- ৯৯। দৈনিক কর্মঘন্টা
- ১০০। কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক বন্ধ
- ১০১। ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি
- ১০২। অধিকাল ভাতার সাধারণ হার হিসাব করিবার পদ্ধতি
- ১০৩। মহিলা শ্রমিকের কাজের ঘন্টা
- ১০৪। একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অনুমতি প্রদানের শর্ত
- ১০৬। নৈমিত্তিক ও পীড়া ছুটি
- ১০৭। মজুরিসহ বাৎসরিক ছুটি
- ১০৮। ছুটির বহি
- ১০৯। একই পরিবারভুক্ত শ্রমিকদের ছুটি একত্রে প্রদান
- ১১০। উৎসব ছুটি
নবম অধ্যায় : কর্ম ঘন্টা ও ছুটি ( বিএলআর-২০১৫ )
৯৯। দৈনিক কর্মঘন্টা
(১) অন্যত্র ভিন্নতর যাহাই কিছু থাকুক না কেন, প্রাপ্তবয়স্ক কোন শ্রমিকের দৈনিক কর্মঘন্টা হইবে আহার এবং বিশ্রামের বিরতি ব্যতীত ৮ (আট) ঘন্টা :
তবে শর্ত থাকে যে, ধারা ১০৮ এর বিধান মোতাবেক অধিকাল ভাতা প্রদান সাপেক্ষে শ্রমিককে দিনে ১০ (দশ) ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করানো যাইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, সেই ক্ষেত্রে উক্ত শ্রমিকের সম্মতি থাকিতে হইবে এবং অধিকাল কাজ আরম্ভ হইবার কমপক্ষে দুই ঘন্টা পূর্বে তাহাকে অবহিত করিতে হইবে :
আরও শর্ত থাকে যে, কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মঘন্টা এব অতিরিক্ত কাজ ও অধিকাল ভাতার বিষয়ে যদি কোন শ্রমিকের জন্য সুবিধাজনক কোন চুক্তি বা নিস্পত্তি বা প্রথা বিদ্যমান ধাকে উহা অব্যাহত থাকিবে।
(২) নির্মাণ, রি-রোলিং, ষ্টিল মিল্স, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এবং বিধি ৬৮-তে উল্লিখিত বিপজ্জনক কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদেরকে প্রতি দুই ঘন্টা পর পর আধাঘন্টার বিশ্রাম বিরতি প্রদান না করিয়া কাজ করিতে দেওয়া যাইবে না বা তাহার দ্বারা কাজ করানো যাইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, মালিক ধারা ১০১ (ঘ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্তরূপ কোন বিশ্রাম বিরতির জন্য তাহার মজুরি হইতে কোন কর্তন করিতে পারিবে না।
(৩) মালিক কর্তৃক উপ-বিধি (২)-তে উল্লিখিত শিল্প ও কাজসমূহে কর্মরত শ্রমিকদের দৈনিক ওভারটাইমসহ ১০ (দশ) ঘন্টার অতিরিক্ত কাজ করানো যাইবে না।
১০০। কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক বন্ধ
ধারা ১০৩ ও ১১৪ এর বিধান মোতাবেক কোন কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটির দিন উহার সাপ্তাহিক বন্ধ বলিয়া গণ্য হইবে :
তবে শর্ত থাকে যে, মহাপরিদর্শক জনস্বার্থে এলাকাভিত্তিক কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন নির্ধারণ করিয়া গেজেটে বিজ্ঞপ্তি জারি করিতে পারিবেন এবং এই বিধিতে উল্লিখিত বন্ধ, মালিক কর্তৃক পরিবারের সদস্যগণের সাহায্যে পরিচালিত হয় এবং যাহাতে মজুরির বিনিময়ে কোন শ্রমিক নিযুক্ত থাকেন না সেই ধরনের কারখানা বা প্রতিষ্ঠানেও কার্যকর হইবে।
১০১। ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি
(১) ধারা ১০৩ মোতাবেক কোন শ্রমিককে তাহার প্রাপ্য সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান সম্ভব না হইলে উক্ত শ্রমিককে তাহার উক্তরূপ ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩ (তিন) কর্মদিবসের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(২) সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান না করিয়া কোন শ্রমিককে একাধারে ১০(দশ) দিনের অধিক কাজ করানো যাইবে না।
(৩) ধারা ১০৪ এর বিধান অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত শ্রমিকগণের প্রাপ্য কোন ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি প্রাপ্য হইবার পরবর্তী ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে প্রদান করিতে হইবে।
(৪) শ্রমিকের ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি অনুমোদনের সাথে সাথে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক উক্তরূপ ছুটির একটি বিজ্ঞপ্তি ধারা ১০৪ মোতাবেক নোটিস বোর্ডে লটকাইয়া রাখিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে কোন পরিবর্তন আনয়নের প্রয়োজন হইলে সংশ্লিষ্ট ছুটির তারিখের অন্তত ৩ (তিন) দিন পূর্বে উহা করিতে হইবে।
(৫) পাওনা ক্ষতিপূরণমূলক ছুটি ভোগ করিবার সুযোগ প্রদানের পূর্বে শ্রমিকের চাকরি কোনভাবে অবসান করা হইলে সেই ক্ষেত্রে শ্রমিককে অন্যান্য পাওনা পরিশোধের সময় তাহার অভোগকৃত ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলির জন্য পূর্ণ মজুরি প্রদান করিতে হইবে।
(৬) প্রতিষ্ঠানের মালিক ফরম-৩৩ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণমূলক ছুটির একটি রেজিস্টার সংরক্ষণ করিবেন যাহা সর্বশেষ তথ্য লিপিবদ্ধ করিবার তারিখ হইতে ৩ (তিন) বৎসর পর্যন্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে এবং পরিদর্শক চাহিবামাত্র উক্ত রেজিস্টার তাহার নিকট উপস্থাপন করিতে হইবে।
১০২। অধিকাল ভাতার সাধারণ হার হিসাব করিবার পদ্ধতি
(১) মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে ভিনড়বরূপ কোন চুক্তির অবর্তমানে ধারা ১০৮ মোতাবেক শ্রমিকের অধিকাল কর্মের জন্য প্রদেয় ঘন্টাভিত্তিক মজুরির সাধারণ হার নি¤ড়ববর্ণিতভাবে হিসাব করিতে হইবে, যথা :-
(ক) দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার দৈনিক মজুরির ১/৮ অংশ ;
(খ) সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার সাপ্তাহিক মজুরির ১/৪৮ অংশ ; এবং
(গ) মাসিক মজুরির ভিত্তিতে নিযুক্ত শ্রমিকের ক্ষেত্রে তাহার মাসিক মজুরির ১/২০৮ অংশ। টীকা ।- ৫২ স্ট১২ ী ৪৮ ঘন্টা = ২০৮ ঘন্টায় একটি মাস হইবে। ঘন্টাপ্রতি অধিকাল ভাতার হার = মাসিক মূল মজুরি ও মহার্ঘ ভাতা এবং এডহক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (যদি থাকে) ী ২ ী ওভারটাইম ঘন্টা / ২০৮ ঘন্টা।
(২) কোন প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত শ্রমিক দ্বারা অধিকাল কাজ করানো হইলে উক্ত অতিরিক্ত কাজের সময় উল্লেখ করিয়া প্রতিষ্ঠানের মালিক বা তৎকর্তৃক প্রাধিকারপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি শ্রমিককে প্রদত্ত কার্ড বা সিøপে স্বাক্ষর করিয়া কাজ শেষে শ্রমিককে প্রদান করিবেন।
