04 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫

সপ্তদশ অধ্যায় : শিক্ষাধীনতা ( বিএলআর-২০১৫ )
৩২৮। যোগ্য কর্তৃপক্ষ।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ধারা ৩১৮ মোতাবেক এই অধ্যায়ের জন্য যোগ্য কর্তৃপক্ষ বলিয়া বিবেচিত হইবেন।

৩২৯। ত্রিপক্ষীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠন

(১) ধারা ২৭৬ মোতাবেক একজন চেয়ারম্যান, একজন সদস্য সচিব এবং সরকার, মালিক ও শ্রমিকদের প্রত্যেকের পক্ষ হইতে প্রতিনিধিত্বশীল ৪ (চার) জন সদস্যের সমন্বয়ে শিক্ষাধীনতা সংক্রান্ত ত্রিপক্ষীয় উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হইবে। 

(২) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব পদাধিকারবলে উক্ত কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন। 

(৩) মহাপরিদর্শক, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, কমিটির সদস্য—সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।   

(৪) উক্ত কমিটিতে সরকার পক্ষের সদস্য হিসাবে শ্রম, দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষা এবং শিল্প বিভাগ হইতে একজন করিয়া প্রতিনিধি সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন।  

(৫) মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা বা সংগঠনসমূহের সহিত আলোচনাক্রমে কমিটিতে মালিক এবং শ্রমিক প্রতিনিধি সরকার কর্তৃক মনোনীত হইবেন ।

৩৩০। কমিটির কার্যকাল

(১) কমিটির সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ হইবে সরকারি গেজেটে তাহাদের নিয়োগ সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ হইতে ২ (দুই) বৎসর। 

(২) উক্ত ২ (দুই) বৎসর শেষ হইবার পরেও সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাহার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একজন সদস্য তাহার দায়িত্ব পালন করিতে পারিবেন। 

(৩) কোন সদস্যের মেয়াদ শেষ হইবার কারণে সদস্যপদের পরিসমাপ্তি ঘটিলে এবং অন্য কোন কারণে অযোগ্য না হইলে তিনি পুনরায় নিয়োগের যোগ্য হইবেন। 

(৪) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অন্য কোন কারণে কাহারো সদস্যপদ শূন্য হইলে প্রতিনিধিত্বের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ না করিয়া সরকার উক্ত শূন্যপদ পূরণ করিতে পারিবে।   

(৫) একজন সদস্য সরকারের নিকট লিখিত নোটিস প্রেরণ করিয়া পদত্যাগ করিতে পারিবেন এবং সরকার কতৃর্ক উক্ত পদত্যাগপত্র গৃহীত হইলে  তাহার পদ শূন্য হইবে । 

(৬) অসদাচরণ বা অন্য কোন কারণে একজন সদস্যকে কমিটিতে রাখা জনস্বার্থের অনুকূলে নহে বলিয়া বিবেচিত হইলে সরকার তাহাকে অপসারণ করিতে পারিবে।  

(৭) সাময়িক শূন্যপদ পূরণের জন্য কোন ব্যক্তিকে সদস্যপদে নিয়োগ করা হইলে তিনি শুধু কমিটির অবশিষ্ট মেয়াদকালের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিতে পারিবেন।  

৩৩১। সভা

(১) প্রতি ৬ (ছয়) মাস অন্তর বৎসরে অন্তত ২টি সভা অনুষ্ঠিত হইবে, তবে চেয়ারম্যান যতবার প্রয়োজন মনে করিবেন ততবার কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে। 

(২) সদস্য—সচিব চেয়ারম্যানের সহিত আলোচনাক্রমে প্রত্যেক সদস্যের নিকট লিখিত নোটিস প্রদান করিয়া কমিটির সভা আহবান করিবেন।  

(৩) সভায় চেয়ারম্যান সভাপতিত্ব করিবেন, তাহার অনুপস্থিতিতে তৎকর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন সরকারি সদস্য সভাপতিত্ব করিতে পারিবেন।   

