02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

দন্ডবিধি, ১৮৬০
Click here for Deep-Dive

দন্ডবিধি, ১৮৬০

: ( )
৩৭৮। চুরি

কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।


ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কোন বস্তু যতক্ষণ পর্যন্ত অস্থাবর সম্পত্তি না হওয়া বিধায় মাটির সাথে যুক্ত থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত উহা চুরি করার বস্তু বলে গণ্য হবে না, কিন্তু যে মুহুর্তে উহাকে মাটি হতে বিচ্ছিন্ন করা হয় সে মহুর্তেই উহা চুরি করার বস্তু হওয়ার যোগ্য গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে কাজ কর্তৃক (মাটি হতে) বিচ্ছিন্নতা সাধন করা হয়, সে কাজ দ্বারাই স্থানান্তর করা হলে তা চুরি হতে পারে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- কোন ব্যক্তি কোন বস্তুর গতির প্রতিবন্ধক অপসারণ করলে বা উহাকে অপর কোন বস্তু হতে বিচ্ছিন্ন করলে এবং বাস্তবিকভাবে উহা স্থানান্তর করলে উক্ত বস্তু স্থানান্তর করে বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৪:- কোন ব্যক্তি যে কোন উপায়ে কোন পশুকে হাটায়, সে লোক সে পশুকে এবং অনুরূপভাবে সৃষ্ট গতির ফলে উক্ত পশু দ্বারা স্থানান্তরিত প্রত্যেক বস্তুকে স্থানান্তর করে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৫:- সংজ্ঞায় উল্লেখিত সম্মতি প্রকাশ্য অথবা পরোক্ষ হতে পারে এবং উক্ত সম্মতি দখলকারী ব্যক্তি বা উক্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্য বা পরোক্ষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ

Illustration

(ক) ক গ-এর জমিতে একটি গাছ কেটে ফেলে। তার উদ্দেশ্য, সে গ-এর জমি হতে গ-এর সম্মতি ব্যতীত গাছটি অসাধুভাবে নিয়ে যাবে। এইক্ষেত্রে যে মুহুর্তে ক গাছটি নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে কেটেছে সে মুহুর্তে চুরি সংঘটিত হয়েছে

(খ) ক তার পকেটে একটি কুকুরের টোপ রাখে এবং তার ফলে গ-এর কুকুর তাকে অনুসরণ করতে থাকে। এক্ষেত্রে ক-এর উদ্দেশ্য যদি হয় গ-এর সম্মতি ব্যতীত গ-এর কুকুরটি অসাধুভাবে নিয়ে যাওয়া তবে যে মুহুর্তে গ-এর কুকুর তাকে অনুসরণ করতে শুরু করেছে সে মূহুর্তে চুরি সংঘটিত হয়েছে।

(গ) ক একটি সম্পদ ভর্তি বাক্স বহনকারী ষাড় দেখতে পায়; সে ষাড়টিকে একটি বিশেষ দিকে তাড়াইয়া দিতে থাকে যাতে সে অসাধুভাবে বাক্সটি হস্তগত করতে পারে। যে মুহুর্তে ষাড়টি চলতে শুরু করেছে সে মুহুর্তে ক বাক্সটি চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক গ-এর ভূত্য এবং সে য কর্তৃক গ-এর রেকাবের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রদত্ত হয়েছে। সে গ-এর সম্মতি ব্যতিরেকে অসাধুভাবে রেকাবটি নিয়ে ভেগে যায়। ক চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

(ঙ) গ বিদেশ যাত্রাকালে তার পেটটি সে ফিরে না আসা পর্যন্ত গুদাম ঘরের রক্ষক ক-এর জিম্মায় রেখে যায়। ক পেটটি জনৈক স্বর্ণকারের কাছে নিয়া বিক্রয় করে। এক্ষেত্রে পেটটি গ-এর দখলে বা অধিকারী ছিল না। সুতরাং উহা গ-এর অধিকারী হতে নিয়ে যাবার প্রশ্ন উঠে না। কাজে ক চুরি করে নাই যদিও সে যা করেছে তা অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হতে পারে।

(চ) গ যে ঘরে থাকে সে ঘরে টেবিলের উপর গ-এর একটি আংটি ক দেখতে পায়, এখানে আংটি গ-এর অধিকারে আছে, এবং ক উহা অসাধুভাবে স্থানান্তর করলে সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ছ) ক রাজপথের উপর একটি আংটি দেখতে পায়। আংটি কারো অধিকারে বা দখলে নাই। ক আংটিটি নিয়ে গেলে তা চুরি হবে না যদিও তা অপরাধমূলক সম্পত্তি আত্মসাৎ করে থাকে।

(জ) ক গ-এর বাড়িতে একটি টেবিলের উপর গ-এর একটি আংটি দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে আংটিটি হস্তগত করলে তল্লাশি হতে পারে ও ধরা পড়তে পারে এই ভয়ে ক তৎক্ষণাৎ আংটিটি না সরায়ে বরং উহা এমন এক স্থানে গোপন করে রাখে যেখান হতে গ-এর পক্ষে উহা খুঁজে বাহির করা এক রকম অসম্ভব হবে। গোপন করে রাখার উদ্দেশ্য এই যে, আংটিটি হারায়ে যাবার কথা যেক্ষেত্রে বিস্মৃত হয়ে যাবে সেক্ষেত্রে সে সুযোগ মত উহা গোপন স্থান হতে এনে বিক্রয় করবে। এক্ষেত্রে ক আংটিটি প্রথম নাড়াচাড়া করার সময় চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঝ) ক তার ঘড়িটি রেগুলেট করে দেওয়ার জন্য জনৈক জুয়েলার গ-এর কাছে দেয়। গ ঘড়িটি তার দোকানে নিয়ে যায়। ক-এর নিকটে জুয়েলারের এমন কোন পাওনা নাই যার জন্য জুয়েলার আইনসম্মতভাবে ক-এর ঘড়িটি জামানত হিসেবে আটক রাখতে পারে। ক প্রকাশ্যভাবে জুয়েলারের দোকানে প্রবেশ করে বলপূর্বক জুয়েলারের হাত হতে ঘড়িটি ছিনিয়ে লয় এবং উহা নিয়ে চলে যায়। এখানে ক অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ ও আক্রমণ করেছে, কেননা সে যা করেছে তা অসাধুভাবে করে নাই।

(ঞ) গ ক-এর ঘড়ি মেরামত করে এবং সে বাবদ ক-এর কাছে গ-এর কিছু পাওনা হয়। ক-এর কাছে প্রাপ্যের জামানতস্বরূপ গ ক-এর ঘড়িটি রাখে । ক তার ঋণের জামানতস্বরূপ রক্ষিত ঘড়িটি গ-এর নিকট থেকে নিয়ে যায়। ক তার ঋণের জামানতস্বরূপ রক্ষিত সম্পত্তি হতে গ-কে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে ইহা করে। ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে, কেননা সে কাজটি অসাধুভাবে করেছে।

(ট) আবার ক গ-এর কাছে তার বাড়িটি বন্ধক রেখে ঋণ গ্রহণের পর ঋণ পরিশোধ না করে গ-এর বিনা সম্মতিতে ঘড়িটি গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে, যদিও ঘড়িটি ক-এরই সম্পত্তি কেননা সে অসাধুভাবে ঘড়িটি নিয়ে গিয়েছে।

(ঠ) ক গ-এর একটি দ্রব্য গ-এর সম্মতি ছাড়া গ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। ক-এর উদ্দেশ্য গ-এর নিকট থেকে তার দ্রব্য প্রত্যপণের পুরস্কারস্বরূপ অর্থ না পাওয়া পর্যন্ত সে উহা রেখে দিবে। এখানে ক অসাধুভাবে দ্রব্যটি নিয়ে গিয়েছে; সুতরাং ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে ।

(ড) গ-এর সাথে ব-এর হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক। এই সম্পর্কের সুবাদে ক গ-এর অনুপস্থিতিতে গ-এর গ্রন্থাগারে গিয়ে গ-এর প্রকাশ্য অনুমতি ব্যতীত কেবল পড়ার উদ্দেশ্যে এবং পড়ে ফেরত দেওয়ার অভিপ্রায়ে একখানি বই নিয়ে যায়। এখানে ইহা সম্ভব যে, ক মনে করেছে যে, গ-এর এই ব্যবহার করার জন্য তার প্রতি গ-এর অব্যক্ত সম্মতি আছে। যদি ইহাই ক-এর ধারণা হয়ে থাকে, তবে ক চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

(ঢ) ক গ-এর স্ত্রীর কাছে অনুগ্রহ ভিক্ষা করে। গ-এর স্ত্রী তাকে অর্থ, খাদ্য ও কাপড় চোপড় দেয়। ক জানে যে, এসব মহিলার স্বামীর অর্থাৎ গ-এর সম্পত্তি। এখানে ইহা সম্ভব যে, ক মনে করেছে যে, গ-এর স্ত্রী ভিক্ষাদানে ক্ষমতা প্রাপ্ত। যদি ক তাই মনে করে থাকে, তবে সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

