| এ্যাক্ট নং | ৪৭ | পার্ট | |
|---|---|---|---|
| এ্যাক্ট সাল | ২০১২ | অধ্যায় | ১৮ |
| এ্যাক্ট ডেট | ১০ ডিসেম্বর, ২০১২ | ধারা | ১৩৯ |
| সংশোধনী | তফশিল | ৩ | |
| সর্বশেষ সংশোধনী | ফর্ম |
মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান প্রণয়নকল্পে আনীত আইন।
যেহেতু মূল্য সংযোজন কর, সম্পূরক শুল্ক এবং টার্নওভার কর আরোপের ক্ষেত্র বিস্তৃতকরণ এবং কর আদায় প্রক্রিয়া সহজীকরণ সংক্রান্ত বিধি-বিধান সুসংহতকরণ এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ে বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;
সেহেতু এতদ্দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:―
(১) এই আইন মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
(২) এই আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়, দ্বাদশ অধ্যায় ও পঞ্চদশ অধ্যায় এবং ধারা ১২৮, ১৩২, ১৩৪ ও ১৩৫ অবিলম্বে কার্যকর হইবে।
(৩) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত অধ্যায় ও ধারাসমূহ ব্যতীত এই আইনের অন্যান্য অধ্যায় ও ধারাসমূহ সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে, সেই তারিখে কার্যকর হইবে।
* এস, আর, ও নং ১৬৮-আইন/২০১৯/২৫-মূসক, তারিখঃ ১৩ জুন, ২০১৯ ইং দ্বারা ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ মোতাবেক ১ জুলাই, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ হতে উক্ত উল্লিখিত অধ্যায় ও ধারাসমূহ কার্যকর ।
আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন, বিধি, প্রবিধান বা আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন অন্য কোনো দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী প্রাধান্য পাইবে।
(১) নিম্নবর্ণিত প্রত্যেক ব্যক্তি কোন মাসের প্রথম দিন হইতে মূসক নিবন্ধনযোগ্য হইবেন, যথা:¾
(ক) যে ব্যক্তির টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের শেষে সমাপ্ত ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে; বা
(খ) যে ব্যক্তির প্রাক্কলিত টার্নওভার উক্ত মাসের পূর্ববর্তী মাসের প্রারম্ভ হইতে পরবর্তী ১২ (বার) মাস সময়ে নিবন্ধনসীমা অতিক্রম করে।
2[(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে টার্নওভার নির্বিশেষে মূসক নিবন্ধিত হইতে হইবে, যিনি-
(ক) বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহ, প্রস্তুত বা আমদানি করেন;
(খ) কোন টেন্ডারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বা কোন চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে পণ্য বা সেবা বা উভয়ই সরবরাহ করে
(গ) কোন আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় নিয়োজিত
(ঘ) বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠানের ব্রাঞ্চ অফিস বা লিয়াজোঁ অফিস বা প্রজেক্ট অফিস স্থাপন করে
(ঙ) মূসক এজেন্ট হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন
(চ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত কোন নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় বা কোন নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবা সরবরাহ, প্রস্তুত বা আমদানি সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নিয়োজিত।]
(১) যদি কোন ব্যক্তি এক বা একাধিক স্থান হইতে অভিন্ন অথবা সমজাতীয় পণ্য বা সেবা বা উভয়ই সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সকল হিসাব-নিকাশ, কর পরিশোধ ও রেকর্ডপত্র সফটওয়্যার ভিত্তিক অটোমেটেড পদ্ধতিতে কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি, নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে, একটি কেন্দ্রীয় মূসক নিবন্ধন গ্রহণ করিতে পারিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, অভিন্ন বা সমজাতীয় পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা সত্ত্বেও কোন ইউনিটে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হিসাব-নিকাশ, কর পরিশোধ ও রেকর্ডপত্র স্বতন্ত্রভাবে সংরক্ষণ করিলে তাহাকে প্রতিটি ইউনিটের জন্য পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করিতে হইবে।
3[(১ক) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধারা ৫৮ এর অধীন বিশেষ পরিকল্পের অধীন তামাকজাত পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন প্রযোজ্য হইবে না
(১খ) কেন্দ্রীয় নিবন্ধন গ্রহণ ও কর পরিশোধের লক্ষ্যে বোর্ড বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবে।]
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোন ব্যক্তি দুই বা ততোধিক স্থান হইতে ভিন্ন ভিন্ন পণ্য বা সেবা সরবরাহ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তাহা হইলে তাহাকে প্রতিটি স্থানের জন্য পৃথক নিবন্ধন গ্রহণ করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিবন্ধিত ব্যক্তির কেন্দ্রীয় এক ইউনিট হইতে অপর ইউনিটে পণ্য বা সেবার আদান-প্রদান বা চলাচল সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে না এবং ফলশ্রুতিতে উৎপাদ কর দায় বা উপকরণ কর রেয়াত উদ্ভূত হইবে না।]
(১) প্রত্যেক নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট আবেদন করিবেন।
(২) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সংবলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আবেদন বিধিসম্মত না হইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কারণ উল্লেখপূর্বক, নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতিতে, আবেদনকারীকে উহা অবহিত করিবেন।]
(১) বোর্ড, সময় সময়, নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের তালিকা প্রণয়ন করিয়া উহা প্রকাশ, প্রচার ও সংরক্ষণ করিবে।
(২) কোন ব্যক্তির নাম প্রকাশিত তালিকায় না থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে না।
(৩) কোন ব্যক্তির নাম উক্ত তালিকায় থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি এই আইনের অধীন নিবন্ধিত বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) যদি কোন ব্যক্তি ধারা ৪ এর বিধান অনুযায়ী নিবন্ধনের আবশ্যকতা না থাকা সত্ত্বেও নিবন্ধিত হইতে ইচ্ছুক হন, তাহা হইলে তিনি 2[***] স্বেচ্ছায় মূসক নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট মূসক কর্মকর্তার নিকট, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তিকে নিবন্ধিত করিয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সংবলিত নিবন্ধন সনদপত্র প্রদান করিবেন।
(৩) স্বেচ্ছায় নিবন্ধিত ব্যক্তির উপর নিবন্ধিত অন্যান্য ব্যক্তির ন্যায় এই আইনের সকল বিধান প্রতিপালন বাধ্যতামূলক হইবে এবং তিনি নিবন্ধনের তারিখ হইতে অন্যূন এক বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পূর্বে নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন না।]
(১) যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা হইতে বিরত থাকেন, তাহা হইলে তিনি, নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য 1[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার] নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি যাহার আর নিবন্ধিত থাকিবার প্রয়োজন নাই, তাহার করযোগ্য সরবরাহ প্রদান অব্যাহত থাকিলে, তিনি নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে [সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার] নিকট নিবন্ধন বাতিলের জন্য আবেদন করিতে পারিবেন2[ । ]
3[***]
(৩) [সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা], নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন।
(৪) যদি কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি মূসক নিবন্ধন বাতিলের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন দাখিল না করেন এবং যথাযথ অনুসন্ধানের পর যদি [সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার] নিকট প্রতীয়মান হয় যে, উক্ত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলযোগ্য, তাহা হইলে তিনি উক্ত ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধন বাতিলের আবেদনপত্র দাখিল করিবার নির্দেশ প্রদান করিবেন এবং উক্ত নির্দেশ অনুযায়ী আবেদন করা না হইলে 4[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] স্ব-উদ্যোগে তাহার মূসক নিবন্ধন বাতিল করিতে পারিবেন।
(৫) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিলের পর যদি দেখা যায় যে, তিনি তালিকাভুক্তিযোগ্য তাহা হইলে [সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] আবেদনের ভিত্তিতে বা স্ব-উদ্যোগে তাহাকে টার্নওভার করদাতা হিসাবে তালিকাভুক্ত করিতে পারিবেন।
(৬) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির মূসক নিবন্ধন বাতিল করা হইলে, তিনি―
(ক) অনতিবিলম্বে কর চালানপত্র, 5[***] উৎসে কর কর্তন সনদপত্র, রশিদ, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট, ইত্যাদি ব্যবহার বা ইস্যু করা হইতে বিরত থাকিবেন; এবং
(খ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র এবং উহার সকল প্রত্যায়িত অনুলিপি [সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার] নিকট ফেরত প্রদান এবং বকেয়া কর পরিশোধ ও চূড়ান্ত মূসক দাখিলপত্র দাখিল করিবেন।
6[(৭) কোন ব্যক্তি অনলাইনে নিবন্ধন গ্রহণ করিবার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা¾
(ক) নিবন্ধনের আবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তির ঠিকানা, অস্তিত্ব ও কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক অন্যান্য তথ্যাদি যাচাই করিবেন;
(খ) যাচাইয়ান্তে ব্যক্তির ঠিকানা বা অস্তিত্ব পাওয়া না গেলে কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি অসত্য প্রমাণিত হইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তির নিবন্ধন বাতিলের জন্য 7[নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।]
(১) প্রত্যেক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি নিম্নবর্ণিত কারণে তাহার টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি বাতিলের জন্য 1[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার] নিকট নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, আবেদন করিতে পারিবেন, যথা:―
(ক) যদি তিনি অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করেন;
(খ) যদি তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভার পর পর তিনটি কর মেয়াদে আনুপাতিক হারে তালিকাভুক্তি সীমার নিম্নে থাকে।
(২) 2[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্ত] নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তির তালিকাভুক্তি বাতিল করিতে পারিবেন।
(৩) মূসক নিবন্ধনের জন্য দাখিলকৃত আবেদন তালিকাভুক্তি বাতিলের আবেদন হিসাবে বিবেচিত হইবে এবং 3[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] যে তারিখে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র ইস্যু করিবেন সেই তারিখের অব্যবহিত পূর্ববর্তী দিবসে টার্নওভার কর তালিকাভুক্তি বাতিল হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৪) যদি কোন ব্যক্তি তালিকাভুক্তি বাতিলের জন্য উপ-ধারা (১) এর অধীন আবেদন না করেন, তাহা হইলে 4[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতিতে, উক্ত ব্যক্তির তালিকাভুক্তি বাতিল করিয়া প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] যথাযথ অনুসন্ধানের পর যদি সন্তুষ্ট হন যে, কোন ব্যক্তি মূসক নিবন্ধনযোগ্য বা টার্নওভার কর তালিকাভুক্তিযোগ্য কিন্তু তিনি নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করেন নাই, তাহা হইলে 3[সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা] স্ব-উদ্যোগে উক্ত ব্যক্তিকে মূসক নিবন্ধিত বা টার্নওভার কর তালিকাভুক্ত করিবেন।
প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নির্দিষ্ট স্থানে মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার কর সনদপত্র বা উহার সত্যায়িত অনুলিপি এমনভাবে প্রদর্শন করিয়া রাখিবেন যাহাতে উহা সহজে দৃষ্টিগোচর হয়।
নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট নিম্নবর্ণিত তথ্যের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করিবেন, যথাঃ-
(ক) ব্যবসায়ের নাম বা অন্য কোন বাণিজ্যিক নামসহ উক্ত ব্যক্তির নাম বা ব্যবসার ধরন পরিবর্তন;
(খ) উক্ত ব্যক্তির ঠিকানা বা অন্য কোন যোগাযোগের তথ্যাদি পরিবর্তন;
(গ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার স্থান পরিবর্তন;
(ঘ) উক্ত ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের কোন তথ্যের পরিবর্তন;
(ঙ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত এক বা একাধিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃতি পরিবর্তন;
(চ) মালিকানায় বা অংশীদারিত্বে পরিবর্তন;
(ছ) নির্ধারিত অন্য কোন পরিবর্তন। ]
১) এই আইনের অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, করযোগ্য আমদানি এবং করযোগ্য সরবরাহের উপর মূসক আরোপিত ও প্রদেয় হইবে।
(২) করযোগ্য আমদানি বা করযোগ্য সরবরাহ মূল্যের সহিত উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত মূসক হার গুণ করিয়া প্রদেয় মূল্য সংযোজন করের পরিমাণ নিরূপণ ও নির্ধারণ করিতে হইবে।
1[(৩) করযোগ্য সরবরাহ বা করযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূসক হার হইবে ১৫ শতাংশ:
তবে, শর্ত থাকে যে, সরকার জনস্বার্থে তৃতীয় তফসিলে সুনির্দিষ্টকৃত যে কোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত মূসকের হার কিংবা সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কর নির্ধারণ করিতে পারিবে:
আরও শর্ত থাকে যে, কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত হ্রাসকৃত মূসক হার কিংবা সুনির্দিষ্ট করের পরিবর্তে নির্ধারিত পদ্ধতিতে ১৫ শতাংশ হারে মূসক প্রদান করিতে পারিবে। ]
নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিকে মূসক প্রদান করিতে হইবে, যথা:
(ক) মূল্য সংযোজন কর আরোপযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে: আমদানীকারক;
(খ) বাংলাদেশে করযোগ্য সরবরাহ প্রদানের ক্ষেত্রে: সরবরাহকারী;
(গ) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে: সরবরাহ গ্রহীতা;
1[(ঘ) অন্যান্য ক্ষেত্রে: সরবরাহকারী বা সরবরাহগ্রহণকারী।]
(১) ধারা ১৫ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে নিম্নবর্ণিত সরবরাহসমূহ বাংলাদেশে প্রদত্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে:―
(ক) আবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক সরবরাহ;
(খ) অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে বা উহার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক প্রদত্ত সরবরাহ;
(গ) উপ-ধারা (খ)-তে উল্লিখিত সরবরাহ ব্যতীত অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক প্রদত্ত সরবরাহ, যদি সরবরাহটি―
(অ) স্থাবর সম্পত্তির সরবরাহ হয় এবং উক্ত স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত ভূমির অবস্থান বাংলাদেশে হয়;
(আ) পণ্যের সরবরাহ হয় এবং উহা বাংলাদেশে হস্তান্তর , অর্পণ, স্থাপন বা সংযোজন করা হয়;
(ই) যদি সরবরাহটি নিম্নবর্ণিত কোন সরবরাহ হয় এবং মূসক অনিবন্ধিত ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়:―
(ক) সেবা প্রদানকালে বাংলাদেশে অবস্থান করিয়া সেবা প্রদানকারী কায়িকভাবে বাংলাদেশে সেবা প্রদান করেন;
(খ) বাংলাদেশে অবস্থিত ভূমির সহিত সরাসরি সংশ্লিষ্ট সেবার সরবরাহ হয়;
(গ) বাংলাদেশের কোন ঠিকানায় বেতার ও টেলিভিশন হইতে গৃহীত সম্প্রচার সেবা হয়;
(ঘ) সরবরাহকালে বাংলাদেশে অবস্থিত কোন ব্যক্তির নিকট ইলেক্ট্রনিক সেবা সরবরাহ;
(ঙ) টেলিযোগাযোগ সেবা যাহা কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী বা বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে অবস্থানকারী কোন বৈশ্বিক ভ্রমণকারী (global roaming) ব্যতীত বাংলাদেশে অবস্থানরত কোন ব্যক্তি কর্তৃক সূত্রপাত ঘটানো হয়।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর উপ-দফা (আ) এর উদ্দেশ্যপূরণকল্পে কোন অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক আমদানিকৃত পণ্য অভ্যন্তরীণ ভোগের নিমিত্ত খালাসের পূর্বে সরবরাহ প্রদান করা হইলে উক্ত সরবরাহ বাংলাদেশের বাহিরে প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর দফা (গ) এর উপ-দফা (ই) এর উপ-উপদফা (ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে যে ব্যক্তি টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করেন তিনি সেই ব্যক্তি―
(ক) যিনি সেবা সরবরাহকারী কর্তৃক নিম্নরূপে সনাক্তযোগ্য হন―
(অ) সরবরাহের সূচনা নিয়ন্ত্রণকারীরূপে;
(আ) সেবার মূল্য প্রদানকারীরূপে;
(ই) সরবরাহের জন্য চুক্তিকারীরূপে;
(খ) যদি একাধিক ব্যক্তি দফা (ক) এর শর্তাবলী পূরণ করেন, তাহা হইলে যিনি উক্ত দফার তালিকায় অধিকবার দৃশ্যমান হন; এবং
(গ) সেবার ধরন বা প্রকার বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তিগণের বাস্তব অবস্থান কোন কারণে সরবরাহকারী কর্তৃক সনাক্ত করা সম্ভব না হইলে, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ সেবা বা উক্তরূপ শ্রেণীর গ্রাহকের নিকট প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবার সকল প্রকার সরবরাহ, সরবরাহকারীর নিকট হইতে চালানপত্র গ্রহণকারী গ্রাহকের যে প্রকৃত বা বাস্তব আবাসিক বা বাণিজ্যিক ঠিকানা রহিয়াছে সেই স্থানে, সরবরাহটি প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
ধারা ১৭ এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন নিবন্ধিত অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক অপর কোন নিবন্ধিত গ্রহীতার নিকট সরবরাহকৃত সেবা বাংলাদেশে প্রদত্ত হইবে, যদি―
(ক) সরবরাহগ্রহীতা বাংলাদেশে কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে বা উহার মাধ্যমে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন; এবং
(খ) সরবরাহটি উক্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে বা উক্ত নির্দিষ্ট স্থানে প্রদান করা হয়।
(১) কোন অনাবাসিক ব্যক্তি বাংলাদেশের কোন নির্দিষ্ট স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা না করিলে, তাহাকে একজন মূসক এজেন্ট নিয়োগ করিতে হইবে
