02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫

দ্বাদশ অধ্যায় : দুর্ঘটনাজনিত কারণে জখমের জন্য ক্ষতিপূরণ ( বিএলআর-২০১৫ )
১৩৪। ক্ষতিপূরণ হিসাবে বা অস্থায়ী অক্ষমতার কারণে প্রদেয় মাসিক মজুরি পর্যালোচনা।

ধারা ১৫৩ মোতাবেক প্রদেয় মাসিক ক্ষতিপূরণ পর্যালোচনার আবেদন নি¤ড়ববর্ণিত ক্ষেত্রে ডাক্তারী প্রত্যয়নপত্র ব্যতীত শ্রম আদালতে পেশ করা যাইবে, যথা:জ্জ

(ক) মালিক কর্তৃক শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অধিকার নির্ধারিত হইয়াছে এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাইয়াছে;

(খ) শ্রমিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অধিকার নির্ধারণ করা হইয়াছে এবং শ্রমিকের মজুরি কমিয়া গিয়াছে;

(গ) শ্রমিকের অবস্থার পরিবর্তন না হওয়া সত্ত্বেও মালিক কর্তৃক শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু করিবার পর ক্ষতিপূরণ প্রদান বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে;

(ঘ) বর্তমানে বলবৎ ক্ষতিপূরণের হার প্রতারণামূলকভাবে বা অন্যায় প্রভাব দ্বারা বা অন্য কোন অনুচিত পন্থায় মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক নির্ধারণ করা হইয়াছে;

(ঙ) মালিক অথবা শ্রমিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে রেকর্ড হইতে আপাতত: দৃষ্টিতে কোন ভুল দৃষ্টিগোচর হয়।

১৩৫। ক্ষতিপূরণ পর্যালোচনা আবেদনের ক্ষেত্রে পদ্ধতি

(১) যদি মালিক কর্তৃক পরিশোধ্য ক্ষতিপূরণ হ্রাস করা বা বন্ধ করিবার আবেদন পরীক্ষা করিয়া শ্রম আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, মালিকের অনুরূপ ক্ষতিপূরণ হ্রাস বা বন্ধ করিবার আবেদন করিবার যুক্তিসংগত কারণ রহিয়াছে তবে উক্ত আবেদন সম্পর্কে তাহার সিদ্ধান্ত প্রদান সাপেক্ষে যে কোন সময় অনুরূপ মাসিক ক্ষতিপূরণ প্রদান সম্পূর্ণ বা আংশিক স্থগিত রাখিবার নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবে।

(২) যে ক্ষেত্রে ধারা ১৫৪ মোতাবেক শ্রম আদালতে আবেদন করা হইয়াছে, সেই ক্ষেত্রে শ্রম আদালত দৈহিক অক্ষমতার সম্ভাব্য মেয়াদ হিসাব করিয়া ক্ষতিপূরণের মোট পরিমাণ নির্ধারণ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত হিসাব হইতে এক টাকার ভগড়বাংশ ধর্তব্যের বাইরে বিবেচিত হইবে।

(৩) উপ-বিধি (২) প্রযোজ্য হইলে শ্রম আদালত যদি দৈহিক অক্ষমতা নির্ধারণে অপারগ হয় তবে বিভিনড়ব সময় অনধিক দুই মাসের জন্য দরখাস্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ মুলতবী রাখিতে পারিবে।

১৩৬। ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য উত্তরাধিকারী মনোনয়ন

ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (২) মোতাবেক শ্রমিককে তাহার দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ গ্রহণের জন্য চাকরিতে যোগদানকালীন ফরম-৪১ অনুযায়ী উত্তরাধিকারী মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে।

১৩৭। ক্ষতিপূরণের অর্থ শ্রম আদালতে জমা প্রদান

(১) জখমের কারণে মৃত্যুর ফলে ধারা ১৫৫ (১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা প্রদানের ক্ষেত্রে মালিক শ্রম আদালতের নিকট ফরম-৪৫ অনুযায়ী একটি বিবরণী দাখিল করিবে এবং অন্যান্য ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের ক্ষেত্রে ফরম-৪৬ অনুযায়ী বিবরণী দাখিল করিতে হইবে এবং উভয় ক্ষেত্রে আদালত জমা প্রদানকারীকে ফরম-৪৭ অনুযায়ী প্রাপ্তি রসিদ প্রদান করিবে।

