02 Mar 2026 +880 1886 456688
image

Laws & Rules

দন্ডবিধি, ১৮৬০
Click here for Deep-Dive

দন্ডবিধি, ১৮৬০

: ( )
২৯৫। কোন শ্রেণীর লোকের ধর্মের অবমাননার উদ্দেশ্যে কোন উপাসনার স্থান বা পবিত্র বস্তু ধ্বংস, নষ্ট বা অপবিত্র করা

কোন ব্যক্তি যদি কোন উপাসন স্থান বিনস্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপব্রিত করে অথবা জনসাধারণের কোন শ্রেণী দ্বারা পবিত্র বলে গণ্য কোন বস্তু বিনষ্ট করে, ক্ষতিগ্রস্ত করে বা অপবিত্র করে, এবং জনসাধারণের কোন শ্রেণীর ধর্মকে অপদস্থ করার মানসেই তা করে অথবা অনুরূপ বিনষ্টকরণ, ক্ষতিসাধন বা অবপবিত্রকরণকে একশ্রেণীর জনসাধারণ তাদের ধর্মের প্রতি অবমাননা বলে বিবেচনা করবে জানা সত্ত্বেও তা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্ৰম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৫ক। প্রতিহিংসাবশতঃ কোন শ্রেণীর লোকের ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসের অবমাননা করা

কোন ব্যক্তি যদি বাংলাদেশের নাগরিকবৃন্দের কোন শ্রেণীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত ও হিংসাত্মকভাবে লিখিত বা উচ্চারিত কথা কর্তৃক বা দৃশ্যমান কোন বস্তু কর্তৃক সে শ্রেণীর ধর্মকে বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমানিত করে বা অপমানিত করার চেষ্টা করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৬। ধর্মীয় উপসনায় রত কোন সমাবেশে গোলযোগ সৃষ্টি করা

কোন ব্যক্তি যদি আইনসম্মতভাবে ধর্মীয় কাজ অনুষ্ঠানরত বা ধর্মীয় উৎসব পালনরত কোন সমাবেশে ইচ্ছাকৃতভাবে গোলযোগ সৃষ্টি করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৭। গোরস্থান ইত্যাদিতে অনধিকার প্রবেশ

কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তির অনুভূতিকে আহত করার উদ্দেশ্যে, কিংবা অন্য কোন ব্যক্তির ধর্মের অবমাননা করার উদ্দেশ্যে, অথবা অন্য কোনব্যক্তির অনুভূতি আহত হতে পারে বা অন্য কোন ব্যক্তির ধর্মের অবমাননা হতে পারে জানা সত্ত্বেও,কোন উপাসনাস্থলে বা সমাধিস্থলে বা অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পাদনের জন্য আলাদাভাবে রক্ষিত স্থান বা মৃত ব্যক্তির দেহাবমেশষ রাখার জন্য আলাদাভাবে রক্ষিত স্থানে অনধিকার প্রবেশ করে,তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থ দণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

২৯৮। কোন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে তাহার শ্রবণের মধ্যে কোন কথা উচ্চারণ করা বা কোন শব্দ করা অথবা তাহার দৃষ্টিগোচর কোন অংগভংগি করা বা কোন বস্তু স্থাপন করা

কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার উদ্দেশ্যমূলক অভিসন্ধিক্রমে সে ব্যক্তির শ্রুতিগোচর হয় এমনভাবে কোন কথা বলে বা শব্দ করে অথবা সে ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে কোন অঙ্গভঙ্গি করে অথবা সে ব্যক্তির দৃষ্টিগোচর হয় এমনভাবে কোন বস্তু স্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থ দণ্ডে, অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে। 

২৯৯। অপরাধজনক নরহত্যা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। চ শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কৃপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে ক ও খ রয়েছে এবং অন্য পাশে চ রয়েছেঃ ক জানে যে, চ অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু খ তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে চ-এর মৃত্যু হয় সে উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও, ক ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য খ-কে অনুরোধ করে। খ অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে চ এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে খ কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) ক একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে খ-এর মৃত্যু হয়। ক জানত না যে, খ সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে ক যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে খ-কে হত্যা করতে চাহে নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

