02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬
Click here for Deep-Dive

বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫

পঞ্চম অধ্যায় : স্বাস্থ্য রক্ষা ব্যবস্থা ( বিএলআর-২০১৫ )
৪০। ময়লা আবর্জনা অপসারণ

(১) ধারা ৫১(ক) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ময়লা ও আবর্জনা অপসারণের উপযুক্ত পন্থা হিসাবে ঢাকনা দেওয়া বাক্সে উহা অপসারণ করিতে হইবে, যাহাতে উক্ত আবর্জনা হইতে দর্গন্ধ বা জীবাণু বিস্তার করিতে না পারে। 

(২০) ধাতব পদার্ধ, উৎকট গন্ধময় আবর্জনা, রাসায়নিক আবর্জনা ও মেডিকেল আবর্জনা ভিনড়ব ভিনড়ব বাক্সে প্রতিদিন নিয়মিত অপসারণ করিতে হইবে।

৪১। ধৌতকরণ

ধারা ৫১(খ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে প্রত্যেক কর্ম কক্ষ নি¤ড়বরূপভাবে ধৌত করিতে হইবে, যথা:

(ক) অবস্থা ভেদে এবং কাজের প্রকৃতি ভেদে উহা পানি দ্বারা ধৌত অথবা রাসায়নিক পদার্থ, তরল বা সলুশোন দ্বারা জীবাণুনাশ করা;

(খ) অবস্থা ভেদে ভিজা কাপড় দ্বারা মুছিয়া নেওয়া;

(গ) প্রয়োজনবোধে জীবানুনাশক ব্যবহার করা।


৪২। পানি নিষ্কাশন

ধারা ৫১(গ) অনুযায়ী উৎপাদন প্রμিয়ার কারণে মেঝে বা কর্মকক্ষ ভিজিয়া যাইবার সম্ভাবনা থাকিলেজ্জ

(ক) উক্ত মেঝে অবশ্যই অভেদ্য পদার্থ (ওসঢ়বৎারড়ঁং সধঃবৎরধষ) দ্বারা নির্মিত হইতে হইবে;

(খ) উক্ত মেঝের নির্মাণ কৌশল ঢালু বিশিষ্ট এবং উপযুক্ত নিষ্কাশন নালার মাধ্যমে কারখানার মূল নর্দমা ব্যবস্থার সহিত সংযুক্ত থাকিতে হইবে, যাহাতে নিষ্কাশিত পানি অথবা কোন তরল পদার্থ মেঝেতে জমিয়া থাকিতে না পারে।

৪৩। চুনকাম ও রং করা

ধারা ৫১(ঘ) অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সকল অভ্যন্তরীণ দেওয়াল, পার্টিশন, ছাদ, সিড়ি ও যাতায়াত পথ রং বা বার্ণিশ করা থাকিলে এবং বহির্ভাগ মসৃণ হইলে প্রতি চৌদ্দ মাসে অন্তত একবার উহা পানি, ব্রাশ ও ডিটারজেন্ট দ্বারা ঘষিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে।

৪৪। পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতার রেজিস্টার সংরক্ষণ

ধারা ৫১(ঘ)-তে উল্লিখিত কার্যাবলি সম্পনড়ব করিবার তারিখ ধারা ৫১(ঙ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে ফরম-২০ অনুযায়ী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করিয়া সংরক্ষণ করিতে হইবে।

৪৫। বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা

(১) ধারা ৫২(২) অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকক্ষে তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখিতে হইবে এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কর্মকক্ষে নির্মল বায়ু প্রবাহের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিপরীতমুখী জানালার ব্যবস্থা থাকিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব নয় সেইখানে এক্সজস্ট ফ্যান (ঊীযধঁংঃ ঋধহ) স্থাপন করা যাইবে :

আরও শর্ত থাকে যে, কর্মক্ষেত্রে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (ড্রাই ও ওয়েট) ব্যবস্থা থাকিলে বায়ু চলাচলের উপরি-উক্ত ব্যবস্থার প্রয়োজন হইবে না।

(২) ধারা ৫২(২) অনুযায়ী প্রত্যেক কর্মকক্ষে অন্তত একটি তাপ পরিমাপক যন্ত্র (থার্মোমিটার) সচল অবস্থায় রাখিতে হইবে এবং উহা যথাযথ মানসম্পনড়ব হইতে হইবে এবং কর্মকক্ষের দেয়ালের দৃশ্যমান স্থানে উহা স্থাপন করিতে হইবে।

