- ৩১। ভোটার তালিকা
- ৩২। ভোটাধিকার
- ৩৩। মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন
- ৩৪। নির্বাচনের সময়, ইত্যাদি
- ৩৫। নির্বাচন পরিচালনা
- ৩৬। মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ
চতুর্থ অধ্যায় : নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ( স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ )
৩১। ভোটার তালিকা
(১) প্রত্যেক ওয়ার্ডের জন্য নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত একটি ভোটার তালিকা থাকিবে।
(২) কোন ব্যক্তি কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকাভুক্ত হইবার অধিকারী হইবেন, যদি তিনি-
(ক) বাংলাদেশের নাগরিক হন;
(খ) আঠার বৎসরের কম বয়স্ক না হন;
(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষিত না হন; এবং
(ঘ) সেই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন বা বাসিন্দা বলিয়া গণ্য হন।
৩২। ভোটাধিকার
যাহার নাম কর্পোরেশনের কোন ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ থাকিবে, তিনি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।
৩৩। মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচন
(১) ধারা ৩ এর অধীন প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেক কর্পোরেশনের মেয়র এবং ধারা ২৭ এর অধীন বিভক্ত প্রত্যেক ওয়ার্ড হইতে একজন করিয়া কাউন্সিলর এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন।
(২) ধারা ৩০ এর দফা (ক) এর অধীন প্রত্যেক সমন্বিত ওয়ার্ড হইতে একজন করিয়া মহিলা কাউন্সিলর এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধি অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হইবেন।
৩৪। নির্বাচনের সময়, ইত্যাদি
(১) নিম্নবর্ণিত সময়ে সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে, যথাঃ-
(ক) এই আইনের অধীন কর্পোরেশন প্রথমবার গঠনের ক্ষেত্রে, এই আইন বলবৎ হইবার পর একশত আশি দিনের মধ্যে;
(খ) কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ হইবার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্ববর্তী একশত আশি দিনের মধ্যে;
(গ) কর্পোরেশনের গঠন বাতিলের ক্ষেত্রে, বাতিলাদেশ জারির পরবর্তী1[একশত আশি দিনের মধ্যে;]
2[(ঘ) কর্পোরেশন বিভক্ত করিয়া একাধিক সিটি কর্পোরেশন গঠন করা হইলে সেই ক্ষেত্রে3[একশত আশি দিনের মধ্যে]।]
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (খ) এর অধীন নির্বাচিত মেয়র অথবা কাউন্সিলর, কর্পোরেশনের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কার্যভার গ্রহণ করিতে পারিবেন না।
৩৫। নির্বাচন পরিচালনা
(১)] নিবার্চন কমিশন তদ্কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নিবার্চনের আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করিবে; এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নরূপ সকল বা যে কোন বিষয়ের বিধান করা যাইবে, যথাঃ-
(ক) নিবার্চন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;
(খ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে হলফনামা দাখিল, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়নপত্র বাছা
2[***]
(গ) প্রার্থীগণ কর্তৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ
(ঘ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ;
(ঙ) প্রার্থীর এজেন্ট নিয়োগ
(চ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নিবার্চন পদ্ধতি;
(ছ) ভোট গ্রহণের তারিখ, সময় ও স্থান এবং নিবার্চন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;
(জ) ভোট প্রদানের পদ্ধতি;
(ঝ) ভোট বাছাই ও গণনা, ফলাফল ঘোষণা এবং সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি
(ঞ) ব্যালট পেপার এবং নিবার্চন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবণ্টন
(ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;
(ঠ) প্রার্থীর নিবার্চনী ব্যয় এবং এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়;
(ড) ভোট গ্রহণের দিন নিবার্চন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যের গ্রেফতার করিবার ক্ষমতা;
(ঢ) নিবার্চনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কাযর্কলাপ ও অন্যান্য নিবার্চনী অপরাধ ও উহার দণ্ড এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের আচরণ বিধি ভঙ্গের দণ্ড;
(ণ) নিবার্চনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি;
(ত) অপরাধ বিচারার্থ গ্রহণ, ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ, মামলার মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়াদি;
(থ) গাড়ি হুকুম দখলের ক্ষমতা, নিবার্চন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বদলী, কতিপয় ক্ষেত্রে নিবার্চন কমিশনের ভোট গ্রহণ বন্ধ রাখার ক্ষমতা এবং নিবার্চন পর্যবেক্ষক নিয়োগে নিবার্চন কমিশনের ক্ষমতা; এবং
(দ) নিবার্চন সম্পর্কিত আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়।
(২) উপ-ধারা (১) এর দফা (ঢ) এর ক্ষেত্রে বিধিতে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ড বা, ক্ষেত্রমত, প্রার্থিতা বাতিল সংক্রান্ত বিধান করা যাইবেঃ
তবে শর্ত থাকে যে, নিবার্চনী অপরাধের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ অন্যূন ছয় মাস এবং অনধিক সাত বৎসর এবং আচরণ বিধির কোন বিধান লংঘনের জন্য কারাদণ্ডের মেয়াদ অনধিক ছয় মাস অথবা অনধিক পঞ্চাশ হাজার টাকার অর্থ দণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডের বিধান করা যাইবে।
৩৬। মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ
মেয়র এবং কাউন্সিলর হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, নির্বাচন কমিশন, যথাশীঘ্র সম্ভব, সরকারি গেজেটে প্রকাশ করিবে।