্যক্তি যদি কোন আদালতের দণ্ডাদেশক্রমে দশ বৎসর অপেক্ষা কম মেয়াদের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত কিংবা সে ব্যক্তি যদি আইনানুসারে আটকে সোপর্দ হয়, তবে উক্ত সরকারী কর্মচারী তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২২৪। কোন ব্যক্তি কর্তৃক তাহার আইনসঙ্গত গ্রেফতার প্রতিরোধ করা

কোন ব্যক্তি যদি তাকে যে অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে সে অপরাধের জন্য তার নিজের আইনসম্মত গ্রেফতার কার্যে ইচ্ছাপূর্বক কোনরূপ প্রতিরোধ সৃষ্টি করে বা অবৈধ বাধার সৃষ্টি করে অথবা যে হাজতে তাকে কোন অপরাধের জন্য আটক করে রাখা হয়েছে, সে হাজত হতে পলায়নের চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

উক্ত ব্যক্তি যে অপরাধের জন্য অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতারযোগ্য বা হাজতে আটকযোগ্য হয়েছিল বা যে অপরাধে সে দণ্ডিত হয়েছিল, সে অপরাধের জন্য সাজার অতিরিক্ত হিসেবে এই সাজা দেওয়া হবে।

২২৫ক। অপর কোন ব্যক্তির আইনসঙ্গত গ্রেফতার প্রতিরোধ করা বা তাহাকে আইনসঙ্গত হেফাজত হইতে উদ্ধার করা

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন অপরাধের জন্য অন্য কোন ব্যক্তিকে আইনসংগতভাবে গ্রেফতারের কাজে বাধা দান করে বা বেআইনীভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, অথবা অন্য কোন ব্যক্তি কোন অপরাধের জন্য আইনসংগতভাবে যে হাজতে আটক আছে, সে স্থান হতে তাকে উদ্ধার করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; অথবা যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা বা যে ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে বা উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছে, সে ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত বা গ্রেফতারযোগ্য হয়, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

অথবা যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা বা যে ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে বা উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছে সে ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে অভিযুক্ত বা গ্রেফতারযোগ্য হয়, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে;

অথবা যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা বা যে ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে বা উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছে, সে ব্যক্তি যদি কোন আদালতের দণ্ডাজ্ঞাক্ৰমে বা অনুরূপ দণ্ডাজ্ঞাক্ৰমে বা অনুরূপ দণ্ডাজ্ঞা হাসের ফলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর বা তদুধর্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে বং অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে;

অথবা, যে ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার কথা বা যে ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে বা উদ্ধার করার চেষ্টা করা হয়েছে, সে ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডাধীন থাকে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। 

২২৭। দণ্ড মওকুফের শর্ত লংঘন করা

কোন ব্যক্তি যদি শর্তাধীনে সাজা হাসের সুবিধা গ্রহণের পর, যে শর্তে অনুরূপ সাজা হাস করা হয়েছিল জ্ঞাতসারে সেরূপ কোন শর্ত লংঘন করে, তবে তাকে মূলত যে সাজায় দণ্ডিত করা হয়েছিল, সে যদি সে সাজার কোন অংশ ভোগ না করে থাকে, তবে সে সে সাজায় দণ্ডিত হবে, এবং তাত্ৰে মূলত যে সাজায় দণ্ডিত করা হয়েছিল, সে যদি সাজার অংশ বিশেষ ভোগ করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি সাজার যে অবশিষ্ট অংশ ভোগ করে নাই, সে অবশিষ্ট অংশের সাজায় দণ্ডিত হবে।

২২৮। বিচার বিষয়ক কার্যক্রমের কোন পর্যায়ে বিচারকের আসন গ্রহণকারী কোন সরকারী কর্মচারীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা বা তাহার কার্যে বাধা দেওয়া

কোন সরকারী কর্মচারী কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমের যেকোন পর্যায়ে নিয়ত থাকাকালে কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে অপমান করে বা তার কাজে বাধা প্রদান করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২২৯। জুরি বা এসেসর হিসাবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা ছদ্মবেশ ধারণ করে বা অপর কোন উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা জ্ঞাতসারে এমন কোন মামলায় অন্যতম জুরী বা এসেসর হিসেবে নির্বাচিত হয়, তালিকাভুক্ত বা শপথ প্রযুক্ত হওয়ার অধিকারী নয় বলে জানে, অথবা আইনবিরুদ্ধাভাবে নির্বাচিত, তালিকাভুক্ত বা শপথ প্রযুক্ত হয়েছে বলে জানাসত্ত্বেও স্বেচ্ছায় অনুরূপ জুরীর কার্যে বিরত হয় বা অনুরূপ এসেসর হিসেবে কার্য করে, তবে –

সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৩০। বর্তমানে অর্থরুপে ব্যবহৃত এবং অনুরূপে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য কোন রাষ্ট্রে বা সার্বভৌম শক্তির ক্ষমতাধীনে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইসুকৃত ধাতব দ্রব্যকে মুদ্রা বলে।

বাংলাদেশী মুদ্রা (Bangladesh Coin):-

বাংলাদেশী মুদ্রা বলতে বাংলাদেশের সরকারের ক্ষমতাধীন অর্থরুপে ব্যবহারের জন্য স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইসু্যকৃত ধাতবদ্রব্য বুঝাবে, এবং অর্থরুপে, ব্যবহার রহিত হওয়া সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে অনুরূপভাবে স্ট্যাম্পযুক্ত ও ইসুকৃত ধাতবদ্রব্য বাংলাদেশী মুদ্রা বলে পরিচিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) কড়িগুলো মুদ্রা নয়।

(খ) স্ট্যাম্পবিহীন তাম্রখণ্ড অর্থরুপে ব্যবহৃত হয়ে থাকলেও মুদ্রা নয়।

(গ) পদকগুলো মুদ্রা নয়, যেহেতু উহা অর্থরুপে ব্যবহারের জন্য নির্মিত হয় নাই।

(ঘ) কোম্পানির টাকা বলে অঙ্কিত মুদ্রা রানীর মুদ্রা বলে পরিগণিত হবে।

(ঙ) "ফারুখাবাদ” টাকা যা পূর্বে ভারত সরকারের ক্ষমতাধীনে অর্থরুপে ব্যবহৃত হত-তবুও বাংলাদেশী মুদ্রা, যদিও এটা আজও অনুরূপভাবে ব্যবহৃত হয় না।

২৩১। মুদ্রা জাল করা বা জাল করার পদ্ধতির কোন অংশ সম্পাদন করা

কোন ব্যক্তি মুদ্রা জাল করলে অথবা জ্ঞাতসারে মুদ্রা জালকরণ প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করলে, সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

কোন ব্যক্তি প্রতারণা করার অভিপ্রায়ে, অথবা তার কাজের ফলে প্রতারণা সংঘটিত হবে জানা সত্ত্বেও, কোন খাটি মুদ্রাকে দেখতে অপর কোন মুদ্রার মতো করলে, সে অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

২৩২। বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করা বা জাল করার পদ্ধতির কোন অংশ সম্পাদন করা

কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করলে কিংবা জ্ঞাতসারে বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার কোন প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ অনুষ্ঠান করলে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে ।

২৩৩। মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, ক্রয় বা বিক্রয় করা

কোন ছাঁচ বা যন্ত্র-মুদ্রা জাল করার জন্যে ব্যবহারকল্পে, অথবা উহা মুদ্রা জাল করার জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা মুদ্র জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন ছাঁচ বা যন্ত্র প্রস্তুত বা মেরামত করলে অথবা প্রস্তুত বা মেরামত প্রক্রিয়ার অংশবিশেষ সম্পাদন করলে, অথবা ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৪। বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, ক্রয় বা বিক্রয় করা

বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার জন্য কোন ছাঁচ বা যন্ত্র ব্যবহারকল্পে অথবা বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার জন্য উহা ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কোন ছাচ বা যন্ত্র প্রস্তুত বা মেরামত করলে, অথবা প্রস্তুত বা মেরামত প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করলে, অথবা ক্রয়, বিক্রয় বা হস্তান্তর করলে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৫। মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী দখলে রাখা

মুদ্রা জাল করার উদ্দেশ্যে অথবা তজ্জন্য ব্যবহৃত হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি কোন যন্ত্র বা দ্রব্য দখলে রাখে, তবে সে লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে;

বাংলাদেশী মুদ্রার ক্ষেত্রে (If Bangladesh Coin):-

যে মুদ্রা জাল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যদি তা বাংলাদেশ মুদ্রা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৬। বাংলাদেশের বাহিবে মুদ্রা জাল করার জন্য বাংলাদেশে প্ররোচনা দেওয়া

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে থেকে বাংলাদেশের বাইরে মুদ্রা জাল করার কাজে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে তবে, সে ব্যক্তি বাংলাদেশের মধ্যে অনুরূপ মুদ্রা জাল করার কার্যে সহায়তা বা প্ররোচনা দান করলে যেরূপে দণ্ডিত হত সেরূপে দণ্ডিত হবে।

২৩৭। জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও জাল মুদ্রা আমদানি বা রফতানি করা

মুদ্রা জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহ্য রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৮। : জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও জাল বাংলাদেশের মুদ্রা আমদানি বা রপ্তানি করা

কোন জাল মুদ্রা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও, অথবা উহা বাংলাদেশের মুদ্রার জাল বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের মধ্যে উহা আমদানি করে অথবা তথা হতে উহ্য রপ্তানি করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অধবা দশ বৎসর পস্থত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৩৯। যখন দখলে আসিয়াছিল তখন জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও জাল মুদ্রা দখলে রাখা এবং উহা কাহারও নিকট অর্পণ করা

কোন ব্যক্তি যদি তার কাছে যে জাল মুদ্রা রয়েছে, তা লাভের পর উহা যে জাল তা জানা সত্ত্বেও, প্রতারণামূলকভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উহা কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তরন করে অথবা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪০। বাংলাদেশের মুদ্রা সম্পর্কে ঐরূপ অপরাধ করা

কোন ব্যক্তি যদি তার কাছে বাংলাদেশের যে জাল মুদ্রা রয়েছে, তা লাভের পর উহা যে বাংলাদেশের মুদ্রার জাল তা জানা সত্ত্বেও, প্রতারণামূলকভাবে বা তদ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উহা কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪১। যখন প্রথম দখলে আসিয়াছিল তখন জাল বলিয়া জানা ছিল না, কিন্তু পরে জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও উহা আসল বলিয়া অন্যের নিকট অর্পণ করা

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে এমন কোন জাল মুদ্রা খাঁটি মুদ্রা হিসেবে হস্তান্তর করে অথবা তার কোন ব্যক্তিকে খাটি মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, যা জাল বলে সে জানে কিছু প্রথম যখন সে উহা পায় তখন উহাকে জাল বলে জানত না, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা জাল মুদ্রার মূল্যের দশগুণ পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক জনৈক মুদ্রা প্রস্তুতকার। সে তার সহায়তাকারী খ-কে প্রচলন করার জন্য কোম্পানির জাল টাকা দেয়। খ টাকাগুলি অপর একজন প্রচলনকারী গ-এর কাছে বিক্রয় করে। গ টাকাগুলি যে জাল, তা জেনে শুনিয়াই সেগুলি ক্রয় করে। গ, ঘ-এর নিকট থেকে ক্রীত পণ্যের মূল্যস্বরূপ ঘ-কে সে টাকাগুলি দেয়। টাকাগুলি যে জাল, তা না জেনেই ঘ সেগুলি গ্রহণ করে। কিন্তু গ্রহণ করার পর সে জানতে পারে যে, টাকাগুলি জাল। তথাপি টাকাগুলি যেন খাটি মুদ্রা, সেভাবে সে ঐগুলি হস্তান্তর করে। এই ক্ষেত্রে ঘ কেবলমাত্র এই ধারানুসারে দণ্ডিত হবে, কিন্তু খ ও গ দণ্ডিত হবে ২৩৯ বা ২৪০ ধারানুসারে-যার ক্ষেত্রে যে ধারা প্রয়োগযোগ্য।

২৪২। দখলে আসার সময় জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি কর্তৃক জাল মুদ্রা দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি জাল মুদ্রা পাওয়ার পর উহা মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে উক্ত জাল মুদ্রা দখলে রাখলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৩। দখলে আসার সময় জাল বলিয়া জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি কর্তৃক জাল বাংলাদেশের মুদ্রা দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি জাল মুদ্রা পাওয়ার পর উহা বাংলাদেশী মুদ্রার জাল বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলক ভাবে বা তা কর্তৃক প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে উক্ত জাল মুদ্রা দখলে রাখলে, সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৪। টাকশালে নিযুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক আইনে নির্ধারিত ওজন বা গঠন হইতে ভিন্নরূপ ওজন বা গঠনের মুদ্রা প্রস্তুত করা

কোন ব্যক্তি যদি আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের টাকশালে কার্যরত থেকে উক্ত টাকশাল হতে ইস্যুকৃত মুদ্রার ওজন বা গঠন প্রণালী আইনে নির্দিষ্ট ওজন বা গঠন প্রণালী হতে ভিন্নতর করার উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে অথবা যা সে করতে আইনাসুরে বাধ্য তা না করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৫। টাকশাল হইতে মুদ্রা প্রস্তুত করার কোন যন্ত্র বেআইনীভাবে লইয়া যাওয়া

কোন ব্যক্তি যদি আইনানুগভাবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের কোন টাকশাল হতে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা ছাড়া কোন মুদ্রা তৈরী করার হাতিয়ার বা যন্ত্র নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৬। প্রতারণামূলকভাবে কোন মুদ্রার ওজন কম করা বা গঠন পরিবর্তন করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা মূলক ভাবে বা অসাধুভাবে কোন মুদ্রার উপর এমন কোন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে, যার দরুণ সে মুদ্রার ওজন হ্রাস পায় বা উহার গঠন প্রণালী পরিবর্তিত হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদন্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

কোন ব্যক্তি কোন মুদ্রার অংশবিশেষ খোদাই করে এইভাবে সৃষ্ট গহবরে অপর কোন বস্তু স্থাপন করলে সে ব্যক্তি সে মুদ্রার গঠন প্রণালী পরিবর্তন করেছে বলে পরিগণিত হবে।

২৪৭। প্রতারণামূলকভাবে বাংলাদেশের কোন মুদ্রার ওজন কম করা বা গঠন পরিবর্তন করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে বাংলাদেশের কোন মুদ্রার উপর এমন কোন প্রক্রিয়া সম্পাদন করে, যার ফলে সে মুদ্রার ওজন হ্রাস পায় বা উহার গঠন প্রণালী পরিবর্তন হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৮। ভিন্ন ধরণের মুদ্রা হিসাবে চালাইবার উদ্দেশ্যে কোন মুদ্রার আকৃতি পরিবর্তন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন মুদ্রার উপর কোনরূপ প্রক্রিয়া সম্পাদন কর্তৃক উহার আকার বা দৃশ্যরূপের পরিবর্তন করে এবং মুদ্রাটিকে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালাবার অভিপ্রায়েই তা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৪৯। ভিন্ন ধরণের মুদ্রা হিসাবে চালাইবার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের মুদ্রার আকৃতি পরিবর্তন করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশী কোন মুদ্রার উপর কোনরূপ প্রক্রিয়া সম্পাদন কর্তৃক উহার আকার বা দৃশ্যরূপের পরিবর্তন সাধন করে এবং মুদ্রাটিকে ভিন্ন ধরনের মুদ্রা হিসেবে চালাবার অভিপ্রায়েই তা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫০। পরিবর্তিত বলিয়া জানা সত্ত্বেও কোন মুদ্রা অন্যের নিকট অর্পণ করা

যদি কোন ব্যক্তি, যে মুদ্রা সম্পর্কে ২৪৬ বা ২৪৮ ধারায় বর্ণিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে মুদ্রা রাখার পর, এবং যেক্ষেত্রে সে সে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও উহা রাখার পর প্রতারণামূলকভাবে কিংবা যাতে তদ্বারা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, অনুরূপ মুদ্রা অপর কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা অপর কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫১। পরিবর্তিত বলিয়া জানা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মুদ্রা অন্যের নিকট অর্পণ করা

কোন ব্যক্তি যদি যে মুদ্রা সম্পর্কে ২৪৭ বা ২৪৯ ধারায় বর্ণিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে মুদ্রা রাখার পর এবং যেক্ষেত্রে সে সে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে উহা রাখার পর প্রতারণামূলকভাবে অথবা যাতে তদ্বারা প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, অনুরূপ মুদ্রা অপর কোন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করে বা কোন ব্যক্তিকে উহা গ্রহণে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫২। যখন দখলে আসিয়াছিল তখন পরিবর্তিত বলিয়া জানা সত্ত্বেও সেই মুদ্রা দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা মূলক ভাবে অথবা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তদুদ্দেশ্যে, এমন কোন মুদ্রা দখলে রাখে, যা সম্পর্কে ২৪৬ কিংবা ২৪৮ ধারা দুইটির যেকোন একটিতে উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং যেক্ষেত্রে সে, সে মুদ্রাটি পায় সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহা রাখে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডিত হবে।

২৫৩। যখন দখলে আসিয়াছিল তখন পরিবর্তিত বলিয়া জানা সত্বেও বাংলাদেশের মুদ্রা বলিয়া দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে অথবা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে তুদদ্দেশ্যে, এমন কোন মুদ্রা রাখে, যা সম্পর্কে ২৪৭ অথবা ২৪৯ ধারা দুইটির যেকোন একটিতে উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং যেক্ষেত্রে সে সে মুদ্রাটি পায়, সেক্ষেত্রে সে মুদ্রাটি সম্পর্কে অনুরূপ অপরাধ অনুষ্ঠিত হয়েছে জানা সত্ত্বেও উহা রাখে, তবে সে ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৫৪। যখন দখলে আসিয়াছিল তখন পরিবর্তিত বলিয়া জানা সত্বেও উহা প্রকৃত মুদ্রা বলিয়া অন্যের নিকট অর্পন করা।

যখন দখলে আসিয়াছিল তখন পরিবর্তিত বলিয়া জানা থাকা সত্ত্বেও উহা প্রকৃত মুদ্রা বলিয়া অন্যের নিকট অর্পণ করা

যে মুদ্রার উপর ২৪৬, ২৪৭, ২৪৮ বা ২৪৯ ধারায় বর্ণিত কোন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, কিন্তু কোন ব্যক্তি সে মুদ্রাটি যখন প্রথম লাভ করে তখন সে মুদ্রার উপর যে উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে তা সে জানত না, এমন অবস্থায় সে মুদ্রাটি পাওয়ার পর যদি সে ব্যক্তি উক্ত মুদ্রাটি অপর কোন ব্যক্তিকে খাটি মুদ্রারূপে বা সে মুদ্রার মূল্য যা, তার চেয়ে ভিন্ন মূল্যের মুদ্রারূপে প্রদান করে অথবা অপর কোন ব্যক্তিকে সে মুদ্রাটি খাটি মুদ্রারূপে বা সে মুদ্রার মূল্য যা তার চেয়ে চেয়ে ভিন্ন মূল্যের মুদ্রারূপে গ্রহণ করতে বাধ্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা যে মুদ্রারূপে পরিবর্তিত মুদ্রাটি চালানো হয় বা চালাবার চেষ্টা করা হয়, সে মুদ্রার দশগুণের সমান মূল্য পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৫৫। সরকারী স্ট্যাম্প জাল করা

কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বা জ্ঞাতসারে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার প্রক্রিয়ার অংশ বিশেষ সম্পাদন করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এক মূল্যের খাঁটি স্ট্যাম্পকে কোন ব্যক্তি যদি দেখতে অপর মূল্যের খাটি স্ট্যাম্পের মত করে লয়, তবে সে ব্যক্তি এই অপরাধ অনুষ্ঠান করে বলে পরিগণিত হবে।

২৫৬। সরকারী স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী দখলে রাখা

সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য, অথবা অনুরূপ স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি কোন যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্ৰী তার দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫৭। সরকারী স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে যন্ত্রপাতি প্রস্তুত, ক্রয় বা বিক্রয় করা

সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য, অথবা অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প জাল করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন ব্যক্তি যদি কোন যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করে বা প্রস্তুত প্রণালীর যেকোন অংশ সম্পাদন করে অথবা অনুরূপ কোন যন্ত্রপাতি ক্রয়ে, বিক্রয় বা বিলি ব্যবস্থা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫৮। জাল সরকারী স্ট্যাম্প বিক্রয় করা

কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প জাল করে বিক্রয় করে বা বিক্রয়ার্থে বাজারে ছাড়ে, যা জাল বলে সে জানে বা তাহর বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৫৯।জাল সরকারী স্ট্যাম্প দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন স্ট্যাম্প দখলে রাখে, যা সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পের জাল বলে সে জানে এবং সে ব্যক্তি উহাকে একটি খাটি স্ট্যাম্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য বা বিলি ব্যবস্থার জন্য রাখে অথবা যাতে উহা খাটি স্ট্যাম্পরূপে ব্যবহৃত হতে পারে তদুদ্দেশ্যেই দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

২৬০। জালকৃত বলিয়া জানিয়াও তাহা সরকারী স্ট্যাম্প বলিয়া ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন স্টাম্প সরকার দ্বারা রজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পের জাল বলে জানা সত্ত্বেও উহাকে প্রকৃত স্ট্যাম্পরূপে ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬১। সরকারী স্ট্যাম্পযুক্ত কোন বস্তু হইতে কোন লেখা তুলিয়া ফেলা বা সরকারের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে কোন স্ট্যাম্প অপসারণ করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতিসাধনকল্পে সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্পযুক্ত কোন বস্তু হতে যে লেখা বা দলিলের জন্য স্ট্যাম্পটি ব্যবহৃত হয়েছে তা মুছে ফেলে, অথবা কোন লেখা বা দলিল হতে সে লেখা বা দলিলের জন্য ব্যবহৃত কোন স্ট্যাম্প অপসারণ করে, যাতে সে স্ট্যাম্পটি ভিন্ন কোন লেখা বা দলিলের জন্য ব্যবহার করা যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬২। পূর্বে ব্যবহৃত হইয়াছে বলিয়া জানিয়াও সরকারী স্ট্যাম্প ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি সরকার দ্বারা রাজস্বের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প ইতোপূর্বে ব্যবহৃত হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কোন অভিপ্রায়ে সে স্ট্যাম্প ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৩। স্ট্যাম্প ব্যবহৃত হওয়ার চিহ্ন তুলিয়া ফেলা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে বা সরকারের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে, সরকার দ্বারা রাজস্বের জন্য প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্প হতে সে স্ট্যাম্পটি যে ব্যবহৃত হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ প্রদত্ত অনুরূপ চিহ্ন মুছে বা অপসারণ করে ফেলে, অপসারণ করে, অথবা অনুরূপ যে স্ট্যাম্প হতে অনুরূপ চিহ্ন মুছে বা অপসারণ করে ফেলা হয়েছে জ্ঞাতসারে তা রাখে বা বিক্রয় করে বা বিলি-ব্যবস্থা করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৩ক। অসত্য ষ্ট্যাম্প নিষিদ্ধকরণ

(১) যদি কোন ব্যক্তি –

(ক) কোন জাল স্ট্যাম্প তৈরি করে, বা জ্ঞাতসারে প্রস্তুত করে বা অনুরূপ স্ট্যাম্পের ব্যবসা করে বা উহা বিক্রয় করে, অথবা কোন ডাক ব্যবস্থার উদ্দেশ্যে কোন জাল স্ট্যাম্প

(খ) কোন আইনসম্মত কারণ ব্যতীত তার কাছে কোন জাল স্ট্যাম্প রাখে, অথবা

(গ) কোন জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করার জন্য কোন ছাচ, পেট, যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী প্রস্তুত করে, বা আইনসম্মত অজুহাত ব্যতীত তার কাছে অনুরূপ কোন ছাব, পেট, যন্ত্রপাতি বা দ্রব্যসামগ্রী রাখে, তবে সে ব্যক্তি দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(২) কোন ব্যক্তির কাছে অনুরূপ কোন স্ট্যাম্প বা জাল স্ট্যাম্প প্রস্তুত করার জন্য রক্ষিত কোন ছাচ, পেট, যন্ত্রপ্রাতি বা দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া গেলে তা আটক ও বাজেয়াপ্ত করা যাবে।