1[(২) অনাবাসিক ব্যক্তির সকল দায়দায়িত্ব ও কার্যাবলী উক্ত মূসক এজেন্ট পালন ও সম্পাদন করিবেন, তবে আরোপিত কর, জরিমানা, দণ্ড এবং সুদসহ যাবতীয় অর্থ পরিশোধের জন্য অনাবাসিক ব্যক্তি দায়বদ্ধ থাকিবেন।
(৩) মূসক এজেন্ট কর্তৃক সম্পাদিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবন্ধন তাহার প্রধানের (principal) নামে হইতে হইবে।
(৪) বোর্ড, মূসক এজেন্ট নিয়োগের শর্ত, পদ্ধতি ও তাহার দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, আমদানিকৃত কোন সেবা সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ হইবে, যদি―
(ক) সরবরাহ গ্রহীতা একজন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি হন এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় উক্ত সেবা অর্জন (acquire) করেন; এব
1[(খ) সরবরাহটি নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রদত্ত হইত এবং উক্ত সেবা শূন্যহার বিশিষ্ট না হইয়া অন্য কোন হারে করযোগ্য হইত।]
(২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর উক্ত ব্যক্তির উৎপাদ এবং উপকরণ উভয়বিধ কর হইবে।
(৩) আমদানিকৃত সেবা সরবরাহের কারণে যদি কোন সমন্বয় ঘটনা সংঘটিত হইয়া থাকে বা হয়, তাহা হইলে উক্তরূপ সমন্বয় সংঘটনের কারণে উক্ত সেবা একটি করযোগ্য সরবরাহ হইবে এবং উক্ত সেবার সরবরাহ গ্রহীতা সেবা সরবরাহকারী হিসাবে গণ্য হইবেন।
(৪) ‘‘আমদানিকৃত সেবা’’র সংজ্ঞা এবং উক্ত সেবার ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যপূরণকল্পে, যদি কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট কোন স্থান হইতে এবং বাংলাদেশের বাহিরে এক বা একাধিক নির্দিষ্ট স্থান হইতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে―
(ক) উক্ত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এবং বাহিরে পরিচালিত করযোগ্য কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দুইজন পৃথক ব্যক্তি হিসাবে গণ করা হইবে;
(খ) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অবস্থিত ব্যক্তির নিকট (এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংজ্ঞায়িত) সেবার প্রকৃতি বিশিষ্ট সুবিধা সম্বলিত সেবা প্রদান করিয়াছে বলিয়া গণ্য করা হইবে, যাহা বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক পরিচালিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বা ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত ব্যক্তি কর্তৃক প্রাপ্ত হইয়াছে;
(গ) সেবা সরবরাহ করা হইয়াছে উহা অনুমান করিয়া সরবরাহের সময় নির্ধারণ করা হইবে; এবং
(ঘ) সেবা সরবরাহ বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন অনাবাসিক ব্যক্তি কর্তৃক বাংলাদেশে অবস্থিত কোন সহযোগীর নিকট প্রদান করা হইয়াছে অনুমান করিয়া উহার মূল্য নির্ধারণ করা হইবে
2[(৫) এই ধারার অন্যান্য উপ-ধারাসমূহে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রথম তফসিলে বর্ণিত অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবাসমূহ ব্যতীত নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত নহেন অথবা নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তিযোগ্য নহেন এমন কোন ব্যক্তি কর্তৃক আমদানিকৃত কোন সেবা করযোগ্য সরবরাহ হইবে এবং উহা হইতে নিম্নরূপে মূল্য সংযোজন কর আদায় হইবে, যথা:
(ক) সংশ্লিষ্ট সেবা আমদানির ক্ষেত্রে সেবামূল্যের আংশিক বা পূর্ণমূল্য পরিশোধের সময় প্রদেয় সমুদয় মূল্য সংযোজন কর মূল্য পরিশোধের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত ব্যাংক বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তন করিবে; এব
(খ) কর্তনকারী ব্যাংক বা অন্য কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সেবা আমদানিকারকের পক্ষে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করিয়া তাহার দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিবে।]
(১) এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসক হার হইবে শূন্য, যথা:―
(ক) ধারা ২২, ২৩ এবং ২৪ এ উল্লিখিত কোন সরবরাহ; বা
(খ) শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ গ্রহণের অধিকার (right) বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার (option) সংক্রান্ত সরবরাহ।
(২) যদি কোন সরবরাহ অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং শূন্যহারবিশিষ্ট উভয়ই হয়, তাহা হইলে এই উপ-ধারার আওতায় সরবরাহটি অব্যাহতিপ্রাপ্ত না হইয়া শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
স্থাবর সম্পত্তির সরবরাহ শূন্যহারবিশিষ্ট হইবে, যদি স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত ভূমি বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত হয়।
(১) রপ্তানির উদ্দেশ্যে কোন পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে:
তবে শর্ত থাকে যে, পুনঃআমদানিকৃত বা পুনঃআমদানির জন্য অভিপ্রেত কোন পণ্যের 1[***] ক্ষেত্রে এই উপ-ধারার বিধান প্রযোজ্য হইবে না।
(২) নিম্নবর্ণিত সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:―
(ক) যদি পণ্যটি সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত হয় এবং উক্ত পণ্য সরবরাহকারী কর্তৃক বাংলাদেশে সংযোজন, সংস্থাপন বা আমদানি করা না হয়;
(খ) যদি পণ্যটি আমদানির পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের নিমিত্তে প্রবেশের পূর্বে বাংলাদেশের বাহিরে কোন স্থানে সরবরাহ করা হয়, তাহা হইলে উক্ত পণ্য সরবরাহকালে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত ছিল বলিয়া গণ্য হইবে;
(গ) লাইসেন্সধারী শুল্কমুক্ত পণ্য বিক্রেতা কর্তৃক পর্যটক বা বিদেশ হইতে আগত কোন দর্শনার্থীর নিকট বাংলাদেশের বাহিরে ভোগের নিমিত্ত কোন পণ্যের সরবরাহ; বা
(ঘ) যদি পণ্যটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের সমগ্র সময়কাল বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করে, তাহা হইলে উক্ত পণ্যের লিজ, হায়ার, লাইসেন্স বা উহার ব্যবহার সম্পর্কিত অন্যান্য সরবরাহ পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্তরূপ প্রতিটি সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
তবে, শর্ত থাকে যে, যদি পণ্যটি আন্তর্জাতিক ভূখন্ডে অবস্থানের অব্যবহিত পূর্বে এবং পরে বাংলাদেশে অবস্থান করে, তাহা হইলে লিজকৃত পণ্যটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(৩) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, কোন পণ্যের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অনুরূপ কাজে ব্যবহার্য কোন পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:―
(ক) যদি সরবরাহকৃত পণ্য উক্ত পণ্যের সহিত সংযোজন করা হয় বা উহার অংশে পরিণত হয় বা সংযোজিত হইবার ফলে উহা অব্যবহারযোগ্য বা নষ্ট হইয়া যায়
(খ) যদি উক্ত পণ্য 2[কাস্টমস আইনের] অধীন বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আমদানি করা হয়; বা
(গ) যদি উক্ত পণ্য বাংলাদেশে সেবা গ্রহণের নিমিত্ত অস্থায়ীভাবে আনয়ন করা হয় ও সেবা গ্রহণের পর উক্ত পণ্য সেবা গ্রহণ ব্যতীত বাংলাদেশে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করিয়া উহা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানি করা হয়
(৪) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ওয়ারেন্টিযুক্ত পণ্যের সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:―
(ক) অনাবাসিক ও অনিবন্ধিত ওয়ারেন্টি প্রদানকারী কর্তৃক পণ প্রদান করা হইবে মর্মে ওয়ারেন্টি প্রদানকারীর সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন যদি উক্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়; এবং
(খ) মালিকের উপর কোনরূপ মাশুল (charge) আরোপ ব্যতিরেকে যদি উক্ত পণ্য মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা হয়।
(৫) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজ বা অনুরূপ কোন যানবাহনের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অন্যবিধভাবে উহার কায়িক অবস্থার উপর অন্য কোন প্রভাব বিস্তারকরণের প্রক্রিয়ায় সরবরাহকৃত পণ্য শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
(৬) আন্তর্জাতিক পরিবহনে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজ সম্পর্কিত পণ্য-সম্ভার বা যন্ত্রাংশ ফ্লাইটের সময় বা সামুদ্রিক যাত্রাপথে উক্ত যানবাহনে ব্যবহার, ভোগ বা বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত হইলে উক্ত পণ্য-সম্ভার বা যন্ত্রাংশ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘পণ্য-সম্ভার’’ অর্থ কোন সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের ক্রু বা যাত্রীগণের ব্যবহার্য বা উহার রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজে ব্যবহার্য পণ্য-সম্ভার, এবং ব্যবহার্য পণ্য, জ্বালানী, খুচরা যন্ত্রাংশ, যন্ত্রপাতি, অনুরূপ পণ্য, তাৎক্ষণিক ব্যবহৃত হউক বা না হউক, উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন ভূমির সহিত প্রত্যক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
(২) সরবরাহ প্রদানকালে বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থিত কোন পণ্যের উপর কায়িকভাবে প্রদত্ত সেবা শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
(৩) নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, কোন পণ্যের মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন, ইত্যাদি কাজে ব্যবহার্য কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:―
(ক) যদি উক্ত পণ্য 1[কাস্টমস আইনের] অধীন অস্থায়ীভাবে আমদানি করা হয়; বা
(খ) যদি সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে উক্ত পণ্য বাংলাদেশে আনয়ন করিবার পর সেবা গ্রহণ শেষে বাংলাদেশে অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত না হইয়া উহা বাংলাদেশ হইতে রপ্তানি করা হয়।
(৪) আমদানিকৃত পণ্যের শুল্কমূল্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
2[(৫) বাংলাদেশের বাহিরে সেবা রপ্তানি শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।]
(৬) 3[***] কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যদি―
(ক) সরবরাহ গ্রহীতা―
(অ) কোন অনাবাসিক ব্যক্তি হন এবং সেবা সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করেন; বা
(আ) কোন আবাসিক ব্যক্তি হন এবং সেবা সরবরাহের সময় বাংলাদেশের বাহিরে অবস্থান করিয়া কার্যত উক্ত সেবা গ্রহণ করেন; এব
(খ) উক্ত সেবা―
(অ) বাংলাদেশে অবস্থিত ভূমির সহিত প্রত্যক্ষভাবে সর্ম্পকযুক্ত না হয়;
(আ) সরবরাহকালে বাংলাদেশে অবস্থিত পণ্যের উপর উহা কায়িকভাবে প্রদান করা না হয়; বা
(ই) বাংলাদেশের বাহিরে সাময়িকভাবে অবস্থানরত কোন ব্যক্তিকে বৈশ্বিক পদচারণার (global roaming) ক্ষেত্রে প্রদান করা না হয়।
(৭) উপ-ধারা (৪) এর অধীন কোন সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে না, যদি
(ক) উক্ত সেবা সরবরাহ বাংলাদেশে অন্য কোন বিষয়ে একটি পরবর্তী সরবরাহ প্রাপ্তির (যাহা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট নয়) অধিকার (right) বা ভবিষ্যতে ক্রয়ের অধিকার অর্জন (option) করা সংক্রান্ত হয়; বা
(খ) উক্ত সেবা বাংলাদেশে অনিবন্ধিত কোন ব্যক্তির নিকট সরবরাহ করিবার উদ্দেশ্যে কোন অনাবাসিক ব্যক্তির সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন সরবরাহ করা হয়।
(৮) বাংলাদেশের বাহিরে কোন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি সম্পর্কিত অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে মামলা নথিভুক্তকরণ, মামলা পরিচালনা, অধিকার অর্পণ, উহার সংরক্ষণ, হস্তান্তর, স্বত্ব হস্তান্তর, লাইসেন্সকরণ বা অধিকার বলবৎকরণ সংক্রান্ত সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
(৯) কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী কর্তৃক অন্য কোন অনাবাসিক টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারীর নিকট প্রদত্ত টেলিযোগাযোগ সেবার সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে।
(১০) মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ওয়ারেন্টিযুক্ত পণ্যের অনুকূলে প্রদত্ত সেবা সরবরাহ নিম্নবর্ণিত শর্ত সাপেক্ষে, শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:―
(ক) অনাবাসিক ও অনিবন্ধিত ওয়ারেন্টি প্রদানকারী কর্তৃক পণ প্রদত্ত হইবে মর্মে ওয়ারেন্টি প্রদানকারীর সহিত সম্পাদিত চুক্তির অধীন যদি উক্ত সেবা সরবরাহ করা হয়; 4[এবং
(খ) মালিকের উপর কোনরূপ মাশুল আরোপ ব্যতিরেকে সেবা প্রদান করা হয়।
5[(১১) নিম্নবর্ণিত সেবা সরবরাহ শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে, যথা:-
(ক) পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিবহণে বীমা সেবা সরবরাহ;
(খ) আন্তর্জাতিক পরিবহণে নিয়োজিত সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের মেরামত, সংরক্ষণ, পরিষ্কারকরণ, সংস্কার সাধন, পরিবর্তন সাধন বা অন্যকোনভাবে কায়িক অবস্থার উপর প্রভাব বিস্তারকরণের সেবা সরবরাহ; বা
(গ) আন্তর্জাতিক পরিবহণে নিয়োজিত কোন সমুদ্রগামী জাহাজ বা উড়োজাহাজের চালনা, পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনা, অনুরূপ বিষয়ের সহিত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত সেবা অনিবন্ধিত ও অনাবাসিক ব্যক্তির নিকট সরবরাহ।]
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পর্যটন সেবা বাংলাদেশে প্রদত্ত হউক বা না হউক তাহা নির্বিশেষে এবং উহা বাংলাদেশে প্রদত্ত হইলে শূন্যহার বিশিষ্ট হইবে কি-না তাহা বোর্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং প্রতি করমেয়াদে সামগ্রিক ভিত্তিতে শূন্যহার বিশিষ্ট নয় এমন পর্যটন সেবার মূল্য নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ‘‘পর্যটন সেবা’’ অর্থ আবাসন, খাদ্য, ভ্রমণ, বিনোদন এবং সমজাতীয় কোন বিষয় যা সচরাচর পর্যটক এবং আন্তর্জাতিক দর্শণার্থীদেরকে প্রদান করা হয়।
এই আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত সরবরাহসমূহ মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত হইবে, যথা:―
(ক) প্রথম তফসিলে উল্লিখিত কোন সরবরাহ বা আমদানি; বা
(খ) অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ গ্রহণের অধিকার (right) বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার (option) সংক্রান্ত সরবরাহ।
কাস্টমস আইনের অধীন যে পদ্ধতি ও সময়ে আমদানি শুল্ক আদায় করা হয় সেই একই পদ্ধতি ও সময়ে, আমদানির উপর আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য না হইলেও করযোগ্য আমদানির উপর মূসক আদায় করিতে হইবে।]
কোন করযোগ্য আমদানির ক্ষেত্রে মূসক আরোপের ভিত্তিমূল্য হইবে নিম্নবর্ণিত পরিমাণের সমষ্টি, যথা:-
(ক) কাস্টমস আইনের অধীন আমদানি শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যে ধার্যকৃত পণ্য মূল্যের পরিমাণ; এব
(খ) পণ্য আমদানির উপর প্রদেয়, যদি থাকে, আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং অন্যান্য শুল্ক ও কর (আগাম কর এবং অগ্রিম আয়কর ব্যতীত)। ]
পণ্য রপ্তানির পর উহা পুনঃআমদানি করিবার ক্ষেত্রে যদি পণ্যটির আকৃতি, প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও গুণগতমান অপরিবর্তিত থাকে, তাহা হইলে উক্ত পণ্যের মেরামতের পর যে পরিমাণ মূল্য বর্ধিত হয় উহার সহিত বীমা, ভাড়া এবং ল্যান্ডিং চার্জ যোগ করিয়া 1[শু্ল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করিতে হইবে, যাহা মূসক আরোপের ভিত্তিমূল্য হইবে]।
কোন পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের উদ্দেশ্যে খালাস বা ছাড় না করিয়া রপ্তানির উদ্দেশ্যে আনয়ন করা হইলে, উক্ত পণ্য করযোগ্য হইবে না।
(১) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি আমদানিকৃত পণ্যের সরবরাহের উপর প্রদেয় মূসক উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত হারে আগাম পরিশোধ করিবেন।
2[(২) করযোগ্য আমদানির উপর মূসক যে সময় ও পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই একই সময় ও পদ্ধতিতে করযোগ্য আমদানির মূসক আরোপযোগ্য ভিত্তিমূল্যের উপর বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে আমদানিকৃত উপকরণের ক্ষেত্রে 3[২ (দুই)] শতাংশ হারে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে 4[৭.৫ (সাত দশমিক পাঁচ)] শতাংশ হারে আগাম কর প্রদেয় হইবে।]
(৩) 5[উপ-ধারা (৩ক) এর ক্ষেত্র ব্যতীত,] প্রত্যেক নিবন্ধিত আমদানিকারক যিনি আগাম কর পরিশোধ করিয়াছেন তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ বা তৎপরবর্তী 6[ছয়টি কর মেয়াদের] মধ্যে মূসক দাখিলপত্রে পরিশোধিত আগাম করের সমপরিমাণ অর্থ হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিতে পারিবেন।
7[(৩ক) যেইক্ষেত্রে বাণিজ্যিক আমদানিকারক কর্তৃক আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ (সাত দশমিক পাঁচ) শতাংশ আগাম কর পরিশোধ করা হইয়াছে, সেইক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজনের পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশের অধিক না হইলে আমদানি পরবর্তী প্রথম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে চালানপত্র জারি সাপেক্ষে, মূসক পরিশোধ করিতে হইবে না।]
(৪) যে ব্যক্তি আগাম কর পরিশোধ করিয়াছেন কিন্তু নিবন্ধিত নহেন তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে আগাম কর ফেরত 8[গ্রহণের] নিমিত্ত কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(৫) কমিশনার আবেদন প্রাপ্তির পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে উহা নিষ্পত্তি করিবেন।]
(১) এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, করযোগ্য কোন সরবরাহের পণ হইতে উক্ত পণের কর-ভগ্নাংশের সমপরিমাণ অর্থ বিয়োগ করিয়া যাহা পাওয়া যাইবে তাহাই হইবে সরবরাহ মূল্য।
2[(২) আমদানিকৃত সেবার করযোগ্য সরবরাহের পণ্য হইবে সরবরাহের মূল্য বা সরবরাহকারী এবং সরবরাহগ্রহীতা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হইলে ন্যায্য বাজার মূল্য।]
(৩) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক তাহার সহযোগীর নিকট সরবরাহকৃত করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে উহার কর-ভগ্নাংশ বিয়োজিত মূল্য, যদি―