(৩) কোন প্রতিষ্ঠানে মাসিক বা সাপ্তাহিক মজুরির ভিত্তিতে নিয়োজিত শ্রমিক অথবা ঠিকা কাজে বা চুক্তিভিত্তিক বা পিস-রেট হিসাবে নিযুক্ত কোন শ্রমিকের জন্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা এমনভাবে নির্ধারণ করা যাইবে না যাহাতে ধারা ১০০ এর লংঘন হয়।
(৪) অধিকাল কাজ করাইবার হিসাব ফরম-৩৪ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
১০৩। মহিলা শ্রমিকের কাজের ঘন্টা
(১) কোন মহিলা শ্রমিক দ্বারা রাত ১০ (দশ) ঘটিকা হইতে ভোর ৬ (ছয়) ঘটিকা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কাজ করাইতে হইলে ফরম-৩৫ অনুযায়ী উক্ত শ্রমিকের লিখিত সম্মতি গ্রহণ করিতে হইবে।
(২) উপ-বিধি (১) এ উল্লিখিত সম্মতি সংশ্লিষ্ট মহিলা শ্রমিক কর্তৃক লিখিত আবেদনের মাধ্যমে প্রত্যাহার না করা হইলে ১২ (বার) মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকিবে।
(৩) মহিলা শ্রমিককে সম্মতি প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে ফরম-৩৫ (ক) অনুযায়ী আবেদন করিতে হইবে।
(৪) মহিলা শ্রমিক কর্তৃক নৈশ পালায় কাজ করাইবার সম্মতির তথ্য ফরম-৩৬ অনুযায়ী রেজিস্টারে সংরক্ষণ করিতে হইবে।
১০৪। একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজের অনুমতি প্রদানের শর্ত
ধারা ১১০ এর বিধান মোতাবেক কোন শ্রমিককে একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করিবার অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে মহাপরিদর্শক বা তৎকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত পরিদর্শক নি¤ড়ববর্ণিত শর্ত অনুসরণ করিবেন, যথা :
(ক) প্রতিষ্ঠানসমূহ একই মালিকানাধীন হইতে হইবে;
(খ) কোন শ্রমিক দ্বারা আইনের নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত সময় কাজ করানো যাইবে না;
(গ) এক প্রতিষ্ঠান হইতে অপর প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সময়কে কাজের সময়ের অন্তর্গত বলিয়া গণ্য করিতে হইবে; এবং
(ঘ) অতিরিক্ত সময়ের কাজের জন্য আইন অনুযায়ী অধিকাল ভাতা প্রদান করিতে হইবে এবং অবস্থা অনুযায়ী মালিক শ্রমিকের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা বা প্রকৃত যাতায়াত ব্যয় বহন করিবেন।
১০৬। নৈমিত্তিক ও পীড়া ছুটি
ধারা ১১৫ ও ১১৬ মোতাবেক নৈমিত্তিক ও পীড়া ছুটি গ্রহণ করিবার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ইচ্ছা পোষণ করিলে উক্ত ছুটির পূর্বে বা পরে সাপ্তাহিক বা উৎসব ছুটি সংযোগ করিতে পারিবেন যাহা নৈমিত্তিক ছুটি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হইবে না :
তবে শর্ত থাকে যে, নৈমিত্তিক ছুটি অথবা পীড়া ছুটির মধ্যে কোন সাপ্তাহিক বা উৎসব ছুটি পড়িলে উক্ত ছুটি মূল ছুটির অন্তর্ভুক্ত হইবে।
আরও শর্ত থাকে যে, বৎসরের কোন অংশে কাজে যোগদানের ক্ষেত্রে শ্রমিক উক্ত ছুটি হারাহারিভাবে ভোগ করিতে পারিবেন।
১০৭। মজুরিসহ বাৎসরিক ছুটি
(১) ধারা ১১৭ অনুযায়ী বাৎসরিক বা অর্জিত ছুটি গণনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী ১২ (বার) মাসে শ্রমিকের কাজে উপস্থিতির দিনগুলিকে গণ্য করিতে হইবে।