(৩) এই ধারায় "ভূয়া স্ট্যাম্প" বলতে, মিথ্যাভাবে সরকার দ্বারা কোন ডাক মাশুলের হার নির্দেশের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত বলে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প, অথবা কাগজ বা অপর কিছুর উপর সরকার দ্বারা তদুদ্দেশ্যে প্রবর্তিত কোন স্ট্যাম্পের অবিকল প্রতিলিপি অনুকরণ বা প্রতিকৃতি বুঝাবে।

(৪) এই ধারায় এবং ২৫৫ হতে ২৬৩ পর্যন্ত ধারাসমূহে (উভয় ধারা অন্তর্ভুক্ত) ডাক মাশুলের হার নির্দেশের উদ্দেশ্যে প্রবর্তিত স্ট্যাম্প প্রসঙ্গে বা অনুরূপ স্ট্যাম্পের আনুষঙ্গিক বিষয় প্রসঙ্গে ব্যবহৃত "সরকার” কথাটি কর্তৃক ১৭ ধারায় যা কিছুই বর্ণিত হয়ে থাকুক না কেন, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের কোন অংশ এবং মহারাণীর ডমিনিয়ন সমূহের কোন অংশে বা বৈদেশিক রাষ্ট্রের কোন অংশেও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য আইনানুসারে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বা ব্যক্তিদিগকেও বুঝাবে।

২৬৪। ওজনের জন্য প্রতারণা-মূলকভাবে মিথ্যা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে ওজনের জন্য এমন কোন যন্ত্র ব্যবহার করে, যা মিথ্যা বলে সে জানে, তবে-সেই ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৫। প্রতারণামূলকভাবে মিথ্যা ওজন বা পরিমাপ ব্যবহার করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে কোন মিথ্যা ওজন কিংবা দৈর্ঘ্যের বা ধারণশক্তির মাপ ব্যবহার করে, অথবা প্রতারণামূলকভাবে কোন ওজনকে কিংবা দৈর্ঘ্যের বা ধারণশক্তির মাপকে উহা অপেক্ষা ভিন্ন ওজন কিংবা দৈর্ঘ্য বা ধারণশক্তির মাপ হিসেবে ব্যবহার করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৬। প্রতারণামূলক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মিথ্যা ওজন বা পরিমাপের যন্ত্র দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন ওজন, পরিমাপ যন্ত্র বা বাটখারা কিংবা দৈর্ঘ্য বা ধারণ ক্ষমতা মাপবার যন্ত্র রাখে, যা মিথ্যা বলে সে জানে, এবং উহা যাতে প্রতারণামূলকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে তদুদ্দেশ্যেই রাখে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৭। অপ্রকৃত বাটখারা বা মাপকাঠি প্রস্তুত বা বিক্রয় করা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন ওজন বা বাটখারা কিংবা দৈর্ঘ্য বা ধারণশক্তির পরিমাপ যন্ত্র তৈরি করে, বিক্রয় করে বা লেনদেন করে, যা মিথ্যা বলে সে জানে, এবং উহা যাতে সত্য বলে ব্যবহার করা যায়, সে উদ্দেশ্যেই তা করে অথবা উহা সত্য বলে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৬৮। গণ-উপদ্রপ

যদি কোন এমন কোন কার্য করে বা এমন কোন কার্য করা হতে বেআইনীভাবে বিরত থাকে, যার ফলে জনসাধারণের বা সাধারণভাবে নিকটবর্তী সম্পত্তির মালিক বা অধিবাসী ব্যক্তিদের কোন ক্ষতি হয়, বিপদাশঙ্ক হয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হয়, অথবা যার ফলে যেসব ব্যক্তি কোন সাধারণ অধিকার ব্যবহার করতে যাবে, তাদের ক্ষতিসাধন, ব্যাঘাত, বিপদাশঙ্ক বা বিরক্তি সৃষ্টি হবে, সে ব্যক্তি জনসাধারণের বিরক্তি উৎপাদক কাজ সম্পাদনের ফলে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

কোন মামুলী বিরক্তি উৎপাদক কাজ কিছু সুবিধা বা সৌকর্য বিধান করেছে-এই অজুহাতে সে মামুলী বিরক্তি উৎপাদক কাজটি রেহাই পাবে না।

২৬৯। কোন কার্য দ্বারা জীবনের পক্ষে বিপজ্জনক কোন রোগের সংক্রমন ছড়াইতে পারে জানিয়াও অবহেলাবশতঃ উহা করা

কোন ব্যক্তি যদি বেআইনীভাবে বা অবহেলামূলকভাবে এমন কোন কার্য করে যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ ছড়াতে পারে, তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে-সেই ব্যক্তি ছয়মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭০। বিদ্বেষপরয়ন হইয়া উক্ত কার্য করা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন বিদ্বেষমূলক কার্য করে, যা জীবন বিপন্নকারী মারাত্মক কোন রোগের সংক্রমণ বিস্তার করতে পারে, এবং সে কার্য করার দরুণ যে অনুরূপ রোগের সংক্রমণ বিস্তার হতে পারে তা জানা সত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭১। জ্ঞাতসারে সংক্রামক রোগ সম্পর্কিত নিয়ম লংঘন করা

কোন জাহাজ বা জলাযানের উপর কোয়ারেন্টাইন আরোপের জন্য অথবা যেসব জলযানের উপর কোয়ারেন্টাইন আরোপ করা হয়েছে, অপর কোন জাহাজের বা তীরভূমির সাথে তাদের সংযোগ সম্পর্কে, অথবা যেসব স্থানে সংক্রামক ব্যাধির প্রকোপ দেখা দিয়েছে, সে সব স্থানের সাথে অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ সম্পর্কে, সরকার দ্বারা প্রণীত ও জারীকৃত কোন বিধি বা নিয়ম কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে অমান্য করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭২। বিক্রয়ের জন্য মজুদ খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য ভেজাল দিয়া বিষাক্ত বা অনিষ্টকর করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন খাদ্য দ্রব্যে বা পানীয় দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রণ করে উহাকে খাদ্যদ্রব্য বা পানীয়দ্রব্য হিসেবে অস্বাস্থ্যকার করে ফেলে এবং অনুরূপ খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রয়েরই উদ্দেশ্যেই তা করে অথবা উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রয় হতে পারে জেনেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭৩। কোন খাদ্য বা পানীয় দ্রব্য স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর জানিয়াও পানীয় হিসাবে তাহা বিক্রয় করা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন দ্রব্য, খাদ্য বা পানীয় হিসেবে বিক্রয় করে, প্রদান করে বা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে, যা ক্ষতিকার করা হয়েছে বা সেরূপ হয়ে গিয়েছে অথবা যা এমন অবস্থায় রয়েছে, যাতে উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে ব্যবহারের অনুপযুক্ত এবং উহা খাদ্য বা পানীয় হিসেবে স্বাস্থ্যহানিকর জানাসত্ত্বেও বা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২৭৪। বিক্রয়ের জন্য মজুদ কোন ঔষধে ভেজাল দিয়া উহার কার্যকারিতা হ্রাস করা বা উহার ক্রিয়া পরিবর্তন করা বা উহাকে অনিষ্টকর করা

কোন ব্যক্তি যদি এমনভাবে কোন ঔষধে বা চিকিৎসা দ্রব্যে ভেজাল মিশ্রণ করে যাতে উক্ত ঔষধ বা চিকিৎসা দ্রব্যের প্রতিষেধক গুণ কমিয়া যায় বা ইহার ক্রিয়া পরিবর্তিত হয়, অথবা উহা স্বাস্থ্যহানিকর হয়, এবং যেন উহাতে এইরূপ ভোজল মিশ্রণ হয় নাই এইভাবে উহা কোন চিকিৎসাগত উদ্দেশ্যে বিক্রয় বা ব্যবহার হবে বলে তা করে, অথবা উহা অনুরূপভাবে বিক্রিত বা ব্যবহৃত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭৫। ভেজাল বলিয়া জ্ঞাত কোন ঔষধ বিক্রয়ের জন্য রাখা বা ঔষধালয় হইতে প্রদান করা

কোন ঔষধ বা চিকিৎসাদ্রব্য এমনভাবে ভেজালমিশ্রিত হয়েছে, যার দরুণ উহার ক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটিয়াছে কিংবা উহা স্বাস্থ্যহানিকর হয়ে পড়েছে জানা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি যদি উহা বিক্রয় করে কিংবা উহা প্রদান কিংবা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে, কিংবা উহা কোন চিকিৎসালয় হতে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে প্রদান করে, কিংবা যিনি উহাতে ভেজালমিশ্রণ সম্পর্কে অবহিত নয় তাকে দিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহার করায়, তবে উক্ত ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিদ দন্ডে দন্ডিত হবে।

২৭৬। জ্ঞাতসারে কোন ঔষধ অপর কোন ঔষধ বলিয়া বিক্রয় করা বা ঔষধালয় হইতে প্রদান করা

কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে কোন ঔষধ বা চিকিৎসা দ্রব্যকে ভিন্ন কোন ঔষধ বা চিকিৎসাদ্রব্য বলে বিক্রয় করে, বা প্রদান করে, বা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে, বা চিকিৎসালয় হতে চিকিৎসারত উদ্দেশ্যে প্রদান করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭৭। সর্বসাধারণের ব্যবহার্য ঝরণা বা সংরক্ষণাবেক্ষনাগারের পানি দূষিত করা

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন জনসাধারণের ব্যবহার্য ফোয়ারা বা জলাশয়ের পানি এমনভাবে দূষিত করে যার দরুণ সচরাচর যে উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহৃত হয়, সে উদ্দেশ্যের দিক হতে উহা কম ব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৭৮। আবহাওয়াকে স্বাস্থ্যের পক্ষে অনিষ্টকর করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন স্থানের আবহাওয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমনভাবে দূষিত করে, যার ফলে সাধারণভাবে উক্ত স্থানের বা আশেপাশের বাসিন্দাদের বা আশেপাশে যারা কার্যনির্বাহ করে, তাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উহা ক্ষতিকর হয়, বা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উহা ক্ষতিকর হয়, বা সাধারণের চলাচলের রাস্তায় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উহা ক্ষতিকর হয়, তবে সে ব্যক্তি পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৭৯। মানুষের জীবন বিপন্ন হইতে পারে এইরূপভাবে সাধারণের ব্যবহার্য রাসত্মায় বেপরোয়া বা অবহেলার সহিত গাড়ি বা ঘোড়া চালানো

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের ব্যবহৃত কোন সড়কের উপর দিয়ে এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলক ভাবে কোন গাড়ি চালায় বা চড়িয়ে বেড়ায়, যাতে মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আহত বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা সর্বনিম্ন এক হাজার টাকার শর্তে যা পাচ হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

কোন ব্যক্তি প্রকাশ্য রাস্তায় যদি এইরূপ দ্রুত কোন যান বা অশ্ব চালনা করেন যার গতি আপাতত বলবৎ কোন আইনের কর্তৃক বা আওতায় এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে, তবে তিনি এই ধারার উদ্দেশ্যে মনুষ্য জীবন বিপন্ন করা কিংবা অপর কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা বা আহত করার মত বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে যান বা অশ্ব চালনা করেছেন বলে গণ্য হবেন।

২৮০। বেপরোয়া জাহাজ চালানো

কোন ব্যক্তি যদি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবেহলার সাথে কোন নৌযান চালনা করে, যার কারণে কোন মানুষের জীবন বিপদাপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত লাগার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮১। মিথ্যা আলো চিহ্ন বা বয়া প্রদর্শন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন নাবিককে বিভ্রান্ত করার জন্য কোন কৃত্রিম বাতি, চিহ্ন বা বয়া প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ কৃত্রিম বাতি, চিহ্ন বা বয়া প্রদর্শনের কারণে কোন নাবিক বিভ্রান্ত হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮২। ভাড়ার বিনিময়ে এরূপ অবস্থায় বা এরূপ মাল বোঝাই নৌযানে যাত্রী বহন করা যাহার ফলে তাহার জীবন বিপন্ন হইতে পারে

কোন ব্যক্তি যদি জ্ঞাতসারে বা উদাসীনভাবে কোন ব্যক্তিকে ভাড়ার জন্য জলপথে এমন কোন জলযানে বহন করে বা বহনের ব্যবস্থা করে, যে জলযান এমন অবস্থায় রয়েছে যা তাতে এমন বোঝার ভার রয়েছে, যার কারণে সে ব্যক্তির জীবন বিপন্ন হতে পারে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম অথবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৩। সর্বসাধারণের ব্যবহার্য রাস্তা বা নৌপথে বিপদ, বাধা বা ক্ষতির কারণ ঘটানো

কোন ব্যক্তি যদি কোন কার্য সাধন দ্বারা, অথবা তার দখলাধীন বা কর্তৃত্বাধীন কোন সম্পত্তি সম্পর্কে ব্যবস্থা গ্রহণ হতে বিরত থাকার অভিসন্ধি দ্বারা, কোন সরকারী রাস্তায় বা সরকারী জলপথে কারো বিপদ সৃষ্টি করে, বাধার সৃষ্টি করে বা জখম করে, তবে সে ব্যক্তি দুই শত টাকা পর্যন্ত অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৮৪। মানুষের জীবন বিপন্ন হইতে পারে এরূপ কোন বিষাক্ত দ্রব্য লইয়া কারবার

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিষাক্ত বস্তু নিয়ে কোন কাজ এমন বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে করে, যার কারণে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় বা অন্য কোন ব্যক্তির আঘাত পাওয়ার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা থাকে, অথবা জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে তার কাছে যে বিষাক্ত বস্তু রয়েছে তৎসম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্যথা করে, যে ব্যবস্থা অনুরূপ বিষাক্ত বস্তু হতে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা হিসেবে পর্যাপ্ত, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৫। ঐরূপ দহনশীল দ্রব্য বা আগুন লইয়া কারবার

কোন ব্যক্তি যদি অগ্নি নিয়ে বা কোন দাহ্য বস্তু নিয়ে কোন কার্য এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে করে, যাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত পাওয়ার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়,

অথবা জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে তার দখলাধীন কোন অগ্নি বা দাহ্য বস্তু সম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্যথা করে, যা অনুরূপ অগ্নি বা দাহ্য বস্তু হতে মানুষের জীবনের প্রতি বিপদ সৃষ্টির বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা হিসেবে পর্যাপ্ত,

তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৬। বিষ্ফোরক দ্রব্য লইয়া ঐরূপ কারবার

কোন ব্যক্তি যদি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ে কোন কার্য এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে করে, যাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তির আঘাত পাওয়ার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, অথবা জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে তার দখলাধীন কোন বিস্ফোরক সম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্যথা করে, যে ব্যবস্থা অনুরূপ বিস্ফোরক দ্রব্য হতে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা হিসেবে পর্যাপ্ত, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৭। কোন যন্ত্রপাতি লইয়া ঐরূপ কারবার

কোন ব্যক্তি যদি কোন যন্ত্রপাতি নিয়ে কোন কার্য এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে করে, যাতে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় অথবা অপর কোন ব্যক্তি আঘাত পাওয়ার বা জখম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়,

অথবা তার দখলভুক্ত বা তত্ত্বাবধানাধীন কোন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে অন্যথা করে, যা অনুরূপ যন্ত্রপাতি হতে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা বিধানে পর্যাপ্ত,

তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৮। ভাঙ্গিয়া ফেলা বা মেরামতের অধিকার সম্পন্ন কোন ব্যক্তি কর্তৃ কোন বাড়ি ভাঙ্গিয়া ফেলার ফলে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক না থাকা

কোন ব্যক্তি যদি কোন দালান ভেঙ্গে ফেলার বা মেরামত করার কাজে জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে উক্ত দালান সম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্যথা করে, যে ব্যবস্থা উক্ত দালানের বা উহার কোন অংশের পতন হতে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়তা বিধানের পর্যাপ্ত, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৮৯। প্রাণী সম্পর্কে তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ

কোন ব্যক্তি যদি তার দখলভুক্ত কোন প্রাণী সম্পর্কে এমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জ্ঞাতসারে বা অবহেলামূলকভাবে অন্যথা করে, যে ব্যবস্থা উক্ত প্রাণী হতে মানুষের জীবনের প্রতি সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে অথবা নিশ্চয়তা বিধানের জন্য পর্যাপ্ত, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯০। সর্বসাধারণের আপদ সৃষ্টি করা

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বিরক্তি সৃষ্টিকারী এমন কোন কার্য করে, যার জন্য এই বিধিতে অপর কোন বিধান করা হয় নাই, তবে সে ব্যক্তি দুই শত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৯১‘। নিষেধাজ্ঞা জারির পর আপদ অব্যাহত রাখা

উৎপাত পুনরায় সংঘটনের বা অব্যাহত রাখার বিরুদ্ধে বৈধ কর্তৃত্ব সম্পন্ন কোন সরকারী কর্মচারী নিষেধাজ্ঞা জারী করার পরেও কোন ব্যক্তি পুনরায় এইরূপ উৎপাত করলে বা অব্যাহত রাখলে, সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯২। অশ্লীল বই বিক্রয় করা ইত্যাদি

যদি কোন ব্যক্তি-

(ক) কোন অশ্লীল পুস্তক, পুস্তিকা, কাগজ, অংকন, চিত্র, কল্পমূর্তি বা প্রতিমূর্তি বা অপর যেকোন ধরনের অশ্লীল বস্তু বিক্রয় করে, ভাড়া দেয়, বিতরণ করে, প্রকাশ্যে প্রদর্শন করে বা যেকোন প্রকারে প্রচার করে অথবা বিক্রয় করার, ভাড়া দিবার, বিতরণ করার, প্রকাশ্যে প্রদর্শন করার কিংবা প্রচারের উদ্দেশ্যে তৈরি করে কিংবা প্রণয়ন করে কিংবা

(খ) কোন অশ্লীল বস্তু পূর্বোক্ত যেকোন উদ্দেশ্যে আমদানি করে, রপ্তানি করে অথবা প্রদান করে, অথবা অনুরূপ অশ্লীল বস্তু বিক্রয় করা হবে, ভাড়া দেওয়া হবে, বিতরণ করা হবে অথবা প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হবে কিংবা যেকোন প্রকার প্রচার করা হবে বলে জানাসত্ত্বেও অথবা বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও উহা আমদানি, রপ্তানী বা পরিবহন করে, অথবা

(গ) এমন কোন ব্যবসায়ে অংশগ্রহণ করে বা উহার মুনাফায় শরীক হয়, যে ব্যবসায় ব্যবস্থিত সে জানে বা তাহর বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, সে ব্যবসায়ের জন্য পূর্বোক্ত কোন উদ্দেশ্যে অনুরূপ কোন অশ্লীল বস্তু প্রস্তুত, উৎপাদন, ক্রয়, সংরক্ষণ, আমদানিকৃত, রপ্তানিকৃত, প্রকাশ্যে প্রদর্শিত অথবা যেকোন প্রকারে প্রচারিত হয়, অথবা

(ঘ) কোন ব্যক্তি এই ধারা মতে একটি অপরাধ বলে বিবেচ্য কোন কার্যে ব্যাপৃত রয়েছে বা ব্যাপৃত হওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, কিংবা অনুরূপ কোন অশ্লীল বস্তু কোন ব্যক্তির নিকট থেকে সংগ্রহ বা কোন ব্যক্তির মাধ্যমে সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে যে কোন প্রকারে বিজ্ঞাপন করে বা যেকোন প্রকারে গোচরীভূত করে, অথবা

(ঙ) এই ধারা মতে অপরাধ বলে বিবেচ্য কোন কাজ সম্পাদনের প্রস্তাব করে বা উদ্যোগ গ্রহণ করে,

তবে সে ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম:- এই ধারা প্রকৃতই ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বা ব্যবহৃত কোন পুস্তক পুস্তিকা, লেখা, রেখা বা চিত্রের ক্ষেত্রে, অথবা কোন মন্দিরের মধ্যে বা বাইরে কৃত ভাস্কর্য, খোদাই, চিত্রণ বা অপর কোনরূপ প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে, অথবা প্রতিমা পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত কিংবা কোন ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত বা ব্যবহৃত কোন গাড়িতে অবস্থিত বস্তুর ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না।

২৯৩। যুবক-যুবতীদের নিকট অশ্লীল বস্তু বিক্রয় করা ইত্যাদি

কোন ব্যক্তি যদি বিশ বৎসররের কমবয়স্ক ব্যক্তির কাছে উপরের ধারায় বর্ণিত কোন অশ্লীল বস্তু বিক্রয় করে, ভাড়া দেয়, বিতরণ করে, প্রদর্শন করে বা প্রচার করে, অথবা তা করতে প্রস্তাব করে বা চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৪। অশ্লীল কার্য ও সঙ্গীত করা

কোন ব্যক্তি যদি অন্যের বিরক্তি সৃষ্টি করে –

(ক) কোন প্রকাশ্য স্থানে কোন অশ্লীল কাজ করে, অথবা

(খ) কোন প্রকাশ্য স্থানে বা কোন প্রকাশ্য স্থানের সন্নিকটে কোনরূপ অশ্লীল সংগীত, গাথা বা কথা গীত করে, আবৃত্তি করে বা উচ্চারণ করে,

তবে সে ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৪ক। লটারি অফিস রাখা

কোন ব্যক্তি যদি কোন লটারীর উদ্দেশ্যে কোন দপ্তর বা অফিস অথবা স্থান সংরক্ষণ করে এবং তা যদি রাষ্ট্রীয় লটারী বা সরকার দ্বারা অনুমোদিত লটারী না হয়, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

এবং কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন লটারীতে টিকেট, লট, নম্বর বা চিহ্ন টানার সাথে সংশ্লিষ্ট বা প্রয়োগযোগ্য কোন ঘটনায় বা কার্যে কোন ব্যক্তির উপকারার্থে কোন অর্থপ্রদানের বা দ্রব্য প্রদানের কোন কার্য করার বা কোন কার্য করা হতে বিরত থাকার প্রস্তব করে, তবে সে ব্যক্তি এক হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

২৯৪খ। বাণিজ্য ইত্যাদি সম্পর্কে পুরস্কার প্রদান করা

যে কোন বাণিজ্য বা ব্যবসায় বা কোন দ্রব্যের বিক্রয় উপলক্ষে উক্ত বাণিজ্য বা ব্যবসায় বা কোন দ্রব্যের ক্রয়ের ব্যাপারে প্রলোভন বা উৎসাহ স্বরূপ বা কোন দ্রব্যের প্রচার বা জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে যেকোন নামে অর্থ বা দ্রব্যে যেকোন কুপন টিকেট, সংখ্যা বা মূর্তি বা অন্যকোন উপায়ের মাধ্যমে কোন পুরস্কার, পারিতোষিক বা অনুরূপ অপর কোন প্রতিদান প্রদানের প্রস্তাব করে, সে ব্যক্তি এবং যে ব্যক্তি অনুরূপ কোন প্রস্তাব প্রকাশ করে, তবে সে ব্যক্তি ছয় মাস মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২৯৫। কোন শ্রেণীর লোকের ধর্মের অবমাননার উদ্দেশ্যে কোন উপাসনার স্থান বা পবিত্র বস্তু ধ্বংস, নষ্ট বা অপবিত্র করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন উপাসন স্থান বিনস্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপব্রিত করে অথবা জনসাধারণের কোন শ্রেণী দ্বারা পবিত্র বলে গণ্য কোন বস্তু বিনষ্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপবিত্র করে, এবং জনসাধারণের কোন শ্রেণীর ধর্মকে অপদস্থ করার মানসেই তা করে অথবা অনুরূপ বিনষ্টকরণ, ক্ষতিসাধন বা অবপবিত্রকরণকে একশ্রেণীর জনসাধারণ তাদের ধর্মের প্রতি অবমাননা বলে বিবেচনা করবে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৫ক। প্রতিহিংসাবশতঃ কোন শ্রেণীর লোকের ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের নাগরিকবৃন্দের কোন শ্রেণীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ও হিংসাত্মকভাবে লিখিত বা উচ্চারিত কথা কর্তৃক বা দৃশ্যমান কোন বস্তু কর্তৃক সে শ্রেণীর ধর্মকে বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমানিত করে বা অপমানিত করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৬। ধর্মীয় উপসনায় রত কোন সমাবেশে গোলযোগ সৃষ্টি করা

