02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

দন্ডবিধি, ১৮৬০
Click here for Deep-Dive

দন্ডবিধি, ১৮৬০

চতুর্থ অধ্যায় : সাধারন ব্যতিক্রম ( )
৭৬। আইনবলে বাধ্য বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইনবলে বাধ্য বলিয়া বিশ্বাসকারী ব্যক্তি বিশেষে কর্তৃক সম্পাদিত কার্য

যে ব্যক্তি কোন কাজ করতে আইনত: বাধ্য বলে কোন কাজ সম্পাদন করলে, অথবা আইনের কাজটি ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশতঃ কাজটি করতে আইনত: বাধ্য বলে সরল মনে বিশ্বাস করে সে ব্যক্তি কোন কাজ সম্পাদন করলে তা অপরাধ হবে না।

উদাহরণসমূহ – Illustrations 

(ক) ক একজন সৈনিক। সে তার উর্ধ্বতন অফিসারের নির্দেশক্রমে আইনের বিধানমতে কোন জনতার উপর গুলিবর্ষণ করে। ক-এর গুলিবর্ষণ কাজ অপরাধ হবে না।

(খ) বিচারালয়ের জনৈক কর্মকর্তা কি উক্ত বিচারালয় কর্তৃক ম-কে গ্রেফতার করার জন্য আদিষ্ট হয়ে এবং যথাযথ তদন্তের পর ‘খ’-কে ’ম’ মনে করে "খ"-কে গ্রেফতার করেন। ’ক’ কোন অপরাধ সংঘটন করেন নাই।

৭৭। বিচার-সম্পর্কিত কার্য পরিচালনাকালে বিচারকের কার্য

বিচার কাজ পরিচালনাকালে অর্থাৎ বিচারক হিসেবে কাজ পরিচালনাকালে বিচারক দ্বারা তাকে আইনে প্রদত্ত ক্ষমতা বা যে ক্ষমতা তাকে আইনে প্রদত্ত হয়েছে তিনি সরল মনে বিশ্বাস করেন সে ক্ষমতানুসারে কৃত কোন কাজ অপরাধ হবে না।

৭৮। আদালতের রায় বা আদেশের অনুস্বরণে সম্পাদিত কার্য

কোন আদালতের নির্দেশক্রমে অথবা কোন আদালতের রায় বা আদেশ অনুযায়ী উক্ত রায় বা আদেশ বলবৎ থাকাকালে সম্পাদিত কোন কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না; আদালতের অনুরূপ রায় বা আদেশ প্রদানের এখতিয়ার না থাকলেও অনুরূপ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না যদি উক্ত কাজটি সম্পন্নকারী ব্যক্তি সরল মনে বিশ্বাস করে থাকে যে, আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার রয়েছে।

৭৯। আইন সমর্থিত বা ভুল ধারণাবশত নিজেকে আইন সমর্থিত বলিয়া বিশ্বাসকারী ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত কার্য

আইনত ন্যায়সঙ্গতভাবে কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত কাজ অথবা আইনগত ভুল না করে ঘটনা সম্পর্কে ভুলবশত আইনত ন্যায়সঙ্গত বলে সরল মনে বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কোন ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত ণাণ কাজ অপরাধ বলে অভিহিত হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক গ-কে এমন একটি কার্য করতে দেখে যা তার কাছে খুন বলে মনে হয়। আইনে সকলকেই খুনীকে হত্যাকার্যেরত দেখলে আটক করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে তাই স্ক তার সুচিন্তিত বিচার মতে সরল বিশ্বাসে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে গ-কে আটক করে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থিত করে। ক-এর এই কাজটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যদিও শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় যে, গ যা করতেছিল, তা আত্মরক্ষার জন্যই করতেছিল।

৮০। আইনানুগ কার্য সম্পাদনকালে দুর্ঘটনা

কোন আইনানুগ কাজ আইনানুগ পদ্ধতিতে আইনানুগ উপায়ে যথোপযুক্ত সতর্কতা ও যত্নসহকারে সম্পাদন করাকালে কোন অপরাধমূলক উদ্দেশ্য বা অবগতি ছাড়া দুর্ঘটনা বা দুর্ভাগ্যক্রমে অনুষ্ঠিত কোন কিছুই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক একটি কুড়াল দিয়ে কার্য করছে। হঠাৎ কুড়ালটি বাটি হতে খুলে গিয়ে নিকটে দণ্ডায়মান এক ব্যক্তিকে নিহত করে। এই ক্ষেত্রে ক যদি কুড়ালটি নিয়ে কার্য করার সময় যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে থাকে তবে তার কাজটি ক্ষমার্হ্য হবে এবং উহা অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।

