- ৬। বিধির সংজ্ঞাসমূহের অর্থ ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে হইবে
- ৭। একবার ব্যাখ্যাত অভিব্যক্তির তাৎপর্য
- ৮। লিঙ্গ
- ৯। বচন
- ১০। পুরুষ মহিলা
- ১১। ব্যক্তি
- ১২। জনগণ
- ১৪। রাষ্ট্রের কর্মচারী
- ১৭। সরকার
- ১৯। জজ
- ২০। বিচারালয়
- ২২। অস্থাবর সম্পত্তি
- ২৩। অবৈধ লাভ
- ২৪। অসাধুভাবে
- ২৫। প্রতারণামূলকভাবে
- ২৬। বিশ্বাস করিবার কারণ
- ২৭। স্ত্রী, কেরাণী বা ভৃত্যের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি
- ২৮। নকলকরণ
- ২৯। দলিল
- ৩০। মূল্যবান জামানত
- ৩১। উইল
- ৩২। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত
- ৩৩। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত
- ৩৪। কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী
- ৩৫। যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কার্য কোন অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায় সহকারে সম্পাদিত হইবার দরুন অপরাধমূলক বলিয়া গণ্য হয়
- ৩৬। আংশিকভাবে কার্য এবং আংশিকভাবে বিচ্যুতির সাহায্যে সংঘটিত ফলাফল
- ৩৭। কোন অপরাধ অনুষ্ঠানকারী কতিপয় কার্যের একটি সম্পাদনের মাধ্যমে সহযোগিতা
- ৩৮। অপরাধমূলক কার্যে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন
- ৩৯। সেচ্ছাকৃত ভাবে
- ৪০। অপরাধ
- ৪১। বিশেষ আইন
- ৪২। স্থানীয় আইন
- ৪৩। অবৈধ, আইনত সম্পাদন করিতে বাধ্য
- ৪৪। ক্ষতি
- ৪৫। জীবন
- ৪৬। মৃত্যু
- ৪৭। প্রাণী
- ৪৮। জাহাজ
- ৪৯। বৎসর-মাস
- ৫০। ধারা
- ৫১। হলফ
- ৫২। সদবিশ্বাস
- ৫২ক । আশ্রয়
দ্বিতীয় অধ্যায় : সাধারন ব্যখ্যা ( )
৬। বিধির সংজ্ঞাসমূহের অর্থ ব্যতিক্রমসমূহ সাপেক্ষে হইবে
এই বিধির সর্বত্র সকল অপরাধের প্রতিটি সংজ্ঞা, প্রতিটি দণ্ডপ্রদান এবং অনুরূপ সংজ্ঞা বা দণ্ডবিধানের প্রত্যেকটি উদাহরণের অর্থ সাধারণ ব্যতিক্রমসমূহ’ শীর্ষক পরিচ্ছেদে বিধৃত ব্যতিক্রম সমূহ সাপেক্ষে করতে হবে, যদিও উক্ত ব্যতিক্রমসমূহ অনুরূপ সংজ্ঞা, দণ্ডপ্রদান বিষয়ক বা উদাহরণে পুনরুল্লেখ করা না হয়।
উদাহরণসমূহ
Illustrations –
(ক) এই আইনের যে সকল ধারায় অপরাধের সংজ্ঞা নির্দেশ করা হয়েছে, সে সকল ধারায় বলা হয় নাই যে, সাত বৎসরের কম বয়স্ক কোন শিশুর কর্তৃক উক্ত অপরাধগুলি অনুষ্ঠিত হতে পারে না, তথাপি সংজ্ঞাগুলির এই সাধারণ ব্যতিক্রম সাপেক্ষেই গ্রহণ করতে হবে যে, সাত বৎসরের কম বয়স্কা শিশুদের কোন কর্মই অপরাধ বলে পরিগণিত হবে না।
(খ) ক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বিনা পরোয়ানায় খ-কে গ্রেফতার করেন, যে খুন করেছে। এই ক্ষেত্রে ক অন্যায় আটক করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হবেন না; কেননা তিনি খ কে গ্রেফতার করতে আইনতঃ বাধ্য ছিলেন। কাজেই বিষয়টি সাধারণ ব্যতিক্রমের অধীনে পড়ে যে, কোন ব্যক্তি আইনত যে কার্য করতে বাধ্য তিনি সে কার্য করলে তা অপরাধ হবে না।’
৭। একবার ব্যাখ্যাত অভিব্যক্তির তাৎপর্য
এই বিধির যে কোন অংশে কোন উক্তি যেভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিধির সকল অংশে সে উক্তিটি সে ব্যাখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যবহার করা হয়েছে।
৮। লিঙ্গ
তিনি সর্বনাম এবং উহার সকল রূপ পুরুষ-নারী নির্বিশেষে যে কোন ব্যক্তি সম্পর্কে ব্যবহৃত হয়েছে।
৯। বচন
একই বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অন্যরূপ প্রতীয়মান না হলে এক বচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে বহুবচনের অর্থ আওতাভুক্ত থাকবে এবং বহুবচনের অর্থবিশিষ্ট শব্দের তাৎপর্যে একবচন আওতাভুক্ত থাকবে।