(ক) উক্ত সরবরাহ পণবিহীন হয় বা উহার পণ ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম হয়; এবং
(খ) উক্ত সহযোগী এইরূপ সরবরাহের নিমিত্ত উদ্ভূত সমুদয় উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণের অধিকারী না হন।
(৪) অন্যবিধভাবে নির্ধারিত না থাকিলে পণবিহীন করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে উহার কর-ভগ্নাংশ বিয়োজিত মূল্য।
3[(৫)পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ও তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপকরণ-উৎপাদ সহগ (Input-Output Coefficient) দাখিল করিতে হইবে।] ]
(১) কোন করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূসক নিম্নবর্ণিত কার্যাবলির মধ্যে যাহা সর্বাগ্রে ঘটে, উহা সংঘটিত হইবার সময় প্রদেয় হইবে, যথা
(ক) যখন সরবরাহ প্রদান করা হয়;
(খ) যখন সরবরাহ সংক্রান্ত চালানপত্র ইস্যু করা হয়;
(গ) যখন পণের আংশিক বা সমুদয় গ্রহণ করা হয়; এবং
(ঘ) যখন কোন সরবরাহ ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করা হয় বা অন্যের ব্যবহারের জন্য প্রদান করা হয়।
(২) কোন সরবরাহ আনুক্রমিক (Progressive) বা পর্যাবৃত্ত (Periodic) সরবরাহ হিসাবে বিবেচিত হইলে উহার উপর আরোপিত মূসক নিম্নবর্ণিত কার্যাবলির মধ্যে যাহা সর্বাগ্রে ঘটে, উহা সংঘটিত হইবার সময় প্রদেয় হইবে, যথা:-
(ক) যখন উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে পৃথক চালানপত্র ইস্যু করা হয়;
(খ) যখন উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে প্রাপ্য পণের আংশিক বা সমুদয় গ্রহণ করা হয়; এবং
(গ) যখন 2[আনুক্রমিক] সরবরাহের বিপরীতে মূল্য প্রদেয় হয়।
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও বিতরণ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পানি, গ্যাস, জ্বালানী তৈল বা বিদ্যুৎ এর আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্তিক সরবরাহ করা হইলে, যে তারিখে উক্ত সরবরাহের প্রত্যেকটির বিপরীতে চালানপত্র ইস্যু করা হয়, উক্ত তারিখ হইতে 3[৯০ (নব্বই)] দিনের মধ্যে প্রদেয় মূসক পরিশোধ করিতে হইবে।]
(১) আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহের প্রতিটি সরবরাহ পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে।
(২) যদি আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহের প্রতিটি সরবরাহ তাৎক্ষণিকভাবে পৃথক করা না যায়, তাহা হইলে উক্ত সরবরাহকে পৃথক সরবরাহের পর্যায়ক্রম হিসাবে গণ্য করা হইবে, যাহার প্রত্যেকটি উক্ত সরবরাহের অনুপাতের সহিত সংগতিপূর্ণ এবং যাহার সহিত পর্যায়ক্রমিক পণের প্রত্যেক পৃথক অংশ আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট।
(৩) লিজ বা সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার সংক্রান্ত সরবরাহের প্রতিটি অংশের ক্ষেত্রে, লিজ বা সম্পত্তির উক্তরূপ ব্যবহারের অব্যাহত সময়কাল সরবরাহের সময় হিসাবে গণ্য হইবে।
কোন সরবরাহে একাধিক ধরনের পণ্য বা সেবা থাকিলে নিম্নরূপে করারোপ করিতে হইবে, যথা:¾
(ক) প্রতিটি সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ধরনের পণ্য বা সেবাকে পৃথকভাবে প্রদর্শন করিতে হইবে;
(খ) অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ হইতে একক সরবরাহের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ সরবরাহকে কৃত্রিমভাবে বিভাজন করা যাইবে না। ]
(১) কোন ব্যক্তি তাহার চলমান ব্যবসা হিসাবে কোন প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে হস্তান্তর করিলে উক্ত হস্তান্তর একক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে এবং উক্ত একক সরবরাহ বাংলাদেশে কোন সরবরাহ হিসাবে বিবেচিত হইবে না।
(২) উপ-ধরা (১) এর বিধান প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে, অর্থনৈতিক কার্যক্রমটি বিক্রয়ের পর চলমান থাকিবে এইরূপ উদ্দেশ্যে চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি অর্জন করিতে হইবে এবং উক্তরূপে হস্তান্তরিত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অব্যাহত পরিচালনার নিমিত্তে যাহা কিছু প্রয়োজন তাহা ক্রেতা কর্তৃক সম্পূর্ণরূপে অর্জন করিতে হইবে।
(৩) কোন চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ পৃথকভাবে পরিচালনাযোগ্য হইলে, উক্ত অংশ একটি পৃথক অর্থনৈতিক কার্যক্রম হিসাবে গণ্য হইবে।
(৪) উপ-ধারা (১) এর বিধান প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে, সরবরাহকারীর উপকরণ কর রেয়াত প্রাপ্যতা নির্ধারণের লক্ষ্য,―
(ক) হস্তান্তরের জন্য গৃহীত সেবার উপর প্রদত্ত উপকরণ কর সরবরাহকারীর অন্যান্য কার্যক্রমের অনুবৃত্তিক্রমে নির্ধারিত হইবে; এবং
(খ) ধারা ৪৭ এর অধীন নির্ণীত রেয়াতযোগ্য অনুপাতের মধ্যে হস্তান্তরের মূল্য অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(৫) কোন ব্যক্তি প্রদেয় সমুদয় কর ও বকেয়া পরিশোধ না করিয়া কোন চলমান ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করিতে পারিবেন না।
(৬) উপ-ধারা (৫) এর বিধান সত্ত্বেও, নির্ধারিত শর্ত ও সীমা সাপেক্ষে, কমিশনার তৎকর্তৃক হস্তান্তর মঞ্জুর করিতে পারিবেন, যদি প্রদেয় সমুদয় কর ও বকেয়া পরিশোধের নিমিত্ত ক্রেতা কোন তফসিলি ব্যাংক হইতে নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিল করেন।
(৭) উপ-ধারা (১) এর বিধানমতে, হস্তান্তরের তারিখ হইতে ক্রেতা সরবরাহকারীর উত্তরাধিকার (successor) হিসাবে বিবেচিত হইবেন এবং ক্রেতা কর্তৃক এই আইন যথাযথভাবে পরিপালনের লক্ষ্যে সরবরাহকারী ক্রেতাকে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করিবেন এবং উক্তরূপ তথ্যপ্রদান নিশ্চিতকরণার্থে বোর্ড প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) যদি কোন অধিকার বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার প্রয়োগ করা হয়, তবে উক্ত অধিকার বা ভবিষ্য ক্রয় বা বিক্রয়ের অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে যে সরবরাহ প্রদান করা হয়, উহার পণ হইবে অধিকার প্রয়োগের পর অতিরিক্ত পণ থাকিলে উহার সমপরিমাণ।
(২) কোন সরবরাহের সমুদয় বা আংশিক মূল্য পরিশোধের নিমিত্ত ভাউচার গ্রহণ করা হইলে, উক্ত সরবরাহের পণ হইবে উক্ত ভাউচার মূল্য বিয়োগ করিবার পর যে মূল্য অবশিষ্ট থাকে সেই মূল্য।
(৩) কোন ভাউচার সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ না হইলে উপ-ধারা (২) প্রযোজ্য হইবে না।
ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘ভাউচার’’ অর্থ প্রদত্ত কোন রশিদ, টিকেট, স্বীকারপত্র বা ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে ইস্যুকৃত অনুরূপ দলিল যাহার বাহক পণ্য, সেবা, বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহ পাওয়ার অধিকার অর্জন করেন, তবে উহার মধ্যে ডাক টিকেট বা রাজস্ব স্ট্যাম্প অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(১) কোন টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহকারী কর্তৃক কোন আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য মূল্যছাড়সহ টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগীর নিকট সরবরাহ করা হইলে, উক্ত মূল্যছাড়সহ, উক্ত সরবরাহের পণ নিরূপণ করিতে হইবে
তবে শর্ত থাকে যে, এই ধারা একজন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী কর্তৃক অন্য কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারীর নিকট টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না
(২) কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী কর্তৃক আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য ক্রয় করিয়া পরবর্তীতে বিক্রয় করা হইলে, বিক্রয়টি কোন করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে না।
(৩) যেইক্ষেত্রে কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী তাহার প্রতিনিধির মাধ্যমে আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য বা সেবা সরবরাহ করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত প্রতিনিধিকে প্রদত্ত কমিশনসহ সরবরাহের পণ নিরূপণ করিতে হইবে।
(৪) টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী বা অন্য কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগীর প্রতিনিধি হিসাবে কার্য সম্পাদনকারী কোন টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী কর্তৃক আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্যের বিতরণ এই আইনের অধীন কোন করযোগ্য সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে না
(৫) কোন টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী যিনি আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য সরবরাহ করেন এবং এই ধারার শর্তাবলী মোতাবেক 1[মূসক ও সম্পূরক শু্ল্ক পরিশোধ] করেন, তিনি হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করিতে পারিবেন, যদি―
(ক) উক্ত দ্রব্যের অভিহিত মূল্যের আংশিক বা সমুদয় উক্ত টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কোন কিছু ক্রয়ে ব্যবহৃত হয়;
(খ) অন্য কোন ব্যক্তি―
(অ) বাংলাদেশে পরিচালিত কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সরবরাহ প্রদান করেন; বা
(আ) নিবন্ধিত হন; এবং
(গ) টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী সরবরাহের বিষয়ে অন্য কোন ব্যক্তিকে অর্থ প্রদান করেন।
(৬) হ্রাসকারী সমন্বয়ের পরিমাণ হইবে উক্ত অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদত্ত অর্থের কর-ভগ্নাংশের সমান এবং যে কর মেয়াদে উক্ত অর্থ প্রদান করা হয় সেই কর মেয়াদে সমন্বয় সাধন করিতে হইবে
(৭) আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ সেবা গ্রহণ বা দ্রব্য ব্যবহারকারী ব্যক্তির উপকরণ কর রেয়াত পাওয়ার অধিকার প্রমাণ এবং রেয়াত গ্রহণের পদ্ধতি নির্ধারণ করিয়া বোর্ড বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে
ব্যাখ্যা: এই ধারায়,
(ক) ‘‘আগাম মূল্য পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্য’’ অর্থ ফোন কার্ড, আগাম মূল্য পরিশোধের কার্ড, রিচার্জ কার্ড, বা অন্য কোন উপায়ে যেকোন টেলিযোগাযোগ পণ্য অর্জনের নিমিত্ত আগাম পরিশোধ, বা উহা যে নামেই অভিহিত বা আকারেই থাকুক না কেন, টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য পবনকাল (airtime) , ইন্টারনেট সুবিধা গ্রহণের সময় বা ডাউনলোড ক্ষমতা উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে;
(খ) ‘‘টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী’’ অর্থ এমন কোন ব্যক্তি যিনি পরিবেশক, প্রতিনিধি, মূসক এজেন্ট বা আগাম পরিশোধিত টেলিযোগাযোগ দ্রব্যাদির কোন মধ্যস্বত্বভোগী
(গ) ‘‘টেলিযোগাযোগ সরবরাহকারী’’ অর্থ টেলিযোগাযোগ সেবার সরবরাহকারী, তবে টেলিযোগাযোগ মধ্যস্বত্বভোগী উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না ;
(ঘ) ‘‘টেলিযোগাযোগ সেবা’’ অর্থ তার, বেতার, অপটিকাল (optical) বা অনুরূপ কোন তড়িৎ চুম্বকীয় পদ্ধতিতে বা ইলেক্ট্রনিক সংকেতের মাধ্যমে লেখা, প্রতিচ্ছবি প্রক্ষেপণ, প্রচার, শব্দ বা অনুরূপ কোন তথ্য প্রেরণ, নির্গতকরণ ও সংকেত গ্রহণ করা সংক্রান্ত সেবা,―
এবং নিম্নবর্ণিত বিষয়াদিও উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে, যথা:―
(অ) উক্ত প্রেরণ, নির্গতকরণ ও সংকেত গ্রহণের সামর্থ সম্বলিত ব্যবহারের অধিকার সম্পর্কিত হস্তান্তর বা এ্যাসাইনমেন্ট সেবা; এব
(আ) বৈশ্বিক বা স্থানীয় পর্যায়ের তথ্য নেটওয়ার্কে প্রবেশের সুযোগ সম্বলিত সেবা;
কিন্তু উহার মূলে থাকা (underlying) লিখন, প্রতিচ্ছবি, শব্দাবলী বা তথ্যসমূহের সরবরাহ সেবা উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(১) কোন ব্যক্তি লটারী, লাকী ড্র, হাউজি, র্যাফেল ড্র বা অনুরূপ উদ্যোগ পরিচালনা করিলে উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক বিক্রীত টিকেটের (যে নামেই অভিহিত হউক) পণ হইবে টিকেটের মূল্য।
(২) পরিবেশক বা প্রতিনিধির নিকট মূল্যছাড় প্রদান করিয়া বিক্রীত টিকেটের ক্ষেত্রে উক্ত মূল্যছাড় হিসাবে গণ্য না করিয়া উহার মূল্য নিরূপণ করিতে হইবে।
ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘টিকেটের মূল্য’’ অর্থ জয়লাভের আশায় টিকেট ধারণ এবং উক্তরূপ উদ্যোগে অংশগ্রহণে ক্রেতা কর্তৃক প্রদেয় অর্থ।
(১) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দ্রব্যের মাধ্যমে প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা হিসাবে যে পণ্য সরবরাহ করেন উহা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক তাহার কোন কর্মচারী বা কর্মকর্তাকে পণবিহীন বা ন্যায্য বাজার মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি সরবরাহের ক্ষেত্রে উহার মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের ন্যায্য বাজার মূল্য।
(১) যেইক্ষেত্রে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তির অধীন কোন পণ্য সরবরাহ করা হয়, সেইক্ষেত্রে-
(ক) উক্ত সরবরাহের উপর প্রদেয় উৎপাদ কর তখনই প্রদেয় হইবে যখন উক্ত সরবরাহের অর্থ পরিশোধ করা হইবে এবং প্রত্যেক কর মেয়াদে অর্থ প্রদানের সময় করের পরিমাণ নিরূপণ ও পরিশোধ করিতে হইবে; এবং
(খ) প্রত্যেক কর মেয়াদে নিরূপিত উৎপাদ করের পরিমাণ হইবে উক্ত মেয়াদে পরিশোধিত অর্থের কর ভগ্নাংশ।
(২) কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ চুক্তির অধীন কোন পণ্য সরবরাহ করা হইলে, প্রত্যেক কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের বিপরীতে পৃথক পৃথক কর চালানপত্র ইস্যু করিতে হইবে।
(১) যদি কোন সরবরাহের লেনদেন বাতিল হয় এবং সরবরাহকারী পূর্বে গৃহীত পণ ফেরত প্রদানকালে উহার অংশবিশেষ রাখিয়া দেয়, তাহা হইলে উক্ত বাতিলকরণের কারণে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে পণের যে অংশ রাখিয়া দেওয়া হয় উহার উপর প্রযোজ্য কর সমন্বয় করা যাইবে।
(২) যদি কোন সরবরাহের লেনদেন বাতিল হয় এবং উক্ত বাতিলের ফলশ্রুতিতে সরবরাহকারী গ্রহীতার নিকট হইতে কোন অর্থ আদায় করে, তাহা হইলে যেই কর মেয়াদে উহা আদায় করা হয় সেই কর মেয়াদে উক্ত আদায়কৃত অর্থ সরবরাহের পণ হিসাবে গণ্য হইবে এবং কর প্রদেয় হইবে।
(১) যেইক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি (পাওনাদার) কর্তৃক অপর কোন ব্যক্তির (ঋণগ্রহীতা) সম্পত্তি উক্ত পাওনাদার কর্তৃক ঋণগ্রহীতার নিকট প্রাপ্য ঋণের সমুদয় বা আংশিক আদায়ের নিমিত্ত বিক্রয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, সেক্ষেত্রে―
(ক) সরবরাহটি ঋণ গ্রহীতা কর্তৃক প্রদান করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) পাওনাদার সরবরাহের উপর প্রদেয় কর, যদি থাকে, পরিশোধ করিতে দায়ী থাকিবেন; এবং
(গ) ঋণ এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধসহ উক্তরূপ পরিশোধের পর উদ্বৃত্ত কোন অর্থ ঋণগ্রহীতার নিকট ফেরৎ প্রদানের পূর্বে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর পরিশোধযোগ্য হইবে।
(২) ঋণ গ্রহীতা এবং পাওনাদার যৌথভাবে ও পৃথকভাবে কর পরিশোধের জন্য দায়ী থাকিবেন।
(৩) কোন অনিবন্ধিত পাওনাদার কর্তৃক এই ধারার অধীন মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করিবার শর্ত ও পদ্ধতি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।
(১) যেই ক্ষেত্রে বিক্রয়যন্ত্র, মিটার বা অনুরূপ কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে (পরিশোধ টেলিফোন ব্যতীত) পণ্যের করযোগ্য সরবরাহ প্রদান করা হয় ও উহা মুদ্রা, নোট বা টোকেনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, সেইক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত বিক্রয় যন্ত্র, মিটার বা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র হইতে উক্ত মুদ্রা, নোট বা টোকেন বাহির করিবার সময় কর প্রদেয় হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে করযোগ্য সরবরাহ বিক্রয় যন্ত্র, মিটার বা অন্য কোন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে প্রদান করা হয় এবং উক্ত সরবরাহের জন্য নির্ধারিত উপায়ে অর্থ প্রদান করা হয়, সেইক্ষেত্রে সরবরাহ গ্রহণকারী ব্যক্তি কর্তৃক সরবরাহকারীকে অর্থ প্রদানকালে কর প্রদেয় হইবে।
(১) কোন কর মেয়াদে করদাতা কর্তৃক প্রদেয় নীট করের পরিমাণ নিম্নবর্ণিত উপায়ে নিরূপণ করিতে হইবে, যথা:―
(ক) উক্ত কর মেয়াদে প্রদেয় সকল উৎপাদ কর এবং সম্পূরক শুল্ক যোগ করিয়া;
(খ) উক্ত কর মেয়াদে যেই সকল উপকরণ কর রেয়াত পাওয়ার অধিকারী উহা দফা (ক) এর অধীন 1[নিরূপিত যোগফল] হইতে বিয়োগ করিয়া;
(গ) উক্ত কর মেয়াদে উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তির সকল বৃদ্ধিকারী সমন্বয় যোগ করিয়া; এবং
(ঘ) উক্ত কর মেয়াদে উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তির সকল হ্রাসকারী সমন্বয় বিয়োগ করিয়া।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে নিরূপিত নীট কর, উক্ত কর মেয়াদের দাখিলপত্র পেশ করিবার পূর্বে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করিতে হইবে।
কোন নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক আদর্শ মূসক হার বা হ্রাসকৃত হার বা সুনির্দিষ্ট কর বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূন্যহার বিশিষ্ট বা এইরূপ কতিপয় ধরনের বা এইরূপ সকল ধরনের পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হইলে কেবল শূন্যহার ও আদর্শ মূসক হারে সরবরাহকৃত পণ্য বা সেবার বিপরীতে উপকরণের উপর পরিশোধিত মূসক রেয়াত গ্রহণ করা যাইবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক উপকরণ হিসেবে পণ্য বা সেবা সরবরাহ গ্রহণের পর ধারা ৪৬ অনুসরণপূর্বক সমুদয় সরবরাহের বিপরীতে রেয়াত গ্রহণ করিতে পারিবেন, তবে, সংশ্লিষ্ট কর মেয়াদ সমাপ্তির পর তাহাকে উক্ত কর মেয়াদে সরবরাহকৃত হ্রাসকৃত হার বা সুনির্দিষ্ট কর বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা এইরূপ কতিপয় ধরনের বা এইরূপ সকল ধরনের পণ্য বা সেবার উপকরণের বিপরীতে গৃহীত রেয়াত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়পূর্বক দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিতে হইবে।]
(১) নির্ধারিত পরিমাণ, শর্ত, সময়সীমা ও পদ্ধতিতে করদাতা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন, যথাঃ