৮১। সম্ভাব্য ক্ষতিকারক কার্য, কিন্তু অপরাধমূক অভিপ্রায় ব্যতিরেকে এবং অন্যবিধ ক্ষতি নিবারণকল্পে সম্পাদিত

কোন কাজ শুধু ক্ষতিসাধন করতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও উহা করার ফলেই অপরাধ বলে বিবেচনা করা হবে না যদি কাজটি ক্ষতিসাধন করার জন্য কোনরূপ অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সম্পাদিত না হয়ে থাকে এবং উহা শরীরের বা সম্পত্তির অপর কোনরূপ ক্ষতি নিবারণ বা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সরল বিশ্বাসে সম্পাদিত হয়ে থাকে। 

ব্যাখ্যা (Explanation):-

যে ক্ষতিটি নিবারণ বা প্রতিরোধ করতে হবে, উহা এতই আসন্ন বা প্রকট ছিল কিনা এবং উহা এমন প্রকৃতির ছিল কিনা যার ফলে, সম্পাদিত কাজটি ক্ষতি করতে পারে জানা সত্ত্বেও উহা করা বা করার মাধ্যমে ঝুঁকি গ্রহণ মার্জনীয় হবে, বাস্তব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই প্রশ্নটির মীমাংসা করতে হবে।

উদাহরণসমূহ

Illustrations

(ক) ক একটি জাহাজের ক্যাপ্টেন। সে তার কোন ক্রটি বা কর্তব্যে অবহেলা ব্যতীতই এমন অবস্থায় এসে পৌছায়, যেক্ষেত্রে সে জাহাজটি থামাবার আগেই উহার গতি পরিবর্তন না করলে ২০/৩০ জন আরোহী বিশিষ্ট নৌকা খ উহা ধাক্কা লেগে ডুবে যাবে, এবং গতি পরিবর্তন করলে মাত্র ২ জন আরোহী বিশিষ্ট নৌকা গ জাহাজের ধাক্কায় ডুবিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি গ্রহণ করতে হয়, যদিও নৌকাটি গ নাও ডুবাতে পারে। এই ক্ষেত্রে যদি ক, ন নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়ার অপরাধমূলক উদ্দেশ্য ছাড়া এবং খ নৌকাটির আরোহীদের আসন্ন বিপদ এড়াবার আন্তরিক সদিচ্ছায় তার জাহাজের গতি পরিবর্তন করে, তবে উক্ত কাজটি অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যদিও তার এই কাজের ফলে গ নৌকাটি ডুবে (যা গ নৌকাটি ডুবে যেতে পারে এইরূপ জানা সত্ত্বেও তৎকর্তৃক সম্পাদিত কার্যেরই ফল)- যদি প্রকৃত পরিস্থিতি বা বাস্তব ঘটনা হতে এইরূপ সাব্যস্ত হয় যে, বিপদটি সে এড়াতে চেয়েছিল, তা এমনই প্রকৃতির এবং এতই অত্যাসন্ন ছিল যে, তার পক্ষে জাহাজের গতি পরিবর্তন করে গ নৌকাটি ডুবাবার ঝুঁকি নেওয়া সত্যই ক্ষমার যোগ্য ছিল।

(খ) একটি প্রচণ্ড অগ্নিকাণ্ডের সময় আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ক সন্নিহিত ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলে। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার আন্তরিক সদুদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়েই সে এই ব্যবস্থা অবলম্বন করে। এই ক্ষেত্রে প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনান্তে যদি এইরূপ সাব্যস্ত বা প্রতিপন্ন হয় যে, সম্ভাব্য বা আসন্ন ক্ষতি নিবারণ করার উদ্দেশ্যে সে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল, সে সম্ভাব্য বিপদের দিক হতে তার গৃহীত ব্যবস্থা ক্ষমানীয়, তা হলে ক সংশ্লিষ্ট অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে না।

৮২। নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কর্য

নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

৮৩। নয় বৎসরের অধিক বয়স্ক ও বার বৎসরের কম বয়স্ক অপরিণত বোধ শক্তিসম্পন্ন শিশুর কার্য

নয় বৎসর অপেক্ষা বেশি কিন্তু বার বৎসর অপেক্ষা কম বয়সের এমন কোন শিশুর কোন কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, যে শিশু সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় উহার প্রকৃতি ও ফলাফল বিচার করার পক্ষে পর্যাপ্ত বুদ্ধির পরিপক্কতা লাভ করে নাই।

৮৪। অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির কার্য

এমন কোন ব্যক্তির কোন কার্যই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় তার মনে অসুস্থতা (Unsoundness) বশতঃ কাজটি যে অন্যায় অথবা আইনবিরুদ্ধ, তা বুঝতে অসমর্থ ছিল।

