- ৬৯। অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীতব্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা
- ৭০। সর্বসাধারণের চলাচলের পথে ঔষধ বিক্রয়ে বিধি-নিষেধ
- ৭১। ঔষধ ও কসমেটিকস্ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন এবং দাবি নিয়ন্ত্রণ
- ৭২। অনিবন্ধিত ঔষধের ব্যবস্থাপত্র নিষিদ্ধ
- ৭৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ
- ৭৪। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রয়োগ
- ৭৫। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম
- ৭৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
- ৭৭। জটিলতা নিরসনে সরকারের ক্ষমতা
- ৭৮। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা ও সহায়তা গ্রহণ
- ৭৯। জব্দ বা আটক সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিতকরণ ও জব্দ বা আটককৃত ঔষধ ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ
- ৮০। বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ
- ৮১। তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
ত্রয়োদশ অধ্যায় : সাধারণ ও বিবিধ ( ২৯ )
৬৯। অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীতব্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা
(১) এই আইনে ভিন্নরূপ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের অধীন ঔষধ ও কসমেটিকস্ সংক্রান্ত যে কোনো বেআইনী কার্যক্রম গ্রহণের ক্ষেত্রে মহাপরিচালক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা তপশিল এর কলাম (১) এ উল্লিখিত ক্রমিক নং ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১৪, ১৬, ১৮, ২০,২১, ২২, ২৫, ৩০, ৩১, ৩২ এবং ৩৩ এর বিপরীতে কলাম (২) এ উল্লিখিত কোনো অপরাধ সংঘটিত হইয়া থাকিলে, সমীচীন মনে করিলে, দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের লক্ষ্যে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করিয়া কেবল জরিমানা আরোপ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সাময়িক বা স্থায়ীভাবে স্থগিতকরণ সম্পর্কিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এর অধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় জরিমানা আরোপের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য এই আইনের অধীন সর্বোচ্চ যে অর্থদণ্ড রহিয়াছে উহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ড আরোপ করা যাইবে না।
(৩) উপধারা (১) ও (২) এর অধীন প্রশাসনিক ব্যবস্থায় আরোপিত কোনো জরিমানার ক্ষেত্রে অনাদায়ে কারাদণ্ড আরোপ করা যাইবে না।
(৪) এই ধারার অধীন আরোপিত জরিমানা দোষী ব্যক্তিকে স্বেচ্ছায় অনূর্ধ্ব ৫ (পাঁচ) কার্য দিবসের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(৫) উপধারা (৪) এর বিধান অনুযায়ী আরোপিত জরিমানা দোষী ব্যক্তি স্বেচ্ছায় প্রদান না করিলে দণ্ড আরোপকারী কর্তৃপক্ষ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৮৬ এর উপধারা (১) এর দফা (ক) তে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী ক্রোক ও বিক্রয়ের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ আদায় করিতে পারিবে এবং আরোপিত জরিমানার ২৫ শতাংশ পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ খরচ বাবদ আদায় করিতে পারিবে।
৭০। সর্বসাধারণের চলাচলের পথে ঔষধ বিক্রয়ে বিধি-নিষেধ
কোনো ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের পথ, মহাসড়ক, ফুটপাথ, পার্ক অথবা কোনো গণপরিবহণ বা যে কোনো বাহনে অ্যালোপ্যাথিক, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হোমিওপ্যাথিক ও বায়োকেমিক, হারবাল অথবা অন্য কোনো বর্ণনার ফার্মাসিউটিক্যাল বিশেষত্বের কোনো ঔষধ ফেরি করিয়া বিক্রয়, বিনামূলে বিতরণ বা বিতরণের প্রস্তাব করিতে পারিবেন না।
৭১। ঔষধ ও কসমেটিকস্ সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন এবং দাবি নিয়ন্ত্রণ
(১) কোনো ব্যক্তি, লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতীত, এইরূপ কোনো বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা প্রচার অথবা বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা প্রচারে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না, যাহাতে ঔষধের ব্যবহার অথবা আরোগ্য বা চিকিৎসা সম্পর্কিত কোনো দাবি থাকে।
(২) কসমেটিকস্ উৎপাদনকারী, আমদানিকারী, বাজারজাতকারী বা বিক্রয়কারী এইরূপ কোনো বিজ্ঞাপন প্রস্তুত, প্রকাশ বা প্রচার করিতে পারিবেন না, যাহাতে কসমেটিকস্ এর ব্যবহার বা ব্যবহারজনিত ফলাফল সম্পর্কিত ভ্রান্ত বা অসত্য দাবি থাকে।
৭২। অনিবন্ধিত ঔষধের ব্যবস্থাপত্র নিষিদ্ধ
(১) কোনো চিকিৎসক তাহার ব্যবস্থাপত্রে কোনো রোগীকে এই আইনের অধীন নিবন্ধিত নহে এইরূপ কোনো ঔষধ ব্যবহারের জন্য পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন না।