১০। পুরুষ মহিলা
’নর’ বলতে যে কোন বয়সের পুরুষ মানুষ বুঝায় এবং ‘নারী’ বলতে যে কোন বয়সের স্ত্রীলোক বুঝায়।
১১। ব্যক্তি
ব্যক্তি বলতে সমিতিভুক্ত হোক বা না হোক যে কোন কোম্পানী বা সমিতি বা ব্যক্তি সংস্থা আওতাভুক্ত বুঝাবে।
১২। জনগণ
জনসাধারণ বলতে যে কোন অংশ বা শ্রেণী অথবা যে কোন সম্প্রদায় জনসাধারণ কথাটির অন্তর্ভুক্ত।
১৪। রাষ্ট্রের কর্মচারী
রাষ্ট্রের কর্মচারী অর্থ বাংলাদেশে নিযুক্ত বা কার্যরত অথবা বাংলাদেশে যাদেরকে সরকারী চাকুরীতে বহাল রাখা হয়েছে এমন সকল কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বুঝাবে।
১৭। সরকার
সরকার বলতে বাংলাদেশ বা উহার কোন অংশে কার্যনিবাহী সরকার পরিচালনা করবার জন্য আইনবলে ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বুঝাইবে।
১৯। জজ
বিচারক অর্থ শুধু সরকারীভাবে বিচারক বলে আখ্যাত বা নিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকেই বোঝায় না, বরং যেকোন আইনগত কার্যব্যবস্থা, কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী যা হোক, চুড়ান্ত রায়দান বা আপীল না করা না হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এইরূপ বায়দান বা অন্য কোন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সমর্থিত হলে চূড়ান্ত গণ্য হবে এমন কোন রায়দান করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রদত্ত প্রত্যেক ব্যক্তি, অথবা অনুরূপ রায়দান করার জন্য আইনবলে ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কোন ব্যক্তি সংস্থাভুক্ত ব্যক্তিকেও বুঝাবে।
উদাহরণসমূহ
Illustrations
(ক) ১৮৫৯ সালের ১০নং আইন মোতাবেক কোন মোকদ্দমায় বিচার-ক্ষমতা প্রয়োগে একজন কালেক্টরই বিচারক।
(খ) যে অভিযোগের বিচারে ম্যাজিস্ট্রেটের অর্থ বা কারাদণ্ডদানের ক্ষমতা রয়েছে-তার দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপীল করা যাক বা না যাক- সে অভিযোগে বিচার ক্ষমতা প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক। (গ) বাতিল ।
(ঘ) যে অভিযোগে ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র কোন আদালতে বিচারের জন্য সোপর্দ করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত, সে অভিযোগের ব্যাপারে এখতিয়ার প্রয়োগকারী ম্যাজিস্ট্রেট একজন বিচারক নয়।
২০। বিচারালয়
বিচারালয়’বা আদালত বলতে শুধু বিচার কার্য করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বিচারক বা বিচারক সংস্থাকে বুঝাবে, যেক্ষেত্রে এইরূপ বিচারক বা বিচারক সংস্থা বিচার কার্য করছেন।
“সরকারি কর্মচারী" অর্থ নিচে উল্লেখিত যে কোন শ্রেণীর ব্যক্তিকে বুঝাবে, যথা:
প্রথম (First):-
বাতিল।
দ্বিতীয় (Second):-
সরকারের আওতায় কার্যরত রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমান বাহিনীর প্রত্যেক কমিশন প্রাপ্ত কর্মকর্তা;
তৃতীয় (Third):-
প্রত্যেক বিচারক বলতে সে ব্যক্তি, যিনি একাকী বা কোন ব্যক্তিসমষ্টির একজন সদস্যরূপে বিচারকাজ করার জন্য আইন দ্বারা ক্ষমতাপ্রাপ্ত, অন্তর্ভুক্ত হবে;
চতুর্থ (Fourth):-
কোন আদালতের কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন আইনগত বা ঘটনাগত বিষয় সম্পর্কে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা, অথবা কোন দলিল প্রণয়ন, প্রামাণ্য বলে স্বাক্ষরদান বা সংরক্ষণ করা, অথবা কোন সম্পত্তির দায়িত্ব গ্রহণ বা উহার বিলি ব্যবস্থা করা, অথবা কোন বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম বলবৎ করা, অথবা কোন শপথ গ্রহণ করানো, অথবা আদালতের শৃঙ্খলা সংরক্ষণ করা এবং উক্ত কর্তব্যগুলির যে কোনটি সম্পাদন করার জন্য আদালত হতে বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক ব্যক্তি;