(৪) চেয়ারম্যানসহ মোট ৭ (সাত) জন সদস্য উপস্থিত থাকিলে সভায় কোরাম হইবে এবং চেয়ারম্যান ব্যতীত অবশিষ্ট সদস্যদের মধ্যে সরকার, মালিক ও শ্রমিক পক্ষের কমপক্ষে একজন করিয়া প্রতিনিধি উপস্থিত থাকিতে হইবে। 

(৫) সভায় উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং পক্ষে ও বিপক্ষে সমসংখ্যক ভোট প্রদান করা হইলে চেয়ারম্যান একটি নির্ণায়ক ভোট প্রদান করিতে পারিবেন।


৩৩২। কমিটির কার্যাবলি

(১) কমিটির কার্যাবলি হইবে নিম্নরূপ, যথা:

(ক) আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় কার্যকর করিবার বিষয়ে উপযুক্ত কতৃর্পক্ষকে নির্দেশনা প্রদান; 

(খ) প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ এবং সাধারণভাবে বা বিশেষ ক্ষেত্রে শিক্ষাধীন ব্যক্তির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে যোগ্য কতৃর্পক্ষকে সুপারিশ করা; 

(গ) ভর্তির সময় শিক্ষাধীন ব্যক্তির সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা, পাঠ্যবিষয়, পাঠ্যক্রমের মেয়াদ, পরীক্ষা, শ্রেণিবিন্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে শিক্ষাধীনতার মান সম্পর্কে সরকারকে পরামর্শ প্রদান। 

(২) কমিটি প্রয়োজন মনে করিলে কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে কমিটিকে সহায়তা প্রদানের জন্য এক বা একাধিক সাব—কমিটি গঠন করিতে পারিবে এবং কমিটি বা সাব—কমিটিতে দায়িত্ব পালন করিবার জন্য কারিগরি বিশেষজ্ঞ মনোনীত করিতে পারিবে। 

৩৩৩। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাধীনতা নীতিমালা

(১) যে সকল প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম থাকিবে সেইসব প্রতিষ্ঠানের মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম নীতিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেন।  

(২) কোন প্রতিষ্ঠানের মালিক এইরূপ নীতিমালা প্রণয়ন করিলে উহা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত হইতে হইবে।

(৩) উক্ত নীতিমালা আইন ও এই বিধিমালার অপেক্ষা কম অনুকূল হইতে পারিবে না।  

৩৩৪। মালিকের বাধ্যবাধকতা

(১) প্রত্যেক মালিক, যাহার উপর আইনের অষ্টাদশ অধ্যায় প্রযোজ্য, কোন বিশেষ পেশাকে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা হিসাবে ঘোষণা করিয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে, যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট তাহার প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশাসমূহের একটি তালিকা, অনুরূপ পেশায় বিভিন্ন শ্রেণিতে নিয়োজিত ব্যক্তির সংখ্যা এবং ধারা ২৭৭ মোতাবেক তৎকতৃর্ক নিয়োজিত শিক্ষাধীন ব্যক্তির সংখ্যা উল্লেখ রিয়া একটি তালিকা দাখিল করিবেন। 

(২) শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় পরবতীর্তে কোন ব্যক্তিকে নিয়োগ করা হইলে অনুরূপ নিয়োগের ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে। 

(৩) প্রত্যেক মালিক বিধি মোতাবেক সরকারের নির্দেশপত্র অনুযায়ী তাহার প্রতিষ্ঠানে একটি শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম অনুমোদনের জন্য এবং যেখানে ইতিমধ্যেই অনুরূপ শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম চলমান রহিয়াছে, নির্দেশপত্র মোতাবেক সেইটি পুনরীক্ষণ করিবেন এবং উপরি—উক্ত নির্দেশপত্র কার্যকর হইবার তারিখ হইতে ১ (এক) মাস সময়ের মধ্যে যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট অনুমোদনের জন্য দাখিল করিবেন।