(ক) উৎসে কর্তিত করের বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(খ) বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়নের ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(গ) ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পরিশোধ না করিবার ফলে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ঘ) ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত (private use) পণ্যের ক্ষেত্রে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ঙ) নিবন্ধিত হইবার পর বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(চ) নিবন্ধন বাতিলের কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(ছ) মুসক হার পরিবর্তিত হইবার কারণে বৃদ্ধিকারী সমন্বয়;
(জ) সুদ, জরিমানা, অর্থদণ্ড, ফি ইত্যাদি পরিশোধ সংক্রান্ত বৃদ্ধিকারী সমন্বয়; বা
(ঝ) নির্ধারিত অন্য কোন বৃদ্ধিকারী সমন্বয়।
(২) নির্ধারিত পরিমাণ, শর্ত, সময়সীমা ও পদ্ধতিতে করদাতা নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন, যথাঃ-
(ক) আগাম কর হিসাবে পরিশোধিত অর্থের হ্রাসকারী সমন্বয়;
(খ) সরবরাহকারী কর্তৃক প্রদত্ত সরবরাহের বিপরীতে উৎসে কর্তিত করের হ্রাসকারী সমন্বয়;
গ) বাৎসরিক পুনঃহিসাব প্রণয়ন বা নিরীক্ষার ফলে প্রযোজ্য হ্রাসকারী সমন্বয়
(ঘ) ক্রেডিট নোট ইস্যুর কারণে হ্রাসকারী সমন্বয়;
[***]
(চ) মূসক হার হ্রাস পাইবার ক্ষেত্রে হ্রাসকারী সমন্বয়;
(ছ) পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে নেতিবাচক অর্থের পরিমাণ জের টানিবার নিমিত্ত হ্রাসকারী সমন্বয়;
(জ) পূর্ববর্তী কর মেয়াদে অতিরিক্ত পরিশোধিত মূসক হ্রাসকারী সমন্বয়;3[***]
4[(জজ) নিবন্ধিত হইবার পর হ্রাসকারী সমন্বয়; বা]
(ঝ) নির্ধারিত অন্য কোন হ্রাসকারী সমন্বয়।]
১) 2[ধারা ৩৩ এর বিধানাবলী সত্ত্বেও, ] উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, কোন সরবরাহকারী উৎসে কর কর্তনকারী সত্তার নিকট চুক্তি, টেন্ডার, কার্যাদেশ বা অন্যবিধভাবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা শূণ্যহার বিশিষ্ট নহে এমন সরবরাহ প্রদান করিলে, উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা উক্ত সরবরাহকারীর নিকট পরিশোধযোগ্য পণ হইতে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্দিষ্টকৃত মূসক উৎসে কর্তন করিবে।]
(২) সরবরাহকারী নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত না হইলে এবং 3[কর চালানপত্র ] জারি না করিলে, উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা সরবরাহকারীর নিকট হইতে কোন সরবরাহ গ্রহণ করিবে না এবং সরবরাহকারীকে উক্ত সরবরাহের বিপরীতে কোন মূল্য পরিশোধ করিবে না 4[;]
5[তবে শর্ত থাকে যে, সরবরাহ গ্রহীতা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত নহে এইরূপ ব্যক্তির নিকট হইতে সরবরাহ গ্রহণ করিয়া থাকিলে প্রযোজ্য মূসক পরিশোধে তিনি দায়ী থাকিবেন।]
6[(৩) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে উৎসে মূসক কর্তন ও পরিশোধ করিবে।]
(৪) উৎসে কর কর্তন এবং সরকারি কোষাগারে জমা প্রদানের জন্য উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা এবং সরবরাহকারী যৌথ ও পৃথকভাবে দায়ী থাকিবে।
7[(৫) কোনো প্রকল্পের আওতায় কোনো সেবা গ্রহণকারী কর্তৃক প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর যদি সেবা গ্রহণকারী বা, ক্ষেত্রমত, সেবার মূল্য বা কমিশন পরিশোধকারী ব্যক্তি সেবার মূল্য বা কমিশন পরিশোধকালে নির্ধারিত পদ্ধতিতে উৎসে আদায় বা কর্তনপূর্বক সরকারি ট্রেজারিতে জমা করেন এবং উক্ত সেবা সরবরাহকারী ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত সমুদয় সেবার অংশবিশেষ সরবরাহের লক্ষ্যে কোন সাব-কন্ট্রাক্টর, এজেন্ট বা অন্যকোন সেবা সরবরাহকারী ব্যক্তিকে নিয়োগ করেন, সেইক্ষেত্রে উক্ত সেবা সরবরাহকারীর সাব-কন্ট্রাক্টর, এজেন্ট বা নিয়োগকৃত অন্যকোন সেবা সরবরাহকারী ব্যক্তির নিকট হইতে, উক্ত একই সেবার উপর প্রথম পর্যায়ে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর আদায় বা কর্তন এবং সরকারি ট্রেজারিতে জমা প্রদানের দালিলিক প্রমাণাদি উপস্থাপন সাপেক্ষে, কেবল প্রথম সাব-কন্ট্রাক্টরের সরবরাহের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর প্রযোজ্য হইবে না; এবং প্রকল্পের আওতায় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হইবে না।]
(১) উৎসে কর কর্তন করা হইলে, নিবন্ধিত ব্যক্তি উৎসে কর্তিত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ নির্ধারিত পদ্ধতিতে হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন।
1[(২) যে কর মেয়াদে কোন সরবরাহের বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করা হয়, সেই কর মেয়াদে বা সেই কর মেয়াদের 2[পরবর্তী 3[৬ (ছয়)] কর মেয়াদে] উক্ত সমন্বয় সাধন করিতে হইবে এবং উক্ত সময়ের পর সমন্বয় দাবী তামাদি হইবে।]
4[(৩) সরবরাহকারী উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা হইতে উৎসে কর কর্তন সনদপত্র গ্রহণ ব্যতীত হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন না। ]
প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি করযোগ্য সরবরাহের উপর যে তারিখে কর প্রদেয় হইবে সেই তারিখে বা তৎপূর্বে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে একটি কর চালানপত্র জারি করিবেন।]
(১) ক্রেডিট বা ডেবিট নোটে নিম্নবর্ণিত তথ্যাবলী অন্তর্ভুক্ত থাকিতে হইবে, যথা:―
(ক) ডেবিট বা ক্রেডিট নোটের ক্রমিক নম্বর, ইস্যুর তারিখ ও সময়;
(খ) সরবরাহকারীর নাম, ঠিকানা ও ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা;
(গ) প্রাসঙ্গিক মূল কর চালানপত্রের ক্রমিক নম্বর, তারিখ ও সময়;
(ঘ) সমন্বয়ের প্রকৃতি;
(ঙ) মূসকের পরিমাণের উপর প্রভাব;
(চ) সরবরাহের উপর প্রদেয় মূসকের প্রভাব ৫,০০০.০০ (পাঁচ হাজার) টাকার অধিক হইলে সরবরাহ গ্রহীতার নাম, ঠিকানা ও 1[ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)]; এবং
(ছ) সমন্বয় ঘটনার কারণে বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়ের পরিমাণ সনাক্তকরণের নিমিত্ত প্রয়োজনীয় তথ্য
(২) কোন ক্রেডিট নোটে উপ-ধারা (১) এর দফা (চ) এ উল্লিখিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে, উক্ত ক্রেডিট নোট হ্রাসকারী সমন্বয় দাবীর সমর্থনে ব্যবহার করা যাইবে না।
কর দলিলাদি ও উহার অনুলিপি ইস্যু, সংরক্ষণ ও দাখিলের শর্ত , পদ্ধতি, সময়সীমা, ইত্যাদি সংক্রান্ত বিধান বোর্ড বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির উপর, বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহের উপর এবং বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত এবং প্রদেয় হইবে।
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভোগের নিমিত্ত আমদানি না করিয়া রপ্তানির নিমিত্ত আমদানি করা হইলে, উক্ত পণ্যের আমদানির উপর কোন সম্পূরক শুল্ক আরোপিত হইবে না
(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্যহার 1[বিশিষ্ট মূসক] আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপিত হইবে না
(৪) প্রদেয় সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ হইবে-
(ক) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য কোন পণ্য বা সেবার উপর দ্বিতীয় তফসিলের কলাম (৪) এ কোন সম্পূরক শুল্ক হার সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকিলে, উক্ত পণ্য বা সেবার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্যের সহিত উক্ত হার গুণ করিয়া নিরূপিত অর্থ; ব
(খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য কোন পণ্য বা সেবার উপর দ্বিতীয় তফসিলের কলাম (৪) এ সম্পূরক শুল্কের পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ থাকিলে, উক্ত পরিমাণ।
(৫) কোন সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর কেবলমাত্র একটি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে।
নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিকে সম্পূরক শুল্ক প্রদান করিতে হইবে, যথা:―
(ক) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে: আমদানিকারক
(খ) বাংলাদেশে প্রস্ত্ততকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে: সরবরাহকারী; বা
(গ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে: ভিন্নরূপ নির্ধারিত না থাকিলে সেবা সরবরাহকারী।
সম্পূরক শুল্ক আরোপের উদ্দেশ্যে পণ্য বা সেবার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হইবে নিম্নরূপ, যথা:―
(ক) আমদানিকৃত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের ক্ষেত্রে, 1[কাস্টমস আইনের] ধারা ২৫ বা ধারা ২৫(ক) এর অধীন আমদানি শুল্ক আরোপনীয় মূল্যের সহিত আমদানি শুল্ক 2[, রেগুলেটরি ডিউটি এবং অন্যান্য শুল্ক] (যদি থাকে) যোগ করিয়া যে মূল্য হয় সেই মূল্য;
(খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবার সরবরাহের ক্ষেত্রে, পণ্য বা সেবার করযোগ্য সরবরাহের মূল্য হইবে ধারা ৩২ অনুযায়ী নির্ণীত মূল্য হইতে সম্পূরক শুল্ক বিয়োগ করিয়া:
তবে শর্ত থাকে যে, সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা পণবিহীন বা অপর্যাপ্ত পণবিশিষ্ট হইলে, উহার সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হইবে উক্ত সরবরাহের কর-ভগ্নাংশ হ্রাসকৃত ন্যায্য বাজার মূল্য হইতে সম্পূরক শুল্ক বিয়োগ করিয়া; এবং
(গ) যে পণ্যের ক্ষেত্রে 3[সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের] ভিত্তিতে মূসক আরোপিত হইবে, সেই পণ্যের ক্ষেত্রে, ধারা ৫৮(২) এ বর্ণিত 4[সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য] সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য বলিয়া বিবেচিত হইবে।
(১) বাংলাদেশে প্রস্তুতকৃত 1[বা বাংলাদেশে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে আমদানিকৃত] নিম্নবর্ণিত সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের উপর সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং আদায়ের উদ্দেশ্যে বোর্ড, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধানাবলী সাপেক্ষে, উক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারকের জন্য আবশ্যকীয় বিশেষ পরিকল্প প্রণয়ন করিতে পারিবে, যথা:―
(ক) তামাকজাত পণ্য বা উহার মিশ্রিত পণ্যসহ সমতুল্য অন্য কোন পণ্য; বা
(খ) মদ জাতীয় পানীয়, মদ জাতীয় পানীয়ের উপকরণ বা সমতুল্য অন্য কোন পণ্য।
(২) উক্ত বিশেষ পরিকল্প দ্বারা বোর্ড উক্ত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং উক্ত মূল্য মূসক এবং সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য হিসাবে গণ্য হইবে।
(৩) উক্ত বিশেষ পরিকল্পে নিম্নবর্ণিত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:―
(ক) উক্ত পণ্যের মোড়ক, বোতল, পাত্র বা ধারকে বা উহার গায়ে নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য সম্বলিত স্ট্যাম্প, ব্যান্ডরোল বা বিশেষ চিহ্ন বা বিশেষ আকারের এবং ডিজাইনের ছাপ সংক্রান্ত বা অনুরূপ কোন বিষয়; এব
(খ) উক্ত স্ট্যাম্প, ব্যান্ডরোল বা বিশেষ চিহ্ন বা ছাপের প্রস্ত্ততকরণ, অর্জন, বিতরণ, সংরক্ষণ, ব্যবহার, তদারকি, পর্যবেক্ষণ, হিসাব-নিকাশ, নিষ্পত্তিকরণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বা অনুরূপ কোন বিষয়।
(১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের উপর যে সময় ও পদ্ধতিতে আমদানি শুল্ক আদায় করা হয়, সেই একই সময় ও পদ্ধতিতে, সম্পূরক শুল্ক আদায় করিতে হইবে।
(২) এই আইনে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে, সম্পূরক শুল্ক আদায় এবং পরিশোধের উদ্দেশ্যে 1[কাস্টমস আইনের] বিধানাবলী (প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং অভিযোজনসহ) এমনভাবে প্রযোজ্য হইবে যেন আমদানির উপর প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক একটি আমদানি শুল্ক
(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধানাবলীর সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া, 2[কাস্টমস আইনের] অধীন কোন পরিমাণ বন্ড বা গ্যারান্টির দাবী করা হইলে, উহা এমনভাবে হিসাব করিতে হইবে যেন প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক আমদানি পণ্যের উপর একটি আমদানি শুল্ক।
(১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য বা সেবা সরবরাহের উপর যে সময়ে মূসক প্রদেয় হইবে, সেই একই সময়ে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে।
(২) সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের জন্য দায়ী ব্যক্তি দাখিলপত্রে সম্পূরক শুল্ক সংক্রান্ত তথ্যাদি উল্লেখ করিবেন।
(১) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য প্রস্তুতকারী কোন ব্যক্তি যদি তৎকর্তৃক সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমাণের বিষয়ে নিরীক্ষাকালে যথাযথ ও সুনির্দিষ্ট হিসাব প্রদান করিতে না পারেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির ঘোষিত উপকরণ-উৎপাদ সহগ এর ভিত্তিতে সরবরাহকৃত পণ্যের পরিমাণ নির্ণীত হইবে এবং উক্ত ব্যক্তি পণ্যসমূহ ন্যায্য বাজার মূল্যে সরবরাহ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) যদি উক্ত পণ্য অগ্নিকান্ড বা অন্য কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহা হইলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনারের নিকট আবেদন করিলে এবং উক্ত আবেদন বিবেচিত হইলে সেই ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক প্রদেয় হইবে না।]
সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের আমদানিকারক নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও সময়ে আমদানির উপর তৎকর্তৃক পরিশোধিত সম্পূরক শুল্কের হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করিতে পারিবেন, যদি পণ্যটি কাস্টমস আইনের অধীন শুল্ক-করাদি প্রত্যর্পণের (Drawback) শর্তাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।]
(১) তালিকাভুক্ত বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তি তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের টার্নওভারের উপর 1[৪ (চার)] শতাংশ হারে টার্নওভার কর প্রদান করিবেন:
2[***]
(২) কোন তালিকাভুক্ত ব্যক্তির কোন কর মেয়াদে প্রদেয় টার্নওভার কর, উক্ত কর মেয়াদের দাখিলপত্র পেশ করিবার পূর্বে পরিশোধ করিতে হইবে।
(৩) প্রদেয় টার্নওভার কর নিরূপণ ও আদায় পদ্ধতি, হিসাবরক্ষণ, টার্নওভার কর প্রত্যর্পণ, ন্যায়-নির্ণয়ন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।
3[(৪) তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ক্রয়কৃত উপকরণের উপর পরিশোধিত মূল্য সংযোজন কর বা টার্নওভার কর রেয়াত গ্রহণ কিংবা হ্রাসকারী সমন্বয় করা যাইবে না।]
(১) প্রত্যেক নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত বা নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রত্যেক কর মেয়াদের জন্য মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে 1[:
তবে শর্ত থাকে যে, ১৫ (পনেরো) তম দিবসে সরকারি ছুটি থাকিলে তৎপরবর্তী কার্যদিবসে দাখিলপত্র পেশ করিতে হইবে 2[:] ]
3[আরো শর্ত থাকে যে, কোনো সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, ব্যাংক, বীমা এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর মেয়াদ সমাপ্তির অনধিক ২০ দিনের মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে পারিবে।]
4[(১ক) এই আইনের অন্যান্য বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের কারণে জনস্বার্থে, বোর্ড, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, আদেশ দ্বারা, উক্তরূপ আপৎকালীন সময়ের জন্য সুদ ও জরিমানা আদায় হইতে অব্যাহতি প্রদানপূর্বক দাখিলপত্র পেশের সময়সীমা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।
(১খ) উপ-ধারা (১ক) এ উল্লিখিত আদেশ ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকরতা প্রদান করা যাইবে।]
(২) মূসক দাখিলপত্রে সম্পূরক শুল্ক পরিশোধের তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিয়া উক্ত দাখিলপত্রে পেশ করিতে হইবে।
নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে আবেদনের ভিত্তিতে কমিশনার কোন ব্যক্তিকে বিলম্বে দাখিলপত্র পেশ করিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন, তবে উক্ত অনুমতি কর পরিশোধের প্রকৃত তারিখকে ১ (এক) মাসের অধিক বর্ধিত করিবে না বা সুদ পরিশোধের দায়-দায়িত্বকে পরিবর্তন করিবে না।
নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে করদাতার আবেদনক্রমে কমিশনার দাখিলপত্রের কোন করণিক ক্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করিয়া সংশোধিত দাখিলপত্র পেশ করিবার অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন; তবে, যে পারিপার্শ্বিকতার ভিত্তিতে এই ধারার অধীন সংশোধনীর ফলে হ্রাসকৃত সমন্বয়ের উদ্ভব হইবে এবং জরিমানা পরিশোধ ব্যতীত দাখিলপত্র দাখিল করা যাইবে তাহা বোর্ড নির্ধারণ করিতে পারিবে।
নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে কমিশনার নোটিশের মাধ্যমে কোন ব্যক্তিকে কোন একটি কর মেয়াদের জন্য পূর্ণ, অতিরিক্ত বা বিকল্প দাখিলপত্র পেশ করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং উক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট কর মেয়াদে মূল দাখিলপত্র পেশ না করিবার ক্ষেত্রেও অনুরূপ আদেশ প্রদান করা যাইবে।
(১) যদি কোন কর মেয়াদে উপকরণ কর এবং প্রাপ্য হ্রাসকারী সমন্বয়ের সমষ্টি, উৎপাদ কর, সম্পূরক শুল্ক এবং বৃদ্ধিকারী সমন্বয়ের সমষ্টিকে অতিক্রমের কারণে উক্ত কর মেয়াদে প্রদেয় নীট অর্থের পরিমাণ ঋণাত্মক হয়, তাহা হইলে অতিরিক্ত পরিমাণ অর্থ জের টানিতে হইবে এবং পরবর্তী ছয়টি কর মেয়াদে উক্ত অর্থ বিয়োজন করা যাইবে, তৎপরবর্তীতে অবশিষ্ট অর্থ এই ধারা অনুসারে ফেরৎ প্রদান করিতে হইবে।
(২) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তিকে পূর্ববর্তী কর মেয়াদ হইতে জের টানা অতিরিক্ত অর্থ নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে হ্রাসকারী সমন্বয় প্রদান করিতে হইবে-
(ক) সকল উৎপাদন করের পরিমাণ এবং এই ধারার অধীন প্রদত্ত সমন্বয় ব্যতীত অন্যান্য সমুদয় সমন্বয় হিসাবে লইয়া পরবর্তী কর মেয়াদে উক্ত মেয়াদের জন্য প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে হইবে;