পঞ্চম (Fifth):-
কোন আদালত বা সরকারী কর্মচারীকে সহায়তাকারী প্রত্যেক জুরী, এসেসর বা পঞ্চায়েত সদস্য;
ষষ্ঠ (Sixth):-
এইরূপ প্রত্যেক মধ্যস্থতাকারী বা অন্য কোন ব্যক্তি কোন বিচারালয় বা অন্য কোন যোগ্যতাসম্পন্ন সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক যার নিকট কোন সমস্যা বা বিষয় সিদ্ধান্ত বা রিপোটের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে;
সপ্তম (Seventh):-
এমন কোন ব্যক্তি যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন, যে পদমর্যাদা বলে তিনি কোন ব্যক্তিকে আটক করতে বা আটক করে রাখতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত;
অষ্টম (Eighth):-
সরকারের এমন কোন কর্মচারী যার কর্তব্য হচ্ছে অনুরূপ কর্মচারী হিসেবে অপরাধ নিরোধ করা, অথবা অপরাধের তথ্য দান করা, অথবা অপরাধীদের বিচারের সম্মুখীন করা, অথবা জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও সুখ স্বাচ্ছন্দ্য সংরক্ষণ করা;
নবম (Ninth):-
এমন কোন কর্মকর্তা যার অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে কর্তব্য হচ্ছে সরকারের পক্ষে কোন সম্পত্তি দখল করা, গ্রহণ করা, রাখা বা ব্যয় করা, অথবা সরকারের
পক্ষে কোন জরিপ এসেসমেন্ট বা চুক্তি সম্পাদন করা অথবা কোন কোন রাজস্ব বিষয়ক নির্দেশ বলবৎ করা, কিংবা সরকারের আর্থিক স্বার্থসংক্রান্ত কোন বিষয়ে তদন্ত করা বা রিপোর্ট দাখিল করা অথবা সরকারের আর্থিক বিষয়ক কোন দলিল প্রণয়ন করা, সত্য ( বা প্রামাণ্য ) বলে স্বাক্ষর দান করা বা রাখা, অথবা সরকারের আর্থিক স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে কোন আইনের বিচ্যুতি রোধ করা।
দশম (Tenth):-
এমন প্রত্যেক কর্মকর্তা, অনুরূপ কর্মকর্তা হিসেবে যার কর্তব্য হচ্ছে কোন সম্পত্তি দখল, গ্রহণ, সংরক্ষণ বা ব্যয় করা, কোন গ্রাম, শহর বা জেলায় ধর্মনিরপেক্ষ সাধারণ উদ্দেশ্য সম্পাদনের জন্য কোন জরিপ করা বা এসেসমেন্ট করা বা কোন রেট বা ট্যাক্স ধার্য করা, অথবা কোন গ্রাম, শহর বা জেলার জনসাধারণের অধিকসমূহ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে কোন দলিল প্রণয়ন করা, উহাকে প্রামাণ্য বলে স্বীকৃতিদান করা বা উহ্য সংরক্ষণ করা।
একাদশ (Eleventh):-
এমন কোন ব্যক্তি, যিনি এমন কোন পদে অধিষ্ঠিত, যে পদমর্যাদা বলে তিনি নির্বাচক তালিকা প্রণয়ন, প্রকাশনা, সংরক্ষণ বা পরিশোধন করার অথবা কোন নির্বাচন কিংবা নির্বাচনের অংশবিশেষ পরিচালনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ।
উদাহরণ
Illustration
পৌর কমিশনার একজন সরকারী কর্মচারী।
দ্বাদশ (Twelfth):-
প্রত্যেক ব্যক্তি –
(ক) কোন সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের জন্য সরকারের চাকরিতে বা বেতনভোগী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বা ফি অথবা কমিশন আকারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন;
(খ) কোন আইনবলে বা আইনানুসারে প্রতিষ্ঠিত কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, কর্পোরেশন বা সংস্থায় চাকুরিতে বা এমন কোন অংশীদারী কারবার বা কোম্পানীর চাকরিতে নিযুক্ত রয়েছেন যার আংশিক পুঁজি বা স্বত্ব সরকারের কর্তৃক বা সরকারে ন্যস্ত।
ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হোক বা না হোক উপরোক্ত সংজ্ঞাসমূহের যেকোনটির অন্তৰ্ভূক্ত ব্যক্তিগণ সরকারী কর্মচারীরূপে গণ্য হবেন।
ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে স্থলে “সরকারী কর্মচারী” কথাগুলি দৃষ্ট হবে, সে স্থলেই উহার কার্যত সরকারী কর্মচারীর স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিকেই বুঝায় বলে মনে করতে হবে । উক্ত ব্যক্তির উক্ত সরকারী কর্মচারী পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার অধিকারের কোন আইনগত ক্রটি থাকলেও এই ব্যাখ্যার ব্যত্যয় হবে না।
ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- নির্বাচন অর্থ এমন কোন বিধান প্রণয়নকারী, পৌর বা অপর কোন সরকারী সংস্থার যে-কোন ধরনের সদস্যদের মনোনয়নের জন্য নির্বাচন বুঝাবে, যার সদস্য মনোনয়ন পদ্ধতি আইন কর্তৃক বা আইনের নির্দেশমতে নির্বাচন বলে বিধান করা হয়েছে।
২২। অস্থাবর সম্পত্তি
অস্থাবর সম্পত্তি’ বলতে জমি, এবং ভূমির সহিত সংযুক্ত বা ভূমির সহিত সংযুক্ত এইরূপ কোন কিছুর সহিত স্থায়ীভাবে আবদ্ধ বস্তু ব্যতিরেকে, প্রত্যেক বর্ণনার শরীরি সম্পত্তি বুঝাবে।
২৩। অবৈধ লাভ
অবৈধ লাভ হচ্ছে, বেআইনীভাবে এইরূপ সম্পত্তি লাভ করা, যে সম্পত্তি লাভকারী ব্যক্তির কোন আইনানুগ অধিকার নাই ।
অবৈধ ক্ষতি (Wrongful loss):-
কোন সম্পত্তিতে যে ব্যক্তির আইনগত অধিকার বা স্বত্ব রয়েছে, বেআইনীভাবে উক্ত ব্যক্তির সে সম্পত্তির ক্ষতি হলে বা হৃত হলে “অবৈধ ক্ষতি’ বলে ।
অবৈধভাবে লাভ করা (Gaining wrongfully):-
কোন ব্যক্তি অবৈধভাবে অধিকারে রাখলে এবং অবৈধভাবে অর্জন করলে ঐ ব্যক্তিকে অবৈধভাবে লাভ করে বলে আখ্যাত হবে ।
অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া (losing wrongfully):-
কোন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কোন সম্পত্তি হতে বেদখল রাখা হলে এবং অবৈধভাবে সম্পত্তিচু্যত করা হলে ঐ ব্যক্তি অবৈধভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে গণ্য হবে।
২৪। অসাধুভাবে
কোন ব্যক্তি কারো অবৈধভাবে লাভ ঘটাবার বা কারো অবৈধভাবে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করলে উক্ত ব্যক্তি তা অসাধুভাবে করেছে বলে পরিগণিত হয় ।
২৫। প্রতারণামূলকভাবে
কোন ব্যক্তি প্রতারণার উদ্দেশ্যে কিছু করলেই উক্ত ব্যক্তি ‘প্রতারণামূলকভাবে’ তা করেছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায়, নয় ।
২৬। বিশ্বাস করিবার কারণ
কোন ব্যক্তিকে কোন বিষয় বিশ্বাস করার জন্য তার উক্ত বিষয়ে বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ থাকলেই তার উক্ত বিষয়ে “বিশ্বাসের (বা বিশ্বাস করার) কারণ” আছে বলে পরিগণিত হয়, অন্যথায় নয়।
২৭। স্ত্রী, কেরাণী বা ভৃত্যের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি
কোন ব্যক্তির সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তির দরুণ তার স্ত্রী, কেরানী বা চাকরের দখলাধীন থাকলে এই আইনের অর্থ মোতাবেক উক্ত সম্পত্তি উক্ত ব্যক্তিরই দখলাধীন বলে পরিগণিত হবে।
ব্যাখ্যা (Explanation):- সাময়িক বা অস্থায়ীভাবে অথবা কোন বিশেষ উপলক্ষে কেরানী বা চাকরের পদে নিযুক্ত কোন ব্যক্তি এই ধারার অর্থ মোতাবেক অনুরূপ কেরানী বা চাকর বলে অভিহিত হবে।
২৮। নকলকরণ
কোন ব্যক্তি একটি বস্তুকে দেখতে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করে অনুরূপ আপাত সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার অভিসন্ধি করলে, অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য প্রতারণার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও উক্ত বস্তুকে অনুরূপভাবে অপর কোন বস্তুর সদৃশ করালে উক্ত ব্যক্তি নকল করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।
ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- নকল করণের ব্যাপারে অনুকরণ অবিকল হওয়া অপরিহার্য নয় ।
ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে লয় এবং আসল বস্তুর সাথে নকল (বা মেকি) জিনিসটির সাদৃশ্য এমন প্রকট হয় যে, তদ্বারা কোন ব্যক্তি প্রতারিত হতে পারে, তবে বিপরীত প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত এইরূপ ধরে নেয়া হবে যে-যে ব্যক্তি অনুরূপভাবে নকল করে একটি বস্তুকে দেখতে অপর একটি বস্তুর সদৃশ করে নিয়েছে, সে ব্যক্তি অনুরূপ সাদৃশ্য দ্বারা প্রতারণা করার উদ্দেশ্যেই তা করেছে অথবা অনুরূপ সাদৃশ্য কর্তৃক প্রতারণা করা হতে পারে জেনেই তা করেছে।
২৯। দলিল
দলিল কথাটি এমন কোন বস্তুকে বুঝায়, যে বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্ন কর্তৃক অথবা অনুরূপ একাধিক উপায়ে প্রকাশিত বা বর্ণিত বিষয়টির সাক্ষ্য ৰা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি প্রস্তুত করা হয় অথবা প্রমাণ হিসেবে উক্ত বস্তুটি ব্যবহৃত হতে পাৱে।
ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কি উপায়ে বা কেমন বস্তুর উপর অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নগুলি গঠন করা হয়েছে অথবা প্রমাণটি কোন আদালতে ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে বা কোন আদালতে ব্যবহৃত হতে পারে কিনা তাতে কিছু যায় আসে না।
উদাহরণ
(Illustration)
কোন চুক্তির শর্তাবলি সম্বলিত লিখিত বস্তু-যা চুক্তিটির প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে-এরুটি দলিল । কোন ব্যাংকারের চেক-একটি দলিল । কোন পাওয়ার-অব-এটর্নী-একটি দলিল প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের জন্য উদ্দিষ্ট বা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য কোন মানচিত্র বা নকশা-একটি দলিল । নির্দেশাবলী বা উপদেশাবলি সম্বলিত কোন লিখিত কোন বস্তু-একটি দলিল ।
ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- অক্ষর, সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক ব্যবসায়গত বা অপর কোন প্রচলনসিদ্ধ তাৎপর্য মোতাবেক যদ্রুপ ব্যক্ত করা হয়, এই ধারার অর্থানুযায়ী অনুরূপ অক্ষর সংখ্যা বা চিহ্নাদি কর্তৃক তদ্রুপই ব্যক্ত হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও কার্যতঃ অঙ্কপ ব্যক্ত না-ও হয়ে থাকতে পারে।
উদাহরণ
Illustration
ক তার আদেশানুযায়ী প্রদেয় একটি বিল অব এক্সচেঞ্জের উল্টা দিকে তার নাম স্বাক্ষর করে। ব্যবসায়গত প্রচলনসিদ্ধ রীতি ও তাৎপর্য অনুযায়ী বরাত চিঠি এর উল্ট পিঠে এইরূপ স্বাক্ষর বলতে বুঝায়-বিলটি উহার ধারককে দিতে হবে । এইরূপ স্বাক্ষর একটি দলিল এবং স্বাক্ষরটির উপরে “ধারককে প্রদেয়” কথাগুলি বা তদনুরূপ কোন কথা লেখা থাকলে স্বাক্ষরটিকে যে অর্থে গ্রহণ করা হত, এই ক্ষেত্রেও স্বাক্ষরটিকে ঠিক সে অর্থেই গ্রহণ করতে হবে ।
৩০। মূল্যবান জামানত
মূল্যবান জামানত বলতে বুঝায়- যে দলিলে কোন আইনগত অধিকার অথবা স্বত্ব সৃষ্ট, বর্ধিত কিংবা সম্প্রসারিত, হস্তান্তরিত, নিয়ন্ত্রিত, বিলুপ্তি কিংবা মুক্ত করা হয় কিংবা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয় অথবা যে দলিলে কোন ব্যক্তি কোন আইনগত দায়িত্ব স্বীকার করে, বা করেছে বলে প্রতীয়মান হয়।
উদাহরণ
Illustration