৪৬। ধূলা-বালি ও ধোঁয়া

(১) ধারা ৫৩(১) বাস্তবায়নের জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে বা কর্মকক্ষে উৎক্ষিপ্ত ধূলা-বালি ও ধোঁয়ার কার্যকর নির্গমনের লক্ষ্যে ‘ডাস্ট সাকার’ সহ উপযুক্ত নির্গমন যন্ত্র স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে যেন কোনμমেই ধূলা-বালি বা ধোঁয়া কর্মকক্ষে বিস্তার করিতে না পারে।

(২) উক্তরূপ প্রতিষ্ঠানে ধূলা-বালি ও ধোঁয়াময় স্থানে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তিকে মাস্ক ব্যবহার করিতে হইবে।

(৩) মহাপরিদর্শক কর্মকক্ষে ধূলা-বালি ও ধোঁয়া উৎক্ষেপনের সর্বোচ্চ মান নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

৪৭। বর্জ্য পদার্থ অপসারণ।

(১) ধারা ৫৪ অনুযায়ী সকল বর্জ্য ও তরল অপসারণের ব্যবস্থা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সংμান্ত দেশের প্রচলিত আইনানুগ বিধি-বিধান ও নির্দেশনা অনুযায়ী হইতে হইবে এবং গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে পরিবেশ ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র পরিদর্শকের নিকট দাখিল করিতে হইবে। 

(২) উপ-বিধি (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিদর্শক প্রয়োজন মনে করিলে শ্রমিকের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করিয়া বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করিতে পারিবেন।

(৩) তরল বর্জ্য ও পানি বহনকারী সকল নর্দমা অভেদ্য মাল-মশলা দ্বারা মজবুত ও টেকসইভাবে উপযুক্ত ঢাকনাযুক্ত অবস্থায় নির্মাণ করিতে হইবে যাহাতে নিয়মিত পানি প্রবাহ থাকিবে এবং উক্ত বর্জ্য দূষণমুক্ত করিয়া অপসারণ করিতে হইবে।

(৪) উপরি-উক্ত উভয় বিষয়ে সন্তুষ্ট হইয়া পরিদর্শক উক্ত কারখানার বর্জ্য অপসারণে গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে অনুমোদন প্রদান করিবেন।

৪৮। সূতা ও বয়ন কারখানায় তাপমাত্রা ও কৃত্রিম আর্দ্রকরণ

ধারা ৫২ ও ৫৫ অনুযায়ী তফসিল-১ এ বর্ণিত উপায়ে সূতা ও বয়ন কারখানায় বায়ু চলাচল ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃত্রিম আর্দ্রকরণ রেকর্ড ফরম-২১ অনুযায়ী সংরক্ষণ করিতে হইবে।

৪৯। আলোক ব্যবস্থা

(১) ধারা ৫৭ অনুযায়ী যেখানে শ্রমিকগণ কাজ করিয়া থাকেন বা তাহাদিগকে নিয়োগ করা হয় সেই কর্মকক্ষের বা স্থানের আলোক ব্যবস্থা মেঝে হইতে ১.০ মিটার উচ্চতায় কমপক্ষে ৩৫০ লাক্স (খীঁ) হইতে হইবে।

(২) যদি মহাপরিদর্শকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, কোন নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিধানের প্রয়োজন নাই সেই ক্ষেত্রে তিনি উক্ত বিধান হইতে উক্ত প্রতিষ্ঠানকে অব্যাহতি প্রদান করিতে পারিবেন অথবা কর্মস্থলের উৎপাদন প্রμিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় আলোক ব্যবস্থার মান নির্ধারণ করিতে পারিবেন।

৫০। পান করিবার পানি

(১) ধারা ৫৮ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সকল শ্রমিকের সহজগম্য এবং সুবিধাজনক স্থানে পান করিবার জন্য বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখিতে হইবে এবং উহা স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(২) পান করিবার পানি সংরক্ষণের স্থানটি কোন প্রতিষ্ঠানে কোন ধৌতাগার, প্রক্ষালন কক্ষ অথবা শৌচাগার হইতে অন্যূন ৬ মিটার দূরত্বে স্থাপন করিতে হইবে।

(৩) উপ-বিধি (১) মোতাবেক সরবরাহকৃত পানিজ্জ

(ক) জীবাণুমুক্ত উপযুক্ত পাত্রে রাখিতে হইবে;

(খ) প্রতিদিন কমপক্ষে একবার বদলাইতে হইবে;

(গ) সকল প্রকার সংμমণ হইতে মুক্ত রাখিবার বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে হইবে :