৩৩৫। কারিগরি উপদেশ ও নির্দেশনা প্রদান

(১) যোগ্য কতৃর্পক্ষ, কমিটির পরামর্শ ও নির্দেশনার আলোকে, বিভিন্ন সময়ে নিম্নবর্ণিত বিষয় সম্পর্কে নির্দেশ জারি করিতে পারিবে, যথা:

(ক) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার জন্য ব্যবহারিক ও তত্ত্বীয় বিষয়বস্তু এবং পাঠ্যসূচি; 

(খ) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার শিক্ষাধীনতার মেয়াদ এবং উহা আরম্ভের সময়; 

(গ) প্রশিক্ষণের পরবতীর্ উচ্চতর শ্রেণি বা ধাপে উত্তীর্ণ অথবা শিক্ষাধীনতার অসন্তোষজনক অগ্রগতির জন্য একই পদে রাখিবার পদ্ধতি ও শর্তাদি নির্ধারণ;  

(ঘ) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমের অধীন বিভিন্ন পেশার পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন; 

(ঙ) শিক্ষাধীন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিয়োজিত প্রশিক্ষকদের নূূ্যনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা;  

(চ) প্রশিক্ষণের মান যাচাই ও পরীক্ষা গ্রহণের পদ্ধতি এবং প্রত্যয়নপত্র প্রদান; 

(ছ) প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখিবার শর্ত; 

(জ) প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর চাকরিতে নিয়োগের শর্তাদি; এবং 

(ঝ) শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশা সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় অন্য কোন বিষয়।  

(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন নির্দেশ জারির সময় সরকার সংশ্লিষ্ট শিল্প বা ব্যবসায়ে নিয়োজিত উপযুক্ত ব্যক্তিদের নিকট হইতে সুপারিশ আহবান করিতে পারিবে। 

৩৩৬। শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে অন্তভুর্ক্তি

(১) কোন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থী বাছাইকল্পে মালিক নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করিবেন, যথা:

(ক) বিজ্ঞাপনের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার এবং নিকটতম চাকরির সন্ধান কেন্দ্রে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রদান; 

(খ) যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণ; এবং 

(গ) লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ। 

(২) শিক্ষাধীনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে মহিলা ও প্রতিবন্ধিদের অগ্রাধিকার প্রদান করিতে হইবে। 

(৩) শিক্ষাধীন হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য বয়স সর্বনিম্ন ১৭ (সতের) বৎসর ও অনধিক ৩০ (ত্রিশ) বৎসর হইতে হইবে, তবে পূর্বে চাকরি করিয়াছেন এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যোগ্য কতৃর্পক্ষ ইচ্ছানুসারে উক্ত বয়সসীমা শিথিল করিতে পারিবে।

(৪) তালিকাভুক্তির সময় শিক্ষাধীন ব্যক্তির শারীরিক উপযুক্ততা প্রমাণের জন্য মালিক নিজ খরচে ফরম—১৫ অনুযায়ী রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসক কতৃর্ক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন এবং ফরম ১৫(ক) অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্রের তথ্য সংরক্ষণ করিবেন। 

(৫) শিক্ষাধীন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ উপযুক্ত কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে এবং তিনি ইচ্ছা করিলে সাক্ষাৎকারে এবং চূড়ান্ত নির্বাচনে উপস্থিত থাকিবার জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন। 

(৬) ধারা ৫ অনুযায়ী চুক্তিপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদান না করিয়া শিক্ষাধীন হিসাবে ভতি করা যাইবে না। 

৩৩৭। শিক্ষাধীনতা চুক্তি

(১) শিক্ষাধীনতা পেশায় ভর্তির প্রারম্ভে মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তি ফরম—৭০ অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদন করিবেন। 

(২) উপ—বিধি (১) এ উল্লিখিত চুক্তি শিক্ষাধীনতা চুক্তি নামে অভিহিত হইবে এবং উভয় পক্ষই চুক্তির শর্তাবলি মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিবে।  