৮৫। অনিচ্ছাকৃত প্রমত্ততার কারণে বিচারশক্তি রহিত ব্যক্তির কার্য

এমন কোন ব্যক্তির কোন কার্যই অপরাধ নয়, যে ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কাজটি করার সময় নেশার ফলে কার্যটির প্রকৃতি অনুধাবনে অক্ষম বা অপারগ ছিল অথবা কাজটি যে অন্যায় অযথা আইনবিরুদ্ধ তা বুঝতে অসমর্থ ছিল;

তবে শর্ত এই যে, যে বস্তুটি তাকে নেশাগ্রস্ত বা মত্ত করেছিল, সে বস্তুটি তার অগোচরে অথবা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেওয়া হয়েছিল বা তার উপর প্রয়োগ করা হয়েছিল।

৮৬। যে অপরাধের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন উদ্দেশ্য বা জ্ঞানের প্রয়োজন রহিয়াছে উন্মত্ত ব্যক্তি কর্তৃক সেই অপরাধ অনুষ্ঠান

যেসব ক্ষেত্রে কোন কাজ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে না করলে বা বিশেষ জ্ঞানসত্ত্বে না করলে উহা অপরাধ হয় না। সেসব ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় উক্ত কাজটি করলে সে ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় না থাকলে যেভাবে করত, ঠিক সেভাবেই উক্তরূপ বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই বা বিশেষ জ্ঞানসত্ত্বেই উক্ত কাজটি করেছে বলে ধরে নিয়ে তার বিচার করতে হবে-তবে যে বস্তুটি তাকে নেশাগ্রস্ত করেছে, সে বস্তুটি তার অগোচরে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দেওয়া হয়ে থাকলে বা তার উপর প্রয়োগ করা হয়ে থাকলে ইহার অন্যথা হবে।

৮৭। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত ঘটাইবার জন্য অভিপ্রেত নহে, এবং অনুরূপ সম্ভাবনাপূর্ণ বলিয়া অজ্ঞাত কার্য সম্মতি সহকারে সম্পাদন করা

মৃত্যু ঘটাবার অথবা গুরুতর আঘাত করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত নয়, অথবা মৃত্যু ঘটাতে পারে বা গুরুতর আঘাত করতে পারে এইরূপ না জেনে সম্পাদিত কোন কাজ করার পর উহাতে কোন ক্ষতি হওয়ার ফলে অপরাধ হবে না; অথবা ১৮ বৎসরের অধিক বয়স্ক কোন ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনুরূপ কাজের ফল হতে উদ্ভূত ক্ষতি স্বীকার করার সম্মতিদানের পর, তার সম্মতি নিয়ে উক্তরূপ ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না; অথবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে, সে ব্যক্তি কাজটি করার ফলে ক্ষতি অনুষ্ঠিত হতে পারে জানা সত্ত্বেও যে ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তির ক্ষতির ঝুঁকি স্বীকারে সম্মতিক্রমে কাজটি করার পর তাতে কোনরূপ ক্ষতি হওয়ার ফলে কাজটি অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক ও চ আনন্দ উপভোগের উদ্দেশ্যে পরস্পরের সাথে অসি চালনা বা তরবারি খেলা খেলতে সম্মত হয়। তাদের এইরূপ মনস্থ করার মধ্যেই তরবারি খেলার সময় অনুষ্ঠিত অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি স্বীকারের জন্য উভয়ের অপ্রকাশিত সম্মতি নিহিত আছে। কাজেই তরবারি খেলার সময় ক যদি খেলার নিয়মমত খেলে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে চ-কে আহত করে, তবে উহা অপরাধ হবে না।

৯১। যেই সকল কার্য সাধিত ক্ষতি হইতে স্বতন্ত্রভাবে অপরাধ বলিয়া গণ্য সেই সকল কার্য বর্জন

যেসব কাজ সম্পন্ন করার জন্য যে ব্যক্তি সম্মতি দেয় বা যার স্বপক্ষে দেওয়া হয় তার ক্ষতি করতে পারে অথবা তার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সম্পাদিত অথবা তার ক্ষতি হবে বলে জেনে সম্পাদিত কিন্তু উক্তরূপ সম্ভাব্য, উদ্দিষ্ট বা জ্ঞাত ক্ষতি না হলেও কার্যটি অপরাধমূলক বলে গণ্য হয়-সেই সব কাজের ক্ষেত্রে ৮৭, ৮৮ ও ৮৯ ধারাত্রয়ে উল্লেখিত ব্যতিক্রমগুলো প্রয়োগযোগ্য নয়।