(ণ) ক গ-এর স্ত্রীর উপপতি। গ-এর স্ত্রী ক-কে মূল্যবান সম্পত্তি প্রদান করে। গ জানে যে, এই মূল্যবান সম্পত্তিটি মহিলার স্বামীর অর্থাৎ গ এর, এবং সম্পত্তিটি এমন ধরনের যে, গ তার স্ত্রীকে উহা প্রদানের ক্ষমতা প্রদান করে নাই। যদি ক সম্পত্তিটি অসাধুভাবে নিয়ে যায়, তবে তা চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ত) ক সরল মনে গ-এর সম্পত্তি তা নিজের সম্পত্তি বলে বিশ্বাস করে গ-এর দখল হতে সে সম্পত্তি নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে যেহেতু ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি নিয়ে যায় নাই, সেহেতু সে চুরি করেছে বলে পরিগণিত হবে না।

৩৭৯। চুরির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮০। বাসগৃহ ইত্যাদিতে চুরি

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন গৃহ, তাবু জলযানে চুরি করে যে গৃহ তাবু বা জলযান মানুষের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয় অথবা সম্পত্তি হেফাজতের জন্য ব্যবহৃত হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮১। কেরানী বা চাকর কর্তৃক মনিবের অীধকারভুক্ত সম্পত্তি চুরি

কোন ব্যক্তি যদি কর্মচারী বা ভূত হওয়া সত্ত্বেও অথবা কর্মচারী বা ভূত্যের কাজে নিয়োজিত হওয়া সত্ত্বেও তার প্রভুর বা মালিকের অধিকারভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮২। চুরি করিবার উদ্দেশ্যে মৃত্যু ঘটান, আঘাত দান বা আটকাইবার প্রস্তুতি নেয়ার পর চুরি অনুষ্ঠান

কোন ব্যক্তি যদি চুরি করার পূর্বে চুরি করার জন্য, অথবা চুরি করে পলায়নের জন্য অথবা অনুরূপ চুরি কর্তৃক লব্ধ সম্পত্তি রক্ষণের জন্য মৃত্যু ঘটানোর, অথবা আঘাত করার, অথবা আটকানোর অথবা মৃত্যুর ভয় সৃষ্টি করার, অথবা আঘাত করার, ভয় সৃষ্টি করার অথবা আটকানোর প্রস্তুতি গ্রহণাত্তে চুরি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেওও দণ্ডিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক, গ এর দখলভুক্ত সম্পত্তি চুরি করে । চুরি করার সময় সে পোশাকের নীচে একটি গুলি ভর্তি পিস্তল লুকিয়ে রাখে। গ বাধা দিলে তাকে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ক গুলি ভর্তি পিস্তলটি রাখে। ’ক’ এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক গ-এর পকেট মারে। পকেট মারার পূর্বে সে তার কয়েকটি সঙ্গীকে আশেপাশে মোতায়েন করে। গ যদি টের পায় যে, তার পকেট মারা হচ্ছে এবং টের পেয়ে যদি সে তা রোধ করতে চায় অথবা যদি সে ক কে আটক করার চেষ্টা করে, তবে তাকে রাখার উদ্দেশ্যে ক তার সঙ্গীদের মোতায়েন করে । ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৩৮৩। বলপূর্বক আদায়

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে তার বা অপর কারো জখম হওয়ার ভয়ে অভিভূত করে এবং তদ্বারা অনুরূপ ভয়ে অভিভূত ব্যক্তিকে কোন ব্যক্তির কাছে যেকোন প্রকার দান বা চাদা প্রদানের বা কোন সম্পত্তি, মূল্যবান জামানত বা মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য কোন স্বাক্ষরিত বা সীলমোহরযুক্ত বস্তু অপণে অসাধুভাবে বাধ্য করে, তবে সে ব্যক্তি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক, গ-কে এইরূপ ভয় দেখায় যে, গ তাকে টাকা না দিলে ক গ-এর বিরুদ্ধে মানহানির কুৎসা রটনা করবে। এইভাবে সে তাকে টাকা দিতে গ-কে বাধ্য করে । ক ‘বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়’ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক গ-কে শাসায় যে, গ ক-কে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানের অঙ্গীকারমূলে একটি প্রমিসরী নোট স্বাক্ষর ও প্রদান না করলে ক গ-এর শিশু সন্তানকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখবে। গ নোটটি স্বাক্ষর ও প্রদান করে । ক বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(গ) ক এই মর্মে গ-কে ভয় দেখায় যে গ খ-কে নির্দিষ্ট ফসল না দিলে সাজা লাভ করবে এইরূপ একটি খত লিখে খ-কে না দেয় তবে ক লাঠিয়াল পাঠায়ে গ-এর জমি চাষ করে নিবে। এইরূপ ভয় দেখাইয়া ক অনুরূপ খত স্বাক্ষর করে খ-কে দিতে গ-কে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে ক বলপ্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক গ-কে গুরুতর আঘাতের ভয়ে অভিভূত করে, অসাধুভাবে তাকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে বা উহাতে তার সীলমেহার দিয়ে তা ক-কে অর্পণ করতে বাধ্য করে। গ কাগজটি স্বাক্ষর করে ক-কে প্রদান করে। এক্ষেত্রে যেহেতু কাগজটি একটি মূল্যবান জামানতে রূপান্তরযোগ্য, সেহেতু ক বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করেছে বলে পরিগণিত হবে ।

৩৮৪। বলপূর্বক গ্রহণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮৫। বলপূর্বক কিছু আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে কোন ক্ষতির ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করার উদ্দেশ্যে কাউকে জখম করার ভয়ে অভিভূত করে অথবা জখম করার ভয়ে অভিভূত করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে কারাদণ্ডে মেয়াদ পাচ বৎসরের কম হবে না অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৩৮৬। কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয় দেখাইয়া বলপূর্বক গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার নিজের বা অন্য কারো মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৩৮৭। বলপূর্বক কিছু আদায় করার উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে মৃত্যু বা মারাত্মক জখমের ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে তার নিজের বা অন্য কারো মৃত্যুর বা গুরুতর আঘাতের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বা করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৮৮। মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড ইত্যাদিতে দন্ডনীয় অপরাধের অভিযোগের ভয় দেখাইয়া বলপূর্বক গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে তার নিজের বা অন্য করো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডে, যাবজীবন কারাদণ্ডে, দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করার বা চেষ্টা করার বা অপর কাউকে অনুরূপ অপরাধ করতে প্রবৃত্ত করার অভিযোগ উত্থাপনের ভয়ে ভীতি প্রদর্শন করে বলপ্রয়োগে সম্পত্তি আদায় করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; এবং অপরাধটি যদি এই বিধির ৩৭৭ ধারায় দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৩৮৯। বলপূর্বক কিছু গ্রহণের উদ্দেশ্যে কোন ব্যক্তিকে অপরাধে অভিযুক্ত করিবার ভয় দেখানো

কোন ব্যক্তি যদি বল প্রয়োগে সম্পত্তি আদায়ের উদ্দেশ্যে কাউকে তার নিজের বা অন্য কারো বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় বা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ করার বা উহার চেষ্টা করার অভিযোগ আনয়নের ভীতি প্রদর্শন করে বা ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; যদি অপরাধটি এই বিধির ৩৭৭ ধারায় দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৩৯০। যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলিয়া গণ্য হয়

প্রত্যেক দস্যতায় হয় চুরি, না হয় বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের অপরাধ সংঘটিত হয় ।

যেক্ষেত্রে চুরি দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When theft is robbery):-

চুরি করার উদ্দেশ্যে, অথবা চুরি করতে, কিংবা চুরিতে লব্ধ সম্পত্তি বহন বা বহনের উদ্যোগ । কালে, অপরাধকারী তদুদ্দেশ্যে ইচ্ছাপূর্বক কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় বা তাকে আঘাতদান করে তাকে অন্যায় ভাবে আটক করে বা করার উদ্যোগ করে, বা তাকে তাৎক্ষণিক মৃত্যু বা তাৎক্ষণিক আঘাত বা তাৎক্ষণিক অবৈধ আটকের ভীতি প্রদর্শন করে বা করার উদ্যোগ করে, তা হলে উক্ত চুরি হচ্ছে ‘দস্যুতা’।

বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় যেক্ষেত্রে দস্যুতা বলে পরিগণিত হবে (When extortion is robbery):-

বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়ের সময় অপরাধী- যে ব্যক্তিকে ভয়ে বিহবল করা হয়েছে, সে ব্যক্তির বা অন্য কোন ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আশু আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করে বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় করলে, এবং এইভাবে যে ব্যক্তিকে ভয়ে অভিভূত করা হয়েছে, সে ব্যক্তিকে তখন বলপূর্বক আদায়কৃত বস্তুটি অর্পণে বাধ্য করলে, বলপূর্বক সম্পত্তি আদায় ‘দস্যুতা’ বলে পরিগণিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধী অন্য ব্যক্তিকে আশু মৃত্যুর, আঘাতের বা আশু অন্যায় নিয়ন্ত্রণের ভয়ে অভিভূত করার পক্ষে যথেষ্ট নিকটে থাকলে সে হাজির বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক চ-কে জাপটিয়া ধরে চ-এর পরিধেয় কাপড়-চোপড় হতে চ-এর সম্মতি ছাড়াই চ-এর টাকা পয়সা, মণিমুক্তা অসাধুভাবে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে কচুরি করেছে, এবং এই চুরির সময় ইচ্ছাপূর্বক চ এর উপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। সুতরাং ক দস্যুতা সংঘটন করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(খ) ক রাজপথে চ-এর সাক্ষাৎ পেয়ে তাকে একটি পিস্তল দেখায় এবং তার টাকার থলি দাবি করে ফলে চ টাকার থলি সমর্পণ করে। এখানে ক চ-কে আশু আঘাতের ভয় দেখায়ে তার নিকট থেকে তার টাকার থলিটি বলপূর্বক আদায় করে, এবং বলপূর্বক আদায়কালে চ এর কাছে হাজির থাকে। সুতরাং ক দস্যুতা করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(গ) ক রাজপথে চ ও চ-এর শিশুসন্তান এর সাক্ষাৎ পায় । ক শিশু সন্তানটিকে একটি হাতে নিয়ে ভয় দেখায় যে, চ তার টাকার থলিটি না দিলে সে সন্তানটিকে একটি গভীর খাদে ফেলে দিবে। ফলে চ তার টাকার থলিটি সমপণ করে। এখানে ক শিশু সন্তানটিকে আশু আঘাত করবে বলে চ-কে ভয় দেখায় চ-এর নিকট থেকে তার টাকার থলিটি বলপূর্বক আদায় করে, শিশুসন্তানটিও অকুস্থলে উপস্থিত।সুতরাং ক দস্যুতার অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

(ঘ) ক চ-এর নিকট থেকে এই বলে সম্পত্তি আদায় করে যে, তোমার শিশুসন্তানটি আমার দলের ব্যক্তিদের হাতে রয়েছে। যদি অচিরে আমাদের কাছে দশ হাজার টাকা পাঠায়ে না দাও, তবে তোমার সন্তানকে মেরে ফেলা হবে। ইহা বলপূর্বক সম্পত্তি আদায়, এবং সে হিসাবে দণ্ডনীয়; কিন্তু ইহা দস্যুতা নয়, যদি না চ-কে তার শিশু পুত্রের আশু মৃত্যুর ভয়ে অভিভূত করা হয়।

৩৯১। ডাকাতি

যদি পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন করে বা দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটনের চেষ্টা করে, অথবা যদি কোন ক্ষেত্রে মিলিতভাবে দস্যুতা সংঘটন প্রচেষ্টারত ব্যক্তির ও অনুরূপ কার্যে বা প্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যক্তির মোট সংখ্যা পাচ বা ততোধিক হয়, তবে অনুরূপ কাজ সংঘটনকারী বা প্রচেষ্টাকারী বা সহায়তাকারী প্রত্যেক ব্যক্তি ডাকাতি করছে বলে পরিগণিত হবে।

৩৯২। দস্যুতার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুত অনুষ্ঠিত হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

৩৯৩। দস্যূতা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটনের উদ্যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৩৯৪। দস্যুবৃত্তি অনুষ্ঠানকালে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান

কোন ব্যক্তি যদি দস্যুত সংঘটনকালে বা সংঘটনের উদ্যোগকালে স্বেচ্ছাকৃতভাবে আঘাত দান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এবং অনুরূপ দস্যুত সংঘটনের সাথে বা অনুরূপ দস্যুত সংঘটনের উদ্যোগের সাথে মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট অপর যে কোন ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে বা তাদিগকে অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।

৩৯৫। ডাকাতির শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৩৯৬। খুনসহকারে ডাকাতি

যদি মিলিতভাবে ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে পাচ বা ততোধিক ব্যক্তি, যে কোন একজন অনুরূপ ডাকাতি অনুষ্ঠানকালে খুন করে, তবে তাদের প্রত্যেকে মৃত্যুদণ্ডে, অথবা যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৩৯৭। মৃত্যু বা গুরুতর আঘাত সংঘটনের উদ্যোগ সহকারে দস্যুতা বা ডাকাতি

যদি দস্যুত বা ডাকাতি সংঘটনকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করে, অথবা কাউকে গুরুতর আঘাত করার উদ্যোগ করে, তবে যে কারাদণ্ডে অনুরূপ অপরাধকারীকে দণ্ডিত করা হবে তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।

৩৯৮। মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত অবস্থায় দস্যুতা বা ডাকাতি করিবার উগ্যোগ

যদি দস্যুত বা ডাকাতি অনুষ্ঠানের উদ্যোগকালে অপরাধকারী কোন মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত থাকে, তবে অনুরূপ অপরাধকারী যে দণ্ডে দণ্ডিত হবে, তার মেয়াদ সাত বৎসরের কম হবে না।

৩৯৯। ডাকাতি অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গ্রহণ

কোন ব্যক্তি যদি ডাকাতি অনুষ্ঠানের জন্য কোনরূপ প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০০। ডাকাত দলভুক্ত হইবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাসের পরবর্তী যে কোন সময়ে কোন ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে যারা পরস্পর সংঘবদ্ধ আছে, এইরূপ কোন দলে থাকে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

401। চোরদের দলভুক্ত হইবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোন সময়ে এমন কোন ভ্ৰাম্যমান বা অপর কোনরূপ দলে থাকে, যে দলের ব্যক্তিরা বরাবর চুরি বা দস্যুতা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে পরস্পর সংঘবদ্ধ এবং যদি উহা ঠগদের বা ডাকাতদের দল না হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০২। ডাকাতি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া

কোন ব্যক্তি যদি এই আইন পাস হওয়ার পরবর্তী কোনসময়ে ডাকাতি সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমবেত পাচ বা ততোধিক ব্যক্তির অন্যতম হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪০৩। অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কোন অস্থাবর সম্পত্তি আত্মসাৎ করে অথবা উহা তার নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।


উদাহরণ

Illustration


(ক) ক চ-এর সম্পত্তি সরল মনে চ-এর দখল হতে নিয়ে যায়, এই বিশ্বাসে যে, উহা তারই সম্পত্তি । ক চুরির জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হবে না; কিন্তু যদি ক নিজের ভুল বুঝার পরেও অসাধুভাবে সম্পত্তিটি তার নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।


(খ) ক চ-এর সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুবাদে চ-এর অনুপস্থিতিতে চ-এর গ্রন্থাগারে যায় এবং চ-এর প্রকাশ্য সম্মতি ছাড়া তথা হতে একটি পুস্তক নিয়ে যায়। এই ক্ষেত্রে যদি ক মনে করে যে, তার জন্য লাইব্রেরী হতে পড়ার জন্য বই নিয়ে যেতে চ-এর অব্যক্ত সম্মতি রয়েছে, তবে ক চুরি করে নাই। কিন্তু ক যদি পরে পুস্তকটি তার নিজের স্বার্থে বিক্রয় করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ করার দায়ে অপরাধী হবে।


(গ) ক ও খ একটি অশ্বের যৌথ মালিক। ক অশ্বটি ব্যবহার করার জন্য উহা খ-এর দখল হতে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে, যেহেতু ক-এর অশ্বটি ব্যবহারের অধিকার রয়েছে সেহেতু সে উহা অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে নাই। কিন্তু যদি ক অশ্বটি বিক্রয় করে এবং বিক্রয় লব্ধ সমগ্র অর্থ নিজের কাজে ব্যবহার করে তবে সে এই ধারা অনুযায়ী অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে । 


ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- কিছু সময়ের জন্য একটি অসাধু আত্মসাৎও এই ধারা অনুযায়ী আত্মসাৎ বলে পরিগণিত হবে।


উদাহরণ

Illustration


ক চ-এর একটি সাদা গভর্নমেন্ট প্রমিসরী নোট দেখতে পায়। ক নোটটি যে চ-এর তা জানা সত্ত্বেও কোন ব্যাংক হতে ঋণের জন্য ব্যাংকারের কাছে জামানতরূপে নোটটি উপস্থাপন করে, অবশ্য তার পরে সে চ-এর নোটটি চ-কে ফেরত দিবে বলে ইচ্ছা করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধ করেছে।


ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি কারো দখলে নাই দেখতে পেয়ে সম্পত্তিটি উহার মালিকের স্বপক্ষে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে অথবা মালিককে প্রত্যপণের উদ্দেশ্যে উহা নিয়ে যায়, তবে সে অসাধুভাবে উহা নিয়ে গিয়েছে বা আত্মসাৎ করেছে বলে পরিগণিত হবে না এবং কোন অপরাধে অপরাধী হবে না; কিন্তু সে উপরে বর্ণিত অপরাধে অপরাধী হবে যদি সে সম্পত্তিটির মালিককে জানা সত্ত্বেও বা মালিককে খুঁজে বাহির করার উপায় থাকা সত্ত্বেও উহা নিজের কাজে ব্যবহার করে, অথবা যদি সে মালিককে খুঁজে বাহির করার ও তাকে বিজ্ঞাপিত করার জন্য যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম অবলম্বনের উদ্দেশ্যে যথোপযুক্ত সময় পর্যন্ত সম্পত্তিটি সংরক্ষণ না করে উহা তার নিজের কাজে ব্যবহার করে। অনুরূপ ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত মাধ্যম কি এবং যথোপযুক্ত সময় কত দীর্ঘ হবে তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন। সম্পত্তিটি প্রাপকের পক্ষে উহার যথার্থ মালিককে তা জানার বা কোন বিশেষ ব্যক্তি যে উহার মালিক তা জানার আবশ্যক নাই; যদি সে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করার সময় উহা যে তার নয় তা বিশ্বাস করে বা সরল মনে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত মালিককে খুঁজে বাহির করা সম্ভব নয়, তবে তাই যথেষ্ট হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক রাজপথের উপরে একটি টাকা পায়। সে জানে না টাকাটি কার । ক টাকাটি তুলে নেয়। এক্ষেত্রে ক এই ধারায় বর্ণিত অপরাধ করে নাই।

(খ) ক রাস্তার উপরে একটি পত্রসহ একটি ব্যাংকনোট পায়। পত্রের বিবরণ ও নির্দেশ হতে সে জানতে পায় ব্যাংকনোটটি কার। সে নোটটি আত্মসাৎ করে। সে এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।

(গ) ক একটি বেয়ারার চেক পায়। চেকটি কে হারায়েছে তা সে অনুমান করতে পারে না। কিন্তু যে ব্যক্তি চেকটি ড্র করেছেন তার নামের উল্লেখ রয়েছে। ক জানে যে, এই ব্যক্তি যার স্বপক্ষে চেকটি ড্র করেছেন ক-কে তার হদিস দিতে পারেন। ক মালিকের সন্ধানের চেষ্টা না করেই চেকটি আত্মসাৎ করে । ক এই ধারার আওতায় অপরাধের জন্য দোষী হবে।

(ঘ) ক চ কে টাকাসহ একটি থলি ফেলতে দেখে। সে থলিটি চ-কে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তুলে নেয়, কিন্তু পরে উহা নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধ করেছে।

(ঙ) ক টাকাসহ একটি থলি পায়। থলিটি কার সে তা তখন জানে না। পরে সে জানতে পায় যে, থলিটি চ-এর, কিন্তু তবু সে উহা নিজের ব্যবহারের জন্য আত্মসাৎ করে। ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে ।

(চ) ক একটি মূল্যবান আংটি পায়। উহা কার তা সে জানে না। ক আংটিটির মালিকের সন্ধানের চেষ্টা না করে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উহা বিক্রয় করে ক এই ধারার আওতায় একটি অপরাধের দায়ে অপরাধী হবে।

৪০৪। মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে তাহার দখলভুক্ত সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎকরণ

কোন ব্যক্তি যদি এমন সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ করে, বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, যে সম্পত্তি কোন মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে সে মৃত ব্যক্তির দখলে ছিল এবং অতঃপর উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী অন্য কোন ব্যক্তির দখলে যায় নাই বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি অপরাধী উপরোক্ত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুকালে তৎকর্তৃক কর্মচারী বা চাকর হিসেবে নিযুক্ত থেকে থাকে, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ

Illustration

চ-এর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার দখলে আসবাবপত্র ও টাকা পয়সা ছিল। মৃত ব্যক্তির টাকাপয়সা আইনানুগভাবে যিনি পেতে পারেন এমন কোন ব্যক্তির দখলে উহা আসার আগে মৃত ব্যক্তির চাকর ক অসাধুভাবে উহা আত্মসাৎ বা তসরূপ করে। ক এই ধারায় উল্লেখিত অপরাধ করেছে।

৪০৫। অপরাধমুলক বিশ্বাসভঙ্গ

কোন ব্যক্তি যদি কোনভাবে কোন সম্পত্তির বা সম্পত্তি পরিচালনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে, অসাধুভাবে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের ব্যবহারে প্রয়োগ করে, অথবা অনুরূপ দায়িত্ব যেভাবে নির্বাহিত হত বলে বিহিত আইনে নির্দেশ করা হয়েছে, তা খেলাফ করে সে দায়িত্ব নির্বাহ সম্পর্কে সে প্রকাশ্য বা অনুরূপ যে আইনগত চুক্তি করেছে তা খেলাফ করে সে সম্পত্তি অসাধুভাবে ব্যবহার করে, বা বিলি ব্যবস্থা করে অথবা ইচ্ছাপূর্বক অপর কোন ব্যক্তিকে তা করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ অপরাধ করেছে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক কোন মৃত ব্যক্তির দানপত্রের নির্বাহক। দানপত্রে তাকে যেভাবে সম্পত্তি বন্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা ভঙ্গ করে সে সম্পত্তি আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(খ) ক একটি গুদামের রক্ষক। চ বিদেশ যাত্রাকালে তার আসবাবপত্র ক-এর কাছে গচ্ছিত রাখে এই শর্তে যে, গুদামের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থপ্রদানের পর গুদাম হতে চ-এর আসবাবপত্র প্রত্যপণ করা হবে। ক অসাধুভাবে এই গচ্ছিত আসবাবপত্র বিক্রয় করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(গ) ঢাকার বাসিন্দা ক চট্টগ্রামের বাসিন্দা চ-এর এজেন্ট। ক ও চ-এর মধ্যে একটি স্পষ্ট বা অব্যক্ত চুক্তি এই মর্মে বিদ্যমান আছে যে, চ-এর প্রেক্ষিতে সকল টাকা ক, চ-এর নির্দেশ মত বিনিয়োগ করবে। চ ক-এর কাছে এক লক্ষ টাকা প্রেরণ করে এই টাকা কোম্পানির কাগজে লগ্নি করার নির্দেশ দেয়। ক অসাধুভাবে নির্দেশটি অমান্য করে টাকাটা নিজের ব্যবসায় খাটায়। ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(ঘ) কিন্তু যদি উপরের উদাহরণের ক অসাধুভাবে নয় বরং সরল মনে বিশ্বাস করে যে, কোম্পানীর কাগজ ক্রয়ের চেয়ে ব্যাংক অব বেঙ্গলের শেয়ার ক্রয় করাই চ এর পক্ষে সুবিধাজনক হবে বা লাভজনক হবে এবং এই বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে সে চ-এর নির্দেশ অমান্য করে চ-এর টাকা কোম্পানীর কাগজের পরিবর্তে চ-এর স্বপক্ষে ব্যাংক অব বেঙ্গলের শেয়ার ক্রয়ে বিনিয়োগ করে ও তার ফলে চ-এর লোকসান হয়, তবে যদিও চ ক-এর বিরুদ্ধে সে ব্যক্তিসানের জন্য দেওয়ানী অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে, তথাপি ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করার দায়ে অপরাধী হবে না, কেননা সে যা করেছে তা সে অসাধুভাবে করে নাই।

(ঙ) ক জনৈক রাজস্ব কর্মকর্তা। তার উপর সরকারী অর্থের ভার ন্যস্ত আছে। সে কোন আইনের নির্দেশ অনুযায়ী অথবা সরকারের সাথে ব্যক্ত বা অব্যক্ত কোন চুক্তি অনুযায়ী তার দখলে থাকা সরকারী অর্থ কোন নির্দিষ্ট ট্রেজারীতে জমা দিতে বাধ্য। ক অসাধুভাবে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

(চ) ক জনৈক বাহক। চ তাকে (চ-এর) সম্পত্তি স্থলপথে বা জলপথে বহন করে নেওয়ার জন্য দেয়। ক অসাধুভাবে সম্পত্তিটি আত্মসাৎ করে । ক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করেছে।

৪০৬। অপরাধমূল বিশ্বাসভঙ্গের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪০৭। বাহক প্রভৃতি কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ

কোন ব্যক্তি বাহক, ঘাটের রক্ষক বা গুদামের রক্ষক হিসেবে সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে অনুরূপ সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করলে, উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডনীয় হবে।

৪০৮। কেরানী বা চাকর কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকরণ

কোন ব্যক্তি যদি কেরানি বা ভৃত্য হয়ে অথবা কেরানি বা ভৃত্য হিসেবে নিয়োজিত হয়ে অনুরূপ পদে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার বা উহ পরিচালনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি হিসেবে উহা সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪০৯। সরকারী কর্মচারী বা ব্যাংকার, বণিক বা প্রতিভূ কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গকরণ

কোন ব্যক্তি যদি সরকারী কর্মচারী হিসেবে তার পদমর্যাদা বলে অথবা ব্যাংকার, ব্যবসায়, ফ্যাক্টর, দালাল, এটর্নী বা প্রতিনিধি হিসেবে ব্যবসায় সূত্রে কোনভাবে কোন সম্পত্তির জিম্মাদার হয়ে বা উক্ত সম্পত্তির পরিচালনের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১০। চোরাইমাল

চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার কর্তৃক যে সম্পত্তি হস্তান্তরিত হয়েছে বা যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ হয়েছে বা যে সম্পত্তি সম্পর্কে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ হয়েছে সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি" বলে। অনুরূপ হস্তান্তর অথবা আত্মসাৎ বা বিশ্বাস ভঙ্গ বাংলাদেশের মধ্যে বা বাহিরে যেখানে সাধিত বা সংঘটিত হোক না কেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি’ বলে উহা আইনানুগভাবে দখলের অধিকারী ব্যক্তির দখলে আসে, তবে আর উহা চোরাই সম্পত্তি থাকে না।

৪১১। অসাধুভাবে চোরাইমাল গ্রহণ করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানা সত্ত্বেও, বা উহা চোরাই সম্পত্তি বলে তার বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে অনুরূপ চোরাই সম্পত্তি গ্রহণ করে বা রেখে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১২। ডাকাতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অপহৃত মাল অসাধুভাবে গ্রহণ করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি এমন কোন ব্যক্তির নিকট থেকে রাখে, যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা উহা চোরাই বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে এবং সে ব্যক্তি কোন ডাকাত দলে রয়েছে, অথবা এমন কোন সম্পত্তি এমন কোন ব্যক্তির নিকট থেকে রাখে যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা উহা চোরাই বলে তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে এবং সে ব্যক্তি কোন ডাকাত দলে রয়েছে বা ছিল বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১৩। অভ্যাসগতভাবে চোরাইমাল বেচাকেনা করা

কোন ব্যক্তি যদি যে সম্পত্তি চোরাই বলে সে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে, অভ্যাসগতভাবে বরাবর সে সম্পত্তির বেচাকেনা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডনীয় হবে।

৪১৪। চোরাইমাল গোপন করিবার ব্যাপারে সহায়তাকরণ

কোন ব্যক্তি যদি সে যে সম্পত্তি চোরাই সম্পত্তি বলে জানে বা তার বিশ্বাস করার কারণ রয়েছে সে সম্পত্তি লুকিয়ে রাখতে বা বিলিব্যবস্থা করতে বা নিয়ে সরে পড়তে স্বেচ্ছায় সহায়তা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১৫। প্রতারণা

যদি কেউ কোন ব্যক্তিকে ছলনা করে প্রবঞ্চনামূলকভাবে বা অসাধুভাবে সে ব্যক্তিকে অন্য কাউকে কোন সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি রেখে দেওয়াতে সম্পত্তি প্রদানে প্ররোচিত করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে বা উদ্দেশ্যমূলকভাবে অনুরূপ প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন কাজ করতে বা করা হতে বিরত থাকতে প্ররোচিত করে যে কাজ সে ব্যক্তি অনুরূপভাবে প্রতারিত না হলে করত না বা করা হতে বিরত থাকত না এবং যে কাজ করার বা করা হতে বিরত থাকার ফলে তার দেহের, মনের খ্যাতির বা সম্পত্তির দিক হতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, তবে অনুরূপ ছলনাকারী প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explnation):- অসাধুভাবে তথ্য গোপন করা এই ধারার তাৎপর্যাধীনে ছলনা বলে পরিগণিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক সিভিল সার্ভিসে রয়েছে বলে মিথ্যা ভান করে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে বঞ্চনা করে এবং তাকে ধারে সম্পত্তি দিতে চ-কে অসাধুভাবে প্ররোচিত করে। অথচ এই সম্পত্তির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(খ) কোন পণ্যের উপর কোন নকল মার্ক দিয়ে ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলক এইরূপ বিশ্বাস করায় যে, পণ্যটি কোন প্রসিদ্ধ প্রস্তুতকারকের তৈরি। এইভাবে ক চ-কে সে পণ্যটি ক্রয় করতে ও উহার জন্য মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।

(গ) ক চ-কে কোন দ্রব্যের একটি মিথ্যা নমুনা দেখায়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনামূলকভাবে এইরূপ বিশ্বাস করায় যে দ্রব্যটি নমুনার অনুরূপ। এইভাবে সে অসাধুভাবে চ-কে সে দ্রব্যটি ক্রয় করতে ও উহার মূল্য প্রদান করতে প্ররোচিত করে। ক প্রতারণা করেছে।

(ঘ) ক কোন দ্রব্যের মূল্যস্বরূপ এমন কোন সংস্থার নামে একটি বিল দেয় যেখানে সে টাকা রাখে এবং ক জানে যে বিলটি প্রত্যাখ্যাত হবে। এইভাবে সে চ-কে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রবঞ্চনায় ফেলে তাকে অসাধুভাবে দ্রব্যটি প্রদানে প্ররোচিত করে। দ্রব্যটির মূল্য প্রদানের ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(ঙ) ক যেসব দ্রব্য হীরা নয় বলে জানে সে সব দ্রব্যকে হীরা বলে বর্ণনা দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে এবং এইভাবে অসাধু উপায়ে চ-কে টাকা ধার দিতে প্ররোচিত করে । ক প্রতারণা করেছে।

(চ) ক প্রবঞ্চনামূলকভাবে চ-কে বিশ্বাস করায় যে চ- তাকে টাকা ধার দিলে সে তা পরিশোধ করে দিবে এবং এইভাবে অসাধু উপায়ে সে চ-কে টাকা ধার দিতে প্ররোচিত করে অথচ টাকাটা পরিশোধ করে দেওয়ার ইচ্ছা তার নাই। ক প্রতারণা করেছে।

(ছ) ক ইচ্ছাকৃতভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে বিশ্বাস করায় যে, ক চ-কে কিছু নীলের চারা দিতে চায় কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে তার এইরূপ কোন ইচ্ছা নাই। এইরূপ প্রবঞ্চনা করে সে অসাধুভাবে চ-কে আগাম দিতে প্ররোচিত করে এবং চ-এই বিশ্বাসে টাকা আগাম দেয় যে, ক তাকে নীলের চারা দিবে। ক প্রতারণা করেছে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, টাকাটা নেওয়ার সময় নীলের চারা নেওয়ার ইচ্ছা ক-এর ছিল, কিন্তু পরে সে চুক্তি ভঙ্গ করে এবং নীলের চারা না দেয়, তবে সে প্রতারণা করে নাই, তার বিরুদ্ধে কেবল চুক্তি ভঙ্গের জন্য দেওয়ানী অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে।

(জ) ক উদ্দেশ্যমূলকভাবে চ-কে প্রবঞ্চনা করে বিশ্বাস করায় যে চ-এর সাথে ক-এর চুক্তি রয়েছে ক উহাতে ক-এর অংশ সম্পাদন করেছে। কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে ক তা করে নাই। এইরূপ প্রবঞ্চনা করে কচ-এর টাকা দিতে প্ররোচিত করে । ক প্রতারণা করেছে।

(ঝ) ক একটি সম্পত্তি খ-এর কাছে বিক্রয় করে ও খ-কে তা প্রদান করে । ক জানে যে অনুরূপ বিক্রয়ের ফলে সে সম্পত্তিতে তার আর কোন স্বত্ব নাই; কিন্তু কথাটি প্রকাশ না করে সম্পত্তিটি চ-এর কাছে বিক্রয় করে বা বন্ধক রাখে এবং সে বাবদ চ-এর নিকট থেকে ক্রয় মূল্যস্বরূপ বা বন্ধকের জন্য টাকা গ্রহণ করে। ক প্রতারণা করেছে।

৪১৬। অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা

কোন ব্যক্তি যদি নিজেকে অন্য কোন ব্যক্তি বলে প্রতারণা করে অথবা জ্ঞাতসারে কোন ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে অথবা নিজেকে বা অন্য কোন ব্যক্তিকে সে নিজে বা সে ব্যক্তি অন্য যে ব্যক্তি নয় সে ব্যক্তি বলে চালিয়ে প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে বলে গণ্য হয়।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যে ব্যক্তির রূপ ধারণ করা হয়েছে সে ব্যক্তি প্রকৃত ব্যক্তি হোক আর কাল্পনিক ব্যক্তি হোক না কেন অপরাধটি অনুষ্ঠিত হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একই নামে একজন বিত্তশালী ব্যাংকার বলে নিজেকে পরিচয় দান করে। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে।

(খ) ক নিজেকে খ বলে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে; খ জনৈক মৃত ব্যক্তি। ক অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করেছে

৪১৭। প্রতারণার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪১৮। অপরাধকারী যে ব্যক্তির স্বার্থ রক্ষা করিতে বাধ্য, সেই ব্যক্তির কোন অন্যায় ক্ষতি সাধিত হইতে পারে এইরূপ অবগতি মতে প্রতারণা

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন ব্যক্তির অন্যায় লোকসান হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও প্রতারণা করে যার স্বার্থে যে কার্যটিতে প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে সে কাজের ক্ষেত্রে রক্ষা করতে সে আইন বলে বা কোন আইনগত চুক্তি অনুসারে বাধ্য- তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪১৯। অপরের রূপ ধারণপূর্বক প্রতারণা করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরের রূপ ধারণ করে প্রতারণা করে, তবে উক্ত লোক তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২০। প্রতারণা ও সম্পত্তি সমর্পণ করিবার জন্য অসাধুভাবে প্রবৃত্ত করা

কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণা করে এবং প্রতারিত ব্যক্তিকে অসাধুভাবে অপর কোন ব্যক্তিকে কোন সম্পত্তি অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন, পরিবর্তন বা বিনাশ সাধনে প্রবৃত্ত করে অথবা অসাধুভাবে প্রতারিত ব্যক্তিকে এমন কোন স্বাক্ষরিত বা সীল মোহরযুক্ত বস্তুর সমুদয় অংশ বা অংশবিশেষ প্রণয়ন পরিবর্তন বা বিনাশ সাধনে প্রবৃত্ত করে যা মূল্যবান জামানতে রূপান্ত রযোগ্য, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রমের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেওও দণ্ডিত হবে।

৪২১। পাওনাদারগণের মধ্যে বন্টন নিবারণার্থ অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে বা সম্পত্তি অপসারণ বা গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোন সম্পত্তি অপসারণ করে, লুকিয়ে রাখে, বা কোন ব্যক্তিকে প্রদান করে, বা যথোপযুক্ত মূল্য গ্রহণ ব্যতীত হস্তান্তর করে বা হস্তান্তর করায় এবং ইহার উদ্দেশ্য হয় বা ইহার ফলে এই উদ্দেশ্য সাধিত হতে পারে বলে জানে যে, তার বা অপর কারো পাওনাদারদের মধ্যে আইনানুসারে সে সম্পত্তির বন্টন নিরোধ করা যেতে পারে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪২২। পাওনাদারগণের ঋণ ফেরত পাইবার ব্যাপারে অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে বাধাদান করা

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে তার অথবা অন্য কোন ব্যক্তির প্রাপ্য ঋণ বা দাবি আইনানুসারে আদায় করে তার ঋণ বা সে অন্য ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে উহা প্রদানের জন্য উহার আদায় প্রতিরোধ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৩। মূল্যের অসত্য বর্ণনা সম্বলিত হস্তান্তর দলিলের অসাধু বা প্রতারণামূলক সম্পাদন

কোন ব্যাক্তি যদি অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে কোন দলিলে স্বাক্ষরদান করে বা উহা সম্পাদন করে, বা উহাতে অন্যতম পক্ষ হয়, যে দলিলে কোন সম্পত্তি বা সে সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট স্বার্থ হস্তান্তরের বা দায়যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, এবং সে দলিলে অনুরূপ হস্তান্তরের বা দায়যুক্তকরণের মূল্য সম্পর্কে অথবা বাস্তবিকভাবে যে ব্যক্তির বা যে ব্যক্তিদের ব্যবহারের বা সুবিধার জন্য উহা বলবৎ হবে, সে ব্যক্তির বা সে ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোন মিথ্যা উক্তি বা বিবরণ আছে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৪। অসাধুভাবে বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপনকরণ

কোন ব্যক্তি যদি অসাধুভাবে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে তার নিজের বা অন্য কোন ব্যক্তির কোন সম্পত্তি লুকিয়ে রাখে কিংবা অপসারণ করে অথবা অসাধুভাবে কিংবা প্রতারণামূলকভাবে উহার অপসারণের কিংবা গোপনকরণে সহায়তা করে, অথবা যাতে সে অধিকার এমন কোন দাবি-দাওয়া অসাধুভাবে ত্যাগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৫। অনিষ্ট

কোন ব্যক্তি যদি জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করার উদ্দেশ্যে, অথবা সে জনসাধারণের বা কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা অনিষ্ট করতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও কোন সম্পত্তি ধ্বংস বা বিনষ্ট করে, অথবা কোন সম্পত্তিতে বা উহার অবস্থানে এমন কোন পরিবর্তন সাধন করে, যার ফলে উহার মূল্য বা আবশ্যকীয়তা বিনষ্ট হয় বাহ্রাস প্রাপ্ত হয়, বা উহা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘ক্ষতি’ সাধন করেছে বলে গণ্য হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- ক্ষতি অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য অপরাধীর ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা বিনষ্ট সম্পত্তির মালিকের ক্ষতি বা লোকসান করার ইচ্ছা থাকা প্রয়োজন নয়। কোন সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করে কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের উদ্দেশ্য থাকলে অথবা সম্পত্তির অনুরূপ ক্ষতিসাধন কর্তৃক কোন ব্যক্তির অন্যায় ক্ষতি বা ব্যক্তিসানের আশঙ্কা রয়েছে জানা সত্ত্বেও সম্পত্তিটির ক্ষতিসাধন করলে অপরাধটি সংঘটিত হবে, যে সম্পত্তিটির অনুরূপ ক্ষতিসাধন করা হল, সে সম্পত্তিটি অনুরূপে অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির সম্পত্তি হোক আর নাই হোক ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যে ব্যক্তি কাজ সংঘটন করল সে ব্যক্তির নিজের বা মিলিতভাবে সে ব্যক্তির ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে অনুষ্ঠিত কাজ কর্তৃক ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে চ-এর একটি মূল্যবান জামানত ইচ্ছাপূর্বক পুড়ে ফেলে। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(খ) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে চ-এর বরফ-ঘরে পানি দেয় এবং তার ফলে বরফ গলে যায় । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(গ) ক অন্যায়ভাবে চ-এর ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে চ-এর একটি আংটি নদীতে ছুড়ে ফেলে দেয়। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(ঘ) ক তার নিকট থেকে প্রাপ্য চ-এর ঋণ পরিশোধের জন্য তার সম্পত্তি ক্রোক করা হবে জানতে পারে সে সম্পত্তি ধ্বংস করে। তার উদ্দেশ্য এই যে, ইহার ফলে তার প্রাপ্য সাদায় করতে পারে না। অতএব চ-এর ক্ষতি হবে। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(ঙ) ক একটি জাহাজ বীমা করে স্বেচ্ছাকৃতভাবে জাহাজটিকে ভেসে যেতে দেয়, যাতে অনুলেখকদের ক্ষাত হয় । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(চ) চ একটি জাহাজের জন্য "ণদান করেছে। চ-কে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ক স্বেচ্ছাকৃতভাবে জাহাজটিকে ভাসায়ে দেয়। ক মতি সাধন করেছে।

(ছ) ক ও চ যৌথভাবে একটি ঘোড়ার মালিক। ম-এর অন্যায় ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ক ঘোড়াটিকে গুলিবিদ্ধ করে । ক ক্ষতি সাধন করেছে।

(জ) চ-এর শস্যের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এবং চ-এর শস্যের ক্ষতি হতে পারে জেনেও ক চ-এর মালিকানাধীন একটি জমিতে গবাদি পশু প্রবেশ করায়। ক ক্ষতি সাধন করেছে।

৪২৬। অনিষ্টের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিনমাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৭। পঞ্চাশ টাকা পরিমাণ ক্ষতি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি ক্ষতি সাধন করে এবং তদ্বারা পঞ্চাশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব পরিমাণ অর্থের অনিষ্ট করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪২৮। দশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু হত্যা বা বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি দশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের কোন একটি বা একাধিক প্রাণী হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে ।

৪২৯। যেকোন মূল্যের গবাদিপশু ইত্যাদি বা পঞ্চাশ টাকা মূল্যের কোন জন্তু বিকলাঙ্গ করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি যে কোন মূল্যের হাতি, উট, ঘোড়া, খচ্চর, মহিষ, ষাড়, গাভী বা গরু, অথবা পঞ্চাশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের অপর কোন পশুকে হত্যা করে, বিষ প্রয়োগ করে, বিকলাঙ্গ করে বা অকেজো করে ক্ষতি সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩০। কৃষি, সেচ, পূর্ত কার্যের ক্ষতি করিয়া বা অবৈধভাবে পানির স্রোতের গতি পরিবর্তন করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, যার ফলে কৃষির উদ্দেশ্যে, অথবা মানুষের খাদ্য বা পানীয়ের উদ্দেশ্যে অথবা যে পশু মানুষের সম্পদ সে পশু খাদ্য বা পানীয়ের উদ্দেশ্যে অথবা বিচ্ছিন্নতার উদ্দেশ্যে বা কোন কারখানা পরিচালনার উদ্দেশ্যে পানির সরবরাহ হাসপ্রাপ্ত হয় বা হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩১। সরকারী রাস্তা, পুল, নদী বা খালের ক্ষতি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে যার ফলে কোন সরকারী সড়ক, সেতু, নাব্য নদী কিংবা প্রাকৃতিক বা কৃত্রিম নাব্য খাল অনতিক্রম্য অথবা ভ্রমণের পক্ষে বা সম্পত্তি পারাপারের পক্ষে কম নিরাপদ হয় বা হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩২। ক্ষতিসহকারে সরকারী পয়ঃপ্রণালীর প্লাবন, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, যার ফলে কোন সরকারী পয়ঃপ্রণালীতে বা জন নিষ্কাশনীতে পাবন বা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়ে ক্ষতি হয় বা ক্ষতি হতে পারে বলে সে জানে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৩। কোন বাতিঘর বা সমুদ্র-চিহ্ন ধ্বংস, স্থানান্তরিত বা অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর পরিণত করিয়া অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি সমুদ্র চিহ্নরূপে ব্যবহৃত কোন বাতিঘর অথবা অন্য কোন বাতি অথবা নাবিকগণের পথপ্রদর্শকরূপে স্থাপিত যেকোন সমুদ্র-চিহ্ন বয়া বা অন্য কিছু বিনষ্ট বা স্থানান্তরিত করে বা অন্য কোন কার্যের সাহায্যে অনুরূপ কোন বাতিঘর, সমুদ্র-চিহ্ন, বয়া বা উপরোক্তরূপ অপর কোন বস্তু নাগরিকদের পথ-নির্দেশক হিসেবে অপেক্ষাকৃত কম ব্যবহারোপযোগী হয়ে যায়, এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৪। সরকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দিষ্টকৃত সীমা নির্দেশ চিহন ধ্বংস বা স্থানান্তর ইত্যাদির মাধ্যমে অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন সরকারী কর্মচারীর ক্ষমতা বলে স্থাপিত কোন সংকেত বিনষ্ট বা স্থানান্তর করে, অথবা যাতে অনুরূপ কোন ভূংকেত কম ব্যবহারোপযোগী হয়ে যায় এমন কোন কাজ করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৩৫। একশত টাকা বা কৃষিজ ফসলের ক্ষেত্রে দশ টাকা পরিমাণ ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে অগ্নি বা কোন বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে অনিষ্ট সাধন