(২) কোন শ্রমিক চাহিলে তাহার অব্যয়িত অর্জিত ছুটির বিপরীতে নগদ অর্থ গ্রহণ করিতে পারিবেন :
তবে শর্ত থাকে যে, বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেকের অধিক নগদায়ন করা যাইবে না এবং এইরূপ নগদায়ন বৎসরে মাত্র একবার করা যাইবে।
(৩) কোন শ্রমিক তাহার মজুরিসহ ছুটি পাওনা থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার ছুটি বাবদ মজুরি তাহার মনোনীত বা আইনগত উত্তরাধিকারীকে পরিশোধ করিতে হইবে।
১০৮। ছুটির বহি
(১) মালিক বা ব্যবস্থাপক ফরম-৯ অনুযায়ী প্রত্যেক শ্রমিককে ছুটির একটি বহি সরবরাহ করিবেন।
(২) ছুটির বহিটি শ্রমিকের সম্পত্তি এবং কারখানার ব্যবস্থাপক বা তাহার প্রতিনিধি কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় সময়ে ইহাতে সংশ্লিষ্ট বিষয় পূরণের কারণ ব্যতীত শ্রমিকের নিকট হইতে গ্রহণ করিতে বা তলব করিতে পারিবেন না বা একাদিμমে ৭ (সাত) দিনের অধিক রাখিতে পারিবে না।
(৩) ছুটির বহিতে সকল অন্তর্ভুক্তি কালি দ্বারা সুস্পষ্টভাবে লিখিতে হইবে এবং হালনাগাদ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করিয়া রাখিতে হইবে।
(৪) কোন শ্রমিক ছুটির বহি হারাইয়া ফেলিলে ব্যবস্থাপক ১০ (দশ) টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে তাহাকে আরও এক কপি বহি সরবরাহ করিবেন এবং তাহার রেকর্ড হইতে উহাতে তথ্য অন্তর্ভুক্ত বা লিপিবদ্ধ করিতে হইবে।
(৫) যদি কোন প্রতিষ্ঠান কম্পিউটারের মাধ্যমে ছুটির রেকর্ড সংরক্ষণ করে, তবে উহার ছাপানো কপি ছুটির বহি হিসাবে গণ্য হইবে।
১০৯। একই পরিবারভুক্ত শ্রমিকদের ছুটি একত্রে প্রদান
(১) অবস্থানুসারে যতটুকু সম্ভব, একই পরিবারভুক্ত শ্রমিক যেমন স্বামী-স্ত্রী এবং সন্তান-সন্ততিকে ধারা ১১৫ মোতাবেক ছুটি একই দিনে মঞ্জুর করিতে হইবে।
(২) কারখানার ব্যবস্থাপকের অনুমোদন সাপেক্ষে একজন শ্রমিক তাহার ছুটি অন্য শ্রমিকের সহিত বদল করিতে পারিবেন।
(৩) ধারা ১১৫, ১১৬ ও ১১৮ এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বৎসর বলিতে ইংরেজি পঞ্জিকা বৎসর বুঝাইবে।
১১০। উৎসব ছুটি
(১) প্রত্যেক মালিক তাহার প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধির (যদি থাকে) সহিত আলোচনাμমে প্রতি বৎসর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরবর্তী বৎসরের উৎসব ছুটি নির্ধারণ করিবেন, যাহা ১১ (এগার) দিনের কম হইবে না।
(২) মালিক উক্ত ছুটির তালিকা প্রতিষ্ঠানের সকল শ্রমিকের জ্ঞাতার্থে নোটিস বোর্ডে লটকাইয়া রাখিবেন এবং উহার একটি কপি সংশ্লিষ্ট পরিদর্শকের নিকট প্রেরণ করিবেন।
(৩) যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি না থাকিলে মালিক বিষয়টি অংশগ্রহণকারী কমিটিতে আলোচনাμমে উক্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী উৎসব ছুটি নির্ধারণ করিবেন।
(৪) কোন প্রতিষ্ঠানে যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি বা অংশগ্রহণকারী কমিটি না থাকিলে মালিক যতদূর সম্ভব শ্রমিকদের সহিত আলোচনাμমে উক্ত ছুটি নির্ধারণ করিবেন।