(খ) যে কোন রেজিস্টার বা অন্যান্য দলিলপত্র তলব করিতে এবং সরেজমিনে যে কোন লোকের সাক্ষ্য গ্রহণ করিতে পারিবেন; এবং

(গ) প্রশড়বমালা বিলি করিয়া বা অন্যভাবে লিখিত তথ্য সংগ্রহ করিতে পারিবেন।

(২) মারাতড়বক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ জমা প্রদানের সময় যদি মালিক উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত বিবরণীতে উল্লেখ করিয়া থাকেন যে, বন্টন কার্যμমে তিনি পক্ষভুক্ত হইতে ইচ্ছুক তাহা হইলে শ্রম আদালত, ক্ষতিপূরণের অর্থ বিতরণের পূর্বে মালিককে, তিনি যাহাকে উক্ত অর্থ মঞ্জুর করিতে চাহেন উক্ত ব্যক্তি যে মৃত শ্রমিকের পোষ্য বা তাহার কোন পোষ্য নাই, উহা প্রমাণ করিবার জন্য সুযোগ প্রদান করিবে।

১৩৮। জমার তালিকা প্রকাশ

শ্রম আদালত উহার নোটিস বোর্ডে ধারা ১৫৫(১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রাপ্ত জমার একটি তালিকা প্রদর্শন করিবে যাহাতে জমাকারীদের নাম ও ঠিকানা এবং যাহাদের মৃত্যু বা আহত হইবার দরুণ উক্ত টাকা জমা দেওয়া হইয়াছে, তাহাদের নাম ও ঠিকানা থাকিবে।

১৩৯। শ্রম আদালতে ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা প্রদানের আবেদন

(১) যে ক্ষেত্রে কোন মালিক দুর্ঘটনায় জখমপ্রাপ্ত কোন শ্রমিককে বা মৃত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অর্থ আইন অনুযায়ী পোষ্যদের প্রদান করেন নাই অথবা আদালতে জমা প্রদান করেন নাই সেই ক্ষেত্রে উক্ত অর্থ জমা প্রদানের জন্য আদেশ জারির প্রার্থনা জানাইয়া শ্রমিক নিজে অথবা মৃত শ্রমিকের যে কোন পোষ্য অথবা তাহার আইনগত প্রতিনিধি শ্রম আদালতে দরখাস্ত করিতে পারিবেন এবং অনুরূপ দরখাস্ত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ফরম-৪৮, ৪৮(ক) বা ৪৮(খ) অনুযায়ী করিতে হইবে।

(২) শ্রম আদালত অনুরূপ দরখাস্ত প্রাপ্তির পরজ্জ

(ক) মালিককে শুনানির সুযোগ প্রদান করিয়া তদন্ত সমাপ্ত করিবার পর উহা যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, ক্ষতিপূরণের অর্থ আইন অনুযায়ী প্রদান করা বা আদালতে জমা দেওয়া হয় নাই, তাহা হইলে ধারা ১৫৫ এর উপ-ধারা (১) মোতাবেক ক্ষতিপূরণের টাকা জমা দেওয়ার জন্য মালিককে নির্দেশ প্রদান করিবে;

(খ) মালিক কর্তৃক ক্ষতিপূরণের অর্থ জমা হইবার পর, যে কোন সময় উহা তৎকর্তৃক নির্ধারিত পন্থায় মৃত শ্রমিকের যে সকল পোষ্য বা নির্ভরশীল আবেদন করেন নাই

তাহাদের নিকট নোটিস পৌঁছাইবার জন্য নির্দেশ প্রদান করিবে এবং উক্ত নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোষ্যগণ কোন তারিখে আদালত সমীপে উপস্থিত হইবে উহা উল্লেখ

থাকিতে হইবে;

(গ) দরখাস্তের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিগণ শ্রম আদালতে নির্দেশিত তারিখে উপস্থিত হইতে ব্যর্থ হইবার কারণে মৃত ব্যক্তির কোন নির্ভরশীল ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ বাবদ জমাকৃত টাকার