কোন ব্যক্তি যদি একশত টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের অথবা যেক্ষেত্রে সম্পত্তিটি হচ্ছে কৃষিজ পণ্য সেক্ষেত্রে দশ টাকা বা তদূৰ্ব্ব মূল্যের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে বা তদ্বারা সে সম্পত্তির ক্ষতিসাধন করতে পারে জানা সত্ত্বেও অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৬। দালান ইত্যাদি ধ্বংষ করিবার অভিপ্রায়ে অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে অনিষ্ট সাধন করা

যদি কোন লোক সচরাচর উপাসনালয় হিসাবে র্যবহৃত অথবা মানুষের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত অথবা সম্পত্তির হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহ ধ্বংস করার অভিপ্রায়ে বা তদ্বারা সে উহা ধ্বংস করতে পারে জানা সত্ত্বেও অগ্নি বা অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৭। পাটাতনবিশিষ্ট জাহাজ বা বিশ টন পরিমাণ ভারবাহ কোন জাহাজ ধ্বংস করা বা বিপজ্জনকরূপে পরিণত করিবার অভিপ্রায়ে অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি পাটাতনবিশিষ্ট জলযান অথবা কুড়ি টন বা তদূর্ধ্ব ওজনের বোঝাবিশিষ্ট কোন জলযান ধ্বংস করার বা উহাকে বিপজ্জনক করে দেওয়ার অভিপ্রায়ে বা সে তদ্বারা উহাকে ধ্বংস করতে বা বিপদজনক করে দিতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও অনুরূপ পাটাতনবিশিষ্ট জলযানের অথবা কুড়িটন বা তদূর্ধ্ব ওজনের কোন জলযানের অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৩৮। অগ্নি বা বিস্ফোরক দ্রব্যের সাহায্যে ৪৩৭ ধারায় বর্ণিত অনিষ্ট সাদনের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি উপযুক্ত ৪৩৭ ধারায় উল্লেখিত অনিষ্ট সাধনের অপরাধটি অগ্নি কর্তৃক বা বিস্ফোরক দ্রব্য কর্তৃক সংঘটিত করে বা করার উদ্যোগ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদেণ্ডও দণ্ডিত হবে।

৪৩৯। চুরি ইত্যাদি অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে কোন জাহাজ জলমগ্ন, চড়া বা কুলের দিকে ধাবিত করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন জাহাজে অবস্থিত সম্পত্তি অপহরণের জন্য অথবা অনুরূপ কোন সম্পত্তি অসাধুভাবে আত্মসাৎ বা তসরূপ করতে পারে যাতে তদুদ্দেশ্যে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোন জলযান জলমগ্ন, চরা বা কূলের দিকে ধাবিত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৪০। মৃত্যু বা আঘাত ঘটাইবার প্রসত্তুতি গ্রহণের পর অনিষ্ট সাধন করা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটানোর অথবা আঘাত করার অথবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণের পর অথবা মৃত্যু ঘটানোর বা আঘাত করার বা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের ভীতিসঞ্চার করে অনিষ্ট সাধন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৪১। : অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দখলভুক্ত সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশ করে এবং কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের বা অনুরূপ সম্পত্তি দখলকারী ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অনুরূপ প্রবেশ করে,

অথবা, আইনানুগভাবে অনুরূপ সম্পত্তির মধ্যে বা উপরে প্রবেশের পর বেআইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে এবং অনুরূপ ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শনের, অপমান করার বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে অনুরূপ বে-আইনীভাবে সেখানে অবস্থান করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ’অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করেছে বলে পরিগণিত হবে।

৪৪২। অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি মানুষের আবাসস্থল হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে, তাবুতে বা জলযানে অথবা উপাসনালয় হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে অথবা সম্পত্তি হেফাজতের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত কোন গৃহে প্রবেশ করে বা সেখানে অবস্থান করে অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ সংঘটন করে, তবে উক্ত ব্যক্তি ‘অনধিকার গৃহে প্রবেশ’ অপরাধটি করেছে বলে গণ্য হয় ।

ব্যাখ্যা (Explanation):- অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশকারীর দেহের কোন অংশের প্রবেশই গৃহে অনধিকার প্রবেশ অপরাধ প্রতিদানের পক্ষে যথেষ্ট।

৪৪৩। সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অনধিকার গৃহে প্রবেশ করে এবং যে গৃহে, তাবুতে বা জলযানে সে অনধিকার প্রবেশ করেছে, সে গৃহে, তাঁবুতে বা জলযানে অনধিকার প্রবেশকারীকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অধিকার যার রয়েছে তার নিকট থেকে অনুরূপ অনধিকার প্রবেশের বিষয়টি গোপন রাখার ব্যবস্থা করে যদি উক্ত ব্যক্তি অনুরূপ গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ অপরাধ করেছে বলে পরিগণিত হয়।

৪৪৪। রাত্রিবেলায় সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি রাত্রিকালে সঙ্গোপনে অনধিকার গৃহে প্রবেশ অপরাধ করেছে বলে গণ্য হয়।

৪৪৫। অপথে গৃহপ্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি গৃহে বা গৃহের কোন অংশে অনধিকার প্রবেশ এবং অনুরূপ অনধিকার প্রবেশ নিম্ববর্ণিত ছয়টি উপায়ের যে কোন উপায়ে করে, অথবা কোন অপরাধ অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে গৃহ বা গৃহের কোন অংশে থাকার পর কিংবা গৃহে বা গৃহের কোন অংশে অপরাধটি করার পর, নিম্নোক্ত ছয়টি উপায়ের যে কোন উপায়ে সে গৃহে বা গৃহের কোন অংশ হতে নিষ্ক্রমণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি, অপথে গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হয়, যথা:-

প্রথমত (Firstly):- যদি সে এমন একটি পথে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়, যে পথটি গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার জন্য সে নিজে বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করতে সাহায্যকারী অন্য কেউ তৈরি করেছে।

দ্বিতীয়ত (Secondly):- যদি সে এমন কোন পথে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়, যে পথটি সে নিজে বা তার সাহায্যকারী অন্য কোন ব্যক্তি ব্যতীত অপর কোন মানুষের প্রবেশের জন্য তৈরি করে নাই, অথবা যদি সে এমন কোন পথে পবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয় যে পথ সে কোন দেওয়াল বা গৃহ টপকায়ে লাভ করেছে।

তৃতীয়ত (Thirdly):- যদি সে এমন কোন পথে প্রবেশ করে বা বাহির হয়ে আসে যে পথটি সে বা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করতে সাহায্যকারী অন্য কেউ এমন পদ্ধতিতে উন্মুক্ত করেছে, যে পদ্ধতিতে পথটি উন্মুক্ত করা গৃহের মালিকের উদ্দেশ্য ছিল না।

চতুর্থত (Fourthly):- যদি সে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার জন্য, অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ করার পর বাহির হয়ে যাবার জন্য, কোন তালা খুলে প্রবেশ করে বা নিষ্ক্রান্ত হয়।

পঞ্চমত (Fifthly):- যদি সে অপরাধমূলক বল প্রয়োগ করে বা আঘাত করে বা কোন ব্যক্তিকে আঘাত করার হুমকি প্রদর্শন করে প্রবেশ বা নিষ্ক্রমণ করে।

ষষ্ঠত (Sixthly):- যদি সে স্বয়ং তৎকর্তৃক অথবা গৃহে অনধিকার প্রবেশ অনুষ্ঠানের কোন সাহায্যকারী দ্বারা উন্মুক্ত এমন কোন পথে ঢোকে বা বাহির হয়, যা অনুরূপ প্রবেশ বা নিষ্ক্রমণের বিরুদ্ধে বন্ধ করে রাখা হয়েছে বলে সে জানে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- কোন বহির্বাটি বা বাড়ির সাথে দখলকৃত গৃহ এবং বাড়ি ও অনুরূপ বহির্বাটি বা গৃহের মধ্যবর্তী অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পথ এই ধারার অর্থ অনুসারে বাড়ির অংশবিশেষ।