কোন ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে ধর্মীয় কাজ অনুষ্ঠানরত বা ধর্মীয় উৎসব পালনরত কোন সমাবেশে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৭। গোরস্থান ইত্যাদিতে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির অনুভূতিকে আহত করার উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য কোন ব্যক্তির ধর্মের অবমাননা করার উদ্দেশ্যে, অথবা অন্য কোনব্যক্তির অনুভূতি আহত হতে পারে বা অন্য কোন ব্যক্তির ধর্মের অবমাননা হতে পারে জানা সত্ত্বেও,কোন উপাসনাস্থলে বা সমাধিস্থলে বা অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আলাদাভাবে রক্ষিত স্থান বা মৃত ব্যক্তির দেহাবমেশষ রাখার জন্য আলাদাভাবে রক্ষিত স্থানে অনধিকার প্রবেশ করে,তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৮। কোন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তাহার শ্রবণের মধ্যে কোন কথা উচ্চারণ করা বা কোন শব্দ করা অথবা তাহার দৃষ্টিগোচর কোন অংগভংগি করা বা কোন বস্তু স্থাপন করা

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যমূলক অভিসন্ধিক্রমে সে ব্যক্তির শ্রুতিগোচর হয় এমনভাবে কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে অথবা সে ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে কোন বস্তু স্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২৯৯। অপরাধজনক নরহত্যা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। চ শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কৃপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে ক ও খ রয়েছে এবং অন্য পাশে চ রয়েছেঃ ক জানে যে, চ অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু খ তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে চ-এর মৃত্যু হয় সে উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও, ক ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য খ-কে অনুরোধ করে। খ অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে চ এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে খ কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) ক একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে খ-এর মৃত্যু হয়। ক জানত না যে, খ সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে ক যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে খ-কে হত্যা করতে চাহে নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৩০০। অপরাধজনক নরহত্যা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। চ শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কৃপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে ক ও খ রয়েছে এবং অন্য পাশে চ রয়েছেঃ ক জানে যে, চ অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু খ তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে চ-এর মৃত্যু হয় সে উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও, ক ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য খ-কে অনুরোধ করে। খ অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে চ এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে খ কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) ক একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে খ-এর মৃত্যু হয়। ক জানত না যে, খ সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে ক যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে খ-কে হত্যা করতে চাহে নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৩০১। যে ব্যক্তির মৃত্যু অভীষ্ট ছিল সেই ব্যক্তি ভিন্ন অন্য কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটাইয়া নরহত্যা অনুষ্ঠান

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কার্য করে যা কর্তৃক মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা বা উদ্দেশ্য তার ছিল অথবা যার দরুণ মৃত্যু সংঘটন হতে পারে বলে তার জানা ছিল এবং এই কার্য কর্তৃক সে এমন কোন ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করে, যার মৃত্যু সে কামনা করে নাই বা যার মৃত্যু হতে পারে বলে তার জানা ছিল না, তবে অপরাধী যে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের ইচ্ছা করেছিল, কিংবা যে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে বলে জানত সে ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটন করলে তার অপরাধটি যেরূপ হত, এই ক্ষেত্রেও সেরূপ হবে।

৩০২। খুনের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি খুনের অপরাধ করে তবে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অথ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩০৩। যাবজ্জীবন কারাবাসে দন্ডিত ব্যক্তি কর্তৃক অনুষ্ঠিত খুনের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত অবস্থায় খুন করে, তবে সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩০৪। অবহেলার ফলে ঘটিত মৃত্যু

কোন ব্যক্তি যদি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলাজনকভাবে কার্য করে কারো মৃত্যু ঘটায় এবং তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা না হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩০৪খ। বেপরোয়া যান বা অশ্ব চালনার দ্বারা মৃত্যু ঘটান

কোন ব্যক্তি বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে জনপথে যান চালিয়ে বা অশ্বারোহণের কর্তৃক নিন্দনীয় নরহত্যা নয় এমন মৃত্যু ঘটাইলে, সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩০৪। খুন বলিয়া গণ্য নহে এইরূপ অপরাধজনক নরহত্যার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি খুন নয় এমন শাস্তি যোগ্য নরহত্যা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, অথবা এমন দৈহিক জখম করার উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়, যে দৈহিক জখমের দরুণ মৃত্যু ঘটতে পারে; অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে, যদি যে কার্যটি কর্তৃক মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়, সে কার্যটি সম্পাদনের দরুণ মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা থাকে, অথচ কার্যটি মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্যে করা হয় নাই যে দৈহিক জখম করার কারণে মৃত্যু ঘটতে পারে।

৩০৫। শিশু বা উম্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যা সহায়তাকরণ

যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন উন্মাদ ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩০৬। আত্মহত্যায় সহায়তাকরণ

কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করবে, উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩০৭। খুনের উদ্যোগ

কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যার ফলে মৃত্যু ঘটলে সে খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, এবং যদি অনুরূপ কাজের কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে আঘাত করা হয়, তবে অপরাধী যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা ইতোপূর্বে যে সাজার উলেখ করা হয়েছে, সে দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তির উদ্যোগ (Attempts by life convicts): যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত কোন ব্যক্তি যদি এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করে এবং তার ফলে কেউ আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা যেতে পারে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(অ) ক চ-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে এমন অবস্থায় গুলি করে, যে অবস্থায় মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে ক খুনের দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। ক এই ধারা বলে দণ্ডিত হবে।

(আ) ক একটি অতি অল্প বয়স্ক শিশুকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উহাকে মরুভূমিতে রেখে আসে। ইহার ফলে শিশুটির মৃত্যু না হলেও ‘ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(ই) ক, চ কে খুন করার উদ্দেশ্যে একটি বন্দুক ক্রয় করে উহা গুলি ভর্তি করে। এতদূর পর্যন্ত ক অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক চ-এর প্রতি গুলি বর্ষণ করে। এইক্ষেত্রে সে এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে, এবং এই গুলি বর্ষণের দরুণ যদি সে চ-কে আহত করে থাকে, তবে সে এই ধারার প্রথম অনুচ্ছেদের শেষাংশে নিদিষ্ট দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(ঈ) ক চ-কে বিষ প্রয়োগ করে খুন করার উদ্দেশ্যে বিষ ক্রয় করে এবং খাদ্যে বিষ মিশ্রিত করে; বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রব্যটি ক-এর নিকটই রয়েছে। এতদূর পর্যন্ত ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে বিবেচনা করা হবে না। ক বিষ মিশ্রিত খাদ্য দ্রবটি চএর খাবার টেবিলে রাখে অথবা উহা চ-এর খাবার টেবিলে রাখার জন্য চ-এর চাকরকে প্রদান করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

৩০৮। অপরাধজনক নরহত্যা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ

কোন ব্যক্তি যদি এমন উদ্দেশ্য নিয়ে বা এমন আশঙ্কা জানা সত্ত্বেও এমন অবস্থায় এমন কোন কার্য করে, যে অবস্থায় সে কার্যটি করার ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হলে সে খুন নয় এমন শাস্তিযোগ্য নরহত্যা করার দায়ে অপরাধী সাব্যস্ত হবে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে; এবং যদি অনুরূপ কাজের দরুণ কোন ব্যক্তি আহত হয়, তবে সে ব্য (অপরাধকারী) সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক মারাত্মক ও আকস্মিক উস্কানিতে প্ররোচিত হয়ে এমন অবস্থায় চ-এর প্রতি পিস্ত লের গুলি বর্ষণ করে যে, তার ফলে যদি সে চ এর মৃত্যু সংঘটন করত, তবে সে খুন নয় এমন শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দায়ে অপরাধী হত । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

৩০৯। আত্মহত্যা করিবার উদ্যোগ

কোন ব্যক্তি যদি আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে এবং অনুরূপ অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কার্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩১০। ঠগ

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরে কোন সময় খুনের মাধ্যমে বা খুন সহ দস্যুতা সাধন বা শিশু অপহরণের জন্য অপর এক বা একাধিক ব্যক্তির সাথে অভ্যাসগতভাবে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি একজন ঠগ ।

৩১১। ঠগের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ঠগ হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ধারা ৩১২ থেকে ৩১৮ (পর্যন্ত গর্ভপাতের জন্য, অজাত শিশুর ক্ষতির জন্য, শিশু পরিত্যাগের জন্য, জন্ম গোপন করার জন্য সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্ত )

৩১৩। নারীর সম্মতি ব্যতিরেকে গর্ভপাত করান

কোন ব্যক্তি যদি পূর্ববর্তী ধারায় বর্ণিত অপরাধটি সংশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া সম্পাদন করে-স্ত্রীলোকটি আসন্ন প্রসবা হোক বা না হোক- তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩১৪। গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে স্মপাদিত কার্যের ফলে মৃত্যু

কোন ব্যক্তি যদি কোন গর্ভবতী স্ত্রীলোকের গর্ভপাত করানোর উদ্দেশ্যে কৃত কোন কাজের ফলে সে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু ঘটায়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

যদি কাজটি সশ্লিষ্ট স্ত্রীলোকের সম্মতি ছাড়া করা হয় (If act done without women’s consent):-

যদি কাজটি সে স্ত্রীলোকটির সম্মতি ছাড়া করা হয়ে থাকে, তবে সে ব্যক্তি হয় যাবজীবন কারাদণ্ডে, কিংবা উপরোলিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এই অপরাধের জন্য কাজটি মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে অপরাধকারীর অবগতি অপরিহার্য নয়।

৩১৫। শিশুর জীবন্ত ভূমিষ্ঠ হওয়ায় বাধাদান করিবার বা জন্মের পর উহার মৃত্যু ঘটাইবার উদ্দেশ্যে কৃত কার্য

কোন ব্যক্তি যদি কোন শিশুর জন্মের পূর্বে এমন কোন কাজ করে, যাতে শিশুটি জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ট হতে না পারে বা জন্মের পরে তার মৃত্যু হয় এবং অনুরূপ কাজের ফলে শিশুটি জীবিত অবস্থায় ভূমিষ্ট না হয় বা ভূমিষ্ট হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়- এবং যদি কাজটি মাতার জীবন রক্ষার জন্য সরল বিশ্বাসে কৃত না হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক এমন একটি কাজ করে, যার দরুণ জনৈকা গর্ভবতী স্ত্রীলোকের মৃত্যু হতে পারে বলে সে জানে এবং কাজটি এমন ধরনের যে, তার ফলে স্ত্রীলোকটির মৃত্যু হলে তা শাস্তি যোগ্য নরহত্যার অপরাধ হত। ক-এর কৃত উক্ত কার্যটির ফলে স্ত্রীলোকটি আহত হয়, কিন্তু নিহত হয় না; কিন্তু স্ত্রীলোকটির গর্ভস্থ একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটে। ক এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

৩১৬। অপরাধজনক নরহত্যা বলিয়া গণ্য কার্যের সাহায্যে জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু সংঘটন

যদি কোন ব্যক্তি এমন কোন কার্য করে, যদ্ধারা সে কোন মৃত্যু ঘটালে তা হলে সে অপরাধজনক নরহত্যা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হত এবং অনুরূপ কার্যের সাহায্যে একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে যার মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে, দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে ।

উদাহ

Illustration

ক, সে একটি গর্ভবতী নারীর মৃত্যু ঘটাতে পারে এই সম্ভাবনা আছে জেনে এমন একটি কাজ করে, যা উক্ত নারীর মৃত্যু ঘটালে দণ্ডাহঁ নরহত্যা বলে গণ্য হত। নারীটি জখম হয় কিন্তু মৃত্যুবরণ করে নাই, কিন্তু তদ্বারা উক্ত নারীর গর্ভস্থ একটি জীবন্ত অজাত শিশুর মৃত্যু ঘটে। ক, এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবে।

৩১৭। পিতা বা মাতা অথবা তত্ত্ববধায়ক কর্তৃক বার বৎসরের নিম্ন বয়স্কশিশু পরিত্যাগ ও বর্জন

কোন ব্যক্তি যদি বার বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন শিশুর পিতা বা মাতা অথবা উক্ত শিশুর দায়িত্ব সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও শিশুটিকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করার উদ্দেশ্যে কোন স্থানে পরিত্যাগ করে যায় বা ফেলে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-এইরূপ অরক্ষিত অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হলে তজ্জন্য খুনের বা শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অভিযোগে অপরাধীর বিচার প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে এই ধারাটি প্রণীত হয় নাই ।

৩১৮। মৃতদেহের গোপন ব্যবস্থার সাহায্যে জন্ম গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি শিশুকে গোপনে সমাধিস্থ করে বা অপর কোন রূপে ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটির জন্ম গোপন করে বা গোপন করার চেষ্টা করে-শিশুটির মৃত্যু জন্মের আগেই হোক, আর জন্মের পরেই হোক, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩১৯। আঘাত

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির দৈহিক যন্ত্রণ ব্যাধি বা অপরাগতা ঘটায়, তবে উক্ত ব্যক্তি আঘাত করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৩২০। গুরুতর অঘাত

শুধু নিম্নলিখিত আঘাতসমূহকেই “গুরুতর” বলে পরিগণিত করা যায়:-

প্রথমত, পুরুষত্বহীন করণ।

দ্বিতীয়ত, যেকোন চোখের জ্যোতি বা দৃষ্টিশক্তি চিরতরে নষ্ট করণ।

তৃতীয়ত, যেকোন কর্ণের শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট করণ।

চতুর্থত, যেকোন অঙ্গ বা গ্রন্থির অনিষ্ট সাধন।

পঞ্চমত, যেকোন অঙ্গের বা গ্রন্থির শক্তিসমূহ ধ্বংস করণ বা চিরতরে খর্ব করণ।

ষষ্ঠত, মাথা বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করণ।

সপ্তম, কোন অস্থি বা দন্ত ভগ্ন বা স্থানচ্যুত করণ।

অষ্টম, এমন কোন আঘাত যা জীবন সংশয় সৃষ্টি করে বা যাতে আহত ব্যক্তি বিশ দিন পর্যন্ত প্রচণ্ড দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে বা সাধারণ কাজকর্ম করতে অপারগ হয়।

৩২১। সেচ্ছাকৃত ভাবে আঘাত দান করা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কার্য করে, যার ফলে অন্য কোন ব্যক্তি আহত হয়, এটাই তার উদ্দেশ্য, অথবা সে কার্যটি করলে অন্য কোন ব্যক্তি তাতে আহত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে কার্যটি করে, এবং কার্যটি করার ফলে অন্য কোন ব্যক্তি আহত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি “ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করেছে" বলে পরিগণিত হবে।

৩২২। সেচ্ছাকৃত ভাবে গুরুতর আঘাত দান

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে যদি সে যে আঘাতটি দেওয়ার ইচ্ছা করে, বা যে আঘাতটি দিতে পারে বলে সে জানে, সে আঘাতটি গুরুতর আঘাত হয়, এবং যদি তার প্রদত্ত আঘাতটি গুরুতর হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি “ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে” বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

কোন ব্যক্তি যদি কার্যত গুরুতর আঘাত দেয় এবং গুরুতর আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে বা গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানে, তবে সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হয়। অন্যথায় সে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হবে না। তবে সে যদি এক শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে বা এক শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দিতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও প্রকৃতপক্ষে অপর কোন শ্রেণীর গুরুতর আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক, চ-এর মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত করার উদ্দেশ্য করে বা মুখমণ্ডল স্থায়ীভাবে বিকৃত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও চ-কে একটি আঘাত দিল কিন্তু এই আঘাতের ফলে চ-এর মুখমণ্ডল বিকৃত হয় না, তবে বিশ দিন যাবৎ চ দারুণ দৈহিক যন্ত্রণা ভোগ করে, কইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দিয়েছে।

৩২৩। স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দানের শাস্তি

যদি কেউ ৩৩৪ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়াই অপর কোন ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা এক হাজার টাকা পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩২৪। স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা অন্য মাধ্যমের সাহায্যে আঘাত দান করা

কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৪ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ছাড়া অপর কোন ক্ষেত্রে, কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটিবার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার একটি অপরাধ সংঘটনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটাতে পারে, সে অস্ত্র দ্বারা আঘাত করে অথবা অগ্নি বা কোন উত্তপ্ত বস্তু দ্বারা আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য দ্বারা আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা আহত করে অথবা যে দ্রব্য শ্বাস টানিলে, ভক্ষণ করলে বা দেহের মধ্যে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা আহত করে, অথবা কোন পশু দ্বারা আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩২৫। স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দানের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বিহিত ক্ষেত্র ছাড়া অপর কোন ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩২৬। স্বেচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক অস্ত্র বা মাধ্যমের সাহায্যে গুরুতর আধাত দান করা

কোন ব্যক্তি যদি ৩৩৫ ধারায় বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে কোন গুলিবর্ষণের, ছুরিকাঘাতের বা কাটার যন্ত্র বা হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা যে হাতিয়ার দিয়ে একটি অপরাধ সংঘটনের জন্য এই হাতিয়ারটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে, সে হাতিয়ার দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিষ বা ক্ষয়কারী দ্রব্য কর্তৃক গুরুতর আঘাত করে, অথবা কোন বিস্ফোরক দ্রব্য দ্বারা গুরুতরভাবে আহত করে, অথবা যে দ্রব্য শ্বাস কর্তৃক গ্রহণ করলে, উদরস্থ করলে বা রক্তে গ্রহণ করলে তা মানবদেহের পক্ষে ক্ষতিকর হয়, সে দ্রব্য দ্বারা গুরুতর আহত করে অথবা কোন পশু দ্বারা গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩২৬ক। চ্চাকৃতভাবে দু’টি চোখ উপড়াইয়া বা এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা চোখ দুটির দুষ্টিশক্তি নষ্টকরণ বা মুখমন্ডল বা মস্তক এসিড দ্বারা বিকৃতিকরণ

যে ব্যক্তি ৩৩৫ ধারায় উল্লেখিত ক্ষেত্র ছাড়া স্বেচ্ছাকৃতভাবে নিম্নবর্ণিত উপায়ে

(ক) ৩২০ ধারার দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে উভয় চক্ষুর ব্যাপারে হয় উৎপাটন দ্বারা অথবা যেকোন ধরনের এসিড জাতীয় পদার্থ কর্তৃক, কিংবা

(খ) ৩২০ ধারার ষষ্ঠ অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধ যেক্ষেত্রে কোন এসিড জাতীয় পদার্থ দ্বারা কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করে, তবে সে ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজীবন কারাদণ্ডে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

৩২৭। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়া লওয়া বা কোন অবৈধ কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত আদায় করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে বেআইনী কোন কার্য করার জন্য বা কোন অপরাধ সংঘটনে সুবিধা সৃষ্টি করতে বাধ্য বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩২৮। কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে বিষ ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির উপর কোন বিষ অথবা অপর কোন বুদ্ধিনাশক, নেশ্যকর বা অস্বাস্থ্যকর ঔষধ বা অপর কিছু প্রয়োগ করে বা প্রযুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় এবং উক্ত ব্যক্তিকে আহত করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা উহার সুবিধা বিধানের উদ্দেশ্যে, অথবা ইহার ফলে উক্ত ব্যক্তি আহত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে অপরাধী দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩২৯। বলপূর্বক সম্পত্তি বা মূল্যবান দলিল গ্রহণ বা এমন কোন কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা সে ব্যক্তির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা কোন মূল্যবান জামানত আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা উক্ত ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে বেআইনী কোন কার্য করার জন্য বা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের সুবিধা বিধানের জন্য বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতরভাবে আহত করে, তবে অপরাধী যাবজীবন কারাদণ্ডে, কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৩০। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়অ লওয়া বা কোন অবৈধ কার্য করিতে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তিকে বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি বা জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবী পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা যে তথ্য দানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মুল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে উক্ত ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, তবে উক্ত আঘাতকারী সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

(অ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। সে চ-কে কোন অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য করার জন্য পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

(আ) ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা। কোন জায়গায় অপহৃত দ্রব্য লুকিয়ে রাখা হয়েছে সে তথ্যদানে বাধ্য করার জন্য সে চ-কে পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

(ই) ক জনৈক রাজস্ব-বিভাগীয় কর্মচারী। চ-এর কিছু রাজস্ব বাকি পড়িয়াছে, চ-কে তার বকেয়া রাজস্ব পরিশোধ করে দিতে বাধ্য করার জন্য ক পীড়ন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে।

(ঈ) ক জনৈক জমিদার, জনৈক রায়তকে তার বকেয়া খাজনা পরিশোধ করতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে পীড়ন করে । ক এই ধারা বলে অপরাধী সাব্যস্ত হবে।

৩৩১। বলপূর্বক অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায় করা বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণে বাধ্য করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তির বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অন্য কারো নিকট থেকে যে স্বীকারোক্তির বা তথ্যদানের ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ সম্পর্কে সন্ধান পাওয়া যেতে পারে, সে স্বীকারোক্তির বা তথ্য আদায় করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে ব্যক্তি, বা সে ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কাহারো কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণের ব্যবস্থা করে দিতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা কোন দাবি পূরণে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে, অথবা যে তথ্যদানের ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে, সে তথ্যদানে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে সে ব্যক্তিকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে শুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত গুরুতর আঘাতকারী দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৩২। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদান করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদনরত অবস্থায়, অথবা সে সরকারী কর্মচারীকে বা অন্য কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদন হতে নিরস্ত, বা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আহত করে, অথবা উক্ত সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার দায়িত্ব আইনানুগভাবে সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেছেন বা বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৩৩৩। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদান করিবার জন্য স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারীকে সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদনরত অবস্থায়, অথবা সে সরকারী কর্মচারীকে বা অন্য কোন সরকারী কর্মচারীকে অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার কর্তব্যকর্ম সম্পাদন হতে নিরস্ত বা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে অথবা উক্ত সরকারী কর্মচারী অনুরূপ সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার দায়িত্ব আইনানুগভাবে সম্পাদন উদ্দেশ্যে কোন কাজ করেছেন বা করতে উদ্যত হয়েছেন বলে তাকে স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৩৪। উত্তেজনাবশতঃ স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করা

কোন ব্যক্তি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করে, যদি সে যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে তাকে ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ না করে থাকে, বা যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে সে ব্যক্তি ছাড়া অপর কারো প্রতি আঘাত হতে পারে বলে তার জানা না থাকে-তবে উক্ত আঘাতকারী একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৩৫। উত্তেজনাবশতঃ স্বেচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত দান করা

কোন ব্যক্তি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুতর আঘাত করে, যদি ষে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে তাকে ছাড়া অপর কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত করার ইচ্ছা পোষণ না করে থাকে বা যে ব্যক্তি প্ররোচনা দিয়েছে, সে ব্যক্তি ছাড়া অপর কারো প্রতি মারাত্মক আঘাত হতে পারে বলে তার জানা না থাকে, তবে অনুরূপ গুরুতর আঘাতকারী চার বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুই হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

উপরের শেষ দুইটি ধারা ৩০০ ধারার ১ ব্যতিক্রমের অনুরূপ শর্তাবলী সাপেক্ষে।

৩৩৬। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্য

যে ব্যক্তি এমন বেপরোয়াভাবে বা অবহেলামূলকভাবে কোন কার্য করে, যার ফলে মানুষের জীবন বিপন্ন হয় বা অন্যান্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৩৭। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যের মাধ্যমে আঘাত দান করা

ধারা ৩৩৭। কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ কর্তৃক কাউকে আহত করে, যে কাজটি এতই বেপরোয়া বা অবহেলামূলক যে, তার ফলে মানুষের জীবনের প্রতি বিপদাশঙ্কা দেখা দেয় অথবা অন্যান্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ছয় মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৩৮। অন্যান্য লোকের জীবন বা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যের মাধ্যমে গুরুতর আঘাত দান করা

যে ব্যক্তি এমন কোন কাজ কর্তৃক কাউকে গুরুতরভাবে আহত করে, যে কাজটি এতই বেপরোয়া বা অবহেলামূলক যে তার ফলে মানুষের জীবনের প্রতি বিপদাশঙ্কা দেখা দেয় অথবা অন্যান্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ক্ষুন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচ হাজার টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৩৮ক। জনপথে বেপরোয়া যান বা অশ্ব চালনা করিয়া গুরুতর আঘাত