ক বরাত চিঠির উল্টা পিঠে তার নাম স্বাক্ষর করে। যেহেতু এইরূপ স্বাক্ষর দ্বারা বিলটির অধিকার বা স্বত্ব উহার আইনসম্মত ধারকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, সেহেতু বিলের উল্টা পিঠে প্রদত্ত এই স্বাক্ষর একটি ‘মূল্যবান জামানত’।
৩১। উইল
একটি উইল’ শব্দটি বলতে যে কোন ইচ্ছাপত্রকে নির্দেশ করা বুঝায়।
৩২। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত
ক্ষেত্র বিশেষে প্রসঙ্গ হতে অন্যরূপ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, এই বিধির সর্বত্র কার্যগুলো সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলি বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য।
৩৩। অবৈধ বিচ্যুতিসমূহ আইনসমূহের উল্লেখকারী শব্দসমূহের সংজ্ঞাভুক্ত
ক্ষেত্র বিশেষে প্রসঙ্গ হতে অন্যরূপ উদ্দেশ্য প্রতীয়মান না হলে, এই বিধির সর্বত্র কার্যগুলো সম্পর্কে ব্যবহৃত বক্তব্যগুলি বেআইনী গাফিলতি বা আকৃতি সম্পর্কেও প্রয়োগযোগ্য।
৩৪। কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক একই উদ্দেশ্য সাধানকল্পে কৃত কার্যাবলী
যখন কতিপয় ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের সকলের একই অভিপ্রায় সাধনকল্পে অপরাধমূলক কাজ সম্পাদিত করে, তখন অনুরূপ ব্যক্তিগণের প্রত্যেকেই উক্ত কাজের জন্য এইরূপে দায়ী হবেন যেন উক্ত কাজ উক্ত ব্যক্তি দ্বারা সম্পাদিত হয়েছিল।
৩৫। যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কার্য কোন অপরাধমূলক জ্ঞান বা অভিপ্রায় সহকারে সম্পাদিত হইবার দরুন অপরাধমূলক বলিয়া গণ্য হয়
কোন অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পাদন করলে যে কাজ অপরাধমূলক হয়, সে কাজ কতিপয় ব্যক্তি কর্তৃক সম্পাদিত হলে অনুরূপ অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে সম্পাদিত কার্ষে অংশগ্রহণকারী উক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যেকে তাদের যে কোন একজন এক অপরাধমূলক জ্ঞানে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত কাজটি সম্পাদন করলে যেভাবে তজ্জন্য দায়ী হত ঠিক সেভাবেই দায়ী হবে।
৩৬। আংশিকভাবে কার্য এবং আংশিকভাবে বিচ্যুতির সাহায্যে সংঘটিত ফলাফল
যখন কোন কার্যসম্পাদন দ্বারা অথবা কোন কার্যসম্পাদন হতে বিচুতি দ্বারা কোন ফলাফলের উদ্ভব করা বা উক্ত ফলাফল উদ্ভবের চেষ্টা করা একটি অপরাধ, তখন কোন কার্য আংশিকভাবে সম্পাদন করে এবং কোন কার্য আংশিকভাবে সম্পাদন না করে সে ফলাফলের উদ্ভব বা সৃষ্টি করাও একটি অপরাধ বলে বিবেচনা করতে হবে।
উদাহরণ
Illustration
ক অংশত অবৈধভাবে চ-কে খাদ্য দান না করে এবং অংশত চ-কে প্রহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর মৃত্যু ঘটায়। ক খুনের অপরাধে অপরাধী হবে।
৩৭। কোন অপরাধ অনুষ্ঠানকারী কতিপয় কার্যের একটি সম্পাদনের মাধ্যমে সহযোগিতা
(ক) ক ও খ পৃথকভাবে এবং বিভিন্ন স্থানে অল্প মাত্রায় বিষ প্রয়োগ করে চ কে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। ষড়যন্ত্র মোতাবেক ক ও খ চ কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে বিষ প্রয়োগ করে। এইভাবে কয়েকটি বিভিন্ন মাত্রায় প্রযুক্ত বিষক্রিয়ার ফলে চ নিহত হয়। এই দৃস্টাস্তে ক ও খ খুনের অপরাধ সংঘটনের জন্য উদ্দেশ্য মূলক ভাবে পরস্পরের সহযোগিতা করে এবং যেহেতু তাদের প্রত্যেকেই এমন একটি কার্য করে যার ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হয়। সেহেতু তাদের উভয়েই অপরাধটির জন্য অপরাধী যদিও তাদের কার্য আলাদাভাবে সংঘটিত।