উদাহরণ

Illustration

প্রসূতির জবন রক্ষার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে সংঘটন ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে গর্ভপাতের ফলে প্রসূতির যে ক্ষতি হতে পারিত বা প্রসূতির যে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গর্ভপাত করানো হয়েছে প্রসূতির সে ক্ষতিটি না হলেও একটি অপরাধ। সুতরাং এই কাজটি ‘অনুরূপ ক্ষতির অজুহাতে’ অপরাধ বলে গণ্য হবে না, অর্থাৎ এই কার্যটির অপরাধজনকতা ‘অনুরূপ ক্ষতি সাধন সাপেক্ষ’ নয়। কাজেই, প্রসূতির বা তার অভিভাবকের সম্মতি অনুরূপ গর্ভপাত ঘটাবার যৌক্তিকতা প্রতিপাদন করবে না।

৯২। সম্মতি ব্যতিরেকে কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে সদবিশ্বাসে কৃত কার্য

যদি কোন ব্যক্তির উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে বা সরল বিশ্বাসে উক্ত ব্যক্তির বিনা সম্মতিতে সম্পাদিত কাজের ফলে তার কোনরূপ ক্ষতি হয়, তবে উক্ত ক্ষতি হয়েছে বলে কার্যটি অপরাধ হবে না-যদি কাজটি সম্পাদনকালে বাস্তব অবস্থাবলি এমন হয়ে থাকে যে, সে অবস্থায় উক্ত ব্যক্তির পক্ষে কাজটি করায় সম্মতি জ্ঞাপন করা অসম্ভব ছিল, অথবা সে ব্যক্তি সম্মতিদানে অপরাগ ছিল এবং তার এমন কোন অভিভাবক বা তার সম্পর্কে আইনসম্মত দায়িত্বসম্পন্ন অপর কোন ব্যক্তি ছিল না; যার নিকট থেকে উক্ত ব্যক্তির মঙ্গলার্থে যে কার্যটি করা হচ্ছে, সে কাজে যথাসময়ে সম্মতি নেয়া সম্ভব ছিল:

তবে শর্ত থাকে যে-

প্রথমত (First):-

এই ব্যতিক্রম ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটালে সে ক্ষেত্রে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটাবার চেষ্টা করলে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

দ্বিতীয়ত (Secondly):-

এই ব্যতিক্রম যে কাজটি সম্পাদনের ফলে মৃত্যু ঘটতে পারে বলে কাজটি সম্পাদনকারী জানে, সে কাজটি যদি মৃত্যু নিরোধের বা গুরুতর আঘাত এড়াবার কিংবা কোন মারাত্মক রোগ নিরাময়ের বা অশক্তি বিদূরণের উদ্দেশ্য ছাড়াই অপর কোন উদ্দেশ্যে সম্পাদন হয়, তবে সে ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

তৃতীয়ত (Thirdly):-

এই ব্যতিক্রম মৃত্যু নিরোধের বা আঘাত এড়াবার উদ্দেশ্য ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা অথবা আঘাত করার চেষ্টা করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না;

চতুর্থত (Fourthly):-

এই ব্যতিক্রম যে অপরাধ করার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য হবে না, সে অপরাধ করতে সহায়তার বা যোগসাজশের ক্ষেত্রেও এই ব্যতিক্রম প্রয়োগযোগ্য হবে না।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ ঘোড়ার উপর থেকে পড়ে গিয়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে যায়। ক একজন অস্ত্রচিকিৎসক। তিনি চ-কে পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তার মাথার খুলতে অন্ত্রোপচার করে চিকিৎসা করা আশু আবশ্যক। তদানুসারে ক চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তার উপকার হবে এইরূপ আন্তরিক সদিচ্ছায় বা সরল বিশ্বাসে চ-এর স্বয়ং বিচার করার ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের আগেই তার মাথার খুলতে অস্ত্রোপচার করেন। কএর কাজটি অপরাধ বলে বিবেচনা হবে না।

(খ) গুলির ফলে চ নিহত হতে পারে জেনেও বাঘের কবলে পতিত চ-কে নিহত করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাকে বাঘের কবল হতে উদ্ধার করার বা বাচাবার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে ক বাঘটির প্রতি গুলিবর্ষণ করে। গুলির ফলে চ গুরুতরভাবে আহত বা নিহত হয়। ক-এর এইরূপ গুলিবর্ষণ অপরাধজনক হবে না।