(খ) যদি নিরূপিত অর্থের পরিমাণ ধনাত্মক হয়, তবে পূর্বের কর মেয়াদ হইতে জের টানা অতিরিক্ত অর্থের এমন অংশ হ্রাসকারী সমন্বয় প্রদান করিতে হইবে যাহাতে প্রদেয় অর্থের পরিমাণ শূণ্যে হ্রাস পায়;
(গ) পূর্বের কর মেয়াদ হইতে জের টানা যে পরিমাণ অর্থ দফা (খ) এর অধীন সমন্বয় করা যাইবে না, উহা ততক্ষণ পর্যন্ত জের টানিতে হইবে, যতক্ষণ না-
(অ) কোন কর মেয়াদের জন্য জের টানা সমুদয় অতিরিক্ত অর্থ বিয়োজিত হয়; ব
(আ) নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জের টানা অতিরিক্ত অর্থের আংশিক বা সমুদয় পরিমাণ ছয়টি কর মেয়াদ পর্যন্ত জের টানা হয়।(৩) যদি ছয়টি কর মেয়াদ যাবৎ জের টানিবার পর অতিরিক্ত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, তাহা হইলে-
(ক) অতিরিক্ত অর্থের পরিমাণ (৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকার অধিক না হইলে উক্ত পরিমাণ শূণ্যে হ্রাস না পাওয়া পর্যন্ত উহার জের টানিতে হইবে; বা
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, উক্ত পরিমাণ অর্থ নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে আবেদন প্রাপ্তির ৩ (তিন) মাসের মধ্যে ফেরৎ প্রদান করিতে হইবে।]
(১) ধারা ৬৮ এর বিধানাবলী সত্ত্বেও, কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির প্রদেয় অর্থের পরিমাণ ঋণাত্মক হইলে, তিনি উহা ফেরৎ পাওয়ার অধিকারী হইবেন, যদি 1[কমিশনার বা মহাপরিচালক] নিশ্চিত হন যে,
(ক) উক্ত ব্যক্তির টার্নওভারের ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ বা তদূর্ধ্ব তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ হইতে উদ্ভূত হয় বা হইবে;
(খ) উক্ত ব্যক্তির উপকরণ ব্যয়ের ৫০ (পঞ্চাশ) শতাংশ বা তদূর্ধ্ব আমদানি বা অর্জন তৃতীয় অধ্যায় এর অধীন শূন্য করহার বিশিষ্ট সরবরাহ প্রস্তুতে ব্যবহৃত হয়
2[(গ) উক্ত ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রকৃতির ফলে (যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ধারা ৬৮ এর উপ-ধারা (২) প্রযোজ্য নহে) নিয়মিতভাবে অতিরিক্ত উপকরণ কর রেয়াতের 3[বা হ্রাসকারি সমন্বয়ের] উদ্ভব হয়;
(ঘ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি পর্যায়ে উপকরণের উপর প্রদত্ত সম্পূরক শুল্ক হ্রাসকারী সমন্বয়যোগ্য হয় এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক স্থানীয় সরবরাহ পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য সরবরাহ না করা হয়।]
(২) এই ধারার অধীন নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে অর্থ ফেরৎ লাভের জন্য আবেদন করা হইলে,
(ক) অর্থের পরিমাণ অনূধর্ব ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা হইলে, উক্ত অর্থ পরবর্তী কর মেয়াদে হ্রাসকারী সমন্বয় হিসাবে জের টানিতে হইবে; বা
(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, আবেদনের তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাসের মধ্যে কমিশনার উক্ত অর্থ ফেরৎ প্রদান করিবেন।
(১) ধারা ৬৮ বা ধারা ৬৯ এর অধীন কোন ব্যক্তিকে অর্থ ফেরৎ প্রদান করা হইবে না, যদি না এবং যতক্ষণ না আবেদনকারী চলতি কর মেয়াদ পর্যন্ত সকল মূসক দাখিলপত্র পেশ করেন।
(২) কোন ব্যক্তির নিকট ফেরত দাবিকৃত অর্থ প্রদেয় হইলে, কমিশনার ফেরতযোগ্য অর্থ হইতে প্রথমে এই আইনের অধীন উক্ত ব্যক্তির নিকট পাওনা বকেয়া করের দায়-দেনা (সুদ, দণ্ড জরিমানাসহ) হ্রাস করিবেন।
(৩) উপ-ধারা (২) প্রয়োগের পর, যদি কোন অর্থ অবশিষ্ট থাকে এবং উহার পরিমাণ অনূধর্ব ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা হয়, তাহা হইলে কমিশনার উহা ফেরৎ প্রদান না করিয়া উক্ত অর্থ বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত কোন কর মেয়াদে হ্রাসকারী সমন্বয় হিসাবে গণ্য করিবার লক্ষ্যে নিবন্ধিত ব্যক্তিকে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানে উল্লিখিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে, 1[কমিশনার বা মহাপরিচালক] নিম্নবর্ণিত সরবরাহের উপর প্রদত্ত কর ফেরত প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:―
(ক) আপাতত: বাংলাদেশে বলবৎ কোন কনভেনশন বা অনুরূপ আন্তর্জাতিক চুক্তির অধীন মূসক হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ; বা
(খ) বাংলাদেশে অধিষ্ঠিত বিদেশী রাষ্ট্রের কূটনৈতিক বা কনস্যুলার 2[মিশনের বা আন্তর্জাতিক সংস্থার] আনুষ্ঠানিক উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রদত্ত সরবরাহ।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত ব্যক্তির নিকট প্রদত্ত সরবরাহ অব্যাহতি প্রদান বা শূন্যহার বিশিষ্ট না করিয়া ফেরৎ প্রদানের মাধ্যমে কার্যকর করা হইবে।
(১)] যদি কোন ব্যক্তি কোন কর মেয়াদের দাখিলপত্রে প্রদর্শিত প্রদেয় করের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ কর পরিশোধ করেন, তাহা হইলে নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ ফেরত গ্রহণের জন্য আবেদন করা যাইবে বা পরবর্তী 2[৬ (ছয়) কর মেয়াদের মধ্যে] দাখিলপত্রে হ্রাসকারী সমন্বয় সাধন করা যাইবে।
3[(২) যদি কোনো অনিবন্ধিত ব্যক্তি কর্তৃক ভুলবশত কোন কর পরিশোধ করা হয়, তাহা হইলে যে কমিশনারেটের অর্থনৈতিক কোডে উক্ত কর জমা প্রদান করা হইয়াছে উক্ত কমিশনারেট নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত কর ফেরত প্রদান করিতে পারিবে।]
(১) কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা কোন ব্যক্তিকে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রসমূহে তৎকর্তৃক প্রদেয় কর নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) যদি কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা দাখিলপত্র পরীক্ষা করিয়া দাখিলপত্রের যথার্থতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট না হন বা যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্বাস করেন যে,-
(অ) কোন দাখিলপত্রে উক্ত ব্যক্তি উৎপাদ কর, সম্পূরক শুল্ক বা বৃদ্ধিকারী বা হ্রাসকারী সমন্বয়ের বিষয়ে মিথ্যা ঘোষণা বা অসত্য বর্ণনা প্রদান করিয়াছেন; বা
(আ)টার্নওভার কর দাখিলপত্রে উক্ত ব্যক্তি কোন কর মেয়াদে তাহার টার্নওভার সম্পর্কে মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করিয়াছেন;
(খ) যদি উক্ত ব্যক্তি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিলপত্র পেশ করিতে ব্যর্থ হন;
(গ) যদি উক্ত ব্যক্তি প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন বা ফাঁকি প্রদান করেন বা পরিহার করেন; বা
(ঘ) যদি উক্ত ব্যক্তি অর্থ ফেরত লাভের বা প্রত্যর্পণ পাওয়ার অধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও তাহার বরাবরে অর্থ ফেরত প্রদান বা প্রত্যর্পণ প্রদান করা হয়।]
2[(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন যে ব্যক্তির উপর কর নির্ধারণ করা হয় সেই ব্যক্তি উক্ত উপ-ধারার অধীন কারণ দর্শানো নোটিশে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে লিখিতভাবে উক্ত নোটিশের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করিলে তাহাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিতে হইবে, অতঃপর উক্ত ব্যক্তির উত্থাপিত আপত্তি বিবেচনা করিয়া সংশ্লিষ্ট কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তাউক্ত আপত্তি দাখিলের ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে, যাহার মধ্যে উক্ত ব্যক্তির আবেদনের প্রেক্ষিতে অনুমোদিত সময় অন্তর্ভুক্ত হইবে না বা কোন আপত্তি দাখিল না করা হইলে উক্ত উপ-ধারার অধীন নোটিশ জারির তারিখ হইতে ১২০ (একশত বিশ) দিনের মধ্যে নোটিশ চূড়ান্তকরণের মাধ্যমে চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন, যাহাতে অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্যের সহিত নিম্নবর্ণিত বিষয়াদি উল্লেখ থাকিবে, যথা:-
(ক) কর নির্ধারণের কারণ, কর নির্ধারণের ফলে প্রদেয় করের পরিমাণ এবং যাহার ভিত্তিতে উক্ত পরিমাণ কর নির্ধারণ করা হইয়াছে উহার বিবরণ;
(খ) যে তারিখের মধ্যে কর প্রদান করিতে হইবে সেই তারিখ, তবে, উক্ত তারিখ নোটিশ জারির তারিখ হইতে কমপক্ষে ১৫ (পনের) কার্যদিবস পরে হইতে হইবে; এবং
(গ) কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করিবার স্থান ও সময়।]
3[(২ক) উপ-ধারা (১) ও উপ-ধারা (২) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যে কারণে উক্ত কর নির্ধারণ পরিস্থিতির উদ্ভব হইয়াছে উহাতে ব্যর্থতা বা অনিয়ম বা কর ফাঁকির উপাদান থাকিলে ধারা ৮৫ অনুযায়ী জরিমানা আরোপের বিষয়টি কর-র্নিধারণ সংক্রান্ত প্রাথমিক কারণ দর্শানো নোটিশে অন্তর্ভুক্ত করা যাইবে এবং উক্ত নোটিশ চূড়ান্তকরণের মাধ্যমে কর নির্ধারণ চূড়ান্ত করিবার পাশাপাশি জরিমানা আরোপের বিষয়টিও চূড়ান্ত করা যাইবে।]
4[(৩) কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা কর মেয়াদ সমাপ্তির ৫ (পাঁচ) বৎসর, তবে শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩ (তিন) বৎসরের অধিককাল পরে উল্লিখিত কর মেয়াদের জন্য সংশোধিত কর নির্ধারণসহ কোন কর নির্ধারণ করিতে পারিবেন না, যদি না-
(ক) নিবন্ধিত ব্যক্তি দাখিলপত্র পেশকরণে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা বা প্রতারণা করেন, কোন কর মেয়াদের জন্য দাখিলপত্র পেশ না করেন, বা কর মেয়াদে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করিয়া অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য আবেদন করেন; বা
(খ) নিবন্ধিত ব্যক্তি কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে কোন তথ্য গোপন করেন, বিকৃত করেন বা মিথ্যা তথ্য প্রদানপূর্বক কর চালানপত্র ইস্যু করেন বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই সকল বা অন্য কোন অপরাধ করেন; বা
(গ) আদালত বা আপীলাত ট্রাইব্যুনাল বা মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কার্যকরকরণের জন্য সংশোধিত কর নির্ধারণ প্রয়োজন হয়।]
(৪) নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে, এই ধারার কোন কিছুই 5[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তাকে] কোন সুদ বা জরিমানা আরোপে ও আদায়ে বাধা সৃষ্টি করিবে না, যথা:
(ক) প্রদেয় মূসক, সম্পূরক শুল্ক বা টার্নওভার কর পরিশোধের মূল ধার্য তারিখ হইতে হিসাব করিবার ক্ষেত্রে; বা
(খ) কোন ব্যক্তি অর্থ ফেরত লাভের অধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও, যদি তাহাকে কোন অর্থ ফেরত প্রদান করা হয় এবং উপর্যুক্তভাবে ফেরত প্রদানকৃত অর্থ সমন্বয়ের নিমিত্ত কোন কর নির্ধারণের উদ্ভব হয়, তাহা হইলে যেই তারিখে উক্ত ব্যক্তিকে অর্থ ফেরত প্রদান করা হইয়াছিল, সেই তারিখ হইতে হিসাব করিবার ক্ষেত্রে।
6[(৫) দাখিলপত্র পরীক্ষায় উপকরণ কর রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণের অনিয়ম উদঘাটিত হইলে সহকারী কমিশনারের নিম্নে নহেন এমন কর্মকর্তা উপ-ধারা (২) তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করিয়া প্রদেয় করের পরিমাণ নির্ধারণ করিতে পারিবেন।]
(১) সরবরাহ গ্রহীতা কর্তৃক প্রতারণামূলক মিথ্যা বর্ণনার কারণে, যদি কোন সরবরাহকারী ভুলবশতঃ করযোগ্য সরবরাহকে শূন্যহার বিশিষ্ট সরবরাহ বা অব্যাহতিপ্রাপ্ত সরবরাহ গণ্য করেন, তাহা হইলে 1[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা] শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া বিলম্বে মূসক পরিশোধের ফলে প্রদেয় যেকোন সুদ বা জরিমানাসহ উক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় মূসক পরিশোধের লক্ষ্যে সরবরাহ গ্রহীতার বরাবরে কর ধার্য করিতে পারিবেন, এবং সরবরাহ গ্রহীতা নিবন্ধিত হউক বা না হউক উক্তরূপ কর নির্ধারণ, গ্রহীতা কর্তৃক প্রদেয় মূসক নির্ধারণ বলিয়া গণ্য হইবে।
(২) 2[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা] সরবরাহ গ্রহীতা বরাবরে প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি নিম্নবর্ণিত বিষয় উল্লেখ করিয়া কর নির্ধারণ নোটিশ প্রেরণ করিবেন, যথা:―
(ক) কর নির্ধারণের কারণ;
(খ) কর নির্ধারণের ফলে প্রদেয় মূসকের পরিমাণ
(গ) উক্ত মূসক প্রদেয় হইবার তারিখ; এবং
(ঘ) কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপীল করিবার স্থান ও সময়।
(৩) উপ-ধারা (১) এর কোনকিছুই 3[কমিশনারকে বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তাকে] সরবরাহকারীর নিকট হইতে উক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রদেয় মূসক, সুদ বা জরিমানা আদায় করিতে বাধা সৃষ্টি করিবে না এবং তিনি সরবরাহকারীর নিকট হইতে প্রদেয় পরিমাণের অংশবিশেষ এবং গ্রহীতার নিকট হইতে অংশবিশেষ আদায় করিতে পারিবেন।
(৪) সরবরাহ গ্রহীতা কর্তৃক প্রতারণা বা মিথ্যা বর্ণনার কারণে, যদি কোন সরবরাহকারী 4[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা] বরাবরে মূসক, সুদ বা জরিমানা পরিশোধ করিয়া থাকেন, তাহা হইলে সরবরাহকারী উক্তরূপ সরবরাহের জন্য গ্রহীতার নিকট হইতে উক্ত পরিমাণ অর্থ আদায় করিতে পারিবেন।
(১) যেইক্ষেত্রে কোন অনিবন্ধিত ব্যক্তি কোন সরবরাহ গ্রহীতার নিকট পণ্য সরবরাহ করেন এবং কর চালানপত্র গণ্য করিয়া কোন মিথ্যা দলিল ইস্যু করেন, যাহা উক্ত সরবরাহকে একটি করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া প্রতীয়মান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত সরবরাহ করযোগ্য সরবরাহ বলিয়া গণ্য হইবে; এবং উক্ত ব্যক্তি নিবন্ধিত হইয়া থাকিলে, সরবরাহের ক্ষেত্রে যেই হার প্রযোজ্য হইত সেই হারে কর আদায়যোগ্য হইবে:
তবে, শর্ত থাকে যে, যদি দলিলাদিতে উচ্চতর হার প্রদর্শিত বা অনুমিত হয়, তাহা হইলে উক্ত উচ্চতর হার প্রযোজ্য হইবে।
(২) 1[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তা] উক্ত ব্যক্তিকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, তাহাকে নিবন্ধিত ব্যক্তি এবং উক্ত সরবরাহকে করযোগ্য সরবরাহ বিবেচনা করিয়া কর নির্ধারণ করিবেন।
(১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইনের কোন বিধানের অপব্যাখ্যা বা অপব্যবহার করিয়া কোন পরিকল্পের (scheme) মাধ্যমে কোন কর সুবিধা গ্রহণ করেন বা গ্রহণ করিবার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে কমিশনার করদাতাকে শুনানি প্রদান করিয়া নির্ধারিত ক্ষেত্র ও পদ্ধতিতে এমনভাবে কর সুবিধার যথার্থতা নিরূপণ, নির্ধারণ, রদকরণ বা হ্রাসকরণের জন্য যুক্তিযুক্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন এবং সুবিধা লাভকারী ব্যক্তির করদায়িতা নিরূপণ করিতে পারিবেন যেন বিশেষ প্রস্তাবটি গৃহীত হয় নাই বা কার্যকর হয় নাই।]
(২) এই ধারার উদ্দেশ্যে কোন কার্যধারা, চুক্তি, বন্দোবস্ত, প্রতিশ্রুতি, পরিকল্পনা, প্রস্তাব বা কার্যক্রম প্রকাশ্য বা নিহীত বা আইনসঙ্গতভাবে বলবৎযোগ্য হইক বা না হউক পরিকল্প (scheme) এর অন্তর্ভুক্ত হইবে।
(১) 1[চূড়ান্ত] কর নির্ধারণ নোটিশের মূল বা সত্যায়িত কপি কার্যধারায় চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে এমনরূপে গ্রহণযোগ্য হইবে যেন উক্ত কর নির্ধারণ যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হইয়াছে এবং কর নির্ধারণ সম্পর্কিত কার্যক্রম ব্যতীত, কর নির্ধারণের সকল বিষয় এবং নির্ধারিত করের পরিমাণ যথার্থ বিবেচিত হইবে।
(২) কোন কর যাহা নির্ধারণ করা হইয়াছে বা কার্যকর করা হইয়াছে, উহা আকার ও প্রকারগত কারণে রদ করা যাইবে না বা বাতিল বা বাতিলযোগ্য বলিয়া গণ্য করা যাইবে না
(৩) কোন কাজ না করা বা কোন ভুল-ক্রুটির কারণে কোন কর নির্ধারণ ক্ষতিগ্রস্ত বা প্রভাবিত হইবে না, যদি কর নির্ধারণ এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং কর নির্ধারণের আওতাধীন ব্যক্তি বা যাহার উপর কর নির্ধারিত হইতে পারে তাহার নাম 2[উক্ত চূড়ান্ত নোটিশে] সাধারণ ধারণা অনুযায়ী উল্লিখিত হয়।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মূল্য সংযোজন কর কর্তৃপক্ষ নামে একটি কর্তৃপক্ষ থাকিবে যাহা বোর্ড, তদধীন এক বা একাধিক মূল্য সংযোজন কর দপ্তর এবং নিম্নবর্ণিত মূসক কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:―
(ক) চীফ কমিশনার, মূল্য সংযোজন কর;
(খ) কমিশনার, মূল্য সংযোজন কর
(গ) কমিশনার (আপীল), মূল্য সংযোজন কর;
(ঘ) কমিশনার (বৃহৎ করদাতা ইউনিট), মূল্য সংযোজন কর;
(ঙ) মহাপরিচালক, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল;
(চ) মহাপরিচালক, নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর;
1[(চচ) মহাপরিচালক, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি;]
2[(চচচ) মহাপরিচালক, শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তর;]
3[(ছ) অতিরিক্ত কমিশনার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক বা পরিচালক (সিআইসি), মূল্য সংযোজন কর;
(জ) যুগ্ম কমিশনার, যুগ্ম পরিচালক (সিআইসি) বা পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর;]
(ঝ) উপ কমিশনার বা উপ-পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর;
(ঞ) সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালক, মূল্য সংযোজন কর;
(ট) রাজস্ব কর্মকর্তা, মূল্য সংযোজন ক
(ঠ) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, মূল্য সংযোজন কর; এবং
(ড) বোর্ড কর্তৃক নিয়োগকৃত অন্য কোন কর্মকর্তা।
4[(২) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, মূসক কর্মকর্তাগণের নিয়োগ এবং আঞ্চলিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণ করিয়া এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের আওতায় তাহাদের দায়িত্ব, কর্তব্য, ক্ষমতা ও কার্যাবলী সুনির্দিষ্ট করিতে পারিবে।]
(৩) বোর্ড, সমগ্র দেশ বা বিশেষ কোন অঞ্চলের জন্য বা একটি বিশেষ শ্রেণীর করদাতার জন্য, সরকারি গেজেটে প্রকাশিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, এক বা একাধিক বৃহৎ করদাতা ইউনিট গঠন, উক্ত ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মূসক কর্মকর্তা নিয়োগ এবং উক্ত ইউনিটের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে
5[(৪) বোর্ড, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন বিশেষায়িত কার্যক্রম (Special Function) সম্পন্নের লক্ষ্যে সরকারি গেজেটে প্রকাশিত সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা এক বা একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট (Specialized Functional Unit) গঠন, উক্ত ইউনিটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক মূসক কর্মকর্তা নিয়োগ এবং উক্ত ইউনিটে কর্মরতদের দায়িত্ব, কর্মপদ্ধতি ও ভাতা নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) বোর্ড, এই আইনের অধীন মূসক কর্তৃপক্ষের নীতি নির্ধারণী দায়িত্ব পালনসহ অন্যান্য সকল দায়িত্ব সম্পাদন, কর্তব্য পালন এবং ক্ষমতা প্রয়োগ করিবে।