(খ) ক ও খ দুইজন কারাগারিক। চ একজন কয়েদী । ক ও খ কারাগারিক হিসেবে চ-এর তত্ত্বাবধায়ক। চ পালাক্রমে ছয় ঘন্টা করে ক ও খ-এর অধীনে থাকে। ক ও খ প্রত্যেকে চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে জ্ঞাতসারে নিজ নিজ তত্ত্বাবধানকালে চ-এর জন্য প্রেরিত খাদ্য অবৈধভাবে চ-কে প্রদান না করে তার মৃত্যু ঘটাবার কার্যে পরস্পরের সহযোগিতা করে। ফলে অনাহারে চ-এর মৃত্যু ঘটে। ক ও খ উভয়েই চ-এর মৃত্যুর জন্য অপরাধী ।
(গ) ক একজন কারাগারিক। চ তার আওতায় একজন কয়েদী। চ-এর মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্যে ক অবৈধভাবে চ-কে খাদ্য প্রদান হতে বিরত থাকে। ফলে মারাৱকভাবে চ-এর স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে; কিন্তু অনশনের ফলে তার মৃত্যু ঘটে নাই। ক-কে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয় এবং খ তার স্থলে নিযুক্ত হয় খ ক-এর সাথে চক্রান্ত বা যোগসাজশ না করেই অবৈধভাবে চ কে খাদ্য সরবরাহ থেকে বঞ্চিত রাখে যদিও ইহার ফলে চ-এর মৃত্যু ঘটতে পারে বলে সে জানে। ফলে অনশনে চ-এর মৃত্যু ঘটে। খ খুনের অপরাধে অপরাধী হবে; কিন্তু যেহেতু ক খ-এর সাথে যোগসাজশ করে নাই সেহেতু সে (ক) কেবলমাত্র খুনের অপরাধ সংঘটনের চেষ্টার জন্য অপরাধী হবে।
৩৮। অপরাধমূলক কার্যে জড়িত ব্যক্তিগণ বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন
কোন অপরাধমূলক কাজ সংঘটনে কতিপয় ব্যক্তি ব্যাপৃত থাকলে অথবা উহা সংঘটনের সাথে তারা জড়িত থাকলে, উক্ত কাজের জন্য তারা বিভিন্ন অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হতে পারে।
উদাহরণ
Illustration –
ক এমন উগ্র প্ররোচনায় ক্ষিপ্ত হয়ে চ-কে আক্রমণ করে যে, তার এই আক্রমণে চ নিহত হলে তা কেবল অপরাধমূলক প্রাণনাশ হবে, যা খুন বলে পরিগণিত হবে না। চ-এর প্রতি খ-এর বিদ্বেষ থাকায় এবং চ-কে হত্যা করার জন্য খ-এর অভিপ্রায় থাকায়, খ বিনা প্ররোচনায় চ-কে হত্যার কার্যে ক কে সহায়তা করে। এই দৃষ্টান্তে ক ও খ উভয়েই চ-কে হত্যার কার্যে ব্যাপৃত থাকলেও, খ খুনের অপরাধে অপরাধী সাব্যস্ত হবে এবং ক শুধু অপরাধমূলক প্রাণনাশের অপরাধে অপরাধী হবে।
৩৯। সেচ্ছাকৃত ভাবে
কোন ব্যক্তি যদি কোন কাজ সংঘটনের উদ্দেশ্যে উক্ত কাজ সংঘটনের উপায় অবলম্বন করে উহা সংঘটন করে, অথবা এমন উপায় অবলম্বন করে কাজটি সংঘটন করে যা অবলম্বনকালে সে জানত বা তার বিশ্বাস করার কারণ ছিল যে, উক্ত উপায়টি অবলম্বনের ফলে উক্ত কাজের সংঘটন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে উক্ত কাজটি সংঘটন করে বা করেছে বলে পরিগণিত হয়।
উদাহরণ
Illustration
ক দস্যুতা সংঘটনের সুবিধার জন্য রাত্রিবেলা একটি বড় শহরের একটি বসত বাড়িতে আগুন লাগায়। এইভাবে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ফলে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। এই ক্ষেত্রে ক-এর উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু সংঘটনের উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে এবং এমনকি অনুষ্ঠিত মৃত্যুর জন্য সে অনুতপ্ত বা দুঃখিতও হতে পারে, তথাপি তার কাজের ফলে মৃত্যু অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সে জ্ঞাত থেকে থাকে, তবে সে স্বেচ্ছাকৃতভাবে মৃত্যু ঘটিয়েছে ।
৪০। অপরাধ
এই ধারার ২ ও ৩ অনুচ্ছেদে উল্লেখিত পরিচ্ছদগুলো ও ধারাগুলো ছাড়াই অপর সকল ক্ষেত্রে অপরাধ বলতে এই আইন বলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে।