উদাহরণসমূহ – Illustrations 

(ক) ক চ-এর বাড়ির দেওয়াল ছিদ্র করে সে ছিদ্রে হাত রেখে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(খ) ক একটি জাহাজে দুই ডেকের মধ্যবর্তী পোর্ট-হোলের মধ্যে গুড়ি মেরে ঢুকে অনধিকার প্রবেশ করেছে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(গ) ক চ-এর বাড়ির জানালা দিয়ে বাড়িতে ঢুকে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করেছে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(ঘ) ক চ-এর গৃহের অর্গল বদ্ধ দরজা খুলে গুটিতে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ ।

(ঙ) ক চ-এর বাড়ির বন্ধ দরজার ছিদ্র দিয়ে একটি তার ঢুকায়ে উহার সহায়তায় অর্গল খুলে দরজাটি উন্মুক্ত করে এবং অতঃপর অনুরূপে উন্মুক্ত দরজা দিয়ে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে। ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

(চ) চ তার গৃহের দরজার চাবি হারিয়েছে। ক সে চাবিটি পেয়ে তদ্বারা চ-এর গৃহের দরজা খুলে চ-এর গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, ইহা অপথে গৃহে প্রবেশ।

৪৪৬। রাত্রিকালে সিঁধ কাটিয়া বা দরজা-জানালা ভাঙ্গিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে সিধ কেটে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে তবে উক্ত ব্যক্তি রাত্রিকালে অপথে গৃহে প্রবেশ করেছে বলে গণ্য হয়।

৪৪৭। অপরাধজনক অনধিকার প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি অপরাধমূলক অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন মাস পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৪৮। গৃহে অনধিকার প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা এক হাজার টাকা পর্যন্ত যে কোন পরিমাণ অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৪৯। মৃত্যুদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা অনধিক দশ বৎসর মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫০। যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি যাবজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি অনধিক দশ বৎসর মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫১। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে; এবং যে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল তা যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ সাত বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।

৪৫২। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে গৃহে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত বা আক্রমণ করার বা কাউকে অবৈধভাবে আটক করার বা কাউকে আঘাতের, আক্রমণের বা অবৈধ আটকের ভীতিতে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে ।

৪৫৩। সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি সঙ্গোপনে গৃহে অনিধকার প্রবেশ করে কিংবা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৪। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ অথবা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে এবং যে অপরাধটি সংঘটনের উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল সে অপরাধটি যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ দশ বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে।

৪৫৫। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ বা অন্যায়ভাবে আটকের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত করার বা আক্রমণ করার বা কাউকে অন্যায়ভাবে আটক করার বা কাউকে আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায় আটকের ভয়ে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৬। রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ করিবার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে বা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে রাত্রে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৭। কারাদন্ডে দন্ডনীয় অপরাধ করিবার উদ্দেশ্যে রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে রাত্রে অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে অনধিকার প্রবেশ করে; তবে উক্ত ব্যক্তি পাচ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; এবং যে অপরাধটি করার উদ্দেশ্যে গৃহে প্রবেশ করা হয়েছিল সে অপরাধটি যদি চুরি হয়, তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত বর্ধিত করা যাবে।

৪৫৮। আঘাত, আক্রমণ কিংবা অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রস্তুতি গ্রহণান্তে রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি কাউকে আঘাত করার অথবা কাউকে অন্যায়ভাবে আটক করার, বা কাউকে আঘাত, আক্রমণ বা অন্যায় আটকের ভয়ে অভিভূত করার প্রস্তুতি গ্রহণান্তে রাত্রে অপথে বা দরজা-জানালা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৫৯। সঙ্গোপনে অনধিকার প্রবেশকালে বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশকালে মারাত্মকভাবে আহত করা

কোন ব্যক্তি যদি সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশকালে অথবা অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশকালে কাউকে গুরুতরভাবে আঘাত করে অথবা কারো মৃত্যু ঘটানো বা গুরুতর আঘাত প্রদানের চেষ্টা করে, তবে উক্ত ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬০। রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা সিঁধ কাটিয়া গৃহে প্রবেশের সহিত সম্মিলিতভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কোন একজন কাহারও মৃত্যু বা মারাত্মক আঘাত ঘটাইলে সকলেই দন্ডনীয় হইবে

যদি রাত্রে সঙ্গোপনে গৃহে অনধিকার প্রবেশকালে বা রাত্রে অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশকালে, অনুরূপ অপরাধে অপরাধী কোন ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কারো মৃত্যু ঘটায় বা তাকে গুরুতর আঘাত প্রদান করে অথবা মৃত্যু ঘটানোর বা গুরুতর আঘাত প্রদানের চেষ্টা করে, তবে এইরূপ রাত্রে গৃহে অনধিকার প্রবেশ বা রাত্রে অপথে বা দরজা ভেঙ্গে গৃহে প্রবেশের সাথে সম্মিলিতভাবে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তি যাবজীবন কারাদণ্ডে, অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

৪৬১। অসাধুভাবে সম্পত্তি সম্বলিত আধার ভাঙ্গিয়া উম্মুক্ত করা

কোন ব্যক্তি যদি সম্পত্তি ধারণকারী কোন বদ্ধপাত্র বা যে বদ্ধপাত্রে সম্পত্তি আছে বলে তার বিশ্বাস, সে বদ্ধপাত্র অসাধুভাবে কিংবা ক্ষতি সাধনের উদ্দেশ্যে ভেঙ্গে উম্মুক্ত  করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৬২। হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক উক্ত অপরাধ সংঘটিত হইল তাহার শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন সম্পত্তি সম্বলিত বদ্ধপাত্রের অথবা যে বদ্ধপাত্রে সম্পত্তি আছে বলে তার বিশ্বাস, সে বপদ্ধপাত্রের রক্ষণাবেক্ষণের ভারপ্রাপ্ত হয়ে সে বদ্ধপাত্র উন্মুক্ত করার ক্ষমতা তার না থাকা সত্ত্বেও অসাধুভাবে কিংবা ক্ষতি করার অভিপ্রায়ে সে বদ্ধপাত্র ভেঙ্গে ফেলে বা বন্ধনমুক্ত করে, তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

৪৬২ক। ব্যাংক অফিসার কর্মচারীদের অবহেলাজনক আচরণের শাস্তি

কোন ব্যক্তি যদি কোন ব্যাংকিং কোম্পানীর অফিসার কিংবা কর্মচারী হয়ে ব্যাংকিং লেনদেনের সময় তার অবেহলামূলক আচরণের কর্তৃক কোম্পানীর কোন গ্রাহকের বা অপর কোন ব্যক্তিকে কোম্পানীর সম্পত্তির ক্ষতি করতে দেয়, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর মেয়াদের যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে কিংবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে আইনের সে নির্দেশ কোন ব্যাংকিং কোম্পানির অফিসার বা কর্মচারী ইচ্ছাকৃতভাবে বা উপেক্ষাজনিত অবহেলার কারণে পালন করতে ব্যর্থ হলে, উক্ত ব্যক্তি অবহেলামূলক আচরণের দায়ে অপরাধী হবে।

৪৬২খ। ব্যাংকিং কোম্পানীকে প্রতারণা করিবার শাস্তি

ব্যাংকিং লেনদেনের সময় কোন ব্যক্তি যদি প্রতারণামূলকভাবে ব্যাংকিং কোম্পানির নিকট থেকে কোন সুবিধা গ্রহণ করে, তবে উক্ত ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন বর্ণনার কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation):- ৪৬২ক এবং এই ধারায় উল্লেখিত ‘ব্যাংকিং কোম্পানি’ এর অর্থ-

(ক) ব্যাংকিং কোম্পানি অধ্যাদেশ, ১৯৬২ (১৯৬২-এর ৫৭নং অধ্যাদেশ)-এর ৫ (গ) ধারায় ব্যাংকিং কোম্পানিকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

(খ) বাংলাদেশ ব্যাংক (জাতীয়করণ) আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ২৬ নং পি.ও) মোতাবেক গঠিত কোন ব্যাংক।

(গ) বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৭ নং পি, ও) এর ৫০ (গ) ধারায় সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

(ঘ) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৮ নং পি.ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা।

(ঙ) বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের ১২৯ নং পি. ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক ।

(চ) বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন আদেশ, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ৭নং পি, ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন।

(ছ) বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আদেশ, ১৯৭৩ (১৯৭৩ সনের ২৭ নং পি. ও) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক।

(জ) বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্পোরেশন অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (১৯৭৬-এর ৪০ নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্পোরেশন।

(ঝ) গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৩ (১৯৮৩-এর ৪৬ নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ।

(ঞ) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক অধ্যাদেশ, ১৯৮৬ (১৯৮৬-এর ৫৮নং অধ্যাদেশ) মোতাবেক প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।

(ট) ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত কোন ব্যাংক।

img