তবে শর্ত থাকে আধুনিক পানি পরিশোধন প্রμিয়ায় পরিশোধিত পানি পাত্রসহ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হইলে প্রতিদিন বদলানোর প্রয়োজন হইবে না।

(৪) যে স্থানে শ্রমিকদের পান করিবার পানি সরবরাহ করা হয় সেই স্থানে আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়ব এবং নালা সংযুক্ত অবস্থায় রাখিতে হইবে।

(৫) সরবরাহকৃত ভূগর্ভস্থ পানি বা অন্য কোনভাবে সরবরাহকৃত পানি বা টিউবওয়েলের পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উহা আর্সেনিক, জীবানুমুক্ত ও খাবার উপযুক্ত কি না উহা অন্তত: বৎসরে একবার বা পরিদর্শক কর্তৃক নির্দেশিত হইলে সরকারের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ বা সরকারের অন্যকোন প্রতিষ্ঠান বা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হইতে মালিককে লিখিত প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করিতে হইবে।

(৬) যে প্রতিষ্ঠানে সাধারণত ২৫০ জনের অধিক শ্রমিক কাজ করিয়া থাকেন উহার প্রতিটিতে প্রতি বৎসর ১ এপ্রিল হইতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শ্রমিকদের ক্যান্টিন, খাবার ঘর এবং বিশ্রাম ঘরে পান করিবার জন্য যে পানি সরবরাহ করা হয় উহা পানি ঠা-াকরণ যন্ত্র (ডধঃবৎঈড়ড়ষবৎ) অথবা অন্য কোন কার্যকর পন্থায় ঠা-া করিয়া সরবরাহ করিতে হইবে।

(৭) প্রতিষ্ঠানের ব্যবহৃত কোন যন্ত্রের কারণে যদি এমন তাপ সৃষ্টি হয় যাহা সহনীয় মাত্রার অতিরিক্ত তাপ উদ্রেক করে তাহা হইলে উক্ত যন্ত্রের সনিড়বকটে কর্মরত প্রত্যেক শ্রমিকের জন্য ধারা ৫৮(৪) অনুযায়ী পর্যাপ্ত খাবার স্যালাইন অথবা গুড় বা চিনির শরবত সরবরাহ করিতে হইবে এবং এই গুড় বা চিনি মিশ্রিত শরবতের পরিমাণ প্রতি শ্রমিকের জন্য দৈনিক ন্যূনতম দুই লিটার হইতে হইবে।

৫১। শৌচাগার ও প্রক্ষালণ কক্ষ।

ধারা ৫৯ অনুযায়ী প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শৌচাগার ও প্রক্ষালন কক্ষের সংখ্যা, উহার অবস্থান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছনড়বতা তফসিল-২ অনুযায়ী হইতে হইবে।

৫২। আবর্জনা বাক্স ও পিকদানি

(১) ধারা ৬০ অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে-

(ক) প্রতি ১০০ জন শ্রমিকের জন্য অন্তত একটি করিয়া পৃক আবর্জনা ও পিকদানি বাক্স রাখিতে হইবে;

(খ) পিকদানি বালু ভর্তি থাকিতে হইবে এবং উহার উপরে ব্লিচিং পাউডার থাকিতে হইবে;

(গ) পিকদানিগুলি প্রতি ৭ দিন অন্তর একবার খালি করিয়া পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করিতে হইবে এবং দৈনিক অন্তত একবার উপরের এক স্তর বালি অপসারণ করিয়া পরিষ্কার করিতে হইবে;

(ঘ) আবর্জনা বাক্স প্লাস্টিকের তৈরি ও ঢাকনাসহ থাকিতে হইবে এবং উহাতে প্রতিদিন জমাকৃত আবর্জনা অপসারণ করিতে হইবে ও উভয় ক্ষেত্রে জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করিতে হইবে;

(ঙ) উক্ত পিকদানি ও আবর্জনা বাক্স কর্মকক্ষের দরজার সনিড়বকটে স্থাপন করিতে হইবে এবং উহা এমনভাবে স্থাপন করিতে হইবে যাহাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় ও ময়লা আবর্জনা চোখে না পড়ে।

(২) কোন ব্যক্তি কোন প্রতিষ্ঠানে পিকদানি ও আবর্জনা বাক্স ব্যতীত অন্য কোথাও থু থু বা আবর্জনা ফেলিবে না এবং এই বিধান সম্পর্কে নোটিস কারখানার ভিতরে উপযুক্ত স্থানে সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে টাঙ্গাইয়া রাখিতে হইবে।

img