অংশ পাইবার অধিকার হইতে যাহাতে বঞ্চিত না হন উহা নিশ্চিত করিবে।

(৩) কোন মালিক ধারা ১৫৫(৪) এর বিধান মোতাবেক ক্ষতিপূরণ জমা প্রদান করিবার সময় উহার সহিত একটি বিবরণী দাখিল করিবেন এবং তাহাকে ফরম-৪৭ অনুযায়ী শ্রম আদালত এতদসংশ্লিষ্ট একটি রসিদ প্রদান করিবে।

১৪০। অবন্টিত অর্থ হস্তান্তর ও বিনিয়োগ

(১) ধারা ১৫৫(৭) মোতাবেক দুই বৎসরের মধ্যে কোন পোষ্য পাওয়া না গেলে শ্রম আদালতে জমাকৃত অবন্টিত অর্থ উক্ত আদালত বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ দ্বারা গঠিত ‘‘শ্রমিক কল্যাণ তহবিল’’এ হস্তান্তর করিবে।

(২) যে ক্ষেত্রে আদালতে জমাকৃত অর্থ আইনগত অক্ষমতার অধীন কোন ব্যক্তিকে প্রদেয় হয় সেই ক্ষেত্রে শ্রম আদালতের নিকট জমাকৃত অর্থ উক্ত ব্যক্তির কল্যাণার্থে আদালত উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে হস্তান্তর করিতে পারিবে।

(৩) অক্ষমতার অধীন ব্যক্তি অক্ষমতামুক্ত হইলে উক্ত অর্থ ফেরত পাইবেন।

(৪) তহবিল হইতে উক্ত অর্থ সরকার অনুমোদিত লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করিলে মুনাফাসহ সমুদয় অর্থ আবেদন প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে ফেরত পাইবেন।

(৫) আইনগত অক্ষমতার (উত্তরাধিকারী) অধীন ব্যক্তি যখন আইনগতভাবে অক্ষমতামুক্ত হইবেন তখন তাহাকে তাহার অংশের অর্থ মুনাফাসহ প্রদান করিতে হইবে।

(৬) শ্রম আদালত উপ-বিধি (১) অথবা (২) অনুযায়ী গৃহীত কার্যμমের রেকর্ড বিধি ১৬২ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিবে।

১৪১। মালিকের নিকট হইতে মারাত্মক দুর্ঘটনার বিবৃতি তলব

ধারা ১৫৮(১) মোতাবেক শ্রম আদালতে মারাত্মক দুর্ঘটনা সম্পর্কিত কোন বিবৃতি ও ধারা ১৫৯ অনুযায়ী মালিক কর্তৃক প্রদত্ত কোন রিপোর্ট ফরম-৪৯ অনুযায়ী প্রদান করিতে হইবে।

১৪২। জখমপ্রাপ্ত শ্রমিকের চিকিৎসা

(১) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকের চিকিৎসা মালিকের তত্ত্বাবধানে করিতে হইবে এবং মালিক উহার ব্যয় বহন করিবেন।

(২) যে শ্রমিক ক্ষতিপূরণ হিসাবে মাসিক ভাতা পাইতেছেন তাহাকে দুর্ঘটনার পরের মাসে দুইবার এবং পরবর্তী মাসগুলিতে একবারের অধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাহার আবাসস্থলের বাহিরে যাইতে বাধ্য করা যাইবে না।

১৪৩। জখমের স্পষ্টতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত

(১) ধারা ১৬০ (১০) মোতাবেক শ্রমিকের জখমের স্পষ্টতা ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে কোন বিরোধ দেখা দিলে সেই ক্ষেত্রে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলিয়া বিবেচিত হইবে।

(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত চিকিৎসকের ফি মালিক বা, ক্ষেত্রমত, শ্রমিক কর্তৃক বহন করিতে হইবে।

১৪৪। ক্ষতিপূরণের অধিকার সাময়িকভাবে স্থগিত হইবার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা

যে শ্রমিকের ক্ষতিপূরণের অধিকার ধারা ১৬০ এর উপ-ধারা (৫) বা (৬) মোতাবেক সাময়িকভাবে স্থগিত হইয়াছে তিনি যদি সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিবার জন্য আবেদন করিয়া থাকেন তবে মালিক আবেদন প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে উক্ত শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করিবেন ।

১৪৫। মহিলাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

(১) কোন মহিলা চিকিৎসক তাৎক্ষণিক অবস্থায় পাওয়া না গেলে সেই ক্ষেত্রে কোন মহিলা শ্রমিকের উপস্থিতিতে পুরুষ চিকিৎসক কর্তৃক কোন মহিলা শ্রমিকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা যাইবে।

(২) যদি কোন মহিলা চিকিৎসক সনিড়বকটে না পাওয়া যায় সেই ক্ষেত্রে কোন মহিলা শ্রমিক যদি মহিলা চিকিৎসক দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিবার জন্য ফি জমা প্রদান করেন তবে কোন পুরুষ চিকিৎসক দ্বারা তাহার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদেশ দেওয়া যাইবে না।

১৪৬। ক্ষতিপূরণ সম্পর্কিত আবেদন নিষ্পত্তির পদ্ধতি

এই বিধিমালায় ভিনড়বতর কোন বিধান না থাকিলে, ক্ষতিপূরণ মামলা নিষ্পত্তির জন্য শ্রম আদালত ধারা ২১৬ এবং তফসিল-৬ অনুযায়ী উহার কার্যμম পরিচালনা করিবে।

১৪৭। চুক্তির স্মারক ফরম

ধারা ১৭০ এর উপ-ধারা (১) মোতাবেক শ্রম আদালতের নিকট প্রেরিত চুক্তির স্মারক, শ্রম আদালত অন্যভাবে নির্দেশ না দিলে, দুই কপি প্রস্তুত করিতে হইবে এবং উহা যতদূর সম্ভব ফরম-৫০, ৫০ (ক) বা ৫০(খ) অনুযায়ী হইতে হইবে।

১৪৮। শ্রম আদালত কর্তৃক চুক্তির স্মারক রেজিস্ট্রি করিবার বা না করিবার পদ্ধতি

(১) চুক্তির স্বারক পাইবার পর শ্রম আদালত, যদি স্মারকটি রেকর্ড করা যুক্তিযুক্ত মনে করে, সেই ক্ষেত্রে স্মারকটি রেকর্ড করিবার জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করিয়া ফরম-৫১ অনুযায়ী নির্ধারিত দিনের অন্তত সাত দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের উপর এই মর্মে লিখিত নোটিস জারি করিবে যে, কোন আপত্তি না পাওয়া গেলে স্মারকটি নির্ধারিত তারিখে রেকর্ডভুক্ত করা হইবে।

(২) অনুরূপ নির্ধারিত তারিখে শ্রম আদালতে কোন পক্ষ হাজির হইলে এবং শুনানি চাইলে, তাহাকে শুনানির পর, আদালত যদি স¥ারকটি রেকর্ড করা উচিত বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকে তাহা হইলে উহা রেকর্ড করিবে।

(৩) নোটিশে উল্লিখিত নির্দিষ্ট তারিখে শ্রম আদালত যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, স্মারকটি রেকর্ড করা সঙ্গত হইবে না, তাহা হইলে উপস্থিত পক্ষসমূহকে সিদ্ধান্ত ও ইহার কারণ

অবহিত করিবে, এবং স্মারকটি রেকর্ড করিতে ইচ্ছুক কোন পক্ষ উপস্থিত না থাকিলে, উক্ত পক্ষকেও ফরম-৫১(ক) অনুযায়ী উহা অবহিত করিবে।

(৪) কোন চুক্তির স্মারকপত্র পাইবার পর শ্রম আদালত যদি মনে করে যে, উহা রেকর্ড না করিবার যুক্তিসঙ্গত কারণ রহিয়াছে তাহা হইলে আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহের বক্তব্য শুনানির জন্য একটি তারিখ নির্ধারণ করিবে এবং পক্ষসমূহকে নির্ধারিত তারিখের অন্তত ৭ দিন পূর্বে ফরম-৫১(খ) বা ৫১( গ) অনুযায়ী নোটিস প্রদান করিবে।