(৩) শিক্ষাধীন ব্যক্তির বয়স ১৮ (আঠার) বৎসরের কম হইলে তাহার মাতা বা পিতা বা আইনগত অভিভাবকও উহাতে স্বাক্ষর করিবেন। 

(৪) চুক্তিপত্র ৩ (তিন) কপি হইবে, মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তি এক কপি করিয়া তাহাদের নিকট রাখিবে এবং অন্য একটি কপি রেকর্ডভুক্ত করিবার জন্য যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।  

৩৩৮। শিক্ষাধীনতার স্থায়িত্ব

(১) শিক্ষাধীনতা চুক্তিতে শিক্ষাধীনতার মেয়াদ উল্লেখ থাকিতে হইবে: 

তবে শর্ত থাকে যে, এই বিধিমালা মোতাবেক ঘোষিত সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বিভিন্ন পেশার শিক্ষাধীনতার মেয়াদ ভিন্ন ধরনের হইতে পারিবে। 

(২) কোন শিক্ষাধীন ব্যক্তি ভর্তির পূর্বে কোন সরকারি বা স্বীকৃত সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কিছুকালের জন্য পদ্ধতিগত বৃত্তিমূলক বা কারিগরি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করিয়া থাকিলে তাহার ক্ষেত্রে শিক্ষাধীনতার সময়সীমা আংশিকভাবে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবে, তবে কোন ক্ষেত্রেই উক্ত অব্যাহতি মোট সময়সীমার অর্ধেকের অধিক হইবে না।  

(৩) শিক্ষাধীনতাকালে প্রথম ৩ (তিন) মাসের মধ্যে যোগ্যতম মনে না হইলে মালিক ইচ্ছা করিলে ১ (এক) সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া এবং শিক্ষাধীন ব্যক্তি ইচ্ছা করিলে মালিককে এক সপ্তাহের নোটিস প্রদান করিয়া (যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করণসহ) শিক্ষাধীনতার সমাপ্তি ঘটাইতে পারিবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে নির্ধারিত মেয়াদের পূর্বে শিক্ষাধীনতার সমাপ্তি ঘটিলে মালিক তাহাকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিবেন। 

৩৩৯। পরীক্ষা ও প্রত্যয়ন

(১) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৫ (পাঁচ) সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করিবেন, উক্ত বোর্ডে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট পেশায় দক্ষ ব্যক্তি অন্তভুর্ক্ত থাকিতে হইবে এবং উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে। 

(২) বোর্ড বিভিন্ন পেশা বিষয়ক শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য সাময়িক, বার্ষিক এবং চূড়ান্ত মুল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করিবে। 

(৩) পরীক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ে বোর্ড সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কার্যক্রম অনুসরণ করিবে। 

(৪) পরীক্ষার ফলাফল ফরম—৭১ অনুযায়ী লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং যে সকল শিক্ষাধীন ব্যক্তি চূড়ান্ত পরীক্ষায় কৃতকার্য হইবে তাহাদিগকে ফরম—৭২ অনুযায়ী প্রত্যয়নপত্র প্রদান করিতে হইবে। 

(৫) প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং সেইসব পরীক্ষার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণার্থীদের নম্বর প্রদানের জন্য বোর্ড দায়ী থাকিবে।  

(৬) শিক্ষাধীনতার চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিতে হইবে এবং কতৃর্পক্ষ প্রয়োজন মনে করিলে চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল ঘোষণা ও প্রত্যয়নপত্র প্রদানের কাজে অংশগ্রহণের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবে। 

৩৪০। শিক্ষাধীনতা ভাতা প্রদান

(১) শিক্ষাধীনতার সময়কালে মালিক নিম্নবর্ণিতভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক শিক্ষাধীনতা ভাতা প্রদান করিবেন, যথা:

(ক) শিক্ষাধীনতার প্রথম বৎসর:        সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৫০ (পঞ্চাশ) ভাগ; 

(খ) শিক্ষাধীনতার দ্বিতীয় বৎসর:    সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৬০ (ষাট) ভাগ; এবং 