(২) লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিয়া আমদানি করা হয় এইরূপ নিবন্ধিত ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসক তাহার ব্যবস্থাপত্রে পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবেন।
৭৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ
অধিদপ্তর, প্রয়োজনে, তৎকর্তৃক গৃহীতব্য সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করিতে পারিবে।
৭৪। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর প্রয়োগ
মাদকদ্রব্য জাতীয় কোনো ঔষধ বা ঔষধের কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি, উৎপাদন, মজুত ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (২০১৮ সনের ৬৩ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে।
৭৫। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম
এই আইন বা বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোনো কার্যের ফলে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য অধিদপ্তর বা অধিদপ্তরের কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারি মামলা অথবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা দায়ের বা রুজু করা যাইবে না।
৭৬। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা
(১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে:
তবে শর্ত থাকে যে, কসমেটিকস্ এর উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি, রপ্তানি এবং মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণসহ আনুষঙ্গিক বিষয়ে বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বা, ক্ষেত্রমত, আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত, এতদ্বিষয়ক বিদ্যমান বিধি-বিধানের অধীনে, এই আইনের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে, কসমেটিকস্ এর উৎপাদন, বিতরণ, আমদানি, রপ্তানি এবং মান নির্ধারণ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিদ্যমান ব্যবস্থা কেবল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অব্যাহত থাকিবে।
৭৭। জটিলতা নিরসনে সরকারের ক্ষমতা
অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে এই আইনের বিধানে অস্পষ্টতার কারণে উহা কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে সরকার, এই আইনের বিধানের সহিত সামঞ্জস্য রাখিয়া, গেজেট বিজ্ঞপ্তি দ্বারা উক্ত বিধানের স্পষ্টীকরণ বা ব্যাখ্যা প্রদানকরতঃ অধিদপ্তরের করণীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করিতে পারিবে।
৭৮। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থার সহযোগিতা ও সহায়তা গ্রহণ
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কোনো কার্য সম্পাদনের লক্ষ্যে, প্রয়োজনে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট যে কোনো সংস্থা বা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ও সহায়তা চাহিয়া অধিদপ্তর কর্তৃক পত্র প্রেরণ করা হইলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী, সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সহায়তা প্রদান করিবে।
৭৯। জব্দ বা আটক সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিতকরণ ও জব্দ বা আটককৃত ঔষধ ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ
এই আইনের অধীন কোনো ঔষধ, কসমেটিকস্ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সামগ্রী, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, জব্দ বা আটক করা হইলে, উক্তরূপ জব্দ বা আটককৃত মালামালের তালিকা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাহার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবিলম্বে অবহিত করিবেন এবং প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি মহাপরিচালকের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং জব্দ বা আটককৃত মালামাল নির্ধারিত স্থানে সংরক্ষণ করিবেন।
৮০। বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ
(১) এই আইনের উদ্দেশ্যে পূরনকল্পে, কোনো বিষয়ে আইনগত মতামত বা কারিগরী বিশ্লেষণ বা মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে মর্মে অধিদপ্তরের নিকট প্রতীয়মান হইলে, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী, বিশেষজ্ঞ বা বিশেষ জ্ঞান বা অভিজ্ঞাতাসম্পন্ন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে উক্ত বিষয়ের উপর মতামত প্রদানের জন্য অনুরোধ জানাইতে পারিবে অথবা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানাইতে পারিবে।
(২) উপধারা (১) এ উল্লিখিত মতামত প্রদানকারী ব্যক্তিকে নির্ধারিত হারে, বা সরকারি আর্থিক বিষয়ক নিয়ম নীতি অনুসারে, যথাযথ পারিশ্রমিক বা সম্মানী প্রদান করা যাইবে।
৮১। তপশিল সংশোধনের ক্ষমতা
এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা তপশিল সংশোধন করিতে পারিবে।