যে ব্যক্তি বেপরোয়া বা অবহেলামূলকভাবে গণপথে গাড়ি চালিয়ে বা অশ্বারোহণ করে কোন ব্যক্তিকে এমন গুরুতর আঘাত করে যাতে মনুষ্যজীবন ও অন্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিপন্ন হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদণ্ডে, বা অর্থ দন্ডে বা উভয়বিধ দন্ডই দন্ডিত হবে।

৩৩৯। অবৈধ বাধা

যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে ইচ্ছাপূর্বক এমনভাবে বাধাদান করে যার ফলে উক্ত ব্যক্তির যেদিকে যাবার অধিকার রয়েছে, এমন কোন দিকে উক্ত ব্যক্তির যাবার পথ রুদ্ধ হয়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাধাদান করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যতিক্রম (Exception):-

যদি কোন লোক স্থলে বা জলে কোন বেসরকারি পথে বাধা দেওয়ার আইনসম্মত অধিকার তার রয়েছে বলে সরল মনে বিশ্বাসবশতঃ উক্ত পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তবে তার কাজ এই ধারার অর্থের আওতায় অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

যে পথ অতিক্রম করার অধিকার চ-এর রয়েছে, সে পথে ক বিঘ্ন সৃষ্টি করে। ক সরল মনে বিশ্বাস করে না যে, পথটি রোধ করার অধিকার তার রয়েছে। ক-এর পথ রোধের ফলে চ পথ অতিক্রম করতে অসমর্থ হয় । ক অবৈধভাবে চ-কে বাধাদান করেছে।

৩৪০। অবৈধ অবরোধ

যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চলাচলে অবৈধভাবে এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে যে, উক্ত ব্যক্তি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করতে পারে না, তবে সে ব্যক্তি উক্ত ব্যক্তিকে “অবৈধভাবে অবরোধ করেছে” বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণ

Illustration

(ক) ক, চ-কে একটি দেয়াল-ঘেরা জায়গায় যেতে বাধ্য করে এবং সেখানে চ-কে তালাবদ্ধ করে রাখে। ফলে চ সে দেয়ালের মধ্যবর্তী নির্দিষ্ট সীমার বাইরে যেতে অসমর্থ হয় । ক চ-কে অবৈধভাবে অবরোধ করেছে।

(খ) ক কোন অট্টালিকার সকল বহিৰ্দ্ধারে আগ্নেয়াস্ত্রে-সজ্জিত ব্যক্তিদের মোতায়েন করে চ-কে বলে যে, চ অট্টালিকা হতে নিষ্ক্রমণের চেষ্টা করলে আগ্নেয়াস্ত্র-সজ্জিত ব্যক্তিরা চ-এর প্রতি গুলিবর্ষণ করবে। ক অবৈধভাবে চ-কে অবরোধ করেছে।

৩৪১। অবৈধ বাধাদানের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করে, তবে সে ব্যক্তি একমাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৪২। অবৈধ অবরোধের শাস্তি

যে ব্যক্তি, কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৪৩। তিন বা ততোধিক দিবসের জন্য অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কাইকে তিন বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৪৪। দশ বা ততোধিক দিবসের জন্য অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে অবরোধ করে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৪৫। যে ব্যক্তির মুক্তিকল্পে রীট জারি করা হইয়াছে তাহার অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারী কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারী কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৪৬। গোপনে অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অবৈধভাবে বন্দি রাখে, তাতে এইরূপ একটি উদ্দেশ্য সূচিত হয় যে, বন্দি ব্যক্তিকে আটক করে রাখার ব্যাপারটি বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির বা কোন সরকারী কর্মচারীর গোচরীভূত হবে না, অথবা যে স্থানে অনুরূপ বন্দি করে রাখা হয়েছে সে স্থানটি উপযুক্তরূপ কোন ব্যক্তি বা সরকারী কর্মচারী দ্বারা জ্ঞাত বা আবিষ্কৃত হবে না, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ অবৈধভাবে বন্দি করে রাখার জন্য অপর যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তদতিরিক্ত আরও দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৪৭। বলপূর্বক সম্পত্তি ছিনাইয়া লইবার বা অবৈধ কাজ করিতে বাধ্য করিবার জন্য অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কউকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে এবং সে বন্দি করার উদ্দেশ্য হয়, বন্দি ব্যক্তির নিকট থেকে অথবা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট থেকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত আদায় করা, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা তার সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কোন বেআইনী কার্য করতে বাধ্য করা, অথবা কোন অপরাধ সংঘটনের সহায়ক কোন তথ্য দানে বাধ্য করা, তবে অনুরূপ অন্যায়ভাবে বন্দিকারী ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৪৮। স্বীকারোক্তি আদায় করিবার বা সম্পত্তি প্রত্যর্পণ করিতে বাধ্য করিবার জন্য অবৈধ অবরোধ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে এবং এইরূপ অন্যায়ভাবে বন্দি করার উদ্দেশ্য হয়, বন্দি ব্যক্তির নিকট থেকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তির নিকট থেকে এমন কোন স্বীকারোক্তি বা তথ্য আদায় করা, যার ফলে কোন অপরাধ বা অসদাচরণ ধরা পড়তে পারে, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত প্রত্যপণ করতে বা প্রত্যপণ করাতে অথবা কোন পাওনা বা দাবি মিটাইতে বাধ্য করা, অথবা বন্দি ব্যক্তিকে বা বন্দি ব্যক্তির সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিকে এমন কোন তথ্যদানে বাধ্য করা, যার ফলে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানত পুনরুদ্ধার হতে পারে, তবে অনুরূপ অন্যায়ভাবে বন্দিকারী ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৪৯। বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে কোন বস্তুতে এমন গতি সঞ্চার করে, বা গতি স্তব্ধ করে, যাতে উহা অপর কোন ব্যক্তির দেহের কোন অংশের সংস্পর্শে আসে, অথবা যদি সে অপর কোন ব্যক্তির পরিহিত বা বাহিত কোন দ্রব্যে অনুরূপ গতি সঞ্চার, গতি পরিবর্তন বা গতি স্তব্ধ করে, অথবা যদি সে এমন কোন বস্তুর সাথে উহা করে যা এমনভাবে সংস্থিত যে, উহার সংস্পর্শ দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তির অনুভব-শক্তি ব্যাহত করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির প্রতি বলপ্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়:-

তবে শর্ত থাকে যে, যে ব্যক্তি গতি সঞ্চার করে, গতি পরিবর্তন করে বা গতি স্তব্ধ করে, সে ব্যক্তির গতি সঞ্চারের, গতি পরিবর্তনের বা গতি স্তব্ধকরণের পদ্ধতি নিম্নোক্ত তিনটি উপায়ের যেকোন একটি হতে হবে

প্রথমত (Firstly):- তার নিজ দেহের শক্তি প্রয়োগ করে।

দ্বিতীয়ত (Secondly):- কোন বস্তু এমনভাবে ব্যবহার করে, যার ফলে তার নিজের বা অপর কোন ব্যক্তির কোন কাজ ব্যতীত গতি বা গতির পরিবর্তন বা গতির স্তব্ধতা সাধিত হয় ।

তৃতীয়ত (Thirdly):- কোন পশুকে চালিত করে গতি পরিবর্তন বা পশুটির গতি তব্ধ করে।

৩৫০। অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির উপর সম্মতি ব্যতীত বল প্রয়োগ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ শক্তি প্রয়োগ কর্তৃক, যে ব্যক্তির উপর বল প্রয়োগ করা হল, তার জখম বা ভয় বা বিরক্তি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে অথবা তার শক্তি প্রয়োগের ফলে, যার উপর শক্তি প্রয়োগ করা হল, তার জখম, ভয় বা বিরক্তি উৎপাদিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে অনুরূপ বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ নদীতে নোঙ্গর করা একটি নৌকাতে বসে আছে। ক নোঙ্গর তুলে দিল এবং এইভাবে ইচ্ছাপূর্বক নৌকাটিকে নদীতে ভেসে যেতে দিল। এখানে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চতে গতি সঞ্চার করল, এবং তা করল একটি বস্তুকে এমনভাবে সঞ্চালিত করে, যে বস্তুটি সঞ্চালনের পর কোন ব্যক্তির অন্যকোন কাজ ব্যতীতই উহাতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে। সুতরাংক-ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে এবং ক যদি এটা চ-এর সম্মতি ব্যতীত করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠান করা, অথবা সে যদি এইরূপ উদ্দেশ্য নিয়ে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও কার্যটি করে থাকে যে, চ জখম, বিরক্তি বা ভীতিগ্রস্ত হতে পারে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(খ) চ একটি ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে রয়েছে। ক চ-এর ঘোড়াকে বেত্ৰাঘাত করে গতি ত্বরান্বিত করে দেয়। এখানে ক চ-এর ঘোড়ার গতির পরিবর্তন করে চ-এর গতি পরিবর্তন করেছে। সুতরাং ক চ -এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি চ-এর সম্মতি ব্যতীত চএর উপর এই বল প্রয়োগ করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা অথবা চ আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি ক এই বলপ্রয়োগ করে থাকে, তবে ক চ-এর উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে।

(গ) চ একটি পান্ধীতে আরোহণ করে রয়েছে। ক চ-এর মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পান্ধীর খুঁটি ধরে উহা থামিয়ে দেয়। এখানে ক চ-এর গতি স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং তার দৈহিক শক্তি প্রয়োগ করেছে এবং যেহেতু সে উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই চ-এর সম্মতি ব্যতীত ও একটি অপরাধ অনুষ্ঠানের অভিপ্রায়ে তা করেছে, সুতরাং সে চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ঘ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে রাস্তায় চ-এর গায়ে ধাক্কা লাগায়। এখানে ক তার দেহের শক্তি প্রয়োগ করে নিজের দেহকে এমনভাবে সঞ্চালিত করেছে যে, উহা চ-এর সংস্পর্শে আসিয়াছে। সুতরাং সে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি চ-এর সম্মতি ব্যতীত এই বল প্রয়োগ করে থাকে এবং তা করার উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত, বা বিরক্ত করা, অথবা চ আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি সে তা করে থাকে, তবে সে চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ঙ) ক একটি টিল ছুড়িল। তার ঢ়িল ছোড়ার উদ্দেশ্য ছিল, অথবা ঢিল ছোড়ার ফল এইরূপ হতে পারে বলে তার জানা ছিল যে, ঢিলটি গিয়ে চ-এর গায়ে লাগিবে, অথবা চএর কাপড়ে লাগিবে, অথবা চ যা বহন করে নিতেছে এমন কিছুতে লাগবে অথবা উহা পানিতে পড়ে পানি উৎক্ষিপ্ত করে চ-এর কাপড়ে বা চ যা বহন করে নিতেছে তাতে লাগিবে। এখানে, ঢিলটি ছোড়ার ফলে যদি চ-এর বা চ-এর কাপড়ের সংস্পর্শে কোন কিছু আসিবার উদ্দিষ্ট কাজটি সংঘটিত হয়, তবে ক, চ-এর উপর বল প্রয়োগ করেছে। যদি সে চ-এর সম্মতি ব্যতীত উহা করে থাকে এবং তা করার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা, তবে ক, চ-এর উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(চ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনৈক মহিলার ঘোমটা খুলে ফেলে। এখানে, ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে মহিলাটির উপর বল প্রয়োগ করেছে। ক যদি মহিলাটির সম্মতি ব্যতীত । তা করে থাকে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয়- অথবা যদি তার জানা থাকে যে- মহিলাটি আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত হবে, তবে সে মহিলাটির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করেছে।

(ছ) ক চ-এর সম্মতি ব্যতীত চ-এর উপর একটি কুকুরকে ঝাপিয়ে পড়তে লেলিয়ে দেয়। এখানে ক-এর উদ্দেশ্য যদি হয় চ-কে আহত, ভীতিগ্রস্ত বা বিরক্ত করা, তবে ক চএর উপর অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করেছে। 

৩৫১। আক্রমণ

কোন ব্যক্তি যদি এই উদ্দেশ্য নিয়ে বা এটা জানা সত্ত্বেও এমন কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন প্রস্তুতি গ্রহণ করে যে, তাতে হাজির কোন ব্যক্তির ভয় হয় যে, যে ব্যক্তি উক্ত অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে, সে ব্যক্তি উক্ত হাজির ব্যক্তির উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করতে উদ্যত হয়েছে, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আক্রমণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

কেবলমাত্র মুখের কথা আক্রমণ বলে পরিগণিত হয় না। কিন্তু কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত কথাগুলি তার অঙ্গভঙ্গিকে বা প্রস্তুতিকে এমন অর্থপূর্ণ করতে পারে, যার কারণে তার অঙ্গভঙ্গি বা প্রস্তুতি আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক, চ-এর প্রতি মুষ্টি উত্তোলন করে। ইহার ফলে চ যাতে বিশ্বাস করে যে ক তাকে আঘাত করতে উদ্যত হয়েছে, সে জন্যই ক তা করে অথবা ইহার ফলে এইরূপ : হতে পারে জানা সত্ত্বেও তা করে । ক আক্রমণ করেছে।

(খ) ক একটি হিংস্র কুকুরের মুখ বন্ধনী খুলতে শুরু করে। চ যাতে বিশ্বাস করে যে, ক কুকুরটিকে দিয়ে তাকে আক্রমণ করার উদ্দেশ্যেই কুকুরটির মুখ বন্ধনী খুলে দিচ্ছে, এই উদ্দেশ্যেই, অথবা চ এইরূপ বিশ্বাস করতে পারে জানা সত্ত্বেও ক এই কাজ করে। ক-চ এর উপর আক্রমণ করেছে।

(গ) ক একটি ছুড়ি ঘুরাতে ঘুরাতে চ-কে বলিল, “তোমাকে পিটুনি দেব।” এখানে যদিও কেবল ক-এর ব্যবহৃত কথাগুলি কোনক্রমেই আক্রমণ বলে পরিগণিত হতে পারে না, এবং যদিও অপর কোন অনুষঙ্গ ব্যতীত কেবল ক-এর অঙ্গভঙ্গি আক্রমণতৃল্য নয়, তবুও অঙ্গভঙ্গি ও তার আনুষঙ্গিক ব্যাখ্যামূলক কথাগুলি মিলিয়ে আক্রমণ বলে পরিগণিত হবে।

৩৫২। গুরুতর আকস্মিক উত্তেজনার ফল ব্যতীত প্রকারান্তরে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তির মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনা ছাড়াই সে অন্য ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

মারাত্মক আকস্মিক প্ররোচনা এই ধারা মোতাবেক কোন অপরাধের জন্য বিহিত সাজা লাঘব করবে না, যদিপ্ররোচনাটি অপরাধী অজুহাতস্বরূপ স্বয়ং করে থাকে বা স্বেচ্ছায় উহার উস্কানি দিয়ে থাকে, অথবা প্ররোচনাটি আইন মান্য করে অনুষ্ঠিত কোন কাজের ফলে কিংবা কোন কোন কাজের ফলে ঘটে থাকে, অথবা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগ করে কৃত কোন কাজের ফলে প্ররোচনাটি ঘটে থাকে।

প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা যার ফলে সাজার লাঘব হতে পারে, তা ঘটনাগত প্রশ্ন।

৩৫৩। সরকারী কর্মচারীকে তাহার কর্তব্য পালনে বাধাদানের নিমিত্ত আক্রমণ ও অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি এমন অন্য কোন ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার উপর বল প্রয়োগ করে, যে অন্য ব্যক্তি সরকারী কর্মচারী হিসেবে কর্তব্য সম্পাদনরত একজন সরকারী কর্মচারী, অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারীকে তার সরকারী কর্মচারী হিসেবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদনে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তার উপর অনুরূপ আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে অথবা অনুরূপ সরকারী কর্মচারী তার সরকারী কর্মচারী হিসেবে আইনসম্মতভাবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদন ব্যবস্থিত কোন কিছু করেছে বা করার চেষ্টা করেছে বলে তাকে আক্রমণ করে বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে ক্লোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৫৪। কোন নারীর শালীনতা নষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে তাহাকে আক্রমণ ও তৎপ্রতি অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে তার উপর আক্রমণ করে বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, অথবা এইরূপ করার ফলে সংশ্লিষ্ট নারীর শীলতাহান হতে পারে সত্ত্বেও তার উপর উপরোক্ত আক্রমণ বা অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৫৫। গুরুতর উত্তেজনাবশতঃ ব্যতীত, প্রকারান্তরে কোন ব্যক্তিকে অপমান করিবার অভিপ্রায়ে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে অপমানিত করার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয়োক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত গুরুতর প্ররোচনা ছাড়াই তাকে আক্রমণ করে, বা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৫৬।কোন ব্যক্তি কর্তৃক বাহিত সম্পত্তি চুরি করিবার উদ্যোগে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির ব্যবহৃত বা পরিহিত সম্পত্তি চুরি করার জন্য সে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৫৭। কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে অবরোধ করিবার উদ্যোগে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অন্যায়ভাবে অবরোধ করার প্রচেষ্টায় তাকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৫৮। গুরুতর উত্তেজনাবশতঃ অক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির গুরুতর ও আকস্মিক প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে ব্যক্তিকে আক্রমণ করে অথবা তার উপর অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণের অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- উপরের ধারাটি ৩৫২ ধারার অনুরূপ ব্যাখ্যা সাপেক্ষ ।

৩৫৯। মনুষ্যহরণ

মনুষ্যহরণ দুই প্রকারেরঃ- বাংলাদেশ হতে মনুষ্যহরণ এবং আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে মনুষ্যহরণ।

৩৬০। বাংলাদেশ হইতে মনুষ্যহরণ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে তার সম্মতি ছাড়াই অথবা তার স্বপক্ষে সম্মতি দানের ক্ষমতাসম্পন্ন অপর কারো সম্মতি ছাড়াই বাংলাদেশের সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেয় বা নিয়ে যায়, তবে উক্ত ব্যক্তি তাকে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

৩৬১।আইনানুগ অভিভাবকত্ব হইতে মনুষ্যহরণ

কোন ব্যক্তি যদি চৌদ্দ বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালককে অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সী কোন নাবালিকাকে অথবা বিকৃত মস্তিষ্ক কোন ব্যক্তিকে তার অভিভাবকের সম্মতি ছাড়াই অভিভাবকের রক্ষণাবেক্ষণ হতে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি উক্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক বা বালিকাকে অথবা অনুরূপ বিকৃতমস্তিষ্ক ব্যক্তিকে আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এই ধারায় “আইনসম্মত অভিভাবক" বলতে অনুরূপ অপ্রাপ্ত বয়স্ক বা অপর ব্যক্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আইনতঃ ভারপ্রাপ্ত যেকোন ব্যক্তিকেও বুঝাবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-

যে ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে নিজেকে কোন অবৈধ সন্তানের পিতা বলে বিশ্বাস করে অথবা যে ব্যক্তি নিজেকে অনুরূপ শিশুর আইনসম্মত রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতাপ্রাপ্ত বলে সরলমনে বিশ্বাস করে, সে ব্যক্তি কোন অবৈধ বা বেআইনী উদ্দেশ্যে অনুরূপ কাজ না করলে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না।

৩৬২। অপহরণ

যদি কোন ব্যক্তি, অপর কোন ব্যক্তিকে কোন স্থান হতে গমন করার জন্য জোরপূর্বক বাধ্য করে বা কোন প্রতারণামূলক উপায়ে প্রলুব্ধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ ব্যক্তিকে অপহরণ করে বলে গণ্য হবে।

৩৬৩। মনুষ্য হরণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে বাংলাদেশ হতে অথবা আইনসম্মত অভিভাবকত্ব হতে অপহরণ করে নিয়ে যায়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৬৪ক। খুন করিবার উদ্দেশ্যে মনুষ্য হরণ কিংবা অপহরণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে খুন করার জন্য অপহরণ করে অথবা তাকে এমনভাবে রাখার জন্য অপহরণ করে যাতে তার খুন হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

উদহরণসমূহ

Illustrations

(অ) ক চ-কে বাংলাদেশ হতে অপহরণ করে। তার উদ্দেশ্য ছিল চ-কে কোন প্রতিমার সামনে বলিদান করা অথবা সে জানত যে চ-কে কোন প্রতিমার সামনে বলিদান করা যেতে পারে। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

(আ) চ যাতে খুন হয় এই উদ্দেশ্যে ক জোরপূর্বক প্রলুব্ধ করে চ কে তার বাড়ি হতে নিয়ে যায়। ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে।

৩৬৫। কোন ব্যক্তিকে গোপনভাবে ও অবৈধভাবে অবরোধ করিবার উদ্দেশ্যে অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে গোপনে ও অন্যায়ভাবে অবরোধ করানোর জন্য অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৬৬। কোন নারীকে বিবাহ ইত্যাদিতে বাধ্য করিবার নিমিত্তে অপহরণ প্রতারণাপূর্বক হরণ বা প্রলুব্ধকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীকে অপহরণ করে এবং অপহরণ করার উদ্দেশ্য হয় অথবা অপহরণ করার ফলে এইরূপ হবে জানে যে, সে নারীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করতে বাধ্য করা অথবা তাকে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা অথবা তাকে জোরপূর্বক, বা ফুসলিয়ে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অপহরণ করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে;

এবং কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিতে বর্ণিত অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন দ্বারা অথবা ক্ষমতার অপব্যবহার দ্বারা অথবা বাধ্যতা সাধনের অপর কোন পদ্ধতি দ্বারা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে অথবা সে নারীকে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তাকে কোন স্থান হতে গমনে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তিও পূর্বোক্তরূপে দণ্ডিত হবে।

৩৬৬ক। অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকা সংগ্রহকরণ

কোন ব্যক্তি যদি যে কোন প্রকারেই হোক আঠারো বৎসরের কম বয়সী কোন অপ্রাপ্ত বয়স্কা বালিকাকে কোন স্থান হতে গমনে বা কোন কাজ সম্পাদনে বাধ্য করে এবং যদি তা করার উদ্দেশ্য হয়, বালিকাটিকে অপর কোন ব্যক্তির সাথে যৌন-অবৈধ সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা, অথবা তাকে অন্যভাবে অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌন-সহবাসে জোরপূর্বক বা ফুসলিয়ে বাধ্য করা হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও তাকে কোনস্থান হতে গমনে বা কোন কাজ সম্পাদন বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৬৬খ। বিদেশ হইতে বালিকা আমদানি

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের বাহিরের কোন দেশ হতে একুশ বৎসরের কোন বালিকাকে আমদানি করে এবং বালিকাটিকে যাতে অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে বল প্রয়োগের ফলে বা ফুসলাবার ফলে বাধ্য হয়, সে উদ্দেশ্যেই বা তা জানা সত্ত্বেও যদি তাকে অন্যভাবে আমদানি করা হয়, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৬৭। কোন ব্যক্তিকে গুরুতর আঘাত বা দাসত্বাধীন করিবার উদ্দেশ্যে অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অপহরণ করে এবং অপহৃত ব্যক্তি যাতে গুরুতর আঘাতের, দাস বৃত্তির বা কারো অস্বাভাবিক কামনার ইন্ধন হওয়ার সম্মুখীন হয় বা যাতে এইরূপ অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় সেভাবে তার সম্পর্কে ব্যবস্থা করা হয়, অথবা সে ব্যক্তি সেরূপ অবস্থার সম্মুখীন হতে পারে বা তার সম্পর্কে সেভাবেই ব্যবস্থা হতে পারে জানা সত্ত্বেও তাকে অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৬৮। অপহৃত বা প্রতারণাপূর্বক হরণকৃত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে গোপন বা অবরোধ করা

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে অপহরণ করা হয়েছে জানা সত্ত্বেও তাকে অন্যায়ভাবে গোপন করে রাখে বা আটক করে রাখে, তবে যেন সে ব্যক্তি নিজেই একই উদ্দেশ্যে বা এইরূপ জানা সত্ত্বেও অপহরণ করেছে অথবা যেন সে যে উদ্দেশ্যেই বা যা জানা সত্ত্বেও অপহৃত ব্যক্তিকে গোপন করে বা আটক করে রেখেছে সে উদ্দেশ্যেই বা তা জানা সত্ত্বেও উক্ত ব্যক্তি অপহরণ করেছে এইরূপ ধরে নিয়ে সেভাবেই তাকে দণ্ডিত করা হবে।