(গ) শিক্ষাধীনতার তৃতীয় বৎসর:       সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির শতকরা ৭৫ (পঁচাত্তর) ভাগ।

(২) শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের সময়সীমা ৩ (তিন) বৎসরের অধিক হইলে তৃতীয় বৎসরের পর শিক্ষাধীনতার ভাতার  হার সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে নিযুক্ত দক্ষ শ্রমিকদের সাকূল্য মজুরির সমান হইবে। 

(৩) একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে ফূরনভিত্তিক কাজের হিসাবে ভাতা প্রদান করা যাইবে না।  

(৪) এই বিধির অন্যান্য উপ—বিধিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, একজন মালিক যে কোন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে তাহার প্রশিক্ষণের কোন উত্তম অগ্রগতির জন্য স্বেচ্ছায় তাহাকে উচ্চতর হারে ভাতার বা অন্যান্য উৎসাহপ্রদ পুরস্কার প্রদান করিতে পারিবেন। 

(৫) প্রশিক্ষণের পরবতীর্ উচ্চতর শ্রেণি বা ধাপে উন্নীত না হইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে শ্রেণি বা ধাপে রহিয়াছেন সেই শ্রেণি বা ধাপের জন্য নির্ধারিত হারে ভাতা প্রাপ্য হইবেন। 

(৬) শিক্ষাধীনতা কাল সমাপ্তির পরে প্রতিষ্ঠানের মালিক ইচ্ছা করিলে সংশ্লিষ্ট পেশার সমপর্যায়ের গ্রেডে দক্ষ শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ করিতে পারিবেন। 

৩৪১। কাজের ঘন্টা, ছুটি ও বন্ধ

(১) শিক্ষাধীন ব্যক্তির কাজের ঘন্টা, ছুটি (বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি ব্যতীত) ও বন্ধ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিযুক্ত অন্যান্য শ্রমিকের অনুরূপ হইবে এবং আইন ও এই বিধিমালা মোতাবেক উহা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

(২) কোন শিক্ষাধীনতা কর্মসূচিতে শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত সময় কাজের ব্যবস্থা থাকিবে না।  

৩৪২। প্রশিক্ষণ উপকরণ সরবরাহ

প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, কারখানার পোশাক, যন্ত্রপাতি, বই—পুস্তক, ড্রইং সরঞ্জাম, কাঁচামাল প্রভৃতি বিনামূল্যে সরবরাহ করিতে হইবে এবং এইসব দ্রব্যাদি মালিকের সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হইবে।  

৩৪৩। শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি

(১) মালিক শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের যথাযথ এবং কার্যকর তদারকি, নির্দেশনা এবং নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করিবেন এবং উক্ত উদ্দেশ্যে শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের সংখ্যার উপর নির্ভর করিয়া সার্বক্ষণিক বা খন্ডকালীন ভিত্তিতে এক বা একাধিক যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ করিবেন।  

(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন নিয়োগকৃত ব্যক্তিগণের উপর সুচারুভাবে শিক্ষাধীনতা কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে এবং অনুরূপ ব্যক্তিবর্গ মালিকের নিকট সরাসরি দায়ী থাকিবেন। 

(৩) ৫০ (পঞ্চাশ) বা ততোধিক শিক্ষাধীন ব্যক্তি রহিয়াছেন এমন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মচারীসহ একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণ বিভাগ থাকিবে।

(৪) ২০ (বিশ) জন বা উহার কম শিক্ষাধীন ব্যক্তি নিয়োজিত রহিয়াছেন এমন প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষক, যিনি শপ ফোরম্যান বা সুপারভাইজার হইবেন এবং উহার সহায়তার জন্য প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তাকে তাহার স্বাভাবিক দায়িত্বের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে হইবে। 

৩৪৪। সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক শিক্ষা

(১) যোগ্য কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক জারিকৃত নির্দেশনা মোতাবেক কোন মালিক এককভাবে অথবা ২ (দুই) বা ততোধিক মালিক যৌথভাবে শিক্ষাধীন ব্যক্তিদের জন্য তাত্ত্বিক শিক্ষার ব্যবস্থা করিবেন।  