(২) মূসক কর্মকর্তাগণ, বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং তত্ত্বাবধানে থাকিয়া, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক দায়িত্ব সম্পাদন, কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন, যথা:―
(ক) কর আদায় এবং উহার হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত কার্যক্রম;
(খ) এই আইন এবং উহার অধীন প্রণীত বিধি-বিধানের প্রয়োগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম; এবং
(গ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন বা কর্তব্য ও কার্যাবলী সম্পাদন।
(৩) মূসক কর্মকর্তাগণ, বোর্ড কর্তৃক সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা আরোপিত পরিসীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের অধীন—
(ক) তাহাদের উপর ন্যস্ত যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন এবং কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্তৃক অধস্তন কর্মকর্তাকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিবেন; এবং
(খ) কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাহার অধস্তন যেকোন কর্মকর্তাকে প্রদত্ত বা তাহার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন, ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্যাবলী সম্পাদন করিতে পারিবেন।
বোর্ড স্ব-উদ্যোগে মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক নিষ্পত্তিকৃত যেকোন কার্যধারার নথিপত্র, বা তৎকর্তৃক প্রদত্ত যেকোন আদেশ বা সিদ্ধান্তের যথার্থতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও সময়ে, উহা তলব করিয়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতঃ যুক্তিযুক্ত যেকোন আদেশ প্রদান করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তির জন্য এই আইনের অধীন নির্ধারিত কোন অধিকার বা বাধ্যবাধকতা ক্ষুণ্ণ করা যাইবে না।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড যে সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে, চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা, ক্ষেত্রমত, সদস্য (মূল্য সংযোজন কর), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সেই সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কার্য সম্পাদন করিতে পারিবে।
(২) বোর্ড, আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, যেকোন মূসক কর্মকর্তাকে তাহার নাম ও পদবী উল্লেখপূর্বক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি-বিধানের অধীন কমিশনারের যে কোনো দায়িত্ব, কর্তব্য ও ক্ষমতা অর্পণ করিতে পারিবে।
(৩) বোর্ডের ভিন্নতর নির্দেশ না থাকিলে, কমিশনার বা মহাপরিচালক অধস্তন যেকোন মূসক কর্মকর্তাকে তাহার এখতিয়ারাধীন এলাকায় তাহার যেকোন ক্ষমতা প্রয়োগের কর্তৃত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।
(৪) কোন মূসক কর্মকর্তাকে তাহার অব্যবহিত উচ্চতর পদে চলতি দায়িত্বে পদায়ন করিলে তিনি উক্ত উচ্চতর পদের সকল দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন।]
(১) মূসক কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন তাহাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও আনসারের যেকোন সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ, আবগারি, শুল্ক, আয়কর এবং মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকারী সকল সরকারি কর্মকর্তাসহ অন্য যেকোন 1[সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক, বীমা 2[, চার্টার্ড একাউন্টেন্ট ফার্ম] 3[, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি] ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ সহায়তা প্রদানে বাধ্য থাকিবেন]।
(২) সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন মূসক কর্মকর্তা, তাহাকে সহায়তা করিবার উদ্দেশ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত কোন সদস্য, কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা বা অন্য কোন ব্যক্তিকে যে কোন ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব, ব্যাংক এ্যাকাউন্টের হিসাব বিবরণী, দলিলাদিসহ অন্য যেকোন তথ্য সরবরাহের অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত অনুরোধের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা তলবকৃত তথ্য সরবরাহ করিতে বাধ্য থাকিবেন।
(১) কমিশনার বা মহাপরিচালক এর নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এইরূপ যে কোন মূসক কর্মকর্তা, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবেন, যথা:-
(ক) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের স্থান, অঙ্গন, ঘরবাড়ি, যানবাহন, ইত্যাদিতে প্রবেশ, তল্লাশি এবং, ক্ষেত্রমত, জব্দকরণ ও আটক; এবং
(খ) অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিদর্শন ও উহার রেকর্ডপত্র, নথিপত্র, দলিলাদি ও হিসাব পরীক্ষাকরণ ও জব্দকরণ।
(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত স্থান কাহারও আবাসস্থল হইলে, উক্ত কর্মকর্তাকে উক্ত স্থানের স্বত্বাধিকারী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা তত্ত্বাবধানকারীকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং সূর্যাস্ত হইতে সূর্যোদয় পর্যন্ত সময়ে উক্তরূপে প্রবেশ করা যাইবে না।
(৩) কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির কোন বিধান লংঘন করিলে, সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালক বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার মূসক কর্মকর্তা উক্ত ব্যক্তির ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।]
2[(৪) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাজস্ব কর্মকর্তার নিম্নে নহেন এমন কর্মকর্তা তাঁহার এখতিয়ারাধীন এলাকায় কোন নিবন্ধিত বা নিবন্ধনযোগ্য ব্যক্তির উৎপাদনস্থল বা সরবরাহস্থল বা সেবা প্রদানস্থল বা ব্যবসায়স্থল পরিদর্শন এবং মজুদ পণ্য, সেবা, উপকরণ ও হিসাব পরীক্ষা করিতে পারিবেন।]
3[(৫) বিভাগীয় কর্মকর্তার লিখিত আদেশক্রমে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় মূল্য সংযোজন কর কার্যালয়ের ভৌগোলিক এলাকায় পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ, বিক্রয় যাচাই এবং বিভাগীয় কর্মকর্তা কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত অন্য কোনো কার্য সম্পাদন করিতে পারিবেন।]
(১) যদি কোন ব্যক্তি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধান লংঘন করিয়া কোন পণ্য সরবরাহ করেন বা কোন সেবা প্রদান করেন, তাহা হইলে উক্ত পণ্য, বা সেবা প্রদানের সহিত 1[সংশ্লিষ্ট পণ্য, দলিলাদি ও যানবাহন কমিশনার বা মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আটক,] জব্দ ও নিষ্পত্তি করিতে পারিবেন
(২) কোন কার্যধারা নিষ্পন্নাধীন থাকা অবস্থায় উপ-ধারা (১) এর অধীন জব্দকৃত পণ্য কমিশনার উহার মালিক বা প্রতিনিধির অনুকূলে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে অন্তবর্তীকালীন ছাড় প্রদান করিতে পারিবেন।
(১) রাজস্ব কর্মকর্তার নিমেণ নহেন এমন কোন মূসক কর্মকর্তা এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনে যে কোন ব্যক্তিকে সাক্ষ্য প্রদান ও দলিলাদি উপস্থাপনের জন্য সমন প্রেরণ করিতে পারিবেন।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন সমনকৃত যে কোন ব্যক্তি উক্ত কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইতে বাধ্য থাকিবেন:
তবে শর্ত থাকে যে, দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১৩২ ও ১৩৩ এর অধীন সশরীরে উপস্থিত হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে সশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য সমন প্রেরণ করা যাইবে না।
(১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার প্রয়োগ ও কার্যকরকরণার্থ কাস্টমস কর্মকর্তাগণের নিম্নবর্ণিত দায়িত্ব থাকিবে, যথা:-
(ক) করযোগ্য আমদানির উপর আরোপিত মূসক ও আগাম কর আদায়; এবং
(খ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্য আমদানির উপর প্রদেয় সম্পূরক শুল্ক আদায়।
(২) আমদানি পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে কাস্টমস আইন দ্বারা কাস্টমস কর্মকর্তা যেইরূপ ক্ষমতাপ্রাপ্ত হন সেইরূপ ক্ষমতা এই আইনের অধীন আমদানি পণ্যের উপর মূসক, সম্পূরক শুল্ক এবং আগাম কর আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হইবে।]
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ২০ নং আইন) এর বিধান সাপেক্ষে, এই আইনের প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোন করদাতার নিকট হইতে প্রাপ্ত সকল তথ্য এবং দলিলাদি গোপনীয় গণ্য হইবে।
সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কাস্টমস আইন বা Excises and Salt Act, 1944 (Act No. I of 1944) এবং উহার অধীন প্রণীত বিধিমালার যে কোন বিধান প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সহকারে এই আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবে।]
(১) কর ফাঁকি রোধকল্পে কমিশনার বা মহাপরিচালক এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন যেকোন ব্যক্তির অর্থনৈতিক কার্যক্রমের যাবতীয় বিষয় নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান করিতে পারিবেন।
(২) বোর্ড, উক্ত নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে বিধি প্রণয়ন এবং অডিট ম্যানুয়্যাল প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে।
(৩) কমিশনার বা মহাপরিচালক কর্তৃক ক্ষমতা প্রদত্ত মূসক কর্মকর্তা 1[***] নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্পন্ন করিয়া কমিশনার বা মহাপরিচালক বরাবরে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করিবেন।
(৪) উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত নিরীক্ষা প্রতিবেদনে, নিরীক্ষিত কর মেয়াদে করদাতার প্রদেয় করের দায়-দায়িত্ব উদঘাটিত হইলে, কমিশনার বা মহাপরিচালক উক্ত করদায় নির্ধারণ করিবেন, এবং অপরিশোধিত করের উপর প্রযোজ্য সুদ উল্লেখ করিয়া উহা আদায়ের জন্য পরবর্তী কার্যধারা গ্রহণের নিমিত্ত উহা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করিবেন।
2[(৫) ধারা ৭৩ এ যাহা কিছুই উল্লেখ থাকুক না কেন, শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমিশনার কর মেয়াদ সমাপ্তির ৩ (তিন) বৎসরের অধিককাল পূর্বের কোন কর মেয়াদের জন্য কোন বকেয়া কর দাবি করিতে পারিবেন না।]
(১) 1[কমিশনার বা মহাপরিচালক এর নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার বা সহকারী পরিচালকের পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন কোন] মূসক কর্মকর্তা অনুমোদিত উদ্দেশ্যে, নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে, যেকোন ব্যক্তির নিকট নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি দাবী করিতে পারিবেন, যথা:―
(ক) নিরীক্ষা এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন ব্যক্তি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য; ব
(খ) কোন ব্যক্তির কর্তৃত্বে থাকা দলিলাদি বা সাক্ষ্য-প্রমাণ।
(২) উক্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তার নিম্নবর্ণিত ক্ষমতা থাকিবে, যথা:
(ক) যেকোন রেকর্ডপত্রের প্রতিলিপি করিবার;
(খ) যেকোন রেকর্ড নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জব্দ করিবার;
(গ) যেকোন রেকর্ড বা পণ্য সীল করিবার; এবং
(ঘ) নির্ধারিত ক্ষেত্রে ও পদ্ধতিতে, যেকোন ব্যক্তির ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার ব্যবস্থা গ্রহণের।
(৩) 2[উক্ত] ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক কোন রেকর্ড, দলিলপত্র বা পণ্য জব্দ করিবার ক্ষেত্রে, উহা যাহার নিকট হইতে জব্দ করা হইয়াছে তাহার নিকট নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফেরত প্রদান করিতে হইবে
3[***]
(৫) এই অধ্যায়ের কোন বিধানবলে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অনুসন্ধানমুক্ত কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা, কূটনৈতিক ভবন, কনস্যুলার বা বিদেশী রাষ্ট্রের মিশনসমূহে প্রবেশ ও তল্লাশি করা যাইবে না।
ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘অনুমোদিত উদ্দেশ্য’’ অর্থ―
(ক) কোন ব্যক্তিরকরদায় নির্ধারণের লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহ
(খ) কোন ব্যক্তির নিকট হইতে কর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্র
(গ) কর ফাঁকি উদঘাটন; বা
(ঘ) এই আইনের বিধানাবলী পরিপালন নিশ্চিতকরণ।
(১) যেক্ষেত্রে কোন করদাতা 1[কর] ফাঁকির উদ্দেশ্যে এই আইনের বিধানাবলী পরিপালন না করেন, সেইক্ষেত্রে কমিশনার কর্তৃক আদিষ্ট মূসক কর্মকর্তা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত করদাতার প্রকৃত করদায় নির্ধারণের লক্ষ্যে, তাহার 2[কর] আরোপযোগ্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট যেকোন স্থানে তত্ত্বাবধানাধীন সরবরাহ, পর্যবেক্ষণ এবং নজরদারী করিতে পারিবেন।
(২) উক্ত মূসক কর্মকর্তা উল্লিখিত করদাতার করদায় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে যাবতীয় তথ্যাবলী উল্লেখ করিয়া কমিশনারের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করিবেন
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন দাখিলকৃত প্রতিবেদন এবং এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন সংগৃহীত তথ্যাবলীর ভিত্তিতে, কমিশনার করদাতাকে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া করদাতার প্রকৃত করদায় নির্ধারণ করিতে পারিবেন।
কোন নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তি একই কর মেয়াদের জন্য দুইবার নিরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যদি না কমিশনারের নিকট নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে বা তাহার বিশ্বাস করিবার যথেষ্ট কারণ থাকে যে, উক্ত ব্যক্তি নিরীক্ষিত কর মেয়াদে ভুল বা মিথ্যা তথ্য বা দলিলাদি উপস্থাপন করিয়া প্রতারণার মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়াছেন।
(১) নির্ধারিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, যেকোন নিবন্ধিত বা তালিকাভুক্ত ব্যক্তির রেকর্ডপত্র নিরীক্ষাসহ বিশেষ হিসাব নিরীক্ষা সম্পাদনের নিমিত্ত বোর্ড যেকোন হিসাব নিরীক্ষক নিয়োগ করিতে পারিবে।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাব নিরীক্ষক, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, মূসক কর্মকর্তা বলিয়া গণ্য হইবেন।
(১) মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার কর, সুদ, অর্থদণ্ড বা জরিমানার কোন অর্থ খেলাপি করদাতা কর্তৃক প্রদেয় হইলে, কমিশনার উক্ত বকেয়া কর খেলাপি করদাতার নিকট হইতে আদায় করিবার কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।
1[(১ক) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কমিশনার 2[সহকারী কমিশনার]পদমর্যাদার নিম্নে নহেন এমন 3[এক বা একাধিক] মূসক কর্মকর্তাকে বকেয়া আদায় কর্মকর্তা (Debt Recovery Officer – DRO) হিসাবে নিয়োগ প্রদান করিবেন এবং উক্ত কর্মকর্তা বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে বকেয়া কর আদায় কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন।]
(২) বকেয়া কর প্রদেয় বলিয়া গণ্য হইবে, যদি―
(ক) বকেয়া করের পরিমাণ দাখিলপত্রে প্রদেয় হিসাবে প্রদর্শিত হয় এবং উহা অপরিশোধিত থাকে;
(খ) খেলাপি করদাতার উপর জারিকৃত কর নির্ধারণী 4[নোটিশে বা সার্টিফিকেটে] বকেয়া করের পরিমাণ প্রদর্শিত হয় এবং খেলাপি করদাতা 5[নোটিশে বা সার্টিফিকেটে] উল্লিখিত সর্বশেষ তারিখে উহা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন; বা
(গ) এই আইনের অধীন কোন কার্যক্রম নিষ্পত্তির ফলে কোন বকেয়া কর প্রদেয় হয় ।
(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন খেলাপি করদাতা কর্তৃক বকেয়া কর প্রদেয় হইলে, উহা আদায়ের লক্ষ্যে কমিশনার 6[বা বকেয়া আদায় কর্মকর্তা] খেলাপি করদাতার বরাবরে নোটিশ প্রেরণ করিবেন।
(৪) বকেয়া কর আদায়ের কার্যধারায়, বকেয়া করের দায় ও পরিমাণ প্রমাণের ক্ষেত্রে, উক্ত নোটিশ 7[বা সার্টিফিকেট] চূড়ান্ত প্রামাণ্য দলিল (conclusive proof) বলিয়া গণ্য হইবে
(৫) বকেয়া কর আদায়ের ক্ষেত্রে 8[কমিশনার বা বকেয়া আদায় কর্মকর্তা] নিম্নবর্ণিত কার্যক্রম গ্রহণ করিবেন, যথা:
(ক) খেলাপি করদাতার কোন অর্থ কোন আয়কর, শুল্ক, মূসক বা আবগারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকিলে, উহা হইতে নির্ধারিত পদ্ধতিতে বকেয়া কর কর্তন করিবেন;
(খ) খেলাপি করদাতার অর্থ অপর কোন ব্যক্তি বা সহযোগী বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের নিকট থাকিলে, উক্ত ব্যক্তি বা ব্যাংকে পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন
(গ) খেলাপি করদাতার ব্যবসা অঙ্গন হইতে কোন পণ্য বা সেবার সরবরাহ বন্ধের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে
(ঘ) খেলাপি করদাতার আমদানিকৃত পণ্য খালাস বন্ধের লক্ষ্যে শুল্ক ভবনের 9[পণ্য ঘোষণা] প্রক্রিয়াকরণ সিস্টেমে ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা বন্ধ (lock) করিতে পারিবেন;
(ঙ) খেলাপি করদাতার ব্যাংক হিসাব নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন;
(চ) খেলাপি করদাতার ব্যবসা অঙ্গন তালাবদ্ধ করিয়া রাখিবার আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন বা নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে তালাবদ্ধ করিতে পারিবেন;
(ছ) খেলাপি করদাতার যেকোন স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক বা অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করিয়া নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিক্রয়ের মাধ্যমে বকেয়া কর আদায় করিতে পারিবেন; ব
(জ) খেলাপি করদাতার কোন জিম্মাদারের নিকট হইতে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে জামানত গ্রহণ করিতে পারিবেন 10[;