দেহাবরণ চুরি করিবার অভিপ্রায় দশ বৎসরের কম বয়স্ক শিশু অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ করা

কোন ব্যাক্তি যদি দশ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক শিশুর দেহ হতে অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি চুরি বা অপসারণ করার উদ্দেশ্যে উহাকে অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৬৯। দেহাবরণ চুরি করিবার অভিপ্রায় দশ বৎসরের কম বয়স্ক শিশু অপহরণ বা প্রতারণাপূর্বক হরণ করা

কোন ব্যাক্তি যদি দশ বৎসরের নিম্ন বয়স্ক শিশুর দেহ হতে অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি চুরি বা অপসারণ করার উদ্দেশ্যে উহাকে অপহরণ করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৭০। দাসরূপে কোন ব্যক্তিকে ক্রয় বা হস্তান্তর করা

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দাসরূপে আমদানি করে, রপ্তানি করে, অপসারণ করে, ক্রয় করে, বিক্রয় করে বা হস্তান্তর করে, অথবা কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দাস রূপে গ্রহণ করে রাখে বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৭১। অভ্যাসদহ দাস ব্যবসায় পরিচালনা করা

কোন ব্যক্তি যদি অভ্যাসগতভাবে দাসদের আমদানি করে, রপ্তানি করে, অপসারণ করে, ক্রয় করে, বিক্রয় করে, বা ব্যবসায় পরিচালনা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা অনধিক ১০ বৎসরের যেকোন ধরনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৭২। বেশ্যাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিক্রয়

কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন ব্যক্তিকে বিক্রয় করে, ভাড়া দেয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করে এই উদ্দেশ্যে যে অথবা এটা জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যদি আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন নারীকে কোন বেশ্যার কাছে অথবা এমন কোন ব্যক্তি, যে কোন পতিতালয় রাখে বা পরিচালনা করে, তার কাছে বিক্রয় করা হয় বা ভাড়া দেওয়া হয় বা অপর কোনভাবে বিলিব্যবস্থা করা হয়, তবে যে পর্যন্ত না বিপরীত প্রমাণিত হয় সে পর্যন্ত যে ব্যক্তি অনুরূপ নারীর বিলিব্যবস্থা করেছে। সে ব্যক্তি যাতে সে নারী পতিতাবৃত্তিতে ব্যবহৃত হয় সে উদ্দেশ্যেই তাকে বিলিব্যবস্থা করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- এই ধারার উদ্দেশ্যাবলীর দিক হতে “অবৈধ সহবাস” বলতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ নয় এমন ব্যক্তিদের মধ্যে যৌনসঙ্গম বুঝাবে; কিন্তু নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে ইহার ব্যতিক্রম হবে যথাঃ

এমন কোন মিলন বা বন্ধন যা ঠিক বিবাহ নয় কিন্তু ব্যক্তিগত আইন অথবা তারা যে সম্প্রদায়ভুক্ত বা যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ভুক্ত সে সব সম্প্রদায়ের রীতি অনুসারে বিবাতুল্য সম্পর্ক বলে স্বীকৃত।

৩৭৩। বেশ্যাবৃত্তি ইত্যাদির উদ্দেশ্যে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্রয়করণ

কোন ব্যক্তি যদি আঠারো বৎসরের নিম্ন বয়স্ক কোন ব্যক্তিকে ক্রয় করে, ভাড়া করে অথবা অপর কোনভাবে তাকে হস্তগত করে এই উদ্দেশ্যে কিংবা এইরূপ আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও যে, অনুরূপ ব্যক্তিকে কোন বিশেষ বয়সে বেশ্যাবৃত্তিতে বা অপর কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ সহবাসে কিংবা কোন বেআইনী ও নীতিবিগর্হিত কাজে ব্যবহৃত বা নিয়োজিত করা হবে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন বেশ্যা বা কোন বেশ্যালয়-মালিক বা বেশ্যালয় পরিচালক আঠারো বৎসরের নিম্নবয়স্ক কোন নারীকে ক্রয়, ভাড়া বা অপর কোনভাবে হস্তগত করলে সে অন্যথা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত উক্ত নারী যাতে বেশ্যাবৃত্তিতে ব্যবহৃত হতে পারে সে উদ্দেশ্যেই তাকে হস্তগত করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- “অবৈধ সহবাস” এর অর্থ ৩৭২ ধারার অনুরূপ।

৩৭৪। বেআইনী শ্রমে বাধ্য করা

(১) কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শ্রম দান করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। -

(২) কোন ব্যক্তি যদি কোন যুদ্ধবন্দী বা অপর কোন আশ্রিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশ সশ্রম বাহিনীতে কার্য করতে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এই “যুদ্ধবন্দী" এবং “আশ্রিত ব্যক্তি" অভিব্যক্তিসমূহ যথাক্রমে ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধবন্দীর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের-৪ দফা এবং ১৯৪৯ সনের ১২ই আগষ্ট তারিখের যুদ্ধকালে বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা সম্পর্কিত জেনেভা সম্মেলনের ৪ দফা মোতাবেক তৎসমূহের প্রতি আরোপিত অর্থের অনুরূপ অর্থ দ্যোতক হবে।

৩৭৫। নারী ধর্ষণ

কোন পুরুষ অতঃপর উল্লেখিত ব্যতিক্রম ভিন্ন অপর সকল ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পাচটি যেকোন অবস্থায় কোন স্ত্রীলোকের সাথে যৌনসঙ্গম করলে সে ধর্ষণ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

প্রথমত:- স্ত্রীলোকটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ।

দ্বিতীয়ত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতি ব্যতিরেকে।

তৃতীযত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে মৃত্যু বা জখমের ভয় প্রদর্শন করে স্ত্রীলোকটির সম্মতি আদায় করা হলে।

চতুর্থত- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমেই, যেক্ষেত্রে পুরুষটি জানে যে, সে স্ত্রীলোকটি স্বামী নয়, এবং পুরুষটি ইহার জানে যে, স্ত্রীলোকটি তাকে এমন অপর একজন পুরুষ বলে ভুল করেছে, যে পুরুষটির সাথে সে আইন সম্মতভাবে বিবাহিত হয়েছে বা বিবাহিত বলে বিশ্বাস করে ।

পঞ্চমত:- স্ত্রীলোকটির সম্মতিক্রমে অথবা সম্মতি ব্যতিরেকে, যতি স্ত্রীলোকটির বয়স চৌদ্দ বৎসরের কম হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):- ধর্ষণের অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌনসঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট গণ্য হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):-কোন পুরুষের কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে যৌনসঙ্গম ধর্ষণ বলে পরিগণিত হবে না, যদি স্ত্রী তের বৎসরে নিম্ন বয়স্কা না হয়।

৩৭৬। নারী ধর্ষণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ধর্ষণের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে, যদি না ধর্ষিত স্ত্রীলোকটি তার নিজ স্ত্রী হয় ও বারো বৎসরের কম বয়স্কা না হয়; যদি তদ্রুপ হয়, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৭৭। অস্বাভাবিক অপরাধসমূহ

কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে কোন পুরুষ, স্ত্রীলোক বা পশুর সাথে যৌন সঙ্গম করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- এই ধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য আবশ্যকীয় যৌন সঙ্গমের জন্য যৌনাঙ্গ প্রবিষ্ট করাই যথেষ্ট হবে।

৩৭৮। চুরি

কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।


ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহুর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহুর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ

Illustration

(ক) ক গ-এর জমিতে একটি গাছ কেটে ফেলে। তার উদ্দেশ্য, সে গ-এর জমি হতে গ-এর সম্মতি ব্যতীত গাছটি অসাধুভাবে নিয়ে যাবে। এইক্ষেত্রে যে মুহুর্তে ক গাছটি নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে কেটেছে সে মুহুর্তে চুরি সংঘটিত হয়েছে

(খ) ক তার পকেটে একটি কুকুরের টোপ রাখে এবং তার ফলে গ-এর কুকুর তাকে অনুসরণ করতে থাকে। এক্ষেত্রে ক-এর উদ্দেশ্য যদি হয় গ-এর সম্মতি ব্যতীত গ-এর কুকুরটি অসাধুভাবে নিয়ে যাওয়া তবে যে মুহুর্তে গ-এর কুকুর তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে সে মূহুর্তে চুরি সংঘটিত হয়েছে।

(গ) ক একটি সম্পদ ভর্তি বাক্স বহনকারী ষাড় দেখতে পায়; সে ষাড়টিকে একটি বিশেষ দিকে তাড়াইয়া দিতে থাকে যাতে সে অসাধুভাবে বাক্সটি হস্তগত করতে পারে। যে মুহুর্তে ষাড়টি চলতে শুরু করেছে সে মুহুর্তে ক বাক্সটি চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক গ-এর ভূত্য এবং সে য কর্তৃক গ-এর রেকাবের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদত্ত হয়েছে। সে গ-এর সম্মতি ব্যতিরেকে অসাধুভাবে রেকাবটি নিয়ে ভেগে যায়। ক চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

(ঙ) গ বিদেশ যাত্রাকালে তার পেটটি সে ফিরে না আসা পর্যন্ত গুদাম ঘরের রক্ষক ক-এর জিম্মায় রেখে যায়। ক পেটটি জনৈক স্বর্ণকারের কাছে নিয়া বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে পেটটি গ-এর দখলে বা অধিকারী ছিল না। সুতরাং উহা গ-এর অধিকারী হতে নিয়ে যাবার প্রশ্ন উঠে না। কাজে ক চুরি করে নাই যদিও সে যা করেছে তা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হতে পারে।

(চ) গ যে ঘরে থাকে সে ঘরে টেবিলের উপর গ-এর একটি আংটি ক দেখতে পায়, এখানে আংটি গ-এর অধিকারে আছে, এবং ক উহা অসাধুভাবে স্থানান্তর করলে সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ছ) ক রাজপথের উপর একটি আংটি দেখতে পায়। আংটি কারো অধিকারে বা দখলে নাই। ক আংটিটি নিয়ে গেলে তা চুরি হবে না যদিও তা অপরাধমূলক সম্পত্তি আত্মসাৎ করে থাকে।

(জ) ক গ-এর বাড়িতে একটি টেবিলের উপর গ-এর একটি আংটি দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে আংটিটি হস্তগত করলে তল্লাশি হতে পারে ও ধরা পড়তে পারে এই ভয়ে ক তৎক্ষণাৎ আংটিটি না সরায়ে বরং উহা এমন এক স্থানে গোপন করে রাখে যেখান হতে গ-এর পক্ষে উহা খুঁজে বাহির করা এক রকম অসম্ভব হবে। গোপন করে রাখার উদ্দেশ্য এই যে, আংটিটি হারায়ে যাবার কথা যেক্ষেত্রে বিস্মৃত হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে সে সুযোগ মত উহা গোপন স্থান হতে এনে বিক্রয় করবে। এক্ষেত্রে ক আংটিটি প্রথম নাড়াচাড়া করার সময় চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঝ) ক তার ঘড়িটি রেগুলেট করে দেওয়ার জন্য জনৈক জুয়েলার গ-এর কাছে দেয়। গ ঘড়িটি তার দোকানে নিয়ে যায়। ক-এর নিকটে জুয়েলারের এমন কোন পাওনা নাই যার জন্য জুয়েলার আইনসম্মতভাবে ক-এর ঘড়িটি জামানত হিসেবে আটক রাখতে পারে। ক প্রকাশ্যভাবে জুয়েলারের দোকানে প্রবেশ করে বলপূর্বক জুয়েলারের হাত হতে ঘড়িটি ছিনিয়ে লয় এবং উহা নিয়ে চলে যায়। এখানে ক অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ ও আক্রমণ করেছে, কেননা সে যা করেছে তা অসাধুভাবে করে নাই।

(ঞ) গ ক-এর ঘড়ি মেরামত করে এবং সে বাবদ ক-এর কাছে গ-এর কিছু পাওনা হয়। ক-এর কাছে প্রাপ্যের জামানতস্বরূপ গ ক-এর ঘড়িটি রাখে । ক তার ঋণের জামানতস্বরূপ রক্ষিত ঘড়িটি গ-এর নিকট থেকে নিয়ে যায়। ক তার ঋণের জামানতস্বরূপ রক্ষিত সম্পত্তি হতে গ-কে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ইহা করে। ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে, কেননা সে কাজটি অসাধুভাবে করেছে।

(ট) আবার ক গ-এর কাছে তার বাড়িটি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণের পর ঋণ পরিশোধ না করে গ-এর বিনা সম্মতিতে ঘড়িটি গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে, যদিও ঘড়িটি ক-এরই সম্পত্তি কেননা সে অসাধুভাবে ঘড়িটি নিয়ে গিয়েছে।

(ঠ) ক গ-এর একটি দ্রব্য গ-এর সম্মতি ছাড়া গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। ক-এর উদ্দেশ্য গ-এর নিকট থেকে তার দ্রব্য প্রত্যপণের পুরস্কারস্বরূপ অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত সে উহা রেখে দিবে। এখানে ক অসাধুভাবে দ্রব্যটি নিয়ে গিয়েছে; সুতরাং ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে ।

(ড) গ-এর সাথে ব-এর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সুবাদে ক গ-এর অনুপস্থিতিতে গ-এর গ্রন্থাগারে গিয়ে গ-এর প্রকাশ্য অনুমতি ব্যতীত কেবল পড়ার উদ্দেশ্যে এবং পড়ে ফেরত দেওয়ার অভিপ্রায়ে একখানি বই নিয়ে যায়। এখানে ইহা সম্ভব যে, ক মনে করেছে যে, গ-এর এই ব্যবহার করার জন্য তার প্রতি গ-এর অব্যক্ত সম্মতি আছে। যদি ইহাই ক-এর ধারণা হয়ে থাকে, তবে ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

(ঢ) ক গ-এর স্ত্রীর কাছে অনুগ্রহ ভিক্ষা করে। গ-এর স্ত্রী তাকে অর্থ, খাদ্য ও কাপড় চোপড় দেয়। ক জানে যে, এসব মহিলার স্বামীর অর্থাৎ গ-এর সম্পত্তি। এখানে ইহা সম্ভব যে, ক মনে করেছে যে, গ-এর স্ত্রী ভিক্ষাদানে ক্ষমতা প্রাপ্ত। যদি ক তাই মনে করে থাকে, তবে সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

(ণ) ক গ-এর স্ত্রীর উপপতি। গ-এর স্ত্রী ক-কে মূল্যবান সম্পত্তি প্রদান করে। গ জানে যে, এই মূল্যবান সম্পত্তিটি মহিলার স্বামীর অর্থাৎ গ এর, এবং সম্পত্তিটি এমন ধরনের যে, গ তার স্ত্রীকে উহা প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে নাই। যদি ক সম্পত্তিটি অসাধুভাবে নিয়ে যায়, তবে তা চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ত) ক সরল মনে গ-এর সম্পত্তি তা নিজের সম্পত্তি বলে বিশ্বাস করে গ-এর দখল হতে সে সম্পত্তি নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে যেহেতু ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি নিয়ে যায় নাই, সেহেতু সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

৩৭৯। চুরির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮০। বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন গৃহ, তাবু জলযানে চুরি করে যে গৃহ তাবু বা জলযান মানুষের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮১। কেরানী বা চাকর কর্তৃক মনিবের অীধকারভুক্ত সম্পত্তি চুরি

কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী বা ভূত হওয়া সত্ত্বেও অথবা কর্মচারী বা ভূত্যের কাজে নিয়োজিত হওয়া সত্ত্বেও তার প্রভুর বা মালিকের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮২। চুরি করিবার উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটান, আঘাত দান বা আটকাইবার প্রস্তুতি নেয়ার পর চুরি অনুষ্ঠান

কোন ব্যক্তি যদি চুরি করার পূর্বে চুরি করার জন্য, অথবা চুরি করে পলায়নের জন্য অথবা অনুরূপ চুরি কর্তৃক লব্ধ সম্পত্তি রক্ষণের জন্য মৃত্যু ঘটানোর, অথবা আঘাত করার, অথবা আটকানোর অথবা মৃত্যুর ভয় সৃষ্টি করার, অথবা আঘাত করার, ভয় সৃষ্টি করার অথবা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণাত্তে চুরি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেওও দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক, গ এর দখলভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে । চুরি করার সময় সে পোশাকের নীচে একটি গুলি ভর্তি পিস্তল লুকিয়ে রাখে। গ বাধা দিলে তাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ক গুলি ভর্তি পিস্তলটি রাখে। ’ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক গ-এর পকেট মারে। পকেট মারার পূর্বে সে তার কয়েকটি সঙ্গীকে আশেপাশে মোতায়েন করে। গ যদি টের পায় যে, তার পকেট মারা হচ্ছে এবং টের পেয়ে যদি সে তা রোধ করতে চায় অথবা যদি সে ক কে আটক করার চেষ্টা করে, তবে তাকে রাখার উদ্দেশ্যে ক তার সঙ্গীদের মোতায়েন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৩৮৩। বলপূর্বক আদায়

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অপণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে । ক ‘বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়’ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক গ-কে শাসায় যে, গ ক-কে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের অঙ্গীকারমূলে একটি প্রমিসরী নোট স্বাক্ষর ও প্রদান না করলে ক গ-এর শিশু সন্তানকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখবে। গ নোটটি স্বাক্ষর ও প্রদান করে । ক বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(গ) ক এই মর্মে গ-কে ভয় দেখায় যে গ খ-কে নির্দিষ্ট ফসল না দিলে সাজা লাভ করবে এইরূপ একটি খত লিখে খ-কে না দেয় তবে ক লাঠিয়াল পাঠায়ে গ-এর জমি চাষ করে নিবে। এইরূপ ভয় দেখাইয়া ক অনুরূপ খত স্বাক্ষর করে খ-কে দিতে গ-কে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে ক বলপ্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক গ-কে গুরুতর আঘাতের ভয়ে অভিভূত করে, অসাধুভাবে তাকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে বা উহাতে তার সীলমেহার দিয়ে তা ক-কে অর্পণ করতে বাধ্য করে। গ কাগজটি স্বাক্ষর করে ক-কে প্রদান করে। এক্ষেত্রে যেহেতু কাগজটি একটি মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য, সেহেতু ক বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে ।

৩৮৪। বলপূর্বক গ্রহণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮৫। বলপূর্বক কিছু আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে কোন ক্ষতির ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করার উদ্দেশ্যে কাউকে জখম করার ভয়ে অভিভূত করে অথবা জখম করার ভয়ে অভিভূত করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে কারাদণ্ডে মেয়াদ পাচ বৎসরের কম হবে না অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮৬। কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয় দেখাইয়া বলপূর্বক গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার নিজের বা অন্য কারো মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৮৭। বলপূর্বক কিছু আদায় করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু বা মারাত্মক জখমের ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে তার নিজের বা অন্য কারো মৃত্যুর বা গুরুতর আঘাতের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮৮। মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড ইত্যাদিতে দন্ডনীয় অপরাধের অভিযোগের ভয় দেখাইয়া বলপূর্বক গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার নিজের বা অন্য করো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে, দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করার বা চেষ্টা করার বা অপর কাউকে অনুরূপ অপরাধ করতে প্রবৃত্ত করার অভিযোগ উত্থাপনের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বলপ্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; এবং অপরাধটি যদি এই বিধির ৩৭৭ ধারায় দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৩৮৯। বলপূর্বক কিছু গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে অপরাধে অভিযুক্ত করিবার ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে তার নিজের বা অন্য কারো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় বা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করার বা উহার চেষ্টা করার অভিযোগ আনয়নের ভীতি প্রদর্শন করে বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; যদি অপরাধটি এই বিধির ৩৭৭ ধারায় দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৩৯০। যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্য হয়

প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয় ।

যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-

চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ । কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে ‘দস্যুতা’।

বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-

বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় ‘দস্যুতা’ বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক চ-কে জাপটিয়া ধরে চ-এর পরিধেয় কাপড়-চোপড় হতে চ-এর সম্মতি ছাড়াই চ-এর টাকা পয়সা, মণিমুক্তা অসাধুভাবে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে কচুরি করেছে, এবং এই চুরির সময় ইচ্ছাপূর্বক চ এর উপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সুতরাং ক দস্যুতা সংঘটন করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক রাজপথে চ-এর সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে একটি পিস্তল দেখায় এবং তার টাকার থলি দাবি করে ফলে চ টাকার থলি সমর্পণ করে। এখানে ক চ-কে আশু আঘাতের ভয় দেখায়ে তার নিকট থেকে তার টাকার থলিটি বলপূর্বক আদায় করে, এবং বলপূর্বক আদায়কালে চ এর কাছে হাজির থাকে। সুতরাং ক দস্যুতা করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(গ) ক রাজপথে চ ও চ-এর শিশুসন্তান এর সাক্ষাৎ পায় । ক শিশু সন্তানটিকে একটি হাতে নিয়ে ভয় দেখায় যে, চ তার টাকার থলিটি না দিলে সে সন্তানটিকে একটি গভীর খাদে ফেলে দিবে। ফলে চ তার টাকার থলিটি সমপণ করে। এখানে ক শিশু সন্তানটিকে আশু আঘাত করবে বলে চ-কে ভয় দেখায় চ-এর নিকট থেকে তার টাকার থলিটি বলপূর্বক আদায় করে, শিশুসন্তানটিও অকুস্থলে উপস্থিত।সুতরাং ক দস্যুতার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক চ-এর নিকট থেকে এই বলে সম্পত্তি আদায় করে যে, তোমার শিশুসন্তানটি আমার দলের ব্যক্তিদের হাতে রয়েছে। যদি অচিরে আমাদের কাছে দশ হাজার টাকা পাঠায়ে না দাও, তবে তোমার সন্তানকে মেরে ফেলা হবে। ইহা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়, এবং সে হিসাবে দণ্ডনীয়; কিন্তু ইহা দস্যুতা নয়, যদি না চ-কে তার শিশু পুত্রের আশু মৃত্যুর ভয়ে অভিভূত করা হয়।

৩৯১। ডাকাতি

যদি পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।

৩৯২। দস্যুতার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুত অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

৩৯৩। দস্যূতা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটনের উদ্যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৯৪। দস্যুবৃত্তি অনুষ্ঠানকালে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটনকালে বা সংঘটনের উদ্যোগকালে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এবং অনুরূপ দস্যুত সংঘটনের সাথে বা অনুরূপ দস্যুত সংঘটনের উদ্যোগের সাথে মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট অপর যে কোন ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে বা তাদিগকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

৩৯৫। ডাকাতির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৩৯৬। খুনসহকারে ডাকাতি

যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে, অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৩৯৭। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত সংঘটনের উদ্যোগ সহকারে দস্যুতা বা ডাকাতি

যদি দস্যুত বা ডাকাতি সংঘটনকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে, অথবা কাউকে গুরুতর আঘাত করার উদ্যোগ করে, তবে যে কারাদণ্ডে অনুরূপ অপরাধকারীকে দণ্ডিত করা হবে তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।

৩৯৮। মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় দস্যুতা বা ডাকাতি করিবার উগ্যোগ

যদি দস্যুত বা ডাকাতি অনুষ্ঠানের উদ্যোগকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তবে অনুরূপ অপরাধকারী যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।

৩৯৯। ডাকাতি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি অনুষ্ঠানের জন্য কোনরূপ প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০০। ডাকাত দলভুক্ত হইবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাসের পরবর্তী যে কোন সময়ে কোন ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে যারা পরস্পর সংঘবদ্ধ আছে, এইরূপ কোন দলে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

401। চোরদের দলভুক্ত হইবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোন সময়ে এমন কোন ভ্ৰাম্যমান বা অপর কোনরূপ দলে থাকে, যে দলের ব্যক্তিরা বরাবর চুরি বা দস্যুতা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পরস্পর সংঘবদ্ধ এবং যদি উহা ঠগদের বা ডাকাতদের দল না হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০২। ডাকাতি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোনসময়ে ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমবেত পাচ বা ততোধিক ব্যক্তির অন্যতম হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০৩। অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।