(২) কোন শিক্ষার্থী যে সময়ে তাত্ত্বিক শিক্ষায় যোগদান করিবেন উক্ত সময়ে তাহার বৃত্তি হইতে কোন কর্তন করা যাইবে না। 

(৩) যে ক্ষেত্রে বিভিন্ন মালিক যৌথভাবে তাত্ত্বিক শিক্ষার ব্যবস্থা করেন, সেই ক্ষেত্রে তাহারা তাহাদের নির্ধারিত এবং যোগ্য কর্তৃপক্ষ কতৃর্ক অনুমোদিত পরিকল্পনা মোতাবেক আনুপাতিক হারে ব্যয় বহন করিবেন। 

৩৪৫। শিক্ষাধীনের বদলি

(১) একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণের সুবিধার জন্য এক মালিকের প্রতিষ্ঠান হইতে অন্য মালিকের শিক্ষাধীনতাযোগ্য পেশায় বদলি করা যাইবে। 

(২) উপ—বিধি (১) এর অধীন বদলির ক্ষেত্রে গ্রহণকারী মালিকের এবং শিক্ষাধীন ব্যক্তির সম্মতি থাকিতে হইবে।  

৩৪৬। মেয়াদপূর্তির পূর্বে শিক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের অবসান

কোন শিক্ষাধীনতার প্রশিক্ষণ যোগ্য কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট তারিখের পূর্বেই শেষ করা যাইবে, যদি কোন যুক্তিসংগত কারণে শিক্ষাধীনতা সংক্রান্ত আইন, বিধিমালা ও চুক্তির শতার্দি মানিয়া চলিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ অপরাগ হন।   

৩৪৭। পেশা পরিবর্তন

ক্ষাধীনতা প্রশিক্ষণের স্বার্থে কার্যক্রম পরিবর্তন প্রয়োজন হইলে কেবল যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবহিত করিয়াশি একজন শিক্ষাধীন ব্যক্তির মূল কার্যক্রম পরিবর্তন করা যাইবে। 

৩৪৮। রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ এবং পারদর্শিতার প্রতিবেদন দাখিল

(১) প্রত্যেক মালিক প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তি সম্পর্কে ফরম—৭৩ অনুযায়ী একটি শিক্ষাধীনতা রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন এবং শিক্ষাধীনতা বৎসর শুরুর সঙ্গে সঙ্গে উহার দুইটি কপি যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন। 

(২) যোগ্য কতৃর্পক্ষ প্রত্যয়নপূর্বক উক্ত ফরমের একটি কপি মালিকের নিকট ফেরত প্রদান করিবে এবং অন্যকপি রেকর্ড হিসাবে তাহার কার্যালয়ে সংরক্ষণ করিবে। 

(৩) শিক্ষাধীনতার কোন বিষয়ে পরিবর্তন হইলে উহা মালিক যোগ্য কতৃর্পক্ষকে অবিলম্বে তাহার অফিসে রক্ষিত এতদসংক্রান্ত রেকর্ড সংশোধনের জন্য অবহিত করিবেন।

(৪) প্রত্যেক মালিক প্রত্যেক শিক্ষাধীন ব্যক্তির জন্য ফরম—৭৪ অনুযায়ী একটি করিয়া পারদর্শিতার প্রতিবেদন সংরক্ষণ করিবেন এবং যোগ্য কতৃর্পক্ষ বা তাহার দ্বারা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিদর্শনের জন্য উহা সংরক্ষণ করিবেন।   

৩৪৯। বিরোধ নিষ্পত্তি

প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মালিক ও শিক্ষাধীন ব্যক্তির মধ্যে কোন সময় কোন বিরোধ উত্থাপিত হইলে উহা যোগ্য কতৃর্পক্ষের নিকট পেশ করিতে হইবে এবং সেই বিষয়ে যোগ্য কতৃর্পক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে। 

img