11[(ঝ) উক্ত কর সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত খেলাপি করদাতার ব্যবসা অঙ্গনের গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করিবার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করিতে পারিবেন।]
(৬) 12[কাস্টমস কমিশনার] কর্তৃক বকেয়া কর আদায়ের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক যে পদ্ধতিতে আদায় করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে উক্ত বকেয়া কর আদায় করিতে হইবে।
দেওয়ানী কার্যবিধির অধীন অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে দেওয়ানী আদালতের যে ক্ষমতা রহিয়াছে এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তার সেইরূপ একই ক্ষমতা থাকিবে।
খেলাপি করদাতা যদি অন্য কোন কমিশনারের অধিক্ষেত্রাধীন এলাকায় বসবাস করেন বা তদস্থানে তাহার কোন অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা সম্পত্তি থাকে, তাহা হইলে কমিশনার উক্ত কমিশনারকে বকেয়া কর আদায়ের জন্য অনুরোধ করিতে পারিবেন এবং উক্ত কমিশনার বকেয়া কর এমনভাবে আদায় করিবেন যেন উহা তাহার এখতিয়ারে প্রাপ্য বকেয়া।
(১) আদায়কৃত অর্থ বা জামানতের পরিমাণ বকেয়া কর অপেক্ষা কম হইলে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত অর্থ বা জামানত নিম্নবর্ণিত ক্রমানুসারে বিলিবন্টন করিতে হইবে, যথা:―
(ক) প্রথমত, প্রদেয় সুদের পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে;
(খ) দ্বিতীয়ত, অর্থদণ্ড বা জরিমানার পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে; এবং
(গ) তৃতীয়ত, মূসক, সম্পূরক শুল্ক বা টার্নওভার করের পরিমাণ হ্রাসকরণার্থে।
(২) আদায়কৃত অর্থ বা জামানতের পরিমাণ বকেয়া কর অপেক্ষা অধিক হইলে, উপ-ধারা (১) এর অধীন বিলিবন্টনের পর অতিরিক্ত অর্থ করদাতা বা জিম্মাদারের নিকট ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) ও (২) অনুসারে কোন অর্থ বা জামানত বিলিবন্টন করা হইলে, কমিশনার নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতিতে উক্ত বিষয়ে বকেয়া করদাতা বা জিম্মাদারকে অবহিত করিবেন।
(১) যদি কোন খেলাপি করদাতা নির্ধারিত তারিখে বকেয়া কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে খেলাপি করদাতার মালিকানাধীন সকল সম্পত্তির উপর সরকারের অনুকূলে অগ্রাধিকার সম্পন্ন পূর্বস্বত্ব সৃষ্টি হইবে এবং সম্পূর্ণ বকেয়া কর পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত উক্ত পূর্বস্বত্ব বলবৎ থাকিবে।
(২) কমিশনার নোটিশের মাধ্যমে পূর্বস্বত্ব সৃষ্টির বিষয়টি খেলাপি করদাতাকে অবহিত করিবেন এবং নোটিশ জারির এক মাসের মধ্যে খেলাপি করদাতা বকেয়া কর পরিশোধ না করিলে, খেলাপি করদাতার উক্ত সম্পত্তি কমিশনার নির্ধারিত পদ্ধতিতে ক্রোক ও বিক্রয় করিয়া বকেয়া কর আদায় করিতে পারিবেন।
(১) বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে যদি কোন পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে এবং বিনা নোটিশে জব্দ করা হইয়া থাকে, তবে কমিশনার, যথাশীঘ্র সম্ভব, নিম্নবর্ণিত ব্যক্তির উপর জব্দের নোটিশ জারি করিবেন, যথা:―
(ক) জব্দকৃত পণ্যের মালিক;
(খ) জব্দ করিবার অব্যবহিত পূর্বে পণ্য হেফাজতকারী বা নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি; বা
(গ) জব্দকৃত পণ্য দাবি করেন এমন কোন ব্যক্তি:
তবে শর্ত থাকে যে, যদি কোন ব্যক্তি পণ্য দাবি না করেন, তাহা হইলে কোন নোটিশ জারির প্রয়োজন হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন পণ্য জব্দ করা হইলে, নিম্নবর্ণিত শর্তে কমিশনার উক্ত পণ্য উক্ত ব্যক্তির নিকট ফেরত প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:—
(ক) যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত জব্দ করা হইয়াছে, সেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধের জামানত প্রদান করা হইলে; ব
(খ) যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত জব্দ করা হইয়াছে, সেই পরিমাণ অর্থ কিস্তিতে পরিশোধ করিতে সম্মত হইয়া প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ করিলে।
(৩) যদি কর পরিশোধ করা না হয় বা কোন জামানত প্রদান করা না হয় বা খেলাপি করদাতা বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধে সম্মত হইয়া প্রথম কিস্তির অর্থ পরিশোধ না করেন, তাহা হইলে কমিশনার জব্দকৃত পণ্য, নির্ধারিত সময়সীমা ও পদ্ধতিতে, বিক্রয় করিতে পারিবেন।
(৪) জব্দকৃত পণ্যের বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিম্নবর্ণিত উপায়ে বিলিবন্টন করিতে হইবে, যথা:―
(ক) প্রথমত, পণ্য জব্দকরণ, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়ের খরচাদি পরিশোধ করিয়া;
(খ) দ্বিতীয়ত, যে পরিমাণ বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত পণ্য জব্দ করা হইয়াছিল সেই পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিয়া;
(গ) তৃতীয়ত, এই আইন দ্বারা রহিত আইনের অধীন প্রাপ্য যেকোন কর পরিশোধ করিয়া; এবং
(ঘ) চতুর্থত, অবশিষ্ট অর্থ, যদি থাকে, পণ্যের মালিককে ফেরত প্রদান করিয়া।
(৫) যে কর নির্ধারণের ভিত্তিতে বকেয়া কর আদায়ের জন্য পণ্য জব্দ করা হইয়াছে সেই কর নির্ধারণের বিরুদ্ধে কমিশনার (আপীল) বা আপীলাত ট্রাইব্যুনাল বা সুপ্রীম কোর্টে কার্যধারা চলাকালে নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত খেলাপি করদাতার সম্পত্তি বিক্রয় স্থগিত থাকিবে, যথা:—
(ক) বিনষ্টযোগ্য বাপচনশীল কোন পণ্য; এবং
(খ) কমিশনার কর্তৃক নির্ধারিত কোন পণ্য।
(১) বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে খেলাপি করদাতার উপর আরোপিত সকল দায়দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের জন্য খেলাপি করদাতার প্রতিনিধিও দায়ী থাকিবেন।
(২) খেলাপি করদাতার যে পরিমাণ সম্পত্তি বা অর্থ, প্রতিনিধির দখল বা নিয়ন্ত্রণাধীন রহিয়াছে, উহা বকেয়া কর আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিনিধির নিকট হইতে আদায়যোগ্য হইবে।
(৩) বকেয়া করের জন্য প্রতিনিধিও ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকিবেন যদি তিনি বকেয়া কর অপরিশোধিত থাকাকালে-
(ক) প্রদেয় অর্থ পরিশোধের নিমিত্ত প্রাপ্ত বা উদ্ভূত অর্থ উত্তোলন করেন, উহাতে দায় সৃষ্টি করেন বা হস্তান্তর করেন; বা
(খ) তাহার দখলে থাকা উক্ত ব্যক্তির কোন অর্থ বা তহবিল উত্তোলন করেন বা অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদান করেন।
(৪) প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে, এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন খেলাপি করদাতার উপর আরোপিত দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালন করা হইতে এই ধারার কোন কিছুই খেলাপি করদাতাকে অব্যাহতি প্রদান করিবে না।
(৫) যদি কোন খেলাপি করদাতার দুই বা ততোধিক প্রতিনিধি থাকে, তাহা হইলে এই ধারায় উল্লিখিত দায়িত্ব ও কর্তব্যসমূহ উক্ত প্রতিনিধিবর্গের ক্ষেত্রে যৌথভাবে এবং পৃথকভাবে প্রযোজ্য হইবে।
(১) কমিশনার বকেয়া কর আদায়ের নিমিত্ত রিসিভারের দখলে নেওয়া সম্পদ হইতে খেলাপি করদাতার বকেয়া কর পরিশোধ করিবার জন্য রিসিভারকে অনুরোধ করিতে পারিবেন।
(২) কমিশনার কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন অনুরুদ্ধ হইলে, রিসিভার উক্ত সম্পদের বিক্রয়লব্ধ অর্থ হইতে বকেয়া কর নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিশোধ করিয়া প্রামাণিক দলিলাদিসহ কমিশনারকে অবহিত করিবেন।
ব্যাখ্যা: এই ধারায় ‘‘রিসিভার’’ অর্থ কোন আইন বা আদালত কর্তৃক নিয়োজিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি।
(১) যদি কোন কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ বকেয়া কর পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহা হইলে যে সময় উক্ত অর্থ বকেয়া হইয়াছিল সেই সময় যাহারা উক্ত কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগের পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তা ছিলেন তাহারা যথাযথ সতর্কতা, দায়িত্বশীলতা এবং দক্ষতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হইলে সকলে যৌথ ও ব্যক্তিগতভাবে উক্ত অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা পর্যন্ত দায়ী থাকিবেন।
(২) বকেয়া কর পরিশোধে দায়ী প্রত্যেক পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তা, অন্যান্য পরিচালক বা প্রতিনিধি বা উদ্যোক্তার নিকট হইতে পুনর্ভরণ (reimbursement) পাওয়ার অধিকারী হইবেন
(৩) উক্ত পরিচালক, প্রতিনিধি, এজেন্ট বা উদ্যোক্তা কর্তৃক সম্পাদিত কর্মকাণ্ডের সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ণ না করিয়া নিম্নবর্ণিত কর্মকাণ্ড উক্ত কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যথা:-
(ক) অর্থনৈতিক কার্যক্রম বা উহার অংশবিশেষ পরিচালনা;
(খ) অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রক্রিয়ায় কোন সরবরাহ, আমদানি বা অর্জন;
(গ) পণ্য প্রস্তুতকরণ বা সেবা সরবরাহ;
(ঘ) জারিকৃত কোন নোটিশ প্রাপ্তি;
(ঙ) দাখিলপত্র পেশকরণ;
(চ) কর পরিশোধ; বা
(ছ) তথ্য সরবরাহ।
যদি―
(ক) কোন অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘ নূতন কোন অংশীদার বা সদস্য ভর্তি বা অবসর গ্রহণের কারণে বিলুপ্ত হইয়া যায় বা অবসায়িত হয়;
(খ) বিদ্যমান অবশিষ্ট সদস্য সমন্বয়ে নূতন কোন অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘের সৃষ্টি হয়; এবং
(গ) উক্ত অংশীদারি কারবার বা অনিগমিত সংঘ সেইরূপ অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে, যাহা অবসায়িত অংশীদারি কারবার বা সংঘের দ্বারা পরিচালিত হইত;
তাহা হইলে অবসায়িত অংশীদারি কারবার বা সংঘ এবং নূতন অংশীদারি কারবার বা সংঘ, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, একটি অবিচ্ছেদ্য অংশীদারি কারবার বা সংঘ বলিয়া গণ্য হইবে।
কোন করদাতার মৃত্যুর পর বা তাহার দেউলিয়াত্ব ঘোষণার পর যদি তৎকর্তৃক পরিচালিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম তাহার সম্পত্তির ট্রাস্টি বা নির্বাহক দ্বারা পরিচালিত হয়, তাহা হইলে উক্ত নির্বাহক বা ট্রাস্টি, এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, করদাতা বলিয়া গণ্য হইবে।
(১) বকেয়া কর কিস্তিতে পরিশোধ করিবার নিমিত্ত কমিশনার একজন খেলাপি করদাতাকে নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন এবং কোন কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে উক্তরূপ অনুমতি বাতিল করিতে পারিবেন।
(২) এই ধারার অধীন প্রদত্ত কিস্তিতে বকেয়া কর পরিশোধের সময়সীমা 1[১৮ (আঠার)] মাসের অতিরিক্ত হইবে না।
(১) কোন নিবন্ধিত ব্যক্তির করদায় এবং অন্যান্য দায়দেনা নিরূপণের সুবিধার্থে ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত নির্ধারিত উপায় ও পদ্ধতিতে করদাতা তাহার অর্থনৈতিক কার্যক্রমের হিসাবাদি, দলিলপত্র এবং অন্যান্য রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করিবেন
(২) উপ-ধারা (১) এর পরিধিকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, সংরক্ষিত রেকর্ডপত্র এবং হিসাবাদির মধ্যে নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকিবে, যথা:-
(ক) করযোগ্য বা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত নির্বিশেষে পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি ক্রয়ের বিবরণী, এবং তৎসংশ্লিষ্ট চালানপত্র;
(খ) পণ্য, সেবা বা স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় সংক্রান্ত বিবরণী;
(গ) কর চালানপত্র, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট এবং উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক ইস্যুকৃত এবং প্রাপ্ত 1[***] কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র;
(ঘ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক পণ্য আমদানি বা রপ্তানি সংশ্লিষ্ট শুল্ক দলিলপত্র
(ঙ) উক্ত ব্যক্তি কর্তৃক প্রস্ত্ততকৃত পণ্য কোন নির্দিষ্ট সময়ে যেই মূল্যে সরবরাহ করা হয় সেই মূল্য, পণ্যের উপকরণ-উৎপাদ সম্পর্ক বা সহগ (input-output coefficient) , এবং উক্ত পণ্যের উপর প্রস্তুতকারক কর্তৃক প্রদত্ত মূল্যছাড় বা রেয়াত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র;
(চ) সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য সেবা সরবরাহ বা সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য পণ্যের প্রস্তুতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র;
(ছ) কর জমা প্রদানের সমর্থনে ট্রেজারি চালান এবং ট্রেজারি চালান ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কর জমা প্রদান করা হইয়া থাকিলে উক্তরূপ জমা প্রদানের সমর্থনে দালিলিক প্রমাণাদি;
(জ) প্রতিটি কর মেয়াদের দাখিলপত্র; এবং
(ঝ) নির্ধারিত অন্য কোন দলিলাদি বা রেকর্ডপত্র।
2[(২ক) নিবন্ধিত ব্যক্তি Enterprise Resource Planning (ERP) সফটওয়্যার বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত মূসক সফটওয়্যার এর মাধ্যমে কর সংক্রান্ত দলিলাদি ও হিসাবপত্র এবং অন্যান্য রেকর্ডপত্র যথাযথ নিরাপত্তাসহ সার্ভারে সংরক্ষণ করিতে পারিবেন।
3[(৩) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত উপ-ধারায় বর্ণিত সময়ের পরেও অনিষ্পন্ন কোন কার্যধারা-সংশ্লিষ্ট দলিলাদি কার্যধারাটি নিষ্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।]
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোন ফরম, নোটিশ, দাখিলপত্র এবং অন্যান্য দলিলের আকার এবং আকৃতি বোর্ড যেরূপ উপযুক্ত বলিয়া বিবেচনা করিবে, সেইরূপ পদ্ধতিতে নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোন সমন বা নোটিশ বা সিদ্ধান্ত বা আদেশ বা নির্দেশ কোন ব্যক্তির উপর জারি করা প্রয়োজন হইলে, উহা উক্ত ব্যক্তির উপরে যথাযথভাবে জারি করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উহা―
(ক) উক্ত ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধি কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করা হয়;
(খ) উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ জ্ঞাত বাংলাদেশের বাসস্থানে বা ব্যবসায়ের স্থানে প্রেরণ করা হয়;
(গ) উক্ত ব্যক্তির সর্বশেষ জ্ঞাত ঠিকানায় রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করা হয়;
(ঘ) ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে প্রেরণ করা হয়; বা
(ঙ) দফা (ক) হইতে দফা (ঘ) এ উল্লিখিত পদ্ধতিতে জারি করা না যায়;
তাহা হইলে সংশ্লিষ্ট মূল্য সংযোজন কর কার্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে আঁটিয়া দেওয়া হয়।
(২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন জারিকৃত নোটিশ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পরিপালিত হওয়ার পর নোটিশ জারির বৈধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন জারিকৃত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত কোন নোটিশ বা অন্যান্য দলিল যথাযথ বলিয়া গণ্য হইবে, যদি উহাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর, এবং নাম ও পদবী মুদ্রিত বা স্ট্যাম্পযুক্ত থাকে এবং টেলিফোন বা ফ্যাক্স বা মোবাইল ফোন নম্বর বা ই-মেইল ঠিকানা উল্লেখ থাকে এবং নোটিশটি একটি দাপ্তরিক নথি ও পত্র নমবর সমবলিত হয়।
(২) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন প্রস্ত্ততকৃত, ইস্যুকৃত বা সম্পাদিত কোন দলিল―
(ক) ফরমে করা হয় নাই বলিয়া বাতিল বা বাতিলযোগ্য গণ্য হইবে না; বা
(খ) উহাতে কোন ভুল-ত্রুটি থাকিলে বা কিছু বাদ পড়িলে উহার যথার্থতা ক্ষুণ্ণ হইবে না;
যদি উহা বিষয় ও প্রসংগের সহিত সংগতিপূর্ণ হয়।
(১) যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে-
(ক) জাল বা ভুয়া ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা সম্বলিত মূসক নিবন্ধন সনদপত্র বা টার্নওভার কর সনদপত্র বা কর চালানপত্র এবং উৎসে কর কর্তন সনদপত্র তৈরী বা ব্যবহার করেন; বা
(খ) জাল বা ভুয়া কর চালানপত্র, ক্রেডিট নোট, ডেবিট নোট, উৎসে কর কর্তন সনদপত্র তৈরী বা ব্যবহার করেন; বা
(গ) জাল বা ভুয়া বা পুনঃব্যবহৃত স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ বা ব্যবহার করেন অথবা উক্ত কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন; বা
(ঘ) জাল বা ভুয়া বা পুনঃব্যবহৃত স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোলযুক্ত কোন পণ্য উৎপাদন, গুদামজাতকরণ, পরিবহন, বিপণন বা বিক্রয় করেন অথবা উক্ত কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন; বা
(ঙ) ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্প ব্যবহার করিবার বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে এমন কোন পণ্য ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্প বিহীন উৎপাদন, গুদামজাতকরণ, পরিবহন, বিপণন বা বিক্রয় করেন অথবা উক্ত কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেন; বা
(চ) অন্যকোন উপায়ে প্রদেয় কর ফাঁকি প্রদান করেন; বা
(ছ) উক্ত ব্যক্তি প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও কর ফেরত দাবি করেন;
তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ১ (এক) বৎসর কারাদণ্ড বা প্রদেয় করের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।]
2[(২) কোন ব্যক্তি অনলাইনে নিবন্ধন বা তালিকাভুক্তি গ্রহণের আবেদনের সময় কোন ভুল বা অসত্য তথ্য প্রদান করিলে, উক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।]
যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোন কর দলিলাদিতে মূসক কর্মকর্তার নিকট মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বিবরণ বা বিবৃতি প্রদান করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে বা প্রদেয় করের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।
মূসক কর্মকর্তাকে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন দায়িত্ব পালনে যদি কোন ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন বা সৃষ্টির চেষ্টা করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ড বা অন্যূন ১০(দশ) হাজার টাকা বা অনূর্ধ্ব ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।