(৫) উপ-বিধি (৪) মোতাবেক নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত পক্ষসমূহ যদি স্মারকপত্র রেকর্ড করিবার অনুকূলে যথেষ্ট যুক্তি প্রদর্শন করিতে সমর্থ হয় তাহা হইলে শ্রম আদালত সকল পক্ষকে অবহিত করিয়া স¥ারকপত্রটি রেকর্ড করিবে।

(৬) শ্রম আদালত যদি নির্ধারিত তারিখে স্মারকপত্র প্রত্যাখ্যান করে, সেই ক্ষেত্রে যেইপক্ষ উপ-বিধি (৪) অনুযায়ী নোটিস পায় নাই, তাহাকে পুনরায় ফরম-৫১(ক) অনুযায়ী অবহিত করিবে।

১৪৯। স্মারকপত্র রেকর্ড করিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনের পরবর্তী পদ্ধতি

(১) কোন মোকদ্দমায় শ্রম আদালত যদি চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিতে অস্বীকার করে তবে উহাকে উক্ত অস্বীকৃতির কারণসমূহ সংক্ষেপে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।

(২) শ্রম আদালত কোন চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিতে অস্বীকার করিলে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষকে কারণ দর্শাইবার সুযোগ প্রদান না করিলে আদালত চুক্তিতে উল্লিখিত অর্থের অতিরিক্ত কোন অর্থ প্রদানের কোন আদেশ প্রদান করিবে না।

(৩) এককালীন অর্থ প্রদান করিয়া মাসিক পাওনা পরিশোধের চুক্তির ক্ষেত্রে আদালত চুক্তিতে নির্দিষ্ট এককালীন দেয় অর্থ পর্যাপ্ত না হইবার দরুণ চুক্তির স্মারকপত্র রেকর্ড করিবে না, তবে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের অক্ষমতা কতদিন স্থায়ী হইতে পারে তাহার আনুমানিক হিসাব লিপিবদ্ধ করিবে।

১৫০। রেকর্ডের জন্য গৃহীত স্মারক রেজিস্ট্রিকরণ

চুক্তির স্মারক রেকর্ড করিবার সময় শ্রম আদালত উহা ফরম-৫২ অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিবে এবং নিজের স্বাক্ষরযুক্ত স্বীকৃতিপত্র নি¤ড়ববর্ণিতভাবে লিপিবদ্ধ করিয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষসমূহকে উহার কপি প্রদান করিবে এবং একটি কপি নিজের নিকট সংরক্ষণ করিবে:

“-----------সনের -------------মাসের....... তারিখে...........নং μমিকের অন্তর্ভুক্ত এই চুক্তির স্মারকটি অদ্য ................ তারিখে রেকর্ড করা হইল

১৫১। অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ প্রেরণ

এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তৃপক্ষ অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ প্রেরণ করিলে প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ অথবা মানি অর্ডারের মাধ্যমে করিতে হইবে।

১৫২। ক্ষতিপূরণের অর্থ বিদেশে প্রেরণ

বিদেশে বসবাসরত অথবা বসবাস করিতে আগ্রহী কোন ব্যক্তির কল্যাণে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কোন এককালীন অর্থের সম্পূর্ণ বা অংশবিশেষ শ্রম আদালতে জমা করা হইলে শ্রম আদালত উক্ত অর্থ প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সেই দেশে প্রেরণের আদেশ প্রদান করিতে পারিবে।

১৫৩। অর্থ প্রেরণের জন্য স্মারকপত্র

বিধি ১৫১ ও ১৫২ মোতাবেক শ্রম আদালত কোন অর্থ প্রেরণের আদেশ প্রদান করিলে আদালত নিজ দায়িত্বে মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, প্রদত্ত আদেশ এবং যাহাদের নিকট টাকা প্রদান করিতে হইবে তাহাদের প্রত্যেকের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করিবে এবং স্মারকপত্র সত্যায়িত করিবে।