উদাহরণ

Illustration


(ক) ক চ-এর সম্পত্তি সরল মনে চ-এর দখল হতে নিয়ে যায়, এই বিশ্বাসে যে, উহা তারই সম্পত্তি । ক চুরির জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হবে না; কিন্তু যদি ক নিজের ভুল বুঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।


(খ) ক চ-এর সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুবাদে চ-এর অনুপস্থিতিতে চ-এর গ্রন্থাগারে যায় এবং চ-এর প্রকাশ্য সম্মতি ছাড়া তথা হতে একটি পুস্তক নিয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে যদি ক মনে করে যে, তার জন্য লাইব্রেরী হতে পড়ার জন্য বই নিয়ে যেতে চ-এর অব্যক্ত সম্মতি রয়েছে, তবে ক চুরি করে নাই। কিন্তু ক যদি পরে পুস্তকটি তার নিজের স্বার্থে বিক্রয় করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ করার দায়ে অপরাধী হবে।


(গ) ক ও খ একটি অশ্বের যৌথ মালিক। ক অশ্বটি ব্যবহার করার জন্য উহা খ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে, যেহেতু ক-এর অশ্বটি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে সেহেতু সে উহা অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে নাই। কিন্তু যদি ক অশ্বটি বিক্রয় করে এবং বিক্রয় লব্ধ সমগ্র অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে । 


ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।


উদাহরণ

Illustration


ক চ-এর একটি সাদা গভর্নমেন্ট প্রমিসরী নোট দেখতে পায়। ক নোটটি যে চ-এর তা জানা সত্ত্বেও কোন ব্যাংক হতে ঋণের জন্য ব্যাংকারের কাছে জামানতরূপে নোটটি উপস্থাপন করে, অবশ্য তার পরে সে চ-এর নোটটি চ-কে ফেরত দিবে বলে ইচ্ছা করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধ করেছে।


ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যপণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে। অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক রাজপথের উপরে একটি টাকা পায়। সে জানে না টাকাটি কার । ক টাকাটি তুলে নেয়। এক্ষেত্রে ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করে নাই।

(খ) ক রাস্তার উপরে একটি পত্রসহ একটি ব্যাংকনোট পায়। পত্রের বিবরণ ও নির্দেশ হতে সে জানতে পায় ব্যাংকনোটটি কার। সে নোটটি আত্মসাৎ করে। সে এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।

(গ) ক একটি বেয়ারার চেক পায়। চেকটি কে হারায়েছে তা সে অনুমান করতে পারে না। কিন্তু যে ব্যক্তি চেকটি ড্র করেছেন তার নামের উল্লেখ রয়েছে। ক জানে যে, এই ব্যক্তি যার স্বপক্ষে চেকটি ড্র করেছেন ক-কে তার হদিস দিতে পারেন। ক মালিকের সন্ধানের চেষ্টা না করেই চেকটি আত্মসাৎ করে । ক এই ধারার আওতায় অপরাধের জন্য দোষী হবে।

(ঘ) ক চ কে টাকাসহ একটি থলি ফেলতে দেখে। সে থলিটি চ-কে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তুলে নেয়, কিন্তু পরে উহা নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধ করেছে।

(ঙ) ক টাকাসহ একটি থলি পায়। থলিটি কার সে তা তখন জানে না। পরে সে জানতে পায় যে, থলিটি চ-এর, কিন্তু তবু সে উহা নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে ।

(চ) ক একটি মূল্যবান আংটি পায়। উহা কার তা সে জানে না। ক আংটিটির মালিকের সন্ধানের চেষ্টা না করে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উহা বিক্রয় করে ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।

৪০৪। মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে তাহার দখলভুক্ত সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ

কোন ব্যক্তি যদি এমন সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে, বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, যে সম্পত্তি কোন মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে সে মৃত ব্যক্তির দখলে ছিল এবং অতঃপর উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী অন্য কোন ব্যক্তির দখলে যায় নাই বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি অপরাধী উপরোক্ত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে তৎকর্তৃক কর্মচারী বা চাকর হিসেবে নিযুক্ত থেকে থাকে, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ

Illustration

চ-এর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার দখলে আসবাবপত্র ও টাকা পয়সা ছিল। মৃত ব্যক্তির টাকাপয়সা আইনানুগভাবে যিনি পেতে পারেন এমন কোন ব্যক্তির দখলে উহা আসার আগে মৃত ব্যক্তির চাকর ক অসাধুভাবে উহা আত্মসাৎ বা তসরূপ করে। ক এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে।

৪০৫। অপরাধমুলক বিশ্বাসভঙ্গ

কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ অপরাধ করেছে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক কোন মৃত ব্যক্তির দানপত্রের নির্বাহক। দানপত্রে তাকে যেভাবে সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা ভঙ্গ করে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(খ) ক একটি গুদামের রক্ষক। চ বিদেশ যাত্রাকালে তার আসবাবপত্র ক-এর কাছে গচ্ছিত রাখে এই শর্তে যে, গুদামের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থপ্রদানের পর গুদাম হতে চ-এর আসবাবপত্র প্রত্যপণ করা হবে। ক অসাধুভাবে এই গচ্ছিত আসবাবপত্র বিক্রয় করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(গ) ঢাকার বাসিন্দা ক চট্টগ্রামের বাসিন্দা চ-এর এজেন্ট। ক ও চ-এর মধ্যে একটি স্পষ্ট বা অব্যক্ত চুক্তি এই মর্মে বিদ্যমান আছে যে, চ-এর প্রেক্ষিতে সকল টাকা ক, চ-এর নির্দেশ মত বিনিয়োগ করবে। চ ক-এর কাছে এক লক্ষ টাকা প্রেরণ করে এই টাকা কোম্পানির কাগজে লগ্নি করার নির্দেশ দেয়। ক অসাধুভাবে নির্দেশটি অমান্য করে টাকাটা নিজের ব্যবসায় খাটায়। ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(ঘ) কিন্তু যদি উপরের উদাহরণের ক অসাধুভাবে নয় বরং সরল মনে বিশ্বাস করে যে, কোম্পানীর কাগজ ক্রয়ের চেয়ে ব্যাংক অব বেঙ্গলের শেয়ার ক্রয় করাই চ এর পক্ষে সুবিধাজনক হবে বা লাভজনক হবে এবং এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে সে চ-এর নির্দেশ অমান্য করে চ-এর টাকা কোম্পানীর কাগজের পরিবর্তে চ-এর স্বপক্ষে ব্যাংক অব বেঙ্গলের শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করে ও তার ফলে চ-এর লোকসান হয়, তবে যদিও চ ক-এর বিরুদ্ধে সে ব্যক্তিসানের জন্য দেওয়ানী অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে, তথাপি ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করার দায়ে অপরাধী হবে না, কেননা সে যা করেছে তা সে অসাধুভাবে করে নাই।

(ঙ) ক জনৈক রাজস্ব কর্মকর্তা। তার উপর সরকারী অর্থের ভার ন্যস্ত আছে। সে কোন আইনের নির্দেশ অনুযায়ী অথবা সরকারের সাথে ব্যক্ত বা অব্যক্ত কোন চুক্তি অনুযায়ী তার দখলে থাকা সরকারী অর্থ কোন নির্দিষ্ট ট্রেজারীতে জমা দিতে বাধ্য। ক অসাধুভাবে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(চ) ক জনৈক বাহক। চ তাকে (চ-এর) সম্পত্তি স্থলপথে বা জলপথে বহন করে নেওয়ার জন্য দেয়। ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

৪০৬। অপরাধমূল বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪০৭। বাহক প্রভৃতি কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ

কোন ব্যক্তি বাহক, ঘাটের রক্ষক বা গুদামের রক্ষক হিসেবে সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে অনুরূপ সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করলে, উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডনীয় হবে।

৪০৮। কেরানী বা চাকর কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কেরানি বা ভৃত্য হয়ে অথবা কেরানি বা ভৃত্য হিসেবে নিয়োজিত হয়ে অনুরূপ পদে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার বা উহ পরিচালনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উহা সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪০৯। সরকারী কর্মচারী বা ব্যাংকার, বণিক বা প্রতিভূ কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকরণ

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদা বলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়, ফ্যাক্টর, দালাল, এটর্নী বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায় সূত্রে কোনভাবে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা উক্ত সম্পত্তির পরিচালনের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১০। চোরাইমাল

চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি" বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি’ বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

৪১১। অসাধুভাবে চোরাইমাল গ্রহণ করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানা সত্ত্বেও, বা উহা চোরাই সম্পত্তি বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে অনুরূপ চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ করে বা রেখে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১২। ডাকাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপহৃত মাল অসাধুভাবে গ্রহণ করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি এমন কোন ব্যক্তির নিকট থেকে রাখে, যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা উহা চোরাই বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে এবং সে ব্যক্তি কোন ডাকাত দলে রয়েছে, অথবা এমন কোন সম্পত্তি এমন কোন ব্যক্তির নিকট থেকে রাখে যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা উহা চোরাই বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে এবং সে ব্যক্তি কোন ডাকাত দলে রয়েছে বা ছিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১৩। অভ্যাসগতভাবে চোরাইমাল বেচাকেনা করা

কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১৪। চোরাইমাল গোপন করিবার ব্যাপারে সহায়তাকরণ

কোন ব্যক্তি যদি সে যে সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে সে সম্পত্তি লুকিয়ে রাখতে বা বিলিব্যবস্থা করতে বা নিয়ে সরে পড়তে স্বেচ্ছায় সহায়তা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১৫। প্রতারণা

যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explnation):- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক সিভিল সার্ভিসে রয়েছে বলে মিথ্যা ভান করে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে বঞ্চনা করে এবং তাকে ধারে সম্পত্তি দিতে চ-কে অসাধুভাবে প্ররোচিত করে। অথচ এই সম্পত্তির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(খ) কোন পণ্যের উপর কোন নকল মার্ক দিয়ে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলক এইরূপ বিশ্বাস করায় যে, পণ্যটি কোন প্রসিদ্ধ প্রস্তুতকারকের তৈরি। এইভাবে ক চ-কে সে পণ্যটি ক্রয় করতে ও উহার জন্য মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।

(গ) ক চ-কে কোন দ্রব্যের একটি মিথ্যা নমুনা দেখায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলকভাবে এইরূপ বিশ্বাস করায় যে দ্রব্যটি নমুনার অনুরূপ। এইভাবে সে অসাধুভাবে চ-কে সে দ্রব্যটি ক্রয় করতে ও উহার মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।

(ঘ) ক কোন দ্রব্যের মূল্যস্বরূপ এমন কোন সংস্থার নামে একটি বিল দেয় যেখানে সে টাকা রাখে এবং ক জানে যে বিলটি প্রত্যাখ্যাত হবে। এইভাবে সে চ-কে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রবঞ্চনায় ফেলে তাকে অসাধুভাবে দ্রব্যটি প্রদানে প্ররোচিত করে। দ্রব্যটির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(ঙ) ক যেসব দ্রব্য হীরা নয় বলে জানে সে সব দ্রব্যকে হীরা বলে বর্ণনা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে এবং এইভাবে অসাধু উপায়ে চ-কে টাকা ধার দিতে প্ররোচিত করে । ক প্রতারণা করেছে।

(চ) ক প্রবঞ্চনামূলকভাবে চ-কে বিশ্বাস করায় যে চ- তাকে টাকা ধার দিলে সে তা পরিশোধ করে দিবে এবং এইভাবে অসাধু উপায়ে সে চ-কে টাকা ধার দিতে প্ররোচিত করে অথচ টাকাটা পরিশোধ করে দেওয়ার ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(ছ) ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে বিশ্বাস করায় যে, ক চ-কে কিছু নীলের চারা দিতে চায় কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তার এইরূপ কোন ইচ্ছা নাই। এইরূপ প্রবঞ্চনা করে সে অসাধুভাবে চ-কে আগাম দিতে প্ররোচিত করে এবং চ-এই বিশ্বাসে টাকা আগাম দেয় যে, ক তাকে নীলের চারা দিবে। ক প্রতারণা করেছে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, টাকাটা নেওয়ার সময় নীলের চারা নেওয়ার ইচ্ছা ক-এর ছিল, কিন্তু পরে সে চুক্তি ভঙ্গ করে এবং নীলের চারা না দেয়, তবে সে প্রতারণা করে নাই, তার বিরুদ্ধে কেবল চুক্তি ভঙ্গের জন্য দেওয়ানী অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে।

(জ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে বিশ্বাস করায় যে চ-এর সাথে ক-এর চুক্তি রয়েছে ক উহাতে ক-এর অংশ সম্পাদন করেছে। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে ক তা করে নাই। এইরূপ প্রবঞ্চনা করে কচ-এর টাকা দিতে প্ররোচিত করে । ক প্রতারণা করেছে।

(ঝ) ক একটি সম্পত্তি খ-এর কাছে বিক্রয় করে ও খ-কে তা প্রদান করে । ক জানে যে অনুরূপ বিক্রয়ের ফলে সে সম্পত্তিতে তার আর কোন স্বত্ব নাই; কিন্তু কথাটি প্রকাশ না করে সম্পত্তিটি চ-এর কাছে বিক্রয় করে বা বন্ধক রাখে এবং সে বাবদ চ-এর নিকট থেকে ক্রয় মূল্যস্বরূপ বা বন্ধকের জন্য টাকা গ্রহণ করে। ক প্রতারণা করেছে।

৪১৬। অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা

কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে

৪১৭। প্রতারণার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১৮। অপরাধকারী যে ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করিতে বাধ্য, সেই ব্যক্তির কোন অন্যায় ক্ষতি সাধিত হইতে পারে এইরূপ অবগতি মতে প্রতারণা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন ব্যক্তির অন্যায় লোকসান হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণা করে যার স্বার্থে যে কার্যটিতে প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে সে কাজের ক্ষেত্রে রক্ষা করতে সে আইন বলে বা কোন আইনগত চুক্তি অনুসারে বাধ্য- তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪১৯। অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করে, তবে উক্ত লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২০। প্রতারণা ও সম্পত্তি সমর্পণ করিবার জন্য অসাধুভাবে প্রবৃত্ত করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে এবং প্রতারিত ব্যক্তিকে অসাধুভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশ সাধনে প্রবৃত্ত করে অথবা অসাধুভাবে প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন স্বাক্ষরিত বা সীল মোহরযুক্ত বস্তুর সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন পরিবর্তন বা বিনাশ সাধনে প্রবৃত্ত করে যা মূল্যবান জামানতে রূপান্ত রযোগ্য, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রমের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেওও দণ্ডিত হবে।

৪২১। পাওনাদারগণের মধ্যে বন্টন নিবারণার্থ অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে বা সম্পত্তি অপসারণ বা গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোন সম্পত্তি অপসারণ করে, লুকিয়ে রাখে, বা কোন ব্যক্তিকে প্রদান করে, বা যথোপযুক্ত মূল্য গ্রহণ ব্যতীত হস্তান্তর করে বা হস্তান্তর করায় এবং ইহার উদ্দেশ্য হয় বা ইহার ফলে এই উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে বলে জানে যে, তার বা অপর কারো পাওনাদারদের মধ্যে আইনানুসারে সে সম্পত্তির বন্টন নিরোধ করা যেতে পারে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪২২। পাওনাদারগণের ঋণ ফেরত পাইবার ব্যাপারে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে বাধাদান করা

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে তার অথবা অন্য কোন ব্যক্তির প্রাপ্য ঋণ বা দাবি আইনানুসারে আদায় করে তার ঋণ বা সে অন্য ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে উহা প্রদানের জন্য উহার আদায় প্রতিরোধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৩। মূল্যের অসত্য বর্ণনা সম্বলিত হস্তান্তর দলিলের অসাধু বা প্রতারণামূলক সম্পাদন

কোন ব্যাক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোন দলিলে স্বাক্ষরদান করে বা উহা সম্পাদন করে, বা উহাতে অন্যতম পক্ষ হয়, যে দলিলে কোন সম্পত্তি বা সে সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ হস্তান্তরের বা দায়যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, এবং সে দলিলে অনুরূপ হস্তান্তরের বা দায়যুক্তকরণের মূল্য সম্পর্কে অথবা বাস্তবিকভাবে যে ব্যক্তির বা যে ব্যক্তিদের ব্যবহারের বা সুবিধার জন্য উহা বলবৎ হবে, সে ব্যক্তির বা সে ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোন মিথ্যা উক্তি বা বিবরণ আছে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৪। অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে তার নিজের বা অন্য কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি লুকিয়ে রাখে কিংবা অপসারণ করে অথবা অসাধুভাবে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে উহার অপসারণের কিংবা গোপনকরণে সহায়তা করে, অথবা যাতে সে অধিকার এমন কোন দাবি-দাওয়া অসাধুভাবে ত্যাগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৫। অনিষ্ট

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বাহ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘ক্ষতি’ সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে চ-এর একটি মূল্যবান জামানত ইচ্ছাপূর্বক পুড়ে ফেলে। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(খ) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে চ-এর বরফ-ঘরে পানি দেয় এবং তার ফলে বরফ গলে যায় । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(গ) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর একটি আংটি নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয়। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(ঘ) ক তার নিকট থেকে প্রাপ্য চ-এর ঋণ পরিশোধের জন্য তার সম্পত্তি ক্রোক করা হবে জানতে পারে সে সম্পত্তি ধ্বংস করে। তার উদ্দেশ্য এই যে, ইহার ফলে তার প্রাপ্য সাদায় করতে পারে না। অতএব চ-এর ক্ষতি হবে। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(ঙ) ক একটি জাহাজ বীমা করে স্বেচ্ছাকৃতভাবে জাহাজটিকে ভেসে যেতে দেয়, যাতে অনুলেখকদের ক্ষাত হয় । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(চ) চ একটি জাহাজের জন্য "ণদান করেছে। চ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ক স্বেচ্ছাকৃতভাবে জাহাজটিকে ভাসায়ে দেয়। ক মতি সাধন করেছে।

(ছ) ক ও চ যৌথভাবে একটি ঘোড়ার মালিক। ম-এর অন্যায় ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ক ঘোড়াটিকে গুলিবিদ্ধ করে । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(জ) চ-এর শস্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এবং চ-এর শস্যের ক্ষতি হতে পারে জেনেও ক চ-এর মালিকানাধীন একটি জমিতে গবাদি পশু প্রবেশ করায়। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

৪২৬। অনিষ্টের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৭। পঞ্চাশ টাকা পরিমাণ ক্ষতি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব পরিমাণ অর্থের অনিষ্ট করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৮। দশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু হত্যা বা বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি দশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের কোন একটি বা একাধিক প্রাণী হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪২৯। যেকোন মূল্যের গবাদিপশু ইত্যাদি বা পঞ্চাশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি যে কোন মূল্যের হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাড়, গাভী বা গরু, অথবা পঞ্চাশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের অপর কোন পশুকে হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩০। কৃষি, সেচ, পূর্ত কার্যের ক্ষতি করিয়া বা অবৈধভাবে পানির স্রোতের গতি পরিবর্তন করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, যার ফলে কৃষির উদ্দেশ্যে, অথবা মানুষের খাদ্য বা পানীয়ের উদ্দেশ্যে অথবা যে পশু মানুষের সম্পদ সে পশু খাদ্য বা পানীয়ের উদ্দেশ্যে অথবা বিচ্ছিন্নতার উদ্দেশ্যে বা কোন কারখানা পরিচালনার উদ্দেশ্যে পানির সরবরাহ হাসপ্রাপ্ত হয় বা হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩১। সরকারী রাস্তা, পুল, নদী বা খালের ক্ষতি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে যার ফলে কোন সরকারী সড়ক, সেতু, নাব্য নদী কিংবা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম নাব্য খাল অনতিক্রম্য অথবা ভ্রমণের পক্ষে বা সম্পত্তি পারাপারের পক্ষে কম নিরাপদ হয় বা হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩২। ক্ষতিসহকারে সরকারী পয়ঃপ্রণালীর প্লাবন, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, যার ফলে কোন সরকারী পয়ঃপ্রণালীতে বা জন নিষ্কাশনীতে পাবন বা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে ক্ষতি হয় বা ক্ষতি হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৩। কোন বাতিঘর বা সমুদ্র-চিহ্ন ধ্বংস, স্থানান্তরিত বা অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর পরিণত করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি সমুদ্র চিহ্নরূপে ব্যবহৃত কোন বাতিঘর অথবা অন্য কোন বাতি অথবা নাবিকগণের পথপ্রদর্শকরূপে স্থাপিত যেকোন সমুদ্র-চিহ্ন বয়া বা অন্য কিছু বিনষ্ট বা স্থানান্তরিত করে বা অন্য কোন কার্যের সাহায্যে অনুরূপ কোন বাতিঘর, সমুদ্র-চিহ্ন, বয়া বা উপরোক্তরূপ অপর কোন বস্তু নাগরিকদের পথ-নির্দেশক হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহারোপযোগী হয়ে যায়, এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৪। সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সীমা নির্দেশ চিহন ধ্বংস বা স্থানান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতা বলে স্থাপিত কোন সংকেত বিনষ্ট বা স্থানান্তর করে, অথবা যাতে অনুরূপ কোন ভূংকেত কম ব্যবহারোপযোগী হয়ে যায় এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৫। একশত টাকা বা কৃষিজ ফসলের ক্ষেত্রে দশ টাকা পরিমাণ ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অগ্নি বা কোন বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি একশত টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের অথবা যেক্ষেত্রে সম্পত্তিটি হচ্ছে কৃষিজ পণ্য সেক্ষেত্রে দশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে বা তদ্বারা সে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে জানা সত্ত্বেও অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৬। দালান ইত্যাদি ধ্বংষ করিবার অভিপ্রায়ে অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে অনিষ্ট সাধন করা

যদি কোন লোক সচরাচর উপাসনালয় হিসাবে র্যবহৃত অথবা মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত অথবা সম্পত্তির হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহ ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে বা তদ্বারা সে উহা ধ্বংস করতে পারে জানা সত্ত্বেও অগ্নি বা অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৭। পাটাতনবিশিষ্ট জাহাজ বা বিশ টন পরিমাণ ভারবাহ কোন জাহাজ ধ্বংস করা বা বিপজ্জনকরূপে পরিণত করিবার অভিপ্রায়ে অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি পাটাতনবিশিষ্ট জলযান অথবা কুড়ি টন বা তদূর্ধ্ব ওজনের বোঝাবিশিষ্ট কোন জলযান ধ্বংস করার বা উহাকে বিপজ্জনক করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে বা সে তদ্বারা উহাকে ধ্বংস করতে বা বিপদজনক করে দিতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ পাটাতনবিশিষ্ট জলযানের অথবা কুড়িটন বা তদূর্ধ্ব ওজনের কোন জলযানের অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৮। অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ৪৩৭ ধারায় বর্ণিত অনিষ্ট সাদনের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি উপযুক্ত ৪৩৭ ধারায় উল্লেখিত অনিষ্ট সাধনের অপরাধটি অগ্নি কর্তৃক বা বিস্ফোরক দ্রব্য কর্তৃক সংঘটিত করে বা করার উদ্যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডিত হবে।

৪৩৯। চুরি ইত্যাদি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কোন জাহাজ জলমগ্ন, চড়া বা কুলের দিকে ধাবিত করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন জাহাজে অবস্থিত সম্পত্তি অপহরণের জন্য অথবা অনুরূপ কোন সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ বা তসরূপ করতে পারে যাতে তদুদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোন জলযান জলমগ্ন, চরা বা কূলের দিকে ধাবিত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৪০। মৃত্যু বা আঘাত ঘটাইবার প্রসত্তুতি গ্রহণের পর অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটানোর অথবা আঘাত করার অথবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণের পর অথবা মৃত্যু ঘটানোর বা আঘাত করার বা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ভীতিসঞ্চার করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৪১। : অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে,

অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ’অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৪৪২। অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অনধিকার গৃহে প্রবেশ’ অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।

৪৪৩। সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অনধিকার গৃহে প্রবেশ করে এবং যে গৃহে, তাবুতে বা জলযানে সে অনধিকার প্রবেশ করেছে, সে গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অনধিকার প্রবেশকারীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অধিকার যার রয়েছে তার নিকট থেকে অনুরূপ অনধিকার প্রবেশের বিষয়টি গোপন রাখার ব্যবস্থা করে যদি উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