(১) ফৌজদারী কার্যবিধি বা আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধসমূহ ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম শ্রেণীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট কর্তৃক বিচার্য হইবে এবং তিনি এই আইনে বর্ণিত যে কোন অর্থদণ্ড আরোপ করিতে পারিবেন।
(২) অপরাধসমূহ জামিনযোগ্য (bailable) ও অ-আমলযোগ্য (non-cognizable) হইবে।
(৩) কমিশনারের পূর্বানুমোদন সাপেক্ষে, সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এমন কোন মূসক কর্মকর্তার নিকট হইতে লিখিত অভিযোগ ব্যতীত, উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট কোন অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ করিবেন না।
(৪) নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়সীমার মধ্যে মূসক কর্মকর্তা এই আইনের অধীন দণ্ডনীয় অপরাধের তদন্ত সম্পন্ন করিবেন।
(৫) উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন বিচারের ক্ষেত্রে যে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অবলম্বন করেন সেই একই পদ্ধতিতে অপরাধসমূহের বিচার করিবেন এবং উক্ত অপরাধ সংক্রান্ত আপীল, রিভিউ, রিভিশন, ইত্যাদি ফৌজদারী কার্যবিধির অধীন নিষ্পত্তি করিতে হইবে।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অপরাধ সংঘটনকারীর ব্যাংক এ্যাকাউন্ট অপরিচালনযোগ্য (freeze) করিবার ক্ষমতা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের থাকিবে।
(১) কোন কোম্পানী বা ব্যক্তি সংঘ বা সম্পত্তি উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ কর্তৃক কোন অপরাধ সংঘটিত হইলে, উক্ত অপরাধের সহিত সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে এমন প্রত্যেক পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিনিধি বা মূসক এজেন্ট উক্ত অপরাধ সংঘটন করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে, যদি না তিনি প্রমাণ করিতে পারেন যে, উক্ত অপরাধ তাহার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হইয়াছে বা উক্ত অপরাধ সংঘটন রোধ করিবার জন্য তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করিয়াছেন।
(২) উক্ত পরিচালক, অংশীদার, প্রধান নির্বাহী, ব্যবস্থাপক, সচিব, কর্মকর্তা, কর্মচারী, প্রতিনিধি বা মূসক এজেন্টের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার একই কার্যধারায় উক্ত কোম্পানীকে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করা যাইবে, তবে উক্ত কোম্পানীর উপর অর্থদণ্ড ব্যতীত কারাদণ্ড আরোপ করা যাইবে না।
যদি কোন ব্যক্তি কোন অপরাধ সংঘটনে সহায়তা বা সহযোগিতা করেন বা প্ররোচিত বা প্রলুব্ধ করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি অপরাধ সংঘটনকারীর ন্যায় একই অপরাধে অপরাধী বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্ত অপরাধীর ন্যায় একই দণ্ডে দণ্ডেত হইবেন।
কমিশনারের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, কোন অপরাধের জন্য কোন আদালতে মামলা দায়ের করা যাইবে না।
(১) নির্ধারিত পদ্ধতিতে অপরাধসমূহ আপোষযোগ্য (compoundable) হইবে।
(২) মামলা দায়ের করিবার জন্য কমিশনার কর্তৃক পূর্বানুমোদনের পূর্বে বা পরে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে আপোষরফা করা যাইবে, তবে মামলা রুজু করিবার পর আপোষরফা করিতে হইলে আদালতের অনুমতি গ্রহণ করিতে হইবে।
জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আরোপিত অর্থদণ্ড প্রদেয় মূসক, সম্পূরক শুল্ক, টার্নওভার কর বা জরিমানার অতিরিক্ত হিসাবে গণ্য হইবে।
(১) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন অতিরিক্ত কমিশনার বা তৎনিম্ন পদধারী মূসক কর্মকর্তা কর্তৃক গৃহীত কোন সিদ্ধান্ত বা প্রদত্ত কোন আদেশ দ্বারা কোন করদাতা বা মূসক কর্মকর্তা সংক্ষুব্ধ হইলে, তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে পণ্য বা সেবা সরবরাহের ক্ষেত্রে ধারা ৯৫ এর অধীন প্রদত্ত কোন আটক বা বিক্রয় আদেশ অথবা পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস আইনের ধারা ৮২ বা ৯৮ এর অধীন কোন আদেশ ব্যতীত, উক্ত সিদ্ধান্ত বা আদেশ জারির ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে কমিশনার (আপীল) এর নিকট আপীল দায়ের করিতে পারিবেন।
(২) মূসক কর্মকর্তা ব্যতীত কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন আপীল দায়ের করিবার ক্ষেত্রে, তাহাকে উক্ত আপীল দায়েরকালে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত দাবিকৃত 2[করের, জরিমানা ব্যতীত,] 3[১০ (দশ)] শতাংশ পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে: তবে শর্ত থাকে যে, যদি কমিশনার (আপীল) এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, আপীলকারী যুক্তিসঙ্গত কারণে উপরি-উক্ত ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের মধ্যে আপীল দায়ের করিতে সক্ষম হন নাই, তাহা হইলে তিনি আপীলকারীকে উক্ত মেয়াদের পরবর্তী ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করিবার জন্য অনুমতি প্রদান করিতে পারিবেন।
(৩) কমিশনার (আপীল) নির্ধারিত পদ্ধতিতে পক্ষগণকে যথাযথ শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া, সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসরের মধ্যে আপীল কার্যক্রম নিষ্পত্তি করিবেন।
4[(৩ক) এই আইনের অন্যান্য বিধানে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, দৈব-দুর্বিপাক বা যুদ্ধের কারণে সরকার, জনস্বার্থে, উক্তরূপ আপৎকালীন সময়ের জন্য, কমিশনার (আপিল) কর্তৃক আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা, আদেশ দ্বারা বৃদ্ধি করিতে পারিবে।]
(৪) কমিশনার (আপীল) তর্কিত আদেশ বা সিদ্ধান্ত বহাল রাখিতে বা পরিবর্তন করিতে বা বাতিল করিতে অথবা তিনি যেইরূপ সঙ্গত মনে করিবেন, সেইরূপ আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন: তবে শর্ত থাকে যে, প্রাথমিক পর্যায়ে (de novo) তিনি কার্যধারাটি পুনর্বিবেচনার জন্য রিমান্ডে প্রেরণ করিতে পারিবেন না।
(৫) আপীল নিষ্পত্তি করিবার প্রয়োজনে কমিশনার (আপীল), নির্ধারিত পদ্ধতি ও সময়ে, তর্কিত বিষয়ে অধিকতর নিরীক্ষা, তদন্ত অনুষ্ঠান, তথ্য সংগ্রহ বা কার্যধারার যথার্থতা যাচাই করিতে পারিবেন।
(৬) এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালায় যাহা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কমিশনার (আপীল) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আপীল নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হন, তাহা হইলে আপীলটি কমিশনার (আপীল) কর্তৃক মঞ্জুর করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।]
(১) কমিশনার (আপীল) ও 1[আপিল ট্রাইব্যুনালের] কোন কার্যধারায় বিচার্য বিষয় প্রমাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসাবে গণ্য হইবে, যদি না করদাতা উক্ত হলফনামার বিষয়টি খণ্ড করিয়া ভিন্নরূপ প্রমাণ পেশ করিতে পারেন।
(২) উক্ত হলফনামার সহিত কমিশনার কর্তৃক ইস্যুকৃত নোটিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দলিল সংযুক্ত করিতে হইবে
১) বোর্ড বা 2[আপিল ট্রাইব্যুনালের] আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা কমিশনার বা মহাপরিচালক পদমর্যাদার নিম্নে নহেন, এমন কোন মূসক কর্মকর্তা, উক্ত আদেশের আইনগত প্রশ্নে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে 3[আপিলের] আবেদন দাখিল করিতে পারিবেন।
(২) আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, উক্ত 4[আপিলের] বিষয়ে, যতদূর সম্ভব দেওয়ানী কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হইবে।
(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে 5[আপিলের] আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে, তামাদি আইন, ১৯০৮ এর ধারা ৫ প্রযোজ্য হইবে।
(৪) মূসক কর্মকর্তা ব্যতীত, অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক উপ-ধারা (১) এর অধীন হাইকোর্ট বিভাগে 6[আপিলের] আবেদন দাখিলের ক্ষেত্রে, তাহাকে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত প্রদেয় 7[করের, জরিমানা ব্যতীত,] ১০ (দশ) শতাংশ অর্থ পরিশোধ করিতে হইবে।
(১) এই আইনের অন্য কোন বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন করদাতা নির্ধারিত পদ্ধতি, শর্ত বা সময়ে কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত প্যানেল হইতে তৎকর্তৃক নির্বাচিত কোন সহায়তাকারীর নিকট আবেদন করিতে পারিবেন এবং সহায়তাকারী নির্ধারিত পদ্ধতি, শর্তে বা সময়ে উক্ত বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবেন।ৃৃৃৃৃ
(২) বোর্ড, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিকল্প উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য, সময়ে সময়ে, এক বা একাধিক মূল্য সংযোজন কর কমিশনারেট নির্ধারণ করিতে পারিবে।
(৩) কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি হইলে, উক্ত সমঝোতার বিরুদ্ধে কোন আদালতে আপত্তি উত্থাপন করা যাইবে না এবং যেসকল বিরোধ বিকল্প উপায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হইবে না, সেই সকল বিরোধের ক্ষেত্রে, এই আইনের বিধানানুযায়ী পুনরায় কার্যধারা গ্রহণ করিতে হইবে।
(৪) কোন বিরোধ বিকল্প উপায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব না হইলে, উক্ত পন্থা অবলম্বনের জন্য ব্যয়িত সময়কাল আপীল দায়েরের সময়সীমা গণনায় অন্তর্ভুক্ত হইবে না
ব্যাখ্যা: এই ধারায়, ‘‘বিরোধ’’ অর্থ এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির প্রয়োগ হইতে উদ্ভূত কোন বিরোধ; কিন্তু 1[জালিয়াতি বা ফৌজদারি] অপরাধ বা আইনগত প্রশ্ন জড়িত রহিয়াছে এমন বিরোধ উহার অন্তর্ভুক্ত হইবে না।
(১) সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন বা বিশেষ আদেশ দ্বারা, প্রজ্ঞাপনে বা বিশেষ আদেশে উল্লিখিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে, যে কোনো পণ্য বা পণ্য শ্রেণির আমদানি বা সরবরাহ বা প্রদত্ত যে কোনো সেবাকে এই আইনের অধীন আরোপযোগ্য মূল্য সংযোজন কর বা, ক্ষেত্রমত, সম্পূরক শুল্ক বা আগাম কর হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।]
(২) বোর্ড, বিশেষ আদেশ দ্বারা, আদেশে উল্লিখিত সীমা ও শর্ত সাপেক্ষে কোন আন্তর্জাতিক চুক্তি বা দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পারস্পরিক ভিত্তিতে (reciprocal basis) বাস্তবায়নের জন্য, যে কোন পণ্যের আমদানি, সরবরাহ গ্রহণ বা সেবা গ্রহণকে এই আইনের অধীনে আরোপযোগ্য মূল্য সংযোজন কর বা, ক্ষেত্রমত, সম্পূরক শুল্ক 3[বা আগাম কর ] হইতে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে।
4[***]]
(১) যদি কোন ব্যক্তি নির্ধারিত তারিখে বা উক্ত তারিখের পূর্বে, 1[কমিশনার বা ধারা ৮৬ এর সারণীতে বর্ণিত যথোপযুক্ত কর্মকর্তার] নিকট প্রদেয় কর পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হন 2[বা অনিয়মিতভাবে রেয়াত বা হ্রাসকারী সমন্বয় গ্রহণ করেন], তাহা হইলে তাহাকে নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী দিন হইতে পরিশোধের দিন পর্যন্ত প্রদেয় করের পরিমাণের উপর 3[মাসিক ১ (এক) শতাংশ] সরল হারে সুদ পরিশোধ করিতে হইবে4[:
তবে শর্ত থাকে যে, উৎসে মূসক কর্তনজনিত বকেয়া আদায়ের ক্ষেত্রে প্রদেয় করের পরিমাণের উপর ষান্মাসিক ২ (দুই) শতাংশ সরলহারে সুদ পরিশোধ করিতে হইবে।
5[ব্যাখ্যাঃ এই উপ-ধারায়, “পরিশোধের দিন পর্যন্ত” অর্থ নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী দিন হইতে নিষ্পন্নাধীন সময়সহ পরিশোধের দিন পর্যন্ত, তবে ২৪ (চব্বিশ) মাসের অধিক নহে।]
(২) যে পদ্ধতিতে উক্ত ব্যক্তির নিকট হইতে প্রদেয় কর আদায় করা হয় সেই একই পদ্ধতিতে কমিশনার তাহার নিকট হইতে সুদ আদায় করিবেন।
(৩) কোন ব্যক্তি কর্তৃক সুদসহ করের কোন পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করিবার পর, যদি প্রমাণিত হয় যে, সুদের সহিত সংশ্লিষ্ট অর্থ প্রদেয় ছিল না, তাহা হইলে উক্ত অর্থের উপর পরিশোধিত সুদ তাহাকে ফেরত প্রদান করিতে হইবে।
(৪) অর্থদণ্ড বা জরিমানার অতিরিক্ত হিসাবে উক্ত সুদ প্রদেয় হইবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন) এর বিধানাবলী সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন সম্পাদিতব্য যে কোন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়সীমা, শর্ত ও পদ্ধতিতে অনলাইনে বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পাদন করা যাইবে।
বোর্ড বা 1[কোন মূসক কর্মকর্তা] কর্তৃক প্রদত্ত কোন আদেশ বা সিদ্ধান্ত বা গৃহীত কোন ব্যবস্থার (কর নিরূপণ, কর আরোপ, জরিমানা আরোপ, সুদ আরোপ, কর আদায়করণ বাতিল বা পরিবর্তন করিবার জন্য বা কোন নিরীক্ষা, তদন্ত বা অনুসন্ধান বা এইরূপ সকল বিষয়) বিরুদ্ধে এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন কার্যধারা রুজু বা মামলা দায়ের করা ব্যতীত অন্য কোন আদালতে কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না।
(১) কোন কার্যধারায় কোন করদাতার পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা বা তাহাকে পরামর্শ প্রদানের জন্য চার্টার্ড একাউন্টেন্ট বা 2[কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্ট বা] চার্টার্ড সেক্রেটারি বা লাইসেন্সধারী মূসক পরামর্শগণের মধ্য হইতে যে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা যাইবে।]
3[(২) উপ-ধারা (১) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বোর্ড, মূসক পরামর্শক নিয়োগের শর্ত, পদ্ধতি ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিতে পারিবে। ]
এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধিমালার অধীন কৃত কোন কর্মকাণ্ডে কোন করণিক বা গাণিতিক ভুল-ত্রুটি থাকিলে মূসক কর্মকর্তা উক্ত ভুল-ত্রুটি সংশোধন করিতে পারিবেন।
করদাতা কর্তৃক আবেদনের ভিত্তিতে, নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে, কমিশনার নিম্নবর্ণিত দলিলপত্রের প্রত্যায়িত অনুলিপি প্রদান করিতে পারিবেন, যথা:―
(ক) করদাতা কর্তৃক মূসক কর্মকর্তার নিকট সরবরাহকৃত দলিলাদি বা কাগজপত্র;
(খ) উৎসে কর কর্তনকারী সত্তা কর্তৃক কর কর্তনের প্রমাণস্বরূপ মূসক কর্মকর্তার নিকট দাখিলকৃত দলিলপত্র; বা
(গ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন দলিল।
(১) কোন করদাতা নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে মূসক ছাড়পত্রের জন্য কমিশনারের নিকট আবেদন করিতে পারিবেন।
(২) কমিশনার নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত করদাতাকে মূসক ছাড়পত্র প্রদান করিতে পারিবেন, যদি তিনি এই মর্মে নিশ্চিত হন যে―
(ক) করদাতার নিকট কোন কর পাওনা বা বকেয়া নাই; বা
(খ) করদাতা কর পরিশোধের জন্য জামানত প্রদান করিয়াছেন।
বোর্ড, নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্তে, নিম্নবর্ণিত এক বা একাধিক কার্যাবলী প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিষ্পন্ন করিতে পারিবে, যথা:-
(ক) দাখিলপত্রে উল্লিখিত প্রাথমিক তথ্যসহ অন্য যেকোন তথ্য অমত্মর্ভুক্তি এবং প্রক্রিয়াকরণ;
(খ) ব্যবসা সনাক্তকরণ সংখ্যা প্রদান করা হইয়াছে এমন সকল ব্যক্তির তালিকা প্রস্ত্ততকরণ;
(গ) বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোন কার্যক্রম।
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।
(১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, প্রয়োজন মনে করিলে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের বাংলা পাঠের ইংরেজিতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ (Authentic English Text) প্রকাশ করিতে পারিবে।
(২) বাংলা পাঠ ও ইংরেজি পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।
(১) এই আইন প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ (১৯৯১ সনের ২২ নং আইন) রহিত হইবে।
(২) উক্ত আইন রহিত হওয়া সত্ত্বেও―
(ক) উক্ত আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত ব্যবস্থা, সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(খ) উক্ত আইনের অধীন প্রণীত সকল বিধি, প্রদত্ত সকল আদেশ, জারিকৃত সকল প্রজ্ঞাপন বা নোটিশ এই আইনের বিধানাবলীর সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, রহিত বা সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত, বলবৎ থাকিবে এবং এই আইনের অধীন প্রণীত, প্রদত্ত বা জারিকৃত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে;
(গ) উক্ত আইন দ্বারা বা উহার অধীন আরোপিত কোন কর বা ফিস বা অন্য কোন পাওনা, এই আইন প্রবর্তনের অব্যবহিত পূর্বে অনাদায়ী থাকিলে, উহা উক্ত আইন অনুযায়ী আদায় করা হইবে, এবং কোন বিষয় অনিষ্পন্ন থাকিলে, তাহা উক্ত আইন অনুযায়ী নিষ্পন্ন হইবে যেন উক্ত আইন রহিত হয় নাই।
(১) ধারা ৩৩ এর বিধানাবলী সত্ত্বেও, করযোগ্য সরবরাহের উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর এই আইন প্রবর্তন দিবসে প্রদেয় হইবে, যদি―
(ক) কোন সরবরাহ প্রবর্তন দিবসের পরে প্রদান করা হইয়া থাকে বা পরে প্রদান করা হয়; এবং
(খ) কোন সরবরাহের জন্য প্রবর্তন দিবসের পূর্বে কর চালানপত্র ইস্যু করা হয় বা সরবরাহের মূল্য পরিশোধ করা হয় বা উভয় কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়;
তবে, যদি মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১ এর অধীন উক্ত ব্যক্তি সরবরাহের উপর মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করিয়া থাকেন এবং উক্ত মূল্য সংযোজন কর উক্ত আইনের অধীন কমিশনারের নিকট পেশকৃত দাখিলপত্রে প্রদর্শন করিয়া থাকেন, তাহা হইলে মূল্য সংযোজন কর প্রদেয় হইবে না।
(২) উপ-ধারা (১) এর আওতায় সম্পাদিত কোন সরবরাহ আনুক্রমিক বা পর্যাবৃত্ত সরবরাহ হইলে, প্রত্যেক অংশের উপর পৃথকভাবে মূল্য সংযোজন কর প্রদেয় হইবে এবং সম্পাদিত কার্যক্রম পৃথক সরবরাহ হিসাবে গণ্য হইবে।
এই আইন প্রবর্তনের পর কোন চুক্তি সম্পাদিত হইলে এবং উক্ত চুক্তিতে মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্কের বিধান অন্তর্ভুক্ত না থাকিলে-
(ক) উক্ত চুক্তিমূল্যের মধ্যে সরবরাহের উপর প্রদেয় মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) অন্তর্ভুক্ত আছে বলিয়া গণ্য হইবে; এবং
(খ) সরবরাহকারী উক্ত সরবরাহের চুক্তিমূল্য নির্ধারণকালে মূল্য সংযোজন কর এবং সম্পূরক শুল্ক (যদি থাকে) অন্তর্ভুক্ত না করিলেও উক্ত চুক্তির অধীন প্রদত্ত সরবরাহের উপর সরবরাহকারী কর্তৃক উক্ত কর পরিশোধ করিতে হইবে।