১৫৪। শ্রম আদালত কর্তৃক ব্যবস্থা

শ্রম আদালত নিজে অনুমোদিত কর্তৃপক্ষ না হইলে বিধি ১৫৫-তে চুক্তির উল্লিখিত স্মারকপত্রের দুইকপি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং প্রেরিতব্য অর্থ তাহার নিকট হন্তান্তর করিতে পারিবে অথবা নিজের নিকট রাখিয়া তাহার নির্দেশ মোতাবেক হন্তান্তর করিতে পারিবে এবং শ্রম আদালত নিজে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হইলে

বিধি ১৫৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।

১৫৫। প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ব্যবস্থা

প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যদি সন্তুষ্ট হন যে, স্মারকপত্র সম্পাদিত হইয়াছে তবে তিনি এই উদ্দেশ্যে নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট উক্ত স্মারকপত্র ও অর্থ তাহার বিবেচনায় নিরাপদ পদ্ধতিতে প্রেরণ করিবেন অথবা অনুরূপ কোন কর্তৃপক্ষ নিযুক্ত না হইয়া থাকিলে এতদুদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবেন এবং যে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হইবে উহাকে নি¤ড়ববর্ণিত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাইবেন, যথা:-

(ক) স্মারকপত্রে নির্দেশিত ব্যবস্থা অনুযায়ী অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করা ; এবং

(খ) স্মারকপত্রে নির্দেশিত গৃহীত কার্য ব্যবস্থার একটি রিপোর্ট এবং যে কোন কারণে কোন অর্থ প্রদান করা সম্ভব না হইলে উহা ফেরত প্রদান।

১৫৬। যে শ্রম আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে ঘটনার উদ্ভব উহার নিকট প্রেরণ

(১) যে শ্রম আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে ঘটনার উৎপত্তি হইয়াছে, উহা যদি প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ না হয়, তবে যে শ্রম আদালতের নিকট হইতে বিধি ১৪৯ মোতাবেক অনুরোধ প্রাপ্ত, তাহার নিকট অনুরূপ রিপোর্টের একটি কপি প্রেরণ করিবে।

(২) বিধি ১৫৫ অনুযায়ী ফেরত আসা কোন অর্থ এই বিধিমালার বিধান অনুযায়ী বিলিব› টন করিতে হইবে।

১৫৮। শ্রম আদালতের নিকট প্রেরণ

প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ তদ্কর্তৃক গৃহীত যে কোন অর্থ বা ইহার অংশবিশেষ শ্রম আদালতের বিবেচনা অনুযায়ী বিলি-বন্টনের জন্য উহার নিকট প্রেরণ করিতে পারিবেন।

১৫৯। অর্থ বন্টন

হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে গৃহীত অর্থ আইন এবং এই বিধিমালার বিধান অনুযায়ী যতদূর সম্ভব বিলি-বন্টন করিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, হন্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষ যদি উক্ত অর্থ বিলির ব্যাপারে কোন নির্দেশ প্রদান করিয়া থাকে সেই ক্ষেত্রে উহা প্রতিপালন করিতে হইবে।

১৬০। বন্টিত অর্থের প্রতিবেদন

(১) হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষের নিকট হইতে প্রাপ্ত অর্থ কিভাবে বিলি করা হইয়াছে উহা সম্পর্কে প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন প্রদান করিবে।

(২) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ নয় এমন কোন শ্রম আদালত কোন অর্থের কোন অংশ বিলি করিয়া থাকিলে উহা কিভাবে বিলি করা হইয়াছে উহার একটি রিপোর্ট (দুইকপি) প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং ধারা ১৬৭ মোতাবেক অন্য কোন শ্রম আদালতের নিকট হইতে উক্ত অর্থ তিনি গ্রহণ করিয়া থাকিলে উক্ত শ্রম আদালতের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রেরণ করিতে হইবে।

ব্যাখ্যা।-এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে-

(ক) ‘প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ’ বলিতে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ এবং বিলি-বন্টনের জন্য সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কোন কর্তৃপক্ষ বা কোন শ্রম আদালতকে বুঝাইবে;

(খ) ‘হস্তান্তরকারী কর্তৃপক্ষ’ বলিতে বাংলাদেশ বা অন্য দেশের কোন কর্তৃপক্ষকে বুঝাইবে যাহা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ সংμান্ত আইন মোতাবেক প্রদানযোগ্য এককালীন অর্থ বাংলাদেশে বাস করেন বা করিবেন এমন কোন লোকের কল্যাণে দেশে বা দেশের কোন অংশে প্রেরণের ব্যবস্থা করে।