(গ) ক একজন সার্জন। তিনি একটি শিশুকে দুর্ঘটনায় পতিত হতে দেখেন এবং শিশুটিকে পরীক্ষা করে দেখেন যে, দুর্ঘটনার ফলে শিশুটি এমন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে যে, অবিলম্বে শিশুটির উপর অস্ত্রোপচার না করলে তার মৃত্যু ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতিটি এমন যে শিশুটির অভিভাবকের অনুমতি প্রার্থনার অবকাশ নাই বা শিশুটির উপকার করার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে তিনি শিশুটির কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও তার উপর অস্ত্রোপচার করেন। ক-এর কাজটি অপরাধ নয়।

(ঘ) একটি বাড়িতে আগুন ধরেছে। বাড়ির মধ্যে রয়েছে ক ও একটি শিশু চ। নিচে কয়েকজন ব্যক্তি একটি কম্বল ধরে থাকে। ক কম্বলটি লক্ষ্য করে ছুড়ে ফেলার ফলে শিশুটির যে মৃত্যু ঘটতেও পারে, ক তা জানত। কিন্তু শিশুটিকে নিহত করার জন্য নয়, তাকে বাচাবার আন্তরিক সদিচ্ছা থেকেই ক তাকে কম্বলের উপর ছুড়ে ফেলে। ক-এর কাজটি অপরাধ হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation)- ৮৮, ৮৯ ও ৯২ ধারা তিনটির অর্থ অনুসারে, কেবলমাত্র আর্থিক উপকার কোন উপকারই নয়।

৯৩। সদবিশ্বাসে কৃত যোগাযোগ

কোন ব্যক্তির মঙ্গলার্থে আন্তরিক সদিচ্ছাক্রমে কৃত যোগাযোগ বা খবর প্রদান, উক্ত খবর প্রদানের ফলে উক্ত ব্যক্তির কোন প্রকার ক্ষতি হওয়ার দরুণ অপরাধ হবে না।

উদাহরণ

Illustration

ক একজন সার্জন। তিনি আন্তরিক সদিচ্ছা থেকে জনৈক রোগীকে তার এই মত জানান যে, সে বাঁচবে না। ইহাতে মর্মান্তিক আঘাত প্রাপ্তির ফলে রোগীটির মৃত্যু হয়। কএর কাজটি অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না, যদিও তিনি জানতেন যে, তার এইরূপ মত দেওয়ার ফলে রেগিটির মৃত্যু ঘটতে পারে।

৯৪। যে কার্য করিবার জন্য ভীতি প্রদর্শন করিয়া কোন ব্যক্তিকে বাধ্য করা হয়

খুন এবং মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ ছাড়াই ভীতি প্রদর্শনের ফলে ভীত ও বাধ্য হয়ে কোন ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত অন্য কোন কাজ অপরাধমূলক হবে না-যদি যে কার্যটি করতে উক্ত ব্যক্তিকে বাধ্য করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল, সে কার্যটি করার সময়, প্রদত্ত ভীতি প্রদর্শন এমন ধরনের ছিল যে, তার পরিণাম হবে উক্ত ব্যক্তির আসন্ন মৃত্যু।

তবে শর্ত থাকে যে, ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে যে ব্যক্তি উক্ত কার্যটি করেছিল সে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় অথবা আসন্ন মৃত্যু ছাড়া তার অপর কোন ক্ষতির ন্যায়সংগত আশঙ্কায় নিজেকে এমন পরিস্থিতিতে নিপতিত করে নাই, যার ফলে সে উক্তরূপ হুমকির সম্মুখীন হয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায়, অথবা প্রহৃত হওয়ার ভীতির ফলে, একটি ডাকাতদলের চরিত্র সম্পর্কে অবহিত থাকা সত্ত্বেও উহার সাথে যোগদান করে, সে ব্যক্তি তার অপরাধের সহচরের তাড়নায়ই কোন আইন বিরুদ্ধ অপরাধ করতে বাধ্য হয়েছে-এই যুক্তিতে এই ব্যতিক্রমটির সুযোগ গ্রহণের অধিকারী হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- একটি ডাকাতদল দ্বারা ধৃত এবং আসন্ন মৃত্যুর ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে আইনানুসারে অপরাধমূলক কোন কাজ সম্পন্নকারী ব্যক্তি এই ব্যতিক্রমে বিহিত সুবিধা বা অব্যাহতি লাভের অধিকারী হবে। দৃষ্টান্তস্বরূপ: একজন কর্মকার ভীতির ফলে বাধ্য হয়ে তার যন্ত্রপাতি নিয়ে একটি বাড়ির দরজা ভেঙ্গে দেয়, যাতে ভীতিপ্রদর্শনকারী ডাকাতদল বাড়িতে ঢুকে লুটতরাজ করতে পারে। কর্মকার এই ব্যতিক্রমের বিধান অনুযায়ী অব্যাহতি লাভ করবে।