৪র্থ অধ্যায়, ৫ক অধ্যায় এবং ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৭১, ১০৯, ১১০, ১১২, ১১৪, ১১৫, ১১৬, ১১৭, ১৮৭, ১৯৪, ১৯৫, ২০৩, ২১১, ২১৩, ২১৪, ২২১, ২২২, ২২৩, ২২৪, ২২৫, ৩২৭, ৩২৮, ৩২৯, ৩৩০,৩৩১, ৩৪৭, ৩৪৮, ৩৮৮, ৩৮৯, এবং ৪৪৫ ধারায় “অপরাধ” বলতে এই আইনবলে অথবা অতঃপর বর্ণিত কোন বিশেষ বা স্থানীয় আইনবলে দণ্ডনীয় কোন কাজ বা বিষয় বুঝাবে।
এবং ১৪১, ১৭৬, ১৭৭, ২০১, ২০২, ২১২, ২১৬ ও ৪৪১ ধারার ‘অপরাধ’ কথাটি বলতে, স্থানীয় বা বিশেষ আইনে দণ্ডনীয় কাজ বা বিষয়টি উক্ত আইনবলে অর্থদণ্ডসহ বা বিনা অর্থ দণ্ডে ছয় মাস বা তদূৰ্ব্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হওয়ার ক্ষেত্রে একই অর্থ বুঝাবে।
৪১। বিশেষ আইন
কোন বিশেষ বিষয়ের প্রতি প্রয়োগযোগ্য আইনকে বিশেষ আইন বলে ।
৪২। স্থানীয় আইন
কেবলমাত্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরস্থ এলাকা সমূহের কোন বিশেষ অংশের ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য আইনকে স্থানীয় আইন বলে।
৪৩। অবৈধ, আইনত সম্পাদন করিতে বাধ্য
অবৈধ বলতে এমন প্রত্যেক বিষয়ের প্রতি প্রযোজ্য যা কিছু অপরাধজনক বা যা কিছু আইন দ্বারা নিষিদ্ধ কিংবা যা কিছু দেওয়ানী কর্মপন্থা গ্রহণের যুক্তি বা আবশ্যকীয়তার উদ্ভব করে, তা সম্পর্কেই ‘বেআইনী’ কথাটি প্রয়োগযোগ্য; এবং যে ব্যক্তির পক্ষে কোন কিছু না করা বা কোন বিশেষ কার্যসম্পাদন হতে বিরত থাকা বেআইনী, সে ব্যক্তি উহা ‘করতে আইনত বাধ্য’ বলে পরিগণিত হয়।
৪৪। ক্ষতি
ধারা ৪৪। যদি কোন ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তিতে অবৈধভাবে কোনরূপ ক্ষতিসাধন করা হয় তবে তাকে ‘ক্ষতি’ বলে ।
৪৫। জীবন
ধারা ৪৫। প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে জীবন কথাটি কর্তৃক মানুষের জীবন বুঝাবে।
৪৬। মৃত্যু
প্রসঙ্গে ভিন্নতর কিছু না বুঝালে মৃত্যু কথাটি কর্তৃক মানুষের ‘মৃত্যু’ বুঝাবে।
৪৭। প্রাণী
প্রাণী’ বলতে মানুষ ছাড়া অপর যে কোন প্রাণী বা জীব বুঝাবে।
৪৮। জাহাজ
নৌযান’ বলতে জলপথে মানুষ বা সম্পত্তি পরিবহনের জন্য নির্মিত যে কোন যানবাহনকে বুঝায়।
৪৯। বৎসর-মাস
যেখানেই বৎসর কথাটি অথবা "মাস" কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানেই বুঝতে হবে যে, উক্ত বৎসর বা মাস বৃটিশ ক্যালেন্ডার মোতাবেক গণনা করা হবে।
৫০। ধারা
ধারা’ শব্দে এই বিধির কোন অধ্যায়ের অংশসমূহের অন্যতম এমন কোন একটিকে বুঝাবে, যার পূর্বে সংখ্যাবাচক চিহ্ন আরোপ করে অন্যান্য অংশ হতে উহার পার্থক্য বা স্বাতন্ত্র্য নির্দেশ করা হয়েছে।
৫১। হলফ
আইনের বিধানমতে শপথের পরিবর্তে গ্রহণীয় দৃঢ়, প্রতিজ্ঞান্তিক অনুমোদন, এবং কোন আদালতেই হোক অথবা আদালতের বাইরে অন্যত্রই হোক, যে ঘোষণা কোন সরকারী কর্মচারীর সম্মুখে অথবা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে প্রদান করার জন্য আইনবলে নির্দেশ করা হয় বা ক্ষমতা দেওয়া হয়, তার ‘শপথ’ কথাটির অন্তর্ভুক্ত।
৫২। সদবিশ্বাস
যথাযথ সতর্কতা ও মনোযোগ ছাড়া কিছু করা হলে বা কোন কিছু বিশ্বাস করা হলে তা ‘সরল বিশ্বাসে’ করা হয়েছে বা তাতে ‘সরল বিশ্বাসে’ বিশ্বাস করা হয়েছে বলে পরিগণিত করা হয় না।
৫২ক । আশ্রয়
১৫৭ ধারা ছাড়া এবং ১৩০ ধারায় যেখানে আশ্রিত ব্যক্তিকে তার স্ত্রী বা স্বামী আশ্রয়দান বা রক্ষা করে তা ব্যতীত, (অন্য সকল ক্ষেত্রে) গ্রেফতার এড়াবার জন্য কোন ব্যক্তিকে আশ্রয়, খাদ্য, পানীয়, অর্থ, কাপড়চোপড়, অস্ত্র-শস্ত্র, গোলাবারুদ বা পরিবহনের উপায় উল্লিখিত বা অনুলিখিত প্রকরণের কোন উপায়ে কোন ব্যক্তিকে সহায়তা করে ‘আশ্রয়দান’ কথাটির অন্তর্ভুক্ত।