১৬১। শ্রমিকদের সুবিধা তহবিল

(১) শ্রম আদালত, তদন্তের পর, যদি এইমর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, মৃত শ্রমিকের কোন পোষ্য নাই, সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদালতে জমা হইবার দুই বৎসর পর প্রাপ্ত অর্থ প্রাপ্তিস্বীকার সাপেক্ষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন আইন, ২০০৬ এর অধীন স্থাপিত শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে স্থানান্তর করিবে।

(২) তহবিলের অর্থ ব্যাংকে জমা রাখিতে হইবে এবং শ্রম আদালতের স্বাক্ষর ও সীলমোহরে উক্ত হিসাব পরিচালিত হইবে। 

১৬২। তহবিলের হিসাব সংরক্ষণ

(১) তহবিলের হিসাব শ্রম আদালত কর্তৃক ফরম-৫৩ অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হইবে এবং উহা নিরীক্ষা সাপেক্ষ হইবে।

(২) প্রতি বৎসর সরকারের নিকট দাখিলযোগ্য এবং শ্রম আদালত কর্তৃক এই অধ্যায় মোতাবেক গৃহীত কার্যμম সম্পর্কে প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনের মধ্যে তহবিলের কার্যμম এবং হিসাব সম্পর্কে তথ্যাদি অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে।

১৬৩। প্রেরিত অর্থের প্রেরণ খরচ

এই বিধিমালা মোতাবেক কোন কর্তৃপক্ষ অপর কোন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্থ প্রেরণ করিলে প্রেরণকারী কর্তৃপক্ষ উহার খরচ বহন করিবে।

১৬৪। মামলা রেজিস্ট্রিকরণ

১) শ্রম আদালতের চেয়ারম্যান ফরম- ৫৪ অনুযায়ী মামলার একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন।

(২) চেয়ারম্যান কোন আবেদনপত্র পাইবার পর উহা উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করিবেন।

(৩) মামলার সমাপ্তিতে এতদুদ্দেশে নির্ধারিত রেজিস্টারে চেয়ারম্যান নির্দিষ্ট কলামের অন্তর্ভুক্তিসমূহ প্রত্যায়িত করিয়া নিজের স্বাক্ষর প্রদান করিবেন।

১৬৫। মামলার রেকর্ড ও রেজিস্টার সংরক্ষণ

(১) বিধি ১৬৪-তে বর্ণিত রেজিস্টার বাংলায় লিপিবদ্ধ করিতে হইবে এবং ২০ (বিশ) বৎসর পর্যন্ত উহা সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(২) গড় হাজিরার কারণে খারিজকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত নির্দেশ প্রদানের তারিখ হইতে ১ (এক) বৎসর সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৩) স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একতরফা নিষ্পত্তিকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ১(এক) বৎসর অথবা ক্ষতিপূরণ পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ১(এক) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৪) প্রতিদ্বন্দি¡তার মাধ্যমে নিষ্পত্তিকৃত ক্ষতিপূরণ মামলার রেকর্ডপত্র বাতিল করা হইলে বা কোন ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রয়োজনীয়তা না থাকিলে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), এক বৎসর এবং দাবি আংশিক বা সামগ্রিকভাবে মুলতবী রাখা হইলে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ১(এক) বৎসর অথবা দায় পরিশোধের তারিখ পর্যন্ত, যাহা পরে হয়, সংরক্ষণ করিতে হইবে।

১৬৬। চুক্তির স্মারক সংরক্ষণ

(১) চুক্তিপত্র রেজিস্ট্রিকরণের জন্য দায়েরকৃত মামলার রেকর্ডপত্র চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ, ১ (এক) বৎসর অথবা দায় পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(২) উপ-বিধি (১) এর অধীন সংরক্ষিত চুক্তির রেজিস্টারে চূড়ান্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে, আপিলের আদেশসহ (যদি থাকে), ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত অথবা দায় পরিশোধের তারিখ হইতে, যাহা পরে হয়, ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে।

img