৪৪৪। রাত্রিবেলায় সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি রাত্রিকালে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ অপরাধ করেছে বলে গণ্য হয়।

৪৪৫। অপথে গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি গৃহে বা গৃহের কোন অংশে অনধিকার প্রবেশ এবং অনুরূপ অনধিকার প্রবেশ নিম্ববর্ণিত ছয়টি উপায়ের যে কোন উপায়ে করে, অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে গৃহ বা গৃহের কোন অংশে থাকার পর কিংবা গৃহে বা গৃহের কোন অংশে অপরাধটি করার পর, নিম্নোক্ত ছয়টি উপায়ের যে কোন উপায়ে সে গৃহে বা গৃহের কোন অংশ হতে নিষ্ক্রমণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি, অপথে গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হয়, যথা:-

প্রথমত (Firstly):- যদি সে এমন একটি পথে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়, যে পথটি গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার জন্য সে নিজে বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করতে সাহায্যকারী অন্য কেউ তৈরি করেছে।

দ্বিতীয়ত (Secondly):- যদি সে এমন কোন পথে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়, যে পথটি সে নিজে বা তার সাহায্যকারী অন্য কোন ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন মানুষের প্রবেশের জন্য তৈরি করে নাই, অথবা যদি সে এমন কোন পথে পবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয় যে পথ সে কোন দেওয়াল বা গৃহ টপকায়ে লাভ করেছে।

তৃতীয়ত (Thirdly):- যদি সে এমন কোন পথে প্রবেশ করে বা বাহির হয়ে আসে যে পথটি সে বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করতে সাহায্যকারী অন্য কেউ এমন পদ্ধতিতে উন্মুক্ত করেছে, যে পদ্ধতিতে পথটি উন্মুক্ত করা গৃহের মালিকের উদ্দেশ্য ছিল না।

চতুর্থত (Fourthly):- যদি সে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার জন্য, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার পর বাহির হয়ে যাবার জন্য, কোন তালা খুলে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়।

পঞ্চমত (Fifthly):- যদি সে অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা আঘাত করে বা কোন ব্যক্তিকে আঘাত করার হুমকি প্রদর্শন করে প্রবেশ বা নিষ্ক্রমণ করে।

ষষ্ঠত (Sixthly):- যদি সে স্বয়ং তৎকর্তৃক অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ অনুষ্ঠানের কোন সাহায্যকারী দ্বারা উন্মুক্ত এমন কোন পথে ঢোকে বা বাহির হয়, যা অনুরূপ প্রবেশ বা নিষ্ক্রমণের বিরুদ্ধে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সে জানে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- কোন বহির্বাটি বা বাড়ির সাথে দখলকৃত গৃহ এবং বাড়ি ও অনুরূপ বহির্বাটি বা গৃহের মধ্যবর্তী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পথ এই ধারার অর্থ অনুসারে বাড়ির অংশবিশেষ।

উদাহরণসমূহ – Illustrations 

(ক) ক চ-এর বাড়ির দেওয়াল ছিদ্র করে সে ছিদ্রে হাত রেখে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(খ) ক একটি জাহাজে দুই ডেকের মধ্যবর্তী পোর্ট-হোলের মধ্যে গুড়ি মেরে ঢুকে অনধিকার প্রবেশ করেছে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(গ) ক চ-এর বাড়ির জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করেছে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(ঘ) ক চ-এর গৃহের অর্গল বদ্ধ দরজা খুলে গুটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ ।

(ঙ) ক চ-এর বাড়ির বন্ধ দরজার ছিদ্র দিয়ে একটি তার ঢুকায়ে উহার সহায়তায় অর্গল খুলে দরজাটি উন্মুক্ত করে এবং অতঃপর অনুরূপে উন্মুক্ত দরজা দিয়ে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(চ) চ তার গৃহের দরজার চাবি হারিয়েছে। ক সে চাবিটি পেয়ে তদ্বারা চ-এর গৃহের দরজা খুলে চ-এর গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

৪৪৬। রাত্রিকালে সিঁধ কাটিয়া বা দরজা-জানালা ভাঙ্গিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সিধ কেটে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে তবে উক্ত ব্যক্তি রাত্রিকালে অপথে গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হয়।

৪৪৭। অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৪৮। গৃহে অনধিকার প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৪৯। মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক দশ বৎসর মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫০। যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫১। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; এবং যে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল তা যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।

৪৫২। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত বা আক্রমণ করার বা কাউকে অবৈধভাবে আটক করার বা কাউকে আঘাতের, আক্রমণের বা অবৈধ আটকের ভীতিতে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে ।

৪৫৩। সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি সঙ্গোপনে গৃহে অনিধকার প্রবেশ করে কিংবা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৪। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ অথবা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে এবং যে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল সে অপরাধটি যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে।

৪৫৫। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা অন্যায়ভাবে আটকের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত করার বা আক্রমণ করার বা কাউকে অন্যায়ভাবে আটক করার বা কাউকে আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় আটকের ভয়ে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৬। রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে রাত্রে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৭। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে রাত্রে অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে; তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; এবং যে অপরাধটি করার উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল সে অপরাধটি যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে।

৪৫৮। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত করার অথবা কাউকে অন্যায়ভাবে আটক করার, বা কাউকে আঘাত, আক্রমণ বা অন্যায় আটকের ভয়ে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে রাত্রে অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৯। সঙ্গোপনে অনধিকার প্রবেশকালে বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশকালে মারাত্মকভাবে আহত করা

কোন ব্যক্তি যদি সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশকালে অথবা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশকালে কাউকে গুরুতরভাবে আঘাত করে অথবা কারো মৃত্যু ঘটানো বা গুরুতর আঘাত প্রদানের চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬০। রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশের সহিত সম্মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কোন একজন কাহারও মৃত্যু বা মারাত্মক আঘাত ঘটাইলে সকলেই দন্ডনীয় হইবে

যদি রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশকালে বা রাত্রে অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশকালে, অনুরূপ অপরাধে অপরাধী কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কারো মৃত্যু ঘটায় বা তাকে গুরুতর আঘাত প্রদান করে অথবা মৃত্যু ঘটানোর বা গুরুতর আঘাত প্রদানের চেষ্টা করে, তবে এইরূপ রাত্রে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা রাত্রে অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশের সাথে সম্মিলিতভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬১। অসাধুভাবে সম্পত্তি সম্বলিত আধার ভাঙ্গিয়া উম্মুক্ত করা

কোন ব্যক্তি যদি সম্পত্তি ধারণকারী কোন বদ্ধপাত্র বা যে বদ্ধপাত্রে সম্পত্তি আছে বলে তার বিশ্বাস, সে বদ্ধপাত্র অসাধুভাবে কিংবা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ভেঙ্গে উম্মুক্ত  করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৬২। হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইল তাহার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি সম্বলিত বদ্ধপাত্রের অথবা যে বদ্ধপাত্রে সম্পত্তি আছে বলে তার বিশ্বাস, সে বপদ্ধপাত্রের রক্ষণাবেক্ষণের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে বদ্ধপাত্র উন্মুক্ত করার ক্ষমতা তার না থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে কিংবা ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে সে বদ্ধপাত্র ভেঙ্গে ফেলে বা বন্ধনমুক্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৬২ক। ব্যাংক অফিসার কর্মচারীদের অবহেলাজনক আচরণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যাংকিং কোম্পানীর অফিসার কিংবা কর্মচারী হয়ে ব্যাংকিং লেনদেনের সময় তার অবেহলামূলক আচরণের কর্তৃক কোম্পানীর কোন গ্রাহকের বা অপর কোন ব্যক্তিকে কোম্পানীর সম্পত্তির ক্ষতি করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদের যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে কিংবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে আইনের সে নির্দেশ কোন ব্যাংকিং কোম্পানির অফিসার বা কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে বা উপেক্ষাজনিত অবহেলার কারণে পালন করতে ব্যর্থ হলে, উক্ত ব্যক্তি অবহেলামূলক আচরণের দায়ে অপরাধী হবে।

৪৬২খ। ব্যাংকিং কোম্পানীকে প্রতারণা করিবার শাস্তি

ব্যাংকিং লেনদেনের সময় কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকিং কোম্পানির নিকট থেকে কোন সুবিধা গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- ৪৬২ক এবং এই ধারায় উল্লেখিত ‘ব্যাংকিং কোম্পানি’ এর অর্থ-

(ক) ব্যাংকিং কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৯৬২ (১৯৬২-এর ৫৭নং অধ্যাদেশ)-এর ৫ (গ) ধারায় ব্যাংকিং কোম্পানিকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক (জাতীয়করণ) আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ২৬ নং পি.ও) মোতাবেক গঠিত কোন ব্যাংক।

(গ) বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৭ নং পি, ও) এর ৫০ (গ) ধারায় সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

(ঘ) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৮ নং পি.ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা।

(ঙ) বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৯ নং পি. ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ।

(চ) বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আদেশ, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ৭নং পি, ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন।

(ছ) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ২৭ নং পি. ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

(জ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (১৯৭৬-এর ৪০ নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্পোরেশন।

(ঝ) গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (১৯৮৩-এর ৪৬ নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ।

(ঞ) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৬ (১৯৮৬-এর ৫৮নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

(ট) ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত কোন ব্যাংক।

৪৬৩। জালিয়াতি

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৪৬৪। জালিয়াতি

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের কিংবা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতিসাধনের জন্য অথবা কোন দাবি বা স্বত্ব প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে অথবা কোন ব্যক্তিকে তার সম্পত্তি ত্যাগে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রকাশ্য বা অনুক্ত চুক্তি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে অথবা কোন প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে বা যাতে প্রতারণা সংঘটিত হতে পারে এইরূপ অভিপ্রায়ে, কোন মিথ্যা দলিল কিংবা দলিলের অংশবিশেষ প্রণয়ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি জালিয়াতি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৪৬৫। জালিয়াতির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৬৬। আদালতের নথিপত্র বা সরকারী রেজিস্টার ইত্যাদি জালকরণ

কোন ব্যক্তি যদি এমন একটি দলিল জাল করে যা কোন বিচারালয়ের নথি অথবা প্রসিডিং কিংবা কোন বিচারালয়ে উত্থাপিত নথি বা প্রসিডিং বলে অথবা কোন জন্ম, খ্রিস্টানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিবাহ কিংবা সমাধিকরণের রেজিস্টার বলে অথবা কোন সরকারী কর্মচারী কর্তক সরকারী কর্মচারী হিসেবে রক্ষিত রেজিস্টার বলে অথবা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা তার সরকারী পদ মর্যাদা বলে কৃত সার্টিফিকেট বা দলিল বলে, অথবা কোন মামলা দায়ের করার বা উহাতে পক্ষ সমর্থনের কিংবা উহাতে কোন কার্যক্রম গ্রহণের রায় মানার কিংবা পাওয়ার অব এটনী বলে প্রতিভাত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কিংবা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬৭। মূল্যবান জামানত, উইল ইত্যাদি জালকরণ

ন ব্যক্তি যদি এমন দলিল জাল করে যা একটি মূল্যবান জামানত কিংবা একটি উইল কিংবা কোন পোষ্যপুত্র গ্রহণের ক্ষমতাপত্র বলে প্রতিভাত হয়, অথবা যাতে কোন ব্যক্তিকে কোন মূল্যবান জামানত সম্পাদনের অথবা হস্তান্তরের কিংবা উহার উপরে আসল, সুদ বা লভ্যাংশ গ্রহণের, কিংবা কোন অর্থ, অস্থাবর সম্পত্তি, বা মূল্যবান জামানত গ্রহণের বা প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে বলে প্রতিভাত হয়, অথবা তা এমন একটি দলিল বলে প্রতিভাত হয়, যা অর্থ পরিশোধের পূর্ণপ্রাপ্ত রসিদ বা স্বীকৃতি রসিদ কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতের পূর্ণপ্রাপ্তি রসিদ বা হস্তান্তর রসিদ বলে পরিগণিত দলিল, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬৮। প্রতারণা করিবার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে জাল দলিল ব্যবহারকল্পে জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬৯। মানহানির উদ্দেশ্যে জালিয়াতি

কোন ব্যক্তি যদি জাল দলিল কর্তৃক কারো মানহানি করার উদ্দেশ্যে জালিয়াতি করে, অথবা জাল দলিলটি তদুদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও জালিয়াতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৪৭০। জাল দলিল

সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক জালিয়াতির কর্তৃক কৃত যে কোন মিথ্যা দলিলকে জাল দলিল বলে পরিগণিত করা হয়।

৪৭১। কোন জাল দলিলকে খাটিঁ হিসাবে ব্যবহারকরণ

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে এমন একটি দলিলকে খাটি দলিল হিসাবে ব্যবহার করে, যে দলিলটি একটি জাল দলিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে সে ব্যক্তি যেন সে নিজে দলিলটি জাল করেছে, এমনভাবে দণ্ডিত হবে।

৪৭২। ধারা ৪৬৭ এর অধীনে দন্ডনীয় জালিয়াতি করিবার উদ্দেশ্যে মেকি মোহর ইত্যাদি নির্মাণ বা দখল

কোন ব্যক্তি যদি ছাপ অঙ্কন করার জন্য কোন সীলমোহর, ফলক বা অপর কোন যন্ত্র এইরূপ অভিপ্রায়ে প্রস্তুত বা নকল করে যে, উহা এই বিধির ৪৬৭ ধারার আওতায় দণ্ডনীয় যেকোন জালিয়াতি করার জন্য ব্যবহার করা হবে কিংবা অনুরূপ কোন সীলমোহর, ফলক বা অপর কোন যন্ত্র মেকি বলে জেনে অনুরূপ উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা যেকোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবে, যার মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪৭৩। প্রকারান্তরে দন্ডনীয় জালিয়াতি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে মেকি সীলমোহর ইত্যাদি নিমার্ণ বা দখল

কোন ব্যক্তি যদি ছাপ অঙ্কন করার জন্য কোন সীলমোহর, ফলক বা অন্যবিধ যন্ত্র এইরূপ অভিপ্রায়ে প্রস্তুত বা নকল করে যে উহা ৪৬৭ ধারা ছাড়া এই অধ্যায়ের যেকোন ধারার আওতায় দণ্ডনীয় কোন জালিয়াতি অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হবে অথবা অনুরূপ উদ্দেশ্যে অনুরূপ যেকোন সীলমোহর ফলক বা অন্যবিধ যন্ত্র, উহা জাল বলে জেনেও দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৭৪। ধারা ৪৬৬ বা ৪৬৭ এ বর্ণিত দলিল, উহা জাল বলিয়া জানিয়া এবং উহা খাটিঁ বলিয়া ব্যবহার করিবার ইচ্ছা করিয়া দখল

কোন ব্যক্তি যদি দলিল জাল করা হয়েছে বলে জানা সত্ত্বেও, এবং কোন ব্যক্তি যদি কোন দলিলকে খাটি দলিল হিসাবে প্রতারণামূলকভাবে বা অসাধুভাবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে উহা নিজের দখলে রাখে, তবে দলিলটি যদি এই বিধির ৪৬৬ ধারায় বর্ণিত বর্ণনারূপ হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং দলিলটি যদি ৪৬৭ ধারায় বর্ণিত বর্ণনানুরূপ একটি দলিল হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৭৫। ধারা ৪৬৭ এ বর্ণিত দলিলসমূহ প্রমাণীকৃত করিবার জন্য ব্যবহৃত নক্শা বা চিহ্ন নকলকরণ বা মেকি চিহ্নিত দ্রব্য দখল

কোন ব্যক্তি যদি এই বিধির ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত কোন দলিল সঠিক বলে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন দ্রব্য, নকশা বা চিহ্নকে বা উহার উপাদান মেকী করে এবং তখন অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত বা তার পরে অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত কোন দলিলকে প্রমাণিকৃত বলে প্রতীয়মান করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নকশা বা চিহ্ন ব্যবহার করার অভিপ্রায়ে যদি তা করে, অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ অভিপ্রায়ে যে দ্রব্যের উপরে বা যে দ্রব্যের উপাদানে অনুরূপ কোন নকশা বা চিহ্ন নকল করা হয়েছে, সে দ্রব্য তার দখলে রাখে, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৭৬। ধারা ৪৬৭ এ বর্ণিত দলিলাদি হইতে ভিন্ন দলিলাদি প্রমাণীকৃত করিবার জন্য ব্যবহৃত নক্শা বা চিহ্নাদি নকলকরণ অথবা মেকি চিহ্ন সম্বলিত দ্রব্য দখল

কোন ব্যক্তি যদি এই বিধির ৪৬৭ ধারায় উল্লেখিত দলিল ছাড়া অপর কোন দলিল সঠিক বলে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোন দ্রব্য, নকশা বা চিহ্নকে বা উহার উপাদন মেকী করে এবং তখন অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত বা তার পরে অনুরূপ দ্রব্যের উপরে নকলকৃত কোন দলিলকে প্রমাণিকৃত বলে প্রতীয়মান করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ নকশা বা চিহ্ন ব্যবহার করার অভিপ্রায়েই তা করে, অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ অভিপ্রায়ে যে দ্রব্যের বা যে দ্রব্যের উপাদানে অনুরূপ কোন নকশা বা চিহ্ন নকল করা হয়েছে, সে দ্রব্য তার দখলে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৭৭। উইল দত্তক গ্রহণের অনুমতিপত্র বা কোন মূল্যবান জামানত প্রতারণামূলকভাবে বাতিলকরণ বা বিনষ্টকরণ ইত্যাদি

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলক ভাবে বা অসাধুভাবে অথবা জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তিবিশেষের ক্ষতি বা অনিষ্ট সাধন করার উদ্দেশ্যে এমন কোন দলিল বিনষ্ট বা বিকৃত করার চেষ্টা করে অথবা গোপন করে বা গোপন করার চেষ্টা করে, যে দলিল একটি উইল বা দত্তকপুত্র গ্রহণের অনুমতিপত্র বা মূল্যবান জামানতরুপে পরিগণিত অথবা কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন দলিলের ব্যাপারে অনিষ্টসাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৭৭ক। হিসাবপত্র বিকৃতকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী, কর্মকর্তা বা চাকর হয়ে অথবা কর্মচারী, কর্মকর্তা বা চাকরের পদে নিযুক্ত বা কাজ নির্বাহক হয়ে নিয়োগকর্তার স্বত্বাধীন বা তার নিয়োগকর্তার দখলভুক্ত বা নিয়োগ কর্তার স্বপক্ষে তৎকর্তৃক প্রাপ্ত কোন বহি, কাগজ, লেখা, মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ও প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে বিনষ্ট করে, পরিবর্তন করে, বিকৃত করে বা মিথ্যা বিবরণ সম্বলিত করে, অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে ও প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্যে, অনুরূপ কোন বহি, কাগজ, লেখা মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্রে কোন মিথ্যা কথা লিপিবদ্ধ করে বা তা করার ব্যাপারে সাহায্য করে কিংবা অনুরূপ বহি, কাগজ লেখা, মূল্যবান জামানত বা হিসাবপত্র বা তৎসমৃদয় হতে কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেয় বা পরিবর্তন করে কিংবা বাদ দেওয়ার বা পরিবর্তন করার কার্যে সাহায্য করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):-

এই ধারা বলে কোন অভিযোগ প্রবঞ্চনার সাধারণ অভিপ্রায় আরোপ যথেষ্ট হবে; যে ব্যক্তিকে প্রবঞ্চনা করার অভিসন্ধি করা হয়েছিল, তার নামলেখ বা যে পরিমাণ অর্থের ব্যাপারে প্রবঞ্চনা করার অভিসন্ধি করা হয়েছিল, তার পরিমাণ নির্দেশ, অথবা যে বিশেষ দিনে অপরাধটি করা হয়, সে বিশেষ দিনের উল্লেখ না করলেও চলবে।

৪৭৮। বাণিজ্য-প্রতীক

কোন পণ্যদ্রব্য, কোন বিশেষ ব্যক্তির প্রস্তুত পণ্যদ্রব্য বা ব্যবসায়ের পণ্য বলে নির্দেশ করার জন্য ব্যবহৃত চিহ্ন বা মার্কাকে পণ্য-প্রতীক বলে ।

এবং এই বিধির উদ্দেশ্যে ‘পণ্য-প্তক’ কথাটির কর্তৃক ১৮৮৩ সালের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস আইন মোতাবেক রক্ষিত পণ্য-প্রতীক রেজিস্টারে রেজিষ্ট্রিকৃত যে কোন পণ্য-প্রতীক বুঝাবে এবং রেজিষ্ট্রেশনসহ বা রেজিষ্ট্রেশন ব্যতীত বর্তমানে রাষ্ট্র প্রধানের আদেশ বলে ব্রিটিশ সাম্রাজের কোন অংশে বা বৈদেশিক রাষ্ট্রে যেখানে ১৮৮৩ সালের পেটেন্টস, ডিজাইনস ও ট্রেড মার্কস আইনের ১০৩ ধারা প্রয়োগযোগ্য, সেখানে আইনে সংরক্ষিত যে কোন পণ্য-প্রতীকও বুঝাবে।

৪৭৯। পণ্য-প্রতীক

কোন অস্থাবর সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তির স্বত্বাধীন বলে বুঝাবার জন্য ব্যবহৃত চিহ্নকে সম্পত্তি চিহ্ন বলে।

৪৮০। মিথ্যা পণ্য-প্রতীকের ব্যবহার

কোন ব্যক্তি যদি কোন দ্রব্যের কিংবা কোন দ্রব্যসম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজ বা অন্যরূপ আধারে এমনভাবে চিহ্ন অঙ্কন করে, অথবা চিহ্নিত কোন দ্রব্যসম্বলিত বাক্স, প্যাকেজ বা অনুরূপ আধারে ব্যবহার করে, যাতে অনুরূপভাবে চিহ্নিত দ্রব্য বা অনুরূপভাবে চিহ্নিত আধারের দ্রব্য এমন কোন ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য বলে ন্যায় সংগত ভাবে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, অনুরূপ দ্রব্য প্রকৃত প্রস্তাবে যার দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য নয়, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা পণ্য-প্রতীক ব্যবহার করেছে বলে পরিগণিত হয় ।

৪৮১। মিথ্যা সম্পত্তি-প্রতীক ব্যবহার

কোন ব্যক্তি যদি কোন অস্থাবর সম্পত্তিতে বা দ্রব্যে কিংবা কোন অস্থাবর সম্পত্তি সম্বলিত বা দ্রব্যসম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজে বা অন্যরূপ আধারে এমনভাবে চিহ্ন অঙ্কন করে অথবা এমনভাবে চিহ্নিত কোন অস্থাবর সম্পত্তি সম্বলিত বা দ্রব্য সম্বলিত কোন বাক্স, প্যাকেজ বা অন্যরূপ আধার ব্যবহার করে যাতে অনুরূপে চিহ্নিত অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য কিংবা অনুরূপ চিহ্নিত আধারে অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য এমন কোন ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি বা দ্রব্য বলে ন্যায়সংগতভাবে বিশ্বাস সৃষ্টি হয়, অস্থাবর সম্পত্তিটি বা দ্রব্যটি প্রকৃত প্রস্তাবে যার নয়, তবে উক্ত ব্যক্তি মিথ্যা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করেছে বলে পরিগণিত হয়।

৪৮২। মিথ্যা বাণিজ্য-প্রতীক বা সম্পত্তি-প্রতীক ব্যবহারের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা পণ্য-প্রতীক বা কোন মিথ্যা সম্পত্তি চিহ্ন ব্যবহার করে, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া সে অনুরূপ কাজ করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর গড়ে যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৩। অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত কোন বাণিজ্য-প্রতীক বা সম্পত্তি-প্রতীক জালকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক ব্যবহৃত কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৪। কোন সরকার কর্মচারী কর্তৃক ব্যবহৃত কোন প্রতীক জালকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা ব্যবহৃত সম্পত্তির চিহ্ন নকল করে, বা কোন সরকারী কর্মচারী দ্বারা ব্যবহৃত এমন কোন চিহ্ন নকল করে যা কোন বিশেষ সম্পত্তি কোন বিশেষ ব্যক্তি কর্তৃক বা কোন বিশেষ স্থানে বা কোন বিশেষ সময়ে প্রস্তুত হয়েছে জেনে, কিংবা সম্পত্তিটি কোন বিশেষ গুণসম্পন্ন বলে বা কোন বিশেষ দফতর হতে পাস হয়ে এসেছে বলে কিংবা সম্পত্তিটি কোন অব্যাহতির অধিকারী বলে বুঝার জন্য ব্যবহার করা হয়, অথবা অনুরূপ কোন চিহ্ন নকল করে জানা সত্ত্বেও উহা খাটি বলে ব্যবহার করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৮৫। বাণিজ্য প্রতীক বা সম্পত্তি প্রতীক নকল করিবার যেকোন যন্ত্র প্রস্তুত বা দখল