৯৫। সামান্য ক্ষতিকারক কার্য

সামন্য ক্ষতিকারক যে কার্যে সাধারণ বোধ ও মেজাজ সম্পন্ন কোন ব্যক্তি ক্ষতির অভিযোগ করবে না, এমন কোন কাজ অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না-যদিও কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতিসাধিত হয় বা কাজটি অনুরূপ ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়, অথবা কার্যটির ফলে অনুরূপ ক্ষতি হতে পারে বলে উহার সম্পন্নকারীর জানা থাকে।

৯৬। ব্যাক্তিগত আত্নরক্ষার কৃত বিষয়সমূহ

আত্নরক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাক্তিগত অধিকার প্রয়োগজনিত কোন কার্যই অপরাধ নয়।

৯৭। শরীর ও সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত অধিকার

৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তিরই –

প্রথমত (Firstly):- মানবদেহ বিষয়ক কোন অপরাধের বিরুদ্ধে তার নিজের দেহ এবং অপর যে কোন ব্যক্তির দেহু রক্ষা করার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে

দ্বিতীয়ত (secondly):- এমন কোন অপরাধজনক কাজের বিরুদ্ধে তার নিজের বা অপর যে কোন ব্যক্তির স্থাবর অথবা অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে ত্বে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের সংজ্ঞানুসারে একটি অপরাধ, অথবা যে কাজটি চুরি, দস্যুতা, অনিষ্টকারিতা কিংবা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের প্রয়াসস্বরূপ।

৯৮। অপ্রকৃতিস্থ ইত্যাদি ব্যক্তির কার্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার

কোন ব্যক্তি অল্পবয়স্কতা, বুদ্ধির অপরিণতি, মনে অপ্রকৃতিস্থতা বা নেশার ঘোরে যে কার্যটি করছে বা তার কোনরূপ ভ্রান্ত ধারণার ফলে যে কার্যটি করছে সে কার্যটি যদি অন্যথায় অপরাধমূলক হয়, কিন্তু উক্ত অবস্থায় করছে বলে অথবা উক্তরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে করছে বলে কার্যটি সেরূপ অপরাধমূলক নয়-এইরূপ ক্ষেত্রে উক্ত কার্যটি যথার্থই অপরাধমূলক হলে যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত প্রত্যেক ব্যক্তিরই সেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) চ তার মস্তিষ্ক বিকৃতির ফলে ক-কে হত্যা করার চেষ্টা করে। এইরূপ হত্যার চেষ্টার জন্যও অপরাধী হবে না। কিন্তু চ সুস্থ মস্তিষ্ক হলে তার বিরুদ্ধে ক-এর যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত, এইক্ষেত্রে ক-এর সেরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে।

(খ) ক রাত্রিবেলা একটি গৃহে প্রবেশ করে। গৃহটিতে প্রবেশে তার আইনসম্মত অধিকার আছে। চ সরল বিশ্বাসে ক-কে চোর ভেবে তাকে আক্রমণ করে। এই ক্ষেত্রে চ এই ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে ক-কে আক্রমণ করে কোন অপরাধ সম্পাদন করে নাই। কিন্তু চ এইরূপ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী না হয়ে তাকে আক্রমণ করলে ক-এর যেরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকত, এই ক্ষেত্রে তার ঠিক সেরূপই আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার থাকবে ।

৯৯। যেসব কর্যের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার নাই

সুক্ষ্ণবিচারে আইনসঙ্গত না হলেও কোন সরকারী কর্মচারী তার সরকারী পদমর্যাদাবলে সদুদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে কোন কার্য করলে বা করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর উক্ত কাজে বা কার্যের প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা দেখা না দেয়।

সুক্ষ্মবিচারে আইনসঙ্গত না হলেও কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী পদমর্যাদা বলে ও আন্তরিক সদিচ্ছা প্রণোদিত ভাবে প্রদত্ত নির্দেশ অনুযায়ী সম্পাদিত কাজ বা কাজ করার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না, যদি সরকারী কর্মচারীর নির্দেশ অনুযায়ী সম্পাদিত কার্যটিতে বা কাজটি করার প্রচেষ্টায় ন্যায়সঙ্গতভাবে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের সম্ভাবনা দেখা না দেয়।

যেসব ক্ষেত্রে সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নেয়ার সময় থাকে, সেসব ক্ষেত্রে কোনরূপ আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে না।