৩০০। অপরাধজনক নরহত্যা

কোন ব্যক্তি যদি মৃত্যু ঘটাবার উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজ কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে দৈহিক জখম মৃত্যু ঘটাতে পারে, তেমন দৈহিক জখম ঘটাবার উদেশ্য নিয়ে কৃত কোন কাজের সংঘটন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, অথবা যে কাজ মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, সে কাজ সম্পাদন কর্তৃক মৃত্যু ঘটায়, তবে সেই ব্যক্তি শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী হবে।

উদাহরণসমূহ – Illustrations

(ক) ক একটি কূপের মুখে আড়াআড়িভাবে বাশের কঞ্চি পেতে তার উপর ঘাস পাতা বিছিয়ে দেয়- এই উদ্দেশ্যে যে, তাতে মৃত্যু ঘটতে পারে অথবা তাতে যে মৃত্যু ঘটতে পারে তা জানা সত্ত্বেও তা করে। চ শক্ত মাটি মনে করে উহার উপর দিয়ে চলতে গিয়ে কৃপের ভিতর পড়ে যায় এবং নিহত হয়। ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(খ) একটি ঝোপের একপাশে ক ও খ রয়েছে এবং অন্য পাশে চ রয়েছেঃ ক জানে যে, চ অন্য পাশে রয়েছে, কিন্তু খ তা জানে না। ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করলে যাতে চ-এর মৃত্যু হয় সে উদ্দেশ্যে অথবা অনুরূপ গুলিবর্ষণ করলে চ-এর মৃত্যু হতে পারে বলে জানা সত্ত্বেও, ক ঝোপের দিকে গুলিবর্ষণ করার জন্য খ-কে অনুরোধ করে। খ অনুরোধ রক্ষা করে গুলিবর্ষণ করে এবং তার গুলিবর্ষণের ফলে চ এর মৃত্যু হয়। এইক্ষেত্রে খ কোন দোষে দোষী না হতে পারে, কিন্তু ক শাস্তিযোগ্য নরহত্যার অপরাধ করেছে।

(গ) ক একটি মুরগি হত্যা করে উহা চুরি করার উদ্দেশ্যে উহার প্রতি গুলিবর্ষণ করে, কিন্তু গুলিবর্ষণের ফলে ঝোপের অন্য পাশে খ-এর মৃত্যু হয়। ক জানত না যে, খ সেখানে ছিল। এই ক্ষেত্রে ক যদিও একটি বেআইনী কাজই করতেছিল, তথাপি সে শাস্তিযোগ্য নরহত্যার দোষে দোষী নয়, কেননা সে খ-কে হত্যা করতে চাহে নাই, অথবা যে কার্য মৃত্যু ঘটাতে পারে বলে সে জানে, জ্ঞাতসারে সে কার্য করে সে মৃত্যু ঘটায় নাই।

ব্যাখ্যা (Explanation) ১:- যে ব্যক্তি অসুস্থতা, রোগ বা দৈহিক অপারগতায় ভুগতেছে, তার দৈহিক জখম করে মৃত্যু ত্বরান্বিত করলে তার মৃত্যু ঘটাবার অপরাধ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে।

ব্যাখ্যা (Explanation) ২:- যখন দৈহিক আঘাত বা জখমের কারণে মৃত্যু ঘটে, তখন যে ব্যক্তি অনুরূপ দৈহিক আঘাত বা জখম ঘটায়, সে ব্যক্তি মৃত্যু ঘটিয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে, যদিও যথোচিত প্রতিকারের ও সুনিপুণ চিকিৎসার ফলে সে মৃত্যু রোধ করা যেত ।

ব্যাখ্যা (Explanation) ৩:- মাতৃগর্ভে কোন শিশুর মৃত্যু ঘটানো নরহত্যা নয়। কিন্তু যদি কোন শিশুর (দেহের) কোন অংশ নিষ্ক্রান্ত করার পর জীবিত শিশুটির মৃত্যু ঘটানো হয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য নরহত্যা বলে পরিগণিত হবে, যদিও শিশুটি শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ না করে থাকে অথবা সম্পূর্ণরূপে ভুমিষ্ঠ না হয়ে থাকে।

img