কোন ব্যক্তি যদি কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন নকল করার উদ্দেশ্যে কোন ছাচ, পাত বা অন্যকোন যন্ত্র প্রস্তুত করে বা দখলে রাখে, অথবা কোন দ্রব্য যে ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য নয়, সে দ্রব্য সে ব্যক্তির প্রস্তুত দ্রব্য বা ব্যবসায় পণ্য বলে নির্দেশ করার কিংবা কোন দ্রব্য যে ব্যক্তির নয়, ইহা সে ব্যক্তির বলে নির্দেশ করার উদ্দেশ্যে তার দখলে কোন পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্ন রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৬। মেকি বাণিজ্য প্রতীক বা সম্পত্তি প্রতীকে চিহ্নিত মাল বিক্রয়

কোন ব্যক্তি যদি কোন নকল পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্নযুক্ত কোন পণ্য বা দ্রব্য অথবা অনুরূপ দ্রব্য সম্বলিত নকল পণ্য-প্রতীক বা সম্পত্তির চিহ্নযুক্ত কোন বাক্স, প্যাকেট বা অন্যকোন আধার বিক্রয় করে, উন্মুক্ত করে বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে বা অপর কোনরূপ ব্যবসায়ের বা প্রস্তুত করণের উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখে, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে-

(ক) এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বপ্রকার ন্যায়সঙ্গত অফিসার সে অবলম্বন করেছিল এবং অভিযুক্ত অপরাধটি অনুষ্ঠানের সময় মাকাটির বা চিহ্নটির সত্যতা সম্বন্ধে তার সন্দেহ করার কোন কারণ ছিল না, এবং

(খ) প্রসিকিউটর দ্বারা বা তার স্বপক্ষে উত্থাপিত দাবিক্রমে সে যে ব্যক্তিদের নিকট থেকে অনুরূপ পণ্য বা দ্রব্য লাভ করেছে, তার সাধ্যমত সে ব্যক্তিদের সম্বন্ধে জ্ঞাত সকল তথ্য প্রদান করেছে, অথবা

(গ) সে কাজটি নির্দোষভাবে সম্পাদন করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৭। মালধারক কোন পাত্রের উপর মিথ্যা চিহ্ন

দি কোন ব্যক্তি কোন দ্রব্য বা পণ্য সম্বলিত বাক্সে, প্যাকেজে বা অন্যকোন পাত্রের উপর এমন ভাবে কোন মিথ্যা চিহ্ন অঙ্কন করে, যার ফলে কোন সরকারী কর্মচারী বা অপর কোন ব্যক্তি ন্যায়সঙ্গত ভাবে উহাতে যে দ্রব্য নাই, সে দ্রব্য রয়েছে বলে অথবা উহাতে যে দ্রব্য রয়েছে, সে দ্রব্য নাই বলে অথবা উক্ত পাত্রে অবস্থিত দ্রব্যটি বস্তুত যে গুণবিশিষ্ট বা প্রকৃতিবিশিষ্ট, উহাকে তা হতে ভিন্ন গুণবিশিষ্ট বা প্রকৃতি- বিশিষ্ট বলে বিশ্বাস করতে প্রবৃত্ত হয়, তবে যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, কোনরূপ প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া সে কাজটি করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৮। অনুরূপ যেকোন মিথ্যা চিহ্ন ব্যবহারের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ কোন মার্ক বা চিহ্ন উপযুক্ত ধারার নিষিদ্ধ কোন পদ্ধতিতে ব্যবহার করে, তবে-যদি না সে প্রমাণ করতে পারে যে, কোনরূপ প্রবঞ্চনার উদ্দেশ্য ছাড়া কাজটি করেছে, তবে উক্ত ব্যক্তি যেন উপযুক্ত ধারাটি অনুসারে অপরাধ করেছে এমনভাবে দণ্ডিত হবে।

৪৮৯। ক্ষতিসাধন করিবার উদ্দেশ্যে সম্পত্তি প্রতকে হস্তক্ষেপকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কারো ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে, অথবা কারো ক্ষতি সাধিত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তির চিহ্ন অপসারণ করে, বিনষ্ট করে, বিকৃত করে বা উহাতে কিছু যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৯ক। মুদ্রা-নোটসমূহ বা ব্যাংক-নোটসমূহ নকলকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল করে বা উহা নকল করার প্রক্রিয়ার যে কোন অংশ সম্পাদন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- এই ধারার এবং ৪৮৯ খ, ৪৮৯ গ ও ৪৮৯ ঘ ধারার উদ্দেশ্যে ব্যাংক নোট’ বলতে বিশ্বের যেকোন অংশে ব্যাংকিং ব্যবসায়রত কোন ব্যক্তি দ্বারা প্রবর্তিত এবং দাবিমাত্র বাহককে অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি যুক্ত কোন প্রমিসর নোট বা অঙ্গীকার পত্র অথবা কোন রাষ্ট্র বা সার্ভভেীম শক্তি দ্বারা কিংবা তৎপ্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রবর্তিত এবং অর্থের সমতুল্য বা অর্থের বিকল্প হিসাবে ব্যবহারের জন্য উদ্দিষ্ট কোন প্রমিসর নোট বা অঙ্গীকারপত্র বুঝাবে।

৪৮৯খ। জাল বা মেকি মুদ্রা-নোট বা ব্যাংক-নোট খাটিঁ হিসাবে ব্যবহারকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল বা মেকী বলে জানা সত্ত্বেও বা উহা তদ্রুপ বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট অপর কোন ব্যক্তির কাছে বিক্রয় করে বা অপর কোন ব্যক্তির নিকট থেকে ক্রয় বা গ্রহণ করে কিংবা অপর কোনভাবে উহাকে খাটি বলে ব্যবহার করে বা লেনদেন করে, তবে-উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৮৯গ। মুদ্রা-নোট বা জাল বা নকল ব্যাংক-নোট দখলে রাখা

কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট জাল বা মেকী বলে জানা সত্ত্বেও বা উহা তদ্রুপ বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও এবং উহা খাটি বলে চালানোর উদ্দেশ্যে বা উহা যাতে খাটি বলে চালানো যায়, সে উদ্দেশ্যে তার দখলে অনুরূপ কোন নকল বা মেকী পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট রাখে, তবে উক্ত লোক সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৮৯ঙ। মুদ্রা-নোটসমূহ বা ব্যাংক-নোটসমূহের সদৃশ দলিলসমূহ প্রস্তুত বা ব্যবহারকরণ

(১) কোন ব্যক্তি যদি কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট বলে বুঝাবার জন্য, কোনদিক হতে কোন পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোটের এতখানি সদৃশ যে, তার কর্তৃক প্রতারণা করা যেতে পারে এইরূপ কোন বস্তু প্রস্তুত করে বা প্রস্তুত করায় বা যে উদ্দেশ্যে হোক ব্যবহার করে বা কোন ব্যক্তিকে প্রদান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি একশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(২) উপধারা (১) অনুসারে যে বস্তু বা দলিল প্রস্তুত করা একটি অপরাধ, সেরূপ দলিলে যার নাম রয়েছে, সে ব্যক্তি যদি কোন পুলিশ কর্মকর্তা দ্বারা জিজ্ঞাসিত হয়ে কোন আইনসম্মত কারণ ব্যতীত যে উহা মুদ্রণ বা অন্যভাবে প্রস্তুত করেছে, তার নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করতে অস্বীকার করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুইশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

(৩) যে দলিলের জন্য কোন ব্যক্তি (১) উপধারা অনুসারে অভিযুক্ত হয়েছে, সে দলিলে, অথবা সে দলিলের সূত্রে ব্যবহৃত বা বিতরণকৃত অপর কোন দলিলে, যে ব্যক্তির নাম উল্লিখিত থাকবে, বিপরীত প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত, সে ব্যক্তি দলিলটি প্রস্তুত করেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

৪৮৯ঘ। মুদ্রা-নোটসমূহ বা ব্যাংক-নোটসমূহ জাল বা নকল করিবার যন্ত্রপাতি বা উপাদানসমূহ প্রস্তুত বা দখল

কোন ব্যক্তি যদি পত্রমুদ্রা বা ব্যাংক নোট নকল বা মেকী করার জন্য ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ নকল বা মেকী করার জন্য ব্যবহার করা হবে বলে জানা সত্ত্বেও বা তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও, কোন যন্ত্র, হাতিয়ার বা সামগ্ৰী প্রস্তুত-প্রক্রিয়ার কোন অংশ সম্পাদন করে, বা ক্রয় করে বা বিক্রয় করে বা বিলি ব্যবস্থা করে বা তার নিজের দখলে রাখে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৯১। অসহায় ব্যক্তির পরিচর্যা করা এবং তাহার অভাবসমূহ মিটাইবার চুক্তিভঙ্গকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কোন আইনসম্মত চুক্তি কর্তৃক অপরিণত বয়স বা মানসিক অপ্রকৃতিস্থতা বা রোগ বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বীয় নিরাপত্তা বিধানে বা আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি সংস্থানে অপারগ কোন ব্যক্তির পরিচর্যা করতে বা আবশ্যকীয় দ্রব্যাদি সংস্থান করতে বাধ্য হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাপূর্বক তা না করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা দুইশত টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৯৩। প্রতারণামূলকভাবে আইনানুগ বিবাহের বিশ্বাসে প্ররোচিত করিয়া কোন ব্যক্তি কর্তৃক স্বামী-স্ত্রীরূপে সহবাস

কোন ব্যক্তি যদি যে নারী তার সাথে আইন সম্মত ভাবে বিবাহিত নয় সে নারীকে প্রতারণামূলক ভাবে বিশ্বাস করায় যে, সে নারী তার সাথে আইনসম্মত ভাবে বিবাহিত এবং সে নারীকে এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে তার সাথে সহবাসে বা যৌন সঙ্গমে প্রবৃত্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৯৪। স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় পুনরায় বিবাহকরণ

কোন ব্যক্তি যদি এক স্বামী বা এক স্ত্রী জীবিত থাকা সত্ত্বেও এমন কোন পরিস্থতিতে বিবাহ করে, যে পরিস্থিতিতে স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় সংঘটিত বলে অনুরূপ বিষয়টি অবৈধ হয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম (Exception):- অনুরূপ স্বামী বা স্ত্রীর সাথে যে ব্যক্তির বিবাহ কোন উপযুক্ত আদালত দ্বারা নাকচ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ধারাটি প্রয়োগযোগ্য হবে না। কিংবা যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রীর জীবদ্দশায় বিবাহ সংঘটিত হচ্ছে, বিবাহের সময় পর্যন্ত যে প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী যদি পূর্ববর্তী সাত বৎসর পর্যন্ত ক্রমাগত পরবর্তী বিবাহ অনুষ্ঠানকারীর নিকট থেকে অনুপস্থিত থেকে থাকে এবং সে সাত বৎসর যাবৎ অনুরূপ প্রাক্তন স্বামী বা স্ত্রী জীবিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি না শুনে থাকে তবে তার ক্ষেত্রে এই ধারা প্রয়োগযোগ্য হবে না; তবে পরবর্তী বিবাহকালে বিবাহ অনুষ্ঠানকারী ব্যক্তি যার সাথে তার বিবাহ হচ্ছে তাকে বিবাহ সংঘটিত হওয়ার পূর্বে তার জ্ঞাত সকল ঘটনা সংক্রান্ত প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

৪৯৫। যে ব্যক্তির সহিত পরবর্তী বিবাহের চুক্তি সম্পাদিত হয় তাহার নিকট পূর্ববর্তী বিবাহ গোপন করিয়া একই রকম অপরাধ অনুষ্ঠানকরণ

কোন ব্যক্তি যদি পরবর্তী বিবাহের চুক্তি যার সাথে সম্পাদিত করা হল তার নিকট থেকে পূর্ববর্তী বিবাহ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রেখে পূর্ববর্তী সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত অপরাধ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৯৬। আইনসঙ্গত বিবাহ সম্পাদন ব্যতিরেকে প্রতারণামূলকভাবে বিবাহ অনুষ্ঠান উদ্যাপন করা

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সে আইনতঃ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে না জানা সত্ত্বেও বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৯৭। ব্যভিচার

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির স্ত্রী অথবা যাকে সে অন্য কোন ব্যক্তির স্ত্রী বলে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ আছে এমন কোন ব্যক্তির সাথে উক্ত অন্য ব্যক্তির সম্মতি ও সমর্থন ছাড়া এইরূপ যৌন সঙ্গম করে যা নারী ধর্ষণের সামিল নয়, তবে সে ব্যক্তি ব্যভিচারের অপরাধের জন্য দোষী হবে এবং তাকে সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত করা যাবে। অনুরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী ব্যক্তিটি দুষ্কর্মের সহায়তাকারী হিসেবে দণ্ডিত হবে না।

৪৯৮। কোন বিবাহিতা নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধকরণ বা অপহরণ বা আটককরণ

কোন ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সাথে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুদ্ধ করে নিয়ে যায়, বা অনুরূপ কোন নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৯৯। কোন বিবাহিতা নারীকে অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধকরণ বা অপহরণ বা আটককরণ

কোন ব্যক্তি যদি যে নারী অপর পুরুষের সাথে বিবাহিতা এবং তা সে জানে বা তার অনুরূপ বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, এইরূপ নারীকে কোন ব্যক্তির সাথে অবৈধ যৌনসঙ্গম করার উদ্দেশ্যে বিবাহিত পুরুষের নিকট থেকে বা সে পুরুষের স্বপক্ষে অপর যে ব্যক্তি সে নারীর তত্ত্বাবধায়ক সে ব্যক্তির নিকট থেকে অপহরণ বা প্রলুদ্ধ করে নিয়ে যায়, বা অনুরূপ কোন নারীকে উপযুক্ত উদ্দেশ্যে গোপন বা আটক করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০০। মানহানির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির মানহানি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০১। মানহানিকর বলিয়া পরিচিত বিষয় মুদ্রণ বা খোদাইকরণ

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন বস্তু মুদ্রণ করে বা খোদাই করে যে বস্তু অন্য কোন ব্যক্তির ষানহানিকর বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার সঙ্গত কারণ রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০২। মানহানির বিষয় সম্বলিত মুদ্রিত বা খোদাইকৃত বস্তু বিক্রয়

যদি কোন ব্যক্তি মুদ্রিত বা খোদাই করা এমন মানহানিকর বিষয় সম্বলিত কোন দ্রব্য বিক্রয় করে বা বিক্রয়ার্থে উপস্থাপন করে যে মালিকের বস্তুটি সে দ্রব্যে রয়েছে বলে সে জানে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০৩। অপরাধ ভীতিপ্রদর্শন

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তিকে তার দেহের খ্যাতির বা সম্পত্তির অথবা সে ব্যক্তি যার সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন কোন লোকের দেহের বা খ্যাতির ক্ষতি বা হানি করার ভীতি প্রদর্শন করে এবং সে ব্যক্তির ভয় সরকারের উদ্দেশ্যে অথবা সে ব্যক্তিকে হুমকি হতে বাঁচার জন্য সে আইনতঃ যা করতে বাধ্য নয়, তাকে তা করতে বাধ্য করায়, অথবা সে আইনত যা করার ক্ষমতা সম্পন্ন, তাকে তা করা হতে বিরত থাকতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ ভীতি প্রদর্শন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন করে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- ভীতি প্রদর্শিত ব্যক্তির স্বার্থ নিহিত আছে এমন কোন মৃত ব্যক্তির সুনাম নষ্ট করার ভীতি প্রদর্শন এই ধারার আওতাধীন হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক খ-কে একটি দেওয়ানী মামলা পরিচালনা করা হতে বিরত করার জন্য খ-এর বাড়ি পুড়ে ফেলার ভীতি প্রদর্শন করে, ক অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের দায়ে অপরাধী হবে।

৫০৪। শাস্তিভঙ্গের জন্য উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য কোন ব্যক্তিকে অপমান করে এবং তদ্বারা তাকে উস্কানি দান করে এবং অনুরূপ উস্কানির ফলে যাতে সে ব্যক্তি শান্তিভঙ্গ বা অপর কোন অপরাধ করে, তদুদ্দেশ্যে কিংবা অনুরূপ উস্কানির ফলে সে ব্যক্তি শান্তিভঙ্গ করতে পারে বা অপর কোন অপরাধ করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও যদি তা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০৫। জনগণের অনিষ্ট সাধনে সহায়ক বিবৃতিসমূহ

কোন ব্যক্তি যদি কোন বিবৃতি, গুজন বা রিপোর্ট প্রণয়ন করে, প্রকাশ করে বা বিতরণ করে-

(ক) বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর, নৌবাহিনীর বা বিমানবাহিনীর কোন অফিসার, সৈনিক, নাবিক বা বৈমানিককে বিদ্রোহ করার বা অপর কোনভাবে তার কর্তব্যে অবহেলা করার জন্য প্রবৃত্ত করার অভিপ্রায়ে বা এইরূপ ঘটতে পারে জানা সত্ত্বেও এইরূপ অভিপ্রায়ে; অথবা

(খ) জনসাধারণের বা জনসাধারণের শ্রেণীবিশেষের মধ্যে এমন আতঙ্ক সৃষ্টি করার অভিপ্রায়ে যার ফলে কেউ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বা শান্তি বিরুদ্ধ কোন অপরাধ অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত হয়; অথবা

(গ) কোন জনসম্প্রদায় বা জনশ্রেণীবিশেষকে উত্তেজিত করে অপর কোন জনসম্প্রদায় বা জনশ্রেণীবিশেষের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ অনুষ্ঠানে প্রবৃত্ত করার অভিপ্ৰায়ে বা অনুরূপ প্রবৃত্ত হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও এরূপ অভিপ্ৰায়ে; অথবা

(ঘ) বিভিন্ন ব্যক্তি সমাজ, শ্রেণী বা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে শক্রতার অনুভূতি, ঘৃণা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি বা বাড়ার অভিপ্ৰায়ে বা সৃষ্টি বা বাড়াতে পারে উহার অভিপ্ৰায়ে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যতিক্রম (Exception)- কোন ব্যক্তি যদি অনুরূপ বিবৃতি, গুজব বা রিপোর্ট প্রণয়ন বা প্রকাশ বা বিতরণকালে অনুরূপ বিবৃতি, গুজব বা রিপোর্ট সত্য বলে তার বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকে এবং উপরোক্তরূপ কোন অভিপ্রায় ছাড়া তা প্রণয়ন, প্রকাশ বা বিতরণ করে, তবে তা এই ধারা অনুসারে অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

৫০৬। অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

মৃত্যু অথবা গুরুতর আঘাত ইত্যাদির ভীতি প্রদর্শন করা (In threat be to cause death or grievous hurt, etc.):-

এবং যদি হুমকিটি মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটাবার অথবা অগ্নি সংযোগে কোন সম্পত্তি ধ্বংস করার কিংবা মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের অথবা সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ অনুষ্ঠানের অথবা কোন স্ত্রীলোকের সতীত্ব নষ্ট হয়েছে বলে দুর্নাম আরোপের হুমকি হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫০৭। বেনামী চিঠিপত্রের সাহায্যে অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন

কোন ব্যক্তি যদি বেনামী চিঠিপত্রযোগে বা বেনামীভাবে সংযোগ সাধন করে, অথবা যার নিকট থেকে ভীতি প্রদর্শন করা হল, তার নাম বা ঠিকানা গোপন রাখার জন্য সর্তকর্তা অবলম্বন করে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ সংঘটন করে, তবে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য পূর্ববর্তী সর্বশেষ ধারায় বিহিত সাজার অতিরিক্ত দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৫০৮। কোন ব্যক্তিকে সে দৈব আক্রোশ কবলিত হইবে বলিয়া বিশ্বাস করিবার জন্য প্ররোচিত করিয়া কোন কার্য সম্পাদন করা

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে এইরূপ বিশ্বাস করায় যে, সে যে কাজটি করতে আইনতঃ বাধ্য নয়, সে কাজটি যদি সে না করে কিংবা সে যে কাজ করতে আইনতঃ বাধ্য সে কাজটি করা হতে যদি সে বিরত না হয়, তবে প্রথমোক্ত ব্যক্তি স্বীয় কোন কাজ কর্তৃক তাকে বা সে যার সাথে স্বার্থসংশ্লিষ্ট, এমন অপর কাউকে বিধাতার রোষভাজন করবে এবং ইচ্ছাপূর্বক এইরূপ বিশ্বাস সৃষ্টি করে তাকে দিয়ে উদিষ্ট কাজটি করায় বা করা হতে বিরত রাখে অথবা করানোর বা করা হতে বিরত রাখার উদ্যোগ করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক চ-এর দরজায় ধর্ণা দিয়ে বসে এবং তার এইরূপ বসার উদ্দেশ্য চ বিধাতার রোষে পড়বে বলে বিশ্বস সৃষ্টি করা। ক এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক চ-কে এই বলে ভয় দেখায় যে, চ যদি কোন একটা বিশেষ কার্য না করে, তবে ক তার নিজের সন্তানদের একজনকে এমন অবস্থায় হত্যা করবে যে, তার ফলে চ বিধাতার রোষভাজন হবে। ক এই ধারায় অপরাধ সংঘটন করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৫০৯। কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার অভিপ্রায়ে কোন মন্তব্য, অঙ্গভঙ্গি বা কোন কার্য

কোন ব্যক্তি যদি কোন নারীর শীলতাহানির উদ্দেশ্যে সে নারী যাতে শুনতে পায় এমন কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে নারী যাতে দেখতে পায় এমন ভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে অথবা অনুরূপ নারীর গোপনীয়তা অনধিকার লঙ্ঘন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৫১০। প্রকাশ্যে মাতাল ব্যক্তির অশোভন আচরণ

কোন ব্যক্তি যদি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় কোন প্রকাশ্য স্থানে গমন করে, বা যে স্থানে প্রবেশ করা তার পক্ষে অনধিকার প্রবেশ, সে স্থানে প্রবেশ করে এবং সে স্থানে এমন আচরণ করে, যার ফলে কারো বিরক্তি ঘটে, তবে সে ব্যক্তি চব্বিশ ঘন্টা পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা দশ টাকা পর্যন্ত যেকোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৫১১। যাবজ্জীবন কারাদন্ডে বা কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধসমূহ সংঘটনের উদ্যেগের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি এই বিধিবলে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে অথবা কারাদন্ডে দান্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটন করার অথবা অনুরূপ কোন অপরাধ সংঘটন করানোর উদ্যোগ করে এবং অনুরূপ উদ্যোগের মাধ্যমে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে কোন কাজ করে, তবে যেক্ষেত্রে অনুরূপ উদ্যোগের সাজার জন্য এই বিধিতে কোন প্রকাশ্য বিধান করা হয় নাই, সেক্ষেত্রে সে ব্যক্তি অপরাধটির জন্য সে ধরনের অপরাধের জন্য বিহিত দণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের অর্ধেক পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের যাবজীবন কারাদণ্ডে বা সে অপরাধটির জন্য যে অর্থ দণ্ডেও বিধান করা হয়েছে সে অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations 

(ক) ক একটি বাক্স ভেঙ্গে কিছু গহনাপত্র চুরি করার উদ্যোগ করে। সে বাক্সটি ভেঙ্গে দেখতে পায় যে, উহাতে কোন গহনাপত্র নাই। সে চুরির উদ্দেশ্যে এই কাজটি করেছে; সুতরাং সে এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক চ-এর পকেটে হাত দিয়ে চ-এর পকেট মারার উদ্যোগ নেয়। চ-এর পকেটে কিছুই ছিল না বলে ক-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ক এই ধারার আওতায় অপরাধী বলে পরিগণিত হবে। 

Deep-Dive
img