অধিকার প্রয়োগের সীমা (Extend to which the right may be exercised): আত্মরক্ষার জন্য যতদূর পর্যন্ত ক্ষতিসাধন করা আবশ্যকীয়, আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি তার চেয়ে অধিক ক্ষতিসাধনে প্রয়োগযোগ্য নয়।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন সরকারী কর্মচারী স্বীয় পদমর্যাদাবলে কোন কাজ নির্বাহকালে বা কার্যনির্বাহের চেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি তাকে সরকারী কর্মচারী বলে না জানে অথবা তিনি যে সরকারী কর্মচারী উক্ত ব্যক্তির এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ না থাকে তবে উক্ত ব্যক্তি আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার হতে বঞ্চিত হবে না।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমে কোন কাজ সম্পাদনকালে বা কাজটি সম্পাদনের চেষ্টাকালে কোন ব্যক্তি যদি না জানে যে, যে ব্যক্তি কাজটি করছে বা কাজটি করার চেষ্টা করছে সে ব্যক্তি কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমেই কাজটি করছে কিংবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে সে ব্যক্তি যে কোন সরকারী কর্মচারীর নির্দেশক্রমেই কাজটি করছে-এইরূপ বিশ্বাস করার কারণ না থাকে কিংবা যে ব্যক্তি কাজটি করছে সে ব্যক্তি যদি কোন ক্ষমতাবলে সে কাজটি করছে তা না জানায় অথবা লিখিতভাবে সে কোন ক্ষমতা লাভ করে থাকলে দেখতে চাওয়া সত্ত্বেও তা না দেখায়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রথমোক্ত ব্যক্তি আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার হতে বঞ্চিত হবে না।

১০০। যেক্ষেত্রে দেহের ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়

উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারণাটিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে দেহ রক্ষার প্রয়োজনে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করে স্বেচ্ছাক্রমে আক্রমণকারী প্রতিপক্ষের মৃত্যু সংঘটন বা অপর যে কোন প্রকার ক্ষতি সাধন করা যেতে পারে যদি যে অপরাধটির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করার আবশ্যকীয়তা দেখা দিয়েছে সে অপরাধটি নিম্নোক্ত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়। যথা:-

প্রথমত (First):- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, ব্যক্তিগত আত্মরক্ষামূলক অধিকারের অবাধ প্রয়োগ না করলে সে আঘাতে সে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

দ্বিতীয়ত (Secondly):- এইরূপ আক্রমণ যার ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই এমন আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, প্রতিরোধ না করলে সে আঘাতের বা আক্রমণের ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবার্য;

তৃতীয়ত (Thirdly):- ধর্ষণের উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

চতুর্থত (Fourthly):- অস্বাভাবিক কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে আঘাত বা আক্রমণ;

পঞ্চমত (Fifthly):- শিশু অপহরণ বা ব্যক্তি হরণের উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা আঘাত;

ষষ্ঠত (sixthly):- কোন ব্যক্তিকে অন্যায় বা বেআইনীভাবে আটক করার উদ্দেশ্যে এমন পরিস্থিতিতে তার উপর হামলা, যে পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবেই সে ব্যক্তির মনে এই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় যে, সে মুক্তির জন্য সরকারী কর্তৃপক্ষের আশ্রয় নিতে সমর্থন হবে না।

১০১। যেক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য যেকোন ক্ষতির প্রতি প্রযোজ্য হয়

অপরাধটি যদি উপযুক্ত সর্বশেষ ধারাটিতে বর্ণিত কোন প্রকারের না হয়, আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য নয়, তবে ৯১ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে আক্রমণকারীর মৃত্যু সংঘটন ছাড়াই অপর যে কোন প্রকারের ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য।

১০২। দেহের ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকাল

দেহের প্রতি বিপদের চেষ্টার বা ভিতি প্রদর্শনের ফলে ন্যায়সঙ্গতভাবে দেহের প্রতি বিপদের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেহ রক্ষার জন্য আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়, যদিও অপরাধটি প্রকৃতই সম্পাদিত না হয়ে থাকে, এবং দেহের প্রতি বিপদের উক্তরূপ ন্যায়সঙ্গত সম্ভাবনা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত এই অধিকারটি বলবৎ থাকে।

১০৩। যেক্ষেত্রে সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার মৃত্যু ঘটাইবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়

সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ৯৯ ধারায় আরোপিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাকৃতভাবে অপরাধকারীর মৃত্যু সংঘটন বা তার অপর কোনরূপ ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে, যদি যে অপরাধটি করার বা করার চেষ্টার বিরুদ্ধে এই অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে সে অপরাধটি নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন প্রকৃতির মধ্যে যে কোন এক ধরনের হয়, যথা:-

প্রথমত (First): দস্যুতা;

দ্বিতীয়ত (Secondly): রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করা:

তৃতীয়ত (Thirdly): কোন গৃহ, তাবু বা যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে ক্ষতি সাধন, যদি গৃহটি, তাবুটি বা যানবাহনটি মানুষের বাসস্থান হিসেবে অথবা সম্পত্তি রাখার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়;

চতুর্থত (Fourthly): চুরি, অনিষ্টকারিতা, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ, যদি পরিস্থিতি এমন হয় যে, সংশ্লিষ্ট আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ না করলে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত অনিবার্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার উদ্ভব হয়।

১০৪। যে ক্ষেত্রে অনুরূপ অধিকার মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোন ক্ষতি সাধনের প্রতি প্রযোজ্য হয়

যে অপরাধটি করার বিরুদ্ধে বা যে অপরাধটি করার চেষ্টার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে, সে অপরাধটি যদি উপরে বর্ণিত সর্বশেষ ধারায় উল্লেখিত কোন প্রকারের চুরি, ক্ষতিকর কাজ বা অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ হয়, তবে অনুরূপ অপরাধের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি স্বেচ্ছাক্রমে মৃত্যু সংঘটন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে না, তবে ৯৯ ধারায় বর্ণিত নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে স্বেচ্ছাক্রমে অপরাধীকারর মৃত্যু সংঘটন ছাড়াই অপর যে কোন ক্ষতিসাধন পর্যন্ত প্রয়োগযোগ্য হবে।

১০৫। সম্পত্তি সম্পর্কিত ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকারের আরম্ভ ও স্থিতিকাল

কোন সম্পত্তির প্রতি ন্যায়সঙ্গতভাবেই বিপদের আশঙ্কার সূচনার সঙ্গে সঙ্গেই সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের সূচনা হয়। চুরির ক্ষেত্রে অপরাধটি করার সূচনা হতে অপরাধকারীর অপহৃত সম্পত্তি নিয়ে উধাও না হওয়া পর্যন্ত অথবা সরকারী কর্তৃপক্ষের সহায়তা লাভ না করা পর্যন্ত, কিংবা সম্পত্তি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চুরির বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগযোগ্য হবে। অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত কোন ব্যক্তির মৃত্যু বা জখম বা অন্যায় আটক সংঘটন করতে থাকে বা সংঘটন করার চেষ্টা করতে থাকে অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত আসন্ন মৃত্যু বা আসন্ন জখম বা আসন্ন আটকের সম্ভাবনা থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত দস্যুতার বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে । অপরাধকারী যতক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক প্রবেশ বা অনিষ্টকর কাজ সম্পাদন করতে থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশের বা অনিষ্টকর কাজের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার বলবৎ থাকে। রাত্রিবেলা ঘর ভেঙ্গে প্রবেশের বিরুদ্ধে সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত বলবৎ থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত অনরূপ ঘর ভেঙ্গে যে গৃহে অনধিকার প্রবেশকাৰ্য আরম্ভ হল তা চলতে থাকে।

১০৬। নিরপরাধ ব্যক্তির প্রতি ক্ষতিসাধিত ইবার সম্ভাবনার ক্ষেত্রে মারাত্নক আক্রমণের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আত্নরক্ষার অধিকার

যদি এমন একটি আঘাতের বা আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ আবশ্যকীয় হয়ে পড়ে, যে আঘাত বা আক্রমণটি প্রতিরোধ না করলে তার ফলে আসন্ন মৃত্যু অনিবাৰ্য বলে ন্যায়সঙ্গতভাবেই আশঙ্কার সৃষ্টি হয় এবং যদি এই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে অধিকারটি প্রয়োগ প্রত্যাশী ব্যক্তি এমন অবস্থার সম্মুখীন হয় যে, কোন নিরাপরাধ ব্যক্তির ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি না নিয়ে সে অধিকারটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে পারছে না, তবে সে ব্যক্তির আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারটি অনুরূপ ঝুঁকি গ্রহণ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।

উদাহরণ

Illustration

ক কে একদল ব্যক্তি খুন করার জন্য তাড়া করে। ক তাদের প্রতি গুলিবর্ষণ না করলে কার্যকরভাবে তার আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগ করতে পারে না; কিন্তু গুলিবর্ষণ করলে কয়েকটি নির্দোষ শিশুর ক্ষতিসাধনের ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া গত্যন্তর নাই কারণ, কয়েকটি নির্দোষ শিশুও হত্যাপ্রয়াসী ব্যক্তিগুলির দলের সাথে মিশে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক যদি গুলিবর্ষণ করে এবং তার ফলে কোন শিশু ক্ষতিগ্রস্তও হয়, তবুও ক এর অপরাধ হবে না। 

img